শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত অগ্যুতচর স্যুতচরণ চৌধুরী তর্তবনিধি ূ্বাংশ ৫৮.৮5210ল বলে খন শেখটিতা ৪৮ ০1২11177171 71২ 7111২ হ8/৯-1৮ ২13৯ €০৯76) [/৯ 1115101% 01 ১%11791] [39 4017১ 00017201201) 00170861011117%, 17150 1501101077-1 910) প্রথম প্রকাশ : নভেম্বর ২০০০ প্রথম প্রকাশ : ১৯১০ থি. বইওয়ালার পক্ষে রান মৈত্র কর্তক ১৪৯, ক্যানাল স্টরাট, শ্রাঙমি কলকাতা-৪৮ পেকে প্রকাশিত এবং বাসন্তী প্রেস, ১৯এ, ঘোষ লেন, কলকাতা-৬ থেকে মুদ্রিত ভূমিকা ইতিহাসের সত্যানুসন্ধান একটি কঠিন কাজ এবং দুরূহ দায়িত্ব । সাধারণ লেখকের পক্ষে এ ধরনের এতিহাসিকের দায়িত্ব পালন করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু প্রায় একশত বৎসর পূর্বে শ্রী অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্বনিধি সিলেটের বিভিন্ন যুগের বিভিন্ন সময়ের ইতিহাসের তথ্যগুলোকে একজন গবেষকের শ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে চয়ন করেছেন । সিলেটের অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তার নিজস্ব সত্য ও তথ্যের আলোকে আলোকিত করেছেন। একজন লেখক ও গবেষক হিসেবে তিনি যে পরিশ্রম ও প্রতিভার পরিচয় রেখে গেছেন আজীবন তা প্রশংসার দাবিদার | সিলেট একটি প্রাচীন জনপদের নাম । সিলেট অঞ্চলের লোকজন প্রাচীনকালে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল । সর্বশেষ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এম এ জি ওসমানী রণক্ষেত্রে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন । সিলেটে চীনা পর্বাজক হিউয়েন সাং ৬৪০ সালে ভ্রমণ করে-- এই অঞ্চলকে শ্রীক্ষেত্র বলে বর্ণনা করেছেন। ১৯১৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট ভ্রমণকালে এই অঞ্চলকে শ্রীভূমি আখ্যা দিয়েছেন । প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া অঞ্চলটির শ্রী এখনও অন্তহিত হয়নি । বরং আরও শ্রীময়ী হয়ে উঠেছে । সারা বিশ্বে সিলেটের মানুষ বাংলার গৌরবময় সভ্যতা ও সংস্কৃতির এতিহ্য বহন করে চলেছে। এতিহাসিক নিদর্শন, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি, শ্রুতি, স্মৃতি, দলিল, দস্তাবেজ, প্রাচীন শিলালিপি, ভাঙ্কর্য ও লিপিবদ্ধ বিবরণ সিলেটের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে লুকিয়ে আছে । লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতাকে শ্রী অচ্যুত চরণ চৌধুরী আমাদের জনসম্মুখে হাজির করেছেন । শুধুমাত্র এই একটি কারণে তিনি আমাদের কাছে অমর হয়ে আছেন । এখানে তার গ্রন্থের সার্থকতা । আমি দুই যুগ ধরে ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহ করার কাজে নিয়োজিত । আমার লিখিত রাজনগরের ইতিবৃত্ত, মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস ও সিলেট বিভাগের ইতিবৃত্ত গ্রন্থসমূহ প্রকাশিত হয়েছে। অচিরেই উভয় বাংলা ইতিহাস নিয়ে লিখিত বাংলার ইতিবৃত্ত গ্রন্থ প্রকাশের পথে । ইদানীং অনেক লেখক ও প্রকাশক ইতিহাস গবেষণা ও প্রকাশনার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন । তা বাঙালিদের জন্য আনন্দের কথা । কারণ বাঙালিরা নিজের ইতিহাস সাধারণত না পড়ে পাশ্চাত্য ইতিহাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এদিক দিয়ে এটা গর্বের কথা । বিশেষ করে সিলেটের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত শ্রী অছ্ভুত চরণ চৌধুরী তন্্নিধি লিখিত তিন খণ্ডে শ্রীহ্টরের ইতিবৃত্ত গ্রন্থের পুনঃপ্রকাশনার দায়িত্‌ জনাব সিকদার আবুল বাশার সাহেব গ্রহণ করে যে এঁতিহাসিক কার্য সম্পাদন করতে যাচ্ছেন তার জন্য যে কোনো ইতিহাস ও এতিহ্যপ্রেমিক লোক হিসেবে তাকে অভিনন্দন জানানো উচিত । জনাব সিকদার সাহেবের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে গ্রন্থটি পুনঃপ্রকাশের জন্য ইতিহাসবিদদের পক্ষ থেকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি গ্রন্থটি বাংলার ইতিহাস সাহিত্যে মূল্যবান সংযোজন । ইতিহাস ও এঁতিহ্যের শেকড় সন্ধানী বাঙালি মাত্রেই গ্রন্থটি সংগ্রহে রাখা উচিত। নতুন সংক্করণের বহুল প্রচার কামনা করছি। ভূমিকার পেছনের কথা শ্রীহন্্রের ইতিহাস রচিত হয় প্রায় একানব্বই বৎসর পূর্বে। শতানদী প্রাচীন সেই গ্রন্থ তিনটি আলোর মুখ দেখে এক অভাবনীয় ইতিহাস সৃষ্টি করে বসে। কারণ গ্রন্থকার সেই গ্রন্থ রচনাকালে সাধারণত এতিহাসিকগণ যে রীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করেন তিনি তার ধারেকাছেও যাননি । লেখক স্বর্গীয় অষ্্যুতচরণ চৌধুরী তত্বুনিধি মহাশয় যে কতটুকু মমতৃবোধে পুস্তক তিনটি রচনা করেছিলেন তা ভাবলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। শুধুমাত্র একজন লেখকের পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়__ সম্ভব তার পক্ষে যার হৃদয়ে প্রগাঢ় দেশপ্রেম, স্বজাতির ও দেশবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা এবং জন্মভূমিকে যিনি মাতৃ সমতুল্য বোধ করেন। এক্ষেত্রে শ্রী চৌধুরী প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বিশ্বাস করার কারণ আছে । অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি মহাশয় নিজের দেশকে তার পরিবার. সন্তান, ভাই এমনকি প্রাণাধিক স্ত্রীর ভালোবাসার উপরে স্থান দান করেছিলেন । লেখার কাজে মনোনিবেশকালে তিনি স্ত্রী, শিশুকন্যা, এক ভাই ও পুত্রকে হারান । তারা বিভিন্ন কারণে রোগ-ভোগে এ সময়ে মৃত্যমুখে পতিত হন। কার্ষকালে একেকটি আঘাত আসতে থাকে । তার লিখিত ভূমিকায় পাঠক ঘটনাগুলো দেখতে পাবেন__ তাতে অশ্রু রোধ করা পাঠকের পক্ষেও সম্ভব নয়। এহেন আঘাতও শ্রী চৌধুরীকে কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়নি । কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা বিবেচনা করলে তাকে ধন্যবাদ-দেবার ভাষা থাকে না । এ কাজ সম্ভব কেন হয়েছিল আজ একশত বৎসর পরে যদি প্রশ্ন তোলা যায় তার জবাব হবে শী চৌধুরী মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন প্রকাতর ভাণ্তারেতে শ্রীহট্রের মাঝে_ কতো শোভা মনোলোভা-_ সর্ব্বত্র বিরাজে : বিদেশের বর্ণনায় মুগ্ধ তনুমন-_ মোহবশে দেশপানে চাইনে কখন । তিনি বলেছেন “তখন সংকল্প করলাম শ্রীহট্রের অতীতকথা কিছু কিছু সংগ্রহ করিব ।' সেই “কিছু কিছু' সংগ্রহের ক্ষেত্রে তিনি যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন তাও এক বিম্ময়ের বিষয় । বিভিন্ন এলাকার প্রধান- অপ্রধান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে তথ্যের জন্য তিনি প্রথমত প্রচারপত্র বিলি করেন । উচ্চ-নিম্স-মধ্য বংশীয় পরিবার প্রধানদের কাছে তাদের বংশের গৌরব কীর্তিগাথা সুকর্ম-দু্ষর্ম সকল বিষয় জানতে চান। কিন্তু এক্ষেত্র তার সচেতনতা বজায় ছিল যেন কেউ নিজের বংশের নাম কামানোর জন্য অতিরপ্তিত ভুল তথ্য দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত না করেন৷ এক্ষেত্রে তিনি অতি আধুনিক “বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করেন। প্রাপ্ত প্রতিটি তথ্যকে তিনি “ক্রস্‌ চেক' করেন । তা সন্ত্রেও তিনি ভুল করতে পারেন এ বিষয়ে তার সতত সতর্কতা ছিল । এক্ষেত্রে তার বিন্ম স্বীধারোক্তি তাকে মহাপুরুষের মর্যাদায় অভিষিক্ত করে । পরিতাপের বিষয়, আজ এমন মানুষের কীর্তি কথা, তার নাম আমাদের [সাত] শিক্ষিতদের অধিকাংশই জানেন না । গুণের আদর ও মর্যাদা যেখানে নেই সেখানে গুণী জনে না, কথাটি কী সর্বাংশে সত্য? বাংলাদেশের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন এতিহ্য রয়েছে, সারাদেশটি যদি একটি দেহ হয় শ্রীহট্ট বা আজকের সিলেট তার মস্তক স্বরূপ বলতে হবে। হিন্দু-মুসলমান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সিলেট (শ্রীহট্ট) গৌতম বুদ্ধ, শ্রীচেতন্য, শাহজালাল (রঃ) কাল থেকেই এদেশের গণমানুষের পুণ্যভূমি। কারা বাস করতেন সেখানে, কেমন ছিলেন তারা? তাদের জীবনযাত্রাসহ এলাকায় প্রচলিত সর্বপ্রকার কিংবদন্তি এই বইয়ে অতি যতেুর সাথে পরিবেশিত হয়েছে । শ্রী চৌধুরীর বিজ্ঞানমনঙ্কতার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিংবদত্তিগুলির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও প্রদান করা হয়েছে । মোট কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত পড়তে শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত পাঠক স্বস্তি পাবেন বলে বোধহয় না। অন্যদিকে পুস্তক প্রকাশের ব্যয় আজকালকার বাজার মুল্য হিসেবে কম হলেও সেকালে একেবারে কম ছিল না। প্রথমত ৯০০ কপি প্রায় ২৫০০ টাকা, সেই ব্যয়ভাব বহন করাও তত্তরনিধির পক্ষে সম্ভব ছিল না। অবশেষে একজন মহানুভব ব্যক্তি কোনো প্রকার আর্থিক লাভালাভ ছাড়াই সেই টাকাটা যোগান দিয়েছিলেন এটাও ইতিহাস বটে । আজকের দিনে বর্তমান সমাজে এরপ দৃষ্টাত্ত কয়টির দেখা মেলেঃ আরও একটি দৃষ্টান্তমূলক বিষয় উল্লেখ করা প্রমোজন-__ তন্নিধি ব্যক্তি হিসেবে দেশ-জনগণ ও জাতির প্রতি কেমন দায়বোধ করতেন সেই ঘটনা তার প্রয়াণ । তার জন্ম গ্রামের ডাকঘর মৈনা-ডাকঘরটি পাথারকান্দি অফিসের অধীনস্থ একটি শাখা অফিস হিসেবে চালু ছিল। পরিচালনার ঝামেলার জন্য কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিতে উদ্যোগী হন। তখন তন্্ুনিধি নিজেই এগিয়ে এসে তার পবিচালনার ভার নিজের কাধে তুলে নেন। কানাই বাজারের এ অফিসে গ্রামের পথের 'শাশে_ জমিদারির কাছারি বাড়িতে এক কোণে বসে আম, জাম, কাঠাল আর বাশবনের হায়ায় ঘরের কোণে লাল রঙের টিনের চিঠির বাক্স ঝুলছে; হাতলওয়ালা চেয়ারে বসে পোস্ট মাস্টার 'খালি গা, পরনের ধুতি হাটু” ওপর তোলা" চোখে গোল ফ্রেমের চশমা এটে ডাকঘরের পরিত্যক্ত কাগজে ইতিহাস রচনা করছেন-_ কল্পনা করা যায়ঃ কাজের প্রতি, দেশের প্রতি কতটুকু মমতুবোধ থাকলে এমন কাজ করা যায় আজ তাও বিবেচনার দাবি বাখে। পুস্তক প্রকাশের পর সমগ্র ভাবতবর্ষে তা কেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তাও ভেবে দেখবার মতো । সেকালের বিখ্যাত সব দৈনিক সাপ্তাহিক পত্র- পত্রিকা এর গুণকীর্তন করেছিল । ইংরোজ দেনিক এমপায়ার অকুগ্ঠ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে । গুণকীর্তন করে 'এতিহাসিক চিত্র, প্রবাসী", “সাহিত্য সংবাদ", 'অমৃতবাজার', 'আনন্দবাজার', “ঢাকা রিভিউ", “সম্মিলন' এরাও । গ্রন্থ রচনায় তন্ুনিধি মহাশয় একাদিক্রমে পনেরো বছর ব্যয় করেন। তার বক্তবোর কিয়দংশ উপস্থাপন করে আমার বক্তব্য শেষ করি : তিনি লিখেছেন “দীর্ঘকালের চেষ্টা ও প্রাম় পঞ্চদশ বৎসরের পরিশ্রমে শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত সম্পূর্ণ প্রকাশিত হইল । ইহাতে অবশাই আনন্দিত হইবার কথা ছিল । কিন্তু কয়েকটি ঘটনা মনে হইয়৷ আজ সে সুখ পূর্ণাঙ্গ উপভোগ করিতে পাবিতেছি না। ইতিবৃত্তের কপি লইয়া যখন সর্বপ্রথম কলিকাতায় যাইতে হয় সেই সময় মদীয সহধর্মিণী পীড়িতা হইয়া পড়েন; আমার আগমনাপেক্ষায় তাহার সুচিকিৎসার [আট] বিশেষ বন্দোবস্ত হইতে পারে নাই । সেই বোগেই আট মাসেব একটি শিশুপুত্র রাখিযা তিনি পরলোক গমন করেন । “কুসুমাঙ্গ সেই শিশুটিকে বুকে তলিযা লইলাম। কিছুদিনেব জন্য ইতিবৃত্ত মুদ্রণের তত্বাবধান স্থগিন বহিল। শিশু লইযাই ব্যস্ত থাকিতে হইল সেই সময় কনিষ্ঠ সহোদর অনিরুদ্ধ চরণ চেঁধুবী (যিনি ইতিবৃত্তের জন" উপকরণ সংগ্রহ কবেছিলেন) কলিকাতায় যাওয়ার জন্য উত্তেজিত কবিতে লাশিল |... কলিকাতায় চলিলাম । কিন্তু হায়... জানিলাম না যে ইহার তাহার সহিত শেষ দেখা । বিদ্যুত্বাতায ব্যাধি সংবাদ পাইযা তৎক্ষণাৎ চলিয়া আসিলাম। কিন্তু অনকদ্ধকে পাইলাম না। সে তখন দু খময সংসাবেব বন্ধনমুক্ত হইয়া চলিয়া গিয়াছে। মাত্র পাচটি মাসের মধ্যে এই দইটি শোক এ কুসুমাঙ্গের ফুল মুখ চাহিয়া ভুনিতে চেষ্টা করিলাম । যখন তাহার বয়স এক বৎসর উত্তীর্ণ হঈয়াছে তখন সে অমৃতভাষে পিতাকেই “মা' বলিয়া ডাকে। ... ইতিবৃত্তেব মুদ্রণ শেষ করিতে কলিকাতায় যাইতে হইবে-_ কর্তব আর শ্নেহ উভয়ের মহাযুদ্ধে শেষোক্তই পবাজিত হইল । কলিকাতায চলিলাম । যাত্রাকালেব সেই চিত্র এখনও মন হইতে মুছে নাই। বন্টাব সম্মুখে অনোব কোলে থাকিযা ফুলু কুসুমেব ন্যায় সে আমার পানে চাহিয়া রহিল । অল্পদিন যে 'বাবা' বলিনি শিখিযাছে, কিছুদূরে গিযা শুনিতে পাইলাম যে সে ডাকিতেছে বাবা আইও ।' সাতদ্দন যাই না যাইতে তাহার জবর হইল আর সেই ডাক শুনিয়াই সেই ডাক বাবা আইও (এস) থামিল না. কেহই থামাইতে পারিল না। ... কাজ একরূপ শেষ করিয়া বাড়ি আসিলাম। কিন্তু তাহার পীড়া কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। ইতিবৃত্ত (পৃরর্বাংশ) রূপ-মানসপুত্র পাইলাম, কিন্তু আমাব সোনার কুসুমাঙগকে চিরতরে হার।ইলাম 1” আমরা মনে করি শ্রীহট্রের ইতিবৃত্তের রচনা কাহিনা নিয়েই একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা সন্তব। সে যাই হোক, এই গ্রন্থ বাঙালি জাতির পৌরব:ং এর অবদান কোনোকালে নিঃশেষ হবে না। গ্রন্থটি পুনমুদ্রণ করতে পেরে আমবা গৌরবান্ধিত । আশা কবি অনিসঞ্ধিৎসু দেশপ্রেমিক পাঠকগণ এ গ্রন্থ মনোযোগ সহকারে পাঠ করতে পরান্ুখ হবে না। তাহলে আমরা নিজেদের শ্রম সার্থক মনে করব। ভূমিকা একে গ্রন্থ রচনা করেন অপরে তাহার ভূমিকা লিখেন, এই আজ কালকার ফেশন। আমি তদনুবন্তী হইয়া এই ভূমিকার অবতারণা কবিতেছি না। গ্রন্থকার শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্্ুনিধি মহাশয বঙ্গীয় সাহিত্য জগতে নিতান্ত অপ্রসিদ্ধ নহেন যে ভূমিকা লিখিয়া তাহাকে বাড়াইতে হইবে,__ তবে শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রণয়ন কার্ষ্যে আমার অল্প একটু সম্পর্ক ছিল, অতএব একটা কৈফিয়ত ও দিবার আছে; সেই নিমিত্ত এই প্রয়াস । প্রা আট বৎসর হইল নিম্নলিখিত চিঠিখানি শ্রীহস্ট জিলার সর্বত্র প্রচারিত হইয়াছিল । শ্রী শ্রী কাত্যায়নী শরণম্‌ বহুমানাস্পদ শ্রীযুক্ত মহোদয সমীপেষু বিনীতনিবেদননিদম্_ আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজের এই একটা অতিশয় অগৌরবের কথা যে তাহারা স্বদেশের কাহিনী কিছুই পরিজ্ঞাত নহেন। কোনও কোনও ব্যক্তির আবার এইরূপ মতও আছে যে এদেশে এমন কিছুই নাই যাহা জানিবার উপযুক্ত। এইপ্ধপ অজ্ঞানতা ও গুঁদাসীনোর মূল আমাদের জড়তা এবং ইহার ফল আমাদের অবশ্যন্তাবী অধোগতি । আমরা যে দেশে জন্নিয়াছি তাহা মহিমাধিত, এই চিন্তাটুকু মনে আসিলেও মন উচ্চ আশায় স্ফীত হয়। সমগ্র ভারতভূমির চিন্তা করা অস্মাদৃশ ক্ষুদ ব্যক্তির ক্ষমতায়ত্ত নহে, তাই ক্ষমতায় যতদূর কুলায়, আপন জিলার কাহিনী সংগ্রহ নিমিত্ত বাসন করিয়াছি, জানিনা ভগবতী সেই বাসনা কতদূর পূর্ণ করিবেন । আপাততঃ এ বিবরণ সংগ্রহের নিমিত্ত আপনার নিকট এই সাহায্য প্রার্থনা যে আপনার জনুস্থান যে পরগণায় সেই পরগণা সম্বন্ধীয় জ্ঞাতব্য বিষয় সমূহের বিবরণী যতদূর পারেন সংগ্রহ করিয়া আমার নিকট প্রেরণ করেন। কিরূপ বিবরণ সংগ্ৰহ করিতে হইবে তাহা স্বয়ং অবধারণ করিতে পারেন। যাহা কিছু জানিতে স্বদেশীয় বা বিদেশীয় লোকের ওৎসুক্য জন্মিতে পারে এইরূপ বিবরণীর সমাদরনীয় হইবে । দিজ্ঘাত্রপ্রদর্শনচ্ছলে নিম্গে কতিপয় বিষয় উল্লেখ করা যাইতেছে। ১. প্রসিদ্ধ হান_ ক. তীর্থ বা দেবালয় বা মাহাত্যযুক্ত স্থান (হিন্দু-মোসলমান নিরবির্বশেষে)। খ. দেশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তির জনাস্থান বা অবস্থিতির স্থান। গ. প্রসিদ্ধ এতিহাসিক ঘটনার স্থল। ঘ. প্রসিদ্ধ উৎপনু দ্রব্য, আয়কর, শিল্প, বাণিজ্য প্রভৃতির স্থান। উ. অন্য কোনও কারণে প্রসিদ্ধ স্থান: যথা-তুদ, জলপ্রপাত এবং ।বখ্যাত দীর্ঘিকা, মন্দির প্রভৃতি প্রাচীন কীর্তি সংবলিত স্থান । [দশ] ২. প্রসিদ্ধ ব্যক্তি__ (হিন্দু-মোসলমান উচ্চ-নীচকুল অথবা স্ত্রী-পুরুষ নিবির্বশেষে) ক. সাধু বা সিদ্ধ পুরুষ বা ধর্ম সম্প্রদায় প্রবর্তক । খ. বিদ্ধান (যে কোনও ভাষায় হউন) এবং প্রতিভাশালী ব্যক্তি (যে বিষয়ে হউন)। গ. কবি বা গ্রন্থকার (যে কোনও ভাষায় হউন)। ঘ. সঙ্গীতজ্, গান রচয়িতা ইত্যাদি । উ. উচ্চ পদবী যুক্ত কিংবা সম্পত্তি অর্জনকারী । চ. শিল্পী, কারবারী ইত্যাদি । ছ. বিখ্যাত বংশের প্রবর্তক বা প্রসিদ্ধ পরিবারের আদি পুরুষ । জ. অন্য কোনও কারণে প্রসিদ্ধ; যথা--দয়াবৃত্তি, বুদ্ধিব তীক্ষতা, শারীরিক সামর্থ্য ইত্যাদি। ৩. ভারতবর্ষের অন্যান্যস্থলে অপ্রচলিত আচার-ব্যবহার; কোনও তাত্রশাসন বা পুরাতন মুদ্বা ইত্যাদির বিবরণী: এবং কোনও মর্যাদাশীল সামাজিক সম্প্রদায়ের ইতিহাস। দ্রষ্টব্য ১. কোনও প্রসিদ্ধ মাহাত্মযুক্ত স্থান সম্বন্ধীয় বিবরণে তৎসন্বন্ধে যে সকল প্রবাদ প্রচলিত আছে তাহা উল্লেখ করা আবশ্যক । সুপ্ত তীর্থাদি বিষয়েও উল্লেখ থাকিলে ভাল । ২. কোনও গ্রাম বা পরগণার নামেব ইতিবৃত্ত অনুসন্ধান করিলেও অনেক তন্ত্ প্রকটিত হয়। ৩. কোন দেশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তির বা বিখ্যাত পরিবাবের বংশের বা সম্প্রদায়ের বিষয়ে কোনও শাসনপত্র বা এতিহাসিক দলিল থাকিলে তাহার উল্লেখ করা এবং উহা কোথায় কি অবস্থায আছে সেই বিবরণ জানা আবশ্যক । 'বংশবৃক্ষ' থাকিলে ইহার নকল কিম্বা তাহা পাইবার উপায় বলাও দরকার । ৪. কোনও প্রাচীন অথবা আধুনিক কনি ব' গ্রন্থকার সম্বন্ধে লিখিবার সময়ে তত্প্রণীত গ্রন্থের বিবরণ, উহা কোন ভাষায় লিখিত, গ্রন্থের বিষয়, গ্রন্থ ছাপা হইয়াছে কিনা, হস্তলিখিত হইলে কোথায় কিনূপে প্রাপ্তব্য ইত্যাদি লিখিতে চেষ্টা করিবেন । বলা বাহুল্য, প্রাচীন-নতুন বাঙ্গলা সংস্কৃত আরব্য পারস্য পদ্য-গদ্য যে কোন গ্রন্থই হউক এই জিলার অধিবাসী কাহ।রও লিখিত হইলে তাহার বিবরণ সগৃহীত হওয়া একান্ত আবশ্যক । কোনও গ্রন্থের লোপ হইয়া থাকিলেও গ্রন্থকার এবং গ্রন্থ বিষয়ে বিববণ জানা থাকিলে তাহার উল্লেখ প্রয়োজন। ৫. কোন শিল্প বা উৎপন্ন দ্রব্য বিষয়ে লিখিবার কালে এ শিল্প বা দ্রব্য কোন জাহীয় লোকের ব্যবসায়ের অধীন, কিরূপে উহার ব্যবহার চলে ইত্যাদির বিবরণ লেখা আবশ্যক । শিল্প বা দ্রব্য লুপ্ত বা অপ্রচলিত হইলেও তদ্বিষয়ের বিবরণ লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত। ৬. প্রাচীন কালেব প্রসিদ্ধ ব্যক্তির বিবরণ লিখিতে অনেক সময় প্রবাদ বাক্যের উপব নির্ভর করিতে হইবে । কিন্তু যদি যথাসাধ্য সুপরীক্ষিত সত্য ঘটনাই লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত, তথাপি যেন কোনও অলৌকিক বা আপাত দৃষ্টিতে অমূলক ঘটনাবলী উপেক্ষিত না হয়। তবে বিবরণ সংগ্রাহক অবশ্যই এই সকল সম্বন্ধে স্বীয় মতামত দিতে পারেন । ৭, কোনও ধর্মসম্প্রদায়ের প্রবর্তক বিষয়ে লিখিতে হইলে এ সম্প্রদায় সম্বন্ধেও বিশেষ বিবরণ থাকা দরকার । [এগার] ৮. একই স্থানের বিবরণ সংগ্রহ নিমিত্ত একাধিক ব্যক্তিকে লিখা হইয়া থাকিলেও প্রত্যেকেই স্বীয় সামার্থ্যানুরূপ সংগ্রহ করিবেন, এবং কোনও বিষয়ে অন্য ব্যক্তি লিখিয়া গাকিলেও কেহ যেন সেই বিষয়ে উপেক্ষা না করেন। বলা বাহুল্য এই সম্বন্ধে আপনি অবশ্যই দেশহিতৈষণাপ্রণোদিত হইয়া কার্য্য করিবেন। যেকোনও উপায়ে দেশের গৌরবাম্পদ বিষয় সমূহ সাধারণের নিকট প্রচারিত হয় তৎপক্ষে মনোযোগী হইবেন। আপনি যদি এমন কোনও ব্যক্তির নাম জানেন যাহার নিকট এই সকল বিষয়ে বহুল তত্ব জানিতে পারা যাইবে, তবে দয়া করিয়া অনতিবিলম্বে তাহার নাম ধাম (পোঃ সহ) জানাইয়া অনুগৃহীত করিবেন। এতদ্বিষয়ে মহাশয়ের নিকট অধিক লিখা নিম্প্রয়োজন মনে করি । জিজ্ঞাসিত বিবরণ সহ উত্তর যত সত্তর হইতে পারে দিয়া বাধিত করিবেন এই প্রার্থনায় । ইতি। সন ১৩০৯ সাল । তারিখ ১৫ই আশ্বিন। অনুগ্রহাকাজিক্ষিণ ঃ শ্রীপদ্ননাথ দেবশর্ম্ণ । (ঠিকানা শ্রীহট্)। এই চিঠিখানা পাইয়া শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্ত্বনিধি মহাশয় আমাকে লিখিয়া জানান যে তিনি ইহার কিছুদিন পূর্ব 'শ্রীহট্টদীপিকা' নামক একখানি শ্রীহট্রের ইতিহাস বিষয়ক পুস্তক লিখিয়া প্রেসে পাঠাইযা দিয়াছেন, আমি তৎক্ষণাৎ তাহাকে এ পুস্তক খানি প্রেস হইতে ফিরাইয়া আনিতে অনুরোধ করিয়া লিখিয়া পাঠাই যে উপরি উদ্ধৃত চিঠির উত্তরে যে সকল বিবরণী আমার হস্তগত হইবে, তত্তাবং তাহারই হস্তে সমর্পিত হইবে, এবং তিনিই মৎসংকল্লিত ইতিবৃত্ত লিখিবার জন্য বৃত হইবেন। ১৩০৯ সালে চিঠি খানি সর্বত্র বিলি হয়। কিন্তু বৎসর কালের মধ্যেও আশানুরূপ বিববণী হস্তগত হইল না দেখিয়া পুনশ্চ ১৩১০ সালের শ্রাবণ মাসে শ্রীহট্রস্থ ইক্লি ক্রনিকল সংবাদপত্রে এবং কাছাড়ের শিলচর পত্রে বিজ্ঞাপন দিয়া সাধারণ হইতে এঁতিহাসিক মালমসলা প্রার্থনা করা হয়। তখন আমি শ্রীহত্টরের স্কুল ডেপুটী ইন্সপেক্টর ছিলাম । এই নিমিত্ত যাবতীয় মধ্যশ্রেণীর বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহাশয়গণ এবং সংস্কৃত চতুষ্পাগী সমূহের অধ্যাপক মহোদয়বৃন্দ আমাকে তাহাদের আপনার লোক ভাবিয়াই প্রভৃত পরিমাণে নানাস্থানের বিবরণী প্রদান পূর্বক চিরানুগৃহীত করিয়াছেন। এতদ্যতীত ইটা পাঁচগাও নিবাসী উকিল শ্রীযুক্ত হরকিস্কর দাস, তরফ সুঘর নিবাসী স্বর্গীয় ঈষানচন্দ্র মজুমদার, তুঙ্গেশ্চর নিবাসী শ্রীযুক্ত শ্রীশচন্দ্র মজুমদাত্র, পৈল নিবাসী জমিদার মৌলভী শাহ সৈয়দ এমদাদ উল হক এবং জয়ন্তীপুর নিবাসী শ্রীযুক্ত রাধাচরণ পাল, এই সকল মহাশয় ব্যক্তি এই কাজটি যেন নিজের ভাবিয়া বিশেষ শ্রম স্বীকার পূর্বক তাহাদের পরগণার বিবরণী দিয়া যথেষ্ট সহায়তা করিয়াছেন শ্রীহস্ট শহরের উপকণ্ঠ নিবাসী শ্রীযুক্ত সারদাচরণ ধর মোনশী মহোদয় শহরের ও জিলার অনেক প্রাচীন কাহিনী প্রদান করিয়া অশেষ অনুকূল্য প্রদর্শন করিয়াছেন । বিশেষভাবে ইহাদের নাম উল্লেখিত হইলেও, অপর যে সমস্ত ভদ্রলোক কৃপা করিয়া বিবরণ সংগ্রহ কল্পে আমাদের সহায়তা বিধান করিয়াছেন, মাত্র বাহুল্য ভয়ে তাহাদেব নাম এ স্থলে উল্লেখ করা হইল না, তাহারা সকলেই আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন | ১৩১৩ সাল পর্যন্ত যে সকল উপকরণ হস্তগত হইয়াছিল, তাহাও প্রচুর বিবেচনা না করাতে, সংগৃহীত বিবরণাবলীর একখানি সূচিপত্র পুস্তিকাকারে মুদ্রিত করিয়া ১৩১৪ সালের প্রারন্জে বিতরণ করা হইয়াছিল। উদ্দেশ্য এই ছিল, যে যদি কেহ ইহাতে কোনও স্থান বা ব্যক্তি [বার] সম্বন্ধে উল্লেখ না দেখেন, তবে তৎ্সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য বিষয় আমাদিগকে লিখিয়া পাঠাইবেন। ইহাতেও অনেক ফল হইয়াছিল । অনেকে গতবর্ষত্রয়ে এমনকি এই বৎসরেও বহু বিবরণী পাঠাইয়া আমাদিগকে বাধিত করিয়াছেন । শ্রীহট্টের কালেক্টরির মোহাফেজ খানায় যে সমস্ত কাগজ পত্র হইতে বহু এঁতিহাসিক উপকরণ সংগৃহীত হইতে পারে তাহা পর্যবেক্ষণার্থ ১৩১০ সালে ডেপুটী কমিশনার সাহেব বাহাদুর নিকট আবেদন করা হয়। ১৩১১ সালে মহামান্য শ্রীযুক্ত চিফ কমিশনার সাহেবের সেক্রেটারী বাহাদুর এতদ্বিষয়ে অনুমতি প্রদান করেন। শ্রীযুক্ত অচ্যত বাবু স্বয়ং এই কাগজপত্র তদন্ত করিবার ভার গ্রহণ করিয়া প্রায় বৎসরার্থ কাল প্রভূত পরিশ্রম সহকারে ইতিবৃত্তের বহু মাল-মসলা সংগ্রহ করিয়াছেন। পারস্যে লিখিত অনেকগুলো সনদের সার সংক্ষেপেও সংগৃহীত হইয়াছে। ইহা বংশ বৃত্তান্ত ভাগ সংকলনে বিশেষ সহায়তা করিবে । শ্ীহট্টরের ইতিবৃত্ত চারিভাগে বিভক্ত হইয়াছে। ১ম ভৌগোলিক বৃত্তান্ত, ২য় এঁতিহাসিক বৃত্তান্ত, ৩য় বংশ বৃত্তান্ত, ৪র্থ জীবন বৃত্তান্ত । সম্প্রতি এই 'পূবর্বাংশে' ভৌগোলিক ও এঁতিহাসিক বৃত্তান্ত প্রকাশিত হইল, “উত্তরাংশে' অপর দুই ভাগ প্রকাশিত করিবার সংকল্প আছে, তাহা ভগবদিচ্ছার উপর এবং অনেকটা এই পৃবর্বাংশ সাধারণ্যে কিরূপ গৃহীত হয় তাহার উপর নির্ভর করে।, শ্রীহপ্টরের ইতিবৃত্ত 'সচিত্র' প্রকাশ করিবার নিমিত্ত অনেক স্থানে ফটো চাহিয়াও পাওয়া গেল না। যতটুকু সংগ্রহ করিতে পারা গেল, তা দেওয়া গেল। পৃবের্বই বলিয়াছি ইতিবৃত্তের লেখক শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্বনিধি মহাশয়ের গুণ কীর্তন এই ভূমিকার উদ্দেশ্য নহে। তথাপি এইমাত্র বলা উচিত মনে করিতেছি যে শ্রীহস্ের ইতিবৃত্তঁ এই আকারে প্রকাশিত হওয়া নিতান্তই বিধিনির্দিষ্ট ছিল। তাই অচ্যুত বাবুকে গ্রন্থপ্রণেতারূপে পাওয়া গিয়াছে । এই কার্য্য যদি আমার করিতে হইত তবে অদ্যাপি উহা আদৌ রচিত হইত কিনা তাহাই সন্দেহের বিষয় ছিল-_ রচিত হইলেও ইহা এতবড় এবং ঈদৃশ সুপাঠ্য না হইবারই কথা ছিল । অগ্যুত বাবুর ধৈর্য্য ও অধ্যবসায় পুরাতন্ত্াভিজ্ঞতা ও লিপিকুশলতা আমার নাই । যত্রতত্র পাওয়া ও দুর্ঘট ৷ তথাপি এমন বলিতেছিনা যে এই ইতিবৃত্ত সব্ববাঙ্গ সুন্দর হইয়াছে। এই প্রদেশে এতদৃশ জাতীয় ইতিবৃত্ত প্রণয়নের বোধ হয় এই প্রথম উদ্যম। প্রথম বলিয়াই ইহাতে নানা ত্রুটি থাকিবার সম্ভাবনা । সহদয় পাঠকবৃন্দ দৌষভাগ বর্জন পুরর্বক গুণটুকু গ্রহণ করিয়া প্রণেতার উৎসাহ বর্ধন করেন, এই প্রার্থনা । বঙ্গাব্দা ৪১৩১৭ শ্রী পন্নাথ দেবশর্্া । অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্বনিধির পরিচিতি ১২৭২ সনের (১৮৬৫ খিষ্টাব্দে)ট ২৩শে মাঘ করিমগঞর্জের অন্তর্গত জফরগড় পরগণার মৈনা গ্রামে অগ্যুতচরণ দেব চৌধুরীর জন্ম হয়। তার মহাপ্রয়াণ ঘটে ১৩৬০ সনের ১০ই আশ্বিন । তর্তনিধির শৈশব বাল্যকাল কেটেছে মৈনার গ্রামীণ জীবন পরিবেশে । বাশ ও বেত বনে ঘেরা, আর পারিবারিক সরল অনাড়ত্বর জীবন প্রতিবেশের মধ্যেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। শৈশবে তার হাতেখড়ি হয় বাড়ির পাঠশালায় । গ্রামের বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে অচ্যতচরণ শ্রীহট্র সরকারী উচ্চ ইংরাজী স্কুলে শিক্ষা লাভের জন্য ভর্তি হন। "শ্রীহট্রের ইতিবৃত্' গ্রন্থের ভূমিকায় তত্বনিধি তার বাল্যকালের কথা ম্মরণ করিতে গিয়া শ্রীহস্ট সরকারী উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে পাঠকালের কথা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া বিনোদবিহারী চক্রবর্তী ও উপেন্দ্রচন্দ্র গুহের সম্পাদনায় শ্রীহট্ট থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা 'বিবর্তন'-এর মাঘ সংখ্যা; তর্তবনিধি “মনি" শীর্ষক একটি সত্যমূলক ঘটনার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা প্রসঙ্গে এই স্কুলের কথা উল্লেখ করেছেন । এই নিবন্ধ তিনি যখন লেখেন তখন তার বয়স পচাত্তর বছর; স্মৃতিশক্তি তখন অটুট। দেহ কর্মশক্তিহীন তবুও তিনি লিখে চলেছেন। কী অসাধারণ দৃঢ়তা ও অধ্যবসায় তখনও তার ছিল ভাবলে বিস্ময় লাগে। স্কুলের অভিজ্ঞতা বর্ণনা থেকে সে কালের সরকারি স্কুলের পারিপার্থিকতার একটি ছবি এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, যার অনেক কিছুই হয়ত আজ আর নেই। 'শ্রীহন্ট শহরের উত্তরাংশে “ঈদগার মাঠ" নামে স্থান। মহরমাদি মুসলমান পর্বকালে এ স্থানে বহু “তাবুজ' একত্রিত হয়। বালকবেলা যবে শ্রীহষ্টে গভর্ণমেন্ট স্কুলে ইংরেজী অধ্যয়ন করিতাম, তখন বেড়াইবার উপলক্ষে অন্যান্য ছাত্রের ন্যায় আমিও কখন কখন যাইতাম। ঈদগার ময়দানে উত্তর দিকে ও দক্ষিণ দিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টিলা, পশ্চিম দিকে ছোট পুকুরের মত গর্ত আছে। পূর্বদিকে একটা টিলা রহিয়াছে । মধ্যে সামান্য ফাকা স্থান । দেড়টা বাজিলে স্কুল ছুটি হয়, তখন অনেক ছাত্রের মত কখন কখন আমিও গিয়া চক' (ফুল খড়ি) দিয়া এ কোঠার গায় নামাদি যা মনে আসিত-_ লিখিতাম ।' (বিবর্তন মাঘ, ১ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা) বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনকালে অচ্যুতচরণ, প্যারীচরণ দাসের নয়াসড়ক বাসায় বসবাস করতেন। এই প্যারীচরণ উনিশ শতকের শ্রীভূমির এক উল্লেখযোগ্য মনীষী । প্যারীচরণের ঘনিষ্ঠ সান্ধ্য ও সাহচর্ষেই অচ্যুতচরণ চৌধুরীর কিশোর মন সাহিত্য রচনার প্রেরণা লাভ করে। পরবর্তীকালে শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত" গ্রন্থ রচনাকালে এবং অন্যানা সাহিত্য কর্ম বিষয়ক আলোচনা প্রসঙ্গে তার ছোটবেলার এই অভিজ্ঞতার কথা তিনি নির্ধিধায় বারবার উল্লেখ করেছেন। স্কুল জীবনে তত্ুনিধি তার সহপাঠী হিসেবে যাদের পেয়েছিলেন তাদের অনেকেই সাহিত্য ও অপরাপর ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে বিশেষ ব্যুৎপত্তি ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন । তাদের মধ্যে রজনীকান্ত রায় দস্তিদার, সারদাচরণ ধর, ভারতচন্দ্র দাস, প্রহাদচরণ সেন প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিতৃ। সাহিত্য, দর্শন, বিশেষত বৈষ্ণব-দর্শন, ইতিহাস, ভূগোল, ভাষা ও সংস্কৃতি সম্বন্ধে অচ্যুত চৌধুরীর অগাধ পাগ্তিত্য ছিল। তার সৃষ্টিকর্মের মধ্যে এই অসাধারণ পরিচয়টিকে সহজেই উপলব্ধি করা যায়। অর্জিত শিক্ষা ও অধ্যবসায় শুধু তার সাহিত্যকর্মকেই সমৃদ্ধি দান করেনি, যথার্থ শিক্ষাকে জীবনের অনুষঙ্গ রূপে গ্রহণ করে তার সার্থক ঘনিষ্ঠ আচরণটিও তার মধ্যে [চৌদ্দ] সার্থক হয়ে ফুটে উঠেছে। তার সংসার জীবন কিংবা পারিবারিক জীবন সন্বন্ধে বিস্তৃত কোন তথ্য অবগত হওয়া যায় না। বিচ্ছিন্নভাবে লেখা কিছু চিঠিপত্র, আত্ম্ীয়-পরিজনদের নিকট থেকে সংগৃহীত অসংলগ্ন কিছু কথা কিংবা তার নিজের হাতে লেখা জীবন কথা' বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা বিবিধ মন্তব্য ও প্রসঙ্গ থেকে তার যে পরিচয়টি পাওয়া যায় তা কোন পূর্ণ অবয়ব সৃষ্টি করতে সমর্থ হয় না। তার প্রকৃত পরিচয়টি খুঁজে পাওয়া সম্ভব তারই সৃজনশীল প্রতিভা বৈচিত্র্য আর ব্যক্তি জীবন পরিচয়ের যোগফলের মধ্যে, যার মধ্যে দিয়ে তত্বনিধির জীবন ও সাহিত্যের এক পূর্ণায়ত রূপকে অনুভব করা যায়। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি মৈনাতেই ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে এসে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সাহিত্যসেবা ও ধর্মসাধনায় নিয়োজিত করার সংকল্প গ্রহণ করেন; কিন্তু অভিভাবকদের চাপে পড়ে তাকে বিয়ে করে সংসারী হতে হয়। পারিবারিক সম্পর্কে ভ্রাতুষ্পুত্র সাতাশী বছরের বৃদ্ধ শ্রীযুক্ত অন্নদাচরণ চৌধুরীর মাধ্যমে তার বিবাহিত জীবনের একটি পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যায়। সংসার ধর্মপালনের জন্য তাকে তিনবারই বিয়ে করতে হয়। প্রথম বিয়ে হয় লাতু গ্রামের গোবিন্দচরণ রায়ের মেয়ের সঙ্গে । প্রথমা স্ত্রী চিনয়ী নামে এক মেয়ে ও হেমাঙ্গ নামে এক ছেলেকে রেখে মারা যান। তারপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন শ্রীহট্ট জিলার ফেুগঞ্জ শহরের ইন্দানগরে । এই স্ত্রীও দীর্ঘ রোগ ভোগের পর মারা যান। তারপর জলডুবের জনৈক ভবানীচরণ দাসের মেয়েকে বিয়ে করে পুনরায় সংসারী হন। এই তৃতীয় স্ত্রীর দিকে বীণাপাণি এখনও বর্তমান । দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে সুষমার সঙ্গে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রীযুক্ত কুমুদবন্ধু রায়ের বিয়ে হয়৷ ছেলে কুসুমাঙ্গকে শিশু অবস্থায় রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী মারা যান। মেয়ে চিন্মুয়ী সম্বন্ধে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি । হেমাঙ্গ ও কুসামাঙ্গ এই দুটি ছেলেই অকালে মারা যায়। তাছাড়া কনিষ্ঠ ভ্রাতা অনিরুদ্ধ, অপর কন্যা নীলিমা, এইসব একান্ত আপনজনরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এই মৃত্যুর পর মৃত্যুর বেদনা তত্বনিধির জীবনকে তীব্রভাবে আঘাত করে রক্তাক্ত করে তুললেও তীর স্থিরপ্রজ্ঞ চেতনাকে পর্যুদস্ত করতে সক্ষম হয়নি। অচ্যুত চৌধুরীর পারিবারিক জীবন যে সুখকর ছিল না তার বিবাহিত জীবনের এইসব দুর্ঘটনা থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু সুখ শব্দের গুঢ় অর্থকে বোধ হয় তিনি এই বয়সেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। জীবন যুদ্ধে কখনো তিনি হার মানেননি বরঞ্চ মৃত্যুর এই বেদনা থেকে তিনি জীবনকে আরো গভীরভাবে ভালোবাসতে শিখেছিলেন। এর মধ্যে থেকে যে তত্বনিধিকে আমরা প্রত্যক্ষ করি, যে মনন ও ধী-শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে আমরা অনুভব করি তা সন্দেহাতীতভাবে পৃথিবীর যে কোন মনীষীর ব্যক্তি জীবনের সঙ্গে তুলনীয় । সংসার জীবনে স্ত্রীদের বিয়োগ ব্যথা তন্তুনিধির ব্যক্তিগত জীবনকে যতখানি নিদারুণ করে তুলেছিল তার চেয়ে বেশী আঘাত তিনি পেয়েছিলেন সন্তানদের ও ভাইয়ের মৃত্যুতে । তার যৌবনের সমস্ত স্বপ্রসাধই শুধু নিঃশেষে হারিয়ে যায়নি__ স্নেহ-মমতার আধারগুলো, যাদের মুখ চেয়ে এক দুর্ভাগা পিতার জীবন অন্তত বিশ্বাস করে ভালোবাসতে পারে, জীবনের সমস্ত নিষ্ঠুরতাকে ভুলে গিয়ে একটু সান্ত্বনার আশ্বাস পেতে পারে, সেই মৃৎপাত্রের তৈলাধারটিও পর্যন্ত জ্বলে পুড়ে খাক্‌ হয়ে গেছে। এই ক্ষতি শুধু তার ব্যক্তিগতই নয়, বিশেষত হেমাঙ্গের মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের পক্ষেও এক বিরাট ক্ষতি হয়ে দাঁড়ালো । তার মৃত্যু হয়েছিল কৈশোর- যৌবনের বয়ঃসন্ধিকালে । এই বয়সেই সে এক প্রতিশ্রতিবান কবিরূপে প্রতিষ্ঠালাভ করেছিল । পুত্র কুসুমাঙ্গের জীবনস্থৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তত্তবনিধির সৃষ্টিপর্বের এক ইতিহাস। এক ইতিহাস, প্রকাশের আনন্দ আর মৃত্যুর বিড়ন্বনায় বড়ই বেদনাবহ। কুসুমাঙ্গের জন্ম হয় ১৯০৯ [পনর] সালের ৮ই ফেবুয়ারি। ছেলেটির বয়স যখন মাত্র সাড়ে সাত মাস, সে সময় লেখক শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত গ্রন্থ প্রকাশনাদিব ব্যাপারে কোলকাতায় । ঠিক সে সময় কুসুমাঙ্গের মা কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হন এবং মাত্র পচিশ বছর বয়সে তিনি মারা যান। জীবনের পরম প্রাপ্তির মুহুর্তে এমন নিদারুণ আঘাত তার জীবনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়ে গেল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, তার প্রাণের ফুল কুসুমও অযত্ব আর অবহেলায় ক্রমে শুকিয়ে ঝরে পড়তে লাগলো । সেই অভিশপ্ত দিনগুলোর কথা স্মরণ কবে তিনি লিখেছিলেন__ “সোনার বান্ধ বুকে লইলাম তপ্ত হৃদয় শীতল হইল। জলন্ত আগুন নির্বাপিত হইল আমি যথার্থই তাহার মাতৃ পদারূঢ়া হইলাম ।' কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দেড় বছরের শিশু কুসুমাঙ্গ ১৩১৭ সনের ২৭শে কার্তিক মারা গেল। এই মৃত্যুর আঘাত তাকে দারুণভাবে বিপর্যন্ত করে তুলেছিল। এক তীব্র অপরাধবোধ তাঁকে বৃশ্চিকের মতো দংশন করেছিল। তার বারবারই মনে হয়েছে এই মৃত্যুর জন্য বুঝি নিজেই দায়ী ছিলেন ' 'শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থ নিয়ে তিনি যদি ব্যস্ত না থাকতেন তাহলে হয়তো সংসারের প্রতি, ছেলের প্রতি তিনি যথা কর্তব্য সম্পাদন করতে সক্ষম হতেন । এই গ্রানি থেকে মুক্তি পাবার জন্যে তিনি গ্রন্থথানি উপসর্গপত্রে কুসুমাঙ্গের উদ্দেশ্য লেখা কটি কথা সংযোজন করতে চেয়েছিলেন.__ “উপসর্গ' ইতিবৃত্ত! ১ সম্ফুট বিশেষ? শ্রীহপ্টরের ইতিবৃত্ত প্রকাশে প্রবৃত্ত হইয়া যে ম্মৃতিপীড়ক নিদারুণ স্থৃতি সম্বল করিয়াছি সমগ্র সাগর বারি সিঞ্জনে তাহা মুছিবে না। দেড় বৎসরের মাতৃহীন পুত্র যাহাকে দিবানিশি বুকে রাখিতাম যাহার টাদ মুখের তুলনায় পূর্ণচনত্েরপ্রদীপ্ত প্রভা মলিন হইয়া যাইত হায়! ইতিবৃত্ত গ্রন্থে এই উপসর্গ পত্র সংযোজন শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। উত্তরাংশে ভূমিকা পত্রে তিনি এই সময়কার তাব মানসিক অবস্থা বিবৃত করেছেন। সেই সময় তিনি তার সংগৃহীত গ্রন্থগুলো নিয়ে বাড়িতেই একটি লাইব্রেরী স্থাপন করেছিলেন । এই লাইবেরীর নাম ছিল প্রথমে 'শ্রীহরি লাইবেরী।" পুত্র কুসুমাঙ্গের নাম ও স্মৃতি অক্ষয় করে রাখার জন্যই তিনি তার নাম পরিবর্তন করে রাখলেন “কুসুম লাইব্রেরী ।' তত্তবনিধির নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের ফলে এই কুসুম লাইব্রেরী পরবর্তীকালে এক বিশাল গ্রন্থাগারে পরিণত হয়। তার রক্ষণাবেক্ষণ নানা কারণে অসুবিধাজনক হয়ে উঠায় পরবর্তীকালে তিনি শ্রীহট্ট সাহিত্য পবিষদকে সমগ্র লাইবেরীটিই দান করেন। তখন “কুসুম লাইব্রেরী'র সংগ্রহে প্রায় দুই হাজার বই ছিল। এই দান করার মধ্যে একটি সাধারণ শর্ত ছিল এই যে “আমার কন্যা, জামাতা ও ভ্রাতুষ্পুত্র কেহ বাড়িতে আনিয়া বই পড়িয়া ফেরত দিতে পারিবে ।” এই দান সাহিত্য পরিষদের পক্ষে গ্রহণ করে শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক প্রয়াত যতীন্দ্রমোহন ভন্টাচার্য মহাশয় । শ্রীহট্ট্ের ইতিবৃত্ত উত্তরাংশ যখন প্রকাশ পেল, তার জীবন থেকে হারিয়ে গেল আরেক নয়নমণি-_- তীর মেয়ে__ হৃদয় পটের নির্মল আলেখ্য নীলিমা ।' এভাবে বার বার মৃত্যু এসে তার চলার পথ রুদ্ধ করে দীড়িয়েছে, এই ভয়াবহতা ও আকনম্মিক আঘাত তাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে কিন্তু সাধনায় নিরস্ত করতে পারেনি । তীব্র সংকটের মুখে তার ধ্যান-ধারণা তাকে সংকট থেকে মুক্তি দান করেছে। সমস্ত সংশয়ের উত্তর তিনি বিশ্ববিধানেরই মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। জগৎ সংসারের নিয়ম-নীতি সম্বন্ধে তিনি অনবহিত ছিলেন না। ব্রিকালদর্শীর মতো [ষোল] তার স্থিতধী বোধ বিশ্ব নিয়মের সারাৎসারকে উপলব্ধি করতে পেরে গভীর দুঃখের মধ্যেও সান্ত্বনার আশ্বীসকে খুঁজে পেয়েছিল । অচ্যুত চৌধুরীর কর্মজীবন মৈনার গ্রামীণ জীবন পরিবেশেরই মতো সরল অথচ বৈচিত্র্যময় ছিল। জীবিকার প্রয়োজনে গ্রাম ছেড়ে বাইরে যাবার কোনো প্রলোভন তার ছিল না। যদিও চৌধুরী বাড়ির, বিশেষত অদ্বৈত চৌধুবী ও তার বংশধরগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও প্রাচুর্য তখন তলানিতে এসে ঠেকেছে তবু অর্থের চাইতে পরমার্থ চিন্তাই ছিল তাদের মৌল আদর্শ। এই পরমার্থ শুধু ঈশ্বরের সাধনায়ই নিমগ্ন ও আত্মকেন্দ্রিক ছিল না, সাধারণের কল্যাণ ও মঙ্গল সাধনই ছিল তাদের জীবনব্রত। অন্য শরিকের ঘরে অবশ; তখন লক্ষ্মী ছিলেন অচলা। মহাকালের জমিদার আর মৈনার চৌধুরী বাড়ির যৌথ কাঠের কারবার; বনাঞ্চল থেকে খেদা করে হাতী ধরা এক বিরাট লাভজনক ব্যবসা ছিল। তর্ত্বনিধি এই লাভকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এতিহাসিক ও প্রত্বতাত্ত্িক গবেষণায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে দিনাতিপাত করে চলেছেন। ফলে স্বভাবই প্রাচুর্যের মুখ তিনি দেখেননি; এর জন্য অবশ্য কোনদিনই তার কোনো আক্ষেপ ছিল না। তার জীবনের মৌল লক্ষ্য ও আদর্শ ছিল সাহিত্য-সাধনা ও গবেষণা । এই আরাধনায় তার ইষ্ট সিদ্ধি লাভ ঘটেছিল । এই সিদ্ধিলাভের উপযুক্ত জীবন পরিবেশ তিনি তার গ্রাম বাড়িতেই খুঁজে পেয়েছিলেন। সাহিত্য চর্চার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম জীবনের শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি চেতনার উন্নতি ও প্রসারণের জন্যও তিনি আজীবন নিরলস প্রয়াস করে গেছেন। আজন্ লালিত বৈষ্ঞবীয় পরিবেশে, সাধুসঙ্গ ও প্রসঙ্গে এবং সাহিত্য ও সাহিত্যিক সাহচর্ষে তার জীবন অতিবাহিত হয়েছে। এই শিক্ষা ও সহবাস তাকে যথার্থ এক মনীষী বূপে গড়ে তুলেছিল। তার নির্মল চরিত্রের সান্নিধ্যে যারাই এসেছেন তারাই মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে বিশেষতঃ জমিদারির প্রজাসাধারণের প্রতি তার ব্যবহার এতই আন্তরিক ছিল যে জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই নীচ স্বার্থকেন্দ্রিক কোনো সংঘর্ষে তাকে লিপ্ত হতে হয়নি । আদর্শের সঙ্গে আত্মার এমন নিবিড় একাত্মতা, মানব চরিত্রের এমন দুর্লভ গৌরবে অধিকারীই তিনি ছিলেন। সতজন হিসেবে তার জনপ্রিয়তা তাকে সাধারণ্যে বৈষ্ণব বাবাজী' নামেই পরিচিতি দান করেছিল । ব্যক্তিগত আদর্শ, মহত্ব ও সৃজনশীল সাহিত্যত্রষ্টা রূপে তিনি দুর্লভ অমরত্ব লাভ করেছেন। শিক্ষার পাঠ শেষ করে পাকাপাকিভাবে গ্রামে বসবাস করার আগে কিছুদিন তিনি শিক্ষকতার কাজও করেছেন। তার কৃতী ছাত্রদের মধ্যে উত্তর শ্রীহট্টের অধিবাসী মহেন্দ্রনাথ দে পুরকায়স্থ এবং সুনামগঞ্জের রমেশচন্দ্র চৌধুরী এই দুজন বিশেষ উল্লেখযোগ্য । সহাধ্যায়ীদের মধ্যে যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রজনীকান্ত রায় দস্তিদার, “পরিদর্শক' সম্পাদক ভারতচন্দ্র দাস, সারদাচরণ ধর প্রমুখ উল্লেখযোগ্য । মৈনা গ্রামে বাসকালে তিনি সেই গ্রামের পাঠশালায়ও দীর্ঘদিন শিক্ষাদানকার্ষে ব্রতী ছিলেন । তন্্নিধি-লিখিত আত্মকথামূলক বিবিধ বক্তব্য থেকে জানা যায় যে তিনি সরকারের রাজস্ব আদায়ের জন্য পাথারকান্দিতে যে তহশীল অফিস রয়েছে সেখানে বেশ কিছুদিন কাজ করেছিলেন। সে সময় সংসারের বোঝা ও দারিদ্র তাকে আষ্টেপৃষ্টে বেধে রেখেছিল । মৈনা গ্রামের পোষ্ট অফিস ছিল কানাইবাজার। এই অফিসটি প্রথমে চৌধুরীদের কাছারী বাড়িতেই ছিল। তখন ছিল এটি পাথারকান্দি অফিসের অধীনন্থ একটি শাখা ডাকঘর । এই অফিস পরিচালনা নিয়ে একবার ঝামেলা হয়। বিভাগীয় তদন্তের পর অফিসটি উঠিয়ে নেবার অবস্থা দেখা দিলে তত্বনিধি নিজে তার পরিচালনার দায়িতৃটি কাধে তুলে নেন। শুধুমাত্র জনসেবার স্বার্থেই যে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সে কথা ডাকঘরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচল অবস্থার ঘটনা-সূত্র থেকেই জানা যায়। কানাই বাজারের সেই পোষ্ট মাস্টারের চেহারাটা [সতের] একবার ভেবে দেখা যাক, গ্রামেব পথের পাশে জমিদারের কাছারী বাড়ির এক প্রান্তে আম-জাম কীঠাল আর বাশ বনেব ছাযায এক ঘরের দাওয়ায় লাল চিঠির বাক্স ঝুলছে, ঘরের ভিতরে কাঠেন হাতল দেয়া চেয়ারে উপবিষ্ট পোষ্ট মাষ্টার, খালি গা, পরণে হাটুর উপর তোলা ধুতি, চোখে গোল তারের চশমা এটে একমনে ডাক বিভাগের সরকারি কাগজপত্র, 791] 1151, কিংবা আসাম সরকাবেব বাজস্ব বিভাগের ঢ০7)-এর পৃষ্ঠায় বাজার খরচের হিসেবের সঙ্গে তন্ত্র-মন্ত্র, গুরু নামাবলী, ঠিকুজী বিচার এমনকি প্রবন্ধ ও কবিতার খসড়া লিখে চলেছেন। মনে পড়ে যায বামপ্রসাদ সেনের কথা । মৈনার চৌধুরী পবিবারটি ছিল বৈষ্ণব ধর্মাশ্রয়ী এক আদর্শ তক্ত পরিবার । তাদেরই পূর্বপুরুষ হুলাস রাম ও আকুল রামের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে বৈষ্ণব ধর্মের যে বীজটি উপ্ত হযেছিল তার ধাবা একাল পর্যন্ত এই বংশের মধ্যে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে রক্ষিত আছে। পতামহ গৌরন্দ্র ও পিতা অদ্বৈতচরণ শুধু ব্যক্তি পরিচয়েই বৈষ্ণব নামধারী মাত্র নন, হথাযথভ বে শীগৌবাঙ্গ ও অদ্বৈত আচার্ষের আদর্শে অনুপ্রাণিত সাধক ছিলেন। তন্্রনিধির জীবন ঢবিত্রেব মধে নিষ্ঠাবান বৈষ্ণবজনোচিত আদর্শ ও মহিমার যে প্রকাশকে অনুভব করা যায় তা তিন্ পারিবাবিক এঁতিহ্য সূত্রেই লাভ করেছিলেন। বৈষ্ণব মবাপুক্ষদের সঙ্গ ও প্রসঙ্গ তার জীবন ও সৃষ্টিশীল প্রতিভাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে পভ বত ক'ছে। শ্রীপত্রিকা, শ্রীশ্রীবিষ্ণপ্রিয়া পত্রিকা, শ্রীশ্রীবিষ্ণ-গৌরাঙ্গ প্রভৃতি বিবিধ পত্র- পত্িবা ও এ প"ম নবদ্বীপ ও বৃন্দাবন ধামকে কেন্দ্র করে চৈতন্যধর্মাশ্রয়ী যে আন্দোলন উনবিংশ শতক দিতীযার্ধ ও বিংশ শতকেব পধ্শের দশক পর্যন্ত প্রায় একশত বছর ধরে প্রবাহমান ছিল সেই আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট সেবক ও প্রাণপুরুষবপেও তিনি পরিগণিত ছিলেন, অহ ভানমৃক্ত. আত্মপ্রচারবিমুখ এই সদাশয় যথার্থ ভক্ত বৈষ্ণব একান্তভাবেই নিজেকে গোপন বেখে হঠিষ্ঠ লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠাবান ও সক্রিয় ছিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গ সমাজ শাখা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদানই শুধু উল্লেখ্য নয়, ভার মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি পর্যন্ত বাংলাদেশের এই শাখা সখ. কে যথেষ্ট গুরুত্ব ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচনা করতে হত । এই সমাজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল তৈতন্য আদর্শের যথাযথ রূপকে এবং তার প্রদর্শিত জীবনবেদকে গ্রামীণ মানুষের মর্মে 'পীঙগে দিযে এক আদর্শ সমাজ গঠন । ধর্মীয় গৌড়ামী কিংবা উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রচার নয়, রপ 'স্পদায়-নিরপেক্ষ উদারতা নিম্ে তত্তনিধি মৈনা গ্রামেও শ্রীগৌরাঙ্গ শাখা সমাজ প্রতিষ্ঠা 25|হালেলন । জীবন নিষ্ঠার সঙ্গে বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি ভক্তি ও বৈষ্ণব সাহিত্য সেবার জন্য বৈষ্ণব 'হাম«্”লর পন্তিতবর্গ তাকে 'তন্তনিধি' উপাণ্ধতে ভূষিত করেন। আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন তার বিঃম্বা 1 চারিত্রিক মহত্ত্ব ও বৈষ্ঞবীয় শাস্ত্রে অসাধারণ বুৎপত্তি দর্শন করে তাকে 'গৌরভূষণ' অভিধায় সম্মানিত করেছেন। তন্ত্বনিধিক সাহিত্য মানসের মর্মমূলে যে আধ্যাত্ম চিন্তা ও জীবনাদর্শ সতত প্রেরণশীল ছিল তা'ব যথার্থ পরিচয় আমার লেখা তন্ত্বনিধির জীবনী গ্রন্থে যথাসা; তুলে ধরার প্রয়াস করা হয়েছে আল্লাচনা পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত না হলেও এই অতি দীন উপস্থাপনাৰ মধ্যে দিয়ে তাৰ একটা নির্দিষ্ট পরিচিতি লাভ করা সম্ভব। পরবর্তী কালের গবেষকদেব কাছে তত্ত্বনিধি প্রসঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার প্রেক্ষিতে এই প্রচেষ্টা কিছুটা সহায়ক বলে অ"শ বাখি। ('পর্বপাতিন ভয়েবুল্া রোড, দীঘলিপুখুবি পাব, গুযাহাটি, ভারত কর্তৃক প্রকাশিত শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত' পুনঃমুদণ এব প্রথম খত এ পবিচিতি সংযোজিত হয়েছে। এটি রচনা করেছেন সুবীর কর। - প্রকাশক) ্রীহস্টরেব ২তিবত্ত পূর্বাংশ)-২ সূচিপত্র প্রথম ভাগ : ভৌগোলিক বৃত্তান্ত প্রথম অধ্যায় জিলার সংক্ষিপ্ত কথা পৃষ্ঠা ২৭-৩২ অবস্থান, সীমা, দেশের প্রকৃতি, শোভা, জনবসতি, বাজাব, বিদ্যালয়, চিকিৎসালয়, পোষ্ট ও টেলিগ্রাফ অফিস প্রভৃতি, বিভাগ ও উপবিভাগ, শাসনকর্তা, আয দ্বিতীয় অধ্যায় প্রাকৃতিক বিবরণ পৃষ্ঠা ৩৩-৩৯ পাহাড়, নদী ও উপনদী, হাওর, উৎস ও প্রশ্রবণ, প্রপাত, মরুভূমি তৃতীয় অধ্যায় কৃষিজাত দ্রব্য পৃষ্ঠা ৪০-৪৯ চাষ, চার চাষ চতুর্থ অধ্যায় শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য পৃষ্টা ৫০-৬১ সূত্রশিল্প, কাষ্ঠশিল্প, বংশ ও বেত্রশিল্প, পর্ণ ও তণশিল্প, ধাতবশিল্প দত্তশিল্প, বিলুণ্-চর্ঘশিল্প, গন্ধ ও খাদ্যশিল্প, লাক্ষা ও লাক্ষিক শিল্প, খনিজ বাণিজ্য দ্রব্য, চূর্ণ, তৈল, কয়ল' ও লবণ ইত্যাদি পঞ্চম অধ্যায় বাণিজ্য পৃষ্টা ৬২-৬৫ বাণিজ্য স্থান, স্টিমার লাইন, রেইলওয়ে লাইন, কাচা সড়ক, আমদানী, রপ্তানি ষষ্ঠ অধ্যায় ইতর প্রাণী পৃষ্ঠা ৬৬-৭২ হস্তী, খেদা ফাস ও পরতালা শিকার, অন্যান্য জন্তু, শিকারী ও পালিত পশু, পক্ষী ও মৎস্যাদি সপ্তম অধ্যায় অধিবাসী পৃষ্ঠা ৭৩-৮৩ হিন্দুজাতি--(কামার, কায়স্থ, কাহার, কুমার, কুশিয়ারী, কেওযালি, কৈবর্ত, গণক, গপ্তপাল, গন্ধবণিক, গোয়ালা, চামার, চুণার, ঢুলি, তাতি, তেলী, দাস, ধোপা, [শদীযাল]-ডোমপাটনি, নমঃশুদ্র, নাপিত, ব্রাহ্মণ (বর্ণ), ভাট, ভুঁইমালী, ময়রা, মাহারা, ঘুগী, লোহাইত কুরী, বারই, বৈদ্য, শাখারি, শুড়ী, সাহা বা সাহু, সুবর্ণবণিক); পার্বত্য জাতি--(কুকি, খাসিয়া, গারো, চুটিয়া, [উনিশ] তিপ্রা মণিপুরী, লালুং) মোসলমান জাতি-_(কুরেশী, জোলা, নাগারছি, পাঠান, মোগল, বেজ, শেখ, সৈয়দ) খৃষ্টান জাতি এবং কুলি অষ্টম অধ্যায় ধর্ম ও শিক্ষা পৃষ্ঠা ৮৪-৯১ মোসলমান; হিন্দু, শান্ত, শৈব ও বিষ্ঞব, কিশোরী ভজন, জগন্মোহনী মণিপুরী রাস, কুকিদের বৃক্ষাদি পূজা; ধর্্মোসব, বিদ্যাশিক্ষা, পূর্ববর্তী বিবরণ স্কুলাদির বিবরণ, ভাষা, সংবাদপত্র নবম অধ্যায় তীর্থস্থান পৃষ্ঠা ৯২-১২০ মহাপীঠ, রামজঙ্খাপীঠ, পীঠপ্রকাশ, রূপনাথ গুহা, সাতহাত পানি ও গঙ্গা; শ্রীবাপাঠ-পরিচয়ের পন্থা, মহাপীঠ ও ভৈরব প্রকাশ, পূজার মাহাত্ম্য; ঠাকুর বাড়ী ও গোপেশ্বর শিব; পণাতীর্থ ও অদ্বৈতৈর আখরা, নির্মাই শিব, উনকোটা তীর্থ, সিদ্ধেশ্বর শিব, পূণ্য সিলা নদী, হাটকেশ্বর তুঙ্গেশ্বর মহাদেব, ব্রহ্ষকুও ও তণ্ত কুণ্ড, মাধব তীর্থ ও শিবলিঙ্গ তীর্থ, বাসু দেবের বাড়ী, বিথঙ্গলের ও যুগলটালার আখড়া; মোসলমান তীর্থ শাহজালালের দরগা প্রভৃতি দশম অধ্যায় পরগণা সমূহ ৃষ্ঠা ১২১-১২৬ আকবর রাজত্বে শ্রীহট্রের বিভাগ, পরগণার সংখ্যা, কালেক্টরী-বিভাগ, উত্তর শ্রীহস্ট্রের পরগণার নামাদি, করিমগঞ্জের পরগণার নামাদি, দক্ষিণ শ্রীহট্রের পরগণার নামাদি, হবিগঞ্জের পরগণার নামাদি, সুনামগঞ্জের পরগণার নামাদি দ্বিতীয় ভাগ : এতিহাসিক বৃত্তাত্ত প্রথম খণ্ড : হিন্দু প্রভাব প্রাচীনতৃ প্রথম অধ্যায় প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য পৃষ্ঠা ১৩১-১৩৭ বঙ্গদেশ কত প্রাচীন, শ্রীহট্্ের প্রাচীনতৃ. বঙ্গদেশের গঠন, প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য, শ্রীহট্টদেশ কামরূপের অধীন, লাউড় পর্বতে ভগদত্ত রাজার বাড়ী, নারীদেশ ছিতীয় অধ্যায় ভাটেরার তাত্রশাসন পৃষ্ঠা ১৩৮-১৫৩ প্রথম প্রশস্তির মন্খার্থ, দ্বিতীয় প্রশস্তির মন্মার্থ, প্রশস্তি কথিত তত্ব, দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকা তৃতীয় অধ্যায় বৈদেশিক উল্লেখ পৃষ্ঠা ১৫৪-১৫৭ 'কিরাদিয়া', বাঙ্গালায় আর্ধ্য নিবাস, সাগর তীরে শ্রীহট্ট, সাগরের উন্লেখ-নিদর্শন, শ্রীহট্টে আর্ধ্যরাজ্য | [বিশ] চতুর্থ অধ্যায় ত্রিপুরা বংশীয় রাজগণ পৃষ্ঠা ১৫৮-১৬৪ ত্রিপুর বংশীয় রাজগণের প্রাচীন রাজ্য, ত্রেপর রাজগণের প্রাচীন রাজধানী, আদি ধর্মপা ও ব্রাহ্মণগণ, চৈনিক পরিব্রাজক ও ভারত সাম্রাজ্য, বৈদিকদের উপনিবেশ পঞ্চম অধ্যায় শ্রীহট্ট্রের সাম্প্রদায়িকগণ পৃষ্ঠা ১৬৫-১৭৩ কৈলা সহর ও কাতলের গল্প, প্রাটান রাজবাটী, পরবর্তী ব্রেপুর নৃপতিবর্গ, নিধিপতি ও স্বধর্মপার যক্ঞ, চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ের টীকা ষষ্ঠ অধ্যায় মোসলমান আক্রমণ পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৮ কীর্তিধর ও হীরাবস্তু, মোসলমানের প্রথমাক্রমণ ও দ্বিতীয় আক্রমণ, অপরিচিত বিলুপ্ত রাজ্য, নিষক্ষ দ্বিতীয় খণ্ড : মোসলমান প্রভাব গৌড় | প্রথম অধ্যায় রাজা গোবিন্দ পৃষ্ঠা ১৮১-১৯০ শ্রীহস্্রের তিনটী ভিন্ন রাজ্য, রাজা গৌড় গোবিন্দ, চক্রপানি দত্ত ও মহীপতিব কথা, শামস্উদ্দীনও প্রতাপমাণিক্য, শাহজালাল নামে বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভিন্ন বুরহান উদ্দীন, সুলতান সিকান্দর শাহ, শ্রীহপ্টের দ্বিতীয় আদিনা মসজিদ, অনুরূপ ঘটনাবলী, সিকান্দরের পরাজয় দ্বিতীয় অধ্যায় দরবেশ শাহজালাল পৃষ্ঠা ১৯১-২১০ দরবেশ শাহজালাল (জীবনী), শাহজালাল ও নসির উদ্দীন সিপাহ সালার, শাহজালাল ও সিকান্দার গাজী, গৌড় গোবিন্দ কর্তৃক খেওয়া বন্ধ করা, প্রতিদ্বন্দ্বী দর্শন ও পলায়ন, শাসনকর্তা নিয়োগাদি, এসলাম ধর্ম প্রচার ও মৃত্যু; মসজিদ ও দরগার দ্রব্যাদি, দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকা । তৃতীয় অধ্যায় নবাবী আমল পৃষ্ঠা ২১১-২১৯ নবাব ইস্পেন্দিয়ার, খঃ ১৩৮৫-১৪৯৫ পর্য্যত্ত গৌড় রাজ্য, সৈম সেন শাহ ও হুসেন শাহ সুরকির সময়ে শ্রীহট্টট বরশালাগ্রাম ও সব্র্বানন্দ, শেখ সাহেবের সময়ে শ্রীহট্র, বিদ্রোহ দমন, কানুনগো লোদী খা, আকবর শাহের সময়ে শ্রীহস্, শ্রীহস্ট্রের আমীল সংখ, নরনারায়ণের শ্রীহট্র বিজয়, অমর মাণিক্যের শ্রীহট্র বিজয়, অনির্দিষ্ট কালীয় আমীলদের নাম চতুর্থ অধ্যায় নবাবী আমল পষ্ঠা ২২০-২৪০ নবাব জামন ও সৈয়দ ইব্রাহিম খা, আরঙ্গজজেবের সমকালবত্তী আমীলগণ, এ বাহাদুর শাহের [একুশ] সমকালবর্তা, হরকৃষ্ণ দাসের বংশ পরিচয়, হরকৃষ্ণের নবাবী প্রাপ্তি, হরকৃষ্ণের হত্যা, হরকৃষ্জের কর্মচারীদের, হরকৃষ্ণের পববর্তী কথা সাদেকুল হরমাণিক, নবাব শমশের খা, জমা কামেল তোমাব্‌, আহমদ শাহের সমকালবত্ত' ফৌজদাব, এ দ্বিতীয় আলমগীরের সমকালবর্তী, সন্ধিপত্রে শ্রীহট্রের চুণার কথা, ই্রেজামলের নবাবগণ। নবাবী আমলে দেশের অবস্থা- (কর্মচারী, বৈকুষ্ঠবাস, রায় ও রায় বাহাদুর, চৌধুরী খেতাব, দ্রবে,র মূল্যাদি, খোজা, সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার, মহাপুরুষ ও গ্রন্থকার) পঞ্চম অধ্যায় তরফের কথা | পৃষ্ঠা ২৪১-২৫২ রাজা আচাক নারায়ণ, তরফ জয়, নানা স্থানের নামকরণ, দ্বাদশ আউলিয়ার দরগা, নাসিরউদ্দীনের কবর, ইব্রাহিম ও কালিদাস, মুলক-উল-উলমা, বেজোড়ায় ভ্রাতৃহত্যা, অমর মাণিক্যের তর্রফাক্রমণ, সুলতান-শি, আরাকান-পতিসহ পরিচয়, রাজ্য বিভাগ, তরফদার, কুতব- উল-আউলিয়া, দরগা, পৈলবংশ, বুলবুলে বাঙ্গালা, ক্ষমতার. হ্রাসতা ষষ্ঠ অধ্যায় তরফের অবশিষ্ট কথা পৃষ্ঠা ২৫৩-২৬৩ খোন্দকারদের কথা, তরফে গৃহবিবাদ, যুদ্ধোদ্যোগ ও যুদ্ধ, অভিযোগ, আপোষকরণ, তরফের পুর্ব আয়তন, পরবর্তী কথা, বিষগাও ও বালিশিরা সপ্তম অধ্যায় ইটার রাজা পৃষ্ঠা ২৬৪-২৭৯ পৃরর্ব কথা, রাজা সুবিদ নারায়ণ, রাজার সমাজ সংস্কারাদি, মাহারাজাতি, রঘুনাথ শিরোমণি, শ্রীহন্টের ঢাকাদক্ষিণ, শ্রীচেতন্যের পিতামাতা, রঘুনাথ ও শ্রীচৈওন্য, রঘুনাথের গ্রন্থ, রাজার পুত্রকন্যাদি, রাজকর্মমচারীগণ, রাজ কর্মচারীদের কর্মচ্যুতি, শ্রীহন্টের দেওয়ান, রাজনগরের যুদ্ধ- পলায়ন অষ্টম অধ্যায় ইটার পরবর্তী কথা পৃষ্ঠা ২৮০-২৯১ খোয়াজ ওসমানের বিদ্রোহ, রাজপুত্রগণ, অধস্তন রাজবংশীয়গণ, এরজারামের পবিচয়, ঈশা খা ংশ, সপ্তম ও অষ্টম অধ্যায়ের টীকা নবম অধ্যায় ইটার বিবিধ কথা পৃষ্ঠা ২৯২-৩০৩ প্রাচীন সংবাদ, কাণিহাটীর অসম রায়, ইটার দেওয়ান ও কানুনগ্ে ৭ সম্পদ সেন, শ্যামবায় দেওয়ান, সদর কানুনগোগণ, হরবল্নবের বিপত্তি, শ্যামরায়ের দেও বী প্রাপ্তি, চে. -ফ্লান-দীঘী, দেওয়ানের ভাগিনেয় ও লাল বিনোদ রায় ও দেওযান পত্রী [বাইশ] দশম অধ্যায় প্রতাপগড়ের রাজবাড়ী পৃষ্ঠা ৩০৪-৩১১ অপরিজ্ঞাত আখ্যান, মালিক মোহাম্মদ ও পোড়া রাজা, মালিক প্রতাব রাজবাড়ী, প্রতাপ মাণিক্য, সুলতান বাজিদ ও হৈড়ন্ব যুদ্ধ, বাজিদের পরাজয়, প্রতাপগড় ধ্বংস একাদশ অধ্যায় প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব পৃষ্ঠা ৩১২-৩২২ সংশয় সমাচার, সুলতান মোহাম্মদ, পরবর্তী চৌধুরীগণ, নবাব রাধারাম, অচ্যাচার, রাধারামের জয়, কানুরামের পরিচয়, কানুরামের বিপদ, রাধারামের পরাজয়, সমাপ্তি তৃতীয় খণ্ড : মোসলমান প্রভাব লাউড় প্রথম অধ্যায় পূর্ববন্তী রাজগণ পৃষ্ঠা ৩২৫-৩৩২ প্রাচীন রাজ্যবিবরণ, মহারাজ গণেশের মন্ত্রী নরসিংহ, রাজা দিব্যসিংহ ও কুরেরাচার্ধ্য, শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্য্য, কৃষ্ণদাস, ঈশান নাগর ও অদ্বৈতপ্রকাশ গ্রন্থ দ্বিতীয় অধ্যায় জগন্নাথপুরের কথা পৃষ্ঠা ৩৩৩-৩৪১ রামশঙ্কর বা রমানাথ মিশ্র, কেশব মিশ্র, জগন্নাথপুরের কেশব, কর্ণ খা, গোবিন্দ খা ও গোবিন্দ সিংহ, হবিব খা ও বিজয় সিংহ, পরমানন্দ সিংহ ও দাসজাতি, পুনবির্ববাদ, জগন্নাথপুরের পতন তৃতীয় অধ্যায় বাণিয়াচঙ্গের কথা পৃষ্ঠা ৩৪২-৩৪৯ বাণিয়াঙ্গ নগর ও কেশব মিশ্র, খাসিয়া আক্রমণ ও লাউড় ধ্বংস, বাণিয়াচঙ্গের হাবিলি, খালিসা ও মোজরাই, নাওরা মহাল, পরবর্তী কীর্তি, সাধারণ দুটা কথা চতুর্থ খণ্ড : মোসলমান প্রভাব জয়ন্তীয়া প্রথম অধ্যায় আদি নৃপতিগণ পৃষ্ঠা ৩৫৩-৩৬০ মহল জয়ন্তীয়া, জয়ন্তীয়ার হিন্দুরাজা, হিন্দুরাজত্বের বিলোপ, পর্বত রায়ের কাল নির্ণয়, বড় গোসাঞ্জি ও মহাপীঠ, ধন মাণিক ও শক্রাদমন, প্রতাপসিংহের পরাজয় জয়ন্তেশ্বরী মূর্তি দ্বিতীয় অধ্যায় আহোম বিজয় পৃষ্ঠা ৩৬১-৩৬৭ যশোমন্ত রায়, বাণসিংহ ও জয়ন্তীমুদ্রা, প্রতাপসিংহ ও লক্ষ্মীনারায়ণ, কাছাড় রাজের প্রতি চাতুর্ষ্য, [তেইশ] আহোম সৈন্যের জয়ন্তীয়া আক্রমণ, প্রজাদের গোলযোগ, আহোমদের পরাজয়, রামাসিংহের মৃত্যু, রাজনৈতিক চিঠি তৃতীয় অধ্যায় পরবর্তী কীর্তি পৃষ্ঠা ৩৬৮-৩৭৪ জয় নারায়ণ ও হাটকেশ্বর--শুরদর্ণ নারায়ণ, বড় গোসাঞ্ি (দ্বিতীয়), কালী স্থাপন ও সন্াস গ্রহণ, ছত্রসিংহ, যাত্রানারায়ণ ও বিজয় নারায়ণ, রাণীকাসারাম সিংহ (দ্বিতীয়), ঢুপির মঠ, সন্ধি, রাজগণের ক্রমিক নামাবলী চতুর্থ অধ্যায় বৃটিশাধিকার পৃষ্ঠা ৩৭৫-৩৭৯ খোজকর, রাজেন্দ্রসিংহ ও নরবলির কথা, কুচক্রীর চক্রান্ত ও ভীষণ বলি, জয়ন্তীয়া গ্রহণ, রাজা নরেন্দ্রসিংহ, রাজবাটীর অবস্থা পঞ্চম অধ্যায় রাজস্বাদির কথা পৃষ্ঠা ৩৮০-৩৮৪ সীমা, পৃব্বকার রাজস্ব, সুবিধা-অসুবিধা ও বাঙ্গালী-কর্মচারী, ভূমি বন্দোবস্ত, জয়স্তীয়ার উপবিভাগ, রাজস্কের পরিমাণ ষষ্ঠ অধ্যায় বিবিধ কথা পৃষ্ঠা ৩৮৫-৩৯০ নদী, উৎপনুদ্রব্য ও বাজার ইত্যাদি, চা বাগান, ডিস্পেন্সারি ও স্কুল, বাঙ্গালা গ্রন্থ, ভাষা ও সংজ্ঞাদি, রমণী সঙ্গীত ও রাসগান, সামাজিকতা ও বিবাহপ্রথা, ধর্ম, দেববিগ্রহাদি পঞ্চম খণ্ড : ইংরেজ প্রভাব প্রথম অধ্যায় প্রথম অবস্থা পৃষ্ঠা ৩৯৩-৪০৮ পাশ্চাত্যজাতির ভারতাগমন, শ্রীহট্টের প্রথম ইংরেজ শাসনকর্তী শ্রীহট্রের দেওয়ান, লিগুসে সাহেবের শাসনকাল, শ্রীহস্রের প্রাকৃতিক দৃশ্য, শ্রীহট্ট ও দরগা, অশান্তি দমন, শ্রীহট্রের কৌড়ি মুদ্রা ও রাজস্ব, লিগ্ডসে সাহেবের চূণার ব্যবসায়, দেশী সৈন্য, শ্্রীহত্র ইজারা, মোহরমের হাঙ্গামা, খাসিয়া আক্রমণ, গম ও কফি, জাহাজ নির্মাণ ও শিকার, পুন্যাহ, জল অগ্নি পরীক্ষা, সৈয়দউল্লার দ্বিতীয় অধ্যায় দশসনা বন্দোবস্ত পৃষ্টা ৪০৯-৪১৯ গঙ্গা সিংহের দৌরাত্ৃ, জন-হিতকর কার্ষ্য, শেষ কানুনগো ও জিলা জরিপ, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, জনৈক ফরাসীর অদম্যতা, উইলিসের পরবর্তী শাসনকর্তাগণ. হস্তবোধ জরিপ, এলাম, খাস [চব্বিশ] হালাবাদি, খাস মুমাদি প্রভৃতি, বন্দর বাজার গঠন, শ্রীহষ্্ট সহব, হালাবাদি জরিপ, খাসিযা আক্রমণ, নিষ্কর ও থাক জরিপ তৃতীয় অধ্যায় বিবিধ পৃষ্ঠা ৪8২০-৪৩০ কুকি জাতি, প্রথম কুকি আক্রমণ, লালচুক্লার আক্রমণ, বিদ্রোহী সিপাহি ও লাতুর লড়াই, আদমপুরের আক্রমণ, খেলাত দান, শেষ আক্রমণ, লুসাই প্রদেশ, হামিদ বখত মজুমদার, এলাম ভূমি, শ্রীহট্ট আসামে, চারি সবডিভিশন ও মিউনিসিপালিটি স্থাপন, প্রতাপগড় তহশিল, ভূকম্প চতুর্থ অধ্যায় ইংলিস কোম্পানী পৃষ্ঠা ৪৩১-৪৩৯ ইংলিস কোম্পানীর প্রতিষ্ঠা, জর্জ ইংলিস, খাসিয়া পর্বতের বৃটিশ কর্মচারী, চুণের একচেটিয়া, কোম্পানীর অত্যাচার, কোম্পানীর লোকানুরাগ লাভ, কোম্পানীর বিরাগ লাভ, আমলাদের লত্য, মেনেজার নিযুক্তি ও হারি সাহেবের মেনেজারি, কোম্পানীব অবনতি, বিলোপ পঞ্চম অধ্যায় ইংরেজ আমলের প্রথম শতাব্দী পৃষ্ঠা ৪৪০-৪৪৮ ব্যবসায়, পবিত্রতা, জমিদার মিরাশদার ও জমির পরিমাণ, বাড়ী ঘর ও দ্রব্যের মূল্য, ভ্রমণে ভয়, ঘুষ প্রথা, স্ত্রীলোকের ব্যবহার, বিবাহ ও ভোজন, পরিচ্ছদ ও আমোদ, দাসদাসী (দাসদাসী ক্রয় বিক্রয়ের দলিল), দেবকার্ধ্য, গ্রাব্যবন্ধন, সতক্রয়া ও সুশিক্ষা উপসংহার কাছাড়ের কথা পৃষ্ঠা ৪৪৯-৪৬৮ ভৌগোলিক বিবরণ, পুর্ব বিবরণ, চিলারায়ের আক্রমণ, মহারাজ কৃষ্ণচন্ত্র ও গোবিন্দচন্্র, মারজিতের কাছাড় আক্রমণ, ব্রহ্মযুদ্ধ ও বদরপুরের সন্ধি, উত্তর কাছাড় পৃষ্ঠা উপসংহারাধ্যায়ের টীকা (প্রাচীন আইন) পৃষ্ঠা ৪৬৯-৪৮২ পরিশিষ্ট প্রথমভাগ পরিশিষ্ট ক-ঞ পৃষ্ঠা ৪৮৫-৫১১ ছিতীয় ভাগ পরিশিষ্ট ক_-এ "ঠা ”১৫-৫৩৯ প্রথম অধ্যায় জিলার সংক্ষিপ্ত কথা অবস্থান সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বঙ্গভূমির উত্তর-পূর্ব্ব প্রান্তভাগে শ্রীহট্ট অবস্থিত; শ্রীহস্ট প্রাচীন বঙ্গভূমির অংশ বিশেষ । কিন্তু ১৮৭৪ খৃষ্টাব্দের পর হইতে শ্রীহন্রকে আসাম প্রদেশভুক্ত করা হয়।১ আসাম প্রদেশের (দ্বাদশটি জিলা২) মধ্যে শ্রীহষ্ট স্র্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করিয়া আসিতেছিল। এক ব্রিংশৎ বর্ষ কাল শ্রীহন্ট আসাম সংসৃষ্ট ছিল, অধুনা (১৯০৫ খৃষ্টানদের ১৬ই অক্টোবর তারিখ হইতে) বঙ্গদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ, (দারজিলিঙ ব্যতীত সমগ্র) রাজশাহী বিভাগ, এবং ভাগলপুর বিভাগের মালদহ জিলা, আসাম প্রদেশের সহিত সংযুক্ত হইয়া (সাতাইশটি জিলাতে) পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে এক নব প্রদেশ গঠিত হওয়ায় শ্রীহস্টও তদন্তর্ভূক্ত হইয়াছে ।৩ সুতরাং ত্রিশ বৎসরের পর শ্রীহট্র আবার পূর্ববঙ্গের অঙ্গীভূত হইল বলিতে হইবে । এই পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের পরিমাণ ফল ১০৬৫৪০ বর্গমাইল, এবং লোকসংখ্যা (১৯০১ খৃষ্টাব্দে গণনানুসারে) প্রায় ৩১৭০০০০০। এই প্রদেশ একজন লেফটেন্যান্ট গবর্ণরের শাসনাধীন হইয়াছে। ১... আইন_ই-আকবরি ও রিয়াজ-উস-সালাতিন প্রভৃতি পারস্য গ্রন্থে শ্রীহ্ট বঙ্গদেশের অন্তর্গত বলিয়া লিখিত আছে। ভক্জিরত্বাকর নামক গ্রন্থে দেখা যায যে, “বঙ্গদেশ” বলিতে পূর্ববঙ্গ প্রধানতঃ শ্রীহট্র, ময়মনসিংহ, ঢাকা প্রভৃতিই বুঝাইত। ২. আসাম প্রদেশ তিনভাগে বিভক্ত ছিল: যথাঃ-__ সুরমা উপত্যকা- শ্রীহট্ট ও কাছাড় জিলা । ব্রক্ষপুত্র উপত্যকা--গোয়ালপাড়া, কামরূপ, নওগাঁ, দরঙ্গ, শিবসাগর ও লক্ষ্মীমপুর জিলা । পার্বত্য প্রদেশ__গারো পাহাড়, খাসিয়া ও জয়্তীয়া পাহাড়, নাগা পাহাড় এবং লুশাই পাহাড়। (উত্তর কাছাড় পব্বতময় বলিয়া পার্রত্য প্রদেশেব অংশরূপে গণ্য করা যায়।) সমগ্র আসাম প্রদেশের পরিমাণ ফল ৫৬২৪৩ বর্গমাইল । লোকসংখ্যা (১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনা অনুসারে) ৬১২৬৩৪৩ জন হইয়াছিল। আসাম প্রদেশ একজন চিফ কমিশনার কর্তৃক শাসিত হইত । শিলং সহরই আসাম প্রদেশের রাজধানী ছিল । ৩. পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ পাচ বিভাগে বিভক্ত হইয়াছেঃ- ঢাকা বিভাগ-ঢাক।, ফরিদপুর, বাখরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জিলা । ট্টগ্রাম বিভাগ-_ক্রিপুরা, চট্টগ্রাম, পার্ব্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালি জিলা । রাজশাহী বিভাগ--দিনাজপুর, বাজশাহী, রঙ্গপুর, বগুড়া, পাবনা, মালপহ ও জলপাইগুড়ি জিলা । সুরমা উপত্যকা বিভাগ--শ্রীহন্্, কাছাড়, খাসিয়া ও জয়ন্তীয়া পাহাড়, নাগা পাহাড়, লৃশাই পাহাড় । আসাম উপত্যকা বিভাগ--গোয়াল পাড়া, কামরূপ, দবঙ্গ, নওগী, লক্ষ্মীপুর, শিবসাগর এবং গারো পাহাড় । মণিপুর ও পার্বত্য ত্রিপুরা এই নবপ্রদেশের কবদ রাজ্য । ২৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ সীমা শ্রীহট্ট জিলার উত্তর সীমাস্থলে খাসিয়া ও জয়ন্তীয়া পাহাড় । পশ্চিমে পূর্বদিকে কাছাড় জিলা, দক্ষিণে পার্বত্য ত্রিপুরা, এবং পশ্চিমে ত্রিপুরা ও ময়মনসিংহ জিলা । শ্রীহন্ট জিলা উত্তর অক্ষাংশ ২৩.৫৮ হইতে ২৫.৩$ এবং পূর্ব দ্রাঘিমা ৯০.৫৮ হইতে ৯২.৩৮ মধ্যে অবস্থিত । শ্রীহস্ট সমুদ্রগর্ত হইতে ৫৫ ফিট উর্দে স্থিত। পরিমাণ ফল ও লোকসংখ্যা শ্রীহট্ট জিলার পবিমাণ ফল (জয়ন্তীয়া সহ) ৫৪৪৩ বর্গমাইল । এই জিলার দৈর্ঘ্য পূর্ব্রে পশ্চিমে প্রায় ৯০ মাইল এবং প্রস্ত উত্তর দক্ষিণে প্রায় ৭৫ মাইল। সম জিলার লোক সংখ্যা (১৯০১ খৃষ্টানদের গণনানুসারে) ২২৪১৮৪৮ জন | দেশের প্রকৃতি শ্রীহট্ট জিলার অধিকাংশ ভূমিই সমতল প্রান্তর । স্থানে স্থানে জঙ্গলাচ্ছাদিত বালুকাময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টিলা আছে। প্রান্তরে বহুতর নদী প্রবাহিত; সাধারণত: নদীগুলির তীর দেশেই জনবসতি দৃষ্ট হয়। শ্রীহট্রে হাওরের সংখ্যাও কম নহে,৫ বর্ধাকালে হাওরগুলিতে অনেক জল হয়। শ্রীহস্রের পূর্র্বদিক ক্রমোন্নত এবং পশ্চিমাংশ নিন্ন। শ্রীহট্রের ভূমিগুলি অতি উর্ব্বরা, বৃষ্টিপাত মাত্রেই মাটি কৃষ্ণবর্ণ পক্কাকার ধারণ করে। শোভা শ্রীহট্ট ঘনবসতি সমাচ্ছন্ন জনপদ হইলেও ইহার অনেক স্থান জল ও জঙ্গলাবৃত। উত্তরে খাসিয়া ও জয়ন্তীয়া পর্বত এবং দক্ষিণে ত্রিপুরা পর্বত উন্নত শীর্ষে দণ্ডায়মান থাকিয়া উভয় দিক রক্ষা করিতেছে। পৃর্র্বদিগ্ভাগে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড় দণ্ডায়মান, এবং সুরমা ও বরাক নদী পুর্ব হইতে পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইতেছে; সুরমা উপত্যকার সুরম্য প্রান্তর উভয় পার্থ বিস্তৃত রহিয়াছে। জঙ্গলাবৃত ভূমি পশ্চিমাংশে ক্রমশঃ হাসতা প্রাপ্ত হইয়াছে; এবং উত্তর-পশ্চিমাংশে জলা ভূমির বাহুল্য পরিলক্ষিত হয়। শ্রীহস্ট্ের প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়ন-মনোমুগ্ধকর। পাহাড়ের নীরব গভীর ভাবের বিশদ বর্ণনা, বিস্তৃত বন-সুষমার মাধূর্য্য প্রকীর্ত্ন, সহজ সাধ্য নহে। বনে বৃক্ষের সারি বৃক্ষের পর বৃক্ষ, সরল সতেজ সুদীর্ঘ, শাখায় শাখায় আকাশ সমাচ্ছন্ন। কোন কোন পুষ্টাঙ্গ বৃক্ষে স্ুলাঙ্গী লতা; লতায় লতায় ফুল,__সুন্দর দৃশ্য । কোন পাহাড়ের যে অংশে বংশবন, তথাকার শোভা অবর্ণনীয়,-শুধু অনুভব গম্য। ঈষৎ হরিদ্রাভ নবীন নধর শ্যামল পত্রাবলী বিশোভিত বংএদপ্তশ্রেণী সজীবতা ও সৌন্দর্য্যের জীবন্ত ছবি। ক্রোশের পর ক্রোশ- দৃষ্টি যতদুর চলে, তরঙ্গের পর তরঙ্গ অতুল জলধির ন্যায় চলিয়াছে। পার নাই-_সীমা নাই, দেখিতে দেখিতে দর্শকের চিত্ত অজ্ঞাতে অভিভূত,-স্তন্তিত হইয়া পড়ে: দর্শককে আত্মহারা হইতে হয়। উর্দে দৃষ্টিপাত করিলে আর একরপ দৃশ্য, শঙ্গ, তাহার পর আরও ৪. লোকসংখ্যা সম্বন্ধীয় বিবিধ নিময় ক-পবিশিষ্টে দ্রষ্টব্য । ? হাওর শব্দের অর্থ প্রান্তর । বর্াকালে জলমগ্র অবস্থায় ইহা সাগরের ন্যাঘ হইয়া পড়ে বোধ হয, সাগব হইতে হাওব শব্দটি হইয়া থাকিবে । (561 95০ল]া) [)1501161 032520101602 901, 11-05511)0) 1১12) প্রথম অধ্যায় : জিলার সর্থক্ষপ্ত কথা শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ২৯ উন্নত শৃঙ্গ, তদুপরি বিশাল বৃক্ষরাজি,_-মহামহিমাময় দৃশ্য । শ্রীহত্রের এই অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বিমোহিত-চিত্ত কবি যথার্থই গাহিয়াছেন : “প্রকৃতির ভাণ্তরেতে শ্রীহট্রের মাঝে, কত শোভা মনোলোভা সর্বত্র বিরাজে। প্রতিভা প্রসূৃত নয়, প্রকৃত বিষয়, দেখনা পথিক গিয়ে যদি মনে লয়? “যে দেশের বন শোভা অত্বলন ভবে, প্রকাণ্ড দীঘল দ্রম আপন গৌরবে উচ্চশিরঃ; ঝোপ ঝাড়ে সুষমার সীমা বিভূষণা বনবধূ লতার মহিমা কত শত বনফুল কাননে ফলিত, কত শত পুষ্পকলি কন্দরে কলিত। বিপিনের কলকণ্ঠ সুগায়কগণ নিত্য প্রাতে বিভু গুণ করে সংকীর্তন 'অদূরে পাহাড় শোভে নীল নতঃ তলে কত নদী নির্বরিণী উপবীত গলে, অপূর্ব্ব গশ্তীর মূর্তি প্রশান্ত দর্শন শেখ দুরে, যেন যোগী যোগে নিমগন।” ইত্যাদি। (প্যারি চরণ দাস কৃত পদ্য পুস্তক ৩য় ভাগ) বর্ষাকালে হাওরের দৃশ্য অদ্রূপই গা্ীর্যময় ৷ যতদূর দৃষ্টির সীমা,_বহু যোজন ব্যাপী অনন্ত জলের রাশি,__কুল নাই, কিনারা নাই, যেন বিশাল সমুদ্র । সুনীল সলিল রাশি টলটল করিতেছে; বাযুবেগে ছলছল চলিতেছে। কখন বা হুঙ্কার করিয়া সুশুভ্র ফুৎকার ছাড়িয়া, উর্মিরাজি প্রধাবিত হইতেছে । কোথাও বা স্থির সলিলে, নীলাস্তরণে কুমুদ কহলারাদি জলজ পুষ্পরাশি প্রস্ফুটিত রহিয়াছে যেন নীলাকাশে অগণ্য নক্ষত্র পুঞ্জ।। হেমন্ত ঝতুতে মাঠের শোভা,_-শ্যামল দুর্বাদল বিলসিত মাঠগুলির মাধূর্যযময় দৃশ্যই বাকি মনোরম! কিন্তু সব্ধর্বোপরি যখন শস্য শ্যামল ক্ষেত্রগুলি বায়ুতর লহরে লহরে ক্রমোন্নত ভাবে খেলিতে থাকে, জলের সুষমা যখন স্থলে প্রতিভাসিত হয়, তখন লক্ষ্মীর ন্নেহামৃত বৈভবা, গৌরবশালিনী সেই ক্ষেত্র-সম্পত্তির মাধুর্য মন মোহিত না হইয়া যায় না। তখন কবির ভাবে মন যেন গাইতে থাকে - 'শ্রীহট্র লক্ষ্মীর হাট আনন্দের ধাম: ্বর্গাপেক্ষা প্রিয়তর এ ভূমির নাম ।' (কবি প্যারি চরণের পদ্য পুস্তক) ৩০ শ্রীহট্রের ইতিব প্রথম ভাগ জলবায়ু শ্রৃহট্ট্রের এই সৌভাগ্য সম্পদের, প্রকৃতির এই শুভাশীর্ব্বাদের বর্ণনা বাহুল্যের সম্প্রতি আবশ্যকতা নাই: বিষয় প্রসঙ্গে তাহা ক্রমে পরিব্যাপ্ত হইবে । শ্রীহট্রের জলবায়ু কিঞ্চিৎ আর্র হইলেও ইহা স্বাস্থ্যকর । স্বাস্থ্যকারিতার একটি প্রমাণ এই যে, শ্রীহট্টের লোককে স্থানান্তরে গেলে পেটের পীড়া বা জ্রাদিতে কিছুদিন ভূগিয়া তথাকার জলবায়ু সহ্য করিতে হয়, কিন্তু অন্যস্থানের লোক শ্রীহট্রে আসিলে তাহাদিগকে কিছুমাত্র ভুগিতে হয় না। শ্রীহত্রের গ্রীষ্মাপেক্ষা শীতের প্রভাবই অধিক। এ জিলায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টির গড় বার্ষিক ১০০ ইঞ্চির কম নহে।৬ ইহার কারণ, শ্রীহষ্ট চেরাপুঞ্জির নিকটবর্তী, চেরাপুঞ্জি অতি বৃষ্টির জন্য পৃথিবী খ্যাত । এই জন্যই শ্রীহত্রের জলবায়ু কথঞ্চিত আর্দ ভাবাপন্ন। বৈশাখ হইতে ভাদ্রমাস পর্যন্তই সাধারণতঃ বৃষ্টি হয়। কার্তিক হইতেই শীত অনুভূত হইতে থাকে, এবং পৌষ মাঘ মাসে শীতের প্রাচূর্ধ্য উপলব্ধি হয়। ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে রৌদ্রের তাপ তীক্ষুতা প্রাপ্ত হয়। শ্রীহট্ট জিলায় রোগের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত অল্প, কিন্ত বর্তমানে ম্যালেরিয়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হয় । জনবসতি ও বাজার শ্রীহট্ট জিলায় (জয়ন্তীয়া সহ) ১৯১টি পরগণা আছে । শ্রীহট্ট জিলায় গ্রামের সংখ্যা প্রায় অষ্ট সহন্্ । অধিবাসীর বসতিবাটীর সংখ্যা পঞ্চ লক্ষের কম নহে। শ্রীহট্রের অধিবাসীদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয়ের জন্য প্রায় চারিশত বাজার আছে। বাজারের সংখ্যা শ্রীহট্রে ৩৬৪টি, এবং জয়ন্তীয়ায় ২৮টি ।৮ বিদ্যালয় ও চিকিৎসা কেন্দ্র শ্রীহট্টবাসী জন সাধারণের সুশিক্ষার জন্য শ্রীহস্টে একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কলেজ ও সাতটি এন্ট্রেস স্কুল আছে । মধ্য-ইংরাজী বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪২টি, এবং মধ্য-বঙ্গ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪টি। শ্রীহট্ট জিলায় বর্তমানে ৩৭টি উচ্চ প্রাথমিক এবং ৭৫১টি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। তদ্যতীত সদরে একটি মধ্য-বঙ্গ বালিকা বিদ্যালয় ও ৮৩টি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় আছে ।৯ “শিক্ষা প্রকরণে” বিশেষ বিবরণ লিখিত হইল । সব্র্ব সাধারণের স্বাস্থ্য রক্ষা ও সুচিকিৎসার জন্য শ্রীহস্্র জিলায় গবর্ণমেন্ট ৪৩টি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করিয়াছেন । শহরের প্রধান দাতব্য চিকিৎসালয় ১৮৬৩ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত হইয়াছে । ৬. সুনামগঞ্জ সবডিভিশনেই বৃষ্টির পরিমাণ অধিক; ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে তথায় প্রা ২১০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। উত্তর শ্রীহট্টে বার্ষিক বৃষ্টিপাত গড়ে ১৫৭ ইঞ্চি ও করিমগঞ্জে ১৬০ ইঞ্চি । দক্ষিণ শ্রীহ্টে বৃষ্টির গড় ১০৪ ইঞ্চি এবং হবিগঞ্জে ৯৪ ইঞ্চি মাত্র । ৭. পরবর্তী ১০ম অধ্যায়ে পরগণার নামাদি বিধরণ লিখিত হইবে । ৮. বাজারগুলির নাম ৩ অবস্থান খ-পরিশিষ্টে দ্টব্য | ৯. এ সব সংখ্যা স্িরতর থাকাব সম্ভাবনা নাই; ১৯০৬ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত এইন্ধপ ছিল । প্রথম অধ্যায় : জিলার সংক্ষিণ্ড কথা শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৩১ পোস্ট আফিস ও টেলিগ্রাফ আফিস শ্রীহ্ট জিলায় পোস্ট আফিসের সংখ্যা বর্তমানে ১৩৮টি । ইহার মধ্যে একটি হেড আফিস, ৩৪টি সব আফিস এবং ১০৩টি ব্রাঞ্চ আফিস আছে ।১০ এই ১৩৮টি পোস্ট আফিসের মধ্যে কম্বাইও্ড আফিস ৩২টি । কম্বাইও আফিসে টেলিগ্রাফের তার সংযুক্ত থাকায় ডাকের কাজ ও টেলিগ্রাফের কাজ উভয়ই হইতে পারে। শ্রীহন্রের পোস্ট আফিস সমূহের সংখ্যা ক্রমশঃ বর্ধিত হইতেছে। শ্রীহট্টে টেলিগ্রাফের একটি হেড আফিস আছে । তথা হইতে টেলিগ্রাফ লাইন নিম্ন শাখাগুলিতে বিভক্ত হইয়াছে। ূ ১. শ্রীহট্ট হইতে চেরাপুষ্জি হইয়া শিলং ও তথা হইতে গোহাটী হইয়া ভারতবর্ষের অন্যান্য স্থানে গিয়াছে । ২. শ্রীহ্র হইতে ছাতক হইয়া সুনামগঞ্জ পর্য্যন্ত গিয়াছে। ৩. শ্রীহট্ট হইতে ফেঁচুগঞ্জ হইয়া বালাগঞ্জ পর্য্যত্ত গিয়াছে । ৪. শ্রীহট্ট হইতে পূর্বদিকে শিলচর পর্য্যন্ত গিয়াছে । ৪-ক. শিলচর হইতে বদরপুর ও করিমগঞ্জ গিয়াছে এবং তৎপরে দক্ষিণদিকে পাথরকান্দি ও দুর্পভিছড়া পর্য্যন্ত গিয়াছে। ৫. শ্রীহট্ট হইতে কাজলদাড়া, শমশের নগর, মোনশীর বাজার, মৌলবী বাজার ও কালীঘাট হইয়া হবিগঞ্জ পর্য্যন্ত এবং হবিগঞ্জ হইতে একশাখা মাদনা পর্য্যস্ত এবং অপর শাখা বাণিয়াচঙ্গ হইয়া মারকুলি পর্যন্ত গিয়াছে। বিভাগ ও উপবিভাগ শাসন কার্য্ের সুবিধার জন্য শ্রীহট্ট জিলাকে পাচভাগে বিভক্ত করা হইয়াছে । যথাঃ নাম পরিমাণ জনসংখ্যা ১. উত্তর শ্রীহট্ট ৮৬৩.৫০ বর্গমাইল ৪৬৩৪৭৭ ২. করিমগঞ্জ ১০৬৬.০০ ” ২২৪১৮৪৮ ৩. দক্ষিণ শ্রীহট্ট ১০৬৪.০০ ” ৩৭৯১৫৮ ৪. হবিগঞ্জ ৯৯৯.০০ ” ৫৫৫০০১ ৫. সুনামগঞ্জ ১৪৫০” ৪৩৩৭৫২ এই পাঁচটি সবডিভিশনের অধীনে ১৬টি পুলিশ স্টেশন বা থানা ও তদধীনে ১৫টি আউট পোস্ট বা ফাড়ি থানা আছে। (বর্তমান পুলিশ থানা সমূহের নামাদি ঘ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য ।) এরি শাসনকর্তা শ্রীহট্ট জিলা একজন ডিপুটী কমিশনার কর্তৃক শাসিত হইতেছে। এই ডিপুটী কমিশনার সুরমা উপত্যকার কমিশনার সাহেবের অধীন। তদ্যতীত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট ও তাহার ১০. পোস্ট আফিস সমূহের নামাদি গ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য | ৩২ শ্রীহট্রের ইতিব প্রথম ভাগ সহকারী, জেইল সুপারিনটেনডেন্ট প্রভৃতি উচ্চ কর্মচারিগণ আছেন। বিচার বিভাগে ডিস্ট্রিক্ট জজ ও তদীয় সহকারী এবং সবজজ ও এডিশনেল সবজজ প্রভৃতি কর্মচারী আছেন । প্রত্যেক সবডিভিশনের ভার এক এক জন এসিশ্টেন্ট বা একক্ট্রা এসিস্টেন্ট কমিশনারের উপর অর্পিত। সবডিভিশনেল আফিসারের অধীনে একস্ট্রা এসিস্টান্ট ও সবডিপুটাগণ আছেন। মোহকুমা গুলিতে দেওয়ানী বিচার কাধ্য মোলেফগণ কর্তৃক সম্পাদিত হয়। মোহকুমা গুলিতে পুলিসের ইনিসপেক্টর প্রভৃতি অবস্থিতি করেন। শ্রীহস্র জিলায় পুলিশের ৬ জন ইনসেপেক্টর, ৪৯ জন সবইনসপেক্টর, 8 জন হেডকনেস্টেবল ও ২৬৭ জন কনেস্টেবল বর্তমান আছে। গ্রাম্য চৌকিদারের সংখ্যা বর্তমানে ৫১৫৮টি ।১১ আয় শ্রীহট্টের গবর্ণমেন্টেব নানা বিষয়ে আয় হইয়া থাকে । ১৯৪০ খৃ্টাব্দের মে আয় নিঙ্নে প্রদর্শিত হইলঃ_ ভুরাজস্ব ৮৪২৪৪৩ টাকা এঁ (বিবিধ) ৬৩২৯৫ ৯০৫৭৩৮ " ভজলকর ৬৬৯০০ বনকর ৭০৪২৫ আবগারী ২৬০৭০৮ " স্টাম্প ৫৫৫৭৯২ ”» রেজেন্টারী ৫৩৭০৯ প্রভিন্সিযেলরেট ২৩৭৪১৫ ইনকম্‌ টেক্স ৫৩৫১৯ ২২০৪২০৬ ৮. ১১. এই সকল সংখ্যা ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে সংগৃহীত হয়। এইগুলি অবশ্যই পরিবর্তনশীল । একটা মোটামুটি ধাবণা জন্মাইবাণ নিমিত্ত এই সকল দেওয়া হইল । দ্বিতীয় অধ্যায় প্রাকৃতিক বিবরণ পাহাড় রস্তরময় ও বৃক্ষাদি পূর্ণ অত্যুচ্চ স্থানকে পবর্বত অথবা পাহাড় বলে। পাহাড়ের সর্বোচ্চ স্থানকে পৰ্র্বত শৃঙ্গ বলিয়া থাকে । বিচ্ছিন্ন পাহাড় খণ্ডের নাম টিলা । শ্রীহট্ট জিলার উত্তরে খাসিয়া ও জয়ন্তীয়া পাহাড় শ্রেণী উন্নত শীর্ষে শ্রীহট্টের পূর্ব গৌরবের সাক্ষ্য দিতে দণ্ডায়মান রহিয়াছে । এই অত্যুচ্চ পর্বত শ্রেণী শ্রীহট্ট জিলার সীমা বহির্ভত হইলেও বড় আখিয়া ও পা্ুুয়া পরগণা এবং মুলাগোলে এ পর্বতের অংশ বিশেষ শ্রীহট্ট জিলা তুক্ত হইয়াছে। শ্রীহস্্ জিলায় অনেকটি পাহাড় আছে, তন্মধ্যে নিম্নলিখিত গুলি বিখ্যাত । এই পাহাড় গুলির মূল, শ্রীহট্ট জিলার দক্ষিণ সীমাবর্তী ত্রিপুরা পর্বত শ্রেণী । ১. পল্ডহরের বা সরসপুরের পাহাড়--শ্রীহট্ট জিলার পূর্ব সীমায়, শ্রীহট্ট ও কাছাড়ের মধ্যে অবস্থিত। ইহা উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ৫০ মাইল দীর্ঘ; প্রস্থ কোন কোন স্থলে ১৩ মাইল । ইহার পৃবের্ব কাছাড় জিলা, পশ্চিমে পল্ডহর, এগারসতী ও চাপঘাট পরগণা। ইহার উচ্চ শৃঙ্গ ছত্রচূড়া (ছাতাচূড়া) ২০৩৪ ফিট উচ্চ। ত্রিপুরার ইতিহাস লেখক শ্রীযৃত কৈলাস চন্দ্র সিংহ বলেন যে, ত্রিপুরার মহারাজ ছত্র মাণিক্যের নামানুক্রমে এই অত্যুচ্চ শৃঙ্গটার নামকরণ হয় । ছত্রচুড়া হইতে পবর্বতের উচ্চতা ক্রমশঃ হাসতা প্রাপ্ত হইয়া, উত্তরাভিমুখে বদরপুর পর্য্যন্ত চলিয়া আসিয়াছে । মধ্যস্থানের নাম সরসপুর, এস্থানের উচ্চতা প্রায় ১০০০ ফিট; বদরপুরের নিকট উচ্চতা ৪০০ ফিটের অধিক নহে। ২. দু-আলিয়া বা প্রতাপগড়ের পাহাড়- প্রতাপগড় পরগণার মণ্যে, উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ৩০ মাইল দীর্ঘ । ইহা পল্ডহরের পাহাড়ের প্রায় পাচ মাইল মাত্র পশ্চিমে অবস্থিত: সবর্বাধিক উচ্চতা ১৫০০ ফিট। ৩. আদম আইল বা পাথারিয়া পাহাড়-দু-আলিয়া পাহাড়ের অল্প কয়েক মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ! ইহা উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ২৮ মাইল দীর্ঘ এবং প্রস্থ প্রায় সাত আট মাইল । ইহার পূর্বে প্রতাপগড়, জফরগড় ও রফিনগর পরগণা; পশ্চিমে পাথারিয়া ও শাহবাজপুর প্রভৃতি । সর্বোচ্চ শৃঙ্গ_-৮০০ ফিট উচ্চ । মাধবতীর্থ নামক জলপ্রপাত এই পাহাড়ে অবস্থিত। ৪. ষাড়ের গজ বা লংলার পাহাড়-ইহা আদম আইল পাহাড়ের পশ্চিম দিকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত । বৃষের ককুদের ন্যায় ইহার আকৃতি বলিয়া এই নাম হইয়াছে। ইহা উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ১২ মাইল দীর্ঘ। ইহার পূর্বে পাথারিয়া পরগণা, পশ্চিমে লংলা। উচ্চ শূঙ্গ-ষাড়ের গজ, ১১০০ ফিট উচ্চ। ৫. আদমপুরের পাহাড়--লংলার পাহাড়ের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে: উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ২৩ মাইল দীর্ঘ। ইহার পূবের্ব আদমপুর, ইটা ও পশ্চিমে চৌয়ালিশ। সব্র্বাধিক উচ্চতা ৬০০ ফিট। শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৩ ৩৪ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ ইহা ষাড়ের গজ হইতে প্রায় পাচ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত । ৬. বড়শী যোড়া বা বালিশিরার পাহাড়_ইহা আদমপুর পাহাড়ের দক্ষিণ পশ্চিমে । ইহার দৈর্ঘ্য উত্তর দক্ষিণে প্রায় ২২ মাইল, প্রস্থ ৪ মাইল। ইহার পূরের্ব ভানুগাছ ও ছয়চিরি পরগণা, পশ্চিমে বালিশিরা ও চৌয়ালিশ প্রভৃতি এই পাহাড় ক্রমশঃ উচ্চতা প্রাপ্ত হইয়াছে; ইহা ১৫০ ফিট হইতে ৩০০ ফিট মাত্র উচ্চ, শূঙ্গের নাম-_চূড়ামণি টিলা, ইহা ৭০০ ফিট উচ্চ। এই পাহাড়ে অনেকটি চা বাগান আছে। ৭. সাতর্গাও ও বিষগায়ের পাহাড়-_-বালিশিরার পাহাড় হইতে ৮ মাইল পশ্চিম দিকে অবস্থিত। ইহা উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ৩০ মাইল দীর্ঘ, সব্্বাধিক উচ্চতা ৬০০ ফিট: ইহার পূর্ব্রে বালিশিরা, সাতগাও ও পচাউন প্রভৃতি পরগণা পশ্চিম তরফ, ফৈয়জাবাদ প্রভৃতি । এই পাহাড় ধীরভাবে উচ্চতা প্রাপ্ত হইয়াছে এবং ইহার উপর অনেক চা বাগান আছে। ৮. রঘুনন্দন পাহাড়-ইহা জিলার দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত । বিষগগায়ের পাহাড় হইতে প্রায় ১৬ মাইল পশ্চিমে, উত্তর দক্ষিণে প্রায় ১৮ মাইল দৈর্ঘ্য ব্যাপিয়া অবস্থিত; সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ৭০০ ফিট। বিষগায়ের পাহাড়ের ন্যায় রঘুনন্দন পাহাড়ও অত্যুচ্চ নহে। এ সকল ভিন্ন বাড়ুয়া বা ইটার পাহাড়, লাউড়ের পাহাড় প্রভৃতি আরও পাহাড় আছে। টিলা সকলের মধ্যে সদরের মিনারের (মনারায়ের) টিলা, করিমগঞ্জের নিকটবর্তী দেউলীর টিলা প্রভৃতি বিশেষ খ্যাত । যে জলগ্রোতঃ পব্বতাদি হইতে নির্গত হইয়া সাগরে পতিত হয়, তাহার নাম নদী । কোন নদী বৃহৎ নদীতে নিপতিত হইলে তাহা উপনদী নামে কথিত হয়। শ্রীহট্র জিলায় প্রকৃত পক্ষে সকলটিই উপনদী। শ্রীহন্ট্ে প্রধান নদী বরাক বা বরবক্র, তাহার উপনদী সমূহ লইয়া, এক বৃহৎ বরবক্র বরবক্র বা বরাক নদী মণিপুরের উত্তরে আঙ্গামীনাগা পাহাড় হইতে উৎপন্ন হইয়া, প্রথমতঃ দক্ষিণাভিমুখে মণিপুর দিয়া প্রায় ১৮০ মাইল প্রবাহিত হইয়াছে, তৎপর কাছাড় জিলায় প্রবেশ করিয়াছে । কাছাড় জিলার পুর্ব সীমা পর্য্যন্ত নৌকা চলিতে পারে, তাহার উপর দিক নৌগম্য নহে। বরাক নদী কাছাড় জিলা ভেদ করিয়া, বদরপুরের কাছে শ্রীহস্ট জিলায় প্রবিষ্ট হইয়াছে । তথা হইতে সাত মাইল প্রবাহিত হইয়া দুই প্রধান শাখাতে বিভক্ত হইয়াছে । উত্তর শাখা সুরম্যা বা সুরমা নামে খ্যাত এবং দক্ষিণ শাখার নাম কুশিয়ারা বা বরাক। ১. কুশিয়ারা বা বরাক-_ভাঙ্গার বাজারের নিকট মূল বরাক নদী হইতে নির্গত হইয়া. স্থানে স্থানে বিভিন্ন নামে ধারণপুবর্ক বাহাদুরপুরের নিকট পুনঃ দ্বিশাখায় বিভক্ত হইয়াছে । (ক) উত্তর বা প্রথম শাখা বিবিয়ানা নাম ধারণ পুবর্ক কালনীর সহ মিশিযা ধলেশ্বরী নদীতে পড়িতেছে। (খ) দক্ষিণ বা দ্বিতীয় শাখা বরাক নামেই নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ হইয়া এ ধলেশ্বরীতেই ৬৩০৩ ০। দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রাকৃতিক বিবরণ শ্রৃহত্টের ইতিবৃত্ত ৩৫ কুশিয়ারা বা বরাক নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ মাইল। মূল নদী তীরে- ভাঙ্গা বাজার, করিমগঞ্জ, ফেঁঞুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, মনুমুখ প্রভৃতি । বিবিয়ানা তীরে--শেরপুর, ইনায়েৎগঞ্জ, মারকলি প্রভৃতি । এই পথে শিলচর পর্য্যন্ত বারমাস ষ্টিমার চলিতে পারে। দক্ষিণ শাখা (বরাক) তীরে__নবিগঞ্জ, কালিয়ার ভাঙ্গা, হবিগঞ্জ, রতনপুর, সুজাতপুর, বাজুকা । ২. সুরমা-_হরুটিকরের নিকট মূল বরাক নদী হইতে বিভক্ত হইয়া উত্তর পশ্চিম ও পশ্চিমাভিমুখে সুনামগঞ্জ পর্য্যন্ত গিয়াছে, তৎপর দক্ষিণাভিমুখী হইয়া দিরাই দিয়া মারকলির নিকট বিবিয়ানার সহিত মিলিত হইয়াছে। ইহার তীরে-_আটগ্রাম, কানাইরঘাট, রামদা, গোলাপগঞ্জ, সাহাগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, ছাতক, দুহালিয়া, আমবাড়ী, সুনামগঞ্জ, পাথারিয়া দিরাই" প্রভৃতি । সুরমার দৈর্ঘ্য দুইশত মাইলেরও অধিক। (ক) কালনী বিবিয়ানার সহিত সুরমা সংমিলিত হইয়া কালনী নাম ধারণ করিয়াছে। তীরে-রণভঞ্জি । (খ) সুরমার দ্বিতীয় এক শাখা চরণার চর, শ্যামার চর হইয়া ময়মনসিংহে প্রবেশ করতঃ আজমীরগঞ্জের নিকট ধলেশ্বরীর সহিত মিলিত হইয়াছে । ৩. ধলেশ্বরী বা ভেড়ামোহানা-ইহা মূল নদী নহে, কালনী, বিবিয়ানা প্রভৃতির সংমশ্রণে আজমীরগঞ্জ হইতে এক বিশাল জল প্রবাহ প্রায় ৪৫ মাইল ধাবিত হইয়া পরে মেঘনা নদীতে পরিণত হইতেছে। ইহা শ্রীহট্ট ও ময়মনসিংহ জিলার মধ্যে সীমারূপে প্রবাহিত হইতেছে । তীরবর্তী স্থান_আজমীরগঞ্জ, কাকাইলছেও, বিথঙ্গল, মাদনা . ইহাদের উপনদী সমুহঃ- ১. লঙ্গাই-_ত্রিপুরা পর্রবতান্তর্গত জম্পাই পাহাড় হইতে উৎপন্ন হইয়া উত্তরাভিমুখে করিমগর্জের তিনমাইল দক্ষিণে (লঙ্গাই ষ্টেশন) পর্য্যন্ত আসিয়াছে । তৎপর দক্ষিণ পশ্চিমাভিমুখে হাকালুকি হাওরের মধ্যে দিয়া জুড়ী নদীর সহিত একত্রে ফেঞ্চুগঞ্জের নিকট কুশিয়ারাতে পতিত হইতেছে। হাকালুকিতে লঙ্গাই নদীর নিতান্ত দুরবস্থা ঘটিয়াছে। বর্ষাকালে তথায় লঙ্গাইর অস্তিত্ব লুণ্প্রায় হইয়া যায় এবং হেমন্তে জল শুষ্ক হইলে, হাওরের বিভিন্ন খাতে ক্ষীণ কলেবরে অবস্থান করে। ইহার দৈর্ঘ্য জুড়ী সম্মিলন পর্য্যন্ত প্রায় ৯৫ মাইল । তীরবর্তী স্থান__হাতীখিরা, বৈঠাখাল, চান্দখিরা, পাথারকান্দি, নিলামের বাজার, লাতু, জলডুপ প্রভৃতি । ২. মনু-_ত্রিপুরা পর্ববতান্তর্গত সঙ্খলং পাহাড় হইতে নির্গত হইয়া উত্তর পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া মনুমুখে কুশিয়ারাতে পতিত হইতেছে। উৎপত্তি স্থান হইতে ইহার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ মাইল। তীরবর্তী স্থান-_কৈলাসহর, তীরপাশা, কদমহাটা, মৌলবীবাজার, আখাইল কুড়া প্রভৃতি । (ক) ইহার প্রধান উপনদী--ধলাই। ধলাই নদী ত্রিপুরা পর্বত হইতে নির্গত হইয়া উত্তরাভিমুখে ধাবিত হইয়া মনুর সহিত মিলিত হইতেছে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মাইল। তীরে--কমলগঞ্জ। ৩. খোয়াই--প্রাচীন ক্ষমা নদী । ত্রিপুরা পর্বত হইতে নির্গত হইয়া উত্তর পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া হবিগঞ্জের সন্নিকটে বরাক নদীতে পতিত হইতেছে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ মাইল। তীরে-_জয্তীয়াপুর, গোয়াইনঘাট প্রভৃতি । ৩৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ ৫. পিয়াইন--জয়ন্তীয়া পাহাড় হইতে উৎপন্ন হইয়া, দক্ষিণ পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া ছাতকের উত্তরে সুরমাতে পতিত হইতেছে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ মাইল । তীরে-_রম্তমপুর, কোম্পানীগঞ্জ প্রভৃতি । ৬. বৌলাই-_খাসিয়া পর্বত হইতে নির্গত হইয়া, দক্ষিণ পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া কংস নদের সহ সম্মিলনে ধনু নাম ধারণে ময়মনসিংহ জিলায় প্রবেশ করিয়াছে। দৈর্ঘ্য গ্রায় ৩০ মাইল । তীরবর্তী স্থান__তাহিরপুর, জগদীশপুর, হরিহরপুর প্রভতি। যাদুকাটা নদী ও রক্তি নদী ইহার উপনদী। ৭. কংস-গারো পাহাড় হইতে নির্গত হইয়া পূর্ব দক্ষিণাভিমুখে (ধর্মপাশার নিকট) শ্রীহট্রের সীমা রেখা রূপে কিছু দূর অগ্রসর হইয়া বৌলাইর সহিত সম্মিলনে ধনু নামে পুনঃ ময়মনসিংহে প্রবেশ করিয়াছে। দৈর্ঘ্য ৩৫ মাইল । তীরে-_ধর্মপাশা, তাজপুর প্রভৃতি । শ্রীহট্ট জিলায় আরও বহুতর নদী আছে। তন্মধ্যেঃ_ উত্তর শ্রীহট্রে -_ লুবা, বার, কুইগাঙ্গ। করিমগঞ্জে -__ লুলা, শিংলা, কচুগাঙ্গ। দক্ষিণ শ্রীহত্ট -_ জুড়ী, গোপলা। হবিগঞ্জে _- করঙ্গী, সুতাং, কলকলিয়া। সুনামগঞ্জে __ ধামালিয়া, ীনি, মহাসিংহ (মাসিং)। এই সকল নদী অপেক্ষাকৃত প্রসিদ্ধ । শিংলা নদী ত্রিপুরা পবর্বত হইতে বাহির হইয়া শণ বিলে পতিত হইতেছে । কচুগাঙ্গ শণ বিল হইতে বাহির হইয়া কুশিয়ারাতে পড়িতেছে। জুড়ী ত্রিপুরা পর্বত হইতে বাহির হইয়া হাকালুকি হাওরের মধ্যদিয়া লঙ্গাই সম্মিলনে কুশিয়ারাতে পতিত হইতেছে । তীরে--ঘিলাছড়া বাজার । মাসিং নদী ভরল বিল হইতে উৎপন্ন হইয়া সুরমায় পড়িতেছে। ছড়া ও খালা--পব্বত নিঃসৃত ক্ষীণকায় স্রোতকে ছড়া (3:০০) বলে। শ্রীহট্টে অগণ্য পার্বত্য ছড়া আছে। উদাহরণ স্থলে--উত্তর শ্রীহট্টে (সদরে)-__ গোয়ালি ছড়া, করিমগঞ্জে (জাফর গড়ে)-বড় ছড়া, দক্ষিণে শ্রীহট্রে (লংলায়)--পালকী ছড়া, হবিগঞ্জে (মুচিকান্দি)_-বেয়াছড়ার নাম করা যাইতে পারে। মানব কৃত প্রোতকে খাল (খাত) বলে । যথা-মৌলবী খাল,_মৌলবী আবদুর রহিম কর্তৃক খনিত। এই খাল সুরমা নদীর সহিত কুশিয়ারাকে সংযুক্ত করে। ইহাতে করিমগঞ্জ প্রভৃতি পূর্বাঞ্চল হইতে শ্রীহট্র সহরে যাওয়ার রাস্তা সংক্ষেপ হয়। আমিরউদ্দীন খাল--বরাকের সহিত ইটাখলা নদীকে সংযুক্ত করিয়াছে । এই খালে শ্রীহট্ট হইতে ঢাকা যাওয়ার পথ সংক্ষেপে হয়। নটী খাল-_ইহা মানবকৃত নহে। করিমগঞ্জে কুশিয়ারার সহিত লঙ্গাই নদীকে সংযুক্ত করিয়াছে । এই খালের নাম তত্ব একটু কবিত্ব বা রসিকতা আছে । যখন লঙ্গাই নদীতে জল বৃদ্ধি হয়, তখন ইহা লঙ্গাইকে কুশিয়ারার সহিত সংযোগ কবে, তখন এই প্রোতস্বতী উত্তরবাহিনী হইয়া কুশিয়ারাতে আত্মসমর্পণ করে । আবার কুশিযারাতে জল বৃদ্ধি হইলে নটাখাল লঙ্গাইব দিকে ফিরিয়া যায়, দক্ষিণবাহিনী হইয়া লঙ্গাইর সহিত মিলিত হয়। নটাখাল হেমন্তে শুকাইয়া যায়। শ্রীহট্ট জিলায় খালের সংখ্যা অগণ্য। প্রায় সমস্ত খালই হেমস্তে শুষ্ক হইয়। যায়। দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রাকৃতিক বিবরণ শ্রৃহট্রের ইতিবৃত্ত ৩৭ শ্রীহট্ট জিলায় জোয়ারের বেগ দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অল্প দূর পর্য্যন্ত যৎসামান্য অনুভব হয়। নদীর বেগ প্রখর কিন্তু হেমন্ত কালে অপেক্ষাকৃত অল্প। হাওর বা প্রান্তর হাওর শব্দটি শ্রীহট্টেই শুনা যায়, প্রান্তর ইহার ঠিক অনুবাদ না হইলেও ইহার অনেকটা ভাব প্রকাশ করিতে পারে। বর্ষার অনতি গভীর জলমগ্ন ৷ ভূভাগ-যাহার অধিকাংশই হেমন্তে শুষ্ক হইয়া যায়, তাহাকেই এতদঞ্চলে হাওর বলে। হাওরের যে অংশে হেমন্তে জল থাকে, সেই গভীর অংশকে কি বলা যায়। বিলই প্রকৃত পক্ষে হুদ ।১ উত্তর শ্রীহট্রে নিম্ন লিখিত হাওর গুলি প্রসিদ্ধঃ- ১. জিল্কার হাওর ও ঝিন্কার হাওর । শ্রীহট্ট সহর হইতে ১৬ মাইল উত্তর পশ্চিমে ইছাকলস পরগণার মধ্যে অবস্থিত । ২. বাড়ুয়া ও হাইল্কা হাওর । শ্রীহট্র সহর হইতে ১০ মাইল দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমে রেঙ্গা পরগণার মধ্যে এই দুই হাওর অবস্থিত । ৩. চাতল ও মৈজল। শ্রীহত্্র সহর হইতে ১২ মাইল দক্ষিণে গহরপুর পরগণায় অবস্থিত । ৪. বড় হাওর । শ্রীহট্ট সহর হইতে প্রায় ১২ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে মোক্তারপুর পরগণায় অবস্থিত । ৫. বানাইয়া হাওর শ্রীহ্র সহর হইতে ২২ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে দুলালী পরগণায় অবস্থিত। ৬. শউলা হাওর । শ্রীহস্ট হইতে ৬ মাইল পৃরের্ব বরায়া পরগণায় অবস্থিত। করিম গঞ্জের প্রসিদ্ধ হাওরঃ- ১. শণ বিল। ইহার উত্তরাংশের নাম রাতা বিল ২ শ্রীহট্ট সহর হইতে ৪০ মাইল পূর্ব্ব দক্ষিণে এগারসতী পরগণা মধ্যে অবস্থিত । ২. হাকালুকি হাওর । শ্রীহট্ট সহর হইতে ২২ মাইল দক্ষিণ পূর্বে পাথারিয়া পরগণায় অবস্থিত শ্রীহট্রের পৃবর্বাংশে ইহাই বৃহত্তম হাওর । দক্ষিণ শ্রীহট্রের প্রধান হাওরঃ__ ১. হাইল হাওর--এই প্রসিদ্ধ হাওর শ্রীহট্্ট সহর হইতে প্রায় ৪৫ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে চৌয়াল্লিশ পরগণা মধ্যে অবস্থিত । ২. কাওয়া দীঘির হাওর-_-এই হাওর শ্রীহট্ট সহর হইতে প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে ইটা ও শমশের নগর এই উভয় পরগণায় অবস্থিত । হবিগঞ্জের প্রসিদ্ধ হাওর গুলিঃ__ ১. মাকাল কান্দির হাওর-শ্রীহট্ট সহর হইতে ৪০ মাইল দক্ষিণ পশ্চিম দিকে বাণিয়াচঙ্গ পরগণায় অবস্থিত । ১. সংঙ্কৃত বিল শব্দের অর্থ গর্ত । “হাওর” শব্দটি বোধ হয় “সাগরের” অপত্রংশ। ফলতঃ বর্ষায় হাওর গুলিকে এক একটি ক্ষুদ্র সাগরের ন্যায় দেখায়। ২. পূর্ব ও পশ্চিম এই দুই দিকে পাহাড় থাকায় এই বিল অগ্রসর ও সুদীর্ঘ এবং গভীর ও তরঙ্গ সঙ্কুল হইয়াছে। এই বিল সম্বন্ধে প্রবাদ বাকা এই- “শণ বিলে নড়ে চড়ে, রাতায় পরাণে মারে ।” ৩৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ ২. কাগাপাশা ও ঘোলডুবার হাওর-শ্রীহস্ট সহর হইতে ৩৫ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে বাণিয়াচঙ্গ পরগণায় অবস্থিত। ৩. ঘুঙ্গিয়া জুরি-শ্রীহট্ট সহর হইতে ৩৬ মাইল দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে তরফ ও মান্দার কান্দি পরগণার মধ্যে অবস্থিত । সুনামগঞ্জের অধীন হাওর গুলিঃ- ১. দেখার হাওর--শ্রীহট্ট হইতে ৩০ মাইল পশ্চিম উত্তরে পাগলা পরগণায় অবস্থিত। ২. শনির হাওর- শ্রীহট্ট সহর হইতে ৫০ মাইল পশ্চিম উত্তরে লাউড় পরগণায় অবস্থিত। ৩. জয়ার হাওর- শ্রীহট্ট সহর হইতে পশ্চিম উত্তরে ৩০ মাইল দূরে লক্ষণ শ্রী (লক্ষ্মণ ছিরি) পরগণায় অবস্থিত। ৪. জামাই কাটা, নলুয়া, পরুয়া, মহাই হাওর-শ্রীহট্ট সহর হইতে ২৫ মাইল পশ্চিম দক্ষিণে আতুয়াজান পরগণাতে এই হাওরগুলি অবস্থিত। ৫. টেঙ্গুয়ার হাওর-শ্রীহট্ট সহর হইতে ৫৫ মাইল পশ্চিম উত্তরে বংশীকুণ্তা পরগণায় অবস্থিত । ৬. টগার হাওর-শ্রীহস্ট সহর হইতে ৬০ মাইল পশ্চিমে সেলবরষ পরগণায় এই হাওর অবস্থিত । এতত্তিন্ন উত্তর শ্রীহট্টে-লঙ্গুয়ার হাওর; করিমগঞ্জে-_মুড়িয়া; দক্ষিণ শ্রীহট্টে-ডেকার হাওর; হবিগঞ্জে--হরিপুরের হাওর এবং সুনামগঞ্জে-মাটি আইল প্রভৃতি আরও বহুতর হাওর আছে। হাকালুকি সম্বন্ধে গল্প হাকালুকি হাওরের উৎপত্তি সম্বন্ধে এক আশ্চর্য্য জনশ্রুতি আছে;-অতি প্রাচীন কালে এ স্থান সমভূমি ছিল। তথাকার অধিবাসী কয়েকটি ব্রাহ্মণ সদাচার সম্পন্ন না থাকায় যথেচ্ছাচারে শিবপুজা করিতেন। একটি নীচ জাতীয়া দাসী অশুচিভাবে পুষ্পচয়ন করিত; কিন্তু একজন ব্রাহ্মণ এই সকল ব্যবহারে অন্তরে ব্যথা পাইতেন ও শুদ্ধভাবে শিবপূজা করিতেন। অবশেষে যখন তাহাদের পাপের ভরা পূর্ণ হইল, তখন একদা সেই শুদ্ধাচার ব্রাহ্মণকে স্থানান্তরে পলাইয়া যাইতে দৈবাদেশ হইল । এ দিকে হঠাৎ দৈব উৎপাত উপস্থিত হইল, এক সঙ্গে ঝড় ও ভূকম্প ভীমবেগে প্রলয় কাণ্ড উপস্থিত করিল, দেখিতে দেখিতে সেই স্থান অদৃশ্য হইয়া গেল। প্রবাদানুসারে সেই স্থানেই হাকালুকি হাওর হইয়াছে ।৩ ডেকার হাওর সম্বন্ধে গল্প ডেকার হাওর সম্বন্ধেও একটা গল্প প্রচলিত আছে, এ গল্পটি আরও অলৌকিক । প্রবাদ এইঃ- বরশীযোড়া পাহাড়ের নিকটস্থ হিন্দুরাজার দীঘী হইতে এক স্বর্ণকান্তি বৃষ উ্থিত হইত ও নিকটস্থ সুন্দরনাথ নামক ব্যক্তির পালিত একটা বৃষের সহিত যুদ্ধ করিত। একদা সুন্রনাথের বষের শৃঙ্গাঘাতে আতিবাহিক বা দৈব দেহধারী সেই বৃষ পরাজিত হয় ও দশহাল গ্রামের পশ্ি'মদিকে মৃতের ন্যায় পড়িয়া রহে। তদবধি আর তাহাকে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হইতে দেখা যায় নাই। ৩. হাইল হাওর সম্বন্ধেও তদনুরূপ গল্প শুনা যায়। এবং পলায়িত ব্রাহ্মণই ছত্রবটের চৌধুরীদিগেন আদি পুরণ্ষ বলিয়া উক্ত হন। হাকালুকি (খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দীর) বৈদিক তামফলকোক্ত “হাঙ্কলা কৌকিকাং পুরীং"” দ্বারা নির্দেশিত ভূভাগ । তখন বোধ হয়, উহা জনপদ ছিল । ডুকম্পাদিতে যে উচ্চ নীচ হয়, তাহার প্রমাণ ১৩০৪ সালেই পাওয়া যায়। দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রাকৃতিক বিবরণ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৩৯ অল্পবয়স্ক বৃষকে এতদঞ্চলে “ডেকা” বলে; দুইটি ডেকার যুদ্ধ হইতে এই হাওরের নাম ডেকার হাওর হইয়াছে । হ্্দ শ্রীহট্টে প্রকৃত হুদ নাই। নবিগঞ্জের নিকটস্থ “অমৃতকুণ্” শ্রীহট্ট জিলায় প্রকৃত হদপদবাচ্য হইতে পারে। অমৃতকুণ্ডের জল অতি পরিষ্কার, চতুর্দিকের যে সকল লোকে তাহা পান করে, তাহাদের ওলাউঠা প্রভৃতি ব্যাধি প্রায়ই হয় না! ইহা একটি পবিত্র জলাশয় পবিণত হইয়াছে; বারুণী যোগে বহুতর লোক অমৃতকুণ্ডে স্নান তর্পণাদি করিয়া থাকে । বাণিয়াচঙ্গের দেওয়ান বংশীয়গণ পূরের্ব অমৃত কুস্তের জল নেওয়াইয়া পান করিতেন। উৎস ও প্রসবণ পণা-_লাউড়ের পণা একটি প্রসিদ্ধ ঝরণা, ইহা একটি তীর্থ বিশেষ; বারুণী যোগে বহুলোক পণাম্নানে যায়। ফুলতলীর প্রপ্রবণ--দিনাবপুরের ফুলতলির প্রত্রবণটিও বিশেষ বিখ্যাত । ঠাপ্তাকুয়া__বারপাড়া পরগণায় ৷ এই উৎসের জল শীতল বলিয়া ঠাণ্ডাকুয়া নামে আখ্যাত। দরগা মহলার উৎস--এই উৎসটি বিশেষ বিখ্যাত, মোসলমানগণ ইহার জল অতি পবিত্র মনে করেন । ইহা ইষ্টক দ্বারা বাধান। শাহজালাল এই উৎসের জল ব্যবহার করিতেন । নয়া সড়কের উৎস--এই উৎসের জল ঈষৎ উষ্ণ । এই দুইটি উৎস সদরে অবস্থিত, সদরের গাণিছড়াব কাছে আর একটি উৎস আছে। তগ্তকুণ্--জয়ন্তীয়ার হরিপুরে (সরকারী ডাক বাঙ্গালাব সন্নিকট) আর একটি আশ্চর্য্য উৎস আছে। ইহার আয়তন প্রায় দেড় কেদার ভূমি ব্যাপী । কুণ্ডটি সমতল বিশিষ্ট নহে, পশ্চিমোত্তরাংশে গভীরতা অধিক। কুন্তের জল উষ্ণ নহে--শীতল, কিন্তু জলতলস্থ ভূমি অতি উত্তপ্ত-মুহূর্তকালও দাঁড়ান যায় না। ভূমিতে পদসংলগ্ন না করিয়া সন্তরণ করিলে কোনও কষ্ট হয় না। সন্তবতঃ কুণ্ততলে ভূগর্তে কোনরূপ উত্তাপযুক্ত দাহ্য পদার্থ আছে। বর্ষাকালে এই স্থানে প্রচুর পরিমাণে জল হয়, এবং কুণ্তটি ১০/১২ হাত জলের নীচে পড়িয়া যায়। বারুণীযোগে এ স্থানেও কেহ কেহ স্নান তর্পণ করে। প্রপাত শ্রীহট্রের পাহাড়গুলিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্ধ অনেক প্রপাত আছে। আদম আইল পাহাড়ের “মাধব” নামক প্রপাতটি বিশেষ বিখ্যাত প্রায় শতাধিক হস্ত উর্ঘ হইতে প্রবলবেগে জল পতিত হইতেছে। বৃষ্টি হইলে বহুদূর হইতে জল পতন শব্দ শ্রুত হওয়া যায়। মরুভূমি প্রকৃতির লীলানিকেতন শ্রীহষ্টে, মরুতূমিরও একটা নমুনা ক্ষেত্র আছে! লাউড় পরগণায় যাদুকাটা নদীর পার্খদেশে কিয়ৎ পরিমাণ স্থান ব্যাপী এক খণ্ড বালুকাময় ভূমি আছে; তাহাতে বৃক্ষাদি কিছুই জন্মে না শ্রীহট্টরে এইরূপ বালুকাময় স্থান আর দেখিতে পাওয়া যায় না। ইহাকে ক্ষুদ্বায়তন মরুভূমির নমুনা বলা যাইতে পারে। তৃতীয় অধ্যায় কৃষিজাত দ্রব্য ধান্যাদি শ্রহট্ট বৃষ্টি-মাতৃক দেশ। বৃষ্টির জলই এখানে কৃষি কার্য্ের পক্ষে প্রচুর হয়। শ্রহিষ্ট জিলার ভূমিতে সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কোন কোন স্থলে চারা ভূমিতে ও রবিশস্যের জন্য সামান্যরূপে সার ব্যবহারের প্রচলন আছে। এক মাত্র গোবরই সাররূপে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। আশু ও শালি ধান্য শ্রীহট্টের স্ববপ্রধান উৎপন্ন দ্রব্য ধান্য, বহু জাতীয় ধান্য শ্রীহট্টের উব্র্বর ক্ষেত্রে উৎপন্ন হয়। অনতি উচ্চভুমিতে নানা জাতি শালি ধান্য ও আশু ধান্য জন্মে। বৈশাখ হইতে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আশু ধান্যের সময়; শীঘব উৎপন্ন হয় বলিয়া ইহার নাম আশু ধান্য। “দুমাই” নামক আশু ধান? দুই মাসে জন্বিয়া থাকে। নিশ্নভূমিতে আছরা, বাগদার প্রভৃতি ধান্য জন্মে। জলাভূমে আমন, কাতারিয়া, আমনবাদাল জন্মে । জল বৃদ্ধির সহিত ধান্যের চারাও বৃদ্ধি পাইতে থাকে । কোন কোন স্থলে ১৫/২০ হাত পর্য্যন্ত বাড়িয়া থাকে । যে নিম্নভূমিতে হেমন্ত কালেও কিছু কিছু জল থাকে, তথায় “শাইলবোর” জন্মিয়া থাকে । এ ধান্য পৌষ মাসে রোপণ করতঃ চৈত্র বৈশাখ মাসে কাটিয়া থাকে । সুনামগঞ্জে ও হবিগঞ্জেই ইহা অধিকরূপে জন্মিয়া থাকে। বিরণী ধান্য অনতি উচ্চভূমে জন্মে । বিরণী কেবল পিষ্টকান্ন প্রস্তুত জন্যই ব্যবহৃত হয়। রবি শস্য ও ইক্ষু ধান্য ব্যতীত সর্ষপ, তিসি, মূলাবীজ, তিল, কলাই, মুগ প্রভৃতি রবিশস্য মধ্যে প্রধান ও প্রায় সর্বত্রই জন্মে। ইক্ষুর চাষও মন্দ হয় না, করিমগঞ্জে সবডিভিশনের দক্ষিণে, দক্ষিণ শ্রীহট্রে এবং হবিগঞ্জে প্রধানতঃ ইক্ষুর চাষ হয়। খাগড়া, ধল ও বোম্বাই এই তিন জাতীয় ইক্ষু সচরাচর চাষ করা হয়।১ ১. ১৯০০-১ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত চারি বৎসরে ধান্যাদি চাষের কিরূপ ত্রাস বৃদ্ধি হইয়াছে, নি্নে তাহা প্রদর্শিত হইল । শস্য ১৯০০-১ অন্দে যত একর ১৯০৩-৪ অন্দে যত একর মন্তব্য ধান্য ১৯৬৬৯৩০ ২৪৯৩০২০ বৃদ্ধি সর্ষপ ৩৮৪৩৩ ৩৭০০০ হাস তিসি ৬৮৪৩৩ ৬৯০০০ বৃদ্ধি ইক্ষু ১১৩৪৬ ১৫০০০ বৃদ্ধি কলাই মুগ ৫৫২৮ ৩০০০ হাস নানাবিধ ৪১০৪২৭ ২৯৮৮২০ স্াস তৃতীয় অধ্যায় : কৃষিজাত দ্রব্য শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪১ শন ও পাট শন নদীতীরেই সামান্যরূপ উৎপন্ন হয়, ইহার সূত্র সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী । শণসুত্র জাল প্রস্তুত কার্য্যেই ব্যয়িত হইয়া যায়। শ্রীহট্র জিলায় পাটের চাষ ক্রমশঃ বর্ধিত হইতেছে । উত্তর শ্রীহ্ হবিগঞ্জ ও দক্ষিণ শ্রীহন্রে এবং কুশিয়ারা ও মনৃতীরেই ইহার চাষ অধিক হইয়া থাকে । ১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে প্রায় ৩০০০ একর ভূমিতে পাটের চাষ হইয়াছিল। তামাক তামাক তরফ পরগণায় এবং অন্যান্য আনেও কিয়ৎ পরিমাণে উৎপন্ন হইয়া থাকে। ফল-মূল কমলা শ্রীহট্টরের কমলা অতি বিখ্যাত। এরপ মিষ্ট রসাত্মক কমলা ভারতবর্ষের অন্যত্র জন্মে না। কমলার গাছ ১২-১৪ ফিটের অধিক উচ্চ হইতে দেখা যায় না, কমলার পত্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র; গাছ দেখিতে অতি সুন্দর । চেলা প্রভৃতি স্থানে কমলার ধৃহৎ বৃহৎ বাগান আছে। ফলবান কমলা বাগানের সৌন্দর্য্য মোহিত হইবে না এরূপ লোক অতি বিরল। কমলা প্রধানতঃ খাসিয়া পাহাড়ে জন্নিয়া থাকিলেও শ্রীহস্টরের জয়ন্তীয়া, পঞ্চখণ্ প্রভৃতি স্থানেও ইহা নূন্যাধিক জন্নিয়া থাকে । পৌষ ও মাঘ মাস কমলা পাকিবার সময়; সুপন্ক কমলা দেখিতে অতি সুন্দর । কমলার শত বার আনা হইতে দুই টাকা পর্য্যন্ত মূল্যে বিক্রয় হয় ।২ বর্তমান রেইলওয়ে যোগে বহু পরিমাণে কমলা রপ্তানি হওয়ায় মূল্য বর্ধিত হইতেছে। পূর্ববঙ্গ শাসন বিবরণীতে দৃষ্ট হয় যে, ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে শ্রীহ্ হইতে ১৩৫২১৩ মন কমলা বিদেশে রপ্তানি হইয়াছিল । আনারস শ্রীহট্টের আনারস বঙ্গ বিখ্যাত। আনারস যে এত সুমিষ্ট উপাদেয় হইতে পারে, ইহা বিদেশীয়ের ধারণাতীত।৩ এই মিষ্ট রসাত্মক ফলের জনুস্থান শ্রীহট্রের জলড়ুব ও পঞ্চখণ্ড। টীলা ভূমিতে আনারসের বাগান হয় । আনারস আফা, শ্রাবণ মাসে পরিপক্ক হইয়া থাকে । আনারসের শত সাধারণতঃ দুই টাকা হইতে চারি টাকা পর্য্যন্ত বিক্রয় হয়। বর্তমান রেইলওয়ে যোগে আনারসের রপ্তানি বর্ধিত হওয়ায় মূল্যও বৃদ্ধি পাইতেছে। ভুবি বা লটকাফল জলডুব, পঞ্চখণ্ড ও কুশিয়ার কুল প্রভৃতি স্থানের ভূবিফলও উত্তম বটে । ভূবি একরূপ বন্য ফল বিশেষ। ইহা ঈষৎ অল্মধুররসাত্মক, আকার সুপারি সদৃশ । পাইকারী মূল্য প্রতি ধামা বা টুকরি তিন চারি আনা মাত্র । ২. আইন-ই-আকবরি প্রভৃতি গ্রন্থে কমলার মিষ্টতার সুখ্যাতি লিখিত হইয়াছে। শ্রীহট্রের সুকবি প্যারীচরণ দাস শ্রীহট্টের গৌরব ঘোষণা উপলক্ষে কমলার গুণ বর্ণনা করিয়াছেন; “যে দেশেতে কমলার শোভা চমণ্কার লোহিত ললাম লাম বর্ণের বাহার, কি কোমল অঙ্গ! আর সুরস সঞ্চার, কি মধুর রস! পানে তৃপ্তি সবাকার।” ইত্যাদি। ৪২ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ কদলী শ্রীহট্ট জিলায় অনেক জাতি কদলী আছে। ১. “অমৃত সাগর” কদলী অতি বৃহৎ, সুগন্ধ বিশিষ্ট ও সুখাদ্য। ২. “ডিঙ্গামানিক” কলা সর্বাপেক্ষা লম্বা, সব্্বাপেক্ষা কোমল, কিন্তু অধিক পাকিয়া গেলে অশ্্ স্বাদ বিশিষ্ট হইয়া যায়। এই জন্য বাকল ঈষৎ সবুজ থাকিতেই সংগৃহীত হইয়া বিক্রয় করা হয়। ৩. “কুল-পতি” বা “সাফরি কলাই” কদলীর মধ্যে সর্ব্বোৎকৃষ্ট ও খাইতে অতি উত্তম ইহা যথার্থই কলা-কুলপতি। ৪. “চিনি চাপা” বা “চাপা কলা” আকৃতিতে কুলপতি কলার মত, গুণে প্রায় “ডিঙ্গা মাণিক” প্রকৃতি বিশিষ্ট । ৫. “মত্তমান” “শাইল” বা “ভূষা” কলা দেখিতে যেমন, খাইতে তেমন উৎকৃষ্ট নহে। মূল্যও অপেক্ষাকৃত সুলভ। ৬. “আতিয়া” কলা দুই জাতীয়,-ঘি আঠি ও ভীম আঠি। এই কদলী আকৃতিতে বৃহৎ, কিন্ত আঠি থাকায় খাইতে তেমন সুবিধাজনক নহে । ঘী আঠিতে বীজ কম থাকে । আঠি কলা অতি শীতল এবং ইহার পত্র কোমল ও বৃহৎ। ভোজনাদি উৎসবে সাধারণতঃ ইহার পত্রেই লোকে ভোজন করে। শ্রীহত্টে সাধারণতঃ পুঙ্করিণীর তীরে ও বাড়ীর চারিধারে কদলী বৃক্ষ রোপণ করা হয়। কলা একটি আয়কর ফল হইলেও ধান ব্যতীত অপর ফল মাঠে রোপণ করা শ্রীহট্টবাসিগণ উপযুক্ত মনে করেন না। আমন ও কাঠাল আম্্র ও কীঠাল শ্রীহন্টরের সর্বত্রই জন্মে। চৌকি ও বাণিয়াচঙ্গের আম অপেক্ষাকৃত মিষ্ট, ও তাহাতে পোকাও কিঞ্চিৎ অল্প হয়। তরফ, জলডুব, কুশিয়ারকুল প্রভৃতি স্থানের কাঠাল মিষ্টতর, কদলীর ন্যায় আমর ও কাঠালে গাছ সাধারণতঃ বাড়ীর চারি পাশেই লাগান হইয়া থাকে । লেবু বা জামির শ্রীহন্রে বৃজাতীয় জামির আছে। ১. “মাথো” বা “জান্কুরা” (বাতাপিলেবু)_-ভিতরে লাল ও সাদা ভেদে দুই জাতীয়। ইহার এক একটা খুব বড় হইয়া থাকে । ২. “পানি” বা “ঝুটা জামির”__খাইতে প্রায় মাথো জামিরের মত, ইহাতে শীতলতা গুণ অধিক এবং আকৃতি মাথার মত গোল নহে। ৩. “জাড়া জামির” ও “জাজি জামির”-_জাড়া জামিরের পুরু বাকলের সবুজ বর্ণ অংশ ফেলিয়া দিয়া, অবশিষ্ট নারিকেলের মত খাওয়া যায়; ইহা শীতলতা গুণবিশিষ্ট ৷ “জাজি” আকৃতিতে ক্ষুদ্র, গুণে সামান্য ইতর বিশেষে মাথোর মত। ৩. আনারসের গুণে মোহিত হইয়া পূর্বোক্ত কবি সগৌরবে বলিতেছেন; “যে দেশে জনমে অতি মিষ্ট আনারস, সিঙ্ধমথা সুধাসম মিষ্ট যার রস।” ইত্যাদি। তৃতীয় অধ্যায় : কৃষিজাত দ্রব্য শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৩ ৪. “এলাচি জামির” “আদা জামির” এবং “চস্নি বা কলম্বক জামির”--ভক্ষ্য নহে. অন্ন ব্যঞ্জনাদি সুগন্ধ করিবার জন্য ইহা ব্যবহৃত হয়। এলাচি ও আদা জামিরের গন্ধ উৎকৃষ্ট । ইহা €লা, ঢাকাদক্ষিণ পরগণায় অধিক পরিমাণে জন্মে তত্ভিন-_ ৫. “সাতকড়া” “কাটা” “করুণ” প্রভৃতি আরও অনেক জাতি জামির আছে। সাতকড়া জয়ন্তীয়ায় বু পরিমাণে উৎপন্ন হয়! বিবিধ ফল গোলাবজাম, কারজাম, জামুল, এওলা বা আমলকী, বদরী, বেল, বন বাদাম, কয়ফল (পেঁপে), শফরি আম (পেয়ারা), দাড়িম (দাড়িম্ব) সর্বত্রই জন্মিয়া থাকে। তেঁতুল, চাল্তা, থেকল, ডেফল, আমড়া এবং লেওইর ফল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। চাল্তা, থৈকল, ডেফল ও লেওইর বন্যফল বিশেষ । ইহা অশ্নরসাত্বক ও কেবল টক প্রস্তুতেই ব্যবহৃত হয়। পাহাড় হইতে পানিয়ালা বা লুকলুকি (ত্রিপুরা অঞ্চলে বেকইর) ও পিঠাকরা নামে বালক বালিকার প্রিয় দুই জাতীয় ফল সংগৃহীত হইয়া সন্নিকটব্তী বাজারে বিক্রয় করা হয়। শ্রাবণ মাসে লুকলুকি পাকে । পিঠাকরার পুং বৃক্ষেই “আগর” প্রাপ্ত হওয়া যায়। গুবাক চাপঘাট পরগণায় অপর্য্যাপ্ত পরিমাণে গুবাক উৎপন্ন হয়, সাধারণতঃ নদীতীরবত্তী বাড়ীগুলিতে গুবাগ বৃক্ষের সারি দেখিতে পাওয়া যায়,--একত্রে বহুবৃক্ষের সারি সমন্বিত বাড়ীগুলির দৃশ্য অতি সুন্দর । চাপঘাট ব্যতীত জয়ন্তীয়া, কুশিয়ারকুল প্রভৃতি পরগণাতেও বেশ সুপারি জন্মে । তাল ও নারিকেল যৎসামান্যরূপেই জন্মিয়া থাকে । তরমুজ, চিনার ও শসা এবং খীরা বহু পরিমাণে চাষ করা হয়। তরমুজ ও চিনার কুকি জাতীয়েরা “জুমে” চাষ করে। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে প্রতাপগড় ও লংলা প্রভৃতি স্থানে ইহা ক্রয় করিতে পাওয়া যায়;-উভয় ফলই অতিশয় শীতল । চিনারের মধ্যে “বালিচিনার” সপক্ক হইলে আপনা হইতেই ফাটিয়া যায়। শসা জ্যৈষ্ঠমাসে মিলে, ইহা বাড়ীতেই জন্মান হয়। শীত খতুতে খীরা পাওয়া যায়, ইহা সাধারণতঃ মাঠে উৎপন্ন করা হয়। পানিফল ও মূল পানিফল বা সিঙ্গাইর হাওর বা বিলাদিতে আপনা আপনি জলে জন্মিয়া থাকে এবং আধাঢ শ্রাবণ মাসে সংগৃহীত হইয়া বিক্রয় হয়। মূলের মধ্যে “সাকরকন্দ” আলুই প্রসিদ্ধ, নদীতীরে ইহা প্রচুর রূপে চাষ করা হয়। শীতল গুণবিশিষ্ট “শীকআলু" ও মধ্যে মধ্যে পাওয়া যায়। শাক সজি শ্রীহট্র জিলার উর্বর ভূমিতে সর্বপ্রকার শাক সজিই প্রচুররূপে উৎপন্ন হয়। ইহার মধ্যে গোল আলুই প্রধান। গোল আলু জয়্তীয়া, ভোলাগঞ্জ ও তরফ প্রভৃতি স্থানে বহু পরিমাণে জন্যে। বেগুন সর্বত্রই জন্মে, তবে লংলার বেগুন সর্বোৎকৃষ্ট ও প্রসিদ্ধ । মূলক বা মূলা সর্বত্রই জন, 8৪ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ তবে তরফের মূলা সর্বোৎকৃষ্ট । তরপের গোলগাও নামক স্থানে প্রচুর পরিমাণে উত্তম মূলা উৎপন্ন হয়। শ্রীহন্ট ও জলডুবের কচুরমুখী উৎকৃষ্টতর। প্রতাপগড় ও লংলা প্রভৃতি স্থানে কুকিরমুখী (011১) ক্রয় করিতে মিলে । ইহার এক একটি ১০-১৫ সের পর্য্যন্ত ওজনের হইয়া থাকে । কচুর মুড়া (মূল), মানকচু, ও ওলকচু সর্বত্রই পাওয়া যায়। বিবিধ রকম “উরি' (সীম), মিঠা লাউ, পানিলাউ, কুমড়া (কুম্মাণ্ড) বহুলরূপে সর্ববব্র জন্যে । তদ্যতীত উদাইয়া (উচ্ছে) ও করালা, কাকরোল ও কাকুরা, পুরল ও চিচিজ্গা এবং বিঙ্গা ও ডেড়েশ তরকারির জন্য পাওয়া যায়। (দাইয়া ও করালা একজাতীয়, দ্বিতীয়টি আকারে বৃহৎ এবং সাধারণতঃ কুকিরা জুমে ফলাইয়া থাকে । কাকরোল ও কাকুরাও এক জাতীয় এবং দ্বিতীয়টি বৃহত্তর । এই দুইটিকে বন্য তরকারি, বিশেষ বোধ করা অসঙ্গত নহে। চিচিঙ্গা অতিশয় লম্বা হইয়া থাকে । শাকের মধ্যে নালিশাক, নটে বা ডেঙ্গাশাক, লাইশাক (সর্ষপ জাতীয়) প্রধান । ক্ষুদ্র শাক ও পালইশাক টিলাভূমের সন্নিকটে স্বভাবজাতরূপে পাওয়া যায়। অশ্নরসাত্মক খৃুঙ্গাশাক (টকপালং), সলিফা শাক সর্বত্রই পাওয়া যায়। গন্ধিডাটা (গন্ধমাতৃকের ডাটা), রামকলার থোড় ও করিল (সংস্কৃত করির বা বাশের কচি অঙ্কুর) কোন কোন স্থানে পাহাড় হইতে সংগৃহীত হইয়া উপাদেয় তরকারিরূপে ব্যবহৃত হয়। কপি, শালগম, বিট, গাজর প্রভৃতি অনেক লোকে সযত্তে উৎপাদন করেন । মসল্লাদি তেজপত্র--মসল্লার মধ্যে তেজপত্র শ্রীহট্টরের চিহ্নিত প্রসিদ্ধ মসন্লা। আইন-ই-আকবরি প্রভৃতি গ্রন্থে ইহার উন্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। খাসিয়া পাহাড়, ছাতক ও জয়ন্তীয়ায় অত্যাধিকরূপে তেজপত্র পাওয়া যায়। পাণ-__জয়ন্তীয়ায় উৎপন্ন “পাণ” উৎকৃষ্টতর; খাসিয়াগণ ইহা প্রচুররূপে উৎপন্ন করে বলিয়া “খাসিয়া-পাণ” বলিয়া খ্যাত। “বাঙ্গালা পাণ” জিলার সর্বত্রই জন্নিয়া থাকিলেও, বারুই জাতীয় ব্যক্তিগণ সুরমা, মনু, কুশিয়ারা ও খোয়াই তীরেই ইহা অধিকরূপে উৎপাদন করিয়া থাকে । মরিচ-_লালমরিচ বা লঙ্কা সর্বত্র প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয় । গোলমরিচ যথেষ্ট জন্মে না। ঝলাঙ্গ_-জয়ন্তীয়ায় রসুন জাতীয় ক্ষুদ্রাকৃতি ঝলাঙ্গ উৎপন্ন হয়। ঝলাঙ্গের গন্ধ, পেঁয়াজ অথবা রসুনাপেক্ষা অতিশয় মৃদু । উপ্রগন্ধী পেয়াজাদি হইতে ইহা এই জন্যই আদরণীয়। শ্রীহট্টের বাজারে ইহা কখন কখন ক্রয় করিতে পাওয়া যায়। এতদ্যতীত আদা, হরিদ্রা, ধনিয়া, পাটনাই জীরা, পেয়াজ, রসুন প্রভৃতি সর্বত্রই জন্মে। পাহাড়ে গন্ধমাতৃক (গান্ধি) যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। ওষধাদি শ্রীহন্টরের পাহাড়ে যথেষ্ট পরিমাণে হরিতকী পাওয়া যায়। ইহা কখন কখন সংগৃহীত হয় বটে, কিন্তু এ ব্যবসায়ে বিশেষভাবে এ পর্য্যন্ত কেহ মনোযোগ দেন নাই। চালমুগরার গোটা সম্বন্ধেও প্রায় তদ্রুপ । ইহাও কখন কখন পাহাড় হইতে সংগৃহীত করিতে সামান্যরূপ তৈল প্রস্তুত করা যায়। পাহাড়ে মুসব্বর গাছও প্রাপ্ত হওয়া যায়। তৃতীয় অধ্যায : কৃষিজাত দ্রব্য শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৫ শ্রীহট্রের বংশলোচন বা বাশের চূণ প্রসিদ্ধ সাধারণ লোকের মধ্যে জ্বরে নিম্বপত্র ও বলা, কুইনাইনের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। চিরতা পত্রও অনেকে ব্যবহার করে। ইহা সর্বত্রই উৎপন্ন হয়। বিরেচক ওষধরূপে সাধারণ লোকে “জামালগোটা” প্রায়ই ব্যবহার করে। আমাশয়ে সচরাচর “বেলশুট” “ওলটকম্বলের ডাটা” ও “কাষ্টবরুজ” (কুটজ) ব্যবহৃত হয়। ইহা সর্ব্বব্র সুলভ । গুলঞ্চ ('আমবরুজ”) কখন কখন জ্বরে ব্যবহৃত হয় । কফে শ্বেতবাসক পত্র সচবাচর ব্যবহাব করিয়া থাকে। দন্তরোগে আম্ছাল ও নিষ্বছাল এবং স্ত্রীরোগে অশোকছালের ব্যবহাব দেখা গিয়া থাকে! তদ্যতীত গঁদ, ধাতফল (“এওলা”) প্রভৃতি পরিচিত ওঁষধ পাহাড়ে ও গ্রামাদিতে প্রচুররূপে পাওয়া যায়। শতমূল ও অনন্তমূল প্রভৃতিও নানা স্থানে স্বভাবজাতবপে উৎপন্ন হয়। শ্রীহট্টের জঙ্গলে প্রায় সর্বপ্রকার বনজাত (“বনাজ”) ওঁষধ বহুলরূপে পাওয়া যায়। চু? শ্রীহস্ট জিলায় বল প্রচারিত পুষ্পগুলির নামঃ__ বড়বৃক্ষ জাতীয়-_-চস্পক, বকুল, কদ্ব, কাঞ্চন, অশোক প্রভৃতি । ছোটবৃক্ষ জাতীয . সেফালিকা, করবীর, কামিনী, স্থলপদ্ন প্রভৃতি চারা জাতীয়_- গর, গন্ধবাজ, বিবিধ জবা, গাঁদাফুল প্রভৃতি । গুল জাতীয়_-“গালাপ, সেউতি (শ্বেতগোলাপ), যুথি (জুই), জাতি (বৃহৎ জাতীয় জুই), বেলি, চামেলি, কুন্দ, কেতকী, রঙ্গন ও নেযারি প্রভৃতি । লতা জাতীয়-লবঙ্গ (লংফুল), মাধবী, বনমালতী, ঝুমকালতা, কুঙ্গলতা প্রভৃতি । কন্দজাতীয়--বজনীগন্ধা, চণ্তীফুল, চন্দ্রকলা, সব্বজয়া/ভূইচাপা প্রভৃতি । জলজ পুষ্পের মধ্যে শ্বেত ও রক্তপদ্ম এবং শ্বেত ও রক্ত কুমুদ (সোপলাফুল) এবং এঁ জাতীয় নীলাভ সালুক ফুলই প্রধান; এতদ্যতীত বিবিধ বনফুল প্রাপ্ত হওয়া যায়। আয়কর ফুলের মধ্য, মণিপুরী জাতি কুসুম ফুলের চাষ করিয়া থাকে। কুসুম্বের বীজে তৈল হয় ও ফুলে কাপড়ে গোলাপি বং হয় ' কুসুন্বেব তৈল ওুঁষধে ব্যবহার্ষ্য। ৃক্ষাদি রক্ষিত জঙ্গল শ্রীহট্টের বিস্তৃত জঙ্গল অকর্মণ্য নহে। জঙ্গলগুলি আয়ের এক পন্থা বিশেষ । গবর্ণমেন্ট এই জঙ্গল হইতে প্রতিবর্ষে অনেক টাকা রাজস্ব আদায় করেন। প্রতাপগড় পরগণায় গবর্ণমেন্ট রক্ষিত ১০৩ বর্গমাইল জঙ্গলভূমি আছে, ইহার নাম “রিজার্ভ ফরেস্ট” । এতদ্যতীত ১৭৭ বর্গমাইল “আনরলাশশ্ট ফরেস্ট” আছে:--ইহার পরিমাণ জয়ন্তীয়া পরগণায় অধিক । গবর্ণমেন্টের বনকর সম্বন্ধে ১৯০৪ খৃষ্টাবে প্রায় সপ্ততি সহস্র টাকা আয় হইয়াছিল ৪৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ আবশ্যকীয় বৃক্ষ ্রীহট্রের কাষ্ঠের কারবার আধুনিক নহে, আইন-ই-আকবরি গ্রে দৃষ্ট হয় যে, মোগল সম্রাট আকবরের সময়েও শ্রীহট্ট হইতে প্রচুর কাষ্ঠ ব্যবসায়ীগণ লইয়া যাইত। শ্রীহট্ (সদর), করিমগঞ্জ, ভাঙ্গা পাথারকান্দি, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ, লাখাই, আজমীরগঞ্জ কা্ঠ কারবারের প্রধান স্থান । নিশ্নলিখিত বৃক্ষের কাষ্ঠ বিবিধ কার্ষ্যে ব্যবহৃত হয় ও প্রতিবৎসরেই প্রচুর পরিমাণে পাহাড় হইতে নামাইয়া আনা হয়। চাম ও আম (বন্য), রাতা ও কুর্তা, পীং ও পোংতা, শিমইল ও জারইল, গন্ধরই ও সুতরং, পুমা ও তুলা, কদম ও ফরিস, কাওয়া ঠোটি ও কাইমূলা, সুন্দি ও বনাক প্রভৃতি । তত্িন্ন নাগেশ্বর ও গান্বারি, কাঠাল ও পালান প্রভৃতিও নানা কার্যে লাগে । জারইল বৃক্ষ একত্র অনেকটা বহ্স্থান ব্যাপ্ত করিয়া উৎপন্ন হয়; গাছগুলি যখন গোলাপি রঙ্গের কুসুমে সুশোভিত হয় তখন বনস্থল অতি শোভনীয় দৃশ্য ধারণ করে। জারইল পুমা প্রভৃতিতে নৌকা প্রস্তুত হয়। চাম, কীঠাল জাতীয় বৃহৎ বন্য বৃক্ষ । চাম, কীঠাল, সুন্দি, গন্ধরই প্রভৃতিতে উৎকৃষ্ট তক্তা হয়। চৌকি, খাট, আলমায়রা, সিন্দুক, টেবিল, বেঞ্চ প্রভৃতি ব্যবহার্ধ্য দ্রব্যাদি এই সকল কাষ্ঠে প্রস্তুত হয়। এ সকল এবং বনাক, গান্বারি প্রভৃতির তক্তা গৃহ প্রস্তুত কার্য্েও ব্যবহৃত হয়। তদ্যতীত গৃহের বরগা প্রভৃতি প্রস্তুত হয়। সুতরং তুলা প্রভৃতির তক্তাতে চা-র বাক্স প্রস্তুত হইয়া থাকে । কাঠাল, কাইমুলা, কাওয়াঠোটি, কুর্তা প্রভৃতিতে ঘরের খুটী হয়। কদন্ব ও নাগেশ্বর (নাগকেশ্বর) স্বনাম প্রসিদ্ধ পুষ্পবৃক্ষ । নাগেশ্বরের সুগন্ধি পুষ্প হইতে একরূপ আতর ও ফল হইতে তৈল হয়। ইহার কাষ্ঠ অতিশয় দৃট় বলিয়া দালানের কড়ি (বিম), ববগা ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। পুমা ও পালানের কাণ্ঠ হালকা কেদারা দোলা ও খেলনা প্রভৃতি প্রস্তুত হয়। পাহাড়ে রবার বৃক্ষ আছে, রবারের ব্যবসায়ে অগ্রসর হইতে কাহাকেও দেখা যায় না। অশ্বথ ও বট বৃক্ষাদি সর্বত্রই দৃষ্ট হয়। উচাইলের অন্তর্গত উজ্জ্বলপুরের মাঠে প্রায় ছয় কেদার ভূব্যাপী এক মহা বটবৃক্ষ আছে। বিবিধ বৃক্ষ প্রায় সর্ধ্র প্রাপ্য উদাল (উদ্দালক) বৃক্ষের বন্ধল দ্বারা উৎকৃষ্ট সুদৃঢ় রজ্জু প্রস্তুত হয়। উপরোক্ত কাইমূলার নির্য্যাস দ্বারা গদ বা আঠার কার্যা চলে । মহাল বৃক্ষের নির্য্যাস হইতে ধুনা হয়। ধুনা দেবকার্য্যে লাগে। বলওয়া ও বনচাল্তা বৃক্ষের পত্র রৌদ্র-শুষ্ক করতঃ কাষ্ঠ পালিশ করার নীতি ছিল, এখন শিরিন কাগজ তাহার স্থান অধিকার করিয়াছে । তথাপি খেলনা প্রভৃতির পালিশ কার্যে এখনও এঁ সব পত্র ব্যবহৃত হয়। কীরতা পাতা, কন্দ জাতীয় একরূপ উদ্ভিদেব পত্র, ভোজনাদি উৎসবে ইহার পত্র বহুলরূপে ব্যবহৃত হয়। “ছাতাপাতি” ও কন্দ জাতীয় উদ্ভিদের পত্র, ইহা দ্বারা ছত্র প্রস্তুত হয় । “আনরকলি” একর সুবৃহৎ পত্রবিশিষ্ট উদ্ভিদ, ইহা পাহাড়ে জন্মে; ইহার পাতা এত ধৃহৎ যে একজন মনুষ্য তাহার উপরে স্বচ্ছন্দে শয়ন করিতে পারে । তৃতীয় অধ্যায় : কৃষিজাত দ্রব্য শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ৪৭ বাশ ও বেত বাশের মধ্যে মূলি, খাং, ডলু, জাই, বরুয়া, পেঁচা, বাশকাল, মৃত্তিঙ্গা প্রভৃতি নানা জাতীয় বাশ আছে। জাই, বরুয়া, পেঁচা বৃহৎ জাতীয বাঁশ। তন্মধ্যে বরুয়া সবর্বাপেক্ষা দৃঢ় । পেঁচা বাশ পাহাড় ব্যতীত অন্যত্র জন্মে না। জাই, বকয়া এবং বেতো বাশ গ্রামাদিতে জন্মে। বেতো বাশ পরিপক্ক না হওয়া পর্য্যন্ত তদ্বারা বেতের ন্যায় গৃহের চালার বন্ধনাদি কার্য্য করা যায়। বাঁশকে চিরিয়া তদ্বারা বেত প্রস্তুত করিতে হয়। মূলিবাশ সাধারণ কার্যে বহুলরূপে ব্যবহৃত হয়। খাং ও ডলু গৃহকার্ষ্য (অর্থাৎ ঘরের চালের “রুয়া ও খাপ” প্রস্তুতে) ব্যবহৃত হয় । জাই ও বরুয়াতে ঘরের খুঁটী হয়। করিমগঞ্জ সবডিভিশন ও লংলা প্রভৃতি স্থানে কচি ডলু বাশের চোঙ্গা কাটিয়া তন্মধ্যে বিরণীর চাল ও জল .ভরিয়া চোঙ্গার মুখ বন্ধ ক্রমে পোড়ান হয়। পোড়ান হইলে চালগুলি পক হইয়া একরূপ পিষ্টকে প্রস্তুত হয়। সাধারণতঃ পৌষ ও মাঘ মাসে এই পিষ্টক লোকে আগ্রহের সহিত ব্যবহার করে। বেতের মধ্যে গন্লা, জালি ও সুন্দি প্রভৃতি নানারূপ বেত্র পাওয়া যায় । গন্লা বেত্র বৃহৎ জাতীয় এবং সুন্দি ক্ষুদ্র জাতীয়, উৎকৃষ্ট সুক্ষ কার্ষ্যে সুন্দিবেত ব্যবস্ৃত হয়। ছনের মধ্যে বড়লুথা ও উলু নামক ছন চাল ছাওয়ার কার্যে অধিকরূপে ব্যবহৃত হয়। যে স্থানে ছন উৎপন্ন হয়, তাহাকে “ছনের খলা” বলিয়া থাকে । বড়লুথা ছন পাহাড়ে জন্ে। নল ও মুর্তা পাহাড়ের পঞ্টিল স্থানে জন্নিয়া থাকে । নল চিরিয়া চাটি ও মুর্তার বেত্র দ্বারা উৎকৃষ্ট পাটি প্রস্তুত হয়। অদ্ভুত আকরিক উদ্ভিদ সুনামগঞ্জের হাওরগুলির মধ্যে ও হবিগঞ্জের অনেক স্থলে (মকার হাওর, সৌলাগড় প্রভৃতি স্থানে) পক্ষের নীচে (ভূগর্ভে) এক প্রকার অদ্ভুত উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। অন্য কোন দেশে এই প্রকার আশ্চর্য্য উদ্ভিদের কথা শুনা যায় না; এই উত্ভিদের নাম “কচম বৃক্ষ” । এই উত্ভিদ শাখা পত্রাদি বিহীন। জলতলে পক্ষের নিম্নে অবক্র স্থুলাঙ্গ লতার ন্যায় দীর্ঘভাবে ইহা বর্ধিত হয়। এক একটা সাধারণতঃ ১২/১৪ হাত লম্বা ও ৩/৪ হাত পরিধি (বেড়) বিশিষ্ট হয়। তদপেক্ষা লম্বা ও বড় কচমও প্রাপ্ত হওয়া যায়। কচম কাষ্ঠের সামান্য একটা অংশ বা খণ্ড কাচা অবস্থায় মাটির নীচে রাখিলে তাহাও বর্ধিত হইয়া বৃক্ষে পরিণত হয়। কচম কাষ্ঠ সংগ্রহ করিয়া স্থানীয় লোক শুষ্ক করতঃ জ্বালানি কাষ্ঠরূপে ব্যবহার করে। হেমন্তে জলাভূমি শুষ্ক হইলে কাষ্ঠ সংগ্রহকারীরা লৌহশলাকা বিলের ধারে পঙ্কের মধ্যে প্রোথিত করিয়া, তন্নিন্নে কচম আছে কিনা দেখে । সন্ধান পাইলে খুঁদিয়া বা টানিয়া বৃক্ষ বাহির করিয়া লয়। এই কাণ্ঠের বর্ণ হরিদ্রাভ লোহিত । কচম একবার শুঙ্ক হইয়া গেলে তন্মধ্যে সহজে জল প্রবেশ করিতে পারে না। জুমের চাষ জুম চাষের উল্লেখ পূবের্ব করা গিয়াছে, জুম চাষ কি, তৎসম্বন্ধে কিছু বলা আবশ্যক । খাসিয়া, কুকি, নাগা, কাছাড়ী প্রভৃতি পার্বত্য জাতীয় লোকেরা টীলার উপরে জুম আবাদ করে। আবাদের ৪৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ জন্য স্থান নির্ধারণ করিয়া, এক এক পুঞ্জির বা পাড়ার লোক একত্র জুমের জন্য কাজ করিতে থাকে । সাধারণতঃ অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে সকলে মিলিয়া জঙ্গল কাটিয়া ফেলে; এ জঙ্গল শুক হইয়া গেলে, ফাল্গুন বা চেত্র মাসে তাহাতে আগুন লাগাইয়া জ্বালাইয়া ফেলে; তৎপরে বৈশাখ মাসেই সাধারণতঃ বীজাদি রোপণ করা হয়। “টাকল” নামক দা দিয়া ছোট ছোট গর্ত করতঃ তাহাতে ধান্য, ভুক্টা (কুকিরদানা-820), কার্পাস, তিল, লঙ্কামরিচ, তরমুজ, চিনার প্রভৃতির বীজ একত্রে রোপণ করা হয়। থাবা নামক বেত্র নির্মিত দীর্ঘাকার চাঙ্গারিতে এ সমস্ত বীজ একত্রে মিশ্রিত ভাবে থাকে । রোপণ কালে তাহার এক এক মুষ্টি এক এক গর্তে ফেলিয়া দেওয়া হয়। তৎপরে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় বীজ অস্কুরিত হইয়া, কালক্রমে ফলবান হয়। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে জুম একবার পরিষ্কার করিয়া দেওয়া হয়, এই সময় ভুট্টা ও চিনার পরিপরু হইয়া থাকে । চিনার সাধারণতঃ টাকায় ২০/২২টি করিয়া পাওয়া যায়। যখন যে শস্য পর হয়, তখনই তাহা সংগৃহীত হয়। তিলের গাছ কাটিয়া তিল সংগ্রহ করা হয় না, তিল পাকিলে বন্ত্রখ্ড নীচে ধরিয়া তাহার উপরে গাছ ঝাড়িয়া দেওয়া হয় মাত্র । বলা বাহুল্য যে ইহাতে অনেক অপচয় হয় ও অনেক তিল গাছে থাকিয়া যায় । পৃর্বোক্ত শস্য ব্যতীত লাউ, কুমড়া, পেয়াজ ও কচুরমুখী জুমে ফলিত হয়। জুমের লাউ, কুমড়া ও কচুরমুখী ইত্যাদি অতি উত্তম, কিন্তু ধান্য সুখাদ্য নহে । কচুরমুখী এক একটা খুব বড় হয়, দেখিতেও সুন্দর । লুসাই জাতি তদ্বারা একরপ পিষ্টক প্রস্তুত করিয়া ভক্ষণ করে। দীর্ঘকাল এক স্থানে জুম করিলে ফসল হয় না বলিয়া, দুই বৎসর কাল এক এক স্থানে জুম করার প্রথা দেখা যায়। দুই বৎসরান্তে জুমের জন্য নৃতন স্থান নির্ধারিত হয় । জুমের স্থান এইরূপে দূরে চলিয়া গেলে পুষ্জি বা পাড়ার লোকও তথায় উঠিয়া গিয়৷ নৃতন পুঞ্জি স্থ।'সন করে। কারণ ফসলের সময় প্রায়ই জুম পাহারা দিতে হয়। চার চাষ চা এক জাতীয় চারা বৃক্ষের পত্র। প্রথমে রোদে শুষ্ক, তৎপর অগ্নি তপ্ত করতঃ ব্যবহারোপযোগী করিয়া লইতে হয়। ১৮২৩ খৃষ্টাব্দে আসামে সর্বপ্রথম বন্য চা বৃক্ষ পাওয়া যায়। তাহাতে আসামের ভূমি চা আমাদের পক্ষে উপযোগী বিবেচিত হইলে, ১৮৩৫ খৃষ্টাব্দে লক্ষ্মীপুরে সব্ব্বপ্রথম এক চা বাগান প্রস্তুত করা হয়। শ্রীহট্ট্রে চা-র চাষ হইতে পারে কি না, অনুসন্ধান চলিলে ১৮৫৬ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্রের জঙ্গলেও স্বভাবজাত চা বৃক্ষসমূহ প্রাপ্ত হওয়! যায়। তৎপর “নর্থ সিলেট টি কোম্পানী” স্থাপিত হইয়া, ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দে “মালনী ছড়া চা বাগান” নামে একটি চা ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়। ইহার পর হইতেই শ্রীহন্রে ক্রমশ চার চাষ বর্ধিত হইতেছে। ইংরেজ কোম্পানীগণই সাধারণতঃ চার চাষ করিয়া থাকেন। শ্রীহস্ট জিলায় দেশীয়গণের পরিচালিত অনেকটি চা ক্ষেত্র আছে। দেশীয়গণের পরিচালিত চা বাগানগুলি এক এক ব্যক্তি বিশেষের সম্পত্তি, তন্ধ্যে স্বর্গীয় রাজা গিরীশচন্দ্রের বিদ্যানগর চা-বাগান বিশেষ !বখ্যাত। দুইটি বাগান দেশীয়গণের যৌথ মুলধনে পরিচালিত । “ইন্দেশ্বর টি এও ট্রেডিং কোম্পানীর” উত্তর ভাগ চা-বাগান ও “ভারত সমিতির” কালীনগর চা-বাগানের নাম উল্লেখিতব্য। শ্রীহন্টে বর্তমানে যোলটি চা ক্ষেত্র দেশীয় লোক কর্তৃক পরিচালিত হইতেছে: তৃতীয় অধ্যায় : কৃষিজাত দ্রব্য | শ্রীহত্ট্ের ইতিবৃত্ত ৪৯ উ-পরিশিষ্টে এ সকল এবং অপর সমস্ত চা-বাগানের অধিকারীদের নামাদি লিখিত হইবে । ইংরেজ চালিত চা বাগানসমূহ মধ্যে-_এক বা একাধিক ব্যক্তি বিশেষের সম্পত্তি স্বরূপও প্রায় পনরটি বাগান এখন এই জিলায় আছে। চা-করের সম্মান দেশীয় জমিদারাপেক্ষা কোন অংশে হীন নহে। এতাদৃশ স্বাধীন ব্যবসায় অগ্রসর হওয়া শ্রীহট্টবাসীর গৌরবের কথা। শ্রীহ্র জিলায় বর্তমান ১৫৪টি চা বাগান আছে।৪ বিস্তৃত ভূভাগে সারি সারি সতেজ চা বৃক্ষ সমবিত চা-বাগানের শোভা নয়ন তৃপ্তিকর। চা বৃক্ষের কচি পাতাতেই চা প্রস্তুত হয় বলিয়া গাছগুলি ছাটিয়া দেয়, এজন্য উচ্চ বৃক্ষ দেখিতে পাওয়া যায় না। বীজ সংগ্রহের জন্য সামান্য দুই চারিটি গাছ কলম দেওয়া হয় না। . সঞ শ্রীহট্টের উব্র্ধর ক্ষেত্র চা চাষের উপযুক্ত হইলেও ১৮৮৫ খুষ্টাব্দের' পৃরর্ব পর্য্য্ত উন্নতি কল্পে বিশেষ যত্ন দেওয়া হয় নাই। ১৮৬৮ খৃষ্টাব্দে ২০৫০ একর ভূমিতে মাত্র চা আবাদ হইয়াছিল এবং ২৫১০০০ পাউও চা চালান হয়। ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে চা চালানের পরিমাণ ৫৫৬১০০০ পাউও্ড হইয়াছিল। ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে চা চালানের পরিমাণ ২০৬২৭০০০ পাউণ্ড পর্য্যন্ত বর্ধিত হয়, বিগত ১৯০০ খৃষ্টাব্দে আবাদের পরিমাণ ৭১৪৯০ একর ভূমি এবং চা চালানের পরিমাণ ৩৫০৪২০০০ পাউও। গত ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে ১৩০৩৫৮ একর ভূমি আবাদ হইয়াছে। ভিন্ন ভিন্ন স্থান হইতে আনীত কুলিরা চা-বাগানের কাজ করিয়া থাকে । কুলিরাই চা পত্র সংগ্রহ করে, পরে কলের সাহায্যে তাহা ব্যবহারোপযোগী হয় । আড়কাটিয়া নানারূপ প্রলোভন দিয়া দুর্তিক্ষক্িষ্ট দরিদ্রদিগকে ছোট নাগপুর প্রভৃতি অঞ্চল হইতেই সচরাচর আনয়ন করে। ইহাদের সংখ্যা ১৮৯১ খৃষ্টাব্দে ৭১৯৫০ জন ছিল, পরবর্তী দশ বৎসরে এ সংখ্যা বর্ধিত হইয়া ১৪৪৮৭৬ জনে পরিণত হইয়াছে ।৫ কফির চাষ শ্রীহট্রের জঙ্গলে চার ন্যায় স্বভাবজাত কফি বৃক্ষও পাওয়া যায়; ১৭৮৯ খৃষ্টাব্দে পূর্বেই তাহা জানা গিয়াছিল।৬ শ্রীহট্রে কফির চাষও আরন্ত হইয়াছে । দক্ষিণ শ্রীহট্রের অন্তর্গত মোনশীবাজার পোস্ট আফিসের অধীন, দৌরাছড়া ও লঙ্গাইছড়া নামে দুইটি কফিক্ষেত্র আছে ।৭ কফির চাষও ক্রমশঃ বর্ধিত হইবে বলিয়া আশা করা যায়। ৪. উ-পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য ৫. ১৯০১ খৃষ্টাব্দে আগত কুলিদের নিবাসস্থান ও সংখ্যা বঙ্গের বিভিন্ন স্থান হইতে আনীত ২২০৬৭ জন ছোটনাগপুর ” ২২৭৪৫ " মধ্যপ্রদেশ ” ১২৬৮১ ” যুক্তপ্রদেশ ” ৪১১৬৭ ” মান্দ্রাজ " ১০০৭৯ ” মোট - ১৪৪৮৭৬৫ ” ৬. শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ৫ম খণ্ড ১ম অধ্যায়ে এতদ্বিবরণ বর্ণিত হইবে । ৭, "০৪ 09001) 11) [110 170৬1100 01 /১5০11)”-1111) 11) 1902 শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৪ চতুর্থ অধ্যায় শিল্পোৎপন্ন দ্রব্য সূত্র শিল্প শ্ীহস্টের সুত্র-শিল্প বা বন্ত্রবয়ন নিতান্ত অবহেলনীয় ছিল না, দেশের অভাব দেশীয় শিল্লেই পূর্ণ হইয়া যাইত; বিদেশের মুখ পানে চাহিতে হইত না, কিন্তু এখন অতীতের গৌরব করা বৃথা । ল্রপুরের উর্ণি চাদর, ঢাকাই উর্ণি হইতে কোন অংশে নিকৃষ্ট নহে। প্রমাণ চাদরের দৈর্ঘ্য ৭/৮ হাত ও প্রস্থ ৩ $ হাত হইয়া থাকে। লঙ্করপুরের নিকটবর্তী ছিলিমনগর নিবাসী তত্তুবায়গণ ইহা প্রস্তুত করিয়া থাকে। সূক্ষ্ম সৃত্রকে লাজমণ্ডে আর্দ করিয়া শুষ্ক করিলেই তাহা বয়নোপযোগী হয় । তত্তুবায়গণ তাহাদের নিজের প্রস্তুত তাতে ইহা প্রস্তুত করিয়া থাকে; প্রতি চাদরের মূল্য ১০ হইতে ৪ পর্য্ত্ত। এই সকল তস্তুবায়েরা ধুতি ও শাড়িও প্রস্তুত করে। রঞ্জিত সূত্রের ডোরা বসাইয়া উৎকৃষ্ট শাড়ি প্রস্তুত হয়। ধুতি ও শাড়ির সাধারণতঃ ১০ হাত দীর্ঘ ও ২ ২ হাত প্রস্তুত থাকে। কিন্তু মূল্য অধিক হওয়ায় ধুতি বা শাড়ি অধিক বিক্রয় হয় না। বিলাতি সূত্রের প্রচলন হওয়ায় তাতিরা ২৫০ নং সুতা দ্বারা এরূপ বন্তরাদি তৈয়ার করে৷ এক যোড়া উৎকৃষ্ট ধুতি প্রস্তুত করিতে একজন শিল্পীর অন্ততঃ পনর দিন সময়ের আবশ্যক করে; এবং প্রায় পাচ টাকা মূল্যের ২৫০ নং সুতা লাগিয়া থাকে সুতরাং এক ঘোড়া ভাল ধুতি ১০ টাকা এবং শাড়ি ১২ টাকার কম মূল্যে বিক্রয় করিতে পারা যায় না। মূল্যবান উড়ানি চাদর প্রভৃতিতে মধ্যে মধ্যে সোনালী কাজও থাকে । এই গৌরবাত্মক ব্যবসাটি লোপ পাইতেছিল; দেশের লোক সস্তার মোহে ভুলিয়া স্থায়ীত্ব প্রতি দৃষ্টি না করিয়া, ইহার প্রতি যথোচিত আদর করেন নাই; ইহার সমধিক আদর বাঞ্থনীয়। দেশীয় লোকের নিকট উৎসাহ পাইলে ছিলিমনগরের তস্ত্ুবায়গণ ইহাতে আরও উৎকর্ষ প্রদর্শন করিতে পারিবে। সার্ঘ শত বর্ষ পূর্বে তথায় ফ্লানেল বন্ত্রের থান প্রস্তুত হইত, কিন্তু এখন আর হয় না। অপকৃষ্ট হইলেও মূল্য অধিক দিয়া, দেশীয় দ্রব্যের আদর করা ও উৎসাহ দেওয়া উচিত, এ কথা সকলের বুদ্ধিতে প্রবেশ করে না; কাজেই ইহা লোপ পাইয়াছে। এগ্ডি বস্ত্র হবিগঞ্জের উত্তর মাছুলিয়া গ্রামের নমঃশুদ্র জাতীয় লোকেরা ২০/২৫ বৎসর পূর্ধে গুটিপোকা পোষিয়া, তাহার সুত্রে এক প্রকার মোটা এগ্ডি বন্ত প্রস্তুত করিত। স্বভাবজাত এরও (ভেরেপ্তা) বৃক্ষে পোকা ধরান হইত, এরও পত্র ভক্ষণ করিয়া গুটিপোকা ব!চে। এগ্ডি রেসম সূত্রের ধুতি মুগার ধুতি নামে কথিত হইত ।১ ইহার এক খান ৮/১০ বৎসর কাল অনায়াসে ব্যবহার করা যাইতে পারিত। ইহাও দেশের লোকের উৎসাহ অভাবে বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে বলিলে অতত্যুক্তি হয় না। তবে তত্রত) হিয়ালাগ্রামে এখনও ২/৪ ঘর নমঃশুদ্র গুটিপোকা পোষিয়া এগ্ডি বস্ত্র বয়ন করিয়া থাকে । জলসুখার সর্নিকটেও ২/৪ ঘর নমঃশুদ্র এরূপ ব্যবসায়ে লিপ্ত আছে। যদি স্বদেশবৎসল শিক্ষিত ও ধনীদের অনুকূল দৃষ্টি সত্বর সত্বর এদিকে পতিত না হয়, তবে অচিরে ইহা বিলুপ্ত হইয়া যাইবে । ১. [12091110191] 0077011৩01৬] 11. (15019017-1838) 0. 552. চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৫১ জয়ন্তীয়াতেও এন্ড প্রস্তুত হইত, দেশীয় লোকের অবহেলা ও অনাদরে তাহাও বিলুপ্ত প্রায়: এখনও তথায় দুইজন শিল্পী বাচিয়া আছে এবং নিজ ব্যবহার্য্য বস্ত্াদি প্রস্তুত করতঃ এই শিল্পের নাম রক্ষা করিতেছে ।২ মণিপুরী খেস বন্ত্রবয়ন বিষয়ে মণিপুরীদের উদ্যম ও অধ্যবসায় প্রশংসনীয় । মাঞ্চেষ্টারের সুলভ বন্ত্র, খেস প্রস্তুত বিষয়ে তাহাদিগকে নিরুৎসাহ করিতে পারে নাই। নিজেদের প্রস্তুত খেস ফেলিয়া তাহারা বিদেশী সুলভ বস্ত্র ক্রয় করিতে অগ্রসর হয় না। মণিপুরী স্ত্রীলোকেরা সব্বদাই এই খেস ব্যবহার করে। সদর, প্রতাপগড় ও ভানুগাছ প্রভৃতি স্থানের মণিপুরীরা উৎকৃষ্ট খেস ও পাতল মশারি প্রস্তুত করে। খেসের মূল্য ১ টাকা হইতে ৫/৭ পাচ সাত টাকা পর্য্যন্ত হয়। ভিতরে তুলা ভরিয়া মণিপুরীগণ “লাইচাং” নামে একরূপ শীতবস্ত্র বয়ন করে, লাইচাঙ্গের মূল্য ৪/৫ টাকা হইয়া থাকে । মণিপুরীদের প্রস্তুত গামোছা সুলভ অথচ ভাল । যুগীয়ানা গিলাপ যুগীয়ানা কাপড় এক সময় এ জিলায় সকলেই সাদরে ব্যবহার করিত; লজ্জানিবারক মোটা বন্ত্র পরিতে তখন কেহই লজ্জা বোধ করিত না। কিন্তু যে বিদেশী বস্ত্র পরিধান করা না করা প্রায় সমান, তদ্রীপ সূক্ষ্ম বস্ত্র সমধিক আদরণীয় হওয়ায়, যুগীদের বস্ত্র ব্যবসায় নিতান্ত মন্দীভূত ভাবে চলিতেছে। যুগীদের প্রস্তুত কাপড়ের মধ্যে “গিলাপ” বা জোড়া চাদর শীত নিবারণোপযোগী; শীত খতুতে অনেকেই এই “গিলাপ” ব্যবহার করেন; বিলাতি মূল্যবান সার্্জ প্রভৃতি হইতে অল্পমূল্যের এই গিলাপ শীত নিবারণ পক্ষে কম উপযোগী নহে । গিলাপের থান ২২/২৪ হাত দীর্ঘ ও দেড় হাত প্রস্থ বিশিষ্ট হয়, সুতরাং মধ্যে সেলাই করিয়া ৬ হাত লম্বা জোড়া চাদর প্রস্তুত করতঃ ব্যবহার করিতে হয়। গিলাপের মূল্য ১।০ টাকা হইতে ৩ টাকা পর্য্যন্ত হইয়া থাকে। যুগীয়ানা ধুতি প্রভৃতির এখন আর আদর নাই; ইহার ব্যবহার একবারেই উঠিয়া গিয়াছে বলিলেও অত্যুক্তি নহে; তাহা না হইলে যুগী জাতির এ দুর্গতি কেন? পৃবের্ব এদেশীয় স্ত্রীলোকেরা বিধবা হইলেই সুতা কাটিত, এখন তাহা প্রায় ভুলিয়া গিয়াছে। বিধবার সুতা তখন যুগীরা ক্রয় করিয়া লইত। এখন তাতি এবং যুগীরা আমদানীকৃত বিদেশীয় সূত্র দ্বারাই প্রায়শঃ বস্ত্র প্রস্তুত করে । শ্রীহট্টরের দ্বাবিংশতি লক্ষ অধিবাসীর মধ্যে ২৩৮৩ ব্যক্তি মাত্র সূতা কাটার ব্যবসায়ে লিপ্ত আছে এবং পঞ্চ সহস্র ব্যক্তি মাত্র এখন বন্ত্র বয়ন ব্যবসায়ে জীবিকা নিবর্বাহ করিতেছে; কিন্তু তাহাতেও চলে না-সঙ্গে সঙ্গে কৃষি চালাইতে হয়। না হইবে কেন? ইতর-জন ভদ্রলোকেরই অনুকরণ করিয়া থাকে; সভ্য ভদ্র লোকের অনুকরণে দেশের কৃষকেরাও এখন বিদেশীয় বস্ত্র বহুল পরিমাণে ব্যবহার করে। মাঞ্চেষ্টার, দেশের অর্থ শোষণ করিয়া লইতেছে; সরকারী গ্রন্থ পত্রেই একথা প্রকাশ 1৩ মণিপুরীগণ পুবের্ব বিদেশীয় বন্ত্র স্পর্শ করিত না, এখন পুরুষদের মধ্য এ রোগ কিয়ৎ পরিমাণে প্রবেশ করিয়াছে। ২, 010 11511 0110 15152160 109 /১55010050 111011৮8115 10196 56100160 01010.0001 01 1119, 10100512110 1811018 111115, 1101) 2 9৬ 0001 [011195011070 ৬1095, 01 06 ০1011) [019000১4 15 £701811% 111010€4 (শে 11000 ৬/০০1 4101 ৮০1 111110 0017005 (9 7101101 " -4৯৯৯৭॥] 10190101 00760005 (9৮11101) ৬০1. [1]. 0. 154. ৩. 1100 8080 11055011170100191 [0090191191) 06. 015900 11) 00 01100]) 101)105 01 1510001003107 0710 110 11 1101110-11900 ০1011. "117 [001 09510 15 3171000019 10016561100, 1001 00৬/ 01 016]) 10101), 010 10011----- 1 1901, 006 ৮616 01119 50009 [15015 11) 5১11)01 ৬1)0১০ [011100100] 116007৯ 0110211) 10701106৬0৬ 0100 10011), ৯598] 1)150100 050/0010015 ৮০]. 1] (51101) 00010) ৬. 0. 154. ৫২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ মৎস্যের জাল মৎস্য শিকারের জন্য শণসূত্রের দ্বারা নানারূপ জাল প্রস্তুত করা হয়, এস্থলে তাহারই উল্লেখ করা যাইতেছে। মহাজাল--সর্বপ্রকার জালের মধ্যে মহাজাল সর্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ, ইহার এক এক খানা শতাধিক টাকা মূল্যে বিক্রয় হয়। এবং এ নৌকা সাহায্যে বহু স্থান ব্যপ্ত করিয়া এককালে বহুসংখ্যক মৎস্য ধৃত করা হয়। বড় জাল অথবা গল্কা জাল--ইহার এক খানা ১৩-২০ টাকা পর্য্যন্ত মূল্যে বিক্রয় হয়। ইহা প্রায় ৭০ হাত দীর্ঘ ও ৬ হাতের কম পরিসর যুক্ত হয় না। জালের উপরে বংশদণ্ড খণ্ড সমূহ বীধা থাকায় জালের উপরি ভাগ ভাসিয়া থাকে; তাহাতে উপর দিয়া মৎস্য পলায়ন করিতে পারে না। পায়ের সাহায্যে এই জালের নিম্নভাগ চালিত করিতে হয়। ঝাকি জাল-_-ঝাঁকি জালের প্রান্তভাগে সীসক খণ্ড সমূহ সংলগ্ন থাকে । জাল হাতে লইলে সঙ্কৃচিত থাকে, এবং ছুড়িয়া জলে ফেলিতে বিস্তৃত হইয়া পড়ে । তখন প্রান্ত সংলগ্ন এক গাছ দড়ি দ্বারা টানিয়া উঠাইয়া থাকে। হুরাজাল-_ইহাও অতি লম্বা হয়। দুই দিকে দুই ব্যক্তি জালের উভয় প্রান্তে ধরিয়া, জাল টানিয়া লইয়া মৎস্য শিকার করে। হুরাজালের মূল্য ৬-৮ টাকা পর্য্যন্ত হয়। খেত জাল-_এই জাল চতুষ্কোণ বিশিষ্ট ।8 +আকৃতি বংশদণ্ডে জালের চারি কোণ বাঁধিয়া জলে ডুবাইয়া রাখিয়া দেয়, ও দড়ির সাহায্যে ক্ষণে ক্ষণে টানিয়া তুলিয়া মৎস্য শিকার করে। ইহার এক খানা ৪-৭ টাকা মূল্যে বিক্রয় হয় । হেফাজাল-_ ইহা ত্রিকোণাকার। % ইংরেজী ওয়াই আকৃতি বংশদণ্ডে, ইহার তিন প্রান্ত বন্ধন করতঃ, নৌকায় বসিয়া মৎস্য শিকার করে । ইহার মূল্য ৩-৪ টাকা হইয়া থাকে । আকৃতিতে ইহা ক্ষুদ্রতর হইলে “ছাটজাল” বলে, এবং তদপেক্ষা ক্ষুদ্র হইলে “পেলুইন” বলিয়া থাকে । পেলুইন জালের | 1. মুল্য আনা পর্য্যন্ত হয়, অর হস্ত পরিমিত অল্প জলে ঠেলিয়া, তদ্বারা গুড়া মৎস্যই শিকার করে। তদ্যতীত “উথাল জাল”, “সঙ্গা জাল”, প্রভৃতি নামে মৎস্য শিকারের জন্য আরও অনেক জাতি জাল আছে। ব্যাঘব শিকারের জন্যও দড়ির জাল প্রস্তুত হয়। ব্যাঘ্ধ শিকারের জালের আকৃতি অনেকটা হুরাজালের মত। বংশদণ্ড দ্বারা জাল খাটাইয়া ব্যাঘকে বিতাড়িত করে । তাহাতে পলায়ন করিতে গিয়া ব্যাঘ্ব জালে জড়িত হইয়া পড়ে । শৃকরাদি জন্তু শিকারের জন্য তুল্যাকৃতি অপেক্ষাকৃত ছোট জাল ব্যবহৃত হয়। পক্ষী শিকারের জন্যও জাল প্রস্তুত ও ব্যবহৃত হয়। দুই দিকে দুখানা জাল মাটিতে বিস্তৃত থাকে, মধ্যস্থলে খাদ্য ছড়ান হয়। খাদ্যের লোভে পাখী গুলি পতিত হইলে, দড়ির সাহায্যে সেই জাল হঠাৎ টানিয়া পক্ষীদের উপর ফেলান হয়। 3০091 001101161105 019/055 1১601) 11100100710 11710003119 111 59110611৬1, 11171050)- %/010 ৬05 001180101 01016 |) 1780, 0011 070 5110) 01 4060) 10065 01৫01), ৮4101) 010৬ 17 1961 01 ৬০০ ১100) (011) 10900, 01) 07052161106. 0017৬140101910 101000119 11 100৬169111 10110 900 116 0150 0001]1 ৪ 1661 091 20) ০1110)১, 4714 50111117071) 10 118070185, 109064 ৮101) 1100 01) 016 90085101) 014 5০91010) 10 11101 1010১14071০) -/১55৪]) [01507101 02760105015, ৬০01. 11 (5511)21) 1১,115. চতুর্থ অধ্যায় : শিল্পোৎপন্ন দ্রব্য শ্রৃট্টের ইতিবৃত্ত ৫৩ কাণ্ঠ শিল্প শ্রীহট্টের কাষ্ঠ অতি উত্তম। মোগল সম্রাট আকবরের রাজত্ব কালেও শ্রীহট্র হইতে কাষ্ঠ বিদেশে রপ্তানি হওয়ার বিবরণ প্রাপ্ত হওয়া যায়। সে দেশে কাষ্ঠের এরপ প্রাচ্য এবং বৃহৎ নদী ও হাওরের বাহুল্য, সে দেশে নৌ-নির্মাণ বিষয়ে যে দক্ষতা প্রদর্শন করিবে, তাহাতে সন্দেহ নাই। শ্রীহট্টে প্রাচীনকালে সমর তরি প্রস্তুত হইত। ভাটেরার তাম্রফলকোল্লেখিত রাজা ঈশানদেবের সমর তরি ছিল, মোগল রাজত্বের সময় লাউড়াধিপতিকে রাজস্বের পরিবর্তে সমরতরি যোগাইতে হইত । এই সমরতরি উৎ্রুষ্ট সক নৌকা বিশেষ । পূর্ব শ্রীহ্্রে সমুদ্র যানও নির্মিত হইত । মিঃ লিগুসে সাহেব ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে প্রায় একাদশ সহমত মন বাহী এক জাহাজ নির্মাণ করিয়াছিলেন । তদ্যতীত তিনি বিংশতি সংখ্যক জাহাজের এক বহর প্রস্তুত করিয়াছিলেন । মান্দ্রাজে দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হইলে ধান্য বোঝাই হইয়া এ বহর তথায় গিয়াছিল।৫ এখন যদিও তদ্রুপ উৎকৃষ্ট তরি নির্মাতা নাই, তথাপি হবিগঞ্জ প্রভৃতি স্থানের সুদীর্ঘ “পলওয়ার” নৌকা বিশেষ উল্লেখযোগ্য 1৬ বালাগঞ্জ প্রভৃতি স্থানের নৌকাও সুন্দর ও সুবিস্তৃত। পাত্ুয়ার “বারকী” নৌকা অল্প জলে চলার পক্ষে বিশেষ উপযোগী ও অভিনব আকৃতি বিশিষ্ট । ভাঙ্গা, “মনুমুখ”, আজমীরগঞ্জ প্রভৃতি অনেক স্থানেই কাষ্ঠ চিরিয়া তক্তা দ্বারা নৌকা প্রস্তুত করা হয়। কাষ্ঠ নির্মিত অন্যান্য দ্রব্য কড়ি (বিম), বরগা, গৃহের খুঁটি, চৌকাট, কপাট ইত্যাদি সুদৃঢ় কাষ্ঠের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়। দ্রব্যগুলি সুত্রধরেরা সুন্দর মত প্রস্তুত করিতে পারে । চাপঘাট, লংলা, রাজনগর ও লক্করপুরে উৎকৃষ্ট পালকী প্রস্তুত হয়। শ্রীহট্ট, করিমগঞ্জ ও পঞ্চখণ্ডে উৎকৃষ্ট কেদারা ক্রয় করিতে পাওয়া যায়। ঢাকা দক্ষিণে কাণ্টের খাঞ্চা বা বাটা (কাষ্ঠ নির্মিত থালা) এবং চাড়ী নামক কাষ্ঠপাত্র প্রস্তুত হয়। শ্রীহট্ট, লাতু ও করিমগঞ্জে উৎকৃষ্ট কাষ্ঠপাদুকা (খড়ম) প্রস্তুত হয়। কাষ্ঠ পাদুকার জন্য কাষ্ঠনির্মিত বলুয়া এবং শিশুদের জন্য কাষ্ঠনির্মিত সুরঞ্জিত খেলানা শ্রীহস্রের বিশেষ কাষ্ট-শিল্প ৷ খেলানা প্রস্তুত বিষয়ে সুত্রধরগণ বিশেষ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে । ইহার পালিশ কার্য্যে ও রঙ্গের বাহারে সকলেরই মন মোহিত হয়। সাধারণতঃ ২৫টি খেলানার সেট ১1০ মূল্যে বিক্রয় হয়। বলুয়া এবং দাবা ও পাশাখেলার গুটিতেও রং দেওয়া হয়। তত্যতীত শ্রীহট্রে ইকার নারিচা, নারিকেল কুরানি প্রভৃতি নানা দ্রব্য প্রস্তুত হইয়া থাকে। ৮017৩ 58001৬131) 1101891 [9590১595 ৫ 15951 (৬/0 10105 01 00015 1101 [0010 0156%/1)010, 016 [.0101101 12217 010 10৬01 ৮০০৫ ২ 0010101 /570111150৭11011 তি60০010 001 1880-81 ৬. সদরেব মটাই কোম্পানীর প্রস্তুত বেট ও লাঠি প্রসিদ্ধ । কমুয়াদির সূত্রধর নিমাইচাদ বংশানুক্রমে বেহালা প্রস্তুত বিষয়ে সুশিক্ষিত ইন্দেশ্বরেব রাধাকিশোর সিংহ পাখাটানার কল আবিষ্কার করিয়াছেন; পঞ্চখণ্ডের এক ব্যক্তি কাষ্ঠ-নির্শিত সুক্ষ বেত্র-ফাড়া কল প্রস্তুত করিয়াছেন। তত্রত্য শ্রীবিপিনচন্দ্র দে কাঠের উপর উৎকৃষ্ট স্থায়ী নামের মোহর, চিত্র-ব্লক ইত্যাদি প্রস্তুত কবিতে সমর্থ, তাহা কোন অংশেই কলিকাতা নির্মিত রবাবষ্্যাম্প প্রভৃতি হইতে নিকৃষ্ট নহে: ইনি ওয়াটারপেইন্টিং চিত্র অঙ্কিত করিতে পারেন। ৫৪ শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ লাউড়ের প্রস্তুত হকার নল প্রসিদ্ধ । সদরে কাঠের লাঠি ও খেলার বেট প্রস্তুত হয়। তরফের কচুয়াদি গ্রামের সূত্রধর উৎকৃষ্ট বেহালা প্রস্তুত করিতে পারে ।৭ শ্রীহট্টে মণিপুরী জাতীয় সুত্রধরের কাণ্ঠের কার্য্য, বিশেষতঃ গৃহ নির্মাণাদিতে বিশেষ নৈপুণ্য প্রকাশ করিয়া থাকে। কাষ্ঠের রথ নির্মাণে সূত্রধরগণ যথেষ্ট শিল্প চাতুর্য্য প্রদর্শন করিয়াছে; নবিগঞ্জ ও আখাইল কুড়ার রথ তাহার দৃষ্টান্ত স্থল। পুর্ব সুতারের কার্যে জাতিগত ছিল, এখন শিক্ষাগত হইয়া দীড়াইয়াছে। সুত্রধরের বেতন সাধারণতঃ দৈনিক আট আনা হইতে বার আনা পর্য্যন্ত হইয়া থাকে। বংশ ও বেত্রশিল্প এই শিল্পের মধ্যে শীতল পাটি সর্বপ্রধান ও বিশেষ বিখ্যাত। মূর্তা নামক এক জাতীয় গুলোর বেত্র দ্বারা ইহা প্রস্তুত হয়। ইহা শীতল, মসৃণ ও আরামজনক বলিয়া সর্বত্র আদৃত। বঙ্গদেশের অন্য কোথাও এইরূপ পাটি প্রস্তুত হইতে পারে না। পাটির বেত্র রঞ্জিত ক্রমে পাশা, দাবা প্রভৃতি বিবিধ খেলার ছক ইত্যাদি চিত্রিত করা হয়। পাটির মূল্য গুণানুসারে 1০ আনা হইতে ১০ দশ টাকা পর্য্যন্ত হইতে পারে । বেত্র যত চিকণ হয়, মূল্য ততই বর্ধিত হয়। পৃবের্ব নবাবের আমলে ২০/২৫ টাকা হইতে ৮০/৯০ টাকা, এমন কি শত দ্বিশত টাকা পর্য্যন্ত মূল্যের পাটি প্রস্তুত হইত বলিয়াও শুনা যায়। ২০/২১ হাত দীর্ঘ পাটিকে “সফ” বলিয়া থাকে। ইটা ও চৌয়ালিশ পরগণাতেই সর্বোৎকৃষ্ট শীতল পাটি শস্তুত হয়।৮ করিমগঞ্জের অন্তর্গত কোন কোন স্থানেও পাটি প্রস্তুত হইয়। থাকে । পাটি প্রস্তুতকারণগণ “পাটিয়ারা দাস” নামে খ্যাত। ১৮৭৬-৭৭ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট হইতে ৩৯২৭ টাকা মূল্যের পাটি রপ্তানি হইয়াছিল । নল নামক গুল দ্বারা চাটি প্রস্তুত হয়; মূর্তাতেও চাটি প্রস্তুত হইয়া থাকে । চাটি প্রস্তুতের বেত্র, পাটির ন্যায় সূক্ষ্ম নহে; কাজেই চাটি, পাটি অপেক্ষা মোটা এবং অল্প মূল্যে বিক্রয় হয়। সব্রবোৎকৃষ্ট চাটির মূল্য বার আনার অধিক হয় না; জলসুখা ও জগন্নাথপুর প্রভৃতি স্থানে চাটি প্রস্তুত হয়, জফরগড় ও প্রতাপগড়ের চাটি উৎকৃষ্ট । চাপঘাট ও তরফ পরগণায় বাশের ছিক্কা দ্বারা “নেউলি” প্রস্তুত হয়, নেউলি দেখিতে শীতল পাটির অনুরূপ এবং দীর্ঘতর । নেউলিতে সাধারণতঃ ভাল গৃহের বেড়া প্রস্তুত করা হয়। আজ কাল নেউলির ব্যবহারটা পূর্র্ববৎ দৃষ্ট হয় না। শ্রীহট্টের চাচ বা ধাড়া (দরমা) প্রসিদ্ধ; ইহা দূরবর্তী স্থানেও রপ্তানি হয়। করিমগঞ্জের অধীন ৭. এই উৎকৃষ্ট শিল্পটি ভগবানের কৃপায় এখন সমভাবে চলিয়াছে। ইটার ধুলীজুবা ও চৌয়ালিশের আটঘর গ্রামেই উৎকৃষ্ট পাটি প্রস্তুত হয়। ধুলীজুরার শিল্পী যদুরাম দাস বিগত ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে কলিকাতার কৃষি-শিল্প প্রদর্শনীতে ৯০ টাকা মূল্যের এক পাটি প্রেরণ করিয়া প্রশংসাপত্র ও স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হন। ৮.0 08100 01৫ 09101)00 (07)110016 06 9%1170115 01020) 210 01 4 00১9 00081)1%, 0 581৬1069191 01101 005111? 85 110016 255/55 0. (6911 ০8106 08910915 210 8150 (91) 010611100 11) 0106 10401 0100 10110 1081 101101001118 0 91106 010 00106 ৪ ১১০০1110/- 1100 86177980৩01 ৮101 1510100৬111 95 00101000911) 00 &1170708%1016 91 10170000, 1১81 0001101) 01069 01719 00951 21)0111 010100 010105 2901, 0116 216 10110 0115১1601১9 00 11010901100 2101016 ৬/11101 15 যা)016 0017৬011617, 11 01180100811 0৫ 010900, 0110 10915 [19000] 10171 -/5550]া) [010101 05820116015 ৬01 11. (9911)01) 0180 ৬ 0১158. চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৫৫ লক্ষ্মীর বাজার, সেওলা, পঞ্চখণ্ড, জফরগড় এবং জলসুখা ও জগন্নাথপুর প্রভৃতি স্থানে চাচ প্রস্তুত হয়। বিগত ১৯০২-৩ খৃষ্টাবে শ্রীহট্ট হইতে ষ্টিমার যোগে ১৪০০০০ মন ওজনের চাচ ভিন্ন স্থানে রপ্তানি হইয়াছিল । এতদ্বযতীত শ্রীহট্ট সদরের বেত্র নির্মিত পেটারা, বাক্স, মুড়া এবং বাশের চেয়ার ও ইজিচেয়ার অতি প্রসিদ্ধ। বাক্স ও চেয়ার ইউরোপীয়ানগনের বিশেষ আদৃত। সদরের পক্ষীর পিঞ্জর বেশ সুন্দর ও সুলভ । বাশের টুকরি বা ধামা, ধান্য রক্ষার জন্য সুবৃহৎ “টালি” বা “আগুলি” এবং চালনি প্রভৃতি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সর্বর্বত্রই প্রস্তুত হইয়া থাকে। এই'লিকে শরীর কারিরগান বিলের তা পদ কার । দরের নেছা ভান পাড়ার কারিকরগণের প্রস্তুত বংশ-- বেত্র নির্মিত এক ছোট গৃহ ১৮৮৩ খৃষ্টাব্দে ইংলগ্ডের প্রদর্শনীতে প্রেরিত হইয়াছিল । এই গৃহ বিশেষ প্রশংসিত ও পারিতোষিক প্রাপ্ত হয়। পর্ণ ও তৃণ-শিল্প এই শিল্পের মধ্যে শ্রীহট্রের পাতার ছাতি অতি বিখ্যাত। “ছাতাপাতি” নামক একরূপ পত্রের দ্বারা ইহা প্রস্তুত করা হয়। বংশ-বেত্রের ফ্েইমের ভিতরে “ছাতাপাতি' রাখিয়া ছত্র প্রস্তুত করে। ইহার মূপ্য সাধারণতঃ তিন আনা হইতে সাত আনা পর্য্যন্ত হয়। পূবের্ব বৃহদাকার “বেহারা ছাতি” প্রস্তুত হইত: বেহারাগণ সন্তান্ত ব্যক্তির উপর তাহা ধারণ করিয়া যাইত, এখন ইহার ব্যবহার উঠিয়া গিয়াছে বলিয়া প্রস্তুত হয় না। পাতার ছাতি রৌদ্র বৃষ্টি বারণ পক্ষে অতি উপযোগী ! এই আবশ্যকীয় দ্রব্যটির ব্যবহার অনেকেই লজ্জাকর মনে করেন, কিন্তু গবর্ণমেন্ট এই পাতার ছাতি ও বাশের মুড়ার সুখ্যাতি না করিয়া থাকিতে পারেন নাই ।৯ পত্র নির্মিত ক্ষুদ্রাকার ছত্র কৃষকেরা মস্তকে বাঁধিয়া কাজ কর্ম করে, এরূপ ছত্রের নাম “ছাতা” । ইহার মূল্য তিন পয়সা হইতে পাচ পয়সা পর্য্যস্ত। কুশ নামক তৃণ দ্বারা ভানুগাছ পরগণায় কুশাসন প্রস্তুত হয়। ঢাকা দক্ষিণ ও পঞ্চখণ্ডের কুশাসন অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট । শ্রীহ্ট সদরের তালপত্রের পাখা বিখ্যাত ও অত্যুৎকৃষ্ট। ধাতব শিল্প তৈজসপত্রাদির মধ্যে শ্রীহন্র জিন্দাবাজারের প্রস্তুত পিতলের লোটা (ঘটি) উৎকৃষ্ট ও বেশ ব্যবহারোপযোগী । ব্রহ্মচালে পিতলের বাসন ও পিটা কাসার কটোরা (বাটি) এবং করতাল প্রস্তুত হয়। শ্রীহট্ট, ব্রহ্ষচাল, বদরপুর, মাধবপুর, আখাইলকুরা ও শ্রীমঙ্গল প্রভৃতি স্থানে পিতল ও ভরত- কীসার বাসন প্রস্তুত হয়। পিতল দ্বারা সাধারণতঃ লোটা, কলস, তাগেরা, ডেগ, তসলা প্রভৃতি পর্তুত হয়। কাসাতে বাটি বাট্লই (তসলা বিশেষ), লোটা ও চুণের কৌটা প্রস্তুত হয়। বদরপুরে মণিপুরীরা ভরত-কীসার লোটা ও ভরত-পিতলের বর্তুল (বাট্লই) ও করতাল প্রস্তুত করে। গলিত ধাতুই ভরত নামে কথিত হইয়া থাকে। ৯. এই বংশে বর্তমানে শ্রীযুক্ত বিষুণচরণ দে বি. এ বর্তমান আছেন ৫৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ ইটার পাচগাও ও রাজনগরের লৌহদ্বব্য অতি উৎকৃষ্ট। পীচগার কর্মকারগণ বহু পূর্ব হইতেই লৌহশিল্লে বঙ্গ বিখ্যাত হইয়াছিল, প্রসিদ্ধ জাহানকোষা তোপ ইহাদের বীর্তি। জাহানকোষা তোপ-কাঠরার দক্ষিণপূবর্ব দিকে এক অশ্ব তরুর সংলগ্ন কাণ্ড মধ্যে এই প্রসিদ্ধ তোপ অদ্যাপি অবস্থিত রহিয়াছে । ইহার দৈর্ঘ্য ১২ হাত, পরিধি ৩ হাত, মুখের বেড় দেড় হাত ও অগ্নি সংযোগ ছিদ্র দেড় ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট । কামান সংলগ্ন পিত্তলফলক পাঠে জানা যায় যে, জাহাঙ্গীরনগরে জনার্দন কর্মকার কর্তৃক ১০৪৭ হিঃ সনে ইহা নির্মিত হয়। হরবন্নভ নামক এক ব্যক্তির তত্ত্বীধীনে পাচগার জনার্ঘন কর্মকার এই কামান নিম্াণ করেন। এই কামান নির্মাণ করায় জনার্দনের বংশ প্রসিদ্ধ লাভ করে, এবং কুলোজ্জ্বলকারী জনার্দনের নামে তাহার বংশ “জনাইর গোষ্ঠী” নামে খ্যাত হয় । আজ পর্য্যন্ত জনাইর গোষ্ঠীর লোকেরা জাহান কোষার উন্লেখে গৌরব করিয়া থাকে । জনার্দনের বংশে পরেও অনেক প্রসিদ্ধ শিল্পীর উদ্ভব হয়।১০ পাচগাও, রাজনগর থানার অধীন বলিয়া পাচগার প্রস্তুত লৌহ দ্রব্যও রাজনগরের জিনিষ বলিয়া খ্যাত। তন্মধ্যে খড়গ, বুকি দা, বটি দা, জাতি বা ছরতা প্রভৃতি বিখ্যাত । খড়গ উৎকৃষ্ট ও বড় হইলে ১০/১৫ টাকা মূল্যে বিক্রয় হইয়া থাকে । খড়গ প্রভৃতি উপর রৌপ্য ও পিতলের সুন্দর কারুকার্য করা হয় 1১১ শ্রীহট্টে সোনারূপার কার্য্য দেশীয় স্বর্ণকার ও মণিপুরীগণ করিয়া থাকে: সহরে ঢাকাবাসী স্বর্ণকারদের দোকানও দৃষ্ট হয়। জয়ন্তীয়ায় স্বর্ণকারের প্রস্তুত বিশেষ বিশেষ দ্রব্য প্রশংসনীয় । লক্করপুরের সোনারূপার গিল্টির কার্ষ্য অতি চমৎকার ও প্রসিদ্ধ ।৯২ কারিগরেরা লবঙ্গ প্রভৃতি মসলার উপরও গিল্টি করিয়া দিতে পারে। মৃৎ শিল্প হিন্দু কুমার জাতিরা এবং খুসকী নামক মোসলমানেরা মাটির বাসন প্রস্তুত করে । কলসী, ঘট, পাতিল, সরা, কাই, সানকি, কুজা, কলকি ও কাছলা এবং মটকা প্রভৃতিই অধিকরপে প্রস্তুত হয়। মটকা ও কাছলা অতি বৃহৎ পাত্র। তদ্তীত সময় বিশেষে দেবমূর্তি ও হাতী ঘোড়া প্রভৃতি খেলানাও প্রস্তুত হইয়া থাকে৷ দেব দেবীর মূর্তি গঠন উপলক্ষে কুন্তকার ও গণকগণ মধ্যে মধ্যে শিল্পের চমৎকারিত্ প্রদর্শন করিয়া থাকে । ১০. পাচ গার কর্মকারগণ পূবের্ব তরবারি ও বন্দুক প্রস্তুত করিত। ১৮৮২ শুষ্টান্দে কলিকাতার শিল্প প্রদর্শনীতে পাচগায়ের কমলচরণ ধর, কিশোররাম ধর কর্মকাব লৌহ দ্রব্য প্রেরণ করিয়া বিশেষ পারিতোধিক লাভ করেন। ১৯০৬ খৃষ্টানদের কলিকাতা কৃষিশিল্প প্রদর্শনীতেও তন্রত্য প্রাণকৃষ্ণ ধর, মধুসুদন ধর ও শঙ্গুনাথ ধর কর্মকার অনেক লৌহ দ্রব্য প্রেরণ করতঃ প্রসংশিত ও পুরফৃত হইয়াছেন। তত্রহ্য গোবিন্দরাম ধর একপ্রকার তালা প্রস্তুত করিয়া গিয়াছেন, এই তালা যুক্ত বাক্সের ডালা ফেলিয়া দিলেই বাক্স আপনা হইতে বন্ধ হয়;-চাবি ব্যবহারের আবশ্যক করে না, বাক্স খুলিতেই মাত্র চাবির প্রয়োজন । ১১, "/১1 10511709017 11016 015 806৬ 11581710105 ৩10 1109) 511/01 50011] /0110 01001 1101) 10) 0৩০1 ১0). [11016 86 1077610015 9/0110015 110182১১014 1101) 508110100 01000810110811 1110 131517101," 91801511001 /১05000115 01 /১5581]) ৮0] 1] (3911061) 01017. 0 22. ১২. /101001 50601911501 9911011701610001010 15 1৬1/9-৬/010, 006 081৬0101110) 00100101150 19 11011 11101700119 010 0506.11655 ৬0110 0017১1১05 911৬/া9 1815, /110) 01৩ ১০1৫ 0017106 ()যা 52010) 00) ৩৪০], (0115 1101) ৫1-12 00 42710, ৯1075 [গো 41712 00 42, 01001) [0] ব310) বি ৭5015 0106 [ংা। 3৯10) 0 ৬৯০1, 21010110115 (1017 2৬ 16) ৩ 2 ০1 -111101675 90211501091 8000 0105 0 ঠিডএ1 (১5110010011) চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৫৭ বেযোড়া পরগণার বেঙ্গাড়ুবা গ্রামে পাক কার্য্ের উপযোগী সুদৃঢ় পাতিল প্রস্তুত হয়; এ সকল পাত্র “বেঙ্গাডুবি পাতিল” নামে পরিচিত । রিচি পরগণার লুকরা গ্রামও মাটির বাসন প্রস্তুত জন্য বিখ্যাত। তরফের মাটির বাসনও অতি উৎকৃষ্ট । তথায় কলসী, কলকি, সানকি, কুজা প্রভৃতি বহু প্রকার বাসন প্রস্তুত হয়। তন্মধ্যে কুজা ও কলকি প্রভৃতি দেখিতে চিনাবাসন বলিয়া বোধ হয়। শ্রীহট্ট সদরেও মাটির বাসন তৈয়ার হয়। বস্তুতঃ জিলার সর্বত্রই অল্প বিস্তর মাটির বাসন প্রস্তুত হইয়া থাকে শ্রীহট্ট জিলার মাটির বাসন দৃঢ়ত, ব্যবহারোপযোগী ও সুন্দর । প্রস্তর শিল্প পৃর্বকালে শ্রীহট্ে যে প্রস্তর শিল্প উৎকর্ষ প্রাপ্ত হইয়াছিল, উনকোটি তীর্থের প্রস্তর মূর্তি, জয়ন্তীয়া ও অন্যান্য স্থানের দেবমুর্তি এবং প্রতাপগড়ের রাজবাটীতে প্রাপ্ত প্রস্তর-চিত্র তাহার প্রমাণ । বর্তমানে শ্রীহট্টে এই শিল্পের কোনরূপ কার্য্য দৃষ্ট হয় না। কেবল মাত্র জয়স্তীয়ায় প্রস্তরের “পাটা” (শিল নোড়া) শ্রীহস্টের প্রস্তর শিল্পের কঙ্কাল মাত্র রক্ষা করিতেছে । দন্ত শিল্প শ্রীহট্টের হস্তীদন্তের পাটি ভারত বিখ্যাত। সদর ও পাথারিয়া পরগণায় ইহার কারিকরগণ ছিল, এখনও দুই একটি আছে। হস্তীদত্তের বেত্র চুলের ন্যায় চিন্ধণ করিয়া, তদ্বারা পাটি প্রস্তুত করা হয়। কখন কখন ইহার সহিত স্বর্ণতারের ফুল পাতা তুলিয়া সৌন্দর্য্য ও মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। এইরূপ এক একটি পাটি ৩-৬ শত টাকা মূল্যেও বিক্রয় করা হয়। হস্তীদত্তে অতি সুন্দর ও উৎকৃষ্ট পাখা প্রস্তুত হয়। কলিকাতার যাদুঘরে শ্রীহস্টের কারিকর প্রস্তুত একখানা হস্তীদন্তের পাখা সযত্তে রক্ষিত হইয়াছে । তদ্বতীত হস্তীদন্তের চুড়ী, চিরুণী, বাক্স, কৌটা, লাঠি, খড়মের খুঁটি ও দাব। এবং পাশাখেলার গুটি ইত্যাদি প্রস্তুত হয় ।১৩ হস্তীদন্তের কারিকরকে “খণ্ডিকর” বলে । বড়ই দুঃখের বিষয়, এই অস্যুৎকৃষ্ট দেশীয় শিল্পটি উৎসাহের অভাবে লোপ হইবার উপক্রম হইয়াছে । ধনবান বিলাসী ব্যক্তিগণ বিদেশজাত কাচ খণ্ড ডি গার গাাদাপাস রানি নার রান কেন? মহিষ সিং এর চিরুণী শ্রীহত্রে প্রস্তুত হইয়া থাকে । হরিণের সিং কাটারীর বাঁট নির্বাণ প্রভৃতি সামান্য কাজে লাগিয়া থাকে । শ্রীহ্ট সহরের শাখারীরা দক্ষতার সহিত সুন্দর শাখা প্রস্তুত করিয়া থাকে ।১৪ ১৩. ৮110 11010012010 0 91011 1000101১ 1৬৩5 ৩7110109101 0 0 00011100101 1100015 10) 0116 10৮৮1) 01 51101 105৩ 01000100 0৩ 0000 001 05 501101171125 1101) 12৮5 ৬৪116 00701 510115 --010011015 51011510098] 18060811015 91 /555011) (১9111610001). ১৪. ১৮০৫ খৃষ্টাব্দে লক্ষৌবাসী শের আলী জাফর “আফেল-ই-মাহাফিল” নামক উর্দু গ্রন্থে শ্রীহন্টের বিবরণে এই বিষয়ে লিখিয়াছেনঃ-সিলেট, ইহা একটি পার্বত্য নগর । এখানকার গঞ্ডার চরের ঢালের ন্যায় সুন্দর ঢাল ভারতবর্ষের কোন স্থানে প্রস্তুত হয় না । এখানকার কমলা লেবু প্রসিদ্ধ । পাহাড়ে মুসব্বর গাছ আছে। ইত্যাদি । ঢালের উৎকর্ষ বিষয়ে হামিন্টন সাহেব লিখিয়াছেন_ “5110105171806 11) 51170110756 1072 0900) 00104 0/00810001 11018 (0111006111005010 000 90012010119 91006 10190 ৬৫110191) 100 /11011 01009 21৩ ৩০৮০1০৫|' ৬/ 11101111110) [300৭1111018 00/0101001৬01,11-1828 1) 5৭১. ৫৮ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ বিলুপ্ত চর্ম শিল্প শ্রীহট্টের ঢাল ভারত বিখ্যাত ছিল; শ্রীহট্ট সহরের লামা বাজারের পশ্চিমে ঢালকার পাড়া মহত্তায় পৃবের্ব ঢাল প্রস্তুত হইয়া ভারতবর্ষের সর্বত্র রপ্তানি হইত। পাথারিয়া পরগণাও উৎকৃষ্ট ঢালের জন্য প্রসিদ্ধ । ঢাল প্রস্তুতকারীরা “ঢালকর” নামে খ্যাত। লামা বাজারের ঢালকর বংশ এখন প্রায় নির্মূল; ঢাল ব্যবসায়ও বিলুপ্ত। রিয়াজ-উস-সালাতিন প্রভৃতি পারস্য গ্রন্থে লিখিত আছে যে, উৎকৃষ্ট ঢালের জন্য শ্রীহস্ট সমস্ত হিন্দুস্থানে বিখ্যাত। অনেক ইংরেজ লেখকও ইহার উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন।১৫ ইটার কেওয়ালীরা পুরের্ব জুতা প্রস্তুত করিত, দেশীয় লোক তাহাই ব্যবহার করিত। গন্ধ ও খাদ্য শিল্প শ্রৃহট্র জিলার আতর প্রসিদ্ধ। পাথারিয়া পরগণায় আগর কাষ্ঠ হইতে উৎকৃষ্ট আতর প্রস্তুত হয়। পিঠাকরা নামক এক জাতীয় বৃক্ষের সার কাণ্ঠ চূর্ণ করতঃ তাহা চোয়াইয়া আতর প্রস্তুত করে ।১৬ আতর প্রস্তুতের কাষ্ঠ পরিচয় করা সহজ নহে, সকল বৃক্ষেই আতর হয় না। অনেক বৃক্ষই আগরের কাণ্ঠের ন্যায় গন্ধবিশিষ্ট হইলেও চোয়াইলে আতর বাহির হয় না, এইরূপ কাষ্ঠকে “আষ্টাং₹” বলে । আতর প্রস্তুত হইয়া গেলে আগরচূর্ণ রাশি ফেলিয়া দেয় না, ইহাও কাজে লাগে । আগর-চূর্ণে মণ্ড মিশাইয়া উৎকৃষ্ট “ধূপ” প্রস্তুত করা হয়। দেবার্চনাকালে ধূপ ও আগর-চূর্ণ, উভয়ই জ্বালান হয়। ইহার গন্ধ মনোহর । আগরের আতর মোসলমানদের অতি প্রিয় পদার্থ; প্রাচীন কালাবধি ইহার আদর সমভাবে আছে । আরব প্রভৃতি দেশেও আগরের আতর প্র !'সনীয়। আগর ব্যতীত নাগেশ্বর ফুল হইতে একরূপ আতর প্রস্তুত হয়; বিশুদ্ধ নাগেশ্বরী আতরের গন্ধ সুদীর্ঘকাল স্থায়ী। খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে তরফের লালি গুড় অতি প্রসিদ্ধ । ইহাকে একরূপ অপকৃষ্ট চিনি বলিলেই হয়। এই গুড়ের দানা বড় বড় হয় এবং খাইতে উত্তম। চরগোলা প্রভৃতি স্থান হইতে যথেষ্ট পরিমাণে গুড় রপ্তানি হইয়া থাকে। ১৫. 0) 78010110, 4 1000 91 ফি 25 01601600106 009 091100 /১5097, ৬4110] 051১0119410 05109817101 06508101) (0 /১18018 00001011065 2১801150910 07. 0655 0911801 1910701018- 17000101575 51811510041 80008105 ৬০01. 11 (5911001) 0. 25. পাথারিয়া ও ঢাকা দক্ষিণেই আগর চোয়ান হয়। আজিমগঞ্জের হামিদ আলী চৌধুবীব আতর প্রস্তুতের বিস্তৃত কারবার আছে। ১৬. ভিন্ন দেশীয় কেহ কেহ মনে করেন যে, কমলার রসে “কমলা মধু” প্রস্তুত হয়, “সখী” নামক পত্রিকায় এইরূপ একটা কথা প্রকাশিত হইয়াছিল; এ ধারণা ভুল;-মধুমক্ষিকারাই কমলার ফুল-রেণু দ্বাবা কমলা বাগানে মধুচক্র প্রস্তুত করে। ইহার উপাদেয়তা সম্বন্ধে কবি প্যারীচরণ দাস লিখিয়াছেন- “ভারতে কোথাও আর খুঁজে মিলা ভার, কমলা মধুর সম দ্রব্যে মিষ্ট তার। হায় বৃথা পুরাকালে নয়নের নীরে, তিতিলা দানবকুল জলধির তীরে; না পাইয়া সুধা (যবে ইঘদ্‌ হাসিয়া, ভুবন মোহিনী মুখে দিলেন বাটিয়া, মোহিনী মোহন কান্তি, দেবে দেব সীধু), ছিল নাকি এ সংসারে কমলার মধুঃ”-পদ্য পুস্তক । কমলা মধু এত উৎকৃষ্ট, কবির এই সুন্দর বর্ণনায়ও যেন তাহার উৎকর্ষ প্রকটিত হয় নাই। চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপন্ দ্রব্য শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ৫৯ তরফ, ভানুগাছ, পাথারকান্দি প্রভৃতি স্থানের মণিপুরীগণ ভাল চিড়া প্রস্তুত করে। মধু মনুষ্য শিল্পীর প্রস্তুত না হইলেও এই স্থলেই তাহার উল্লেখ আবশ্যক । ইন্দেশ্বর, চরগোলা শ্রভৃতি স্থান হইতে মধু সংগৃহীত হয়। কমলা-মধু এক দেব-দুর্নুভ বস্তু, ছাতক হইতে শ্রীহস্ট্ের বাজারে ইহা সংগৃহীত হয়।১৭ বংশীকুপ্তা, নবিগঞ্জ, আজমীরগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে ঘ্ৃত প্রস্তুত হয়; এবং সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সবডিভিশনের শুষ্ক মৎস্য দূরদেশে রপ্তানি হইয়া থাকে। লাক্ষা ও লাক্ষিক শিল্প কুশিয়ারকুল, ভাটেরা, বরমচাল (্রক্ষচাল), লংলা, ইন্দেশ্বর, কাণিহাটা প্রভৃতি স্থানে বটবৃক্ষে লা- পোকা (পিপীলিকা বিশেষ) ধরান হয় । পোকাণগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রশাখায় আঠার মত পদার্থ প্রস্তুত করে, এঁ পদার্থের বর্ণ লোহিত। প্রশাখা কর্তন করতঃ ইহা সংগৃহীত হয়; ইহারই নাম “লার ঝুরি ।” লার কাজ যাহারা করে. তাহাদিগকে "লাহারি” বলে এবং কার্য্য “কুপ্তের কাজ” বলিয়া কথিত হয় । লঙ্করপুরের নিকটস্থ লাকুড়িপাড়া উর্দু গ্রামের মোসলমানগণ লাক্ষারঞ্জিত লাঠি, রঙ্গীন বাক্স, বল্পম ও ছাতির বাট প্রস্তুত করে । এক সময় ছাতির রঞ্জিত বাট ও বল্লম বিশেষ আদরনীয় ছিল, এখন উভয়ই অনাবশ্যক হইয়া পড়ায় আর প্রস্তুত হয় না! লস্করপুরের লার চুড়ি এখন মোসলমান রমণীগণ অতি আদরের সহিত ব্যবহার করেন, ইহা বিখ্যাত ও বহু পরিমাণে প্রস্তুত হয়। লার ব্যবসায় ক্রমশঃই হাস পাইতেছে, ২০/২৫ বৎসর পূবেব যেরূপ ছিল, এখন তাহার চতুর্থাংশও নাই ।১৮ চাকরী ব্যতীত যে কোন আয়কব স্বাধীন ব্যবসায় করিলেই বাঙ্গালীর সন্ত্রমের হানি হয়!! খনিজ দ্রব্য চ্‌ণ রে শ্রীহট্টভূমি রত্ুপ্রসূতি । নানাস্থানে নানাবিধ পদার্থ আছে, কিন্তু ব্যবসায়ের বন্দোবস্ত নাই। খনিজ দ্রব্যের ব্যবসায়ের মধ্যে শ্রীহট্টের চুণের ব্যবসায়ই বিশেষ বিখ্যাত। মোগল রাজত্বের সময়েও ইহার ব্যবসায় চলিত, সে সমস্ত কথা যথাস্থানে উক্ত হইবে । ছাতকের নিকটবর্তী উতম (উতমা) ও ব্রহ্ম পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে চুণা পাথর পাওয়া যায়। এ সকল স্থান হইতে “চুণা পাথর” সংগৃহীত হইয়া থাকে, এবং ছাতক হইতে সুনামগঞ্জ পর্য্যন্ত সুরমা নদীর ধারে ভাটায় জ্বালাইয়া ১৭. "/00800 25 96015 990, 190 ৮১ [017900০6৫17 00115100121)10 00121111105. 1011 00170015119 13 10৬/ 11) 0 ৬০7 17110001511106 00170011101), 11101105001 15 16260 0] 01101001101, 0007 (01106850175, ৮1101 110 01010101517950 1001 701 9000066460 | 0150০9৬০111, 11110 10710] 0001105 00070) 0170 0100- -/5521) [01511101 0220116615 ৬০1. [1] (১1101) 0191) ৬ 0 106 ১৮. প্রতি সহম্্র মণ চুণা ছাতকে আনয়ন করার ব্যয় নিম্নলিখিত বূপঃ- খনন কার্য্যের মজুরি ৩০ টাকা ডিনামাইট টে... নৌকা বোঝাই বাবতে ১০ ” নৌকা ভাড়া ৫০ " সরকারী রাজস্ব ১৬২ ” এতদ্যতীত চুণাপাথর ভাটায় পোড়াইতে প্রায় ১২০ টাকা পর্য্যন্ত বায় হয়। ৬০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ তাহা ব্যবহারোপযোগী করিয়া লয় । ইংরেজ রাজত্ প্রথমে, রেসিডেন্ট (কালেক্টর) লিগুসে সাহেব চুণার কারবার করেন। তৎপর “ইংলিশ কোম্পানী” বহুকাল যাবৎ ছাতকে চণার কারবার করিয়া আসিতেছিলেন; সম্প্রতি (১৯০২ খৃষ্টাব্দে) ময়মনসিংহের গৌরিপুরস্থ স্বদেশবৎসল জমিদার শ্রীযুক্ত ব্রজেন্ত্রকিশোর রায়চৌধুরী এ ব্যবসায় করিতে আরন্ত করিয়াছেন । এই বিষয়ের বিস্তৃত বিবরণ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ পঞ্চম খণ্ডে ৪র্থ অধ্যায়ে বিবৃত করা যাইবে । ১৯০২-৩ খৃষ্টাবে শ্রীহট্র হইতে প্রায় ২০ লক্ষ মণ চূণা রপ্তানি হইয়াছিল, কলিকাতায় প্রতি সহস্র মণের মূল্য ২৯০ টাকা হইতে ৪০০ টাকা পর্য্যন্ত হইয়া থাকে ।১৯ জয়ন্তীয়ার জাফলঙ্গের পাহাড়েও চুণাপাথর আছে। লাউড়ের পাহাড়ে লোহা আছে, কিন্তু তাহা উঠাইবার কোন চেষ্টা হয় নাই। তৈল শ্রীহট্ট ও কাছাড় জিলার মধ্যস্থ ঝালনা ছড়ায় মেটে তৈল মিলে । ১৯০৫-৬ খৃষ্টাব্দের “পূর্ববঙ্গ ও আসামের এড্মিনিস্ট্রেশন রিপোর্টে” দৃষ্ট হয় যে, বদরপুরে বরাক নদীতীরে পিট্রিলিয়াম তৈল পাওয়া যায়। এই তৈলে স্নেহ পদার্থ অধিক থাকায় কিঞ্িৎ ভারি ! জয়ন্তীয়া পাহাড়েও সম্প্রতি একরূপ খনিজ তৈল আবিষ্কৃত হইয়াছে ।২০ কয়লা কয়লা শ্রীহন্ট্রের পাহাড়ে পাওয়া যাইতে পারে কি না, এ বিষয়ে অনুসন্ধান হইলে, জানা যায় যে, শ্রীহট্ে কয়লার খনির অভাব নাই। জয়ন্তীয়া ও লংলার পাহাড়ে কমলা আছে। লংলা পাহাড়স্থ কয়লার খনি ১৮৭৬ খৃষ্টাব্দে আবিস্কৃত হইয়াছে, কিন্তু এযাবৎ কয়লা উত্তোলনেব কোনবপ চেষ্টা হয় নাই ।২১ লবণ বহু পূর্বে দেশীয় লবণই লোকে ব্যবহার করিত বলিয়া জানা যায়। নবাবি আমলেও এদেশের লবণের খনি হইতে লবণাক্ত জল সংগ্রহ পূর্বক লবণ প্রস্তুত করা হইত। লবণের খনিকে এদেশে “খুলি” বলিয়া থাকে । খুলির জল দেখিতে কর্দমাক্ত বোধ হয়, ইহাই সং করতঃ জ্বাল দিলে লবণ পাওয়া যায়। খুলির লবণ ঈষৎ কথায় । লঙ্গাই ও শিংলা উজানের পাহাড়ে খুলি আছে। লঙ্গাই-আটিল গাঙ্গের মুখ নামক স্থানের ও বাজারিছড়ার খুলি প্রসিদ্ধ; শিংলা উজানের গুদগুদি ছড়ার খুলি বিখ্যাত । ১৯, ৮1106 07500৬10416 0811 01001011511 00001601011 50111105111 01010111013 111115191৬1 13050 17 41১12001404 710 81061911018) 07 1010 40169110106 09010981081 ১01০ 01 110019-1901. ২০, 0041 179516001001 (1870) 0601) 01১0%০100 81 1.0100111, 00116) ৫000111101005 1196 901 1067 0 01119, 1071091 100 ৬০100 01016 ১11 ৮০0১০1৬ -1100100075 91811০01001 4১০09001005 0) ১১০।)। ৬01- 11 (5911761) 1) 21 ২১, [010১১511501 0001 0150 06107 150008110 11117018100) ৮8116551001009 8110110)11090৬ 9011601) 176100 10 18 11)01)) ৯১৬০] 1)15107101 04/601601% 50) 11 (5911001) 001) 1 11 চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপনন দ্রব্য শ্রহট্টের ইতিবৃত্ত ৬১ দু-আলিয়া পাহাড়ের নুণ্টাছড়ার উৎপত্তি স্থলে লবণের খুলি থাকায় উহার জল লবণাক্ত ছিল; যে বংশীয় লোকেরা তদ্বারা লবণ প্রস্তুত করিত. অদ্যাপি তাহারা “নুনির বংশী” বলিয়া কথিত হয়েন। আদম আইল পাহাড়ের উত্তর পূর্ব প্রান্তে দাসগ্রামের নিকট লবণের এক বৃহৎ খুলি ছিল, এ খুলির লবণ প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হইত; অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এ খুলি পাথর চাপা দিয়া নষ্ট করা হয়। লৌহাদি শ্রীহট্টের নিকটস্থ পর্র্বতের প্রস্তুর গুলিতে (ঝাওয়া পাথর) লৌহ প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। পূর্বে এই দেশী লৌহ “ঢেলিলোহা” নামে কথিত হইত, ও তদ্বারা লোকে দ্রব্যাদি প্রস্তুত করিত। শুক্তি ও মুক্তা__ঘুঙ্গিয়া জুরির হাওরে উৎকৃষ্ট শুক্তি মিলে। তরফের করম নামক ক্ষুদ্র নদীর ঝিনুক হইতে মুক্তা পাওয়া যাইত বলিয়া কথিত আছে। প্রস্তর ও মাটী--শ্রীহট্ট জিলার নানাস্থানে বহু পরিমাণে প্রস্তর প্রাপ্ত হওয়া যায়, এ প্রস্তর সমূহ ইমারত ও ঘাট ইত্যাদি প্রস্তুত কার্য্যে ব্যবহৃত হয়। জয়ন্তীয়া পাহাড়ে প্রাপ্ত প্রস্তর রাশিই অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট। “ঢেউমাটী” নামে কথিত লৌহমিশ্র রঞ্জিত মৃত্তিকা সর্ব্রই প্রাপ্ত হওয়া যায়। দিনারপুরের ঢেউমাটি উৎকৃষ্ট। ৬২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ পঞ্চম অধ্যায় বাণিজ্য শ্রীহট্টের বাণিজ্য নিতান্ত অবহেলনীয় নহে প্রায় অর শতাব্দী পূর্বে পাশ্চাত্য বণিকগণ এক বৃহৎ কোম্পানী গঠিত করিয়া চীন, জাপান প্রভৃতি দেশের সহিত বাণিজ্য করিতে মনস্থ করেন, তাহাদের সঙ্কল্প কার্যে পরিণত হইলে, এই শ্রীহট্ট নগরীই সেই প্রাচ্য বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থান হইত, বণিক সমিতির মন্তব্যে ইহা অবগত হওয়া যায়।১ তখনও ভারতবর্ষের পূর্ববপ্রান্তে শ্রীহট্টই সর্রপ্রধান বাণিজ্য স্থান ছিল। বাণিজ্য স্থান নদীতীরবর্তী কয়েকটি প্রধান গঞ্জ বা বাজারট শ্রীহট্টের প্রধান বাণিজ্য স্থান । শ্রীহট্ট (কাজির বাজার ও বন্দর বাজার), বালাগঞ্জ, করিমগঞ্জ, মৌলবীবাজার, নবিগঞ্জ, সমসেরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, আজমীরগঞ্জ ও বাণিয়াচঙ্গ প্রধান বাণিজ্য স্থান। এতদ্বযতীত বহুতর বাজার অন্তর্বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত: খ.-__-পরিশিষ্টে বাজার গুলির নামাদি লিখিত হইল । অন্তর্বাণিজ্য সাধারণতঃ নৌকা ও ভারবাহী মজুরদের দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে । বিদেশের সহিত নৌকা, ষ্টিমার ও গেইলওয়ে এই ত্রিবিধ উপায়েই বাণিজ্য কার্ষ্য চলিয়া থাকে । ষ্টিমার লাইন ঢাকার অন্তর্গত নারায়ণগঞ্জ বন্দর হইতে “ইগ্য়া জেনারেল ষ্টিম নেভিগেশন কোম্পানীর” একখানি ষ্টিমার প্রত্যহ শ্রীহট্রের জন্য যাত্রা করিয়া, তথা হইতে ১৭টি ষ্টেশন অতিক্রম করতঃ শ্রীহট্ট জিলায় প্রবেশ করে। শ্রীহট্ট জিলায় যথাক্রমে মাদনা, (এস্থান হইতে জলপথে এবং স্থলপথে হবিগঞ্জ যাইতে হয় ।) বিথঙ্গল, আজমীরগঞ্জ, মহাকুলি, ইনায়েতগঞ্জ, শেরপুর, মনু-মুখ, (এস্থান হইতে স্থলপথে মৌলবীবাজার যাওয়া যায়।) বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, (এস্থান হইতে স্থলপথে শ্রীহট্ট সহরে যাইবার সড়ক আছে ।) নায়ের ঘাট, (এস্থান হইতে ঠাকুরবাড়ী অল্পদূরে 1) বৈরাগীবাজার, সেওলা, লক্ষমীবাজার, করিমগঞ্জ, ভাঙ্গাবাজার ও বদরপুর এই ১৬টি ষ্টেশন অতিক্রম করিয়া, কাছাড় জিলায় প্রবেশ করে ও তিনটি স্টেশনের পব্ই শিলচর পৌঁছে। এই স্টিমার যথাক্রমে পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালনি-বিবিয়ানা ও কুশিয়ারা-বরাক দিয়া শিলচরে যায় । উক্ত কোম্পানীর আর একখানা ষ্টিমার পূর্বোক্ত পথে মহাকুলি পর্য্যন্ত আসিয়া, ভিন্ন পথে দিরাই, পাসাইয়া কলস, সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, হরিপুর, ছাতক, কলারুকা, গোবিন্দপুর, লামা কাজিরবাজার, বাইয়ার মুখ ষ্টেশন হইয়া শ্রীহট্ট সহরে পৌছে। এই ছ্লিমার পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালনি-বিবিয়ানা ও সুরমা দিয়া শ্রীহট্টে পৌছে। একখানা ক্ষুদ্র ট্টিমারলঞ্চ অধিক বর্ষা হইলে, করিমগঞ্জ হইতে নটী খাল ও লঙ্গাই দিয়া প্রতাপগড়ের চান্দখিরা বাগান পর্য্যন্ত গমন করে। ফেঞ্চুগঞ্জ ষ্টেশন এই কোম্পানীর সমস্ত ষ্টেশন ১. ”]101 010 100160101906 10111715105 0000 ০9010107001 ১91101, ০1190001111 11) 00007 0৮411 00081101110 -]16 10117081 0110170 /5518010 3001015 01 1361001-1847 52191 পঞ্চম অধ্যায় : বাণিজ্য শ্রীহস্রের ইতিবত্ত ৬৩ হইতে বৃহত্তর । ষ্টিমারের কলকজা হঠাৎ নষ্ট হইয়া গেলে তাহা মেরামত করিয়া লইবার জন্য এখানে একটা ক্ষুদ্র কারখানা আছে। রেইলওয়ে লাইন আসাম বেঙ্গল রেইলওয়ের কার্য্য ১৮৯২ খৃষ্টাব্দে আরন্ু হইয়া, ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে প্রথমতঃ শিলচর পর্য্যন্ত গাড়ী চলিয়া ছিল। এই রেইলওয়ে লাইন শ্রীহট্ট জিলার দক্ষিণ দিক দিয়া সমস্ত শ্রীহট্ট জিলা ভেদকরতঃ চলিয়া গিয়াছে। চট্টগ্রাম বন্দর হইতে ১৩৫ মাইল দূরে, কাশিমনগর পরগণায় প্রবিষ্ট হইয়া, বদরপুরে ২৫৩ মাইল চিহ্বের নিকট শ্রীহট্ট জিলা ত্যাগ করিয়াছে শ্রীহ্ট জিলার মধ্যে যে সকল ষ্টেশন পড়িয়াছে, পশ্চিম হইতে তাহাদের নাম যথাক্রমে লিখিত হইল$__ সর্ব প্রথম ষ্টেশন (হবিগঞ্জের অন্তর্গত) মনতলা (১৪২ মাইল চিহ্ন), তৎপর ইটাখলা (১৪৭ মাইল চিহ), সাহাজীবাজার (১৫৫ মাইল চিহ), শায়েস্তাগঞ্জ (১৬০ মাইল চিহ্ন), দারাগাও (১৬৫ মাইল চিহ্ন), রসিদপুর (১৬৮ মাইল চিহৃ); দক্ষিণ শ্রীহট্ন্তর্গত) সাতগাও (১৭৫ মাইল চিহ্‌), শ্রীমঙ্গল (১৭৯ মাইল চিহ্ু), আলীনগর (১৮৭ মাইল চিহ্ন), শমশের নগর (১৯১ মাইল চিহ্ন) টীলাগাও (১৯৭ মাইল চিহ্ন), কুলাউড়া (২০৫ মাইল চিহ্ু), জুড়ী (২১২ মাইল চিহৃ): (করিমগঞ্জাত্তরগত) দক্ষিণভাগ (২১৬ মাইল চিহ্), বড়লিখা (২২২ মাইল চিহ), লাতু (২২৯ মাইল চিহ), লঙ্গাই (২৩৮ মাইল চিহ্), করিমগঞ্জ (২৩৯ মাইল চিহ), চরগোলা (২৪৩ মাইল চিহ্ত), ভাঙ্গা (২৪৭ মাইল চিহ্ন) ও বদরপুর জঙ্কশন (২৫২ মাইল চিহ্ন)। বদরপুর জঙ্কশন শ্রীহট্র জিলার মধ্যে বড় ষ্টেশন । শ্রীমঙ্গল, শমশের নগর, লঙ্গাই ও চরগোলা; এই ষ্টেশনেই অধিক মাল উঠিয়া থাকে । ফেঁচুগঞ্জ হইতে শ্রীহট্র পর্য্যন্ত ঘোড়ার গাড়ী চলিয়া থাকে । কাচা সড়ক প্রাচীনকালে শ্রীহন্ট জিলায় কয়েকটি সড়ক ছিল, তাহার ভগ্নাবশেষ এখনও আছে। তন্ধ্যে (প্রতাপগড়, জফরগড় প্রভৃতি পরগণায়) পিঠাখাউরীর জাঙ্গাল, (ঢাকা দক্ষিণে) দেওয়ানের সড়ক, (লংলায়) রাজসড়ক প্রভৃতির নাম করা যাইতে পারে। ইংরেজ আগমনের পূর্বেই এ সকল সড়ক নষ্ট হইয়া যায়। শ্রীহট্টের কালেক্টর মিঃ লোজ সাহেবের (১৭৯৪ খৃষ্টানদের) রিপোর্টে জ্ঞাত হওয়া যায় যে, তাহার পূর্ববর্তী শাসনকর্তা (মিঃ আমুটার) নিজ ব্যয়ে প্রস্তুত একটি মাত্র সড়ক ছিল। হন্টার সাহেবের ইতিহাসে লিখিত আছে যে, ১৮৫৩ খৃষ্টাব্দে শ্রীহস্র হইতে কাছাড় পধ্যত্ত ৮২ মাইল দীর্ঘ একটি মাত্র পথ ছিল। ১৮৭৬ খৃষ্টান শ্রীহট্র-ছাতক রাস্তা আরন্ত হয়। এই দুইটি সড়কই সুপ্রাচীন । ইদানীং বহুতর সড়ক প্রস্তুত হইয়াছে। চ-পরিশিষ্টে প্রধান প্রধান সড়ক গুলির বিবরণ লিখিত হইবে । শ্রীহট্ট জিলায় সম্প্রতি পাবলিক ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্টের অধীনে প্রায় ১২০ মাইল এবং লোকেল বোর্ডের অধীনে প্রায় ১২০০ মাইল সড়ক সংরক্ষিত আছে। শ্রীহন্ট হইতে শিলং ৭২ মাইল। শিলং যাওয়ার পথে একটু বিশেষত্ব আছে। শ্রীহট্ট সহর হইতে স্থলপথে হাটিয়া বা নৌকাযোগে ছাতক হইয়া কোম্পানীগঞ্জ, তথা হইতে থারিয়া ঘাট যাইতে হয়। থারিয়া ঘাট হইতে উদ্ধদিকে পাহাড়ের উপর উঠিতে হয়। পদরব্ুজে যাওয়া কষ্টকর বিবেচনায় অধিকাংশ লোকই “থাবা” আরোহণে শিলং যায়। থারিয়াঘাটে থাবা পাওয়া যায়। থাবা দুই প্রকার; ঝুড়িবৎ দীর্ঘাকার থাবা দ্রব্যাদি বহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। মনুষ্য বহনোপযোগী ৬৪ শ্রীহস্ট্ের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ থাবা বাশের একরূপ মোড়া বা চেয়ার বিশেষ । খাসিয়ারা এই থাবা সংলগ্ন রজ্জু মাথায় দিয়া থাবা পৃষ্ঠদেশে লয়, আরোহী তদুপরি উপবেশন করে। খাসিয়ারা আরোহী সহিত থাবা পৃষ্ঠে লইয়া অনায়াসে পাহাড়ের উপর দিয়া চলিয়া যায়। শ্রীহট্ট হইতে শিলং যাইতে রাজারগাও, কোম্পানীগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ, থারিয়াঘাট, চেরাপুঞ্জী, চেরাডিম, ডম্পেপ্‌, মালিম প্রভৃতি প্রধান জায়গা অতিক্রম করিতে হয়। আমদানী রপ্তানি আমদানী শ্রীহট্ট জিলায় প্রতিবর্ষে লবণ, তৈল নানাজাতি দাইল, ওঁষধ, চিনি, মিছরি, ময়দা প্রভৃতি খাদ্য দ্রব্য; কড়াই বর্গা প্রভৃতি লৌহ নির্মিত দ্রব্য; মদ, গাজা, আফিম প্রভৃতি মাদক দ্রব্য; চীনাবাসন, এনামেলড বাসন, পিতল ও কীসার বাসন, সুপারি ও নারিকেল; এলাচ ও লবঙ্গ প্রভৃতি মসল্লা; পেঁয়াজ, তামাক ও মৌরী প্রভৃতি; করগেটেডু আয়রণ, আলকাতরা, বিলাতী মাটি প্রভৃতি আমদানি হয়। রপ্তানি রপ্তানির মধ্যে নিশ্নলিখিত দ্রব্যগুলি প্রধানঃ-_-চাল ও ধান; (করিমগঞ্জ, দক্ষিণ শ্রীহট্ট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ হইতে অধিক ।) চা, (করিমগঞ্জ ও দক্ষিণ শ্রীহট্ট হইতে অধিক ।) তিসি, সর্ধপ, কমলা ও কমলামধু, (অধিকাংশই ছাতক হইতে প্রেরিত হয়।) মধু, মোম, লা, আগরকাষ্ঠ ও আতর; (করিমগঞ্জ সবডিভিশন হইতে); তেজপত্র, মরিচ, মধু (জয়ন্তীয়া হইতে); কার্পাস, চর্ম, ঘৃত, (আজমীরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ হইতে); পুরাতন ঘৃত (জলসুখা হইতে); চুণা (ছাতক ও লাউড়ের অন্তর্গত তেলিগা হইতে রপ্তানি হয় ।) শীতলপাটি, সফ ও খড়গা, (দক্ষিণ শ্রীহট্ট হইতে), আনারস, বাশ, বেত, ছন, কাণ্ঠ, চাচ, চাটি, (কেরিমগঞ্জ সবডিভিশন হইতে প্রেরিত হয়।) পাতার ছাতি ও বাশের মুড়া (সদর শ্রীহট্ট হইতে) এবং আলু (ভোলাগঞ্জ ও জয়ন্তীয়া হইতে); ও শুষ্ক মৎস্য (সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ হইতেই প্রধানতঃ রপ্তানি হয় । প্রতি বৎসর প্রায় লক্ষ টাকার শুষ্ক মৎস্য রপ্তানি হইয়া থাকে ।) তদ্যতীত সর্প তৈল, মাছের তৈল, হস্তীদত্ত, মহিষের সিং, হরিণের সিং, চর্ম, মৃত জন্তুর হাড় প্রভৃতি রপ্তানি হয়। উষধের মধ্যে চারুচিনি, চালমূগরার তৈল, বংশলোচন, এবং পশুর মধ্যে হস্তী বিদেশে প্রেরিত হয়। ছাপরা জিলার হরিহরছত্রের মেলায় শ্রীহস্টের হস্তী বিক্রয় হইয়া থাকে। ঢাকা, কলিকাতার সহিত পরোক্ষভাবে এবং খাসিয়া পর্বত, পার্বত্য ত্রিপুরা ও কাছাড় জিলার সহিত সাক্ষাৎ ভাবে বাণিজ্য চলিয়া থাকে । খাসিয়া পর্বত হইতে চুণা, আলু, কমলা, মধু ও পাণ এবং সৃতা আমদানী হয়। খাসিয়ারা ইহা বহন করিয়া আনিয়া থাকে, এবং প্রত্যাগমনকালে ধান্য, তৈল, ও শুষ্ক মৎস্য লইয়া চলিয়া যায়। পার্বত্য ত্রিপুরা হইতে সুতা, তিল, বেত ও কাষ্ঠ প্রভৃতি লঙ্গাই ও শিংলা নদীপথে এবং জুড়ী, মনু ও খোয়াই নদী দিয়া আসিয়া থাকে ও শ্রীহস্টর হইয়া বিভিন্ন স্থানে প্রেরিত হয়। এই সমস্ত দ্রব্য মনুমুখ ও মুছিকান্দিতে রিজেষ্টরী হইয়া থাকে। শ্রীহট্ট হইতে পার্বত্য ত্রিপুরায় তামাক, মসাল্লা ও শুষ্ক মৎস্য রপ্তানি হয়। ১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট হইতে প্রায় ২০০০০ টাকার শুষ্ক মৎস্য পার্বত্য ত্রিপুরায় রপ্তানি হয়। ১৯০৫-৬ খৃষ্টাব্দে পঞ্চম অধ্যায় : বাণিজ্য শ্ীহত্টরের ইতিবৃত্ত ৬৫ শ্রীহট্ট হইতে ১৩৫২১৩ মণ কয়লা বিদেশে রপ্তানি হইয়াছে। নৌকাযোগে যে সমস্ত দ্রব্যাদি আমদানী ও রপ্তানি হয়, ভৈরব বাজারে তাহার রেজেষ্টরী হইয়া থাকে ।২ শ্রীহট্রের বনজাত দ্রব্যাদি বিভিন্ন নদী পথে রপ্তানি হইয়া থাকে, এ সকল দ্রব্যের কর আদায়ের জন্য গবর্ণমেন্টের ১১টি ফরষ্টে আফিস আছে ।৩ আবগারী সম্বন্ধীয় দোকানের সংখ্যা শ্রীহট্ট জিলায় প্রায় ১৬২টির ন্যুন নহে ।8 ২. ১৯০৩ খৃষ্টান্দেব ৩১শে মার পর্য্যস্ত, পূর্ব পাচ বৎসরের আমদানী বপ্তানিৰ গড়পড়তা মণ কবা (সহস মণের হিসাবে) প্রদর্শিত হইতেছেঃ__ আমদানী কত | দ্রব্য পাচ বৎসনের গড় | রপ্তানি কৃত দ্রব্য আলু ” ৩৫ সহস্র মণ ” কাষ্ঠ ” ১৪ সহস্র মণ কয়লা ” চর্ম ও শৃঙ্গ ” ১৭: তগ্ডুল ” চুণা " ১৮৪৭ ” তামাক ” তুলা ” 5৬, তৈল” ততুল ” ১৮৭০ " ধাত ” পাট ” ১৭. মটর ইত্যাদি পাটি ও চাটি ইত্যাদি| ১৩৮ মসাল্লা ” মসাল্লা ২৮" লবণ ” শর্ষপাদি বীজ ” ১০ ৯ ররর পা ৩. পাথারকান্দি, লঙ্গাই, শিলুয়া, মৌলবীবাজার, মনুমুখ, কানাইরঘাট, ছাতক, সুনামগঞ্জ লাউড্রেরগড়, মুচিকান্দি ও দিনারপুর | ৪. দোকান সংখ্যা ও বিক্রয়ের পরিমাণঃ- আফিম ২১টি দোকান। (১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে বিক্রয় ১৬/।০ মণ) গাজা ৯৪টি ” (১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে বিক্রয় ২৩২/৪০ মণ) দেশীয় মদ ৪৭টি ” (১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে বিক্রয় ২৩২/০ মণ) শীহষ্টরের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৫ ষষ্ঠ অধ্যায় ইতর প্রাণী শ্রীহন্্রের জঙ্গলে প্রায় সর্ব্বপ্রকার হিংস্র জন্তুই আছে। আরণ্য জন্তুর মধ্যে সব্বাগে শ্রীহত্রে হস্তীর বিষয় উল্লেখ করা কর্তব্য । হস্তী .. হস্তীরা দলবদ্ধ ভাবে বিচরণ করে। প্রতি দলেই চরাল কুন্কী নামে কথিতা এক একটি বৃহতকায় হস্তিনী এবং গুপ্তা নামে কথিত এক একটি দীতাল হস্তী থাকে৷ ইহারাই দলপতি স্বরূপ। এক স্থান হইতে স্থানান্তরে যাইতে চরালকুন্কী সর্বাগ্রে ও গুপ্তা সবর্ব পশ্চাতে থাকে । সাধারণতঃ হস্তিনীদিগকে কুন্কী বলা হয়। দন্তবিহীন হস্তীর নাম মাক্না ৷ মধ্যে মধ্যে যুথত্রষ্ট হস্তীও প্রাপ্ত হওয়া যায়, ইহাদের ক্ষুদ্র দলে হস্তিনীরা থাকে না; এইরূপ দলে কখন কখন ৭/৮টি মাক্না ও গুপ্তা তৃস্তী মাত্র থাকে । গুপ্তার দল নিভীঁক এবং শিকারীরা সহজে ইহাদিগকে ধৃত করিতে পারে না। দুই ভিন্ন দলে পরস্পর দেখা হইলে কখন কখন উভয় দলের দলপতি গুপ্তা হস্তী মধ্যে বিবাদ বাধিয়া থাকে । এক দলের মধ্যেও কখন কখন বলবান্‌ কোন মাক্না, দলপতি গুপ্তার গতিদ্বন্্ী হইলে উভয়ে সংগ্বাম উপস্থিত হয় ৷ ইহাতে যে পরাজিত হয়, সে দল ছাড়িয়া পলায়ন করে । এই রূপ যুথত্রষ্ট কয়েকটি একত্র মিলিয়া “গুপ্তার দল” হয়। বর্ধাকালে হস্তীযুথ দুর্গম উচ্চতর পর্বতে চলিয়া যায়। শীতাগমে নিশ্নপ্রদেশে প্রত্যাগমন করে। এক প্রান্তরের বনজঙ্গল ভক্ষিত হইলে সমস্ত যুখ অন্য প্রান্তরে চলিয়া যায়। গমনকালে অগ্ৰবস্তীগণ পথাবরোধক বৃক্ষশাখা ভাঙ্গিয়া, লতা ছিন্ন করিয়া সুন্দর পথ প্রস্তুত করিয়া যায়। এইরূপ পথকে “দোয়াল” বলে । দুর্গম পাহাড়ে হস্তীর দোয়ালই বন কামলাদের চলাচলের প্রধান রাস্তারূপে গণ্য হয়। বন্য হস্তীর চলাচলের একটি কায়দা আছে, ইহারা “এক পাড়ায়” যায়; অর্থাৎ অগ্ববর্ত্িনী চরাল কুন্কীর পদচিহের উপর পদ বিক্ষেপ করিয়া দলের তাবৎ হাতীই চলিয়া যায়, ইহাতে পদচিহ দৃষ্টে সেই পথে মাত্র একটি হাতী গিয়াছে বলিয়াই বোধ হয় । তবে শাবকগণ “এক পাড়ায়” যাইতে পারে না; এই জন্য শাবকের পদচিহ্ন দৃষ্টে দলের বৃহত্ব অনুমান করিয়া লওয়া হয়। তিনরূপ উপায়ে হাতী ধরা হয়, যথা- খেদা, ফাস ও পরতালা: যে সকল স্থানে প্রায়শঃ হস্তী ধৃত করা হয়, সে স্থানকে রমৃনা বলে। শ্রীহ্ জিলায় ছয়টি রমূনা প্রসিদ্ধ।১ যথা-১. শিংলা, ২. লঙ্গাই, ৩. লাউড়, ৪. ভানুগাছ, ৫. মূলাগোল ও ৬. তারাপুর । এই রম্নাগুলির মধ্যে শিংলা ও লঙ্গাই সর্বোৎকৃষ্ট ছিল, কিন্তু বর্তমানে বহুদূর পর্য্যত্ত আবাদ হইয়া যাওয়াতে হস্তী পুবর্ববৎ আগমন করে না। ১. "91512015010 100৬/10507700 [01 01609110171 11111001161৬1011015 11) ১১110. -[7010615 50901501098] /৯০০0011105 01 /১558]) ৮০1, 11. (১911910) ষষ্ঠ অধ্যায় : ইতর প্রাণী শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৬৭ খেদা খেদান্র প্রধান কার্য্যকারকের নাম পার্জালী। পাঞ্জালীগণই প্রথমতঃ জঙ্গলে গিয়া হাতীর সন্ধান করে; পদচিহ্ন পরীক্ষায় তাহাদের গতি ও আনুমানিক সংখ্যা নির্দেশ করে। প্রতাপগড় পরগণায় অনেক মোসলমান এই কার্য্যে দক্ষতা লাভ করে, ইহাদের নামে গ্রাম ও তান্তুক প্রভৃতি আছে। পাঞ্জালীরা সুবিধাজনক স্থানে হস্তীযুথকে দেখিতে পাইলে, অপর লোকের সাহায্যে ঘেরাও করিয়া লয়। যে সকল লোক এইরূপে হস্তীযুথকে ঝেষ্টন করিয়া দাড়ায়, তাহাদিগকে “গড়ওয়া” বলে। প্রতি খেদায় পাঞ্জালী সংখ্যা অন্যুন ১৬ জন এবং গড়ওয়া সংখ্যা ৩০০ শত জন হওয়া চাই। প্রথমতঃ এইরূপ বেষ্টন করিয়া, সকলে একসঙ্গে চিৎকার করিয়া উঠে/ ইহাতে হস্তীযুথ ভীত হইয়া, একস্থানে নিঃশব্দে দীড়াইয়া রহে। এই অবকাশে পাঞ্জালীরা কয়েক হাত অন্তর অন্তরে দুই দুই জন লোক পাহারার কার্য্যে রাখিয়া দেয়। দুই জনের একজন, নিকট হইতে বৃক্ষাদি কাটিয়া পাঞ্জালীদের নির্দেশানুসারে হস্তীদের গমন পথের মুখে এক সুবৃহৎ “খোয়াড়” প্রস্তুত করিতে থাকে । যাহারা প্রহরায় থাকে, তাহাদের সম্মুখে অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত রহে। এই খোয়াড়ের বহির্তাগে বৃক্ষের ঠেকান দেওয়া হয়, যেন ভিতর হইতে ঠেলিয়া ধরিলে কোন অনিষ্ট না ঘটে । উক্ত খোয়াড়ের নাম “গড়” । যখন যে স্থানে হস্তীযৃুথকে, ঘেরাও করিয়া, অগ্নি জ্বালিয়া আবদ্ধ রাখা হয়, তাহার নাম “পাতবেড়”। এই পাতবেড়ের মধ্যেই গড় বান্ধা হয়। গড়ের মধ্যে একটি ছড়া থাকা চাই; হস্তীরা আবশ্যক মত তাহার জল পান করিবে । পাতবেড়ের পেছন দিকে অর্থাৎ হস্তী যে দিকে থাকে, সেই দিকে গড়ের মুখ রাখা হয়। মুখ হইতে দুই বিপরীত দিকে দুইটা বাহু বিস্তৃত করা হয়, ইহার নাম “পাইরালা” । গড়ের মুখ আবশ্যক মত বন্ধ করিবার জন্য বড় বড় বৃক্ষ নির্মিত দুয়ার কৌশল ক্রমে রক্ষা করা হয়। পইরালার সম্মুখে (এবং দ্বার দেশেও) শুষ্ক বংশ পত্রাদি রাখিয়া দেয়। এগ্যতীত গড়ের ভিতরে ৭/৮ হাত বিস্তার ও প্রায় দুই হাত গভীর এক পরিখা (খালা) খনন করা হয়। গড় বাধনের কার্য্য শেষ হইলে, যথা নির্দিষ্ট সময় পাতবেড়ের পশ্চাৎ দিক হইতে চিৎকার ধ্বনি, বন্দুকের আওয়াজ ও ঢাকের শব্দে তুমুল কোলাহল করিয়া, হস্তীযুথকে বিতাড়িত করে। হস্তীরা সম্মুখ দিক নিরাপদ ভাবিয়া গড়ের দিকে বিদ্যুৎগতিতে ধাবিত হয়। সমস্ত হস্তী পইরালার সীমায় যাওয়া মাত্রই তাহাদের পশ্চাতে, পূর্ব রক্ষিত শুষ্ক পত্র সমূহে অগ্নিদান করা হয়, অগ্নি দৃষ্ে তাহারা অধিকতর ভীত হইয়া গড়ে প্রবেশ করে । দলের শেষ হস্তীটি দুয়ারের সীমা পার হওয়া মাত্র, সুকৌশলে রক্ষিত কপাট বা বৃক্ষ সমূহ দ্বারা পথ বন্ধ করিয়া দেওয়া হয় ও এই স্থানেও শু পত্র রক্ষিত থাকিলে তাহাতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। সাধারণতঃ হস্তীরা পশ্াৎদিকে দৃষ্টি না করিয়া পলায়ন জন্য সম্মুখে ধাবিত হয়, কিন্তু একটু অগ্রসর হইয়াই শুষ্ক পরিখা দৃষ্টে তীত ও পশ্চাৎপদ হয়। কোন কোন দুরন্ত হস্তী পরিখা পার হইয়া, গড় ঠেলিয়া ফেলিয়া বাহির হইতে চেষ্টা পায়; কিন্তু গড়ের বহির্ভাগ হইতে ঠেকান থাকায় ও বাহিরের লোক বল্লম দ্বারা আঘাত করায় হস্তীকে নিরুদ্যম হইতে হয়। ইহাকে “গড়দাখিল” করা বলে। খেদার পক্ষে এই সময়টাই মূল্যবান ও বিপদজনক । খেদার লোকদিগকে এই সময় অতি ক্ষিপ্রকারিতার সহিত কার্ধ্য সম্পাদন করিতে হয় । গড়ের দুয়ার বন্ধকরণ, শুষ্ক পত্রে অগ্নিদান ইত্যাদি নিমেষ মধ্যে সমাধা করিতে হয়। হস্তী সমূহ গড়ে আবদ্ধ হইলে, সম্ভবতঃ যত সত্বুর পারা যায়, এক একটি শিক্ষিতা পোষা কুন্কী সুবিধা মত গড়ে প্রবেশ করাইয়া, তৎসহায়তায় বন্য হস্তী বন্ধন করিয়া ৬৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ ফেলা হয়। ইহারই নাম হাতী খেদা। খেদাইয়া অর্থাৎ বিতাড়িত করিয়া হাতীকে আবদ্ধ করা হয় বলিয়া, ইহা খেদা নামে কথিত হয় । খেদায় প্রায় সমস্ত দলকেই এক সঙ্গে আবদ্ধ করা যায়। ফাস শিকার কিন্তু ফাস শিকারে প্রতিবারে একটি হাতীর অধিক ধরা যায় না। যখন কোন কারণ বশতঃ অথবা আহারাধ্েষণে একাকী একটি কুন্কী হাতী বিচরণ করিতে দেখা যায়, তখন মাহুতগণ দুইটি শিক্ষিত পোষা কুন্কী লইয়া তাহার নিকট গমন করে। পোষা হস্তিণীদের দেহলগ্র একগাছি রজ্জুর এক পার্থে ফাদ আটা থাকে । পোষা হস্তিণী বন্যটির নিকটবর্তী হইয়া শুপ্ুদ্বারা নিমেষে তাহার মাথায় ফাসটি তুলিয়া দেয়। বন্য হস্তী স্বভাবসিদ্ধ অভ্যাস বশে তখন শুণুটি গুটাইয়া লয়, তাহাতে তাহার গলদেশে ফাস লাগিয়া যায়। দ্বিতীয় হস্তিণীটিও তৎক্ষণাৎ নিজ দেহলগ্ন ফাস বন্যটির গলায় তুলিয়া দিয়া, উভয়ে পেছন ফিরিয়া দুই পার্থ হইতে টানিতে থাকে, উভয়ের টানাটানিতে বন্য হস্তী পরিশ্রান্ত ও “কাবু” হইয়া পড়িলে, মাহুত তাহার পশ্চান্দিকের পদে রজ্জু লগ্ন করিয়া বৃক্ষে বাধিয়া ফেলে । ফাঁস শিকারে এক উদ্যমে 8/৫টি হাতীর অধিক ধরা হয় না। মূলাগোল প্রভৃতি স্থানে ফাস শিকার করা হয়। ফাস শিকারে মাক্না কি গুপ্তা হাতী ধরা অতি বিপদজনক । পরতালা শিকার যুথত্রষ্ট মাক্না কি গুণ্ডা হাতী ধরিবার উপায় পরতালা যখন ইহার মদমত্ত হয়, তখন মাহুতগণ চারিটি কুন্কী তাহার কাছে লইয়া যায়। হস্তিণী দেখিলেই মদমন্ত হস্তী তাহার কাছে আসে, হস্তিণীগণ তখন তাহার মুখের দিকে পাছা রাখিয়া দাড়ার, প্রাণান্তেও সম্মুখে যায় না; গেলে জীবন রক্ষা কঠিন হইয়া পড়ে। একটি হস্তিণী সবর্ব পশ্চাৎ থাকে, তাহার উপরে উঠিবার জন্য রজ্জু নি্মিত সিঁড়ি রহে। মাহুত অতি সতর্ক ভাবে বন্য হস্তীর পায়ে রজ্জু বাধিয়া এই সিঁড়ির সাহায্যে হাতীর উপরে উঠিয়া যায়। এই সময়ে হস্তিনীগণ শুণড দ্বারা স্পর্শাদি করিয়া মদমন্ত হস্তীকে ভুলাইয়া রাখে। শ্রীহট্টে পরতালা শিকারের প্রথা প্রচলিত নাই, খেদা করিয়াই প্রধানতঃ হাতী ধরা হয়। অন্যান্য জন্তু হস্তী ব্যতীত শ্রীহট্রের জঙ্গলে বড় বাঘ (7২০91 120), চিতা বাঘ (1,০01), খুপিবাঘ (/০1 প্রভৃতি হিংস্র জন্তু প্রায়ই পাওয়া যায়। দূরবন্তীঁ জঙ্গলে গপ্ডার ও কৃষ্ণভলুক আছে। পূর্বে শ্রীহট্ট জিলার দক্ষিণাংশে গণ্ডারের পাল বিচরণ করিত, বর্তমানে লঙ্গাই ও শিংলা উজানের দূরবর্তী জঙগলেই হস্তীযৃথের ন্যায়, তাহাদিগকে পালে পালে ভ্রমণ করিতে দেখা যায়। প্রায় চল্লিশবর্ষ পৃরের্ব জঙ্গল সন্নিহিত পল্লীতে বন্য মহিষের উপদ্রব ছিল, লোকে বন্য মহিষ শিকার করিয়া আত্মরক্ষা করিত; কিন্তু এখন আর বন্য মহিষের নাম শুনা যায় না। দুর্গম পাহাড়ে এখনও মহিষ প্রাপ্ত হওয়া যায়। মেট্না নামধেয় বন্যগো শ্রীহট্টের জঙ্গলে আছে। কুকি জাতি উহা পোষিয়া থাকে। জয়ন্তীয়ার জঙ্গলে গবয় (বন গরু) আছে। ষষ্ঠ অধ্যায় : ইতর প্রাণী শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ৬৯ হরিণের মধ্যে “শিঙ্গাল” ও “খাটলী বা আমড়াখাউরী”" নামক দুই জাতি হরিণই সচরাচর ৃষ্ট হয়। শিঙ্গালের বৃহৎ শৃঙ্গ হয় ও ইহারা আকারে গরুর মত বৃহৎ। খাট্লীর আকার ছাগলেরই মত, লোহিত ও কৃষ্ণতেদে ইহারা দুই প্রকার । জঙ্গল সন্নিহিত গ্রামাদিতে বন্য শুকরের উৎপাত আছে; তত্তৎ স্থানে লোকে পাহারা দিয়া শস্যাদি রক্ষা করে। এতদ্যতীত লজ্জাবতী বিড়াল, বনবিড়াল, কাষ্ঠবিড়াল, উদবিড়াল, দ্রতধাবণশীল “বাড়ল” নামক বিড়াল জাতীয় জন্তু, শজারু, শশক, শৃগাল, বন্যরোহিত, নরুল (লেউল) প্রভৃতি ববৎ জন্তু আছে। শিকারী “শিকারী” নামক এক অদ্ভুত জন্তুর নাম শ্রীহট্ট জিলার পূর্বাঞ্চলে শুনা যায়। ইহাদের আকৃতি কুকুরের মত, বর্ণ লোহিত এবং লেজ প্রায় দুই হাত পরিমিত হয়। ইহারা বৃক্ষারোহণে সক্ষম। ইহাদের প্রস্রাব এরূপ তেজক্কর যে, কোন প্রাণীর চক্ষে কণামাত্র পতিত হইলে; তৎক্ষণাৎ চক্ষু নষ্ট হইয়া যায়। ইহারা মাংসাসী এবং দলবদ্ধ হইয়া বিচরণ করে । বন্য শুকরের পাল প্রভৃতি দেখিতে পাইলে ইহারা বৃক্ষারোহণপূবর্বক তাহাদের চক্ষে প্রস্রাব ত্যাগ করিয়া থাকে ও কয়েকটিতে মিলিয়া অন্ধ পশুকে পশ্চাৎ বধ করতঃ ভক্ষণ করে। শ্রীহট্টরের জঙ্গলে বিবিধ জাতীয় বানর আছে। তন্মধ্যে “হনুমান” জাতীয়েরা সবর্বাপেক্ষা বৃহৎ, ইহাদের মুখমণ্ডল মশীকৃষ্ণ এবং শব্দ গভীর। ইহাদিগকে সাধারণতঃ হুন্ুক বলে। দ্বিতীয় লাঙ্গুলবিহীন বানর, ইহারা কৃষ্ণকায়, আকৃতিও নিতান্ত ছোট নহে। তৃতীয় দীর্ঘ লাঙ্গুল বানর, ইহাদের বর্ণ অল্প শ্বেতাভ ও লাঙ্গুল দীর্ঘ এবং কপাল রেখাবিশিষ্ট ৷ এই জাতীয় বানর লোকালয়েও আসিয়া থাকে। চতুর্থ মর্কট জাতীয় ক্ষুদ্রাকার বানর সাধারণতঃ লোকালয় সন্নিধানে বাস করে। শ্ীহন্ট্রের জঙ্গলে বনমানুষও মধ্যে মধ্যে দৃষ্ট হয়। পালিত পশু পালিত পশুর মধ্যে হস্তী, অশ্ব, কাকা মূর্জনা নাহল গো, মেষ, ছাগল, কুক্কুর, বিড়ালই প্রধান । শ্রীহট্টে গোজাতির অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হইতেছে। গোচারণের ভূমির অভাব এবং বংশ বৃদ্ধির জন্য পৃথক ষাড় রক্ষা বিষয়ে অবহেলাই ইহার কারণ বলিয়া অনুমিত হয়। গো-রক্ষা বিষয়ে সকলেরই মনোযোগ আকৃষ্ট হওয়া কর্তব্য । বংশরক্ষাকল্লে বিশেষ ষাঁড় রক্ষা না করাই গো-কুলের অবনতির মূল কারণ বলিয়া গবর্ণমেন্ট অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়াছেন ।২ ২. ৮0110080010 91 99110011015 ১0100 01 0110 50151 01 11101110110., 010 010 01100151700, 11011 5101০, 0100 1101 01110016111) 010956 ০ 01101101গো) 15 [910 101000110, 0০৬/5, 01115 0116 050010158 11701 16[010071011৬6 [0৬615 81 0110 9111051 [05511010 110115110, 0110 0০011111006 (0 00 5০ ৬/101)0011 1111011101১5101), 1100 19010116501 000 0911 0০ 0011) 01096 10110010115 21101 110) 80001101)1 15 0৬০11719015 00) 311001 21) 11111)-0017801]1 11) 500010. -/১9521]) [)01507101 0020110015 ৬01. 11 (৩১11101) 001. 1৬. 0,132. গোজাতির অবনতির মূল কোথায়; উদ্ধৃত বিবরণে তাহা ব্যক্ত আছে, এ বিষয়ে সমভাবে অবহেলা অনুষ্ঠিত হইলে গো-কুল যে নি প্রায় না হইবে, তাহা বলা যাইতে পারে না। ষষ্ঠ অধ্যায় : ইতর প্রাণী শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ৭১ পক্ষী শ্রীহট্র জিলায় নানাজাতীয় পক্ষী দেখিতে পাওয়া যায়। মনুষ্য ভাষা অনুকারী পক্ষীর মধ্যে, শ্রীহট্ট জিলায় ময়না, তোতা (শুক), ও শারি (শালিক) প্রভৃতি প্রধান। ময়নার কথা ধীর, গন্তীর ও স্পষ্ট | ময়নার মধ্যে “সোণাকাণি” অর্থাৎ স্বর্ণকর্ণবিশিষ্ট ময়নাই শ্রেষ্ঠ । বিঙ্গরাজ (বিহঙ্গরাজ) নামক বিখ্যাত পক্ষী শ্রীহট্টেই প্রাপ্ত হওয়া যায়। আইন-ই-আকবরি প্রভৃতি গ্রন্থে শ্রীহ্রের বিহঙ্গরাজ পক্ষীর সুখ্যাতি লিখিত আছে। ইহারা কৃষ্ণবর্ণ এবং দীর্ঘ লাঙ্গুলবিশিষ্ট ৷ ইহাদের বর্ণ বৈচিত্র না থাকিলেও স্বর বৈচিত্রের জন্য তাহারা বিখ্যাত। যখন ইহাদের সুমিষ্ট স্বর লহরীতে কানন প্রতিধ্বনিতে হইতে থাকে, তখন প্রাণীমাত্রই মুগ্ধ হইয়া থাকে। ইহারা বিবিধ জন্তুর স্বর অবিকল অনুকরণ করিতে পারে বলিয়াই “হরবোলা” নামেও আখ্যাত হয়। ইহাদের মিষ্ট স্বরে আকৃষ্ট হইয়া, অন্যান্য বন্য পক্ষীরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইহাদের সঙ্গে থাকে: এই জন্যই ইহাদিগকে “বিহঙ্গরাজ” বলা হয়। ইহারা মাংসাসী পক্ষী; ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিবিধ পক্ষী ইহাদের সঙ্গে সঙ্গে ফিরাতে, তাহাদের আহারের অভাব হয় না; আবশ্যক হইলে অপর পক্ষী ধরিয়া, তাহার মাংস ভক্ষণ করে। শেরগঞ্জ নামক পক্ষীর বিষয়ও আইন-ই-আকবরি ও রিয়াজ-উস্-সালাতিন প্রভৃতি গ্রন্থে পাওয়া যায় । শেরগঞ্জ নীলবর্ণবিশিষ্ট এবং দেখিতে সুন্দর, ইহাদের স্বরও সুমিষ্ট | বিহঙ্গরাজ ও শেরগঞ্জ শ্রীহস্ট্রের ভিন্ন ভিন্ন স্থানের জঙ্গলে দেখিতে পাওয়া যায়। সুমিষ্ট স্বরবিশিষ্ট শ্যামা, দৈয়েল, ক্ষুদ্রকায় তৃতিয়া প্রভৃতি আরও অনেক পক্ষী আছে। এ সকল পক্ষীই সযত্বে লোকে পোষিয়া থাকে এবং বাজারেও বিক্রয় হয়। কোকিল. বউ-কথা-ক (কীঠাল পাখী), হল্‌্দে পাখী, কাঠঠোকরা, মেছোয়ারাঙ্গা (মৎস্যরঙ্গ), প্রভৃতি পক্ষী সর্বত্রই দৃষ্ট হয়। পালক ব্যবসায়ীরা মেছোয়া রাখাল শিকার করিয়া লইয়া যায়। এই সকল পাখী বন্য হইলেও কখন কখন লোকালয়েও আসিয়া থাকে । পাহাড়ে “ধনেশ্বর” নামক এক প্রকার পক্ষী পাওয়া যায়। ইহার আকৃতি বৃহৎ কাকের মত. কিন্তু ঠোটটা শরীর হইতেও বড়, এজন্য দেখিতে কদাকার । ইহাদের দেহে চবির্বর পরিমাণ অত্যধিক থাকায় রৌদ্রে বাহির হইতে পারে না। লোকে আগ্রহ সহকারে ধনেশ্বর শিকার করিয়া ইহার তৈল সংগ্রহ করে। সুতিকারোগে ইহার তৈল অতি উপকারী। ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ভেদে ধনেশ্বর দ্বিবিধ। ঘুঘু ঢগী) কয়েক জাতীয়ই দৃষ্ট হয়। “ঘুড়মাকড়” নামীয় বৃহৎ জাতীয় ঘৃঘু লোকে আগ্রহ সহকারে শিকার করতঃ তাহার মাংস উপাদেয় বোধে ভক্ষণ করে। “মধুরা” নামে এক প্রকার পক্ষী পাহাড়ে থাকে, ইহাদের আকার বন্য কুকুট তুল্য কিন্তু শব্দ ঠিক ব্যাঘ গর্জনবৎ। ইহাদের শব্দে কখন কখন পার্বত্য প্রদেশের পথিককে বিত্রস্ত হইতে হয়। নয়ুরাকৃতি “পরকদন্ব” পক্ষী তিতর ও বন্য কুকুট প্রায় সর্বত্রই আছে। চিল, বলহা প্রভৃতি বৃহৎ মৎস্যাসী পক্ষী ও বুলবুল, বাবুই, খ্জন প্রভৃতি ক্ষুদ্র পক্ষী এবং বিবিধ প্রকার বন্য পক্ষী সর্ববব্রই দেখা যায়। জলচর পক্ষীর মধ্যে রাজহংস, পাতিহাস, সরালি (হংসবিশেষ), বিবিধ জাতীয় বক, ডাউক (দ্যাতুহ) প্রভৃতি বিস্তৃত হাওরে প্রায়ই দেখিতে পাওয়া যায়। গ্রাম্য পক্ষীর মধ্যে কাক, চড়ই, শালিক প্রভৃতি প্রধান। জলালী কবৃতরকেও এই শ্রেণীর মধ্যে গণ্য করা যাইতে পারে। জলালী কবুতর পৃর্র্বে এদেশে ছিল না। দিন্নীনগরে পীর ৭২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ নেজামউদ্দীন, শাহজালালকে এক জোড়া কাজলা (নীল) রঙ্গের কপোত উপহার দেন। শাহজালাল এই জোড়া কবৃতর সহ শ্রীহট্রে আগমন করেন, ইহাদেরই বংশধর জলালী কবুতর নামে খ্যাত । ইহাদিগকে হিন্দু মোসলমান কেহই হিংসা করে না। পালিত পক্ষীর মধ্যে-_রাজহংস, পাতিহাস, কবুতর ও কুকুটই দৃষ্ট হয়। ময়না, তোতা, প্রভৃতি বন্য পক্ষী পোষ মানিলেও পিঞ্জরাবদ্ধ ভাবে রাখিতে হয়। মৎস্যাদি মৎস্যের মধ্যে রউ (রোহিত), বাউ (কাতলা), চিতল, বোয়াল, ঘাঘট, শউল প্রভৃতি প্রধান ও সর্ব্বত্রই প্রচুর পরিমাণে প্রান্ত পাওয়া যায়। পার্বত্য নদীর জঙ্গলাংশে মহাশউল ও পালান নামে দুই জাতীয় মৎস্য মিলে। মহাশউলের আকার দীর্ঘাকৃতি রোহিতের ন্যায়, এবং খাইতে সুস্বাদু ও মৃদু (মোলায়েম); আসামের শিক্ষাবিভাগের ডিরেক্টর উইলসন সাহেব, লাউড়ের পণাতীর্থে এক সময় একটা মহাশউল ধৃত করেন, উহা ওজনে একমণ পয়ত্রিশ সের হইয়াছিল। শউল জাতীয় পীপলা নামক মস্যও পাহাড়ের নদীতে পাওয়া যায়। সুরমা, কুশিয়ারা, বিবিয়ানা, ধলেশ্বরী প্রভৃতি নদীতে প্রতি বৎসর অনেক ইলিশ মৎস্য ধৃত হয়। তদ্তীত ঘনিয়া, গজার, শউল, কানলা, পাবিয়া, বাচা, বাইন, মাগুর, কই, চেঙ্গ, চিংড়ি (ইচা), রাণী, টেংরা, পুটি প্রভৃতি বহু প্রকার মৎস্য পাওয়া যায়। ঘাঘট জাতীয় “বাঘমাছ” আকারে অতি বৃহৎ হইয়া থাকে । আট জনের কম লোকে বহন করিয়া নিতে পারে না, এরূপ বৃহৎ আকারের বাঘমাছও ধৃত হয়। বাঘমাছ, গজার, নানিন্দ ও শিল্গী প্রভৃতি মৎস্য হিন্দুগণ আহার করেন না। সুনামগঞ্জ সবডিভিশনেই প্রতি বৎসর সর্র্বপেক্ষা অধিক মৎস্য ধৃত হয়। মৎস্য ব্যতীত প্রতিবর্ষে অনেক কচ্ছপ ও কমট ধৃত হইয়া থাকে। “বাঙ্কা” নামীয় কচ্ছপের আদর অধিক। মোসলমানগণ কচ্ছপ ম্পর্শও করে না। সব সময় অনেক বৃহৎ মৎস্যের সংবাদ শুনা যায়। ১৯০৩ খৃষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে ইনায়েতগঞ্জের নিকট কাতিয়া গ্রামে ১৩/১৪ বৎসরের একটি বালক হাওরের জলে ডুব দিয়া ঘাস কাটিয়া ভাসাইয়া দিতেছিল; তদবস্থায় এক বৃহৎ বোয়ালমাছ বালকের মস্তক হইতে কটি পর্য্যন্ত গ্রাস করিয়াছিল; পরদিন উভয়েরই মৃত্যুদেহ ভাসিয়া উঠিয়াছিল। সর্পের মধ্যে কৃষ্ণসর্প বা আলদ (ত্রিপুরায় পানক সর্প) অতি তয়ঙ্কর। ইহাদেরই ফণের উপর গোক্ষুরের চিহ্্‌ দৃষ্ট হয়। দাড়াইস, বেকাত্রিশ ও শীখানি প্রভৃতি অনেক জাতীয় বিষাক্ত সর্প আছে। বুড়া সাপও অনেক রূপ আছে। পাহাড়ে ওলোবুড়া নামক অজগর জাতীয় সুবৃৎ সর্পও পাওয়া যায়। অজগরেরা হরিণ ও শূকর প্রভৃতি অনায়াসে গিলিয়া ফেলে। বিবিয়ানা ও ধনেশ্বরীতে ঘড়িয়াল ও কুন্তীর মধ্যে মধ্যে দেখা যায়। নদী ও হাওর হইতে বহু উদবিড়াল (উদ) ধৃত করিয়া গড়োয়ালেরা অনেক চর্ম কলিকাতায় চালান দেয় এবং প্রতি বৎসর বহু অর্থ উপার্জন করে। সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৭৩ সপ্তম অধ্যায় অধিবাসী শ্রীহত্ট্রের অধিবাসীর মধ্যে হিন্দু, মোসলমান, ব্রান্ম, খৃষ্টান, দৈত্য উপাসক প্রভৃতি নানা ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি আছে। কয়েক সম্প্রদায় পার্বত্য জাতি ভিন্ন সকলই বাঙ্গালী জাতি। নিম্নে প্রধান জাতি সমূহের সংক্ষেপ পরিচয় লিপিবদ্ধ হইল । কোন জাতীয় লোক কিরূপ সম্মান'ভাজন এবং তাহাদের সামাজিক অবস্থার বিষয় তৃতীয়ভাগে সামাজিক বিবরণে পশ্চাৎ বিবৃত হইবে, এই স্থানে তত্তাবৎ লিখিত হইল না। এ অধ্যায়ে বিভিন্ন জাতিদের যে জনসংখ্যা লিখিত হইল, তাহা ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনানুসারে প্রাপ্ত, বুঝিতে হইবে। কামার--কামার নবশায়ক জাতির অন্তর্গত। লৌহ দ্রব্য প্রস্তুত করা ইহাদের ব্যবসায়, ইদানীং অনেকে স্বর্ণ রৌপ্যের ব্যবসায়ও করিয়া থাকে শ্রীহন্টে ইহাদের সংখ্যা ৯৪৯৫ জন হয়, (তন্মধ্যে পুং ৪৯৯১ এবং স্ত্রী ৪৫০৪ জন।) ছোট নাগপুরাদি অঞ্চলে ইহারা লোহার নামে পরিচিত, গত গণনা কালে ২০০৩ জন লোহার নামে পরিচয় দেয়। লোহারদের অধিকাংশই চা বাগানের কুলির কার্যে আমদানী কৃত। কায়স্থ-_কায়স্থ জাতি প্রাচীন ক্ষত্রিয় জাতি হইতে অভিন্ন । কায়স্থ জাতি অতি সম্মাননীয়। লিপি বিদ্যাই তীহাদের প্রধান ব্যবসায়। শ্রীহন্্রে বৈদ্য ও কায়স্থের মধ্যে বিবাহাদি প্রচলিত আছে ।১ শ্রীহন্রে কায়স্থ অধিবাসীর সংখ্যা ৬৩৮৮৩ জন । (তনুধ্যে পুং ৩২৬৭৬ এবং স্ত্রী ৩১২০৭ জন 1) কাহার_ রা জন। (তন্মধ্যে পুং ১১৫৫ এবং স্ত্রী ১১৫২ জন।) এই সংখ্যা মধ্যে চা বাগানের কুলির সংখ্যা কতক সামিল হইয়াছে । কুমার- ইহারাও নবশায়ক শ্রেণী ভুক্ত “গোপ তিলীচ মালীচ মন্ত্রীমোদক বারূজী | কুলালঃ কর্ম্মকারশ্চ নাপিতো নবশায়কাঃ1” ইহাদের মধ্যে কুলালই কুমার নামে কথিত । সংখ্যা ১২২৭৮ জন; (তন্মধ্যে পুং ৬১৮৫ এবং স্ত্রী ৬০৯৩ জন ।) কুশিয়ারী_ ইহারা “রা” নামেও কথিত হয়। ইহারা ইক্ষু অর্থাৎ কুশিয়ারের চাষ করিয়া থাকে বলিয়াই ইহাদের এই নাম হইয়াছে । এই জাতীয় লোক বঙ্গের অন্য কোন জিলায় নাই। ইহাদের আকার প্রকার দৃষ্টে অনুমিত হইয়াছে যে, পুবের্ব ইহারা কোন পার্বত্য জাতির শাখা বিশেষ ছিল।২ ইহারা বলবান, সাহসী ও অত্যন্ত পরিশ্রমী । বর্ণ সাধারণতঃ কৃষ্ণ। ইহাদের জল অচল ছিল, সম্প্রতি চল হইতেছে। ইহাদের সংখ্যা ১৩৯০ জন; (তন্মধ্যে পুং ৫৯৫ এবং স্ত্রী ৬০৫ জন ।) শ্রীহস্ট্রের জলড়ুব গ্রামেই ইহাদের বাস অধিক; তাহাদের ব্রাহ্মণগণই জলডুবের অন্যতম ৯ শি সী সাত ্ পসস সসপ সসস ১. এস্থানে সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা ১৪শ খণ্ড ১ম সংখ্যা ২৪ পৃষ্ঠা দেখিতে পারেন। নগেন্দ্রবাবু বলেন, সর্ব্বপ্রই পৃৰের্ব বৈদ্য কায়স্তে যৌন সম্বন্ধ ছিল। ২. ৮1006 100১19115 716 0 09১1৩ 11010100519 3১11101. 10017 ০০711010810 11 80701911) 01811, 0110 1108) থা ৯010019১১০৫ 16190 005001100 (0]া। 90110 11111 111 ৭৪ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ জমিদার । কুশিয়ার, ভুবি, কাঠাল ও আনারসের চাষ ও বিক্রয়ই ইহাদের প্রধান ব্যবসায়। কেওয়ালী বা কপালী--প্রবাদানুসারে ব্রাহ্মণের দ্বারা শদ্রার গর্তে ইহাদের উৎপত্তি, এবং ক্রিয়াহীনতায় পতিত । ইহাদের জল চল নহে, এবং ব্যবসায় বন্ত্র বয়নই ছিল, এখন পরিত্যক্ত হইয়াছে। সংখ্যা ১১২৬ জন; (তনুধ্যে পুং ৫২২ এবং স্ত্রী ৬০৪ জন ।) কৈবর্ত-_মিঃ রিজলী সাহেবের মতে ইহারাই বাঙ্জালার আদি অধিবাসী ৷ ইহারাই জালিক দাস। আসাম প্রভৃতি স্থানে হালিক নামক তাহাদের আর এক শ্রেণী আছে। ক্ষত্রিয় পিতা ও বৈশ্য মাতা হইতে ইহাদের উৎপত্তি ও তীবর সংসর্গে ইহাদের পাতিত্য কথিত হইয়াছে ।৩ শ্রীহন্টরের জালিক কৈবর্ত দাসের সংখ্যা ৪৪৭০১ জন; (তন্মধ্যে পুং ২৩১২৬ এবং স্ত্রী ২১৬১০ জন ।) গণক-গ্রহবিপ্র ও গণক শাস্ত্রে দুই পৃথক জাতি । ভবিষ্য পুরাণের মতে সূর্য্দেবের ওরসে, ব্াহ্মণীর গর্ভে গ্রহ নক্ষত্রাদির তত্বালোচনার জন্য গ্রহ বিপ্রের উত্তব হয়। ইহারাই শাকদ্ীপী বিশুদ্ধ বিপ্র। উক্ত পুরাণের ১৩৯ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণের পুত্র শান্ব ইহাদিগকে শাকদ্বীপ হইতে ভারতবর্ষে আনয়ন করেন । ইহাদের বিশুদ্ধতা ও গৌরব কাহিনী ভবিষ্য পুরাণে বিশেষ ভাবে বর্ণিত আছে। কিন্তু গণক জাতি এই গ্রহবিপ্র হইতে বিভিন্ন । শাকদ্বীপী দেবলের ওঁরসে বৈশ্যার গর্ভে গণকের জন্ম হযয়।& মূলে উভয়ে দুই জাতি হইলেও, উভয় জাতীয় ব্যক্তিগণ “গণক” এই সাধারণ সংজ্ঞার অন্তর্গত হওয়াতে প্রকৃত গণক হইতে শাকন্বীপী গ্রহবিপ্র গণকে প্রভেদ করা কঠিন। এইরূপ নাম মাহাত্যে আরও অনেক জাতির অধঃপতন এ অঞ্চলে পরিদৃষ্ হয়। সমাজে গণকের সম্মান অধিক নহে, ইহাদের জল অচল । শ্রীহস্ট জিলায় সংখ্যা ৫৬১০ জন; (তনুধ্যে পুং ২৮৪৭ জন এবং স্ত্রী ২৭৬৩ জন 1) . গণ্ডপাল বা গাড়ওয়াল-_পূর্রবে ইহারা পার্ধ্বত্য জাতীয় ছিল বলিয়া বিবেচিত হয়।৫ নৌকা রক্ষণ ও নৌকাচালনে ইহারা অদ্ধিতীয়। পূর্বে শ্রীহট্রের পশ্চিমাঞ্চলে জলদস্যু অত্যন্ত ভয় ছিল, তখন গাড়ওয়াল ব্যতীত কেহই নৌকা চালাইতে সাহস করিত দা । ইহাদের সংখ্যা মোটে ৩৩২ জন মাত্র পাওয়া যায়; (তন্মুধ্যে পুং ৮৩ এবং স্ত্রী ২৪৯ জন ।)৬ গন্ধবণিক--প্রাচীন গন্ধবণিক জাতির ব্যবসায় সুগন্ধি দ্রব্যের বিক্রয়। বৈশ্যবর্ণ সম্ভুত বণিকগণ বৃত্তিভেদে পাচ প্রকারঃ-_গন্ধবণিক, শঙ্খবণিক, কাংসবণিক, সুবর্ণবণিক, মণিবণিক ।? এই পঞ্চবণিক মধ্যে গন্ধবণিক শ্রেষ্ঠ ! বল্লালচরিত লেখক আনন্দ ভট্ট বলেন যে, ক্রিয়া লোপ হেতু ইহারা শৃদ্রত্ প্রাপ্ত হইয়াছেন ।৮ ইহাদিগকে সাধারণতঃ “বাণিয়া” বলা হয়। বর্তমানে স্বর্ণালঙ্কার ৩. ক্ক্ষত্র বীর্যোন বৈশ্যায়াং কৈবর্তঃ পরিকীর্তিতঃ। 011] ৩51111-”-1২৩17011 01 111815050৯0 45৩৯1])- কলৌ তীরব সংসর্গাৎ ধীববঃ পতিতো ভুঁবি।” 1901. 701 11129 _ব্রহ্ষবৈবর্ত পুরাণ । ৬. সেপাসেব সময ইহারা বোধ হয় অন্য জিলা বটতলা মুদ্রিত জাতি মালায় লিখিত হইয়াছে- নেৌকাবাহনে নিযুক্ত ছিল; তাই পুং সংখ্যা এত কম “তার কেহ তীবর সঙ্গেতে সঙ্গ করি। হইয়াছে বলিয়া বোধ হয়! কলিতে পতিত হলো মংস্য আদি ধরি ।” ৭. “গান্গিক শাঙ্খিকশ্চৈব কাংশ্/ক মণিকারক। ৪. “শাকদ্বীপাৎ সুপর্ণেন চাণীতো যশ্চদেবল। সুবর্ণ জীবিকশ্চৈব পঞতে বণিঙঃ স্মুতাঃ।” তন্সদ্বগণকোজাতো বৈশ্যায়াং বাদকোহপি চ।” -পরশুরাম সংহিতা । _বৃহদ্র্শ্বপুরাণে উত্তর খন্ডে ৯ম অধ্যাম। ৮. “নিগমশ্ঠ গান্ধিকেন্ড বৈশ্যবর্ণ সমুদ্তব€ । ৫. "011 10150 01 0011 10707113191) 01181) 15 051 শঁশৈঃ শ্দত্মাপনঃ ক্রিয়ালোপাদি হে না ।”*-বল্লাল [0৩9 ৫10 10111001) ৮৮10 010 0101)10504 4৯ বচিত। 01010 011 10001 1005100101 010 11905 001 ৬০৭17 সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৭৫ বিক্রয়াদি ইহাদের ব্যবসায় । ইহারা এখন “নবশায়ক” শ্রেণীর ন্যায় পরিগণিত। সংখ্যা ১০৬৬ জন; (তনাধ্যে পুং ৫৮০ এবং স্ত্রী ৪৮৬ জন।) গোয়ালা- শ্রীহট্রে গোয়ালদের সংখ্যা অতি অধিক নহে; ইহাদের জল চল আছে। সংখ্যা ১৪১২৭ জন। এই সংখ্যা মধ্যে চা বাগানের কুলি সংখ্যাও আছে। চামার- ইহারা অন্ত্যজ জাতি, হিন্দু সমাজের নিম্নস্তরে ইহাদের স্থান । চর্ম প্রস্তুত করতঃ বিক্রয় ও চর্ম্ের কাজই ইহাদের ব্যবসায়! ইহাদের সংখ্যা প্রায় দ্বিসহস্র পাওয়া গেলেও, শ্রীহট্রে চামার অধিবাসীর সংখ্যা অতি অল্প । মুচিগণ পৃথকরূপে গণিত হইলেও, মুচি ও চামার দুই পৃথক জাতি নহে; ইহাদের সংখ্যাও প্রায় পঞ্চ সহস্্। কিন্তু এই সংখ্যার মধ্যে চা বাগানের কুলি সংখ্যাই অধিক । মুচিদের ভিন্ন পুরোহিত নাই । চুণার-_চুণপোড়া ও বিক্রয় ইহাদের ব্যবসায়, শ্রীহট্টে এই জাতীয় লোকের সংখ্যা ২৭০ জন; (তনাধ্যে পুং ১১৬ এবং স্ত্রী ১৫৪ জন।) ঢোলি বা বাদ্যকর--ডোম, পাটনি, বা কৈবর্ত হইতে ইহাদের উদ্ভব বলিয়া অনুমিত হয়।৯ ইহাদের সংখ্যা ১০২৫৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ৪৯৮১ এবং স্ত্রী ৫২৭৪ জন ।) যাহারা বাদ্যকর বলিয়া পরিচয় দিয়াছে, তাহাদের সংখ্যা ১৫২ জন পূর্বোক্ত সংখ্যার মধ্যে ধৃত হইয়াছে। তাতি_তত্তববায়গণ মধ্যে সাধারণতঃ ক্ষীর তাতি আচরণীয়; অন্যান্য নহে। তাতিগণ নবশায়ক শ্রেণীর মধ্যে পরিগণিত হয় | যথা-_ “গোপ তিলিচ মালীচ তন্ত্রীমোদক বারুজী |” এই শ্রোকোক্ত তন্ত্রীই তাতি। শ্রীহট্টে গত লোক গণনার কালে ইহাদের সংখ্যা প্রায় তিন সহঞ্র হয়, এই সংখ্যা মধ্যে অধিকাংশই পশ্চিমাঞ্চলের লোক ও চা বাগানের কুলির কাজে আমদানী কৃত। তেলী--তেলী বা তিলি জাতি নবশায়ক শ্রেণীর অন্তর্গত। কিন্তু শ্রীযুক্ত ধর্মানন্দ মহাভারতী মহাশয় বহুতর শাস্ত্রীয় প্রমাণ যোগে ইহাদিগকে বৈশ্যবর্ণ বলিয়া প্রতিপাদন করিয়াছেন । তৈল প্রস্তুত ও বিক্রয় ইহাদের ব্যবসায়; ইহাদের জল আচরণীয়। সংখ্যা ৩০৩১২ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৫৫২১ এবং স্ত্রী ১৪৭৯১ জন।) দাস-_-দাস জাতীয়েরা বঙ্গের সামরিক জাতি বলিয়া কথিত হয়। ১৮৯১ খৃষ্টাব্দের গণনাকালে শ্রীহট্ট জিলায় ইহারা, হালুয়াদাস বলিয়া জাতীয় পরিচয় লিখাইয়াছিল: কিন্তু গত ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনায় হালুয়াদাস, দাস ও শুদ্রদাস এই তিন নামে জাতীয় পরিচয় দেয়। পূর্ব্বে ইহাদের জল চল ছিল না, এখন তাহাদের জল চল হইয়াছে। শ্রীহট্রে ইহাদের সামাজিক সম্মান কম নহে; নবশায়ক শ্রেণীর উপরে ইহাদের স্থান নির্দেশ করিতে কোন আপত্তি নাই; কিন্তু ইহাদের ব্রাহ্মণদের সম্মান সমাজে নিতান্ত অল্প ।১০ দাস জাতির মধ্যে অনেক শিক্ষিত লোকও আছেন-_তীাহারা সমাজেও বেশ সম্মাননীয় হইয়াছেন! ইহাদের সংখ্যা ১৪৩০৪৩ জন; (তন্ধ্যে পুং ৭২১৮৯ এবং ্ত্রী ৭৩৮৫৪ জন ।) ৯. ৮/১ 17011001001 02310 ৬1010) 1005 0০১১1015 ১110118 10017010100 19917, 000111 07 00100112-7161091% 01) 1100 0০- 515 01 /৬৩৭11. 09. 128. ১০, 11170 100011৩৬100) 10৬0 10001770001 01001150155 10010 001১ 1176 (94০) চে 0010৫ 11010950189] /000101 10 07007 0৬1 0000010001৩ 1005 জাতেট 01181110115 4 81118010000 বিগ101,10059 1014 £100110061 1110110110070৩5 11) 51101, 0010 01109 109৬1 01100) 10 121৮ 0৩৮5 00 1১50) 0010 10) ১৪00 ১ 01010 ৯10 ৬৭1১১ 10 19৩ ৯0001101109 760১0১01755 0006 1101৯ ৩1911]15 01 00140110060 09 00010180727 0091৩৯91111000১ 16 7২০16011011 (1৩ 01501 01 /৬*১০।1-19()1 1. 137 ৭৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ এই সংখ্যার ভিতর দাস পরিচয়ে পুং ৩৬৩৬৪ স্ত্রী ৩৪৩২৪ জন; শুদ্র পরিচয়ে পুং ২২০২০ স্ত্রী ২৩৩২২ জন, এবং হালুয়াদাস পরিচয়ে পুং ১৩৮০৫ স্ত্রী ১৩৫০৮ জন। গত লোক গণনাকালে “শৃদ্রদাস” বলিয়া অনেক ব্যক্তি পুং সংখ্যা ১০৬৩২ এবং স্ত্রী ১০৫৮৮ জন ।) জাতীয় পরিচয় দিয়াছিল, শুদ্রদাসের মধ্যে “ভান্তারি” শ্রেণীর অনেক ব্যক্তি থাকিলেও, অধিকাংশ সংখ্যাই দাস জাতীয় লোকের দ্বারা পূর্ণ হইয়াছিল বলিয়া নিঃসংশয়ে বলা যায়। সেই সংখ্যা যোগ করিলে শ্রীহট্ট জিলায় দাস জাতীয় লোক ১৬৪২৬৩ জন হয়। দাসেরা পরিশ্রমী ও বলবান; চাষ বাসই তাহাদের প্রধান ব্যবসায় । ধোপা বা ধোবি-রজক জাতীয়গণ ধোপা বা ধোবি নামে কথিত হয়। ব্রহ্মবৈবর্ত-পুরাণের মতে ধীবর কন্যার গর্ভে ও ধীবরের ওরসে রজকের উৎপত্তি ।১১ হিন্দুজাতির শুচিত্ব লাভের ইহারা একটি অবলম্বন। বন্ত্র ধৌত করাই ইহাদের ব্যবসায় । শ্রাদ্ধাদিতে ইহাদের সাহায্য ব্যতীত পবিভ্রতা প্রাপ্তির পথ থাকে না। গত সেন্সাসের সময় শ্রীহট্ট জিলায় ধোপা ও ধোবি এই দুই সংজ্ঞায় ইহারা জাতীয় পরিচয় দিয়া থাকিলেও, ইহারা এক জাতি । মোট সংখ্যা ২৩৫০৮; (তনুধ্যে পুং ১১৮৬৯ এবং স্ত্রী ১১৬৩৯ জন ।) এই সংখ্যা মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের লোকও কতক আছে। (নেদীয়াল)১২ ডোম ও পাটনি-_মৎস্য ধরা ও জাল, দাম, চাটি, চাচ ইত্যাদি প্রস্তুত করাই ইহাদের কর্ম্ম। পাটনিরা নৌকার কাজও করিয়া থাকে । রামচন্দ্র জনকভবন গমন কালীন মাধব পাটনির নৌকায় নদী পার হন বলিয়া কথিত আছে । অন্রদামঙ্গলেও ঘাটিয়াল ঈশ্বর পাটনির নাম পাওয়া যায়। পাটনি আধুনিক জাতি নহে । ডোম ও পাটনি মূলতঃ একই জাতি হইলেও পাটনিরা এক্ষণে ডোম বলিয়া পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে । ইহাদের সংখ্যা ৭৩২৪৬ জন; (ওন্ধ্যে পুং ৩৭১৬৮ এবং স্ত্রী ৩৬০৭৮ জন 1) নমঃশুদ্র চগ্তাল)_নমঃশুদ্র ও চণ্তাল একজাতি বলিয়াই খ্যাত। কিন্তু মূলতঃ ইহারা এক জাতীয় ছিল বলিয়া বোধ হয় না। চণ্তালাপেক্ষা নমঃশৃদ্র জাতীয়গণ আচার ব্যবহারে অনেকাংশে উন্নত ছিল বলিয়াই অনুমান করা যায়। বিষ্র্রসংহিতায়-_-“বধ্য ঘাতিত্ং চণগ্ডালানাম” বলিয়া উল্লেখ আছে। অর্থাৎ রাজাজ্ঞায় প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিকে বধ করাই চণ্ডালের কার্য্য ছিল। ব্রাহ্মণীর গর্ভে শৃদ্রের ওরসে চগ্ডালের উৎপত্তি হয় বলিয়াই নিণীতি আছে।১৩ নমঃশুদ্র জাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে ব্রন্মবৈবর্তপুরাণে লিখিত আছে যে, খতুর প্রথম দিবসে ঝষির ওরসে ব্রাহ্মণীর গর্ভে ইহাদের উদ্ভব হয়। কুৎসিত উদরে জাত প্রযুক্ত ইহারা “কুদর” নামে কথিত ।১৪ নমঃশুদ্রগণ সকলেই কাশ্যপ গোত্রীয়; তাহারা কশ্যপ খষির সন্তান বলিয়া প্রকাশ করে। পরাশরসংহিতায় লিখিত আছে যে, খতুর প্রথমবাসরে নারীগণ চণ্ডালীর ন্যায় পরিগণিত হয়।১৫ সুতরাং খতুর প্রথম দিবসে (কুৎসিত বা অপবির্র উদরে) গর্ভোৎপত্তি হওয়ায় সেই ১১. “তীবর্ম্যাং ধীবরাৎ পুত্রো বভূব বজকঃ শ্মৃতঃ।”-ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে । ১২. সেঙ্গাসরিপোর্টে ডোম ও পাটনি জাতিকে নদীয়াল সংজ্ঞায় অভিহিত করায় এ শব্দটি বন্ধনী রাখা গেল। ১৩. “ত্রান্মণ্যাং শূদ্রবীর্যেণ পতিতো জারদোষতঃ। সদ্যে বতব চণ্তাল সর্র্স্যাধমশ্চাশচি।”-পরশুরাম সংহিতা । ১৪. “ব্রাহ্মণ্যাং মৃষিবীর্য্েণ ঝতোঃ প্রথম বাসরে। কুৎসিতশ্চোদরে জাতঃ কদর স্তেন কীর্তিতঃ। তদাশৌচং বিপ্রতুল্যাং পতিত খতু দোষতঃ।”-ব্রহ্মবৈবর্ত প্রাণ । ১৫. “প্রথমেহনি চণ্তালা দ্বিতীয়ে ব্রহ্মঘাতিনী। তৃতীয়ে রজকী প্রোক্তা চতুর্থেনি শুদ্ধযতিয়”-পরাশর সংহিতা । সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহষ্টরের ইতিবৃত্ত ৭৭ গর্ভোসন্ৃত নমঃশূদ্রগণ চণ্ডাল বলিয়া কথিত হইয়া থাকিবে। বন্তৃতঃ ইহারা দুই পৃথক জাতি । সংখ্যা ১৩২৩০৭ জন; ইহারা পরিশ্রমী, কার্য্য তৎপর ও সহিষ্কু জাতি । মৎস্য শিকার এবং নৌকা চালনাদি ইহাদের ব্যবসায় । চণ্তালেরা হীনতম জাতি। নাপিত-- ইহারা নবশায়ক শ্রেণীর অন্তর্গত। শ্রাদ্ধ, বিবাহাদিতে ইহাদের সাহায্য ব্যতীত হিন্দুসমাজ পবিভ্রতা লাভ করিতে পারে না। ভগবতীর ইচ্ছা ক্রমে সৃষ্টির আদিতে ইহাদের উৎপত্তি হয় বলিয়া কথিত আছে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময়ে নাপিতের মোদক বৃত্তি অবলম্বন করার রানা নিিসা রর রাজা রন হয়; (তন্মধ্যে পুং ১০৭৭৫ এবং স্ত্রী ১০৪৪৯ জন ।) ব্াহ্মণ_ ব্রাহ্মণ জাতি ভারতবর্ষে হিন্দুজাতীয় সকলের শীর্ষস্থানীয় ও'নমস্য। শ্রীহট্রে অতি প্রাচীন কালাবধি ব্রাহ্মণগণের অবস্থিতির প্রমাণ থাকিলেও, খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে সম্মানিত সাম্প্রদায়িক বিপ্রগণ আগমন করেন; ইহাদের আগমনের সহিত শ্রীহট্রে মৈথিল বাচস্পতি মিশরের মত বিশেষ রূপে প্রচলিত হয়। সাম্প্রদায়িক গণের পরে, পশ্চিম দেশ হইতে আরও বহুতর উচ্চ শ্রেণীর ব্রাহ্মণ এদেশে আগমন করেন। অবস্থাভেদে গুরূতা, জমিদারী ও পৌরোহিত্যই ইহাদের জীবনোপায়ের প্রধান পন্থা। অনেকে সরকারী চাকরীও করিয়া থাকেন। ব্রাহ্মণেরা হিন্দু সমাজের ব্যবস্থাপক, শাসক ও সমাজ পরিচালক । ইহাদের উন্নতি অবনতির উপরে হিন্দুসমাজের শুভাশুভ সম্পূর্ণ নির্ভর করে। পূর্বে হিন্দুসমাজ ব্রাহ্মণ সমাজের পোষণ জন্য তীব্র দৃষ্টি রাখিত, এবং সাক্ষাতভাবে তাহার শুভফল প্রাপ্ত হইতে; এখন সময়ের গতিতে সকলই পরিবর্তিত হইয়াছে। সদব্রাহ্মণের সংখ্যা শ্রীহস্রে ৩৯৭৬১ জন; (তন্মধ্যে পুং ২১২৬৯ এবং স্ত্রী ১৮৪৯২ জন ।)১৬ ব্রাহ্মণ (বর্ণয)-_-যে সকল জাতির জল সমাজের চল নহে, তাহাদের পৌরোহিত্য করিয়া যে ্রাহ্মণেরা স্বসমাজ পরিত্যক্ত হইয়াছেন, তাহারাই “বর্ণ ব্রাহ্মণ” নামে আখ্যাত হইয়াছেন। বর্ণ ব্রাহ্মণের সংখ্যা ২৪০০ জন; (তনুধ্যে পুং ১২৬০ এবং স্ত্রী ১১৪০ জন।) ভাট বা ভ্টকবি--কবিতা রচনা ও কবিতা গানই ইহাদের ব্যবসায় । ইহারা উপবীত ধারণ করে ও ক্ষত্রিয় জাতীয় বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকে । শ্রীহট্টে ইহাদের সামাজিক সম্মান কম নহে। ইহাদের সংখ্যা ৭৭৮ জন; (তনুধ্যে পুং ৩৩২ এবং স্ত্রী ৪৪৬ জন |) ভূঁইমালী--পাল্কী আদি বহন ও মাটী খনন প্রভৃতি কার্ধ্য ইহাদের জাতিগত ব্যবসায়। ঠা জিনা হাড়ি আরা মারার বিডির ছার ও সুযারীযা এরা রাড হলের হাড়ি আখ্যা ধারণ করিতে অনেকেই লজ্জা বোধ করে । গত সেন্সাসে শ্রীহট্টে ১৭৪৯ ব্যক্তি হাড়ি বলিয়া আত্মপরিচয় দিয়াছিল। এই জাতীয়ের মোট সংখ্যা ৪১১৮৪ জন; (তনাধ্যে পুং ২০৫৬৪ এবং স্ত্রী ২০৬২০ জন ।) ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে লেট জাতির ওঁরসে চণ্তালিণীর গর্ভে হাড়ি জাতির উৎপত্তি হয়। কিন্তু ভুইমালী বলিয়া প্রাচীন গ্রস্থাদিতে কোন জাতির উল্লেখ পাওয়া যায় না। ময়রা--মোদক বা ময়রাদের ব্যবসায় সন্দেশাদি মিষ্টান্ন প্রস্তুত ও বিক্রয়। ইহারা নবশায়ক শ্রেণীর অন্তর্গত শুদ্ধ জাতি বলিয়া বিবেচিত হইয়া থাকে । সংখ্যা ৮৫২ জন; (তনুধ্যে পুং ৪৩৪ জন এবং স্ত্রী ৪১৮ জন) মাহারা--পাল্কী বহন ইহাদের কার্য্য। সম্প্রতি চাষ আবাদ করিতেছে । ইটার রাজা সুবিদ নারায়ণ এই জাতির সৃষ্টিকর্তা বলিয়া কথিত আছে। ইহাদের জল চল না হইলেও হ্কা চল আছে। (অন্যান্য জিলায় কাহার জাতীয়গণ অনেকাংশে মাহারাদের তুল্য ।) সংখ্যা ৩৪৮১ জন; ১৬. শ্রীহ্টরে ব্রাহ্মণ সংখ্যা ইহার অনেক অধিক সন্দেহ নাই । সেন্সাসে অনেক ভুল আছে। ৭৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ তেনধ্যে পুং ১৪৪৮ এবং স্ত্রী ২০২৩ জন 1) মালো-_ইহারা মৎস্যজীবী জাতি । হিন্দু সমাজে কৈবর্তের পরেই ইহাদের স্থান নির্দেশ করা যাইতে পারে 1১৭ শ্রীহস্ট জিলায় ইহাদের সংখ্যা ১৫৯৮২ প্রাপ্ত হওয়া গেলেও, ইহার মধ্যে প্রকৃত শ্রীহট্টবাসীর সংখ্যা অতি সামান্য । পূর্বোক্ত সংখ্যার অধিকাংশই চা বাগানের কুলিদের প্রাপ্য। যুগী-_গঙ্গাপুত্র কন্যার গর্ভে বেশধারীরপুত্র রূপে যুগী জাতির উৎপত্তি হয়।১৮ বল্লাল চরিত লেখক গোপালভট্ট বলেন যে, রাজকোপে ও আচার ভ্রষ্টতা হেতু ইহারা অনাচরণীয় হইয়াছে । যুগীগণ আপনাদের আদি পুরুষের নাম গোরক্ষনাথ বলিয়া উল্লেখ করে, এবং নিজেরা “নাথ” উপাধি ধারণ করে।১৯ তাহারা যোগীর সন্তান বলিয়া, মৃত্যু হইলে সম্নযাসীর ন্যায় দেহ সমাহিত করে। ইহাদের পুরোহিত নাই, স্বজাতির মধ্যে কোন শিক্ষিত ব্যক্তি যক্ঞসূত্রে ধারণ করতঃ পৌরোহিত্য কার্ধ্য করিয়া থাকে; ইহারা মোহন্ত নামে পরিচয় দেয়। বন্ত্রবয়ন ইহাদের ব্যবসায়, অধুনা অনেকেই চাষ আবাদ করিয়া থাকে । সংখ্যা ৭৮৯১৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ৩৯৬১৩ এবং স্ত্রী ৩৯৩০২ জন ।) লোহাইত কুরী--মেঘনা তীরবর্তী লোহাইতেরা মৎস্য ধৃত ও বিক্রয় করতঃ জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। শ্রীহট্টরবাসী লোহাইত কুরীগণ ধান্য সিদ্ধ দিয়া উষ্ণা তুল প্রস্তুত করতঃ তাহার ব্যবসায় করে। ইহাদের প্রস্তুত খৈ প্রসিদ্ধ । সংখ্যা ৩৯৮; (তন্মধ্যে পুং ২২৩ এবং স্ত্রী ১৭৫ জন।) বারই--বারূজীগণ বর প্রস্তুত করতঃ পাণের ব্যবসায় করে বলিয়া “বরজ” বা বারই নামে কথিত হয়। বারূজীগণ নবশায়ক শ্রেণীর অন্তর্গত । ইহাদের মধ্যে দ্র, মিত্র, দত্ত, নন্দী, দেব প্রভৃতি উপাধির প্রচলন দৃষ্টে কেহ কেহ কায়স্থ হইতেই ইহাদের উদ্ভব অনুমান করেন। আবার কেহ কেহ ইহা দিগকে বৈশ্য বর্ণ বলিয়া প্রতিপাদন করিয়াছেন । শিক্ষিত বারূজীগণ মধ্যে (পশ্চিম বক্ষে) “বৈশ্য বারূজী” সভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায়, ইহাদিগকে বৈশ্যবর্ণ বলা অযৌক্তিক হয় নাই। শ্রীহস্রে বারজীগণ কায়স্থ বলিয়া পরিচয় দিতেই অধিক আগ্রহাঘিত। এই রূপে কায়স্থ বলিয়া আত্মগোপন করায় ১৮৯১ ৃষ্টাব্দে সমগ্র আসাম প্রদেশে বারূজী সংজ্ঞায় ৪৪২৯ ব্যক্তিকে মাত্র পাওয়া গিয়াছিল। ১৯০১ অব্দে ইহাদের সংখ্যা শ্রীহত্র জিলায় ১৬৩৪৬ জন; (তন্মধ্যে পুং ৮৩৩৮ এবং স্ত্রী ৮০০৮ জন।) বৈদ্য-বৈদ্য জাতি অতি সম্মানিত। বৈদ্যগণই পৌরাণিক অন্ষষ্ঠ জাতি । মনুসংহিতা মতে ব্রাহ্মণের, বিধিমত বৈশ্যকন্যাতে জাত সুপুত্রই অন্বষ্ঠ।২০ ইহাদের জাতিগত ব্যবসায় ব্রাহ্মণের চিকিৎসা ।২১ শব্দকল্পক্রমেও বৈদ্যগণের ব্যবসায় চিকিৎসা বলিয়া কথিত হইয়াছে ।২২ কিন্তু বক্ষ বৈবর্তত পুরাণ মতে বিপ্ররমণীর গর্তে অশ্বিনীকুমার কর্তৃক উৎপন্ন পত্রই বৈদ্য ।২৩ রাজা রাধাকান্ত ১৭. [৬1010-/৯ (51101 02516, 1210101109 0610৬/ 01560100112. -[২00011 07 0100 (5017505 01 /5507-190. 7). 138. ১৮. “গঙ্গাপুত্রস্য কন্যায়াং বীর্ষেন বেশধারিণ । বড়ুব বেশধারীচ পুত্রো! যুঙ্গী প্রকীর্তিতঃ।” -ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ। ১৯, [1 9017)0 ৬0110 0০১ (00215) 30916 011011501০5 8101), 2110 012170 00501111701) 09018155118 11001), 00৬০- [69 01 0019. 001.” -16100য 01) 1100 00115015 91 /55581)-1901. 1). 131 ২০. “ব্রাহ্মণাদ্বৈশ্য কন্যায়াং অন্থষ্ঠো নাম জায়তে ।” (১০ অধ্যায় ৮ শ্রোঃ) “বৈশ্যায়াং বিধিনা বিপ্রাৎ জাতশ্যম্বষ্ঠ উচ্যতে ।”-মনুসংহিতা ৷ ২১. বৈশ্যায়াং ব্রাহ্মণাজ্জাত অন্বষ্ঠ মুনিসত্তম | ব্রা্মণানাং চিকিৎসার্থং নির্দৃষ্টো মুন-পুঙ্গবৈ ।” ২২. “অন্বষ্ঠ। বিপ্রাদ্ৈশ্যায়ামুৎপন্নঃ অয়ং চিকিৎসাবৃত্তিঃ, বৈদ্য ইতি খ্যাতৃঃ।”-শব্দকল্পদ্রম ৫ম খণ্ড ১৩৬ পৃষ্টা । ২৩. “বৈদ্যহশ্থিনী কুমারেন জাতশ্চ বিপ্রযোধিতি ৷” ব্রহ্ধনৈবর্ত পুরাণ-ব্রহ্মখণ্ড ১০ম অধ্যায়। সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৭৯ দব বাহাদুর ব্রক্ষবৈবর্ত্ত পুরাণোক্ত বৈদ্যগণকে সর্পের মন্ত্রৌধধি পরায়ণ “মালবৈদ্য” বলিয়া লখিয়াছেন।২৪ সুতরাং ব্রহ্ষবৈবর্তত পুরাণোক্ত বৈদ্যদিগকে অন্বষ্ঠ বলা যাইতে পারে না। পশ্চিম বঙ্গে বৈদ্যগণ উপবীত ধারণ করেন।। শ্রীহট্টে অতি প্রাচীন কালাবধি বৈদ্য জাতির বাস ছিল, ভাটেরার তাম্্ফলকে জনৈক বৈদ্যবংশীয় রাজমন্ত্রীর নাম প্রাপ্ত হওয়া যায়। পরবস্তীকালে রাজা গৌড় গোবিন্দ বৈদ্যজাতীয় মহীপতি দত্তকে এদেশে আনয়ন পূর্বক স্থাপন করার বিষয় জ্ঞাত হওয়া যায়। শ্রীহট্টরের বৈদ্যগণ উপবীতধারী নহেন এবং কায়স্থের সহিত তাহাদের আদান প্রদান প্লচলিত আছে। তাহারা কায়স্থের ন্যায়ই মাসাশৌচ ধারণ করেন। শ্রীহস্ট জিলায় তুঙ্গেশ্বর প্রভৃতি ২১ স্থানে বর্তমানে বিশুদ্ধতা সংরক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি ক্ষিত হয়। ইহাদের সংখ্যা ৩৭৯৬ গন; (তন্মধ্যে পুং ১৯৬২ এবং স্ত্রী ১৮৩৪ জন ।) শীখারি-পরশুরাম সংহিতায় গান্ধিক, শাঙ্খিক, কাংস্যক, মণিকারক ও সুবর্ণ জীবিকা বলিয়া যে পঞ্চবণিকের উল্লেখ আছে, তনুধ্যে শাঙ্খিক বণিকগণই শীখারি নামে কথিত হন। ইহারা 'বশ্যবর্ণ। কায়স্থ সমাজভুক্ত হইতে ইহাদের অত্যধিক আগ্রহ । ইহাদের ব্রা্ষণগণ এখনও মনাচরণীয় রহিয়াছেন; ইহাদের সংখ্যা ৭০ জন মাত্র, কিন্তু এই সংখ্যা ঠিক নহে, অনেকেই কায়স্থ বলিয়া আত্মগোপন করিয়াছে বলিয়া অনুমিত হয় । শুড়ী- শৌপ্ডিক বা শুড়ী জাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে নানা মত প্রচলিত । ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণের মতে বৈশ্য পুরুষ ও ধীবর কন্যার যোগে শুড়ীর উৎপত্তি।২৫ পরশুরাম সংহিতার মতে কৈবর্ত পতা গাণিক মাতার যোগে ইহাদের উদ্ভব হয়।২৬ শুপ্তা বা সুরা প্রস্তুত ও বিক্রয়ই ইহাদের ব্যবসায়। বৈদিক যুগে যখন সোম সুরা পবিত্র বস্তু মধ্যে পরিগণিত ছিল, তখন শুড়ী জাতি অনাদূত ছিল না, পরে কাল ক্রমে নীচ ব্যবসায়ী বলিয়া নীচ শ্রেণীর মধ্যে পরিগণিত হইয়াছে। সদ্য ব্যবসায়ী শুড়ীর সংস্ববে গেলে, মদের প্রলোভনে পড়িতে হয়, এই জন্য হিন্দু সমাজের এই সতর্কতা । হস্তীপদতলে প্রাণত্যাগ করিবে, তথাপি শুপ্তিকালয়ে যাইবে না,২৭ ইতি বাক্যের উৎপত্তি এই জন্যই হইয়াছিল । শুড়ীগণ প্রায়শঃ সাহা উপাধি ধারণ করে; এই জন্য যাহারা নিজ ব্যবসায় পরিত্যাগ করিয়াছে, তাহাদিগকে বৈশ্য-সাহা জাতি হইতে পরিচয় করা কঠিন হইয়া দীড়াইয়াছে। কিন্তু তাহারা যে বৈশ্য সাহা জাতি হইতে পৃথক, ত তাহারা নিজেই মুদ্রিত পুস্তকাদি প্রচার করতঃ তাহা স্পষ্টাক্ষরে ব্যক্ত করিতেছে। সাহা বা সাহু--পরশুরাম সংহিতায় “গাঙ্ধিক শাঙ্খিক শচৈব কাংসক মণিকারক, সুবর্ণজীবিকশ্চৈব পঞ্চেতে বণিজন্মৃতাঃ;” বলিয়া যে পঞ্চবণিকের উল্লেখ আছে, শ্রীযুক্ত ধর্ম্মানন্দ মহাভারতী মহাশয় “সিদ্ধান্ত সমুদ্র ষষ্ঠ খণ্ডে এবং শ্রীযুক্ত কৃষ্ণনাথ ঘোষ মহাশয় “কুলপ্রতিভা” ধন্থেব তৃতীয় খণ্ডে, বহুতর অকাট্য প্রমাণ সহযোগে সাহাজাতিকে সেই পঞ্চ বণিকের অন্তর্গত মণিবণিক বলিয়া উন্বেখ করিয়াছেন । কুলপ্রতিভায় লিখিত হইয়াছে যে, মণি বণিকেরা পরবর্তীকালে শস্যাদি বিক্রয় ব্যবসায়ে বৃত হওয়া খন্ধবণিক বলিয়া খ্যাত হয়। সুতরাং ইহারা ২৪. “বদ্যোহশ্থিনী কুমারেন জাতশ্চ বিপ্রযোধিতি। তেচ গ্রাম গুণশ্চ মন্ত্রোষিধি পরায়ণ। তেভ্যাশ্চ জাতো সন্তানং তে ব্যাল গ্রহিনৌভুবি।” -শাবকল্পদ্রুম | ২৫. “বৈশ্য তীবর কন্যায়াং সদ্যঃ শুন্তী বভুবহ।”-ত্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ । ২৬. “তাতো গাণিক কন্যায়াং কৈবর্তাদের শৌগ্তিকঃ।” ২৭, “হস্তিনা পীড্যমানোপি ন গচ্ছেৎ শৌপ্তিকালয়ং।” ৮০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ বৈশ্যবর্ণ সন্তৃত। প্রায় দ্বাদশবর্ষ যাবৎ ঢাকার সাহাগণ “স্বজাতি হিতসাধন সমিতি” প্রতিষ্ঠা করতঃ আপনাদিগকে বৈশ্যবর্ণ বলিয়া নির্ধারিত করিয়াছেন। সাহা উপাধিটা প্রকৃত পক্ষে বৈশ্যদের উপাধি। অমরকোষ অভিধানে বৈশ্যদিগকে “সার্থবাহো” বলিয়া উল্লেখ দৃষ্ট হয়, সাহা শব্দ এই “সার্থবাহ” শব্দ হইতেই নিষ্পন্ন হইয়া থাকিবে । অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় বলেন যে, বণিকদিগকে সাধু বলিত, তৎপর সাহু এবং তাহার পর সাহা উপাধি দীড়াইয়াছে। সাহাদের আকৃতি এবং তাহাদের আচার ব্যবহার দেখিলে তাহাদিগকে কখনই নীচ শ্রেণীর লোক বলিয়া বোধ করা যায় না। “প্রচ্ছন্না বা প্রকাশ্যা বা বেদিতব্যা স্বকম্মভিঃ:” মনুসংহিতোক্ত ইতি প্রমাণে তাহাদের কার্য্যাদি দর্শন করিলে, পূর্বকথিত সিদ্ধান্তে অবিশ্বাস করিবার হেতু পাওয়া যায় না। “সাহাকুল পরিচয়” নামক পুস্তকে লিখিত আছে যে, বৈশ্য জাতীয় খন্ধবণিকগণ বঙ্গভূমে আসিয়া বৌদ্ধভাবাপনন হওয়ায়, সমাজে অচল হয়; আবার কেহ কেহ, বল্লালের কোপে সুবর্ণ বণিকের ন্যায় দশাগ্রস্ত হওয়ার কথাও বলেন। উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ফরেক্কাবাদে এবং আসাম- কামরূপে সাহাদের জল অচল নহে। যাহা হউক, সাহা উপাধিটাই বর্তমানে তাহাদের পক্ষে বিশেষ ক্ষতিজনক হইয়াছে বলিয়া বোধ হয়; কারণ প্রকৃত শুড়ীরাও সাহা উপাধি ধারণ করায়, এবং তন্মধ্যে যাহারা মদ্য প্রস্তুত ইত্যাদি ব্যবসায় ত্যাগ করিয়াছে, বৈশ্য সাহা জাতি হইতে তাহাদের পার্থক্য নির্ণয় করা অনেক সময় কঠিন হইয়া পড়ে । এই এক উপাধির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সাধারণতঃ ইহারা অনেকাংশে অবজ্ঞাত হইয়াছে। ্রীহট্রে সাহা শ্রেণীর বহুতর লোক আছেন। সাধারণ সম্মানে কায়স্থের পরেই তাহাদের স্থান নির্দেশ করা যাইতে পারে, ইহা (মিঃ ওয়ালটন প্রভৃতি) বহুতর রাজপুরুষ উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন। কিন্তু উত্তর শ্রীহট্ট, করিমগঞ্জ ও দক্ষিণ শ্রীহট্ট (পূরর্বাংশ) বাসী সাহুগণ, সিদ্ধান্তসমুদ্, কুলপ্রতিভা, সাহাকুল পরিচয় প্রভৃতি মুদ্রিত পুস্তকগুলির প্রতিপাদিত ঠিক বৈশ্যবর্ণ ছিল না, ইহারা উক্ত বৈশ্য সাহা-বণিকগণ হইতেও বিভিন্ন ছিল। রাজা সুবিদ নারায়ণের সময়, পূর্বোক্ত বৈশ্য- সাহার সংঘ্বে, বৈদ্য ও কায়স্থ সমাজ হইতে ইহারা পৃথক হইয়া পড়ে এবং কালক্রমে আপনাদিগকে বৈশ্যসাহা জ্ঞানে তদনুরূপই চলিয়া আসিতেছে। “কুলাঞ্জলী” নামে হস্তলিখিত এক পুথিতে ইহাদের উৎপত্তি কথা সংক্ষেপে লিখিত পাওয়া গিয়াছে ।২৮ ইহাদের সংখ্যা অতি সামান্য এবং ক্রমশঃই হ্রাস হইতেছে; অনুমান ছয় সহস্রের অধিক হইবে না; ইহারাও সাধু (সাউধ) বা সাহু বলিয়া কথিত হইয়া থাকে । ইহাদের বিবরণ পশ্চাৎ উক্ত হইবে ।২৯ সমগ্র শ্রীহট্ট জিলায় সাহাদের সংখ্যা ৩৪৪০৬ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৬৮৫৫ এবং স্ত্রী ১৭৫৫১ জন 1) সুবর্ণ বণিক বা সোণার-_সুবর্ণবণিকগণ, বৈশ্যবর্ণ সন্ভৃত পঞ্চবণিকের একতম । কথিত আছে, স্বর্ণমুদ্রা খণ গ্রহণের প্রস্তাব করেন; বল্লুভানন্দ বিনা “নন্ধকে” খণদানে অসম্মত হওয়ায় বল্লাল ক্রোধভরে জবলিয়া উঠেন এবং প্রতিফল স্বরূপ ইহাদিগকে সমাজে অচল করেন । কেহ বলেন যে স্বর্ণ অপহরণ দোষেই ইহারা পতিত হইয়াছেন। কেহ কেহ বা ব্রাহ্মণের অভিসম্পাতকে ইহাদের ২৮. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ দ্বিতীয় খণ্ড ৭ম অধ্যায় দ্রষ্টব্য । ইহাদের উৎপত্তি বৃত্তান্ত এখনও অতি প্রাচীন ঘটনা হইয়া দীড়ায় নাই, এখনও বহুতর ব্যক্তি পরম্পরায় সে সংবাদ জ্ঞাত আছেন । বৈশ্য-সাহা সংস্রবের পর তাহারা পরম্পর কি ভাবে চলিতেছে, সামাজিক বৃত্তান্তে সে কথা দ্রষ্টব্য ২৯. হবিগঞ্জ প্রভৃতি ভাটা অঞ্চলের সাহাবণিকগণ পূর্ববঙ্গের অপরাপর জিলাবাসী সাহা জাতি অপেক্ষা অনেক উন্নত হইলেও মূলতঃ বঙ্গদেশীয় তাবৎ সাহাবণিকই বৈশ্যবর্ণ সন্ভুত। বিহারাদি অঞ্চলের বৈশ্যজাতীয় প্রধান ব্যক্তিবর্গ ইহা স্বীকার করেন । (5০০ 070 3009011 0) 010 ০0758১ 01701081-1901) সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহত্ট্ের ইতিবৃত্ত ৮১ পাতিত্যের কারণ বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন । শ্রীহট্ট জিলায় ইহাদের সংখ্যা ৭৭৫ জন; তেন্ধ্যে পুং ৩৩৮ এবং স্ত্রী ৪৩৭ জন ।) পঞ্চথণ্ডে ইহাদের ব্রাহ্মণের মধ্যে অনেক অবস্থাপন্ন লোক আছেন। পার্বত্য জাতি শ্রীহট্ট জিলায় কয়েকটি পার্বত্য জাতির বাস আছে, ইহাদের মধ্যে অনেকটি হিন্দুধর্মাবলহ্বী। যাহারা হিন্দু নহে, তাহারা ভূত, দৈত্য, বৃক্ষ বা পশুউপাসক। কেহ কেহ হিন্দুভাবাপন্ন হইয়াছে এবং কেহ কেহ বা একবারে হিন্দুভাব বর্জিত । নিম্নে তাহাদের বিষয় লিখিত হইল । কুকি--কুকিগণ পাহাড়ে বাস করে। অনেকে বলেন যে, ইহারাই অতি প্রাচীনকালে দেশের মালীক ছিল, আর্ধ্জাতি দেশ হইতে ইহাদিগকে বিতাড়িত করেন। ইহাদের অধিকাংশই হিন্দুধর্ম অবলম্বন করতঃ হালাম ও তিপ্রা বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকে । ইহাদের অধিকাংশ সংখ্যা তিপ্রাদের সংখ্যায় অন্তর্তু্ত হইয়াছে । বিগত লোক গণনা কালে কেবল মাত্র ৩৬১ জন ব্যক্তি কুকি বলিয়া জাতীয় পরিচয় দিয়াছিল; (তন্যধ্যে পুং ১৫৭ এবং স্ত্রী ২০৪ জন 1) খাসিয়া ও সিন্টেং- ইহারা খাসিয়া ও জয়ন্ত্ীয়া পর্বতের অধিবাসী । ইহাদের সংখ্যা ৩০৮৩ জন; তেন্মধ্যে পুং ১৬০৪ এবং স্ত্রী ১৪৭৯ জন।) এই সংখ্যা মধ্যে হিন্দু সংখ্যা ১৬৯৪ এবং সিন্টেং ৪২ জন মাত্র। খাসিয়াদের অনেকেই খৃষ্ট ধর্ম অবলম্বন করিয়াছে। শ্রৃহ্ট কয়লা প্রভৃতি বিক্রয়কারী পাতরজাতীয় ব্যক্তিগণ হিন্দুমতাবলম্বী খাসিয়া জাতি হইতে পৃথক নহে। গারো--গারো পাহাড়ের দৈত্যাদি ও পশু উপাসকদিগের নাম গারো । শ্রীহট্টে ইহাদের সংখ্যা ৭৪৬ জন মাত্র; (তন্মধ্যে পুং ৪১৩ এবং স্ত্রী ৩৩৩ জন ।) এ তন্মধ্যে হিন্দু গারো সংখ্যা ৯৪ জন মাত্র। তিপ্রা-_ইহারা বোদো জাতীয় । ত্রিপুরা বা তিপ্রাগণ হিন্দু। তিপ্রারা বাঙ্গালী সংস্রবে অনেকটা উন্নত হইতেছে এবং মণিপুরীদের আচার ব্যবহার অনুকরণ করতঃ তাহাদের ন্যায় বেশতুষা ধারণ করিতে যত্বু করিয়া থাকে । তিপ্রা কুমারীগণকে অনেক সময় মণিপুরী “লাইচারী” হইতে চিনিয়া লওয়া কঠিন হইয়া পড়ে। শ্রীহট্টে বহুতর কুকি তিপ্রা পরিচয়ে আত্মগোপন করিয়াছে। ইহাদের সংখ্যা ৮২৬১ জন; (তন্মধ্যে পুং ৪০৯৩ এবং স্ত্রী ৪১৬৮ জন ।) মণিপুরী-মণিপুরীরা শ্রীহট্টের ওপনিবেশিক জাতি । ইহারা অর্জ্বন পুত্র বন্রবাহনকে আদিপুরুষ বলিয়া ক্ষত্রিয়ত্বের দাবী করে ও উপবীত ধারণ করে । কিন্তু পুবের্ব এইরূপ পরিচয় দিত না। মণিপুররাজ চিংতোমৃখোম্বার শাসনকালে শ্রীহত্টের ব্রান্ণ অধিকারীগণ তাহাদিগকে বৈষ্ণঠবধর্ম্মে দীক্ষিত করতঃ উপবীত প্রদান করেন।৩০ বিষ্জুপুরীয়ারা ও কালাচাই ভেদে ইহারা দ্বিবিধ। বিষ্ণুপুরীয়ারা কৃষ্ণবর্ণ এবং পার্বত্য জাতীয় বলিয়া সহজেই বোধ হয়। মণিপুরীরা পূরেরে যে পার্বত্য জাতীয় ছিল, তাহার বহুতর প্রমাণ আছে, কিন্তু শ্রীহস্ট অঞ্চলের মণিপুরীরা বহুদিন বাঙ্গালী সংস্রবে থাকায়, অনেক পরিমাণে বাঙ্গালী স্বভাব প্রাপ্ত হইয়াছে। মণিপুরীরা বলবান, সাহসী ও বীর। ইহাদের একতা অতি প্রশংসনীয় । কিন্তু ইহাদের স্বভাব উদ্ধত এবং তাহারা আইনের ধার বড় অধিক ধারে না ।৩১ শ্রীহট্ট সদর, প্রতাপগড়স্থ পাথারকান্দি, জফরগড়ের ৩০. বঙ্গদর্শন পত্রিকা-১২৮৪ সাল। এবং শ্রীযুক্ত কৈলাসচত্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাস দেখ। ৩১. "1176 1/41100015 06 0/1181016 & 01100161010 01119 0501016, 010110%5110110 10505501101 100 [)91651) 01 0116 10/. ০00. 717৩ 4১5৬0) 101501000820116015 ৬01. (3911701) 0100১. 1]. 0. 78. শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৬ ৮২ শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ লক্ষ্মীপুর, ডলু, শিলং, লংলা, ধামাই, গৌরনগর, পাথারিয়া, তরফ, আসামপাড়া ও সুনামগঞ্জ প্রভৃতি স্থানে ইহাদের বাস আছে। বরন্মযুদ্ধের পরই মণিপুরীরা শ্রীহট্ট ও কাছাড়ে আগমন করতঃ উপনিবেশ স্থাপন করে। মণিপুরীদের পৃথক এক কথা ভাষা আছে। ইহাদের সংখ্যা ১৬০৪৩ জন; তেন্মধ্যে পুং ৮০৮৫ এবং স্ত্রী ৭৯৫৮ জন ।) লালুং--ইহারা খাসিয়া ও জয়ন্তীয়া পাহাড় হইতে শ্রীহট্টরের সমতল ক্ষেত্রে আসিয়া বসতি করিতেছে । কথিত আছে যে, প্রাচীনকালে ইহারা ডিমাপুরের (কাছাড়ের) নিকট বাস করিত, তথাকার রাজা মানবদুপ্ধ পান করিতেন এবং ইহাদিগকে প্রত্যহ ছয়সের দুগ্ধ যুগাইতে আদেশ করেন। ইহারা রোজ ছয়সের নারীদুগ্ধ যুগান অসাধ্য ভাবিয়া, ভয়ে পলায়ন পূর্বক জয়ন্তীয়ায় আসিয়া বাস করে। ইহারা বিবাহান্তে স্ত্রীর পিতৃবংশতুক্ত হয়, কিন্তু স্বীয় মরণান্তে আবার নিজবং তু পুনঃ প্রাপ্ত হইয়া থাকে) শ্রীহস্ট জিলায় ইহাদের সংখ্যা ৬৩৯ জন: তেনাধ্যে পুং ৩১৫ এবং স্ত্রী ৩২৪ জন।) মোসলমান জাতি কুরেষি-ইহা এক বংশ বিশেষ । হজরত মোহাম্মদ এবং শ্রীহট্টের শাহজালাল এই ৰং জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন । শ্রীহট্টের কুরেষি বংশীয়দের পূর্বপুরুষ মক্কায় সন্নিহিত স্থান হইতে আগমন করেন। ইহাদের সংখ্যা ৩৭৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৮৪ এবং স্ত্রী ১৯১ জন |) গাইন-_ইহারা নিম্নশ্রেণীর গায়ক সম্প্রদায় । কখন কখন পুতির মালা প্রভৃতি বিক্রয় করিয়া থাকে। সংখ্যা ২২০ জন; তেন্মধ্যে পুং ১০৫ এবং স্ত্রী ১১৫ জন।) জোলা- নিঙ্গশ্রেণীর বন্ত্র ব্যবসায়ী । ইহাদের সংখ্যা ৪৯১ জন; (তন্মধ্যে পুং ২১৫ এবং স্ত্রী ১৭৬ জন |) নাগারছি--ইহারা বাদ্যকর, কাড়া, ডোল সহকারে বাদ্য করিয়া থাকে । সংখ্যা ৪৯৪; (তন্মধ্যে পুং ২৫২ জন এবং স্ত্রী ২৪২ জন 1) পাঠান--শেখ, সৈয়দ, পাঠান, মোগল এই চারি প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে পাঠান একতম। ইহাদের সংখ্যা শ্রীহন্টের ৬৪২০ জন; (তন্মধ্যে পুং ৩৪৩৬ এবং স্ত্রী ২৯৮৪ জন ।) মাহিমাল--ইহারা মংস্যজীবী । সংখ্যা ৩৫১৯৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৭৫৫৬ এবং স্ত্রী ১৭৬৩৯ জন ।) মীর শিকারি- নি্নশ্রেণীর শিকারি জাতি । পক্ষী প্রভৃতি শিকার করিয়া ভ্রমণ করে। সংখ্যা ৩৯৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৭১ এবং স্ত্রী ২২৪ জন।) মোগল-_দিল্লীর বাদশাহগণ এই জাতীয় ছিলেন। ইহাদের সংখ্যা ৪৯৩ জন; (তন্মধ্যে পুং ২৪৯ এবং স্ত্রী ২৪৪ জন) বেজ--পক্ষী শিকার ও সর্প ত্রীড়া প্রভৃতিই বেজদের ব্যবসায়। ইহাদের সংখ্যা ২৩৩ জন; (তন্মধ্যে পুং ১১১ এবং স্ত্রী ১১২ জন ।) এই এক ব্যবসায়ী বেদিয়া জাতির বাসও শ্রীহট্ট আছে; ইহাদের সংখ্যা ৫৮ জন মাত্র। বেদিয়ারা হিন্দুধর্ম মানিয়া চলে। শেখ-_-আরবের সাধারণ মোসলমানদের উপাধি শেখ। শ্রীহন্টে শেখ উপাধি বিশিষ্ট মোসলমানের সংখ্যা ১১২৬৩৪৯ জন; (তন্মধ্যে পুং ৫৭৩৬১৫ এবং স্ত্রী ৫৩০৩৪ জন।) লোক গণনা কালে অনেক মাহিমাল জাতীয় লোক শেখ সাজ্ঞায় আত্মগোপন করিয়াছিল। সৈয়দ-যাহারা হজরত মোহাম্মদের জামাতা আলীর বংশ জাত তাহারাই সৈয়দ। সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত ৮৩ মোসলমান সমাজে ইহারা অতি সম্মানিত। ইহাদের সংখ্যা ৬৫৯৮ জন; (তন্মধ্যে পুং ৩৩১৫ এবং স্ত্রী ৩২৮৩ জন ।) খৃষ্ঠীয়ান জাতি ৃষ্টায়ান জাতি মধ্যে বুন্দাশিলের নেটিভ খৃষ্টীয়ানগণ খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারন্তে জনৈক নবাব কর্তৃক গোলন্দাজ সৈন্যরূপে শ্রীহট্টে আনীত হয়; সুতরাং তাহারা বহুদিনের ওপনিবেশিক জাতি ।৩২ শ্রীহস্টে ছড়ার পারে কতক খৃষ্টায়ান অধিবাসী আছে। সংখ্যা ৩৯৪ জন; তেনাধ্যে পুং ১৮৬ এবং স্ত্রী ২০৮ জন।) ? উপরের লিখিত অধিবাসীদের সংখ্যা কোন সবডিভিশনে কত তাহা ছ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য । কুলি চা বাগানের কাজে ছোট নাগপুর, হাজারিবাগ প্রভৃতি অঞ্চল হইতে হিন্দু, মোসলমান মধ্যে বহুতর বিভিন্ন জাতীয় লোক শ্রীহনট্রে আগমন করিয়াছে, ইহাদের মোট সংখ্যা ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনায় ১৪৮৭৬ জন হইয়াছিল। ইহাদের জন্মভূমি শ্রীহস্ট নহে বলিয়া, অধিবাসীদের পরিচয় বর্ণনে তাহাদের উল্লেখ করা হইয়াছে। কিন্তু কোন কোন অল্প সংখ্যক, এক জাতীয় লোক, অন্য উচ্চতর জাতীয়ের পরিচয়ে সম্পূর্ণ আত্মগোপন না করিয়াছে, এমন বলা যায় না। দৃষ্টান্ত স্বরূপ শ্রীহট্টের ঢালকর জাতি ও কীসারী জাতির উল্লেখ এস্থালে করা যাইতে পারে। কীসারীরা বৈশ্য বর্ণ, ইহারা কায়স্থ পরিচয়ে আত্মগোপন করিয়াছে। কিন্তু ইহাদের সংখ্যা শ্রীহট্টরে এত অল্প যে, তাহাতে কোন ক্ষতি বৃদ্ধি হয় নাই। ভিন্ন দেশাগত প্রত্যেক জাতির সংখ্যা পুং স্ত্রী অনুসারে জ-_পরিশিষ্টে প্রদত্ত হইবে। ৩২. "11611 10190111015 912 5810 1017৬610601) 5601100 110616 01 0116 06611001106 00176 1801 ০6100017909 ॥ 141001001110001) ০৬৪০. & -/১599॥) [01510101 082606615 ৬০| 1] (১১1161) ০190. 101. 0. 90. ৮৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ অষ্টম অধ্যায় ধর্ম ও শিক্ষাদি টা ধন্ম মোসলমান শ্রীহট্রের প্রায় সমস্ত অধিবাসীই বাঙ্গালী । পূর্ববাধ্যায়ে যে সমস্ত অধিবাসীর বিবরণ লিপিবদ্ধ হইল, তনুধ্যে মোসলমান সংখ্যাই অধিক। উত্তর শ্রীহস্ বহুপুবের্বে মোসলমান কর্তৃক বিজিত হয় বলিয়া উক্ত সবডিভিশনেই মোসলমান অধিবাসীর সংখ্যা অধিক। নীচ জাতীয় হিন্দুগণের ধর্ম পরিবর্তন ও মোসলমানদের মধ্যে বিধবা বিবাহের বহু প্রচলনই এই সংখ্যাধিক্যের অন্যতম কারণ । শ্রীহস্তীয় মোসলমানদের মধ্যে সিয়া ও সুন্নি এই দুই সম্প্রদায়ের লোকই প্রধান। তনুধ্যে সিম়্াদের সংখ্যা অতি সামান্য, সুন্নিদের তুলনায় নাই বলিলেই চলে। ১৯০১ খুষ্টাব্দের গণনানুসারে শ্রীহট্ট জিলায় সব্র্ব সম্প্রদায়ের মোসলমান সংখ্যা ১১৮০৩২৪ জন হইয়াছে। হিন্দু শ্রীহট্টে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মধ্যে শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব ধর্মই প্রধান । শ্রীহট্ট জিলায় ১৯০১ ৃষ্টাব্দের গণনায় শক্তি উপাসক ৩১৩৫২২ ব্যক্তি, শৈবের সংখ্যা ৫৭৫৭১ জন, এবং বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৫৬০৩৭৯ প্রাপ্ত হওয়া যায়। মোট হিন্দু সংখ্যা ১০৪৯২৪৮ জন। যাহারা বৃক্ষ, পশু বা দৈত্য দানবের উপাসনা করে, তাহাদের সংখ্যা ১১৩৩৭ জন এবং খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৩৯৪ জন মাত্র ।১ শাক্ত, শৈব ও বৈষুব শাক্তদের মধ্যে পাশ্বাচার ও বামাচার উভয় মতই প্রচলিত আছে । বামাচারী মতে মদ্যপান দোষণীয় নহে। ১. এই সংখ্যা প্রত্যেক সবডিভিশনানুসারে বিভাগ ক্রমে নিম্েপ্রদর্শিত হইলঃ- ধর্্মাবলক্বী উত্তর শ্রীহন্টট করিমগঞ্জ মৌলবীবাজার হবিগঞ্জ সুনামগঞ্জ শাক্ত ৩৩৯৩ ৪১৭২৪ ৯২৮৪৫ ২৭১৯৪ ৩৭৩৬৬ শৈব ৩২২৪ ১৮১৮৬ ২১৪১৭ ৯৩১৩ ৫৪৩১ বৈষ্ণব ৭৪৬৬ ১২৩২৮৩ ৬১৮৪২ ১৩২৮৪৫ ১৪৬১৯৩ বৃক্ষাদি উপাসক ২৩৩৭ ২৮১৮ ১৯৪৬ ৪০১৯ ৮১০ ৃষ্টায়ান ১৮১ ২১৩ রী মোট মোসলমান ৩০৮৯৯৮ ২৯২৭০০ ১৪৬০৫৬ ২৬২০০৪ ২৩৮৫৯৫ মোট হিন্দু ১৫১৯০৮ ২১৫২৪২ ২৩০৮৫৯ ২৫৬৯১৯ ১৯৪৩২০ অষ্টম অধ্যায় : ধর্ম ও শিক্ষা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৮৫ শৈবদের মধ্যে শ্রীহট্টে যুগী জাতীয় লোকের সংখ্যাই অধিক । ত্রিনাথ দেবতার অর্চনা বা সেবা ইহাদের মধ্যেই অধিক প্রচলিত । ব্রিনাথের সেবায় গাঞ্জা ভোগই প্রধান। উপাসকগণ রাত্রে শিবের লীলাত্মক গান গাইয়া শেষে প্রসাদ ভক্ষণ করে। চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক পুজা উপলক্ষে কাণফোড়া প্রভৃতি ইহাদের ক্রিয়া ছিল। কিশোরী ভজন বৈষ্ণবেরা শান্ত ও মদ মাংসাহার বিরত। অনেক উপধর্মাক্রান্ত ব্যক্তি আপনাদিগকে বৈষ্ণব বলিয়া থাকে; তাহাদের সংখ্যা লইয়াই বৈষ্ণব সংখ্যা পুষ্ট হইয়াছে। * এই উপধর্মাক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কিশোরীভজন মতাবলম্বীগণের সংখ্যাই অধিক । শুদ্ধ বৈষ্ঞব মতের সহিত সহজ বা কিশোরীভজন মতের সম্পূর্ণ এক্য নাই । ইহারা পঞ্চরসিকের মতে চলে বলিয়া কথিত আছে। প্রত্যেকেই উপাসনার জন্য এক এক জন সঙ্গিনীর সাহায্য গ্রহণ করে এবং তাহাকেই প্রেমশিক্ষার গুরু রূপে কল্পনা করা হয়। এই ধর্মের প্রধান অবলম্বনই প্রেম। ইহারা উপাসনা কালে জাতি বিচার করে না; নিম্ন শ্রেণীর সহিত উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরাও অবাধে আহারাদি করে ।২ তাহাদের উপাসনা কার্ষ্য ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর অসাক্ষাতে গভীর রাত্রে সম্পাদিত হয়। তৎকালে দলপতি ও দলে যিনি প্রধানা রমণী, তাহাদের বিশেষ সম্বর্ধনা করা হয়। যে ভোজ্য দ্রব্য উপস্থিত করা হয়, প্রথমে তিনি তাহার আস্বাদ করতঃ ভক্তবর্গকে প্রসাদ বিতরণ করেন। তৎপর রাধাকৃষ্ণ লীলাত্মক সঙ্গীতাদি সহকারে উপাসনার অন্যান্য অঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়।৩ কিশোরী ভজন উচ্চ শ্রেণীর লোকেরা আদর করেন না। জগন্মোহনী বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জগন্মোহনী বৈষ্ঞবগণও ভুক্ত হইয়াছে। প্রকৃত পক্ষে ইহা সম্পূর্ণ নূতন একটি ধর্ম্সসম্প্রদায়। এই ধর্ম্মের উৎপত্তি স্থান শ্রীহট্ট জিলা । সুতরাং ইহা শ্রীহন্টের বিশেষত জ্ঞাপক ঘটনার অন্যতম । প্রায় তিন শত বৎসর হইল, এই সম্প্দায়ের উৎপত্তি হয়। গোপীনাথের শিষ্য বাঘাসুরাবাসী জগন্মোহন গোসাঞ্চি এই সম্প্রদায়ের প্রবর্তক । “ভারতব্ীয় উপাসক সম্প্রদায়” গ্রন্থে অক্ষয় কুমার দত্ত, ইহাকে বৈষ্ণব ধর্মের এক উপসম্প্রদায় বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। ইহারা ব্রহ্মবাদী, প্রতিমা পূজায় তাহাদের স্পৃহা নাই। “গুরু সত্য, এই বাক্য উচ্চারণ করিয়া, গুরুকেই ইহারা প্রত্যক্ষ দেবতা বলিয়া স্বীকার ও বিশ্বাস করে।”৪ ইহারা স্ত্রীত্যাগী, ব্হ্ষচর্য্য পালন করাই তাহাদের ধর্মসঙ্গত বিধি । তাহারা তুলসী ও গোময়ের ব্যবহার করেন না;৫ এবং সম্প্রদায়ের “নিব্্বাণ সংগীত” গান করাই উপাসনার অঙ্গ মনে করেন । জগন্মোহন ২,11290]। ৬/01510100001 0650155 10111561110 9 /01721) ৬/1101] 116 001510615 25 1015 51011110091 001106 0170 ৮111) 4105 11610) 196 ০১196015 10 560016 991৬01101) 01119 50801. 1115 16118101719 & 16118107 01 10৬6, 2170 15 1101 001811700 (0 0119 001705, 11১0 ০৫১1০ [01010101006 ৬/101) 1017) 15 [10101) 5101061)1]) 2110 11) 115 09501৬01510 101)595 ৮/101) ৫1] 0116 10৬/ ০0510 111710015 [০619. -০09011 01) 1100 ০017505 91 /৯55817)-1901, 01190), 1.0. 41. ৩. ৮1110 [00170001501 1)15 5001 210 5810 1010৩ 2550111)100 5601601 01 11161)6 070 10 ৬/0151)1]) 0100 170150155 01 [10011 [011951, ৮/1015 50110019050 (01010705011 [২20118. 7110 (0০015 01101001010, 0190 801 5110 1199 (001) ৪ |10016, 076 059৫ 0৩ (15111101064 01770151100 00115108010). -/55আথা) 10150101 09261015615 ৬০. 1] 0১. 84. ৪. ভারতবরষীয় উপাসক সম্প্রদায় ১ম ভাগ ২১০ পৃষ্ঠা । ?. বর্তমানে ইহার ব্যবহার কিয়ৎ পরিমাণে চলিতেছে। ৮৬ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ গোসাঞ্ির শিষ্যের প্রশিষ্য রামকৃষ্ণ গোসাঞ্রির হইতে এই ধর্ম বহুল প্রচারিত হয়। বিথঙ্গলের আখড়াই ইহাদের প্রধান তীর্থস্থান । তদ্যতীত মাছুলিয়া ও ঢাকার ফরিদাবাদে আরও দুই আখড়া আছে। ইহাদের শিষ্য সংখ্যা প্রায় পঞ্চসহস্্। চাপঘাট পরগণাধীন কচূয়ার পার নামক স্থাননিবাসী ব্রহ্মনন্দ বৈষ্ণব তদঞ্চলে এইরূপ মত প্রচার করেন; তাহার শিষ্য সম্প্রদায় তথায় “ব্রন্মানন্দী” নামে কথিত হয়। জগন্মোহনী মতের সহিত এমতের বিশেষ অনৈক্য নাই। ইহারা জাতিভেদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন না। বরহ্মানন্দীরা সংখ্যায় যৎসামান্য ৷ মণিপুরী রাস মণিপুরীরা বৈষ্ণব ধর্মের অন্ধবিশ্বাসী ৷ রাসযাত্রা উপলক্ষে তাহারা আগ্রহ সহকারে “লাইচারী” অর্থাৎ কুমারীদের সহায়ে নৃত্যগীতসহকারে রাস গান করে। মণিপুরী রাস-নৃত্য সুন্দর বটে । ইহারা বৈষ্ণব ধর্মের গাঢ় অনুরাগী হইলেও, হিন্দু সমাজের অজ্ঞাত একটি জাতীয় দেবতার পূজা প্রত্যেক বংশে প্রচলিত আছে। ইনি মৎস্যপ্রিয় বলিয়া এই দেবতাকে বোয়াল মৎস্যাদি উপহার দেওয়া হয়; এবং তিনি বংশের প্রধান ব্যক্তির জি্বায়, বাড়ীর পশ্চাৎ ভাগে অনাদূত ভাবে বাস করেন। মণিপুরীদের এই দেবতা, তাহাদের ভূতপুরর্ব পার্বত্য যুগের উপাস্য দেবতার ত্যক্তাবশেষবিশেষ বিবেচনা করা যাইতে পারে। ১৭১৫ খৃষ্টাব্দের পর চিতোম্‌ খোশ্বা রাজার সময়ে, শ্রীহট্টবাসী “অধিকারী” ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক মণিপুরীরা বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয় ।৬ যৌবন বিবাহ ইহারা ধর্মমবিরন্ধ মনে করে না; কাজেই বাল্য বিবাহের প্রচলন এবং অবরোধ প্রথা ইহাদের মধ্যে নাই। কুকিদের বৃক্ষাদি পূজা কুকি তিপ্রা প্রভৃতির জাতীয় দেবতা মণিপুরীদের মৎস্যাশী দেবতাপেক্ষা আরও এক পদ অগ্রসর তিনি শুকর মাংস পর্য্যন্ত খাইতে পারেন; পৃের্ব কুক্ুট মাংস যথেষ্টরূপে আহার করিতেন। কুকিদের বাশ পূজা অতি আশ্চর্য্য । কথিত আছে, তাহাদের পূজার মন্ত্রবলে উদ্দিষ্ট বংশদণ্ডের অগ্রভাগ ভূমিম্পর্শ করিয়া থাকে ।৭ বংশাগ্র ভূম্পর্শ করিলেই পূজা সিদ্ধ হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হয় ।৮ কুকিরা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করিলেও পরকাল বুঝে না। কুকিরা পাহাড়ের উপর বংশনির্মিত মাচা প্রস্তুত করতঃ তাহাতে বাস করে; বংশপত্রাদি দ্বারাই মাচার ছাউনি দেওয়া হয়। ইহারা অতিশয় মাংসপ্রিয় জাতি । কোন জাতীয় উৎসবে মদ্যপান ও মাংসাহারই প্রধান অঙ্গ বিবেচিত হয়। খৃষ্টায়ান ও ব্রহ্ম শ্রীহট্ট জিলায় অল্প সংখ্যক খৃষ্টীয়ান অধিবাসী আছে; ইহারা রোমান কাথলিক সম্প্রদায় তুক্ত। অল্প সংখ্যক প্রটেষ্টানট খৃষ্টানও আছে; ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে শ্রীহত্টে প্রটেষ্টান্ট মিশন স্থাপিত হয়। শ্রীহস্ট ৬. বঙ্গদর্শন পত্রিকা-১২৮৪ সাল; এবং শ্রীযুক্ত কৈলাসচন্দ্র সিংহ প্রণীত “ত্রিপুরার ইতিহাস” দ্রষ্টব্য । ৭. সার জর্জ বার্ডউড্‌ সাহেব কৃত অনারেবল্‌ জগন্নাথজি শঙ্করসেটের জীবনীতে এইরূপ বাশ পুজার আশ্চর্য্য আখ্যান লিখিত হইয়াছে। ৮. কুকিদের পূজার একটি মন্ত্র নিশ্নে দেওয়া হইলঃ- “আ খালে কাণুয়ই সাং যোয়ঙ্র কাণুয়ই যেই চেকো যেই মা লয়ঙ্গ।” অর্থাৎ হে শ্বেতবর্ণ দেবী মাই, শৃন্যপথে পিচ্ছিল গতিতে এখানে আসিয়া এ স্থান পূর্ণ কর। মষ্টম অধ্যায় : ধর্ম ও শিক্ষাদি শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত ৮৭ সদর, করিমগঞ্জ ও মৌলবী বাজারে ওয়েলিশ মিশনের এক এক আড্ডা আছে। পরলোকগত রেভারেণ্ড প্রাইজ সাহেবের যত শ্রীহন্টে খৃষ্টধর্ম প্রথমে প্রচারিত হয়। প্রাইজ সাহেব স্বীয় সরিত্রগুণে হিন্দুজাতিরও অতি প্রিয় ছিলেন। তীহার মৃত্যুর পর হিন্দুদের অর্থ সাহায্যেই তদীয় সমাধিস্তন্ত নির্মিত হয়। শ্রীহট্টে জনকতক সহরবাসী ইংরেজী শিক্ষিত ব্যক্তিতেই ব্রাহ্মধর্থ্ের প্রভাব সীমাবদ্ধ রহিয়াছে। ইহারা সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের অনুমত উপাসনাদি করেন। শ্রীহস্ট্রে ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে সর্বপ্রথম ব্রাহ্মসমাজগৃহ স্থাপিত হয়। ধর্মোৎসব মোসলমানদের মধ্যে শিয়া শ্রেণীর লোকের আসুরা পর্বে “তাবুজ” বাহির করার যথেষ্ট উৎসাহ আছে। শ্রীহস্টের আসুরা অতি বিখ্যাত ছিল। এখনও আসুরা পবের্ব ঈদগার ময়দানে লাঠি খেলা, বানুটি খেলা৯ ইত্যাদি হইয়া থাকে এবং অনেক তাবুজ আসিয়া জমা হয়। এ সময় ঈদগার ময়দানে এক মেল' বসে । মোসলমানগণ ঈদপব্র্বোপলক্ষেও বিশেষ ধূমধাম করিয়া থাকেন। হিন্দুদের দুর্গোৎসব পব্রবেই বিশেষ আড়ম্বর হয়। শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব সকলেই দূর্গা পুজায় বিশেষ উৎসাহ প্রকাশ করেন। শৈবদের মধ্যে বারুণী পর্ব এবং বৈষ্ণবদের ঝুলনযাত্রা ও করে। মনসা পূজা ও মাঘী সংক্রান্তি প্রতিপালন বিষয়ে দরিদ্র ব্যক্তিরাও অবহেলা করে না। নৌকাপুজা ও গোবিন্দকীর্তন শ্রীহট্টরের দুইটি বিশেষ ধর্ম্বোঘসব। কোন মাঠে গৃহ প্রস্তুত ক্রমে তাহাতে নৌকাকৃতি কাঠাম প্রস্তুত করা হয়। নৌকার কাঠামে মনসা মূর্তিই প্রধান। তদ্যতীত অপর বহুতর দেবমূর্তি গঠিত করতঃ নৌকাগৃহ পূর্ণ করা হয়। নৌকা পূজায় মনসার পুজাই উদ্দেশ্য স্বরূপ থাকে। বহুতর দেবমূর্তি সমন্বিত নৌকা গঠন ও সেবা পুজা ইত্যাদিতে নৌকা পূজায় অনেক অর্থব্যয় হয়। গোবিন্দকীর্ত্বন সন্ধ্যা হইতে প্রভাত পর্য্যন্ত গাইতে হয়। ন্যুনাধিক দুইশত, দেড়শত লোক দলে দলে বিভক্ত হইয়া আসরে উপস্থিত হয়। লতাপুষ্পমপ্তিত একটি কুঞ্জগৃহ নির্মাণ করিয়া তাহাতে রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ রাখা হয় ও তৎসম্মুখে দলে দলে পর্য্যায়ক্রমে অবিরাম ভাবে গীত গায়। গীত শেষ হইলে প্রভাতে মঙ্গল আরতি গাইয়া উৎসব শেষ করা হয় ও প্রসাদ বিতরণ হয়। গোবিন্দবীর্তনের সঙ্গীত, গৌর চন্দ্রিকা, জলসংবাদ, রূপ, খেদ, দূতীসংবাদ, অভিসার বা চলন এবং মিলন, এই পর্য্যায়ক্রমে গীত হয়। শ্রীহট্রে কবির গান ও ঘাটুর নাচ এক সময় অতি প্রচলিত ছিল। বালকগণ বালিকা বেশে নৃত্যসহকারে ঘাটুগান গাইত । মান, মাথুর ইত্যাদি ভেদে এই গান গাইতে হয়। এই সকল সঙ্গীত শ্রীহট্রের কবিগণ রচনা করিতেন। পৃবের্ব “ভাষা পদ্ম পুরাণ” সঙ্গীত যোগে শ্রাবণ মাসে গঠিত হইত, এ প্রথাও প্রায় উঠিয়া গিয়াছে। কবি যষ্টীবর এবং নারায়ণ দেবকে অনেকেই ময়মনসিংহবাসী বলিয়া মনে করিতেন, কিন্তু তিনি শ্রীহট্টবাসী বলিয়া প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। শ্রীহট্টে অন্যান্য দেবদেবী পূজায়, পশ্চিম বঙ্গের সহিত প্রভেদ দৃষ্ট হয় না। বারব্রতাদিতেও বড় বিশেষত নাই। জন্মাহের ষষ্ঠ দিবসে যষ্টীপূজা, অবিবাহিতা বালিকাদের মাঘ্বৰত এবং ৯. বংশদণ্ডের উভয় প্রান্তে নেকড়া জড়াইয়া তাহাতে আগুন ধরাইয়া লাঠি খেলার ন্যায় বানুটি খেলা করা হয়। ৮৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ রমণীদের সূর্যবত বিশেষ উল্লেখযোগ্য । মাঘ্ৰতে সমস্ত মাঘ মাস ভরিয়া অবিবাহিতা বালিকাদিগকে ভোরে উঠিয়া স্নানান্তে বরতের নির্দিষ্ট বেদিকা সম্মুখে বসিয়া কথা বলিতে হয়। বেদীর সম্মুখে জলপূর্ণ দুইটি গর্ত থাকে ও অভিভাবিকাগণ তথুল, হরিদ্রা, ইষ্টক চূর্ণ এবং আবির দ্বারা প্রত্যহ বেদীও ব্রতস্থান চিত্রিত করিয়া দেন। পনরদিন পরে “উদয় পুজা” । তৎকালে সমস্ত প্রাঙ্গন ভরিয়া চিত্র অঙ্কিত হয়। ব্রত সমাপ্ত দিন “দেউল” বিসর্জন করিতে হয়। ব্রতের দিন নির্দেশার্থ এক একটি মূন্ময় গোলক তুলসী বেদীর নিম্নে রক্ষিত হয়, তাহাই দেউল। উত্তম স্বামী, ধন জন, বন্ত্রালঙ্কার ইত্যাদি লাভ করা এই ব্রতের উদ্দেশ্য । শ্রীহত্টে স্ত্রীলোকদের মধ্যে সূর্যযবূতও বিশেষ প্রচলিত, ইহা মাঘ মাসের কোন এক রবিবারে, অতভূক্তাবস্থায় দণ্ডায়মান থাকিয়া করিতে হয় । কদলী বৃক্ষ গাদাফুলে মগ্তিত করিয়া প্রাঙ্গনে ধোথিত করা হয়। তাহার সম্মুখে দুইটি গর্তে জল ও দুগ্ধ রক্ষিত হয়, ও রঙ্গিণ চূর্ণে চন্্র সূর্য্যের চিত্র ভূমিতে অঙ্কিত করা হয়। ব্রতধারিণীকে শুধু উপবাস ও পরিচর্য্যা করিতে হয়, ব্রাহ্মণই পৃজা করেন। স্ত্রীলোকেরা কৃষ্ণলীলার গীত গাইয়া থাকেন, সূর্য্যান্ত হইলে ব্রতধারিণী উপবেশন করেন ও প্রসাদ ভক্ষণ করেন। শ্রীহপ্রের নগর-সঙ্কীর্ন ও বংশীবাদন অতি প্রসিদ্ধ । শ্রীহট্টবাসীরা নিজ জিলায় যে যে স্থান তীর্থবৎ মান্য করে, পরবর্তী অধ্যায়ে তাহা বর্ণিত হইবে । বিদ্যাশিক্ষা আদি বিবরণ প্রাচীন কালে হিন্দু রীত্যানুসারে গুরুগৃহে শিক্ষা সমাপন করিবার প্রথা ছিল। তাহার পরেও দেশে বিদ্যাশিক্ষার সুরীতি ছিল৷ কয়েক গ্রাম মধ্যেই এক বিদ্যালয় থাকিত, পণ্ডিত অথবা মৌলবী তাহাতে শিক্ষা দিতেন। কেতাবি শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে নীতি শিক্ষাও চলিত; কোন ছাত্রের বিরুদ্ধে নীতি বিগর্হিত ব্যবহারের কথা শুনা গেলে কঠোর শাস্তি প্রদত্ত হইত । রেভারেণ প্রাইজ সাহেবই এদেশে ইংরেজী শিক্ষার বীজবপন করেন, তৎকালে একটি স্কুল ছিল বটে, কিন্তু ইহা স্থায়ী হইতে পারে নাই। উচাইলের জমিদার একজন ইংরেজী শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন, তৎকালে পূর্ব্ববঙ্গে অল্পব্যক্তিই ইংরেজীর প্রতি অনুরক্ত ছিল। উচাইলে একটি বিদ্যালয়ও ছিল, ত্রিপুরা, ময়মনসিংহ হইতেও বহু ছাত্র এ বিদ্যালয়ে শিক্ষিত হইয়াছিল । ঢাকার এতিহাসিক বিবরণের একস্থানে লিখিত আছে যে, ১৮৬৭ খৃষ্টান শ্রীহস্ট জিলায় ২৮টি স্কুলে ১১২৭ জন ছাত্র ছিল। এই অত্যল্প ছাত্র সংখ্যার অর্ছেক শ্রীহট্র সহরে থাকিয়া শিক্ষা পাইত।১০ সুতরাং মফঃস্বলে তখন লোকের শিক্ষানুরাগ কিরূপ ছিল, ইহাতেই বুঝা যাইতেছে । পরবর্তী বিবরণ বর্তমান গবর্ণমেন্ট স্কুল ১৮৬৯ খৃষ্টাব্দে সংস্থাপিত হয়। এই স্কুল স্থাপিত হওয়ায় শ্রীহষ্টবাসীর ইংরেজী শিক্ষার পথ প্রসারিত হয়। রায় সাহেব দুর্গাকুমার বসু মহাশয়ের কার্য্যকালে শ্রীহট্ট জিলা-স্কুল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি গণনীয় স্কুল হইয়া দীড়ায় । ১০. 01101001 11599 0016 11151019 0170 918019110 01 1)9008 [)1৬15101) 1868. 0). 320. অষ্টম অধ্যায় : ধর্ম ও শিক্ষাদি শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ৮৯ সার জর্জ কেম্বেল সাহেবের প্রবর্তিত প্রাথমিক শিক্ষাবিস্তার জন্য শিক্ষক প্রস্তুতের আবশ্যক হওয়ায়, ১৮৭৩ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট্রে একটি নর্মাল স্কুল স্থাপিত হয়। শিক্ষক, গণিত শাস্ত্রবিশারদ স্বগীয় গোবিন্দচরণ দাস ও স্বরূপচন্দ্র রায়ের যত্তে এই স্কুলের বিশেষ উন্নতি লক্ষিত হইয়াছিল। কয়েক বর্ষে শিক্ষকের অভাব পরিপূর্ণ হইয়া গেলে এই স্কুল উঠাইয়া দেওয়া হয়। হাইকোর্টের উকীল স্বীয় জয়গোবিন্দ সোম শ্রীহট্টের সর্বপ্রথম এম. এ উপাধিধারী। ভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রাণ্ড শ্রীহট্টবাসীর মধ্যে, ছনখাইড়বাসী শ্রীযুক্ত গজনফর আলী খাঁ ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে ইংলগ্ড গমন করতঃ ভারতীয় সিভিল সাব্বর্বিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু স্বর্গীয় রমাকান্ত রায় এক বিষয়ে ভারতবাসীর পথপ্রদর্শক হইয়াছেন। জলসুখাবাসী স্বগাঁয় রায় মহাশয় ১৮৯৮ খৃষ্টাব্দ জাপান দেশে গমন করতঃ খনিজ বিদ্যা (মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং) শিক্ষা করতঃ প্রত্যাবর্তন করেন। তাহার পূ শিক্ষার উদ্দেশ্যে কেহ ভারতবর্ষ হইতে জাপান যান নাই। ইহার পরে করিমগর্জের শ্রীযৃত গুরুসদয় দত্ত সিভিল সাবির্বিস, ও জলসুখার শ্রীযুত রাধামাধব রায় কুপারহিল কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া আসিয়াছেন। পূর্বে শ্রীহস্্, কাছাড় এবং ময়মনসিংহ ও কুমিল্লার স্কুল সমূহ একজন ডিপুটী ইনিস্পেক্টরের অধীনে ছিল। ১৮৬৫ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্র ও কাছাড়ের জন্য স্বতন্ত্র ডিপুটী ইনিস্পেক্টর নিযুক্ত হন। তদবধি শ্রীহস্ট্রে সাধারণ শিক্ষা বিস্তৃত হইতেছে। এস্থলে ভূতপূবর্ব ডিপুটী ইনিস্পেক্টর রায় সাহেব নবকিশোর সেনের নাম উন্লেখ করা আবশ্যক । তাহার এঁকান্তিক যত্রে এদেশের প্রভূত কল্যাণ সাধিত হইয়াছে। বিগত ১৯০৫ খৃষ্টাব্দ হইতে ডিপুটী ইনিস্পেক্টরের স্থলে সুরমা উপত্যকার জন্য একজন ইনিস্পেক্টর নিযুক্ত হইয়াছেন; তদধীনে ডিপুটী ইনিস্পেক্টর ও সবইনিস্পেক্টরগণ আছেন। বর্তমানে প্রত্যেক সবডিভিশনেই এক একজন ডিপুটী ইনিস্পেক্টর আছেন। স্কুলাদির বিবরণ সহরের “রাসবেহারী স্কুল” দেশীয়দের দ্বারা পরিচালিত ইংরেজী স্কুলের আদি। স্বীয় রাসবেহারী দত্তের বাড়ীতেই এই স্কুল ছিল। “শ্রীহট্ট নেসনেল স্কুল” শ্রীহত্টের সুপুত্র দেশপ্রসিদ্ধ শ্রীযুক্ত বিপিনচন্ত্র পাল এবং স্কদেশপ্রেমী স্বর্গীয় রাধানাথ চৌধুরীর কীর্তি ছিল। শ্রীহট্টরের “মুরারিচান্দ কলেজ” ও তৎসংসৃষ্ট স্কুল রায়নগরের উন্নতচেতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায় কর্তৃক পরিচালিত হয় । কলেজটি তদীয় মাতামহের নামে (১৮৯২ খৃষ্টাব্দে) প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল । উক্ত মুরারিচান্দ কলেজ ও তৎসংসৃষ্ট স্কুল রাজা গিরীশ চন্দ্রের ব্যয়ে পরিচালিত। অধুনা কলেজটির ভার গবর্ণমেন্ট স্বয়ং গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক হইয়াছেন। শ্রীহষ্র গবর্ণমেন্ট স্কুল গবর্ণমেন্টের ব্যয়ে পরিচালিত । করিমগঞ্জ, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ, বাণিয়াচঙ্গ ও সুনামগঞ্জস্থিত হাইস্কুলগুলি সাহায্যকৃত। শ্রীহস্টে বর্তমানে এই সাতটি এন্ট্রেলস্কুল চলিতেছে । বর্তমানে শ্রীহট্ট জিলায় গবর্ণমেন্ট সাহায্যকৃত ৪০টি এবং বিনা সাহায্যে পরিচালিত ৪টি মধ্য ইংরেজী স্কুল আছে; মধ্যবঙ্গ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪টি মাত্র। শ্রীহট্র জিলায় ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৭৫১টি নিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।১১ ১১. ১১. ১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে ছাত্র সংখ্যাঃ কলেজের ছাত্র সংখ্যা ৩৯ জন ছিল, তনুধ্যে ১৪ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় । সাতটি এন্টরে্স স্কুলের উর শ্রেণী গুলিতে ৫৬৪ জন ছাত্র, মধ্য শ্রেণী গুলিতে ৫০৭ জন ছাত্র ও নিঙ্নশ্রেণী গুলিতে ৯০৭ জন ছাত্র অধ্যয়ন করিয়াছিল। এই অন্দে 8৪টি মধ্য ইংরেজী স্কুলের ইং শ্রেণীতে ৩২১ জন ছাত্র এবং প্রাথমিক শ্রেণী গুলিতে ২৭৫৭ জন ছাত্র অধ্যয়ন করেন। ১৪টি মধ্য বঙ্গবিদ্যালয়ের উর্ঘ শ্রেণীতে ১০২ জন এবং প্রাথমিক শ্রেণী গুলিতে ৭৩৭ জন ছাত্র ছিল। ৯০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ তদ্বযতীত জাতীয় শিক্ষা পরিষদের অধীন সদরে একটি জাতীয় স্কুল, এবং হবিগঞ্জ সবডিভিশন অপর একটি স্কুল স্থাপিত হইয়াছে। ১৮৭৬ খৃষ্টাব্দে [শ্রীযুক্ত বিপিনচন্দ্র পাল, শ্রীযুক্ত সুন্দরীমোহন দাস প্রমুখ) শ্রীহট্রের কয়েকজন মনস্বী ছাত্রের যত্বে কলিকাতায়, স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারার্থ “শ্রীহট্ট সম্মিলনী” সভা স্থাপিত ও গ্রাম্য রমণীদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে বালিকাদের শিক্ষার জন্য ৮৩টি পাঠশালা চলিতেছে । ১৯০৩ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্রে একটি আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। সম্প্রতি আথালিয়া নিবাসী শ্রীযুক্ত সদয়া চরণ দাসের কন্যা শ্রীমতী সরোজিনী দাসী বি. এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াছেন। ভাষা শ্রীহট্টের পার্বত্য অধিবাসীদের বিভিন্ন কথ্য ভাষা আছে । বাঙ্গালা ভাষায় ২০৬৮৫৪৯ জন কথা কহে। মণিপুরীদের নিজেদের একটা কথ্য ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য ভাষা বাঙ্গালা । ২৮৬৫৭ ব্যক্তি মণিপুরপরী ভাষা কথা কহে। এইরূপ তিপ্রা প্রভৃতি প্রত্যেকরই এক একটি স্বতন্ত্র কথ্যভাষা আছে । ঘথাঃ-- কুকিদের ভাষায় কথা কহে _-৪১৯ জন। খাসিয়াদের ” _২২৩২ জন। গারোদের & ্ _-৬৪৬ জন। তিপরাদের র্‌ _-৯১৬৫ জন। এই পার্বত্য ভাষা গুলির প্রকৃতি জি ভিন্ন। শ্রীহট্টের উচ্চ শ্রেণীর মোসলমান পরিবারে উর্দু ভাষায় কথা কহিবার রীতি প্রচলিত আছে শ্রীহট্রের মোসলমানদের মধ্যে একরূপ নাগরাক্ষর প্রচলিত আছে। অনেক মোসলমানী কেতাব এই অক্ষরে মুদ্রিত হয়। এই অক্ষর অতি সহজে শিক্ষা করা যায়। কলিকাতায়১২ শ্রীহট্টবাসী মোসলমানগণ এই অক্ষরে একটা মুদ্রাযন্ত্র স্থাপন করিয়াছেন । তাহাতেই পুস্তকাদি ছাপা হইয়া থাকে ।১৩ সংবাদপত্র সাধারণ শিক্ষা প্রচার পক্ষে সংবাদ পত্রের সহায়তা সামান্য নহে। শ্রীহট্র--লংলাবাসী গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য্য এই মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হইয়া সংবাদপত্র প্রচারের সঙ্কল্প করেন। কিন্তু তৎকালে শ্রীহস্টে থাকিয়া তাহার সঙ্কল্প সিদ্ধি হইবার সন্তাবনা ছিল না। কাজেই তিনি কলিকাতায় গমন করেন এবং ১৮৩৯ খৃষ্টাব্দে শোভাবাজার হইতে সম্বাদ ভাঙ্কর নাম পত্রিকা বাহির করেন। এই পত্রিকা সপ্তাহে তিন দিন প্রকাশিত হইত । গৌরীশঙ্করের সম্বাধভাঙ্কর ইশ্বরচন্ত্রগুপ্তের সং এই অন্দে ৩৮টি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উচ্চ শ্রেণীতে ১৯২ জন ছাত্র এবং নিঙ্ন শ্রেণীগুলিতে ১২২৩ জন ছাত্র ছিল। ৭৫১টি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উচ্চ শ্রেণীর ছাত্র সংখ্যা ৯২২৮ জন এবং নিন্ন শ্রেণীর ছাত্র সংখ্যা ১৫৯৫৯ জন ছিল । ৮৩টি বালিকা বিদ্যালয়ের উর্ঘ শ্রেণীতে ১৮ জন ছাত্রী উচ্চ প্রাথমিক পাঠ্য ও ১৮১৯ জন নিঙ্ন প্রাথমিক পাঠ্যশিক্ষা করিয়াছে। ১২. ১৬ নং গার্ডেনার লেন, তালতলা,-কলিকাতা । ১৩. ঝ-পরিশিষ্টে মোসলমানী নাগরীর বর্ণমালা দেওয়া যাইবে। অষ্টম অধ্যায় : ধর্ম ও শিক্ষাি শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৯১ প্রভাবকরের প্রবল প্রতিদ্বন্বী ছিল।। শ্রৃহট্ট হইতে ১৮৭৬ খৃষ্টাব্দে সর্বপ্রথম “শ্রীহট্রপ্রকাশ” প্রকাশিত হয়। লাতু নিবাসী কৰি প্যারীচরণ দাস অষ্টপতি ইহার সম্পাদক ছিলেন) শ্রীহস্ট্রে ইহার বহুল প্রচার ছিল। প্যারী বাবু একজন হৃদয়বান কবি ছিলেন, পদ্যপুস্তক প্রথমভাগ, তৃতীয়ভাগ ও ভারতেশ্বরী কাব্য ইহার পরিচয় দিতেছে শ্রীহট্রগ্রকাশ ছয় বৎসরকালে পূর্ণ উদ্যমে পরিচালিত হইয়াছিল । শ্রহষ্ট হইতে “পরিদর্শক” নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা ১৮৮০ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। শ্রীহট্রের কৃতি সন্তান প্রসিদ্ধ বক্তা শ্রীযুক্ত বিপিনচন্দ্র পাল ও স্বদেশপ্রেমী স্বগীয় রাধানাথ চৌধুরীর সম্পাদকতায় ইহা বাহির হয়। কিছু দিন মধ্যেই রাধানাথ বাবু স্বয়ং এক মুদ্দয আনয়ন পূব একাকী সম্পাদকীয় ভার গ্রহণ করেন। পর্বাজক, শ্রীহট্টমিহির এবং শ্রীহট্টবাসী অল্পজীবী, শ্রীহ্টবাসী পরে পরিদর্শকের সহিত মিশিয়া এক হইয়া যায়। পরিদর্শক আজ পর্য্যন্ত কোনও রূপ জীবিত আছে। শ্ীহস্ট্রের একমাত্র মাসিক পত্র “শ্রীহট্র দর্পণ” (প্রকাশিত ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দ) অল্পকাল মধ্যেই সাহিত্য ক্ষেত্রে পরিচিত হয়৷ ইহার পরমায়ু দুই বৎসর মাত্র ছিল ।১৪ ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে প্রথম রহস্যাত্বক বার্ষিক পত্রিকা “ফুলততৃ” প্রকাশিত হয়, এখনও মধ্যে মধ্যে ১লা এপ্রিল তারিখে, ভিন্ন ভিন্ন নামে, ইহার আবির্ভাব দৃষ্ট হয়। শ্রীহট্টের একমাত্র সুপরিচালিত ইংরেজী সাপ্তাহিক পত্রিকা "ণ॥০ ৬/০০]1) 01010171016. ১৯০০ খৃষ্টাব্দ হইতে শ্রীযুক্ত শশীন্দ্রচন্ত্র সিংহ চৌধুরী কর্তৃক যোগ্যতার সহিত প্রচারিত হয় । খৃষ্টীয়মানদের পরিচালিত "[71010 01 5১]7০৮ নামক একখানি মাসিক পত্রিকা আছে। মফঃস্বল (করিমগঞ্জ) হইতে “প্রভাত” নামক পাক্ষিক পত্রিকা (১৯০৬ খৃষ্টাব্দ) বাহির হইয়াছিল, সম্প্রতি হবিগঞ্জ হইতে “প্রজাশক্তি” বাহির হইতেছে। শ্রীহট্টে বিভিন্ন ব্যক্তির তত্বাধীনে এখন পীচটি মুদাযন্ত্রে কাজ চলিতেছে। ১৪. শ্রীহট্রের হবিগঞ্জ হইতে শ্রীযুত নগেন্দ্র নাথ দণ্ড মহাশয়ের সম্পাদকতায় “মৈত্রী” নামে একখানি সুপরিচালিত মাসিক পত্রিকা ১৩১৬ বাঙ্গালার বৈশাখ মাস হইতে যথানিয়মে প্রকাশিত হইতেছে। নবম অধ্যায় তীর্থস্থান শ্রীহট্ট জিলার সীমাদেশে প্রায় চারিদিকেই দেবতাদের অবস্থান দৃষ্টে এ জিলাকে দেবরক্ষিত দেশ বলিলে, অসঙ্গত বলা হয় না। উত্তরে পণাতীর্থ হইতে আরম্ভ করিয়া, মহাদেব রূপনাথ, সিদ্ধেস্বর, উণকোটি, তুঙগেশ্বর ও ব্রহ্মকুণ্ড পর্য্স্ত জিলার তিনদিকেই বৃত্তাকারে দেবস্থান রহিয়াছে । এ সকল স্থান কেবল শ্রীহন্টবাসীরই পরিচিত, এমন নহে; পার্ববর্তী জিলার লোকও এঁ সকল তীর্থ সেবন করিয়া থাকেন। শ্রীহস্টবাসীগণ তীর্থ সেবা পরায়ণ। কাশী, বৃন্দাবন, কামাখ্যা, প্রয়াগ, গয়া, গঙ্গা, জগন্নাথ যেখানেই যাও না কেন, বহু বু শ্রীহন্টের নর নারী দেখিতে পাইবে। শ্রীহন্ট জিলাতেও ধর্মপ্রাণ অধিবাসীদের বাসনা পরিতৃতপ্তির নিমিত্তে বহু দেবস্থান বিদ্যমান। এই সকল তীর্থস্থানের মধ্যে প্রথমেই আমরা বামজজ্ঘা মহাপীঠের উল্লেখ করিতেছি। বামজজ্ঘা মহাপীঠ মহাপীঠ | বামজজ্ঘা মহাপীঠ সাধারণতঃ “ফালজোরের কালীবাড়ী” নামেই কথিত হয়। পুরাণে বর্ণিত আছে যে, মানব জাতির প্রথম সভ্যতার যুগে (সত্য যুগে) দক্ষ প্রজাপতি এক যজ্ঞ করেন। সেই যজ্ঞে সব্বদেব আহুত হন, কিন্তু দক্ষপ্রজাপতি মহাদেবের নিয়ন্ত্রণ না করিয়া, তাহার নিন্দাবাদ করিয়াছিলেন। দক্ষতনয়া সতী পিতার মুখে পতি নিন্দা শ্রবণে অপমানে ও দুঃখে দেহত্যাগ করেন। সতী দেহ ত্যাগ করিলে মহাদেব সতীদেহ ক্কন্ধে করিয়া উন্মুত্তের ন্যায় ভারতের বিবিধ অংশে ভ্রমণ করেন। ভগবান বিষ তখন চক্রান্তে সতীর দেহ খণ্ড খণ্ড করিয়া ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পতিত করেন। যে স্থানে সতীর ছেদিত অঙ্গ পতিত হয়, তাহা এক একটি তীর্থে পরিণত ও মহাপীঠ নামে খ্যাত হইয়াছে। যে স্থানে সতীর অঙ্গাংশ বা অলঙ্কার পতিত হয়;--তাহার নাম উপপীঠ। প্রত্যেক পীঠের অধিষ্ঠাত্রী এক এক ভৈরবী ও তীহার রক্ষক স্বরূপ এক এক ভৈরব (শিব) আছেন। আমাদের সৌভাগ্যক্রমে শ্রীহন্টে দুইটি মহাপীঠ আছেন। বাউরভাগে বামজজ্ঘা পীঠ বামজজ্ঘা মহাপীঠ জয়ন্তীয়ার বাউরভাগ (বউ-বাম-উরু-ভাগ) পরগণায় অবস্থিত।১ পীঠাধিষ্ঠাত্র জয়ন্তী দেবীর নামেই সে অঞ্চল জয়ন্তীয়া রাজ্য, ও তদৃত্তরবর্তী পর্বত অয়ন্তীয়া পর্বত নামে খ্যাত হইয়াছে। বিশ্বকোষ ১২ ভাগ ৫৯৯ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে,_-“ফালজোর একটি প্রধান পীঠস্থান। এখানে দেবীর বামজজ্ঘা পতিত হয়, এজন্য ইহাকে বামজজ্ঘা পীঠও বলে। বামজজ্ঘা পীঠের সাধারণ নাম ফালজোরের কালী বাড়ী । তন্ত্রচুড়ামণি মতে--“জয়ন্ত্যাং বামজজ্ঘা ১,110 01806 ৬/10801] 15 70091 590190 11) ১৪1151০0515 10411]01 15 [00161010 81108110180 11 19011110, ৬1016 (11016 15 2 51010 [01110 ৮4110115510 10100 59015 191 108. -/১৩]]া] 101501101 08701160ো% ৬01. |] (9%11061) 01190. 111 9. 40 নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৯৩ চ জয়ন্তী ক্রমদীশ্বর ৷” “এখানকার দেবীর নাম জয়ন্তী, ইহারই নামানুসারে এই স্থান জয়ন্তী নামে পরিচিত। এখানকার ভৈরবের নাম ক্রমদীশ্বর ৷ তন্ত্র বলেন--কৈলাসে দশ লক্ষ্যেণ জয়ন্ত্যাং পঞ্চ লক্ষত।' অর্থাৎ পঞ্চ লক্ষ বার মাত্র মন্ত্র জপেই এখানে সিদ্ধি হয়।” “এই মহাপীঠ শ্রীহট্ট নগরী হইতে ৩৮ মাইল উত্তরপূবের্ব পর্বত পাদদেশে একখণ্ড সমতল ভূমে, ইষ্টক নির্িত প্রকাণ্ড এক ভিত্তির মধ্যস্থিত চতুষ্কোণ অগভীর এক গর্ত মধ্যে ও একখানি চতুষ্কোণ প্রস্তরোপরি অবস্থিত । ভৈরবও প্রস্তরূপী হইয়া দেবীর সহিত একত্র অবস্থান করিতেছেন । ১৮৩৭ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত এই স্থানে বহুতর নরবলি হইয়া গিয়াছে। ইংরেজ রাজ এই নৃশংস প্রথা রহিত করিবার জন্য জয়ন্তীয়া রাজ্য দখল করিয়া লন । তদবধি নরবলি বন্ধ হইয়াছে।” “দেবীর মন্দিরের পূর্বদিকে একটি অতি প্রাচীন পুঙ্করিণী আছে, ইহা প্রায় বুজিয়া গেলেও জল অতি পরিষ্কার থাকে কম বেশী হয় না; দেখিলে চমৎকৃত হইতে হয় ।” “য়ন্তীয়ার স্বাধীনতার সময় রাজোচিত ভাবেই দেবীর সেবা হইত । রাজারা বলিতেন “সমস্ত জয়ন্তী রাজ্যই মায়ের-_তীহার জন্য আবার পৃথক দেবোত্তর কি?' বস্তুত সেই জন্যই কোনও দেবোত্তর নির্দিষ্ট নাই। জয়ন্তীয়ার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই এই গীঠেরও দুরবস্থা ঘটিয়াছে। এখন দেবী একখানি জীর্ণ কুটীরে বাস করিতেছেন ।” পীঠ প্রকাশ এই মহাপীঠের প্রকাশ সম্বন্ধে কিঞিৎ বলা আবশ্যক । ফালজোরের কালী ও নরবলির বিষয় উল্লেখ করা যাইবে । জয়ন্তীয়ায় কিরূপে কখন হইতে এই ভীষণ প্রথা প্রবর্তিত হয়, তৎসম্বন্ধে নিম্নোক্ত কিংবদন্তী শ্রুত হওয়া যায়। জয়ন্তীয়ার বড় গোসাঞ্জির রাজত্বকাল (১৫৪৮-১৬৬৪ খৃষ্টাব্ পর্য্ত্ত) একদা কতিপয় রাখাল বালক একখণড প্রস্তরের সন্নিকটে নানারূপ খেলা করিতেছিল। ত্রীড়াচ্ছলে তাহাদের মধ্যে একজন রাখাল পূজক সাজিলে, অপর বালক ছাগশিশুরূপে তদ্বৎ শব্দ করিতে লাগিল । অন্য বালকেরা পুষ্পাদি আনিয়া দিলে ব্রাহ্মণরূপী বালক পূজায় বসিল। দৈবক্রমে তাহারা সেই প্রস্তরকেই পূজা করিল। পূজা সমাধা হইলে বলির জন্য ছাগরূপী বালক আনীত হইল এবং বিন্না তৃণের দীর্ঘ-পত্ররূপ খড়েগ ছাগরূপী বালকের গলদেশে আঘাত করা হইল। কিন্তু ইহাতে এক অলৌকিক সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার সংঘটিত হইল, বিশ্নাতৃণপত্রের আঘাতে সেই বালক দেহ দ্বিখগ্তিত হইয়া গেল!! ভয়ত্রস্ত বালকদল যার যার গৃহে দৌড়িয়া গেল, মুহূর্তে সেই স্থান জনতা পূর্ণ হইল । এই অদ্ভুত হত্যা বিবরণ রাজপুরুষগণ কর্তৃক রাজার শ্রুতি গোচর হইল; রাজা বড় গোসাঞ্জি প্রথম) এই আশ্র্য্য ঘটনা শ্রবণে কৌতুহলাবিষ্ট হইয়া, স্বীয় গুরুদেবকে সঙ্গে করতঃ স্বয়ং ফালজোরে গমন করেন। জয়ন্তীরাজের গুরু একজন প্রসিদ্ধ তান্ত্রিক ও সিদ্ধপুরুষ ছিলেন। তিনি বালকদের খেলা স্থলে উপস্থিত হইয়া, সে প্রস্তরখণ্ড দর্শনে বিশ্বিত হইলেন ও আধ্যাত্মিক প্রমাণ প্রাপ্তে তাহাকেই বামজজ্ঘা পীঠের ভৈরবী জয়ন্তীদেবী বলিয়া প্রকাশ করিলেন। মহারাজ, নিজ রাজ্যের জয়ন্তীয়া নাম হওয়ার মূল কারণ এই দেবীর পরিচয় প্রান্তে অত্যত্ত প্রফুলু হইলেন। ঢাক ঢোল বাজাইয়া আনন্দ প্রকাশ করিলেন এবং দেবীকে নিজপাটে (রাজধানীতে) লইয়া যাইবার জন্য খনক নিয়োজিত করিলেন। কিন্তু খনন কারীরা ক্রমাগত খনন করিয়াও প্রস্তর খণ্ডের নিন্নপ্রাপ্ত বাহির করিতে সমর্থ হইল না; কারণ--কিছুটা খনন করিলেই পার্থোথিত ভূরি পরিমাণ বালুকায় গর্তটি পূরিয়া যাইতে লাগিল । পুনঃ পুনঃ চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্ষ্য হইলে, তাহা দৈব্য অভিপ্রায়ে সংঘটিত হইতেছে ভাবিয়া, রাজা সেই উদ্যমে ক্ষান্ত ৯৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ হইলেন ও সেই স্থান সুচারুরূপে বাধাইয়া দিলেন। অনতিবিলম্বে চতুর্দিক প্রাচীরে বেষ্টিত হইল, এবং প্রাচীরের গায় সহত্্র প্রদীপ প্রজ্বালনের ও নিয়মিত পুজা পরিচালনের সুব্যবস্থা হইল। সেই যে রাখাল বালক অলৌকিকরূপে নিহত হয়, তাহাতেই দেবীর নিকটে নরবলি দেওয়া প্রথা জয়ন্তীয়ায় প্রবর্তিত হইয়াছিল। বড়ই আশ্চর্য্যের বিষয় যে, প্রায় সেই সময়েই কৌচরাজ বিশ্বসিংহ কর্তৃক কামাখ্যা মহাপীঠ আবিষ্কৃত হয় ।২ যখন জগতে শুভ যুগের আবির্ভাব ঘটে, তখন ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এক সময়ে এইরূপেই শুভ সূচিত হইতে থাকে, ধর্ম জগতের ইতিহাসে তাহার বহু প্রমাণ বিদ্যমান । ক্রমদীশ্বর ও রূপনাথ বামজজ্ঘা পীঠে আকড়িয়া ধরা মূর্তিকে কেহ কেহ ক্রমদীশবর ভৈরব বলে না মতান্তরে বূপনাথ শিবই উক্ত ক্রমদীম্বর ৩ রূপনাথ মহাপীঠ হইতে অল্প উত্তরে এবং অনুসন্ধানে পরে আবিফৃত হন বলিয়া কথিত আছে।৪ রূপনাথ আবিষ্কৃত হইলে মহারাজ রূপনাথের দক্ষিণ দিকে এক পাকা মন্দির প্রস্তুত করিয়া দেন। কথিত আছে যে, স্বপ্রাদেশ হওয়ায় মহাদেবকে আর সেই মন্দিরতলে নেওয়া হয় নাই; তাহার বংশ ও পর্ণ নির্মিত কুটীর খাসিয়া নারীরা প্রস্তুত করিয়া দিয়া থাকে । রূপনাথ গুহা রূপনাথের সন্নিকটেই প্রসিদ্ধ রূপনাথ গুহা । ইহা পূর্ব্বাঞ্চলের এক আশ্চর্য্য দর্শনীয় স্থান । দর্শনার্থীকে চিহ্নিত রাজকীয় পথে পব্বতমূল হইতে ক্রমোর্ধ বক্র গতিতে প্রায় দুই মাইল উর্দে উঠিতে হয়। অর্থ পথেই রূপনাথের কুটীর, তদুপরি গুহা । গুহাভ্যন্তর গাঢ় তিমিরে চির সমাচ্ছত্র। আলোক ব্যতীত গুহাদর্শনার্থীর পাদার্ঘ অথ্থসর হইবার ক্ষমতা নাই। খাসিয়ারা আলোক ও পথ প্রদর্শন কার্ষ্যে যাত্রীদের সহায়তা করে । (এখানে কোনরূপ পাপ্তার উৎপাত নাই, কিছু পারিশ্রমিক দিলে খাসিয়ারাই দ্রষ্টব্য স্থানগুলি দেখাইয়া দেয়।) প্রতি সোমবারে জয়ন্তীপুর হইতে ব্রাহ্মণ গিয়া রূপনাথের পৃজাচ্চা করিয়া থাকেন। গুহাটিকে অন্ধকারের বিশ্রামাগার বলা যাইতে পারে; ভূগর্ভের অন্ধকার--সে চিরসঞ্চিত অন্ধকার মানব কল্পনার অতীত। প্রদীপ্ত আলোক যোগে সেই গভীর তমোরাশি মথিত করিয়া, সন্তর্পণে ধীরে ধীরে, অল্প একটু অগ্রসর হইলেই, দর্শকের দৃষ্টি উর্দদিকে একটি বিস্তৃত ঝালরের উপর হঠাৎ পতিত হয়৷ অতি সুরম্য প্রজবলৎ কিংখাপের ঝালরের মত শূন্যে ঝুলিতেছে। বুদ্ধিমান পাঠককে বুঝাইতে হইবে না যে, এ ঝালর প্রস্তর ব্যতীত আর কিছুই নহে; অকৃত্রিম-স্বাভাবিক আর্দ্র প্রস্তর খণ্ড বিস্তৃত রহিয়াছে, তাহার উপর আলোকের প্রভা প্রতিফলিত হইলে নয়নরঞ্জন বস্ত্র ঝালরবৎ প্রতীয়মান হয়। বন্ত্র ঝালর পার হইয়া গুহাভ্যন্তরে কিঞ্িৎ অগ্রসর হইলে, চতুষ্পার্থে শিবলিঙ্গাকার অগণ্য প্রস্তর রাজি বিরাজিত রহিয়াছে দৃষ্ট হয়; কত যে শিবলিঙ্গ, তার সংখ্যা নাই। যদি এখন ২. এই বিষয়ে যাহারা কৌতুলাৰিষ্ট, তাহারা শ্রীযূত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ এম.এ মহাশয়ের লিখিত *পূর্ণানন্দগিরি ও কামাখ্যা মহাপীঠ” প্রবন্ধটি পড়িবেন। উক্ত প্রবন্ধটি সুখপাট্য ও সুযুক্তিপূর্ণ। ইহা “আরতি” পত্রিকা (বৈশাখ- ১৩১৪ বাংলা) ৭ম খণ্ড ৫ম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হইয়াছে। ৩. স্বগয়ি কামাখ্যাতেও এই বিভ্রাট । কামাখ্যার ভৈরব রাবানন্দ, কিন্তু উমানন্দকেই সচরাচর চৈরব বলিয়া গণ্য করা হয়। (বোধ হয় উভয় স্থলেই ভৈরবগণ সাধকের নাম গ্রহণ পূর্বক বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রাপ্ত হইয়াছেন । 8. /১5521) 101511101 020116615 %01- 1] (5911101) 0100. 111 0:87. নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত ৯৫ চিন্তনীয়-_-তক্তিভাবোদ্দীপক কিছু থাকে, তবে তাহা এই শিবলিঙ্গ সমূহ। এত অগণ্য শিবলিঙ্গ কে জানে কখন কি উদ্দেশ্যে সৃষ্ট হইয়াছিল? এমন অনেক শিবলিঙ্গ দৃষ্ট হয় যাহার শীর্ষ দেশ হইতে অল্পে অল্পে অনবরত জলকণা নিঃসৃত হইতেছে। হাত দিয়া মুছিয়া দাও, দেখিতে দেখিতে আবার জল নির্গত হইবে। আরও কিঞ্চিৎ অগ্রসর হইলে “নক্ষত্র মণ্ডল” দৃষ্টি গোচর হয়। নক্ষত্র মণ্ডল প্রকৃতই শোভার ভাগ্তার। এমন মনোরঞ্জন--এমন মনোজ্ঞ, এমন তৃপ্তিপ্রদ ও সুখদ দৃশ্যে কাহার না বিন্ময় উৎপাদিত হয়? মস্তক উত্তোলন করিলেই সহস্র সহস্্ নক্ষত্র উর্ধে জুলিতেছে দেখিতে পাওয়া যায়। উপরে কৃষ্ণ চন্ত্রাতপের ন্যায় প্রস্তরের অঙ্গে সমুজ্বল বিন্দুগুলি, দর্শনে বুদ্ধিমানেরও ভ্রম উৎপাদিত হয়। কিন্তু এ হেন শোভার আম্পদ তারকাবলী জলবিন্দু মাত্র। বিন্দু বিন্দু জল চোয়াইয়া উপরের প্রস্তরছাদে ঝুলিতে থাকে, যাত্রীগণের দীপালোক তদুপরি নিপতিত হইয়াই বিচিত্র প্রোর্জল নক্ষব্রবৎ অনুভূত হয় । স্থলান্তরে স্থুলাকার এক অপূর্ব শিবলিঙ্গ, তাহাতে অগণ্য স্বর্ণরেনু ঝিকিমিকি করিতেছে । একস্থানে স্তন্বাকার পীচটি প্রস্তর, ইহার নাম “পঞ্চ পাণ্তব”। (এই শিবক্ষেত্রে পঞ্চ পাণ্ব প্রস্তর দেহে বিরাজ করিতেছেন বলিয়া ব্যাখ্যাত হয় ।) স্থুলান্তরে বট গাছের বোয়ার (শিকড়ের) মত চারিটি বৃহত্তম প্রস্তর নামিয়াছে; ইহাকে “চারিযুগের খম্বা” বলে। এরূপ আর এক প্রকাণ্ড প্রস্তরের “ভৈরব” আখ্যা । অতঃপর একটি গভীর গর্ত দৃষ্ট হয়, ইহা “লক্ষ্মীরভাপ্তার” ৷ তৎপর “্বর্সদ্বার” । স্বর্গদ্বার স্থানটি শান্তভাবোদ্দীপক, অতি মনোরম ও তৃপ্তিপ্রদ। বহুক্ষণ অন্ধতমোময় ভূগর্ভে শ্রান্তদেহে, ক্লান্তমনে ভ্রমণ করতঃ হঠাৎ যখন স্বীয় শুভ্রজ্যোতি রেখা নয়ন পথে পতিত হয়, তখন মনে মনে যেন এক উদাস ভাবে কোন অজানা দেশে চলিয়া যায়। নিবিড়তম অন্ধকারে-_গুহাভ্যন্তরে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র পথে, উর্দঘ হইতে অতি সামান্য, মিটি মিটি আলোক ভিতরে আসিতেছে; সেই আলোকে, গুহার উর্ধদিকে অল্প কিছুটা স্থান ঈষৎ আলোকিত হইতেছে; ত তথায় যেন কত শোভা ফুটিয়া উঠিয়াছে, ইহাই স্বর্গদ্বার। (লোকের বিশ্বাস যে, স্বর্গদ্বার দেখিলে, স্বর্গ গমনে আর বাধা থাকে না।) এ স্থান হইতে কিছুদূরে, আর একটি অন্তগহবর বা গর্ত দৃষ্ট হয়। অতি সতর্ক না হইলে সে গর্তপথে প্রবেশের সাধ্য নাই। ইহার ভিতরে কয়েকটি প্রস্তরের 'ব্রিশূল" প্রথিত রহিয়াছে; এস্থানের নাম “যোগনিদ্রা”। সাধারণতঃ যোগনিদ্রা” হইতেই দর্শকগণ প্রত্যাবৃত্ত হয়। ইহার পর “পাতল বা নাগপুরী' ৷ ভীষণ সর্প গণের আবাস স্থান বলিয়া ব্যাখ্যাত। একথা বড় অসম্ভব নহে। প্রবেশ ছার হইতে যোগনিদ্রা পর্য্যন্ত যাইতে প্রায় অর্ ঘণ্টা সময় লাগে । এই গুহাটি এত বৃহৎ যে, এককালে দুই তিন শত লোক প্রবেশ করিলেও পরম্পরে সাক্ষাৎ পাওয়া যায় না। প্রবাদ এই যে, দেবাসুর যুদ্ধে পরাভূত দেবগণ অসুরভয়ে এই নির্জন গুহায় লুকাইয়া আত্মরক্ষা করেন। পৃবের্ব এই স্থানে মধ্যে মধ্যে অনেক মহাপুরুষকে বসিয়া সাধন করিতে দেখা যাইত । গুহার দ্বারে বঙ্গাক্ষরে রাজা রামসিংহের নাম খুদিত আছে। সাতহাত পানি ও গুপ্ত গঙ্গী গহ্বর হইতে বাহির হইয়া, ইহার নিকটবর্তী “সাতহাত পানি” নামক এক নির্মল সলিলা কুণ্ডে স্নান তর্পণ করিতে হয়। এই কুপ্ডের গভীরতার পরিমাণ হইতেই তাহার নামকরণ হইয়াছে। সাত হাত পানির অল্প উত্তরে “পাতাল গঙ্গায়” ও তর্পণাদি করিতে হয়। তাহার উত্তরে একটা অতি বৃহৎ ও উচ্চ পাথর আছে, এ পাথরের নীচে একটা গভীর কৃপ। একটা গুপ্ত জলস্রোত সো ৯৬ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ সৌ শব্দে অদৃশ্য ভাবে এ কৃপে পতিত হইয়া, একদিক দিয়া বাহির হইয়া যাইতেছে, ইহারই নাম “গুপ্ত গঙ্গা” । এস্থানে স্নান করা যায় না, ঘটিদ্বারা জল লইয়া লোকে মাথায় দেয়। শিবের বাড়ীর দক্ষিণে একটা পুকরিণী আছে, জয়ন্তীয়ার জনৈক রাজা একরাত্রে এ পুকরিণী খনন করাইয়া দিয়াছিলেন বলিয়া কথিত আছে। পুকুরের উত্তরে কৃষ্পপ্রস্তরের একটা প্রকাণ্ড হস্তী রহিয়াছে, ঠিক জীবন্ত বন্য হস্তী জলপান করিতে আসিয়াছে বলিয়াই বোধ হয়। নিম্ন প্রবাহী “ভুবনছড়ার” পশ্চিমাংশে এরূপ আর একটি প্রস্তর নির্শিত হস্তীমূর্তি আছে। প্রস্তর শিল্পে এক সময় জয়ন্তীয়াবাসীরা বিশেষ উন্নতি করিয়াছিল । শিবের বাড়ীর পথে একটা প্রকাণ্ড প্রস্তরে, বৃহৎকায় একদণ্ড গণেশের এক মূর্তি আছে, কিন্তু তাহার কোনরূপ পূজা অর্না নাই। রূপনাথ শিবপূজার্থে যাত্রীগণকে অর্নার দ্রব্য ও নিজের পুরোহিত সঙ্গে নিতে হয়। গুহাভ্যন্তরে কোন দেবতার পূজার প্রথা নাই। শিবরাত্র ও বারুণী উপলক্ষে এই স্থানে বহুলোকের সমাগম হয়। গ্রীবা পীঠ গোটাটিকরের ভৈরবী বাড়ী বিশ্বকোষ ১১শ ভাগ ৪৬৮ পৃষ্ঠায় বিশেষ প্রমাণের সহিত লিখিত হইয়াছে যে, গ্রীবা পীঠ রানার রানা রাবি নিরাকার তন্নিকটে বিরাজিত, তাহা সকলেরই মনের ধারণা ।৫ গোটাটিকরের ভৈরব বাড়ি কিন্তু কোথায় যে সে পুণ্যস্থান অবস্থিত, তাহার যথার্থ নির্দেশ সাহস সহকারে করা যাইতে পারিত না। কেহ কেহ মনে করিতেন, দরগা মহল্লায় এই মহাপীঠ ছিল, পরে বিলুপ্ত হইয়াছে। কেহ কেহ বা দুর্গাবাড়ীতেই এই পীঠের অবস্থিতি স্থান কল্পনা করিতেন; কিন্ত্ু এই উভয় স্থানই যে প্রকৃত মহাপীঠ নহে, তাহা সহজেই জানা যায়।৬ এই মহাপীঠ কোথায়, যখন তাহা জানিবার জন্য লোকের বিশেষ একাগ্রতা জন্মিল, যখন অনেকের এ এক বিষয়ই অনুধ্যেয় হইয়া দীড়াইল, তখন দেবী প্রসন্না হইলেন। মহাপীঠ কোথায়, তাহা জানিবার আর বাকি থাকিল না; গোটাটিকরেই তখন মহাপীঠের বিদ্যমানতার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেল। ভক্তগণ উৎফুন্ন হইলেন, ভট্ট-কবিগণ চতুর্দিকে এই কথা প্রচার করিয়া দিলেন।৭ সকলেই জানিতে পারিল যে, শ্রীহট্ট সহর হইতে দেড় মাইল মাত্র দক্ষিণে গোটাটিকরের জৈনপুরে সস ্রীবা দীঠ অবস্থিত সরকারী ইতিহাস গ্রহে ৫. "58015151156 611 811 10111018210 1001 1601 1 01116010116 (0৬/1 5১11061. -[6001 017 0190 0010585 01 4/55517-1901. ৮01. 1৬ [9011 10, 40. ৬. দরগা মহল্লায় যে মহাপীঠ ছিল না, সুহেল-ই-এমন প্রভৃতি গ্রন্থে এতদ্বিষয়ে কিছু বর্ণিত না থাকাতেই তাহা প্রমাণিত হয়। মোসলমান কর্তৃক হিন্দুতীর্থ বিনষ্ট হইলে সগৌরবে তাহা লিখিত হইত। বস্তুতঃ কোন দেবতার প্রতিই তৎকালে অত্যাচার হয় নাই, সম্ভবতঃ এস্থানেস্থিত হাটকেশ্বর শিবও স্থানান্তবিত হইয়াছিলেন। আর দুর্গাবাড়ীর প্রতিষ্ঠা বড় প্রাচীন ঘটনা নহে; ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে লাল গৌরহরি সিংহ দুর্গাবাড়ীতে প্রতিষ্ঠা করেন। -965 /১5591) [01501101 0926106915 ৬০1. 11 (১১11)61 01780. 111. 0). 105.) ৭. পীঠ প্রকাশ সম্বন্ধে বহু ভাটের কবিতা আছে, স্থানীয় পত্রিকা পরিদর্শকে এতদ্বিষয়কে কয়েকটি উৎকৃষ্ট কবিতা প্রকাশিত হইয়াছিল। ৯৭ ৩ ীবস্থা নবম অধ্যায় উই ৬১ ১৮৫২ ঘহ্ডকা শা - শিক ও বড এ, ৯ রর ১০ ৩. খিক ২8 ই সক রি র ) চর র্‌ রি রি ঘ্‌ িন্বা টু ২ র্‌ ৮ শ্। এ ২. ৮ ঘর - ক রখ তর চক্ড ২ কুছ তস্পি 27388 | এ. এট ০ ২. ৮ শ্ ঘন, ১ সক ২১ চন চে িরেবারানে ঘ 5 ০? ১১১ তক সপ কতি ও ই ত৭7০৯৫৫৮ 4:১: তল: ২৮৭ কাত 4৯ . কি ১০ গ্ 1 ই রে টে তি কি দে ম্ঁ ্ ৯ &.. চে 4৯ সি ১ 2 সি এ এ ৬ 5 নি হে ০ ৬ ৯ শা পার রি .+ী ৯৮ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ এই গোটাটিকরের ভৈরবী স্থানকে মহাপীঠ বলিয়া লিখিত আছে ।৮ স্কুলপাঠ্য ইতিহাস গ্রন্থাদিতে গ্রীবাপীঠ বলিয়া এই স্থানেরই মহিমা কীর্তিত হইয়াছে; এবং প্রচলিত পঞ্জিকার তীর্থ পরিচয় স্থলেও এই গ্রীবাপীঠেরই নির্দেশ করা হইয়াছে ।১০ পীঠ সম্বন্ধে মতদ্বৈধ ও আপত্তি খণ্ডন প্রসিদ্ধ “শিক্ষা পরিচয়” সম্পাদক ও দেবীযুদ্ধ প্রভৃতি প্রণেতা কবি শ্রীযুক্ত শর 4 বি. এ মহাশয়ের লিখিত “মহাপীঠ প্রকাশ” প্রবন্ধটি এস্থলে (১৩শ ভাগ ১১শ সংখ্যা পত্র হইতে) উদ্ধৃত করা হইল এঁ প্রবন্ধে লিখিত হইয়াছে;__তন্ত্রে আছে-_ “গ্রীবা পপাত শ্রীহস্টে সর্ব্বসিদ্ধি প্রদায়িনী । দেবীতত্র মহালক্ষ্মী সবর্বানন্দশ্চ ভৈরব!” অন্নদামঙ্গলে ভারতচন্ত্র রায়গুণাকরের অনুবাদে আছে-_ “শ্রীহস্টে পড়িল গ্রীবা মহালক্ষ্মী দেবী । সব্র্বানন্দ ভৈরব, বৈভব যাহা সেবি।” উপরি উক্ত বাক্যগুরির অর্থ পরিগ্রহ করিলে বুঝা যায় শ্রীহট্টরে একটি মহাপীঠ আছে, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। “তত্্ানুসন্ধিৎসু ব্যক্তিগণের সন্দেহ-সম্তাবনা নিবারণার্থে এ স্থলে আরও একটু বক্তব্য আছে। এ অঞ্চলে যে পীঠমালা প্রচলিত আছে, তাহার কোন কোন গ্রন্থে এইরূপ লিপিবদ্ধ আছেঃ_ শ্রীহট্রে মে হস্ততলং দেবতারণ্যবাসিনী।” ইহাতে কেহ কেহ শ্রীহস্ত হইতে শ্রীহট্ট কল্পনা করিয়া, দেবীর হস্ত এই স্থানে পতিত হইয়াছেন বলেন। ইহা প্রামাণ্য হইলেও কল্পনান্তর ব্যবস্থা দ্বারা সামঞ্জস্য বিধানই যুক্তিসঙ্গত। পীঠস্থলে সমাগত অধ্যাপক মণ্ডলী এই সিদ্ধান্তই করিয়া গিয়াছেন। শ্রীযুক্ত শিবচন্দ্র বিদ্যার্ণব প্রচারিত পীঠমালা গ্রীবাদেশ শ্রীশৈলে পতিত হয় উল্লিখিত আছে। এই শ্রীশৈল, হয় শ্রীহন্টের স্থলে লিপিকর প্রমাদবশত লিখিত, নয় শ্রীহস্টরের নামান্তর ৷ নতুবা তন্ত্রের সঙ্গে সম্বববয় হওয়াও তো আবশ্যক শ্রীশৈল দ্বারা শ্রীনামক কোনও পর্বত বুঝাইবার প্রয়োজন দেখা যায় না। কেন না ইতি পুকেি শ্রীপবর্বতেরও উল্লেখ দেখা যায়, উহাতে দেবীর তল্প মতান্তরে দক্ষিণ গুল্ফ পতিত হইয়াছে। লিপিকর প্রমাদ কল্পনার সমর্থনে ইহাও বলা যায় যে ভৈরবের নাম সর্ব্বানন্দ স্থলে সম্বরানন্দ লিখিত হইয়াছে ।১১ ৮১ 740০08 ও [1116 00 2 18211 50811] 01 351196110৬7, ৬1615 52119 0601: 15 3810 (01790 [91161 ৬/1101) 1101 %৬/৫5 01970176160 09 ৬1511700. 11115 0101), 85 076 018065 00105501016 0 076 [88116170501 ১8015 55৬০1০৫ ৮০৫ 2৩ 091160, 1১5 01819 10211019 0৩61) 16085০0৬616. 5911'5 10001 15 16196521020 03 এ [91705 0 781 10010 97 (0 086 00170 01) 75091 01 016 01195 10010 ৩9117611261 0121120 01 20210109160 10 1901601 1861 09 5158, 191065 076 5091 (যা) 014 5109]] 00118171 [01161 06 10010 9118990 11106 & [010011005.117016 195170 (67700 ০৮৩1 0১696 161789175, 81101021019 219011106 101211201 18000 01 51161 10৬/). 7155) 19190101 092605515 ৬০. হ]. 09009 111. 19 8০. ৯. আসাম প্রদেশের বিশেষ বিবরণ-২য় সংস্করণ । ১০. শ্রীযুক্ত পি এম্‌ বাগচী প্রকাশিত পঞ্জিকা ও গুপ্তপ্রেশ পঞ্জিকা । ১১. মলয় পবর্বতের উত্তরাংশে বর্তমান পাল্নি হিল্ই শ্রী পবর্বত ৷ মহাভারত বনপবের্বর ৮৫ তম অধ্যায়ে ১৮শ শ্রোকে ইহার উল্লেখ আছে। শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে শ্রীশৈলের উল্লেখ আছে। মান্দ্রাজের কাসুল জিলায় ইহা অবস্থিত। শ্রীশলের অবস্থিতি যথার্থ হইলেও, তশ্ায় গ্রীবা পতিত হয় নাই, শিবচরিত গ্রন্থ মতে তথায় গ্রীবাংশ পতিত হ্য এবং তাহা উপপীঠ মধ্যে গণ্য। বিশ্বকোষ ১১শ ভাগ ৪৬৯ পৃষ্ঠায় এই উপপীঠের কথা লিখিত আছে; ইহার ভৈরবীর নাম সব্বেরবশ্বরী ভৈরবের চর্িতানন্দ। অতএব শ্রীহট্েই যে গ্রীবাপীঠ অবস্থিত, তাহার সন্দেহ মাত্র নাই। নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রহট্টরের ইতিবৃত্ত ৯৯ পরিচয়ের পন্থা অধিকার বিলক্ষণ রহিয়াছে। পরিচয় সম্বন্ধে কেবল পদার্থ ও নাম জানাই যথেষ্ট নহে, কিন্তু অমুক নামে যে অমুক পদার্থ বুঝায়, ইহা জানা চাই। এই প্রকার পদার্থের সঙ্গে নামের বিচ্ছেদ ঘটাতে অনেক জিনিস বিলুপ্ত হইয়াছে । আয়ুব্রেদ শাস্ত্রে অনেক ওঁষধির নাম উল্লেখ আছে, কিন্তু চিকিৎসকেরা নাম জানিয়াও সকল ওঁষধ চিনিয়া উঠিতে পারেন না । আলোচনার অভাবে অনেক জিনিসেরই এরপ দুর্গতি হইয়াছে । উপস্থিত ক্ষেত্রেও আমরা এইরূপ সমস্যায়-এইরূপ বিড়ম্বনায় দুর্দশা দেখিতেছেন, লোক মুখে ও গ্রন্থে তাহার নামও আমরা অবগত হইতেছি, কিন্তু কি দুঃখের বিষয়, আমাদের কি দুর্গতির বিষয়, আমরা সেই নাম প্রকৃত পদার্থের সঙ্গে যোগ করিতে না পারিয়া দেবীর পরিচয় পাইতেছি না। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয়, পদার্থ পরিচয় কিন্বা পার্থিব ঘটনা আত্মপরিচয়ের প্রমাণের জন্য, ইতিহাসের উপরে যতদূর নির্ভর করিতে বাধ্য, দেবতন্ত্ব আপন প্রমাণের জন্য, ইতিহাসের প্রতি সেরূপ নির্ভর না করিলেও চলে। দেবতত্ত্ব আধ্যাত্মিক ব্যাপার, ইহার এঁতিহাসিক প্রমাণের অতিরিক্ত একটা আধ্যাত্মিক প্রমাণও আছে। কিন্তু এই প্রমাণ যত্র তত্র পাইবার সম্ভাবনা নাই। যাহারা সাধন বলে হৃদয়ের নির্মলতা লাভ করিয়াছেন, যাহাদের জ্ঞানচক্ষু ও জ্ঞানকর্ণ প্রস্ফুটিত হইয়া দেবদর্শন ও দৈববানী শ্রবণের শক্তিলাভ করিয়াছে, এই আধ্যাত্মিক প্রমাণ তাহাদিগেরই প্রাপ্য এবং তাহাদিগের নিকট হইতেই সাধারণের গ্রাহ্য । যে আধ্যাত্মিক প্রমাণের উপর নির্ভর করিয়া সহর হইতে প্রায় দুইমাইল দক্ষিণ পূর্বদিকে অবস্থিত (গোটাটিকরের সমীপস্থ জৈনপুরে) ভৈরবী দেবীকেই মহালক্ষ্ী আর তত্রত্য শিবটিলার শিবকেই সর্ব্বানন্দ বলা হয়, তাহা নিম্নে বিবৃত করিলাম । আধ্যাত্মিক ব্যাপারে ধাহাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাহারা এ প্রমাণ কদাপি উপেক্ষা করিবেন না।” মহাপীঠ প্রকাশ “শতাধিক বর্ষ হইল, বৈদ্য বংশীয় দেবীপ্রসাদ দাস জৈনপুরে একটি পথ প্রস্তুত করিবার জন্য লোক নিযুক্ত করেন, পথিমধ্যে প্রস্তরময় একটা স্থান দেখিয়া লোকটি সেই প্রস্তর উঠাইয়া ফেলিবার নিমিত্তে প্রয়াস পায় এবং একটা টুকরা বিচ্ছিন্ন করিয়া ফেলে। সেই সময় একটি কন্যামূর্তি আবির্ভূতা হইয়া ছেদনকারীর গপ্তদেশে ঠোকর মারাতে এ ব্যক্তি পলাইয়া যায় এবং অচিরেই মারা পড়ে । সেই রজনীতে নিয়োগকারী দেবীপ্রসাদ আদিষ্ট হন, --“আমি ভৈরবী, এস্থানে আছি, তোমার লোক আমার অঙ্গে আঘাত করিয়াছে, তুমি তোমার কুশল আকাঙ্খা করিলে নিত্য সেবা পুজার ব্যবস্থা করিবে। দেবীপ্রসাদ যথার্থই দেবীর প্রসাদ ভাজন ছিলেন, নতুবা তাহার প্রতি মায়ের এত করুণা কেন? যাহা হউক, ভক্ত দেবীপ্রসাদ ধনী ছিলেন, তিনি মায়ের নিত্য সেবা পূজার ব্যবস্থা করিয়া দিলেন। ইহাতেও তাহার তৃপ্তি হইল না, (কেনই বা হইবে) তিনি লক্ষ ইষ্টক প্রস্তুত করাইয়া মন্দির প্রস্তুত করিতে কৃতস্কল্প হইলেন। কিন্তু দেবী স্বপ্নে পুনশ্চ আদেশ করিবেন;-“আমি মন্দিরে থাকিব না।" সেই ইষ্টক দ্বারা দেবীপ্রসাদ তখন প্রাচীর দিয়া ভৈরবীর স্থানটি বেষ্টন করিয়া দিলেন এবং নিকটে শিবমন্দির নির্মানপূরবর্বক শিবপ্রতিষ্ঠা করিলেন। মায়ের তখনও লুকোচুরি তাৰ, তাই ভৈরবী" এই প্রচ্ছন্ন অথচ যথার্থ পীঠসৃচক নামেই পূজা পাইতে লাগিলেন ।” ১০০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত " প্রথম ভাগ পীঠস্থান ও সাধক ভক্ত “কিছুকাল পৃরের্ব এদেশে পূর্ণানন্দ নামে একজন মহাত্মা ছিলেন, ইহার প্রগাট পাপ্তিত্য এবং সাধনা সাধারণে বিদিত ছিল এবং শেষাবস্থায় ইনি ব্রাহ্মণন্দপুরী নামে অভিহিত হইয়াছিলেন। ১২৮১ সালে উনি দেহত্যাগ করেন। জীবিত কালে ইনি কখন কামাখ্যায়, কখন বাণিয়াচঙ্গে এবং কখন বা গোটাটিকরে থাকিয়া সাধন ভজন করিতেন এবং একদা মণিপুর গিয়া কীর্তিচন্ত্ মহারাজকে স্বীয় যোগবল প্রত্যক্ষ করাইয়া ছিলেন। গোটাটিকর অবস্থান কালে এই ভৈরবীর বাটিতেই তিনি অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করিতেন। অনেক লোক তাহার প্রতি আকৃষ্ট হইয়াছিল এবং তাহাদের কেহ বা কেহ সর্বদাই তাহার সঙ্গে থাকিত।” ভৈরবের স্থান নির্দেশ ও পীঠ পরিচয় “একদিন ব্রহ্মানন্দপুরী রজনীযোগে সঙ্গিদিগকে লইয়া তৈরবীর বাড়ীর ঈশান কোণাভিমুখে যাইয়া শিবটিলা নামক পাহাড়ে আরোহণ করেন এবং সঙ্গিদিগকে বলেন “এই স্থান অতি পবিত্র এবং মহিমাবিত, এই বনাচ্ছত্র স্থানে অনাদি লিঙ্গ শিব বর্তমান আছেন । এই “ভৈরবী” মহাপীঠ এবং এই শিব তাহার ভৈরব; এই সম্বন্ধে তোমরা কিছুমাত্র সন্দেহ করিবে না।" যাহাদিগকে তিনি এ সকল কথা বলিয়াছিলেন, তাহাদের মধ্যে কেহ অদ্যাপি জীবিত রহিয়াছেন, কিন্তু তখন তাহার কথায় কেহ বিশেষ প্রণিধান করেন নাই, সুতরাং এ বিষয়ে যতদূর আলোচনা ও আন্দোলন হওয়া উচিত ছিল, তাহা হয় নাই।” ভৈরব প্রকাশ “এই ঘটনার কয় বৎসর পরে ১২৮৬ সালের মাঘ মাসে গোটাটিকর নিবাসী শ্রদ্ধেয় পপ্তিত শ্রীযুক্ত বিরজা নাথ ন্যায়বাগীশ একদা রজনীযোগে স্বপ্নে দেখেন, সেই ব্রন্মানন্দপুরী তাহাকে বলিতেছেন, “চল, শিবটিলায় যাইয়া তোমাকে শিব দেখাই” এই বলিয়া সন্যাসী, পপ্তিত মহাশয় ও তাহার দুই ছাত্রকে লইয়া শিবটিলায় গমন করিলেন ও তীহার নির্দেশমতে পূর্বোন্লিখিত শিখরস্থিত সেই স্তুপ খনন করিয়া শিব দেখিতে পাইলেন । এই অদ্ভুত স্বপ্ন দেখিয়া প্রাতঃকালে পপ্তিত মহাশয়, স্বপ্রের কথা কাহাকেও না বলিয়া তদ্দিষয় চিন্তা করিতেছেন, এমন সময় ছাত্র দুইটি পণ্তিত মহাশয়ের নিকট আসিয়া বলিল যে, তাহারাও সেই রজনীতে স্বপ্রে সেই সন্াসী ও পণ্তিত মহাশয়ের সঙ্গে শিবটিলায় যাইয়া স্তূুপের ভিতর হইতে শিব বাহির করিয়াছেন! (এই ছাত্রদধয়ের মধ্যে আখালিয়া বাসী কৃষ্ণকুমার ভট্টাচার্য্য এখন মৃত, এবং জানাইয়া নিবাসি শ্রীযুক্ত কৈলাস চন্দ্র ভষ্টাচার্ধ্য জীবিত আছেন ।)১২ স্বপ্ন দেখিয়া পণ্ডিত মহাশয়ের চিত্ত সংশয়ে দোদুল্যমান ছিল, কিন্তু ছাত্রদের বৃত্তান্ত শুনিয়া তাহার বিশ্বাসপ্রবণ হৃদয় হইতে সংশয় দূর হইয়া গেল, তিনি সানন্দ চিত্তে ছাত্রবর্গ প্রতিবাসীদিগকে সঙ্গে লইয়া স্তূপ খনন করিতে শিবটিলায় গমন করিলেন। সন্ন্যাসী স্বপ্নে যেইরূপ দেখাইয়া দিয়াছিলেন, সকলে মিলিয়া ঠিক সেইরূপ ভাবে স্তুপ খনন করিতে লাগিলেন। প্রথমেই একখধড প্রস্তর পাওয়া গেল, প্রস্তর সরাইয়া দেখিলেন, তাহার নিম্নে শিবের উপরিভাগ দেখা যাইতেছে। ক্রমে চারিদিক হইতে বৃক্ষ ও মৃত্তিকা সরাইলে শিবের গৌরীপাট পর্য্যন্ত বাহির হইয়া ১২. শ্রীযুক্ত শরচ্চন্দ্র চৌধুরী মহাশয়ের প্রবন্ধ লিখিবার বৎসর কাল পরেই কৈলাসমদ্র ভট্টাচার্য্য মহাশয় কেলাসধামে শিবসাধুজ্য লাভ করিয়াছেন তিনি তর্কশান্ত্রের পরীক্ষায় প্রথম হইয়া তর্কতীর্থ উপাধি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। 08১ কা কে ই . 188১১ $৬ /" শর্পাউ ৩ ক | | নি কউ 5 ষ ৯ রর এ | ও 2 নং মং মে ? ১২৯ ২ প-4০:৯৫০ এন ১৮-৫: পর ৫৮২.০৯ খাটি ১০ ৯৪১ ২ ২ শা জহি 3৯ চনে ? ছা এ ৯: ২ মে ২8 ৮৭ এলর্ট 2 5 শি তি ভাটি সপজা তে প্রিজন - 1 পপ চা রা নবম অধ্যায় ১০২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ পড়িল। তখন সকলেই খনন হইতে নিবৃত্ত হইলেন। এই শিবই আমাদের নিকট সবর্বানন্দ ভৈরব রূপে প্রতীয়মান হইতেছেন। এই আবিষ্কারের বিষয় পণ্ডিত মহাশয় শ্রীহন্টবাসী কোনও সন্ত্ান্ত আস্থাবান তারাকিশোর চৌধুরী মহাশয় (হাইকোর্টের উকীল) এবং স্বীয় রায় প্রিয়নাথ বন্দোপাধ্যায় বাহাদুর (শ্রীহস্ট্রের এক্জিকিউটিত ইঞ্জিনিয়ার) শিবটিলা গমনপুবর্বক মহাদেবের দর্শন এবং পুূজাদিও করিয়াছিলেন।” এইরূপে সব্্ধানন্দ ভৈরব প্রকাশ হন।১৩ এই ঘটনার পরে শিবসন্বন্ধে একটি ঘটনা সংঘটিত হয়, তাহা এতদিন প্রকাশ পায় নাই, সম্প্রতি (১৯০৩ খৃষ্টাব্দের ২০শে আগষ্ট তারিখের) পরিদর্শকে প্রকাশিত হইয়াছে । প্রাগুক্ত কৈলাশচন্দ্র ভট্টাচার্য্য লিখিয়াছিলেন,_-“যে দিন মাটি কাটিয়া শিব বাহির করিয়াছিলাম, সেই দিনের কথা এখনও পুঙ্থানুপুঙ্খ রূপে মনে অঙ্কিত আছে। উপস্থিত জনগণ সকলেই দেখিয়াছেন, প্রায় দেড় হাত মাটির নীচে গৌরীপীটের সমস্থলে একখানা প্রদীপের মুছি এবং তিন চারিখানা মৃন্য়পাত্র পাইয়াছিলাম, ইহা কি পূর্র্বপূজার প্রমাণ স্বরূপ গৃহীত হইতে পারে না? এই শিব সম্বন্ধে একটি অলৌকিক ঘটনা আমার সমক্ষে হইয়াছিল, তাহা এযাবৎ কাহারও নিকটে ব্যক্ত করি নাই, কারণ “অসঙ্তাব্যং ন ব্যক্তব্যং প্রত্যক্ষমপি দৃশ্যতে ।” পূজার প্রমাণ ও মাহাত্ম্য “শিব আবিষ্কারের কয়েক মাস পরে একদা আমার সহযোগী ও সতীর্থ কৃষ্ণকুমার বলে যে, “চল ভাই, আমরা শিবের নিম্নভাগ খনন করিয়া দেখি।” আমি তাহার কথায় অনুমোদন করিলাম এবং উভয়ে শিবের নিকট উপস্থিত হইলাম । প্রথমতঃ কৃষ্ণকুমার খনন করিতে আবন্ত করে, কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্ষ্য হইতে পারে নাই। কারণ যে দিকে খনন করিতে চায় সেই দিকেই প্রস্তর ভিন্ন আর কিছুই উপলব্ধি হয় নাই । তখন আমার মনে হইল যে এই প্রস্তর শিবের অঙ্গ, ইহাতে আঘাত করা উচিত নয়। তাহাকেও মনোভাব ব্যক্ত করিলাম; কিন্তু তাহার মনে বিশ্বাস হইল না। সে বলিল “এ পাথর শিবের অঙ্গ নয়, অতিরিক্ত ।” এই বলিয়া পাথর কাটিতে আঘাত আরন্ত করে কিন্তু প্রত্যেক আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ানক অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উঠিতে থাকে। সাধারণতঃ পাথরে লোহার আঘাত করিলে যেরূপ অগ্নি উৎপন্ন হয়, এ সেরূপ নহে, ইহা তদপেক্ষা অধিক ও প্রোঙ্জল। এইরূপ দুই চারিবার আঘাতের পর হঠাৎ সে মুঙ্ছিত হয়, তখনি আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইলাম, চক্ষে জল আসিল, মনে অতিশয় ভয়ের সঞ্গার হইল, তাহার শুশ্রষা করিতে লাগিলাম। সেই দিন বৈকালে কৃষ্তকুমার বলিল, “আমার বুকে ব্যথা হইযাছে, অদ্য বাড়ী যাইব ।” এই বলিয়া সে আখালিয়া নিজ বাড়ীতে চলিয়া গেল। বাড়ী যাওয়ার দুইদিন পরেই তাহার মুখ হইতে প্রবল বেগে রক্ত উঠিতে থাকে ও সেই রক্ত উঠাই পশ্চাৎ তাহার মৃত্যুর কারণ হয়। এ রক্ত উঠা যে তাহার মৃত্যুর কারণ, ইহা সকলেই জানেন; কিন্তু পূর্ব ঘটনা আমি ভিন্ন কেহই জানে না। কাতর সংবাদ জানিয়া তাহাকে দেখিতে গেলে সে আমাকে বলিয়াছিল, “ভাই আমি মরিতেছি; কিন্তু একথা সহসা প্রকাশ করিও না, লোকে আমাকে অবিমৃষ্যকারী বলিয়া গালি দিবে । আমিও অধ্যাপকের ভয়ে এবং মৃতের বাক্য পালন কর্তব্য বিবেচনায় এযাবৎ প্রকাশ করি নাই। এখন এই সম্বন্ধে আন্দোলন চলিতেছে দেখিয়া কর্তব্য বোধে প্রকাশ করিলাম । সেই কথা মনে হইলে এখনও শরীর শিহরিয়া উঠে ।” ১৩, "5817021101708 80০০ & 10110 0110 21191 508001% 01 9511061 10৬৮1.” -/555811) 101501101 0826005615 ৬০1. 1] (911100) 01219. 11] 0. 87. নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত ১০৩ হাপীঠের প্রকৃষ্ট পরিচয় : শ্রীযুক্ত শরচ্চন্্র চৌধুরী মহাশয়ের প্রবন্ধ হইতে আরও কিছু উদ্ধৃত হইতেছে। তিনি লখিয়াছেন_-“কামাখ্যাস্থ ভূবনেশ্বরীর প্রসিদ্ধ সন্যাসী শ্রীঅভয়ানন্দ তীর্থ (১৯০২ খৃষ্টাব্দে জ্যেষ্ঠ মাসে) এখানে পদার্পণ করিলে, তাহাকে আনিয়া গোটাটিকরে উপস্থিত করা হইল । তিনি শবটিলা ও ভৈরবীর বাড়ীতে উপস্থিত হইয়াই আপনাতে ভাবান্তর অনুভব করিলেন এবং সন্নিহিত ঈনগণের নিকট দুই স্থানের ভূয়সী প্রশংসা করিতে লাগিলেন। এই ভৈরবী যে মহালক্ষ্মী পীঠ এবং এই শিবই যে সব্বানন্দ ভৈরব, একথা তিনিও অতি দৃঢ়তার সহিত পুনঃ পুনঃ বলিতে লাগিলেন। মভয়ানন্দ কি আধ্যাত্মিক প্রমাণের উপর তদীয় মত স্থাপনা করিয়াছিলেন, তাহা সাধারণে জানিবার কথা নহে। কিন্তু তিনি কৌতৃহলাক্রান্ত সমাগত ব্যক্তিদিগকে য়ে কয়েকটি কথা বলিয়াছিলেন, তন্মধ্যে তিনটি অনেকেই ম্মরণ রাখিয়াছেনঃ__ ক. তৈরবীপীঠের আকার ও পরিমাণ মহাপীঠেরই সদৃশ, কামাখ্যা পীঠেরও এই আকার ও পরিমাণ; শিব হস্তে ৮ হাত। খ. শিবটিলার শিবের যথাস্থানেই অবস্থান অর্থাৎ ঠিক ভৈরবী পীঠের ঈশান কোণে । গ. সমীপস্থ জয়ন্তী বামজজ্বা মহাপীঠ সম্বন্ধে যেরূপ মন্দির করিতে আদেশ নাই, এই স্থানেও সেইরূপ ঘটিয়াছিল।” “শিবের উপরে যে প্রস্তর খণ্ড ছিল, ইতিপূবের্ব তাহাই শিবের শক্তি মনে করিয়া তাহার বাম পার্থ রাখা হইয়াছিল, অভয়ানন্দ সে ভ্রম দূর করিলেন । তাহার প্রসাদেই মহালক্ষ্রীর সঙ্গে সব্বানন্দের যোগ সাধারণে বিশেষভাবে বুঝিতে পারিল।” পূর্বকথার আলোচনা “দেবতার নাম কেহ না জানিলেও দেবতা এখানে চিরকাল বর্তমান আছেন। ইহা মনুষ্য স্থাপিত নহে। কত কত মনোজ্ঞ স্থানে কত মনোহর প্রস্তর খণ্ড রহিয়াছে, কেহ তাহার পূজা করে না, কেহ তাহাতে দেবতৃ দর্শন করে না। এখানে মহাদেবী ও মহাদেবের মহিমা আধ্যাত্মিক চক্ষুম্মান লোকে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন বলিয়াই তাহাদের পুজা দীর্ঘকাল হইতে চলিয়া আসিতেছে। তবে প্রভেদ এই, লোকে তীহাদিগকে সাধারণ দেবতা বলিয়া জানিত, মহাপীঠ বলিয়া জানিত না, এপ প্রমাণ কি আছে? তাহা না জানিলেও ক্ষতি নাই, কারণ তন্ত্রোক্ত পূজার প্রয়োজন বিশেষ ভাবে কলির জীবের জন্য । এই কলিতেই নানাস্থানে নানারপে আপনা হইতে যত্ু করিয়া তাহারা জীবের নিকট প্রকাশ পাইতেছেন; ভবানীপুর, (ফালজোর ও কামাধ্যা) প্রভৃতি পীঠস্থানের বিবরণ ইহার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই জন্যই কলি ধন্য। মহালক্ষ্ী ও ভৈরবীরূপে স্বয়ং প্রকাশিত হইয়া শতাধিক বর্ষ যাবৎ পুজা পাইতে ছিলেনই, সর্ব্বানন্দও পূজা হইতে বঞ্চিত ছিলেন না। তাহার উপরে চতুঃপার্থের লোকে দুগ্ধ ঢালিত এবং সময় সময় পৃজাও দিত। পূর্ব হইতে কোনও কিছু জাশা না থাকিলে মৃত্তিকা স্তুপে এইরূপ দুগ্ধদানের কোনও অর্থ পাওয়া যায় না। এই পাহাড়টি শিবটিলা নামে চিরদিনই পরিচিত ।” এই দেশে কোনও সময়ে বিজাতীয়ের আক্রমণে দেবনিগ্রহ ঘটিয়াছিল; প্রসিদ্ধ উনকোটি এবং উবনেশ্বর প্রভৃতি তীর্থে ছিন্ন হস্তপদ বিশিষ্ট দেবদেবী দর্শন করিলে এ কথা অসঙ্গত বোধ হয় না, খুব সম্ভব এই সময়ে বিধর্মীর হস্তে অন্যান্য তীর্থেও দেবদেবীর দুর্দশা দেখিয়া এস্থলে শিব শিবাণীর বুদ্ধিমান সেবকেরাই স্বয়ং তাহাদের নাম ও পার্থিবাংশ লুকাইয়া প্রকাশ্য পূজা পর্য্যন্ত বন্ধ করিয়া ১০৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ দিয়াছিল, কেননা তীর্থ এবং দেবতা রক্ষা পাইলে ত পৃজার্না? এই সুগুপ্তির উপরে বিস্ৃতির স্তর পড়িয়া একবারে বিলুপ্তি ঘটাইয়াছিল। কিন্তু নামটি লোপ হয় নাই, তাই বহুকাল পরে বিপ্রবের অত্যন্ত অবসান হইলে, শিবটিলার নামে আকৃষ্ট হইয়াই যেন স্থানীয় হিন্দুগণ অজ্ঞাতসারে হইলেও মহাদেবের উপরেই দুগ্ধীদি ঢালিত। ভৈরবীও প্রস্তর খণ্ড মাত্র, তাহাকে বিকৃত, স্থানান্তরিত (কিস্বা শিবের ন্যায় পাথর ঢাকা দিয়া গোপন) করিবার কোনও সম্ভাবনা ছিল না বটে, কিন্তু তীহারও পূজীর বিলোপ ঘটিয়াছিল এবং কালক্রমে স্থানের পরিচয় পর্য্যস্ত লুপ্ত হইয়া যায়।” এই মহাপীঠের মাহাত্ম্য অনেকেই আকৃষ্ট । ১৯০৪ খৃষ্টাব্দ হইতে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উৎসাহে শিবরাত্রি ও অশোকাষ্টমীযোগে এখানে মেলা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। ঠাকুর বাড়ী ও গোপেশ্বর শিব শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বঙ্গীয় বৈষ্ণবগণের নিকট ঈশ্বরাবতার বলিয়া পুজিত। তাহার প্রেমের পরিচয় আমেরিকা পর্য্যন্ত পরিব্যপ্ত হইয়াছে। এই শ্রীচৈতন্যদেবের পিতা জগন্নাথ মিশ্রের বাসভূমি শ্রীহট্ট। ঢাকা দক্ষিণ পরগণার দত্তরালি গ্রামে জগন্নাথ মিশ্রের জন্ম হয়। তদীয় ভ্রাতষ্পুত্র প্রদ্যঙ্ মিশ্রের প্রণীত “কৃষ্ণচৈতন্যোদয়াবলী” গ্রন্থে লিখিত আছে যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণের পর, তদীয় পিতামহীর আগ্রহে ঢাকাদক্ষিণে আগমন করতঃ তাহার বাসনা পূর্ণ করেন। আগমন কালে বরুঙ্গায় তিনি একরাত্র ছিলেন, তথায় যে বকুলতলে তিনি প্রথম উপবেশন করিয়াছিলেন, সে স্থান এখনও লোকের নিকট বন্দনীয়। ঢাকাদক্ষিণে, শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুর পিতামহী তাহার এক প্রতিমূর্তি প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন, সেই মহাপ্রভুর মূর্তি ও এক কৃষ্ণমূর্তি হইতেই এ স্থান খ্যাতাপন্ন হইয়াছে। বিশ্বকোষ ৭ম ভাগ ৪৫৪ পৃষ্ঠায় লিখিত আছেঃ-_ “ঢাকাদক্ষিণ শ্রীহন্টরের মধ্যে প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান বলিয়া পরিগণিত ও গুপ্তবৃন্দাবন নামে খ্যাত।১৪ এই স্থান শ্রীহট্ট সহর হইতে সাত ক্রোশ দূরে দক্ষিণ পৃবর্ব কোণে অবস্থিত। সহর হইতে ঢাকাদক্ষিণ পর্য্যন্ত বাধা রাস্তা আছে। নৌকা যোগেও যাওয়া যায়। ঢাকাদক্ষিণ শ্রীচেতন্যদেবের পিতা জগন্নাথ মিশ্রের জন্মস্থান ও তাহার পিত্রালয় ৷ উপেন্ত্র মিশ্রের বাসভবনই এখন বৈষ্ণবতীর্থ রূপে পরিণত হইয়াছে । প্রতি বৎসর অনেক বৈষ্ণব এ তীর্থ দর্শনে সমাগত হইয়া থাকেন ।” “চারিশত বর্ষের প্রাচীন কৃষ্ণচৈতন্যোদয়াবলী এবং পরবন্তী মনঃসন্তোষী গ্রন্থে এই তীর্থের উৎপত্তি ও মাহাত্ম্য এইরূপ বর্ণিত আছেঃ--ঢাকাদক্ষিণে উপেন্্র মিশ্রের পুত্র জগন্নাথ মিশ্রের বাস। জগন্নাথ নবদ্বীপে অধ্যয়ন করেন, তথায় নীলাম্বর চক্রবর্তীর দুহিতা শচীদেবীর সহ তাহার পরিণয় হয়। বিবাহের পর তিনি নবদ্বীপেই বাস করিতে লাগিলেন। কিছুকাল পরে তিনি সপরিবারে পিতৃদর্শনে আগমন করেন, এখানে শচীর গর্ভ হয়; এই গর্ভের সন্তানই শ্রীচৈতন্যদেব। গর্ভাবস্থায় শচীকে লইয়া জগন্নাথ পুনবর্বার নবদ্বীপ গমন করেন, বিদায়ের পুবের্ব শচীকে তাহার শ্বাশুড়ী অনুরোধ করেন যে, তাহার পুত্র হইলে তাহাকে যেন একটিবার ঢাকাদক্ষিণে পাঠাইয়া দেন।” “যথাকালে শ্বাশুড়ীর অনুরোধ শচীদেবী পুত্রকে জানাইয়া ছিলেন, কিন্তু গৌরাঙ্গ সন্ন্যাসের পুর্ব শ্রীহ্ট পর্য্যন্ত আসিতে পারেন নাই। সন্ন্যাসের পর ১৪৩১ শকেই তিনি ঢাকাদক্ষিণ আগমন করেন।” ১৪.৮71176 01906 ৮1710] 15161 09 1106 ৬৪151118৬10655 111 10951 165060% 15 1016 16171010101 01791191790, 21 1)1121909151)117 01771810010217- -/550]া) [01501101 0826106015 01 11, (511100) 01880. 111 0১. 87. নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ১০৫ “পূর্বোক্ত গ্রন্থদ্ধয়ে বর্ণিত আছে যে বৃদ্ধা স্বীয় পৌত্রের কাছে নানা কথা বার্তার সঙ্গে আপনাদের পারিবারিক সুখ-দুঃখের কথাও বলিয়াছিলেন। তাহাতে শ্রীচৈতন্য তাহাকে দুইটি মূর্তি দেন, একটি কৃষ্রমূর্তি, অপরটি তাহার নিজের । এই মূর্তি দুইটি প্রদান করিয়াই তিনি চলিয়া যান, কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, এই দুইটি মূর্তির প্রভাবে সে গ্রাম হরিভক্ত হইল-_বিরুদ্ধবাদী কেহই রহিল না এবং এই মূর্তি দুইটির প্রভাবেই মিশ্রবংশের পারিবারিক অভাব দূরীভূত হইল ।” “এই উপেন্দ্র মিশরের বাড়ী, যেখানে পূর্বোক্ত মূর্তিদ্ধয় বিরাজিত, তাহা এখন 'ঠাকুরবাড়ী' নামে প্রসিদ্ধ । এই ঠাকুরবাড়ীর সম্মুখে ডাকঘর, বাজার প্রভৃতি আছে। রথযাত্রা ও ঝুলনোৎসবই অধিক জাক জমকের সহিত হইয়া থাকে ।” “এতদ্যতীত ঢাকা দক্ষিণে প্রসিদ্ধ 'গোপেশ্বর শিব' আছেন। ঠাকুরবাড়ী হইতে তাহা প্রায় দুই ক্রোশ দূরে । কৈলাশ নামক ক্ষুদ্র পাহাড়ের উপর শিবালয়। চৈতন্য দেব এই শিবদর্শনে গিয়াছিলেন বলিয়া গ্রন্থে বর্ণিত আছে। কৈলাসের পার্থেই অমৃতকুণ্ড।” শ্রীচৈতন্য দেব অমৃতকুণ্ডও দর্শন করিয়াছিলেন, কিন্তু এখন এ কুণ্ডের চিহ্ন পাওয়া যায় না, ইহা বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। পণাতীর্থ ও শ্রীঅদ্বিতের আখড়া পণাতীর্থের প্রকাশ যে অদ্বৈতাচার্য্যের বাসস্থান বলিয়া শান্তিপুর বৈষ্ঞবগণের কাছে এক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হইয়াছে, সে মহাত্ার জন্ম স্থানের সন্নিধানেই পণাতীর্থ বিরাজিত। ষ্টিমারে সুনামগঞ্জে অবতরণ পুবর্বক পণাতীর্থে যাওয়া সুবিধাজনক । “অদ্বৈত প্রকাশ" গ্রন্থে লিখিত আছে যে একদা রজনীযোগে অদ্বৈত প্রভুর জননী স্বপ্রে দর্শন করেন যে, তিনি নানা তীর্থ জলে স্নান করিতেছেন। প্রভাতে ধর্মশীলা নাভাদেবী স্বপ্ন কথা স্মরণ করতঃ ও তীর্থ গমনের বিবিধ অসুবিধার বিষয় চিন্তা করিয়া বিমর্ষভাবে অবস্থিতি করিতেছিলেন, এমন সময়ে পুত্র অদ্বৈতাচার্ধ্য তথায় আগমন করতঃ মাতার বৈমর্শের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। জগতে এরপ দৃষ্টান্তের অভাব নাই যে, কেহ জন্ম হইতেই অতুল্য প্রতিভা, কেহ বা অমানুষিক শারীরিক শক্তি ও কেহ বা দৈববল লইয়া ভূমিষ্ঠ হয়। অদ্ধৈতাচার্য্য এরূপ এক অদ্ভুত বালক ছিলেন। তিনি মাকে বিষণ্ন দেখিয়া “পণ” (প্রতিজ্ঞা) করিলেন যে, এই স্থানেই তাবৎ তীর্থের আবির্ভাব করাইবেন। মনঃশক্তির প্রভাব অসীম, যোগবলের শক্তি অসাধারণ, অদ্ৈতাচার্ষ্য এই শক্তির বলে তীর্থ সমূহকে আকর্ষণ করতঃ লাউড়ের এক ক্ষুদ্র শৈলের উপরে আনয়ন করিলেন। এঁ শৈল খণ্ডের একটি ঝরণা তীর্থবারি পরিপুরিত হইয়া ঝর ঝর করিয়া পড়িতে লাগিল। অদ্বৈত জননী তাহাতে স্নান করতঃ পরিতৃপ্তা হইলেন 1১৫ প্রায় চারশত যষ্টি বর্ষ হইল, এইরূপে লাউড়ে এক তীর্থের উৎপত্তি হয়। অদ্বৈতের ন্যায় তীর্থ সমূহও “পণ” করিয়াছিলেন যে, ১৫. “প্রভু কহে আজি নিশায় আসিবে সর্বতীর্থ: কালি স্নান করি সিদ্ধ করিহ সর্ববার্থ। নাভা কহে এই কথা কে করে প্রত্যয়: প্রভু কহে এই কথা সত্য সত্য হয়। যোগে তীর্থগণে তবে কৈলা আকর্ষণ। যৈছে লৌহগতি 'অযস্কান্ত আকর্ষণে: তৈছে তীর্থগণ আইলা ঈশ্বর স্মরণে । মূর্তিমতি শ্রীযমুনা গঙ্গা আদি তীর্থ, ১০৬ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ প্রতি বারুণীতেই এস্থলে তাহাদের আবির্ভাব হইবে। এই “পণ” শব্দ হইতেই পণাতীর্থ নাম হইয়াছে। পণাতীর্৫ঘে বারুণী যোগে বহুলোকের সমাগম হয় ।১৬ বারুণী ব্যতীত অন্য সময়ে পণাতীর্থ দর্শনে যাওয়ার সুবিধা অল্প । এই তীর্থের একটা আশ্চর্য্য সংবাদ এই যে, শঙ্খধ্বনি বা উলুধ্বনি করিলে অথবা করতালি দিলে, পব্বত হইতে তীব্রবেগে জলরাশি পতিত হয়। অদ্বৈতের আখড়া লাউড়ের নব গ্রামে অদ্বৈতাচার্্ের জন্ম হয়, এই স্থানেই তাহার বাড়ী ছিল। অদ্বৈত প্রকাশ, অদ্বৈত মঙ্গল, ভক্তি রত্বাকর প্রভৃতি প্রাচীন বহু বৈষ্তব গ্রন্থে তাহা লিখিত আছে। অদ্বৈতৈর জন্ম স্থান বৈষ্বগণের নিকট তীর্থরূপে খ্যাত।১৭ কালপ্রভাবে যখন লাউড় রাজ্য ধ্বংসমুখে পতিত হয়, তখন অদৈত্য প্রভুর বাড়ীও জঙ্গলাবৃত হইয়া পড়ে । তদবস্থায় অদ্বৈতের জন্স্থান লাউড় পরগণায় কোন অংশে অবস্থিত, তাহা নির্ধারণ করিতে না পারিয়া ভক্ত বৈষ্ঞবগণ ক্ষুণ্ন হইতেন। প্রায় পঞ্চাশ বর্ষ হইতে চলিল, এই বিষয়ের অনুসন্ধান আরন্ত হয়। অদ্বৈত বংশোদ্ভব উলিবাসী স্বগীয়ি বৃন্দাবনচন্দ্র গোস্বামী ইহার সূত্রপাত করেন। তাহার অনুরোধ ও আদেশে সুনামগঞ্জের তহশীলদার শ্রীযুক্ত রুক্ষিণীকান্ত আচার্য একান্তমনে এ কার্য্যে নিযুক্ত হন। এই জন্য তাহাকে হিংস্র জন্তপূর্ণ কণ্টকাবৃত জঙ্গলে কত দিন ভ্রমণ করিতে হইয়াছে, কত নিশা জঙ্গলের বৃক্ষমূলে অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু তিনি নিরুৎসাহ হন নাই, অধ্যবসায় ত্যাগ করেন নাই । গুরুবাক্যে বিশ্বাস রাখিয়া, ভক্তিবল হৃদয়ে ধরিয়া, মাস মাস, বৎসর বৎসর, লাউড়ের জঙ্গল তন্ন তন্ন করিয়া দেখিয়াছেন; সফলকাম হইতে পারেন নাই। ১২৭৯ বঙ্গাব্দ তিনি প্রাচীন দীর্ঘিকা, গৃহাদির ভগ্মাবশেষ, ভগ্ন কৌড়ির স্তূপ চিহ্রাদির নিদর্শনে রাজবাটিকার স্থান নির্দেশ করিতে প্রভুরে পৃজিয়া সবে হইলা কৃতার্থ ৷” “প্রভূ কৈল মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী যোগে, সকলে আসিবা পণ করে মোর আগে । তীর্থগণ কহে মোরা সত্য কৈলু পণ, তব শ্রীমুখের আজ্ঞা না হবে লঙ্ঘন । তদবধি পণাতীর্থ হৈল তার নাম। পণাবগাহনে সিদ্ধ হয় মনস্কাম ।-অদ্বৈত্য প্রকাশ-২য় অধ্যায় । মাতার বিশ্বয় দৃষ্টে অদ্বৈত আরও বলিয়াছিলেনঃ- “প্রভু কহে- দেখ মাতা সদা জল ঝরে, শঙ্খ আদি ধ্বনি কৈলে বহুজল পড়ে ।” “আশ্চর্য্য দেখিয়া মাতা নমস্কার কৈলা; ভক্তি করি স্নান করি দানাদিক সমাপিলা। তদবধি পণাতীর্থ হইল বিখ্যাত। বারণী যোগেতে স্নান বহু ফলপ্রদ।-অদ্ৈত প্রকাশ ২য় অধ্যায়। ১৬. ৮7616 816 018065 16৬616 170% 811 11111005 21110, 176506৩01৬6 01 01)611 5601. 4 ০611811) [১010101) 01 [78101111100 11501, 17621 1100 ৬111890 218018 00001116525 58010 85 (170 0081165 01) 010 00085101) 01 7321711)1 2710 [01111101105 10010 11 10001100615 10 10211)0 11) 01101101) ৬1215. -/552]া) 701500101 08261016015 ৬০01. [1 (9911)01) 01881) 111 0. 89. ১৭. অদ্বৈত প্রকাশে লাউড়কে ক্ষীরোদ সাগরের আবির্ভাব স্বরূপ বর্ণনা করা গিয়াছে, যথা-“শ্রীলাউড় ধাম কারণ রত্বাকর হয়।” ”/১1 ৭85959017] 11) 5751191112911], ও 5100191951606101 06011 5101160 1 1179 11019001701 ১0৮/2110, 0110 01 07191101798 (0110/615.” -/5$50]া) [015111010276119615 ৬০1 [1] (51101) ০1790) 11] 0. 88 নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত ১০৭ পারিয়া উৎসাহিত হন, কিন্তু তাহার অভীষ্ট তখনও সুসিদ্ধ হয় নাই। তার পরে ধাম ধরা দিলেন, সেই জনমানবহীন নিবিড় কাননে এক রাত্রে তিনি হঠাৎ শঙ্খ করতাল ধ্বনি শুনিতে পাইয়া বিস্মিত হইলেন। অনেকেই তাহা ভৌতিক ব্যাপার বলিয়া ব্যাখ্যা করিল, কিন্তু তাহাব মনে অন্য ধারণা জন্মিল। যাহা হউক, প্রভাতে সেই দিকে ভ্রমণ করাই তাহার উদ্দেশ্য হইল. এবং অল্লায়াসেই রাজ বাটীর পার্থ সেই গহন বনে, একস্থানে অগণ্য তুলসীবৃক্ষ বেষ্টিত অদ্বৈতাচার্য্যের জন্মবাটিকা ও তীরে বহু প্রাচীন মাধবীবেষ্টিত বিশাল আম্রবৃক্ষ সমবিত পুষ্করিণী প্রভৃতি প্রাপ্ত হন। (ইহাই যে অছ্ৈতাচার্য্যের জন্মস্থান, তৎপক্ষে অনেক অকাট্য আধ্যাত্মিক প্রমাণ পাওয়া গিয়াছিল।)১৮ ফলতঃ এই স্থানই যে, অদ্বৈতৈর জন্স্থান, সে বিষয়ে কাহারও মনে অনুমাত্র সন্দেহ রহে নাই । এই স্থানে রেঙ্গুয়া নামে নদী প্রবাহিত, এই নদীতীরেই রাজবাটী ছিল। সুনামগঞ্জের তদানীন্তন মুন্সেফ্‌ শ্রীযুক্ত নৃত্যগোপাল গোস্বামী ও পূর্বোক্ত তহশীলদার বাবুর বিশেষ উদ্যোগে গোকুলচন্দ্র দাস পুরকায়স্থ মহাশয় কর্তৃক নবগামে অদ্ৈতাচার্ষ্যের বাড়ীতেই ১৮৯৮ খৃষ্টাব্দে “অদ্বৈতের আখড়া” স্থাপিত হয় । বারুণী পবের্ব তথায় বহুলোকের আগমন ঘটে । এই স্থান প্রকৃতির এক রম্য নিকেতন। নীলায়ত পর্বত, চঞ্চল নির্বরিণী, সুজল হুদ বা কু এবং শ্যামল কাননশোভা বড়ই প্রাণারাম। এ স্থানে গেলে স্থান মাহাত্ম্য মন কোন অজানিত দেশে যেন চলিয়া যায়, মনে বাধ যেন ভাঙ্গিয়া যায়, মনে স্বভাবতই ভগবৎ ভক্তির উদয় হয়। অধিক বলিয়া প্রয়োজন নাই, লাউড়ের বিবরণপ্রসঙ্গে জনৈক সন্ত্রস্ত মোসলমান লেখক লিখিয়া পাঠাইয়াছেনঃ-“এ স্থানে প্রকৃতির শান্তিময়ী কান্তি অবলোকনে আত্মহারা হইতে হয়, এ স্থানে আত্মীয়বিয়োগ ও অপ্রিয়সংযোগ জনিত সংসারে জ্বালাযন্ত্রণা মনে থাকে না ।” নির্খাই শিব শিব স্থাপন বিষয়ক জনশ্রুতি বালিশিরা পরগণায় এই শিব অবস্থিত । ইহার নাম বাণেশ্বর শিব; কিন্তু সাধারণতঃ নির্খাই শিব নামেই কথিত হন। কথিত আছে যে, পুবর্বকালে নির্মাই ও হর্মাই নামে ব্রিপুর রাজবংশীয়রা দুই জন কুমারী অতি রূপবতী ছিলেন। এই ধর্্মপরায়ণা ভগিনীদ্ধয়ের বিবাহ যোগ্য বয়স উপস্থিত হইলে, রাজা যখন তাহাদের বিবাহ দিতে ইচ্ছা করিলেন, তখন তাহারা প্রকাশ্যে জানাইলেন যে বিবাহ করিতে তাহাদের ইচ্ছা নাই। রাজা কুমারীদের এইরূপ অবাধ্যতায় অত্যন্ত রাগাবিত হইয়া তাহাদিগকে গৃহ হইতে দূর করিয়া দিলেন; তদবস্থায় নিরাশ্রয়া ভগ্মী দুটি বনে বনে ভ্রমণ করিতে করিতে বালিশিরা পাহাড়ে আগমন করেন। যে স্থানে তাহারা উপস্থিত হইলেন, সে এক সুরম্য স্থান, প্রকৃতির রম্য নিকেতন; তাহারা এই স্থানে বাস করতঃ শিবস্থাপন পূর্বক তাহার অর্্চনায় জীবন পাত করেন। জ্যেষ্ঠা নির্মাইর নামানুসারেই তৎপুজিত শিব নির্মাই শিব বলিয়া খ্যাত হন। কথিত আছে যে, প্রায় ১৪৫৪ খৃষ্টাব্দে এই শিব স্থাপিত হন।১৯ নির্মাই সঙ্গে যে স্বর্ণালঙ্কার আনয়ন করিয়াছিলেন, কথিত আছে যে, তাহা বিক্রয় করতঃ তন্নন্ধ অর্থে শিবের সম্মুখে এক বৃহৎ দীর্ঘিকা খনন করাইয়াছিলেন, অদ্যাপি তাহা নির্মাই-দীঘী নামে কথিত হয়। ১৮. ১৩০৮ বঙ্গাব্দের ৮ই শ্রাবণ তারিখে “বিষ্ুপ্রিরা ও আনন্দবাজার” পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধে এ বিষয়ে কতকটা ঘটনা প্রকাশিত হয়। কৌতুহলাদ্বিত পাঠক তাহা দেখিবেন। ১৯, "12170 01 (98077061 010 0916 01 (00111001010$, ,ব110101 810 [বথাা501 (/0 011741160 150165 01010011707 [২098] [0111 17) 1454 /৯. 00." -/১95]) 10150101 0876109075 ৬০]. 1] (911001) 01700. 111 0. 107. ১০৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ দ্বিতীয় আখ্যায়িকা এই যে, এ স্থানে প্রবাহিত বিলাস নামে পার্র্তীয় ছড়ার স্রোতে এই শিব গড়াইয়া গড়াইয়া যাইতেছিলেন, জনৈক যবন কাজী শিবকে প্রাপ্ত হইয়া, স্বপ্নাদেশানুসারে কোন এক ব্রাহ্ষণকে দান করেন । সেই ব্রাহ্মণ নির্মাই দীঘীর তীরে তাহাকে স্থাপন করেন। (কিন্তু এই প্রবাদের উপর লোকের অধিক আস্থা নাই ।) নির্মাই শিব অতি প্রসিদ্ধ । বারুণী ও অশোকাষ্টমী যোগে এখানে এত অধিক জনতা হয় যে, ঢাকাদক্ষিণ ব্যতীত শ্রীহট্ের অন্য কোন দেবস্থানে তত লোকসমাগম ঘটে না। অনেক লোক এস্থানে মানসিক আদায় জন্যও আগমন করিয়া থাকে ।২০ সাতগাও রেইলওয়ে স্টেশনের প্রায় তিন মাইল দক্ষিণে নির্মলসলিলা প্রশস্তবক্ষা নির্মাই দীঘীর তীরেই শিবমন্দির প্রতিষ্ঠিত। স্থানটি অতি রম্য, তথায় উপস্থিত হইলে স্কতঃই ভক্তিরসে মন আপ্রত হয়। বড়ই দুঃখের বিষয় যে, বিগত ১৩০৮ বঙ্গাব্দের বাসত্তীয় অষ্টমী যোগে হঠাৎ এই শিবের অন্তর্ধান ঘটিয়াছিল, অনেক চেষ্টায়ও না পাওয়ায় পূর্ব শিবের অনুকরণে কাশীধাম হইতে এক নৃতন শিব আনয়ন করতঃ স্থাপন করা হইয়াছিল । পরে পূর্র্ব শিব প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং তিনিই এখন স্বস্থানে প্রতিষ্ঠিত আছেন। স্থান- মাহাত্ম্যও পুরর্ববং আছে; এখনও বহুলোক তথায় গিয়া কৃতার্থ হয়। এই শিবের সেবায়েত মধ্যে ধর্মবলে কেহ কেহ অতি খ্যাতাপন্ন হইয়াছিলেন, পশ্চাৎ তাহাদের বিবরণ বর্ণিত হইবে। হর্মাইর বিশেষ কোন কীর্তিকথা জ্ঞাত হওয়া যায় না। কেবল শিবের বাড়ী হইতে কয়েক মাইল দূরে “হর্মাইর দীঘী” নামক জঙ্গলাবৃত একটি দীঘী তাহার নামে ক্ষীণ পরিচয় দিতেছে। উনকোটি তীর্থ উনকোটি তীর্থ শ্রীহন্্র সীমার সন্নিকটবর্তা ও পার্বত্য ত্রিপুরার প্রান্তব্তী ৷. এই তীর্থও শ্রীহট্টবাসীর তীর্থ বলিয়াই গণ্য । ইহা স্বাধীন রাজ্যের অন্তর্গত এবং কৈলাসহর হইতে তিন ক্রোশ পৃবের্ব অবস্থিত। আসাম-বেঙ্গল রেইলওয়ের টালাগাও ষ্টেশন হইতে পদব্রজে কয়েক মাইল অতিক্রম করিলেই এ স্থানে যাওয়া যায়। উনকোটি তীর্থে কোনরূপ পুজার প্রথা নাই। কারণ দেবতাগণও পূর্ণাঙ্গ নহে। উনকোটিতে অগণিত দেবমূর্তি ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্তভাবে পড়িয়া রহিয়াছে। কত যে মূর্তি, কে গণনা করিবে? এক সময় ইহা পূর্বববঙ্গে যে এক প্রধান তীর্থ ছিল, তাহা দেবমূর্তির সংখ্যানুপাত বলা যাইতে পারে। এক স্থানে এত অধিক দেবমূর্তি বড় অধিক দৃষ্ট হয় না। শ্রীযুক্ত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদ কৃত “কৈলাসহর ভ্রমণ” পুস্তিকায় বিরল প্রচারিত উনকোটি মাহাত্ম্য নামক গ্রন্থ হইতে তিনটি শ্লোক উদ্ধৃত হইয়াছে, তাহাতে জানা যায় যে, বরবক্র ও মনুর মধ্যে উনকোটি পবর্বত অবস্থিত ।২১ ইহাতে জানা যায় যে, কৈলাসহর হইতে কাছাড়ের পশ্চিমদিগ্ববর্তী পর্বত পর্য্যত্ত গিরিশ্রেণী উনকোটি পর্বতের অন্তর্ভুক্ত । এবং প্রসিদ্ধ কপিল তীর্থও ইহার অন্তর্গত । বিদ্যাবিনোদ মহাশয় ২০. "৭1117021107 0100 90001) 9511)61 511001151017, ৮11616 01701015011 1100800191৮, 109100 ৮/10101) [9601)16 9010- (11705 51006 11061110911 11) 01061701000 01 00118 ৫611$6150 [0] 0156859.1 -/8552]) [)15101101 0225016615 ৮০] 111. 0121). 117). 86. -৬1৫০ 17100100015 91901150101 /000011115 01 /555ঞথা। ৬0] 111). 25. ২১. “বিন্ধ্যাদ্রেঃ পাদদম্থতো বরবক্রঃ সুপুণ্যদঃ দক্ষিণস্যাৎং নদস্যাস্য পুণ্যামনুনদী স্থৃতা। অনয়োরন্তরা রাজন উনকোটি গিরির্মহান।”-উনকোটি তীর্থ মাহাত্ম্য নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্ীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ১০৯ লিখিয়াছেন “উনকোটি গিরি শ্রেণীর যে শৃঙ্গটি তীর্থরূপে ব্যবহ্ত হইয়া আসিতেছে, তাহার উচ্চতা নিতান্ত কম নহে। শৃঙ্গটির শিরোভাগে এবং পশ্চিম পার্থে কতকগুলি দেবমূর্তি অদ্যাপি বিদ্যমান আছে । শিরোভাগের মূর্তিগুলি প্রস্তর নির্মিত, পারের মূর্তিগুলি পর্বত গাত্রে খোদিত।” “শিরোভাগের অনেকগুলি মূর্তি চিনিতে পারা যায় না। এ সকল মূর্তির কতকগুলি কিঞ্চিৎ আধুনিক ও কতকগুলি বনু প্রাচীন বলিয়া মনে হয়” “পর্বত গাত্রে খোদিত মূর্তিগুলি যে বহু প্রাচীন, তাহাতে কিছু মাত্র সন্দেহ করিবার যো নাই। রা ররর রোগা রিনি রর ডে 'পাণপাশা'র ন্যায় বৃহৎ কুগুল আছে।” “পবর্বত পার্থে বহুসংখ্যক মূর্তি খোদিত ছিল, কালক্রমে সমস্তই বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে। এখন যাহা আছে, তাহাও আর বেশীদিন থাকিবে বলিয়া বোধ হয় না। কারণ প্রস্তর ক্রমে ধসিয়া পড়িতেছে।” “উনকোটি শৃঙ্গের পশ্চিম পারে প্রস্তরে অনেকগুলি দেবদেবীর মূর্তির ধ্বংসাবশেষ দেখা খায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এ গুলি দশমহাবিদ্যার মূর্তি, এখন স্পষ্ট বুঝিবার উপায় নাই।” “এ সকল মূর্তির মধ্যে মহাদেবের মূর্তি বিশেষ উল্লেখযোগ্য । উহা অতি প্রকাণ্ড। দুইটি কর্ণ দুইখানি কপাটের ন্যায়, দুইখানি ঢালের ন্যায় দুইটি কুগ্ুল তাহাতে শোভা পাইতেছে। গৌোপের একদিক ভাঙ্গিয়া গিয়াছে, একদিকে একহাত দেড়হাত পরিমাণ বর্তমান আছে। হাতে ব্রিশূল, সম্মুখে দুইটি প্রকাণ্ড বৃষ । “শৃঙ্গাথে প্রস্তর ও ইষ্টক রাশি প্রকীর্ণাবস্থায় ইতস্ততঃ পড়িয়া রহিয়াছে। কোন সময় এ স্থানে যেপ্রস্তর ও ইষ্টক নির্মিত মন্দির ছিল, তাহা বেশ অনুমিত হয় । একটি মন্দির অতি অল্পদিন পূ্ব্রে নষ্ট হইয়াছে, বুঝিতে পারা যায়।” দেবমূর্তি ভগ্ন হওয়া রাজমালায় লিখিত আছে যে, ত্রিপুরার মহারাজ বিজয় মানিক্য উনকোটি দর্শনে গমন করিয়াছিলেন ।২২ এ সময় পর্য্যন্ত উনকোটি তীর্থের মূর্তিগুলি তগ্ন হয় নাই বিবেচনা করা সঙ্গত। ইহার অব্যবহিত পরে খৃষ্টায় ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে কালা পাহাড় কর্তৃক বহুস্থানের দেবমূর্তি বিতগ্ন হয়, উনকোটি তীর্থের দুর্দশাও তৎকর্তৃক সাধিত হইয়াছিল বলিয়া অদ্যাপি কথিত হয়। কেবল ইহাই নহে, পার্ববন্তী ভবনেশ্বর তীর্থ ও তুঙ্গেশ্বর শিবও তৎকর্তৃক বিভগ্র হওয়ার জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। শ্রীহট্টের গ্রীবাপীঠ হজরত শাহজালালের সময়-কেহ কেহ বলেন, এই সময় সংগোপন করা হয়। সিদ্ধেশ্বর শিব চাপঘাট পরগণার অন্তর্গত শ্রীগৌরী মৌজার তিন মাইল পূরের, শ্রীহট্ট ও কাছাড়ের সীমা মধ্যে এই শিব স্থাপিত। বারুণী উপলক্ষে এখানে পঞ্চদশ দিবস ব্যাপী এক বৃহৎ মেলা হইয়া থাকে। রে বা জিনার নোট বরের তেতো অন পুরি নিরের সাত রাও বাতি ২২. “কতদিন পরে রাজা উনকোটি গেলা ।”- রাজমালা । ত্রিপুরার প্রখ্যাতকীর্তি মহারাজ রাধাকিশোর মাণিক্য বাহাদুর ১৯০৩ ্রষ্টাব্দে সপারিষদ উনকোটি তীর্থ দর্শনে গমন করিয়াছিলেন। ১০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ সুবিধা । শিবে বাড়ী শ্রীহষ্ট সীমা চিহ্বের কয়েক হস্ত মাত্র পূবের্ব অবস্থিত মেলা স্থান শ্রীহট্রেই। উনকোটি তীর্থ মাহাত্ম্য নামক বিরল প্রচারিত হস্তলিখিত গ্রন্থের মতে এই শিব কপিল মুনি কি ও ৪8৩ ওঠ হইল, শ্রীযুক্ত বিদ্যাবিনোদ মহাশয় উনকোটি মাহাস্ব্যের শ্লোক স্বীয় “কৈলাসহর ভ্রমণ” গ্রন্থে উদ্ধৃত করেন। কিন্তু ইহার বহুপূবর্ব হইতে এদেশে যে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে, তাহা এ শ্রোকার্থের ঠিক অনুরূপ । বায়ুপুরাণের মতে ও জনশ্রুতিতেও এই স্থানের নাম “কপিলতীর্থ”। এবং এই শিব “কপিল পূজিত” । এই স্থানেই ভগবান কপিলদের তপস্যা করিয়াছিলেন।২৪ এই স্থান উনকোটি গিরির একদেশ স্থিত বলিয়া জানা যাইতেছে । পুণ্য সলীলা নদী এই স্থানেই পাদদেশ ধৌত করিয়া বরবক্র প্রবাহিত হইতেছে। এই বরবক্র নদ পাপ প্রনাশক বলিয়া বারুণীযোগে ইহার স্থানে স্থানে লোকে স্নান তর্পন করে ।২৫ খৃষ্ীয় সপ্তম শতাব্দীতে সাম্প্রদায়িক পঞ্চবিপ্র “বরবক্রু তীর্থযাত্রা পুরঃম্বর”২৬ শ্রীহস্রে আগমন করিয়াছিলেন বলিয়া জানা যায়। বায়ুপুরাণ অতি প্রাচীন, তাহাতে “বরবক্র মাহাত্ম্য” নামে একটি পৃথক অধ্যায়ে এ পুণ্যদ নদ মাহাত্ম্য কীর্তিত হইয়াছে।২৭ তদ্্যতীত মনু নদীর মাহাত্যও শান্ত্রে কথিত হইয়াছে।২৮ ভগবান মনু এক সময় ইহার তীরে শিবের আরাধনা করিয়াছিলেন বলিয়া তন্ত্রে উল্লেখ আছে।২৯ যে স্থানে ২৩. শবিস্ধ্যাদ্রেঃ পাদসন্থৃতো বরবক্র সুপুণ্যদঃ। অনয়োরন্তরা রাজন্‌ উনকোটি গিরিমহান্‌। অত্র তেপে তপঃ পূবর্বং সুমহৎ কপিলোমুনিঃ॥ তত্র বৈ কপিলং তীর্থং কপিলেন প্রকাশিতমূ। লিঙ্গঞ্চ কাপিলং তত্র সব্র্বসিদ্ধি প্রদং নৃণাম্ঃ” -উনকোটি তীর্থ মাহাত্ম্য । ২৪. যত্রতেপে তপঃ পুরর্বং সুমহৎ কপিলমুনিঃ। যন্ত্র বৈ কপিলং তীর্থং তত্র সিদ্ধেশ্বরোহরিঃ1-বায়ুপুরাণ। ২৫. “রূপেশ্বরস্যদিগ ভাগে দক্ষিণে মুনিসত্তম | বরবক্র ইতি খ্যাতঃ সবর্বপাপ প্রণোদকঃ1”-তীর্থচিস্তামণি । (তীর্থ চিন্তামণি একখানি প্রাচীন সংগ্রহ গ্রন্থ, পুরাণ তন্ত্রাদি হইতে ইহাতে শ্লোক উদ্ধৃত করিয়া তীর্থমহিমা প্রকটিত করা গিয়াছে ।) ২৬. বৈদিক সংবাদিনী গ্র্থ। ২৭. “বিদ্ধ্যপদে সমুভূতো বরবক্রঃ সুপুণ্যদঃ। যতন্ত্শ্নাত্বা জলং পিত্বা নরঃ সদগতিমাপ্ুয়াৎ। যজ্জলে মনুজব্যাঘ মনুজো মৃত এবহি। তৎক্ষণাদেব স স্বর্গং যাতি সূর্য্য পথেনচ! যস্যৈবং নদরাজস্য বক্রে বক্রেচ পুণ্যদঃ। তীর্থঃ প্রশস্তঃ বিখ্যাতঃ বরবক্র স্ততঃ স্মৃতঃ1” ইত্যাদি। -বায়ুপুরাণে সুতসৌনকসম্বাদে বরবক্রু মাহাত্ম্য । ২৮. তীর্থাচিন্যামণি গ্রন্থ এবং বায়ুপুরাণে বরবক্র মাহাত্ম্য দ্রষ্টব্য । ২৯. “পুরা কৃত যুগে রাজন্‌ মনুনা পূজিত শিবঃ। তন্রৈব বিরলে স্থানে মনুনাম নদী তটে॥”-প্রাচীন রাজমালাধৃত যোগিনীতন্ত্র চনং। নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত ১১১ বরবক্রের সহিত মনু মিলিত হইয়াছে, সে সঙ্গমস্থান বহু পুণ্যদ বলিয়া খ্যাত ।৩০ মনুনদীর প্রাণত্যাগ করেন ।৩১ তীর্থ- চিন্তামণি গ্রন্থ শ্রীহট্রের ক্ষমা (খোয়াই) নদীর নামও প্রাপ্ত হওয়া যায়। হাটকেশ্বর শিব মহালিঙ্গেশ্বর তন্ত্রোক্ত শিবের শতনামে লিখিত আছেঃ “নকুলেশঃ কালীপীঠে শ্রীহন্রে হাটকেশ্বরঃ।” শ্রীহট্ট্রের নামতত্ দেবীপুরাণোক্ত পীঠ পূজায় আছে যে, “শ্রীহ্ট্ে হট্টবাসিন্যৈ নমঃ” অর্থাৎ এই মন্ত্রে শ্রীহট্টরের দেবী পৃজিতা হন। এই হষ্টবাসিনী এবং হাটকেশ্বর নামের সহিত শ্রীহ্ট নামের সম্বন্ধ থাকার বিষয় বিবেচনা করা যাইতে পারে। এই স্থানে ভটেরার তাম্রফলকের লিখিত শ্রীহট্টনাথ শিবের নাম উল্লেখ করা কর্তব্য শ্রীহ্্টনাথ ও হাটকেশ্বর এক কি না বলা যায় না। কালীপীঠের নকুলেশ্বরের নামের সহিত হাটকেশ্বরের নাম একত্র লিখিত হওয়ায়, কেহ মনে করিতে পারেন যে, হাটকেস্বর গ্রীবাপীঠের ভৈরব; বস্তুত তাহা নহে, এ স্থলে শিবের শতনাম প্রকাশ করাই উদ্দেশ্য,__ ভৈরব নির্দেশ উদ্দেশ্য নহে। সুতরাং উভয় নাম একত্র লিখিত হইয়াছে মাত্র । আদি কথা শ্রীহট্ট্রের রাজা গৌড় গোবিন্দ এই হাটকেশ্বর শিবের পূজা করিতেন মিনারের টিলা বা তন্নিকটবর্তী কোন টিলাতে হাটকেস্বর স্থাপিত ছিলেন। হজরত শাহজালালের আক্রমণের সময় যখন প্রসিদ্ধ গ্রীবাপীঠ সংগোপন করা হয়, তখন রাজপুজিত হাটকেশ্বর জয়ন্তীয়ার জঙ্গলে নীত হন; বহুকাল যাবৎ হাটকেশ্বর জয়ন্তীয়ায় ছিলেন; তথা হইতে চুড়খাইড় পরগণার সেনগ্রামে নীত হন।৩২ আগমবাগীশ ও হাটকেশ্বর সেনগ্বামে আগমবাগীশ উপাধিধারী একজন ব্রাহ্মণ ছিলেন, তাহার একটি কপিলা গাভী ছিল, একদা এ গাভী হারাইয়া যাওয়ায়, তাহার অনুসন্ধান করিতে করিতে আগমবাগীশ জয়ন্তীয়ার বড় হাওরে উপস্থিত হইলেন এবং দেখিলেন যে তাহার কপিলা দাঁড়াইয়া এক শিবের উপরে দুগ্ধধারা বর্ষণ করিতেছে । আগমবাগীশ গাভী লইয়া বাড়ী আসিলেন ও এই ঘটনা সকলের নিকট বলিলেন। অনেকেই তখন শিব সন্নিধানে "যাইতে ও শিবকে নিজ গ্রামে আনিয়া স্থাপন করিতে ইচ্ছা করিল। আগমবাগীশেরও তাহাই অভিপ্রায় ছিল, সুতরাং পরমানন্দে গ্রামবাসীকে লইয়া ৩০. “মনুনদ্য মহারাজ বরবাকেণ সঙ্গমঃ। তত্রন্থাত্বা নরোযাতি চন্দ্রলোকমনুত্তমংঃ”_বায়ুপুরাণ। '9150121 58110111) 15 81509 5810 10 211801) 10 076 [01909 11216 0110 [7121)81 2180 160051/919 11661. -/১]16115 85501) [0150100082905619 ৬০1. 1] (59110610) 0১. 89 ৩১. বিশ্বকোষ-ব্রিপুরা শব্দ এবং শ্রীযুত কৈলাস চন্দ্র সিংহের ত্রিপুরার ইতিহাস। ৩২. ৮1019 1171691105, 01 51010 [111015 110611060 10 10101656110 0106 [0181105, 0৩ 51039160 11116 11165 9০0) 01 18111181080 811711065৬2 01) 016 100 01 090 102 0) 4%6 1011171591)] 50001৬15101, ৬1550 1115 581410 118৬০ 05611 90151107950 0) 0807 00010, 01161251218 01 9)1161.” -/85581 [0150101 0929015915 ৬০1. 1] (9911)00) ০1701). 1110. 87. ১১২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ শিবদর্শনে চলিলেন। তাহার ভ্রাতা কমল নারায়ণ ভট্টাচার্য্য শিবকে দেখিয়াই দণ্ডবৎ পূর্বক উত্তোলন করিয়া, নিজ গ্রামে লইয়া আসিলেন ও নিকটবর্তী এক উত্তম স্থানে স্থাপন করিলেন। জয়ন্তীয়ার রাজা জয়নারায়ণ ১৭০৮ হইতে ১৭৩১ স্ৃষ্টাব্দ পর্য্যস্ত রাজত্ব করেন বলিয়া কথিত হয়। রাজা জয়নারায়ণের রাজত্ব সময়ে উক্ত ঘটনা সংঘটিত হয়। জয়নারায়ণ যখন শিবাপহরণ বার্তা শুনিতে পাইলেন, তখন তাহার ক্রোধে সীমা থাকিল না, তিনি তৎক্ষণাৎ সৈন্যগণকে সজ্জিত হইতে আদেশ দিলেন এবং নিজ পুরোহিত সহ স্বয়ং সসৈন্যে শিব উদ্ধারের জন্য সেনগ্রামে আসিলেন। রাজার আগমন সংবাদে আগমবাগীশ ভীত ও স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া রাজার সহিত দেখা করিলেন। রাজা কোন প্রতিদ্বন্্বীর কল্পনা করিয়াছিলেন, তৎপরিবর্তে দেখিলেন যে এক ভিক্ষুক ব্বাহ্মণ ভীতভাবে সম্মুখে দণ্ডায়মান আছেন; সুতরাং তিনি ক্রোধ ত্যাগ করিয়া, তাহার বিনানুমতিতে শিব আনয়নের হেতু কি, জিজ্ঞাসা করিলেন, রাজার প্রশ্ে ব্রাহ্মণ, কপিলার কথা, গাভী অনুসন্ধান ও গাভীর ব্যবহার, গ্রামবাসীদের ও তাহার নিজের অভিপ্রায় এবং শিব আনয়ন ঘটনা যথাযথ জ্ঞাপন পৃবর্বক বলিলেন যে, শিবের ইচ্ছানুসারেই এরূপ ঘটিয়াছে, ইহাতে তাহাদের অপরাধ নাই; এবং মহারাজ ইচ্ছা করিলে শিবকে পুনব্র্বার লইয়া যাইতে পারেন। মহারাজের অভিপ্রায় মত শিবকে উত্তোলন করিতে যাইয়া দেখা গেল যে, সদস্য আনীত শিব ভুলগ্র হইয়া গিয়াছেন; ইহাতে সকলেই চমকিত হইল । ইহা ব্রাহ্মণগণের কৌশল বিবেচনায় রাজা খননের আদেশ দিলেন, কিন্তু বহুদূর খননেও শিবের অধঃদেশ পাওয়া গেল না, ভূগর্ভে ক্রমাণত সাতখানা গৌরীপাট দেখিতে পাইয়া দর্শকগণ স্তন্তিত ও খননকারীরা ভীত হইয়া পড়িল। কথিত আছে যে, রাজা তখন রণকুঞ্জর নিযুক্ত করিলেন, কিন্তু হস্তীর বল বিফল হইল, শিব নড়িলেন না। তখন রাজার খাসিয়া সেনাপতি বন্য পশুবৎ হুঙ্কার করিয়া বীরদাপে সলক্ষে শিবের পার্থে আসিয়া বিষম অস্ত্রাঘাতে শিবের একাংশ ভগ্ন করিয়া দিল, এবং কথিত আছে যে, তনুহ্র্তে মৃচ্ছিত হইয়া ভূপতিত হইল । তাহার সে মৃচ্ছা আর ভাঙ্গিল না, সে মৃত্যুমুখে পতিত হইল । রাজা তখন আগমবাগীশের কথা সত্য বলিয়া বুঝিলেন; বুঝিলেন যে, শিবের স্বইচ্ছাতেই তিনি চলিয়া আসিয়াছেন। রাজা তখন শিবকে স্থানান্তর করার সঙ্কল্প পরিত্যাগ করিলেন ও আগমবাগীশকেই দেবত্র দিয়া শিবের পুজক নিযুক্ত করিলেন । আগমবাগীশের মহিমায় সকলেই আকৃষ্ট হইল, স্বয়ং রাজপুরোহিত তাহার শিষ্য হইলেন, এবং বর্ণফৌদ ও খরিল পরগণার অধিকাংশ ব্রাক্মণ আগমবাগীশ বংশের শিষ্যত্ব গ্রহণ করিল। এই ঘটনা হইতে হাটকেশ্বরের নাম ও মহিমা চতুর্দিকে ঘোষিত হয়। জয়ন্তীয়া রাজ্যের পতনের সহিত হাটকেশ্বরের প্রভাব শ্লান হইয়া যাওয়ায় এখন এ স্থানে আর পুর্ব লোক সমাগম ঘটে না। বারুণী উপলক্ষে এস্থানে অদ্যাপি একটি মেলা হইয়া থাকে । চুড়খাই পোষ্ট আফিস হইতে এস্থান এক মাইল মাত্র উত্তরে অবস্থিত শ্রীহট্ট সহর হইতে চুড়খাই পর্য্যত্তই নৌকা আসিয়া থাকে । তুঙ্গেশ্বর মহাদেব তুঙ্গনাথ নামক ভৈরব হইতেই তুঙ্গেশ্বর গ্রামের নাম হইয়াছে বিবেচনা করা অসঙ্গত নহে। একটি শ্রোকে তুঙ্গনাথ শিবের নাম পাওয়া যায়।৩৩ খোয়াই নদীর তীরে এই বৃহৎকায় শিব বিরাজিত। সায়েস্থাগঞ্জ রেইলওয়ে ষ্টেশন হইতে এখানে যাওয়ার সুবিধা আছে। কথিত হয় যে, এ স্থানে দেবীর নয়টি অঙ্গুরীয়ক পতিত হইয়াছিল, এবং এ জন্য তুঙ্গেশ্বর নবরত্ব উপপীঠ বলিয়া খ্যাত। ৩৩. “ক্ষমায়াঃ পৃর্ভাগেচ তৃষ্গনাথন্তু ভৈরবঃ। নবরতু মহাপীঠ তুঙ্গনাথশ্চ রক্ষকঃ1”-তীর্থচিন্তামনি নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহ্টের ইতিবৃত্ত ১১৩ বাচম্পতি ও তুঙ্গনাথ প্রকাশ প্রায় আটশত বৎসর অতীত হইল, শন্ত্নাথ বাচস্পতি রাঢ় দেশ হইতে সপরিবারে তরফে আসিয়া বাস করেন। তাহার একটি কপিলা গাতী ছিল, এঁ গাভী প্রতিরাত্র বসকে দুগ্ধপান করাইয়া থাকে বলিয়া বিবেচিত হইয়াছিল । কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেল যে, গাভী কোথায় চলিয়া যায়। একদা প্রহরায় থাকিয়া দেখা গেল যে, উষাকালে গাতী সবলে বন্ধনমুক্ত করতঃ অল্পদুরবর্তী এক মৃত্তিকা স্তূপের উপর দাঁড়াইয়া দুপ্ধধারা বর্ষণ করিতেছে। ইহার কারণ কি, কিছুই বুঝা গেল না। ভয়ে কেহ সেস্থান খনন করিতে ইচ্ছা করিলেন না। সেই রাত্রে বাচস্পতি স্বপ্নে তথায় নবরতু পীঠের অবস্থান জানিতে পারিলেন। পীঠ স্থানান্তরিত করিয়া প্রতিষ্ঠা করিতে, তত্প্রতি আদেশ হয়। তদনুসারে পরদিন তিনি পুত্রগণ ও প্রতিবাসীগণ লইয়া সেইস্থানে উপস্থিত হন ও সেই স্থান খনন করায় ভূনিম্নে একখানা প্রস্তর দৃষ্ট হইল, ইহাতে এক ইঞ্চি দেড় ইঞ্চি প্রমাণ আটটি ও মধ্যস্থলে প্রায় দুই ইঞ্চি পরিমাণ একটি, এই নয়টি গর্ত দৃষ্ট হইল এবং মধ্যস্থ গর্তে অঙ্গুষ্ঠ পরিমিত এক শিবলিঙ্গ পাওয়া গেল। স্বয়ং বাচস্পতি শিব হইলেন, পুত্র ভৃত্যগণ গর্তযুক্ত প্রস্তর বহন করিয়া চলিল। বাচস্পতি সেই শিব ও প্রস্তরপীঠ তথা হইতে বহন করিয়া আনিয়া নিজ বাটীর সন্নিকটে স্থাপন করেন । তুঙ্গনাথ বর্ধনশীল অনাদি লিঙ্গ, ব্রাহ্মণ শুদ্র সকলেই তাহাকে স্পর্শ করিতে পারে। কালাপাহাড়ের অত্যাচার বাচস্পতির সপ্তম পুরুষে যদুমাণিক্য ব্রহ্মচারীর জন্ম হয়। ইহার সময়ে দেবদ্বেষী যবনের মুদগরাঘের তুঙজনাথের দক্ষিণ পার্শ্ব ভগ্ন হইয়া যায়। এই যবন কালাপাহাড় বলিয়া উক্ত আছে। এই সময়ে উনকোটি তীর্থেরও দুরবস্থা ঘটে । শিব যবনসৃষ্ট ও বিভগ্ন হইলে বক্ষচারী স্বপ্নে আদিষ্ট হইলেন যে যবনস্পৃষ্ট বলিয়া নিয়মিত পুজায় যেন অবহেলা না হয়; তাহার ক্ষোভ করিবার কারণ নাই, শিবের ভগ্নাংশ পূর্ণ হইয়া যাইবে । এইরূপ স্বপ্লাদেশ হওয়ায় শিবের পুজা বন্ধ হয় নাই এবং শিব ক্রমশঃ বর্ধিত হওয়ায় ভগ্ন স্থানও পূর্ণ হইয়া আসিতেছে। মনুষ্যদেহে যেমন শুঙ্ক ব্রণ হয়, শিবের দক্ষিণ পার্শ্বে তদ্রুপ কয়েকটি স্বেতদানা দেখিতে পাওয়া যায়। এ দানা গুলি কিছুদিন পরে মিশিয়া গিয়া ভগ্স্থান পূর্ণ হইতে থাকে, তৎপর আবার নূতন দানা দেখা দেয়। তদ্যতীত শিবও ধীরে ধীরে ক্রমশঃ প্রবর্ধিত হইতেছেন। ধীরতার জন্য প্রবর্থন ক্রিয়া চক্ষে ধরা যায় না। যে শিব প্রথমে অন্গুষ্ঠ পরিমিত ছিলেন, এই আটশত বর্ষে তিনি প্রায় তিনহাত উচ্চ ও পাচ হাত পরিধি বিশিষ্ট হইয়া দাড়াইয়াছেন। এই শিবও মন্দিরে থাকেন না; ব্রক্ষচারী মন্দির প্রস্তুতের উদ্যোগ করিলে “আমি মন্দিরে থাকিতে ভালবাসি না” এইরূপ স্বপ্রাদেশ হইয়াছিল । বর্তমানে বাচস্পতি বংশে ষড়বিংশ পুরুষ চলিতেছে ।৩৪ ব্রহ্ষকুণ্ড ও তপ্তকুণ্ জনপ্রবাদ ব্রক্ষকুণ্ড পার্বত্য ত্রিপুরার অন্তর্নিবিষ্ট হইলেও ইহা শ্রীহট্টের লোকেরই তীর্থ। ইহা কাশিমনগর পরগণার সীমান্ত রেখার অতি নিকটে অবস্থিত । আসাম বেঙ্গল রেইলওয়ের মনতলা ৩৪. শিবের ভূপোথিত নিন্নভাগের চতুর্দিক পদ্মের পাপড়ীর ন্যায়। ২৫/৩০ বৎসর হইল, পূজার সুবিধার জন্য একটি বেদী প্রস্তুত করা হয় সেই সময় তিন হাত পর্য্যন্ত খনন করা হইয়াছিল। এঁ সময় একটি পাপড়ীতে খনিত্রের আঘাত লাগায় প্রথমে স্বেতবর্ণ ধারণ করিয়া, ক্ষণপরে কঞ্তবর্ণ হইয়া যায়। এতদৃষ্টে ভয়বশতঃ তৎক্ষণাৎ কাজ সমাধা করা হয়। তুঙ্গনাথের উচ্চতা ২ হাত ১৪ অঙ্গুলি, পরিধি ৫ হাত ১৬ অঙ্গুলি। শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৮ ১১৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ ষ্টেশনে অবতরণ করিয়া এ স্থানে যাওয়া যায়। ব্রহ্গকুণ্ড একটি পার্বত্য উৎস। ত্রেতাযুগে পরশুরাম মাতৃবধান্তর কুঠার পরিত্যাগের উদ্দেশ্যে নানাস্থানে (তীর্থ) ভ্রমণ করতঃ স্থানে স্থানে আঘাত করিয়া কৃঠার ত্যাগের চেষ্টা করেন। আসাম সাদিয়ার পূর্বে ব্রক্মকুণ্ডে তাহার হস্তস্থিত কৃঠার পরিত্যক্ত হয়। তিনি এই পথে আসাম গমন কালীন, এই স্থানে আসিয়া মৃত্তিকায় কুঠারাঘাত করিয়া ছিলেন, এবং তাহাতেই এই কুণ্ডের উৎপত্তি হয় বলিয়া কথিত আছে। এই কুণ্তের আকৃতি ক্ষেপনী বা প্যারাবোলার ক্ষেত্রের ন্যায় । ক্ষেপনীর বক্ররেখা কুণ্ডের পশ্চিমোত্তর কোণ হইতে আরন্ত করিয়া পশ্চিম দক্ষিণ কোণে শেষ হইয়াছে। কুণ্ডের পশ্চিম সীমা সরলরেখা বিশিষ্ট, এই সরল রেখা ভেদ করিয়া এক অপ্রশস্ত খাত অনেকদূর পর্য্যন্ত অগ্রসর হইয়াছে। এবং পূর্রবতীর দিয়া এক অপ্রশস্ত-সঙ্কীর্ণকায় জলপ্রণাণী কল কল রবে ব্রহ্মকুণ্ডে আত্মসমর্পণ করিতেছে ব্রহ্মকুণ্ডের উত্তর ও দক্ষিণ তীর পরিষ্কার এবং পৃরর্ব ও পশ্চিম দিক জঙ্গলাবৃত। ইহার তীরভূমি আন্দাজ ২০ ফিট উচ্চ এবং জলভাগের পরিমাণ অন্যুন ২৫৩০ বর্গ ফিট হইবে । চৈত্রমাসের শুরা অষ্টমীতে লোকে এই কুণ্ডে স্নান করে । স্নানান্তে যাত্রীগণ কৃষ্ণপুরের মন্দিরে আগমন করে 1৩৫ ব্রন্ষকুণ্ডে যাত্রীগণ কবুতর, ছাগ ও ফলমূলাদি অর্পণ করিয়া থাকে। তীরে কতকগুলি নিষ্নশ্রেণীর লোক দণ্ডায়মান থাকে, তাহারাই এ সমস্ত উঠাইয়া লয়। এই সময় এখানে এক বাজার বসে, তাহাতে অনেক পার্বত্য বস্ত্র ক্রয় করিতে পাওয়া যায়। তপ্তকুণ্ জয়ন্তীয়ার পাঁচভাগ পরগণাস্থিত তগ্তকুণ্ডের বিবরণ দ্বিতীয় অধ্যায়ে কথিত হইয়াছে। মধুকৃষ্ঠাত্রয়োদশী ফোগে এ স্থানে অনেক লোক তর্পণাদি কবিতে সমাগত হয়। এই স্থানের বিশেষত এই যে, এই কুত্ডের ভূমি অতি উষ্ণ,_পদ সংলগ্ন করা যায় না, কিন্তু জল শীতল । সম্ভবতঃ কুগততলে ভূগর্ভে কোনরূপ দাহ্য পদার্থ থাকায় এইরূপ হইয়াছে !৩৬ বর্ষাকালে কুওটি ১০/১২ হাত জলের নীচে পড়িয়া থাকে। মাধবতীর্থ ও শিবলিঙ্গ তীর্থ পৃবের্ব মাধব প্রপাতের উল্লেখ করা গিয়াছে । এই প্রপাত একটি ক্ষুদ্র তীর্থ রূপে গণ্য হইয়াছে; মধুকৃষ্জা ত্রয়োদশী যোগে এখানে ৮/৯ সহস্র লোক স্নান তর্পণ করিয়া থাকে । মাধব পাথারিয়া পরগণার অন্তর্গত, বড়লিখা ষ্টেশন হইতে তিন মাইলের অধিক দৃরবত্তী নহে। ছড়ার বিবরণ আদম আইল পাহাড়ের মাধবছড়া পশ্চিমমুখে প্রবাহিত হইয়া, হঠাৎ উচ্চ পাহাড় হইতে নীচে পড়িয়া যাওয়ায় নীচে এক বৃহৎ কুণ্ডের উৎপত্তি হইয়াছে। যদি কেহ মাধবছড়ার প্রোতাভিমুখে ৩৫. 11) 1110 ১000-2051 0011101 01 100 11219100111 51001৬1১101, 11010 15 1 101011)10 01111517010, 1 ৬/1010]) [01115 ৮)11]) 01101 0110) 170৬6 10001760111 0115 54010015500 1318171741001108 ৬10101) 15 51100160 10510001055 016 70010701001 11111 11000014- -/১৭০০1) [0191110100760116615 ৮০ || (5911001) 01701) 111 0. 89. ৩৬. "1৯116001107 5101001 [8001 15 0) এ০ 1 0171010100100 0110 15 91108100117 [00100014 চ00000101000৮ 1 10110010107 [99115 9814 (0) 1১০০৮)6 40110 ৬01]া) 01) 000 00090510011 (91 1506130110001 01101 15 [7055111001৭ 1006 আগে 105 111 100111) 50)1100 11011]011 [010100110105- -/৯5০০11) [01511100 0925110615 ৮01. 11 (১911)01) 01000, 1111) 89 নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ১১৫ পূর্বাঞ্চল হইতে গমন করে, তবে ছড়ার বক্ষে মধ্যে মধ্যে বৃহৎকায় প্রস্তরখণ্ড সমূহ দেখিতে পাইবে । মাধবকুণ্ড হইতে প্রায় এক মাইল উপরে এইরূপ এক সুবৃহৎ পাষাণ খণ্ড আছে। বৃহৎ পাষাণটি ছড়ার সমস্ত প্রস্থ ব্যাপ্ত করিয়া রহিয়াছে । জল এক পার্থ দিয়া ভয়ে ভয়েই যেন বাকিয়া চলিয়া যাইতেছে ও একেবারে সজোরে সেই প্রস্তরের সম্মুখে আসিয়া এক কুণড প্রস্তুত করিয়াছে, ইহার পরিসর বৃহৎ না হইলেও অতি গভীর,__সুচিকূণ নীলসলিলে টলমল করিতেছে। এইরূপ ছয়টি শিলা ও তনিম্ে ছয়টি কুণ্ড সেই স্রোত বক্ষে দৃষ্ট হয়। বলা আবশ্যক যে এই ছয়টি কুণডই পাহাড়ের উপরে। এই ছড়ায় হাটুজলের অনেক কম জল থাকে, এবং দুদিকে উচ্চ পাহাড়ি থাকায় সূর্য্যরশি দৃষ্ হয় না। এইরূপ কিছুদূর অগ্রসর হইয়া ছড়ার একটি “বক্র” (পাক) ঘুরিলেই ষষ্ঠ কুণড প্রাপ্ত হওয়া যায়। সেখানে হইতে সূর্য্য রশি স্পষ্টরূপে দৃষ্ট হয়। এই স্থানে আসিলে একটি ই হু শব্দ শ্রুত হওয়া যায়, মধুচক্র আঘাত দিলে উড্টীয়মান মক্ষিকার ঝাক হইতে যেরূপ শব্দ হয়, এরূপ শব্দ শুনা যায়। তৎসম্মুখেই অভীষ্ট সপ্তম কু, তথায়ই যাত্রীগণ স্নানাদি করিয়া থাকে। প্রপাতের উৎপত্তি সেই পূর্বোক্ত স্রোতটি (ছড়া) শৈল গাত্রে প্রস্তরের উপর দিয়া চলিয়া দ্বিভাগে বিভক্ত হইয়া, হঠাৎ উচ্চ পর্বত হইতে একবারে নিম্নে পড়িয়া গিয়াছে। পাহাড়ের গা-বাহিয়া পড়ে নাই। পাহাড়টি যেন সম্মুখে নত হইয়া “ঝুকিয়া” রহিয়াছে। তাহার উপর হইতে জলরাশি শূন্য দিয়া সলক্ষে পড়িতেছে। যেখানে জলরাশি পতিত হইতেছে, তাহার চতুর্দিকে উচ্চ পাহাড় শ্রেণী, মধ্যদেশ একটি গুহা বিশেষ । দৈর্ঘ্যে পোয়া মাইলের অধিক হইবে না। ইহার মধ্যে কতকটা স্থান ব্যাপী এক বৃহৎ কুণ্-জল ভাগ প্রায় ৫০০০ বর্গ ফিট হইবে । ইহারই নাম মাধবকুণ্ড। ইহার মধ্যদেশ অতি গভীর । সাহসী লোক কেহ কেহ সীতার কাটিয়া ধারাতলে গমন করে; কিন্তু শীতল জলে সাতার দিয়া কুণ্ড পার হইতে গেলে ক্লান্ত হইতে হয়। ক্ষুদ্র ধারাতলে, শৃন্যে-_পর্র্বতগাত্র হইতে বহির্গত হইয়া একটি প্রস্তর আছে। “ছাতিজলে” সেই প্রস্তরের উপর দীড়ান যায়। কিন্তু সেই ক্ষুদ্র ধারাটির জলপতনবেগই মস্তক অধিকক্ষণ ধারণ করিতে পারেন না; বৃহৎ ধারাতলে যাওয়া দুঃসাহসিকতা ও অসম্ভব । কাৰ্‌ | ইহার এক পার্থে একটি ক্ষুদ্র গহ্বর রহিয়াছে, সেই গহ্বরটিকে সাধারণ লোকে “কাব্‌” বলে। (কেব্‌ 08৬০ বলিলেই শুদ্ধ হইত।) পাহাড়ের একদিক যেন মানুষে বহু যত্তে খুঁদিয়া রাখিয়াছে,_- যেন পাথরের একটি একচালা ঘর । বৃষ্টির সময় প্রায় দুই শত লোক ইহার নীচে প্রবেশ করিলেও সমাবেশ হইতে পারে। যাত্রী গণ স্নানাদি করিয়া, পাহাড় হইতে বহির্গত হইয়া, পশ্চিম দিকে গৌরনগরে, মাধববাজার নামক স্থানে বারুণী মেলায় আসিয়া জলযোগ করে। মাধবমেলা দিন মাত্র স্থায়ী। এস্থানে প্রায় দশ হাজার লোকের সমাগম হয় ও নানাবিধ দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয় হইয়া থাকে। মাধব যাত্রীগণের মধ্যে নিষ্নশ্রেণীর লোকের সংখ্যাই অধিক দৃষ্ট হয়। শিবলিঙ্গ তীর্থ শিবলিঙ্গ তীর্থ মাধব বা অন্য তীর্থের ন্যায় খ্যাতনামা না হইলেও, স্থানীয় লোকে পবিত্র বলিয়া ভক্তি করে ও সোমবার নন্দাদি তিথিতে, বিশেষতঃ চৈত্র শুরা প্রতিপদ যোগে তথায় গমন ্‌ 2৫252 5ি ঠাস সপ পাশাস্িচে দিক টিপি ঠা পি১:472 | ক ক কীট ৪ কেস্র ৮) এ ০ চস সস লি ০৮ ৪২ 1 ০০ পরশ ৯১০ ৯ কি সনতিল পে টা ্ ৯ কিদুল্ি রর / শি ০০ শা তি ক এ কলস রন ন্হ ». রিট, 272০৮৫5445৫ নর £ রি নট করনি করি ্ 8, সক তত পার্স ৯১: টাকে % চর রি 4৪৭ প্র ০ টি ৮7 প লি 94: ও ৮ ন্‌ পা করছি তত পিউ রি প্রথম ভাগ নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১১৭ করিয়া থাকে। ইহা মনুষ্যকৃত নহে। প্রাকৃতিক দৃশ্য হিসাবে, ইহা একটি বিশেষ দর্শনীয় স্থান। ইহাও আদম আইল পাহাড়ে অবস্থিত; বড়লিখা স্টেশন হইতে ইহা অধিক দূর নহে। ছোট লিখার ভদ্রপন্লী হইতে লোকেল বোর্ড সড়কে দুই মাইল গমন করিয়া ক্ষীণকায় “শিবছড়া” প্রাপ্ত হওয়া যায়। ইহার গর্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাষাণ খণ্ডময়; অল্প পরিমিত জল, সেই পাষাণ খণ্ড সমূহের উপর দিয়া ঝির ঝির করিয়া প্রবাহিত হইতেছে। প্রস্তরখণ্ড গুলি অতি পিচ্ছিল। অতি সতর্কে এই দুর্গম পথে প্রায় দেড় মাইল গমন করিলে, পব্র্বত গাত্রস্থিত প্রস্তর গুলির অভিনব অবস্থান দৃষ্টে মনে স্বভাবতঃই ভাবান্তর উপস্থিত হয়। আরও অর্থ মাইল অগ্রসর হইলেই অভীষ্ট শিবলিঙ্গ নামক স্থানে পৌছা যায়। এখানে টীলার উপর ক্ষুদ্র এক পাষাণ আছেন, কিন্তু শিবলিঙ্গের কোনরূপ নিত্য পূর্জা অর্না হয় না। এ স্থানের প্রধান দৃশ্য “শিবের জটা”। প্রস্তরময় পর্বত গাত্র হইতে প্রকৃত জটার ন্যায় ৩/৪টি জটা বাহির হইয়াছে, এবং এ নিরেট প্রস্তরময় জটা হইতে বিন্দু বিন্দু করিয়া জল বহির্গত হইতেছে। এ স্থানে উপস্থিত হইয়া বম্‌ বম্‌ শব্দ করতঃ লোকে হাততালি দেয় এবং তাহাতে অধিক পরিমাণে জল বাহির হয়। যাত্রিকেরা সেই জল ভক্তিভরে শিরে ধারণ করে। এই জটার নিম্নে একটি গর্ত আছে, লোকে বলে যে, বহুপুবের্ব তথায় জনৈক সন্ন্যাসী বাস করিতেন। বর্তমানে প্রস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় গর্তের মুখটা সঙ্কীর্ণ হইয়া যাইতেছে। এই স্থানে দুইটা ক্ষুদ্র কুণ্ড আছে, একটা পাহাড়ের উপরে, অপরটি নীচে । উদ্ ও অধঃকুণ্ডের ব্যবধান ১২/১৩ হাত মাত্র । উর কুণ্ড হইতে অধঃকুণ্ডে ঝির ঝির শব্দে জল পড়িতেছে। (সুতরাং বলিতে হইবে যে, ইহাও প্রপাতের এক ক্ষুদ্রতম নমুনা মাত্র ।) কুণুদ্ধয় অপ্রশস্ত, কোনরূপে ১০/১২ জন লোক একত্র স্নান তর্পণ করিতে পারে । স্থানান্তর যাত্রীরা মহাদেবের পূজা দেয়, কেহ কেহ বা কীর্তনাদিও করে। এখানকার জল লোকে সযত্বে গৃহে লইয়া যায়। নিবিড় পাহাড়ের ভিতরে বলিয়া এস্থানে সূর্যের আলো স্পষ্টরূপে পতিত হয় না। বাসুদেবের বাড়ী পঞ্চখণ্ডের বাসুদেব হিন্দু রাজত্বের সময় পঞ্চখণ্ডের সুপাতলা গ্রামে জয়ন্তীয়ারাজের দুর্গাদলই নামক জনৈক কর্মচারী বাস করিতেন। তাহার বাসবাটার সম্মুখে একটা প্রাচীন পুষ্করিণী ছিল, তাহাতে জল থাকিত না; দুর্গাদলই এই পুষ্করিণী খনন করাইতে আরম্ত করেন। কিছুদূর খনন করা হইলে মাটির নীচে বাসুদেবের প্রস্তরময় মূর্তি সহিত একখানা দুর্গামূর্তি পাওয়া গেল। কথিত আছে, দুর্গাদলই এই দেবী মূর্ত্িকে জয়ন্তীয়ায় পাঠাইয়া দেন; এবং বৈষ্ঞব ধর্মে রাজাদের আস্থা নাই বলিয়া বাসুদেব মূর্তি, বিজয়কৃষ্ণ পাঠক নামক তত্রত্য এক ধর্মাত্বা ব্রা্ষণকে দেন; তখন হইতেই বাসুদেবের পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাসুদেবের নামে এ স্থানকে বাসুদেবপুর বলা হয়। দুর্গাদলইর পৃফকরিণী এখনও জীর্ণাবস্থায় আছে। কৃষ্তবর্ণপ্রস্তরে অতি সুন্দর বাসুদেবের মূর্তি নির্শিত,__দুই দিকে লক্ষ্মী ও সরম্বতী মূর্তি! একখণ প্রস্তরে মূর্তিত্রয় উৎকীর্ণ। বাসুদেবের উল্টা রথ বিশেষ প্রসিদ্ধ । প্রায় ৬/৭ সহস্র লোক এ সময় সমবেত হয়। নৈরাগীবাজার ষ্টিমার ষ্টেশন হতে এস্থান প্রায় ৫ মাইল বং রেইলওয়ের লাতু স্টেশন হইতে ৬ মাইল দূরে অবস্থিত । ১১৮ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ জগমাথপুরের বাসুদেব সুনামগঞ্জ সবডিভিশনের অন্তর্গত জগন্নাথপুরের বাসুদেব মূর্তি ও পঞ্চখণ্ডের বাসুদেব মুক্তি ঠিক একরূপ। জগন্নাথপুরের বাসুদেব খৃষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে জগন্নাথ বিপ্র কর্তৃক পরিপূজিত হন. জগন্নাথের নামানুসারে জগন্নাথপুরের নাম হইয়াছে। এই বাসুদেব মূর্তির বিবরণ ২য় ভাগ ১ম খণ্ডের ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে পাঠক দেখিতে পাইবেন। অনেক দূরের যাত্রীকগণ গিয়া ও মূর্তি দর্শন করে । সরকারী ইতিহাস গেজেটিয়ারে এই মূর্তির স্থাপনকাল সম্তরট শাহজাহানের সময়ে বলিয়া লেখা হইয়াছে, কিন্তু এ কথার কোন প্রামাণ্য ভিত্তি নাই । আখড়া বিথঙ্গলের আখড়া বা রামকৃষ্জের আখড়া বৈষ্ঞব ধর্মাবলম্বীদের স্থাপিত বিষ্ণু বা তৎসংসৃষ্ট দেবতার স্থানই সাধারণতঃ আখড়া নামে খ্যাত। শ্রীহট্ট জিলার সকল আখড়ার মধ্যে বিথঙ্গজলের আখড়াই বৃহৎ। কিন্তু তথায় কোনরূপ মৃত প্রতিষ্ঠিত নাই। জগন্মোহিণী সম্প্রদায়ের উল্লেখ পুর্ব অধ্যায়ে করা গিয়াছে। এই সম্প্রদায়ের লোব গৃহত্যাগী ও বৈরাগী বেশধারী। ইহারা তুলসীপত্র বা গোময়ের ব্যবহার করে না, কোন মূর্তি পূজ করেন না,৩৭ এবং গুরুকেই শ্রেষ্ঠ উপাস্য বলিয়া জ্ঞান করে। এই আখড়া রামকৃষ্ণ গোসাঞ্ি কর্তৃব স্থাপিত হয়; এই স্থানেই তাহার সমাধি আছে শিষ্যবর্গের “বার্ষিকী” প্রভৃতি হইতেই এই আখড়ার আয় প্রায় ৪০,০০০ টাকা হইয়া থাকে । তদ্যতীত ভূসম্পত্তির আয়ও অনেক আছে।৩৮ এই সম্প্রদায় বৈষ্ঞবসমাজ বহির্ভূত বলিয়া বৃন্দাবনে মীমাংসিত হইয়াছে । জগন্মোহন গোস্বামী ও রামকৃষ্ণ গোস্বামীর জীবনবৃত্তে পশ্চাৎ এই সম্প্রদায় ও আখড়া সম্বন্ধে অবশিষ্ট জ্ঞাতব্য বিবৃত হইবে। যুগলটিলার আখড়া শ্রীহন্ট সহরের উপকণ্ঠে যুগলটিলা নামে আর একটি প্রসিদ্ধ আখড়া আছে। প্রায় ২০০ শত বৎসর পৃরের্ব ঠাকুর যুগল কর্তৃক ইহা স্থাপিত হয়। ঠাকুর যুগল একজন সিদ্ধপুরুষ ছিলেন। এই আখড়ার ভূসম্পত্তি আছে; তাহার আয় প্রায় পনর শত টাকা হইবে এবং শিষ্য সংখ্যাও প্রায় ৩৭. এখন কিন্তু ইহারা তুলসী গোময়াদির সম্মাননা করিতে আরম করিয়াছে। ৩৮. ”/1 831101211, 0760171971101511181) 0900051 010016 15 0ো] /৯10010 01001 110 171011956])01]1 01 0106 1909111001)11)1 5601. 4৮1 0176 11100 01101 5485 10101011001 1001 [00151 01010010101) ৬/০$, 1)0৬/০৬61, (81061) & 31111090291) 210 01015 015165070 01 ৮/790 0116 010011019 11110811)0105 590100 0110 0. 117016 0111)0000% 111011 1€ 00/ 00967%০. [91010151018, 0076 (0001001 01 00115 [01900, 19 1১০14 11) 0112 £1601950 ৬৫170100101), 2110 0010111)%5 010 10200 011)19 51111101709 11001) ৬/10 005170 011-51311110 01010 118010950 01 01101] 10105. 11715 5601101) 01 1176 ৬০511110৬1165 20 0170 (1100 010 (0 ৬/0191)1]) 21) 00502000০00 9/11100101 5110])6 01 হি), 101 11015 [০0৬০ (0 0০ 06১০00 1116 501110091 ০9002011195 01 01011 00011916১, 0114 11009 3110 1116 [001595 0117211, 2১1151118 [এযা) 0110 0৬০1) 01791101199. 31001010691 1105 00110101600619 6০1100560 0116 01016 81110571118 11091 119012911). ৮/10101 00118171511) (0171) 01 19011100101), 01০ (08010001 0110110 5601. | 15 1176 ৮/৩০|।])1051 810 121051 [0105- 76101051018 11 ১11061, 2110 15 5914 1016061৬6 25 71101) 1২5. 40,000 [901 01110]]) 1] 00 0োঠ়া। 01011011115 [01] 805 00010105110 11211011005 015 01 5015106101)10 51-:৮, 2110 01110050011, 9710 5৬৪1) ১1100 1001) 216 09৬৩৫ ৬101) 10101)19. -/৯55017) [015111010 09020106015 ৬০1. 11 (5511701) 01100 111 0. 88. নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহন্্রের ইতিবৃত্ত ১১৯ আটশতের কম নহে ।৩৯ ঝুলন পর্ব যুগলটিলায় অনেক শিষ্যের সমাগম হয় এবং তাহাতে অনেক জাকজমক হইয়া থাকে । এতদ্বতীত ইন্দেশ্বর পরগণার পাণিশালির আখড়াও বিশেষ বিখ্যাত, এই আখড়াতেও ভূসম্পত্তি আছে এবং ঝুলনের সময় অনেক শিষ্য সমবেত হওয়ায় বিশেষ ঘটা হয়! এই আখড়া গুলি ব্যতীত শ্রীহট্টে আরও বহুতর আখড়া আছে, তাহা তত খ্যাতনামা নহে, ঞ-পরিশিষ্টে আখড়া সমূহের বিষয় উল্লেখিত হইবে । মোসলমান তীর্থ মোসলমান তীর্থ মধ্যে শ্রীহট্ট সহরের দরগামহল্লাস্থিত প্রসিদ্ধ শাহজলালের দরগাই উল্লেখযোগ্য ৷ এই বিখ্যাত দরগার বিবরণে দ্বিতীয় ভাগ দ্বিতীয় খঞ্ডের দ্বিতীয় অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য । প্রসিদ্ধ দরবেশ শাহজলাল এই দরগার প্রতিষ্ঠা করেন। শাহ্ভ্ালূল পীর মোসলমানগণের অতীব মান্য । শাহজলাল নামে চারিজন প্রসিদ্ধ পীর ছিলেন, তন্মধ্যে শ্রীহ্ন্টের শাহজলাল অন্যতম ও সকলের মধ্যে প্রধান। ইহার সাধনা স্থান ও কবর শ্রীহন্টে অবস্থিত বলিয। ইহা মোসলমান তীর্থে পরিণত হইয়াছে। সুন্দরবনে অনেক হিন্দু মোসলমান মধু, মোম প্রভতি আহরণ করিতে যায়। তাহারা তত্রত্য যে সকল পীর বা দেবতার কথা বলিয়া থাকে, তনুধ্যে 'শাহজলাল পীর" একজন; ইনি আমাদের শ্রীহট্টের শাহজলাল হইতে ভিন্ন নহেন: শ্বীহট্ের পার্বত্য অংশেও এইরূপ পীরের দোহাই দেওয়া হয়। সুতরাং পীর শাহজলালের প্রভাব সুন্দরবন পর্য্যস্ত প্রচারিত হইযাছিল বলিতে হইবে । দিল্লীর শেষ মোগল সম্রাট মোহাম্মদ শাহের পুত্র ফিরোজশাহ ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে ইে দরগা দর্শনের জন্য আগমন করেন । সুদূর হায়দরাবাদ প্রদেশ হইতে নিজাম বাহাদুরের মন্ত্রী এই দরগা দর্শনার্থী হইয়া শ্রীহট্টে আসিয়াছিলেন; ইহাতেই দরগার মাহাত্ম্য ও প্রখ্যাতির বিষয় বুঝা যাইতে পারে । ফলতঃ ভারতবর্ষে মোসলমান তীর্থের মধ্যে এই দরগার সমকক্ষ স্থান আর আছে কি না সন্দেহ। অন্যান্য স্থানের দরগা ও মোকাম শাহজালালের দরগা ব্যতীত শ্রীহন্টে আরও অনেকটি দরগা ও মোকাম আছে; তন্ধ্যে নি্নে কয়েকটির উল্লেখ করা গেল। ১. শাহ আরপীনের মোকাম বা বড় দরগা। । ইহা লাউড়ে অবস্থিত । শাহ আরপীন শাহজলালের এক প্রধান অনুসঙ্গী ছিলেন, তিনিই এই স্থানে বাস করিতেন। ২. ফতেপুরে ফতেগাজীর মোকাম । ইনিও শাহজলালের অনুসঙ্গী ছিলেন, ইহার মোকামে মোগল সম্রাট প্রদত্ত বহু পীরোত্তর ভূমি আছে এবং অগ্রহায়ণ মাসের শেষদিনে তথায় এক মেলা হয়। এ স্থানে আহাম্মদ গাজী, মসউদ গাজী ও ফতে গাজীর সহিত তিনি একত্র বাস করিতেন ।8০ সপ পপি ৩৯. "71106 /১115 01 10189010010 15 5010 (9 100৮০ 15001] (0011000 ১০11৩ 2000 ৮691৭ 09০91799100 10120115010 17000101110, ৮1915 901001995৫0 19170500001) 0) 11009171011য) 0100 00019 1115 0181050 ৬৬11]) 1:000100 17010071 5010) 1011775১111 0101) 10060) 10 15090 01705 ৭96৫, 2100 1005 ৯01006 ৯৩৬৩৪) 01 0181)11707101950 00010195600, -/58501) 1301১117101 0398201006015 ৬০1. 11 (5911)01) 0179]. 111 1১. 88. 8০. তথা 006 ১1701100/01 ত0115/09 5140101), 11) 1110 90010) ৮৮050001101 01010 01501101, 1১ 000 4010 01 51120) 11411) 01021, 0100 01 0110 001111091101)5 01 91101 19101. 11015 00160 15 11111011100 1101) 1000 10010510016 যো] ॥ ৬111000 ৬1101) ৮05 21011600১10 1) 1৬00151101 20৬০1111101, 0010 1109 51100 1৩৩।॥ ৩%৩1)10৫ 1101 [77১11107101 10110 70017816. /৬%ঢা [01501101 070/৩000605 ৬0] 11 (5%1100) 01001, 111 0,825, ১২০ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ তদ্যতীত গিয়াস নগরে গিয়াসউদ্দীন সাহেবের দরগা, বদরপুরে শাহবদরের মোকাম, চাপঘাটে গয়ভীর মোকাম, লঙ্করপুরের দরগা প্রভৃতি বিখ্যাত । দ্বিতীয় ভাগ দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকাধ্যায়ে বৃতর মোকাম ও দরগার বিষয় উল্লেখিত হইবে। মোকাম শব্দের অর্থ বাসস্থান। প্রতাপগড় পরগণায় জঙ্গলের ভিতর ছাগল মোহার মোকাম বিশেষ বিখ্যাত। ইহা বাদশাহর মোকাম বলিয়াও কথিত হয়। পাহাড়ের লাকড়ী ব্যবসায়ী হিন্দু মোসলমান সকলেই প্রথমে এই মোকামে গিয়া বাদশাহকে প্রণাম করিতে হয়। ব্যবসায়ীরা মোকামে যে সকল দ্রব্যাদি উপহার দেয়, কখন কখন ব্যাঘ আসিয়া সেই দ্রব্যাদি ভক্ষণ করিয়া যায়। করিমগঞ্জ অঞ্চলের কোন কোন স্থানে নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুগণ ও সহিজা বাদশাহর দোহাই দিয়া থাকে । এই সহিজা বাদশাহকে বনের অধিষ্ঠাতা দেবতা বলিয়াই লোকে মনে করে। সরকারী ইতিহাসে লিখিত হইয়াছে যে, দিল্লীর কোন বাদশাহ প্রতাপগড়ে নিজ্জন জঙ্গলে মোকাম প্রস্তুত ক্রমে বাস করিয়াছিলেন।৪১ একথা সত্যমূলক বলিয়া বোধ হয় না। কারণ লোকে সহিজা বাদশাহর নামই উল্লেখ করিয়া থাকে, দিল্লীর কোন শাহজাদা বা বাদশাহের উল্লেখ করে না। ৪১, ৮17 09 17912069011) 00160থ, 10 10010 5080) 01911116011], 01016 00 5০৬0121 1/11110175 ৮/10101) 91 5010 00 1906 100011 [0001000 19/ 0110 01 0110 1300১1105 01 1)01101, 9/1)0 00170041910 0110 501018017) 11)91 10701) 50১01. 11000100009, /100101101%01)াাএএুথা। 01111111000, 51111 01110) 0010715 00100055 0110 1115 5810 10741111015 11 (01])া 02955 71560 10) %1৭11 (11090 ১10111)65 01711100509 1110]15, 010 001 8115 (00901610100 04৮] ৬11110)01 [10105111 0110 [১0750115 91010190116 11) 1106 11101001710, -/5901) [01০0101 00872116শ5 ৬01. 1] (9%11001) 090) 1111) 83. দশম অধ্যায় পরগণাসমূহ প্রাচীনকালে শ্রীহট্ট লাউড়, ১১ দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ে এই ব্রিভাগের সীমাদি কথিত হইবে। নানান গালের ই রনারারকারা জারির সরাইল ও ময়মনসিংহের জোয়ানশাহী প্রভৃতি সমস্তই শ্রীহন্ট্রের অন্তর্গত ছিল। আইন-ই- আকবরি গ্রন্থে লিখিত আছে যে, সম্রাট আকবরের সময়ে শ্রীহট্ট জিলা আটভাগে বিভক্ত ছিল, এ এক এক ভাগ মহল নামে কথিত হইত । যথাঃ__ মহলের নাম রাজস্ব (দাম) মন্তব্য প্রতাপগড় (ও পঞ্চখণ্ড) | ৩৭০,০০০ পঞ্চখণ্ড একটি পৃথক পরগণা, ইহা পরে প্রতাপগড় হইতে খারিজ হয়; পূর্ব পঞ্চখণ্ড পর্য্যন্ত প্রতাপগড়ের সীমা ছিল বলা যাইতে পারে। বাণিয়াচঙ্গ্‌ ১,৬৭২,০৮০ | বর্তমানে বাণিয়াচঙ্গ বহু অংশে বিভক্ত হইয়াছে, এ নামে এখন তিনটি পরগণা পাওয়৷ যায়। বাজুয়া বা বাহুয়া সহর | ৮০৪,০৮০ বর্তমানে ইহা একটি ক্ষুদ্র মহালে পরিণত হইয়াছে। জয়ন্তীয়া ২৭,২০০ রাজস্ব হিসাবে ইহা সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র ছিল বিধায় বোধ হয় যে জয়ন্তীয়ার অংশ বিশেষ মোগল সম্রাটের করদ রূপে গণ্য হইয়া থাকিবে । হাবিলি সিলেট ২,২৯০,৭১৭ | বর্তমান শ্রীহট্ট সহরাদি লইয়া ইহা ছিল। সতর খপ্ডল সেরাইল) | ৩৯০,৪৭২ | সতর খণ্ডল সরাইলের অন্তর্গত হইলেও এক্ষণে একটি খারিজা মহালে পরিণত হইয়াছে। সম্রাট আকবরের পূর্ব হইতে সরাইল শ্রৃহট্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল) শ্রীযুক্ত কৈলাসচন্দ্র সিংহ ত্রিপুরার ইতিহাসে লিখিয়াছেন, সরাইলের অধিকারী “দেওয়ানগণ তাহাদের রাজস্ব শ্রীহট্রের আমিলের নিকট প্রেরণ করিতেন । সম্রাট আরঙ্গজেবের শাসন কালে সরাইল--সতরখণ্ডল শ্রীহন্ট হইতে খারিজ হইয়া ঢাকা- লাউড় ২৪৬,২০২ বর্তমানে একটা পরগণা মাত্র । হবিনগর ১০১,৮৫৭ বর্তমানে একটা পরগণা মাত্র । চে পপ হর্স দাম আধুনিক ডবল পয়সার ন্যায় এক প্রকার তামুমুদ্রা, আট দামড়ীতে এক দাম এবং চন্লিশটা দামে এক শেরশাহী টাকা হইত। আকবরের রাজস্ব মন্ত্রী রাজা তোডরমল্প কর্তৃক “ওয়াসিল তোগ্লার জমা” নামে যে রাজস্ব হিসাব প্রস্তুত হয়, তাহাতেই উক্ত হিসাব প্রদত্ত হইয়াছে। ইহাতে শ্রীহট্রের রাজস্বমোট ১৬৭,০৪০ টাকা ধার্য্য হয়। ১২২ শ্রীহট্রের' প্রথম ভাগ ১৭২২ খৃষ্টাব্দে মুর্শিদকুলি খা “জমা কামালে তোমারি” নামে যে রাজস্বের পাকা হিসাব প্রস্তুত করেন, তাহাতে রাজস্ব বর্ধিত হইয়া ৫৩১,৪৫৫ টাকা লিখিত হইয়াছে এবং শ্রীহট্ট জিলা ১৪৮টি মহলে বিভক্ত বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। এবং মহল গুলিই ভিন্ন ভিন্ন পরগণায় আখ্যাত হইয়াছে। এই সংখ্যা পরে আরও বর্ধিত হয়; তরফ, লংলা প্রভৃতি বৃহৎ বৃহৎ পরগণা হইতে অনেক পরগণা পরে খারিজ হইয়া বাহির হইয়াছে । এক তরফই গদাহাসন নগর প্রভৃতি দশটি ভিন্ন ভিন্ন পরগণায় বিভক্ত হয়। আসামের ্টেটিস্টিকেল একান্ট্স্‌ পুস্তকে (জয়ন্তীয়া ব্যতীত) শ্রীহট্টে ১৬৮টি পরগণার নাম লিখিত হইয়াছে । জয়ন্তীয়ার অষ্টাদশ সংখ্যা এতৎসহ যোগ করিলে শ্রীহট্রের পরগণা সংখ্যা ১৮৬টি হয়। হণ্টার সাহেব ১৮৬টি পরগণারই উল্লেখ করিয়াছেন (হাওলি পানিশালি, বেতাল, কিসমত বেতাল, ও লক্ষণ ছিরি গং এই) পাচটা পরগণার নাম তৎকর্তৃক উল্লেখিত হয় নাই। তৎসহ ইহা যোগ করিলে শ্রীহট্রের পরগণা সংখ্যা বর্তমানে মোট ১৯১টি। হন্টার সাহেব (১৮৫৯-১৮৬৬ খুষ্টাব্দের থাকবস্তের জরিপানুযায়ী) একর উল্লেখে প্রতি পরগণায় যে ভূপরিমাণ নির্দেশ করিয়াছেন, কালেক্টরীর কাগজে উন্লেখিত (১৮২০-১৮২৯ খৃষ্টাব্দের হালাবাদী জরিপানুযায়ী) হাল হিসাবের সহিত তাহার অনৈক্য লক্ষিত হয়, নিম্নে সবডিভিসনানুসারে একর ও হাল পরিমাণের সহিত পরগণা গুলির নাম লিখিত হইল । হালাবাদি কাগজের উল্লেখিত মতে পরগণা গুলির গ্রাম সংখ্যা এবং রাজস্বের পরিমাণও লিখা গেল। কালেক্টরী বিভাগ-_ পৃবের্ব রাজন্ব সংঘ্রহের এক একটি কেন্দ্র স্থান ছিল, তাহা জিলা নামে খ্যাত . উত্তর শ্রীহট্ সবডিভিশনে পারকুল, তাজপুর ও জয়ন্তীয়াপুর এই তিনটি জিলা বা কালেক্টরী বিভাগ । করিমগর্জের কালেক্টরী বিভাগ-_লাতু | দক্ষিণ শ্রীহট্রের-__নয়াখালি, রাজনগর ও হিঙ্গাজিয়া । হবিগঞ্জের কালেক্টরী বিভাগ--নবিগঞ্জ, লঙ্করপুর, শঙ্করপাশা ৷ এবং সুনামগঞ্জের কালেক্টরী বিভাগ-_ বসুলগঞ্ত | উত্তর শ্রীহট্টর নং পরগণার নাম মৌজাবা | হাল একর রাজস্ব গ্রাম সংখ্যা | (আবাদি) | টাকা ১. অরঙ্গপুর . (গরঙ্গ্পুর) ১০৬ ১৯৭৫ ৭০৪৫ ২৮৬৮ ২. ইছাকলস ৫৩ ১৫২৩ ৪৩২১২ ৩৬২১ ৩. ইন্দানগর ৭ ৫০৮ ৪০৫০ ৬৬৩ 8. উত্তরকাছ ৪ ১৬৪৬ ৯৩৩৪ ১৪৯৫ ৫. করণসী ৭ ৪৮৪ ১৮৬৫ ৪৯২ ৬. কসবা শ্রীহট্ট ২৩১ ৬৩১ ২৫২৭ ৪৭ ৭. কাজাকাবাদ ১৪ ১১৮৪ ৫৮২৭ ১১৪৮ ৮. কুরুয়া ৫৭ ১৭৭৬ ৮৪৪১ ২৯৪৪ ৯. কৌড়িয়া ২৭৮ ৯৭৬ ৪৮৫৯৯ ১০৫৫ ১০. খিত্তা ৯৪ ১৯৫৭ ১০৬২২ ৩৯৮৪ ১১. গঙ্গানগর ৪ ১২ ৫৫৯ ৩৪২ ১২. গহরপুর | ০ 0 ১৮৪২০ ৪8৪৮৫ রা দশম অধ্যায় : পরগণাসমূহ ১৩. গিলাছড়া চা ৫৭৭৩ ১৪. গোধরালি ৯২৮৭ ১৫. গোয়ার 8৬১৪ ১৬. চৈতন্য নগর নং ১ ৫১৭৪ ১৭. চৈতন্য নগর নং ২ ৩২০৪ ১৮. জয়্তীয়া (১৮ পরগণা) ০ ১৯, জলালপুর ৭১১২ ২০. ঢাকাদক্ষিণ ১৫৩৫৯ ২১. দক্ষিণকাছ ৮৮৫৮ ২২. দুলালী ১৫৫৩১ ২৩. ফুরকাবাদ ৩২৮১ ২৪. বগাথ ৭৭ ২৫. বরায়া ১৮৭৬০ ২৬. বরুঙ্গা (বরগঙ্গা) ২১৪০ ২৭. বনভাগ (খালিসা) ৮৩৭১ ২৮. বাজু বনভাগ ৬৫৫৪ ২৯. বেত্রীকুল ১২৮০১ ৩০. বোয়ালজোর ১৯৩৪০ ৩১. ভাদেশ্বর (আরাঙ্গাবাদ) ১২৭১ ৩২. মোক্তারপুর ৮২৭৩ ৩৩. মোহাম্মদাবাদ ৭78০ ৩৪. মৌরাপুর হহোউলি) ৫১৮৯ ৩৫. মৌরাপুর (ইটা) ১৬০৩ ৩৬. রাণাপিং নোরাপিং) ১৭১৯ ৩৭. রেঙ্গা ৩০৮৬৮ ৩৮. লক্ষীপুর ৬৪৮৮ ৩৯, শিকান্দরপুর ৬৫৪ ৪০. সনখাউড় ছছনখাই) ৬৬৩৬ ৪১. হরিনগর ৭৩৫৩ ১* আকবরপুর ৬৯৮ ২* আগিয়ারাম ৩১৯৩ ৩* আরঙ্গাবাদ মাটিকাটা ০0 ০ ২৬১ ৪* ইছামতি ৫৯ ২৮৭৫ ৩৬৫০ ৫* ইয়াকুব নগর ১২ ৩২৩ ১৫২২ ৬* এগারসতী ৮২ ৭৯১৩ ৩৬৭৬৪ ৭* এগারসতী পলডর ০ ০ ০ ৮* এতোসামনগর ৯ ১৭৫ ১২৮১ ৯* কুমড়ীসাল (বাদে) ৬ ১৫৬ ৭২৫ ১০ কুশিয়ারকুল ৫৪ ৩৪২৭ ১৬৪৭৩ ১১+* এ (কিসমত) 8০ ৩৩৪৬ ১৯১১ ১২* এ (বাদে) ৩৯ ৬১৬ ২৪৮৭৪ ররর. ৯০ রর পাস আত ০০ ররর ১২৪ শ্রীহস্টরের ১৩ চাপঘা৷ ১৪ চুড়খাইড় ১৫ চেতন্যনগর নং ৩ ১৬* এ নং ৪ ১৭ ছোটলিখা ১৮ জফরগড় ১৯ দুবাঘ ২০ পঞ্চগড় (কালা) ২১* এ খুরাদ ২২ পলডর ২৩ পাথারিয়া ২৪ প্রতাবগড় ২৫ বড়লিখা ২৬* বাদে দেওরালি ২৭ বারপাড়া ২৮ বারহাল ২৯ বালাউট ৩০ বাহাদুরপুর ৩১ ভরণ ৩২* মোহাম্মদপুর ৩৩ রফিনগর ৩৪ শায়বাগ ৩৫ শাহবাজপুর ৩৬* সাহাবাদ ৩৭* সেনগ্রাম ১* আথানাগার ১২ ছয়চিরি ১৩* পচাউন ১৪* পানিশুলি (ইটা) ১৫* পানিশালি (হাউলি) ১৬ বরমচার ৩০ ২১ ১১ ২২ ১২ ৮৯ ১৯ ১৩ ৬২ ১৯ ২৮ ২৩ ১৯ ১০ ৩ ৯৭ ২১ ২৮ ১৯ ৬৯ ১৫৬ ১৭৪ ১৭৫৯ ৯ ১ ৯ ১ ৫ ৫ ৯ 8 ৫ ৯ ১ ৬ ৬ ১ ৪ ৩২৫ ২৫৬ ৭০ ২৩৯ ৫৫০ ২৭৮৬ ৯ ৩১৩৫ ৩৪ ৭ ১১১ ২১৮ ৮০৬ ৭৬ ১৪০ ৮৩০ ০১ ৯০৪ ১৩৭ ৭৬ ১০০৬ ২৬২ ২৩৯৫ ১০৪ ২০১ ৩৭১৭ ৬৪০ ৩১৯৩ ১ ৩৪৮৫১ ২৮৫০০ ৫ ৭৩ ৬৯৯০ ১০২ ৭৯২৯ ১৯৪৭ ২৭৮৮২ ২ ৭০২ ১৭০৫ ১৫১ ১৯০৭২ ৩ ৪৯৩ ২ ১৫১ 0০0 ২৫৪৯ ১১৯০ ৪০৪২৮ ১৯৯৭০ ৫২৩ ১৩০৬ ৩০৬৪ ৪8২০ ৫৫ ২৪ ৮০৪ 1 ২৩০ ১৭৮৭১ ৮ ২৫১৯ ৬৮৭৪ ৭৮০ প্রথম ভাগ ২৯৬ ৫৫ ৪৩৮ ৪৯৮ ৩৫৮ ১১৫৬ ২৬২ ৪২১ ১৩৮ ১২৩ ৫৯ ১২০ ১৮৮ ৭৬ ৬৭৭ ৬১ ১৩০ ১৫১ ৭. ৩৩২ ১৩ ১০ ৬৫ ১৩৭৬ ১১৩৩ ৬৯১১ ২৮৪ ২৯ ৪৯০ ১৭৯ ২৮১২ ১৬৪ ২৭ ২৪ ৭০৭ ৬১৭ পপ পপ সপ পপ জপ পান দশম অধ্যায় : পরগণাসমূহ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১২৫ ১৮ ভাটের ২৪ ৫৭৫৪ ১৯ ভানুগাছ ১০২ ৩৯৫৭১ ২০ লংলা ৫৬ ৮২৬৪৭ ২১ শায়েস্তানগর ৯৬ ১৫০৮৬ ২২ সতরসতী (হাউলি) ৭৯ ১২৩৩৪ ২৩ শমশের নগর ২৭৫ ৬৩৮৫০ ২৪ সাতগাও ১৫ ৮১৫৪ ২৫* এ (হাউলি) ১৩ ১১৭১ ১৪১ ৩১০৮৮ ১৩১২ ১৩৭ ০ ০ ৯ ৭৮৯৬ ৩৭৬০ ২৯ ১৬৯ ১৮৩ ৬ ৬০৪৬ ৩৭৫৩ ১৬০ ১১৩৮ ২০৬ ১০ ১৫৭৮৯ ১৯৫০ ১৯৫ ৮০৬৯ ৬৬৯৯ ৫8৩ ১২২৩ ৩৭৩ ৪২ ৪৭৪৪ ১০৭৬ ৬৯ ৮৭০৯ ৮৪৩ ৮৫ ১২১৩২ ২৮৩১ ৬৮ ৫০৪২ ১১৬৪ ১২ ৬৩৫৮৬ ৭০৭৮ ৩৩৮ ৫০৯৯৬ ৪8৪8০০০ ১৬০১ ৮৬৪০ ৫৭৫০ ১৭ ২৭৩৬২ ৩৯৯৪ ৬৮৩ ৩১৩২ ২৭৮৪ ৭০ ৬১৩৬ ১৯৭৫৪ ১৮৯ ১৩২৮ ৫৫৮ ১১৫ ২৭৫৮ ৩২২ ৫৬ ৯৬৮৩ ৭১৭ ১৭৭ ১০৬৮৭৬ ১০৮৬৫ ৩৫৮৫ ৮৮৫১ ৩৭৭৫ ৩৩৩ ৭৮৪৫ ২২০১ ১৭. ৫২৩৫৬ ৩০৭৬ ১২৯৪ ৮৯২ ১৮১ ৮ ০ ০ ০ ৮০৫৮ ১৫১৯ ১৩১৩ ১৪৭৯ ৪৩৯ ৪ ১৪৭৯ ৪৩৯ 8 ১১০ ১৫৭ ৮২ প্রথম ভাগ ১ আটগাও ৪৮৯ ৯০০ ৮২ ৮ ২ আতুয়াজান ৩৫৫৫২ ১২৭৫ ৪৫৩ ৩ এ (কিসমত) ৩৭৯৮৫ ৩৪৩৩ ২৮১ ৪ চামতলা ১৯৪২৭ ১১৬২ ৬২ ৫ ছাতক ৫৭৯৯ ৮৪৩ ৪৮ ৬* জাতুয়া (হাউলি) ২৮২৯ ২০৬ ১৪ ৭ এ (বাজু) ৪৪৩৯ ১০১১ ৪৮ ৮ জোয়ার বানিয়াচং ১ ১০৮৩৫৬ ৩৮৩১ ১৭০ ৯ দু-হালিয়া ১০৮৪২ ৮৮৭ ৫১ ১০ (নগাঙ ৫৪১৫ ৫৩৭ ৯ ১১ পলাস ৩৭৪১ ৫৪০ ৯ ১২ পাগলা ৯৫৮৭ ১৫৩৭ ৭৫ ১৩ পাওুয়া ৩০৬৪ ৪২২ ২৭ ১৪ বড় আখিয়া ৩৩৩৫৯ ৯৯২ ৩৯ ১৫ বংশীকুণ্তা ৩২৩৩১ ১৮১৩ ১ ১৬ বেতাল ০ 0 6 ১৭* এ (কিসমত) 0 ০ ০ ১৮* বেতাল (খালিসা) 8৪৭১০ ১২৭৫ ৪৬ ১৯* এ (নাওরা) ৯৪৮ ৮৮৪ ১৮ ২০ মহারাম ১৩২০২ ১৭৬২ ৮৬ ২১ রণদিঘা ৯৩২ ৩২০ ১৬ ২২ লক্ষণছিরি শ্রী) ৫৬৩ ১২৪ ৬ ২৩ লক্ষণছিরি গং ০ ০ ১৬ ২৪লাউড় ৬৭৬১০ ৩০৮০ ৩০৫ ২৫ সিংহচাপড় (হাউলি) ৮৪৮৯ ১৪৯৪ ১৩৯ ২৬ এ (বাজু) ৬৭৩৩ ৫৯৫ ১০০ ২৭ সিকসোণাইতা (সোণাউতা) ১৮৮২৪ ১২৯৫ ২৯৪ ২৮ সুখাইড় ৮৩০৩ ৭৮ ০ ২৯* সফিনগর ২৫ ৭ ১৩ ৩০ সেলবরঘ (সেনবর্ষ) ৬১৪১ ১৬৯৮ ৩৫ ৩১ হাউলি সোণাইতা ৪৭৯৭ ৮৫৬ ১২০ ৩২ হাসনাবাদ ২২২৭ ৩১২ ১৬ পরগণা সংখ্যা মোট ১৭৩, জয়ন্তীয়া সহ ১৯১টি । উপরিউক্ত বিবরণে পরগণাগুলির রাজস্বের (আনা ইত্যাদি) এবং হালের (কেদার প্রভৃতি) ভগ্নাংশ লিখিত হয় নাই। ক্রমিক নম্বর জলির তধিকানের) এই পক অল মাদানি রহিত রাগের সহ এয়া সারে তদ্ৃষ্টে মানচিত্রে স্থান নির্দেশের সুবিধা হইবে । ভয়ন্তীয়ার ১৮ পরগণার বিবরণ ২য় ভাগ ৪র্থ খণ্ডের ৫ম অধ্যায়ে লিখিত হইবে । (* চিহ্াঙ্কিত পরগণা গুলির স্থান মানচিত্রে নির্দেশিত করা হয় নাই।) শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৯ প্রথম অধ্যায় প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য বঙ্গদেশ কত প্রাচীন? বঙ্গদেশ কত প্রাচীন? এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করিতে গেলে প্রাটীন সংস্কৃত সাহিত্যের আশ্রয় লইতে হয়। বেদে বঙ্গদেশের নাম পাওয়া যায় না, অথবর্ববেদে১ অঙ্গদেশের নাম উল্লেখিত হইলেও বঙ্গদেশের প্রসঙ্গ নাই । মনুসংহিতাতেও বঙ্গভূমির নাম পাওয়া যায় না, তবে পুপ্বদেশের উল্লেখ আছে। বর্তমান ভাগলপুর অঞ্চলই পুরর্বকালে বঙ্গ নামে খ্যাত ছিল, এবং উত্তর বঙ্গই পুণ্বদেশ বলিয়া আখ্যাত ছিল। যখন রামায়ণ রচিত হয়, তখন বঙ্গভূমি যে আর্ধ্গণের নিকট অপরিজ্ঞাত ছিল, এমন নহে। রামায়ণে বঙ্গদেশের নামোল্লেখ আছে । যদিও তখন এদেশে জনবসতি স্থাপনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না, তথাপি তখন ইহা একটি দেশ রূপে খ্যাত হইয়াছে। রামায়ণে অযোধ্যাকাণ্ডে দেখিতে পাওয়া যায় যে, দশরথ কৈকেয়ীকে বলিতেছেন--“সূর্য্যের রথচক্র যতদূর পরিভ্রমণ করে, ততদূর পর্য্যন্ত পৃথিবী আমার অধীন । দ্রাবিড়, সিন্ধু, সৌবীর, সৌরা্ট্র, দক্ষিণাপথ, বঙ্গ, অঙ্গ, মৎস্য এবং অতি সমৃদ্ধশালী কোশল রাজ্য এ সকলই আমার অধিকারে আছে।”২ এ সময় বঙ্গদেশ আর্ধ্য সমাজে পরিজ্ঞাত ও দশরথের অধিকারভুক্ত থাকিলেও এখন আমরা যাহোক বাঙ্গালা দেশ বলি, প্রাচীন বঙ্গ তাহা নহে, পৃরর্ববঙ্গই তখন বঙ্গদেশ নামে খ্যাত ছিল। রামায়ণের বঙ্গ তাহারও সামান্য একটু অংশ বই ছিল না এবং তাহাও তখন মনুষ্য বাসের অযোগ্য ছিল। তবে ইহার পরে মহাভারত বর্ণিত সময়ে বঙ্গদেশের অনেক পরিমাণে উন্নতি হইয়াছিল, ইহা অবগত হওয়া যায়। শ্রীহট্টের প্রাচীনত্ আমরা যে শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত কীর্তন করিতে উপস্থিত হইয়াছি, তাহা যে বাঙ্গালা দেশ হইতে প্রাচীন, তাহার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। শ্রীহন্টরের ভূতত্ত্ব বিচার করিলে প্রতীয়মান হইবে যে শ্রীহস্ট অতি প্রাচীন দেশ। শ্রীহস্টরের উত্তর দিশ্বত্তী অভ্রভেদী পর্বতমালা কত যুগ যুগান্তর হইতে এদেশের মেরুদগ্রূপে দণ্ডায়মান, তাহা কে বলিবে? বরবক্র ও সুরমা এ জিলার প্রধান নদী; মনু, ক্ষমা প্রভৃতি অপেক্ষাকৃত ক্ষীণাঙ্গিনী স্রোতস্বতী বরবক্রে আত্মসমর্পণ করিয়াছে । শেষোক্ত নদীত্রয় পুণ্যসলিলা নদী বলিয়া শাস্ত্রে কীর্তিত হইয়াছে । মনু নদী সম্বন্ধে তন্ত্রে লিখিত হইয়াছে যে সত্যযুগে ভগবান মনু এই নদী তীরে শিব পূজা করিয়াছিলেন বলিয়া ইহার নাম মনু নদী হইয়াছে ।৩ এবং বরবক্র নদ ১. অথবর্ব সংহিতা ৫1২২1৪ ২. প্রতাপচন্দ্র রায়ের অনুবাদ-১ম অধ্যায়। ৩. সংস্কৃত রাজমালায়ও একথা উদ্ধত হইয়াছে, যথাঃ “পুরা কৃতযুগে রাজন্‌ মনুনা পূজিতঃ শিবঃ; তত্রৈব বিরলে স্থানে মনুনাম নদীতটে ।” ইত্যাদি । ১৩২ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড সর্ব্বপাপ প্রনাশক বলিয়া শাস্ত্রে কীর্তিত।৪ এই নদ গুলিই শ্রীহস্ট্রের ভূ-বিস্তৃতির প্রধান কারণ । পৃরর্বকালে শ্রীহট্রের সমস্ত পশ্চিমার্ঘ ভাগ গভীর জলতলে নিমজ্জিত ছিল, এই নদীগুলি- প্রবাহিত মৃত্তিকায় কতকালে তাহা উচ্চ ভূমিতে পরিণত হইয়াছে কে জানে? সেই সময়ে শ্রীহট্রের পর্বত ও পবর্বতকল্প উচ্চ স্থল গুলি জনশূন্য ও কেবল মাত্র ব্যাঘ্র ভন্নুকাদির বিস্তৃত বিচরণ ক্ষেত্র মাত্র ছিল, তাহা নহে। তখন অনার্ধ্য বংশীয়েরাই দেশের অধিকারী ছিল, অনার্ধ্যরাই প্রধান ছিল। বর্তমান কুকি খাসিয়া প্রভৃতি জাতি অপরিবর্তিতাবস্থায় তাহাদেরই ₹শধর; এর বহু সহম্ বর্ষের ঘাত প্রতিঘাতে রূপান্তরিত ও পরিবর্তিত আকারে তাহাদেরই শোণিত কণা যে হাড়ি, ডোম, মাহিমাল প্রভৃতি জাতির দেহে সংগৃহীত আছে, তাহা বলা অযৌক্তিক নহে। কিন্তু সে অনার্ধ্যযুগ বহুপূর্র্বে অতীত গর্তে বিলীন হইয়াছে। আর্ধ্যযুগ হিসাবেও শ্রীহট্ট, অতি প্রাচীন দেশ। যখন বঙ্গভূমির অধিকাংশ স্থান ব্যা্ ভন্ুকের বিচরণ ক্ষেত্র মাত্র ছিল, যখন বঙ্গদেশ অনার্ধ্য জাতির বাস ভূমিরূপে পরিগণিত ছিল, তখনও শ্রীহ্রে আর্য নিবাসের প্রমাণ একবারে প্রাপ্য হয় না। এ অতি সাহসের কথা যে যখন বঙ্গদেশ অনার্ধ্য ভূমি, তখন প্রান্তবর্তী সুদূর শ্রীহস্ট আর্ধ্যবাসভূমিরূপে পরিণত হইয়াছিল । বঙ্গদেশের গঠন প্রাচীন পৌরাণিক কালের গ্রন্থপত্রে শ্রীহন্ট্রে, আর্ধ্যবাসের পরিচয় যদিও স্পষ্ট রূপে নাই, তথাপি আনুসঙ্গিক প্রমাণে শ্রীহট্রের প্রাটীনত্ত প্রতিপাদিত হইতে পারে । ভূতত্তববিৎ পঞ্তিতগণের মতে “ইওসিন্” যুগে হিমালয়ের ও তল দেশ জলতলে ছিল, কিন্তু সে কতযুগের কথা; তখন মনুষ্য সৃষ্টির চিহ্ত পাওয়া যায় না! ইহার পরে 'মিওসিনৃস্তরেই মনুষ্য চিহ্ত লক্ষিত হয়, তখনও সাগরবারি দেশের অধিকাংশ আবৃত করিয়া রাখযাহিল। এ সকল পড্জিতদের কথা আলোচনায় আমাদের প্রয়োজন নাই, যখন রামায়ণ রচিত হয়, তখন বঙ্গভূমে আর্্যনিবাস স্থাপিত হয় নাই, সম্ভবতঃ তখন ইহার অধিকাংশ স্থল সমুদ্রগর্ভোথিত জলা ও জঙ্গলা ভূমি ছিল। হিমালয়ের পাদদেশে সামুদ্রিক জীবকঙ্কাল দৃষ্টে ভূতত্ববিংগণ বলেন যে, পুরাকালে বঙ্গদেশের অস্তিত্ব ছিলনা, তখন সাগরোর্থি হিমালয়ের পাদতটে প্রহত হইত । পর্রবতধোৌত মৃত্তিকা ও গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্রের পলি দ্বারা ক্রমে বঙ্গভূমি গঠিত হইয়াছে।৫ বহুসহত্্র বর্ষ পৃবের্ব যেরূপে বঙ্গদেশের উৎপত্তি হইয়াছিল (তাহার সাক্ষ্য স্বরূপ) বর্তমানে সুন্দরবন ও গঙ্গাসাগরে তদ্রুপ ক্রিয়া চলিতেছে । নবদ্বীপ, অগ্রদ্বীপ এর খড়দহ, এড়েদহ প্রভৃতি দ্বীপ ও দহাত্তক নাম গুলিও পূর্ব্ব স্ৃতির পরিচয় দিতেছে। প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য রামায়ণবর্ণিত সময়ে আর্্যগণ বঙ্গদেশকে বাসের উপযুক্ত বলিয়া মনে করেন নাই। রামায়ণে উত্তরবঙ্গ পুণ্ভূমির নাম পাওয়া যায়। কিন্তু তাহাতেও আর্ধ্য নিবাসের প্রসঙ্গ নাই; ততপ্রতিকূলে বরং বর্ণিত আছে যে, বিশ্বামিত্রের পুত্রগণ পিতৃশাপে অনার্যত্ (কুকুর মাংশভোজী 8. “বূপেশ্বরস্য দিগৃভাগে দক্ষিণে মুনিসত্তম; বরবক্র ইতি খ্যাত সব্র্ব পাপ প্রনাশনঃ-তীর্থচিন্তামণি এবং-বিন্ধ্যপাদ সমুডুতো বরবক্র সুপুণ্যদঃ। যত্র স্নাত্বা জলং পিত্বা নবঃ সদ্গতিমাপুযাৎঃ”-বায়ুপুরাণ । ৫. 506 [01111010015 01 00010989. ৬০. 1). 470 (9 517 017016519০1.) প্রথম অধ্যায় : প্রাগৃ্জ্যোতিষ রাজ্য শ্রীহন্ট্ের ইতিবৃত্ত ১৩৩ মুষ্টিক জাতিতৃ) প্রাপ্ত হইয়া পুণ্বভূমিতে বাস করেন । রামায়ণেই বর্ণিত আছে যে, চন্দ্রবংশীয় রাজা অমুর্তরজা পুণ্বভৃমি অতিক্রম করতঃ কামরূপে ধর্মারণ সমীপে প্রাগ্জ্যোতিষ নামে এক আর্ধ্য রাজ্যস্থাপন করেন।৬ তাহার পরে, মহাভারতের সময়েও প্রায় তদ্রুপ । তবে রামায়ণের কাল হইতে, এই সময়ে সাগর বহুদূরে চলিয়া গিয়াছিল এবং দেশের ভূভাগও অপেক্ষাকৃত দৃঢ়তা প্রাপ্ত হইয়াছিল । মহাভারতের বনপবের্ব লিখিত আছে যে কৌশিকীতীর্থে, কৌশিকী (নদী) গঙ্গার সহিত সম্মিলিতা হইয়াছেন, তাহারই কিছুদূরে পঞ্চশত নদীযুক্ত গঙ্গা-সাগরসঙ্গম।৭ মহাভারতে পুণ্বভমিকে অনার্ধ্যভূমি বলা হইয়াছে এবং পুণু জাতি অনার্ধ্য জাতি বলিয়া পরিগণিত হইয়াছে ।৮ অনার্ধ্য অধ্যুষিত সেই তখন বঙ্গাদি দেশ ঘৃণ্য বলিয়া শাস্ত্রে কথিত হইয়াছে এবং তীর্থযাত্রা ব্যতিরেকে তত্তদ্দেশে গমনে পাতিত্য জন্মিত।৯ সব্্বতঃ প্রতিভাশালী সাহিত্য কেশরী বঙ্কিমনন্্র প্রবন্ধপুস্তক ২য় ভাগে “বঙ্গেপ্রবেশাধিকার” প্রবন্ধে “শতপথ ব্রাহ্মণ” হইতে কিয়দংশ উদ্ধৃত করিয়া লিখিয়াছেন, “শতপথ ব্রাহ্মণ হইতে যাহা উদ্ধৃত হইয়াছে, তাহাতেই আছে, সদানীরা নদীর১০ পরপার প্রদেশ জলপ্রাবিত। “স্রাবিতর” শব্দে প্রবনীয় ভূমিই বুঝায় । যদি তখন ত্রিহুত প্রদেশের এই দশা, তবে অপেক্ষাকৃত নবীন বঙ্গভূমি সুন্দরবনের মত অবস্থাপন্ন ছিল। পৌপ্রেরাই তথায় বাস করিত। মহাভারতে সভাপব্র্বে আছে যে ভিম পুত বঙ্গাদি জয় করিয়া তাম্রলিপ্ত এবং সাগরকুলবাসী শ্লেচ্ছদিগকে জয় করেন।১১ অতএব তৎকালে এদেশ আসমুদ্ব জনাকীর্ণ ছিল কিন্তু তথায় যে আর্ধ্যজাতির বাস ছিল, এমত প্রমাণ মহাভারতে নাই। পুণ্ুরাজের নাম বাসুদেব । আর্ধ্য বংশীয় নহিলে এ নাম সম্তভবে না, কিন্তু নাম কবির কল্পিত বলিয়া বোধ করাই উচিত ।” বঙ্গদেশ গঠিত হইবার কথা ভূতত্ববিৎ পপ্তিতগণ যেরূপ বলেন, তাহাতে সমস্ত বঙ্গদেশের মধ্যে উত্তর বঙ্গই বয়োধিক। মহারাজ চন্দ্রগুপ্তের সভাদিগের গ্রীকদূত মিগেস্থিনিসের লিখিত ৬. “তথামূর্ত্রজা বীরশ্ক্রে প্রাগ্জ্যোতিষং পুরুং ধর্মারণ্য সমীপস্থং” ইত্যাদি রামায়ণ । এই কামরূপের পূর্বদিকে তৎপরেই কৌ্িল্য নামে দ্বিতীয় আর্ধ্রাজ্য স্থাপিত হইয়াছিল, ভীম্মক ইহার রাজা ছিলেন। (আসাম-সাদিয়ায় কুপ্জিল নদীর তীরে কৌগ্ডিল্য নগরী ছিল 1) ৭. “স সাগরং সমাসাদ্য গঙ্গায়াঃ সঙ্গমে নৃপ। নদী শতানাং পঞ্চানাং মধ্যে চক্রে সমাপ্রবমূ। ততঃ সমুদ্রতীরেণ জগাম বসুধাধিপঃ।”-মহাভারত, বনপব্র্ব ১১৪ অধ্যায়। কৌশিকী বর্তমান কুশী নদী; কুশীসঙ্গম ভাগলপুর জিলার অন্তর্গত । সুতরাং তত্অঞ্চল কালে ভাগলপুর পর্য্যত্ত সাগর বিস্তৃত ছিল। ৯. “অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গেষু সৌরাষ্ট্র মগধেষু চ। তীর্থ যাত্রাং বিনা গচ্ছন্‌ পুনঃ সংঙ্কারমর্থাতি |” -শুদ্ধিতত্ং। ১০. “এক্ষণে সদানীরা নামে কোন নদী নাই, শতপথ ব্রাহ্মণেই কথিত হইয়াছে যে এই নদী কোশল ও বিদেহ (মিথিল) রাজ্যের মধ্যসীমা ।”- প্রবন্ধ পুস্তক। ১১. “মহাভারতের যুদ্ধে বঙ্গাধিপতি গজসৈন্য লইয়া যুদ্ধ করিয়াছিলেন । বঙ্গেরা শ্লেচ্ছ ও অনার্ধ্য মধ্যে গণ্য হইয়াছে।” প্রবন্ধ পুস্তকে গ্রন্থকার লিখিত টীকা। “সুন্মানামাধিপঞ্চেব যে চ সাগর বাসিনঃ। সব্র্বান শ্লেচ্ছণাংশ্ৈব বিজিগ্যে ভরতর্ষভঃ।”-সভাপবর্ব ২৯ অধ্যায় । -(আমাদের সংগৃহীত) ১৩৪ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড বিবরণ হইতেও ইহার প্রমাণ পাওয়া যায়।১২ এঁ সময় পাটুলিপুত্র (পাঁটনা) হইতে সাগরসঙ্গম প্রায় তিন শত মাইল দূরে ছিল। সাগর ক্রমশঃই দূরে চলিয়া যাইতেছে। রাজতরঙ্গিনীতে দেখিতে পাওয়া যায় যে কাশ্ীররাজ ললিতাদিত্য দিথ্িজয়ে বহির্গত হইয়া সমুদ্রের সন্নিকটবর্তী গৌত্র অধিকার করেন।১৩ ললিতাদিত্য ৭৩২ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুমুখে পতিত হন। সুতরাং বলিতে হইবে যে এ সময় পূর্ণরূপে না হউক, কিয়দংশে জলা ও জঙ্গলা ভূমি সমন্বিত পুর্ব সমুদ্বের সুস্পষ্ট নিদর্শন গৌড়ের নিকটে প্রকট ছিল। বস্তুত উত্তরবঙ্গই নিম্নবঙ্গ হইতে বয়োধিক, এবং তজ্জন্য এ সকল প্রদেশেই প্রথমে নগর গ্রামাদি স্থাপিত হওয়া সঙ্গত। হইয়াছেও তাহাই ।১৪ তথাপি রামায়ণের এ পুণ্বঁভুমিও অমূর্তরাজার নিকট বাসের উপযুক্ত স্থান বলিয়া বিবেচিত হয়। বরং তিনি তদতিক্রম করতঃ কামরূপ পৃবর্বদেশের প্রথম আর্ধ্য নিবাস স্থাপন করেন। এ সম্বন্ধে মহাত্মা বঙ্কিম চন্দ্র লিখিয়াছেনঃ- “যেমন এখন যাহাকে বাঙ্গালা বলি আগে তাহা বাঙ্গালা১৫ ছিল না; তেমনি এখন যাহাকে আসাম বলি, তাহা আসাম ছিল না। অতি অল্পকাল হইল আহোম নামে অন্য জাতি আসিয়া এ দেশ জয় করিয়া বাস করাতে উহার নাম আসাম হইয়াছে । সেখানে, যথায় এখন কামরূপ, তথায় অতি প্রাটীন কালে আর্ধ্যরাজ্য ছিল। তাহাকে প্রা জ্যোতিষ বলিত। বোধ হয় এই রাজ্য কালের অনার্ধ্যভূমি মধ্যে একা আর্ধ্য জাতির প্রভাব বিস্তার করিত বলিয়া ইহার এই নাম ।১৬ মহাভারতের যুদ্ধে প্রাগ্জ্যোতিযের্বর ভগদত্ত, দুর্য্যোধনের সাহায্যে গিয়াছিলেন। বাঙ্গালার অধিবাসী, তাশ্রলিগ্ত, পৌগ্ড, মৎস্য প্রভৃতি সে সময় উপস্থিত ছিল। তাহারা অনার্য্য মধ্যে গণ্য হইয়াছে। বাঙ্গালা যে সময়ে জন্ম ভূমি, সে সময়ে আসাম যে আর্ধ্যভূমি হইবে, ইহা এক বিষম সমস্যা । কিন্তু তাহা অঘটনীয় নহে। মোসলমান দিগের সময়ে ইংরেজদিগের এক আড্ডা মাদ্রাজে, আর আড্ডা পিঞ্পলী ও কলিকাতায়; মধ্যবর্তী প্রদেশ সকলের সঙ্গে তাহাদের কোন সম্বন্ধ নাই। ইহার ইতিহাস আছে, বলিয়া বুঝিতে পারি তেমনি প্রাগৃজ্যোতিষের আর্ধ্যদিগের ইতিহাস থাকিলে, তাহাদিগের দূর গমনের কথাও বুঝিতে পারিতাম। বোধ হয়, তাহারা প্রথমে বাঙ্গালায় আসিয়া বাঙ্গালার পশ্চিম ভাগেই বাস করিয়াছিল। তার পর আর্য্যেরা দাক্ষিণাত্যজয়ে প্রবৃত্ত হইলে, সেখানকার অনার্ধ্য জাতি সকল দূরীকৃত হইয়া, ঠেলিয়া উহা পৃবর্ব মুখে আসিয়া বাঙ্গালা দখল করিয়াছিল। তাহাদেরই ১২. 11609511101105 [726 ৬]. ১৩. “গৌড়রাজ্য ললিতাদিত্যের অধিকৃত হইল, তিনি তথা হইতে বহুসংখ্যক হস্তী সংগ্রহ করিয়া পূর্ব সমুদ্রতীরে উপস্থিত হইলেন, তথায় তদীয় সেনাও গজদিগকে সমুদ্রতরঙ্গে ত্রীড়া করিতে বোধ হইল যে, যেন তাহারা সমুদ্বকে পরাভূত করিয়া তাহার তরঙ্গরূপে কেশ আকর্ষণ করিতেছি। ক্রমে তিনি বনশ্যামল সমুদ্রতীর দিয়া দক্ষিণ দিকে যাত্রা করিলেন।” রাজতরঙ্গিনী-চতুর্থ তরঙ্গ | (পণ্ডিত শ্রীযূত নিবারণচন্দ্র বিদ্যারত্ব যত অনুবাদ) ১৪. চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন্থসঙ্গ, বঙ্গীয় যে সকল গ্রাম নগরাদির উল্লেখ করিয়াছেন, তন্মধ্যে মালদহের নিকটবর্তী পৌপ্রবর্ধন, সুবর্ণকর্ণ, সমতট প্রভৃতির নাম করা যাইতে পারে। দহাস্তক মালদহ নামটিও পূর্বন্মৃতির উন্মেষক নহে কি? ১৫. পূবের্ব বাঙ্গালা বা বঙ্গদেশ বলিতে (ঢাকা, ত্রিপুরা, ময়মনসিংহ ও শ্রীহস্টাদি) পূর্ববঙ্গ বুঝাইত। ১৬. এই নামের অর্থ বোধ হয় এইরূপ নয়। পূর্বাঞ্চলে তৎকালে কৌ্ডিল্য প্রভৃতি আরও আধ্যরাজ্য ছিল। কলিকাপুরাণে ইহার অর্থ অন্যরূপ কথিত হইয়াছে; “খস্য মধ্যে স্থিতো ব্রন্ধা প্রাঙু নক্ষত্রং সসর্জহ। তেন প্রাগ জোতিষাজ্ঞেয়ং পুরী শক্রপুরীসমা ।”-€আমাদের সংগৃহীত) প্রথম অধ্যায় : প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য শ্রৃহট্টের ইতিবৃত্ত ১৩৫ ঠেলাঠেলিতে অল্প সংখ্যক আর্ধ্য ওঁপনিবেশিকেরা সরিয়া সরিয়া ক্রমে ক্রমে ব্রহ্মপুত্র পার হইতে যাইতে বাধ্য হইয়াছিল ।” “এক সময় কামরূপ রাজ্য অতি বিস্তৃত হইয়াছিল। পৃবের্ব করতোয়া ইহার সীমা ছিল; আধুনিক আসাম, মণিপুর, জয়ন্তীয়া, কাছাড়, ময়মনসিংহ, শ্রীহট্ট, রঙ্গপুর, জলপাইগুড়ি ইহার অন্তর্গত ছিল।”১৭ শ্রীহট্র দেশ কামরূপের অধীন সস ইপিএস ৬ প্রায় দ্বি সহস্র মাইল। আসাম, মণিপুর এবং ময়মনসিংহ, শ্রীহষ্ট কাছাড় প্রতি লইয়া কামরূপ রাজ্য বিস্তৃত ছিল।১৮ জাতিতস্ত্ববারিধি গ্রন্থের ২৬০ পৃষ্ঠাতে লিখিত হইয়াছে, _-“ময়মনসিংহ ও শ্ীহট্র প্রাগ্জোতিষ দেশের এবং ব্রিপুরা প্রভৃতি কিরাত রাজ্যের অন্তর্গত ছিল; এইক্ষণে এই সকল স্থানও পূর্ববঙ্গ বলিয়া সংজ্ৰিত হইয়াছে ।” শ্রীহট্ট দেশ প্রাচীন কালে এই বিশাল প্রাগৃজ্যোতিষ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল । বৈদিকসংবাদিনী ধৃত কামাখ্যাতন্ত্রের শ্লোক দেখা যায় যে পশ্চিমে করোতোয়া, দক্ষিণে চন্দ্রশেখর অবধি মত যোজন বিস্তীর্ণ দেশই কামরূপ রাজ্য 1১৯ যোগিনীতন্ত্রে লিখিত আছে যে, শ্রীহস্ট কামরূপেরই অন্তর্গত শ্রীহস্টরের যে সীমা লিখিত হইয়াছে, তাহাতে তৎকালে শ্রীহষ্র যে স্বল্লায়ত বলা যায় না।২০ পরক্তব কামরূপ রাজ্যের দক্ষিণসীমা কামাখ্যাতন্ত্রে লিখিত হইয়াছে, যোগিনীতন্ত্র মতে শ্রীহট্রের সীমা তাহাই; কাজেই কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত হইতেছে। কামাখ্যাতন্ত্রে কামরূপ রাজ্যের প্রতি যে সপ্তপবর্বতের উল্লেখ আছে, তাহাতে জয়ন্তী, কাছাড়, মণিপুর, মগধ ইত্যাদির নাম দৃষ্ট হয়।২১ কেবল জয়ন্তী নহে, এই মগধ নামটিও যে শ্রীহট্ের কোন এক পর্বতের নাম, তাহা বিবেচনা করিবার কারণ আছে ।২২ ১৭. বঙ্কিমচন্ত্র চট্টরোপাধ্যায়কৃত প্রবন্ধ পুস্তক ৩য় ভাগ-“বাঙ্গালার ইতিহাসের ভগ্নাংশ” প্রবন্ধ । ১৮,৮19 016 2051 2110 0০৮01701161. 405 0100 [১0৬/010 01110011 01 10] [05 2000 [01105 11) 0110811. 11 001১0161119 11101010060 11) 110050 1111105 71700011) /৯১590]], 7৬101110001, 01101690170] 75197101517) 0100 9911)00- [00015 01111791101) 11) /৯100101]1 07010. ১৯. “করতোয়া সামারভ্য যাবদ্দিকর বাসিনীং উত্তরে বটকী নান্নী দক্ষিণে চন্দ্রেশেখরঃ। তনাধ্যে যোনিপীঠঞ্ নীলপবর্বতি বেষ্টিতং শত যোজন বিস্তীর্ণৎ কামরূপং মহেশ্বরি ৷” যোগিনীতন্ত্রে কামরূপের যে সীমা নিদেশি করা হইয়াছে, এতৎ সহ তাহার কিঞ্চিৎ পার্থক্য থাকিলেও, তাহাতেও কামরূপ শত যোজন বিস্তীর্ণ বলিয়া লিখিত আছে। ২০. “পূর্ব স্বর্ণ নদীশ্চৈব দক্ষিণে চন্দ্রশেখরঃ। লৌহিত্য পশ্চিমে ভাগে উত্তরেচ নীলাচলঃ। এতন্মধ্যে মহাদেব শ্রীহট্ট নামো নামতা।”- যোগিনী তন্ত্র। ২১. 'ব্রিপুরা কৌকিকাচৈব জযন্তী মণি চন্দ্রিকা; কাছাড়ী মাগবী দেবী অস্যামী সপ্ত পররবতঃ।” বৈদিক সংবাদিনী ধৃত কামাখ্যা তন্ত্র বচনং এই শ্রোকোক্ত কৌকিক শব্দে কুকিপাহাড় ুশাই পর্বত), মণি মণিপুর, চন্দ্রিকা কাছাড়ের সীমান্তবন্তী চন্দ্রগিরি বলিয়া কথিত হয়। শ্রীহট্রের আদি কালেক্টর লিগুসে সাহেবের লিখিত আর বিবরণে কুকি পাহাড়ের উল্লেখ আছে। মগধ শ্রীহস্টরেরই কোন পর্বত হইবে। ১৩৬ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড অতএব শ্রীহ্ট পুরাকালে প্রাচীন প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। প্রাগ্জ্যোতিষের অধিপতি ভগদত্ত২৩ এই বিশাল দেশ শাসন করিতেন। যুগবিপর্যয়ে হইয়া গিয়াছে, কিন্তু ভগদত্ত রাজার নাম আজও শ্রীহট্টে জনশ্রুতি মুখে শ্রুত হওয়া যায়। শ্রীহট্রের লাউড় পবর্বতে তাহার (এ দেশ শাসনের জন্য) রাজধানী ছিল, দ্রুতগামী দৈবশক্তি সম্পন্ন গজারোহণে তিনি রাজ্যের সীমান্ত পর্য্যন্ত ভ্রমণ করিতেন, এ বিচিত্র জনশ্রুতি যখন সব্রধ্বংসী কাল এযাবৎ বিলোপ করিতে পারে নাই, তখন আর যে কখন পারিবে, এমন বোধ হয় না। লাউড় পর্বতে ভগদত্ত রাজার বাড়ী । “নাহ্য মুলা জনশ্রুতি;” ভগদত্ত রাজা সম্বন্ধে এদেশে যে জনশ্রুতি প্রচলিত, এস্থলে তাহা সন্নিবেশিত করা অসঙ্গত নহে। এই জনশ্রুতির বিষয় স্কুল-ডিপুটি ইনিস্পেক্টর মৌলবী মহম্মদ ওয়াসিল চৌধুরী কর্তৃক সর্বপ্রথম উল্লেখিত হয়। তিনি লিখিয়াছেন--"শ্রীহ্টে যে আর্য জাতির বসতি ছিল, তাহার সন্দ্হে নাই। কারণ জনশ্রুতি এরূপ যে, অতি প্রাচীনকালে লাউড়ের পাহাড়ে ভগদত্ত নামে এক রাজা ছিলেন, সেই রাজার কালে লাউড় হইতে দিনারপুর সদরঘাট পর্য্যত্ত এক “খেওয়া” ছিল । কখন কখন লাউড়ে থাকিতেন। লাউড়ের পাহাড়ের উপর একটা উচ্চ স্থান দেখাইয়া লোকে এখন পর্য্যত্ত ভগদত্ত রাজার বাড়ী নির্দেশ করিয়া থাকে । মনে হয়, লাউড় হইতে দক্ষিণে ত্রিপুরার সীমা পর্য্যন্ত সমস্ত ভূখণ্ড এক ভগদত্ত রাজার করায়ত্ত ছিল। ভগদত্ত দুর্যোধন পক্ষে কুরুক্ষেত্রের সময়ে যুদ্ধ করিয়া নিহত হন। এই জন্যই যুদ্ধের পরে যখন ভীমসেনের বিজয়অশ্ব ত্রিপুরা, মণিপুর প্রভৃতি পার্বত্য প্রদেশ দিয়া গমন করে, তখন শ্রীহস্ট্রের কোন উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায় না। ভগদত্ত তখন জীবিত থাকিলে ভীমের সহিত তাহার কোনরূপ সংঘর্ষ অবশ্যই হইত । আরও দুই ব্যক্তি রাজা ভগদত্ত সম্বন্ধে এইরূপই জনশ্রতির বিষয় আমাদিগকে লিখিয়া পাঠাইয়াছেন;--ভগদত্তের লাউড়ের রাজত্বের বিষয় এ অঞ্চলে বহুল প্রচারিত। প্রসঙ্গতঃ শ্রীযুক্ত কৈলাশচন্দ্র সিংহ মহাশয় “ত্রিপুরার ইতিহাসে” লিখিয়াছেন-_“তরফ, শ্রীহট্, লাউড় প্রভৃতি স্থানে যে সকল রাজবংশ শাসনদণ্ড পরিচালনা করিয়াছেন, তাহারা অপ্রাচীন নহেন।” ২২. “শ্রীহট্ট নগরে বাস মগধ নৃপতি ।”-বাবান্বর নামক প্রাচীন একখানি পাচালীতে এইরূপ প্রয়োগ দৃষ্ট হয়। কোন মগধ দেশীয় রাজা এস্থানে উপনিবেশ করায়, এ নামে কথিত হইয়াছেন কিনা তাহা মীমাংসা করা কঠিন। শ্রীহট্রস্থ মগধ পর্বতের নৃপতি, এইরূপ অর্থই সঙ্গত ও সুমীমাংসিত বোধ হয। ২৩. আসামের ইতিহাস প্রণেতা মিঃ গেইট “অসুর” শব্দের প্রয়োগ দৃষ্টে নরকাসুরবংশীয় নৃপতিগণকে অনার্ধ্য বলিয়া মনে করিয়াছেন। “অসুর” শব্দে অনার্ধ্য নহে। এমন কি, ঝধ্েদে দৃষ্ট হয় যে বৈদিক বরুণ দেব অনেকস্থলে অসুর বলিয়া উল্লেখিত হইয়াছেন। (খধেদ ১। ২৪। ১৪ দেখ) ভাষ্যকার সায়নাচার্ধ্য অসুর শব্দের অর্থ “প্রাণদাতা” বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন; (১। ৩৫1১০ খঝগৃভাষ্য দেখ), তবে অসুরেরা দেবছেবী, এইমাত্র; বস্তুতঃ নরকাসুর পুত্র ভগদত্ত ক্ষত্রিয় নৃূপতিই ছিলেন। শ্রদ্ধাম্পদ শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ কৃত গেইট সাহেবের ইতিহাস সমালোচনা পুস্তিকায় ৫ম পৃষ্ঠায় এ সম্বন্ধে লিখিত আছে যে-43018 177621$ 001০56৫0000, 11617106 ৮5 150 006 ৬/101060 1591759, 01010116101 107157815 1710101801, 50150 5017861111016১ 85 /850070. 10181 0110 3012, ৬/1)0 9616 59160 /%500105, ৬/616 110 1009001 111100815 11) 161121017. টিটো) (06 9901 021 016১ ৮০16 16101010016 15511901190 001171005-" প্রথম অধ্যায় : প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ১৩৭ নারীদেশ জৈমিনি ভারতে অর্জনের স্ত্রীরাজ্য গমন ও যুদ্ধবৃত্তান্ত২৪ বর্ণিত আছে। এই স্ত্রীরাজ্য শ্রীহস্ট্রের সীমান্তবর্তী জয়ন্তীয়া বলিয়া সুধীজন বিবেচনা করেন। এমন কি, শিশুপাঠ্য একখানা পুস্তকেও লিখিত হইয়াছে_-“পুরাণ মতে জয়ন্তীয়া নারীদেশ নামে অভিহিত । অর্জু্ণ যধিষ্ঠিরের অশ্ব মেধযজ্ঞের অশ্বসহ এখানে আসিয়া উপস্থিত হইলে এই প্রদেশে অধিশ্বরী প্রমীলা তাহার অশ্ব বাধিয়া রাখেন। অবশেষে তাহার সহিত অর্জনের বিবাহ হওয়ায় তাহার অশ্ব ছাড়িয়া দেন।”২৫ জৈমিনি--ভারতে দৃষ্ট হয় যে, স্ত্রীরাজ্য হইতে অর্জন তৎপার্্ববন্তী মণিপুরে প্রবেশ করিয়াছিলেন ।২৬ ২৪. জৈমিনি ভারত ২১শ অধ্যায় ১৩৪-৭ শ্লোক এবং ২২শ অধ্যায় ১-৯ শ্লোক দেখ। ২৫. আসাম প্রদেশের বিশেষ বিবরণ, ২য় সংস্করণ ২৭ পৃষ্ঠা । ২৬. কেহ কেহ এইরূপ সিদ্ধান্ত করেন যে, বর্তমান মণিপুর মহাভারতের মণিপুর নহে । মণিপুর সমুদ্রতীরবর্তী ছিল এবং অর্জন মহেন্দ্রপবর্বত দর্শনান্তে মণিপুর উপস্থিত হন। উইলসন সাহেবই এই মতের প্রবর্তক । কিন্তু আমরা প্রায় পঞ্চসহস্বর্ষ পূর্র্বকার বিষয়ে ঈদৃশ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করিতে সাহসী নহি। বর্তমান মণিপুরের লগতাক হুদ যে তৎকালে বৃহদায়তন না ছিল এবং সাগররূপে বর্ণিত হয় নাই, তাহাই বা কে বলিতে পারে? পর্বত, নদী, বা দেশ এক নামে বিভিন্ন স্থানে অবস্থিতির বহু উদাহরণ আছে। শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহোদয় মিঃ গেইট সাহেবের ইতিহাস সমালোচনা পুস্তিকায় এই বিষয়ে লিখিয়াছেন:-৮/1)015 07015151010 10৬4. 01767617181) 110৬6 0661) ৬/০1০15 01 10100 0০০81) 11101, 210 ৬/11016 [11016 15 110৬ 11010101118 10101101115 0110 [0716515, 01610 11181011055 06017) 0) 07055 0995 [19115 06 01০৬/৫6৫ (301)00101101; 21) ৬105 ৬€[$০.--- /0000, 910 £181060 016 110156, 54905 1961 11 1৬101010901 10115 ৬10 010001, 776 09081100101 016 13268 |01776 8100 11 005 1৭০5৪ 11111 আত ৬101 ৬05 509160 010 1018001) 91096 138895 ৬/৩1| 631001151160”-0, 16. নাগরাজকন্যা উলুপী মণিপুরে উপস্থিত হন, এ আখ্যান আলোচনায় এবং নাগা পহাড় ও মণিপুরের অবস্থান বিবেচনায়, বর্তমান মণিপুর যে মহাভারত বর্ণিত মণিপুর নহে, তাহা অভ্রান্তরূপে বলা চলে না। দ্বিতীয় অধ্যায় ভাটেরার তাম্রশাসন পৃবের্ব লাউড়ে ভগদত্তের রাজধানী বিষয়ক যে জনশ্রুতির কথা উল্লিখিত হইয়াছে, তদ্বতীত শ্রীহট্টের প্রাচীনত্ের একটি এতিহাসিক নিদর্শন “ভাটেরার তাম্রফলক।” প্রায় পঞ্যত্রিংশ বৎসর অতীত হইল ভাটেরার “হোমের টীলা” নামক ক্ষুদ্র শৈলখণ্ডে আট ফিট মাটির নীচে এ দুখানা তাম্রফলক পাওয়া যায়। এই তাম্ফলকদ্বয়ে এক রাজবংশের উল্লেখ ও পাঁচজন মাত্র রাজার কীর্তি কথিত হইয়াছে। প্রশস্তিদ্বয় পাঠে এমন বোধ হয় না যে ইহারা কোন সম্রাটকল্প নৃপতির অধীনে করপ্রদ রাজা ছিলেন। ইহারা ক্ষমতায় নিজরাজ্যে স্বপ্রাধান্য স্থাপন করতে সমর্থ হইয়াছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী কোন কোন ক্ষুদ্র রাজাকে পরাভূত করতঃ আপনাদের অধীনে রাখিয়াছিলেন বলিয়াই জানা যায়। উভয় প্রশস্তি আলোচনায় নিম্নলিখিতরূপ বংশ তালিকা প্রস্তুত করা যাইতে পারেঃ- নিন তৎপুত্র-গোকুলদেব; তৎপুত্র-নারায়ণদেব, তৎপুব্র- কেশবদেব, | তৎপুত্র (৩য় পুত্র) ঈশানদেব। এই রাজগণ চন্দ্রবংশীয় ছিলেন, ইহাদের পুবের্ব কে রাজা ছিলেন, এবং পরেই বা কাহারা তাহাদের সিংহাসন গ্রহণ করিয়াছিলেন, তাহা জানিবার কিছুমাত্র উপায় নাই, সুতরাং এই প্রশস্তিদ্বয় “শ্রীহট্র ইতিহাসের একটি ছিন্ন পৃষ্ঠা” বলিয়া উল্লেখ করা অসঙ্গত হয় না। যা হোক, প্রশস্তিদ্বয়ের সারমর্ম সংক্ষেপে নিমে একত্রিত করা গেল । রাজশ্রেষ্ঠ নবগীবর্বান প্রভাবশালী ও ধনুর্বিদ্যা বিশারদ ছিলেন, তত্প্রতি কমলার বিশেষ অনুকম্পা ছিল। বর্তমান রাজার পিতামহ গোকুলদেব তাহারই পুত্র । গোকুলদেবের বীরত্ব-গৌরব শক্রদের উৎসাহ শিথিল ও জড়ভাবাপন্ন করিয়াছিল । তৎপুত্র নারায়ণদেব। মন্দর-মথিত সমুদ্র হইতে যেমন লক্ষ্মী উদ্ভূত হইয়াছিলেন, তদীয় শরমথিত প্রতিপক্ষ নৃপতিসমুদ্রের মধ্য হইতে তিনিও উন্নত মস্তকে বাহির হইয়া আসিতেন। তৎপুত্র কেশবদেব । তিনি অশেষ গুণকীর্তিযুক্ত; তাহার পাদপীঠ রাজগণের মুকুটমণি দ্বারা শোভিত, তিনি রাজগণের মধ্যে ভূষণ স্বরূপ, এবং কংস-বিজেতা গোবিন্দের ন্যায় প্রতিদ্বন্দ্বী বিনাশক। দ্বিতীয় অধ্যায় : ভাটেরার তাম্রশাসন শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১৩৯ তিনি মনুষ্যত্রে সীমাভূমি স্বরূপ, যশের আবাসস্থান স্বরূপ, সৌন্দর্য্যের আশ্রয় স্বরূপ, সর্বপ্রকার সুশিক্ষার আধার স্বরূপ; এবং ন্যায়ের আশ্রয় ও বদান্যতা, বাগ্মিতা, ভদ্রতা প্রভৃতি সব্বসদগ্ডণের আকর বা প্রতিমূর্তি স্বরূপ । তিনি অস্ত্র সাহায্যে অধীন নৃপতিবর্গকে রক্ষা করেন, এবং শত্রুকে চত্রান্ত্রে বিঘূর্ণিত করেন। তিনি (নিকটে) রাজ্যান্তর দর্শনে অনিচ্ছুক হইয়া অস্ত্র সাহায্যে পৃথিবীকে একছত্রাধীন | তদীয় কর কল্পুপাদপরে, সৌর্য্য সূর্য্যের, যশ চন্দ্রের এবং বাহুবল পৃথিবীর পুনঃ স্থাপনে নিযুক্ত; তাহার চক্ষু আকর্ণ বিস্তৃত তদীয় তরবারী দ্বারা চতুর্দিক বিজিত হইয়াছে; প্রাচ্য রাজগণের মধ্যে তিনিই প্রধান । তদর্ভিত চন্দ্রকরোজ্ববল যশে পৃথিবী শুত্র, শক্ররূপী পদ্ম মুদ্রিত, ও সুভোগরূপী কুমুদ প্রফুল্লিত হইয়াছে । তদীয় তেজ নির্ধুম বহর ন্যায় প্রোজ্জুল,_-শক্রর নয়নবারিতে তাহা নিবর্বাপিত হইবার নহে। এই অগ্নি পৃথিবীর চতুর্থাংশে আচ্ছাদিত আছে। এই রাজা কোন যুদ্ধে দুই শ্রেষ্ঠ বৃূপতির মধ্যে একজনকে ধনুর্তণে স্বীয় মহিমায় বশীভূত করেন। ফুল্পকরণের ন্যায় তদীয় গৌরব পৃথিবী প্লাবিত করতঃ সমুদ্র পার গিয়াছে। তাহার ভক্তিতে অনাদি লিঙ্গরূপী ব্রিলোকনাথ ভগবান বটেশ্বর কেলাশ পরিত্যাগ করতঃ হষ্টপাটকে বাস করিতেছেন। পার্শবস্তী নূপতিগনের মুকুট-চুধ্ধিত পাদপীট, রাজচুড়ামণি কেশবদেব তাহার ভিন্ন ভিন্ন গ্রাম হইতে ৩৭৫ হল ভূমি ও ২৯৬ বাড়ী দান করেন ।১ ১. এই স্থানে দাতব্য ভূমির সীমাদি নিদ্দেশোপলক্ষে বহুতর অধুনা লুপ্ত প্রাচীন গ্রাম ও ইত্যাদির নাম কথিত হইয়াছে, পাঠকের কৌতুহল নিবৃত্তির জন্য নিম্নে কয়েকটি লিখিত হইল । অথিনহাটকে কানিয়ানী (নদী) থাগন অনীকাথী কতীমুতাক দেগিগান অনিঘনাকোণার্ক কৈবাম ধনকুণ্ডডী অথনাটভবিক গুড্ডভাটপড়া নবভাট আখানিকৃত গুড়াবয়ী নডকুটীগাম আথাবী গোবামী নবছাদি আয়তনীক গোপথ নবপঞ্ঝাল উগডাট (0০৬/ ৬০১) নাটয়ান উপপথ গোস্যয়া নেন্বতাগ (7০01 10117) ঘটীভূ পাছানিয়াঅথানি কডডিয়া চাটপড়াদেবসত্র পাকাদি কাটাবাঞ্ধতে জোগাবনিয়া পিশ্রাপিনগর ববনী বোংবাকটায়ি সনাগজদাক ববপঞ্চ ভাটপড়া সাগর (5৫৪) বদবসা হ্‌ বড়গাম ভোগডত্তাকনি হত্টবব বাঞ্ত মহবাপুর হটীথানক বানুসীগাম য়োডাতিথার্ক হডিডপগৃহ বেদানুদি শরগানদী হুহুকমহাসাহ বোবতুছানি শিজ্ঞব ১৪০ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড তিনি শিবানুরক্ত এবং শ্রীহট্টনাথ শিবকে বহুতর কৃতদাস এবং নানা জাতীয় ভৃত্য দিয়াছেন। এই ভূমি ২৩৮ পাগুবকুলাধিপালাবে প্রদত্ত হয় ।২ দ্বিতীয় প্রশস্তি খানা ঈশান দেবের ভূদান সন্বন্ধীয়। তাহাতে গোকুল দেব হইতে বংশাবলী আরম্ত হইয়াছে এবং প্রথমে নারায়ণের স্ৃতিগান আছে; দ্বিতীয় প্রশস্তির সারমর্ম এইরূপঃ-_ দ্বিতীয় প্রশস্তির মন্ার্থ চপ্রবংশাবতংশ গোকুল দেবের জন্ম জন্য তদ্বংশ উজ্জ্বল হইয়াছিল; তিনি প্রার্থীর পক্ষে কল্পপাদক সদৃশ ও পৃথিবীর শান্তিদাতা সংরক্ষক ছিলেন। নারায়ণ দেব তাহার পুত্র । শন্ত্রসাগরে মন্দর ভূধরের ন্যায় তিনি গর্বোন্নত ছিলেন; তাহার আকৃতি মাধূর্্যময় ছিল। তিনি কলা বিদ্যায় নিপুণ ও ধীর, বিনীত ও শৌর্য্যশালী, সভ্য ও সাহসী এবং ভব্য ও বিশ্বভৃষণ স্বরূপ ছিলেন। সাহসের প্রতিমূর্তি কেশবদেব তাহার পুত্র । তিনি গোবিন্দের (কৃষ্ণের) ন্যায় শত্রু বিমর্দক ছিলেন, তাহার পাদপীট রাজগণের মুকুট রত্বে ভূষিত হইত । তদীয় গুণকীর্তি শ্রবণে যে সব বিদ্বান ব্বাহ্ধণগণ আগমন করিতেন, অভীষ্ট লাভে কৃতজ্ঞচিত্তে তাহারা নিজেদের জনস্থান তুলিয়া যাইতেন। তাহার শাসনকালে পার্ববর্তি রাজগণ নিজ ধনরতব কখন তাহাকে উপহার দিতে পারিবেন, এই চিন্তায় বিনিদ্র থাকিতেন। খ্য পদাতিক, সমরতরি, তুরঙ্গসেনা ও রণমাতঙ্গের অধিপতি সেই বিজয় কুন্দ-কুসুম শুভ্র যশে পৃথিবী গৌরবাৰিত হইয়াছিল । তিনি কংসনিসূদনকে এক আকাশম্পশ মেঘবিদারি উচ্চচুড় প্রস্তর মন্দির করিয়া দিয়াছিলেন। তিনি “তুলাপুরুষ” দান করিয়াছিলেন; তাহাতে ব্রান্মণগণ এত ধন লাভ করবে যে, তাহারা সুবর্ণ ও রত্বাদিতে আচ্ছাদিত হইয়া গিয়াছিলেন। তিনি কল্পবৃক্ষের সদৃশতা প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। যখন ইহার পদাতিক, তুরঙ্গসেনা, রণমাতঙ্গ জয়ার্থ বহির্গত হয়, তখন সূর্ধ্যরশ্ি আচ্ছাদিত হইয়া থাকে। (জলপথে) পালভরে প্রধাবিত তদীয় (সসৈন্য) সমরতরির গতিবেগে জলরাশি চতুর্দিকে স্থলদেশ পর্য্যন্ত) এতাদৃশ বিকীর্ণ হয় যে, (তাহা সংক্ষিপ্ত হওয়ায় তীরস্থিত) রৌদ্রতপ্ত তদীয় রথাশ্বগণ ক্লান্তি দূর করিয়া থাকে । (অর্থাৎ উৎক্ষিপ্ত বারিকণা তীরস্থিত অশ্বগণের দেহস্পর্শ করায় তাহারা স্সিগ্কতা অনুভব করে ।) এই গৌরবান্িত রাজা মধুকৈটভারির জন্য অভ্রভেদি যে এক মন্দির নির্মাণ করিয়াছেন, দলীয় রাজি নালিরা রচনার লি তাহার মন্ত্রী । ইহারই সুমন্ত্রণায় গৃহ ও শস্য শোভিত দুই হাল ভূমি রাজকর্তৃক (মধুকৈটভারির তুষ্টার্থে) প্রদত্ত হয়। ২. পরবর্তী টিকাধ্যায়ে প্রশস্তির মূল প্রদত্ত হইবে। দ্বিতীয় অধ্যায় : ভাটেরার তাম্রশাসন শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১৪১ এই সম্প্রাদান; পুত্রহীন স্থবির রাজপুত্র এবং মৃত রাজপুত্রের কুল-পালিকা পত্বী ও বালক তনয় কর্তৃক স্বীকৃত হয়। ধাহার যশ পৃথিবীর সর্বত্র ব্যাপ্ত হইয়াছে, সেই ক্লেশ সহিষ্কু, সাহসী, সমর-প্রবীর সেনাপতি বীরদত্ত কর্তৃক ইহা অনুমোদিত হয় । দাস বংশাবতংশ সুবিদ্বান মাধব ১৭ সম্বতীয় ১ বৈশাখে এই প্রশস্তি রচনা করেন। (প্রশস্তি কথিত তত্ব) প্রশস্তিদ্বয় হইতে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলি জ্ঞাত হওয়া যায়। ১. প্রশস্তি বর্ণিত রাজবংশাবলীর রাজগণ চন্দ্র বংশ সন্ভৃত ছিলেন ।৩ ২. ইহাদের সকলই বীর, দাতা ও যশস্বী নৃপতি ছিলেন। ৩. নবগীবর্বান নামটি পৌরানিক যুগেরও পৃবর্ববর্তী বোধ হয়। যাহোক নবগীবর্বান ও গোকুল দেবের শাসন কাল শান্তিপূর্ণ ছিল বলিয়া বোধ হয়; বর্ণনার আভাসানুসারে নারায়ণ দেবের শাসন সময়ে শক্রগণের উৎপাতের ইঙ্গিত প্রাপ্ত হওয়া যায়। ইহাতে জানা যায় যে, দির ভাবার রানির রনির বারন নাঃ । ৪. এই বংশে কেশবদের একজন শ্রেষ্ঠ নরপতি। তিনি পার্শ্ববর্তী রাজগণকে যুদ্ধে পরাস্ত করত; করপ্রদ করিয়াছিলেন এবং শন্ত্র সহায়ে তিনি তাহাদের রক্ষা বিধান করিতেন। ৫. তিনি পৃথিবীকে একছত্রাধীন করিয়াছিলেন ইত্যাদি বর্ণনা পাঠে বোধ হয় যে তৎকালে শ্রীহট্ে ক্ষুদ্র অনেকটি রাজ্য ছিল এবং তিনি তন্মধ্যে সার্বভৌম নৃপতিরূপে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ৬. যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি শক্রদিগকে বিশেষভাবে লাঞ্কিত করিতেন, তাহারও পরিচয় পাওয়া যায়। কেশব দেব ভগবান গোবিন্দের শ্রীকৃষ্ণের) ন্যায় শক্র বিমর্দক ছিলেন। ৭. তাহার সৈন্য সম্ভার যৎসামান্য ছিল না পুরাকালীন চতুরঙ্গ বিশিষ্ট ছিল৷ ৮. তিনি শিবভক্ত বলিয়া গণ্য হইলেও আকাশসম্পর্শী প্রস্তরময় এক বিষ্জ্রমন্দির নির্মাণ করিয়া দিয়াছিলেন। বর্তমানে এই প্রস্তর মন্দিরের নিদর্শন চতুস্পার্থ্ে কোথাও দৃষ্ট হয় না। কোন সুদীর্ঘ কাল গর্ভে তাহার ভগ্নীবশেষ বিলীন হইয়া গিয়াছে কে বলিবে? ৯. প্রাচীন কালে রাজা অথবা বিশিষ্ট ধনশালীগণ “তুলাপুরুষ” দান করিতেন। সত্যভামা শ্রীকৃষ্ণের তুলাপুরুষ দান করিয়াছিলেন বলিয়া পুরাণে কথিত আছে। দাতা স্বদেহের তুল্য পরিমাণে স্বর্ণ ও রত্াদি ব্রাহ্মণকে দক্ষিণার সহিত দান করিতেন; ইহারই নাম তুলাপুরুষ। কেশব দেব শান্ত্রোন্ত এই তুলাপুরুষ দান করিয়াছিলেন। ১০. কেশব দেবের সময়ে দুরদেশ হইতে ব্রান্মণগণ তাহার সভায় সমাগত হইতেন এবং তদীয় দাতৃত্বে ও ওদার্য্যে এত কৃতজ্ঞ ও বিমোহিত হইতেন যে অনেকেই স্বদেশে ফিরিয়া ৩. পার্শবর্তী ব্রৈপুর নৃপতিগণও চন্দ্রবংশীয় । শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশ্বয় বলেন, “দ্রুহ্য হইতে যখন ব্রেপুর রাজবংশ গণনা হইতেছে, তখন দ্রহ্য হইতেছে হিন্দুনাম বজায় রাখিয়া একটা শাখা এই অঞ্চলে যে রাজত্ু করিতেছিল না, তাহাদি প্রমাণ কি? দ্রুহ্যর সন্ত্ুতি মধ্যে এক শাখা হয়তঃ অসভ্যতর অবস্থান পববতে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল ।” তিনি লিখিয়াছেনঃ-৮776) 110101119৬6 06০1) 05 01911091010 70১01 1101190 01019 10181100007) ১010 0171100 ৬0100, 40111150170 01900107010 011119001/ ০0110 110 50101901101 010 10160 101 9 ০01100019 01 1/6) 0110 01011 17500116 07011101 501710110%, 0114 50 ৮/০1০119010] 01110111010, -/৯ 01111081 ১101019 01715. ৮1115 1115101 0145501, 09-19. ১৪২ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড যাইতে ইচ্ছা করিতেন না। ১১. জ্ঞাত হওয়া যায় যে ইহাদের সমরতরি ছিল, অর্থাৎ জলযুদ্ধ করিতে হইত । এতদ্বারা শ্রীহট্রের অংশ বিশেষ তৎকালে জলতলে ছিল বলিয়া অনুমান করা অসঙ্গত হয় না। ১২. ঈশান দেবের সময়েও প্রাচীন যুদ্ধ-রথ ব্যবহৃত হইত, বর্ণিত হইয়াছে। প্রাচীন যুদ্ধরথের প্রচলন কত সুদীর্ঘ কাল পুর্ব হইতে বিলুপ্ত হইয়াছে, তাহা ঈশান দেবের কাল নির্ণয় বিষয়ে স্মরণ করা কর্তব্য । ১৩. ঈশান দেব বিষ উপাসক ছিলেন। ১৪. বৈদ্য আধুনিক জাতি নহে, পুরাণ সংহিতাদিতে ইহাদের উল্লেখ আছে ।8 এই বৈদ্যবংশীয় বনমালী কর ঈশান দেবের মন্ত্রী ছিলেন৷ এই উপাধিও আধুনিক নহে 1৫ ক্ষত্র-কুল-ভূষণ বীরদত্ত তাহার সেনাপতি ছিলেন। মনুসংহিতাদিতে শৃদ্রের দাসোপাধি ধারণের ব্যবস্থা দেখা যায়।৬ শুদ্রজাতীয় মাধব দাস তাহার প্রশস্তির পদ্য রচনা করেন। দেবত্ত, বীরদত্ত, মাধব, গোবিন্দ নারায়ণ ইত্যাদি নাম যেমন প্রাচীন পৌরানিক যুগেও দৃষ্ট হয়, বনমালী নাম আপাততঃ তদ্রুপ বোধ হয় না, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের “বনমালী” নামটি আধুনিক নহে। অতএব ঈশান দেবের সময়ে শ্রীহস্্রে বৈদ্য, ক্ষত্রিয়, ও শুর জাতীয় লোকের বিদ্যমানতা দৃষ্ট হয়। হিন্দুরাজা যথায ব্রাহ্মণ তথায় থাকিবেন, ইহা বলাই বাহুল্য । ১৫. যদিও দ্বিতীয় প্রশত্তিতে ঈশান দেবের গুণগরিমা ও বীরত্ব বিশেষভাবে কীর্তিত হইয়াছে, তথাপি তাহাকে কেশব দেবের জ্যেষ্ঠ পুত্র বিবেচনা করা যায় না। বর্ণিত হইয়াছে যে তদীয় ভূদান কালে তাহার সর্বরজ্যেষ্ঠ ভ্রাতা স্থবিরও পুত্রহীন ছিলেন। বার্থক্যে পুত্রহীন হওয়ায় সম্ভবতঃ তিনি স্বেচ্ছায় রাজ্যত্যাগ করতঃ পুত্র শোকে সময়াতিবাহিত করিতেছিলেন। স্থবির শব্দে বিশেষিত সেই সর্বজ্যেষ্ঠ রাজপুত্র, নিজ কনিষ্ট ভ্রাতাকে (অর্থাৎ কেশব দেবের দ্বিতীয় পুত্রকে)৭ রাজ্য দান করিয়াছিলেন ১৬. দ্বিতীয় প্রশস্তি লিখিত ভূদানকালে কেশব দেবের এই মধ্যম পুত্র ও জীবিত ছিলেন না, তিনি বিধবা পত্বী ও শিশু রাখিয়া পরলোকবাসী হইয়াছিলেন। ১৭. ইহার মৃত্যুর পরই (কেশব দেবের তৃতীয় পুর) সবর্ব কনিষ্ঠ ঈশান দেব রাজ কার্য্য চালাইতেছিলেন। ৪. 'ভ্রাহ্ষণাদ বৈশ্য কন্যায়াং অন্থষ্ঠো নাম জায়তে” ।-মনু ১০ অধ্যায় ৮ শ্লোক যথা বা-“অন্বষ্ঠ বিপ্রাদ্ৈশ্যায়ামুৎপুন্নঃ অয়ং চিকিৎসাবৃত্তিঃ বৈদ্যঃ ইতি খ্যাতঃ” -শব্দকল্পদ্রম ১ম খণ্ড ১৩৬ পৃষ্ঠা ৫. “অথ অস্য বরেণেব খ্যাতো বৈদ্যাঃ মহাযশাঃ। সেনো দাসশ্চ গুপ্তশচ দর্তো দেব করো ধর ।” ৬. “শর্ম বদবাহ্মণস্য স্যাদ্রয়োঃ রক্ষা সমব্িতং। বৈশ্যস্য পুষ্টিসংযুক্তং শূদ্রস্য পৈষ্য সংযৃতং”-কুন্ুক ভট্টের টীকা ৭. (কেশবদেবের তিনপুত্র) ৪- কেশব দেব 74:44:৫৫: লি বহন ২। বিধবা মহিষীর স্বামী শিশু টার নি রাজপুত্র । পুত্রের পিতা, মৃত রাজপুত্র । ঈশানদেব। দ্বিতীয় অধ্যায় : ভাটেরার তাত্রশাসন শ্রীহত্টরের ইতিবৃত্ত ১৪৩ ১৮. এই সময় পিতৃহীন বালকই রাজ্যের প্রকৃত অধিকারী ছিলেন বোধ করা অসঙ্গত নহে; এই জন্যই বিধবা মহিষী “কুলপালিকা” শব্দে বিশেষিতা হইয়াছেন; এবং এই জন্যই দুই হাল মাত্র ভূমি দান করিতেও ঈশান দেবকে স্থবিরতা বিধবা মহিষী ও বালকের অভিমত গ্রহণ পূর্র্বক সেনাপতির অনুমোদনে কার্য সম্পাদন করিতে হইয়াছিল । ১৯. প্রশস্তিদ্বয়ের লিখিত ভূমি ভাটেরার চতুষ্পার্বস্তাঁ ভূমি হওয়াই সন্ভব। প্রথম প্রশ্বস্তিতে প্রায় শতাধিক গ্রাম ও নদী ইত্যাদির নাম পাওয়া যায়। কিন্তু সেই প্রাচীন নাম গুলির মধ্যে একটি নামের সহিত ও (এ অঞ্চলের গ্রামাদির) বর্তমান নামের মিল নাই। অনেকে অনুমান করেন যে হট্টপাঠক ভাটেরারই প্রাচীন নাম। দক্ষিণ শ্রীহস্রের মহরাপুরই,(মৌরাপুর) বোধ হয় প্রশস্তি লিখিত মহবাপুর। “নবপঞ্চাল” বর্তমান বরমচাল বলিয়া অনুমিত। ভাক্কর টেম্করী বর্তমান টেক্গরা গ্রামের প্রাচীন নাম কি না বিবেচ্য বটে। প্রশস্তিতে “গুড়াবয়ী” বলিয়া যে একটি নাম পাওয়া যায়, তাহা বর্তমান “গুড়াভই” হইবে বোধ হয়। এই কয়েকটি নাম ব্যতীত অপর নামগুলি আমূল পরিবর্তিত হইয়া যাওয়ায় পরিচয় করা একেবারে অসম্ভব । কানিয়ানী নদী, নাগাই নদী প্রভৃতির নামও 'এখন বিলুপ্ত । স্থানে স্থানে উল্লেখিত “গোপথ, শব্দের পরিবর্তে শ্রীহট্টে এখন “গোবাটি” শব্দ প্রচলিত ।৮ “ভাটপড়া”গ্রামের উল্লেখ একাধিক বার আছে, সম্ভবতঃ এই গ্রামটি বৃহত্তর ছিল; ইহাই ভাটেরার পুর্ব নাম কি না, কে জানে?৯ আবার “গাম” এই গ্রাম্য শব্দেরও ভুরি ব্যবহার পাওয়া যায়। জয়ন্তীয় পরগণায় গাম শব্দের অধিক প্রচলন । অনন্তর এক স্থানে “সাগর পশ্চিমে” এইরূপ সীমা নির্দেশ আছে । ডাঃ রাজেন্দ্র লাল মিত্র, সাগর ইংরাজি ০০৪ (সমুদ্র) শব্দে অনুবাদিত করিয়াছেন শ্রীহন্ট্রের অনেকাংশ তখন সাগর গর্তে নিহিত ছিল, ইহাই তাহার প্রমাণ । এবং কেশব ও ঈশান দেবের সমরতরি ব্যবহারের কথায় তাহা বিশেষরূপে প্রমাণিত হয়। হাইলহাওর ঘুঙ্গিয়াজুরী, কাগাপাশা প্রভৃতি উক্ত সাগরের শেষ নিদর্শন । নদী প্রবাহে নীত পলিতে হাওরগুলি ক্রমশঃ ভরিয়া যাইতেছে, অদ্যাপি এই ভরাট ক্রিয়া সমভাবে চলিতেছে: “সাগর” শব্দ হইতেই “সায়র” এবং শ্রীহট্টে তাহা হইতে “হায়র” বা “হাওর” শব্দের উৎপত্তি হইয়াছে। (কেহ কেহ বলেন যে, হৃদশব্দ হইতেই হাওর হইয়াছে ।) ২০. শেষ কথা--কাল নিরূপণ । প্রথম প্রশস্তিতে ২৩২৮ যুধিষ্টিরাব এবং দ্বিতীয় প্রশস্তিতে ৭ সম্বৎ অঙ্কিত আছে। পপ্তিতা রমাবাইয়ের ভ্রাতা মহারাষ্ট্রীয় শ্রীনিবাস শান্তী প্রথম প্রশস্তি ২৯২৮ যুধিষ্টিরাব্দের বলিয়া পাঠোদ্ধার করেন। প্রখ্যাত নামা পগ্তিত রাজেন্দ্র লাল মিত্র ভিন্নরূপ পাঠ কল্পনা করেন। বস্তুতঃ কাল নির্ণায়ক অস্কগুলি অস্পষ্ট ও অপাঠ্য ৷ কালনির্ণয় বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হইতে না পারিয়া তিনি গুরুতর ভ্রমে নিপতিত : ৮ »গাব্বব শব্দ হইতে গোবাট শব্দের উৎপত্তি; “গোবাট' শব্দও একস্থানে আছে। ৯ অধ্যা' - শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয লিখিয়াছেনঃ-একটা কথা বিবেচ্য । শিবের নাম বন্টেশ্বর, অথচ তাহাকে "শ্রীহট্ট নাথায় ' বলা হইয়াছে। তাহার স্থান “হট্টরপাটকে” নিরূপিত ছিল। এখন শিবের নাম বটেশ্বর এব এই শিব হইতেই “বটেশ্বরেরহাট” নাম হইয়া বটেশ্বরের অপভ্রংশ হইয়া ভাটেরার বাজার হইয়াছে । বটেশ্বরের অপভ্রংশে “বটেহর” (েথা শ্রীহস্্রের প্রামান্তর শালেশ্বর স্থানে হালেহর), তৎপর হকারের জোর রয়ের উপর পড়িয়া 'ভাটেরা' হইয়া থাকিবে । তারপর 'ইষ্টপাটকে' অর্থ হাটের একদেশে অর্থাৎ এক প্রান্ত শিবের স্থান ছিল: এই জন্য শ্রী-হ্টনাথায় অর্থাৎ শ্রীযুক্ত হট্টের অধিপতি [শ্রীহট্টপতি নহে) এই শেষ প্রয়োগ ৃষ্ট হয় ।” ১০. প্রদীপ পত্রিকা-১৩১১ বাংলা কার্তিক, অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয়ের লিখিত “ফকির শাহজলাল” প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য ৷ ১৪৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ- প্রথম খণ্ড তবে দ্বিতীয় অঙ্কটির নির্দেশ সম্ভবতঃ ডাঃ মিত্রেরই যথার্থ, তদনুসারে দ্বিতীয় অঙ্কটি তিন হইলে প্রথম প্রশস্তির কাল ২৩২৮ যুধিষ্টিরাব্দ হয়; (আমরা ইহাই স্থির রাখিযাছি), তাহা হইলে উভয় প্রশস্তিতে প্রায় ৮০ বৎসর বৈষম্য দীড়ায়। ইহা অমীমাংশ্য নহে । বিবেচনা করিতে হইবে যে, এঁ সময়ের লোক আমাদের ভগ্রজীবী ছিল না, এব” শুর কেশব দেবের প্রশস্তি -াহার রাজ্যাধিকারের সময়- প্রথম বয়সে প্রদত্ত ও তাহাকে দীর্ঘজীবী বিবেচনা কবিলে এবং তৎপব তদীয় দুই পুত্রের রাজ্যশাসনের পর বৃদ্ধ ঈশান দেব ১৭ সম্বতে -মিদান করেন অনুমান করিলে উভয় প্রশস্তিতে যে দীর্ঘকালের (৮০ বৎসর) বৈষম্য দীড়ায়,১১ তাহার কোন প্রকারে সামঞ্জস্টী হয কি?১২ যাহা হোক, এই প্রশস্তিদ্বয় যে খৃষ্ট জন্মের পুবর্বকার, একথা কি বলা যাইতে পারে না? গ্রামগুলির প্রাটীন নামের বিষয় ভাবিলে প্রশস্তির প্রাচীনত্ব বিষয় কিছুমাত্র সংশয থাকেনা । প্রায় শতাবধি নামের মধ্যে সকলটিই অশ্রুতনাম ও অপরিচিত, ইহা অল্প আশ্চর্যেব বিষয় নহে, ৃষ্টায় সপ্তম শতাব্দীর (পশ্চাদুত্ত) দান পত্রের লিখিত নামগুলিব সহিত বর্তমানকালীয় খ্রামাদির নামের বিশেষ পার্থক্য দৃষ্ট হয় না। এই প্রশস্তিদ্বয় যে তৎপুরর্ব সময়েব, তাহা বলিতে আপত্তি কি? শ্রীহস্টে সংস্কৃত বহুল শব্দ পুর্ব প্রচলিত ছিল, এবং সংস্কৃত দলিলাদি লিখিত হইত, তাহাব প্রমাণ আছে।১৩ দ্বিতীয়তঃ, কেশবদেব ও ঈশান দেব প্রস্তরময় অভ্রভেদি যে মন্দিরগুলি নির্মাণ কবেন, তাহাদের ভগ্নাবশেষ চিহ্‌ও এখন বিলুপ্ত ইহা কি কম প্রাচীনদের পরিচায়ক? প্রাগুক্ত তাম্রপত্র আট ফিট মাটির নীচে পাওয়া যায়; যে রূপের হউক, পব্বতের শীর্ষদেশে আট ফিট মাটির স্তর পড়া সহজ কথা নহে। এ সমস্ত বিবেচনা করিলে তাম্রফলকদ্বয়কে খৃষ্টের পূর্ববর্তী বলা যাইতে পারে কি না, পাঠক বিবেচনা করিবেন। ১১. বিষ্ঞুপুরাণ ও বায়ুপুরাণ, এবং রাজতরঙ্গিণী ও বরাহমিহির এই প্রত্মেকমতে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ বা যুধিষ্ঠিরের কাল বিভিন্ন হইয়া পড়ে । রাজতরঙ্গণী মতে (১) ৬৫৩ কলের্গতাব্দে কুরুপাণ্ুবগণ প্রাদুর্ভূত হন। কাশ্মীরের রাজা গোনর্দ যুধিষ্ঠিরের সমসাময়িক ছিলেন। গোনর্দ ৩৫ বৎসর রাজত্ব করেন। অতএব বর্তমান কল্যব্দ ৫১৩৫ হইতে (৬৫৩+৩৫-৬৯৯ বিয়োগ করিলে যৃধিষ্িরাব্দের কাল (88৪৭ বর্ষ) যাওয়া যাইতেছে । তাহা হইতে ১ম প্রশস্তির ২৩২৮ বিয়োগে, প্রথম প্রশস্তির ভূদানকাল ২১১৯ বৎসর পূর্বকার ঘটনা বলিতে হয়। ইহা হইতে য় প্রশস্তির সময়টি ১৯৪৭ বৎসর বিয়োগ করিলে উভয় প্রশস্তির ব্যবধান ১৭২ বর্ষ দীড়ায়। কিন্তু বরাহমিহিরের মতে পিতাপুত্রের তফাৎটা খুব কমিয়া যায়। তাহার মতে শালিবাহনের সালে ২৫২৬ যোগ করিলেই যুধিষ্িরের কাল পাওয়া যায়। যথা-“আসন মঘানু মৃনয়ঃ শাসিন্তি পৃথিবীং যুধিষ্ঠির নৃপতৌ । ষড়দ্বিক পঞ্চদ্বিযূতঃ শক কালস্তস্য রাজ্যশ্চ।”-বারাহী সর্থহতা ১৩ অধ্যায়। অতএব বারাহীমতে (বর্তমান সম্বৎ ১৮২৯+২৫২৬)- ৪৩৫৫ যুধিষ্টিরাব্দ পাওয়া যাইতেছে; তাহা হইতে প্রথম প্রশস্তির ২৩২৮ সংখ্যা বিয়োগে যে ফল হয়, তাহা প্রথম প্রশস্তির কাল, এবং ইহা হইতে ২য় প্রশস্তির সময়টা (১৯৪৭) বাদ দিলেই উভয় প্রশস্তিতে অর্থাৎ পিতাপুত্রের সময়ে ৮০ বৎসর মাত্র ব্যবধান দীড়ায় । যথা৪-৪৩৫৫-২৩২৮-২০২৭-১৯৪ ৭5-৮০। ১. “শতেষু ষট্সু সার্ছেষু ব্রয়োধিকেষু ভূতলে । কলের্গতেষু বর্ষাণামভবন্‌ কুরুপাণ্তবা” ।-রাজ তরঙ্গিণী ১ম তরঙ্গ ১২. প্রথম তাত্র ফলকে “নন্দ” শব্দটি শ্িিষ্টার্থে শ্রীকৃষ্ণের পালক পিতার অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে ('শিতনন্দকেন') মহাভারতে শ্রী কৃষ্ণের গোপলীলার উল্লেখ নাই বটে, কিন্তু হরিবংশে ইঙ্গিতাভাস আছে এবং ব্রক্মবৈবর্ত পুরাণে স্পষ্টত; তাহা বর্ণিত আছে। (যিনি যাহাই বলুন, ব্রহ্ষবৈবর্ত পুরাণকেও আমরা নিতান্ত আধুনিক বলিতে রাজি নহি।) মহাভারতে গোপলীলার উল্লেখ নাই বলিয়া গোপলীলারক সমস্য বিষয়কেই পৌরাণিক যুগে পরবর্তী নির্ধারণ করা সুসঙ্গত নহে। এই জন্য তাত্র ফলকের বয়স-হাস করিতে যাওয়া সমীটান হয় না। ১৩. ২য় ভাগ ২য় অধ্যায়ের পাদটীকায় উদাহরণ স্বরূপ এরূপ একখানি দলিল উদ্ধৃত করা যাইবে । দ্বিতীয় অধ্যায় : ভাটেরার তাম্রশাসন শ্রীহত্ট্ের ইতিবৃত্ত ১৪৫ দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকা নবাবিষ্কৃত না হইলেও ভাটেরা তাম্রফলকণ্ধয়ের বিষয় সমালোচ্য বটে । এ জিলার অন্তর্গত ভাটেরা নামক স্থানের একটি টীলা “হোমের টালা” বলিয়া কথিত হয়। পরম্পরাগত এ নাম চলিয়া আসিতেছে। টীলাটি কেন যে এ কথিত হয়, তাহা কেহ জানে না। ১২৭৯ বাংলায় তত্রত্য জমিদার দেব চৌধুরীর অনুমতি মতে কোন কার্য্যবশতঃ শেখ কটাই নামক এক ব্যক্তি এ স্থান খনন করায় এক ইষ্টকমন্দিরের ভিত্তি ও আট ফিট মাটির নীচে দু"খানা তাত্রপত্র প্রাপ্ত হওয়া যায়। শ্রীহট্টের তদানীন্তন ডিপুটী কমিশনার জনসন সাহেব প্রথমেই ইহা পণ্ডিত শ্রীনিবাস শসত্ীকে প্রদর্শন করেন; (এই মহারাষ্ট্র পণ্ডিত তথকালে শ্রীহট্টে উপস্থিত ছিলেন), তিনিই ইহার গ্রন্থ পাঠোদ্ধার করতঃ এতৎসন্বন্ধে এক প্রস্তাব লিখেন। উভয় প্রশস্তিই উপরে ছিদ্র বিশিষ্ট সমচতুক্কোণ তাম্রফলকে খোদিত । তন্মধ্যে শেষ দেবের প্রশস্তি ১২১১ ইঞ্চি ও ঈশান দেবের প্রশস্তি ৮১৬ ইঞ্চি আকার বিশিষ্ট এবং যথাক্রমে উভয় তাম্্রপত্র ২৯+২৮ ছত্র এবং ১৬+১৬ ছত্র অক্ষর অঞ্কিত আছে। প্রশস্তি দ্বয়ের অক্ষর দেবনাগর । প্রথম প্রশস্তির মূল (ছত্র সংখ্যা-সম্মুখভাগ ।) ১. ও শিবায়। যঃ কত্তাভুবনহত্রয়স্য তদুভিবিশ্বং পৃথিব্যাদিভিরস্যেদং ধ্রিয়তে য ঈশ্বর ইত খ্যাতো-_ ২. ভবান্নাপরঃ। যঃ সংজ্ঞাত্রয়মেক এব ভজতি ব্রেগুণ্য ভেদাশ্রিতো ব্রক্মোপেন্দ্র মহেশ্বরেতি জগতামীশায় ৩. তন্মৈ নমঃ ব্রিপুরহরশিরঃ কিরীটরত্বং স্মরষুবতেরভিষেক রৌপ্যকুশ্তঃ কুসুম বিশিখবাণ শাণ চক্রং ৪. জয়তি নিশাতিলকস্তৃষার রোচিঃ॥ বংশেস্য ভূমি পতয়ঃ কতিতে নিম্পার পৌরূষা জাতা:] যেষাং যশঃ-_ ৫. প্রশস্তি9বি ভারত সংহিতৈ বাস্তি॥ অথ বিশ্রুত প্রভাবঃ প্রভবঃ স্বচ্ছরাজ্য কমলায়াঃ। সমজনি নবগীর্র্বা_ ৬. ণঃ খরবাণঃ স্মাভূজাং শ্রেষ্ঠঃ! তস্যাত্মজো রাজপিতামহোভূৎ মহীপতির৫গোকুল দেব নামা । যস্য প্রতা-_ ৭. পার্করূচোপি চিত্রং দিশ্ত্ররিক্মাপতিজাড্যমুদ্রান্‌ । তম্মাদমন্দ ভুজমৃন্দর মথ্যমান প্রত্যথি পার্থিব ৮. সমুদ্র সমুদ্ধত শ্রীঃ। নারায়ণোহজনি মহীপতিরবকারি যেন স্বয়ং স ভগবান শ্রিতনন্দকেন! তম্মাদসী__ ৯. মগুণ-গৌরবগীতকীর্তির্ভ পালমৌলি মণিমগ্ডিত পাদপীঠঃ। শ্রীমান ক্ষিতীন্দ্র তিলকো রিপুরাজ ১০. শোষী গোবিন্দ ইত্যজনি কেশব দেব এষঃ॥ যঃ সীমাভুত পৌরূষস্য যশসাংরামশ্রিয়া মাশ্রয়োবিদ্যা শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১০ ১৪৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড ১১, ১২. ১৩. ১৪, ১৫, ১৬. ১৭. ১৮. ১৯, ২০, ২১. ২. ৩, ২৪. ৫. ৬. ২৭. নাং বর্সতির্ণয়স্য নিলয়ো ধান্নান্তদেকম্পদং। ত্যাগস্যায়তনং বিলাসভবনং বাচঃ কলানাং নিধিঃ। সৌজনস্য নিকেতনং বিজয়তে মৃত্তোর্কাগুণানাং গুণঃ। দোর্দপ্ডেন সমুদ্ধ তক্ষিতিভূতাং সংক্ষ্য গোমশু ল সদৃবৃন্দাবনমাদরেণ বিদধৎ উচ্ছিন্নকং সোৎসবম। শ্রীমৎ কেশবদেব এষ নিরতং চক্রেহবশেষৎ রূষা য ব্রেকং শিমুপালমপ্যরি কুলে ক্ষিপ্তারিচক্রো নৃপঃ। কৃত্বা যেন ভূজৌজসা বসুমতি মেকাত পত্রামি মাং লোক্যেশ্ষিন্নভিলষ্যতে বিজয়িনানন্যাধিকার স্থিতিঃ। পাণিঃ কল্পতরোঃ দে দিনকৃতঃ কৃত্যে প্রতাপোযশঃ শীতাংশোবিষয়ে ন্যধায়িভুজগা ধীশাধীকারে ভূজঃ] যস্মিন শাসতি নিখিলামা দিমহকীপাল দীক্ষয়া ক্ষৌণীমৃ। শ্রুতিপথ লঙ্ঘন সাহসমাসীৎ কান্তাদৃশামের! আয়ং সুহঙ্চক্র মুদং বিভাবয়ন প্রসাধিতাশঃ করবাল লীলয়া । সুদুরমুৎসারিত রাজমগ্ডলো ররাজপুবর্বাবলিভৃৎ । শিরোমণি: করোতি ধ্বলংজগৎ বিলয়তেহরি-_ পদ্মোদগমং তনোতি কুমুদং যশঃ সদৃশমস্য চ- ন্দ্রোজ্বলং। সিতং কিমথরঞ্জকং ভ্রমদনারতং কিং স্থিরং সকারণমিদঞ্চ সৎ কিমিব নিত্যমিত্যতু__ তম! বাশ্পৈরুব্বীপতীনাং যদয়মনুসিতোহমৃঙ্ছিতো যদ্রিপূণাং কীলালৈর্যত্তনোতি দ্বিষদবনিভূজাং জাড্যমচ্চিবিতানৈঃ। কাষ্টপনাং যদ্যতীতপ্রকর মুপযযাবম্বরং লেলিহানস্তেনাশ্চ ধৈ্যকসীমা জয়তিনর পতেঃ কোপি তেজঃ কৃশানুঃ) ক্ষৌণীভূজা যুগপদা হবসঙ্গতেন তেনোন্নতদ্বয়মনামি গুণদ্বয়েন একে ন কাম্মুকমসীম সহঃ প্রকর্ষগম্যেন বৈরিনিবহঃ সহসাপরেণ॥ মহীভূজাজীয়ত চন্দ্রহাসকরেণতে নামিত বিক্রমেণ। বিলভ্িখতানেকপয়োধিনেয়ং স্বেনৈব কৃৎন্না যশসা ধরিত্রী॥ তথাস্তি কৈলাস নি-_ বাস নিষ্পৃহঃ কৃতাবতারো ডুবি হষ্ট পাটকে। অনাদিরূপো জগদাদিরপ্যয়ং ব্রিলোকনাথো ভগ-- বানবটেশ্বরঃ। শশিশেখরায় তস্মৈ ন্পশেখররত্ু বিস্কুরচ্চরণঃ। প্রদদৌ নানাগ্রামে নিখিল নৃপ-_ দ্বিতীয় অধ্যায় : ভাটেরার তাম্রশাসন শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ১৪৭ ৯. চে ১০, ১১. ১২. ১৩. ১৪. ১৫. ১৬, ১৭. ৯১৮, গ্রামণীরেষঃ অধিকং পঞ্চসপ্তত্যা ভূহলানাং শতত্রয়ং। শতদ্বয়ঞ্ বাটীনাং ষণ্ণবত্যা সমন্নিতং॥ নানা পরিজনাংস্তু্মৈ জনজাতীরনেকশঃ। প্রাদাৎ শ্রীহস্ট নাথায় শিবায় শিবকীর্তনঃ] চাট পড়াদেবসত্রে ভূহ ল ৩৫. বাটা ১১০ বড়গ্ৰামে ১৩ মহবাপুরে বাটী ১ হটাথানাকে ভূহর ৭ বাটা ৬ দেহিগানোত্তরে ভূহল ১ নব- পথ্ালে ভূহল ৫ বাটা+আয়তনীকে+হল ৭ শিডবে বাটা ১ অমনাটেভবিকে ভূহল ৬ গুড়াবয়ীকে বাটী ৩ কটাবাঞ্থ- তে ভূহল ৩ অথানিকৃতেঞ্ধনীঘনাকোণার্কে বাটী ১ যিথায়ি নগরে ভূহল ১৭ বাটা ৪ নেনৃবতাগে বাটী ৬ যোড়াতি- থার্কে ধৃতকব ভূহল ৩ বাটা ১১ কৈবামে হলা বাটী ১ বালুসী গামে হল ৫ নবছাদি পশ্চিমে হল+++ভূহল ৫ বা টী + অথিনহাটকে ভূহল ৫ বাটী ৮ কডডিয়া দক্ষিণে গোস্যয়া পৃবের্ব গোবাটোত্তরে ববনী পশ্চিমে ভূহল ১৮ সবগানয়ো দক্ষিণে ভূহল ৫ বাটী ৩ তথা নদ্যুত্তরে ভূহল ৩৫ বাটী ১৩ তথা নদ্যত্তরে বাটী_ সস্তপৃবের্ব বাটী ১ তথা নদ্যুত্তরে বাটা সব্ব্বভূ দক্ষিণে ভূহল ৭ কানিয়ানী নদ্যুত্তরে যেগমডগণি__ য়া পৃরের্ব ভূহল ৮ঢ বাটী ৭তথা নদী দক্ষিণে থবসোস্তী পূর্ব ভাঙ্কর টেম্করী পশ্চিমে ভূহল ১৫ বাটা+ জগায়ান্তরে নাটয়ান গ্রামদ্বয়ে ভূহল ৫ বাটী ৩০ সমাগয়ড়াকে অনীকাথী পুবের্ব সাগর পশ্চিমে ভূ- হল ১০ কানিয়ানী নদী দক্ষিণোত্তরে ভূহল ৮] নাগায়ি নদী দক্ষিণে ভূহল ৬ বাটী ১০ ভোগাডত্তবাত ডোত্তরে ভূহল ৯ বাটা ৯ তথোগাসনে পশ্চিমে হট্টব বোত্তরে ভূহল ৭ বাটা ১০ সাহকোপপাদক্ষিণে বড়সোচ__ স ভূহল ১০ চেদগন্ুু়ীকে ভূহল ৩ বাটা ১ আডানকাথীকে বাটা ৭ ভুকে +গ+নদ্যানীকে বাটা ৭মে+পরা- ক বাট ১ ভূকে উপংসিবো পূর্রবে আথাবীভূহল ৮০ বাটী ১৩ নডকুটী গামে বাটী ৮ তথাগামে থাগন- দুত্তরে বাটী ৬ ভূকে + গোস্তেপপাত পৃবের্ব গোপথ+ স্তরে হডীগঙ্গ দক্ষিণে ধনকুগ্ডড়ী পশ্চিমে কবগা সনস্থুল ৫ পছানিয়া অথানি উতাক ভূহল ১০+ দ্য দেবগাসন পুবের্ব ভূহল ৫ বো বাড্ডা দক্ষিণে জোগাবনিয়া উত্তরে বাটা ১ ভাটপড়াকে কেদাফা দিবাবগুঢ ১০ তথাকেতীমৃতাকাদী গোপগুড ১৪৮ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড ১৯১, ২০, ২১, ২২. ২৩, ২৪. ২৫. ৬. ২৭. ২৮, উর 5 হি 5 পি ডি তল ২০ 8: ২৮ ৭৮ ৪ ০০ ও // * ০ তথা বা + পাকাদি তে নৃড্ড তথাকেকাস্য নোবিন্দাগৃহ ১ বড়গামে গোপগদা ১ তথাকে আবপা- নাকাদিবাবগৃহ ৭ ভোগডত্তাবনি নিমাবশূয়। তে গুড ভাটপড়া ছটাথানা ৷ ন+ উসড়াকানি গুড় মাটপড়া ববপঞ্চ তকৃপথাননি বিবাকবাকাদিসানা গুড্ডভাটপড়া নিমেবাকাদি গো গৃড্ডভাট- পড়া নিজাপিত গোতিনু। গৃহ ১ রজকসিবসম্পাগৃহ ১ ববাতুছানি বংবাবাটায়ি পাকাকীয়গৃহ ৫ তথা । নিডো+ বে++কাদিগৃহ ৫ নবভাট | নিডো+ ভাট পাকাদি গৃহ ৩ ভাটপড়া নিবাপ পাকা- দি হড্ডিপগৃহ ২ পিশ্রাপি নগরে দ্যোন্যেনাবিকা+ দি গৃহ ৩ সিহাডব গ্রামে দত্তক বিবজবি গোগৃহ ১ কোদ্টা হুহুক মহাসাহুটো কোদ্টাসুণ কোদ্বীনো কৃতাং বুঢোভাং হবিষন্টোদ্বপত্র আসি এ ন পিথুয়া আপিয়াবে ভাল + ড দয় আকাদয়ঃ প্রদত্তাঃ! বহুভিবর্বসুধা দত্তা রাজভি: সগরাদিভি ধস্য যস্য যদা ভূমি স্তস্য তস্য তদা ফলংঃ স্ব দত্তাং পরদত্তাং বা যো হরেত বসুন্ধরা স ঝিষ্টায়াং কৃমির্ভৃত্বা পি- তৃভিবঃ সহ পচ্যতে । পাণ্তবকুলাদিপালাব্দ ২৩২৮। যে যে স্থলে সংখ্যা কি অক্ষর উঠিয়া গিয়াছে, তথায় (+) চিহ্ু দেওয়া হইয়াছে । দ্বিতীয় প্রশস্তির মূল ও নমো নারায়ণায়! মহানীলমণিশ্যামঃ সুবর্ণরুচিরান্বরঃ পা- তু বঃ কমলাকান্তঃ সবিদ্যুদিব বারিদঃ॥ তুগোত্ুঙ্গতমস্তোম নাগ- যুথমৃগাধিপঃ। মৌলিরত্বং মহেশস্য জয়ত্যমৃত দীধিতিঃ! তদন্যয়েতূ- ডুবনাবতংসঃ স্বীরোদযোপ্রোজ্্বল বীর্তিরাশিঃ। সশত্র তৃনু্ুল হংসসার্থ কল্পদ্ধমো গোকুলভূমিপালঃ। তস্যাত্মজঃ শস্ত্রভৃতাংবিশিষ্টঃ সন্ত্রাস্তশস্ত্ নবমন্দরান্দ্িঃ। শ্রিয়াহৃদা সঙ্গতমঞ্ুমূর্তি ব্ভুব নারায়ণ দেব এষঃ1 নিধিঃ ক- লানাং ভবনং গুণানাং শৌর্ধ্যস্যরাশি বিনয়স্য ভূমিঃ। সৌজন্য পথোনিধি র- ন্নতশ্রীঃ প্রজ্ঞাত কীত্তিভুবনাবাংতংসঃ॥ তস্যেরূতেজা রিপুরাজ শোষী গোবি- ন্দবীরো দ্রমনাথসংজ্ঞ। স্ক্পালচুড়ামণি মণ্ডিতাড়িঘবঃ পুত্রোহভবৎ কেশ- . ব দেবদেবঃ] গুণৈর্যদীয়ৈঃ শ্রবণাভির মৈরাকৃষ্যমাণা গুণিনঃস- , মন্তাৎ। আগত্য সম্পন্ন মনোরথাশ্চ ন সম্মরুজর্নৃভিবং দ্বিজেন্দ্রাঃ। , যক্মিন্‌ মহীংশাসতি ভূমিপাল নিদ্রাং রজন্যামপি নাধিজগ্[ঃ | সঞ্চি , স্তয়ন্তঃ পরিতোষহেতোরমুষ্য বিশ্রাণয়িতুং বসূনি॥ নিঃসীম নৌবাটকপ- . ত্তিবাজি প্রভিন্ন দন্তাবলমৈন্য সম্পৎ। স রাজরাজঃ কুমুদাবদাতৈ ধাশো- দ্বিতীয় অধ্যায় : ভাটেরার তাশ্্রশাসন শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১৪৯ ১৫. ভিরুববীং বিমলী চকারা! স মন্দিরংকংশনিসূদনস্য শিলাভিরুচৈর্বিদধে ১৬. মহৌজাঃ। যতুঙগশৃন্গস্থিতচক্রধারাক্ষাতঃ ক্ষরন্তযবুগনাদিবস্থাঃ! তুলাপুরুষদানস্য সম্প্রাপ্য দ্রবিণন্দিজাঃ। কল্পবৃন্মাইবা ভূবন্‌ হেমাল স্কার ভূষিতা:॥ তম্ান্মহেশাদিব বাহুনেয়ঃ পীযুষরশ্েরিব রৌহিণেয়ঃ। শ্রীমানভূরির্লকীর্তিরাশিরীশানদেবঃ ক্ষিতিপালচন্দ্রঃা যজ্জৈত্রযাত্রাপ- চলৎ পদাতিতুরঙ্গ দস্তাব লসৈন্যকীর্ণেঃ । রজোভিরুর্ব্বাঃ পরিমৃষ্যমানস্থ- ন্োন্মহাঃ সন্ন্যমিনীলদর্কা যদীয় নৌবাট ককেলিপাতঘাতোচ্ছলদ্বারিভিরু_ গ্ররম্মেঃ। রথৈস্তরঙ্গে রভিসন্তপত্তিঃ সন্তাপশান্তিঃ সুতরামলম্তি॥ বিনি- র্মমেসৌ মধুকৈটভারেঃ প্রাসাদমত্রংলিহমূর্জিতশ্রীঃ। যন্ু্গশৃঙগপ্রচলং। পতাকা- নভন্তরোর্মজ্জকের ভাতি! এতস্য পৃথিবীভর্তুরাজপন্টকৃতী । বৈদ্য বং- শপ্রদীপঃ শ্রীবনমালিকরোভবৎ! তস্যবিজ্ঞাপনাত্তু পঃ শাসনংকৃতবানয়ম। রাজপু- . ত্রো যঃ স্থবির পুত্রশুন্যঃ স্বহস্ততঃ! পাল্যং ভূহলদ্বয়ং সভাস্থৃশস্যবিস্তৃতং . মৃতস্য রাজপুত্রস্যপত্বী যা কুলপালিকা । শিশুশ্চতনয়ঃ তস্যাপাল্যমেব তয়ো- . রূপি॥ আদেশিকভৃৎ সমর প্রবীরঃ শ্রীবীরদত্ত পৃতনাধি নাথঃ। দিগ- . স্ত সংক্রান্ত যশ; প্রশস্তিঃ প্রতাপভানূর্জ্জিতধৈর্য্যরাশিঃ স্বদত্তাংরদত্তাং বা যো- ১৪. হরেত বসুন্ধরাং। স িষ্টায়াং কৃমির্ভৃত্বা পিতৃভিঃ সহপচ্যতো! এতাং ১৫. প্রশস্তিং বিদধে বিবেকী শ্রীমাধবদাসকুলাবতংসঃ। যাবৎ সমুদ্বা গিরয়শ্চ- উদ্ধৃত প্রশস্তদয়ের মর্মার্থ পৃবের্ব বলা হইয়াছে; কিন্তু ইহার কাল নির্ণয় নিয়া কিঞ্িৎ গোলযোগ আছে। প্রশস্তির প্রথম পাঠোদ্ধারক মহারাষ্ট্র পণ্ডিত শ্রীনিবাস শাস্ত্রী, কেশব দেবের প্রশস্তির সময় ২৯২৮ যুধিষ্টিরাব্দ বলিয়া অনুমান করেন। ডাঃ রাজেন্দ্র লাল মিত্র এই প্রশস্তিদ্ধয়ের দ্বিতীয় পাঠোদ্ধারকারক। ১৮৮০ খৃষ্টাব্দের আগষ্ট মাসের আসিয়াটিক সোসাইটির জর্নালে তদীয় মত প্রকাশিত হয়। তিনি কেশব দেবের ভূমিদান কাল ৪৩২৮ যুধিষ্ঠিরাব্দ বলিয়া অনুমান করেন। তিনি “অনুমান” মাত্রই করিয়াছেন এবং কাল নিরূপণে বিশেষ সন্ধিহান হইয়াছেন। তথাপি এ ক্ষেত্রে তিনি গুরন্তর ভ্রমে নিপতিত হইয়াছেন, সন্দেহ নাই। পঞ্তিত শ্রীনিবাস শাস্ত্র ও ডাঃ মিত্র ইহাদের ভিন্ন ভিন্ন দুইমতের মধ্যে কোনটি যথার্থ! ডাঃ মিত্র লিখিয়াছেন-_-'[ঃ) (136 01161081111 [15 1016 19 6 [00110 (116 00170, 2110 1729 10601) 1001067 9618101)90 0৮০], 2170 19 8101210091)109 097010105.01705 580050 19 9150 07921 00 01155101015. [ 228 019199560 00 19155 (6 2150 0 2. 4 2180 076 5500150. 00 3, 9/17101) ৮/07210 1779105 1196 0916 ০0081 4328-1245 410. 0 200010 052 00706 ৮1167791591) 56115] 11)5060 ১১115611102 056 00011505. 01 076 11119171506 88006 ৮1117 081 101)6 [০০070 1 138৮6 150 762901% €0 0012101.” (70066011755, 4£5918110 ০০12 ০1 93617615. 002 4112190, 1880.) সত্য অনেক স্থলে বড় কঠোর । সত্যের অনুরোধে আমরা ভারত বিখ্যাত প্রত্ুতত্্ববিৎ ডাক্তার মিত্রের শ্রম প্রদর্শন করিতে অসর হইতেছি। ন্ুদ্র লেখকের ইহা দান্তিকতা নহে, ধৃষ্টতা নহে,__কর্তব্যানুরোধে আমাদিগকে বাধ্য করিতেছে। ৩৮ না 29 ভে সি ০০৫34 ৮ ২৮ ৮৮ ৪৮ 2৪ ও //” ৫৮০ ১৫০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড প্রথমতঃ গোবিন্দ নামক কোন রাজার বিষয় প্রশস্তিতে লিখিত হয় নাই, ইহা ডাঃ মিত্রের কল্পনা । তিনি শ্রীহট্ট প্রদেশের গোবিন্দ ও শাহজালালের আখ্যায়িকা শুনিয়াছিলেন। পরে কেশব দেবের প্রশস্তিতে “গোবিন্দ ইত্যজনি কেশব দেব এষঃ” স্থলে “গোবিন্দ” পাইয়াই কেশব দেবের নামান্তর কল্পনা করিয়া বসিলেন। এই গ্রন্থের অন্যত্র শাহজালাল-পরাজিত গোবিন্দ নামক রাজার বিবরণ লিখিত হইবে। সেই গোবিন্দের সহিত কেশব দেবকে অভিন্ন কল্পনা করাই ডাক্তার মিত্রের প্রথম ভ্রম । প্রথম প্রশস্তির নবম শ্রোকের ততৎ্কৃত অনুবাদ$--]15 75589 [09৬2 (21155 00%1102) ৮/1)0 190 ৬1111190115 0150105 21115 611010165, এবং অন্যত্র "৬৬10 ৮/05 017০ 01772010010 01 921101019 50৬61910105, 0179 09501059191 11৬21 10165 ০৬০1) 25 00৬1710 (1109 00৫ 1015178) |11105017" স্বয়ং এইরূপ লিখিয়াও কোন সুত্রে কেশব দেবের নাম গোবিন্দ কল্পনা করিলেন, বুঝিতে পারি না। শাহজলাল বিজিত রাজা গোবিন্দের নামের দিকে লক্ষ্য থাকায়, তিনি সময়টাকে শাহজলালের সময়ে টানিয়া নিতে সচেষ্ট হইয়াছেন। উপায়ও মিলিল;-প্রথম অঙ্কটা অপাঠ্য! যদি প্রশস্তির সময়জ্ঞাপক প্রথমাঙ্ককে '৩' বলেন, শাহজলালের সময়ের বহুপূর্ব্ববর্তী কাল হইয়া যায়; এবং “৫ বলিলে আধুনিক সময় হইয়া পড়ে; কাজেই এ অঙ্কটিকে “৪ বলিয়া, ৪৩২৮ যুধিষ্টিরাব্দই প্রশস্তির সময় বলিয়া কল্পনা করা হইল। কিন্তু ৪৩২৮-১২৪৫ খ্ৃষ্টাব্দও যে শাহজলাল এবং তত্কর্তৃক পরাজিত গৌড় গোবিন্দের সময়ের প্রায় ১০৭ বর্ষ পূর্ববর্তী? এই বৈশম্যের কোনরূপ মীমাংসা নাই। একমাত্র প্রদীপ পত্রিকায়১৪ অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় ব্যতীত এই বৃহৎ ভ্রমের আর প্রতিবাদ কেহ করেন নাই । শাহজন্াল এবং তত্কর্তৃক বিজিত গৌড় গোবিন্দ খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর লোক, এঁ সময়কার বহুতর ব্যক্তির বংশভূমিকার পুরুষ গুণনায় নিঃসন্দেহে তাহা বলা যাইতে পারে । প্রসিদ্ধ এঁতিহাসিক সুবিজ্ঞ ব্যক্তি বর্গেরও এই মত। ডাঃ মিত্র প্রশস্তিতে কেশবদেবের কীর্তি পাঠ করিয়া,-যাহাকে গোবিন্দদেব নাম প্রদান করিয়াছেন, জানিয়াছেন, তিনি একজন শ্রেষ্ঠ বীরপুরুষ । বীরপুরুষকে পরাজয় করা বীরত্্র কার্য্য, বীরপুরুষ ব্যতীত কোন সংসারত্যাগী ব্যক্তি তাহাতে সম হওয়া কঠিন, অতএব তিনি লিখিয়াছেনঃ__ "175 101006 ৬95 0৬211010109 09 91918 6115] 81195 561191001 1091). 91100 10110175 002 10901516705 01 10195 [07906069507 1৬110172192], 190 1015 20770% (00 006 59506]7) 10915 01 721765] 107/9050 ৯91116017) 1257 4৯, 10," এ স্থলে তাহার উদ্যম আর এক পদ অগ্রসর হইয়াছে। প্রশস্তির স্বনিণীতি ১২৪৫ খৃষ্টাব্দের সহিত শাহজলালের সমসাময়িকতা প্রদর্শন করিতে হইবে; কাজেই বাঙ্গালার প্রসিদ্ধ জেলালুদ্দিন খানির নামান্তর শাহজলাল ছিল বলিয়া কল্পনা করা হইল; এবং তাহাকে একবারে শ্রীহত্টে আনিয়া শ্রীহট্ট বিজয়ের যৎসামান্য যশও তাহার উপর চাপাইয়া দেওয়া হইল । কিন্তু যদি তিনি একটু অনুসন্ধান করিতেন, তাহা হইলেই জানিতে পারিতেন যে, শ্রীহন্টের শাহজলাল সংসারবিরাগী সাধু ব্যক্তি ছিলেন, তিনি যুদ্ধব্যবসায়ী জেলালুদ্দীন খানি হইতে ভিন্ন ব্যক্তি।১৫ ১৪. প্রদীপ, কার্তিক-১৩১১; “ফকির শাহজলাল” প্রবস্থা দ্রষ্টব্য । ১৫. 965 016 91201501021 /১০০০০115 01 /১552া) ৬০01.. 11. 09 ৬. ৬/. 110010121 /54 0150 70011131019 0170 ১18015010 01 109008 11%15101). দ্বিতীয় অধ্যায় : ভাটেরার তাম্রশাসন শ্রীহত্টরের ইতিবৃত্ত ১৫১ একটু অনুসন্ধান করিলেই জানিতে পারিতেন যে, শ্রীহট্রের শাহজলালের পিতা এবং জেলালুদ্দীন ব্যক্তি। উভয়ে যে এক ব্যক্তি নহেন, তাহার প্রমাণ তন্পিখিত প্রসিডিং এই আছে, তিনি লিখিয়াছেন--“শ্রীহট্ট বিজেতা জেলালুদ্দীন, ইরসিলান খার আক্রমণ হইতে গৌড় ভূমি রক্ষা করিতে গিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণত্যাগ করেন ।”১৬ শাহজলালের জীবনবৃত্ত “সুহেল-ই-এমন” ও তদনুবাদ “তোয়ারিখে জলালি” গ্রন্থে, শাহজলাল শ্রীহত্ট হইতে অন্যত্র গিয়া মৃত্যুমুখে পতিত হন, এমন প্রসঙ্গ নাই। শ্রীহট বিজেতা দরবেশ শাহজলালের শ্রীহস্টেই মৃত্যু হয়, শ্রীহট্টেই তাহার মৃত দেহ সমাহিত হয়. সেই সমাধি ক্ষেত্র অদ্যাপি বিদ্যমান আছে ।১৭ এবং তাহা এক অতিপ্রধান মোসলমানতীর্থে পরিণত হইয়াছে ।১৮ এই সমাধির ব্যয় নিব্বাহার্থে অদ্যাপি গবর্ণমেন্ট মাসিক হিসাবে সাহায্য করিতেছেন শ্রীহট্রের শাহজলালের দরগা আবাল বৃদ্ধ সকলের কাছেই সুপরিচিত, তাই বলিতেছিলাম সামান্য একটু অনুসন্ধানের অভাবে এত বড় পণ্ডিত ব্যক্তির এরূপ হাস্যকর ভ্রম হইয়াছে। আর একটা কথা,__ কেশবদেবের পুত্র ঈশানদেব। যদি কেশবদেবের রূপান্তর কল্পনা স্থির রাখিয়া তাহাকে শাহজলাল কর্তৃক পরাজিত বলা হয়, তবে তৎপুত্র ঈশানদেব কিরূপে পিতৃ পরিত্যক্ত রাজ্য শাসন করিতে সমর্থ হইলেন?১৯ পরক্তু শাহজলাল যে গৌড়গোবিন্দকে পরাজিত করেন, তিনি পলায়ন পূর্বক সব্র্বত আশ্রয় করেন; সেই অবধি শ্রীহট্ট যবনাধীন হয়, এই অতি প্রসিদ্ধ ঘটনার বিষয় পাঠক ২য় খণ্ডে দেখিতে পাইবেন। কেশব ও ঈশানদেবের যেরূপ বীরত্ব ও কীর্তি প্রশস্তিফলকে উৎকীর্ণ, তাহাতে তাহাদিগকে সামান্য রাজা বলা যাইতে পারে না। তাহাদের সৈন্য সম্ভার অল্প ছিল না। এমতাবস্থায় ইহারা একবারে নির্জিত হইয়াছিলেন, কোন প্রকারেই বলা যাইতে পারে না। তর্কস্থলে যদি বলা হয় যে, ঈশানদেব পরে পৈত্রিক রাজ্য উদ্ধার করিয়া লয়েন, কিন্তু তাহারও প্রমাণ নাই। তাহা হইলে স্বোপার্জিতরাজ্যে দুইহাল মাত্র ভূমিদান করিতে তাহাকে বিধবা মহিধী প্রভৃতির অভিমত নিতে হইত না। পক্ষান্তরে শাহজলালের পরে, তাহার সেনাপতি সিকান্দর গাজী এবং তৎপর হায়দর গাজী শ্রীহট্ট শাসন করেন তাহার প্রমাণ পাঠক পরে পাইবেন। শাহজলাল বিজিত গৌড়গোবিন্দের কোন নামান্তর ছিল না; প্রশস্তি-কথিত রাজার (ডাঃ মিত্রের মতে) নামান্তর থাকায়, তাহাকে বিভিন্ন ব্যক্তি বলিতে আপত্তি কি? প্রথম প্রশস্তির ৭ম শ্লোকে এবং ২য় প্রশস্তির ৬ষ্ঠ শ্রোকে স্পষ্টতঃ কেশবদেব, এইনাম থাকা সত্ও তাহাকে গোবিন্দনামে অভিহিত করা হইয়াছে, রহস্য মন্দ নহে। বস্তুতঃ কোন প্রকারেই শাহজলাল বিজিত গৌড়গোবিন্দের সহিত কেশবদেবের অভিন্নত্ব প্রতিপাদিত হয় না। ১৬. 70 ৬৪3 500061) ০21100০৪০10 00010 000 101) 0180 17%85101) 011751121) 1180) 000. 50011 2001 101116017) 0110 02101010. -1716 000০9601105 01 /১5510110 9001619 01 3079] 1880. ১৭, 19181-0-1011 1170111 100181)1 210 0160 11) 09807, 11116 91010101015 10109 51111 5121405 01 ১১]।)০1 10 71011 115 [91906 01 46৬00101, ৫811) 0) 01191. 1116 [90115, 51181) [0101 ৮05 1101 1191-00-11 1012011, 101 ৬৪৩ [২819 0০09011004-75658৬0 01 5911701. -4৯ 0110681 30009 011৬1. 09111 1115001 ০06 %5521). -3% ঠা0, 1১800081001 1310901701৬. /১. ১৮, 56০ 0116 [01010 011%1. তি. 15170585, (010 0119 [51091 (001100101) 01 ১110. ১৯ 30০ 1000 4১10001 0011 06000 /১10110001081091 98৬০১, 3৩101 01616. /১011-1903, 0.-23, 24 ১৫২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড গবর্ণমেন্ট প্রকাশিত ইতিহাস (১11075 0829019015 ৬০]. [,) এবং হান্টার সাহেবের ইতিহাস (3091130109] /১000075 0 /555211) প্রভৃতি অনুসারে ১৩৮৪ খৃষ্টাব্দে গৌড়গোবিন্দ শাহজলাল কর্তৃক পরাভূত হন। শাহজালালের অনুসঙ্গীগণের বংশাবলীর পুরুষ হিসাবে এই সময়ই প্রকৃত বলা যাইতে পারে,_ ইহা পুবের্বও বলা গিয়াছে। ঈশানদেবের প্রশস্তিতে অন্দ সংখ্যা সুস্পষ্ট । কিন্তু ডাঃ মিত্র এই ১৭ সং বা সম্বঘকে "[15 00৬108151) 100010060 101 1110 171 01119 10125 19167." বলিয়া ইহার এক ব্যাখ্যা করিয়াছেন। তিনি যাহাই করুন, কেশবদেবের প্রশস্তির অব্দ সংখ্যা যে ৪৩২৮ যুধিষ্টিরাব্দ নহে, এবং ১৭ সম্বতের সহিত তাহার সুসঙ্গতি আছে, তাহা নিশ্চিত। এই প্রশস্তিদ্বয় এখনও জগচ্চন্দ্র চৌধুরীর উত্তরাধিকারী ভাটেরা নিবাসী শ্রীযুক্ত মহেন্দ্র নাথ দেব চৌধুরীর নিকট আছে; এবং ১৮৮০ খৃষ্টাব্দের আগষ্ট মাসের আসিয়াটিক সোসাইটির জর্ণালে ইহার অবিকল চিত্র আছে, কৌতৃহলাবিষ্ট পাঠক, মূল তাম্রফলকে দেখিবেন যে কেশবদেবের প্রশস্তির অব্দ সংখ্যার প্রথম অঙ্কটী কোন মতেই '৪' হইতে পারে না। বিদুষী রমাবাইয়ের ভ্রাতা, পণ্ডিত শ্রীনিবাস শাস্ত্রীর অব্দ নির্দেশ অপেক্ষাকৃত সমীচীন মনে করি। তাহার নির্দেশানুসারে তর্কিত প্রথম অঙ্কটা '২' স্থির করিলে, উভয় প্রশস্তিতে কত ব্যবধান দীড়ায়, দেখা যাউক। পৃবের্ব বলা হইয়াছে, রাজতরঙ্গিণী মতে উভয় প্রশস্তির সময়ে ২৭২ বর্ষ ব্যবধান দাঁড়ায়, এই সময়টা ঠিক নহে। যদিও কেশবদেবের দুই পুত্রের রাজ্য শাসনের পরে, ঈশানদেব বৃদ্ধাবস্থায় বিষ্টুমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন, তথাপি এ দীর্ঘতর কালের সুসঙ্গতি হয় না। কিন্তু বরাহমিহিরের মতে বিচার করিলে আর অসঙ্গতি থাকে না। বারাহমিতে পিতা পুত্রে ঈদৃশ ব্যবধান লক্ষিত হয় না, ৭৮০ কলির্গতাৰে যুধিষ্ঠিরের কাল; তদনুসারে উভয় প্রশস্তির ব্যবধান বৎসর মাত্র হয় । (কঃ গঃ-৫১৩৫-৭৮০-৪৪৫৫-২৩২৮-২০২৭-৮০ বর্ষ ।) পিতাপুত্রের সময় মধ্যে এই ৮০ ব্যবধান নানাকারণে অসঙ্গত না হইতে পারে। প্রাচ্যবিদ্যামহাকর্ণব বন্ধুবর শ্রীযুক্ত নগেন্দ্র নাথ বসু মহাশয় একখানি পত্রে লিখিয়াছেন যে, প্রশস্তিদ্বয়ের অক্ষর খৃষ্টায় দশম শতাব্দীর অক্ষরের অনুরূপ । প্রশস্তিদ্বয় নাগরাক্ষরে অঞ্কিত হইলেও কোন কোন অক্ষর যে বঙ্গাক্ষরের আদিরূপ, তাহা প্রতীয়মান হয়। কিন্তু বঙ্গাক্ষরও নিতান্ত আধুনিক বলিতে আমাদের প্রবৃত্তি হয় না। ললিত বিস্তারগ্রস্থে লিখিত আছে, বুদ্ধদেব অধ্যাপক শ্রীমিত্রের নিকট বঙ্গলিপি, অঙ্গলিপি, ব্রান্দী, সৌরান্ত্রী ও মাগধলিপি শিক্ষা করিয়াছিলেন। বুদ্ধদেব খৃষ্টের ৫৫৭ বর্ষ পূর্বে আভির্ভূত হন। ৃষ্ট-পূরর্ব সময়ের অক্ষর যে প্রশস্তির অক্ষরের ন্যায় হইতে পারে না, তাহার সুদৃঢ় প্রমাণ পাওয়ার প্রয়োজন । তর্কস্থলে দশম শতাব্দী মানিয়া লইলেও ইহা সহস্র বর্ষের পূবর্বকার বলিতে হইবে । তাহা হইলে ঈশানদেবের বৃদ্ধ প্রপিতামহ নবগীবর্বানের-রাজত্বকাল খৃষ্ঠীয় অষ্টম শতাব্দী বলিয়া ধরিয়া লইতে হয়। প্রায় এই সময়েই শ্রীহট্ট প্রদেশের অপরাংশে “ফা” উপাধি বিশিষ্ট এক রাজবংশ ছিলেন; এবং তাহা হইলে এই সময় শ্রীহট্ট বিভিন্ন খণ্রাজ্যে বিভক্ত ছিল বলিতে হইবে। যাহা হউক, প্রশস্তি লিখিত অধুনালিপ্ত নাম গুলির প্রতি দৃষ্টি করিলে এবং রাজগণের ব্যবহৃত যুদ্ধ-রথাদির বিষয় বিবেচনা করিলে তাহাদিগকে অতি নরপতি না বলিয়া উপায় নাই। বলা হইয়াছে, কেশবদেব একটি সুদৃঢ় প্রস্তরময় বিষ্ণুমন্দির নির্মাণ করাইয়াছিলেন; তাহার চিহ কোথায়? শ্রীহট্টনাথের প্রস্তব মন্দিরের ভগ্মাবশেষ কোথায়? কেশবদেবের সময় ১২৪৫ দ্বিতীয় অধ্যায় : ভাটেরার তাম্রশাসন শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ১৫৩ খৃষ্টাব্দ হইলে এঁ সকল মন্দিরের চিহ্ৃমাত্র না থাকার সম্ভাবনা ছিল না। শাহজলালের সময়ের অব্যবহিত পরবত্তী মসজিদাদি এখনও ভগ্নস্তূপে পরিণত হয় নাই । ইহা কি প্রাচীনত্বের অন্যতর প্রমাণ নহেঃ ডাঃ মিত্রের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভ্রমের পরিচয় দিয়া প্রয়োজন নাই; এই রাজবংশের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, ইহারা কাছাড়রাজবংশীয় ছিলেন।২০ শ্রীযুক্ত কৈলাশ চন্দ্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাসে কাছাড় রাজগণের এক বংশতালিকা যোজিত আছে, এবং আমরা স্বয়ংও কাছাড় হইতে এক পরিশুদ্ধ বংশপত্র২১ সংগ্রহ করিয়াছি, কিন্তু কোনটিতেই প্রশস্তির উল্লেখিত নামগুলি পাওয়া যায় নাই। প্রশস্তিতে, পাণ্তবকুলাধিপান্দ শব্দ দৃষ্টে এক হৈড়ন্বের কোছাড়ের) রাজবংশের সহিত পাপ্তবদের সংশ্রব ছিল, ইতি প্রবাদমূলে তিনি নবগীব্র্বান বংশীয়দিগকে, কাছাড় রাজবংশীয় বলিয়া অনুমান করিয়াছেন । এই অনুমানের পৃবের্ব কাছাড়ের রাজবংশ তালিকাটা সংগ্রহ পুবর্বক দেখা কি ভাল ছিল না? জিনিসটা কি? “ভূহল” যে কি পদার্থ, তৎনির্ণয়ার্থ তিনি কত স্মৃতি, পুরাণ ও তন্ত্রাদি অনুসন্ধান করিয়াছেন, কত শ্লোক উদ্ধৃত করিয়াছেন, কিন্তু স্থির সিদ্ধান্তে উপস্থিত হইতে পারেন নাই । যদি তিনি শ্রীহট্ট অঞ্চলের একটা চাষাকেও ইহা জিজ্ঞাসা করিতেন, তাহা হইলেও জানিতে পারিতেন যে, কেদার অথবা কেয়ার, হল অথবা হাল শব্দে এদেশে অধ্যাপি জমির পরিমাপ করা হয় ।২২ সন্ভত ডাঃ মিত্র অবজ্ঞার সহিত-- কোনরূপ অনুসন্ধান না করিয়াই এই সম্বন্ধে নিজ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছিলেন, নতুবা তৎসদৃশ মহামহোপাধ্যায়ের এই সব সামান্য বিষয়ে ঈদৃশ অমার্জনীয় ভ্রম হওয়া সম্তাবনীয় নহে। শিলালিপি ও তাশ্্পত্রের পাঠোদ্ধার করিয়া গিয়াছেন, এই সামান্য আলোচনায় প্রতিপদে তাহার কেন এত ভ্রান্তি হইয়াছে, ভাবিলে বিস্মিত বলিতে হয়__“মুনিনাঞ্চ মতি ভ্রমঃ।” ২০, "1652 [8195 ৬/৪০ 50৬16181)5 01 20901101 0110 00106095560 10 00 01 10106 012519 01 011918)901)9, 501 0 31)1179 09 1110899, 076 09081000101 এ) 00101011091 01161 -[7)6 101006901125. 4৯. 5. 01 9017091 001 /১008130, 1880. ২১. ২য় ভাগ ৫ম খণ্ড জ-পরিশিষ্টি দ্রষ্টব্য । ২২. পঞ্চম খণ্ড পঞ্চম অধ্যায় দ্রষ্টব্য । তৃতীয় অধ্যায় বৈদেশিক উল্লেখ শ্রীহট্টের প্রাচীনত্্ সম্বন্ধে যাহা বলা হইল, তাহার অতিরিক্ত প্রমাণ আর কি আছে? বলা গিয়াছে যে, পুরাকালে বঙ্গতূমি সাগরগর্ভে ছিল; সাগর-বারি সরিয়া গেলে বঙ্গদেশ ক্রমশঃ যখন ভাসিয়া উঠিয়া মনুষ্য বাসযোগ্য হয়, তাহার পুবর্ব হইতেই এদেশ কামরূপের অধীনে ছিল; এদেশে ভাটেরা প্রভৃতি স্থানে যে সকল প্রাচীন রাজবংশ রাজত্ব করিয়া গিয়াছেন, তাহাদের কীর্তি অনেক পৃবের্বই অতীতের গর্ভে বিলীন হইয়া গিয়াছে। তাহার পর অনেকদিন এ দেশের সংবাদ আর কোথাও জ্ঞাত হওয়া যায় না। মহারাজ চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বের অনেক কথা গ্রীকদূত মিগেস্থিনিস-কথিত বিবরণ হইতে প্রাপ্ত হওয়া যায়। তৎপরবন্তী উলেমী, ভারতবর্ষের অনেক সংবাদ দিয়াছেন। খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে একজন গ্রীকবণিক সামুদ্রিক বাণিজ্য বিস্তার বিষয়ক একখানি গ্রন্থ লিখেন, মেকক্রিপ্েল সাহেব, টলেমী ও উক্ত গ্রীকবণিকের পুস্তক অনুবাদ করিয়াছেন, তাহাতে “কিরাদিয়া” নামক দেশের উল্লেখ আছে। এই কিরাদিয়া বিষ্ণ্পুরাণ বর্ণিত পূর্ব্বদিখর্তী “কিরাতভূমি।” কিরাত ভূমির অবস্থান পুরাকালে “কোপন” নদীর তীরে ছিল, পরে তাহা ত্রিপুরা আখ্যা প্রাপ্ত হয়। অতএব মেকক্রিপ্ডের শ্রীহট্রের পার্শবর্তী কিরাদিয়া সংজ্ঞক উক্ত দেশেরই পরিচয় দিয়া গিয়াছেন। তাহার বিবরণ হইতে জানা যায় যে কিরাদিয়া দেশের সীমাস্থানে একটি মেলা হইত, এঁ মেলায় উত্তর দেশের তেজপত্র আমদানী হইত। চীনদেশবাসীরা রেশমী বন্ত্রের পরিবর্তে তেজপত্র ক্রয় করিত । আরও বর্ণিত আছে যে নুতন দ্রাক্ষাপত্রের ন্যায় পাটি বিস্তার করিয়া দ্রব্যাদি তাহাতে রক্ষা করিত।১ প্রাচীন কিরাত রাজ্যের সীমাস্থলেই শ্রীহট্ট ভূমি । অতএব এ মেলা সম্ভবতঃ শ্রীহট্র ও কিরাত ভূমির লোক লইয়া বসিত এবং শ্রীহট্টের তেজপত্র বহুলরূপে উক্ত মেলায় যাইত বলিয়া জানা যাইতেছে । চীনদেশীয়দের ব্যবহত দ্রাক্ষাপত্রের ন্যায় পাটি সম্ভবতঃ শ্রীহস্টেরই প্রসিদ্ধ শীতল পাটি হইবে, তাহা শ্রীহট্ট হইতেই মেলাস্থলে লইয়া যাইত। এ সময় শ্রীহট্টভূমি প্রকৃত ক্ষীণকলেবরা ছিল, সন্দেহ নাই; এবং এ সমঘেও আধুনিক শাখা বঙ্গের অবস্থা শোচনীয় ছিল। বাঙ্গালার আর্ধ্যনিবাস ইহার পরে দেখিতে পাওয়া যায় যে, খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দী পর্য্যস্ত বঙ্গদেশে আর্ধ্যনিবাস স্থাপিত হয় নাই। মহাত্মা বঙ্কিমচন্দ্র “বঙ্গে ব্রান্মণাধিকার” প্রবন্ধে প্রমাণ করিয়াছেন--“থৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর পূর্ব বা্গলা ব্রাহ্মণশূন্য আর্ধ্যভূমি ছিল । পুর্র্বে কদাচিৎ কোন ব্রাহ্মণ বঙ্গদেশে যদি আসিয়া বাস করিয়া থাকেন, তাহা গণনীয়ের মধ্যে নহে। অষ্টম শতাব্দীর পূর্বের বাঙ্গালায় ব্রাহ্মণ সমাজ ছিল না।”২ ১. 1৮10 /111)061'5 1০1101005 01116 11061107621), 7 148,149. ২. খৃষ্টায় অষ্টম শতাব্দীতে তদ্দেশ ব্রাহ্মণ অধ্যষিত না হইলেও, টলেমীর বিবরণে তাগ্রলিপ্তের বাণিজ্যে বিবরণ প্রাপ্ত হওয়া যায়। মহারা বজ্িচন্ত্রও তৎসময় “গঙ্গারিদে' গঙ্গারাটীর উল্লেখ করিয়া বাঙ্গালার প্রাচীনত্ প্রদর্শন করিয়াছেন। তৃতীয় অধ্যায় : বৈদেশিক উল্লেখ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ১৫৫ ৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে চৈণিক পরিব্রাজক হিউয়েন্থসাঙ্গ ভারতবর্ষে আগমন করেন; তিনি নিজ ভ্রমণ-বৃত্তান্তে এদেশের অবস্থাদি বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। এ সময় যদিও বাঙ্গালা দেশ বহু বিস্তৃত ছিল, তথাপি তখন পর্য্যন্ত ইহার পুরর্বাংশে নিদর্শন বিলুপ্ত হয় নাই। সাগরতীরে শ্রীহট্ট হিউয়েন্থ্‌সাঙ্গ ভারতবর্ষের বিবিধ স্থান পরিভ্রমণান্তর কামরূপাধিপতি ভাঙ্কর বরা কর্তৃক আহুত হইয়া তদীয় রাজ্যে গমন করেন। তিনি লিখিয়াছেন যে, “সমতট হইতেও পূর্বদিকে সাগরপার্থে পর্বত ও উপত্যকার পরস্পরে শিলিচটল দেশে আমরা পইছিয়া ছিলাম ।”8 হিউয়েন্সাঙ্গ এই শিলিচটল অতিক্রম করিয়া পরে কামরূপে গমন করেন? হিউয়েন্সাঙ্গের অপর এক অনুবাদক একথার এরূপ অনুবাদ করিয়াছেন যে, “সমতট দেশের উত্তর পূর্বে মহাসাগরের সন্নিকটবর্তী উপত্যকাভূমে শিলিচটল অবস্থিত।৫ এই শিলিচটলই শ্রীহস্ট। তথকালে যদিও বাঙগলাদেশ বহু বিস্তৃত ছিল, তথাপি তখন পর্য্যন্ত ইহার পূরর্বাংশে সাগরের স্পষ্ট নিদর্শন বিলুপ্ত হয় নাই, তখনও একটি বৃহত্তম হুদ এ সাগরের সাক্ষ্য দিতেছিল; চৈনিক পর্বাজক তন্তীরেই শ্রীহট্ট নগরীর বিদ্যমানতা বর্ণন করিয়াছেন । ত্রিপুরার ইতিহাসে লিখিত হইয়াছে-_“শ্রীহন্ট জিলার দক্ষিণ পশ্চিমাংশ ময়মনসিংহের পৃর্র্বাংশ, ত্রিপুরা জিলার উত্তর পশ্চিমাংশ দর্শনে বোধ হয়, এই স্থানে পৃবের্ব একটা বৃহৎ হুদ ছিল। ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত কর্দম দ্বারা ঢাকা ময়মনসিংহ ও ত্রিপুরার সন্ধিস্থল সমতল ক্ষেত্রে পরিণত হইলে, এই হুদ বিশেষরূপে মানবমগুলির দৃষ্টিপথে পতিত হইয়াছিল। এইজন্যই দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব হিউয়েন্্‌সাঙ্গ শিলহঙ্ট রাজ্যটি সমুদ্রতীরবর্তাঁ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। বরবক্র প্রভৃতি নদীসমূহ এই হুদের মধ্য দিয়া প্রবাহিত হইত। নদী আনীত কর্দমরাশি দ্বারা এই হ্দ ক্রমে ক্রমে শুষ্ক হইয়া অসংখ্য বিল সৃষ্ট হইয়াছে। এই সকল বিলের কান্দি বা উচ্স্থানস্থিত গ্রামগ্ডলি অদ্যাপি সমুদ্রমধ্যস্থিত দ্বীপ বলিয়া বোধ হয়। আনুমানিক শ্রীহট্ট জিলার প্রায় চতুর্থাংশ বিল ও নিম্নভূমি; ইহার সহিত ময়মনসিংহ জিলার পূর্বপ্রান্তস্থিত ও ত্রিপুরা জিলার উত্তর পশ্চিম ্ান্তস্থিত নিম্নভূমি সংযুক্ত করিলে বোধ হয় উল্লিখিত হুদের পরিমাণ ফল দুই সহস্র বর্গমাইল হইতেও অধিক ছিল ।৬ | “অধিক যে ছিল” তাহার সন্দেহ নাই। সুনামগঞ্জ সবডিবিসনের অধিকাংশই জলতলে ছিল। এখনও ইহার নিম্নভূমির পরিমাণ অল্প নহে। পুবের্ব উল্লেখ করা গিয়াছে যে, লাউড় রাজ্য হইতে সদরঘাট পর্য্যন্ত এক খেওয়া ছিল; এর দ্বারা সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের অনেকাংশ যে জলতলে ছিল তাহার প্রমাণ হয়। যাহাহউক যৎকালে নবদ্বীপাদি বিখ্যাত দেশগুলিও অস্তিত্বহীন অবস্থায় ছিল। হিউয়েন্থ্‌সাঙ্গ সেই সমস্ত স্থানের কিছুমাত্র উল্লেখ না করিয়া যে একবারে সাগরতীরবর্তী শিলিচটর বা শ্রীহট্রের উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন ইহা শ্রীহট্রের কম গৌরবের কথা নহে। ৩. হিউয়েন্থসাঙ্গের বর্ণনাতে সমতটরাজ্য কামরূপ হইতে ২৫০ মাইল দক্ষিণে, ইহাতে পূর্র্ববঙ্গই তাহার অভিপ্রেত সমতট বলা যাইতে পারে। 8. 10016 (017) 01015 (58119-1918) 10101) 6850 21016 010 0010015 01 016 562, 2010955 77010191715 2100 %911255 ৮/০ ০0177 (0 0110 ০0101109 01 9181-11-052-09-10 -৩. 35915 116 [1161)001051816 ১. 138. ৫. "06 চা9 01700 15 511-11-0190-08-19 ৬/11101) ০5 91008000 11) 1161 0100 61080 560 (9 1116 10111) 01 90- (902. -[01]10115 11191) 1510176. 111. 82. ৬. শ্রীযুক্ত কৈলাস চন্দ্র সিংহ প্রণীত ব্রিপুরার ইতিহাস ৩য় ভাগ ৩য় অধ্যায় ২৬৮ পৃষ্ঠা । ১৫৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ- প্রথম খণ্ড সাগরের আরও উল্লেখ শরীহত্টের ভাটেরা হইতে যে দুখানা তাত্রফলক আবিষ্কৃত হয়, যাহার বিষয় বিস্তারিতভাবে পৃরর্বাধ্যায়ে কথিত হইয়াছে, অনেকের মতে সে দুখানা তাত্রফলকই খৃষ্টজন্যের পৃরববস্তী । একখানি বিদ্যালয় পাঠ্য পুস্তকে এ বিষয়ে লিখিত হইয়াছে,__ “প্রাচীনকালে এই প্রদেশ হিন্দুরাজ কর্তৃক শাসিত হইত কিন্তু ইহার কোন বিশেষ নিদর্শন অধুনা বর্তমান নাই। এই প্রাচীনতার প্রমাণের এক নিদর্শন ভাটেরার তাম্রফলক। এই দুখানা তাম্রফলক দ্বারা ইহা নিঃসংশয় রূপে প্রমাণিত হইতেছে ১৭ সংবতেরও পুর্ব হইতে শ্রীহট্ট প্রদেশের অন্ততঃ কোন কোন অংশ আর্ধ্য নৃপতি কর্তৃক শাস্তি হইত ।”৭ শ্রীযুক্ত স্বরূপ রায় “শ্রীহট্টের ভূগোলে” এবং মৌলবী মোহাম্মদ আহমদ সাহেব “শ্রীহট্টদর্পণ” পুস্তকে উল্লেখ করিয়াছেন যে, ভাটেরার তাম্রফলকের বয়স “দুই হাজার বৎসর ৷ এই প্রাচীন তাত্রফলকে, কোন একটি স্থানের সীমা নির্দেশ স্থলে “সাগরপশ্চিমে” পদ পাওয়া যায়। প্রত্বতত্তববিদ পঞ্তিত ডাঃ রাজেন্দ্র লাল মিত্র মহাশয় “সাগর” শব্দে 5০৪ (সমুদ্র) অর্থই করিয়াছেন। এতদ্বারাও পুবর্বকথিত সাগরের বিদ্যমানতার প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে। সাগরের নিদর্শন শ্রীহট্টের এ প্রদেশের ভূমির সীমা নির্দেশ স্থুলে প্রাচীন দলিলপত্রে “রত্বাংভরা” বলিয়া লিখিত আছে ও পৃরর্বানুরূপ লিখিত হয়। এই “রত্বাং ভরাং" পদ সাগরভরটের প্রতিশব্দ বা পরিবর্তে ব্যবহ্ৃত। এই প্রদেশে নিম্ন স্থানগুলি অদ্যাপি “রত্বাং ভরাং” বলিয়াই নির্দেশিত হইতেছে। “রত্বাং”" নামে কোন নদী এ অঞ্চলে পূর্বকালে আঁকিয়া বাকিয়া প্রবাহিত হইত, পরে তাহা ভরিয়া জমি হইয়া গিয়াছে এরূপ অনুমান যথার্থ নহে। একটি নদী কদাপি এরূপভাবে কোথাও প্রবাহিত দেখা যায় না। শ্রীহট্রের কথাবার্তায় সংস্কৃত বহুল শব্দ থাকায় সমুদ্বকে রত্ুকার বলিত বিচিত্র নহে,_রত্বাং রত্বাকরেরই সংক্ষেপার্থ সূচক শব্দ। এতৎ প্রমাণ স্বরূপ সুপ্রসিদ্ধ এতিহাসিক হান্টার সাহেবের বাক্য এস্থলে করা যাইতে পারে; তিনি বলেন--"শ্রীহস্টের উত্তর দিগ্বর্তী পব্বতের পাদদেশে সামুদ্রিক শন্দুকের নিদর্শন দৃষ্টে প্রমাণিত হয় যে, অতি পূরর্বকালে এঁ পর্বতের নিম্নে সমুদ্ববারি প্রবাহিত হইত ।”৮ এঁতিহাসিক ভ্রমণকারী হামিল্টন সাহেবও বলেন- পৃবর্ব ও উত্তর দিগ্বত্ী প্রাচীরবৎ পর্ব্বতশ্রেণী দৃষ্টে বোধ হয় যে, পূবর্বকালে তাহার নিম্নে সাগর তরঙ্গ খেলা করিত।৯ অতএব খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে দেশ সাগরতীবর্তী ছিল এবং উল্লেখযোগ্য একটি রাজ্য ছিল; নিঃসংশয় বলা যাইতে পারে । শ্রীহট্টের আর্ধ্য রাজ্য যে সময় হিউয়েস্থ্‌সাঙ্গ শ্রীহট্ট দর্শন করতঃ প্রাগ্জ্যোতিষ বা কামরূপে ভাস্কর বর্মার সভায় গমন করেন, তৎকাল পর্য্যন্ত শ্রীহট্র ও জয়ন্তী কামরূপ রাজ্যের অঙ্গ ছিল। বিলসাহেব বর্ণন ৭. আসাম প্রদেশের বিশেষ বিবরণ-২৪ পৃষ্ঠা । ৮. "16 ০01000071180101) 01 50176 01 0116 58170) 11119015 0110 0116 7015561106 01 17011) 9116115 2৫ 101)6 (001 0 0136 1011)5 21018 0176 10111617) 00017021), 110010806 0001 006 569 10560 01 0106 0856 01 11)6118115 21 ৪ (60105- ০811) 50968101706) ০01701981801561% 15061) [96110৫." -/& 91211911021 /১০০০01015 01 /১5520৮, ৬০1. 11. 7263. ৯. "51011 10 0100 10010) 2110 5251 1900 10001801105 1156 810100)01) 115 4 ৯81] 7110 21010962193 11 21 50116 [17)006 [61104 016 1920 ৮10) 5000৫ 019৩ 50150 01 006 00207. 72951 1170101 0926116015 ৬০].. 11. 7১. 352. তৃতীয় অধ্যায় : বৈদেশিক উল্লেখ শরীহত্রের ইতিবৃত্ত ১৫৭ করিয়াছেনঃ--“পুপ্তবর্ধন হইতে পূর্বাভিমুখে গিয়া ব্রহ্মপুত্র নদের পরপারে কামরূপ (ইহার রাজধানী প্রাগ্জ্যোতিষপুর), রাজ্য, রংপুরের করতোয়া নদী হইতে ইহা পূর্বদিকে বিস্তৃত। মণিপুর কাছাড়, জয়ন্তীয়া, পুর্ব আসাম এবং ময়মনসিংহের কোন কোন অংশ ও শ্রীহট্ট ইহার অন্তর্গত ।”১০ অতএব নিসংশয়িত রূপে বলা যাইতে পারে যে, অতি প্রাচীন কাল হইতে শ্রীহট্র আর্য জাতির শাসনে ছিল। প্রাচীন প্রাগ্জ্যোতিষ পূর্বদেশে যখন অল্প প্রতিভাজ্যোতিঃ বিস্তার করিয়াছিল, তৎসঙ্গে শ্রীহট্র ও সেই প্রজ্জবলৎপ্রভায় প্রকাশিত হইয়াছিল শ্রীহট্র বহু শতাব্দী পর্য্যন্ত যে কামরূপের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাহার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দী কামরূপ রাজ্যের অঙ্গ ছিল৷ তাহা বিদেশীয় ভ্রমণকারীর বর্ণনায় জ্ঞাত হওয়া যায় । শ্রীহট্ট বহুদিন কামরূপের অন্তর্গত -ছিল বলিয়া অগৌরব কিছু নাই, যে কামরূপ যোগিনীতন্ত্রে বারানসীর ন্যায় মাহাত্ম্যময় বলিয়া উল্লেখিত, তদধীনে থাকা অগৌরবকর নহে; ইহাতে “চিরপরাধীন” বলিয়া শ্রীহস্্রের প্রতি বিদ্রুপ করা যাইতে পারে না। নিজ পল্লী, নগর, বা জিলার লোক নহিলেই যদি পরাধীনতা হয়, তবে বহুতর দেশের ভাগ্যই শ্রীহত্টের ন্যায় । বস্তুতঃ তাহা অগৌরবসূচক নহে, কামরূপের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অতি প্রাচীনকাল হইতেই শ্রীহষ্ট আর্ধ্য সভ্যতার ফল ভোগ করিতে পারিয়াছে বলিয়া বরং বিশেষ গৌরবাস্পদ। ১০, "91 0815 £0110 0851৬/010, 01955170 06 0169111৬617, ৬/৩ 08106 (0 01) ০০011101901 160-110-181-00." "18110 (105 091)102] 15 091100 118 010০ [0119015 19161901151)1)801) ০%1০1060 [ি0ছা। 1810-1099 11৬01 111 1২011051001 10 10170 ০%51৮/210.. 1770 16111600117 1700100000 1%1011101, 109011010)1600121, 990504১5507) 018৫ [90115 0 [১1017011517] 014 ১১11101 (911112015-)" 1৮৮10011015 হিটার 5. 36915 17384017151 [০0015 01 010 5. 000101165 ৬০. 11. 1১. 19 চতুর্থ অধ্যায় ব্রিপুর বংশীয় রাজগণ শ্রীহত্্রের প্রাচীনত্ব প্রমাণিত হইলেও বর্তমানে এ জিলা যতদূর বিস্তৃত, পূর্বকালে ভূপরিমাণ ততদূর ছিল না। পুবর্ব ও উত্তর এবং উত্তর পুর্ব ব্যতীত ও পশ্চিম দিক ও দক্ষিণ পশ্চিমদিগস্থ ভূভাগ সাগরগর্ভে ছিল। হিউয়েন্থসাঙ্গ পর্র্বতসঙ্কুল উচ্চাংশাত্রই দর্শন করেন। এ সময়ের পরে শ্রীহট্টের ভূভাগ কিরূপ অবস্থান্তর প্রাপ্ত হয়, কাহারাই বা তখন এদেশে শাসন করিতেন তাহার কিছুমাত্র জানা যায় না। শ্রীহট্টের দক্ষিণাংশ বরবক্র নদের সীমা পর্য্যন্ত দেশ বহুকার ব্রৈপুর রাজবংশীয়ের শাসনাধীন ছিল, প্রমাণ পাওয়া যায়। ত্রিপুর বংশীয় রাজগণের প্রাচীন রাজ্য ত্রিপুরা নহে মহাভারতে সুন্মদেশের উল্লেখ আছে; এই সুন্ষদেশেই প্রাচীন কিরাত রাজ্য । রঘুবংশে কালিদাস এই দেশকে “তালীবন শ্যাম উপকণ্ঠ” বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। ইহাও সমুদ্রের উপকণ্ঠ ছিল এবং শ্রীহট্রের পার্থেই ইহার অবস্থান নিণীতি হইয়াছে । এই দেশ বহুবীলাবধি ব্রৈপুর রাজবংশের শাসনাধীনে। পরে এঁ বংশীয় বিভিন্ন রাজগণের সময়ে রাজ্যবৃদ্ধির সহিত সেই রাজ্যই ত্রিপুরা নামে খ্যাত হয়। কিন্তু প্রাচীনকালে ত্রিপুর বংশীয় রাজগণের রাজ্য বর্তমান ত্রিপুরা জিলায় ছিল না। খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে হিউয়েন্থ্‌সাঙ্গ বর্তমান ত্রিপুরার অন্তর্গত কুমিল্লা দেশকে “কমরাঙ্ষ” নামে পৃথক একটি রাজ্যরূপে বর্ণনা করিয়াছেন । ব্রিপুর বংশীয় রাজগণের রাজধানীর সহিত তথ্কালে ইহার কোন সম্বন্ধ ছিল বলিয়া জানা যায় না। প্রাচীন পৌরাণিক যুগে দ্রুহ্য বংশাবতংস ত্রিপুর১ কিরাতভূমে স্বীয় রাজ ঘাট স্থাপন করেন। প্রাচীনকালাবধি “ফা” উপাধিধারী উক্ত ব্রেপুর রাজবংশীয়গণ পূর্বাঞ্চলীয় বহতর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজা অপেক্ষা ক্ষমতায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তাহাদের রাজধানী পুবর্বকালে, কামরূপের সন্নিকটে “কোপল” নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। সে প্রাচীন রাজ্যের রাজধানীর নাম ব্রিবেগ । পরে কাল সহকারে এই ত্রিবেগ নগরী পরিত্যক্ত হয়, এবং তাহা হইতে বর্তমান কাছাড় ও তৎপরে শ্রীহট্টের ভিন্ন ভিন্ন অংশে রাজধানী স্থাপিত হয়। প্রাচীন রাজমালা গ্রন্থে লিখিত আছে যে ত্রিলোচন-তনয় দক্ষিণ, কোপল বা কপিলা তীরবত্তী রাজপাট পরিত্যাগ পূর্বক বরবক্রতীরে রাজধানী স্থাপন করিয়াছিলেন ।২ ১. ব্রিপুর রাজবংশাবলী, ক-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য । (২য় ভাগ ১ম খণ্ড) ২. কবি শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর কর্তৃক ১৩২৯ শকাব্দে রাজমালা রচিত হয়, তাহাতে লিখিত আছেঃ- “কপিলা নদীর তীরে ছাড়ি দিয়া; একাদশ ভাই মিলি মন্ত্রণা করিয়া, সৈন্য সেনা সমে রাজা স্থানান্তরে গেলা । বরবক্র উজানের খলংসা রহিলা ।"-রাজমালা । চতুর্থ অধ্যায় : ত্রিপুর বংশীয় রাজগণ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ১৫৯ ব্রপুর রাজগণের প্রাচীন রাজধানী বরবক্র উজানস্থ সে প্রাচীন রাজধানী বর্তমান কাছাড় জিলার মধ্যেই অবস্থিত ছিল৷ এই রাজধানীতে তাহারা অধিক দিন ছিলেন না। উক্ত খলংসা রাজধানী মনোমত না হওয়ার ইহাও পরিত্যাগের কল্পনা করা হয়।৩ সম্ভবতঃ ৩/৪ পুরুষ পরে সেই রাজধানীও পরিত্যক্ত হইয়াছিল । ব্রেপুর রাজগণ যজ্জপরায়ণ ছিলেন, মহারাজ তরদক্ষিণ নূতন রাজধানী স্থাপন করিয়া সবর্বদা বজ্ঞাদির অনুষ্ঠান করিতেন 1৪ যে মহারাজ ত্রিপুর হইতে এই বংশীয়ের প্রাধান্য, সেই ব্রিপুর হইতে একষষ্টিতম পর্য্যায়ে৫ শুক্ররায়ের পুত্র প্রতীত রাজা হন। ইহার রাজতৃ সময়ে বরবক্র নদী কাছাড় ও ব্রৈপুর রাজবংশীয়ের রাজ্যের মধ্যসীমা ছিল ।৬ এই সময় ব্রৈপুর রাজগণের বিবরণ শ্রীহট্ট ইতিহাসের অন্তর্ভক্ত হওয়া সঙ্গত। প্রতীতের পুত্র মিরিছিম, তৎপুত্র গগণ, তাহার পুত্র নওরায়, তৎপুত্র বা নবরায় জুজারু ফা (যুদ্ধজয়রাজ বা হিমতিছ) ইনি রাঙ্গামাটী জয় করতঃ এক নূতন রাজবাটী স্থাপন করিয়াছিলেন । তিনি নবদেশ বিজয়ের স্মৃতি রক্ষার্থে আদিপুরুষের নামানুক্রমে ব্রিপুরাব্দের প্রচলন করেন। সম্ভবত; এ সময় হইতে তদীয় নবজিত রাজ্য ত্রিপুরা অভিধা প্রাপ্ত হয়। কিন্তু মাটীতে নৃতন রাজবাটী নির্মিত হইলেও পূর্বরাজধানী পরিত্যক্ত হওয়ার প্রমাণ নাই। ইহার কি তাহার পুত্রের সময়ে সেই রাজধানী কৈলাসহরে হইয়াছিল ৷ কৈলাসহরের প্রাচীন নাম কৈলাড়গড়; মোসলমান এঁতিহাসিকগণ ইহাকে জাজিনগর নামে আখ্যাত করিয়াছেন । ব্রৈপুর রাজগণের রাজধানী শ্রীহস্টরের সমতল ক্ষেত্রেও একস্থানে ছিল না, রাজপাট ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরিবর্তিত হইয়াছিল ।৭ ত্রিপুরার ইতিহাস প্রণেতা বিশিষ্ট প্রমাণ সহকারে লিখিয়াছেনঃ--“শ্রীহস্ট জিলার পূর্ববপ্রান্তস্থিত বিবিধ স্থানে ইহাদের রাজধানী ভগ্রাবশেষ ৩. “না রহিব এথাতে যাইব অন্য স্থান । মন স্থির করে রাজা যাইতে উজান॥”-রাজমালা । ৪. “তরদক্ষিণ নাম রাজা তাহার তনয়। বহুকাল পালে রাজ্য নিতি যজ্ঞময়!”-রাজমালা। ?, ক-পরিশিষ্ট দেখ। ৬. শ্রীযূত কৈলাস চন্দ্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাস ২য় ভাগ ২য় অধ্যায় ২৩ পৃষ্ঠা । ৭. প্রতাপগড় পরগণার বহুদূর দক্ষিণে গবর্ণমেন্ট-রক্ষিত জঙ্গলের প্রান্তে “নগরছড়া” নামক ক্ষুদ্র স্রোতস্বতী তীরে নরবসতি ও অট্টালিকার সামান্য চিহ্ন পরিলক্ষিত হয় । এই সময় এ স্থানে ত্রিপুর বংশীয়গণের রাজধানী ছিল বলিয়া বিবেচনা করা অসঙ্গত হয় না। ইহার একটা প্রাসঙ্গিক প্রমাণও আছে। করিমগঞ্জের নিকটবর্তী চাপঘাট পরগণা পর্য্যন্ত এ রাজ্যের অধিকার তুক্ত ছিল, সেই স্থানে সীমান্ত রক্ষকরূপে এই রাজা থাকিতেন, পরবর্তী (২য় খণ্ড) নবম অধ্যায়ে প্রসঙ্গাধীন তাহার বিষয় উল্লেখিত হইবে। এ প্রদেশে অতি প্রাচীন “পীঠাখাউরীর জাঙ্গাল” নামে এক সড়কের ভগ্রাবশেষ চিহ্ন লক্ষিত হয়, উহার দৈর্ঘ্য উত্তরে দক্ষিণে বহুক্রোশব্যাপী ৷ দক্ষিণ দিকে যথাক্রমে ডৌয়াদি, জাফরগড়, প্রতাপগড় এই তিনটি বিস্তৃত পরগণা ভেদ করিয়া এ জাঙ্গাল জঙ্গলে প্রবেশ করিয়াছে । কত শতাব্দী চলিয়া গিয়াছে, তথাপি যে জাঙ্গালের চিহন একবারে বিলুপ্ত হয় নাই, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরিয়া প্রতি বৎসর চাষের সময় কাটিয়া কাটিয়া ক্ষয় করিলেও এযাবৎ যাহা একবারে বিনষ্ট হয় নাই, তাহা নিশ্চিতই অতি বৃহৎ পথ ছিল এবং তাহা যে কোন রাজকীর্তি তাহার সন্দেহ নাই। পিঠাখাউরী উপনামে আখ্যাতা রাজকন্যার দ্বারা এ জাঙ্গাল প্রস্তুত হয় বলিয়া জনশ্রুতিমুখে শ্রুত হওয়া যাষ। ইহা যে ব্রিপুরবংশীয়দের কীর্তি এবং তাহাদের রাজধানী হইতে সীমান্ত পর্য্যন্ত গিয়াছিল, তাহাতে সন্দেহ নাই। ইটার পরগণার বড়শীজোড়া পাহাড়েও এক প্রাচীন রাজবাটীর ধ্বংশাবশেষ দৃষ্ট হইয়া থাকে। ১৬০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ- প্রথম খণ্ড দৃষ্টিগোচর হইয়া থাকে ।”৮ পূর্ব্বপ্রান্ত হইতে এঁ রাজধানী এক সময় পুণ্যনদী মনুতীরে স্থানান্তরিত হয়, সত্যযুগেও ভগবান মনুপুজিত শিব মনুতীরস্থ কিরাত নগরে আছেন বলিয়া সংস্কৃত রাজমালায় লিখিত আছে।৯ ব্রিপুর রাজগণের রাজধানী বহুকাল কৈলাড়গড়ে ছিল বলিয়া ইহা এক সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হইয়াছিল । কৈলাড়গড় বহুকাল হইতেই শ্রীহট্রের অন্তর্ভুক্ত । বস্তুতঃ প্রাচীনকালে শ্রীহট্টের দক্ষিণাংশ ত্রেপুররাজছত্রের ছায়াতলে অবস্থিত ছিল।১০ বরবক্রের দক্ষিণ তীরবর্তী সমগ্র ভূভাগ তাহাদের অধিকারে ছিল বলিয়া জানা যায়, বস্তুতঃ করিমগঞ্জ সবডিভিসনের অধিকাংশ স্থানই এক রাজবংশের রাজ্যান্তর্গত ছিল ।১১ ব্রিপুর রাজবংশীয়ের এক অতি প্রধান কীর্তি,__পুরর্বাঞ্চলে বৈদিক ব্রা্ষণ আনয়ন করা। ইতিহাস প্রসিদ্ধ আদিশুর (জয়ন্ত)১২ খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর প্রথমভাগে১৩ যজ্ঞসম্পাদনার্থে কান্যকুজ হইতে পঞ্চজন সাগ্নিক আনয়ন করিয়া বঙ্গদেশে ব্রাহ্মণ প্রতিষ্ঠা করেন। এই ঘটনার প্রায় পূর্বে শ্রীহট্টে বৈদিক ব্রাহ্মণগণের আগমন হইয়াছিল বলিয়া কথিত হয়। আদিধর্্পা ও ব্রাহ্মণগণ রাঙ্গামাটী বিজেতার নামোন্রেখ পৃবের্ব করা হইয়াছে, তাহার পুত্রের নাম (জনক ফা বা রাজবন্ত), তৎপুত্র দেবরায় (দেবরাজ বা পার্থ), শিবরায় (বা সেবরায়), তাহার পুত্রের নাম ডুঙ্গুর ফা বা দনকুরু ফা। আর্ধ্য ভাষায় তিনিই আদিধর্্পা নামে কথিত হইয়াছেন। প্রায় তেরশত বৎসর অতীত হইতে চলিল, এই প্রসিদ্ধ নৃপতি পূরর্বপুরুষগণের ন্যায় বৈদিক যজ্ঞ করিতে কৃতসঙ্কল্প হন। কিন্তু সদব্রাক্মণের অভাব এই সদনুষ্ঠানের প্রধান অন্তরায় হইল। সেই সময়ে যখন গৌড়ভূমিতেই ব্রাহ্মণাভাব ছিল, তখন প্রান্তবস্তী কামর পান্তর্গত প্রদেশে ব্রাহ্মণাভাব অসঙ্গত ব্যাপার নহে । বৈদিক সংবাদিনী নামক কুলগ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, মহারাজ আদিধর্মপা১৪ ও স্বীয় মন্ত্রী হইতে জ্ঞাত হইলেন যে মিথিলা দেশ হইতে যজ্জাদি বিশারদ্‌ বিপ্র প্রাপ্ত হওয়া যাইতে পারিবে । ৮. শ্রীযুক্ত কৈলাসচন্দ্র সিংহের ত্রিপুরার ইতিহাস ২য় ভাগ ১ম অধ্যায় ১০ম পৃষ্ঠা। ৯. “পুরাকৃত যুগে রাজন্‌ মনুনা পূজিতঃ শিবঃ। তত্রৈব বিরলে স্থানে মনুনাম নদীতটে । গুপ্ত ভাবেন দেবেশঃ কিরাত নগরে বসৎ।” ১০. "0 50011)0]া) [0010101), 21169050, ৬425 21 (17005 0110061 0 1116. +1711909 01 /55811. 739 11. 15. 4. 02105010200, 50011, 5268, ১১ ( ১) এল ০015 200, 0০ 101116011) 51001৬15101) 56015 10 100৬০ 1১৩0) 11701100011) (11৩11101901 11100. এও 4১550) 101900100082911555 ৬০|. [1. (9911)00) ৩1091- 11- টি, 22, (২) কোন সময়ে ডৌয়াদি পরগণাস্থিত আলতামতী দীঘা এ রাজ্যের উত্তর সীমা ছিল বলিয়া এখনও এ থাকার লোকমুখে শুনা যায়। ৃ ১২. গৌড়াধিপতি জয়ন্ত, কুলাচার্য্গণ কর্তৃক আদিশুর নামে কথিত হইয়াছেন। (তিনি পূর্র্বদেশে প্রথম বীর বা শূর অথবা কীর্তিমন্ত্র ছিলেন বলিয়া এ উপনাম লাত করিয়া থাকিবেন ।) বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ১ম ভাগ ৮৪ ৃ্ঠা দ্রষ্টব্য । ১৩. “বেদবাণাঙ্গ শাকে"-বারেন্দ্রকুলপঞ্জিকা মতে ৬৫৪ শকাব্দ (৭৩২ খৃষ্টাব্দ ।) বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ৮৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য । ১৪. ত্রিপুরার ইতিহাস লেখক শ্রীযুক্ত কৈলাসচন্ত্র সিংহ স্বীয় পুস্তকে ত্রিপুরার রাজবংশাবলী মুদ্রিত করিয়াছেন। বিখ্যাত বিশ্বকোষাভিধানে দ্বিতীয় এক বংশপব্রিক প্রকাশিত হইরাছে। তদ্ধযতীত ব্রিপুরাধিপতি স্বগীয় মহারাজ চতুর্থ অধ্যায় : ত্রিপুর বংশীয় রাজগণ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ১৬১ মিথিলা প্রাটীনকালাবধি প্রসিদ্ধ; এই স্থানেই গৌতমের ন্যায়শান্ত্রের প্রকাশ, এই স্থানেই রাজর্ষি জনকের নিরিরিকল্প কর্মক্ষেত্র ৷ পরবর্তী কালেও মিথিলার নাম এতদ্দেশ হইতে বিলুপ্ত হয় নাই, মিথিলাধিপতি সম্মানিত “পঞ্চগৌড়াধিপ” উপাধির অধিকারী ছিলেন ।১৫ আদিধর্মপা স্বীয় মন্ত্রীর সহিত পরামর্শ ক্রমে মিথিলাধিপতির নিকটে অতি বিনীতভাবে এক পত্র প্রেরণ করিয়া, যজ্ঞার্থে পাচজন ব্রাহ্মণ প্রেরণের অনুরোধ করিলেন। ইতিহাস অনুসন্ধান করিলে দৃষ্ট হইবে যে, মিথিলায় সিংহোপাধিযুক্ত অংশ বহুকাল হইতে শাসনদণ্ড পরিচালনা করিতেছেন। এ সময়ে মিথিলাদেশে বলজদ্র সিংহ নামক নৃপতি রাজত্ত করিতেছিলেন।১৬ তিনি মহারাজ আদিধর্্মপার বিনীত পত্র পাঠে পরিতুষ্ট হইয়া পাঁচজন বেদজ্ঞ বিপ্রকে স্বীয় রাজ্যে গমন করিতে অনুরোধ করেন । কিন্তু কামরপান্তর্গত উক্ত রাজ্য সদাচার বর্জিত দেশ বলিয়া ব্রাহ্মণগণ নিতান্ত কাতর হইলেন, কিরূপে তাহারা সেই কুদেশে গমন করিবেন? অনন্তর তাহারা এ দেশের অবস্থাদি জ্ঞাত হইবার জন্য জনৈক ধীর ব্যক্তিকে অগ্রে তথায় প্রেরণ করিলেন । এ ব্যক্তি মিথিলায় প্রত্যাগত হইয়া জানাইল যে, সে দেশ জঘন্য নহে, তথায় পুণ্যপ্রদ বরবক্র ও মনু প্রভৃতি নদী প্রবাহিত, তথাকার রাজা চন্দ্রবংশসনতুডূত ক্ষত্রিয় এ বিবিধ গুণগ্রাম সমঘ্বিত 1১৭ দূতমুখে তাহারা এদৃত্রাত্ত শ্রবণে তথায় যাইতে প্রস্তুত হইলেন, বরবক্রতীর্থ যাত্রার সংকল্প করত বতস, বাৎস্য, ভরদ্বাজ, কৃষ্াত্রেয় ও পরাপর এই পঞ্চগোত্রোৎপন্ন পাচজন তপন্বী এ দেশে আগমন করিলেন ।১৮ ইহাদের নাম যথাক্রমে শ্রীনন্দ, আনন্দ, গোবিন্দ, শ্রীপতি ও পুরুষোত্তম ছিল,১৯ ইহারা রাজধানীতে উপস্থিত হইলে যথাবিধি যক্জীয় দ্রব্যাদি সংগৃহীত হইল এবং যথাকালে বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুবের সাহায্যে বহরমপুরের পণ্তিত রামনাবায়ণ বিদ্যারতু বহুটীকা সমন্বিত যে শ্রীমস্তাগণের বিতরণ করেন, তাহার ভূমিকা এক রাজ-বংশ-তালিকা প্রকাশিত হইয়াছে । কিন্তু কোন বংশপত্রেই আদিধর্মপা বলিয়া কোন রাজারনাম দৃষ্ট হয় না। ধর্ম্মপাল বলিয়া একজন রাজার নাম পাওয়া যায় বটে, কিন্তু তিনি অতি প্রাচীনতম, (সংস্কৃত রাজমহল মতে তিনি যুধিষ্ঠিরের সমসাময়িক), ত্রিপুর হইতে সপ্তম স্থানীয় । সুতরাং প্রাগুক্ত সময়ের বহু পূর্কবির্তী ৷ বর্তমান মহারাজের ৩৯ পুরুষ পূর্বে ডূঙ্গুরফা নামে এক ক্ষমতাশালী ব্যক্তি রাজা হন, বিশ্বকোষে ইহার নাম দানকুরুফা লিখিত হইয়াছে। বিদ্যারত্ব মহাশয় ব্রেপুর “ডুঙ্গুর” শব্দে “হরি” অর্থ করিয়া, ইহাকে হরিরায় (কোথাও বা শিবরায়) বলিয়াছেন। পশ্চাদুক্ত দানপত্রে এই ডুঙ্গুর শব্দই ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক আর্ধ্যভাষায়া “ধন্ম” এবং “ফা” “পা”তে পরিণত হইয়াছে। তিনি এ অঞ্চলে প্রথমেই ধর্মপালকরূপে আবির্ভীত বলিয়া আদিধর্মপপা নামে কথিত হইয়াছেন, বিচিত্র নহে; কারণ জয়ন্ত নৃপতিও তছৎ আদিশুব নামে কিন্তিত। উভয়েই পঞ্চবান্ধণ আনয়ন করেন, উভয়েই যজ্ঞ কর্মকর্তা এবং উভয়ের নাম আদি শব্দপূর্ব আশ্চর্য্য বটে! কিন্তু উভয়ের মধ্যে একজন প্রসিদ্ধ নাম, আর অপব অপ্ররিচিত, ইহাও অদ্ভুত । যাহাহোক কেবল আদিধর্্পার নাম সম্বন্ধেই যে এইরূপ ঘটিয়াছে, তাহা নহে। ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক ব্রেপুর নাম স্বাধীন ভাবে বিভিন্নরূপ বঙ্গানুবাদিত হইয়াছে। ক-পরিশিষ্টেব বংশপত্রিকায় তাহা দ্রষ্টব্য । ১৫. “পঞ্চ গৌড়াধিপ, রাজা শিবসিংহ, লছিমাদেবী পরমাণ ।” ইত্যাদি বিদ্যাপতির কবিতা । ১৬. বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ২য় ভাগ ৩য় অংশ ১৮৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য । ১৭. বৈদিক সংবাদিনী দ্রষ্টব্য । ১৮. নব্যভারত পত্রিকা ১৮শ খণ্ড ৭ম সংখ্যায় (কার্তিক-১৩০৭ বাংলা) শ্রীযুত দ্বারকা নাথ চৌধুরী বি এ মহাশয় একটি প্রবন্ধে লিখিয়াছেন, “মহারাজ আদিধর্মমপা ৫১ ব্রিপুরাব্দে মিথিলাধিপতি বলভদ্র সিংহকে অনুনয় বিনয় করিয়া পঞ্চগোএীয় পাচতন ব্রাহ্মণ আনয়ন করেন।” ১৯. শ্রীযুক্ত নগেন্দ্রনাথ বসু প্রণীত বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ২য় ভাগ ৩য় অংশ ৮৫ পৃষ্ঠায় এতদ্বিষয়ে বিস্তৃত বিবরণ দষ্টব্য | শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১১ ১৬২ শ্রীহট্রের ই দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড সেই যজ্ঞ সমাপ্ত হইল (৬৪১ খৃষ্টাব্দ) । শ্রীহস্টের অন্তর্গত বর্তমান ভানুগাছ পরগণাধীন মঙ্গলপুর গ্রামই যজ্ঞ সম্পাদনের উপযুক্ত স্থান বলিয়া নিণীতি এবং সেই স্থানেই সঙ্কল্লিত যজ্ঞ নিরর্ব়ে সম্পাদিত হয়। সেই প্রাটানতম যজ্ঞকুণ্ডের পরিচিহ তথায় এখনও পরিলক্ষিত হইয়া থাকে। চৈনিক পর্বাজক ও ভারতসম্রাজ্য প্রাসঙ্গিকরূপে এস্থলে একটা কথা বিবেচ্য । দেখা যাইতেছে যে, আদিধর্মপা একজন প্রসিদ্ধ নৃূপতি। বৈদিক যজ্ঞাদি সম্পাদন ও ব্রাহ্মণ স্থাপনাদি দ্বারা তাহার মাহাত্ম্য প্রকটিত হইতেছে। ঠিক ইহার রাজত্ব সময়েই চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েস্থ্‌সাঙ্গ এদেশে আগমন করেন। তিনি ২৬ বর্ষ বয়সে (৬২৯ খৃষ্টাব্দে) চীন হইতে যাত্রা করিয়া ভারত ভ্রমণাত্তর (৬৪৫ খৃষ্টাব্দে) স্বদেশে যাত্রা করেন। তিনি এই যজ্ঞের বিষয় বর্ণন করেন নাই। খৃষ্টীয় ৬৩৪ অন্দে কান্যকুজাধিপতি প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ নৃপতি শিলাদিত্য, প্রধানতঃ বৌদ্ধধর্মে সাধারণের প্রবৃত্তি জন্মাইবার গৃঢ় উদ্দেশে২০ যে উৎসব করেন,২১ তাহাতে হিউয়েন্থসাঙ্গ উপস্থিত ছিলেন । নলন্দার সঙ্ঘারামে অধ্যয়নে তাহার পাচবৎসর অতীত হয়, তৎপর পাটনা প্রভৃতি স্থান হইয়া বঙ্গদেশে গমন করেন। আদিধর্মপার যজ্ঞ ৬৪১ অবন্দের ঘটনা, এ সময় তিনি মধ্যভারতে কোন স্থানে ছিলেন, বিবেচনা হইতে পারে এবং তাহাতেই তত্কর্তৃক এতত্যজ্ঞ বিবরণ বর্ণিত হয় নাই। কিন্তু যখন তিনি শ্রীহট্টরাজ্যের বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন, তখন ইহার পরে তাহার এই প্রদেশে আগমন করার বিষয় অনুমান করা অসঙ্গত নহে। এ সময়ে ভারত বহুতর খণ্রাজ্যে বিভক্ত ছিল, ভ্রমণকারী এক হিন্দুস্থানেই ৭০টি খণ্ড দর্শন করেন । কান্যকুজ্জাধিপতির উৎসবে, কাণ্যকুজ্জের পশ্চিম ও পুর্ব ১৮ হইতে জন করদ রাজা উপস্থিত হইতেন। (আমাদের পূর্র্বাধ্যায়বর্ণিত তাতত্রফলক [প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব শ্রীযুক্ত নাথ বসু মহাশয়ের নির্দেশ মত] খৃষ্টায় ১০ম শতাব্দীর অনুমান করিলে এই সময় শ্রীহস্টে ব্রপুর রাজবংশ ব্যতীত নবগীবর্বান বংশের বিদ্যমানতা নিরূপিত হওয়ায়, এ দেশেও যে খণ্ড খণ্ড রাজ্য ছিল, তাহা স্বীকার করিতে হয় ।) যাহাহউক, যজ্ঞ সমাপন পূর্বক ব্রান্দণগণ, স্বদেশে গমনোন্খ হইলে মহারাজ আদিধর্মর্কপা (ডুঙ্গুর অথবা দানকুরু ফা২২) পঞ্চ তপস্বীকে সেই স্থানে বাস করিতে কৃতার্জলী পুরর্বক অনুরোধ করিলেন; ব্রাহ্গণগণ রাজার বিনয়ে তুষ্ট হইলেন ও তাহার রাজ্যে বাস করিতে ২০. এঁতিহাসিক স্বগীয়ি রজনীকান্ত গুপ্ত এই উৎসবের বাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বিষয় বর্ণনা করিযাছেন। ধর্ম, নিজ উঁদার্য্য, জন সাধারণের চিত্তের উপর আধিপত্য স্থাপন, দস্যুদিগকে নির্যম করা, রাজস্ব প্রানে প্রজাবৃন্দের প্রবৃত্তি সম্পাদন, ইত্যাদি ব্যতীত হিন্দুবান্দণদিগকে বৌদ্ধধর্মের বিশুদ্ধতা, জ্ঞান ও প্রঙাব প্রদর্শনে আকর্ষণ করাও ইহার অন্তর্নিহিত ছিল । ২১. 1] 070 0101 0)৩17) 101010, 10103911015, 4 191096১13040115110072 51190109&, 1001061 41117190101 4410 (05৭ 4৯19.) 110 56175101700 10601) 00 /5৯000 61 01010) 00001191৮19 51004 00 911001) 00110004011 (৬০ 71001 131001)1১1 061৩১ (১ 61741105 0110 52020115110 0011) 110 0160 0) 2৭10101100601101) 08 [62115 0 (0801018] 01008111011 111 034 4১1) ১1101116115 11011119101 01101601101) 00001)10 01৭10) ৬১7১ 72 ২২. “ফা” শব্দ অনার্াভাষা সমুদ্তুত বলিয়া কথিত হয় । কেহ কেহ বলেন, শ্যান ও ব্রা দেশাখ নরপতিগণ ফা উপাধি ধারণ করিতেন, ফ্রা হইতেই ফার উত্তব । ফ্রা প্রভু পাঠক, ধা অর্থে পিতা । মাসামেখ আহোম নৃপতিগণও ফা উপাধি ধারণ করিতেন । কিন্তু ব্রেপুর রাজবংশায়গণ তৎপূবর্ব হইতে এই উপাধি ধাবণ করিয়া আসিতেছেন। দ্বিতীয় ডুঙ্গুরকাব হইতে এই বংশে উক্ত উপাধি ধারণ পহিত হইয়াছে । চতুর্থ অধ্যায় : ব্রিপুর বংশীয় রাজগণ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১৬৩ স্বীকৃত হইলেন।২৩ তখন মহারাজ অতি আনন্দিত হইয়া তাহাদিগকে নিজ রাজ্ে ব্রহ্ষত্র ভূমিদান কবেন।২৪ এঁ ভূভাগের উত্তর ও পশ্চিমে বক্রগামিণী কুশিয়ারা নদী এবং পুর্ব ও দক্ষিণে যথাক্রমে হাঙ্কলা২৫ কুকিদের বাসস্থান ছিল; টেক্করী২৬ নামক কুকিসম্প্রদায় এ স্থানে জুম চাষ করিত। এ স্থান ব্রাহ্মণগণকে দান করায় কুকিগণ দূর পবর্বতে চলিয়া যায় এবং তাহাদের পরিত্যক্ত স্থানটী পঞ্চব্রান্মণের মধ্যে বিভক্ত হওয়ায় পঞ্চখণ্ড নামে খ্যাত হয়।২৭ বৈদিকদের উপনিবেশ “আসামের বিশেষ বিবরণ” পুস্তিকায় এই বিষয়ে লিখিত আছে, যথা “প্রায় ১৩০০ বর্ষ অতীত হইল, ত্রেপুর ভূপতি আদিধর্মপা কুশিয়ারা নদীর দক্ষিণ ও পৃবর্ব এবং হাকালুকি হাওরের পশ্চিমে কতক ভূমি শ্রীনন্দ, আনন্দ, গোবিন্দ, শ্রীপতি এবং পুরুষোত্তম নামে পাঁচজন ব্রান্মণকে দান করেন। ইহাদিগকে তিনি কোনও যজ্ঞসম্পাদনের জন্য মিথিলা হইতে আনয়ন করিয়া ছিলেন।” এইরূপ ৬৪১ খৃষ্টানদের পরেই ব্রাহ্মণগণ শ্রীহন্টের পঞ্চখণ্ডে উপনিবিষ্ট হন। তাহারা এদেশে বাস করিবার অভিপ্রায়ে আসিয়াছিলেন না, কিন্তু দেববশতঃ এদেশেই যখন তাহাদিগকে বাস করিতে হইল, এবং এদেশকে নিজেদের বাসের ও নির্জনে ধর্মসাধনের উপযোগী স্থান বলিয়া বোধ হইল, তখন তাহারা এদেশে চিরবাসের ব্যবস্থা করার জন্য একবার জন্মভূমে যাইতে ২৩. বৈদিক সংবাদিণী গ্রন্থ ও নব্যভারত পত্রিকা-১৩০৭ বাংলা কার্তিক সংখ্যা দেখ। ২৪. বৈদিক সংবাদিনী ধৃত তাত্রপত্রোৎকীর্ণ শ্রোক এইঃ- “ত্রিপুরা পর্রবতাধীশঃ শ্রীশ্রীযুক্তাদিধর্মপাঃ। সমাজ্ঞং দত্ত পত্রঞ্চ মৈথিলেষু তপস্থিয়ু! শ্রীনন্দানন্দ গোবিন্দ শ্রীপতি পুরুষোত্তমাঃ! প্রতীচ্যামুত্তরস্যাঞ্চ বক্রগা ক্রোশিরা নদী । দক্ষিণস্যাঞ্চ পূরব্বস্যাং হাঙ্কলা কৌকিকাপুরীর এতনুধ্যাং সশস্যা যা টেস্করী কুকিকর্ষিতা। প্রালভ্য দত্ত তড়ুমি স্তেষু পঞ্চ তপন্থিষু!। মকরস্থেরবৌ শুল্কে পক্ষে পঞ্চদশী দিনে । ত্রিপুরা চন্ত্রবাণান্দে প্রদত্তাদত্ত পত্রিকা॥” এই তাত্রপত্র সম্বন্ধে গবর্ণমেন্ট কর্তৃক ১৮৯৭ ৃষ্টান্দে প্রকাশিত "1২০1১011 01107৩ [97555 0 11151011091 [২০0১০০1০]০১ 117 /555017)-" পুস্তকে ১২ পৃষ্ঠায় লিখিত আছেঃ "9 ০ম [1010১ 91111015619 10195 10৬6 06০1) 160901100 09৮ 13900 01715 01101)010 1)95, ৬৬110) 50111 1106 001)105 01 0110 111501119010115- 1170 [19105 11017561৬05, 110৬/6৬০1 গো 1001 (0111160111718 01 [01050111, 01001 1115 (6100 01001 0109 100৬0100601) 1091. 71). ঠি 09810, 1115 5010, 160014১ 9 0100 13110111011, 10111) 01 10)0 1100011001105 01 11])0005 101164 11৬6 ৬16 টয]। [10115 [01], [11011118111 1170 9601 51 01771190015 09." & এবং গেইট সাহেব প্রণীত আসামের ইতিহাসের ২৬৮ পৃষ্ঠায় লিখিত আছেঃ- "117৩ 11)501109010175 01 (৬০ 0101 ০0001-110165 16001400 0116 21011 011010 01 970111101)5. & ২৫. হাঙ্কলা কুকিদের নামানুক্রমে হাকালুকি এই হাওরের নাম হইয়াছে প্রাগুক্ত সময়ের পরে এ স্থান ভূকম্পাদিত হাওরে পরিণত হইয়াছে, বলা যাইতে পারে । হাকালুকি সম্বন্ধে কিংবদন্তী ১ম ভাগে ২য় অধ্যায়ে বলা গিয়াছে। ২৬. ভাটেরার তামরপত্রোক্ত ভাঙ্করটেম্করী শব্জের সহিত সম্বন্ধ আছে কিনা বিবেচ)। ২৭. উক্ত স্থানই বর্তমান পঞ্চখণ্ড পরগণা । ১৬৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড প্রস্তুত হইলেন। বৈদিকসংবাদিণীতে লিখিত আছে যে, তাহারা এইরূপে একবর্ষ এদেশে বাস করার পর স্ব স্ব স্ত্রীপুত্রাদিকে আনয়নের জন্য রাজাভিপ্রায় মতে পুনঃ স্বদেশে গমন করিলেন। এদেশে আসিয়া নিজেদের শাস্ত্রীয় ব্যাপার ও সম্বন্ধাদি বিষয়ে কোনরূপ অসুবিধা ভোগ করিতে না হয়, এই অভিপ্রায়ে প্রত্যাগমন কালে তাহারা স্বসমাজস্থ আরও কতিপয় ব্রাহ্মণকে এদেশে আনয়ন করা আবশ্যক বোধ করিলেন। তাহাদের বিশেষ অনুরোধে অপর পঞ্চগোত্রীয় অর্থাৎ কাত্যায়ন, কাশ্যপ, মৌদগুল্য, স্বর্ণকৌশিক ও গৌতম গোত্রীয় সপরিকর পাচজন দ্বিজ এবং ভূত্যাদি ও নাপিতাদিসহ পঞ্চখণ্ প্রত্যাবর্তন করিলেন ।২৮ বিষ্ণুপুরবাসী শ্রীযুক্ত সতীশ চন্দ্র চৌধুরী আমাদিগকে লিখিয়াছেন যে এঁ সময়ে অপর পঞ্চগোত্রীয় মধ্যে কেহ কেহ আগমন করিয়া থাকিলেও, ইহারা একসময়ে এদেশে আসিয়া বাস একত্র ছিলেন; মৈথিলীয় কুলাচার ও প্রথানুসারে তাহাদের সমস্ত “কর্মকলাপ নিবর্বাহ হইত। সমস্ত বঙ্গদেশে রঘুনন্দন ভষ্টাচার্য্যের স্মৃতি সম্মানিত, সমস্ত বঙ্গদেশ রঘুনন্দনের মতে থাকে । ইহাতেই উপলব্ধি হইবে যে শ্রীহট্টে মৈথিল দ্বিজগণের প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হইয়াছিল এবং কিরূপ বদ্ধমূল হইয়া রহিয়াছে। বিষ্ণুপুরবাসী শ্রীযুক্ত ঈশান চন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ কয়েক জনের মতে সাম্প্রদায়িক বিপ্রগণ কান্যকুজ্বাগত; এই বিতর্কের প্রতিকূলে এ কথাটা প্রবলরূপে দণ্ডায়মান হইতেছে। ২৮. “ততঃ স্বদেশীয় স্বগণ বিরহেণ স্তে ক্রিষ্টাঃ সন্তুঃ পুনঃ স্বদেশং গত্বা অবশিষ্ট পঞ্চ গোত্রীয়ৈস্ত পন্থিতিঃ সমবেতাঃ স্ব স্ব কুটুম্ব পুরোহিত যজমানৈঃ শিষ্য ভূত্য নাপিতাদিভিঃ সহ এতস্মিন্নের পর্চখপ্তাখ্যদেশে- - --- ---বসতিং পরিকল্পা 'ৈথিলতুলাচারতঃ ধর্ম শান্ত্রানুসারতশ্চ নিত্য নেৈেমিত্িক কর্ম কলাপং এতদ্দেশীয়াচরণাপ্রযুক্তং কর্মচ বিধায় স্থিতাঃ স্বগণৈঃ সাম্প্রদায়িক শ্রেণীবদ্ধাঃ স্বচ্ছন্দং প্রতিবাসিতা ।”-বৈদিক সংবাদিণী। এ সম্বন্ধে বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস-লিখিত বিবরণ দ্রষ্টব্য । প্রঞ্থম অধ্যায় শ্রীহন্টে সাম্প্রদায়িকগণ কৈলাসহর ও কাতলের গল্প বর্তমান কৈলাসহর গবর্ণমেন্ট পোষ্ট আফিসাদি সহ শ্রীহট্ট জিলার,দক্ষিণ পূর্ববপ্রান্তে অবস্থিত। এই পরগণা স্বাধীন ত্রিপুরার অধীন। ইহা দীর্ঘে তিন মাইল ও প্রস্থে দুই মাইল বিস্তৃত । গ্রাম-সংখ্যা ৩৬ এবং জনসংখ্যা প্রায় ৬০০০০ মাত্র । কৈলাসহর নগরটিও “বিটিশ” ও স্বাধীন ত্রিপুরার সীমাক্ষেত্রেই অবস্থিত । ত্রিশবৎসর যাবৎ এই সহর স্থাপিত হইয়াছে । কাতলের দীর্ঘা নামক একটি দীর্থিকার চারিপার লইয়াই এই ক্ষুদ্র সহর। এই কাতলের দীঘী সম্পর্কে একটি গল্প আছে। কাতল ও কাকচান্দ নামে দুই ভাই ছিল । কাতলের প্রচুর নগদ টাকা কাকচান্দের গোলাভরা ধান্য ছিল। এক সময় উভয় ভ্রাতা কোনও কার্য্যপলক্ষে বিদেশে গিয়াছিলেন। তখন দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হয়। ধান নাই--নগদ টাকা হাতে থাকা সত্ত্বেও কাতলের স্ত্রীকে উপবাসী থাকিতে হয়। কাতলের স্ত্রী নিরুপায় হইয়া অন্নক্লেশ নিবারণার্থ কাকচান্দের স্ত্রীর অনুগ্রহপার্থিণী হইল, কিন্তু সেই কঠোর প্রাণা রমণী এই অন্নক্লেশ সময় তাহাকে সাহায্য করা দূরে থাক-_বাক্যবাণে জর্জরিত করিল। তদবস্থায় অনশনে তাহার মৃত্যু হয়। কাতল দেশে আসিয়া এই ঘটনা শুনিতে পায় ও শোকে বিহবল হইয়া যে টাকা তাহার স্ত্রীকে রক্ষা করিতে পারিল না, এই দীর্ঘিকায় তাহা নিক্ষেপ করতঃ তাহাতে নিমজ্জিত হইয়া আলৈ অক্পপ্রাণ বিসর্জন করে। কিছুদিন পরে কাকচান্দ বাড়ী আসিয়া এই ঘটনা শ্রবণে ভ্রাতৃশোকে বিহ্বল হয় এবং নিজের গোলাভরা ধান্য সত্বেও এইরূপ শোকাবহ ঘটনা ঘটিল বলিয়া ধান্যগোলা ভাঙ্গিয়া প্রথমেই এই দীর্ঘিকা-জলে সমস্ত ধান্য নিক্ষেপ করিল এবং পরে স্বয়ং ভ্রাতার শোচনীয় পথের অনুসরণ করিয়া স্ত্রীর পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিল। এ গল্পটি এই স্থানে সংযোজিত করিবার উদ্দেশ্য আছে। যখন প্রাচীন কৈলাড়গড় পরিত্যক্ত হয়--যখন ত্রেপুর রাজগণ শ্রীহস্ সীমা হইতে রাজধানী উঠাইয়া লইয়াছেন, এই ঘটনা তৎকালের। ইহাতে জানা যাইতেছে যে, সেই ভীষণ দুর্ভিক্ষেই প্রাচীন সহরটিকে ধ্বংস মুখে পতিত করিয়াছে। প্রাচীন রাজবাটী বর্তমান কৈলাসহর যেখানে, সহর তথায় ছিলনা, কিন্তু কাতলের দীঘী পর্যন্ত ইহা বিস্তৃত ছিল। বর্তমান কৈলাসহরের চারি মাইল উত্তরে প্রাচীন রাজবাটী ছিল, সেই স্থান এখন জঙ্গলাকীর্ণ। পণ্ডিত শ্রীযুক্ত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদ মহাশয় প্রাচীন কৈলাড়গড়ের রাজবাটী সম্বন্ধে [শ্রী শ্রীযুতের কৈলাসহর ভ্রমণ পুস্তিকায়) লিখিয়াছেনঃ_- “এই রাজবাটী প্রাচীন মনুনদীর পৃরর্বতীরে অবস্থিত, অধুনা মনু প্রায় এক মাইল পশ্চিমে সরিয়া গিয়াছে।” ১৬৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড “রাজবাটীর দক্ষিণ ও পূর্বদিকে একটা বিল। এক সময়ে ইহা একটী গন্তীর.হদ ছিল, বেশ বুঝা যায়।” রাজবাটীর দক্ষিণ প্রান্ত হইতে পশ্চিম দিকে বিস্তৃত একটি প্রশস্ত রাজপথ আছে, এই “রাজশড়ক” শ্রীহট্ট জিলায় হাকালুকির হাওর বলিয়া যে একটি প্রসিদ্ধ বিল আছে, উত্তরদিকে এ হাওর পর্য্য্ত বিস্তৃত। রাজশড়ক লংলা পরগণার মধ্যদিয়া উত্তর দিকে গিয়াছে। শ্রীহট্টের ডিছ্রিষ বোর্ড কিয়দংশ মেরামত করিয়াছেন । এ শড়কের পুরবের্ব ডাহিনে ও বামে দুইটি মৃত্স্তূপের বাটীর চিহ্ন আছে, এঁ স্থান “কামান দাগার জান, বলিয়া সাধারণে পরিচিত । রাজবাটীর দক্ষিণ পার্থ পৃবর্বপশ্চিমে বিস্তৃত একটী জলাশয় “রাজার দীঘী” নামে কীর্তিত, উহার জল অদ্যাপিত উৎকৃষ্ট আছে।' বর্তমান কৈলাসহরের ছয় মাইল পূর্বের, প্রাচীন রাজবাটার কিছুদুরে উনকোটি তীর্থ । এইস্থান শ্রীহট্ট অঞ্চলের লোকের একটা তীর্থস্থান । তথায় বহুতর প্রাচীন প্রস্তরমূর্তি সমূহ রহিয়াছে, মূর্তিগুলি দর্শন করিলে বিশ্মিত হইতে হয়। (এই গ্রন্থের ১ম ভাগ ৯ম অধ্যায়ে উনকোটির বিবরণ বর্ণিত হইয়াছে ।) এই উনকোটি তীর্থ দর্শনে শ্রীহত্ট্রের পূর্র্বভাঙ্কর্য্ের প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্রপুর রাজবংশের ইহা একটি কীর্তি । পরবর্তী ত্রেপুর নৃপতিবর্গ পৃর্রবাধ্যায়ে মহারাজ আদিধর্মকৃপার যজ্ঞ বিবরণ বর্ণিত হইয়াছে। তাহার পরে পঞ্চদশ পুরুষ পর্য্যন্ত কোন বিবরণ প্রাপ্ত হওয়া যায় না। বংশপত্রিকা শুলিতে কেবল তাহাদের নামের তালিকা মাত্রই আছে। তাহাতে জানা যায় যে আদিধর্মপা বা ডূঙ্ুরফার পুত্র কিরীট কুরঙ্গফা বা ₹ফা), তৎপুত্র রামচন্দ্র, তাহার দুইপুত্র, জ্যেষ্ঠ নৃসিংহ (সিংহফণি বা ছেংফনাই) রাজা হন। তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় ভ্রাতা ললিত রাওয়ের পুত্র মুকুন্দ ফা তৎপরে রাজ্য প্রাপ্ত হন, মুকুন্দের পুত্র কমল রায়, তৎপুত্র কৃষ্ণদাস, তৎপুব্র যশোফা (যেশোরাজ), ইহার দুইপুত্র,--উদ্ধব (মুচঙ্গ ফা প্রথমে রাজা হন, কনিষ্ঠ সাধুরায় (সাধরায়) পরে সিংহাসন প্রাপ্ত হন। ইহার পুত্র প্রতাপ রায়, তৎপুত্র বিষ্ণুপ্রসাদ, তৎপুত্র বাণেশ্বর, তৎপুত্র সম্রাট, তৎপুত্র চম্প বা চম্পকেশ্বর, তৎপুক্র মেঘরাজ। ইহার পুত্র প্রসিদ্ধ ধর্মধর (সংখ্যাচাগ বা ছেংফাছাগ); এই ধর্ম্বধরই ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক স্বধন্মপা অথবা সুধর্্পা নামে বিখ্যাত হইয়াছেন। ইহার সময় হইতে ব্রেপুর রাজবংশের ধারাবাহিক ইতিহাস প্রাপ্ত হওয়া যায়। নিধিপতি পুবের্ব কৈলাড়গড়ের যে প্রাচীন রাজবাটীর উল্লেখ করা গিয়াছে, ধর্মধর বা স্বধন্্রপার সময়ে এ রাজবাটী যে বিশেষ সৌষ্ঠব বিশিষ্ট ছিল, তাহা বলা বাহুল্য । এ সময়ে বাৎস্য গোত্রীয় নিধিপতি দ্বিজের অভ্যুদয় হয়। নিধিপতি দ্বিজের বিষয়ে দুইটি মত আছে। প্রধান ও সুপরিচিত মত এই যে, নিধিপতি পূর্বোক্ত মিথিলাগত আনন্দের সন্তান। বাৎস্যগোত্রীয় আনন্দের পঞ্চদশ পুরুষ পরে তাহার জন্মে হয়।১ ১. বাৎস্য গোত্রীয় নিধিপতির অনেকগুলি বংশপত্রিকা আমরা সংগ্রহ কনিয়াছি, কিন্তু কোনটীতেই কেহ নিদেপতির উদ্ধতন উক্ত পঞ্চদশ পুরুষের নাম উল্লেখ করিয়া পাঠান নাই; প্রকল তালিকাতেই নিধিপতি হইতে বংশাবলী আরন্ত হইয়াছে । সম্প্রতি কেহ লিখিয়াছেন যে, বৈদিক পুরাবৃত্ত নামক এক খানি পুথিতে এ নামগুলি আছে। পঞ্চম অধ্যায় : শ্রীহত্টে সাম্প্রদায়িকগণ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ১৬৭ মতান্তরে তিনি কান্যকুজাগত ব্রাহ্মণ । এ কথা বলিবার মূলে একটি কবিতা প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহাতে এরূপ লিখিত৪- “বাৎন্য গোত্র যজুবের্বদ কান্ধশাখা নিজ। কশৌজ হইতে আসিলেক নিধিপতি দ্বিজা”২ এই কবিতার উক্তির সহিত সামঞ্জস্য রক্ষা করিয়া বাৎস্য গোত্রীয় শ্রীযুক্ত ঈশানচন্দ্র চৌধুরী আনন্দবাজার পত্রিকায় নিধিপতিকে কান্যকুজাগত বলিয়া লিখিয়াছেন। কিন্তু যদি নিধিপতি আনন্দের সন্তান হন এবং আনন্দ যখন বহুপূর্ধেই এদেশবাসী, তখন উক্ত কবিতার লিখিত “কনৌজ হইতে আসিলেক” এই কথার সার্থকতা থাকে না। এই জন্যই বোধ হয় তদীয় গাতুল্পতর শ্রীমূক্ত সতীশচন্দ্র চৌধুরী লিখিয়া পাঠাইয়াছেনঃ--“বাৎস্য গোত্রীয় আনন্দাচার্ষ্যের ং₹শধর কোনও এক মহাপুরুষ পুনঃ কনৌজ চলিয়া গিয়াছিলেন বলিয়া অনুমান হয়। তৎপর নিধিপতি সেখান হইতে পুনরায় এদেশে আসেন ।”৩ গুড়াভই বাসী শ্রীযুক্ত কৃষ্ণকিশোর চৌধুরীরও এই মত; তবে একটু বিশেষ আছে। তিনি লিখিয়াছেন,__ আনন্দ মিথিলাগত এবং নিধিপতিও তাহার বংশীয় বটেন, কিন্তু তিনি কারণাধীনে কনৌজ চলিয়া গিয়াছিলেন এবং তথা হইতে কারণানুরোধেই মহারাজ স্বধন্্ীপার সদনে পুশরাগমন করেন। যদি নিধিপতি নবাগত না হইয়া, আনন্দের বংশধর হন, তবে এই মতটা কতকাংশে 'শমাচিন নহে কিঃ নিধিপতিই ইটা দেশের স্থাপয়িতা; কথিত আছে, ইটোয়া নামক স্থানে তাহার পৃবর্বনিবাস ছিল এবং সেই নামানুক্রমে তিনি নববসতি স্থানের নাম ইটা রাখেন 1৪ শ্রীযুক্ত সতীশচন্দ্র চৌধুরী লিখিয়াছেন, মিথিলায় ইটা বা ইটোয়া নামে কোন জিলা বা ভূখণ্ড আছে বলিয়া কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। ইটা এবং ইটোয়, এই উভয় জিলা আধুনিক যুক্তপ্রদেশের অন্তর্গত আগরা বিভাগে ।” এখন বিবেচ্য এইঃ- ১. মিথিলায় আনন্দের বাসগ্রাম ইটোয়ায় ছিল কি না? ২. পুর্র্বে যে জিলায় নিধিপতির বাস ছিল, তৎনামানুসারে তিনি যে ইটা নাম রাখেন, তাহা অবিশ্বাস করিবার হেতু আছে কি না? ৩. কেহ কোন গ্রামের নাম কোন জিলার স্মরণে রাখিয়া থাকে কি না এরপ প্রমাণ আছে কি না? ৪. ইটা বা ইটোয়া নামে কোন নগর কি গ্রাম কখন মিথিলাপ্রদেশে ছিল না। এবং তাহার প্রমাণ সংগ্রহে কি উপযুক্ত চেষ্টা হইয়াছে? ৫. এ সকল প্রশ্রের সদুত্তর নহিলে নিধিপতিকে কান্যকুজাগত বলা যাইতে পারে কি না? ২. এই কবিতা মজ£ঃফর নামক জনৈক মোসলমান সাত পুরুষ পূরর্বসময়ে রচনা করেন। তদ্িবরণ পশ্চাৎ উক্ত হইবে। ৩ হৃহারা নিজ কথার প্রমাণ স্বরূপ বলেন যে বৈদিক পুরাবৃত্ত নামক কুলগ্রস্থে পঞ্চগোত্রীয় দ্বিজগণকে কান্যকুজাগত বলিয়া লিখিত আছে। ইহারা এই গ্রন্থে প্রামাণ্য স্বীকার করেন, কিন্তু সাম্প্রদায়িকেরই অপব সম্প্রদায় এই গ্রন্থের প্রামাণ্য ও অস্তি-স্তব বিশ্বাস করেন না। ॥ কেহ কেহ বলেন যে ইটোয়া হইতে ইটা নহে, দ্বিজগণ নির্দেশার্থ উচ্চভূমে দণ্ডায়মান হইয়া ইটা (ডেলা) নিক্ষেপ কবিয়াছিলেন বলিয়া পরে তাহা ইটাদেশ বলিয়া আখ্যাত হয়। ১৬৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড ধর্মধর বা স্বধর্মপার যজ্ঞ খৃষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে ধর্মধর (স্বধর্মপা বা ছেংফাচাগ) কৈলাড়গড়ের রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাহার রাজত্বকালে বাৎস্য গোত্রীয় নিধিপতি তদীয় সভায় আগমন করেন। এঁ সময়ে পশ্চিমে নানা উপদ্রব উপস্থিত হওয়ায় তিনি পূর্রবঞ্চলীয় এই ক্ষমতাশালী রাজার আশ্রয়ে থাকিয়া শান্তিতে স্বধর্ম প্রতিপালন পূর্বক বাস করিতে পারিবেন, এই কল্পনায় এদেশে আসিয়া থাকিবেন। মহারাজ ধর্মধর বা স্বধন্মপা নিধিপতির সদগুণে সত্রেই তুষ্ট হন। তীহারই উপদেশে সম্ভবতঃ তিনি এই সময়ে, পুর্রবপুরুষগণের ন্যায় বিশেষ আড়ম্বর সহকারে একটি বৈদিক যজ্ঞ সম্পাদন করেন। নিধিপতি যে কেবল শান্ত্রজ্ঞ মাত্র ছিলেন, তাহা নহে, তাহার অনেক অলৌকিক শক্তি ছিল বলিয়া কথিত আছে ।৫ যজ্ঞ সম্পাদনে তাহার অসাধারণ কৃতিত্‌ প্রকটিত হয়, তাহাতেই স্বধর্্পা যজ্ঞান্তে তাহাকে এক বিশাল জনপদ ব্রহ্ষত্র স্বরূপ দান করেন। ইহা তৎকালে মনুকুল প্রদেশ নামে কথিত হইত । বর্তমান ইন্দানগর, ইন্দেশ্বর, ছয়চিরি, ভানুগাছ, বরমচাল, চৌয়ালিশ, সাতগাও ও বালিশিরা, এই কয়েকটি পরগণা এ মনুকুল প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্বধন্মপার৬ এই যজ্ঞস্থান কৈলাড়গড়ের রাজবাটীর জঙ্গলাকীর্ণ প্রদেশে অদ্যাপি দৃষ্ট হয়। অদ্যাপি লোকে ইহাকে “হোমেরগাত” বলিয়া পরিচিত করে । পণ্ডিত শ্রীযুক্ত চন্দ্রোদয় ৫. শ্রীযুক্ত সতীশচন্দ্র চৌধুরী আমাদিগকে পূর্বোক্ত প্রাচীন কবিতাব যে অংশ পাঠাইয়াছেন তাহাতেও নিধিপতির অলৌকিক ক্ষমতার কথা-অলৌকিকতাবে যজ্ঞ সম্পাদনের কথা পাওয়া যায়, তাহাঙ্ছে লিখিত-_ “অগ্নি হোত্রী মহাশয় নাম নিধিপতি। মুখ দ্বারা অগ্নি আনি দিলেন আহুতি]” ৬. বৈদিকসংবাদিনী ধৃত উপবোক্ত ভূমি দানের (তাম্রপব্রোৎকীর্ণ) শ্রোক এইঃ- “ত্রিপুরা পর্বতাধীশঃ শ্রীশ্রীযুক্ত স্বথন্্ম পাঃ। সমাজ্ঞং দত্তপত্রঞ্চ মৈথিলায় তপস্বিনে॥ (১) শ্রীনিধিপতি বিপ্রায় বাৎস্য গোত্রায় ধর্মিণে। প্রাচ্যাং লংলাই [২] কুকিস্থানং প্রতিচ্যাং গোপলা নদী? [৩] চন্দ্রসিংহ ব্রিপুরস্য দক্ষিণস্যামরণ্যকং। [8] ক্রোশিরানদ্যত্তরস্যাং প্রাগদত্তস্থানমেবহি॥1৫] এতন্মধ্যা সশস্যা যা মনুকুল প্রদেশিনী । সপি প্রদত্তা তশ্মৈতৎ বৈদিকায় তপস্বিনে! শুল্ক পক্ষে তৃতীয়ায়াং দিনে নেষগতে রবৌ। চতুঃষষ্ঠী শতাব্দেতু ব্রৈপুরে দত্ত পত্রিকা”॥ [৬| [১] “মৈথিলায়” শব্দ থাকায় নিধিপতি যে মিথিলাগত আনন্দের সন্তান, তাহা বলা যাইতে পারে কি? এই দান পত্র দ্বারা স্থানগত প্রশ্নের মীমাংসা হইতেছে কি? [২] ইহাদের নামানুসারে লংলা পরগণার নাম হইয়াছে । [৩] এই নদী সাতগাও ও শমশেরগঞ্জের নিকট দিয় বরাকে পড়িয়াছে। [৬] এই অরণ্যই বর্তমান কমলপুর। [৫] ক্রোশিরাই কুশিয়ারা নদী বা বরাক। [৬] চতৃযষ্তীশতাব্দ অর্থে ৬৪০০ অব্দ, কিন্তু তাহা নহে। “চতু "558, “যষ্টী”-৬০, চতুরধিক ষষ্টী অর্থ ধরিয়। এবং “অস্কস্য বামাগতি” অনুসারে ৬০৪ অব্দ হয় শ্রীযুক্ত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদ মহাশয় “চতুষষ্টা” পাঠ করিয়া ১৬৪ অব্দ লিখিয়াছেন। পঞ্চম অধ্যায় : শ্রীহত্টে সাম্প্রদায়িকগণ শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ১৬৯ বিদ্যাবিনোদ লিখিয়াছেন,_ উক্ত (হোমের গাত) স্থানটি দীর্ঘে এবং প্রস্থে ১৬ হাত করিয়া হইবে । প্রায় ভরাট হইয়া গিয়াছে। তথাপি কোনকালে সেখানে যে একটা ছিল, প্রান্ত ভাগের উচ্চতা দেখিয়া তাহা অনুমিত হয় ।” “হোমেরগাত কথাটি শুনিয়া ব্রিপুররাজদত্ত দুইখানি সনন্দের কথা আমার ম্মরণ হইল ।” “এই সনন্দের উল্লিখিত ভূমিদান, প্রচলিত আখ্যায়িকা ও রাজবাড়ীর অবস্থানের বিষয় আলোচনা করিলে মনে হয়ঃ ১. এই রাজবাড়ী মহারাজ ধর্মপালের (ধর্মপা) সময় বর্তমান ছিল। ২. এই বাড়ীতেই আখ্যায়িকা কথিত যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হইয়াছিল । ৩. মহারাজ সুধর্মপাও এই বাড়ীতে থাকিয়াই রাজত্ব করিয়াছিলেন ।” “হোমকুণ্ডের দ্বারা এ স্থানে যক্ঞানুষ্ঠানের কথা নিঃসংশয় রূপে প্রমাণ হয় ।”৭ (“শ্রীশ্রীযুতের কৈলাসহর ভ্রমণ,”__-৩৪ পৃষ্ঠা ।) ধীমান নিধিপতি, ধর্মধর হইতে খৃষ্ীয় ১১৯৪ অন্দে (৬০৪ ব্রিপুরাব্দে) এই ভূমিখণ্ড লাভ করেন।৮ এইরূপে তিনি বিস্তৃত ভূখণ্ড প্রাপ্ত হওয়ায় প্রবল পরাক্রান্ত হইয়া উঠেন। অতঃপর ৭. ত্রিপুরার ইতিহাসের বংশপত্র লিখিত ছেংপাচাগ, বিশ্বকোষে সংখ্যাচাগ এবং বিদ্যারত্ব প্রকাশিত বংশাবলীতে ধর্মধর ও দানপত্রে স্বধর্মপা বলিয়া লিখিত । রাজমালা মতে ত্রিপুর হইতে সপ্তম স্থানীয় মহারাজ ধর্্মপালের পুত্রের নাম সুধর্ম। অনেকে সেই ধর্মপাল ও ধর্মকে ঘক্ঞানুষ্ঠানকারী এবং এই ১ম ও ২য় দানপত্র প্রদাতা মনে করেন। আসামের ইতিহাস প্রণেতা গেইট সাহেব ও পপ্তিত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদ, উভযেই উক্ত নামে ভ্রমে পতিত হইয়াছেন। বলিয়াছি যে, সংস্কৃত রাজমালা মতে (যুরিষ্ঠিরের সমসাময়িক) রাজা ত্রিপুর হইতে তাহারা সপ্তম ও অষ্টম বংশীয, সুতরাং অতি প্রাচীনকালের নৃপতি । [সুতরাং সেই ধর্মপাল কিরূপে ৫১ ব্রিপুরাব্দের দানপত্রোল্লিখিত ভূমিদান করিতে পারেন?] যাহা হউক , শ্রীযুক্ত চন্্রোদয় বিদ্যাবিনোদ মহাশয় এই উভয় দানপত্রের [অর্থাৎ তাহার মতে পিতা পুত্রের] সময়ের সামঞ্জস্য বিধান জন্য প্রথম দান পত্রে “ত্রিপুরা চন্দ্র বানাজে” পাঠ হইবে বলিয়া অনুমান করিয়াছেন। পূর্বোক্ত ধর্মপাল তনয় সুধর্ম নৃপতি বর্তমান মহারাজ হইতে ১০৫ পুরুষ উর্; [সুতরাং “বানাজে” পাঠ কল্পনায়ও সময়ের মীমাংসা হইতেছে না,] এদিকে নিধিপতি হইতে তছংশে ২৩।২৪ পুরুষ চলিতেছে । বর্তমান মহারাজ বাহাদুর হইতে ২৩ পুরুষউর্ধে আমরা ধর্মধরকে সিংহাসনাধিষ্ঠিত দেখিতে পাই; অতএব নিঃসংশয়ে তাহাকেই যজ্ঞকর্তী ও নিধিপতির আশ্রয়দাতা বলা যাইতে পারে। দ্বিতীয়তঃ-“হোমের গাত।” ইহা আদিধর্্পার যজ্ঞকুণ্ডের স্থান নহে। পুবের্ব বলা গিয়াছে যে সেম্থান ভানুগাছ পরগণার মঙ্গলপুরে অবস্থিত ৷ এই কুণ্ডের স্থানে স্বধন্মাপা [সুধর্মপা, ধর্মধর বা ছেংপাচাগ] যে যজ্ঞানুষ্ঠান করেন, তাহার সন্দেহ নাই। একই যজ্কুণ্ডে দুইজন নৃপতি যজ্ঞ করেন নাই। যজ্ঞকর্তা দুইজন, যজ্ঞস্থানও দুইটি পাওয়া যাইতেছে । কাজেই অধিক প্রাটীনটি প্রথম এবং দ্বিতীয়টা, দ্বিতীয় যজ্ঞস্থান, সুসিদ্ধান্ত ইহাই বটে। ৮.৮] 1195 /১. 1). 2 311)া107) 11017100 10111108101, ৬10 495 055001060 ি0োযা। 0170 01 0110 110 01187101 17110110115 (1011 1€91108], 16০61৮০0 2 819101 0110100 11) ৮/1121 15 110৬ 1010৮) 29 (116 118 [১0190891110 01) [17০11100701 161105- -/5500) [)1510101 09720000615, 01191). 1]. (১১11101) 2. 22. এই তারিখটা শুদ্ধ নহে-এক বৎসর পশ্চাদর্তী করা হইয়াছে। এবং নিধিপতি কনৌজাগত হইলেও পঞ্চ তপন্থী যে কনৌজাগত নহেন, তাহার প্রমাণ দেওয়া হইয়াছে । গেজেটীয়ার গ্রন্থের রচয়িতা ফুটনোটে লিখিয়াছেন যে বাবু দ্বারকা নাথ চৌধুরী হইতে এই বৃত্তান্ত জানিয়েছেন, কিন্তু চৌধুরী মহাশয়ের মত আমরা পূর্রবাধ্যায়ে উদ্ধৃত করিয়াছি, সুতরাং ইহা গেজেটীয়ার রচয়িতার আকৃত ভ্রম বই বিচেনা করা যাইতে পারে না। এতিহাসিক হান্টার সাহেব তাহার 91901511081 /০০90115 ০01 4১55 গ্রন্থে শ্রীহট্টরের বিবরণে লিখিয়াছেন যে “থৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দীতে কোন কোন ভ্রাহ্ষণ বল্লালী কৌলীন্য প্রথার জ্ালায় পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করিয়া শ্রীহত্্রের আগমন করেন।” এই সময়ে কেহ কেহ আসিয়া থাকিলেও, তাহারা শ্রীহত্টে সাম্প্রদায়িকগণের প্রতিপত্তি দর্শনে ও তাহাদের সংশ্রবে তৎসমাজভুক্ত হইয়াছেন। ১৭০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড নধিপতি নিজ ব্রহ্ষত্রপ্রাপ্ত ভূভাগে বাস করিতে ইচ্ছা করিয়া, পঞ্চখণ্ড বাসী বৎস, বাৎস্যাদি অপবাপর বিপ্রবর্গকে তথায় বাসবাটা প্রস্তুত করিতে অনুরোধ কধিলেন । অনেকেই তদনুরোধে সম্মত হইলেন, ইহাতে নিধিপতি অত্যন্ত তুষ্ট হইয়া, তাহাদের সহিত স্বয়ং তথায় বাড়ী প্রস্তুত করিলেন । পৃবের্ব কথিত হইয়াছে, যে নিধিপতি ইটোরা নাম স্থানের অধিবাসী ছিলেন, জন্ভুমির নামানুত্র'মে তিনি নববসতি স্থানের “ইটা” নাম রাখেন। একস্থানে আমলকী কানন ছিণ, স্থানীয় ভাষায় এ স্থান -এওলাতলি” নামে কথিত হইত, সেই আমলকী বনবেষ্টিত সুরমা স্থানে তিনি নিজ বাসবাটা নির্মাণ করিলেন। কথিত আছে, বাৎস্য গোত্রীয় বিদ্যাবিনোদ নামীয় জনৈক তপস্বী তাহার পুরোহিত ছিলেন. তাহাকেও তিনি স্বায় নবাধিকৃত ইটা দেশে লইয়া গিয়া ছিলেন । নিধিপতিব প্রযতে পঞ্চখণ্ড হইতে বহুতর দশগোত্রীয় প্রধান দ্বিজ সেই সময় ইটায় গিয়া বাস করেন, ইহাতে অচিরকাল মধ্যে ইটা সৌষ্টবশালী জনপদে পরিণত হয়। এই সময় হইতে সাম্প্রদায়িক ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের বিশেষ প্রতিপন্তি হয়। দেশের মধ্যে তাহারা গুণে. ধনে ও জনে সর্পপ্রকারেই ক্ষমতাশালী হইয়া উঠেন । নিধিপতি যে ৬ভাগ দান প্রাপ্ত হন, তাহা এক সুবিস্তঙ জমিদারী, সুতরাং নিধিপতি হইতে হটায় একটি ক্ষুদ্র রাজ্যের সুত্রপাত হয়। বলিতে গেলে হটা রাঞ্জোর প্রতিষ্ঠা খু্টায় দশ শতাব্দা হইতে আরন্ত। একজন ধিদেশাগও ব্রাহ্গণ ওধু নিজ গুণগৌরণে, জান ও ধর্মের প্রভাবে এইরূপ একটি হিন্দুরাজ্যের প্রতিষ্ঠা করিয়। গিয়াছিলেন। নিধিপতির পুত্র ভধর, ভৎপুত্র কন্দর্প। পর শতান্দীতে ইহারা, ব্ৈপুর বংশের আশ্রিতভাবে সুখে শান্তিতে ইটা রাজ্য শাসন করিয়া গিয়াছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ের টীকা চতুর্থ ও পঞ্চ* অধ্যায়ে যে বিষয় কথিত হইয়াছে, তদ্বিষয়ে কয়েকটা আলোচ্য কথা আছে ব্রেপুর নৃপতি মিথিলা হইতে পাঁচজন ব্রাঙ্গণ আনিয়া যজ্ঞ করিয়াছিলেন, ইহা ঠিক হইতে পারে,_এবং যখন যঙ্ঞকুণ্ণ অধুনাও বর্তমান আছে, তখন এই ব্যাপার অমূলক হইবার কথা নহে। তাত্রপত্র দ্বারা এঁ পাচজন ব্াহ্মণকে ভূমিদানপুবর্বক তীহাদিগকে স্বীয় রাজ্যমধ্যে স্থাপিও করাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কিন্তু তাম্ুফলকদ্বয়ের যে প্রতিলিপি বৈদিকসংবাদিনীর রচয়িতা তদীয় গ্রন্থে প্রকাশিত করিয়াছেন, তাহার মৌলিকত্ে গভীর দান্দেহ হয়। তাহার কারণগুলি একে একে ব্বিত করা হইতেছে। ১. তাঞজ্জফলকের ভাষা । যে প্রদেশে কয়েক শতান্দী পুবের্ব (বা সমকালে) শ্বীমাধবোদাসকুলাবতংসঃ” তোম্রফলকের) কবিতার সুনিপুণ লেখক শ্রেষ্ঠকবিজনোচিত ঝঙ্কার প্রদর্শন করিয়াছিলেন, সেই স্থানে পাচজন মহামহিম ব্রাঞ্গণকে ভূমিদান করিবার কালে “সমাজ্ঞং দত্তপত্রঞ্চ” “প্রালভ্য দ্তা তদ্ভুমিঃ” “প্রদত্তা দত্ত পাত্রকা” এইরূপ ভাষায় অনুষ্টু পছন্দে মাত্র পটু (?) কেবল কাজের কথা টুকু কষ্টে সৃষ্টে ছন্দোবন্ধকারী একজন লোক ভিন্ন তাত্রশাসন লিখিবার আর কাহাকেও পাওয়া গেল না। ২. দুই তাম্্লকের ভাষার সমতৃ । দুইখানি তাতত্ফলকের তারিখের সার্ঘ পঞ্চশত বৎসরের পার্থক্য থাকিলেও দুইখানি যেন একই ছাচে লিখিত । সেই "ত্রিপুরা পর্ধতাধীশং শ্রীশ্ীযুক্ত,” সেই “সমাজ্ঞংদত্ত পত্রঞ্চ” প্রভাতি উভয়েই বর্তমান। তখন ছাপার ফারম অবশ্যই ছিল না, থাকিলেও শাসন পত্রে ব্যবহৃত হওয়ার কথা শুনা যায় নাই । একই ব্যক্তি এক সঙ্গে পঞ্চম অধ্যায় : শ্রীহট্টে সাম্প্রদায়িকগণ শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ১৭১ দুইখানি রচনা করিয়াছেন, এই মাত্রই সূচিত হয়। ৩. “আদিধর্মপার” আইদ এই বিশেষণ টুকুর অর্থ কি? মনে করুন ইংলগ্ডে প্রথম উইলিয়মকে কোনও আদেশ পত্র জারি করিতে হইবে । তখনও আর দ্বিতীয় উইলিয়মের উদ্ভব হয় নাই যে তাহাকে “প্রথম” এই বিশেষ গ্রহণ করিতে হইবে । সুতরাং তিনি কেবল “উইলিয়ম” এই লিখিবেন। দ্বিতীয় উইলিয়মের আবির্ভাবের পরবর্তী এতিহাসিকগণই কেবল তাহার কথা বলিতে গিয়া “প্রথম উইলিয়ম” এইরূপ লিখিবেন। ৪. “শ্রীশ্রীযুত” এই বিশেষণ আজকাল ত্রিপুরার রাজ সরকারের কাগজ পত্রে ব্যবহার হয়; বহুপুবের্বে এইরূপ ভাষা ছিল না। ৫. পঞ্ডিত শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর শ্রীহট্ট দেশীয় ছিলেন। তাহারা রাজমালা রচনা করিয়া গিয়াছেন। তাহাতে এই যজ্ঞ কাহিনী, শ্রীহন্্রের সাম্প্রদায়িক ব্রাহ্মণস্থাপন, ব্রহ্গত্র দান সম্বন্ধে কোন উল্লেখ নাই । অথচ রাজমালায় আদি ধর্মপার বহু পূবের্বের সময় হইতে বিবরণ লিপিবদ্ধ হহয়াছে। ৬. ত্রেপুর শালের উল্লেখে প্রাচীন তাত্্রশাসনে রহিল, অথচ তাহার বহু পশ্চাৎ সময়ে ত্রিপুরার শাসনে শকাব্দের ব্যবহার দেখা যায়। দানপত্রের প্রতিকূলে এই সকল আপত্তি করা যাইতে পারে। সমগ্র বৈদিক সংবাদিনীতে এইরূপ অনেক আপত্তিজনক কথা স্থান পাইয়াছে, তন্মধ্যে শাকুনিক যজ্ঞ উল্লেখযোগ্য । ৭. শ্যামল বর্ধা নামক প্রসিদ্ধ নৃপতি কর্তৃক ঠিক অপর এক স্থানেও নিবন্ধন যজ্ঞকর্ম কাহিনী ও ব্রাহ্মণ আনয়নের উল্লেখ দেখা যায় । তদনুকরণে যজ্ঞ এবং “আদি” শূরের অনুকরণে “আদি” ধর্মপার দ্বারা ব্রাহ্মণ আনয়ন ব্যাপারটা কল্পিত বলিয়া বোধ হয় নাকি? এই সকল প্রশ্ন উ্থিত হওয়া স্বাভাবিক, এই জন্যই এগুলির উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করিলাম । আমাদের বিবেচনায় যজ্ঞ ও ভূদানাদি যথার্থ হইলেও দানপত্রগুলি বহুপুর্ধেই বিলুপ্ত হইয়া যায়। বিবরণটা প্রসিদ্ধ, অনেকেই জ্ঞাত ছিলেন, এবং তাহাই অবলম্বনে সাম্প্রদায়িক ব্রাহ্মণ বংশীয় এক ব্যক্তি (শ্যামসুন্দর ভট্টাচার্য্য) ইদানীং বৈদিক-সংবাদিনী রচনা করিয়া যতটা কিংবদন্তী সহায়তাতে পারেন, ততটা ইতিহাসরূপে নিবদ্ধ করিয়াছেন। তাত্রফলক একটা কি দুইটা ব্রেপুর নৃূপতি দিয়াছিলেন,_-ইহা ঠিক হইতে পারে, যজ্ঞকুপ্ডের অস্তিত্বে যজ্ঞ ব্যাপারও অমূলক নহে, ইহাই সূচিত হয় । তবে তাম্রশাসনের প্রতিলিপি না পাইয়া বৈদিকসংবাদিনীকার নিজ ভাষায় উহার বিবরণ যতটা শুনিয়াছেন, ততটা স্বশক্তি অনুসারে পদ্যে রচনা করিয়াছেন । “কথায়াং সরসং বস্তু গদ্যৈরব বিনিম্থিতিম্” ইহা অলঙ্কার শান্ত্রের সম্মত। সুতরাং গদ্য রচনার মধ্যে এই পদ্য সন্নিবেশ অসঙ্গত হয় না। এইটা সুতরাং তাম্রলিপির অবিকল নকল নহে-_তাহাদের কথা জনশ্রুতি দ্বারা যেরূপ প্রচলিত হইয়া আসিতেছিল, তন্মধ্যে পদ্যে প্রকাশিত হইয়াছে মাত্র । এই জন্যই “শ্রী শীযুক্তাদিধর্্মপা” আধুনিকোচিত ভাব ও ভাষায় লিখিত হইয়াছে। যজ্ঞ হইয়াছিল, ইহা ঠিক; কিন্তু কি জন্য হইয়াছিল, এতকাল পরে স্মরণ না হওয়াতে অপর স্থানের তাদৃশ ঘটনার ছায়াপাত হওয়া অস্বাভিক নহে। শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর ১৪০৭ খৃষ্টাব্দে রাজমালা রচনা করেন, ইহারা যজ্ঞকালের বহুপরবস্তীঁ- আধুনিক লোক এবং বোধ হয় সাম্প্রদায়িক শ্রেণীর নহেন; তাই এই বিষয়টা ভুল করিয়াছেন বলিয়া অনুমান করা যাইতে পারে। ১৭২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড এতিহাসিকের কর্তব্য বড় গুরুতর । কোনও কথা চাপিয়া না রাখিয়া যথাশক্তি আন্দোলন করাই সঙ্গত। এই জন্যই সাম্প্রদায়িকাগমন সম্বন্ধে এস্থলে আরও কিঞ্চিৎ আলোচনা করা যাইতেছে। সাম্প্রদায়িক ব্রা্মণবর্গের মধ্যে এক শ্রেণীর মত এই যে আদিধর্ঘ্পা আদিশুরের মতই কান্যকুজ হইতে পাচজন ব্রাহ্মণ আনয়ন করেন, তাহারা তাহাদেরই বংশধর । নিজ কথার প্রমাণ স্বরূপ তাহারা বৈদিক পুরাবৃত্ত নামক এক গ্রন্থের উল্লেখ করেন। বৈদিক পুরাবৃত্তের অস্তিত্‌ সম্বন্ধে অনেকেই সন্দিহান আছেন; এই গ্রন্থ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা ২য় ভাগ ২য় খন্ডের ৬/৭ অধ্যায়ের টীকাধ্যায়ে দ্রষ্টব্য । করিয়াছিলাম। সে প্রবন্ধ প্রকাশ পাওয়ার পূর্রে, সাম্প্রদায়িকগণ তাহাদের পূর্বপুরুষ যে মিথিলা হইতে আসিয়াছেন, তাহাই প্রকাশ করিতে শুনা যাইত । এখনও অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক ব্রাহ্মণগণের মত এই যে তাহাদের পূর্বপুরুষ মিথিলাগত। যাহারা আপনাদিগকে মিথিলাগত বলেন তাহারা মুক্তকণ্ঠে বৈদিকপুরাবৃত্তের অস্তিত্বের কথা অস্বীকার করেন। বস্তুতঃ এইরূপ গ্রন্থের উপর বিশ্বাস স্থাপন করিয়া এতিহাসিক তত্ব নিরূপণ করা নিরাপদ নহে। বৈদিক পুরাবৃত্তে লিখিত আছে যে, বলভদ্র সিংহের নামান্তরই শিলাদিত্য বা শ্রীহর্ষবর্ধন। এক “পুরাবৃত্ত” ব্যতীত শিলাদিত্য হর্ষবর্ধনেব এইরূপ নামান্তর আর শুনা যায় নাই। সাম্প্রদায়িক সমাজের পরিচিত বলভদ্র নামটী কোনরূপ রক্ষা করাই এস্থলে গ্রস্থলেখকের উদ্দেশ্য বলিয়া বোধ হইতেছে । প্রসিদ্ধ শিলাদিত্য বৌদ্ধধন্্াবলম্বী ছিলেন ইহা বলা গিয়াছে। তিনি প্রয়াগে যে উৎসব করেন, তাহা বৈদিক যজ্ঞ নহে। পুরাবৃত্তকার এই উৎসবকেই বৈদিক যজ্ঞ আখ্যা দিয়াছেন। উক্ত মতে সেই “যজ্ঞে” আদিধর্্পা নিমন্ত্রিত হইয়া গিয়াছিলেন, এবং “যজ্ঞ” দর্শনে তাহারও অদ্রপ যজ্ঞ করিতে প্রবৃত্তি জন । কিন্তু বৌদ্ধধর্্াবলন্বী নৃপতি বৈদিক যজ্ঞ করিতে যাইবেন কেন? যিনি উক্ত উৎসবে উপস্থিত ছিলেন, সেই হিউয়েন্থসাঙ্গ এই সময়কার একটা ঘটনার বর্ণনায় লিখিয়াছেন, “ব্রাহ্মণেরা শিলাদিত্যের শ্রমণানুরাগ দর্শনে ক্রুদ্ধ হইয়া তাহাকে গুপ্তহত্যা করিতে প্রয়াস পায়। তাহারা সংঘারামে অগ্নি প্রদান করেন। সেই সময় ছুরিকা হস্তে একটি লোক ধরা পড়িল। এই ব্যক্তি শিলাদিত্যকে হত্যা করিতে উদ্যোগ করিয়াছিল । শিলাদিত্য তাহাকে জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কেন এই কুকার্ষ্য প্রবৃত্ত হইয়াছ?” সে বলিল “মহারাজ বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করিয়াছেন, “শ্রমণদিগকে সমধিক শ্রদ্ধা করিতেছেন, ইহাতে বিধন্মীরা (ব্রাহ্মণেরা) লঙ্জিত ও ক্রুদ্ধ হইয়াছে এবং আমার মত হতভাগ্যকে উৎকোচ ও তোষামোদে বাধ্য করতঃ এই গোলযোগের অবকাশে রাজাকে গুপ্তহত্যার জন্য নিযুক্ত করিয়াছে ।” অচিরাৎ ঘড়যন্ত্রকারী ৫০০ ব্রাহ্মণকে নৃপাগ্র অভিযুক্ত করা হইল, এবং নৃপতি প্রধান প্রধান বিদ্বোহীকে দণ্ড দিলেন ।' (বিল সাহেব কর্তৃক অনুবাদিত সি-যু-কি গ্রন্থ ১1৫।২৮১ পৃষ্ঠা-২১) শিলাদিত্য যে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন, উক্ত গ্রন্থে এইরূপ বহুতর ঘটনাতে প্রকাশ পায়। তিনি বৈদিক যজ্ঞ করিবেন কেন? যাহা হউক, পুরাবৃত্তে লিখিত আছে যে, আদিধর্মপা শিলাদিত্যের অনুকরণে যে যজ্ঞ করেন, তাহাতে আগত পঞ্চতপস্বী সিন্ধদেশে যবনোপদ্রব জন্য (“জ্ঞাত্া সিন্ধুপ্রদেশতৃ যবনস্য পরাক্রমং”, আর কান্যকুজ না গিয়া, আদিধর্্পার নিকট কিছু ভূমি প্রার্থনা করেন, এবং তৎপ্রাপ্ত এদেশেই থাকিয়া যান। পঞ্চম অধ্যায় : শ্রীহট্রে সাম্প্রদায়িকগণ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ১৭৩ আদিধর্্পার যজ্ঞ ৬৪১ খৃষ্টাব্দের ঘটনা । ইতিহাসে দেখিতে পাই যে, মোহাম্মদের মৃত্যু ৬১২ খৃষ্টাব্দে হয়। ইহাব একশত বৎসর পরে (৭১১ খৃষ্টাব্দে) কাশেম সিন্ধুতীরে উপস্থিত হন। পুতরাং পঞ্চতপন্থীর সময় সিন্ধুতীরে যেন ভয়ের কোন কারণই ছিল না। পুরাবৃত্ত মতে পঞ্থবিপ্র পথে পথে হিন্দুধর্ম প্রচার করিয়া আগমন করায় দেশ হইতে বৌদ্ধধর্ম দূরীভূত হয়। তাহাদের তর্কপ্রবাহে বৌদ্ধগণ তিষ্ঠিতে পারে নাই। বৌদ্ধ প্রচারকেরা তাহাদের ভয়ে নানাদেশে পলায়ন করে। (“বৌদ্ধপ্রচারকঃ সব্রবভয়াত্তেষাং পলায়িতাঃ”) কিন্তু শঙ্কর-বিজয়াদি গ্রন্থে দেখিতে পাই ঘে. মহামতি কুমারিল ভ্টই প্রথমে বৌদ্ধধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন, তিনিই সুধন্বা- সভায় পিকধ্বনি লক্ষ্য করিয়া শ্রেষাত্বরক-_ “মলিনৈশ্চেন্ন সঙ্গতে শঠেঃ কাককুলৈঃ পিক। শ্রনিদূষক নিহাদৈঃ শ্রাঘনীয়স্তদাভবে ।”-_শৈঙ্করবিজয়) ইতি শ্োকবাক্য পাঠ করিলেই যুদ্ধারন্ত হয়। ফলত? কুমারিল ভট্ট ও শঙ্করাচার্য্ের পৃরর্বাকার এই বৌদ্ধ বিজয় সম্বন্ধে আমরা আর কোথাও একটী ছত্রও প্রাপ্ত হই না। পুরাবৃত্ত মতে পঞ্চতপন্থী “ত্রিপুরার রাজধানী জয়পুরে (?) শক্তি, বিষ ও শিব প্রতিষ্ঠা ও সংকীর্তনাদিতে ন্যস্তচিত্ত ছিলেন।” বৈদিক পুরাবৃত্ত ব্যতীত অপর কেহই যেরূপ পঞ্চতপস্বীর বৌদ্ধ-বিজয়-বার্তা ঘোষণা করেন নাই, সেইরূপ তাহাদের এই কীর্তিটা-সেই প্রাচীন কালে প্রতিষ্ঠিত শক্তি, শিব ও বিষ্ণু মূর্তিরও কোন নিদর্শন ত্রিপুরায় যে মিলে নাঃ বরং অবান্মণ পূজিত চতুর্দশ দেবতার পরিচয় পাওয়া যায়, তথাপি এ সকল দেবদেবীর বা শ্রীচৈতন্য মহাপ্র্ুর পূর্ববপ্রচারিত (1) সেই সংকীর্ত্বনের সংবাদ সংবলিত কিছুই পাওয়া যায় না! আরও লিখিত আছে,__বৌদ্ধধর্মাবলম্বী তাবৎ “জাতিহীন” ব্রাহ্মণগণকে তন্ত্রোপদেশ করা হয়। এত লোক সমাজ বহির্ভীত থাকিলে চলিবে কেনঃ কিন্তু দুঃখের বিষয়, শঙ্কর বিজয়াদি আলোচনায় দেখা যায় যে, শঙ্করাচার্য্যের পূর্বের ব্রাহ্মণসমাজে তান্ত্রিক দীক্ষাপদ্ধতির একান্ত অভাব ছিল। অতএব পুরাবৃত্তের এইরূপ সংবাদ কতদূর সত্যমূলক তাহা বিবেচ্য বটে । নিধিপতি দ্বিজ সম্পর্কে লিখিত আছে যে, তপস্যার্থে তিনি কান্যকুজ হইতে প্রয়াগে আগমন করেন, পরে যবনভয়ে ব্বধর্মপার রাজ্যে আসিয়া উপস্থিত হন। এস্থলে এ প্রশ্ন উ্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক যে, যবন ভয় কোথায় উপস্থিত হইয়াছিল? প্রয়াগেঃ-__তাহা হইলে দেশে ফিরিয়া গেলেই চলিত । তাহা যাহাই হউক, তপস্যাকামী নিধিপতি কাশী প্রভৃতি পুণ্যতীর্থ ত্যাগ করিয়া কেন একবারে ত্রিপুরা রাজধানীতে উপস্থিত হইলেন, কেনইবা মিত্বরূপ মহাসাংসারিকতায় বিজড়িত হইলেন, পুরাবৃত্তে এ প্রশ্নের সদুত্তর মিলিবে না। আর অধিক কথার আবশ্যক নাই, নিধিপতি কান্যকুজাগত না হইতেই ক্ষতির কি কারণ আছে? ফলকথা--নিধিপতির জন্মস্থান যে কান্যকুজে তাহা সুনিশ্চিতরূপে কেহই বলিতে পারিবেন না। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সমাজে অবিসংবাদীরূপে যখন দানপত্রদ্ধয়ের যথার্থ স্বীকৃত, এবং তাহাতে যখন সে “মৈথিলেঘু” ও “মৈথিলায়” শব্দ পাওয়া যাইতেছে, তখন মাম্প্রদায়িকদের পূর্বপুরুষ ও মিথিলাগত, তাহা একরূপ নিশ্চিত এবং ইহা তাহাদেরই মত- সম্মত বলা যাইতে পারে। বৈদিক পুরাবৃত্তের কথায় অনেক শ্থলেই যে সন্দেহ উপস্থিত হয়, ইহা যে অপ্রামাণ্য গ্রন্থরূপে অসঙ্গত ভাবে পরিত্যক্ত হয় নাই, এই সামান্য কথা কয়েকটিতেই তাহা বুঝা যাইতে পারে। ষষ্ঠ অধ্যায় মোসলমান আক্রমণ ৃষ্টায় দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্য্যন্ত ধর্মধরের গৌরবাত্মক রাজত্ব কাল। এ সময়ে তিনি যে শ্রীহট্রের একছত্র নরপতি ছিলেন, তাহা বলা যায় না। এ এক সময়েই বর্তমান সুনামগঞ্জ সবডিভিশনের অন্তর্গত লাউড়ে বিজয় মাণিক্য নামে জনৈক হিন্দু নৃূপতির রাজ্য ছিল বলিয়া জানা যায়। তৎকাল পর্যযত্ত ব্রেপুর রাজবংশে মাণিক্য উপাধি ধৃত হয় নাই। বিজয় মাণিক্য দ্বাদশ শতাব্দির নৃপতি বলিয়া (সময়ের ক্রমানুরোধে) এস্থলে তাহার উল্লেখ মাত্র করা গেল, তৃতীয় খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ে পাঠক তাহার কাহিনী দেখিতে পাইবেন। কীর্তিধর ও হীরাবন্ত মহারাজ ধর্মধরের পুত্রের নাম কীর্তিধর (সিংহতুঙ্গ বা ছেংথুম ফা), তিনি সত্যনিষ্ঠ, ঈশ্বারভক্তি পরায়ণ ও রণনিপুণ ছিলেন। তিনি মিহিরকুল রাজ্য (প্রাচীন কমলাঙ্ক) জয় করিয়া মেঘনাদ তীর পর্য্যন্ত নিজ রাজ্য সীমা বিবর্ধন করেন । রাজমালা লেখক বলেনঃ “তান পুত্র ছেংথুম রাজা মেহেরকুল জিনে।” হীরাবন্ত নামে তাহার জনৈক সামন্ত ততপ্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেন। তাহাকে ধৃত করিবার জন্য সৈন্য প্রেরিত হইলে হীরাবন্ত ভয়াতুর হইয়া গৌড়েশ্বরের আশ্রয় গ্রহণ করেন। গৌড়াধিপতি আশ্রিতের সাহায্যে একদল সৈন্য পাঠাইয়া দেন। সেই সৈন্যের আধিক্য দর্শনে মহারাজ কীর্তিধর ভয়াতুর হইয়া স্বয়ং যুদ্ধাক্ষেত্র গমনে অনিচ্ছা প্রকাশ করিলেন। পরদিবস রাজা মং গজারোহণে রণসাজে রণক্ষেত্রে সৈন্যগণসহ উপস্থিত হইলেন। ভীষণ সংগ্রামে শক্রুপক্ষ পরাজিত হইল । যুদ্ধাবসানে মহারাজ যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা দর্শনে বিম্মিত হইলেন। দুঃখের বিষয় বীরেন্দ্র সমাজ বরণীয়া এই বীরনারীর নাম রাজমালায় উল্লিখিত নাই । এই সংগ্রামে রাজ জামাতা বিশেষ বীরত্ব প্রদর্শন করিয়াছিলেন বলিয়া তিনি প্রধান সেনাপতির পদে বরিত হন, এবং তদবধি ব্রেপুর রাজবংশে রাজ-জামাতাকেই সেনানায়ক প্রদান করার প্রথা প্রবর্তিত হইয়াছে। ত্রপুর সামন্ত এই হারাবস্তের কাহিনী হীরানন্দের উপাখ্যান ম্মরণ করাইয়া দিতেছে। হীরানন্দের উপাখ্যান বারন্মুৰ১ নামক একখানি প্রাচীন পুস্তকে লিখিত আছে। হীরাবন্ত এবং হীরানন্দ উভয়েই শ্রীহষ্ট প্রাদেশীয়, সুতরাং একব্যাক্ত কি না, বিচার সাপেক্ষ । হীরানন্দের উপাখ্যান এস্থলে সন্নিবেশিত করিবার আর এক কারণ এই. যে, শ্রীহট্টে সবর্ব সময়েই যে ভিন্ন ভিন্ন খণ্ড রাজ্য ছিল, এই উপাখ্যান হইতে তাহাও প্রমাণিত হয়। ১. বাবান্বর একখানি পাঁচালী । শ্রাহট্ববামী রঘ্ুনাথ নামে কোন কবি ইহার রচনা করেন। ইহার ভাষায় এমত বহুতর শব্দ বহিয়াছে, যাহা শ্রাহট্র তিন অন্যত্র প্রচলিত নাই। অন্যান্য পাচালীকারের ন্যায় এই গ্রস্থকারও নানা অপ্রাকৃত ঘটনার উল্লেখ প্দন্শাছেন । শ্রীব্রজগোপাল বন্ধ্যঘাটী টড়িষ্যাদেশে তালপত্রে এই লিখিত পুথি পাইযা ১৯০০ খৃষ্টাব্দে মুদি কঁবেন। বাঙ্গালার পূর্ব্ব প্রান্তে রচিত এই পুথিখানা উড়িষ্যা পর্য্যন্ত প্রচারিত হইয়াছিল, অথচ স্বদেশে ইহাল শাম হমত অনেকে জানে না!! ষষ্ঠ অধ্যায় : মোসলমান আক্রমণ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ১৭৫ পাচালীমতে শ্রীহট্রের মগধ রাজ্য শ্রীহট্টে মগধ নামে এক ক্ষুদ্র রাজ্য ছিল। শ্রীহট্রের মগধের নাম কামাখ্যাতন্ত্রে আছে। পুরাকালে শ্রীহন্টরের একটা পবর্বতের নাম মগধ ছিল,২ এই স্থানে অবশেষে তন্নামে একটা খণ্ড বাজ্য স্থাপিত হয়। এই রাজ্যের রাজা পরম বৈষ্ণব ছিলেন, তাহার সভায় শ্রীমপ্তাগবত পূরাণ পাঠ হইত । পূৃবের্ব এইরূপ প্রথা সর্বত্রই ছিল। বৈষ্ণব গ্রন্থে দৃষ্ট হয় যে, বিষ্ণ্ুপুরের রাজা দস্যু দলপতি হইলেও এই প্রচলিত প্রথা পরিত্যাগ করেন নাই । যাহোক, রাজা একদা কৃষ্ণগুণ শ্রবণ করিতেছিলেন, তখন কোষাধ্যক্ষ চন্দন চামরের অভাব জ্ঞাপন করিলে, রাজা তদ্দেশীয় হীরানন্দ সাধুকে চন্দন চামর যোগাইতে আদেশ করিলেন। সাধু আদেশানুযায়ী “সোণামুখী ফে'য়াল” (সোণামুখা নামে নৌপা) সাজাইয়া চন্দন চামরের জন্য যাত্রা করিলেন; ত্রিপুরা, রঙ্গপুর প্রভৃতি কত দেশ পাইলেন, তাপ পরে সাধু “নৈরাট পাটনে” উপস্থিত হইলেন! তত্রত্য রাজা সাধুকে পরিচয় জিজ্ঞাসিলে সাধু করিলেনঃ- “শ্রীহট্ট নগরে বাস মগধ নৃপতি। চিরকাল করি তার রাজ্জেতে বসতি॥ মোর নাম হীরানন্দ শুন নপবর। রাজার ভাণ্ডারে নাই চন্দন চামর!॥ আমারে পাঠাইল রাজা তোমার এদেশে । চন্দন চামর লৈয়া যাইব বিশেষে॥” (বাবান্বর) তৎপরে জনৈক যাদুকরের কোপে পড়িয়া হীরানন্দকে বহু দুর্দশা ভোগ করিতে হইয়াছিল । কিন্তু হীরানন্দের সেই সকল কাহিনী বিস্তারিতরূপে বর্ণন করার প্রয়োজন নাই, ইতিবৃত্তে যোজন যোগ্যও নহে। সে যাহা হউক, মহারাজ কীর্তিধর প্রথম যৌবনে বলবীর্য্যের পরিচয় দিয়া থাকিলেও বৃদ্ধকালে তদীয় ভীরুতার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। ৩দীয় উদ্যমে হীরাবন্তের আশ্রয়পাত। পরাজিত হইয়াছিলেন, কিন্তু অতি সত্ুরেই গৌড়-পতি ইহার প্রতিশোধ লইতে দ্বিতীয় আয়োজন করেন। এই নরপতির নাম গিয়াসউদ্দীন । মোসলমানের প্রথমাক্রমণ শ্রীহট্টের পুণ্যভূমি সর্বপ্রথম গিয়াসউদ্দীনের সময়েই মোসলমানগণ কর্তৃক স্পৃষ্ট হয়। গিয়াসউদ্দীন ক্ষমতাশালী রাজা ছিলেন, তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা ও রাস্তাদিতে গৌড়রাজ্য ভূষিত করেন। তিনি হিন্দু মোসলমান ভেদে শাসন প্রভেদ করিতেন না। তিনি দিল্লীর অধীনতা পাশ ছেদন করতঃ স্বাধীনতাবলম্বন করিয়াছিলেন; এবং পূর্বাঞ্চলীয় কোন কোন রাজাকে পরাভত করিয়া ছিলেন।৩ এই পূর্বাঞ্চলীয় রাজগণের মধ্যে ব্রেপুর বংশীয় মহারাজ অন্যতম ।8 কেহ ২. “ত্রিপুরা কৌকিকা চৈব জয়ন্তি মণি চক্দ্রিকা। কাছাড়ী মাগধী দেবী আসামী সপ্ত পবর্বতোঃ1” _বৈদিক সংবাদিনী ধৃত কামাখ্যা তত্র বচনং। ৩. 14৯1 0 11700-0511905 80011) 05 91100100017) 9017010110, 3010) 01 110৩ (0145 117 1000 ০9১10111101 ৬ 132101)1. -১(৮৬/০।1৬ 1115101 0113011781 ৩০০ 111. 105 ১৭৬ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড কেহ বলেন যে, এই পরাজয়ের পর কৈলাড়গড় হইতে রাজ্যপাট আধুনিক কসবা নামক স্থানে নীত হয়, এবং তাহাও পূর্র্বনামানুসারে মোসলমানগণ কর্তৃক জাজিনগর নামে কথিত হইতে থাকে। কসবা শ্রীহট্ট জিলাধীন নহে, সুতরাং কীর্তিধরের রাজত্বকাল পর্য্যস্তই শ্রীহন্রের ইতিহাসের সহিত তাহাদের সম্বন্ধ । কসবাতে যে একসময় ইহাদের রাজধানী ছিল, তাহার বিশেষ প্রমাণও আছে। এ সময়ের পরবর্তী কালে মোসলমানদের জাজিনগর বিজয়ের যে সংবাদ পাওয়া যায়, তাহা শ্রীহট্রের কৈলাড়গড় সম্বন্ধে নহে,_এই কসবা সম্বন্ধে। উদাহরণ স্বরূপ তুথ্লের জাজিনগর আক্রমণের নাম করা যাইতে পারে। মহারাজ কীর্তিধরের পুত্রের নাম রাজসূর্ধ্য (আচঙগফা বা কুঞ্জহোম ফা), তদীয় মহিবী অতি গুণবতী ছিলেন; তাহার উৎসাহে রাজ্যে শিল্পবিদ্যার বিশেষ উন্নতি হইয়াছিল । ইহার পুত্র মোহন (বা খিছুংফা): তাহার পুত্র ধর্মপা (ডুঙ্গুর ফা, দানকুরু ফা বা হরিরায়।) ইহাকে দ্বিতীয় ধর্মপা বা দ্বিতীয় ডুঙ্গুর ফা বলাই সঙ্গত। ইহা হইতে পৃথকত্‌ সূচনার জন্য কি পূর্বোক্ত ধর্মপা আদি ধর্মপা নামে পশ্চাৎ কথিত হইয়াছেন? যাহাই হউক, ইহাদের রাজত্ব কালে শ্রীহষ্ট দ্বিতীয় বার মোসলমান কর্তৃক আক্রান্ত হইয়াছিল; কিন্তু সে আক্রমণ ইহাদের উপর হয় নাই। মোসলমানের দ্বিতীয় আক্রমণ সম্রাট নসিরউদ্দিন কর্তৃক ১২৫৩ খৃষ্টাব্দে এক্ডিয়ার উদ্দীন তুগ্রলখা মালিক ইয়াজবেগ বাঙ্গালার গবর্ণর নিযুক্ত হন। তিনি উড়িষ্যার ভূপতির সহিত ভীষণ আহবে নিযুক্ত হইয়াছিলেন। প্রথম যুদ্ধে কতক কৃতকার্ধ্য হইলেও তৃতীয় যুদ্ধে ঘোরতর পরাজিত ও পলায়ন পরায়ণ হন। তখন আর দক্ষিণ দিকে কোন সুযোগ না দেখিয়া তৎপর বর্ষে সসৈন্য শ্রীহ্টাভিমুখে যাত্রা করেন। তত্প্রচলিত অগণ্য পাঠান সৈন্যের পক্ষে শ্রীহট্রের খণ্ড রাজ্য বিশেষ জয় করা আয়াস সাধ্য হয় নাই। জয়ান্তে নগরী বিলুগ্ঠনে তিনি বহু হস্তী ও অর্থ লাভ করেন ।৫ এ রাজার নাম কি ছিল এবং তাহার রাজ্য শ্রীহট্রের কোন অংশে ছিল, নিশ্চিত বলা যায় না। ুয়ার্ট সাহেবের ইতিহাসে আছে যে, ইয়াজউদ্দীন এই উদ্যমে শ্রীহস্টরের আজ্মরদন নামক স্থানের অধিপতিকে পরাজিত করেন এবং তিনি তথায় কিছুদিন বাস করিয়া সেই নগরী বিলুগ্ঠনে বহুতর মূল্যবান সম্পত্তি ও হস্তী প্রভৃতি প্রাপ্ত হন। যখন সেই দেশের অধিবাসী মধ্যে হাহাকার ধ্বনি উথিত হয়, তখন তিনি লুণ্ঠিত দ্রব্য ও বন্দীদিগকে লইয়া লক্ষণাবতী গমন করিয়াছিলেন ।৬ ৪. "01 এ॥ 11৩ 0৩৬ "01 91] 101৩ 009৬০117015 01 017৩ 01510001100 01 1110000011001100, 0195090৫001) 9/45 076 011) 0110 ৬/10 10100 ১৮০|।. 116 1৭ 5010 (010৬6. 71009 110 015111101101] ০061৮/০০1) 106 111110005 0110 11০ 1৬101010600) 0110 [01100 0০০1) 8 81690 00186100001 100 0110 000010019. 110 45 ৬619 [০0৬/০101, বি 10 17800 016 13009 91 /5550]),10111001 814 10110007010 0009 1110000- -13010015 301169) 01700. 1৬. 1১,710. ৫. ৮1২61010110 (9 00007, 10 11071 11৬20160 ১১1170. 0110 বারা [710101) 0910011001 70191710075 00611601106 11151019 130115201, 9০01. | 0. ৮10) 110৩ (0110৬111901, 10115900011 0া1101105 রি 17০ [২১ ০ /১911)001থ]) 0170 19010 11৩ 001911011১1 11101 10110005100) 211 1015 (160511105 0114 01000110115. /১1101 0৮611001111 10170 00011119001 56180 100171115, 10101101770, 1006104 ৬/11]) [91017001014 041)11৬05 (0 10101010৬09." -১10৮/716৯11191019 011301£01. 5০01. 111 1773. এই বর্ণনা পাঠে অনুমিত হয়, আজ মরদনপতি, ইরাজবেগকে বিশেষ যন্ত্রণা দিয়াছিলেন, সেই আক্রোশে তিনি এই রাজ্য কে সমূলে বিনষ্ট করিয়া বন্দীসহ গৌড়ে গমন করিয়াছিলেন ষষ্ঠ অধ্যায় : মোসলমান আক্রমণ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ১৭৭ ুয়ার্ট সাহেব-শ্রীহ্টাধীন এই আজ্মরদন নগরীকে তত্রত্য “আজমরগঞ্জ” বর্তমান আজমীরগঞ্জ) বলিয়া অনুমান করেন। বস্তুতঃ আজ্মরদন নাম রূপান্তরিতাবস্থায় আমীরগঞ্জ নামের সহিত যত সাদৃশ্যাত্বক, শ্রীহস্র জিলার কোন নামের সহিত সেইরূপ সাদৃশ্য নাই। অপরিচিত বিলুপ্ত রাজ্য ইতিপূর্বে শ্রীহস্ট্রের অন্তর্ভূক্ত “মগধ” নামক খণ্ড রাজ্যের উল্লেখ করা গিয়াছে। সেই মগধ ও এই আজ্মরদন রাজ্য ব্যতীত ময়মনসিংহের পূরর্বাংশে যে আরও খণ্রাজ্য ছিল, তাহা জানা যায়। (খৃষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে) করমপ্তকল উপকূলের ওলন্দাজ গবর্ণর ভান-ডিন- ব্রোক (৬ম) ৫67 0104০) কৃত মানচিত্রে ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্রবতীরে “অসুই? এবং “উদিসি” নামে দুই ক্ষুদ্র খণ্তরাজ্যের উল্লেখ আছে। সৈয়দ হুসেন শাহের সময়ে এ অঞ্চলে “মুয়াজ্জমাবাদ” নামে এক ক্ষুদ্র খণ্ডরাজ্য থাকার সংবাদ পাওয়া যায় । মুয়াজ্জমাবাদ অর্থে পুণ্যময় স্থাণ। শ্রীহ্টও মোসলমানগণের কাছে পুণ্য ভূমি । কিন্তু এ সকল স্থানের পরিচয় করা এখন দুরূহ ব্যাপার । এ মানচিত্রে ত্রিপুরা রাজ্যের পাশে “কোডাবাস্কাম” নামে আর একটা স্বতন্ত্র রাজ্যের উল্লেখ দৃষ্ট হয়। শ্রীহট্টেও “চিবিটাবিটিয়” (07৮15 390৪) নামে আর একটা স্থান ছিল; এই নাম লাটিনের বাঙ্গালা রূপান্তর মাত্র। মগধ ও আজ্মরদন রাজ্য শ্রীহস্টের অন্তর্গত ছিল বলিয়া যেমন নির্দেশ আছে, অসুই ও উদিসি প্রভৃতি সম্বন্ধে তদ্রুপ স্থান নির্ণায়ক কোন প্রমাণ নাই। এতদ্যতীত পূর্বাঞ্চলীয় সমস্ত নিম্ন ভূমিকে মোসলমান এঁতিহাসিকগণ “ভাটী” এই সাধারণ নামে পরিচিত করিয়াছেন । “আইন-ই-আকবরি” তে ভাটা প্রদেশের উল্লেখ আছে । ঢাকা, ফরিদপুর, বাকরগঞ্জ প্রভৃতি ভাটা প্রদেশের অন্তর্গত । শ্রীযুক্ত কেদার নাথ মজুমদার প্রণীত ময়মনসিংহের ইতিহাসের ২৯ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে যে, ময়মনসিংহের পূর্ব সীমায় প্রাচীনকালে মেঘনা নদী ছিল, বর্তমান সময়ে এ নদী এ অংশে ধনু নামে পরিচিত, মোসলমান এঁতিহাসিকগণ মেঘনা তটভূমিকে ভাটী বলিয়া নির্দেশ করেন। ময়মনসিংহের পূর্ব প্রান্থস্থ খালিসাজুরীকে ভাটী নামে অভিহিত হইতে অনেক কাগজপত্রে দেখিতে পাওয়া যায়। ভাটী প্রদেশের কথা শ্রীহষ্টেও শুনা যায়, শ্রীহট্টের পশ্চিমাংশে ইহা ছিল, এখনও শ্রীহট্টে “ভাটী” শব্দে হবিগঞ্জাদি পশ্চিমভাগস্থ দেশই উদ্দীষ্ট হয়। নিকর্ষ পৃবের্ব এই যে সকল রাজকীর্তি বর্ণিত হইল, এ সমস্তই খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্য ভাগের পৃবের্ব সংঘটিত হইয়াছিল। এই সময় পর্য্যন্ত শ্রীহন্টের এতিহাসিক বিবরণ যদিও যৎসামান্যরূপ পাওয়া যায়,__যদিও ইহাতে ইতিহাস পাঠকের পরিতৃপ্তির সম্ভাবনা নাই, তথাপি এই পর্য্যস্তই শ্রীহট্রের গৌরবাত্মকাল বলিয়া নির্দেশ করা যাইতে পারে। জনশ্রুতির বীণাধ্বনি যদি একেবারে মিথ্যা না হয়,_-এই সময়টিতেই শ্রীহস্্র প্রাচীনত্ব গৌরবে বিশেষ স্পর্ধা করিতে পারে। সভ্যতা সম্পদে গৌরবাৰিত প্রাচীন গৌড় দেশও এঁ বিষয়ে শ্রীহন্রের সহিত স্পর্ধা করিতে পারে না। প্রাচীন কাল হইতেই শ্রীহষ্ট আর্ধ্য সভ্যতা সমীরণের স্পর্শ অল্প অল্প অনুভব করিতে পারিয়াছিল। সেই মৃত সঞ্জীবন সমীরণের সে স্পর্শমণি সংস্রবের প্রমাণ স্বরূপ রাট্র, ডোম, মাহিমাল প্রভৃতি বলা যাইতে পারে। সে প্রাচীন পৌরাণিক যুগে মহাবীর ভগদন্তের মহত্ত বীরেন্দ্রাণী প্রমীলার সমরলীলা শুধু স্ৃতিপটে অক্ষয় তরঙ্গ লেখা রাখিয়া অতীতের গর্ভে লুকাইয়া গিয়াছে । তারপর নবগীবর্বাণি বংশের প্রভাবঃ--পূর্ব্বাঞ্চলে আর কোন রাজবংশ এইরূপ তস্তী শ্রীহস্ট্ের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১২ ১৭৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-প্রথম খণ্ড অশ্বরথ পদাতি চতুরঙ্গিণী সেনাসহ শক্র ত্রাস সমুৎপাদন করিতে সমর্থ হয় নাই, আর কাহারও সমরতরির পতাকা প্রকাশে প্রসূন ফুটায় নাই, আর কোন রাজবংশের পাদপীঠ এইরূপ পার্শবস্তী নৃপতি বৃন্দের মুকুট কর্তৃক চুদ্বিত হওয়ার কথা শুনা যায় নাই; এই জন্যই পরিব্রাজক হিউয়েন্সাঙ্গ বহুতর সুসভ্য জনপদের সহিত শ্রীহট্ট রাজ্যের উন্মেখ আবশ্যক মনে করিয়াছিলেন । আদি ধর্মপার যে যন্জ বৃত্তান্ত বর্ণিত হইয়াছে, যদি তাহা কিছুমাত্র সত্যমূলক হয়, তবে আদিশুরের সুমহৎ কীর্তি হইতে তদীয় কীর্তি কোন অংশেই ন্যুন নহে। পূর্ববপ্রান্তে জঙ্গলের আড়ালে আদিধর্শ্পার এই মহতী কীর্তি লুক্কায়িত ছিল তাই আদিশূরের যশে দেশ পরিপূর্ণ । অবিধ্বংসী সত্য, এই গুপ্ত তত্ব বুঝি এতকাল পরে প্রকাশ করিয়া দিল। শতাব্দীর পর শতাব্দী চলিয়া গিয়াছে, কত রাজা অতীতের তলগর্তে লুক্কায়িত হইয়াছেন, তাহাদের নামও আজ জানিবার উপায় নাই, কিন্তু যাহারা জনহিতকর কীর্তি করিয়াছিলেন, সেই সৎবীর্তি তাহাদিগকে বিলুপ্তির অন্ধকার গর্ভ হইতে তুলিয়া দিতেছে; সত্য ও সৎপ্রতিষ্ঠার বিলোপ নাই, তাহার মূল সুদৃঢ়-অনড়-অক্ষয়। এই সময়ই শ্রীহট্রে সাম্প্রদায়িক ব্রাক্মণগণের আদি অভ্যুদয় হয়; বল্লাল কর্তৃক উৎপীড়িত বহু ব্রাহ্মণও তৎপরে শ্রীহন্টের ব্রাহ্মণ সংখ্যা বৃদ্ধি করিয়াছিল এবং এই সময়েই বৈদ্য কায়স্থাদিরও এদেশে উপনিবেশ হইয়াছিল। এই সময় যদিও কোন সাহিত্য সংবাদ জ্ঞাত হওয়া যায় না, তথাপি তামত্র শাসনগুলির রচনা প্রণালী অল্প কবিত্ের পরিচায়ক নহে । শ্রীহন্টের জয়ন্তীয়া প্রদেশে গৌরবাধিত হিন্দুরাজত্ব ছিল, যথাস্থানে তাহা কথিত হইবে এবং সেই প্রদেশ সংস্কৃত কাব্যের গভীর বঙ্কারে নিনাদিত হইয়া উঠিয়াছিল, তাহার প্রমাণ আছে। এই কাল পর্য্যন্ত শ্রীহট্ট মোসলমানদের পদানত হয় নাই, এই পর্য্যত্তই শ্রীহট্র স্বাধীনতা সম্পদ ভোগ করিয়াছিল । যদিও গিয়াসউদ্দীনের সময় (খুঃ ১২১২ অব) কৈলাড়গড় আক্রান্ত হইয়াছিল যদিও ইয়াজবেগের সময় (খুঃ ১২৫০ অব) শ্রীহট্টের অন্যতর খণ্রাজ্য (আজ্মরদন) বিনষ্ট হইয়াছিল, তথাপি ইহকে শ্রীহট্র বিজয় বলিয়া যাইতে পারে না; পূর্বোক্ত মোসলমান রাজগণ ক্ষণকালের নিমিত্ত শ্রীহট্রে আপতিত হইয়া, কেহ বা পরাভূত এবং কেহ বা দস্যুর ন্যায় ধন রত্বু লইয়া মনে করেন নাই । গিয়াসউদ্দীন নিজ রাজধানী লক্ষ্মণাবতী আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাইয়া চলিয়া গেলে, এবং ইয়াজবেগ আসাম বিজয়ে অগ্রসর হইয়া যুদ্ধে নিপতিত হইলে শ্রীহট্টে ভূমি পুনঃ যবন স্পর্শশুন্য হইয়াছিল; ইহাদের ক্ষণিক অত্যাচারে কোনরূপ ক্ষতি হয় নাই; হিন্দু নৃপতিবর্গের দৃপ্ত তেজোগবর্ব খব্ব হয় নাই; অতএব এই সময় পর্যন্তই গৌরাবাৰিত হিন্দু রাজত্বের কাল বলিয়া আমরা নির্দেশ করিতে পারি। যদিও মহারাজ বীর্তিধর শ্রীহট্টের সমতল ক্ষেত্রে অতঃপর রাজধানী রাখা নিরাপদ মনে করেন নাই; তথাপি স্পর্থা সহকারে বলা যাইতে পারে যে, মহারাজ প্রতীত হইতে কীর্তিধর পর্য্যন্ত সকলেই সগৌরবে স্বাধীনতা সম্পদ সম্ভোগ করিয়াছেন। এই ব্রেপুর নৃপতিবর্গ শ্রীহট্টের একটি খণ্ড রাজ্যের অধিপতি ছিলেন বলিয়া, তাহাদের গরীয়সী গৌরবগাথা শ্রীহস্টরের ইতিহাসের অঙ্গস্বরূপ হইয়াছে । অতঃপর এই সুপ্রাটীন রাজবংশীয়দের মহতী কীর্তিকথা বর্ণনের সুবিধা আমাদের ঘটিবে না। খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্য্যত্ত ব্রেপুর রাজবংশের ইতিহাস শ্রীহট্ট ইতিবৃত্তের অঙ্গ। অতএব আমরা কীর্তিধরের কীর্তির সহিত এই গৌরবাত্মক প্রথম খণ্ড পরিসমাণ্ত করিলাম । ৫৮০১ ১ 7৯ 1৭ প্রথম অধ্যায় রাজা গোবিন্দ শ্রীহট্টরে তিনটি ভিন্ন রাজ্য পুরর্বকাল হইতে শ্রীহট্টে কয়েকটি খণ্ড রাজ্য ছিল বলিয়াছি। বলা গিয়াছে যে, ব্রেপুর রাজ বংশের অধ্যুষিত স্থান ত্রিপুরা রাজ্য বলিয়াই সাধারণতঃ কথিত হয়। এই রাজবংশের অধিকার এক সময় বরবক্রের সমস্ত বাম তীর পর্য্যন্ত পরিব্যপ্ত ছিল। তাহাদের অধিকার ব্যতীত শ্রীহট্ট তিনটি প্রধান খণ্ডে বিভক্ত হইয়াছিল; এঁ তিন ভাগই তিন পৃথক নৃপতি কর্তৃক শাসিত হইত।১ এই তিনটি স্বতন্ত্র ন্পতির অধীনে আরও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভূম্যাধিকারী ছিলেন বলিয়া অবগত হওয়া যায়। পশ্চিমের প্রসিদ্ধ মগধ রাজ্যের নামানুকরণে শ্রীহস্টে যেমন এক ক্ষুদ্র খণ্তরাজ্যের নাম মগধ ছিল, তেমনি স্বনাম প্রসিদ্ধ গৌড় নগরের সাদৃশ্যে শ্রীহট্টেও এক গৌড় রাজ্য ছিল। যথাঃ- ১. গৌড়-বর্তমান শ্রীহট্র সহরাদি সহ উত্তর শ্রীহট্২ দাসের ব্যাপিয়া গৌড় রাজ্য ছিল। গৌড়ের রাজা প্রায়শঃ শ্রেষ্ঠ বলিয়া গণ্য হইতেন। ২. লাউড়-গৌড়ের পশ্চিমে অর্থাৎ শ্রীহট্ট জিলার পশ্চিমাংশ ব্যাপিয়া লাউড় রাজ্য ছিল। এক সময় লাউড় রাজ্য ময়মনসিংহ জিলার কিয়দংশ পর্য্যন্ত বিস্তৃত হইয়াছিল । বর্তমানে হবিগঞ্জের কিয়দংশ ও প্রায় সমুদয় সুনামগঞ্জ ইহার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ৩. জয়ন্তীয়া-এই রাজ্য শ্রীহট্টের উত্তর ও পূর্র্বাংশ পরিব্যাপী ছিল। দক্ষিণে সুরমা নদী এই রাজ্যের সীমা রক্ষা করিত; ইহার সীমা-রেখা দক্ষিণ-পৃরর্বাংশে ত্রিপুরা রাজ্য স্পর্শ করিয়াছিল। এই সমতলাংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র পার্বত্য জয়ন্তীয়া জিলা এই রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। | ৪. তরফ-শ্রীহট্ট ভাগত্রয়ে বিভক্ত হইলেও, তরফ প্রাচীন কাল হইতেই পৃথক ভাবে শাসিত হইত। ইহা অধিকাংশ সময় ত্রিপুরার আধিপত্য স্বীকার করিলেও, গৌড় রাজ্যের অংশ বিশেষ বলিয়া সাধারণতঃ বিবেচিত হইত । এবং মোসলমান বিজয়ের পরে গৌড়ের অংশরূপে গণ্য হয়। তরফের ন্যায় ইটা এবং প্রতাপগড় রাজ্যও মোসলমান বিজয়ের পর হইতে গৌড়ের অং বলিয়া পরিগণিত হইয়াছিল। রাজা গৌড়গোবিন্দ যে সময়ের কথা কথিত হইতেছে, সেই সময় শ্রীহট্টের গৌড় রাজ্য প্রসিদ্ধনামা গোবিন্দের শাসনাধীনে ছিল। গোবিন্দ গৌড় রাজ্যের অধিপতি বলিয়া সাধারণতঃ “গৌড়-গোবিন্দ” নামে ১. শািজ জগত এ| 075 (76 10155 01555015 06105 55৩1 [990 007 (5516),1-007, 07৫ 1871 1110005 91005101001 /০০00115 01 45581) ৬০]. |] (5911)61) 2, 080 8১ 016 010 1010 01170100617) 9১11061." “31001110105 0620৮101019 0180 7151019 01 8611821. ১৮২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড কথিত হন। গৌড়-গোবিন্দ নামটি বিশুদ্ধ ভাবে বলিতে দিয়া কেহ কেহ “গৌর গোবিন্দ” এবং অশিক্ষিত লোকেরা “গরুড় গোবিন্দ” বলিতেও শুনা যায় ।৩ গোবিন্দের পিতার নাম কি ছিল, জানা যায় না। কিন্বদন্তী মতে তিনি সমুদ্রের তনয়।৪ কথিত আছে যে, পুর্র্বকালে ব্রৈপুর রাজবংশীয় কোন রাজার শত শত মহিষী ছিলেন । সমুদ্রদেব (বরুণদেব) তন্মধ্যে কোন এক মহিষীর সহিত মনুষ্যাকারে সম্মিলিত হন; তাহার কৃপাতেই রাণী গর্ভধারণ করেন। এই গর্ভের কথা প্রকাশিত হইলে রাজা সেই রাণীকে নিবর্বাসিত করেন। তদবস্থায় রাণী এক সুলক্ষণাবিত পুত্র প্রসব করেন। সমুদ্র তখন আবির্ভূত হইয়া রাণীকে আশ্বাস দিয়া বলেন যে, তাহার অভিপ্রায়ে সমুদ্বের জল সরিয়া যতদূর চড়া পড়িবে, নবজাত শিশু ততদূর পর্য্যন্ত রাজ্যাধিকার করিতে পারিবে । এই নিবর্বাসিতা মহিষীপুত্রই গোবিন্দ। এই ওপন্যাসিক কিন্বদত্তী-মূলে কয়েকটি এতিহাসিক তত্ত্ব নিহিত রহিয়াছেঃ-_ ১. এক সময় শ্রীহট্রের অনেকাংশ সমুদ্রের (দের) কুক্ষিগত ছিল, সমুদ্র সরিয়া যাওয়ায়, (ভেরট হওয়ায়) অনেক স্থান প্রাচীন গৌড় রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত হইয়াছিল। ২. গোবিন্দ কোন নিব্র্বাসিতা ব্রৈপুর-রাজমহিষীর সন্তান। ৩. তাহা না হইলে, গোবিন্দ শ্রীহট্ট জিলার কোন হাওরের পরপার হইতে গৌড়ে আসিয়া ভাগ্যবশে রাজ্যাধিকারী হইয়াছিলেন। তদ্যতীত ইহার পরিচয় কেহ জ্ঞাত নহে। কিন্তু তাহাকে খাসিয়া জাতীয় কোন রাজকুমার অনুমান করা সঙ্গত হয় না। তাহার কীর্তি ও জনশ্রুতি তাঁহাকে সভ্য হিন্দু নৃপতি বলিয়া প্রচারিত করিতেছে। তাহার নামানুক্রমে “গৌড়গোবিন্দ” বলিয়া ক্ষুদ্র এক ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় আছে।৫ খাসিয়া জাতীয় কোন রাম্নীর নামে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের পরিচিত হওয়া সন্তাবনীয় নহে। এই সম্প্রদায় রাজা গোবিন্দের সময়ে কোন ঘটনা বিশেষ তন্নামে অভিহিত হইয়া থাকিবেক। খৃষ্টায় চতুদশি শতাব্দীতে যিনি রাজত্ব করেন, শ্রীহট্টের সেই শেষ হিন্দু নৃপতি গৌড়- গোবিন্দ বীরপুরুষ ছিলেন। তিনি দূর হইতে শব্দ মাত্র শুনিতে পাইয়া, অন্তরাল হইতে লক্ষ্যভেদ ৩. কেহ কেহ বলেন, গোবিন্দ কোন নির্দিষ্ট রাজার নাম ছিল না; শ্রীহট্টের গৌড় রাজ্যের রাজগণ “গোবিন্দ” এই বিশেষ উপাধিতে পরিচিত হইতেন। অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্বনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় (১৩১১ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের) প্রদীপ পত্রিকায় লিখিয়াছেন,- “গৌড় গোবিন্দ (বা গৌর গোবিন্দ বা গুরু গোবিন্দ বা গরম্ডু গোবিন্দ) যে কে ছিলেন, তাহা নির্ণয় করা সুকঠিন। মধ্য ভারতের ভোজ বা বিক্রমাদিত্যের ন্যায় একাধিক রাজার এই নাম ছিল কিনা, তাহাও সমস্যার বিষয় । “সুহেল-ই-এমন” নামক প্রাচীন পারস্য গ্রন্থের মতে গোবিন্দ নামক ব্যক্তি পশ্চিম গৌড় হইতে আগমন করিয়াছিলেন বলিয়া এই নামে কথিত হইয়াছিলেন। 8. “সমুদ্র তনয় গৌড় গোবিন্দ নামেতে। শ্রীহট্ট দেশের রাজা ছিলেন পবর্বতে ।”-ভবানী প্রসাদ দত্তের লিপি। ৫. আসামের বিভিন্ন জাতির সম্বন্ধে (এন্থলজীর সুপারিনটেনডেন্টু সাহেবের জন্য) শ্রীযুক্ত ত্রিপুরা চরণ মুখোপাধ্যায় মহাশয় একটি নোট প্রস্তুত করেন, তাহাতে বর্ণব্রাহ্ষণ বিষয়ক প্রস্তাবে তিনি বলেন যে,-“গড়ের গোবিন্দী” ব্রাহ্মণ রাজা গৌড়গোধিন্দের দ্বারা সৃষ্ট। ইহারা সম্ভবতঃ বল্লাল-পীড়িত ব্রাহ্মণ । রাজকর্তৃক উপকৃত হওয়ায়, অনুগ্রহের নিদর্শন স্বরূপ “গড়ের গোবিন্দী” বলিয়া পরিচয় দিতেন। পশ্চাদাগত রা়ী প্রভৃতি হইতে বর্তমানে ইহাদের পৃথকতু বাহির করা দুর্ঘট। আবার প্রদীপের এক প্রবন্ধে (১৩১১ বাংলা কার্তিক) লিখিত আছে-“শ্রীহষ্ট সহর হইতে ৬/৭ মাইল ব্যবহ্িত স্থান হইতে পাতর সংজ্ঞক যে সকল ব্যক্তি সহরে পাতা, কাঠ, কয়লা প্রভৃতি বিক্রয় করে, তাহাদিগকে “গুরু গোবিন্দ' বলিয়া পরিচয় দিতে শুনা যায়।” ইহারাও গৌড়গোবিন্দ সংসৃষ্ট কোন ঘটনা হইতে এ নাম ধারণ করা বিচিত্র নহে। প্রথম অধ্যায় : রাজা গোবিন্দ শ্ীহ্ট্রের ইতিবৃত্ত ১৮৩ করিতে পারিতেন।৬ এইরূপ তাহার নানাবিধ অসাধারণ ক্ষমতা ছিল,৭ এই জন্য মোসলমানগণ তাহাকে যাদুবিদ্যা বিশারদ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু তিনি কুসংঙ্কার বর্জিত ছিলেন না, ইহা দেশের পক্ষে অশুভ জনক হইয়াছিল। শহরের উত্তরাংশে (বের্তমান মজুমদারির মধ্যে) “গড়দুয়ার” মহল্লা বলিয়া যে একটি স্থান আছে, তথায় এখনও অনেক ইষ্টক দৃষ্ট হয়, এ ইষ্টক রাশি রাজবাটিকার ভগ্নাবশেষের নিদর্শন । গড়দুয়ার মহল্লায় গৌড় গোবিন্দ রাজার “গড়” অর্থাৎ দুর্গ ছিল।৮ সহরের উত্তরে--টীলাগড়ে, জয়ন্তীয়াবাসী অসভ্য জাতীয়ের আক্রমণ রোধার্থে আর একটি গড় বা দুর্গ ছিল; তাহাও ভগ্নাবশেষে পরিণত হইয়াছে । একটি টিলার উপরে দুর্গ থাকায় এ স্থান টীলাগড় বলিয়া খ্যাত হয়। উচ্চ স্তন্তকে মিনার বলে । বর্তমান সহরের উত্তরে এক উচ্চ শৈলখণ্ড দৃষ্ট হয়, ইহাকে মিনারের টীলা বলিত। (সাধারণ লোকে মনারায়ের টীলা বলে ।) এই টীলাতেও রাজার এক বাড়ী ছিল। তৎপার্খবর্তী (বর্তমান) কাজি-টোলা ও দরগা মহল্লায়ও গৌড় গোবিন্দ রাজার বাড়ী ও দেবালয় ছিল বলিয়া কথিত আছে মিনারের টীলাস্থিত বাটীতে রাজা কোন কোন সময় সাধু সন্ন্যাসী সহ সুখে বাস করিতেন। পৃরের্ব এই স্থানে যে সন্ন্যাসী সমাগম ঘটিত, তাহার প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে।৯ হাটকেশ্বর নামে যে প্রসিদ্ধ শিবের জন্য শ্রীহট্ট গৌরবাব্িত, ধাহার মহিমা তন্ত্র শাস্ত্রে কর্তিত হইয়াছে,১০ এই স্থানেই তিনি রাজ কর্তৃক পরিপৃজিত হইতেন। গৌড় গোবিন্দ রাজার সময়ে এদেশে অনেক সন্তান্ত ব্যক্তি আগমন করেন, তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ চত্রপাণি দত্তের পুত্র মহীপতি দত্তের নাম এখানে উল্লেখযোগ্য ।১১ ৬. “জানিহ শ্রীহট্ট নামে আছে পূর্ব দেশ। ব্রহ্মপত্রের পূর্ব্ব স্থান আছে সবিশেষ । গৌড় গোবিন্দ নাম তাহার নৃপতি। শব্দভেদী বাণ ধার আছিল অধীতি। নানা সুখে রাজ্য করে গোবিন্দ নরবর |” ইত্যাদি-দত্তবংশাবলী । (মুদ্রিত) “১০৪০ [70180015 11151015 0110 9101১01০৬01 016 1000018 1)1৬15101) 9911)61 ১০০0101). ৮. 291. ৮. “গড় দুয়ারে গোবিন্দের ছিলো যে থাকান।' কেল্লা এক ছিল তাতে পর্বত প্রমাণ!” পুনঃ-“গড় দুয়ার নামে এক মহল্লার নাম। সেখানে ছিলেক তার সরদারি সামান।” -তোয়ারিখে জলালি ৯. বিগত ভূকম্পের পর (১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে) মিনারের টিলায় জজ সাহেবের বাসের জন্য “বাঙ্গালা” প্রস্তৃত হইতেছিল, তথকালে ৫/৬ ফিট মাটির নীচে সন্যাসীদের ব্যবহারোপযোগী “ভাং” প্রস্তুত করিবার দুইটি “খলপাত্র” প্রাপ্ত হওয়া যায়। ইহার একটি ইগ্নাস্‌ ষ্টোন নির্মিত,-উহা ১৩ ইঞ্চি দীর্ঘ, ১ ফুট প্রস্থ ও ৫ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট । দ্বিতীয় খলপাত্রটি ছেগুষ্টোন নির্মিত এবং এক ফুট মাত্র দীর্ঘ । এই দ্বিবিধ প্রস্তরই ব্রহ্মপুত্র কি সুরমা উপত্যকায় মিলে না। ইহা দেবালয়বাসী ভিন্নদেশাগত সন্যাসীদের দ্বারা আনীত হইয়াছিল। পরিদর্শক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ . “নকুলেশঃ কালীপীঠে শ্রীহট্টে হাটকেশ্বরঃ।” -মহালিঙ্গেশ্বর তন্ত্র। হাটকেম্বরের বিস্তৃত বিবরণ ১ম ভাগের ৯ম অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য । ১১. রাসায়ণের ইতিহাস প্রণেতার মতে চক্রপাণি দত্ত খৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দীর লোক। জাতিতন্্বারিধি প্রণেতা শ্রীযুক্ত উমেশ চন্দ্র গুপ্ত উক্ত গ্রন্থে (১ম ভাগ ২২৫ পৃষ্ঠা) লিখিয়াছেন যে, খৃষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে তিনি আবির্ভূত হন। যদি ইহাই হথার্থ হয়, তবে চতুর্দশ শতাব্দী? গৌড় গোবিন্দ কিরূপে চক্রপাণি দত্তকে আনয়ন করিতে সমর্থ হইবেন? তাহা হইলে পূর্যোক্ত মতই যথার্থ বোধ করা সঙ্গত; অর্থাৎ গোবিন্দ সংজ্ঞারূপ বিশেষণে নির্দেষিত এ বংশেরই পূর্বতন কোন নৃপতিই চক্রপাণি দত্তের আনয়নকারী। লি ১ ০ ১৮৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড চক্রপাণিদত্ত ও মহীপতির কথা চক্রপাণি দত্তের শ্রীহট্রাগমন কাল সন্দেহাত্মক হইলেও গল্লাংশটি বেশ। কথিত আছে, গৌড় গোবিন্দের পেটের ভিতর কঠিন ব্যাধি হইয়াছিল । দেশের যত চিকিৎসক, বহু চেষ্টা করিয়াও রোগ আরোগ্য করিতে সমর্থ হইলেন না। তথকালে সুশ্তের টীকাকার ও “চক্রুদত্ত” প্রণেতা চক্রপাণি দত্তের সুখ্যাতিতে দেশে পরিপুরিত; প্রত্যেক শিক্ষিত ও সভ্য ব্যক্তিই তাহার সুখ্যাতি শ্রন্ত ছিলেন।১২ গৌড় গোবিন্দ যখন দেখিলেন যে, দেশীয় বহুতর বিজ্ঞ চিকিৎসক তাহাকে নিরাময় করিতে সমর্থ হইলেন না, তখন তিনি চক্রপাণি দত্তকে আনয়নের জন্য তৎসকাশে জনৈক দূত প্রেরণ করিলেন। ভিষগৃশ্রেষ্ঠ বৈদ্যপ্রবর তখন জরাগ্রস্ত-অতি বৃদ্ধ, তখন তিনি মৃত্যুর প্রতীক্ষা করিতেছিলেন, কিন্তু সেই ভিষথাজের ভয়ে সেই জরাজীর্ণ অবস্থায়ও রোগ যেন তাহার কাছে আসিতে অসম্মত হইতে ছিল, মৃত্যু যেন তদীয় স্ত্রম রক্ষার্থে দূরে দীড়াইয়াই অপেক্ষা করিতেছিল, তদবস্থায় তাহার বিদেশ গমনের সম্ভাবনা ছিল না। বিশেষতঃ তৎকালে গঙ্গাতীর ত্যাগ করতঃ একপদ অন্যত্র গমনেও তাহার অভিপ্রায় ছিল না। কাজেই তিনি বলিয়া দিলেন যে, ঘাটে নৌকা বাধা, এ বয়সে তিনি কামরূপের অন্তর্গত গঙ্গাহীন শ্রীহন্টে যাইতে পারিবেন না।১৩ রাজা গোবিন্দ দূতমুখে এতৎ সংবাদ শ্রবণে নিরাশ হইলেন । রাণী ঘ্রিয়মানা হইলেন এবং বৈদ্যশ্রেষ্ঠকে আনাইয়া স্বামীর চিকিৎসা করাইতে দৃঢ় সংকল্প করিলেন। তিনি নিজ অঙ্গের অলঙ্কার উন্মোচনপুবর্বক এক পেটিকাতে ভরিয়া সেই দূত হস্তে অর্পণ করতঃ কহিলেন, “দূত! পুনবর্ধার তুমি সেই বৃদ্ধ বৈদ্যের নিকট গমন কর। এই অলঙ্কার তাহার হাতে দিবে, বলিবে যে তিনি যখন আগমন করিবেন না, তখন আর মহারাজের আরোগ্যের আশা কোথায় তবে আর এ অলঙ্কারের প্রয়োজন কি? বলিবে--হতভাগিনী রাণী-_তাহার দুঃখিনী কন্যা রাজার অনুগামী হইবে, এ অলঙ্কার আর ধারণ করিবে না।” দূত যথাকালে চক্রপাণি দত্তের সমীপে পুনবর্বার পক্ষান্তরে শ্রীহট্রের লাখাই ও সপ্গ্রামের দত্তবংশীয়গণ আপনাদিগকে চক্রপাণি তনয় মহীপতির সন্তান বলিয়া পরিচয় দেন। মহীপতি হইতে লাখাই দত্ত বংশে বর্তমানে ১৪/১৫ পুরুষ এবং সগ্তগ্ামের দত্ত বংশে ২১/২২ পুরুষ চলিতেছে । এতদ্বারা মহীপতিকে চতুর্দশ শতাব্দীর পূরবী বলা সঙ্গত হয় না। (এইপুরুষ সংখ্যা শাহজলালের অনুচরগণের বংশাবলীর সহিত এঁক্য হয়।) চক্রপাণি দত্ত দ্বাদশ শতাব্দীর লোক হইলে বংশাবলী গুলিকে বিশুদ্ধ বলিতে সাহস হইবে না। ১২. “দুর্গা উপাসনা করি সেই মহামতি । সিদ্ধ বৈদ্য হইয়া জগতে হৈলা খ্যাতি।”-ভাবনী প্রসাদ দত্তের লিপি। ১৩. “নানা সুখে রাজ্য করে গোবিন্দ নরবর। দৈব্য যোগে ব্যাধিহেল উদর ভিতর বৈদ্য হীন দেশ তাক না যায় চিনন। বড় কষ্ট পায় প্রায় হাল মৃত্যুপন্ন॥ শুনিলা রাজায় চক্রদত্তবৈদ্য নাম । মনেকৈল তাহান আসিলে পাব পরিব্রাণ॥ অতি সবিনয় করি পাঠাইলা দূত । আসিয়া চিকিৎসা মোর করিতে উচিত! দূত গিয়া কহিলেক সকল কথন । প্রত্যুত্তর দিলা তবেবৈদ্য মহাজন॥ কামদেশে প্রভু আমি চাই না যাইমু। বিশেষতঃ গঙ্গাছাড়ি অস্তর না হইমুঃ এই প্রত্যুত্তর দিলা যদি চক্রদত্ত।” ইত্যাদি ।-দত্তবংশাবলী । (মুদ্রিত) প্রথম অধ্যায় : রাজা গোবিন্দ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১৮৫ উপস্থিত হইয়া রাণীর অলঙ্কার প্রদান করতঃ তাহার কথা জানাইল। তখন জরাগ্রস্থ বৃদ্ধ বড় চিন্তিত হইলেন,_-যদি রাজার মৃত্যু হয়, তবে আমিই নারী বধের কারণ হইব ।” দত্তবরের দয়া ও ধর্মভয় তাহার দৃঢ় সঙ্কল্প ভাঙ্গিয়া দিল, তিনি যাইতে সত্র প্রস্তুত হইলেন ।১৪ এবং প্রাণাধিক পুত্রগণ সহ শ্রীহট্টরে আসিলেন।১৫ যাহার দর্শনেই রোগ পলায়নকরে, তাহার সুচিকিৎসা গুণে রাজা যে সত্বরেই আরোগ্য লাভ করিবেন, তাহার আর বিচিত্র কি? রাজা আরোগ্য লাভ করিলে তিনি কাল বিলম্ব না করিয়া গঙ্গাতীরে প্রত্যাগমন করিতে প্রস্তুত হইলেন। রাজা তাহাকে এক বিশাল জনপদ প্রদান করিয়া সকাতরে তথায় বাসের জন্য প্রার্থনা করিলেন; কিন্তু কিছুতেই ফল হইল না। ধর্মভীরু দত্তরাজ গঙ্গাতীর ব্যতীত অন্যত্র দেহত্যাগ করিবেন, কিছুতেই এ কল্পনা মনে স্থান দিতে পারিলেন না। তবে রাজার নিতান্ত নিব্বন্ধাতিশয়ে নিজ জ্ঞোষ্ঠ পুত্র ক্রমদীশ্বরকে সঙ্গে লইয়া চলিয়া গেলেন; মধ্যম ও কনিষ্ঠ পুত্র মহীপতি ও মুকুন্দ এদেশে রহিলেন। রাজা ইহাদিগকেই মহাসম্মানে সেই ভুসম্পত্তি দান করিয়া স্থাপন করিলেন। ইহারাই সাতগাও, লাখাই প্রভৃতি স্থানের দত্তবংশের আদি পুরুষ, তাহাদের বংশ বিবরণ পশ্চাৎ বক্তব্য । রাজা গৌড় গোবিন্দ আরোগ্য লাভ করিলেন বটে, কিন্তু অধিক দিন শান্তিতে রাজ্য ভোগ করিতে পারেন নাই, ইহার পরেই তাহাকে ভীষণ মোসলমান বিগ্রহে ব্ব্িত হইতে হয়। শামস্উদ্দীন ও প্রতাপমাণিক্য মোহাম্মদ তোগলক নামক কৃতবিদ্য সম্রাট যখন পারস্য ও চীনদেশ বিজয়ের দুরাশায় পরিচালিত হইয়া আপনার শক্তি ক্ষয় করিতেছিলেন, যখন করমণ্ডল, কর্ণাট প্রভৃতি করতলগত ১৪. “শুনিয়া রাজার রাণী বিস্মিত হইলা। কিমতে আসিবা বৈদ্য ভাবিতে লাগিল॥ আপনার অলঙ্কার সকল খসাইয়া। পুন দূত স্থানে দিলা ঝাপাতে ভরিয়া॥ বলে দূত কহিবা বচন আমার । আসিয়া চিকিৎসা যেন করেন রাজার॥ তবে এই অলঙ্কার সকল পরিমু। না আসিলে রাজা মরে সঙ্গে আমি যাইমু॥ শুনি দূত গিয়া যদি এইমত কহিল। শুন চক্রদত্ত মনে ভয় বড় পাইল! যদি না যাই তথা রাজা যদি মরে। তবে নারী বধ দিব আমার উপরে! সব্র্ব পাপ হৈতে নারী বধ পাপ অতি। এতেকে শ্রীহষ্ট আমি যাইমু সম্প্রতি”-দত্ত বংশাবলী । (মুদ্রিত ।) ভবানীপ্রসাদ দত্তের লিপিতেও এ প্রসঙ্গ আছে, এস্থলে আর উদ্ধৃত করার আবশ্যকতা নাই। ১৫. মুদ্রিত দত্তবংশাবলী বিবরণীতে চক্রপানি দত্তের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুত্রের নাম মহীপতি ও মুকুন্দ বলিয়া লিখিত আছে; প্রথম পুত্রের নামোল্লেখ নাই। জাতিতন্ত্ব-বারিধিতে চক্রপাণিতনয়ের নাম ক্রমদীম্বর বলিয়া লিখিত আছে, সুতরাং তীহাকেই জ্ঞোষ্ঠপুত্র বলা যাইতে পারে । ভবানীপ্রসাদ দত্ত শ্রীহষ্ট্রে, অবস্থিত পুত্রেরই মাত্র নাম উল্লেখ করিয়াছেন, যথা- “মহীপতি নামে পুত্র এদেশে রাখিলা। জ্যেষ্ঠ পুত্র সঙ্গে করি নিজ দেশে গেলাঃ” ১৮৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড প্রদেশে দিন্ীর অধীনতা ছেদন করিতেছিল, তখন বঙ্গদেশে ইতিহাস প্রসিদ্ধ সুলতান শামস্উদ্দীন ইলিয়াস খাজে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অবস্থিত ছিলেন। শামস্উদ্দীনই প্রকৃতপক্ষে বাঙ্গালার স্বাধীন অধিপতি ছিলেন। তিনি রাজ্য লাভের চারিবংসর পরে (১৩৪৭ খৃষ্টাব্দে) জাজিনগর (কসবা) আক্রমণ করেন। তখন প্রতাপমাণিক্য ব্রৈপুর রাজ-সিংহাসনে ছিলেন। এঁ সময় সমস্ত বঙ্গদেশ মোসলমানের কুক্ষিগত হয় এবং তাহারা সুবর্ণথামে রাজধানী স্থাপন করেন। এ স্থান হইতে পূর্বাঞ্চল আক্রমণ করা সহজ হইয়াছিল । তিনি জাজিনগর (কসবা) আক্রমণ ও যুদ্ধে প্রতাপমাণিক্যকে পরাস্ত করতঃ অনেক অর্থ ও হৃত্তী প্রাপ্ত হন।১৬ এই আক্রমণের পর জাজিনগর (কসবা) পরিত্যক্ত হয় ও রাজধানী উদয়পুরে নীতহয় বলিয়া কথিত আছে। শামস্উদ্দীনের এই আক্রমণ ও প্রভাব এতদঞ্চলীয় তাবৎ নৃপতিরই আশঙ্কার কারণ হইয়াছিল । রাজা গৌড় গোবিন্দ এই শামস্উদ্দীনের সমসাময়িক ছিলেন । শামস্উদ্দীন শ্রীহট্রে আসিয়াছিলেন বলিয়া জানা যায়। তাহার মৃত্যুর পরই এদেশে মোসলমান রাজ্য স্থাপিত হয়। শাহজলাল নামে বিভিন্ন ব্যক্তি শাহজলাল নামক জনৈক পশ্চিম দেশীয় দরবেশ শ্রীহন্টের শেষ হিন্দু নৃপতি গোবিন্দকে পরাভূত করেন। শাহজলালের সময় নিদেশি সম্বন্ধে মতবৈষম্য রহিয়াছে । তোয়ারিখে জলালিতে যে হিজরী অব্দ সংখ্যা১৭ লিখিত আছে, তাহা ঠিক নহে। প্রসিদ্ধ মুরভ্রমণকারী ইবন বাতোতা (আবু আব্দুল্লা ইবনে) বর্ণনা করিয়াছেন যে, কামরুপের পার্বত্য প্রদেশে ১৩৫১ খৃষ্টাব্দে তিনি এক শাহজলালকে দেখিয়াছিলেন, সেই শাহজলাল খানবালিক (পিকিন) বাসী বুরহান উদ্দীন নামক আর এক পীরকে উপহার দিবার জন্য তাহার নিকট এক খিলকা প্রদান করিয়াছিলেন । ইবন বাতোতা দৃষ্ট সেই শাহজলালের জন্স্থান তাব্রজদেশ।১৮ শ্রীযৃত কৈলাস চন্দ্র সিংহ মহাশয় ইহাকে শ্রীহস্ট্রের শাহজলাল মনে করিয়া ভ্রমে পতিত হইয়াছেন; ইনি আমাদের উদ্দিষ্ট শাহজলাল হইতে ভিন্ন ব্যক্তি।১৯ তাব্বিজি শাহজলাল-উদ্দীন ১৫০ বর্ষ বয়সে মানবলীলা সংবরণ করেন বলিয়া কথিত হইয়াছে। কিন্তু শ্রীহট্টাগত শাহজলাল ৬২ বৎসর কাল জীবিত ছিলেন সুতরাং ইহারা ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন।২০ ৯৬. "45 5001) 25105 [00070 171105611 950101151)60 111 1015 2000701109, 106 17৬0000 0100 00171110915 01 1116 1২014 ০9110861201 (110019), 070 001091100 0101 [01117001009 2 £1201 5001) 91 100169, 2110 10 [1৬০ 11111) 10011000101 ৬৪101901016 ০1610190115, ৬/111) ৬/1101 11610001060 11) 011011001)101015 07001101, -516৬/0105 11151019 01 9611591. 9০০1. 1৬. 1). 95. ১৭. হিজরী ৫৬১-১১৬৫ খৃষ্টাব্দ । এই সময়টা বিখ্যাত থানেশ্বর যৃদ্ধের প্রায় ৩০ বৎসর পূর্ববর্তী । তখনও দিল্লী মোসলমান সাম্রাজ্যের রাজধানী হয় নাই। ১৮, ৮1125010101) 5895 11001 91701001812] 02116 01) %61)01] 2100 1215 001160 %1701]1 10 015117100151) 1011) (01) 01767 9211015 01 010 52110 170170 50101) এ 91101) 18121 12101171৬10 1156 01 [901701121).-/111010] [২০011 ০01 010 /১1০1601051091 ১01৮০, 3017801 011010.-3 1. 3910018.-1903 09. 24. ১৯, 1015 01620010190 589 ০1 19191-010-011) 11900112115 0116 50186 25 91101190121 01 9/11061. 11151008010" 01 0110 18061171011 80166 ৬/111) 101) 38101181), 010 1015 5111500181 0101 0011) 0000111015 51100010 106106101) 2 1931011217- 1011-011.1 -]8011181 01080 /১519115 90০1019 011301891. ৬০01. [+501৬, সো, 2. 10, 3, 2230, ২০. তোয়ারিখে-জলালি মতে ১ম শাহজলালের জনুস্থান বোখারা, দ্বিতীয়ের তাবিজ দেশ, তৃতীযের এমন এবং চতুর্থের গঞ্জেরয়া দেশ। প্রথম অধ্যায় : রাজা গোবিন্দ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ১৮৭ বিভিন্ন বুরহানউদ্দীন ও তদীয় পুত্র হত্যা যখন শাহজলাল শ্রীহট্রে আগমন করেন, তখন এদেশে মোসলমান সংখ্যা ছিল না বলিলেই হয়। তরফে তখন নুরউদ্দীন নামক এক মোসলমান সপরিবারে বাস করিতেন । এঁ নুরউদ্দীন সপরিবারে ছিলেন বলিয়া জানা যায়। এই বুরহানউদ্দীন পূর্বোক্ত বুরহানউদ্দীন পীর হইতে পৃথক ব্যক্তি। যা হোক, ইহারা দূরবর্তী হিন্দু রাজতে (সম্ভবতঃ ধর্ম্ম বিস্তারের গুঢু উদ্দেশ্য) ভয়ে ভয়ে বাস করিতেন । শ্রীহট্রের টুলটিকরবাসী উক্ত বুরহানউদ্দীন একদা নিজ পুত্রের জন্মোপলক্ষে একটি গোহত্যা করেন। তীহার দুর্ভাগ্যবশতঃ একটা চিল এক খণ্ড মাংস আনিয়া জনৈক ব্রাহ্মণ গৃহে (মতান্তরে রাজগৃহে) নিক্ষেপ করে। এই বিষয় রাজার গোচরীভূত হইলে, রাজা ক্রুদ্ধ হইয়া, বুরহানউদ্দীনের হস্ত ছেদন ও তদীয় শিশুপুত্রকে নিহত করেন।২১ সেই মোসলমান প্রভাবের কালে এই ঘটনাটি সমস্ত মোসলমান সম্প্রদায়ের পক্ষে অপমান সূচক হইয়াছিল ।২২ সুহেল-ই- এমন গ্রন্থে অনুবাদ তোয়ারিখে-জলালিতে লিখিত হইয়াছে যে, বুরহানউদ্দীন স্বীয় অত্যাচারীর প্রতিহিংসা সাধনের উপায় চিন্তা করিতে করিতে মোসলমান সম্প্রদায়ের রাজধানী দিল্লী নগরীতে উপস্থিত হন। তিনি সম্রাট সদনে নিজ দুঃখ কাহিনী জ্বাপন করিলে সম্রাট “আলাউদ্দীন” নিজ ভাগিনেয় সিকান্দর শাহকে শ্রীহট্ট জয়ার্থে প্রেরণ করেন।২৩ ২১. [অনুরূপ ঘটনা ।]-শাহজলাল, বুরহান উদ্দীন ও সিকান্দর শাহ প্রভৃতি নামগুলি মাত্রই যে পশ্চিম (পাতুয়া), ও পৃর্র্ব (শ্রীহট্ট) প্রদেশীয় “গৌড়ের” এতিহাসিক বিবরণের সহিত সমভাবে সংজড়িত, তাহা নহে,-উভয় গৌড়ের বৃত্তান্ত ঘটিত ঘটনাংশেও অনেক সাদৃশ্য আছে। বিক্রমপুরে এইরূপ জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে, দ্বিতীয় বল্লালসেনের সময়ে বাবা আদম নামক দরবেশ একদল সৈন্যসহ রামপাল আক্রমণার্থ আগমন করেন । মহারাজ দ্বিতীয় বল্লালসেনের রাজত্বে একটি মোসলমান বাস করিত, সে নিজ পুত্রের জন্মোপলক্ষে একটি গোহত্যা করে। একটা চিল একখণ্ড মাংস মুখে করিয়া রাজপ্রসাদোপরি উপস্থিত হয়৷ উহা রাজার দৃষ্টি পথে পতিত হইল; তদ্ষ্টে রাজা অতিশয় ক্রুদ্ধ হইলেন, এবং গোহত্যার কারণ মূলক সেই শিশুকে আনিয়া তৎক্ষণাৎ হতভাগ্য পিতার সম্মুখে নিহত করিলেন। এই পুত্রশোকাতুর মোসলমান প্রতিহিংসাবৃত্তি চরিতার্থ করিবার জন্য বাবা আদমের সহায়তা গ্রহণ করে । বাবা আদম রামপাল উপস্থিত হইলে তৎসহ মহারাজ দ্বিতীয় বল্পালসেনের বিরোধ উপস্থিত হয়, কিন্তু বাবা আদম অচিরেই বল্পাল হস্তে নিহত হন। এই গল্পটি ডাঃ ওয়াইজ সাহেব আসিয়াটিক সোসাইটির জর্ণলে বর্ণন করিয়াছেন এদুটি প্রায় একরূপ, কোনটি যে কাহার নকল, তাহা বলা যায় না। তবে শ্রীহট্রের ঘটনাটির এঁতিহাসিক ভিত্তি অপেক্ষাকৃত দৃঢ়তর এবং উহা বহুল প্রচারিত । -৬1৫০ /519010 9. 3. ৬০].. 50111. 70101. ৮. 285. ২২, "0907 01011) 5911061, ৬/৪$ 01121100119 10160 0 21006 01 11111001015. 0001116 15 100/1) 01001 01 01011 ৫0951১ 0ো (01101065, 0114 0069 ৬০1০ [09001 0০119 10001 1011095 ৬/10. 1955 [9০৬/0 0110 11111000109 101) 11701 9110109600১ 01018 22011100901 301109] ৫ 100 [015011 099. 1176 0০৬/1191] 01016 1951 [২219, 0301081 0010110. 15 590101012৬6 0601) ৫0০ (0115 52৮৫111) 10-৬/2105 ৪ 0110৬/61 01 010 1970101701. 7115 121) 190 580116060 2 ০০৮ (0 06101916 086 01101) 01 2 501. 4১3 010 2021102] 525 061178 015171011096190 0 10106 5৮/00160 ৫০৬/1, ০2181) 00 এ 01606 01 1091, 0110 01010094 11 117 010 170056 01 3 11015 9190101011. 017 110 [01101 1১210 16001100 00 0110 1011, 110 0100160 10110 0100101216 1101)1 00 06 101160 010 001 010 0176 (0118615 1)0110." 73, 0১৯1015৯১১০) [01511100 0926106015 ৬০|., 1]. (১1160) 13. 23. ২৩. বুরহান উদ্দীন ও শাহজলালের সময় নির্শয় নিয়া নিতান্ত গোলযোগ । আলাউদ্দীনের রাজত্ব কাল ১২৯৬-১৩১২ ৃষ্টাব্দ। শাহজলালের অনুচর নসিরউদ্দীন, ইউসুফ, ইত্যাদির বংশাবলী আলোচনায় তাহাকে আলাউদ্দীনের সমসাময়িক বলা যাইতে পারে না । মহামতি হান্টার সাহেবের মতে শাহজলালের শ্রীহট্র বিজয় ১৩৮৪ খৃষ্টাব্দে, ১৮৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্িতীয় খন সুলতান সিকান্দর শাহ শাহজলালের বিবরণের সহিত বঙ্গাধিপতি শামস্উদ্দীন, সিকান্দর শাহ ও আদিনা মসজিদ ইত্যাদি বহু পরিবিদিত কথায় সংস্রব থাকায় আমাদের বোধ হয়, সুহেল-ই-এমন রচয়িতা এস্থলেও ভ্রম করিয়াছেন । প্রতিহিংসা পরায়ণ বুরহানউদ্দীন, প্রথম উদ্যমেই বোধ হয়, দিল্লী নগরে দৌড় না দিয়া পার্শ্ববর্তী সুবর্ণগ্রামেই গিয়াছিলেন। তখন সুবর্ণগ্রামে প্রবল প্রতাপাবিত শামস্উদ্দীন ইলিয়াস খাজে শাসন দণ্ড পরিচালন করিতেছিলেন, তিনিই বুরহানউদ্দীনের নির্যাতন বার্তা শ্রবণে গৃহপার্খবর্তী হিন্দুদের ঈদৃশ প্রভাব দমন করা আবশ্যক বোধে নিজ তনয় সুলতান সিকান্দর শাহকে গৌড় গোবিন্দের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন ।২৪ ইহাই সম্ভবপর ও সুসঙ্গত | যাহাহউক সিকান্দর সসৈন্যে শ্রীহট্টে আগমন করিয়া কিছুই করিতে পারেন নাই; রাজ গোবিন্দের কৌশলে যুদ্ধে পরাজিত ও অপমানিত হইয়া শ্রীহট্ট পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হন।২৫ পিতার মৃত্যুর পর, ১৩৫৮ খৃষ্টাব্দে সুলতান সিকান্দর শাহ সিংহাসনারোহণ করেন, কিন্তু সম্রাটের সহিত আহবে লিপ্ত থাকায় তিনি শ্রীহট্টের প্রতি আর মন দিতে পারেন নাই। সুচতুর গৌড় গোবিন্দ সম্ভবতঃ এঁ সময় তাহার সহিত কোন প্রকারে সন্ধি স্থাপন করিয়া থাকিবেন। ১৩৬১ খৃষ্টাব্দে সুলতান সিকান্দর শাহ বিখ্যাত আদিনা মসজিদ প্রস্তুত করেন।২৬ তোয়ারিখে-জলালিতে লিখিত আছে যে, অন্য এক আদিনা মসজিদ প্রস্তুত করিতে গৌড় গোবিন্দ অনেক মাল মসাল্লা প্রেরণ করিয়াছিলেন। ইহাতে স্পষ্টতঃ জানা যাইতেছে যে, এ শেষোক্ত আদিনা মসজিদ শ্রীহট্টে ছিল।২৭ শ্রীহট্টের ছিতীয় আদিনা মসজিদ শ্রীহট্টের পীরমহল্লা নামক স্থানে এ সময়ে শাহ সিকান্দরের মনস্তুষ্টির আশায় তদীয় বিখ্যাত আদিনা মসজিদের নামানুক্রমে দ্বিতীয় আদিনা মসজিদ প্রস্তুত হইয়াছিল । ইহা যে তীহারই অভিমতে হইযা থাকিবে, তাহা সহজেই বোধ হয়। সুতরাং সিকান্দর শাহকে শ্রীহষ্ট বিজেতা বলিয়া তোয়ারিখে--জলালিতে উল্লেখ না থাকিলেও, শ্রীহন্টে যে তাহার কতক প্রভাব ছিল, তদ্বিষয়ে সন্দেহ বঙ্গাধিপতি শামস্উদ্দীনের সময়ে ঘটে । অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় (প্রদীপ-১৩১১ বাংলা কার্তিক) লিখিয়াছেন, যথা-“বড়ই দুঃখের বিষয় যে, সুহেল-ই-এমনের লিখিত এই সন তারিখ, বয়ক্রম, অবস্থানের কাল, সমস্তই অবিশ্বাস করিতে হইল। যদি শাহজলাল আলাউদ্দীনের মৃত্যুর বৎসরও শ্রীহটে পৌছিয়া থাকেন, তথাপি ৩০ বৎসরে ১৩৪৬ খৃষ্টাব্দ মাত্র হয়।” তিনি আরও লিখিয়াছেন, “এই শাহজলাল বিবরণের সঙ্গে জনৈক শামস্উদ্দীনের নাম শ্রুত হওয়া যায়, কিন্তু মোসলমান রাজত্বের প্রথমাংশে বঙ্গের সিংহাসনে শামস্উদ্দীন নামক একাধিক ব্যক্তি অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৩৪৩-১৩৫৮ খৃষ্টাব্দে যিনি বঙ্গের শাসনদণ্ড পরিচালন করিয়া ছিলেন, তাহার নাম সুলতান শামসউদ্দীন ইলিয়াস খাজে ছিল। ১৩৮৩-১২৮৫ খৃষ্টাব্দে যিনি বঙ্গের শাসনদণ্ড পরিচালনা করিয়াছিলেন তিনিও শামস্উদ্দীন নামে অভিহিত ছিলেন। +++ হাণ্টার সাহেব কৃত বিবরণীতে দ্বিতীয় শামস্উদ্দীনকেই শাহজলালের সমসাময়িক বলা হইয়াছে।”-প্রদীপ ২৫৫ পৃষ্ঠা। ২৪. বালক-পাঠ্য নিম্পপ্রাথমিক পাঠ পুস্তক ১ম ভাগের ১২৩ পৃষ্ঠায়ও এই.-কথাটি লিখিত হইয়াছে । ২৫, ৮1116 01) 21001164600 1115 ০০-1511610801515 01101]. 0110 211 017) 525 065198101160 0171067 311001001 9191), 010017)61 ৬/1101 170 590065$. -/১116115 95501) [0150101 0826106615 ৬০1. 11. (১911901) 19. 23. ২৬. "[) 1361, 5০10011061 6160(050 016 81001 /১017101105000, 11097 [6100." 7৬01-1-710)9 0001 11110 1213001% 01 90121. 0, 15 ২৭. “আদিনা মহজেদ বলি ছিল তার নাম। জুম্মার নামাজ তাহাতে পড়িত তামাম ।”-তোয়ারিখে জলালি প্রথম অধ্যায় : রাজা গোবিন্দ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১৮৯ নাই। খুব সম্ভব গোবিন্দ তাহার সহিত কোনরূপ সন্ধিতে আবদ্ধ হইয়াছিলেন, সেই সন্ধির সর্তানুসারেই সিকান্দরের প্রভৃতা জ্ঞাপক দ্বিতীয় আদিনা মসজিদ নির্মিত হইয়াছিল । উক্ত আদিনা মসজিদ সম্বন্ধে এইরূপ জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে, ইহা ইস্পেন্দিয়ার কর্তৃক, গড়দুয়ারের পার্খবন্তী পীরমহল্লার চৌকিদীঘী নামক স্থানে নির্মিত হয়।২৮ কিন্তু সুগঠিত না হওয়ায় ইস্পেন্দিয়ারের মনোমত হয় নাই বলিয়া পরে স্থানান্তরিত হইয়াছিল । ইস্পেন্দিয়ারকে শ্রীহট্টের তদানীন্তন শাসনকর্তা বলিয়া অনুমান করা হয়, কেহ কেহ বা তাহাকে শামসুদ্দীন মনে করেন; কিন্তু ইস্পেন্দিয়ার ও শামস্উদ্দীন দুই ভিন্ন ব্যক্তি। ইস্পেন্দিয়ার ক্ষমতাপন্ ব্যক্তি ছিলেন, সন্দেহ নাই; এবং তিনি এই আদিনা মসজিদ নির্মাণের ভার প্রাপ্তে এতদুপলক্ষেই বিশেষভাবে প্রেরিত হইয়া থাকিবেন।২৯ যাহা হউক, শ্রীহস্ট শামস্উদ্দীন ও তৎপুত্র সিকান্দর শাহের করাল কবল হইতে অব্যাহতি লাভ করিয়াছিল । সিকান্দর শাহ রাজ্য প্রাপ্তির নয় বৎসর পরে মৃত্যুমুখে পতিত হন। যদিও এই সকল প্রত্যবায়ে শ্রীহট্ট পাঠানগ্রাস হইতে নিৃতি পাইয়াছিল।, তথাপি ইহার কিঞ্চিৎ পরেই যে মোসলমানগণ শ্রীহস্রে প্রবিষ্ট হইয়া শাসনদণ্ড পরিচালন করিতে সমর্থ হয়, তাহা নিঃসন্দেহে বলা যাইতে পারে। অনুরূপ ঘটনাবলী ও স্ম্রাটসদনে অভিযোগ যে সময়ে রাজা গোবিন্দ শ্রীহট্টের গৌড়ভাগ শাসন করিতেছিলেন, তখন তরফে একজন হিন্দু নৃপতি ছিলেন, ইহার রাজ্যাধিকার মধ্যে কাজি নুরউদ্দীন নামে এক জনৈক মোসলমান ভদ্রলোক বাস করিতেন, তিনি নিজপুত্রের বিবাহ উপলক্ষে একটি গোবধ করায়, ৪ স্বয়ং প্রাণদণ্ডে দণ্তিত হন। এই নুরউদ্দীনের ভ্রাতা কিছুদিন দিল্লীতে ছিলেন, উক্ত ঘটনার পর তিনি পুনরায় তথায় গমন করিয়া নিজ দুঃখ কাহিনী সম্রাটের গোচর করিবার চেষ্টায় ছিলেন ।৩০ ইতিপৃবের্ব বুরহানউদ্দীনের বিপদের বিষয় বর্ণিত হইয়াছে, বহু চেষ্টা করিয়াও তিনি পুত্রহত্যাকারীর প্রতিশোধ নিতে সমর্থ হইতে পারেন নাই। ঘটনাচক্রে বঙ্গাধিপতি গৌড় গোবিন্দকে দমন করিতে না পারায়, তাহার প্রতিহিংসানল তখনও নিব্্বাপিত হয় নাই; কাজেই তিনি উপায়ন্তর বিহীন হইয়া মোসলমানদের একমাত্র আশ্রয় দিল্লী নগরে উপস্থিত হন ও শেষ চেষ্টায় বৃত হন। তথায় কিছুদিন বাস করিয়া, সম্ভবতঃ কোন কোন আমীর ওমরাহের নিকট তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন ও তাহাদের যোগে নিজ দুঃখ কাহিনী সম্রাটের গোচর করেন। বুরহানউদ্দীন ও নুরউদ্দীন ঘটিত বিবরণ একরূপ, অভিযোগ একরূপ এবং প্রার্থনাও একরূপ। যাহাহউক, সম্রাট তাহাদের কর্ণপাত করিয়াছিলেন । আমাদের বিবেচনায় এই স্ম্রাট খিলিজী বংশীয় আলাউদ্দীন নহেন। পৃর্রবেই বলা গিয়াছে যে, খিলিজী বংশীয় আলাউদ্দীন এই ২৮. “শ্রীহন্টে শাহজলাল” গ্রন্থে লিখিত আছে যে, শাহজলালের উপদেশানুসারে ইহা নির্মিত হয়। একথা সত্য ডের লরি লরাউনাযানরর যারা রাহাত বোধ হয় না। ২৯, 10011150101 110062, 010 01050111 501100]) 01 1116 91100) 1910115 16100016 ৬/1065:- "110 /৯01110 0009]10 15 5810 10 19৬0 5100 0 [01110019012 0 [1800 1011) 01 71021170015 1108150, 15090100101 06116 01519165694 ৮101] 010 011501101) 01 0110 /৯01100 11085]10 0106100 115 10110৬01 11] 105 [01656111 5100 85 50000 010৬৩. 150১0101090 15 ৩8110009500 10106 0601) 00১/০1760 1115 015101101. +* ৬/10010 0১ ১1107) 51100105-000001) ০5 01) 11101061001 10111 91130118901. 11169 216 1৮40 [9015015,” ৩০. সৈয়দ আব্দুল আগফর কৃত তরফের ইতিহাস-৩২, ৩৩ পৃষ্ঠা । ৯০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড সময়ের পৃবর্বকার। এই সময়ে তোগল বংশীয় সম্রাট আলাউদ্দীন ফেরোজ শাহ দিল্লীসিংহাসনে আৰুঢ় ছিলেন।৩১ তিনি এই অভিযোগ শ্রবণে পূর্বাঞ্চলে মোসলমান প্রভাব প্রতিষ্ঠার জন্য আপন ভাগিনেয় সিকান্দর শাহ গাজীর৩২ অধীনে একদল সৈন্য দিয়া তীহাকে শ্ত্রীহস্টে প্রেরণ করেন। 'সিকান্দরের পরাজয় বুরহানউদ্দীনের অপমানকারী গৌড় গোবিন্দকে অগ্রে পরাভূত করাই সাব্যস্থ হইল। তদনুসারে সিকান্দর সসৈন্যে শ্রীহট্রে উপস্থিত হইলেন। তখন বর্ষা সমগত হওয়ায় হিন্দুস্থানের সৈন্য সকল রোগাক্রান্ত হইয়া পড়িয়াছিল; কিন্তু কুসংস্কার সম্পন্ন সৈন্য সমূহ ইহা সেই রাজার যাদুবিদ্যার প্রভাব জনিত উপদ্রব জ্ঞান করিয়া, নিতান্ত ভীত ও নিরদ্সাহ হইয়া পড়িল। ঈদৃশ ভীত ও যুদ্ধপরাজ্মুখ সৈন্যের দ্বারা কার্য্য সিদ্ধির সম্ভাবনা নাই ভাবিয়া সিকান্দর নূতন আর একদল সৈন্য আনাইলেন। কিন্তু কুসংস্কার রোগ পূর্রদল হইতে এই নূতন দলেও সংক্রামিত হইল, তাহারা সহযোগী সৈনিকদের মুখে যাদুবিদ্যার প্রভাবের সমাচার পাইয়া দ্বিগুণ ভীত ও একবারে হতোদ্যম হইল । সুতরাং সম্রাট ভাগিনেয় এই সিকান্দরের ভাগ্যে শ্রীহস্ট বিজয়ের যশোলাভ ঘটিল না।৩৩ তিনি ব্রহ্মপুত্র তীরে শিবির উঠাইয়া তথায় বাস করিতে লাগিলেন। এই ঘটনায় বুরহানউদ্দীন যৎপরনাস্তি দুঃখিত হইলেন; এমন কি, তিনি ভগ্নমনে দেশ ত্যাগ করতঃ মদিনা তীর্থে গমন করিতে মনস্থ করিলেন । তিনি মদিনা গমনোন্যুখ হইয়া যখন দিল্লীতে উপস্থিত হইলেন, ঘটনাক্রমে তখন প্রসিদ্ধ দরবেশ, হজরত শাহজলালের সহিত তাহার দেখা হইল। তিনি পূর্বাঞ্চলে মোসলমান ধর্মের দুরবস্থা, নিজের দুর্দশা ও মদিনা যা'গরার সঙ্কল্প তাহাকে জানাইলেন। বুরহানউদ্দীনের প্রমুখাৎ এতদ্বিবরণ শ্রবণে হজরত শাহজলাল ইহার প্রতীকার করিবেন বলিয়া তাহাকে আশ্বাসিত করিলেন। তখন বুরহানউদ্দীন নবোৎসাহে পথ প্রদর্শক রূপে তাহাকে লইয়া শ্রীহস্টাভিমুখে পুনবর্বার চলিলেন। ৩১. তরফের ইতিহাস প্রণেতা সৈয়দ আব্দুল আগফর সাহেবও এই স্ম্রাটকে আলাউদ্দীন ফেরোজ শাহ বলিয়া স্বীয়গ্রন্থে লিখিয়াছেন। -তরফের ইতিহাস, পৃষ্ঠা-৩৪ ৩২. মোসলমান শান্ত্রমতে ধর্ম্যুদ্ধে জেতার গাজী আখ্যা হইয়া থাকে । গাজী উপাধি থাকায় সিকান্দরের রণনৈপুণ্যের বিষয় জ্ঞাত হওয়া যায়। তোয়ারিখে জলালিতে স্ম্রাট ভাগিনেয় এই সিকান্দরের নাম আছে। শামস্উদ্দীন তনয় হইতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি । যথা তোয়ারিখে জলালিতেঃ- “আপন ভাগিনা ছিলা সিকান্দর শাহা। ডাকিয়া বলিলা তারে শুনিলেন যাহা! লড়াই করিতে তারে করিল ফরমান। তৈয়ার করিতে কহে লঙ্কর ও সামান! হাতি ঘোড়া উট আদি সমান লঙ্কর। সঙ্গে লইয়া যাইতে হবে ছিলট নগর॥ গৌড় গোবিন্দ নামে এক কাফের সরদার । মারিয়া মুন্ুক হৈতে করিবে বাহার॥” ৩৩. “কিছুকাল পরে শাহা খাতেরজমা হইল। উত্তম লঙ্কর আনি লড়িতে চাহিল কোমর বান্দিা যবে হইল তৈয়ার । হইল সাবেকি দশা সিকন্দর শাহার!” -তোয়ারিখে জলালি দ্বিতীয় অধ্যায় দরবেশ শাহজলাল দরবেশ শাহজলাল এমনি শাহজলালের জীবনী সম্বন্ধে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ আবশ্যক । ১৩১২ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের প্রদীপ পত্রিকায় শ্রদ্ধাম্পদ বন্ধু শ্রীযুক্ত পদ্ননাথ বিদ্যাবিনোদ মহোদয় “ফকির শাহজলাল” শীর্ষক একটি সুলিখিত প্রবন্ধে যাহা লিপিবদ্ধ করিয়াছেন, এস্থলে সেই প্রবন্ধ হইতে অধিকাংশ উদ্ধৃত করা হইল । “জনুস্থান]”-_পুণ্যভূমি আবের হেজাজ পবিব্রতম স্থান। এ স্থানে গিয়া, মক্কা মদিনা প্রভৃতি মহাপুরুষ মোহাম্মদের লীলাভূমি সন্দর্শন পূর্বক হজ উদযাপন করিয়া “হাজি” নামে পরিচিত হইতে ধর্মপ্রাণ মোসলমান মাত্রেরই প্রবল আকাজ্কা। সেই হেজাজ ক্ষেত্রের সংলগ্ন দক্ষিণ ভূভাগই এমন এবং উহাই শাহজলালের জন্মভূমি । “জন্ম সময়]”- পুর্বপ্রবন্ধে যাহা লিখিত হইয়াছে, তাহাতে এই মাত্র বলা যাইতে পারে যে সম্ভবতঃ খৃষ্টীয় (চতুর্দশ শতাব্দীর প্রারশ্জে) শাহজলাল জন্ম পরিগ্রহ করেন। “পিতামাতা]”--হজরত মোহাম্মদ যে বংশে জন্মিয়াছিলেন, সেই কুরেষিবংশীয় এব্রাহিমের পুত্র মাহমুদই শাহ জলালের জনক ছিলেন। শাহজলালের তিনমাস বয়ঃক্রম কালে মাতা স্বর্গগামিনী হন। পিতা মাহমুদও কাফেরের সঙ্গে ধর্শযুদ্ধ করিতে গিয়া প্রাণ বিসর্জন করেন। “ধর্ম গুরু]”--এই অনাথ শিশুর প্রতিপালন ভার তদীয় মাতুল সৈয়দ আহমদ কবীর নামক মহাত্মা গ্রহণ করিলেন। তিনিই আবার শাহজলালের বয়€প্রাপ্তির পর তাহার ধর্ম জীবনের গুরু ভার গ্রহণ করিয়া তদীয় দীক্ষা গুরুর পদে সমাসীন হইয়াছিলেন। গুরু পরম্পরায় শাহজলাল, মোসলমান ধর্ম প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদ হইতে অষ্টাদশ স্থানীয় ছিলেন ।”১ ১. মোহাম্মদ (৫৭০-৬৩২ খৃষ্টা) শেখ আহমদ দিবুরী মা শেখ ওজিউদ্দীন হবিব আজমী মকদদূম বাহাউদ্দীন শেখ দায়ুদ তায়ী আবুল ফজল সদর উদ্দীন লিক ভি জাধুরতহ | | সৈয়দ জলাল উদ্দীন বোখারী ৮9 দিনুরী শাহজলাল মজঃরদ-- (প্রদীপ) শেখ মোহাম্মদ ১৯২ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড “মৃগ কাহিনী1”--পবিভ্র মক্কাধাম সৈয়দ আহমদ কবীরের বাসস্থান বা সাধনা স্থান ছিল। শিষ্য ভাগিনেয় শাহজলালও তৎসঙ্গে অবস্থান করিয়া বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সাধনমার্গে অগ্রসর হইতে ছিলেন।'--একদা এক হরিণ সহসা সন্ত্রাসিতভাবে কবীরের কুটীর দ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইল; এক দুর্দান্ত ব্যাঘ্ব তাহাকে আক্রমণ করিয়াছিল। শাহজলাল তদৃষ্টে শরণাপন্ন ও আতঙ্কিত হরিণকে আশ্রয় দিলেন এবং চপটাঘাত পূর্ব্ষক ব্যা্ধকে বিতাড়িত করিলেন। ইতিহাস প্রসিদ্ধ শরণাগতের প্রাণ রক্ষা করিলেন। “[সিদ্ধিলাভ]”--এই কার্য্যে গুরু তাহার প্রিয় শিষ্ের সিদ্ধির পরিমাণ বুঝিতে পারিলেন। তিনি সন্তোষ প্রকাশ পূর্বক শাহজলালকে বলিলেন “বৎস, তোমার অদ্যকার কার্য্যক্ষমতা দেখিয়া বিশ্বাস হইল যে, তোমার ও আমার আধ্যাত্মিক অবস্থা একই প্রকার হইয়া গিয়াছে। আর এ স্থানে তোমার প্রয়োজন নাই, হিন্দুস্থানের দিকে প্রস্থান কর।” তৎপর স্বীয় সাধনার স্থান হইতে এক মুষ্টি মৃত্তিকা আনিয়া শাহজলালের হস্তে দিয়া বলিলেন, “তোমার হাতে যে মৃত্তিকা দিলাম, তাহা অতি যত্বে রাখিবে,_যেন ইহার বর্ণ গন্ধ বা স্বাদ বিকৃত না হয়। ঈদৃশ মৃত্তিকা যে স্থানে পাইবে, সেইখানেই সতত অবস্থান করিবে । এই মৃত্তিকা মুষ্টি যে স্থানে পরিত্যাগ করিবে, সেই স্থানের মাহাত্ম্যের আর তুলনা থাকিবে না।”২ “চাষনি পীর]”-_-শাহজলাল পাথেয় স্বরূপ গুরুর নিকট হইতে এই মৃত্তিকা-প্রসাদ লইয়া ভারতবর্ষ অভিমুখে যাত্রা করিলেন। সঙ্গে প্রথমতঃ বারজন চেলা জুটিলেন, তন্মধ্যে একজন সেই মৃত্তিকার তহবিলদার হইলেন। তাহার উপর এই ভার থাকিল যে তিনি পথিমধ্যে যত জনপদ দেখিতে পাইবেন, সমস্তেরই মৃত্তিকা পরীক্ষা করিয়া (চাখিয়া) দেখিবেন; যদি কুত্রাপি বর্ণ গন্ধ ও স্বাদে এই মাটির সমকক্ষ মাটি মিলে, তবে তাহাকে তৎক্ষণাৎ তাহা শাহজলালের নিকট জানাইতে হইবে । এই ব্যক্তির নাম চাষনি পীর 1” “জন্স্থান সন্দর্শন]”--পরিব্রাজক ব্রতে দীক্ষিত হইয়া প্রথমতঃই শাহজলাল জন্স্থান দেখিবার জন্য যাত্রা করিলেন। আপন গৃহে উপস্থিত হইবামাত্র চতুর্দিকে তাহার তপঃসিদ্ধির কাহিনী প্রচারিত হইতে লাগিল, এমন কি এমন প্রদেশের বাদশাহের কর্ণেও তদীয় সুখ্যাতি পৌছিতে সমধিক বিলম্ব হইল না।” “[পরীক্ষা]”__বাদশাহ চতুর রাজনীতিক ছিলেন। শাহজলালের বৃত্তান্ত শ্রবণে তিনি তদীয় পাত্র মিত্রকে কহিলেন, “বহুদিন হইতে আমার এই অভিলাষ যে কোন সিদ্ধ দরবেশ পাইলে তাহার মুরিদ (শিষ্য) হইয়া ভক্তিভরে তদীয় সেবা শুশ্রাধা করিব। তবে প্রথমতঃ তাহাকে পরীক্ষা করিয়া দেখিব তিনি ঠিক সাধু কিনা, নচেৎ তীহার প্রতি আমার অনুরাগ হইবে না।” শাহজলালকে পরীক্ষা করিবার নিমিত্ত সুতরাং বাদশাহ এক কৌশল করিলেন। শরবতের পাত্রে বিষ মিশাইয়া জনৈক ভৃত্য দ্বারা উহা শাহজলালের নিকট প্রেরণ করিলেন। হজরতের অন্তঃকরণ দর্পণের ন্যায় ছিল, উহাতে অন্যের ভাল মন্দ সমস্ত ভাব প্রতিফলিত হইত। তিনি বাদশাহের কূটনীতি বুঝিতে পারিয়া বলিলেন, “ভাল মন্দ সমস্তই নিজের অদৃষ্টফলকে লিখিত, যে যাহা মনে করে সে সেইরূপই ফল পাইবে । ফকিরের জন্য ইহা অমৃত, কিন্তু দাতার পক্ষে এই শরবত প্রাণান্তকারী হলাহল।” এই বলিয়া তিনি শরবৎ পান করিলেন, এদিকে বাদশাহ হঠাৎ গতাসু হইলেন। এই আকন্মিক মৃত্যু ঘটনায় তাহার কপট কৌশল কাহিনী প্রকটিত হইয়া পড়িল ।” ২. “শাহজলালের জীবনী (সুহল-ই-এমন) লেখক নসির উদ্দীন হায়দর ঢাকা নিবাসী ছিলেন। পরিশেষে শ্রীহট্রের এই মাহাত্য্ে বিশ্বাস করিয়া এই সহরেই অবস্থান করেন ।”-(প্রদীপ) দ্বিতীয় অধ্যায় : দরবেশ শাহজলাল শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১৯৩ “এমনের প্রহলাদ]--বাদশাহের পুত্র শেখ আলী এই সমাচার অবগত হইয়া পিতার ওর্ঘদেহিক কার্য্য সমাপন পুবর্বক শাহজলালের নিকট উপস্থিত হইলেন এবং তাহার নিকটে অবস্থান করিয়া সতত সেবা শুশ্রুয়া করিবার নিমিত্ত অভিপ্রায় প্রকাশ করিলেন। শাহজলাল ইহাতে অসম্মতি প্রকাশ করিলেন এবং রাজ কুমারকে দেশে থাকিয়া দয়াবান ও ন্যায় পরায়ণ হইয়া রাজ্যশাসন করিতে অনুজ্ঞা করিলেন । “রাজপুত্রের বৈরাগ্য]--শাহজলাল জন্মভূমি হইতে চিরবিদায় গ্রহণ পূর্বক হিন্দুস্থান অভিমুখে প্রস্থান করিলেন । এদিকে রাজপুত্রের দেশে থাকা অসাধ্য হইয়া উঠিল; রাজ্যধন প্রভৃতি কিছুতেই তাহার আসক্তি রহিল না, নিজের সুখস্বচ্ছন্দতার প্রতিও তিনি দৃষ্টি করিলেন না। সাধু শাহজলালের পবিত্র সঙ্গসুখ তাহার প্রবল বাসনার বিষয়ীভূত হইল। তিনি অমাত্য স্বজন সমস্তের চক্ষু এড়াইয়া শাহজলালের অন্বেষণে উন্মত্তের ন্যায় ধাবমান হইলেন এবং চতুর্দশ দিবসের পথে অতিক্রম করিয়া তাহার পার্্বর্তী হইলেন, প্রবল অনুরাগের নিদর্শন পাইয়া শাহজলাল রাজকুমারকে আপনার সহচর ভাবে গ্রহণ করিলেন ।” শাহজলাল দ্বাদশ জন সহচর সহ যাত্রা করিয়াছিলেন; পথে আসিতে আসিতে ,_-তদীয় প্রভাব শ্রবণে ও ভগবভ্তক্তি দর্শনে আকৃষ্ট হইয়া বহুলোক শিষ্যত্ গ্রহণ করায়, অনুচর সংখ্যা বর্ধিত হইতে লাগিল । বোগদাদ নগর নিবাসী নেজামউদ্দীন; আরবের জকরিয়া ও দাউদ প্রভৃতি বহুতর ব্যক্তি সেই দেশেই তাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়া সঙ্গী হন। তৎপর গজনী নগর হইতে মোকদুম জাফর ও সৈয়দ মোহাম্মদ প্রভৃতি এবং মুলতান সহর হইতে আরেফ ও আজমীর হইতে সরিফ প্রভৃতি তাহার অনুসঙ্গী হইলেন। “ভারতবর্ষে আগমন]_-শাহজলাল দলবল সহ দিল্লী নগরীতে আসিলেন। সেইখানে তখন নেজাম উদ্দীন নামক একজন অতি প্রসিদ্ধ পীর থাকিতেন।৩ তাহার নিকট তদীয় এক শিষ্য অদ্ভুত। এই সাধু স্ত্রী সঙ্গ বর্জিত। তিনি চাদর দিয়া মুখ ঢাকিয়া পথ চলেন। আবাস গৃহে তিনি একটি বালককে নিজের সাক্ষাতে রাখেন এবং তাহাকে প্রাণাধিক প্রেমাম্পদের ন্যায় দেখিয়া থাকেন। এতত্তিন্ন তাহার আর কোনও কর্ম দেখা যায় না।” “[নেজামউদ্দীন ও শাহজলাল]--পীর নেজাম উদ্দীনের মনে একটু খট্কা বাধিল। তিনি শাহজলালকে তাহার নিকটে আসিতে আহ্বান করিয়া একজন শিষ্য প্রেরণ করিলেন। শিষ্য শাহজলাল সমীপে উপস্থিত হইয়া মাত্র তিনি উহার মনের অভিপ্রায় বুঝিতে পারিলেন, এবং কিছু না বলিয়া একটা কৌটায় কিছু তুলা এবং আগুন রাখিয়া বন্ধ করিয়া শিষ্যের হাতে উহা নেজাম উদ্দীনের নিকট পাঠাইয়া দিলেন। নেজামউদ্দীন কৌটা খুলিয়া অগ্নি ও তুলা দেখিয়া শাহজলাল তীহার মানসিক ভাব বুঝিতে পারিয়াছেন ভাবিয়া, লজ্জায় ম্রিয়মাণ হইলেন। বাস্তবিক তপস্বী নেজাম উদ্দীনের তুলা সদৃশ সাদা ও কোমল ধর্থিষ্ঠ অন্তঃকরণে যে শাহজলালের প্রতি সন্দেহ বহ্ির স্থান পাইয়াছিল, ইহাই আশ্চর্যের বিষয়, যোগসিদ্ধ “জালালী কবুতর]-_-নেজামউদ্দীন নিজেকে অপরাধী মনে করিয়া স্বয়ং শাহজলালকে দেখিবার নিমিত্ত গমন করিলেন। দেবালয়, রাজা ও সাধুর নিকটে রিক্ত হস্তে কেহ যায় না। নেজামউদ্দীনের দুই জোড়া কাজলা রং এর কবুতর ছিল, তাহাই নিয়া সাধু শাহুজলালকে ৩. নেজাম উদ্দীন আউলিয়ার সময় লইয়াও গোলযোগ দৃষ্ট হয়; তত্তাবতের উল্লেখ করা অনাবশ্যক; মোট কথা-তৎসহ শাহজলালের দেখা হইয়াছিল । শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১৩ ১৯৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড উপহার প্রদান করিলেন এবং নিজের ত্রুটির নিমিত্ত বহু সাধ্য সাধনা করিলেন । বোধ হয শাহজলালের এই কপোত চতুষ্টয়ই এই পুবর্ববঙ্গ অঞ্চলে জালালী কবুতরের প্রাদুর্ভাবের নিদান। পারাবত মাংস এই অঞ্চলে ভক্ষ্য হইলেও জালালী কবৃতর কেহই হিংসা করে না।” অতঃপর দিল্লী নগরে যেরূপে হজরত শাহজলালের সহিত বুরহান উদ্দীনের মিলন হয় এবং যেরূপে তিনি বুরহান উদ্দীনকে আশ্বাস দিয়া শ্রীহস্টাভিমুখে রওয়ানা হন, তাহা পূর্বে কথিত হইয়াছে। এদিকে সিকান্দর গাজী বার বার পরাজিত হইয়া অতিশয় লঙ্জিত হইলেন। তিনি সম্রাটকে মুখ দেখাইতে অনিচ্ছুক হইয়া, নিজ পরাজয় বার্তা দৃতমুখে জ্ঞাপন করিয়া আরও সাহায্য প্রার্থনা করিলেন। সম্রাট সৈন্য সমূহের ভীত ও গৌড়গোবিন্দের যাদুবিদ্যার গল্প শ্রবণ করিয়া এই পরাজয়ের মূল নির্ধারণ করিতে সমর্থ হইলেন, এবং সেই অবোধ সৈন্য প্রবোদার্থ তিনিও জনৈক পীরকে সেনাপতিরূপে প্রেরণ করিতে সংকল্প করিলেন। শাহজলাল ও নসিরউদ্দীন সিপা-ই-সালার এ সময়ে বোগনাদবামী সৈরদবংশীয় দসিরউদদীন নামক এক সাধু প্রকৃতির বি দিশরীতে আগমন পুবর্বক কর্থানুসন্ধান করিতে ছিলেন । তাহার কুটুম্ব সৈয়দ মওকুফ নামক এক ব্যক্তির সহিত তদীয় বৈরতা ছিল, মওসুফের অসদ্ধযবহারে উত্যক্ত হইয়া তিনি দেশত্যাগ পুরর্বক দিল্লী আগমন করেন। দরবেশ বলিয়া তাহার খ্যাতি ছিল এবং লোকে বলিত যে প্রবল বায়ুবেগেও তাহার তীবুর দ্বীপ নিবর্বাপিত হইত না। উচ্চকুলোত্তব এই নসিরউদ্দীন সম্বন্ধে এইরূপ কথা শুনিতে পাইয়া সম্রাট ইহ'কেই শ্রী প্রেরণের উপযুক্ত ব্যক্তি জ্ঞান করিলেন ও সিপা-ই-সালার অর্থাৎ সাধারণ সেনাপতি এই উপাধি৪ দান করতঃ তাহার কর্তৃত্বাধীনে এক সহস্র অশ্বারোহী ও তিন সহস্র পদাতিক সৈন্য দিয়া শ্রীহস্ট প্রেরণ করিলেন। ইহারা দিল্লী হইতে যাত্রা করিয়া যখন এলাহাবাদে (আল্লা হো বাদ) আসিয়া পৌছিলেন, _একই উদ্দেশ্যে প্রধাবিত গঙ্গাযমুনা সম্মিলনের ন্যায় হজরত শাহজলালের সহিত তথায় তাহাদের মিলন হইল। শাহজলাল বহুতর অনুসঙ্গী শিষ্য ও বুরহান উদ্দীন সহ তৎপূর্ব্েই এস্থানে উপস্থিত হইয়াছিলেন। উভয় দলে এইরূপে সম্মিলিত হইলে, যখন তাহারা পরস্পরের উদ্দেশ্য অবগত হইলেন, তখন পরাজিত সিকান্দর গাজী তথায় অবস্থিতি করিতে ছিলেন, একত্র প্রথমে সেইস্থানে যাওয়াই স্থির হইল। এই সময়ে নসিরউদ্দীন সিপা-ই-সালার, হজরত শাহজলালের মহিমা অবগত হইয়া তদীয় শিষ্য মধ্যে গণ্য হন। পথে পথে হজরতের শিষ্য সংখ্যা ক্রমেই বর্ধিত হইতে লাগিল; বেহার প্রদেশে উপস্থিত হইলে হেসমউদ্দীন ও মজঃফর প্রভৃতি মান্য ব্যক্তিগণ তাহার শিষ্যত্ব স্বীকার পুবর্কক তদনুগামী হয়েন। শাহজলাল ও সিকান্দর গাজী অনতিবিলম্বেই শাহজলাল অনুচর ও সৈন্যগণ সহ সিকান্দর শাহের শিবিরে সমাগত হইলেন। সিকান্দর শাহ গাজী হজরতকে বহু সম্মান করিয়া, নিজ দুরবস্থার কথা জ্ঞাপন করিলে, ৪. আইন-ই-আকবরিতে এই পদের ব্যাখ্যা আছে। রাজ্যের সকল স্থানের সকল সেনার উপর ইহ।র আধিপত্য চলিত। কাজেই সিকান্দরের সৈন্যদিগকেও নসির উদ্দীনের আধিপত্য স্বীকার করিতে হয়। দ্বিতীয় অধ্যায় : দরবেশ শাহজলাল শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত ১৯৫ তিনি আশ্বাস দিয়া বলিলেন, “তুমি আমার সঙ্গে চল, আমি রাজ্য সম্পত্তির লালসা রাখি না, শ্রীহট্রে এসলামধর্ম্ প্রচার করিব, ইহাই উদ্দেশ্য । আমার রাজ্যে প্রয়োজন নাই, তথাকার ভূপতি তুমিই থাকিবে ।” সিকান্দর ও হজরতের শিষ্য মধ্যে পরিগণিত হইলেন । এইরূপে শ্রীহট্ট সহরে পৌছার পৃবের্ব হজরত শাহজলালের শিষ্য সংখ্যা ৩৬০ জন হইয়াছিল । গৌড়গোবিন্দ কর্তৃক খেওয়া বন্ধ করা ও ভয় প্রদর্শনাদি অতঃপর হজরত সমস্ত দলবল সহ ব্রহ্মপুত্রপারে পৌঁছিলেন। গৌড়খোবিন্দ চরদ্বারা সবর্ধদাই সিকান্দরের শিবিরের সংবাদ সংগ্রহ করিতেন; শাহজলাল সমাগম সংবাদও তিনি যথাকালে পাইয়াছিলেন, এবং এই নূতন দল যাহাতে ব্রহ্মপুত্র পার হইতে না পারে, তজন্য নৌকার চলাচল বন্ধ করিয়া দিলেন। তখন শাহজলাল স্বীয় প্রভাবে (উপাসনার্থ ব্যবহার্ধ্য নিজ নিজ চম্মাসন জলে ভাসাইয়া তদবলম্বনে) নদী পার হইলেন। গৌড়গোবিন্দ বুঝিতেও পারিলেন না যেকি উপায়ে তাহারা নদী পার হইলেন। তৎপর তিনি শ্রীহট্র সীমাদেশে চৌকি নামক স্থানে (দিনারপুর পরগণায়) উপস্থিত হইলেন; তৎকালে এস্থানই শ্রীহস্রের গৌড় রাজ্যের সীমাভূমি ছিল।৫ এই স্থানে উপস্থিত হইলে সীমান্ত রক্ষী দ্বারা গৌড়গোবিন্দ সংবাদ প্রাপ্ত হন ও অগ্নিবাণ প্রয়োগ প্রভৃতি কৌশল অবলম্বন পূর্বক সেই স্থানেই তাহাকে পরাজয় করিত ইচ্ছুক হইলেন। কিন্তু যখন তাহার সমস্ত কৌশল ও চেষ্টাই বৃথা হইল, তখন গোবিন্দ উপায়ন্তর রহিত হইয়া, সেই স্থানের পূর্বোত্তরে বরাক নদীতে খেওয়া নৌকা বা অপর কোন নৌকা চলাচল করা নিষেধ করিয়া দিলেন; উদ্দেশ্য শক্রসৈন্যগণ যেন নদী পার হইতে না পারে। হজরত তথা হইতে সসৈন্যে সতরসতী উপস্থিত হন ও তদন্তর্গত বাহাদুরপুরের মধ্যস্থিত ফতেপুর নামক স্থানে সে রাত্রি অতিবাহিত করেন। তদবধি তথায় একটি মোকাম স্থাপিত হয়৷ এই বাহাদুরপুরের নিকটে বেগবান বরবক্র নদ প্রবাহিত; শাহজলাল তথাও পারের জন্য নৌকাদি কিছুই পাইলেন না; রাজা গৌড়গোবিন্দের আদেশে লোকের চলাচল ও নৌকার যাতায়াত পূবর্ব হইতে বন্ধ হইয়াছিল। শাহজলাল নদীপার হইবার উপায়ান্তর না দেখিয়া পুর্ব্বনুরূপ স্বীয় প্রভাবে বরবক্র নদও পার হইলেন ।৬ শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় লিখিয়াছেনঃ-_ “লৌহধনুতে গুণ যোজনা]--গোবিন্দ তখন এক ফিকির উদ্ভাবিত করিলেন। লৌহ দ্বারা এক ধনু নির্মান করাইয়া শাহজলালের নিকট পাঠাইয়া জানাইলেন যে, ইহাতে গুণ আরোপ করা হইলে তিনি শ্রীহষ্ট ছাড়িয়া যাইবেন। তাহার নিকটে লৌহধনু পৌছিলে, তিনি স্বয়ং গুণ যোজনা না করিয়া সৈন্য মধ্যে প্রচার করিয়া দিলেন যে, যাহার আসরের নামাজ কোনও দিন ৫. “চৌকি নামে ছিল যেই পরগণা জাহার। ছিলটের হর্দ ছিল সাবেক মসুর! সেখানে আসিয়া তিনি পৌছিলা যখন। খবর পাইলা তবে গোবিন্দ তখন॥-তোয়ারিখে-জলালি ৬. “এপারে হজরত তার লঙ্কর সহিতে। আসিয়া পৌঁছিলা এক নদীর পারেতে! বরাক নামেতে নদী ছিল যে মসুর । যাহার নিকটে আছে জান বাহাদুরপুর! যখনে পৌছিলা তিনি নদীর কেনার। নৌকা বিনা সে নদীও হইলেন পার॥”-তোয়ারিখে-জলালি ১৯৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড ক্রমে সেপা-ই-সালার নসিরউদ্দীনকে মাত্র ঈদৃশ নিয়মনিষ্ঠ পাওয়া গেল। শাহজলাল তীহাকেই ধনুতে গুণ যোজনা করিতে আদেশ করিলেন। নসিরউদ্দীন ভগ্নবন্নাম স্মরণ পুরর্বক অনায়াসে লৌহ ধনুতে গুণ আরোপ করিয়া দিলেন। সকলে দেখিয়া অবাক হইল । ধনু গোবিন্দের নিকট নীত হইলে তিনি জয়ের আশা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করিলেন।” প্রতিদ্ন্্ী দর্শন ও পলায়ন অতঃপর গোবিন্দ পলায়ন করাই সঙ্গত বোধ করিলেন। শিশুরা জুজুর ভয়ে স্বভাবতঃ ভীত হইলেও যেমন কোন কোন দুরন্ত শিশু জুজু কেমন দেখিতে ইচ্ছা করে, কথিত আছে, পলায়নের পুবের্ব তেমনই গোবিন্দের মনে একটা কৌতৃহলের উদয় হয়। এবং তিনি সেই কৌতুহল তৃত্তির জন্য সর্পক্রীড়নকের পেটিকাভ্যন্তরে লুক্কায়িত ভাবে থাকিয়া শাহজলালকে দেখিতে গমন করেন। শাহজলাল তাহার এ চাতুর্ধ্য ধরিয়া ফেলিলেন, তখন তিনি লজ্জিত হইয়া অবনত মন্তকে শাহজলালের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতঃ রাজ্য ছাড়িয়া যাইতে স্বীকৃত হন। গোবিন্দ বিমর্ষমনে প্রত্যাগমন করিলেন। পলায়নই স্থির হইল, কিন্তু কই? পলায়ন জন্যও ত একটা সময় চাই, এই জন্য গোবিন্দ তাহার শেষ উপায় সুরমা নদীতেও নৌকা চলাচল বন্ধ করিলেন। কিন্তু কিছুতেই সাধু ও উদ্যোগী পুরুষকে বাধা দিতে পারিল না, তীহারা পূর্ববূপ চম্মাসন জলে ভাসাইয়া তদবলম্বনে সুরমা নদীও অবহেলে পার হইলেন । যে স্থান দিয়া শাহজাদা শেখ আলী প্রমুখ পীরগণ সুরমা নদীর পার হইয়াছিলেন, তাহা শেখঘাট নামে পরিচিত হইল । শাহজলালের নদী পার হওয়ার সংবাদ গৌড়গোবিন্দ অবগত হইয়া অতিমাত্র ভীত হইলেন,-যুদ্ধ করা কিছুতেই সঙ্গত মনে করিলেন না, এবং অনতিবিলম্বেই গড়দুয়ারস্থিত রাজবাটী পরিত্যাগ পূর্বক পেঁচাগড় পর্্বতস্থ গুপ্ত গিরিদুর্গে পলাইযা গেলেন।৭ এই পেঁচাগড় দুর্গ শামস্উদ্দীনপুত্র সিকান্দর শাহের আক্রমণের পরেই (সহর হইতে ৬/৭ মাইল পুর্ে) নির্মিত হইয়াছিল। রাজা গৌড়গোবিন্দের অর্চিত শিব বিগ্রহাদি তৎপূর্ব্েই স্থানান্তরিত হইয়াছিল, রাজবাটীসমূহ শূন্য পড়িয়া রহিয়াছিল, কিন্তু এ সংবাদ হজরতকে দিবার জন্য একটি লোকও তথায় ছিল না। যাহা হউক, হজরত তিন দিন ঈশ্বরোপাসনা করিয়া সব্র্ব প্রথম মিনারের টিলাস্থিত রাজবাটী আক্রমণের আদেশ দিলেন, আদেশ তখনই রক্ষিত হইল ও মিনারের অত্যুচ্চ টিলার গগনস্পর্শী মন্দিরে বিধ্বস্ত হইল! এই জন্য এযাবৎ সবর্বসাধারণে এইরূপ একটা কথা প্রচলিত আছে যে, “মিনারের টিলা সাত তাল উচ্চ ছিল, শাহজলালের ও তাহার শিষ্য নূরের আজান ধ্বনির প্রতিঘাতে তাহা ভাঙ্গিয়া পড়িয়া যায়।” এথা হইতে গড়দুয়ার আক্রান্ত ও কেন্লা ভগ্মীকৃত হইল; রাজবাটা শূন্য, বাধা দিতে এক ব্যক্তিও ছিল না; সহজেই রাজভাণ্ডার বিলুষ্ঠিত হইল; বহুতর হস্তীদন্ত, দত্ত নির্মিত পাটা, উৎকৃষ্ট ৭. “সিংহাসন ছাড়ি গেলা পবর্বত ভিতর । এপারে কি হৈল তার না জানি খবর! পেচাগড় নামে এক ছিল যে পর্বতি। বস্গুলাকে বলে তথা করিল বসত! প্রহকের তফাওত সহর হইতে । বসত করিল গিয়া সেই পাহাড়েতে!”-তোয়ারিখে-জলালি দ্বিতীয় অধ্যায় : দরবেশ শাহজলাল শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত ১৯৭ ঢাল, আগর কাষ্ঠ ইত্যাদি মূল্যবান বন্ুদ্রব্য ভাপ্তারে পাওয়া গেল, এবং অনেক হস্তী ও ঘোড়া প্রভৃতিও প্রাপ্ত হওয়া গেল।৮ এইরূপে বিনা রক্তপাতে শ্রীহট্ট বিজিত হইল,৯ বহুতর সৈন্য সামন্ত থাকাসত্েও যে পথে গৌড়াধিপতি লক্ষ্পণসেন গমন করেন, সেই পথে এই পূর্বাঞ্চলীয় গৌড়াধিপতি গোবিন্দও গমন করিলেন । বিনাযুদ্ধে বঙ্গাধিপতি দ্বিতীয় শামস্উদ্দীনের সময়ে (ইংরেজ এতিহাসিক হন্টার সাহেব প্রভৃতির মতে ১৩৮৪ খৃষ্টাব্দে) শ্রীহট্রে মোসলমানের বিজয় পতাকা উডডীন হইল ।১০ বহুকাল পরে বুরহানউদ্দীন ও নুরউদ্দীনের ভ্রাতৃদ্বয়ের মনবাঞ্থা পূর্ণ হইল। শাসনকর্তী নিয়োগ শ্রীহট্ট বিজিত হইলে, শাহজলাল স্বয়ং রাজ্যভার গ্রহণ করেন নাই; এমন রাজকুমার ও ধর্মচিন্তা পরিত্যাগ পুর্র্বক প্রজাপালন ও শাসন, সুখকর বলিয়া জ্ঞান করিলেন না। তখন সম্রাট ভাগিনেয় সিকান্দর গাজীর উপর, এমনের রাজপুত্রের নামে শ্রীহট্টের শাসনভার অর্পিত হইল। মৃৎ পরীক্ষা তঃপর চাস্নি পীর যখন শ্রীহট্রের ভূমি পরীক্ষা করিলেন, তখন দৃষ্ট হইল যে হজরতের গুরু পীর আহমদ কবির প্রদত্ত মাটির সহিত এথাকার মাটির বর্ণ, স্বাদ ও গন্ধ মিলিয়া গেল। হজরতকে ইহা জানাইলে, এস্থানই তাহার কর্মক্ষেত্র বুঝিতে পারিয়া তিনি একটি মনোরম স্থানের উপর নিজ উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ৮. “হাতী ঘোড়া পাতরাদি সামান দালান । আগর আতর আদি মিহিন চাউল । হাতীদন্ত পাটি মধু কমলা নিতুল! লড়াইর সামান মধ্যে পায় গেড়া ঢাল। পৃথিবীর উপরে নাই যাহার মেসাল॥”-তোয়ারিখে-জলালি ৯. উপরে যাহা লিখিত হইল, তাহার মর্ম সরকারী ইতিহাসে এইরূপ লিখিত হইয়াছেঃ_ 9101) 19141 005560 016 10111000009 0110 1110 001709 01) 2 11106109110 01 01211065621 010 [)1০9০6600 10171600109 00007 000110 09 119101005 ৬1110) 110 01011101721) 000110 ০৪ ০77১০016400 1765151. 116 1111700 [৪19 1)001)11110 11117059112 177951091 $9৬610-5101160 10৮০1, (0 ৬1101 170 10101698060 01 0119 0100109201) 01 076 1120015. 9112) 00181 ০9০1) 09) 066160 00 0 50191101) [019961, 21 1016 00110180510) 01 ৮৮10101) 0176 01 0186 90015 01 0110 (0৬/৩ ০0110050. 3901 90011) 610001100 0115 10506110015 09501000101) 01113 (01055 "[0 1011 09)5 010 (1161) 911067)06100. -/55500) [)1511101 0920106015 ৬01. [1 (১1101) 0). 24. ৬1৫০ 81509 116 9000011005 01 91001) 12121 09 101. ৬৬15০ 10) [10 0. 4৯, 5. 9617871 ৬০. 42. 0.1. ১০. "51119. 00102165 (0180৬61১661 ০010009160 09 2 5170011১010 01 1৬1011)011)710001)5 11) 010 11801 01 90782 11176 91201500011) 10 1384 ৯. 1[0.1710700 50001701010] [00৬/015 01 070 [8101 91001) 00191, ৬110 ৬০5 0106 190] 16901 01 0110 11৬20615. -1100100015 91811510100] /১0000115 01 /১53811) ৬০. 1] (99101) শাহজলালের সময়টা আরও কিঞ্চিৎ পূর্ব্ববস্তীঁ বলিয়া কেহ কেহ অনুমান করেন। তবে তদীয় শ্রীহট্ট বিজয় সংবাদ বহু লেখক কর্ভুকই এইরূপ লিখিত হইয়াছে, কিন্তু আমাদিগকে উপযুক্ত প্রমাণের সহিত কেহ জানাইয়াছেন যে ১৩৫৮ খৃষ্টাব্দ শ্রীহট্ট বিজিত হয়। এই সকল প্রমাণাবলী উদ্মাত করিয়! প্রবন্ধকলেবর বৃদ্ধি করা অনাবশ্যক এবং তাহা পাঠকের পক্ষেও রুচিকর হইবে না। ১৯৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড দেবতা সংগোপন কেহ কেহ বলেন যে, শ্রীহত্টের গ্রীবাপীঠ নষ্ট করতঃ শাহজলাল তৎস্থলে দরগা প্রস্তুত করেন। ইহা নিতান্ত অমূলক কথা । শাহজলাল হিন্দুতীর্থ বিনষ্ট করিলে, মোসলমান লেখকগণ--বিশেষতঃ সুহেল-ই-এমনের গ্রন্থকার তদীয় জীবন চরিতে তাহা সগৌরবে ঘোষণা করিতেন। শাহজলালের আক্রমণ একটা হঠাৎ ঘটনা নহে। বাঙ্গালার নবাব সিকান্দর শাহের সময় হইতে শ্রীহস্্ বিজয়ের চেষ্টা হইতেছিল, কাজেই এ সময়ের মধ্যে পীঠরক্ষক ব্রাহ্মণগণ পীঠ রক্ষার ভাল বন্দোবস্ত করিয়াছিলেন। তীহারা দেবতাগণকে বিশেষ ভাবে গোপন করিয়া রাখিয়াছিলেন। ফলতঃ তিনি কোন হিন্দু দেবতার উপর অত্যাচার করিতে পারেন নাই,_-করেনও নাই; এই জন্যই বুঝি হিন্দুগণও তাহার সম্মাননা করিয়া থাকেন। যাহাহউক, এ সময় গৌড় গোবিন্দের অর্গিত হাটকেশ্বর বিগ্রহও স্থানান্তরিত হইয়াছিলেন; তবে রাজা গৌড় গোবিন্দ দেবদ্বিজ ভক্ত ছিলেন, মিনারের টিলা ব্যতীত, বর্তমানে যথায় শাহ জলালের দরগা বিরাজিত সেম্থানেও তত্প্রতিষ্ঠিত কোন দেবমন্দির থাকা অসন্তব ছিল না, কিন্তু তখন কোনও কিছু যে ছিল তাহার অণুমাত্রও প্রমাণ নাই। স্ত্রীলোক বিলোকন শাহজলাল শাহ সিকান্দর গাজীর১১ উপর রাজ্যশাসনের ভার অর্পণ পুরর্বক নির্জনে ঈশ্বর চিন্তা করিতে লাগিলেন । যে স্থানে তাহার উপাসনালয় নির্মিত হইল, তাহার পশ্চিমপার্থে একটি কৃপ খনন করাইলেন। প্রকৃত পক্ষে ইহা প্রাকৃতিক একটা উৎস, ইহা হইতে সব্বদাই জল প্রবাহিত হইতেছে । শাহজলাল হিন্দুর পুফরিণীতে হস্তমুখ প্রক্ষালণ করিতেন না। হজরত কখনও স্ত্রীলোক দর্শন করেন নাই। তদীয় উপাসনাগৃহের উত্তর পার্থে এক পুক্করিণী ছিল, একদা হঠাৎ এ পুষ্করিণীঘাটে এক রমণীমূর্তি দেখিতে পাইলেন; আর কখনও রমণীর কমণীয় কান্তি তাহার নেত্রপথে পতিত হয় নাই, যখন তিনি উহা স্ত্রীমূর্ত্ি বলিয়া বুঝিলেন, তখন বড় বিমর্ষ হইলেন ও এ পুকুরের অস্তিত্ব বিলোপ হইতে ইচ্ছা করিলেন। তাহার ইচ্ছা তখনই কার্য পরিণত হইয়াছিল। এ স্থানটি নিশ্নভূমি প্রায় পরিলক্ষিত হয়। অতঃপর অনতিবিলম্বে সেই স্বীলোকটি মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তখন তাহার বন্ত্রাদি যে স্থানে প্রোথিত করা হয়, শ্রীহট্টে তাহা চিরকুমার শাহজলাল ও রমণীবিষয়ক আর একটা কাহিনী আছে, শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ কৃত প্রদীপের সুলিখিত প্রবন্ধ হইতেই তাহা উদ্ধৃত করিতেছি। “[সিকান্দরের ভ্রমা- গ্রীষ্ম প্রধান স্থান হইতে আসা হেতু শাহজলালের সহচরবর্গ ১১. “সিকান্দর শাহ যেই ছিলেন সঙ্গেতে । মুুকের ভার দিলা তাহার জিন্বাতে!”-তোয়ারিখে-জলালি এই সিকান্দর শাহকে অনেকেই বঙ্গাধিপতি (শামস্উদ্দীন-পুত্র) সিকান্দরশাহ বলিয়া ভ্রমে পতিত হন। গেইট সাহেবও সেই ভ্রম হইতে উত্তীর্ণ হন নাই। (তত্প্রণীত আসামের ইতিহাস ২৭০ পৃষ্ঠা ।) বঙ্গাধিপতি সিকান্দর শাহ শ্রীহট্টরে আসিয়া পরাজিত হন, এবং দিল্লী হইতে আগত সম্রাটভাগিনেয় সিকান্দরও পরাজিত হন। উভয়ের একরূপ নাম ও ঘটনা হওয়াতে এই ভ্রম উপজাত হওয়া বিচিত্র নহে। কিন্তু এ সময়ে বঙ্গাধিপতি জীবিত ছিলেন না, এইজন্যই এঁতিহাসিক হান্টার সাহেব তাকে গাজী উপাধিতে বিশেষিত কবতঃ বিভিন্ন বলিয়া প্রতিপাদন করিয়াছেন । যথা-"115 50059000101) 10016 0৮০1 010 80010 110:078119100011 01 ১000101 2109115 10 01১0 10017111001 10680 ১০1০)৫০1 091.-- 874 501- 1] দ্বিতীয় অধ্যায় : দরবেশ শাহজলাল শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১৯৯ শিশিরাগমে শ্রীহন্টরে শীতে নিতান্ত অভিভূত হইয়া পড়িলেন। তাহারা শীতবস্ত্রের জন্য সাধুকে ধরিলেন। শাহজলাল একদা সিকান্দর শাহকে কহিলেন, দেখ দারুণ শীতের সময় আসিয়াছে, যাহাতে শীত নিবারণ হয়, জরুরী এমন উপায় করিবে । সিকান্দর বিষয়ী লোক, তিনি এই সামান্য কথার বিপরীত অর্থ করিলেন। শীত নিবারক কন্থা কম্বলের আয়োজন না করিয়া শাহজলালের নিমিত্ত শীতহারিনী বণিতার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন।” “সিকান্দরের পরিণাম]__ অনেক চেষ্টায় পরম সুন্দরী এক রমণী যোগাড় করিয়া সিকান্দর শিবিকায় তাহাকে শাহজলাল সমীপে পাঠাইয়া দিলেন। ইহা দেখিয়া সাধু পরিতাপ করিয়া বলিলেন, “হায়, সিকান্দর নিজে যেরূপ ডুবিয়াছ, আমাকেও কি সেইরূপে ডুবাইবে? আমি দীনহীন ফকির, মজঃরদ, আমার জন্য কি এই ব্যবস্থা? ইহার কিছু পরেই, সংবাদ আসিল, সিকান্দর শাহ সুরমা নদী পার হইতে গিয়া নৌকা ডুবিয়া মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছেন ।১২ আরও আশ্চর্য্যেব বিষয় যে, তখন কোনওরূপ তুফান বা তরঙ্গ কিছুই ছিল না। বহু অনুসন্ধানেও সিকান্দরের মৃতদেহ পাওয়া গেল না।” “রমণীর পরিণয়]--শাহজলালের সঙ্গে তদীয় প্রিয়তম যে সকল শিষ্য ছিলেন, তন্মধ্যে হাজি ইউসুফের প্রতি আদেশ হইল যে. তিনি সিকান্দরের প্রেরিত রমণীর যথারীতি পাণি গ্রহণ করেন। হাজিও সংসারবিরক্ত ছিলেন, তাই ধন দৌলতের অভাব এবং সাংসারিক ধর্ম বীতস্পৃহতা জানাইয়া পরিহার প্রার্থনা করিলেন। কিন্তু শাহজলাল তাহাকে নানা যুক্তি ও নির্ববন্ধ সহকারে পুনশ্চ আদেশ করাতে তিনি অগত্যা স্বীকার করিলেন। এই পরিণয়জাত সন্তানগণের বংশধরেরাই এক্ষণে সাধুর সমাধির তত্বাবধায়ক এবং ইহাদের সরদার সর্কুমও এই বংশজাত ।” পরবর্তী শাসনকর্তা-_সিকান্দর গাজীর মৃত্যু হইলে শাহজলাল শ্রীহন্রের শাসনভার তাহার এক প্রধান অনুসঙ্গীকে প্রদান করেন,১৩ শ্রীহট্ট-দর্পণ নামক পুস্তকে লিখিত আছে যে, শ্রীহ্ বিজয়ান্তে শাহজলাল, হায়দর গাজীর উপর শ্রীহট্রের শাসনভার অর্পণ করেন; কিন্তু অন্য কোন গ্রন্থে তাহা পাওয়া যায় না। সিকান্দরের মৃত্যুর পর যাহার উপর শাসনভার সংন্যস্ত হয়, তাহারই নাম হায়দর গাজী ছিল, এরূপ নির্দেশ করাই সত্যমূলক বোধ হয় 1১৪ এসলামধর্ প্রচার ও মৃত্যু হজরত শাহজলাল শ্রীহস্্ট দেশের নানা অংশে অনুসঙ্গী সাধুগণকে প্রেরণ পূর্র্বক মোসলমান ধর্ম প্রচার করিতে চেষ্টা করেন। কেবল শ্রীহট্ট নহে, ত্রিপুরা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, রংপুর প্রভৃতি স্থানেও তিনি প্রচারক প্রেরণ করিয়াছিলেন। তাহার চেষ্টা যে একবারে বিফল ১২. শাহ সিকান্দর সুশাসক ছিলেন; কিন্তু তিনি অধিকাংশকাল বন্যজন্তু পক্ষী এবং মৎস্য শিকারের আমোদরত থাকিতেন। এই জন্য তাহাকে নৌকাযোগে স্থানে স্থানে ভ্রমণ করিতে হয় বলিয়া কথিত আছে । এ অঞ্চলে মৎস্য শিকারী বালকগণ বরশী শিকার করিতে গিয়া প্রথমে সিকান্দর শাহ গাজীকে বন্দনা করিয়া থাকে; যথা-“শাহ সিকান্দর গাজী, মাছ পাইলে আধাআধি; তুই খাইবে মাছখান, মোরে দিবে গছা খান।' ইত্যাদি । এই বন্দনা হইতে সিকান্দরের মৎস্য শিকাব প্রিয়তার প্রমাণ হয় ।-(আমাদের যোজিত টীকা ।) ১৩. “তখনে মরিল সেই শাহ সিকান্দর। বেসরদার হৈল তবে ছিলট নগর!” “এজন্যে হজরত শাহজলাল এমনি । নিযুক্ত করিল এক সরদার তখ?২৫”"-তোয়ারিখে-জলালি ১৪. হায়দর গাজীর নানকার ভূন বলিয়া শ্রীহট্র সহর ছিল। এজন্য অদ্যাপি শ্রীহস্ট সহর সিদ্ধ নিফর বলিয়া প্রসিদ্ধ । ২০০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড হয়। রাজার জাতি সমাজে হীনদশাপন্ন থাকার সম্ভাবনা নাই। সমাজে হীনদশাপন্ শ্রীহন্টরের বহুতর মোসলমান কৃষক যে এক সময়ে হিন্দু সমাজ হইতে জাতিচ্যুত হইয়াছিল, তাহা সহজেই বোধ হয়। শাহজলাল, তরফ বিজয়ে নসিরউদ্দীন সিপা-ই-সালারকে প্রেরণ করেন। কাণিহাটীতে শাহ হেলিমউদ্দীন প্রেরিত হন, এবং জিয়াউদ্দীনকে বুন্দাশিল পাঠাইয়া দেন। বুন্দাশিল তৎকালে গৌড় রাজ্যের পৃবর্সীমা ছিল। জিয়াউদ্দীন হজরতকে লিখিয়া পাঠাইলেন যে, দেওরাই নামে এক দুরন্ত রাত্রিচর তথায় এরূপ উৎপাত করিয়া থাকে যে, প্রজাগণের বাস করা কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। সুহেল-ই-এমনের গ্রন্থকার এই দেওরাইকে “দেও” বা ভূত শব্দে অভিহিত করিয়াছেন। হজরত এই সংবাদ প্রাপ্ত অতিমাত্র দয়াবশতঃ অনতিবিলম্বে তথায় গমন করেন এবং দুরন্ত দেওরাইকে প্রাণে বধ করিয়া সেই প্রদেশে শান্তি স্থাপন করেন। “দেওরাই দেওয়ের” অধিকৃত স্থানই পরে দেওরালি পরগণায় পরিণত হইয়াছে। . কথিত আছে যে, তৎকালে সুরমা নদীর জল সুপেয় ছিল না; দেওরালি অবস্থান কালে শাহজলাল স্বীয় প্রভাবে সুরমার জল সুপেয় করেন। এ স্থানের নিকট হইতেই বরাক নদী সুরমা ও কুশিয়ারা বা বরাক এই দ্বিভাগে বিভক্ত হইয়াছে। বরবক্রের প্রধান স্রোত এক সময় প্রশস্তরক্ষা সুরমার খাতে প্রবাহিত হইত, কুশিয়ারা তখন ক্ষীণ কলেবরা ছিল। বোধ হয়, এই সময় হইতে প্রধান স্োতটি কুশিয়ার দিকে প্রবাহিত হইতে আরন্ হওয়ায় সুরমা স্বচ্ছ সলিলা হয় । জলের বেগ অধিক হওয়ায় কুশিয়ার জল সুরমার জলের ন্যায় সুনীল স্বচ্ছ নহে। এইরূপ ধর্মকর্ম ও দেশহিতকর কার্য্যে হজরত দেশের মধ্যে যথার্থই দেবতার মত পুঁজিত হইতে লাগিলেন । তিনি শ্রীহট্ট আগমনের পর ত্রিশ বৎসর কাল জীবিত ছিলেন, তৎপর দ্বিষষ্টি বর্ষ বয়সে শুক্রবারে তিনি দেহ ত্যাগ করেন। তাহার নিজকৃত উপাসনাগৃহের পার্থে তদীয় দেহের সমাধি দেওয়া হয়। এই পবিত্র সমাধিস্থল এখনও তথায় বিরাজিত আছে, এবং ইহার বিদ্যমানতা জন্যই শ্রীহট্ট সহর এক প্রধান মোসলমান তীর্থে পরিণত হইয়াছে। শাহজলালের দরগা হিন্দু, মোসলমান, সকলেরই নিকট মান্য । গবর্ণমেন্ট এই দরগার ব্যয় নির্ব্বাহার্থ মাসিক একশত টাকা প্রদান করেন । মসজিদ প্রস্তুত পুবের্ব ইসপেন্দিয়ারের আদিনা মসজিদের প্রসঙ্গ কথিত হইয়াছে। দরগার পূরর্বাংশে পথ-পার্ে যে প্রাচীন মসজিদ দৃষ্ট হয়, কথিত আছে যে, ইসপেন্দিয়ার পূর্বোক্ত আদিনা মসজিদ এই পরে প্রস্তুত করিতে আরম্ভ করেন। এক ঈদ পর্বের পুরের্ব ইহার কার্য্য শেষ হইবার কথা ছিল, কিন্তু স্থপতি অসমর্থ হওয়ায়, সেই মসজিদ গৃহেই বৃদ্ধ ইসপেন্দিয়ার তাহাকে বধ করেন। এই হত্যা জনিত দোষে মসজিদটি পরিত্যক্ত হয়। অদ্যাপি অপূর্ণাবস্থায় ইহা পথিপার্থে দণ্ডায়মান রহিয়াছে ।১৫ শাহজলারের দরগায় কয়েকটি প্রস্তরলিপি দৃষ্ট হয়। মসজিদের অভ্যন্তরস্থিত একখানি ১৫. 1714011৫০৫৪] 118192 01)6 [0165610 98718) 91 0116 5101) 10191510100915 ৮/11065:- 11701700501) (১0171155004 (0 001)[91619 11 06001 016 2506-099, ০৪ ০১ 0116 718507 781100,106 ৮4115 1)01169004 21101 7,1৮4 10) 17101011815. 776 0181795 10616017 8৬০ [2158 0100 0176 10905]10 ৬৫১ 01001 101 [00901 01101101100 11 [211)2115 118001)1)1615 10 0115 049." দ্বিতীয় অধ্যায় : দরবেশ শাহজলাল শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২০১ প্রস্তর লিপিতে লিখিত আছে যে, শামস্উদ্দীন ইউসুফ শাহের সময়ে ইহা নির্মিত হয়।১৬ ইউসুফ শাহের শাসন কাল খুঃ ১৪৭৪ হইতে ১৪৮১ খৃষ্টাব্দ পর্য্যত্ত।১৭ ইউসুফ শাহ পূর্বকথিত দুইজন শামস্উদ্দীন হইতে বিভিন্ন ব্যক্তি। তিনি শাহজলালের প্রতি ভক্তিমান হইলেও তাহার পববর্তা হিলেন। ইউসুফের নামাঙ্কিত শিলালিপি বোধ হয় শাহজলালের দরগায় নির্মিত আদি মসজিদের প্রস্তর লিপি। একটি মসজিদের দ্বারলিপিতে (৯১১ হিজরী) ১৫০৫ খৃষ্টাব্দ অঙ্কিত আছে, সুতরাং ইহা সুপ্রসিদ্ধ সৈয়দ হুসেন শাহের সময়ে খোদিত হইয়াছিল । দরগার বৃহৎ মসজিদটি সম্রাট আরঙ্গজেবের রাজত্ব সময়ে নির্মিত হইয়াছিল, প্রস্তরলিপিতে (১০৮৮ হিজরী) ১৬৭১ খৃষ্টাব্দ অঙ্কিত দৃষ্ট হয়। দরগার একটি মসজিদের দেওয়ালে যে পরস্তরলিপি দৃষ্ট হয়, তাহাও উক্ত সম্রাটের সমকালীন সন্দেহ নাই, তাহাতে (১০৭৪ হিজরী) ১৬৫৭ খৃষ্টাব্দ খোদিত আছে। কিন্তু ইহা অন্য কোনও স্থান হইতে সংগ্রহ ক্রমে তথায় যোজনা করা হইয়াছে বলিয়া বোধ হয়। দরগার দ্রব্যাদি শাহজলালের দরগা একটি সুন্দর স্থানে মনোরম শৈলখত্ডের উপর অবস্থিত । গুশ্বজ মিনারাদি শোভিত মসজিদ, পার্প্রবাহি প্রত্রবণ ইত্যাদিতে ইহার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাইয়াছে। দরগার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুল্য। দরগা-পার্থে উপনীত হইলে কি জানি কি কুহকে মন সহরের তীব্র কোলাহল হইতে দূরে নিভৃতে যেন চলিয়া যায়। এই মনোরম বাহ্যসৌন্দরয্য ব্যতীত দরগায় আরও দর্শনীয় দ্রব্য আছে। হজরত শাহজলাল এদেশে আগমন কালে উট পক্ষির দুইটি ডিম্ব আনয়ন করিয়াছিলেন; ইহার একটি অদ্যাপি দরগাতে দেখিতে পাওয়া যায়। তদ্যতীত হজরত শাহজলালের ব্যবহার্ষ্য “জুলফুকার” নামক তরবারি, তদীয় নমাজের “মোসস্লা” (মৃগ চর্মের আসন), এবং কাষ্ঠপাদুকা এখনও আছে ।১৮ হজরত শাহজলালের ব্যবহার্য্য দুইটি তাত্র নির্মিত পেয়ালা পাত্র আছে, উহার চতুষ্পার্শবে আরবি অক্ষরে কোরাণের “কলমা” বা মন্ত্র লিখিত; এই পেয়ালা পাত্রদ্বয় বর্তমান সরকুম সাহেবের জিন্বায় এখনও আছে । এই সকল দ্রব্য মোসলমানগণ অতি পবিক্র জ্ঞান করেন এবং তদ্ধোত জল পানে অনেকের উপকার হইয়াছে বলিয়া কথিত আছে। শাহজলালের দরগার একটি “ডেগ” উল্লেখযোগ্য ৷ এই তাগ্র নির্মিত অতি বৃহৎ স্থালীতে প্রায় ১০/১২ মন চাইলের অন্ন অনায়াসে পাক করা যাইতে পারে । ইহার কিনারায় যে পারস্য কবিতা লিখিত আছে, তাহাতে ১১১৫ হিজরী অর্থাৎ ১৭০৭ খৃষ্টাব্দ খোদিত আছে। এই সুবৃহৎ ১৬. এই প্রস্তর লিপির যে অংশ পাঠ করা যায় তাহার অনুবাদ এইরূপ £- “20৫11185910 9580 11015 501 01 34181091700) 1000 10178, 507) 0110001000 01076 13776, 99 009৫ [01050010915 1715 1010 07611071600)! 0100 096 11001 15 10106 £1621 010 ০591100 1৬101115 0110 ৬/০211, ৮/110 ০)6115 171015011 ঠা) 00৫ 00005 0170 [10805 9015; 1110 1৬101115-1-/15 7119) 000 [16561/6 1111] 209011)51 [16 6৬115 2110%%%7 ১৭, "1100 0100511)1910110501 1000170 15 0ো। 111১0110101) 01) 0 910110 1113106 0106 (9110115 5111110 01 9101। 1010] 0 9১791. 71115 /05 [31619990 1) 0100 01110 01 9110119110011) 01500 91001, ৬10 1001100 11 66001 (গো) 14741091481, ০০ 0110110078151) 011 [9011 0111 15 0601711012016 11) 105 [07630101 [095101011.” -09810511151019 01 /555017. (0181), 50111022171. ১৮. এই দ্রব্যগুলি মুফতি শ্রীযুক্ত নসীরউদ্দিন সাহেবের জিন্বায় সংরক্ষিত আছে। ২০২ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত পাত্র সম্রাট আরঙ্গজেব কর্তৃক প্রেরিত হইয়াছিল বলিয়া কথিত আছে। শাহজলালের দরগাতে অনেকটি সমাধি দৃষ্ট হয়। সবর্ব বৃহৎ সমাধিটি হজরত মজঃরদ শাহজলালের । তৎপুব্বর্তীটি এমনের রাজকুমার শাহজাদা শেখ আলির । পশ্চিমেরটি গৌড়ের উজিরপুত্র মকবুল খাঁর সমাধি । প্রাচীরের বহির্ভীগে তদীয় অনুসঙ্গী হাজি ইউসুফ, হাজিদায়রা ও হাজি খলিলের কবর আছে। হজরতের অনুসঙ্গী অনেক প্রধান ব্যক্তি কবর সহরের নানাস্থানে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত ভাবে পরিদৃষ্ট হয়। পরবর্তী টিকাধ্যায়ে তাহার বিবরণ দৃষ্টব্য। প্রধানতঃ হজরত শাহজলালের অনুসঙ্গী ৩৬০ জন আউলিয়া বা ধর্মববীর কর্তৃক শ্রীহট্র বিজিত হইয়াছিল বলিয়া বিদেশীয় মোসলমানগণ শ্রীহট্রকে “তিনশ ষাট আউলিয়ার মুলুক” বলে। দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকা আউলিয়াদের নাম--শাহজলারের অনুসঙ্গে যে সকল শিষ্য শ্রীহট্টরে আগমন করেন, তাহাদের অনেকেরই অনেক অসাধারণ কীর্তি কাহিনী শ্রুত হওয়া যায়। তাহারা অনেকেই উচ্চবংশসভভূত ছিলেন, এবং তন্মধ্যে কাহার কাহারও বংশ অদ্যাপি শ্রীহট্ট জিলার নানা স্থানে আছে। তদ্বিবরণ বংশ বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ হইবে, এস্কলে কাহার কাহারও সংক্ষেপ পরিচয় সহ নামের একটা তালিকা প্রদত্ত হইতেছে। অ আবুল খয়ের। অজিউদ্দীন আবু বক্কর ছানি (সৈয়দ) আবুল আজিজ । আ আব্দুল আলী (শেখ) আজিজ (সহিদ)* আব্দুল জলিল । আজিমউদ্দীন কাজি । আব্দুল করিম (শেখ) আজিবান (সৈয়দ)* আব্দুল মালেক । আতাউল্লা হাফেজ । আব্দুল শুকুর । আদম খাকি। আব্দুল হাকিম । আমানউল্লাহ (শেখ) আব্দুল্লা সাহেব। আমীর (সৈয়দ) আব্দল্লা (শেখ) আরেজ আসকরি। আব্দুর রহিম । আরেফ মূলতানী আব্দুর সকর। আলিম (সৈয়দ) আব্বাস (সৈয়দ) আলী এমনি শাহজাদা (শেখ)১ আহমদ আব্বাসি। আলী এমনি (দ্বিতীয়) আহমদ নেসার বরদার । আবু (সাইদ) আহমদ সাহেব (শেখ) আবু তুরাব।২ আহমদ কবির (সৈয়দা) আবু বন্ধর (সৈয়দ)৩ আহমদ (সৈয়দ) আবুল আজেজ । আহমদ (সৈয়দ)২ আবুল ফজল (শেখ) আবুল হাসন। ই দ্বিতীয় অধ্যায় : দরবেশ শাহজলাল ইউসুফ (সৈয়দ) ইয়াকুব (সৈয়দ) ইলরাস (শৈখ) ইসমাইল উমরি । ইসা (শেখ) ইসা (সৈয়দ) উ উমর (শেখ) উমর দরয়ায়ী। উমর (কাজি) উমর সমরকান্দী (সহিদ)৪ উসমান উদ্দীন । উসমান (শেখ) এ এতিম শাহ ।৫ এমামউদ্দীন। এমাম শুকুরউল্লা। এহিয়া কারি । ও ওমর চিস্তি । ওমর (শেখ) ওসমান সাহেব । ওসমান (সৈয়দ) ওসমান উদ্দীন । ক কবির (সৈয়দ) করিম দাদরুমি | কামালউদ্দীন ।৬ কামাল এমনি । কালামিয়া । শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২০৩ খ খলিল উল্লা সেহিদ) খলিল দেওয়ানা ৷ খাজা আজিউদ্দীন। খাজা ইসা চিস্তি। খাজা আজিজ চিস্তি। খাজা আদ। খাজা আদেনা। খাজা আমীর উদ্দীন । খাজা আলী। খাজা ইসা। খাজা একবাল । খাজা এখতিয়ার ৷ খাজা ওমর জীহা । খাজা ওমর চিস্তি ।২ খাজা তৈয়ব । খাজা দাউদ । খাজা নসিরউদ্দীন। খাজা নসিরউদ্দীন।২ খাজা পীরর। খাজা বাহাউদ্দীন । খাজা মালেক খাজা শিরাজ। খাজা সলিম। খাজা সুফিয়ানা । খেজর খাস্ত্দবির (শেখ)৭ খেজির সুফি ।৮ গ গণি (পীর) গরীব খাকি। গরীব (শেখ) গাজী মণেক। চাস্নি পীর ।৯ চান্দ শাহ 1১০ চেট বা চট শাহ।১১ ২০৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত জজ জওহর (সাহিদ) জকরিয়া হাফেজ । জকরিয়া আরবি । জকাই (শেখ)১২ জয়ন উদ্দীন। জয়ন উদ্দীন আব্বাসি। জলালউদ্দীন (কাজি)১৩ জলিল (সৈয়দ) জামালউদ্দীন।১৪ জামাল (শেখ) ঝকমক (খাপ্তা) তাজউদ্দীন শাহ সেহিদ)১৭ তাজউদ্দীন (দ্বিতীয়) তাজ মলেক। তাহের (শেখ) তৈয়ফ সালামি। ১৭-খ দ দাওর বখষ খতিব । দাউদ কুরেষি।১৮ দাদা পীর 1১৯ দুদ মলেক। দেলাওর খতিব । লত গণি। দৌলত গাজী । দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড দৌলত নীরি। দৌলত (সৈয়দ) দৌলত (সহিদ) নন নসর উল্লা নসিরউদ্দীন সিপা-ই-সালার (সৈয়দ) নার নওলী। নুরুল হুদা (দ্বিতীয়) নেজাম উদ্দীন বোগদাদি। নেজাম উদ্দিন ক্রোমানি। নেয়ামতউল্লা (শেখ) নুসরত (শেখ) নুরুল হুদা । নূর আলী নূর উল্লা। নুর মালেক । প্‌ পরবত জাহা সাহেব । পীর আমীন সাহেব। পীর ছোট । (অনুসঙ্গী) পীর দরিয়া ।২০ পীর মানেক।২১ পীর পঞ্চাতন।২১-খ। ফ ফকর উদ্দীন (সৈয়দ) ফজুলা (কাজি) ফরিদ সাহেব (সৈয়দ) ফরিদ আনসরী (শেখ) ফতে গাজী সাহেব ।২২ ফয়াজ উদ্দীন (শেখ) ফরিদ রওসন বেরাগ। ফিরোজ আতায়ী । ফিরোজ (কাজি) ফৈকর উদ্দীল্ (কাজি) মদসুদ্দীন।২৭ মহবত (সৈয়দ)২৮ মুসা (শেখ) মু-আব্দুল আলী (সহিদ) মোওদ্ুুর মোক্তার (সহিদ)২৯ মোজাফর বেহারী ৷ ২০৬ শ্রীহন্্রের ইতিবৃত্ত শেখ কালু। সস সদর (শেখ) সয়েফ উদ্দীন (সৈয়দ) সমস (শেখ) সরফ উদ্দীন (শেখ) সরিফ আজমিরী ৷ সাদ-হা (শেখ) সাবু (শেখ) সালিম (শেখ) সালেহ মালেক । সাহাবাজ আন্সরী । সিকান্দর তবলবাজ । সিকান্দর (শেখ) সিকান্দর মোহাম্মদ । সিরাজউদ্দীন (শেখ) সোণাগাজী (শেখ) সোহাবউদ্দীন। হ্‌ হজরত আবুফজল । হজরত করমমোহাম্মদ (শেখ) হজরত কালু শাহ।88 হজরত গোলাম 18৫ হজরত জলালউদ্দীন (সহিদ) হজরত জাহা (সৈয়দ)৪৬. হজরত জেহান (কাজি) হজরত দেওয়ান ফতেহ মাহমুদ 18৭ হজরত লাল 18৪৮ হজরত লাল (সৈয়দ)৪৯ হজরত মোহাম্মদ সহিয়াল । হজরত উল্লা খতিব । হবিব গাজী । হাজি ইউসুফ 1৫০ হাজি আহম্মদ হাজি আহম্মদ (দ্বিতীয়) হাজি উমর চিস্তি । দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড হাজি ওস্মান দাওরি। হাজি কাশেম। হাজি খলিল।৫১ হাজি খেজের। হাজি গাজী ।৫২ হাজি মোহাম্মদ | হাফেজ মোহাম্মদ । হামিদ উদ্দীন নুরনারী । হামিদ ফারুকি ।৫৪ হায়দর গাজী 1৫৫ হাসেম চিস্তি । হেলিম উদ্দীন বেহারী। হেলিম উদ্দীন বেহারী (শেখ)৫৬ হেসাম উদ্দীন বেহারী । হজ্জত মালেক । হুমান উদ্দীন। হুসেন (সহিদ) হুসেন (শেখ) হুসেন (সহিদ) (দ্বিতীয়)৫৭ হুসেন সুফি। দ্বিতীয় অধ্যায় : দরবেশ শাহজলাল শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত ২০৭ (%) সহিদ ও সৈয়দ দুই বিভিন্ন শব্দ। সহিদ শব্দে বিধম্মীর সহিত কোনরূপ সংঘর্ষে নিহত। হজরত মোহাম্মদের জামাতা আলীর সন্তানবর্গই সৈয়দ বলিয়া খ্যাত। হজরত শাহজলালের অনুচরবর্গ প্রত্যেকেই সাধু ও দৈবশক্তি সম্পন্ন ছিলেন এবং সকলেই “হজরত” উপাধির অধিকারী । প্রায় যষ্টি সংখ্যক অনুচরের নাম সংগ্রহ করিতে না পারাতে উপরোক্ত তালিকাতে সন্নিবেশিত করিতে পারা যায় নাই । হজরত শাহজলালের অনুজ্ঞায় ইহারা শ্রীহট্ট জিলায় নানা অংশে ও পার্শববন্তী জিলা সমূহে ধর্মপ্রচার করেন, তন্ুধ্যে কাহার কাহারও প্রচাব স্থানের পরিচয ও সমাধি স্থানের নাম লিখিত হইতেছে । যে যে আউলিয়ার নামের পারে এক, দুই ক্রমিক সংখ্যা দেওয়া হইয়াছে, কেবল তাহাদের বিষয়েই এগ্সানে লিখিত হইলঃ-_ ১. ২. ১০. ১১. ১২, ৯৩) ১৪, আলী এমনি (শেখ)--এমন দেশের রাজপুত্র, ইহার কবর শাহজলালের সমাধিপার্থে অবস্থিত। আবু তৃরাব--ইহার কবর শ্রীহট্ট সহরের বন্দর বাজারের উত্তরাংশে অবস্থিত । তত্রত্য মসজিদ, কুপ ও পুঙ্করিণী তাহারই নির্মিত। ইহা অদ্যাপি ভগ্ন হয় নাই, কিন্তু পু্করিণীর অবস্থা ভাল নহে। আবু বন্ধর (সৈয়দ)-_ধর্মম প্রচারার্থে তিনি পূর্ব দিকে গিয়াছিলেন; করিমগঞ্জের অন্তর্গত ছোটলিখা পরগণায় তাহার কবর অবস্থিত। উমর সমরকান্দী (সহিদ)-শ্রীহট্র সদরস্থিত বর্তমান ধোপা দীঘীর পারের পুরর্বনাম “মহলে উমর সমরকান্দী।” এই স্থানে উক্ত মহাত্মা বাস করিতেন, তথায় তাহার কবর অবস্থিত। তিনি সমরকন্দের অধিবাসী ছিলেন। এতিম শাহ--সহরের বাদুরলট্কা নামক স্থানে ইহার কবর অবস্থিত । কামাল উদ্দীন-_ ইহার প্রচার ক্ষেত্র ও বাসস্থান চৌয়ালিশ পরগণান্তর্গত কামালপুর। তাহার কবব তথায় অবস্থিত। তত্রত্য চৌধুরী বংশীয়গণ তাহার বংশ বলিয়া প্রকাশ করেন। খেজর খাস্তুদবির (শেখ)-_-তাহাদের বাস জন্য শ্রীহট্ট সহরের একাংশ “মহলে খাস্তুদবি” নামে খ্যাত হয়, তথায় তাহার কবর অবস্থিত। খেজির সুফি--শ্রীহট্ট সহরান্তর্গত বারুতখানা মহল্লায় তাহার কবর অবস্থিত । চাস্নি পীর-_সহরান্তর্গত “গোয়াইপাড়ায়” ইহার কবর অবস্থিত । চান্দ শাহ-_ইহার বাসস্থান “চান্দভরাং” নামে খ্যাত। ইহার বংশে সুহেলউদ্দীন চৌধুরী খ্যাতনামা । চেট বা চটশাহ--অনিকেতন ও চিরকুমার ছিলেন। সুরমা নদীর তীরে তিনি বাস করিতেন । বর্তমান গবর্ণমেন্ট স্কুলের দক্ষিণ পার্থ তাহার সমাধি অবস্থিত । জকাই (শেখ)--সহরের কাজিটোলা মহল্লায় ইহার কবর অবস্থিত। জলালউদ্দীন (কাজি)- শ্রীহট্ট সহরে ইহার বাসস্থানই কাজিটোলা মহল্লা নামে খ্যাত হয়, তথায় তাহার কবর অবস্থিত । জামালউদ্দীন--জিলা নয়াখালির অন্তর্গত নন্দনপুরে ইহার সমাধি আছে। ১৪-খ. জিয়াউদ্দীন (শেখ)--ইনি দেওরালি পরগণায় "মন করেন; তত্রত্য চৌধুরীণণ ইহার বংশোদ্তব বলিরা প্রকাশ করেন। (এ বংশে বর্তমানে মৌলবী মহিবুর রজা ২০৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড ১৫, চৌধুরী জীবিত আছেন। জিন্দাপীর--শ্রীহট্রের জিন্দাবাজার ইহারই নামে স্থাপিত। উক্ত বাজারের উত্তরাংশে পথিপার্থে তাহার কবর অবস্থিত । এ স্থলে পাচটি কবর একত্র থাকায় পাচ পীরের মোকাম বলিয়া খ্যাত হইয়াছে । . তাজউদ্দীন (সহিদ) ইনি অরঙ্গপুর গমন করিয়াছিলেন। (তথাকার আব্দুল গফুর সাহেব তদ্বংশীয় বলিয়া প্রকাশ করেন ।) , তৈয়ক সালামি-তৈয়ফ সালামি সাহেবের সমাধি পরগণা গোধরালির “সালাম” নামক স্থানে (প্রকাশিত চকের বাজার) অবস্থিত। . দাউদ কুরেষি- ইনি শাহজলালের এক বংশে (কুরেষি) জন্ম গ্রহণ করেন। ইনি রেঙ্গা পরগণায় গমন করেন। তদীয় বসতি স্থান দাউদপুর নামে খ্যাত । তত্রত্য চৌধুরীগণ তদ্ধংশীয় বলিয়া প্রকাশ করেন। . দাদা পীর-শ্রীহস্টরের রায়নগরান্তর্গত মোক্তারখাকী মহল্লায় ইহার সমাধি অবস্থিত। . পীর দরিয়া_ইহার কবর শাহজলালের উপাসনা গৃহের উত্তরস্থিত সবর্ষ পূর্ব ভাগে অবস্থিত। সম্ভবতঃ শাহজলাল বর্তমান থাকিতেই ইনি পরলোকগত হন। , পীর মালেক-ইনি এবং ইহার অনুসঙ্গী ছোট পীর যে টিলায় বাস করিতেন, তাহাকে মানেকপীরের টিলা বলে। এ স্থানে তাহার কবর অবস্থিত । শ্রীহট্ট মিউনিসিপালিটি কর্তৃক এ স্থানই সহরের মোসলমান অধিবাসীদের কবরের স্থান বলিয়া নির্দিষ্ট হইয়াছে। ২১-খ. পীর পঞ্জাতন--নাম নহে, পাচজন পীর, পীর জিয়াউদ্দীন সহ একত্র বাস করিতেন হু ২৩. ২৪. ৫. ২৬. ২৭. টা, বলিয়া এই নামে উক্ত হন। শ্রীহন্ট সহরে তাহাদের কবর স্থান “পাচ পীরের মোকাম” বলিয়া খ্যাত। (১৬ নং বিবরণ দেখ ।) ফতে গাজী সাহেব-_ইনি তরফ গমন করেন । তাহার বাসস্থান ফতেপুর নামে খ্যাত, তাহার কবর তথায় অবস্থিত । তাহার স্মরণার্থ প্রতিবৎসর ফতেপুরে এক মেলা হয়। ব-আবুদৌলত--পরগণা ছনখাউড়স্থিত বিবিদৌলত মৌজায় তাহার বাস ছিল, তথায় তাহার কবর অবস্থিত। বাগদার আলী শাহ--শ্রীহট্ট সহরে বারুতখানা মহল্লায় তাহার কবর অবস্থিত। মকদ্দুম সাহেব ও তদীয় সঙ্গীদ্বয়_-সঙ্গীদ্বয় সহ এই তিন পীরের কবর সহরের অন্তর্গত দফৃতরি পাড়ায় অবস্থিত । পরগণা কাণিহাটী মৌজে কাউকাপনের চৌধুরীগণ মকদ্দুম__বংশীয় বলিয়া প্রকাশ করেন। এই নামে আরও তিনজন পীর শাহজলালের অনুসঙ্গী ছিলেন। মকদ্দুম রহিম উদ্দীন-_-জলালপুর পরগণায় ইহার কবর অবস্থিত। মদৃসুদ্দীন--শ্রীহট্ট সহরের উপকণ্ঠে রেকাবি বাজারের পশ্চিমে ইহার কবর অবস্থিত । শ্রীহট্র-নূর পুস্তকে ইহার নাম “মদুসুদন” বলিয়া লিখিত আছে। মহবত (সৈয়দ)- ইহার কবর পরগণা মহুরাপুরে অবস্থিত । তত্রত্য শ্রীযুক্ত সিকান্দর মিয়া প্রভৃতি তদ্বংশীয় বলি প্রকাশ করেন। , মোক্তার (সহিদ) -শ্রীহট্ট সহরের “মোক্তার সহিদ” মহল্লায় তাহার বাস ছিন, দ্বিতীয় অধ্যায় : দরবেশ শাহজলাল শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ২০৯ ৩০. ৩১. ৩২. ৩৩. ৩৪. ৩৫. ৩৬. ৩৭. ৩৮. ৩৯, ৪8০. ৪১. ৪... ৪৩. ৪8৪. 8৫. ৪৬. তথায় তদীয় সমাধি বিদ্যমান আছে। রুকণ উদ্দীন আন্সারী--সরাইল পরগণার (জিলা ত্রিপুরা) সাজাদপুরে ইহার কবর অবস্থিত। শাহ কামাল-_শাহারপাড়া নামক স্থানে ইহার কবর অবস্থিত । শ্রীহন্ট দরগামহল্লায় কেহ কেহ তদ্বংশীয় বলিয়া প্রকাশ করেন। শাহন্র--শ্রীহট্ট বন্দরবাজারের দক্ষিণ-পৃরবের্ব তাহার কবর অবস্থিত। এই পীরের আজান ধ্বনিতে মিনারের টিলা ভূতলশায়ী হইয়াছিল বলিয়া কথিত আছে। শাহ পরাণ-_ইনি অসাধারণ দৈবশক্তি সমব্িত ছিলেন,। কথিত আছে যে, তিনি কয়েকটা জালালী কবুতর ভক্ষণ করিয়াছিলেন, এবং শাহজলাল কবুতরের কথা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বিনষ্ট কবুতরের “পর” বা পালক দ্বারা সমরূপ কবুতর সৃষ্টি করিয়া বিনষ্ট কবুতর সংখ্যা পূরণ করিয়া দিয়াছিলেন। এই “পর” শব্দ হইতেই তিনি “পরাণ” নামে খ্যাত হন। পরে তিনি দক্ষিণকাছ পরগণায় গমন করেন। তদীয় বসতি স্থানের নাম “শাহপরাণ” গ্রাম । তথায় তাহার কবর অবস্থিত । তত্রত্য চৌধুরীগণ এই পীরের মোকামের খাদিম বলিয়া খ্যাত। শাহ ফরঙ্গ_-মৌলবী বাজারের অন্তর্গত “মনুমুখ” নামক স্থানে ইহার কবর অবস্থিত । মতান্তরে ইহার নাম দরঙ্গ ৷ দরঙ্গের বংশে শ্রীযুক্ত আজাদ বখ্ত খ্যাতনামা ব্যক্তি। শাহ মদন- শ্রীহট্টরের অন্তর্গত টিলাগড় নামক স্থানে ইহার কবর অবস্থিত । শাহ মালুম-_মহুরাপুর পরগণার ইহার কবর অবস্থিত । শাহ রফিউদ্দীন-_তদীয় বাস্থান “শাহরফিং” নামক স্থানে তাহার কবর অবস্থিত । শামস্উদ্দীন শাহ__সৈয়দপুর মৌজায় ইহার কবর অবস্থিত । তত্রত্য চৌধুরীগণ ইহার বংশীয় বলিয়া প্রকাশ করেন। শাহ সজ্জর--শ্রীহট্রের বারুতখানা মহল্লায় ইহার কবর অবস্থিত । শাহ সদরউদ্দীন--বাদে সতরসতী পরগণার পব্বতপুরে ইহার কবর অবস্থিত; তত্রত্য চৌধুরীগণ তাহার বংশীয় বলিয়া প্রকাশ করেন। শাহ সিকান্দর মোহাম্মদ--ছনখাইড় পরগণার “শাহ সিকান্দর” মৌজায় তাহার বাসস্থান ছিল; তথায় তদীয় কবর অবস্থিত; তত্রত্য চৌধুরীগণ তদ্ধংশীয় বলিয়া প্রকাশ করেন। শাহ সিকান্দর গাজী সুলতান-ইনি সম্রাট ভাগিনেয় ছিলেন। ইহার হস্তেই শ্রীহ্ শাসনভার ন্যস্ত হইয়াছিল । শাহ সুনদার--দক্ষিণ কাছ পরগণায় ইহার কবর অবস্থিত । কালু শাহ পীর--“পীরেরগ্রাম” নামক স্থানে এই পীরের কবর অবস্থিত । হজরত গোলাম--ইহার কবরও জল্লারপারে অবস্থিত । দেওয়ান ফতেহ মাহমুদ--শাহজলাল শ্রীহট্ট আসিলে পর ইনি এস্থানে আসিয়া তদীয় শিষ্যতুক্ত হন। তাহার আগমন কাছে। তরফে বিগ্রহ চলিতেছিল এবং তিনি তথায় প্রেরিত হন; সুতরাং ইনি ৩৬০ আডলিয়ার অন্তর্ভুক্ত নহেন। তরফে তাহার সমাধি শীহপ্টরের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১৪ ২১০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড ৪৭. ৪৮. ৪৯, ৫০. ৫১. ৫২. ৫৩. ৫৪. ৫৫. ৫৬. অবস্থিত । লাল সাহেব--ইহার কবর শ্রীহট্টস্থ “সওদাগর টোলা” নামক স্থানে অবস্থিত । সৈয়দ লাল--ইহার কবর শ্রীহই্স্থ “কুয়ারপার” নামক স্থানে অবস্থিত। হাজি ইউসুফ--শাহজলালের দরগাতে প্রাচীরের বহির্ভাগে ইহার কবর দৃষ্ট হয়। দরগায় বর্তমান “সরকুম” বংশীয়গণ তাহারই সন্ধান। হাজি খলিল-_-শাহজলালের দরগায় তদীয় উপাসনা গৃহের উত্তরে যে তিনটি কবর দৃষ্ট হয়, তন্মধ্যে পশ্চিমের কবরটি হাজি খলিলের, পূৃবের্বরটি হাজি ইউসুফের এবং মধ্যেরটি দরিয়া পীরের । হাজি গাজী- শ্রীহ্রস্থ প্রসিদ্ধ ঈদগার ময়দানের পূর্ব ইহার কবর অবস্থিত। মোসলমানদের মধ্যে এক প্রবাদ আছে যে, এঁ গীর এখনও হঠাৎ কাহাকে কাহাকেও দর্শন দিয়া থাকেন। হামজা (সহিদ)__বনের বাঘও এই পীরের বশীভূত ছিল বলিয়া শুনা যায়। তিনি ব্যাঘ্যারোহণে শ্রীহট্ট আগমন করিয়াছিলেন । (শ্রীহউদর্পণ গ্রন্থ দেখ ।) হামিদ ফারুকি--প্রথমে তিনি মহুরাপুর গমন করেন, তথা হইতে কাণিহাটী কাউকাপনে গিয়া বাস করেন; কাণিহাটীতে তদীয় বংশধরগণ বিদ্যমান আছেন। (অদ্যাপি) নিষ্কর মহালরূপে পরিগণিত রহিয়াছে। হেলিমউদ্দীন (শেখ)-- ইহার সমাধি কাণিহাটী পরগণায় বিদ্যমান ছিল, তত্রত্য চৌধুরীগণ ইহার বংশজাত। (স্থানান্তরে এই বংশের বিবরণ কথিত হইবে) । হুসেন সহিদ- ইহার বাসস্থানও তদীয় নামানুসারে “হুসেন সহিদ” মহল্লা নাম প্রাপ্ত হইয়াছে । এই মহল্লা শ্রীহক্ট সহরেই অবস্থিত, তথায় তাহার সমাধি আছে। শাহজলালের অনুসঙ্গী পীরগণের সমাধিস্থান নির্ণায়ক একটি প্রবন্ধ “শ্রীহট্র-নূর” নামক পুস্তকে আছে, তাহা হইতে আমরা অনেক সহায়তা প্রাপ্ত হইয়াছি। "শ্রীহস্টে শাহজলাল" পুস্তকের অতিরিক্ত পত্রের ২২ পৃষ্ঠায় লিখিত হইয়াছেঃ__-“আনওয়ারূল আউলিয়া নামক উদ্দ্ু ভাষায় লিখিত একখানি গ্রন্থে এই সমস্ত বিষয় লিখা আছে। হজরত শাহজলালের সঙ্গীয় ৩৬০ জন অনুচর ইত্যাদির শ্রীহট্র, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা প্রভৃতি জিলায় নানাস্থানে মাজার বা সমাধি বর্তমান আছে, কিন্তু শ্রীহট্র জিলায়ই বেশীর ভাগ, এই জিলা আউলিয়াদের মাজারে প্রায় পরিপূর্ণ বলা যাইতে পারে ।” এই “শ্রীহট্টে শাহজলাল” পুস্তকের অতিরিক্ত পত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়ে রচয়িতা ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম, ঢাকা প্রনৃতি স্থানের পীরগণের নামাবলী দিয়াছেন, তাহাদের সংখ্যা ৫৫ জন. এবং তরফের নানাস্থানের ১৫ জন পীরের নামও এ পুস্তকে লিখিত হইয়াছে। তরফের এই পীরদের মধ্যে অনেকেরই নাম ইতিপূর্বে উল্লেখিত হইয়াছে । ফলতঃ ভিন্ন জিলাগামী ও তরফগামী পীরদের মধ্যে শাহজলালের অনুসঙ্গী ৬১ সংখ্যক পীর ছিলেন,--যাহাদের নাম আমরা সং করিতে পারি নাই । এই ৬১ সংখ্যক পীরের সহিত আমাদের পরিজ্ঞাত নাম পূর্বোক্ত পীরদের সংখ্যা যোগ করিলেই ৩৬০ সংখা পূর্ণ হইবে। তৃতীয় অধ্যায় নবাবি আমল শ্রীহট্টের শাসনকর্তুগণ সাধারণতঃ নবাব বলিয়া পরিকথিত হইতেন, তাহাদের শাসন সময়ের যে কয়েকটা ঘটনা প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে, তাহাই এ অধ্যায়ের বর্ণনীয় বিষয় । নবাব ইস্পেন্দিয়ার দ্বিতীয় অধ্যায়ে কথিত হইয়াছে যে, সিকান্দর গাজীর মৃত্যুর পর শাহজলালের অপর অনুচর হায়দর গাজী শ্রীহন্টরের শাসনভার প্রাপ্ত হন। হায়দর গাজীর শাসনাবসানে কাহার দ্বারা শ্রীহট্র শাসিত হয়, জানা যায় না। প্রসিদ্ধ এতিহাসিক হান্টার সাহেব বলেন যে, শাহজলালের পর শ্রাহ্ট বঙ্গসাম্রাজ্য সংভুক্ত হইয়া নবাব পদাভিষিক্ত শাসনকর্তাদের শাসনাধীন হয় ।১ যে সময়ের কথা বর্ণিত হইতেছে, এ সময় তোগল বংশীয় সম্াটগণ দিল্লী সিংহাসনে আরূঢ় ছিলেন। সিকান্দর ও হায়দর গাজী, শাহজলাল জীবিত থাকা কালেই গৌড় [শ্রীহট্ট) শাসন করেন। কাহার কাহারও মতে তদনন্তর ইসপেন্দিয়ার শ্রীহট্টের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। ইস্পেন্দিয়ার সম্বন্ধে প্রথম অধ্যায়ে কিঞিৎ লিখিত হইয়াছে। ইস্পেন্দিয়ার বঙ্গাধিপতি সিকান্দর শাহের সময়ে শ্রীহট্টে আগমন করিয়া, তত্রস্থ পীরমহল্লাস্থিত আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। হায়দর গাজীর মৃত্যুর পরে তাহার জীবিত থাকা অসম্ভব নহে, এবং সেই সময়েই তিনি শ্রীহত্টের শাসন কার্ধ্য নিবর্বাহ করিয়া থাকিবেন। হজরত শাহজলালের দরগা অল্লপকাল মধ্যেই মোসলমানগণের প্রধান তীর্থরূপে পরিণত হয়, তখন ইস্পেন্দিয়ার আদিনা মসজিদের মাল মসন্মা আনিয়া দরগা সম্মুখবত্তী (অপূর্ণ) মসজিদটি প্রস্তুত করিতে আরন্ত করেন। হজরত শাহজলাল ৩০ বর্ষকাল শ্রীহট্ট ছিলেন, তদীয় মৃত্যুকাল পর্য্যন্ত হায়দর গাজীর শাসনকাল অনুমান করিলে ১৪১৪ শ্ৃষ্টাব্দ পর্য্যস্ত তিনি শ্রীহট্টে শাসনদণ্ড পরিচালন করিয়াছিলেন বলা যাইতে পারে । তৎপর শ্রীহট্রের শাসন কার্য কিভাবে চলিয়াছিল, জ্ঞাত হওয়া যায় না। খৃঃ ১৩৮৫-১৪৯৫ পর্য্যন্ত গৌড় রাজ্য যখন শ্্রীহট্র শাহজলাল কর্তৃক বিজিত হয়, প্রায় সেই সময়ই দিনাজপুরের রাজা গণেশ (মতান্তরে কংস), গৌড়াধিপতি শামস্‌ উদ্দীনকে নিহত করিয়া (১৩৮৫ খৃষ্টাব্দ) গৌড়ের রাজা হন। রাজা গণেশের পর তীহার পুত্র ও পৌত্র মোসলমান ধর্ম অবলম্বন করিলেও হিন্দুদের অনুকূলই ছিলেন, তাহাদের সময় (খুঃ ১৪২৬) পর্য্যন্ত বঙ্গদেশে মোসলমান প্রভাব প্রবল হইতে পারে নাই । গণেশের পৌত্র আহমদ শাহের সহিত এই স্বপ্লোথিত হিন্দু রাজবংশের বিলোপ ১. /১0:110 09811) 01 9110] 09190], (110 07717101৮45 11101000001 01081017100) 01 1301601 2714 [011 11) 01)0125 018 1৭9021), সা011701110905 01 1076 1715101% 2114 50205010১06 1075199009 1)1৬15101) তি 291 প্র রি প্র নর এ রর রি 1 রি চর ভি ২49- জু চা ঞ্ 4 ক পন রি রঃ টু | মা | টে সিরা রে টি তল এ রর 1 বত নব কপুরীত বত 5৭7৬ * যে লে. ন্‌ 2 খু চর ৪ রি সত 5 রি শি কর ্ 5৮8৮ রি ) / ক এ পে ৩১৭৭ এ রি কি ভিত ২ রর নি বর করে ৫ হ রি রে স্স্জি ০. টি শি রে হু 7 ই... | | কপ ০ ছি ৬ পা 5 22,-৮ ৃ 4 জা, সা 7৮ রে হে এ ৯ ০৯ 3 1108৯1458 ্ রর ৮ - যারা ৪ ৪. এপ পি স্। হি রঙ রে প ৎ ৩৫ ৃ ৭ রি ৭... নর সস নর 255 € টা 95 ৮ র্‌ টু ) চি গিরি রাস | ৭ -» ্ রি ্ ৭ + চে চর চাস ২৪৫৭ ঃ ২৪৫ বুরহান এল? ২৯৬: 5 সপ নস এ ৪ ২ কইল ২৮০ পরান রা ৬ গস্জ ৮ ৮৭ ৯২২৭ ৯, জারা শা বর ০০০ ৩১০ চির ৯১৩. ২৭ ই. তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২১৩ ঘটে ।২ আহমদ শাহের মৃত্যু হইলে তাহার একটি ভূত্য সিংহাসনাধিকার করে, কিন্তু অচিরেই ইলিয়াস বংশীয় জনৈক যুবকের হস্তে নিহত হয়। গণেশ-পৌত্র আহমদ শাহের পর ইলিয়াস বংশীয় নাদীর শাহ, তৎপর বরবক শাহ, তাহার পর ইউসুফ শাহ রাজত্ব করেন । এই ইউসুফের নামাঞ্কিত একটি প্রস্তরলিপি শাহজলালের দরগার দ্বারদেশে গ্রথিত থাকায় ইহাব নামের সহিত শ্রীহত্টের সম্বন্ধ সূচিত হইতেছে। ১৪৮২ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত তিনি জীবিত ছিলেন, তৎপর হাবসী বংশীয় পাচ জন নৃপতির ক্ষীণহস্তে বঙ্গের শাসনদণ্ড পরিচালিত হয়; ইহারা শ্রীহস্ট্রেব প্রতি মনোনিবেশ করিবার অবকাশ প্রাপ্ত হন নাই। ইহাদের শেষ রাজা মুজঃফর শীহ। তীহাব সময় পর্যযস্ত (১৪৯৫ খ্‌ঃ) শাহজলালের দরগার প্রধান কর্ধাধ্যক্ষগণ কতিপয় সৈন্য রাখিয়া শ্রীহ্ বিস্তারিত ছিল, এবং সেই সুযোগে পার্বন্তী জমিদারগণ মস্তকোত্তলনপূবর্বক স্বাধীনতা অবলম্বন করিয়াছিলেন, ইহার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। এই সময়ের মধ্যে দিল্লীর রাজসিংহাসন তোগলক বংশীয়দের হস্ত হইতে লোদী বংশীয়ের অধিকারে আসে । বেহলুল লোদী পঞ্জাব জয়ান্তে ছাব্বিশ বৎসর কাল যুদ্ধের পর জোয়ানপুর অধিকার করেন (১৪৭৬ খৃষ্টাব্দ; জোয়ানপুরের অধিপতি হুসেনশাহ সুরকি (মতান্তরে হুসাঙ) তখন পলায়নপুবর্কক বঙ্গদেশে আগমন করেন। সৈয়দ হুসেন শাহ ও হুসেন শাহ সুরকির সময়ে শ্রীহট্ট যখন বঙ্গদেশে এবিসিনিয়ান ও খোজা দাস গণের হস্ত হইতে হস্তান্তরে যাইতেছিল, তখন সৈয়দ আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বঙ্গদেশে আগমন করেন। তিনি হজরত মোহাম্মদের বংশীয় ছিলেন। তাহার পিতা মক্কার শেরিফ ছিলেন বলিয়া তিনিও উক্ত উপাধি ধারণ করিতেন । সৈয়দ আলাউদ্দীন হুসেন শাহ পূর্বোক্ত মুজঃফর শাহকে পরাভূত করতঃ গৌড় সিংহাসন করায়ত্ত করেন। তিনি অসাধারণ বীর, কম্মকুশল ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি ছিলেন। পুবর্বাঞ্চলে তিনি ত্রিপুরাধিপতি ধন্য মাণিক্যের সহিত যুদ্ধ করিয়াছিলেন, কিন্তু উড়িষ্যা বিজয়েই তাহার সমধিক যত ছিল; তিনি কামরূপ পর্য্যন্ত জয় করিয়াছিলেন । এমন কি, দিশ্লীশ্বর অনুকূল সর্তে তৎসহ সন্ধি স্থাপন করিয়াছিলেন। জোয়ান পুরের হুসেন শাহ (হসাঙ্গ্‌) দিশ্লীশ্বরের সহিত যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, অবশেষে পরাস্ত হইয়া বঙ্গদেশে আগমন পূবর্বক সৈয়দ হুসেন শাহের আশ্রয় প্রার্থী হইলে পরম আদরে গৃহীত হইলেন। তাহাকে রাজোচিত বৃত্তি দেওয়া হইল ও তদীয় অনুসঙ্গী কর্মচারি ও ভূত্যবর্গকেও যথাযোগ্য কার্য্যে নিয়োজিত করা হইল । হুসেন শাহ সুরকি আমরণ তাহার আশ্রয়ে ছিলেন। সৈয়দ হুসেন শাহের সময়ে (অধুনালুপ্ত মুয়াজ্জমাবাদের সহিত) শ্রীহট্টেও তাহার শীসনাধীন হয়। তাহার সময়েই শ্রীহট্ট ও তৎসন্নিহিত প্রদেশে গৌঢ় হইতে নিয়োজিত কানুনগোগণ কর্তৃক শাসিত হইত । তৎপূর্ব্ শ্রীহট্টে বিদেশাগত কোনও শাসনকর্তার সমাচার পাওয়া যায় না; শাহজলালের অনুচর বংশীয়গণ দ্বারাই শাসিত হইত বলিয়া কিংবদন্তী আছে; তাহারাই নবাব নামে কথিত হইতেন। সৈয়দ হুসেন শাহের রাজত্বকাল চব্বিশ বৎসর (খুঃ ১৪৯৬-১৫২০)। হুসেন শাহের সময়ে মন্ত্রী রুকণ খী শ্রীহট্টের শাসন জন্য প্রেরিত হন। রুকণ খা মৃত্যুর পর গহর খা আসোয়রি তাহার ২. 1/৯10700| 01641111420 1501116 170 5০), ১111) 1111) 01051101405 09950909100 (0 01) ০010.” ৬1015111001) 0011 1100 01 11011191019 01173010801. ১6৩1. 111. 2 171. ২১৪ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড পদে নিযুক্ত হন। ইহারও কানুনগো উপাধি ছিল; সর্বোচ্চ শাসনভার প্রাপ্ত কর্মচারীই তৎকালে কানুনগো উপাধির অধিকারী ছিলেন। গহর খার নামেই শ্রীহট্রের গহরপুর পরগণার নামকরণ হয়। ইহার প্রধান কর্মচারীর নাম সুবিদ রাম ও রামদাস ছিল। গহর খার পর মোহাম্মদ খা শ্রহিন্রের কানুনগো বা শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।৩ পরগণা মোহাম্মাদাবাদ, ইহার নাম ঘোষণা করিতেছে। প্রাচীন বরশালা গ্রাম ও সর্বানন্দ (সরওয়ার খা) আধুনিক শ্রীহন্্ট সহরের তিন চারি মাইল উত্তরে শ্রীহত্ট গৌড়ের প্রাচীন রাজধানী “গড়দুয়ার” অবস্থিত । ইহার সন্নিকটেই প্রাচীন বরশালা বস্তি। বরশালাতে রাজকর্মচারীবৃন্দের বাসভবন থাকায় ইহা এক সৌষ্টবশালী গ্রামে পরিণত হয়। শাহজলালের আগমনে গড়দুয়ারের সঙ্গে সঙ্গে বরশালারও অধঃপতন ঘটে । এ সময় সহর আরও দক্ষিণে সরিয়া আসে। মোসলমান শাসনকর্তাদের সময়ে, পশ্চিমে আখালিয়া ও শেখঘাট হইতে পুবের্ব রায়নগরের উচ্চতর স্থান সমূহ লইয়া শ্রীহট্ট সহর ছিল।৪ বরশালা প্রভৃতি স্থান হইতে ভদ্রলোক সমূহ উঠিয়া যাওয়ায় উহা ক্রমশঃ জঙ্গলপূর্ণ হইতে থাকে । জোয়ানপুরে যখন হুসেনশাহ সুরকি রাজত্ব করিতেছিলেন, তখন শ্রীহট্রস্থ বরশালাবাসী সবর্বানন্দ নামক জনৈক সন্ত্াত্ত কায়স্থ, জোয়ানপুরস্থ রাজকুমারগণের শিক্ষকতায় নিযুক্ত ছিলেন। কথিত আছে যে, একদা তিনি মোসলমানের আহারীয় দ্রব্যের আঘ্বাণ পাওয়ায় আপনাকে অপবিত্র জ্ঞান করেন; ইহাই তাহার জাতিনাশের কারণ হয়। তিনি অতি বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন; অচিরেই তিনি হুসেনশাহ বা হুসাঙ্গের সহকারী মন্ত্রীর শন প্রাপ্ত হন। এই সবর্বানন্দ শ্রীহস্্রের দস্তিদার পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন ।৫ এসলাম ধর্ম্মে দীক্ষিত হইলে সর্ব্বানন্দ সরওয়ার খা নাম প্রাপ্ত হন। প্রভুর রাজ্যচ্যুতিতে সরওয়ার খা তাহার সহিত গৌড়াধিপতির আশ্রয়ে আসিলে, তাহারই নিয়োগানুসারে তিনি শ্ীহট্টে প্রেরিত হন। কথিত আছে যে, তিনি তখন বৃদ্ধ হইয়াছিলেন এবং লজ্জাবশতঃ নিজ পত্র সহিত দেখা না করিযা, গড়দুয়ারে (বর্তমান মজুমদারিতে) পৃথক এক বাটা প্রস্তুত ক্রমে তথায় বাস করেন। তীহার স্ত্রী অতি ধর্িষ্ঠা ছিলেন, তিনি স্বামীর অভিপ্রায় ও আদেশে ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন পুরর্বক পবিব্রভাবে কালাতিবাহিত করেন । পূর্বোক্ত মোহাম্মদ খা শ্রীহন্টরের শীসনকর্তারূপে আগমন করিতে আদিষ্ট হইরে, শ্রীহস্্রের অবস্থা পরিজ্ঞাত বলিয়া সরওয়ার খাকেও তৎসহ শ্রীহ্টে প্রেরণ করা হয়। এঁ সময় শ্রীহস্ট্রের কোন কোন ভূমধ্যধিকারী বিদ্রোহ ভাবাপন্ন হইয়া উঠিয়াছিলেন। ভূতপূবর্ব কানুনগো গহর খার কর্মচারী সুবিদ রাম ও রামদাস বহু অর্থ আত্মসাৎ ক্রমে প্রতাপগড়ের অধিকারী বাজিদের আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল। ইটার জমিদার শ্রী শিকদার, কাণিহাটীর জমিদার ইসলাম রায় প্রভৃতি একযোগে ঘোরতর বিদ্রোহ উপস্থিত করিয়াছিলেন: ইহাদের সহিত জঙ্গলবাড়ীর জমিদার প্রভৃতি যোগ দেওয়ায় বিষয়টি গুরুতর হইয়া দীড়াইয়াছিল। সরওয়ার খা এই বিদ্রোহ দমনের জন্য বিশেষ ভাবে আদিষ্ট হন। সরওয়ার খাঁ শ্রীহট্রে আগমন পূর্বক কিছুকাল মধ্যেই বিদ্বোহ দমন করেন। তিনি দক্ষতার সহিত আদেশ পালন করতঃ হুসেন শাহের সমীপে সমুপস্থিত হইলে, হুসেন শাহ তৎপ্রতি অতি তুষ্ট হইলেন। এ সময় মোহাম্মদ খাঁর মৃত্যু হওয়ায় শ্রীহস্টে শাসনকর্তা * ৮1070101001 15217119-12, রর ও [.৬০০ 01 0106 নার ৬২১], [11]. 15,107. ৫. 11020171407 1:07011-12, 13. 0170 শ্রীহট্ট-দর্পণ-৭১ পৃষ্ঠা | ততীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহট্টের ২১৫ নিয়োগ আবশ্যক হয়। হুসেন শাহ সরওয়ারের কার্য্ের পুরস্কার স্বরূপ তদীয় পুত্র মীর খাকে শ্রীহট্রের শাসনকর্তী (কানুনগো) নিযুক্ত করেন। মীর খাও অতি দক্ষতার সহিত শ্রীহট্ট শাসন করেন। তিনি স্বীয় কৃতকার্্যতার জন্য “মজুমদার” উপাধি প্রাপ্ত হন। মজুমদার পারস্য শব্দ, ইহার অর্থ “সব্্বাধিকারী”। শাসন বিষয়ে তিনিই সর্বোচ্চ কর্মচারী ছিলেন। মীর খাঁর মৃত্যুর পর তদীয় জ্যেষ্ঠ পুত্র ইউসুফ খা ১৫২৫ খষ্টাবে শ্রীহট্টের কানুনগো নিযুক্ত হন। হুসেন শাহের রাজত্বকালে বিচার ও রাজস্ব বিভাগের প্রধান কর্মচারীগণ “দেওয়ান” নামে অভিহিত হইতেন; শ্রীহট্রে তৎকালে আনন্দ নারায়ণ গুপ্ত নামীয় এক ব্যক্তি দেওয়ান ছিলেন। শের শাহের সময়ে শ্রীহট্ট ৃষ্টীয় ১৫৩৮ অন্দে হুসেনী সৈয়দ বংশ বিলুপ্ত হয়। তৎকালে ফরিদ নামে জনৈক আফগান রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। ইহার পিতামহ বেকার অবস্থায় দিল্লীতে আগমন করেন এবং পিতা বহু চেষ্টায় বেহার প্রদেশে শশিরামের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। ফরিদ বাহ্যুদ্ধে এক শের (সিংহ) নিহত করিয়াছিলেন বলিয়া বেহারপতি মাহমুদ কর্তৃক শের শাহ নামে আখ্যাত হন। এই সময় লোদীবংশীয় সম্রাগণের পতন ও মোগলদের আগমন উপলক্ষে শের শাহ সহজেই নিজ পথ পরিষ্কার করিয়া লইতে সমর্থ হন। তিনি বেহার প্রদেশে যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করেন। হুমায়ুন এই অবমাননার প্রতিশোধ গ্রহণ কল্পে সৈন্যসংগ্হ পূর্বক আগমন করেন; কান্যকুজের নিকট শের শাহের সৈন্যসহ তাহার যুদ্ধ হয়; সেই যুদ্ধে তিনি সম্পূর্ণ পরাভূত হইয়া পলায়ন করেন এবং শের শাহ ভারতবর্ষের স্ম্রাট হন। শের শাহের রাজত্ব সময় (খৃঃ ১৫৪০-১৫৪৫) বঙ্গদেশ প্রকৃতরূপে শাসিত হয়; দৃূরব্তী প্রদেশেও বিদ্রোহ বঙ্ছি প্রধূমিত হইতে পারে নাই। তাহার ও হুমায়ূনের বিগ্রহকালে দেশের স্থানে স্থানে জসিদারবর্গ স্বাধীনতা লাভের চেষ্টা করিতেছিলেন। পূর্ববঙ্গের অনেকটি জমিদার এ সময়ে একতাসূত্রে আবদ্ধ হইয়া স্বাধীনতা অবলম্বন করিয়াছিলেন । ইহাদের মধ্যে খোয়াজ ওসমান খা, খোয়াজ আলী, ফিতে খা এবং ময়মনসিংহের রিয়াসত আলী খা, মসনদ আলী ও পূর্ববঙ্গের জমিদার সোণাগাজী, কেদার রায় প্রভৃতি প্রধান। বিদ্বোহ দমন খোয়াজ ওসমান আফগান জাতীয় ছিলেন, তিনি রাজ্য পরিদর্শক ছিলেন এবং কোন কারণে শ্রীহই্রস্থ ইট পরগণায় গৃহ, গড় ও দীর্ঘিকাদি প্রস্তুত ক্রমে বাস করিতেছিলেন ।৬ তৎপূরের্ব তিনি দেওয়ান আনন্দনারায়ণের সহায়তায় ইটার রাজা সুবিদনারায়ণকে পরাভূত ৬. খোয়াজ ওসমান খর একটি দীী শ্রীসূর্ধ্য মৌজায় অদ্য পর্য্যন্ত বর্তমান আছে: খোয়াজের গড়ের চিহ্ুও দৃষট হইয়া থাকে। শ্রীযুক্ত কেদারনাথ মজুমদার কৃত “ময়মনসিংহের ইতিহাস”৪০ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে, -“হুসেনশাহ ব্রহ্মপুত্রের পৃরর্বদিক জয় করিয়া ত্রিপুরা পর্য্যন্ত অধিকার করেন ও খোয়াজ খাকে শাসনকর্তৃত্ব পদ প্রদান করেন, খোয়াজ খা পৃ্বর্ব ময়মনসিংহের অন্তর্গত মুযাজ্জামাবাদে থাকিয়া এই যুক্ত প্রদেশে শাসন করেন।” খোয়াজ তথায় এক মসজিদ প্রস্তুত কবেন. তাহার প্রস্তরলিপিতে যে তারিখ পাওয়া যায়, তাহাতে ১৫১৩ খৃষ্টাব্দ হয়। মুয়াজ্জমাবাদের নাম অধুনা বিলুপ্ত। এ খোয়াজ ও শ্রীহট্রের খোয়াজ অভিন্ন বলিয়া অনুমিত। তদনুসারে বলা যাইতে পারে যে, তিনি রাজ্য পরিদর্শকরূপে এদেশে আগমন করেন ও ইটার রাজা তৎকর্তুক পরাভূত হন; তৎপব (শের শাহের সময়) শাসন কর্তৃত্ব হইতে অপসৃত হইয়া বিদ্রোহীভাবে ইটারদুর্গে অবস্থিতি করেন। (পরবর্তী ৮ম অধ্যায় দেখ) ২১৬ শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড করিয়া গবির্বত হইয়া উঠেন ও পরে এই বিদ্রোহী দলের নায়কস্বরূপ একদল আফগান অশ্বীরোহীসহ তরফ ও ইটা অধিকার করেন।৭ পরে শ্রীহট্রের (গৌড়-রাজধানীর) শাসনকর্তা ইউসুফ খাকে পরাভূত করিয়া দৃঢ়ভাবে তথায় অবস্থিতি করেন। সৈয়দ হুসেন শাহের সমকালীন কানুনগো গহর খা আসোয়ারির কর্মচারী সুবিদ রামের ভ্রাতুষ্পুত্র যদু রাম তীহার মন্ত্রী ছিলেন। কানুনগো লোদী খা শ্রীহট্রের শাসনকর্তা ইউসুফ খা বিদ্রোহীদের সহিত যুদ্ধে পরাজিত হইলে, তদীয় ভ্রাতা লোদী খা সম্রাট সদনে উপস্থিত হন ও শ্রীহট্রের রাজনৈতিক অবস্থা বিশদভাবে বর্ণনা করেন। শের শাহ, লোদী খা বর্ণিত বিদ্রোহবার্ত্ী শ্রবণে, বিদ্রোহীদিগকে দমনের জন্য লোদী খাকেই নিয়োজিত করেন। তাহার সহায়তার জন্য বাঙ্গালার নাজিম ইসলাম খা সসৈন্যে শ্রীহত্টরে উপস্থিত হইয়া কয়েকটি যুদ্ধের পর “রাজবিদ্রোহী খাজা বা খোয়াজ ওসমান প্রভৃতিকে দমন করতঃ পরে রাজসদনে গমন করিলেন খা উপাধি প্রাপ্ত হন।”৮ সম্রটই লোদীকে “খা” উপাধির সহতি শ্রীহট্টের কানুনগো পদের সনন্দ প্রদান করেন। পুরস্কার স্বরূপ সম্রাট হতে তিনি অনেক নানকার ও মদতমাস ভুমি প্রাপ্ত হন। কেবল তাহাই নহে, সম্রাট তাহার প্রতি এত তুষ্ট হইয়াছিলেন যে, শ্রীহ্টরের আদায়ী রাজস্বের টাকা প্রতি পাচ পাই লোদী খার প্রাপ্য নির্ধারিত হয় ।৯ লোদী খাঁ পূর্ণ ক্ষমতার সহিত শ্রীহট্ট শাসন করেন; তাহার পরে তদীয় পুত্র জাহান খা পিতৃপদ প্রাপ্ত হন; কিন্তু তিনি অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকায়, পূর্বোক্ত বাজিদের ৬হশীলদার রাজেন্্র ও বসুদাস, রুদ্রদাস এবং তরফের দস্তিদার সুবিদরাম তাহার সহকারী নিযুক্ত হইয়াছিলেন। জাহান খা নিজ নামে “জাহানপুর” গ্রাম স্থাপন করেন । আকবর শাহের সময়ে শ্রীহট্ট এই সময় মধ্যে দিল্লীতে অনেক পরিবর্তন সংঘটিত হয়। এই সময় মধ্যে শের শাহের মৃত্যু ঘটে, তাহার পুত্র সালিম শাহ তখন সম্রাট হন; তৎপর আদিল শাহ সিংহাসন লাভ করেন। ইহার পর হুমায়ুন পুনশ্চ সিংহাসনারূট় হন কিন্তু সত্বরেই তাহার মৃত্যু ঘটে। তৎপর মোগল-কুল-তিলক আকবর শাহ সম্রাট হন। আকবরের গৌরবময় রাজত্বে (খুঃ ১৫৫৬- ১৬০৫) কানুনগোদিগের ক্ষমতা নিতাত্ত-হ্বাস করা হয় । আইন-ই-আকবরিতে লিখিত আছে যে, যখন মজঃফর খা ও রাজা তোডরমল্প আকবরের রাজস্ব বিভাগের মন্ত্রী নিযুক্ত হন, সেই সময় কানুনগোদের জিলা শাসনের ক্ষমতা রহিত করা হয় এবং তাহাদের দ্বারা নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের প্রথা প্রবর্তিত হয় 1১০ ৭. মৌলবী মোহাম্মদ আহমদ কৃত “শ্রীহট্ট-দর্পণ” এবং +148477001 70011)” গ্রন্থে এই বিদ্বোহবার্তী বিবৃত আছে; কিন্তু তারিখ গুলি নির্ভরযোগ্য নহে । ৮. মৌলবী মোহাম্মদ আহমদ কৃত “শ্রীহট্র-দর্পণ”। ৯, "1,001 [01001 905 8110৬/০৫ ০/% 0176 [111090101 911016 91101) 00 19001৬০1100 01 01081100001 5 [109 11) 100১৩0.+-1110 14190117061 7011111-1, 3. ১০, ৬/101,1105/5৬07, 01019 10161) [00১1 ৬75 011010 009110/010001 10101), 01111181681 00100111001 111 1100 1511) 902 ০1 07৩ [01]7210175 10181) 006 00101806১ ৬/1০ 1101 01195/64 (0 ৮0৮৫) (17০ 00810090104 ৭ 11)08016%৩000 ৬০৭ 50105111000150 [01019 210101219 ০৯5০১510111 101010110 100110081100 109 010117-/৮)17-1-4510000,- ৬০1 01. 01]. তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত ২১৭ ইহার পর যদিও কানুনগো পদ ছিল, কিন্তু তাহাদের উপর দেশের সম্পূর্ণ শাসনভার ছিল না। দীর্ঘজীবী জাহান খা সুদীর্ঘ কাল কানুনগো পদে অধিরূঢ় ছিলেন, তাহার মৃত্যুর পর কেশওয়ার খা কানুনগো পদের সনন্দ লাভ করেন, তাহার উপর শাসন ক্ষমতা ছিল না। কানুনগোদের বিবরণ পশ্চাৎ বর্ণিত হইবে । সম্রাট আকবরের সময়ে সুবা বাঙ্গালার ১৯টি “সরকার” মধ্যে শ্রীহট্ট একতম সরকার (জিলা) রূপে গণ্য হয় । তোডরমন্তর শ্রীহট্টরকে আটটি “মহলে” বিভক্ত ক্রমে প্রতি মহলের রাজস্ব নির্ধারিত করেন। তদনুসারে শ্রীহতট্টের রাজস্ব ১৬৭০৪০ টাকা নিরূপিত হয়। আটটি মহলের নাম ও রাজস্বাদির বিবরণ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্তের প্রথমভাগ দশম অধ্যায়ে বর্ণিত হইয়াছে । আইন- ই-আকবরি গ্রন্থে সুবার জমা প্রকরণে লিখিত আছে যে, শ্রীহট্টে অনেক খোজা ও ক্রীতদাস পাওয়া যায়। আইন-ই-আকবরিতে শ্রীহট্রের কাষ্ঠ, কমলালেবু; শেরগঞ্জ ও বিহঙ্গরাজ পক্ষীর বিবরণও লিখিত হইয়াছে ।১১ সম্রাট আকবরের সময় হইতে শ্রীহট্ট শাসনের ভার আমিল উপাধিধারী কর্মচারীগণের উপর ন্যস্ত হয়। ইহারাই পরে ফৌজদার বলিয়া অভিহিত হইতেন। সব্ববসাধারণে তাহাদিগকে নবাব বলিয়া জানিত. নবাব নামেই তাহারা সব্র্বত্র কথিত হইতেন; এই জন্য তাহাদের প্রদত্ত সনদ ইত্যাদিতেও তাহাদের নবাব খ্যাতি লিখিত আছে দেখিতে পাওয়া যায়। শ্রীহট্টে আমিল পদে যাহারা নিযুক্ত হইতেন, সীমান্ত প্রদেশ বলিয়া তাহাদের রাজনীতিজ্ঞতা, শৌর্য্য, ও আভিজাত্যের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা যাইত । ইহারা ঢাকার নবাবের অধীনরূপে গণ্য হইতেন।১২ ঢাকাতেই তাহাদিগকে আদায়ী রাজস্ব প্রেরণ করিতে হইত, কিন্তু শাসনবিষয়ে পরে তাহাদিগকে মুর্শিদাবাদের অধীনে কার্য্য করিতে হইত। ইহাদের সহকাবীও থাকিত, তাহারা নায়েব ফৌজদার নামে কথিত হইতেন। শ্রীহট্রের আমিল সংখ্যা এঁতিহাসিক হান্টার সাহেব লিখিয়াছেন যে, শ্রীহট্রের আমিলগণের শিলমোহর হইতে প্রায় চল্লিশ জন আমিলের নাম সংগ্রহ করা যাইতে পারে ।১৩ আমিলদের বিষয় পর্য্যালোচনায় জানা যায় যে, অধিকাংশ আমিলের শাসনকাল অতি অল্প ছিল; এই জন্য এই সময় হইতে মোগল সাম্রাজ্যের অবসান কাল পর্য্যন্ত কয়েকটি সম্রাটের সময় মধ্যেই বহু সংখ্যক আমিল শ্রীহট্রে প্রেরিত হন। অনেক জনের নাম তাহাদের প্রদত্ত সনদ ইত্যাদি হইতে সংগ্রহ করা যায়। আমরা শ্রীহট্ট কালেক্টরীর মহাফেজখানা অনুসন্ধানে যষ্টি সংখ্যক আমিলের নাম সংগ্রহ করিতে পারিয়াছি। সম্ভবতঃ আরও ১০/১৫ জন আমিলের নাম অনুসন্ধানে বাহির হইতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে তাহাদের সময় নির্ধারণ করার পক্ষে কোনরূপ সুবিধা পাওয়া যায় না। আমরা ৪৩ জন আমিলের কাল, তাহাদের প্রদত্ত সনদের তারিখ হইতে একরপ নির্ধারণ করিতে সমর্থ হইয়াছি, বাকী ১৭ জনের সময় বিশুদ্ধরূপে নিরূপিত হয় নাই । ১১. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১ম ভাগ ৩য় অধ্যায় “ফলমূল” ও “বৃক্ষাদি” এবং ৬ষ্ঠ অধ্যায় “পক্ষী” বিবরণ দ্রষ্টব্য । ১২. [1) 10100 1011) 01 /১1001, 11 (59110610) 1005560 ৬111) 070 1050 011301801 1100 01101701105 01 0700 1৬10121)01 121100৩1015, 0110 (01) 001 11710, ৬/৫৬ 10190 0৮ থা) 01111 (1900151010৬) 9১1০0৬/01)), 90001111101 00016 1৭০৬/০।)০ 01 [)8000. 77010615 91801511001 /১0007)1১ 01 ১১517) ৬০1, 11. (59111) 0 92 13. 11110119105 01 00011 1011 00115 001) 51111 1১0 /1110160 11 ঘা। 11100, -11007115 9(701১01041 /১00001115 01 ৯5501) ৬০1. 11. (১9110) 15. 9১3. ২১৮ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড আরও দুঃখের বিষয়, যিনি আমিল পদের স্রষ্টা, সেই মোগল-কুল-রবি আকবরের সময়ে যিনি শ্রীহট্রের আমিল পদে প্রথম নিয়োজিত হন, তাহার নাম জানা যায় না। তিনি একজন উচ্চপদস্থ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হইবেন সন্দেহ নাই । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তাহাকে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধে লিপ্ত হইতে হয়। কামরূপের কোচবংশীয় নৃপতি নারায়ণের রাজত্বকাল ১৫৩৫ হইতে ১৫৮৫ স্বৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত । তিনি অতি ক্ষমতাশালী নরপতি ছিলেন। তাহার ভ্রাতা শুক্ষধ্বজ (চিলারায়) তদীয় সেনাপতি পদে নিযুক্ত ছিলেন৷ চিলারায়ের বাহুবলে নরনারায়ণের রাজ্যসীমা অনেক বর্ধিত হয়; তিনি কাছাড়, মণিপুর জয়ান্তে জয়ন্তীয়াপতিকে পরাস্ত করেন, তৎপরে শ্রীহট্টের শাসনকর্তীকে পরাজয় করিতে সৈন্য চালনা করা হয়। প্রথমতঃ তিনি এক দূত পাঠাইয়া জিজ্ঞাসা করেন যে, শ্রীহন্টপতি তাহার বশ্যতা স্বীকার করিতে প্রস্তুত আছে কি না। কামরূপ সেনাপতির এই গৰবির্বত বাক্য শ্রীহট্টের শাসনকর্তা আদৌ গ্রাহ্য করিলেন না। তখন চিলারায় তাহার উৎকৃষ্ট সৈন্যগণ সহ শ্রীহট্রাভিমুখে ধাবিত হইলেন । শ্রীহট্টরের শাসনকর্তাও অপ্রস্তুত ছিলেন না, সুতরাং উভয় পক্ষে ঘোরতর যুদ্ধ আরন্ত হইল। উভয় পক্ষেই অসংখ্য সৈন্য বিনষ্ট হইতে লাগিল, দুই দিবস মধ্যে অবিরাম যুদ্ধ চলিল, কোন পক্ষেই জয় পরাজয় নির্ধারিত হইল না। দুই দিবসের যুদ্ধের পর চিলারায়ের পক্ষে একটু শুভ লক্ষণ দেখা যাইতে লাগিল, স্বসৈন্যের উৎসাহ বদ্ন করিয়া অমনি তিনি চিক্কোষিত অসি হস্তে শত্রসৈন্য সাগরে ঝাপ দিয়া শক্র নিপাত করিতে লাগিলেন । চিলারায়ের এই অসম সাহসে বিপক্ষগণ বিম্মিত ও ভীত হইল, মুহূর্ত মধ্যে তাহারা দেখিতে পাইল যে কামরূপ সেনাপতির অসি আঘাতে, তাহাদের অধিপতির মস্তক ভুলুষ্ঠিত হইল! এই ভয়াবহ দৃশ্যে শ্রীহন্ট্রের সৈন্যগণ তখন রণক্ষেত্রে তিষ্টিতে সাহস পাইল, ছত্রভঙ্গে মুহূর্ত মধ্যে অদৃশ্য হইয়া গেল। যুদ্ধের অবসান হইল, শ্রীহট্টপতির ভ্রাতা বন্দী অবস্থায় নরনারায়ণ সদনে নীত হইলেন ও ২০০ ঘোটক, ১০০ হস্তী, ৩০০,০০০ টাকা এবং ১০,০০০ মোহর কর স্বরূপ প্রদানের অঙ্গীকারে আত্মমোচন করেন।১৪ এই ব্যক্তির নামও জ্ঞাত হওয়া যায় না। শ্রীহন্পতির ভ্রাতা হইলেও ইনি সম্ভবতঃ অকর্মণ্য বলিয়া আমিল পদ প্রাপ্ত হইতে পারেন নাই । যাহা হউক, চিলারায়ের অভিযানের পর যিনি শাসনকর্তা ছিলেন, তাহাকেও ব্রিপুরাধিপতির সহিত যুদ্ধে লিপ্ত হইতে হইয়াছিল। ত্রিপুরার অধিপতি প্রবল প্রতাপ বিজয় মাণিক্যের ভ্রাতা অমর মাণিক্য ১৫৯৭ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনারোহণ করিয়াই ত্রিপুরার সামন্ত নৃূপতিগণকে, একটা দীর্িকা খননের জন্য মজুর দিতে আদেশ দেন। অনেকেই ইহাতে মজুর প্রেরণ করিয়াছিলেন ও তাহাদের দ্বারাই সুবিস্তৃত “অমরসাগর” দীর্ঘিকা খণিত হয়। এই সময় শ্রীহট্টের তরফ ত্রিপুরার প্রভাবাধীন ছিল বলিয়াই বোধ হয়। অমর মাণিক্য তরফ-পতির উপর মজুর প্রেরণের আদেশ করেন। কিন্তু তরফপতি সে আদেশ গ্রাহ্য করেন নাই। ইহাতে ত্রিপুরাধিপতি তাহার বিরুদ্ধে দ্বাবিংশতি সহপ্র সৈন্; প্রেরণ করেন। ইহারা প্রস্তুত ছিলেন না, তাই পলাইয়া শ্রীহন্্রের আমিলের আশ্রয় গ্রহণ করেন। এই সংবাদ যখন অমর মাণিক্য গ্রাপ্প হইলেন, তখন তাহার ক্রোধের সীমা থাকিল না, তিনি ১৪. শ্রীমূত পদ্মনাথ বরুয়া কৃত “সংক্ষিপ্ত আসামর বুরস্তরী” গ্রন্থের ৫ম অধ্যায় ২৮/২৯ পৃষ্ঠ। ৷ তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২১৯ কাল বিলম্ব না করিয়া শ্রীহট্ের শাসনকর্তার প্রতিকূলে সসৈন্যে ধাবিত হইলেন। শ্রীযুতকৈলাস চন্দ্র সিংহ তদীয় ত্রিপুরার ইতিহাসে লিখিয়াছেন,_-“মহারাজ অমর মাণিক্য রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইয়া গরন্ডব্যুহ রচনা করেন, সৈন্যগণের সমষ্টি তাহার দেহ, সন্মুখস্থ দুইজন প্রধান সৈনিক পুরুষ চঞ্চু, এবং উভয় পার্্স্থিত সেনানীগণকে পক্ষ বলিয়া বোধ হইল । অমর মাণিক্য গজারূঢ় হইয়া ব্যুহের পৃষ্ঠদেশে ছিলেন। সূর্য্যোদয় কালে উভয় দলের ঘোরতর যুদ্ধ আরন্ত হয়। সায়ংকালে মোসলমানেরা পরাজিত হইয়া পলায়ন করিল। সম্ভবতঃ ১০০৯ ব্রিপুরাব্দে (খুঃ ১৫৯৯) এই ঘটনা হইয়াছিল। এই ঘটনার পর মোসলমানেরা যাবৎ শ্রীহত্টের পুনরুদ্ধার সাধন না করিয়াছিল, তাবৎ উহা ব্রিপুররাজের করপ্রদ ছিল।” শ্রীহন্্রের আমিলের পরাজয় বার্ত্ী দিল্লীতে পৌঁছিলে, আর এক নূতন ব্যক্তি আমিল পদে নিযুক্ত হইয়া শ্রীহট্ট আগমন করেন। তিনি অতি বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন এবং বিশেষ কৌশলে শ্রীহট্টে মোসলমান গৌরব পুনঃস্থাপনে সমর্থন হন। ফলতঃ শ্রীহট্টের আমিলগণের কোনরূপ ক্রুটী প্রকাশ পাইলেই তাহারা পদচ্যুত হইতেন। এইজন্য এক এক সম্রাটের সময় অনেকটি আমিল প্রেরিত হইতেন। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমকালীন আমিলগণের নাম সম্যক জ্ঞাত হওয়া যায় নাই। যে সপ্তদশ সংখ্যক আমিলের সময়ের নির্দেশ পাওয়া হয় নাই, তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ এই সময়ের এবং তৎপরবর্তী সম্রাট শাহজাহানের স:'য়ে বর্তমান ছিলেন কি না, ঠিক বলা যায় না। ইহাদের মধ্যে অধিকাংশই যে নিতান্ত পরবর্তী ছিলেন, তাহার সন্দেহ নাই। পরবর্তী কালেই আমিল পরিবর্তনের অধিক উদাহরণ দেখিতে পাওয়া যায়। এই সপ্তদশ সংখ্যক আমিলের নাম এস্থলেই লিখিত হইলঃ-_ ১. নবাব আবু হুসেন বাহাদুর । ২." আব্দুরহেম বাহাদুর । ৩. ” আহমদ মজিদ বাহাদুর । ৪. ” ইনাত উল্লা খা বাহাদুর । ৫. ” কাজিম বেগ বাহাদুর । ৬. ” জয়েন উল্লা আবিদি বাহাদুর । ৭. ”" জাফর আলী খা বাহাদুর । ৮.” নসরত জঙ্গ বাহাদুর । ৯. ” নজম উদ্দীন বাহাদুর । ১০. ” মনওর খা বাহাদুর । ১১. ” মুরিদ খা বাহাদুর । ১২. ” মীর আলী খা বাহাদুর । ১৩. " মোহাম্মদ জান বাহাদুর । ১৪. ” রিফাত খা বাহাদুর । ১৫. ” বাখর খা বাহাদুর । ১৬. ” সজীব আলী খা বাহাদুর । ১৭. " সৈয়দ কুঞ্বউদ্দীন বাহাদুর । নবাব ইনাত উল্লা খার নামে প্রসিদ্ধ ইনাতগঞ্জ স্থাপিত হয়: চতুর্থ অধ্যায় নবাবি আমল সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের সমকালব্তী নবাব জামন ও সৈয়দ ইব্রাহিম খা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বের শেষ সময়ে মোহাম্মদ জামন নামক এক ব্যক্তি শ্রীহস্রের শাসনকর্তারূপে ছিলেন; তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পরেও, সম্রাট শাহজাহানের রাজত্ত্র প্রথম গৌরবের সহিত শ্রীহট্ট শাসন করিতেছিলেন। তাহার “তুয়লদার” উপাধি ছিল, “তুয়লদার” উপাধি আর শুনা যায় নাই। শাহজাহানের রাজত্বের তৃতীয় বৎসর (খৃঃ ১৬২৯) বঙ্গের সুবাদার ইসলাম খা আসাম আক্রমণ করিয়া হাজো অধিকার করিয়াছিলেন এই অভিযানে শ্রীহস্টরের ফৌজদার, শ্রীনি্র হইতে একদল সমরনিপুণ সৈন্যসহ তৎসঙ্গে যোগদান করেন । তিনি যুদ্ধে বিশেষ কৃতিত্্‌ প্রদর্শন করায় যুদ্ধাবসানে সম্মানার্হ হন। বাদশাহ তাহাকে দ্বি সহস্রের (তন্মধ্যে ১৮০০ অশ্বারোহী) অধিনায়কত্্‌ প্রদান করিয়াছিলেন ।১ সম্রাট আরঙ্গজেবের সমকালবর্তী আমিলগণ সম্রাট শাহজাহানের সমকালবত্তী, সৈয়দ ইব্রাহিম খা নামক, নীরীরিন্রা আমিলের নাম পাওয়া গিয়াছে। ১৬৫৭ খৃষ্টাব্দে (হিঃ ১০৭৫) তিনি শ্রীহ্ান্তর্গত টেংরা নিবাসী ভরদ্বাজ গোত্রীয় মহেশ ভট্টাচার্ধ্যকে ইটা (ও আলীনগর) পরগণা হইতে সোয়া এগার হাল ভূমি দান করেন। সম্রাট আরঙ্গজেবের সমকালবত্তী আমিলগণ মোগল সম্রাট আরঙ্গজেবের রাজত্তে (খুঃ ১৬৫৮-১৭০৭) মোগল সাম্রাজ্যের যেমন বহু বিস্তৃতি ঘটিয়াছিল, তেমনই আবার অবনতির সুত্রপাতও আরম হয়। ইহার সমকালে শ্রীহন্টের পশ্চাদুল্লিখিত আমিলগণ আগমন করেন। ১. নবাব লুৎফ উল্লা খা বাহাদুর__ইহার প্রদত্ত একখানি সনদে লিখিত আছে যে, ১৬৬৩ খৃষ্টাব্দে (বাং ১০৭০) তিনি সমসেরনগর নিবাসী রঘুনাথ বিশারদকে সাড়ে তিন হাল ভূমি দান করেন । ইহার পুত্র রতিকান্তও গুণী পুরুষ ছিলেন, এবং তিনিও নবাব হইতে দান প্রাপ্ত হন। ২. নবাব জান মোহাম্মদ বাহাদুর__ইহার প্রদত্ত এই সময়কার (১৬৬৭ খৃষ্টান্দ) একখানি সনদ পাওয়া গিয়াছে । ইনি সম্ভবতঃ নায়েব ফৌজদার ছিলেন। ৩. নবাব ফরহাদ খা বাহাদুরকে তৎপরবস্তী শাসনকর্তী বলিয়াই বোধ হয়। ফরহাদ খার বিদ্যমান থাকিয়া তাহার নাম চিরম্মরণীয় করিয়া রাখিয়াছে। শ্রীহষ্টরের পূর্ব্বপ্রান্ত বাহী ১..151011 100), 11 006 314 9621 01 010 10181) 01 9181) 50101) 110৬0000 /৯5541), [06109118016 05 9185 11000 10110110110 20101, 10 ৬০5 [01110072110 11090019001 01 99110 505 4150 0146100 00 1011) 1110 00100111010. 1%1011011]11900 20110101856 00 11010110100 8001৮6 [3 1) 010 থা ৬৪10101১205 10111115 50100955101 0110 ৬/05 117৮ 1550111 (81016 ৬/1101 070 01511710110, 1650016019 15127) 161121)) 0045 11746 0011017)017001 01 2000, 11100) 110150. -1001114] 01110 /৯5১10010 *9০11% 01 13011551-1872, 0 1. 12১. 57, 62 তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহট্টের ইতিবন্ত ২২১ গোয়ালিছড়ার সেতু২ ইহারই বীর্তি। শাহজলালের দরগাস্থিত বড় মসজিদ, তৎকর্তৃক ১৬৭০ ৃষ্টাবে নির্মিত হয় ৩ শ্রীহট্টের রায়হুসেন মহত্রাস্থিত আর একটি মসজিদ তিনি ইহার সপ্তম বর্ষে নির্মাণ করেন।8 দরগা মহল্লার দক্ষিণ পশ্চিম (লেনের পশ্চিমে) তীহার নির্মিত আর একটা মসজিদের ভগ্নাবশেষ এখনও দেখিতে পাওয়া যায়। ফরহাদ খা গুণীর আদর করিতেন, তিনি অনেক ব্যক্তিকেই ভূমি দান করিয়াছিলেন । শ্রীহ্ট সহরবাসী মোহাম্মদ নজাত নামক ব্যক্তিকে ১৬৬২ খৃষ্টাব্দে (হিঃ ১০৮০) তিনি পরগণা কৌড়িয়া ও আতুয়াজান হইতে সোয়া সাতাইশ হাল ভূমি দান করেন। লংলা নিবাসী রত্ত্েশ্বর চক্রবর্তীর সনদে দৃষ্ট হয় যে, ১৬৭৬ খৃষ্টাব্দে (বাং ১০৮৫) তিনি ফরহাদ খা হইতে পৌণে ছয় হাল ভূমি বন্ধত্র প্রাপ্ত হন। ৪. নবাব মহাফতা খা বাহাদুব-_-ইটা পরগণাবাসী রঘুনাথ বিশারদের (সার্ঘ ব্রিহল ভূপ্রাপ্তির) সনদ পত্রে নবাব মহাফতা খা বাহাদুরের নাম পাওয়া যায়। ইহাকে এ সময়কার নায়েব ফৌজদার বলিয়া অনুমান করা যাইতে পারে । ৫. নবাব নূর উল্লা খা বাহাদুর_-১৬৭৮ খৃষ্টাব্দে হিঃ ১০৯৩) পরগণা চৌয়ালিশ নিবাসী রাজপপ্ডিত রামগোবিন্দ ভট্টাচার্য্য তাহার নিকট হইতে কতক ভূমি ব্রহ্ষত্র প্রাপ্ত হন। ৬. নবাব সৈয়দ মোহাম্মদ আলী খা কাইমজঙ্গ বাহাদুর--ইনি বহুতর ব্যক্তিকে ভূমি দান করতঃ যশস্বী হইয়াছিলেন। ইহাকে সেই সময়কার ফৌজদার বলিয়া বিবেচনা করা যাইতে পারে। ইহার প্রদত্ত সনদগুলিতে ১৬৮০ খৃষ্টাব্দ (বাং ১০৮৭) পাওয়া গিয়াছে। যাহারা ইহার নিকট হইতে ভূদান প্রাপ্ত হন, তাহাদের কয়েক জনের নাম এইঃ__ জমা বখশ ফকির সাং চৌয়ালিশ। রাম শঙ্কর ভট্টাচার্য্য সাং সমসেরনগর। কালীকান্ত চক্রবর্তী সাং পঞ্চখণ্ড। গঙ্গাধর শর্মা সাং বাণিয়াচঙ্গ। রামচন্দ্র চক্রবর্তী সাং পাথারিয়ায়। প্রভৃতি ৭. নবাব আব্দুরহেম খান বাহাদুর--একখানা পাট্ট্রা পত্রে ১৬৮৫ খষ্টাব্দে ইনি শ্রীহস্ট্ের নবাব ছিলেন, জানা যায়। ৮. নবাব সাদক বাহাদুর-ইহার প্রদত্ত ১৬৮৬ খ্ষ্টাব্দের (১০৯৮ পং৫) একখানি সনদ কালেক্টরীতে পাওয়া গিয়াছে। ২. গেইট সাহেব ভ্রমতঃ ইহার নাম ফসাদ খা লিখিয়াছেন। তিনি বলেন যে, আলমগীর বাদশাহের সময় শ্রীহট্টের শাসনকর্তা ফসাদ খা কর্তৃক ১০৮৫ হিঃ (খুঃ ১৬৬৭) অব্দে উক্ত সেতু নির্মিত হয়। এঁতিহাসিক হান্টার সাহেব নামটি শুদ্ধরূপে লিখিলেও, ফরহাদ খাকে অষ্টাদশ শতাব্দীতে আনিয়া, গেইট সাহেব হইতে কম ভুল করেন নাই; তিনি লিখিয়াছেন:- "[70100 100, 9110 03 2101] 0| 010 19511111105 01 016 18017 0011001, ০0115000660 11110070015 101100১,-১ /৯. 4৯, 11 92. ৩. "/৯101101 1115010001101) 01) 0106 11705(10৩ 011 0110 090৬০ $1011110 (01 91101] 50101 1৬0017100 01 100164 ৬0118110), ৬1110) 1]. 7975101,1001165 11101 0119 11050100 ৮9১ 0১111 01110 010 16181) 91 [া109101 /0012100700) 11100117006 ০5011010175 01101101101) 11 10881111110 8. "/৮1 17050110010) 00 070 1105000 8110000110 [০9-17053011 1001605 (100 010 11005901005 10111 11) 010 1১101) 01 12111090101 1৯111011201) 111 10941111119 " -২6]9011 012 1100 [907055 01 0110 11191011021 1656থ101) |) /৯৩৯০7-1897 6.9. ৫€ “পং"-শ্রীহট্ট অঞ্চলে প্রাচীনকালে প্রচলিত “পরগণাতীত” নামীয় অব্দ | ২২২ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড 6 ০৮ ৬৬০৩ +০8৮/০ 2০৮৯ ২ রর পিঠ 15-4 রে ০525 চি ই নবাবি সনন্দের পৃষ্ঠা লিপি তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ২২৩ ৯. নবাব ককতলব খা বাহাদুর--তাহার প্রদত্ত সনদ হইতে জানা যায় যে, ১৬৯৮ ৃষ্টাব্দের পুরে তিনি শ্রীহট্রে আগমন করেন। ১০. নবাব আহমদ মজিদ বাহাদুর--পরগণা দুলালী নিবাসী ভারত দাস বৈষ্ণবের ১৬৯৯ খৃষ্টাব্দে (বাং ১১০৬ প্রাপ্ত একখানি ভূমিদানের সনদে ইহার নাম পাওয়া যায়। ১১. নবাব কারগুজার খা বাহাদুর--ইহার প্রদত্ত সনদ হইতে জানা যায় যে, ১৭০৩ ৃষ্টাব্দে (বাং ১১১০) তিনি শ্রীহস্রে অবস্থিতি করেন। সিরা রর কিন্তু তাহার কোনরূপ উল্লেখ পাওয়া যায় নাই। সম্রাট বাহাদুরশাহের সমকালবর্তী আমিল আরঙ্গজেবের পরবত্তাঁ সম্রাট বাহাদুরশাহের রাজত্ব সময়ে (খ্ঃ ১৭০৭-১৭১২) শ্রীহস্্ে (১২) নবাব মতি উল্লা বাহাদুর শাসনকর্তী নিযুক্ত হন। ইহার পিতা নাথুল খা শিরাজী কোচবিহার ও রাঙ্গামাটির ফৌজদার ছিলেন । মতি উল্লার সহিত আহোমরাজ রুদ্র সিংহের সন্ধি ছিল। গৌহাটীস্থ তদীয় প্রতিনিধির সহিত, মতি উল্লার চিঠি পত্রের আদান প্রদান ছিল। রুদ্র সিংহের প্রতিনিধি সীমান্তভাগের অনেক রাজনৈতিক ব্যাপার মতি উল্লাকে জ্ঞাপন করিতেন, এবং উভয়ের মধ্যে উপরেরও আদান প্রদান চলিত ।৬ সম্রাট ফরকশিয়ার ও মোহাম্মদ শাহের পরবর্তী আমিল বাহাদুর শাহের পরবর্তী সম্রাট ফরকশিয়ারের সময়ে (খৃঃ ১৭১৩-১৭১৯) শ্রীহস্্রে (১৩) নবাব তানিব আলী খা বাহাদুর ফৌজদার ছিলেন বলিয়া জ্ঞাত হওয়া যায়। ফরকশিয়ারের পরে সম্রাট মোহাম্মদ শাহ দিল্লীসংহাসন প্রাপ্ত হন; ইহার রাজত্বকাল (খৃঃ ১৭১৯-১৭৪৫) অনেক জন আমিল শ্রীহট্রের আগমন করেন। এ সময় (১৪) নবাব শুকুর উল্লা খা বাহাদুর শ্রীহস্টরের কর্তপক্ষের নিকট সুখ্যাতিভাজন হইতে পারেন নাই, এবং শ্রীঘ্বই পদচ্যুত হন। তাহার স্থলে এক জন হিন্দু এই উচ্চতম পদে আরোহণ করেন, তিনিই শ্রীহট্রের মুখোজ্জলকারী (১৫) নবাব হরকৃষ্ণ দাস (হর কিষুণ দাস) মন্সুর-উল্-মুল্ক বাহাদুর । হরকৃষ্ণ দাসের বংশ পরিচয় ইতিপৃবের্ব সবর্বানন্দের উল্লেখ করা গিয়াছে, যে বংশে সব্্বানন্দের উদ্ভব হইয়াছিল, সেই বংশে খৃষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কবিবন্নত নামে এক ব্যক্তি জন্ম গ্রহণ করেন; ইনি পারস্য ভাষায় সুশিক্ষিত ছিলেন। দিল্লীর সম্রাট ইহার গুণে মোহিত হইয়া, তাহাকে “রায়” উপাধি প্রদান করেন, তিনি শ্রীহস্ট্রের কানুনগো ও দস্তিদার পদে নিযুক্ত হন।৭ কোনও সনদ বা পরীক্ষাতে তাহাতে মোহর করার অনুমতি দেওয়া দস্তিদারের কার্ষ্য ছিল। পারস্য “দস্ত” শব্দের ৬. শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ৪র্থ খণ্ডে ৩য় অধ্যায়ে এই রাজনীতিক চিঠি উদ্ধত হইবে। ৭. 191) 811900171২0), 176 [01066710017 0£ 11019 [01011%, 5/051)1211]) 01501)5151)00 0011715 15217110,. “11001000111 111১1019010 [17017 (01615, ত0)9১ ৫০. 211,139 1 বি. 01056. কিন্তু এই গ্রন্থে উক্ত তারিখটা নির্ভরযোগ্য নহে। ২২৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড অর্থ হস্ত; আজ পর্য্যন্ত শ্রীহট্রে দস্তিদারী নলে, ভূমি মাপের রীতি প্রচলিত আছে। ১৮ ইঞ্চি হাতের ১৪ দস্তিদারী এক নহল হয়। কবি বল্লভের পুত্রের নাম সুবিদ রায় ও শ্যাম দাস। সুবিদ রাম পিতৃপদ প্রাপ্ত হন; তাহার বাসস্থান” “সুবিদ রায়ের গৃধা” নামে কথিত হয়। সুবিদ রায়ের পুত্রের নাম সম্পদ রায় এবং তাহার পুত্র যাদব রায় । ইহারাও শ্রীহট্রের কানুনগো ও দস্তিদার ছিলেন । নিঃসন্তানাবস্থায় যাদব রায়ের মৃত্যু হয়। শ্যাম দাসের পুত্রের নাম লক্ষ্মীনারায়ণ, তৎপুত্র কৃষ্ণ রায় ও হ্রকৃষ্ণ । এই হরকৃষ্ণই শ্রীহস্রের আমিল পদ প্রাপ্ত হইয়া, নবাব হরকিষণ দাস মনসুর-উল-মুলক বাহাদুর নামে খ্যাত হন। হর কৃষ্তের নবাবি প্রাপ্তি কথিত আছে, হরকৃষ্ণের জননী কোন কারণে এক ফকিরের নিকট প্রতিশ্রুত ছিলেন যে, শিশুতে তত্করে সমর্পণ করিবেন; তদনুসারে তিনি শিশুকালেই ফকিরের করে সমর্পিত হন। ফকির তাহাকে মুর্শিদাবাদে লইয়া যান এবং পারস্য সংস্কৃত ভাষা শিক্ষায় নিয়োজিত করেন। হরকৃষ্ণ পারস্যে সুশিক্ষিত হইয়া উঠিলেন; তাহার বুদ্ধির তীক্ষতায় সকলেই বিস্মিত হইল। অতঃপর কোন সুযোগে ঢাকার নবাব নোয়াজিস মোহাম্মদের ডিপুটী রাজা রাজ বল্লভের নিকট তিনি পরিচিত হন ও পূর্ববঙ্গের রাজস্বের হিসাব প্রস্তুত কালে তাহার বিশেষ সহায়তা করেন। রাজ বল্ল, হর কৃষ্ণের কার্য্য তৎপরতায় অতিশয় সত্তৃষ্ট হন ও মুর্শিদাবাদের নবাবের সহিত পুরস্কার প্রদান করেন। হরকৃষ্ণ এই টাকা ফকিরকে দিয়া আত্মস্বাধীনতা অর্জন করেন। অতঃপর হরকৃষ্ণ কিছুকাল মুর্শিদাবাদে কার্য্য করেন এবং পরে নবাবের অনুগহে শ্রীহট্টের আমিল পদে নিযুক্ত হন।৯ হরকৃষ্ণের নবাবি প্রাপ্তি সম্বন্ধে অন্যরূপ জনশ্রুতিও শুনা যায়। কথিত আছে, এ সময় মুর্শিদাবাদে ভয়ানক অন্নকষ্ট উপস্থিত হইয়াছিল। পূর্ব শ্রীহস্টের প্রসিদ্ধ সওদাগর হুকমত রায় এই দুর্ভিক্ষ সংবাদ প্রাপ্তে ১৩ খানা বৃহৎ “পলওয়ার” নৌকায় তঙুল বোঝাই করিয়া মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হন। এই সংবাদ পাইয়া লক্ষলোক ঘাটে উপস্থিত হইল । হুকমত রায় লোকভয়ে তণুল তীরে তুলিলেন না; নবাবকে জানাইলেন যে, জন সমূহের কাতর আর্ত্নাদে তিনি ব্যথিত ৮. তরফে দস্তিদার বংশীয় এক সন্তান্ত পরিবার আছেন, পৃবের্ব বলা হইয়াছে যে, উক্ত বংশীয় এক ব্যক্তি শ্রীহট্টের শাসনকর্তা জাহান খার সহকারী ছিলেন, তাহার নামও সুবিদ ছিল। যাহাহউক, তরফ ও শ্রীহস্ট উভয় স্থানের দস্তিদার এংশ এক মূলোৎপন্ন বলিয়া কথিত আছে। ১৩১৩ বাং মাঘমাসের বিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকায় এরূপ লিখিত হয়। শুনা যায় যে, তরফের চকরামপুরে একটি তালুকে উভয় পরিবারেরই সমান অংশ ছিল, কিছু কাল হইল, হের দির সণ বৃষ বাব তাা বিতর করিয়া আসেন সত্য হইলে ইহাতে উভয় পরিবারের সহ থাকা সূচিত হইতেছে। ৯. ৬1110111921 12011510110 /25 011 1101021015 1015 71000102101) 00000111 01 ৬০৬/, 01611 111] (0 101011, ৬100 ০৪110 1))1) 109 1৬0115101491)961 0170 29০ 1111) 1110012] ০001091101) 11) 92105101120) 17015101) 12101980066. [001 11151)18 75515190 13910 80119101), 00 1001017 1000019 0 9৬/৪)151) 11811011012) 1016 0৬00 01109005+ 11) [10170111% 01) 30000010001 01010011010 01 [551101) 13৫11201. 101 101015 5017৬100, (10116011510 975 1711090060 709 1২2]৭ ০] 13411010109 1070 0৮90 01 1%001511409090, ৮5110 200৬6 17011015110 এ 10010 015. 10,000 ৬100" 11015 0171010111101101501010108167)0171১ 160001) 101) (110 [0101 2100 011 10 501৬০ এ 0119 ০911 "| /10151010017424, 71170110001) 11151001110 1110101) 0101015, 20105, 4.০. 2011 11. অহ 4422 বুটিক পদ: শোন রঃ €৮, নে (9 749০114-742 তাি 28৮৮ চিতা খা চা রর ণী & * নে এ জায়গীর ভোগের নবাবি সনন্দ শ্রীহট্্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১৫ ২২৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড হইয়াছেন, যদি নবাব বাহাদুর সৈন্য দিয়া সহায়তা করেন, তবে তিনি তগুলগুলি বিলাইয়া দিবেন। নবাব সওদাগরের প্রার্থনায় সৈন্য পাঠাইলেন, তগুল বিতরিত হইল এবং সপ্তাহ মধ্যে দুর্ভিক্ষ দূর হইয়া গেল। সওদাগর বিনামূল্যেই তথুলরাশি বিতরণ করিয়াছিলেন। নবাব, সওদাগরের এই সদাশয়তায় অতিশয় সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন। তখন শ্রীহট্টরের আমিল শুকুরল্লা কর্মচ্যুত হওয়ায় এ পদ শূন্য ছিল। নবাব এই সদাশয় ধনবান ব্যক্তিকে উক্তপদে নিযুক্ত করিতে ইচ্ছা করিলেন। কিন্তু সওদাগর শাসন সংক্রান্ত দায়িত্জনক পদটি গ্রহণ করিতে ইচ্ছা না করিয়া, দেশস্থ সন্ত্ান্ত কুলজাত হরকৃষ্ণকেই এই পদে নিযুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করেন। হরকৃষণ তখন মুর্শিদাবাদেই কার্ধ্য করিতেন, তাহার ন্যায়-নিষ্ঠা ও কার্য্যতৎপরতার কথা নবাবেরও অবিদিত ছিল না; কাজেই সওদাগরের প্রস্তাবে নবাব সম্মত হইলেন, শ্রীহস্টরের আমিল পদে তাহাকে নিযুক্ত করা হইল। এতিহাসিক তত্তানুসন্ধিৎসু ইটা নিবাসী শ্রীযুক্ত হরকিন্কর দাস মহাশয় ইটার শ্যামরায়ের দেওয়ানী পদ প্রাপ্তি সম্বন্ধে ও হুকমত রায়ের কৃতিত্বের কথা লিখিয়াছেন। পুর্ব নবাবের প্রতিকূলতা ও হরকৃষ্ণের হত্যা ১৩১৩ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ হইতে এস্থলে কিঞিৎ উদ্ধৃত করিতেছি। উক্ত প্রবন্ধে লিখিত হইয়াছেঃ-_-“হরকৃষ্ণ নবাবি পদ পাইয়া শুভক্ষণে শ্রীহট্টে পদার্পণ করেন নাই। তখন ঢাকার নবাবের আত্মীয় শুকুরুল্লা খা শ্রীহট্রের শাসনকর্তা ছিলেন। এ জগতে যেমন সৎ অসৎ উভয়বিধ কর্মের প্রাধান্যে লোকে সুখ্যাত ও কুখ্যাত হইয়া থাকে, সেইরূপ হরকৃষ্ণের নামের সঙ্গে কাপুরণ্ষ শুকুরুল্লাহর নাম বিজড়িত ও বংশানুক্রমে লোক পরম্পরায় প্রচারিত হইয়া আসিতেছে। হরকৃষ্ণের নবাবি প্রাপ্তিতে শুকুরুল্লা ক্রুদ্ধ হইয়া নানা অছিলায় শ্রীহস্্রে থাকিয়া গুপ্তভাবে হরকৃষ্জের সব্বনাশের সুযোগ খুঁজিতে লাগিলেন । অনেক গোলমালের পর শুকুরুল্লা তাহাকে শাসনভার প্রদান করিলেন বটে, কিন্তু তৎকর্তৃক সংগৃহীত যে রাজস্ব তহবিলে ছিল, তাহা ছাড়িয়া দিলেন না। মোগল অধিকার কাল হইতে ইংরেজ আমলের প্রারন্ত পর্য্যস্ত শ্রীহট্টের রাজস্ব ঢাকাতে প্রেরিত হইত । মুর্শিদাবাদের নবাবগণের রাজকোষ যেমন সুপ্রসিদ্ধ জগৎশেঠগণের জিম্বায় থাকিত, তদ্রূপ মহল্লা সুবিদরায়ের গৃধাবাসী সুপ্রাচীন “সাহা” বংশীয়গণ শ্রীহট্রের রাজকোষের অধ্যক্ষ ছিলেন। শুকুরুল্লা, হরকৃষ্ণের বিরুদ্ধে গোপনে গোপনে ষড়যন্ত্র বিস্তার করিতে লাগিলেন, স্থানীয় কর্মচারীবৃন্দের অনেককেই তিনি টানিয়া লইতে পারিলেন। প্রোক্ত রাজকোষাধ্যক্ষ সাহা তাহাদের অন্যতম ।” “পৃরবের্ব কথিত হইয়াছে, শুকুরুল্লা তাহার সময়ে সংগৃহীত রাজস্ব হরকৃষ্ণকে বুঝাইয়া দেন নাই, অথচ ষড়মন্ত্র ও স্থানীয় বিশৃঙ্খলার ফলে নূতন রাজস্ব রীতিমত আদায় করাও হরকৃষ্ণের পক্ষে সুকঠিন হইয়া দীড়াইল, তাহাতে ঢাকাতে বাজস্ব প্রেরণের সময় অতিবাহিত হইয়া যাইতে লাগিল; সুযোগ বুঝিয়া শুকুরল্লা ঢাকার দরবারে মিথ্যা রটাইয়া দিলেন, হরকৃষ্ণ রাজস্ব সংগ্রহ করিয়া নিজে আত্মসাৎ করিয়া ফেলিয়াছেন। ইতিপূর্বে শুকুরুল্লা গোপনে ঢাকার নবাবকেও হাত করিয়া লইয়াছিলেন ও সর্বত্র হরকৃষ্তের মোসলমান বিদ্বেষের ও হিন্দু স্বাতন্ত্র্য স্থাপনের প্রয়াসের কথাও প্রচারিত করিয়া দিলেন । শুকুরুল্লার প্রদত্ত বিষবটিকা ঢাকার নবাব হইতে মুর্শিদাবাদের নবাবও গ্রহণ করিলেন; ব্যাপার ক্রমেই গুরুতর ও ভয়ঙ্কর হইয়া উঠিতে লাগিল; প্রধূমিত আগ্নি গ্লার কতক্ষণ প্রচ্ছন্ন থাকে! শ্রীহত্রে হিন্দু মোসলমানে বিবাদের আগুণ জুলিয়া উঠিল । শুকুরুল্লা তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ২২৭ একরূপ দুরাশা, তাই হরকৃষ্জের গুপ্তহত্যার ষড়মন্ত্রও সংগোপনে আঁটিলেন। হরকৃষ্ণের দেহ্রক্ষক সৈনিকগণের এক ব্যক্তি শুকুরুল্লার নিকটে গোপনে স্বধর্শন বিক্রয় করিয়া তাহার গুপ্ত হত্যার ভার লইল। তখন হিন্দু মোসলমানের প্রধূমিত বিদ্বেষানল জুলিয়া উঠিয়া রীতিমত যুদ্ধ বাঁধিয়া গিয়াছে। শুনা যায়, কাজলসারের নিকটবর্তী মালিনীর তীরবর্তী প্রান্তরে এই যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছিল। যুদ্ধের দিনও যথাসময়ে শ্নানাদি করিয়া হরকৃষ্ণ ঠাকুর ঘরে ইষ্ট পূজাতে বসিয়াছিলেন। এরূপ অবস্থায়, বিশ্বাসঘাতকতার যড়যন্ত্রানভিজ্ঞ, আত্মরক্ষার অপ্রস্তুত, ধ্যাননিমগ্ন হরকৃষ্ণকে দুরাত্মা দেহরক্ষক তরবারির গুপ্তাঘাতে হত্যা করিল! এবং তাহার ছিন্ন মু শূলাগ্রে উত্তোলন করতঃ উন্াত্তোল্লাসে শেখঘাটের একাংশে অবস্থিত শুকুরুল্লার বাটার দিকে ছুটিল!!১০ পথি পার্শেই যুদ্ধক্ষেত্র ৷ হরকৃষ্ণের বিশ্বস্ত অন্যতম সেনাপতি রাধানাথ তখন মোসলমান সৈন্যদিগকে বিমর্দিত করিতে ছিলেন, মোসলমান পক্ষে পরাজয় অবশ্যন্তাবী হইয়া দীড়াইয়াছিল, এমন সময় রাধানাথ পূর্বোক্ত ভয়াবহ দৃশ্য-প্রভুর রক্তাক্ত মুণ্ড শূলাথে নিরীক্ষণ করিয়া আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। প্রভুতক্ত রাধানাথ নিমেষ মধ্যে সমস্ত বুঝিতে পারিলেন, সংসার তাহার চক্ষে আধার বোধ হইল, তিনি যাহা করিলেন, জনৈক অজ্ঞাতনামা কবি মর্মম্পর্শী ভাষায় তাহা লিখিয়া গিয়াছেনঃ__ “বাঙ্গালীর শেষবীর্ধ্য স্বাধীন শোণিত, সেনাপতি রাধানাথ, করিয়া অরাতি পাত, অগন্য-যবন-সৈন্য-বেগ নিবারিল, সববন-বিজয়ী-লক্ষ্মী টলিতে লাগিল। অবশেষে অবিশ্বাস-নিহত-জীবন প্রভুর রক্তাক্ত শির শূলাগে নিরখি_ নিহত প্রভু আমার! কার তরে যুদ্ধ আর? যথা কৃষ্ণ তথা রাধা বলিয়া অমনি বক্ষে নিমজ্জিয়া অসি পড়িলা ধরণী!' (আর্ধ্য-দর্শন পত্রিকা--১২৮৮ বাং আশ্বিন ও কার্তিক সংখ্যা) প্রভুভক্ত রাধানাথ অনন্ত শয্যায় শায়িত হইলেন, হিন্দু মোসলমানের যুদ্ধ অন্ত হইল, শুকুরুল্লার মনস্কামনা পূর্ণ হইল । আনন্দ বাজারের লেখক লিখিয়াছেন,_-“শুকুরুল্লার আদেশে হরকৃষ্ণের ছিন্ন মুণ্ড তদীয় বাটীতে এক উচ্চ বংশদণ্ডে ঝুলাইয়া রাখা হইল; উদ্দেশ্য--যেন আর কোন হিন্দু বিপক্ষতাচরণের উদ্যম না করে। শুনা যায়, জনৈক উচিত বক্ত পাগলা ফকির এ উচ্চস্থিত মুণ্ড দেখিয়া উচ্চৈঃস্বরে এই বলিয়া চীৎকার করিয়া ছুটিতে লাগিল--“আরে বাঃ জী লালা হরকিষণ! জীতে সব্‌কো সেরা মরণেবি সবৃকো উপরওয়ালা!' জিগীষু শুকুরুল্লার কাণে এ কথা পৌঁছিলে জন সাধারণের উত্তেজনার ভয়ে এ মুণ্ড অবনমিত হইল । পরে শুনা যায়, উহা হস্তিপদে বন্ধ হইয়া নগর প্রদক্ষিণে ফিরিতে লাগিল!” ১০. [থা [01510 000১5550 0 861060005116011, 001 ১/:১৯11000110011911) 01001015160 09 1.৯ 9) 1১০৫১-89215, ৮/110 ৬০16 10900010009 90101011917, 1116 1916 9৬০) 01 ১911061. 90 1710067) [7151019 01 010৩ [110101) 01160 0110 [2103 ৫০. 7011 11. 3 17, 001056. ২২৮ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড হরকৃষ্ঞ্রো কর্মচারীদের কথা এইরূপে শ্রীহট্টের শেষ হিন্দুগৌরব-রবি অন্তমিত হয়। হরকৃষ্ণের শাসনকাল অতি অল্প হইলেও এই সময় মধ্যে তিনি প্রভূত দান শক্তির পরিচয় দিয়া গিয়াছেন। শ্রীহট্র কালেক্টরীতে নবাবী আমলের যে সকল দান-পত্র রক্ষিত আছে, তনুধ্যে অর্েকই “নবাব হরকিষণ” প্রদত্ত! এই সকল সনদে, তারিখ স্থলে দুই হইতে চারি জলুস পর্য্যন্ত পাওয়া যায়।১১ “জলুস” অর্থে রাজ্যাভিষেক কাল। প্রত্যেক দিল্লী সম্রাটের রাজ্যাভিষেক কাল হইলে “জলুস” গণনা আরন্ত হয়৷ অতএব সম্রাট মোহাম্মদ শাহের রাজত্বের দ্বিতীয় বর্ষ হইতে চতুর্থ বর্ষ পর্য্যন্ত হরকৃষ্তের শাসন সময়। হরকৃষ্ণের প্রভূভক্তি পরায়ণ সেনাপতি রাধানাথ ব্যতীত, মাধব খা (ওরফে মহতাব খাঁ) নামে অন্য এক সেনাপতির নাম শুনা যায়। তত্ডিন্ন হরদয়াল নামে এ সময় এক বিচক্ষণ ব্যক্তি ফৌজদারী সৈন্যের অধ্যক্ষ ছিলেন। হরকৃষ্ণ নবাবের মীর মোনশীর নাম বিশ্বনাথ ছিল, তীহার বংশধরগণ এখনও আছেন ।১২ সাহোপাধিক তদীয় কোষাধ্যক্ষের কথা পুরি বলা গিয়াছে, ধনী সন্ত্রান্ত পরিবারে প্রদেয় ধনশালিত্বের গৌরবসূচক উপাধি মাত্র । সাহা হইতে অধিকতর ধনীগণ “শেঠ” ও সব্ব্বশ্রেষ্ঠ ধনীরা “জগৎশেঠ” উপাধির অধিকারী ছিলেন। এই সাহাগণ কায়স্থ জাতীয় ছিলেন। ইহারা শ্রীহস্রের আমিলগণের খাজাঞ্চি বা কোষাধ্যক্ষ, ইহাদের ধনের কথা প্রবাদ জনক; জনশ্রুতি আছে, ঢাকার কোন নবাব রাজকার্য্য ব্যপদেশে শ্রীহট্ট আগমন করিলে, তৎকালিক কোষাধ্যক্ষ “সাহাজী' আমন্ত্রণ করিয়া, সুবর্ণ মোহরমন্তিত পথে নবাবকে স্বীয় বাটীতে লইয়া গিয়াছিলেন, ইহাদের শেষ বংশধর গোকুল চাদ ধ্বংসাবশিষ্ট সম্পত্তি অপব্যয়ে নষ্ট করিয়া নিতান্ত হীনদশাগ্রস্ত হইয়া, প্রায় ৪০ বৎসর হইল, কুষ্ঠরোগে প্রাণ ত্যাগ করেন।” হরকৃষ্ত নবাৰি পাওয়ার পর মালিনী নামক ক্ষুদ্র প্রোতস্বতী তীরে এক বিস্তৃত দীর্ঘিকা খনন করাইয়া, তাহার তীরে ১০৮টি কালী পুজা করাইয়াছিলেন। তাহার পূজিত ছিন্নমস্তা দেবীর মন্দিরের ভগ্রাবশেষ অদ্যাপি তথায় দৃষ্ট হয়। হরকৃষ্টের পরবত্তীদের কথা বিপৎপাতে নিতান্ত বিপন্ন হইয়া পড়েন, তিনি পিতৃব্যের গুপ্ত-হত্যা ভূমি অপবিত্র জ্ঞানে এ বাটী ত্যাগ করিয়া কিঞ্ৎ ব্যবহিত উত্তরে নৃতন এক বাটী প্রস্তুত ক্রমে বাস করিতে লাগিলেন। ১১. নবাব হরকৃষ্ণ প্রদত্ত অসংখ্য সনদের উল্লেখ অসন্তব। ততপ্রদত্ত ১. এক সনদ প্রাপকের নাম রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য, নিবাসনর্তন (পরগণা লংলা); ইহাতে চারি হাল ভূমি দানের উল্লেখ আছে। কেবল হিন্দু নহে, তিনি মোসলমানদিগকেও গুণানুসারে অনেক মদতমাস ভূমি দান করিয়া গিয়াছেন। এস্থলে আরও পাচ খানা সনদের বিষয় উল্লেখ করা গেলঃ_ ২. রাম রাম ভট্টাচার্ধ্য সাং পাথারিয়া, তাং ২ জলুস, ভূমি-সোয়া একুশ হাল। ৩. গোলাম জাফর আলী পং চাপঘাট ২ সফর, ভূমি সোয়াপচিশ হাল। ৪. জয় গোপাল চক্রবর্তী সাং সাতগাও, তাং ৩ জলুস ৭ রমজান, ভূমি আড়াই হাল। ৫. সহিদ আছি ফকির শাহ সাং বালাউট, তাং এ ৫ রমজান, ভূমি সোয়া হাল। ৬. হরি শঙ্কর বিদ্যালঙ্কার, সাং কশবে শ্রীহষ্ট, তাং এ এঁ ডমি তেইশ হাল । ইত্যাদি । ১২. এই বংশীয় মোন্শী গ্রীযুক্ত বারদা চরণ ধর মহাশয় আ্লামাদিগকে এতদ্বিবরণ সহ শ্রীহটের অপর অনেক এঁতিহাসিক বিবরণ লিখিয়া পাঠাইয়া সাহায্য করিয়াছেন। তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ২২৯ নবাবের মীর মোন্শী বিশ্বনাথ প্রভু হত্যায় অত্যন্ত ব্যথিত হন ও ঢাকায় গমন করতঃ এই অবৈধ হত্যার প্রতীকার চেষ্টা করেন, হরকৃষ্ণের ভ্রাতৃষ্পুত্র জয়কৃষ্ণকে শ্রীহত্টের কানুনগো ও দস্তিদার পদ প্রদান করায় কথঞ্চিৎ আত্মপ্রসাদ লাভ করেন; (১৭০৫ খৃষ্টাব্দ ।১৯৩ জয়কৃষ্জের এক পুত্র, তাহার নাম জীবনকৃষ্ণ। জীবনকৃষ্ণ একজন প্রসিদ্ধ জ্যোতিবেরবস্তা ছিলেন, তাহার সম্বন্ধে বহুবিধ গল্প প্রচলিত আছে। ইহার দুই পুৰ্র দয়ালকৃষ্ণ ও গোপালকৃষঃ। জ্যেষ্ঠ দয়ালকৃষ্ণ সাহিত্য ও জ্যোতিবির্বদ্যালোচনায় দিবস অতিবাহিত করিতেন, বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতেন না। দুই ভ্রাতার অবশেষে বিবাদ উপস্থিত হওয়ায় বহু আয়ের ভূসম্পত্তি তাহাদের হস্তচ্যুত হয়। কনিষ্ট গোপালকৃষ্ণের পুত্রের নাম নবকৃষ্ণ, ইহার শ্রীযুত নলিনীকান্ত ও একটা এসিষ্টেণ কমিশনার শ্রীযুত রজনীকান্ত দস্তিদার প্রভৃতি পাচ পুত্র বর্তমান আছে। সাদেকুল হরমাণিক ঞঞি নিন বৃনিনি লিন নরেন আলী খাঁ বাহাদুর নায়েব ফৌজদার ছিলেন। দেওয়ানী বিভাগে দেওয়ান মাণিক চাদ রায় নামক এক সন্তান্ত ব্যক্তি নিযুক্ত ছিলেন। শ্রীহট্টে পুবর্বাবধি একদল সৈন্য রক্ষিত হইত ।১৪ হরদয়াল নামক জনৈক ব্যক্তি এই সময়কার সেনাধ্যক্ষ ছিলেন। শুকুরুল্লা কর্তৃক নবাব হরকৃষ্ণ নিহত হইলেও, শুকুরুল্লাকে হরকৃষ্ণের পদে তৎক্ষণাৎ নিয়োজিত করা হয় নাই। দিন্লী হইতে নৃতন ফরমান আনাইতে তাহার এক বৎসর লাগিয়াছিল, এই এক বৎসর কাল শ্রীহট্টের শাসনভার নায়েব ফৌজদার, সেনাধ্যক্ষ ও দেওয়ানের উপর সমভাবে অর্পিত হয়। ইহারা তিনজনে একযোগে কার্য্য করিতেন, তাহাদের যুক্তনামের মোহরাঙ্কিত সনদ এখনও শ্রীহন্ট্রের কালেক্টরীতে দেখিতে পাওয়া যায়; সেই মোহরে “সাদেকুল হরমাণিক” লিখিত আছে। (১৭) সাদেকউল্লা, হয়দয়াল, মাণিকচাদ, এই তিন নামের আদি শব্দ উক্ত মোহরে গ্রথিত হইয়াছে । দেওয়ান নবাব শমশের খা বাহাদুর ঃপর পুনর্্বার শুকুরুল্লা নিজপদ অধিকার করেন। তৎপর (১৮) নবাব শমশের খা বাহাদুর শ্রীহস্ট্রের আমিল পদে নিযুক্ত হন। তপ্রদত্ত ১৭৩৫ খৃষ্টাব্দের (বাং ১১৪২) সম্পাদিত ১৩. দস্তিদারী সনন্দের উদাহরণ স্বরূপ জয়কৃষ্ণ দাসের সনদ খানা অনুবাদ নিম্নে উদ্ধৃত করা গেলঃ-“বৈকুষ্ঠতুল্য সুবেবাঙ্গালার অন্তঃপাতি শ্রীহট্ট চাকলার কানুনগো, চৌধুরী, ভদ্রলোক, জমিদার ও প্রজাবর্গ জানিবা-জানা গেল যে সুবিদ রায়ের পুত্র সম্পদ রায়ের পুত্র যাদব রায় উক্ত চাকলার কানুনগো ও দস্তিদার নিঃসন্তান মরিয়াছেন। সুবিদ রায়ের ভ্রাতুষ্পুত্র লক্ষ্মীদাসের পুত্র শ্রীকৃষ্ণদাসের বেটা জয়কৃষ্ণ দাস সরকারের উপকারের জন্য এই কার্য্যের প্রার্থুক। অতএব উপরোক্ত যাদব রায়ের মরণ তারিখ অবধি কানুনগো দস্তখৎ ও দস্তিদারী পদে উপরোক্ত জয়কৃষ্ণ দাসকে নিযুক্ত করা গেল। তোমাদিগের উচিত যে জয়কৃষ্ণ দাসকে উক্ত চাকলার কানুনগো ও দস্তিদারী কর্মে স্থিরতর জানিবা, বাহাল তারিখ অবধি তাহার সদ্ূপদেশ ও আদেশ মতে কার্য্য করা ও তাহা অমান্য না করা। কাগজাতে উহার দস্তখৎ ও জরিপে উহার হাতের মাপ সদর ও মহালাৎ ও অন্যান্য কার্য্যালয়ে সকলে উহার দস্তখৎ বলবৎ জানিবা। এই সম্বন্ধে খুব তাগিদ জানিবা তাহার হুকুম মত কার্য করিবা।” তাং ২২ রজব ১৮ জলুস। (মোহর-মোহাম্মদ খা বাদশাহ গাজী । ১১৪২ জলুস। ফিদরি । সমৃসের খা বাহাদুর ।) ১৯৪. [)01711) 016 1৬00101011 00%1াাো( 0 00105101911 77111101 [010৫ ৬/০৩ 10০01 01 5911161 (0110$ 0010106. -110110175 ১1011511001 000081705 01 /৯55011). ৬1. 11 (9910061) 0. 1007. ২৩০ শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড ভূমিদানের সনদ পত্র প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে। ইহার সময়েই পূরর্বকথিত জয়কৃষ্ণ দাস শ্রীহস্ট্রের দস্তিদার পদে নিযুক্ত হন (১৭৩৬ খৃষ্টাব্দ |) নবাব শমশের খার অধীনে চারিজন নায়েব ফৌজদার ছিলেন। মুর্শিদাবাদের ইতিহাসে লিখিত আছে, শিলহাটের ফৌজদারীতে এই সময়ে শমশের খা ও তাহার অধীনে আরও চারিজন সীমান্ত প্রদেশ রক্ষায় নিযুক্ত ছিলেন।১৫ তিনি ১৭৪০ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত শ্রীহট্টরের আমিল পদে ছিলেন, প্রসিদ্ধ গিরিয়ার যুদ্ধে তিনি নবাব সরফরাজ খার পক্ষে সসৈন্য রণক্ষেত্রে উপস্থিত হইয়া অতুল সাহসের পরিচয় প্রদান করেন। সেই ভীষণ যুদ্ধে সরফরাজ খা অনেক প্রধান ব্যক্তির সহিত নিহত হন। আলীবর্দি খা জয়োল্লাসে মসনদে অধিষ্ঠিত হন। জমা কামেল তোমার এই সময়ের পৃরের্ব (খুঃ ১৭২২) মূর্শিদকুল খা “জমা কামেল তোমার” নামে রাজস্বের এক নৃতন হিসাব প্রস্তুত করেন। তাহাতে “সরকার শিলহাট ও তাহার নিকটস্থ আরও কতক ভূভাগ লইয়া চাকলা শিলহাটের উৎপত্তি হয়। চাকলা শিলহাটের মধ্যে সরাইল, জোয়ানশাহী প্রভৃতি প্রসিদ্ধ পরগণা অবস্থিত ছিল।” “শিলহাট চাকলায় ১৪৮ পরগণায় ৫৩১৪৫৫ টাকা রাজস্ব নির্দিষ্ট হইতে দেখা যায়।”১৬ তৎকালে সুবেবাঙ্গালার “১৩ চাকলার মধ্যে শিলহাট দ্বাদশ স্থানীয় ছিল।” এই বন্দোবস্তই “পরবত্তী নবাব সুজাউদ্দীনের সময়ে ১৭২৮ খৃষ্টাব্দে পাকা হইয়া সুমার বা গোসোয়ারা প্রস্তুত হইয়াছিল ।১৭ তিনি বঙ্গরাজ্যকে ২৫টি জমিদারীতে বিভক্ত করেন, তন্মধ্যে শ্রীহষ্ট ২১ স্থানীয়, এ সময় বিবিধ নামীয় ভিন্ন ভিন্ন জায়গীর ভূমি বাদে শ্রীহন্টে খালসা ভূমি ৩৬টি পরগণাভুক্ত ছিল ও ৭০,০১৬ টাকা জমায় বন্দোবস্ত হয় ।১৮ নিম্নলিখিত জায়গীরগুলি বাদে উক্ত জম ধার্য্য হইয়াছিলঃ-_ ১. “জায়গীর আমির-উল-উমরা”। (বাদশাহের প্রধান সেনাপতির জন্য) শ্রীহট্টকেও এই বাবতে অর্থ প্রদান করিতে হইত। এই জন্য ঢাকা, শ্রীহট্ট ও আসাম হইতে (২২৫,০০০) টাকা সংগৃহীত হইত । ২. “মনসব দারান” | (সেনানীদের জন্য জায়গীর) প্রান্তদেশ রক্ষার্থ এই জায়গীরের ব্যবস্থা । ঢাকা, হিজলী, রাজমহল ও শ্রীহন্রে ইহা স্থাপিত ছিল। টাকার পরিমাণ ১১,০৮৫) শ্রীহট্টকেই ইহার অধিক অংশ বহন করিতে হইত । ৩. “শালিয়ানা দারান্‌” । (বাৎসরিক বৃত্তি) শ্রীহট্টের কয়েক জন তালুকদার প্রভৃতির জন্য । শ্রীহট্রের নয়টি পরগণা হইতে এই টাকা আদায় হইত; টাকার পরিমাণ--২৫,৬৬৫ টাকা। ৪. “আমলে নাওরা”। (নৌসৈন্য বিভাগ ও তাহার জায়গীর) মগ ও পর্টশীজ জলদস্যু দমন জন্য ইহা স্থাপিত হয় । এই বিভাগে অনেক ফিরিঙ্গী সৈন্য ও ৭৬৮ খানি সমর-তরণী ছিল, ১৫. শ্রীযুক্ত নিখিল নাথ রায় প্রণীত “মুর্শিদাবাদের ইতিহাস” ১ম খণ্ড ৫১৬ পৃষ্ঠা। ১৬. [90008 01061309911» 291 এবং মুর্শিদাবাদের ১ম খণ্ড ৪৩৫ পৃষ্ঠা ১৭. শ্রীয়ক্ত কালীপ্রসন্ন বন্দোপাধ্যায় প্রণীত “বাঙ্গালার ইতিহাস” ৬ষ্ঠ খণ্ড ১০১ পৃষ্ঠা। ১৮, 1710 12100 105617606 901009115 [0910 :0 009৬০111101] 56611৯1010৩ 10001) [৭ 70,016 11 1720) ৯ 14- [09009131000 13001 7 391 তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ২৩১ ইহার ব্যয় ঢাকা ও শ্রীহট্টকে বহন করিতে হইত । শ্রীহট্রের সরাইল (অধুনা ত্রিপুরায়) হইতে- ১১০ টাকা ” জোয়ানশাহী (অধুনা ময়মনসিংহ)”-- ৩৩৮২০ " তরফ (শ্রীহট্রেই আছে)” __ ১১৮৩০ ” মোট ৪৬৭৬৬ টাকা শ্রীহষ্ট হইতে আদায় করা হইত এবং প্রোক্ত পরগণাত্রয় খারিজ হইয়া ঢাকার নাওরা বিভাগ ভূক্ত হয়। তদ্যতীত, ইহার পরে আলীবর্দি খার সময়ে বাণিয়াচঙ্গের রাজ্ব হইতে ৬১,৯৪১ টাকা নাওরা উল্লেখে বাদ দেওয়া হইত। ৫. “আমলে আসাম ।” (পূবর্ব ভাগের বিশেষতঃ আসামের সীমান্ত রক্ষার্থ তোপ এবং ৮১১২ জন সৈনিক রক্ষার ব্যয়) ঢাকা, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম ও শ্রীহট্টকে এই ব্যয় বহন করিতে হইত । ব্যয়ের পরিমাণ--৩৫৯,১৮০ টাকা নিরূপিত ছিল। ৬. “খেদা-আ-ফিল”। (হস্তী ধরিবার জন্য) কেবল ত্রিপুরা ও শ্রীহট্ট হইতে এতদ্বিযয়ক ব্যয় যাইত । জায়গীরের আয়ের পরিমাণ--৪০,১০১ টাকা । তনুধ্যে শ্রীহস্রের এগারসতী প্রভৃতি পরগণা হইতে যাইত--২৮,৯৮৮ টাকা এবং হস্তীর খোরাকি বাবতে ৩০টি পরগণা হইতে--১৮০৪৪ টাকা রাজস্ব নির্ধারিত ছিল। ৭. “শিলহাট ফৌজদারান” । [শ্রীহট্রের ফৌজদার শমশের খা ও সীমান্ত রক্ষকের (নায়েব ফৌজদারের) জায়গীর] রেকমী জমা-৪৩,০০০ টাকা । ৪৮ পরগণা--১৭৯,১৬৬ টাকা ।'১৯ নবাব শমশের খা বাহাদুরের অধীনে ৪ জন নায়েব ফৌজদার বা সীমান্ত রক্ষকের উল্লেখ করা হইয়াছে । এ সময়ে যাহারা শ্রীহট্টে অবস্থিতি করিতেছিলেন, তাহাদের নাম লিখিত হইলঃ-_ ১৯. নবাব সুজাউদ্দীন খা বাহাদুর--১৭২৯ খৃষ্টাব্দে পাথারিয়াবাসী রাধাকান্ত ভট্টাচার্য্যকে তিনি ভূমি দান করেন। ২০. নবাব বশারত খা বাহাদুর-_-১৭৩১ খৃষ্টানদের তারিখযুক্ত তাহার নামীয় একখানা সনদ দৃষ্ট হয়। ২১. নবাব সৈয়দ রফিউন্লা হাসনি বাহাদুর--১৭৩৩ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত তাহার মোহরাঙ্কিত সনদ পাওয়া যায়। ইহার নামানুক্রমে পরগণা রফিনগরের নাম হয়। ২২. নবাব মোহাম্মদ হাসনা বা মোহাম্মদ আবুল হাঁসন বাহাদুর-_তীাহার নামীয় ১৭৩৪ খষ্টাব্দের একখানি সনদ পাওয়া গিয়াছে। ২৩. নবাব মীর আলিওর খা বাহাদুর_-১৭৩৫ খৃষ্টাব্দে তিনি কতক ভূমি দান করেন বলিয়া জানা যায়। সমসাময়িক পাচ ব্যক্তির নাম উল্লেখিত হইল, ইহাদের মধ্যে একজন সম্ভবতঃ অল্পকাল শ্রীহট্টরে ছিলেন, তাহার স্থানে পরে অপর একজন আসিয়া থাকিবেন। নবাব শমশের খাঁর সময়ে তাহার অধীনে চারিজনের অধিক নায়েব ফৌজদার ছিলেন না। ১৯. শ্রীযুক্ত কালী প্রসন্ন বন্দোপাধ্যায় কৃত “বাঙ্গালার ইতিহাস” ৬ষ্ঠ খশ দ্রষ্টব্য! ২০, [1,191] (001500৩) ০5190011107 1744 ৮19 ৫01010801019010811 0113 আআ) তি] -/৯100141] (61940 01 1176 1010691981081 ১15০৯, 8৩1 2) 01101070106 ৩৫ 01001110 /১1)111,-190)১, 1, 310) 1১ 24 ২৩২ শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড নবাব বহরম খা ও পরবত্তী নবাব শমশের খা গিরিয়ার যুদ্ধে নিহত হইলে, (২৪._ নবাব বহরম খা বাহাদুর শ্রীহত্টরের ফৌজদার নিযুক্ত হন। তিনি ১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে শাহজলালের দরগাস্থিত গুন্বজত্রয়যুক্ত মসজিদটি নির্মাণ করাইয়া দিয়াছিলেন।২০ অতঃপর (২৫.) নবাব আলাকুলিবেগ বাহাদুরের নাম প্রাপ্ত হওয়া যায়। ১৭৪৮ খৃষ্টাব্দে একখানি সনদে তাহার নামের মোহর আছে। (২৬.) নবাব তানিব ইয়ার খার বাহাদুর, (২৭.) তানিব আলী ও (২৮.) আবু তানিব খা বাহাদুর, এই তিন নামের মোহ্রযুক্ত সনদ প্রায় একই সময়েই দৃষ্ট হয়। ইহারা বিভিন্ন ব্যক্তি, কি এক ব্যক্তিরই ভিন্ন ভিন্ন নাম বলা যায় না। প্রত্যেক নামে “তানিব” শব্দ থাকায়, সম্ভবতঃ একই ব্যক্তিই বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলেন, অনুমান করা যাইতে পারে । ভিন্ন ব্যক্তি হইরে ইহারা এ সময়কার ফৌজদার ছিলেন সন্দেহ নাই। সম্রাট আহমদ শাহের সমকালবন্তী ফৌজদার যখন বঙ্গের মসনদে নবাব আলীবর্দি খা উপবিষ্ট ছিলেন, সেই সময় আহাম্মদ শাহ বাহাদুর “তকত তাউসের” নামে কোন রূপে বিকাইতে ছিলেন (খৃঃ ১৭৪৮-১৬৫৭); ইহার সময়ে-__আলাকুলি বেগের কিঞ্ৎ পরে, যিনি শ্রীহট্টের ফৌজদার নিযুক্ত হন, তাহার নাম (২৯) নবাব নজীব আলী খা বাহাদুর । ইহার নামীয় মোহরাক্কিত ১৭৫১ খৃষ্টাব্দে একখানি সনদ পাওয়া গিয়াছে। এই সময়ের অল্প পৃবের্ব বা পরে যাহারা আমীল পদে নিযুক্ত হন, তাহাদের অনেকের নামই নির্দেশ করা যাইতে পারে নাই; প্রথমে যে সপ্তদশ জন আমীংলর নাম মাত্র লিখিত হইয়াছে, তাহাদের অনেকেই এই সময়কার লোক ছিলেন, সন্দেহ নাই। বদরপুরের কেল্লা এই সময়ে শ্রীহট্টের পূর্বাঞ্চলে পার্বত্য লোক কর্তৃক নানারপ উৎপাত ঘটিত, তন্নিবারণ হইতে আগমন কালে একদল মোসলমান ও খৃষ্টীয়ান গোলন্দাজ সৈন্য সীমান্ত রক্ষার জন্য আনয়ন করেন শ্রীহট্টরের সীমান্তবর্তী বুন্দাশিল নামক স্থানে তিনি একটি দুর্গ প্রস্তৃত করিয়াছিলেন; সেই দুর্গই বদরপুরের কেল্লা বলিয়া খ্যাত।২১ এই দুর্গের ভগ্নাবশেষ অদ্যাপি পরিলক্ষিত হয়। বুন্দাশিলের এই দুর্গ ইংরেজ আমলেও অনেক দিন পর্য্যন্ত ব্যবহার্ধ্য ছিল। ১৭৯৯ খৃষ্টাব্দে আগা মোহম্মদ রেজা নামক জনৈক মোগল কতকটি লোক সংগ্রহ করতঃ কাছাড়িধিপতি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে২২ পরাভূত করিয়া ইমাম মাধী নাম ধারণ করতঃ প্রায় দ্বাদশ শত অনুচর সহ মহোৎসাহে বিজয়গব্র্বে এই কেল্সা আক্রমণ করে, পরে শ্রীহট্ট হইতে ২১. 480 0116 00111716 01 076 180) ০6100019, ও 1111110171010081) ০৬/21), ৬110 ০0116 00) 10561001 ৮/1011 এ 9 ০0 1৬105170215 210 1201৬0 0101150121155 01051010017 0০০01৫11619 1100 %111050 01001110105, 06118 61101095৩৫ (0 591৬০ 1015 50015. ৬/1)01৩ 10176 139৬/90 71601781060 (11250 [7211১ 10151019 ৫0965 1101 7০1800, 001. 1109 210 5210 109 1)9৬৩ 000111 2 1011 11) 17391109511 0110 10106 500(150 10801101911. -/১119115 59801) 10150101 0820006015 (9%11161) ৬01. 1]. 01110). 11. 7. 91. নবাব নির্মিত এই প্রাটীন দুর্গ পুনবর্ধার মেরামত হইবার প্রস্তাব চলিতেছে। সম্প্রতি ইহার জঙ্গলাদি পরিষ্কার করিবার ভাদেশ হইয়াছে। ২২. শ্রীহট্ট্রের ইতিবৃত্ত ৫ম খণ্ড উপসংহার বা কাছাড় অধ্যায়ে এতদ্বিবরণ দ্রষ্টব্য । তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ২৩৩ কল্যাণসিংহ সুবেদার২৩ নৃতন সৈন্য সহ আগমন করিয়া, আক্রমণকারী এই মোগলকে পরাজিত করেন। ইহার পাঁচটি কামান তাহার হস্তগত হয় ও ৯০ জন লোক বন্দী হয়; মোগল পলায়ন করিয়াছিল, কিন্তু অবশেষে ধৃত ও বন্দী হয় ।২৪ বুন্দাশিলের রোমান কাথলিক খৃষ্টায়ানগণই, নবাব আনীত পূর্ব্বোক্ত গোলন্দাজদের বংশধর। সম্রাট আলমগীর ছ্িতীয়ের সমকালবত্তী ফৌজদারগণ যখন সৌভাগ্যবঞ্চিত সিরাজউদ্দৌলা বঙ্গের সিংহাসনে আরূঢু, যে সময়ে দ্বিতীয় আলমগীর দিল্লীতে নামে মাত্র সম্রাট (খুঃ ১৭৫৭-১৭৫৯), তখন (৩০.) নবাব শাহ মতজঙ্গ নোয়াজিস মোহাম্মদ খা বাহাদুর শ্রীহস্ট্রের ফৌজদারের পদ প্রাপ্ত হন। ইহার নায়েব (৩১.) আচল সিংহ নামে জনৈক হিন্দু ছিলেন। ইহাকে পশ্চিমাঞ্চলীয় লোক বলিয়াই বোধ হয়। বেজোড়া বাসী রামকান্ত চক্রবর্তীকে তিনি, (১৭৫৩ খৃষ্টাব্দে) কতক ভূমি দান করেন। শ্রীহ্ট কালেক্টরীর কাগজ পত্রে “নোয়াজিস মোহাম্মদের নায়েব” বলিয়া তাহার স্পষ্ট উন্লেখ আছে। পরবর্তী ফৌজদারগণ ও বঙ্গীয় সন্ধি পত্রে শ্রীহট্রের চণার কথা পলাশী ক্ষেত্রে বঙ্গীয় নবাব সিরাজউদ্দৌন্লার পরাজয়ে অতঃপর যখন বঙ্গদেশ ইংরাজ গবর্ণমেন্টের আয়ত্ত হইয়াছে, যখন দিল্লীর ভগ্মসিংহাসনে শাহ আলম দ্বিতীয় উপবেশন করতঃ মোগল বাদশাহের নামের স্মৃতি রক্ষা করিতেছেন, সেই সময়ে বা তাহার কিঞ্চিৎ পরেও (খুঃ ১৭৬০-১৭৭১) শ্রীহট্রের কয়েক জন আমিলের নাম তীহাদের প্রদত্ত সনদে পাওয়া যায়: ইহাদের মধ্যেঃ-(৩২.) নবাব মোহাম্মদ আলী খাঁ বাহাদুর (দ্বিতীয়), (৩৩.) নবাব এক্রাম উল্লা খা বাহাদুর, (৩৪.) নবাব হাজি হুসেন খাঁ বাহাদুর (খৃঃ ১৭৬৪) ও (৩৫.) নবাব আজদা খা বাহাদুরের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য । কারণে তাহার উপর ইংরেজগণ অসন্তুষ্ট হইয়া তদীয় জামাতা মীর মোহাম্মদ কাশেমকে তাহার স্থলবন্তী করেন। মীর কাশেমের সাপক্ষে এই বিষয়ে ১৭৬০ খৃষ্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে ইংরাজদের এক সন্ধি হয়, তাহাতে শ্রীহন্টের চুণের উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়, তদনুসারে নবাব কোম্পানীকে চুণ সরবরাহ করার কথা হয়। তৎকালে বাণিজ্য ব্যপদেশে কোম্পানীর লোক প্রজাবর্গের উপর দৌরাত্ম্য করিতেন। শ্রীহট্রে এইরূপ অত্যাচার যাহাতে না হয়, তাহাও উক্ত সন্ধিপত্রে লিখিত ছিল।২৫ ইহার পর মীর কাশেম ইংরেজের বিপক্ষে দপ্তায়মান হন, ইংরেজ উপায়ান্তর রহিত হইয়া যুদ্ধ ঘোষণা করেন ও মীরজাফরকে বঙ্গের সিংহাসনে পুনস্থাপন বদ্ধ পরিকর হইয়া ১৭৬৩ খৃষ্টাব্দের ১০ই জুলাই তারিখে দ্বিতীয় সন্ধি করেন, ইহাতেও চুণার উল্লেখ আছে, কিন্তু তখন ইংরেজরা অর্ধেকের মালিক হইয়া পড়িয়াছেন। এ সন্ধিপত্রের ৫ম দফার মর্ম এইঃ- বঙ্গীয় ১১৭০ সাল হইতে শ্রীহট্টরে পাচ বৎসর ধরিয়া কোম্পানীর গোমস্তা ও ফৌজদার ২৩. কল্যাণসিংহের অকল্যাণ বার্তা এই গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ২য় অধ্যায়ে বর্ণিত হইবে। ২৪. 969 /5550]) [01501010220115015 (911061) ৬০1 1]. 01101) 11. 2.39. ২৫. "00701091101 0110 0101101) 01000004 %1 ১%11091 101 01100 ৩০5 ॥ 90 01110105804 09 00 60110551019 ০1 00 ০0101)019 [টো 1116 [১691৩ 00 00৬০1711011 0100 00510719194 01000 01906, 1170 16179105 0010 10001101105 01 0191 01507101 51911160৩1৬০ 110 11110019." ৫ এ ৰ এ তি চি ২ 5 /ছ নি চি | রা নত রদ রর রি সু পে হি নর পর রডের 2758 এ ২: 77895 »প 2% ক. ১ তি? শর ক রা নী % *) রঃ শি চা সি ই 1 এ 7 -.+ 8 ৮ রি & 4 ইত ই ৯১ নিক বদরপুর কেলু (সম্মুখ ভাগ) তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৩৫ উভয় পক্ষের সমব্যয়ে চৃণা প্রস্তুত হইবে, কোম্পানী অর্েক লইবেন, অপরার্ঘ সরকারের ব্যবহারে আসিবে ।২৬ ইংরেজামলের নবাবগণ ৃষ্টায় ১৭৬৫ অব্ে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী বঙ্গ বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী গ্রহণ করেন। শ্রীহট্টও ইংরেজ করায়ত্ত হয়, কিন্তু ইংরেজগণ শাসন সম্বন্ধে তখন হস্তার্পণ করেন নাই; তাহারা দেওয়ানী বা রাজস্ব আদায়ের ভারই গ্রহণ করিয়াছিলেন মাত্র, পূর্র্ব প্রথামত মোসলমান ফৌজদারই শ্রীহস্রের শাসন কার্ষ্যে নিযুক্ত ছিলেন। এই সময়ের ফৌজদারদের মধ্যেঃ_-(৩৬.) নবাব বিকু খা বাহাদুর (খৃঃ ১৭৭৩), (৩৭.) নবাব হায়দর আলী খা বাহাদুর (খুঃ ১৭৭৮) ও (৩৮.) নবাব এতেসাম খাঁর প্রদত্ত ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দের একখানি সনদ মিলিয়াছে; করিমগঞ্জ সবডিভিসনের অন্তর্গত এতেসাম নগর পরগণা তাহার নাম রক্ষা করিতেছে। তৎপর (৩৯.) নবাব মীর মোহাম্মদ হাদী বাহাদুর (খুঃ ১৮০২) ও €৪০.) নবাব সদাকত আলী খা বাহাদুরের নাম পাওয়া যায়। ইহার প্রদত্ত সনদে এবং তৎপুর্বববর্তী দুই তিন জন নবাবের প্রদত্ত সনদে তাহাদের নামের সহিত “কোম্পানী ইংরেজ বাহাদুর” এই কয়েকটি কথাও পাওয়া যায়। ইহার পরেও শ্রীহট্রে দুই এক জন নবাবের নাম প্রাপ্ত হওয়া যায়। যথাঃ--(৪১.) নবাব আবু তুরাব খা বাহাদুর ও (৪২.) নবাব কাশেম খা বাহাদুর এবং (৪৩.) নবাব গণর খা বাহাদুর । নবাব গণর বৃত্তিভোগী মাত্র ছিলেন, ইহার প্রদত্ত কোনও সনদ শ্রীহস্ট্রের কালেন্টরীতে ৃষ্ট হয় না, ১৮২৯ খৃষ্টাব্দে তাহার শ্রীহট্ট থাকার কথা জানা যায় মাত্র। নবাবি আমলে দেশের অবস্থা উচ্চ পদস্থ কর্মচারী নবাবি আমলের শাসন প্রণালী নানা গ্রন্থেই বর্ণিত হইয়াছে। অন্যান্য দেশ যেরূপ শাসিত হয়, নবাবি আমলে শ্রীহট্র অঞ্চল শাসনেও তাহার ব্যতিক্রম হয় নাই। আমিল বা ফৌজদারগণ পূর্বে দিন্নীর অধীনে ছিলেন, পরে রাজস্ব বিষয়ে ঢাকার ও শাসন বিষয়ে মুর্শিদাবাদের অধীনে তাহাদিগকে কার্য করিতে হইত । ইহারা সন্তা্ত বংশীয় ও সুশিক্ষিত ছিলেন, প্রধানতঃ সীমান্ত রক্ষার উদ্দেশ্যে তাহাদের অধীনে একাধিক “নায়েব” থাকিতেন। ফৌজদার পরিবর্তন সময়ে কখন কখন সঙ্ঘর্ষ উপস্থিত হইত । (নবাব শুকুরুল্মা ও হরকৃষ্ণের যুদ্ধ বিবরণ তাহার উদাহরণ ।) তদ্যতীত দিন্ত্রী হইতে রাজস্ব বিভাগের উচ্চ কর্মচারী “দেওয়ান” নিযুক্ত হইতেন। সম্রাট শের শাহের সময়ে শ্রীহস্টরে আনন্দ নারায়ণ নামে এক দেওয়ান ছিলেন। বলা গিয়াছে, এ বংশে দেওয়ান মুক্তরাম, দেওয়ান মাণিক চাদ প্রভৃতি জন্মগ্রহণ করেন, ইহাতে বোধ হয় যে, এ পদ উত্তরাধিকারিত ক্রমে প্রদত্ত হইত। কালেক্টরীর কাগজ পত্রে দেওয়ান গোলাব রাম বলিয়া এক ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়, (ইনি বাহাদুরপুর পরগণাস্থ গোবিন্দরাম পপ্ডতিতকে ১৭৭৭ খৃষ্টাব্দে শাহবাজপুর হইতে সাড়ে পাঁচ হাল ভূমি ব্রন্ষত্র দেন। এই দেওয়ান ভিন্ন বংশীয় ছিলেন। দেওয়ানী পদের ন্যায় কানুনগো পদও উত্তরাধিকারিত্ত সুত্রে প্রদত্ত হইত, ইহার উদাহরণ আছে। আমিল পদ সৃষ্টির পুর্ব কানুনগোগণই দেশের দণ্ড মুণ্ডের কর্তা ছিলেন, পরে তাহাদের ক্ষমতা ত্রাস করা হয়। "তখন রাজস্ব ও জমিদার বত্ন্দাবস্তের জন্য স্থানে স্থানে কানুনগো কার্য্যালয় ৬. /১11010117500169010 1270726170111 10 ১910015৬০11. 249 ২৩৬ শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ৰ দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড স্থাপিত হয়; সদর শ্রীহস্্, ইটা, লংলা, তরফ, প্রভৃতি স্থানে কানুনগো কার্য্যালয় ছিল। পরবর্তীকালে কানুনগো পদই রাজস্ব বিভাগে শ্রেষ্ঠ পদ ছিল। পাটওরিগণ ইহাদের সাহায্যকারী ছিলেন। দস্তিদারদের ক্ষমতাও অল্প ছিল না, রাজকীয় দলিল ও দান পত্রাদি মোহ্রাঙ্কিত করিয়া তাহারাই বাহাল করিয়া দিতেন, ভূ-পরিমাপে তাহাদের নকল ব্যবহৃত হওয়ার বিধান ছিল,-আজিও আছে। কাজিগণ শাসন ও বিচার সংক্রান্ত কর্মচারী ছিলেন, ইহাদের অধীনে কিছু কিছু সৈন্যও থাকিত, তরফ প্রভৃতি স্থানে কাজির কার্য্যালয় ছিল। তদ্যতীত বিচার নির্ধারণার্থে জনৈক মোহাম্মদীয় আইনের ব্যাখ্যা করিতেন এবং হিন্দু ব্যবস্থা বিধি ব্যবস্থা নির্দিষ্ট পণ্তিতগণ দিতেন। ইহারা রাজপণ্তিত বলিয়া গণ্য হইতেন, নবাব কর্তৃক নিয়োজিত হইয়া ভরণপোষণার্থ ভূমিদান পাইতেন। নবাব এক্রাম উল্লা খার প্রদত্ত এইরূপ সনদ প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে ।২৭ সামরিক বিভাগে বক্সী, জমাদর, হাজারী প্রভৃতি পদ ছিল। দেওয়ানী সেরেস্তায় মুস্তোফী বা সেরেস্তাদার, আমীন, পেক্কার, মোন্শী প্রভৃতি বহুবিধ কর্মচারী ছিল । খাজাঞ্জির উপর তহবিলের ভার ছিল, ফোতাদার বা পোদ্দার মুদ্রা পরীক্ষা করিতেন। সেনানায়কগণ বেতনের পরিবর্তে জায়গীর ভোগ করিতেন; হিম্মত খা, হাতিম খা, বক্তারসিংহ সেনাপতির জায়গীর আজও “ছেগা” নামে পরিচিত। রাজস্ব সংথহে বৈকুষ্ঠ বাস নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর পূর্বে প্রধানতঃ ইজারাদারগণই দেশের বড়লোক ছিলেন, মুর্শিদকুলি ইজারা প্রথা রহিত করিয়া জমিদার সৃষ্টি করেন, জমিদারগণ রাজস্বের টাকা কিস্তিবন্দীক্রমে দেওয়ানখানায় প্রদান করিতেন । রাজস্ব বাকি পড়িলে, স্থানীয় কর্ম্মচারীর রিপোর্ট মতে জমিদারদিগকে কখন কখন ঢাকা বা মুর্শিদাবাদে আহ্বান করা হইত, নিমন্ত্রিতগণ ভাগ্যানুসারে তথায় বিবিধরূপ যন্ত্রণার আস্বাদ প্রাপ্ত হইতেন। এই অকথ্য অত্যাচার মুর্শিদকুলি ও তদীয় দৌহিত্রপতি দেওয়ান মোহাম্মদ রেজা খার নামের কলঙ্ক স্বরূপ হইয়া ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অঙ্কিত রহিয়াছে । কাহাকে বা শিঙ্গী মৎস্যপূর্ণ বিষ্ঠাগর্তে নামাইয়া দেওয়া হইত, কাহারও টিলা পায়জমার ভিতর বৃশ্চিক বা বিড়াল ছাড়িয়া দেওয়া হইত, কাহাকেও লবণমিশ্রিত মহিষ-দুপ্ঠ পান করাইয়া উদরাময়ে ভোগাইবার ব্যবস্থা হইত। হিন্দুর প্রতি বিদ্রীপচ্ছলেই যেন এই অত্যাচার “বৈকুষ্ঠবাস” বলিয়া কথিত হইত । কিন্তু “বৈকুণ্ঠে” দর্শন করিতে হইয়াছিল বলিয়া ২৭. মূল পারস্য দান পত্রের মর্থ এই যেঃ-ডৌয়াদিগ নিবাসী নন্দরামের ভরণপোষণ সংক্রান্ত দরখাস্থ অনুসারে পরগণা মজুকুর দোয়ারিভাগা হইতে ২ কুবলা ভূমি তাহাকে দেওয়া হয়, উচিত যে, তিনি উহা ভোগ ক্রমে দুয়া (আশীর্বাদ) করেন। ৫ জলুষ। মোহরে-“বাদশাহে আলমগীর ফিদ্দরি গাজী এক্রাম খা ১১৭২" রাজপণ্ডিতি পদের সনন্দের অনুবাদঃ- মোহদিয়ান চৌধুরিয়ান ও কানুনগোইয়াণ পরগণে ডৌয়াদি ও গয়রহ সরকার শ্রীহস্ট জ্ঞাত হইবা যেহেতু সাবেকি দস্তুর মতে রাজপপ্ডিতি বিষয় উপরি উক্ত পরগণাজাতের মোকবার আছে, অদ্য দরখাস্ত হয় সাবেক দস্তুর মতে বিষয় মজকুর মোকবর হয়, অতএব দরখাস্ত মত রাজপণ্ডিতি পণ্ডিতি বিষয় পরগণাজাত মজকুরের উহার নামে পৃষ্ঠের লিখিতমত বাহাল করা গেল, উচিত যে উহারার তছরূপ দেওন যে শ্রাদ্ধ ও গয়রহ কার্য্যে পরগণাাত নিবাসীর পূরের্ধ দস্তুর মত অনদান ও জলদান ও বৎসতরি লও্ন আর জরুরি কর্ম শান্তর মত পরগণ”সাত নিবাসীর পত্র দেওন, এহ.₹ঠ তাগিদ তাগিদ জানিয়া লিখা*ঠ আচরণ করিবা। তারিখ ৬ সহারছক সন ৪ জলুষ। তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ২৩৭ কথিত আছে । যাহাদের সৌভাগ্য বিদেশ গমন না ঘটিত, তীহারাও সহজে অব্যাহতি পাইতেন না, স্থানীয় কর্মচারীদের কাছে তাহারা বিশেষ ভাবে নির্যাতিত হইতেন। এই নির্য্যাতন ভয়ে জমি জমা গ্রহণে লোকে প্রায়ই নারাজ হইত । রায় ও রায়বাহাদুর খেতাব নবাবী আমলেই সন্ত্ান্ত ভূমধ্যধিকারীগণ “চৌধুরী” খেতাব পাইতেন। খেতাবের মধ্যে “রায়” খেতাব খুব উচ্চ ছিল। মুর্শিদাবাদ কাহিনী রচয়িতা লিখিয়াছেন--“বর্তমান সময়ের ন্যায় তৎকালে রায় ও রায়বাহাদুর উপাধি পথে ঘাটে গড়াগড়ি যাইত না। সে সময়ে রায়দিগকে সহস্র সৈন্যের তেনাধ্যে ৫০০ অশ্বারোহী) অধিপতির ও রায়বাহাদুরকে তিন সহস্র সৈন্যের (তন্মধ্যে ২০০০ অশ্বারোহী) অধিপতির পদমর্যাদা দেওয়া হইত।” চৌধুরীদের খেতাব তদ্রপ না হইলেও ইহারাই দেশের শক্তিস্বরূপ বিবেচিত হইতেন। চৌধুরী খেতাব হিন্দুরাজত্ে প্রজার নিকট হইতে করস্বরূপ উৎপন্ন শস্যের ষষ্ঠাংশ গৃহীত হইত। সম্রাট আকবরের পূর্ব পর্য্যন্ত তৎপরিবর্তে কর স্বরূপ আয়ের চতুর্থাংশ সংগৃহীত হইত, যাহারা এই সংগ্রহ কার্ষ্যে নিযুক্ত হইতেন, তাহারাই “চৌধুরী” (সংস্কৃত চতুর্ধারী বা চতুর্ধরীণ) উপাধি পাইতেন। কিন্তু তকালে এ উপাধি কচিৎ কাহাকেও দেওয়া হইত; পরবর্তী সময়েই “চৌধুরী” খেতাবের ছড়াছড়ি হয়। পৃবের্ব ইহা রাজস্ব আদায়ী কর্ম্মচারীর উপাধি ছিল, পরে ভূমধ্যধিকারীদের স্থায়ী উপাধিরূপে পরিণত হয়। কিন্তু নূতন জমিদারগণ এই খেতাব পাইতেন না, কেননা জমিদার ও চৌধুরী একার্থ বোধক নহে। জমিদারী পূবের্ব একটি পদ স্বরূপ ছিল,২৮ জমিদারগণ আদায়কারী “মারফতদার” স্বরূপ নিয়োজিত হইতেন।২৯ ইহাদিগকে এক সময় রাজস্ব আদায়ের হিসাব দিতে হইত । পক্ষান্তরে “চৌধুরী” বংশানুক্রমিক উপাধি হইয়া দীড়াইয়া ছিল। জমির স্বতৃচ্যুতির সহিত জমিদারিত্ব ঘুচিয়া যায়, কিন্তু চৌধুরী উপাধি তদ্রুপ নহে। বস্তুতঃ জমিদার ও চৌধুরী অথবা ক্রোড়ী ভিন্নার্থ বোধক শব্দ ।৩০ “চৌধুরী” উপাধি স্থায়ী ও উত্তরাধিকারী প্রযোজ্য হইলেও, পূবের্ব দশসনা বন্দোবস্তকালে কোন কোন নৃতন জমিদারকে এ প্রাচীন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।৩১ তদ্যতীত তৎকালে চৌধুরী খেতাব ও “ইজ্জত” ও “রিয়াসত” ইত্যাদি বিক্রয় করারও উদাহরণ পাওয়া যায়। বলা বাহুল্য, বর্তমানে কোন কোন স্থলে স্বয়মুদ্ভূত চৌধুরী দৃষ্ট হইলেও, প্রকৃতপক্ষে নূতন চৌধুরী হইবার আর উপায় নাই। দ্রব্যের মূল্যাদি নবাবি আমলে অপরাধীদিগকে কঠোর দণ্ড দেওয়া হইত, কিন্তু দূরতর স্থানে অপরাধীগণকে ধৃত করার সুবন্দোবস্ত ছিল না; এইজন্য দেশে চুরী, ডাকাতি অপেক্ষাকৃত অধিক ছিল। দোষী নির্ধারণ স্থলে নানারূপ পরীক্ষা ও শপথ ছিল। তখন প্রজাগণের অবস্থা অনেক ২৮. [11105 1.811010016 12১, 34, 35, 59, 101, 170. ২৯, ড/1)56105 12153 গা) [100121) [115101. 0100. ১0৬. 17. 202. 203. ৩০,716 5111 60011 িতোও 008 91901 002/10066 0) 006 /১10115 01101102351 [0019 ০01110001- ৬০1. ]. ৮১, 257. 2১৪. ৩৯. 11811761015 ১1019515 01006 9781055 06 737821 ৬০1. 1]]. 2. 327. ২৩৮ শ্রীহস্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড ভাল ছিল বলিয়া লোকে সহজে কুপথে যাইত না, জিনিসপত্র সস্তাদরে পাওয়া যাইত; চাউলের মণ তথকালে চারি আনা ছয় আনায় বিক্রয় হইত, একথা এখন কে বিশ্বাস করিবে? অধিক দিন নহে, শতাব্দী পৃবের্বে এদেশে ধানের কাঠার মূল্য দুই টাকা আড়াই টাকার অধিক ছিল না।_-আট মণে এক কাঠা হয়। তখন ঘৃতের সের চারি আনা ছয় আনা বিকাইত। মজুরের বেতনও অধিক ছিল না, বার্ষিক এক টাকা কি বার আনা হইলে বলবান কর্মক্ষম চাকর পাওয়া যাইত, ইহা নবাবি আমলের শেষ সময়ের কথা । এ সময়ের প্রথমে ও মধ্যভাগে দেশের অবস্থা আরও ভাল ছিল। খোজা এই সময়কার শ্রীহন্ের একটি প্রথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য । আইন-ই-আকবরি গ্রন্থোক্ত দ্বাদশ সুবার ইতিহাস প্রকরণে লিখিত হইয়াছে যে, “শ্রীহট্রে অনেক খোজা ও ক্রীত দাস দাসী পাওয়া যায়।” কৃত্রিম উপায়ে মোসলমান বালকদের পুরুষতৃ নষ্ট করা হইত, বলে বালকদিগকে ধরিয়া খোজা করিত।৩২ এই খোজাগণ দিদ্লী প্রভৃতি স্থানে প্রেরিত হইত। ইহারা কখন কখন প্রভৃত ধন উপার্জন পূর্বক দেশে আসিয়া সতবীর্ত্ি করিত । চুড়খাইর সন্নিকটব্তীঁ খোজার দীঘী প্রভৃতি ইহার প্রমাণ। করিমগঞ্জের প্রসিদ্ধ জায়গীরদার বংশের প্রসিদ্ধি ও সমৃদ্ধি তাহাদের বংশের জনৈক খোজা হইতেই এই সময়ে হইয়াছিল।৩৩ তখন লোকে বেতন দিয়া চাকর রাখিতে বিশেষ চেষ্টা পাইত না। তখন অতি মাত্রায় দাসত্ব প্রথা প্রচলিত ছিল, তখন পণ্য ব্যবহার ছিল ।৩৪ | ৩২. এই নৃশংস প্রথা গৌরবাত্মক নহে। কিন্তু গেইট সাহেব তদীয় আসামের ইতিহাসে শ্রীহত্টের প্রসিদ্ধ কেবল এইটিই মাত্র উল্লেখ করিয়াছেন। তদুত্তরে তাহার গ্রন্থ সমালোচক অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় যথার্থই লিখিয়াছেনৎ-"৬/০ 2০191 0119 01181 11 52119 01770 9911761 0150001 58110091164 1100156৬101 61017010175 (00980 272) 0170 17100101100 1015 25 10105 [)1011005, 1011)01) 0911185 01 01101 0101105. ১১11701 0191715 25115 0৬1) 010 £1691 [২90]11910]) 91101190111, 0116 91101155110510101) 1101 36118911095 0৬০ [)1০10000 1176 ঠা69০া 911 01181121190, 54100 1095 025560 25 থো। 4১৬৫ 01 ৬15]0101, /১0/81025 0176 01 006 ৬215110৬100 [1110109 ৮/1)0 1610165610160 009৫ 91৬০, 1 01121001192 05 ৬1511101; 1+101105/217 1৭90819111001 ৬110, 11106 [২881700121091) (৬110 ৬016 28 00015 01) 16 91110, 08110 121005/85), ৬/0116 28 00০15 01) 010 51111, ০9115 19198010857 03211811901) 310/05852]1 ৬/110956 0011100101215 15 0100 01 1110 0051 6৬০1 ৬/11010] 0) 991151010 01া0)2], 210 [0019 01106117001) 01 10011011165 810 101161018 +17+ 3001 1001)118 ০001010৫ 50 10101) ৮/101) 0) 01101)01 25 110 171011119010010 01 ০6001100105 [01 110561010 11) 1015 10151019, এতদুল্লিখিত মহাত্মাদের বৃত্তান্ত বিবৃত হইবে। ৩৩. শ্রীহট্ট ইতিবৃত্তের ৩য় ভাগে (বংশবৃত্তান্তে) এই বংশকথা কথিত হইবে । ৩৪. ইটা নিবাসী রাঘবেন্দ্র চক্রবর্তীর ১৮১১ খৃষ্টাব্দের লিখিত এইরূপ একখানি দলিলের অবিকল নকল এস্থলে উদ্ধৃত করা গেল, ইহাতে তখনকার ভাষায় নমুনাও পাওয়া যাইবে;-“ইআদিকীর্দ শ্রীরাঘাবেন্দ্র চক্রুবর্তি সদাসয়েসু লিখিতং শ্রীরত্ববল্পুভ শর্মণঃ কস্য বিক্রয় পত্রমিদং কার্জ্যঞ্চ আগে তুমার পাশ হনে মবলগ ৩ তিন রূপাইয়া পাইলাম পাইয়া আমার পৈত্রিক নফর শ্রীচান্দ সুদ্রর বেটী শ্রীমতি আদরু দাসিরে তোমার পাশ বিক্রয় পত্র করিয়া দিলাম তোমার পৈত্রিক নফর শুনা সুদ্রর পুত্র শ্রীকটা সুদ্রর পাশ বিবাহ দেও ইহার দিগে যে সন্তান আর্ট হৈব এহার দান বিক্রি অদিকার তুমার এহাতে আমার সন্ত নাই এহদর্থে বিক্রয় পত্র লেখিয়া দিলাম ই সন ১২১২ সাল বাঙ্গালা মাহে ৯ কার্তিক ।” (পার্থর সাক্ষী-শ্রীবিজয়কৃষ্ণ শর্মা, শ্রীবিষ্টুরাম শর্মা । উপরে শ্রীরত্ুবল্পভ শর্মণঃ |) তৃতীয় অধ্যায় : নবাবি আমল শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৩৯ সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার শ্রীহট্ে পূর্ব হইতে মৈথিল দ্বিজবর্গের প্রাধান্য থাকায় সংস্কৃতের বহুল চর্চা ছিল। শাহজলালের সময় হইতে এদেশের কথাবার্তায় উদ্দধ ভাষার অনেক শব্দ মিশ্রিত হইলেও সংস্কৃতের প্রভাব হিন্দু সমাজ হইতে দূরীভূত হয় নাই, নবাবি আমলেও অধিকাংশ স্থলে দলিল পত্র সংস্কৃতেই লিপিবদ্ধ হইত।৩৫ পণ্ডিতগণ সংস্কৃতেই গ্রস্থাদি লিখিতে যতু করিতেন। পরবর্তীকালে বাঙ্গালা মিশ্রিত সংস্কৃতেই দলিলাদি লিখিত হইত ।৩৬ শ্রীহট্টের কথ্য ভাষায় অনেক অবিমিশ্র সংস্কৃত শব্দ পাওয়া যায়। সাধারণ অবস্থা নবাবি আমলে দেশের অবস্থা মোটামুটি ভালই ছিল। বিচার কার্ধ্য সূক্্মভাবে সম্পাদিত না হইলেও, দেশের লোক অনেক পরিমাণে সুখস্বচ্ছন্দে জীবিকা নিবর্বাহ করিত, অহরহঃ অন্নকষ্ট ছিল না, লোকের ধর্ম ভয় প্রবল ছিল, সত্য কথা বই তাহারা মিথ্যা বলিত না। অন্যায়াচরণে সহজে লোক যাইত না বলিয়া ফৌজদারী মোকদ্মমার এত ছড়াছড়ি ছিল না, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় গ্রামের মাতব্বর ব্যক্তিরাই মীমাংসা করিয়া দিতেন, বয়োজ্যেষ্ঠ ও উর সম্পর্কিত ব্যক্তিদের প্রচুর সম্মান ছিল, তখন উৎকট সাম্যনীতির স্রোতে হিন্দু সমাজের প্রাচীন সুনীতি ভাসাইয়া দিতে পারে নাই । এ সময়েই দেশে, দেশে মুখোজ্জবলকারী অনেক মহাপুরুষের অভ্যুদয় হয়। ৩৫. শ্রীযুক্ত স্বরূপচন্দ্র রায় তদীয় শ্রীহট্টের ভূগোলের ৩৬ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন,-“অনেকস্থলে সংস্কৃতে লিখিত ভূমি বিক্রয়পত্রাদিও দেখা গিয়াছে (যথা ধর্মপুর নিবাসী) সনৎকুমার চৌধুরীর বাড়ীতে প্রাপ্ত বনু প্রাচীন সংস্কৃত কবলা), এ দেশে যে আর্ধ্য ভাষায় ভুরি প্রচলন ছিল, তদ্বিষয়ে দ্বৈধ জম্মিবার কারণ নাই।” ৩৬. এইরূপ একখানা দলিলের নিঙ্নে দেওয়া গেলঃ- 'শ্রীনকল পান্টা অজ করার মাহে ২৫ আসাড় সন ১০৯২ সাল স্বস্তি দ্বিনবত্যুত্তর সহস্তমাব্দে আসাড়স্য পঞ্চবিংসতি দিবসে শ্রীশ্রীমতাং সুলতান আরঙগসাহ পাদপদ্মা নামভ্যুদয়িনি রাজ্যে বঙ্গানামধীশ্বরেষু শ্রীযুত সাহাইস্থ খান মহোগ্রপ্রতাপেষু শ্রীহপ্টাধিকারিণি শ্রীযৃীত আবদুল রহেম খান মহাসয়ে শ্রীযুত হাজি সাহাবাজ কস্য পঞ্চখপ্তাধিকারিত্বে বিলসতি সাহত্ির পঞ্চখণ্ুচত্তরকান্তর্গত খাসাপাটক্থ শ্রীসুদাম দাস শ্রীগোবিন্দদাস সকাসাত সপ্ত মুদ্রাং গৃহীত্বা শ্রীমধুসুদন পাল শ্রীকৃষ্ণবন্ুভ পালাভ্যাং দক্ষিণে শ্রীবংসিকায়ার্র্বাটিকা পশ্চিমে পুবর্ব রাজমার্গ চ উত্তরে পুষ্করিণ্যুত্তরপারং পুর্ব ইসানকোনাবধিক প্রমাণেন গোলক আর ফলাইর বাড়ি গোলে চ জুরিআর ব্রিসিমা ইথং চতুঃসীমাবচ্ছিন্না শ্রীমনিপত্তন বটিকা মৌজে খেসর সম্বন্ধিনী বিত্রীতেতি তনমূলাং ৭ সাততঙ্কা দ্রব্য একবাড়ী চতুঃসীমাএ সন-তারিখ-সদর-এই দলিলের শীর্ষদেশে একপার্্বে একটি পারসা মোহর এবং অপর পাশ্বদেশে “শ্রীমধুসুদন পাল সম্মত শ্রীকৃষ্ণবল্লুভ পাল সম্মত” এবং তনিষ্নে “উভয়ানুমত্যা শ্রীমধূুসুদন ভট্টাচার্ধ্য' এইরূপ লিখিত আছে। দলিলে নিশ্নদেশে “তত্রার্থে সাক্ষিণ শ্রীহরিরাম পাল” এইরূপ লিখিত। ইহাতে বোধ হয় যে, মধুসুদন ভষ্টাচার্য্যই দলিল লেখক ছিলেন। তদ্যতীত দলিলে নিপার্থ্েই “ইসাদি" বা সাক্ষী ১৫ জনের নাম আছে, যথা-ঘুরামপাল, রতিরামপাল, বারাণসী দাস, পিতাস্বর পাল, রামনারায়ণ দেব, রামচন্ত্র দত্ত, ফরিদ খা ইত্যাদি। এই দলিল সম্পাদনের কাল সম্রাট আরঙ্গজেবের রাজত্ব সময়ই ছিল, তখন বঙ্গাধিপতি শায়েস্থা খা এবং শ্রীহস্টরে আব্দুল রহেম খা ফৌজদার ছিলেন। ইহার নাম শ্রীহট্টের কালেক্টরীর কাগজপত্রে আছে কিন্তু তদ্বারা তাহার সময় নির্ঘারিত করা যাইতে পারে নাই । হাজি শাহবাজ তৎকালে পঞ্চখণ্ডের ভূম্বামী ছিলেন বলিয়াই বোধ হয়। দলিল সংস্কৃতে লিখিত হইলেও লেখক বানান শুদ্ধির প্রতি মনোযোগ করেন নাই । বানানের ভুল প্রদর্শন করা ন"ছল্য মাসম্মত” এবং তনিম্নে “উত্যানুমত্য শ্রীমধুসুদন ভ্টরচার্য্য” এনপূপ লিখিত আছে। দলিলের গর .ম “নকল” শব্দ লিখিত। আরও কয়েকটি মূল দলিলে এই শব্দ পাওয়া গিয়াছে, ইহা বোধ হয় তৎকালের রীতি ছিল। ২৪০ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড মহাপুরুষ ও গ্রন্থকার যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের নামে বঙ্গদেশের নাম চিরউজ্জ্বল হইয়াছে, শ্রীহস্টরের ঢাকাদক্ষিণে এই সময়েই তাহার পিতামহ উপেন্দ্র ও পিতা জগন্নাথ মিশ্রের জন্ম হয়। যে নীলাম্বর চক্রবর্তী জ্যোতিবিরদ্যায় বঙ্গবিখ্যাত ছিলেন, শ্রীচৈতন্যের মাতামহ সেই বিখ্যাত পণ্ডিত তরপের জয়পুরে ৃষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে যখন শ্রীহন্ট এক ভীষণ অনাবৃষ্টি জনিত দুর্তিক্ষাদিতে প্রপীড়িত হয়,৩৭ যখন তজ্জন্য বহুব্যক্তি শ্রীহট্ট ত্যাগ করতঃ ভিন্নদেশে গমন করেন, সেই সময়েই নীলাম্বর চক্রবর্তী সপরিবারে জয়পুর হইতে নদীয়ায় গমন করিয়াছিলেন। শ্রীচেতন্যের পার্্বদ শ্রীবাসাচার্ধ্য, শ্রীচৈতন্য লীলার আদি লেখক পার্খ্দকবি মুরারি গুপ্ত, প্রাচীন পদকর্তা যদুনাথ, প্রসিদ্ধ পাঠক রতুগর্ভাচার্যয, শ্রীচন্দ্রশেখর আচার্য্যরতু, ইহারা এই নবাবি আমলেই শ্রীহস্্ে এককালে উদিত হইয়াছিলেন, শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত তৃতীয় ভাগে তাহাদের বিষয় বিবৃত করা যাইবে । এই সময় কত প্রসিদ্ধ গ্রন্থকার জন্মগ্রহণ করিয়া শ্রীহট্রের নাম চিরগৌরবান্বিত করিয়া গিয়াছেন। প্রসঙ্গতঃ বঙ্গগৌরব রঘুনাথ শিরোমণি, সময়প্রদীপ প্রণেতা জ্যোতিবির্বদ হরিহ্রাচার্য্য, দীপিকাপ্রভা রচয়িতা গোবিন্দাচার্য্য, পারস্য গ্রন্থকার রেয়াজউদ্দীন “বুলবুলেবাঙ্গালা” ও পীর বাদশাহের কথা এই ভাগেই কথিত হইবে, তদ্বযতীত শ্রীহন্টের নামক গ্রন্থ লিখিয়া প্রসিদ্ধ হন। | ইটাবাসী পদ্মপুরাণের প্রসিদ্ধ কৰি ষষ্ঠীবর প্রভৃতি, বিখ্যাত অষ্টাবিংশতি প্রদীপ প্রণেতা পঞ্চখপ্তবাসী মহেশ্বর ন্যায়ালঙ্কার, ব্রেপুর রাজবংশের ইতিহাস “রাজমালা” কার শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর প্রভৃতি এই সময়েই আবির্ভূত হইয়া শ্রীহস্ট্রের মুখোজ্জল করেন। শ্রীহন্ট্রে যেমন মনসা পূজার বাহুল্য লক্ষিত হয়, তেমনি চারি পাচজন পদ্পুরাণ রচয়িতা এদেশে এই সময়েই জনুগ্রহণ করেন বলিয়া আমরা জ্ঞাত আছি। নবাবি আমলেই শ্রীচৈতন্যের এই পিতৃভূমিতে নবধর্ম প্রবর্তক রামকৃষ্ণ গোসাইর উদ্ভব হয়; ঠাকুর বাণী, পাগল শঙ্কর, বঞ্চিত ঘোষ, ঠাকুর জীবন প্রভৃতি প্রসিদ্ধ ধার্মিক মহাত্মাগণ এই সময়েই শ্রীহস্ট্রের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে জন্ম পরিগ্রহ করেন। বংশবৃত্তাত্ত ও জীবন বৃত্তান্ত ভাগে পাঠ ইহাদের কথা দেখিতে পাইবেন। ৩৭. শ্রীহট্ট দেশে অনাচার দুর্ভিক্ষ জন্মিল। ডাকা চুরি অনাবৃষ্টি মড়ক পড়িল উচ্ছিন্ন হইল দেশ অরিষ্ট দেখিয়া । নাণ' দেশে সব্্বলোক গেল পলাইয়া॥ -কবি জয়ানন্দ কৃত চৈতন্যমঙ্গল। পঞ্চম অধ্যায় তরফের কথা রাজা আচাক নারায়ণ গৌড়, লাউড় ও জয়ন্তীয়ার ন্যায় তরফও শ্রীহস্টরের অন্যতম প্রাচীন রাজ্য । কিন্তু তরফ মোসলমানাধিকৃত হওয়ার সময় হইতেই শ্রীহট্রের গৌড় রাজ্যের ;মংশ বলিয়া বিবেচিত হয়। শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ২য় খণ্ডের ১ম অধ্যায়ে তরফের শেষ হিন্দু রাজার উল্লেখ করা গিয়াছে, ইহার নাম আচাক নারায়ণ । কিংবদন্তী যে, তিনি হঠাৎ রাজপদ লাভ করায় “আচাক” বা “আচাবিত” নামে খ্যাত হন ।১ কথিত আছে,__উত্তরে বরাক নদী, পৃবের্ব ভানুগাছের পাহাড়, দক্ষিণে বেজোড়া পরগণা, পশ্চিমে উত্তর লাখাই, এই চতুঃসীমান্তর্গত (আঠার মোড়ার) রাজপুর নামক স্থানে ইহার রাজধানী ছিল। আচাক নারায়ণ ত্রিপুরেশ্বরের আশ্রিত নৃপতি ছিলেন বলিয়া কথিত আছে ।২ যাহা হউক তৎকালীন অন্যান্য স্বাধীন নৃপতি অপেক্ষা তাহার প্রভাব কোন অংশেই অল্প'ছিল না। রাজা আচাক নারায়ণ সম্বন্ধে তরফ অঞ্চলে এখনও অনেক গল্প শ্রুত হওয়া যায়। কথিত আছে যে তিনি বেষ্ঞব ধর্মাবলম্বী ছিলেন । পুণ্যপ্রদ বরবক্র (বরাক) নদ তাহার রাজধানী হইতে অনেক দূরে থাকিলেও তিনি দ্রুতগামী অশ্বে আরোহণ পৃবর্বক সেই নদে স্নান করিতে যাইতেন। যে স্থানে তিনি স্নান করিতেন, তাহা অদ্যাপি ্নানঘাট নামে কথিত হয়।৩ যে পথ দিয়া স্নানে যাইতেন, তাহা “ত্রিপুরার জাঙ্গাল” নামে অভিহিত হয়। রাজধানী হইতে প্রায় তিন ক্রোশ দূরবর্তী এক নির্জন টিলার উপরে তিনি ঈশ্বরোপাসনা করিতেন, এঁ টিলাকে লোকে “বীর্ত্বনীয়া টিলা” বলিয়া থাকে। ১. কোনও পণ্ডিত দেশভাষায় কথিত আচাক শব্দটি শুদ্ধ কতৈ গিয়া “আচক্রু” শব্দ ব্যবহার করিযাছেন, কাজেই রাজার নামকে তিনি আচ্রু নারায়ণ করিয়া ফেলিয়াছেন। সৈয়দ আব্দুল আগফর কৃত তরফের ইতিহাসের ৩১ পৃষ্ঠায় লিখিত হইয়াছে-“অকম্মাৎ এবং বিস্ময়কর এই উভয় শব্দের যৌগিক অর্থ স্থলে এদেশের সাধারণ লোকেরা আচাক (বো আচানক) শব্দ ব্যবহার করিয়া থাকে। অজ্ঞাত কুলশীল এক এক ব্যক্তি অকন্মাৎ উপস্থিত হইয়া দেশ অধিকার করায় এবং অকস্মাৎ ব্যাপর সম্পাদন হেতু তিনি আচাক নারায়ণ নামে খ্যাত হইয়াছিলেন।” এই কথার সহিত গৌড়গোবিন্দ রাজার আবির্ভাবের সাদৃশ্য পাঠক স্মরণ করিয়া দেখিবেন। ২. আচাক নারায়ণ ব্রিপুরেশ্বরের আশ্রিত রাজা ছিলেন, সন্দেহ নাই । আইন-ই-আকবরি গ্রন্থে লিখিত আছে-“ভাটী প্রদেশে সন্নিকটে 'তিপ্রা' নামে এক স্বাধীন রাজ্য আছে । যিনি রাজা হন, তাহার উপাধি মাণিক। সেই রাজ্যের আমীর ওমরাহণ “নারায়ণ উপাধি প্রাপ্ত হইয়া থাকেন।”-(বসুমতীর প্রকাশিত অনুবাদিত পুস্তক 1) তরফের মুদ্রিত ইতিহাসের ৩২ পৃষ্ঠায় লিখিত আছেঃ-“আচাক নারায়ণ যে ব্রিপুরাধিপতির করদ কি সংসৃষ্ট ছিলেন, তাহাতে আর সন্দেহ নাই; তৎকালে যিনি যে দেশের শাসনভার প্রাপ্ত হইতেন, তিনি সেই দেশের রাজা বলিয়া সাধারণের নিকট পরিচিত এবং খ্যাত হইতেন।” ৩. পৌরাণিক ভগদত্ত রাজা রাজ্যশাসন ব্যপদেশে শ্রীহন্টে আগমন করিলে এই স্থানে স্বান করিতেন বলিয়া জনশ্রুতি আছে। রাজা আচাক নারায়ণও সেই স্নান ঘাটে গিয়াই প্রত্যহ ন্নান করিতেন । শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১৬ ২৪২ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড রাজবাটাতে দেবতা স্থাপিত ছিলেন, প্রত্যহ দেবতার সেবা হইত । দেবতার “ভোগ” আরন্ত হইলে এক বৃহৎ ঢক্কা বাজান হইত, তাহার মেঘ গর্জনবৎ গভীর ধ্বনি তিন ক্রোশ দূর হইতে শ্রতিগোচর হইত: তাহা শুনিয়াই রাজা কীর্ত্বনীয়া টিলা প্রত্যাগমন করতঃ প্রসাদ পাইতেন। এই ঢন্কা পরে মোসলমানগণ ভগ্ন করিয়া ফেলিয়াছিল। রাজা আচাক নারায়ণের বংশ পরিচয়াদি সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না; তিনি ত্রেপুর বংশীয় নৃপতি হইলেও হইতে পারেন; তনির্মিত পথ “ত্রিপুরার জাঙ্গাল” নামে অভিহিত হওয়ার ইহাই কারণ বলিয়া বোধ হয়। আচাক নারায়ণ প্রসিদ্ধ রাজা গৌড়গোবিন্দের সমসাময়িক ছিলেন, এই সময় এ অঞ্চলে মোসলমানগণের আগমন হয় নাই। আচাক নারায়ণের অধিকারে তখন কাজি নুরউদ্দীন নিজ পুত্রের বিবাহ উপলক্ষে গোহত্যা করায় রাজাদেশে প্রাণদণ্ডে দপ্ডিত হন। তাহার ভ্রাতা হেলিম উদ্দীন ইহাতে জিঘাংসা পরবশ হইয়া দিল্লী গমন করতঃ সম্রাটসদনে অভিযোগ উপস্থিত করেন। তখন, শ্রীহট্রে মোসলমান প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার্থ দিল্লী হইতে যেরূপে সৈয়দ নসিরউদ্দন সিপা-ই-সালার সসৈন্যে প্রেরিত হন, তাহা ইতিপুবের্ব বর্ণিত হইয়াছে। আচাক নারায়ণের পলায়ন ও তরফ জয় নারায়ণকে পরাভূত করিতে ধাবিত হন। শাহজলাল নিজ অনুচর আউলিয়াগণ৫ সহ শ্রীহট্টেই অবস্থিতি করিতে লাগিলেন । নসিরউদ্দীনের অধীন সৈন্যগণ ব্যতীত দ্বাদশজন আউলিয়া, তাহার সহিত তরফ যাত্রা করেন। তরফ বিজিত হইলে, তথায় ধর্মপ্রচার করাই তাহাদের উদ্দেশ্য ছিল। আচাক নারায়ণ, রাজা গৌড়গোবিন্দের পরাভব সংবাদে ভীত হইয়া ছিলেন । তিনি বুঝিতে পারিয়াছিলেন, তাহার অশিক্ষিত সৈন্যগণ সুশিক্ষিত পাঠান সৈন্যের সহিত পারিয়া উঠিবে না- প্রাণিক্ষয় মাত্র হইবে। এমতাবস্থায় সন্ধি স্থাপনই কর্তব্য মনে করিয়া, তিনি সন্ধির প্রস্তাব করিলেন। সুফল হইল না,--“কাজি নুরউদ্দীনের রক্ত বিনিময়ে, মোসলমান ধর্ম গ্রহণ অথবা যুদ্ধ করিতে হইবে ।” এই প্রত্যুত্তর প্রান্তে নিরাশচিত্তে রাজধানী পরিত্যাগ পূর্বক তিনি পরিবারবর্গসহ ব্রিপুরাধিপতির আশ্রয়ে গমন করিলেন। ত্রিপুরেশ্বর বিপনন আচাক নারায়ণকে আশ্রয় দান করিলেও, তাহার পক্ষাবলম্বন পূর্বক যবন সৈন্যের সহিত আহবে লিপ্ত হইলেন না। জনশ্রতিও আছে যে, ত্রিপুরায় অবস্থান করা নিরাপদ হইবে না ভাবিয়া তিনি তথা হইতে মথুরা গমন করেন; সেই স্থানেই তাহার মৃত্যু হয়। নানা স্থানের নামকরণ যে সময়ে সৈয়দ নসিরউদ্দীন তরফ জয়ে যাত্রা করেন তখন শ্রীহট্টের পশ্চিমাংশ বর্তমান কালাপেক্ষা অনেক নিম্ন ছিল, বতসরের অধিকাংশ কাল অনেক ভূমি জলের নীচে থাকিত, এই জন্য তরফ জয়ার্থীদিগকে জলপথে যাত্রা করিতে হয়। শ্রীহট্ট হইতে যাত্রা করিয়া প্রথমতঃ যে স্থানে তাহারা উচ্চভূমি দর্শন করেন, উচ্চ আইলঙ বলিয়া সেই স্থানের নাম “উচাইল” রাখা হয়, ৪. ইহার বংশীয়গণ এখন সাটিয়াজুরীতে বাস করিতেছেন। ৫. “ওলী” অর্থে সাধক | “ওলী” একবচর, “আউলিয়া” বহুবচন। পঞ্চম অধ্যায় : তরফের কথা . শ্রীহত্ট্ের ইতিবৃত্ত ২৪৩ অধুনা তাহাই উচাইল পরগণা বলিয়া খ্যাত । এই স্থানে উপস্থিত হইতে তাহারা রাজার পলায়ন বার্তা জানিতে পারিয়া সগবের্ব রাজধানী প্রবিষ্ট হন ও সসৈন্যে তথায় বাস করেন । কিন্তু তত্রত্য জলবায়ু পাঠান সৈনিকদের পক্ষে বিষতুল্য হইল, বহুতর সৈন্য রোগে প্রাণত্যাগ করিতে লাগিল, তখন বিচক্ষণ সেনানায়ক তৎক্ষণাৎ সেই বিষবৎ স্থান পরিত্যাগ করিলেন ও সসৈন্যে ইহার প্রায় কুড়ি মাইল দূরবর্তী এক স্বাস্থ্যকর স্থানে চলিয়া গেলেন। লঙ্কর বা সৈন্যের অবস্থানের জন্য এ স্থান লক্করপুর নামে খ্যাত হয়। বিষবৎ প্রাণনাশক সেই অস্বাস্থ্যকর ও পরিত্যক্ত রাজধানী তদবধি বিষগ্রাম বা বিষগাও নাম প্রাপ্ত হয়। সে যাহাহউক, এই বিজয় সংবাদ যথাকালে দিল্লী নগরে পৌঁছিলে, সম্রাট আলাউদ্দীন ফিরোজশাহ সত্তুষ্ট হইয়া সেনাপতি নসিরউদ্দীনকে তরফ রাজ্যের শাসন কর্তৃত্ব প্রদান করেন। এ স্থানের নাম তৎপৃবের্ব তরফ ছিল না। আঠার মুড়ার রাজপুর বিজিগীযু দ্বাদশ আউলিয়ার আগমন সময়ে শাহগাজী আচাক নারায়ণের রাজ্যের প্রতি আঙ্গুলি-নির্দেশ ক্রমে বলিয়াছিলেন, “ইস্‌ তরফ যাওগে” । ইহাতেই এ দেশ তরফ নামে খ্যাত হয় বলিয়া কথিত আছে। তরফ তখন একটি বিস্তৃত রাজ্য ছিল; সরাইল--সতর খগ্ডল ও জোয়ানশাহী প্রভৃতি পরগণা তখন তরফের সামিল ছিল। এই বিস্তৃত ভূখণ্ডের প্রথম মোসলমান শাসনকর্তা সৈয়দ নসিরউদ্দীন সিপা-ই-সালার ৷ তরফ জয়ের কয়েক বর্ষ পরে তিনি তোগলক বংশীয় শেষ নৃপতি মহমুদ শাহের সময়ে ১৩৯৫ খৃষ্টাব্দে এক সনদ প্রাপ্ত হন, সেই সনন্দের বলেই তাহার রাজ্যসীমা বিশেষ বর্ধিত হইয়াছিল । দ্বাদশ আউলিয়ার দরগা নসিরউদ্দীনের সহিত যে দ্বাদশ আউলিয়া তরফে আগমন করেন; তাহাদের প্রভাবে তরফ বিজিত হওয়ায়, মোসলমান সমাজে উহা “বার আউলিয়ার মুলুক” বলিয়া খ্যাত হইয়াছিল । তরফে মোসলমান আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হইলে, এই বার আউলিয়া ধর্ম প্রচারার্থে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে গমন করিয়াছিলেন, তাহাদের অধ্যুষিত স্থানে এক একটি দরগা স্থাপিত হয়। ১. শাহগাজী--ইনি বিষগ্রাম ছাড়িয়া অন্যত্র যান নাই; বিষগ্রামের সন্নিকটেই বাস করিতেন। তীহার বাসস্থান “গাজীপুর” বলিয়া খ্যাত হইয়াছে। মৃত্যুর পর রাজার মণ্ডপ গৃহেই তাহাকে সমাহিত করা হয়। ইহার ভগ্রাবশেষ অদ্যাপি আছে । ২. শাহ মজলিশ আমীন--ইনি উচাইল গমন করিয়াছিলেন; তথায় তাহার দরগা আছে। তত্রত্য সুবৃহৎ মসজিদ ও দীর্ঘিকা ইহারই প্রস্তুত। ৩. শাহ ফতেগাজী-_-তাহার বাসস্থান ফতেপুর বলিয়া খ্যাত। তৎসহ আহমদ গাজী ও মসউদ গাজী এই স্থানে একত্র বাস করিতেন। তাহার দরগায় তৎকৃত একটি মসজিদ আছে। ফতেগাজীর মৃত্যুর পর রঘুনন্দন পাহাড়ে তদীয় দেহ কবর দেওয়া হয়; সে স্থান জঙ্গলাকীর্ণ । আহমদ গাজীর কবর পাহাড়ের পারে দৃষ্ট হয়। এই দরগা সাহাজী-বাজার ষ্টেশনের দেড় মাইল মাত্র দূরে; অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিনে গাজীর স্মরণার্থ এখানে একটি মেলা হয়। ৪. সৈয়দ শাহ সয়েফ মিন্নতউদ্দীন-_লঙ্করপুরে বাস করেন; তথায় তাহার দরগা অবস্থিত । তাহার প্রপৌত্রই প্রসিদ্ধ শাহ দাউদ। দাউদের নামে তাহার বাসস্থান দাউদ নগর নাম প্রাপ্ত ৬. ক্ষেত্রের জল আটকাইবার জন্য যে বাধ দেওয়া হয়, তাহাই “আইল।” আল বা আইল আলবান শব্দের অপ্রংশ। আইলের প্রকৃত অর্থ এদেশস্থ সকলেই পরিজ্ঞাত। আইন-ই-আকবরি মতে, বঙ্গদেশের ভূমিতে “আল” থাকায় ইহা বাঙ্গালা দেশ বলিয়া কথিত হইয়াছে। ২৪৪ শ্রীহত্ের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড হইয়াছে। ইহা পরে তরফ হইতে খারিজ হইয়া এক বিভিন্ন পরগণা বলিয়া খ্যাত হয়। দাউদ নগরের দরগায় একটি প্রাটীন পুঙ্করিণীতে বহুতর গজার মাছ সর্বদাই ভাসিয়া ফিরে। ইহা শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের অতি সন্নিকটে অবস্থিত । ধর্মাআ দাউদের পুত্রের নাম সৈয়দ মহিব উল্লা ছিল। গুরুতা এই বংশের ব্যবসায়; তরফের সাত আনির ভূস্কামীগণ এই বংশের শিষ্য। ৫. শাহ তাজ উদ্দীন কুরেষি-- চৌকি পরগণায় ইনি গমন করেন। ৬. শাহ আরফিন--ইনি লাউড়ে গমন করিয়া তথায় অবস্থিতি করেন। শাহ আরফিনের দরগা উত্তর অঞ্চলে বিশেষ প্রসিদ্ধ । ৭. শাহ রুকন উদ্দীন আসোয়ারি--ইনি সরাইল গমন করিয়াছিলেন, তত্রত্য শাহজাদপুরে তাহার দরগা আছে। ৮. শাহ মাহমুদ-_লঙ্করপুরের নিকট উর্দুবাজারের কাছে তাহার দরগা আছে। ৯. শাহ বদর- ইহার বাসস্থান বদরপুর। বদরপুর জংশনের অতি নিকটেই ইহার দরগা অবস্থিত। ১০. শাহ সুলতন-_ ইহার দরগা ময়মনসিংহের মদনপুরে অবস্থিত । ১১. শাহ বদর উদ্দীন--চট্টগ্রামে ইহার প্রসিদ্ধ দরগা আছে। ১২. নাম অজ্ঞাত-_কুমিল্লার খড়মপুরে ইহার দরগা বর্তমান । লক্করপুর তরফ জয়ের পর সৈয়দ নসিরউদ্দীন তরফের শাসনভার প্রাপ্ত হন। তিনি সৈন্যগণ সহ যে স্থানে বাস করিয়া রাজ্য শাসনে প্রবৃত্ত হন, সে স্থান লঙ্করপুর নামে খ্যাত হয়, তাহার বৈদেশিক সৈন্যগণ উর্দু ভাষায় কথাবার্তা কহিত, প্রধানতঃ সৈন্যদের দ্বারা লঙ্করপুরের সন্নিকটে যে বাজার বসিয়াছিল, তাহা উর্দুবাজার নামে খ্যাত হয়। সৈয়দ নসিরউদ্দীনের শাসনে সত্রেই তরফে শান্তি স্থাপিত হইয়াছিল; তিনি পৃবর্ব কথিত কাজি নুরউদ্দীনের কন্যার সহিত নিজ পুত্রের বিবাহ দিয়া সেই বিষাদপ্রস্ত নিরাশ্রয় পরিবারকে সান্ত্বনা দান করেন। নসিরউদ্দীনের কবর নসিরউদ্দীন মধ্যে মধ্যে শ্রীহন্টে গিয়া শাহজলালের সহিত সাক্ষাৎ করিতেন। একদা তিনি এক স্বপ্ন দর্শন করেন, তাহাতে তাহার ধারণা জন্মে যে তিনি আর বাচিবেন না। স্বপ্ন দর্শনের পর তিনি শ্রীহট্টে গমন করেন ও হজরত শাহজলালকে এই অনুরোধ করেন, যেন মৃত্যুর পর তদীয় দেহ পীরমবত্লাস্থিত আদিনা মসজিদে রক্ষিত হয়। অতঃপর কিছুকাল রাজ্যভোগান্তে নসিরউদ্দীন পরলোক গমন করেন। তদীয় দেহ আদিনা মসজিদে রক্ষিত হইল, কিন্তু একটু পরেই তাহার শব আর পাওয়া গেল না। তখন শবের অভাবে শবাধারটির সমাধি দেওয়া হইল, সেই সমাধির চিহ্ অদ্যাপি পীরমহত্লায় দৃষ্ট হয়। নসিরউদ্দীনের পুত্র সিরাজউদ্দীন পিতৃবিয়োগের পর পিতৃপদের উত্তরাধিকারী হন। ইহার মুসাফীর ও ফকির নামে দুই পুত্র হয়। মুসাফীর পিতৃরাজ্য ভোগ করেন। তাহার চারি পুত্র, তন্যধ্যে জ্যেষ্ঠ সৈয়দ শাহ খোদাবন্দ রাজ্যলাভ করেন। সব্র্ব কনিষ্ঠ ইব্রাহিম খ্যাতনামা ব্যক্তি, তিনি বিদ্যার্জন করিয়া দিল্লী হইতে “মালেক-উলমা” উপাধি প্রাপ্ত হন। কথিত আছে যে, ইনি বঙ্গাধিপতির দ্বিতীয় জেলাল উদ্দীনের প্রথমা কন্যার পাণিগ্রহণ করিয়াছিলেন পঞ্চম অধ্যায় : তরফের কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৪৫ ইব্রাহিম ও কালিদাস অযোধ্যবাসী কালিদাস গজদানী নামক এক ব্যক্তি বিষয় কর্ণ উপলক্ষে পূর্র্ববঙ্গে আগমন করেন ও মোসলমান ধর্ম অবলম্বনে স্বীয় ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা পান। এই কালিদাস, ইব্রাহিম খা মালেক-উল-উলমা হইতে মোসলমান ধর্মে দীক্ষিত হইয়া সোলেমান নাম ধারণ করিয়াছিল ।৭ ইহার পুত্রই বঙ্গীয় বারভূঞার অন্যতম প্রসিদ্ধ ঈশা খা। ঈশা খা সম্রাটের ফরমান প্রাপ্ত হইয়া সুবর্ণগ্রামের আধিপত্য লাভ করেন। ঈশা খা দোর্দণড প্রতাপশালী ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা অবলম্বন করিলে রাজা মানসিংহের সহিত তাহার যুদ্ধ হয়। ইহার বংশীয়গণ অদ্যাপি জঙ্গলবাড়ী ও হয়বৎ নগর প্রভৃতি স্থানে সসম্মানে বাস করিতেছেন ।৮ খোদাবন্দের পাচ পুত্র, তনুধ্যে সৈয়দ শাহ ইত্াইল অতি বিদ্বান ছিলেন; বিদ্যাবস্তার জন্য তিনি “মূল্ক-উল-উলামা” উপাধি লাভ করিয়াছিলেন? সুপ্রাঞ্জল পারস্য ভাষায় তিনি ৯৪১ হিজরীতে (খৃুঃ ১৫২৩) “মদানেল ফওয়ায়েদ” নামক গ্রন্থ রচনা করেন ।৯ শ্রীহট্রবাসী গ্রন্থকার কর্তৃক তৎপূবের্ব পারস্য ভাষায় অন্য কোন গ্রন্থ রচিত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায় নাই। মৃত্যুর পৃবের্ব খোদাবন্দ এই পুত্ররতুকে রাজ্য প্রদান করেন, কিন্তু তিনি বিষয়-ভোগ অপেক্ষা বিদ্যাচর্্া ও ধর্মালোচনাই সমধিক ভালবাসিতেন। তাহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতৃদ্ঘয়ও অতি ধর্মপরায়ণ ছিলেন, এই তিন ভ্রাতা “আউলিয়া” হওয়ায়, চতুর্থ সৈয়দ মিকায়েল পক্ষে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হন। এই জন্যই কনিষ্ঠ হইলেও, সাধারণ প্রজার কাছে তিনি “বড়মিয়া” উপনাম প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। এইরূপে জ্যোষ্ঠানুক্রমিক সম্পত্তি ৭. মসনদ আলীর ইতিহাস ও শ্রীযুক্ত স্বরূপচন্ত্র রায় কৃত “সুবর্ণগ্রামের ইতিহাস” (৫ম অধ্যায়) দ্রষ্টব্য । ৮. এই বংশীয়গণের একটি বংশ-শাখা এস্থলে দেওয়া গেলঃ_ কালিদাস গজদানী ওরফে সোলেমান । ঈশা খা (মসনদ আলী) আদাম খা বিরাম খা আবদুল্লা খা লতিফ খা মোহাম্মদ খা মনোহর খা শরিফ খা (হয়বৎ নগর) সি সি বাগ) খোদাদাদ খা ওলী, আলী এবং বুলবন খা নেওয়াজ খা | আলীমর্দন খা | করমআলী খা | ওমেদআলী খা | হাসনআলী খা | উমেদআলী খা ৯. এই গ্রন্থখানা তরফ-পৈল নিবাসী শ্রীযুত সৈয়দ এমদাদ-উল-হক সাহেব মহাশয়ের নিকট আছে। তিনি উহা মুদ্রিত করিতে ইচ্ছা নরিয়াছেন। তরফের বিবরণ সংগ্রহ বিষয়ে এই সদাশয় সৈয়দ সাহেব আমাদিগকে প্রচুর সহায়ত করিয়াছেন। ২৪৬ শ্রীহ্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড কনিষ্ঠ বংশগত১০ হয়। বেজোড়ায় ভ্রাতু হত্যা মিকায়েলের চারি পুত্র,__নাজির খা, আব্বাস বা দরওয়া খা, মুসা, মিনা বা সুলতান । সৈয়দ আব্বাস একজন প্রকৃত বীরপুরুষ ছিলেন; তিনি স্বগুণে দিল্লীতে পরিচিত ও খ্যাতিমান হন এবং তত্রত্য জনৈক ওমরাহ তনয়ার পাণিগ্রহণ করিতে সক্ষম হন। তিনি রাজপ্রসাদ স্বরূপ স্মাট হইতে শ্রীহস্টে প্রচুর ভূসম্পত্তি লাভ করিয়া দেশে আগমন করেন। পুরবের্বই তাহার আগমন বার্ত্বী দেশে প্রচারিত হইলে, তাহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা নাজির ঈর্ষা পরবশ হইয়া, তাহাকে বিনাশ করিতে কৃতসংকল্প হইলেন; এবং বাড়ী পৌছার পুরের্বই পথিমধ্যে তাহাকে হঠাৎ আক্রমণ করিয়া হত্যা করিলেন। এই ব্যাপারে ওমরাহতনয়া অতিশয় মর্মপীড়িতা হইলেন, তিনি আর স্বামী গৃহে গেলেন না; তথা হইতেই পুনঃ দিল্লীতে প্রত্যাগমন করিলেন। যে স্থানে এই ঘটনা সংঘটিত হয়,_ স্বামী হইতে স্ত্রী চিরতরে বিযুক্ত হইয়া পড়েন, সেই স্থান তদবধি “বেজোড়া” নামে খ্যাত হয়। বেজোড়া বর্তমানে এক বৃহৎ পরগণা । সৈয়দ আব্বাস বা দরওয়াখা দিল্লী গমনের পুবের্ব একটি দীর্ঘিকা খনন করাইয়াছিলেন, তরফের গোগাওরা গ্রামে “দরওয়া খার দীঘী” নামে এখনও তাহা বর্তমান আছে। নরপতিতে প্রতিদ্বন্বী ভ্রাতা নাজির খার দীর্ী বর্তমান, উহা অতি বিস্তৃত ও স্বচ্ছ সলিল সমঘ্বিত। মিকায়েল পুত্রগণের উপর তুষ্ট ছিলেন না। সৈয়দ মুসা পিতার কথঞ্চিৎ প্রিয় ছিলেন বলিয়া, ইহাকেই তিনি সমস্ত অধিকার প্রদান করিয়া! যান। মুসা সগৌরবে তরফ শাসন করিতে আরম করেন; এই সময়ে তাহার আদম নামে এক পুত্র জনাগ্রহণ করে। মহারাজ অমর মাণিক্যের তরফাক্রমণ তরফের অধিপতিগণ দিলুীর সহিত সম্বন্ধ স্থাপন করিলেও সাক্ষাৎভাবে তাহারা ব্রিপুরাধিপতির প্রভাবাধীন ছিলেন বলিয়াই বোধ হয়। পূর্ব্ববস্তী তৃতীয় অধ্যায়ে অমর মাণিক্যের কথা বলা হইয়াছে, তিনি রাজ্যপ্রাপ্তির পর এক দীঘী খনন করাইতে ইচ্ছা করিয়া অধীন সামন্ত নৃপতি ও জমিদারবর্গকে মজুর পাঠাইতে আদেশ করেন; তরফের অধিপতিকেও মজুর পাঠাইতে বলা হয়, তরফের অধিপতি তাহার এ আদেশ গ্রাহ্য করেন নাই । মহারাজ অমর মাণিক্য ইহাতে ক্রুদ্ধ হইয়া তাহাকে বন্দী করিয়া আনিবার নিমিত্ত দ্বাবিংশতি সহস্র সৈন্য প্রেরণ করিলেন ত্রিপুর সৈন্যের আগমন বার্তা শ্রবণে তরফপতি পলায়ন করিলেন, সৈন্যগণ তাহার পুত্রকে বন্দী করিয়া লইয়া গেল। তরফপতি স্বয়ং শ্রীহট্রের মোসলমান শাসনকর্তার আশ্রয় গ্রহণ করিলেন।১১ এই সূত্রে শ্রীহট্রের আমিল সহ অমর মাণিক্যের ভীষণ যুদ্ধ হয়, তাহাতে প্রথমতঃ ব্রিপুরাধিপতিই জয় লাভ করেন । মহাবাজ অমর মাণিক্য তরফের উত্তরাধিকারীর যুক্তিদান করিয়া স্বীয় উদারতা প্রদর্শন করেন। এই উত্তরাধিকারীই মুসা তনয় সৈয়দ আদম। সুলতান-শি মুসা পিতৃত্যক্ত সম্পত্তির অধিকার লাভ করিলে, তাহার ভ্রাতা মিনা ক্ষুব্ধ হইয়া তদুদ্ধারের জন্য দিল্লী গমন করেন। বহুদিন দিল্লী অবস্থিতি করিয়া বিবিধ কৌশলজাল বিস্তার ক্রমে তিনি ১০. এই প্রাচীন বংশাবলী খা-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য ৷ (২য় ভাগ ২য় খ) ১১. শ্রীযৃূত কৈলাস চন্দ্র সিংহ প্রণীত ব্রিপুরার ইতিহাস ২য় ভাগ ৬ষ্ঠ খণ্ড ৬৯ পৃষ্ঠা দেখ। পঞ্চম অধ্যায় : তরফের কথা শ্রীহস্্রের ইতিবৃত্ত ২৪৭ কয়েকজন প্রধান আমীরকে স্বপক্ষে আনয়ন করিতে সমর্থ হন। তাহাদের সাহায্যে তিনি সম্রটকে জানাইলেন যে, মুসা অপুত্রকাবস্থায় প্রাণত্যাগ করিয়াছেন, তিনিই তরফ রাজ্যের প্রকৃত উত্তরাধিকারী । এইরূপে মিনা প্রবঞ্চনা ক্রমে দিল্লী-দরবার হইতে রাজ্যাধিকারের এক সনন্দ প্রাপ্ত হন। মিনার রাজ্য লালসায় তরফের স্বাধীনতা এইরূপে সঙ্কোচিত করিয়া ফেলে । ইহার পূর্ব যদিও তাহারা সম্রাটের অধীনতা স্বীকার করিয়া চলিতেন, তথাপি রাজ্যের উত্তরাধীকারী নিয়োগ সময়ে কদাপি কাহারও অনুমতির অপেক্ষা করিতেন না, এ বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিলেন। মিনা ওরফে সুলতান দিশ্তী হইতে প্রত্যাগমন পূবর্বক আর পৈতৃক বাসভবনে গমন করেন নাই; তথা হইতে তিন মাইল দূরে এক নূতন আবাস বাটী নির্মাণ করিয়া তথায় বাস করেন। সুলতান দত্ত বলিয়াই হউক, কি তাহার “সুলতান” নাম হইতেই হউক, উক্ত স্থান তদবধি “সুলতান-শি” নামে পরিচিত হয় । আরাকান-পতি সহ পরিচয় দিল্লী হইতে আগমনের পর মিনা ছয় বৎসর জীবিত ছিলেন। এই সময় আরাকানের মগরাজের সহিত তাহার পরিচয় হওয়ায়, মগরাজ তাহাকে এক মূল্যবান তরবারি উপহার দেন। সৈয়দ মুসাও আরাকান পতির পরিচিত হইয়াছিলেন। আরাকান পতির সহিত ইহাদের বিশেষ আত্মীয়তা জন্মিয়াছিল; ইহারা প্রায়ই আরাকান রাজসভায় যাইতেন। আরাকানের মন্ত্রী মাগণ ঠাকুর কাব্যামোদী ছিলেন, তাহার উৎসাহে মোসলমান বঙ্গীয় কৰি আলাওল সাহেব “পদ্মাবতী” নামক কাব্য রচনা করিয়াছিলেন; এই গ্রন্থ ১৬২৭ খৃষ্টাব্দে হিঃ ১০৪৫) রচিত হয়। এই কবি সৈয়দ মুসার উপরোধে “সয়ফল মুলুক ও বদিউজ্জমাল" নামক পারস্য গ্রন্থের বঙ্গানুবাদে প্রবৃত্ত হন। উহা মাগন ঠাকুরের মৃত্যুর পর সমাপ্ত হয়।১২ মুসা সুদীর্ঘজীবী পুরুষ ছিলেন এবং ত্রিশ বর্ষ কাল তরফ শাসন করেন। মিনা বহু চেষ্টা করিয়াও পৈতৃক রাজ্য সবর্বাংশে অধিকার করিতে সমর্থ হন নাই। কখন নিজ প্রবঞ্ধনা প্রকাশ পায়, এই ভয়ে তিনি সদা সতর্ক থাকিতেন। এই জন্য তিনি চর নিযুক্ত করিয়া রাখিয়াছিলেন, এবং এই ভয়েই তিনি দি্লী হইতেও সাহায্য প্রার্থনা করিতে পারেন নাই । অচিরেই তিনি কালগ্রাসে পতিত হওয়ায়, উভয় ভ্রাতার সম্মিলনে, বিবাদ ভঞ্জন হইতে পারে নাই। রাজ্য বিভাগ তরফের অধিপতিদের ক্ষমতা পার্থ্ববর্তী কোনও রাজা অপেক্ষা অল্প ছিল না, সুতরাং তরফের সম্পত্তিকে “রাজ্য” বলিতে আপত্তি নাই। মুসা ও মিনার পুত্রদের সময়ে এই সম্পত্তি বিভক্ত হইয়া যায়। পৃরের্ব মুসাপুত্র সৈয়দ আদমের নামোন্পেখ করা গিয়াছে। মিনা ইউনস ও ক্রিঞ্জিয়া নামে দুই পুত্র রাখিয়া পরলোক গমন করিয়াছিলেন। উভয় ভ্রাতাই সুশিক্ষিত ছিলেন, কিন্তু তাহাদের শাসন ক্ষমতা অধিক ছিল না। ইহারা (আদম ও ইউনস প্রভৃতি) পরম্পর বিবাদে প্রবৃত্ত হইয়া ছিলেন, দেশ শাসনে মনোযোগ দিতে পারেন নাই; দেশে নানারূপ অশান্তি বিরাজ করিতেছিল; অরাজকতায় চৌর্্য ও দস্যুতা প্রবল হইয়া উঠিয়াছিল। মিনার স্বীকৃত অর্থ দিল্লীতে প্রেরিত হইতে পারে নাই; এজন্য এ সময়ে দিল্লী হইতে জনৈক কর্মচারী সসৈন্যে তরফ আগমন করেন। ১২. শ্রীযৃত শিব রতন মিত্র সঙ্কলিত “বঙ্গীয় সাহিত্য সেবক” (১৭ পৃষ্ঠা) দেখ । ২৪৮ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বতীয় খু মুসাপুত্র আদম উক্ত রাজ কর্মচারীকে বিপক্ষ-পক্ষ সমর্থক জ্ঞানে যথোচিত সম্বর্ধনা করিতে পারেন নাই। কিন্তু উক্ত কর্মচারী ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন, তিনি যথাযথো সংবাদ দিন্ীতে প্রেরণ করিলেন, অনুষঙ্গে ইহাও জ্ঞাপন করিলেন যে, মিনার পুত্রগণই সুশিক্ষিত ও লোকানুরাগভাজন। অতঃপর সম্রাট উভয় পক্ষকে দিল্লীতে আহ্বান করিলেন। দিল্লীতে উপস্থিত হইয়া আদম ও মিনার তনয়দ্বয়, প্রত্যেকেই আপনাদিগকে প্রকৃত অধিকারী বলিয়া উল্লেখ করতঃ অধিকার প্রাপ্তির আবেদন করিলেন। মিনার পরিচিত কোন কোন ব্যক্তি তখনও সম্রাট দরবারে ছিলেন, প্রধানতঃ ইহাদের চেষ্টাতেই বিষয়টি আপোষে মীমাংসিত হইবার চেষ্টা হয়। তদনুসারে মুসাপুত্র আদম তরফের নয় আনা এবং মিনার তনয়দ্য় সাত আনা অংশ ও প্রথম “রিয়াসত” (কের্ততৃ) প্রাপ্ত হন।১৩ রিয়াসত প্রাপ্তি সম্বন্ধে একটি গল্প আছে। কে রিয়াসত পাইবে, ইহার মীমাংসার জন্য একটি পরীক্ষার আয়োজন হয়, একটি দীর্ঘ লৌহ শলাকা প্রোথিত করতঃ বলা হয় যে, উভয় পক্ষের মধ্যে যিনি লক্ষ প্রদানে উহা উন্লঙ্ঘন করিতে সমর্থ হইবেন, তিনিই প্রথম রিয়াসত পাইবার উপযোগী হইবেন । এতদশ্রবণে প্রাণের মমতায় আদম পশ্চাৎপদ হইলেন; কিন্তু মনা- পুত্র ইউনস সোৎসাহে অগ্রসর হইলে, সম্রাট সত্তুষ্ট হইয়া তাহাকে বরণ করতঃ প্রথম রিয়াসত প্রদান করিলেন । তদ্যতীত মিনা-তনয়ের উপর দেশের দেওয়ানী বিচার ভার এবং আদমকে ফৌজদারী বিচারাধিকার প্রদত্ত হয়। এইরূপ মীমাংসায় মীনা তনয়ছয় বিশেষ সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন। অতঃপর তাহারা সকলেই তরফ প্রত্যাগমন করেন। মিনার পুক্রদ্ধয় সুশিক্ষিত ও মিষ্টভাষী ছিলেন; তন্ধ্যে ক্রিঞ্জিয়া অতি ধীর প্রকৃতি ও পরোপকারী ছিলেন; তাহার মধুর ব্যবহার ও আলাপে মুহুর্ত মধ্যে যে কোনও লোক তীহার উভয় পক্ষে সৌহদ্য সংস্থাপিত হয় । ইহাতে দেশে শান্তি স্থাপিত হওয়ায়, দেশবাসী পরম সুখে কালযাপন করে । এই সময় ইউনসের মৃত্যু হওয়ায় ক্রিঞ্জিয়া অতিশয় বিষাদিত হন; কিন্তু আদম সহোদর-প্রেমের স্থলবর্তী হওয়ায়, সেই দারুণ শোক কথঞ্চিৎ প্রশমিত হয়। তরফের তখন নামে মাত্র দুইটি বিভাগ ছিল। আদম ও ক্রিঞ্জিয়া যথাক্রমে আহমদ ও মোহাম্মদ কুদ্দুস নামে এক পুত্র রাখিয়া পরলোক গমন করেন। আহমদ নিতান্ত বিলাসপরায়ণ ছিলেন। মোহাম্মদের সে দোষ না থাকিলেও অযথা দান্তিকতা প্রকাশ করিতেন। আহমদ, ফতা ও হেদায়েত উল্লা নামে দুই পুত্র রাখিয়া পরলোক গমন করেন; মোহাম্মদের একমাত্র পুত্রের নাম মোহাম্মদ আলাউদ্দীন । আহমদের পুত্রদ্বয়ের মধ্যে ফতা অতি বুদ্ধিমান ও চতুর ছিলেন, তিনি কনিষ্ঠ বৈমাত্রের ভ্রাতা হেদায়েত উল্লাকে প্রীতির চক্ষে দেখিতেন না। ১৩. সৈয়দ আবদুল আগফর কৃত তরফের ইতিহাস গ্রন্থের মতানুসারে এস্থলে বিরোধ মীমাংসার কথা লিখিত হইল; সৈয়দ এমদাদুল হক সাহেব আমাদিগকে যে বিবরণ পাঠাইয়াছেন, তাহাতে তীহারা স্বয়ং “আপোষ মীমাংসা” করিয়া লইয়াছিলেন বলিয়া লিখিত আছে। মুদ্রিত তরফের ইতিহাসে যে সকল তারিখের উল্লেখ আছে, তাহাও সবটি নির্ভুল নহে। সৈয়দগণের বংশাবলীর সহিত তাহার সামঞ্জস্য হয় না (খ-পরিশিষ্টে বংশপত্র দেখ)। এই ঘটনাটিকে রচয়িতা বহুপূর্েরধ নিয়া ফেলিয়াছেন। সৈয়দ নসিরউদ্দীন সিপা-ই-সালার শাহজলালের সমসাময়িক; তরফের ইতিহাসেও লিখিত যে ১৩৯৫ খৃষ্টাব্দে তিনি সনন্দ প্রাপ্ত হন। দ্বিতীয়তঃ সৈয়দ ইস্রাইল ১৫২৩ খৃষ্টাব্দে (৯৪১ হিঃ) গ্রন্থ রচনা করেন। ইহাদের সময় হইতে হিসাব করিলে (নসিরউদ্দীন হইতে ৬ষ্ঠ ও ইত্রাইল হইতে ওয় স্থানীয়) আদম ও ইউনস প্রভৃতির সময়, মোগল সম্রাট আকবরের পূর্ববর্তী হয় না। পঞ্চম অধ্যায় : তরফের কথা শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ২৪৯ জ্যেষ্ঠতাত তনয় আলাউদ্দীনের প্রতিও তাহার অনুরাগ ছিল না। কিন্তু আলাউদ্দীন নয় আনির মালীক, তিনি হেদায়েত উল্লার সহায় হইলে হেদায়েতকে তাহার ন্যায্য অংশ হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না, এই দুরভিসন্ধি ও স্বার্থানুরোধে তিনি মনোভাব গোপন রাখিয়া আলাউদ্দীনের আনুগত্য স্বীকার করিতে লাগিলেন। অনতিবিলম্বে আলাউদ্দীন তাহার একান্ত বাধ্য হইয়া পড়িলেন, কৌশলের অভিপ্রায় সিদ্ধ হইল । তখন ফতা নিজ মূর্তি ধারণ করিলেন, বিবিধ যড়যন্ত্রে, নানা কৌশলজাল বিস্তার করিয়া, বৈমাত্রেয় ভ্রাতা, অপরিণত বয়স্ক বালক হেদায়েত উল্লাকে পৈতৃক বাসভূমি হইতে বিতাড়িত করিলেন! যে সম্পত্তি কেহ সঙ্গে আনে না, সঙ্গেও নিতে পারেন না; সেই সম্পত্তি ভোগের মোহ-মদিরা মানুষকে এইরূপই কুটিল, কৌশলী ও নরপশুতে পরিণত করে। হেদায়েত উল্লা নিরুপায় হইয়া পড়িলেন। পরে পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার প্রাপ্তির জন্য দিল্লীতে অভিযোগ করেন ও স্বীয় অংশ প্রাপ্ত হন। সুচতুর ফতা অধিকৃত সম্পত্তি হস্তচ্যুত হইবার লক্ষণ দৃষ্টে আপোষ করিবার প্রস্তাব করেন। হেদায়েত উল্লা প্রমাদভীরু লোক ছিলেন, তিনি এই প্রস্তাবে অসম্মত হইলেন না। ফতা হেদায়েত উল্লাকে সম্পত্তির “এক তরফ” বা একাংশ ছাড়িয়া দিতে ইচ্ছা করিলে, নিবিরবাদে তিনি তাহাতেই সম্মত হইলেন । অতঃপর এক বাটাতে বাস করা অনুচিত মনে করিয়া তিনি পৃথক বাটী প্রস্তুত করতঃ তথায় বাস করিতে লাগিলেন। সম্পত্তির “এক তরফ” প্রাপ্ত হওয়ায় হেদায়েতের বংশীয়গণ “তরফদার” নামে কথিত হইয়া থাকেন ।১৪ নরপতি নিবাসী “কুতুব-উল-আউলিয়া” ইতিপৃবের্ব বড়মিয়া বা মিকায়েলের কথা বলা গিয়াছে, তাহার ভ্রাতা মুলক-উল-উলামা উপাধিক ইত্রাইলের বিষয়ও বর্ণন করা হইয়াছে; ইহার এক পুত্র হয়, তাহার নাম শাহ ইলিয়াস কুদ্দুস; ইনি মোসলমান শাস্ত্রে পারদর্শী ও মোসলমান ধার্মিকগণের মুকুটমণি স্বরূপ ছিলেন। শ্রেষ্ঠতম সাধককে মোসলমানগণ “কুতুব” বলিয়া থাকেন, ইনি “কুতুব-_-উল-আউলিয়া” এই উচ্চতম উপাধি লাভ করিয়াছিলেন। কুতুব-উল-আউলিয়ার নাম তরফ মোসলমান সমাজে গৌরবাবিত হইয়া রহিয়াছে। খোয়াই নদীর তীরে এক নির্জন কুটারে তিনি সাধনা করিতেন। কথিত আছে, একদা রাত্রিকালে, আকাশ প্রান্ত উজ্জ্বল করিয়া চন্দ্রকিরণের ন্যায় এক জ্যোতিরেখা তাহার কুটীরে প্রবেশ করিয়াছিল, তদবধি তিনি “কুতুব-উল-আউলিয়া” নামে আখ্যাত হন এবং তাহার বাসস্থান “চন্দ্রচুরি” নামে খ্যাত হয়। কুতুবের দরগা স্থানে তাহাকে সমাহিত করা হয়; তাহাতে এ স্থান “কুতুবের দরগা” নামে খ্যাত হয়; কেহ “মুড়ারবন্দের দরগা” ও বলিয়া থাকে । দরগাটি খোয়াই নদীর তীরদেশে অবস্থিত এবং পূর্ব পশ্চিমে প্রায় পোয়া মাইল দীর্ঘ; এই স্থানে নসিরউদ্দীন সাহেবের পুত্র পৌত্রাদি ও অপর বহুতর সাধু মহাত্মার প্রায় শতাধিক “কবর” ১৪. বিশ্বকোষের ৫৬৮ পৃষ্ঠায় চট্টগ্রামস্থ তরফ ও তরফদারগণের বিষয়প্রসঙ্গে শ্রীহট্টের তরফদারের উল্লেখ আছে। তরফদার শব্দের প্রকৃত ওর্গ ইহাই বোধ হয়। হুমায়ূনের সময়ে যাহারা গৌড় হইতে আগমন কবতঃ চট্টগ্রামে ভুরি এক এক অংশ অধিকার করিয়াছিল, তাহারাই তথায় তরফদার বলিয়া কথিত হয়। ২৫০ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড আছে ।১৫ দূরবর্তী স্থান হইতেও ধর্মানুরাগী মোসলমানগণ “জেয়ারত” উপলক্ষে এ স্থানে সমাগত হইয়া থাকেন। কুতুব-উল-আউলিয়া সাহেবের কবরের উপরস্থ্‌ প্রস্তর স্তন্তে আরবি অক্ষরে কয়েক পর্‌ক্তি অঙ্কিত আছে, তাহা পাঠ করা যায় না। গদাহাসন কুতুব-উল-আউলিয়া সাহেবের বংশধরগণ নরপতি নিবাসী । কুতুব-উল-আউলিয়া সাহেবের পাচ পুত্র; জ্যেষ্ঠ শাহ খোন্দকার সমধিক প্রসিদ্ধ ।১৬ ইহার জুন, মোহাম্মদ, ও মুসা নামে তিন পুত্র ছিলেন। তন্মধ্যে মোহাম্মদের আট জন পুত্র হয়, ইহাদের মধ্যে গদাহাসন ও গিয়াস খ্যাতনামা । গদাহাসন একজন বিখ্যাত সাধক ছিলেন, তিনি প্রপিতামহের ন্যায় অনেক অসাধারণ কার্য্য করিয়া লোকের শ্রদ্ধার পাত্র হন।১৭ তীহারই নামে গদাহাসন নগর পরগণার নামকরণ হয়। তাহার নিকট হইতে একখানি তরবারি ও একটা অশ্ব উপহার পাইয়া, ব্রিপুরাবাসী সমসেরগাজী বিশেষ উৎসাহিত হন, ও তত্প্রসাদে রোশানাবাদের অধিকার লাভে সমর্থ হইয়াছিলেন।১৮ সাধুলোকের কবরের পার্শে মৃত্যুর পর দেহ রক্ষিত হওয়া মোসলমান সমাজে বাঞ্ছনীয় । কথিত আছে, কুতুব-উল-আউলিয়ার কবর পার্খে কাহার শব সমাহিত হইবে, গদাহাসন ও তদীয় পিতৃব্যের (মুসার) পুত্র শাহনুরির মধ্যে এই বিষয়ে বিবাদ উপস্থিত হয়, বহু বাদ বিতপ্ডার পর এ প্রশ্নের মীমাংসা জন্য উভয়ে দিল্লী নগরে গমন করেন। গদাহাসন সম্রাটকে অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন পূর্বক গদাহাসন নগর পরগণা তরফ হইতে খারিজ করিয়া লন; কিন্তু বিচারে শাহ নুরিরই জয় হয় । গদাহাসনের ভ্রাতাও এই সময়ে গিয়াস নগর পরগণা নিজ নামে তরফ হইতে খারিজ করেন। এ বংশে অনেকেই ধর্মপরায়ণ ছিলেন, ইহাদের প্রভাবে লঙ্করপুর ও সুলতানশির সৈয়দগণ তাহাদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তদ্যতীত বাণিয়াচঙ্গের দেওয়ান বংশ প্রভৃতি ইহাদের শিষ্য। পরবর্তী কালে এই বংশে শাহ সদর-উল-হাসন খ্যাতনামা ছিলেন। সদর-উল-হাসনের মাতা উচ্চবংশীয়া ছিলেন না বলিয়া স্ববংশীয়গণ তাহাকে ঘৃণার চক্ষে দেখিতেন। তিনি বিদেশে গিয়া বিদ্যার্জন পূর্বক সদর আমীনি পদ প্রাপ্ত হন। দশসনা বন্দোবস্তের সময় গদাহাসন নগর পরগণায় ইহার নামে “২নং তালুক সদর-উল-হাসনের” সৃষ্টি হয়।১৯ পৈল-বংশ গদাহাসনের প্রতিদ্বন্দ্বী পিতৃব্য পুত্র সৈয়দ শাহ নুরি যে একজন উচ্চ শ্রেণীর সাধক ছিলেন, কুতুব-উল-আউলিয়ার কবর পারে, মৃত্যুর পর সমাহিত হইবার অধিকার পাওয়ায়, মোসলমান ১৫. গ-পরিশিষ্টে দরগার নক্সা দ্রষ্টব্য 1 (২য় ভাগ ২য় খণ্ড) ১৬. দ্বিতীয় মুজলা খোন্দকার ময়মনসিংহের সিকান্দর নগর গমন করিয়া বাস করেন, এবং তৃতীয় মিয়া খোন্দকার ত্রিপুরার চান্দুড়ায় গমন করেন; ইহাদের বংশীয়গণ তত্তৎ স্থানে বাস করিতেছেন। ১৭. শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৪র্থ ভাগে গদাহাসন ও শাহনুরির কথা কথিত হইবে। ১৮. শ্রীযৃত কৈলাসচন্দ্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাসের ২য় ভাগ ১০ম অধ্যায় ২২১ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য । এই তরবারি আরাকানপতি, স্বীয় বন্ধু মিনাকে দিয়াছিলেন। পুরুষানুক্রমে তাহা গদাহাসনের হস্তগত হয়। এই তরবারি দৈবশক্তি বিশিষ্ট ছিল বলিয়া কথিত আছে। ১৯. বর্তমানে এ বংশে সৈয়দ আলীকুল হাসন, সৈয়দ আন্দুল খয়ের ও ইসমাইল উদ্দীন প্রভৃতি বর্তমান আছেন। পঞ্চম অধ্যায় : তরফের কথা শ্রীহ্ট্রের ইতিবৃত্ত ২৫১ সমাজে তাহা প্রতিপন্ন হইয়াছে। শাহ নুরি দিল্লী হইতে নিজ নামে “নুরুল হাসন নগর” পরগণা খারিজ করিয়া, পেলে আপনার বাসস্থান প্রস্তুত করেন। তাহার পরবর্তী পীরবাদশাহ তদ্বংশে একজন শ্রেষ্ঠ সাধক ছিলেন; পীরবাদশাহের প্রকৃত নাম জ্ঞাত হওয়া যায় না, তৎকৃত “গঞ্জেতরাজ” নামক পারস্য ভাষায় লিখিত তত্ববিষয়ক একখানি গ্রন্থ আছে। পৈলে গীরবাদশাহের প্রাচীর বেষ্টিত দরগা মোসলমান সমাজে বিশেষ মান্য । লোকের বিশ্বাস যে, পীরবাদশাহের কবরের উপর তদ্বংশীহ কেহ একোত্তর শত কলস জল ঢালিলে অনাবৃষ্টি কালেও বৃষ্টিপাত হইয়া থাকে। পীরবাদশাহের দরগাতে তৎকৃত দুইটি পাকা মসজিদ আছে; ইহার সন্নিকটে (গ্রামের মধ্যে) প্রায় তিনপোয়া মাইল দীর্ঘ এক দীর্ঘিকা দৃষ্ট হয়, কথিত আছে, জনৈক ফকির উহা খনন করাইয়াছিলেন। বুলবুলে বাঙ্গালা এই বংশে অনেক মহাত্মা জন্মগ্রহণ করেন; এই বংশীয় অনেকেই দিল্লীর সম্রাটকুমারদের শিক্ষকতা করিয়াছিলেন বলিয়া শুনা যায়। শাহ আমানউদ্দীন নামক জনৈক কৃতবিদ্য ব্যক্তি দিল্লী হইতে এদেশে আগমন করেন, তিনি এই বংশে বিবাহ করিয়াছিলেন । তাহার বংশে শাহ রেহানউদ্দীনের জন্ম হয়, তিনি পারস্য ভাষায় মনোহর কবিতা রচনা করিতেন, তাহার কবিতৃ শ্রবণে দিল্লীশ্বর তাহাকে “বুলবুলে বাঙ্গালা” উপাধি দিয়াছিলেন। পৈলের সৈয়দগণ সম্পত্তি অপেক্ষা বিদ্যারই সমধিক অনুরাগী ছিলেন; পীরবাদশাহের অতি বৃদ্ধ প্রপৌত্র পারস্য ভাষায় স্বপ্রফল বিষয়ক এক গ্রন্থ লিখিয়া গিয়াছেন। দশসনা বন্দোবস্তের সময় এই বংশীয় রিয়াজউদ্দীন ও জয়েন-উল-আবেদীন বিদ্যমান ছিলেন, তাহাদের নামে যথাক্রমে ২০২ নং ও ২০৩ নং তালুকের সৃষ্টি হয়। ক্ষমতার-হাসতা প্রস্গতঃ আমরা অনেক দূরে আসিয়া পড়িয়াছি, অবান্তর ভাবে নরপতি ও পেলের সৈয়দগণের বৃত্তান্তও কথিত হইয়াছে ।.মূল বিষয়ে মোহাম্মদ আলাউদ্দীন ও ফতার কথা কথিত হইয়াছে, ইহাদের সময় পর্য্যন্ত তরফের স্বাধীনতা একরূপ অব্যাহত ছিল, তখনও তাহারা দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন, তখনও তাহারা জমিদার শ্রেণীতে গণ্য হন নাই, তখন পর্য্যত্ত তাহারা সাধারণের নিকট “দুনিয়ার মালীক” বলিয়া বিবেচিত হইতেন; সুতরাং তরফের স্বাধীনতার ইতিহাস সেই সময় পর্যন্তই বিবেচিত হইতে পারে । আলাউদ্দীনের পুত্র মোহাম্মদ হাসন ও ফতা-তনয়ের নাম নাসির । ইহাদের সময়ে কানুনগোদের উপরে তরফের রাজস্ব আদায়ের ভার অর্পিত হওয়ায়, তাহাদের ক্ষমতা বিশেষরূপ হ্াসতা প্রাপ্ত হয়। তাহাদের পুত্রগণ সাধারণ ভূম্যধিকারীর ন্যায় “চৌধুরী” উপাধি ধারণ করতঃ শ্লানভাবে প্রতিপত্তি বিশেষ বর্ধিত হইয়া উঠে, তাহাদের বংশবৃত্তন্ত বিস্তৃত ভাবে ৩য় ভাগে বর্ণিত হইবে। হাসনের এক মাত্র পুত্রের নাম মোহাম্মদ মুসিম; এবং মোহাম্মদ নাসিরের পুত্রদ্ধয়ের নাম মোহাম্মদ বাসির ও মোহাম্মদ আসির ছিল। তন্মধ্যে অপুত্রকাবস্থায় বাসিরের মৃত্যু হওয়ায় আসিরই সাত আনির সব্ব্ময় মালীক হন। আসির বিদ্বান ও দয়াবান ব্যক্তি ছিলেন, হিন্দু মোসলমানকে তিনি সমভাবে দর্শন করিতেন, ২৫২ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড তিনি মোসলমানদিগকে যেমন “চেরাগী” “শিণি” ইত্যাদি বিষয়ে বিবিধ ভূমিদান করিয়াছেন, হিন্দু সাধু বৈষ্ঞবদিগকেও তেমনি দেবত্র, ব্রহ্ষত্র ইত্যাদি প্রদান করিয়া সমদর্শিতা ও উদারতার উদাহরণ রাখিয়া গিয়াছেন।২০ পক্ষান্তরে নয় আনির মালীক মোহাম্মদ মুসিম মিথ্যা জীকজমক প্রিয় ও অত্যন্ত অত্যাচারী স্থানান্তরে স্থাপন করেন। এই সময়ে সুলতানশি ও লঙ্করপুরের এজমালী সম্পত্তি বিভাগ করা হয়। কিন্তু বন্টন কার্ধ্য নির্দোষরূপে সম্পাদিত হয় নাই, সুলতানশি বা সাত আনির অং বহুতর বিল, ঝিল ও পাহাড়াদি পতিত হয়, সুতরাং উপযুক্ত আয় হইত না। নয় আনির অংশে ভাল ভূমির বাহুল্যে আয়ের পরিমাণ অধিক হইলেও, মুসিম বৃথা ব্যয়ে তাহা উড়াইয়া দিতেন। কাজেই সরকারী রাজস্ব বাকী পড়িতে আর্ত হয়। “তরফের ইতিহাসে” লিখিত হইয়াছে যে এই সময় “রাজস্ব পরিশোধ করিতে না পারিয়া উভয় হিস্যার জমিদারেরা কিছু কিছু দিন শ্রীমন্দিরে বাস করিয়াছিলেন ।” দুর্ভাগ্যক্রমে এই সময় তরফ হইতে ফয়জাবাদ,২১ পুটিজুরী উস ধঃপতনে অধিক দন্ত মুসিমের সৈয়দ মুসারজা, মোহাম্মদ রজা প্রভৃতি পাচ পুত্র হয়, তন্মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ বংশহীন। সুলতানশি বাসী আসিরের মোহাম্মদ নাজির ও মোহাম্মদ হাজির নামে দুই পুত্র ছিলেন। ইহাদের পরস্পরের মধ্যে সৌহ্‌দ্য ছিল না। সম্পত্তি হ্রাস হইয়া গিয়াছিল, কিনতু পূর্ববস্থৃতি তীহাদিগকে অভিমানী করিয়া তুলিয়াছিল, প্রত্যেকেই আপনাদিগকে “প্রভু” বলিয়া বোধ উকিল ০৮১ ০০৭ বিলাসরত ও আমোদপ্রিয় ছিলেন, অপর দিকে তেমনই দান্তিক, ক্রোহী ও পরম্পর বিবাদশীল হইয়া উঠিয়াছিলেন। প্রাচীন ও সন্ত্ান্ত ঘরে যখন অলক্ষ্মী প্রবেশ করে; যখন উদ্যোগী কর্ম তৎপর ব্যক্তিগণের পরিবর্তে অলস ব্যক্তিগণ জন্মিতে থাকে, তখন শূন্য পাত্রের গভীর শব্দের ন্যায় তাহাদেরও বৃথা গর্ব্ব প্রকাশই সার মাত্র থাকে। ইহাদের গবর্বাতিশয্য অন্তঃপুরেও সংক্রমিত হইয়াছিল, কথিত আছে যে কোন প্রতিবেশী রমণী মুক্তাগ্রথিত নথ নাকে অন্তঃপুরে গিয়াছিলেন বলিয়া, নয় আনির বিবি অপমান করিয়াছিলেন!! কিন্তু সেই অধঃপতিত অবস্থায়ও সৈয়দগণের দাতৃত্ের অভাব দৃষ্ট হয় নাই ।২২ মুসারজার মদনরজা ও আলীরজা নামে দুই পুত্র হয়; এবং তাহার ভ্রাতা মোহাম্মদ রজার আহমদ রজা, হামিদ রজা প্রভৃতি চারি পুত্র ছিলেন। নয় আনির অংশে এই ছয় ব্যক্তিই উত্তরাধিকারী ছিলেন। ইহাদের মধ্যে আহমদ রজা ও হামিদ রজা অত্যন্ত দুগ্ধর্য ছিলেন, তীহাদের প্রতাপে নিকটবত্তী জমিদারগণ কম্পিত কলেবর হইতেন। হামিদ রজা লেখাপড়া জানিতেন না, অন্যান্য সকলেই পারস্য ভাষায় শিক্ষিত ছিলেন, বিশেষতঃ আলী রেজার হস্তাক্ষর অতি মনোহর ছিল। সাত আনির অংশাধিকারী সৈয়দ নাজিরের মোহাম্মদ বাতির ও মোহাম্মদ নাতির নামে দুই পুত্র হইয়াছিল । ্‌ ২০. মাছুলিয়ার রামকৃষ্ণ গোসাগ্লির আড়া, চকহায়দরের আখড়া, ভাদৈব আখড়া ও কুমড়ার দেবালয় প্রভৃতি তাহার দাতৃত্ে বিশেষ আনুকূল্য লাভ করে। ২১. ৪৪৮১০১৪১১৮৮ তিনি ফয়জাবাদে সৈয়দদের দৌরাত্মের কথা নবাবের গোচর করেন; ইহার 'মাবেদন মূলেই ফয়জাবাদ সৈয়দদের হস্তচ্যুত হয়। ২২. গোপীনাথের আখড়া, বড়চরের আখড়া, বালিয়াড়ীর জায়গীর ও আালাপুরের জায়গীর প্রভৃতির নামই যথেষ্ট । ততিন্ন আরও অনেক দান করিয়া কথঞ্চিৎ যশঃ অর্জন করিয়াছিলেন। ষষ্ঠ অধ্যায় তরফের অবশিষ্ট কথা রামশ্রীর খোন্দকারদের বিবরণ তরফের রামশ্রীবাসী সৈয়দগণ ভিন্ন বংশীয় হইলেও ইহাদেরও দেশে যথেষ্ট সম্মান আছে। সৈয়দ সিরাজউদ্দীন নামক জনৈক সাধু তরফ হইতে উচাইলে গমন করতঃ তথায় বিবাহ করেন ও কতক ভূসম্পত্তি লাভ করেন; ইহার বংশে মোতিওর রহমান খোন্দকারের জন্ম হয় । মোতিওর রহমান অতি বিদ্বান ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি ছিলেন। তাহার গুণে ত্রিপুরেশ্বর মোহিত ছিলেন ও তাহাকে অত্যন্ত ভালবাসিতেন। তরফের সাত আনির জমিদার মোহাম্মদ বাতির ও নাতির তাহার উপরে কতক দিন জমিদারির সম্পূর্ণ কর্তৃতৃভার ন্যস্ত করিয়া নিশ্চিন্ত ছিলেন। তাহার গুণগ্রামে সকলেই মুগ্ধ ছিলেন, মুর্শিদাবাদ হইতে সত্বরেই তাহার উপর রাজকীয় তহশীল কার্য্যের ভার অর্পিত হয়। এই পদ লাভ করিলে তাহাকে সাত আনির কর্ন ত্যাগ করিতে হইয়াছিল। তখন রাজকীয় তহশীল কার্য্যালয় তরফেই ছিল, এবং তাহাকে তরফেই থাকিতে হইত। তরফের জমিদারের সহিত তাহার বিশেষ সম্বন্ধ ছিল, এই জন্যই রামশ্রীর খোন্দকারদের কথা এ স্থলেই লিপিবদ্ধ হইল। মোতিওর রহমানের তিন পুত্র; জ্যেষ্ঠ তোতিওর রহমান পিতার সঙ্গে তরফেই থাকিতেন। মধ্যম রিয়াজুর রহমান ১০ জলুস ১৭ই শফর তারিখে (সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয়ের রাজত্ব দশম বর্ষে-১৭৭০ খৃষ্টাব্দে) বালিশিয়ার চৌধুরাই প্রাপ্ত হন, এবং কনিষ্ঠ নেয়াজুর রহমান তত্রত্য কানুনগো নিযুক্ত হন। ফলতঃ বিদ্যাগৌরবে ইহারা সকলেই খ্যাতনামা হইয়াছিলেন। ইহারা বিনীত ও মিষ্টভাষী ছিলেন এবং অচিরাৎ প্রভৃত ধন উপার্জন ক্রমে বালিশিরা, বামৈ ও বেজোড়া প্রভৃতি স্থানে বিস্তৃত জমিদারী অর্জন করেন। মোতিওর রহমানের নামানুসারে বালিশিরার মোতিগঞ্জের বাজার স্থাপিত হয়; রিয়াজুর রহমানের নামে রিয়াজপুর পরগণা ও রিয়াজ নগরের নামকরণ হয়। কনিষ্ঠ নেয়াজুর রহমানের নামানুক্রমে নেয়াজপুরের নাম হয়। তদ্যতীত বালিশিরার .২নং এবং উচাইলের ১নং তালুক মোতিওর রহমানের নাম ঘোষণা করিতেছে। রিয়াজুর রহমানের নামে বালিশিরার ৩নং এবং গদাহাসন নগরের ৩০নং, ৩১নং তালুকের নামকরণ হইয়াছে । তরফে গৃহ-বিবাদ ও মোতিওর রহমান সে যাহা হউক, লঙ্করপুরের জমিদার পূর্বোক্ত মদনরজার বৈমাত্র ভ্রাতা আলীরজার মাতা মোগল বংশীয়া ছিলেন বলিয়া, আলীরজা জ্ঞাতিগণের নিকট নিন্দিত ও ঘৃণাস্পদ ছিলেন; আলীরজা এই কারণে ভ্রাতৃবর্গ কর্তৃক পৈতৃক সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত ও বিতাড়িত হন। আলীরজা সহায় সম্পদ হীন হইয়া খোন্দকাব মোতিওর রহমানের শরণাপন্ন হন। মোতিওর রহমান আশ্রিতকে পরিত্যাগ করিলেন না; তিনি আলী রজার পক্ষাবলম্বন করিয়া ২৫৪ শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড মদন রজা প্রভৃতি সকলেরই বিরাগ ভাজন হইলেন। যে আহমদ রজার বিরাট বপু ও বিকট উলজ্ঘন করিতে পারিতেন, যাহার প্রতাপে সুলতানশি, জোয়ান শাহী, ভাগলপুর, ওরঙ্গপুর প্রতৃতির জমিদারবর্গ ত্রাসিত রহিতেন, কোন কারণে একদা যিনি এধঙ্গপুরের জমিদারকে ধৃত করিয়া আনিতে অনুমাত্র ইতস্তত করেন নাই, ন্যায়ের অনুরোধে,--আশ্রিত ও প্রপীড়িতকে রক্ষার জন্য মোতিওর রহমান সেই দুগ্ধর্য আহমদ রজা ও তীহার সহোদর হামিদরজা এবং অপর ভ্রাতৃবর্গের প্রতিকূলে একাকী উ্িত হইলেন। তাহার উদ্যোগে আলীরজা দিল্লী হইতে চৌধুরাই সনন্দ প্রাপ্ত হইলেন। কেবল তাহাই নহে, মোতিওর রহমান অতঃপর আলীরজার প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ উদ্ধার করিয়া দিতে প্রতিকার করিতে লাগিলেন। মোতিওর রহমানের এই কার্য্যে ভীষণ বিপদ ডাকিয়া আনিল, নয় আনির জমিদারগণ তাহার কার্যে বিজাতীয় ক্রোধে জলিত লাগিলেন; ক্রোধের দারুণ দংশনে অস্থির হইয়া সপুত্র মোতিওর রহমানকে তাহারা সংহার করিতে কৃতসঙ্কল্প হইলেন। যুদ্ধোদ্যোগ তখন যুদ্ধের আসুরিক আয়োজন হইতে লাগিল । খোন্দকার এই সময় নিজ বাটীতে গিয়াছিলেন, তিনি তরফের নবাবি কার্যালয়ে উপস্থিত হইলেই হত্যা করা হইবে, স্থির হইল। মোতিওর রহমান এই সংবাদ শুনিতে পাইলেন, কিন্তু বিশ্বাস করিলেন না। নবাবি কাছারী আক্রমণ করিয়া, কর্মচারীকে লাঙ্ক্িত করিতে পারে, এমন সাধ্য কাহারও নাই; এই ভাবিয়া তিনি তরফে গমন করিলেন । এদিকে পূর্ব পরামর্শনুসারে জমিদারগণ যুদ্ধার্থে প্রস্তুত হইলেন; আহমদরজা স্বয়ং ধনুবর্বান ধারণ করিলেন, হামিদরজার দুই হাতে দুখানা তীশ্্ধার তরবারি জুলিতে লাগিল এবং পৃষ্ঠদেশে সচন্দ্র বৃহৎ ঢাল শোভা পাইল। এইরূপে আহমদ রজা স্বয়ং সেনাপতি বেশে বহুলোক লইয়া যাত্রা করিলেন। ভাবানীদের ও সাহেবরাম নামক দুই ব্যক্তি কতক খাসিয়া সৈন্যের অধিনায়ক রূপে তাহাদের সহিত চলিল। লাখু ও বাখর মোহাম্মদ বরকন্দাজ সৈন্যের ভার পাইয়া সমর সাজে ধাবিত হইল। শফরউদ্দীন কাড়াদার রণবাদ্য (কাড়া ও ঢাক প্রভৃতি) বাজাইয়া অগ্রে অথ্রে সদলে চলিল। এইরূপে তাহারা নবাবি কাছারীর সন্নিকটবর্তী হইল। লঙ্করপুরের যে স্থানে মুনসেফী কাছারী ছিল, পৃবের্ব সেই স্থানেই নবাবি তহশীল কার্য্যালয় ছিল। খোন্দকার, শিকদার, কাজি প্রভৃতি রাজকীয় কর্মচারীবর্গ এ স্থানে বাস করিতেন। কাজি বিচার বিভাগে কর্ম করিতেন, শিকদার গ্রাম্য হাকিমের উপাধি ছিল। তৎকালে কৃষ্ণ শিকদার নামক এক ব্যক্তি তরফে থাকিতেন। এঁ একই স্থানেই লঙ্করপুর ও সুলতানশির জমিদারদের কাছারী থাকায় এ স্থান সহর তুল্য ছিল ও লোকারণ্যের কোলাহলময় থাকিত। আহমদ রজা প্রভৃতি কাছারীর সন্নিকটবর্তা হইলেন, খোন্দকারের চর চান্দখা তাহার কাছে তখন এই সংবাদ প্রদান করিল; খোন্দকার ভাবিলেন, ইহারা ভয় প্রদর্শন মাত্র করিতেছে, দলবল সহ নিজ কাছারীতেই উঠিবে; সুতরাং নির্ভীকচিত্তে বলিলেন “কাছারীতে উৎপাত করে, কাহার সাধ্য । যদি আসে, প্রহার করিয়া তাড়াইয়া দিবে ।” এতদ্যতীত কোন পাইক বরকন্দাজকে তিনি বিশেষ ভাবে কোনও আদেশ দিলেন না,__কাছারী রক্ষার কোনরূপ বন্দোবস্ত হইল না। ষষ্ঠ অধ্যায় : তরফের অবশিষ্ট কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৫৫ যুদ্ধ পরক্ষণেই অগ্রগামী আক্রমণকারীগণের আস্ফালন ও চিৎকার ধ্বনি শুনা গেল, কাড়ার করশধ্বনি চতুর্দিকে শব্দিত হইতে লাগিল; কাছারী যথারীতি আক্রান্ত হইল। কিন্তু মোতিওর রহমান তখনও ভীত হইলেন না, তিনি শান্তভাবে সময়োপযোগী বাক্য বলিয়া দূত পাঠাইলেন, বলিলেনঃ--“আহমদ রজা ও হামিদ রজা দেশের কর্তা, যাহা অভিপ্রায় এইক্ষণে করিতে পারেন, অতএব আমার প্রাণনধ না করিয়া সমৃদ্ধির পরিচয় প্রদান করুন। প্রাণবধ করিলে পশ্চাৎফল শুভ হইবে না, সরকারী কর্মচারীর অস্থিখণ্ড ও প্রতীকার পরায়ণ হয়।” তখন কাহার কথা কে শুনে? ক্রোধের প্রবল উত্তেজনাকালে লোকের যদি ভবিষ্যৎ জ্ঞান বিলুপ্ত না হইত, তবে পৃথিবীর অনেক পাপ কমিয়া যাইত । খোন্দকারের সত্য কথা তখন কে বিচার করে? তখন কেবল হিংসার কঠোর তাড়না, জিগীষা বৃত্তির প্রবল উত্তেজনা । শিকদারও দৃতমুখে আক্রমণকারীদিগকে জানাইলেন যে, নবাবি কাছারী আক্রমণ করা অকর্তব্য । তদুত্তরে হামিদরজা বলিয়া দিলেন--“রাজকীয় কার্য্যালয় নষ্ট করা তাহাদের উদ্দেশ্য নহে, শিকদারের সহিত তাহাদের কোনও প্রতিদ্বন্দ্িতা নাই, আত্মহিত কামনা করিলে শিকদারের উচিত যে কাছারী হইতে স্থানান্তরে গমন করেন।” এই সময় মধ্যে আক্রমণকারীগণ কাছারী প্রবেশের পন্থা করিয়া লইল। খোন্দকারের অধীনে তখন কাছারীতে ৪০০ শত মাত্র সৈন্য উপস্থিত ছিল, তাহার রায় বাশিয়া'গণ মুহুর্তে বিলম্ব না করিয়া আক্রমণকারীদের গতিরোধ করিতে অগ্রসর হইল; কিন্তু প্রতিপক্ষীয় বরকন্দাজ সৈন্যচালক বাখর মোহাম্মদের গুলিবর্ষণে আহত ও ছিন্র ভিন্ন হইয়া পড়িল। তদৃষ্টে কতকজন বরকন্দাজ সিংহদ্বার উদঘাটন পুবর্বক আক্রমণকারীদের প্রতি গুলি ছুড়িতে লাগিল । অবশিষ্ট লোকেরা গুলি বর্ষণ করতঃ আত্মরক্ষায় প্রবৃত্ত হইল। একটি গুলি লাগিয়া স্বয়ং হামিদরজা আহত হইলেন, আর একটা অগ্নিগোলক খাসিয়া সৈন্য-নায়ক সাহেব রামের গলদেশে পতিত হইলে সে তৎক্ষণাৎ পতিত হইল, আরও কেহ কেহ আহত হইল । আহমদ রজা ইহাতে অনুমাত্র ভীত হইলেন না, ভ্রাতার অবস্থাদৃষ্টে তাহার ক্রোধ--বহ্কি আরও জুলিয়া উঠিল, তিনি ঝড়ের ন্যায় ধাবিত হইয়া নিমেষ মধ্যে কাছারীতে প্রবিষ্ট হইলেন। জিঘাংসা-পরায়ণ উন্মত্ত সৈনিকদের গুলিবর্ষণে, শরাঘাতে ও যষ্ঠি প্রহারে খোন্দকারের রক্ষকগণ তিষ্ঠিতে পারিল না, পৃষ্ঠভঙ্গ দিল। খোন্দকারের রক্ষার আর উপায় থাকিল না। কে কাহাকে মারে স্থির নাই; কেবল মার মার কাট কাট ধ্বনি, কেবল গুলি গুম গুম ও কড়ার কড় কড় শব্দ, কেবল সৈন্যগণের তুমুল কোলাহল । রণের ভীষণতায় ত্রাসিত হইয়া সাত আনির নায়েব গোলাম নবি, নয় আনির নায়েব শেখ বুরহান উল্লা এই সময়ে পলায়ন করিলেন। লাখু সর্দারের রায়বীশ প্রহারে সৈয়দ মোহাম্মদ আদম চৌধুরী নামক জনৈক কর্মচারী নিহত হইলেন। এই সময়ে বিবাদের মূল কারণ সৈয়দ আলীরজা ভীত হইয়া এক নির্জন গৃহে হত্যা করিল। নিরস্ত্র নিউঁকি খোন্দকার সাহেব তখনও নিশ্চিন্ত ভাবে বসিয়া রহিয়াছেন!! তখনও তাহার মুখমণ্ডলে ভয়ের চিহ্ন নাই! এই অতুল্য সাহসী পুরুষকে সাহেবউদ্দীন ও বীরতখা নামক দুইটি আফগান বধ করিতে গিয়া তাহার ধৈর্য্য দৃষ্টে মুহূর্ত জন্য শ্প্িত হইয়া দীড়াইল, বুঝি ঝা অন্্রাঘাত করিতে ইচ্ছা হইল না, কিন্তু পরক্ষণেই তাহারা নিজমূর্তি ধারণ করিল ও প্রশান্ত মূর্তি ২৫৬ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড খোন্দকার সাহেবকে খণ্ড খণ্ড করিয়া ফেলিল!! তোতিওর রহমান পলাইতে ছিলেন, লাখু সর্দার তাহাকে ধরিয়া হত্যা করিল। রাজকীয় অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে কাজি ও শিকদার ধৃত ও বন্দী হইয়া লঙ্করপুরে নীত হইলেন। খোন্দকারের পক্ষীয় ৩৫ ব্যক্তি নিহত ও অনেক লোক আহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে স্বয়ং খোন্দকার ও তীহার পুত্র; যাহার জন্য এই বিভ্রাট উপস্থিত হয়, সৈয়দ বংশীয় সেই আলীরজা; সৈয়দ মোহাম্মদ আদম চৌধুরী নামক জনৈক কর্মচারী এবং স্বপক্ষীয় ও সহায়তাকারী মোহাম্মদ আজগর, মির্জা জুলফন্ধার ও সুরত সিংহ (ওরফে মাণিক বাবু) প্রভৃতি ব্যক্তিগণ বিশেষ স্ান্ত ছিলেন। আক্রমণকারীদের মধ্যে সাহেব রাম সর্দার প্রমুখ তিন ব্যক্তি প্রাণত্যাগ করে এবং স্বয়ং হামিদরজা সাহেব ও কয়েকজন সৈনিক আহত হয়। রণজয়ের পর আহমদরজা, বিপক্ষীয় হতাহত সকলকে লইয়া বাড়ী আসিলেন। অনতি বিলম্বেই অন্দর মহলের উত্তর দিকে দুইটি গর্ত খনন করা হইল; তাহার একটিতে খোন্দকার সাহেব, তাহার পুত্র ও আলীরজার দেহ এবং অপরটিতে অবশিষ্ট হত ব্যক্তিবর্গের শব প্রোথিত করাইলেন। মুমূর্ষ যে সকল কাফি চাকরাদি আহত অবস্থায় লঙ্করপুরে নীত হয়, এই সময় তীহাদিগকেও বধ করিয়া এ একই গর্তে প্রোথিত করা হয়! হায়, যে মানুষ দেব প্রকৃতি লইয়া জন্ম গ্রহণ করে, স্বার্থ সাধন ও হিংসা পরায়ণতা তাহাদিগকে এইরূপ পশু মধ্যে পরিগণিত করে, এইরূপেই তাহারা ভ্রাতৃূশোণিত পানে আত্ম-তর্পণ করে । বিলুপ্ঠন হতভাগ্য হতাহতের এই ব্যবস্থা করিয়া আহমদ রজা ও হামিদরজা ১২৫ জন বলবান সৈন্য সহ ভবানী দেবকে খোন্দকারের বাড়ী লুণ্ঠন জন্য রামশ্রী প্রেরণ করিলেন। আলীরজার জমিদারী উদ্ধারের অন্ত্র,--চৌধুরাইর সনন্দ রামশ্রীতে রক্ষিত ছিল, সর্ব্বাথে তাহা সংগ্রহের প্রয়োজন; এই জন্য ভবানীদের প্রতি বিশেষ আদেশ ছিল। বার্তাবাহক মুখে রিয়াজুর রহমান এই যুদ্ধ বার্তা এবং পিতা ও ভ্রাতার নিধন সংবাদ প্রাণ্তে অন্তঃপুর মধ্যে বিষাদিত চিত্তে ইতিকর্তব্যতা নির্থারণ করিতেছিলেন। লালা সাহেব, মীর কিয়ামউদ্দীন ও হাশিম ঠাকুর নামক সন্ত্রান্ত ব্যক্তিত্রয় তাঁহাকে সান্ত্বনা করিতেছিলেন; খোন্দকারদের সরকার মতিরামও সেখানে উপস্থিত ছিল । বিজয়ী বিপক্ষগণ কখন কি করিবে বলা যায় না, অতএব সত্তর অর্থাদি রক্ষার সদ্ধযবস্থা করা সঙ্গত, বুদ্ধিমান মতিরাম এই কথা বলিলে, রিয়াজুর রহমান বহিবর্বাটী হইতে তৎসমন্ত তাহার কাছে আনয়ন করিতে আদেশ করিলেন। মতিরাম বহিবর্বাটীতে গিয়া অনন্তরাম তহবিলদার সহ স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার বহুতর থলিয়া এবং মূল্যবান বস্ত্রাদি লইয়া ফিরিয়া আসিয়া দ্বারে করাঘাত করিতে লাগিল? তাহারা পুনঃ পুনঃ করাঘাত করাতেও কেহ ভিতর বাটীর দ্বারোদঘাটন না করায়, পুনশ্ঠ বহিবর্বাটীয় গিয়া তাহারা তৎসমস্ত যথাস্থানে রাখিয়া দিল। ইহার পরক্ষণেই লাখু প্রভৃতি বিপক্ষ সৈন্যগণ আসিয়া বহিবর্বাটী বেষ্টন করে ও দ্বার উন্মোচন করিতে বলে। অনন্তরাম্ন দ্বার খুলিয়া দিয়াই পলাঘন করিল । লাখু গৃহে প্রবিষ্ট হইল এবং মতিরামের পাগড়ী, কুর্তা ইত্যাদি ছিন্ন করিয়া, তাহাকে প্রহার করিতে লাগিল। ভবানীদের লাখুকে বারণ ষষ্ঠ অধ্যায় : তরফের অবশিষ্ট কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৫৭ করিয়া, মতিরামকে ছাড়িয়া দিবার কালে, তাহার বন্ত্র মধ্যে ষোলভরি স্বর্ণ ও এক মোহর প্রাপ্ত হইল । ইহার পর সিন্ধুকের সমস্ত দ্রব্যই লুষ্ঠিত হইল। লুগ্ঠনকারীরা তৎপর সিংহদ্বার ভগ্ন করিয়া খোন্দকার মহলে প্রবিষ্ট হইল ও অকথ্য অত্যাচার করিতে লাগিল। কিন্তু তাহাতেও তাহাদের জিগীষাবৃত্তি পরিতৃপ্ত হইল না। যখন মানুষের মনে পশুভাব প্রবল হয়, তখন হিতাহিত জ্ঞান ত থাকেই না, পরস্তু ইহার শেষ সীমায় উপস্থিত হইতে অভিলাষ জন্মে; লুগ্ঠনকারীরা অতঃপর অন্দর মহলে প্রবেশ করিতে উদ্যোগ করিতে লাগিল। খোন্দকার-পুত্র প্রভৃতি সকলেই তখন অন্তঃপুরে অবস্থিতি করিতেছিলেন, তাহারা যখন অন্দর রক্ষার উপায় দেখিলেন না, তখন শাহজলাল সাহেব নামক তাঁহাদের জনৈক কুটুন্ব পূর্বোক্ত সনন্দ সহ মূল্যবান বহুদ্বব্য পূর্ণ এক সিন্দুক প্রাচীরের উপর দিয়া প্রেরণ করিলেন; ভবানীদের এ সমস্ত দ্রব্য ও বন্দী মতিরাম সরকারকে পাঁচজন দেশওয়ালীর সংরক্ষণে লক্করপুরে পাঠাইয়া দিল। লক্করপুর গিয়া মতিরামের লাঞ্কনার শেষ হইল না, খোন্দকারের গুপ্ত ধনাগারের সন্ধান অথবা দশ সহস্র টাকা নজর দানের জন্য প্যাদাগণ তাহাকে প্রহার করিতে লাগিল; মতিরাম নিঃশব্দে সমস্ত অত্যাচার সহ্য করিল, অবশেষে হামিদরজার দয়াবতী মাতা, মাত্র দশ মুদ্রা নজরে তাহাকে মুক্তি দেওয়াইলেন। হইত। হামিদরজার অনুরোধে তিনি ও জিকুরাবাসী সোণাউল্লা লঙ্কর তালুকদার খোন্দকারের পরিবারবর্গকে সান্ত্বনা করিতে লক্করপুর হইতে রামশ্রী প্রেরিত হইলেন, এবং “বিধিলিপি অখপ্তনীয়, শোক করা বৃথা” ইত্যাদি সময়োচিত বাক্যে, আহমদ রজা প্রভৃতির পক্ষে প্রবোধ দিলেন! তরফে ভদ্র পরিবারগুলি মধ্যে পরস্পরের বিপদে সমবেদনা প্রকাশ করা চিরন্তন রীতি ছিল, সেই রীতি রক্ষা করিয়া এইরূপ প্রবোধ দান করা ভদ্রতার অঙ্গ বলিয়া তাহারা মনে করিয়াছিলেন,__ বিদ্রপ জন্য নহে। যে সময়ের কথা বর্ণিত হইল; তখন মোসলমান রাজত্্রে ভগ্নাবস্থা; ইষ্ট ইপ্ডিয়া কোম্পানী তখন দেশে নিজ ক্ষমতা বিস্তার করিতেছেন। শাসন ক্ষমতা নবাবের হাতে ছিল বটে, কিন্তু কোন গুরুতর ব্যাপার উপস্থিত হইলে, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত ইংরেজ কর্মচারীও তাহাতে যোগ দিতেন। অভিযোগ খোন্দকার পরিবারের উপর যে নৃশংস অত্যাচার হয়, তাহার প্রতিকারার্থে রিয়াজুর রহমান, আহমদ রজা প্রভৃতির উপর অভিযোগ উপস্থিত করিলেন । মুর্শিদাবাদের ফৌজদারী আদালতের “বৈঠকে” ১১৮১ বাঙ্গালার (১৭৭3 খৃষ্টাব্দ) ১৭ই পৌষ তারিখে তিনি নিজ জবানবন্দি লিখিত ভাবে দাখিল করেন। এই বৈঠকে ইংরেজ কর্মচারী সার কলুবর সাহেব, এবং কাজি মোহাম্মদ জরিপ, কাজি হোসেন উদ্দীন, মুফতী আবুল মুজঃফর, মৌলবী আবুদল্লা ও আলিমউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। খোন্দকার রাজকীয় কর্মচারী ছিলেন বলিয়া ইহা একটি গুরুতর ব্যাপার বলিয়া গণ্য হইয়াছিল। এই বৈঠকে উপস্থিত সার কলুবরের নাম করা গিয়াছে, কোন বিশেষ বিষয়ের বিচার কার্য্যে কোম্পানীর পক্ষেও এক এক জন বিচারক উপস্থিত থাকিতেন, ইনি সেই ভারপ্রাপ্ত হইয়াছিলেন। শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১৭ ২৫৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড অভিযোগ উপস্থিত হইলে সরেজমিন (ঘটনাস্থল) তদস্তক্রমে আসামী ধৃত করার জন্য দেলওয়ার খা সেনাপতি, সদর কানুনগো, রাম শরণ আমীন ও শিব প্রসাদ গোমস্তা মফঃহ্বলে প্রেরিত হন। রাজকীয় সৈন্য গ্রেপ্তার করিতে আসিতেছে শুনিয়া হামিদ রজা ও তাহার অপর ভ্রাতা হাসন রজা পলায়ন করিলেন। লালচান্দ পর্বতের উপর গড় বেষ্টিত একটি গুপ্ত বাটা প্রস্তুত হইয়াছিল. তাহারা সেই নিরাপদ স্থানেই চলিয়া গেলেন। বীরবর আহমদরজা পলায়ন করেন নাই, তিনি ধৃত হইয়া মুর্শিদাবাদে নীত হন। এই সময় মধ্যে সার কলুবর ঢাকায় বদলি হন, ঢাকাতে গিয়াও তিনি পলাইত আসামীদিগকে ধৃত করার জন্য পুনঃ দেলওয়ার খাঁ সেনাপতি ও সার্্জনকে প্রেরণ করেন; ইহারাও হামিদ রজা ও হাসন রজা প্রভৃতির সন্ধান পান নাই। আসামীর প্রত্যুত্তর মোকদ্দমা উপস্থিত হইলে, আহমদ রজা প্রত্যুত্তর দেন যে, “শারীরিক অস্বাস্থ্য হেতু হাঙ্গামার সময় তিনি লঙ্করপুরের কাছারীতে উপস্থিত ছিলেন না। জমিদারী শাসন ও হুজুরী খাজানা প্রেরণের জন্য হামিদ রজা কাছারীতে উপস্থিত ছিলেন। বাদীর পিতা একজন দান্তিক ও রজাকে অপমানিত করিতে গালি দেন। এই সূত্রে বিবাদ উপস্থিত হয় । মোতিওর রহমানই ইচ্ছা পৃবর্বক বিবাদ বাধান, এই উদ্দেশ্য বশতঃই তিনি প্রায় ৪০০ সৈন্য জমা রাখিয়াছিলেন। তিনিই জমিদারপক্ষ আক্রমণ করার জন্য প্রথমে স্বীয় পুত্রকে আদেশ দেন। তৎকর্তৃক আক্রান্ত হামিদ রজা বাধ্য হইয়া আত্মরক্ষার্থ রণে প্রবৃত্ত হন। ইহাতে উভয় পক্ষেই হতাহত হইয়াছে। কৃষ্ণ শিকদার ও কাজিকে ধৃত করিয়া কয়েদ করা হয় নাই। কৃষ্ণ শিকদার খোন্দকারের রায় বাশিয়া খোন্দকারের বাড়ীতে জমিদারী সংক্রান্ত অনেক কাগজ পত্র ছিল, রিয়াজুর রহমান ক্রোধভরে পাছে তত্তাবৎ নষ্ট করেন, এই ভয়ে তদুদ্ধারের জন্য লোক পাঠান গিয়াছিল বটে, কিন্তু তাহারা কোনও কাগজ পত্রাদি আনে নাই। খোন্দকারের ভূত্যগণই দ্রব্য সামগ্রী লুগ্ঠন করিতেছে দেখিয়া তাহারা চলিয়া আসে । খোন্দকার-বণিতা স্বয়ং নিজের দুইটি ভূত্যদ্বারা কাগজপত্র লক্করপুরের হাবিলিতে পাঠাইয়া দেন।” তিনি আরও বলেন যে, দেলওয়ার খা সেনাপতি, রাম শরণ আমীন ও সদর কানুনগো তাহাদিগকে ধৃত করিতে তরফে যান নাই। তিনি স্বয়ংই ইচ্ছা পূর্বক উপস্থিত হইয়াছেন। আপোষ করণ এই মোকদ্দমায় মৌলবী আব্দুল বাসিতের সাক্ষাতে রাম নারায়ণ মোনশী ২৬ জন সাক্ষির জবানবন্দি গ্রহণ করেন।১ সাক্ষিগণের জবানবন্দি পর্য্যালোচনা বিচারকের প্রতীতি জন্মে যে, হামিদ রজা ও আহমদ রজার উদ্যোগ ও আক্রমণেই এই অনর্থপাত ঘটিয়াছে। বেগতিক দেখিয়া সুচতুর হামিদ রজা রিয়াজুর রহমানের নিকট আপন কন্যার বিবাহ দেওয়ার প্রস্তাব করেন ও বিবিধ উপায়ে তাহাকে বশীভূত করিয়া ফেলেন। তখন রিয়াজুরের ১. মতিরাম তহবিলদার সাং ছিলিম নগর; ভবানীদেব সরবরাহকার, নয় আনি কাছারী; চান্দ খা বার্তাবাহক সাং মির্জাটোলা; ভিকা বেলদার, দুলাল বেলদার সাং লঙ্করপুর ইত্যাদি দর্শক ও ঘটনা সংসৃষ্ট বহু ব্যক্তি সাক্ষিগণের মধো ছিল । ষষ্ঠ অধ্যায় : তরফের অবশিষ্ট কথা শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ২৫৯ মত ফিরিয়া গেল, তিনি পিতৃ ও ত্রাতৃহন্তাদিগকে রক্ষা করিতে ব্যস্ত হইলেন। পরামর্শানুসারে তখন নূতন সাক্ষিগণ উপস্থিত করা হইল, এবং ইতিপূর্বে রাম শরণ মোনশী কর্তৃক যে সাক্ষিগণের জবানবন্দি গৃহীত হয়, তাহার প্রকৃত কাগজ গোপন করিয়া কৃত্রিম নকল উপস্থিত করা হইল। ইহাতে মোকদমার ফল অন্যরূপ দাড়াইল। দেখা গেল যে, দর্শক সাক্ষী একটিও নাই; মোসলমান শাস্ত্রের ব্যবস্থানুসারে শুনা কথায় বিশ্বাস করিয়া মোকর্দমার রায় দেওয়া যায় না; কাজেই মোকদ্দমা “ডিসমিস” হইল । আহমদ রজা ও হামিদ রজা প্রভৃতি অব্যাহতি লাভ করিলেন। এই মোকদ্দমার বিবরণ হইতে তখনকার বিচার প্রণালী কতকটা অবগত হওয়া যায়, তখনও ইংরেজগণ শাসন কার্ষ্যে সম্পূর্ণ হস্তক্ষেপ করেন নাই; বিচার কার্য্য সুক্্ভাবে হইত না, আদালতের কাগজপত্র গোপন করা যাইতে পারিত। আপন দুহিতার বিবাহ দিলেন। ব্রিপুরাধিপতি এই সময় নিজ অনুণ্বহ ভাজন মোতিওর রহমানের মৃত্যু সংবাদ প্রাণ্তে, রিযাজুর রহমানকে সান্তনা বাক্য প্রেরণ করেন; এবং পুর্ব অনুগ্ধহের নিদর্শন স্বরূপ খোন্দকার পুত্রকে কয়েকটি গ্রাম দান করেন ও খোয়াই নদীতে তাহার ৪০ খানা নৌকায় মহারাজ কোনরূপ কর আদায় করিবেন না, এই অনুমতি দেন। তদ্যতীত উপস্থিত বিবাহ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার অভিপ্রায়ে মহারাজ দুই দল সৈন্য রামশ্রীতে প্রেরণ করিয়াছিলেন। যে বিবাদের বর্ণনা করা গেল, ইহার পুবের্ব নয় আনির জমিদারী কাগজপত্রে “আহমদ আলী” এই যুক্ত নামাত্মক “দস্তখত” ব্যবহৃত হইত। আহমদ রজা নামের “আহমদ” ও আলীরজা নামের “আলী”, এই যুগ নামে “আহমদআলী” দস্তখতের প্রচলন চলিয়া আসিতেছিল। কিন্তু পূর্বোক্ত গোলযোগের সময় হইতে এই যুক্ত নামাত্মক দস্তখত উঠিয়া যাওয়ায়, আলীরজার ভ্রাতা মদন রজা ও কায়েম রজার গোমস্তা গোলাব রাম দেব ঢাকাস্থ বড় সাহেব মিঃ রাটন ওলিয়রের নিকট আবেদন করেন যে, জমিদার আহমদ রজার নামের সহিত আলীরজার নাম সংযুক্ত, কাগজ পত্রে উভয় নামের যুক্ত দস্তখত ব্যবহৃত হইত, বিনা কারণে তাহা উঠাইয়া দেওয়া গিয়াছে, অতএব তাহা পুনঃ প্রবর্তিত হইবার আদেশ হউক । ফলকথা, আলীরজার উত্তরাধিকারীগণ নূতন কল্পে চৌধুরাই সনন্দ প্রাপ্তির প্রার্থনা করিলেন। এই প্রার্থনার ফল স্বরূপ তীহারা মিষ্টার রাটন ওলিয়রের দস্তখত যুক্ত এবং খাদের সরা কাজি ইব্রাহিম আলী ২. এই পারস্য মর্থানুবাদ নিম্নে দেওয়া গেলঃ- “এতদ্বারা চাকলে জাহাঙ্গির নগরের অন্তর্গত তরফ পরগণার চৌধুরীয়ান, কানুনগোয়ান, তালুকদারান, রায়তান, জিরাতানকে জানান যাইতেছে যে, এতকাল যাবৎ উক্ত পরগণার নয় আনা অংশের মধ্যগত পাচ আনা সাত গণ্ডা অংশে সৈয়দ আহমদ আলীর দস্তখত হইয়া আসিতেছিল। তন্ধ্যে আহমদ রজা আলীরজার প্রাণবধ ক্রমে মোকদ্দমায় আবদ্ধ থাকায় চৌধুরাই হিস্যা হইতে বঞ্চিত হন। আলীরজার ভ্রাতা মদন রজা ও কায়েম রজা তখন উপস্থিত না থাকায় তাহাদের নাম জারি হয় নাই, সম্প্রতি গোমস্তা গোলা রামের দরখাস্ত ইহা জানা গেল। অতএব আহমদ রজার স্থলে আলীরজার দস্তখত প্রচলিত হইল; আর সৈয়দ মদন রজা ও কায়েম রজাকে চৌধুরাইতে নিযুক্ত করা গেল। এক্ষণে তাহাদের উচিত যে তাহারা চৌধুরাইতে বাহাল থাকিয়া রায়তান জিরাতানকে বশে রাখিয়া দিন দিন ভূমির উন্নতি সাধন, আবাদি ও শ্রীবৃদ্ধি করিতে থাকেন এবং তাহারা উপদেশের উপর দৃঢ় থাকেন। উক্ত পরগণ: সকলের চৌধুরীয়ান, কানুগোয়ান, তালুকদারান, রায়তান, জিরাতান এবং ইহাদিগকে চৌ'ুরাই পদে বাহাল জানিয়া তাহ,েরি কর্তব্য কার্ষ্য অবহেল৷ না করেন। ইহা তাগিদ তাগিদ জানিয়া সনদের নিয়ম পালন করেন ।” ২৬০ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড ও নায়েব আব্দুল আলীর মোহর যুক্ত এক নূতন সনন্দ২ ১৭৮৭ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে প্রাপ্ত হন। ইহার বলে নয় আনি জমিদারীর পাচ আনা সাত গণ্ডী অংশে মদন রজা ও কায়েম রজা অধিকার প্রাপ্ত হন। এই সময়ের অত্যল্প পরেই প্রসিদ্ধ দশসনা বন্দোবস্ত আরন্ত হয়। তরফের পুর্ব আয়তন দশসনা বন্দোবস্তের পূর্বে রাজস্ব হিসাবের সুবিধার জন্য, নাওরা মহাল উল্লেখে তরফ ঢাকার অন্তর্ভুক্তরূপে “চাকলে জাহাঙ্গির নগর, জিলা লঙ্করপুর” বলিয়া লিখিত হইত । মোহাম্মদ রেজা খার চকবন্দি মতে ইহার সদরজমা ১৬,২১৭ টাকা নির্দিষ্ট ছিল। তখন পর্য্যন্ত তরফ একটি অখণ্ড জায়গীর ছিল ও ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দের তৌজিতে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম দৃষ্ট হয় না। অতঃপর বিবিধ তালুকের সৃষ্টি হয়। ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দের দশসনা বন্দোবস্তের সময় তরফ শ্রীহস্টরের কালেক্টরী ভুক্ত হয়, এবং খারিজা দশটি পরগণা ব্যতীত ইহার সদরজমা ৪৪,০০০ টাকা নিরূপিত হয়। তরফ হইতে বিভিন্ন সময়ে নিম্ন লিখিত পরগণাগুলি খারিজ বা বহির্ভূত হইয়াছেঃ_ ১. পরগণা আনন্দপুর নদরজাম ৯৭ টাকা ২. ” উসাইনগর ১৮৩ রর ৩. গদাহাসন নগর ” ৬৬৯৯ ৪. গিয়াস নগর ৩৭৩ ৫. ” দাউদ নগর ৫৭৫ ৬. নুরুূলহাসন নগর " ২৭৮৪ ৭. পুটিজুরী ১৭৫৪ ৮. ফয়জাবাদ ” ৫৫৮ ৯. রঘুনন্দন ্ ১৫৭ ১০. রিয়াজপুর ৪৩ এতদ্যতীত আদি তরফ, তপে বিষপ্ৰাম, এবং বালিশিরা ও সগ্তথামও তরফ হইতে খারিজ বলিয়া উল্লেখিত আছে। এই সকল পরগণা সামিলে তরফের আয়তন কত প্রকাণ্ড ছিল, বুঝা যাইতে পারে। দশসনা বন্দোবস্তের সময় প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ স্ব স্ব অধিকারস্থ ভূমি নিজ নামে বন্দোবস্ত করিয়া লইয়াছিলেন। এ সময় তরফের নয় আনি অধশে, আহমদ রজার সবর্ষ কনিষ্ঠ ভ্রাতা কলিম রজা বিদ্যমান ছিলেন। ইনি বিলাস পরায়ণ, দান্তিক ও তোষামোদ প্রিয় ছিলেন। কথিত আছে যে, এক সওদাগরের তোষামোদে তিনি সহজ টাকার সূচি ক্রয় করিয়া নদীগর্ভে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন। ইনি অতি বলবান ছিলেন, সীড়াসি দ্বারা তাহার পৃষ্টের চর্ম তোলা যাইতে পারিত না। সাত আনি জমিদারদের সহ তাহার আন্তরিক ভালবাসা ছিল না; কোন রাজকর্শচারীর সহিত দেখা করা তিনি অগৌরব মনে করিতেন । কাজেই বন্দোবস্তের কর্মচারীর সহিত তিনি দেখা কবা আবশ্যক বোধ করেন নাই। সাত আনির জমিদারগণ এইরূপ ছিলেন না, যশোলিন্সা তাহাদের মধ্যে প্রবল ছিল, ষষ্ঠ অধ্যায় : তরফের অবশিষ্ট কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৬১ তাহারা অপেক্ষাকৃত বিচক্ষণ ও উন্নতি প্রয়াসী ছিলেন। তাহারা কাগজ পত্র সহ রাজকর্চারীর সহিত সাক্ষাৎ করিলেন ও যথা বিহিতরূপে জমিদারী নৃতন রূপে বন্দোবস্ত করিয়া লইলেন। সৈয়দ নাজিরের নামে তরফে ১নং তালুকের উৎপত্তি হইল । সাত আনির কার্যযতৎপরতা দৃষ্টে নয় আনির জমিদার স্বীয় ভ্রম বুঝিতে পারিয়া, কাগজপত্র সহ রাজকর্মচারীর সাক্ষাৎ ক্রমে নিজ ক্রটি স্বীকার করেন। তখন নয় আনির জমিদার সৈয়দ আহমদ জীবিত না থাকিলেও তদীয় নামানুসারে ২নং তালুকের উৎপত্তি হয়। সৈয়দ এনায়েতউন্লা নামে নয় আনির অপর এক অংশীর নামে ৩নং তালুকের নামকরণ হয়।৩ তরফের তুঙ্গেশ্বর, জয়পুর ও সুঘরবাসী হিন্দু মজুমদারগণও নিজ নিজ অধিকারস্থ ভূমি পৃথকরূপে বন্দোবস্ত করিয়া লন।৪ এই সময়ে সৈয়দগণের অকর্ম্ণ্যতা প্রযুক্ত সঙ্গতিপন্ন প্রজারাও নিজ নিজ নামে ভূবন্দোবস্ত ক্রমে তালুকের অধিকারী হইয়া উঠিয়াছিল। সৈয়দগণের যাহা কিছু ক্ষমতা ছিল, বন্দোবস্তের পর হইতে তাহা তিরোহিত হয়; ফলতঃ তাহারা সমগ্র পরগণার জমিদার হইতে পারেন নাই। তখনও যদি আত্মকলহ, অলসতা, দন্ত প্রভৃতি ত্যাগ করিতে পারিতেন, তখনও যদি বিশ্বাসগণের উপর অযথা বিশ্বাস স্থাপন না করিয়া নিজেরা কাজ কর্ম দেখিতেন, তাহা হইলে এত শীঘ্ব দারিদ্রের চরমসীমায় উপস্থিত হইতেন না। বিশ্বাস উপাধি বিশিষ্ট কর্মচারীরা৫ তখন সর্বময় কর্তা হইয়া উঠিয়াছিল; এবং তাহাদেরই সৌভাগ্য বশতঃ এই সময় জমি বিক্রয় সৈয়দদের ব্যবসায় হইয়া দাড়াইয়াছিল। পরবর্তী কথা ক্রেতাগণ জমি ক্রয়ের জন্য উপস্থিত হইলে সৈয়দগণের দেখা প্রায়ই পাইত না। বিশ্বাসদের সহিতই মূল্যাদির কথা হইত । উৎকোচ সঙ্কোচ নাশক,_-উৎকোচ বলে স্বার্থপর বিশ্বাসগণকে তাহারা বশীকৃত করিত ও তাহাদের পরামর্শে পরিচালিত সৈয়দগণের নিকট হইতে সহস্র টাকা মূল্যের সম্পত্তি স্বচ্ছন্দে দুই তিন শত মুদ্রায় ক্রয় করিতে সক্ষম হইত। কেবল তাহাই নহে,__ক্রীত এক হাল ভূমির স্থলে নিরাপত্তিতে দশ হাল করায়ত্ত করিয়া লইত। মুদি ও বন্ত্র বিক্রেতা প্রভৃতি ব্যবসারীগণ ধারে ক্রমাগত দ্রব্যাদি যোগাইত, এবং বৎসরান্তে মূল্য ও তাহার অত্যধিক সুদ ধরিয়া, তৎপরিমাণে ভূমি গ্রহণ করিত। উদাহরণ স্বরূপ নুরপুর নিবাসী কাজী এনায়েত উল্লার নাম করা যাইতে পারে। এই ব্যক্তি ইতঃপূর্ব্ে মুর্শিদাবাদ হইতে ছুরি, কীচি, তরবারি, বাক্স প্রভৃতি আনয়ন করতঃ সৈয়দগণকে উপহার দিয়া যে প্রভূত ভূসম্পত্তি লাভ করে, দশসনা বন্দোবস্তের সময় তাহা পৃথক তালুকরূপে পরিগণিত হয়। তরফের উত্তরদিপ্র্তী ঘুঙ্গিয়াজুরি হাওরটি সমস্তই সাত আনির অধিকারে ছিল। এই সময়ে ১১১১ কা পুলিশ কর্মচারী তদন্তে আসিয়া জমিদার মোহাম্মদ নাতির ও ৩. ফরিদপুরের সৈয়দগণ ইহার বংশধর । ৪. ইহাদের বীর্তিকথা পরগণায় ইতিহাসের সহিত অনেকটা জড়িত থাকিলেও বংশবৃত্তান্ত ভাগের গৌরবার্থে সেই খণ্ডেই বিস্তারিতরূপে বর্ণিত হইবে। ৫. শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থের মধ্যে খণ্ডের ১৬ পরিচ্ছেদের ব্যাখ্যায় পণ্ডিতবর রাম নারায়ণ বিদ্যারত্ব “বিশ্বাস” শব্দের অর্থ পরিদর্শক কর্মচারী লিখিয়াছেন। তরফ, বাণিয়াচঙ্গ প্রভৃতি স্থ!নের বিবরণে বিশ্বাসদের কার্য্যপটুতার পরিচয় পাওয়া যায়। পরিদশন ব্যতীত তাহাদের আরও অনেঞ্চ বিষয়ে ক্ষমতা ছিল। ইহারা অনেক সময় মন্ত্রীর ন্যায় মন্ত্রণা দিতেন ও আয় ব্যয়ের ব্যবস্থা করিতেন বলিয়।৷ অবগত হওয়া যায়। ২৬২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড বাতির সাহেবকে প্রথমতঃ তলব ক্রমে বৃত্তাত্ত-ঘটিত বিষয় করেন, পাছে কোন ঝঞ্জাটে পড়িতে হয়, এই ভয়ে জমিদারগণ ঘুঙ্গিয়াজুরিতে তাহাদের অধিকার থাকার কথা স্পষ্টতঃ অস্বীকার করিলেন। সুচতুর হিন্দু মজুমদারেরা অগ্রবর্তী হইয়া তখন বলিলেন যে, এই হাওর তাহাদের অধিকার ভুক্ত । সৈয়দ একবার যে কথা বলিয়া ফেলিয়াছেন, তাহা পরিবর্তন ক্রমে মহত্চ্যুত হইতে পারেন নাই! কাজেই সুবিস্তৃত হাওর তাহাদের হস্তছ্যুত হইয়া পড়িল। কথিত আছে, সৈয়দগণের মধ্যে কেহ শৃগালের চীৎকার শ্রবণে কারণ জিজ্ঞাসিলে, বিশ্বাস বুঝাইয়া দিলেন যে, শীতে শৃগালেরা ক্রন্দন করিতেছে সৈয়দ তখন শৃগালকে বস্ত্রদানের সহকারে স্বয়ংই গ্রহণ করিয়াছিলেন! এইরূপ অবস্থায় কুবেরও লক্ষ্মী শূন্য হইয়া পড়েন, তাহাদের আর কথা কি? এই বস্ত্রদাতার নাম উল্লেখে চিরতরে তাহার সঙ্গে নিবের্বাধতার কালিমা লেপন করা অনাবশ্যক ।৬ নিম্নে পরবত্তী সৈয়দগণের নামোল্লেখে তাহাদের সম্বন্ধে দুই একটি কথা লিখিত হইতেছেঃ__ সৈয়দ ঈশারজা--ইনি মদন রজার পুত্র, পারস্য ভাষায় তাহার বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল। সৈয়দ শায়েস্তা মিয়া-_ইনি হামিদ রজার পুত্র, নিজ নামে তিনি শায়েস্তগঞ্জ বাজার স্থাপন করেন ও বাজারের নিকট এক কাছারী নির্মাণ করেন। তাহার পুত্রাদি ছিল না মৃত্যুর পর স্ত্রী সম্পত্তির অধিকারিণী হন। এঁ সময় শায়েস্তাগঞ্জের কাছারী নিলাম হইয়া যাওয়ায়, দেওয়ান হরগোবিন্দ রায় নামক এক স্ত্বা্ত ব্যক্তি উহা ক্রয় করেন। তরফে সর্ব্ব প্রথম তিনিই “বাবু” উপাধিতে আখ্যাত হন। নিলামের পর হইতে উক্ত কাছারী “নিলামের কাছারী” নামে কথিত হয়। সৈয়দ খাতির--ইনি সাত আনির বাতিরের পুত্র; দয়ালু ও বদান্য ব্যক্তি ছিলেন। ঈশা খা বংশীয় হয়বৎ নগরের খোদা নেওয়াজ খার নিকট তিনি নিজ তনয়ার 'ববাহ দেন। হয়বৎ নগরের অধিকাংশ জমিদারী কাবিনে আবদ্ধ ছিল। কন্যার মৃত্যু হইলে তিনি স্বহস্তে কাবিন ছিন্ন করিয়া সেই বৃহৎ সম্পত্তি দাবি ত্যাগ করেন। এরূপ অবস্থায় লোভ ত্যাগ করা কম কথা নহে। এই কন্যাটি তাহার অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন, ইহার বিবাহে তিনি প্রভূত ব্যয় করিয়া, অনেক সম্পত্তি নষ্ট করেন। খাতির বড়ই সৌখিন পুরুষ ছিলেন, সখের খাতিরেও বহু ব্যয় করিয়া গিয়াছেন। পালিত বাঘ বাঘিনীর বিবাহ-ব্যয়ের কথা শুনিলে বাস্তবিকই দুঃখ হয়। তদ্যতীত বড় বড় “লালভঙ্গী” নৌকা, মনোহারী হয্ম্য নির্মাণ ইত্যাদিতে অনেক ব্যয় করিয়া গিয়াছেন। সৈয়দ নাতির--সৈয়দ নাতির খাতিরেরই কনিষ্ঠ ভ্রাতা । ইনি পারস্যে পণ্ডিত ছিলেন, হস্তাক্ষরও উত্তম ছিল, কিন্তু ভূ-বিক্রয়ে ইহার অত্যধিক উৎসাহ ছিল; ইনিই ত্রিপুরাধিপতির নিকট বালিশিরা বিক্রয় করেন। বিষগাও ও বালিশিরা বিষগাও ও বালিশিরা অদ্যাপি ব্রিপুরাধিপতির জমিদারী ভুক্ত আছে। ১৮০৯ খৃষ্টাব্দে মহারাজ রামগঙ্গা মাণিক্য রাজ্যচ্যুত হন। এই সময় তাহার বক্সী উপাধিক বিশ্বস্থ কর্মচারী ও সহচর রামহরি ঘোষ বিশ্বাস বিষগাও মধ্যে এক জমিদারী ক্রয় করতঃ বাটা নির্মাণ করেন। তিনি প্রভুর দুরবস্থা দর্শনে দুঃখিত হইয়া, প্রভ-ভক্তির নিদর্শন স্বরূপ বাটী সহ উক্ত জমিদারী রাজ্যচ্যুত মহারাজকে অর্পণ করেন এবং বাণিয়াচঙ্গে অন্য এক জমিদারী ক্রয় করতঃ স্বয়ং তথায় গিয়া বাস করেন। মহারাজ রামগঙ্গা, বিশ্বাসের ভক্তি উপহার প্রত্যাখ্যান করিতে পারেন ৬. এই গল্প ব'টয়াচঙ্গের জমিদার দেওয়ান সা.হবদের সম্বন্ধেই সব্র্য প্রথমে শুন: শিয়াছিল। তরফে উহার প্রতিধ্বনি মাত্রই হইয়া থাকিবে। ষষ্ঠ অধ্যায় : তরফের অবশিষ্ট কথা শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত ২৬৩ নাই। নিরাশ্রয় রামগঙ্গার রাজ্য প্রাপ্তির আশা একরূপ দূর হইয়া গিয়াছিল; কাজেই তিনি অনুচরবর্গ সহিত এই স্থানে আসিয়া বাস করেন। এ স্থানে অবস্থান কালে তিনি বালিশিরার আরও অনেক অংশ ক্রয় করিয়া লইয়াছিলেন। ইহার পর রামগঙ্গা মাণিক্য পুনবরবার ত্রিপুরার সিংহাসন লাভ করেন৷ বিষগাও ও বালিশিরার জমিদারী তদবধিই ব্রিপুরাধিপতির অধিকার ভুক্ত হইয়া রহিয়াছে । এই জমিদারীর আয়তন ১১৩ বর্গমাইল এবং আয় ৬৭,০০০ টাকা: লাহারপুরে ইহার সদর কাছারী অবস্থিত ৭ সৈয়দ মফজ্জল হাসন--হাসন রজার পৌনত্র ও নয়েম রজার পুত্র; ইনি পারস্য ভাষায় সুশিক্ষিত ছিলেন। তাহার সময়ে রাজন্ব বাকিতে “হিস্যা হাসন রজা' অংশ নিলাম হইয়া যাওয়ায় তিনি বড়ই দুরবস্থায় পতিত হন; পরে নরপতি নিবাসী মদর-উল-হাসন সাহেবের প্রযত্বে গবর্ণমেন্টের কোন কর্মে নিযুক্ত হন। এক সময় তিনি “হিস্যা হামিদ রজা” তালুক ক্রয় করিতে উদ্যত হইলে, তাহার “বিশ্বীস” এই পরামর্শ দেন যে, ভবিষ্যতে সর্ব্বত্রই জমিদারী প্রথা রহিত হইয়া গবর্ণমেন্টের “খাস” হইয়া যাইবে, হস্ত স্থিত অর্থ নষ্ট করা সঙ্গত নহে। এই পরামর্শে তিনি নিজ সম্কল্প পরিত্যাগ করেন। ইনি তেজস্বী পুরুষ ছিলেন, ইহার স্বহস্ত লিখিত বহুতর পারস্য পুথি অদ্যাপি আছে। ১৮৬৫ খৃষ্টাব্দে তাহার মৃত্যু হয়। সৈয়দ আহসন রজা-_-ইনি নয়েম রজার ভ্রাতশ্পুত্র ও হোসন রজার পুত্র; কৃত্রিম উপায়ে স্বর্ণ প্রস্তুতের দুরাশায় পতিত হইয়া ইনি অনেক সম্পত্তি বিনষ্ট করেন। ইহার নিকট হইতে রাম রামায়ণ সাহা নামক এক ব্যক্তি “হিস্যা হামিদ রজা” তালুক ক্রয় করেন। সৈয়দ মোহাম্মদ নাসির--খাতিরের পুত্র; অতিশয় সাহসী ও পরোপকারী ছিলেন; বিদ্যা ও বুদ্ধিবলে তিনি কথঞ্চিৎ প্রতিপত্তি ও খ্যাতি অর্জন করিতে সমর্থ হন। সৈয়দ আবদুস সবুর ও আবদুস রহুফ--নাসিরের পুত্রদ্বয়; ইহাদের শৈশবাবস্থায় খাজানা বাকিতে অনেক ভূসম্পত্তি নিলাম হইয়া যায়। এইরূপে সৈয়দ বংশীয়গণ হীনাবস্থায় পতিত হন। যাহারা এক সময়ে তরফ রাজ্যে একাধিপত্য করিয়া গিয়াছেন, ব্রিপুরাধিপতি এক সময় যাহাদের বিরুদ্ধে দ্বাবিংশতি সহস্ব সৈন্য প্রেরণ করিয়াও নিশ্চিন্ত হন নাই--স্বয়ং আগমন করিয়াছিলেন, বহু দিন যাহারা স্বাধীনতা সম্পদ সম্তেগ করিয়াছিলেন, কালের দুরতিক্রম্য আবর্তে নিষ্পিষ্ট হইয়া তাহাদের বংশধরগণ আজ দীন হীন! সম্পত্তি নাই, ক্ষমতা নাই, আছে শুধু সামাজিক সম্মান--হজরত সৈয়দ নসিরউদ্দীন সিপা-ই- সালারের শোণিতগত সম্মান,_তাহাদের পূর্ব পুরুষগণের আচরিত ধার্মিকতার অক্ষয় উচ্চ সম্মান। এই সন্্ান্ত বংশীয়গণ সম্পত্তিষ্যত হইয়া পড়িয়াছেন বটে, কিন্তু তাহাদের বংশগত ধর্ম-ভাবচ্যুত হন নাই; যে পবিত্র শোণিত তাহাদের ধমনীতে প্রবাহিত, তাহার তেজ ক্ষীণতর হইয়া আসিলেও এককালে বিলুপ্ত হয় নাই। নয় আনির অংশে বর্তমানে সৈয়দ এবাদুর রজা, ইউসুফ রজা প্রভৃতি এবং সাত আনির অংশে সৈয়দ আব্দুস সবুর ও আব্দুল হেলিম ওরফে তারামিয়া বর্তমান আছেন । শ্রীযুক্ত তারা মিয়া অতি উদার প্রকৃতির লোক। তিনি ধর্মমতত্তববিৎ, তাহার ধর্মমত অতি উদার। হিন্দু শাস্ত্রের উপদেশ অনেকাংশে তিনি মান্য করেন ও প্রশংসা করেন। তিনি অতি বিনীত ও সকল ধর্মের সাধু ব্যক্তিকেই শ্রদ্ধা করেন। বৈষ্ঞব ধর্ম্নে তাহার বিশেষ শ্রদ্ধা আছে, তিনি কতিপয় অনুগত শিষ্য লইয়া খোল করতাল যোগে বৈষ্তবের ন্যায় প্রতিদিন সংকীর্তবন করিয়া থাকেন। বলিতে গেলে তিনি এক অভিনব ধর্ম সম্প্রদায় গঠন করিতেছেন, এই নব সম্প্রদায়ে অসম্প্রদায়িক ভাবে হিন্দু দেব দেবীরও নাম গৃহীত হইয়া থাকে। ৭. স্বাধীন ব্রিপুরা রাজ্যের শাসন সংক্রান্ত বার্ষিক বিবরণী-১৩১৭ ব্রিপুরান্দ, ৩০ পৃ্ঠা। সপ্তম অধ্যায় ইটার রাজা পূর্বকথা শ্রীহট্টের ইটা অঞ্চলে পূর্ব ব্রিপুরাধিপতির যথেষ্ট প্রভাব ছিল, পরে ইটা গৌড়ের অধীন হয়। প্রথম খণ্ডে আমরা নিধিপতির আগমন বিবরণ বর্ণন করিয়াছি। নিধিপতি ইটায় এক ক্ষুদ্র রাজ্যের পত্তন করিয়া, “ভূমিউড়া-__-এন্তলাতলি” গ্রামে নিজ রাজধানী স্থাপন করেন এবং অল্লপকাল মধ্যে সুবৃহৎ দীর্ঘিকাদি খনন করাইয়া সে স্থানকে সুশোভিত করিয়া তুলেন। নিধিপতির “সপ্তপার দীঘী” ও “নিধিপতির খামার” নামে বিস্তৃত কৃষিক্ষেত্রের ধ্বংশাবশেষ এখনও তথায় বর্তমান আছে। নিধিপতির১ পুত্র ভূধর ও পৌত্র কন্দপাদি কি ভাবে দেশ শাসন করিতেন, জানা যায় না। কন্দর্পের পুত্র বৃহস্পতি, তৎপুত্র লক্ষ্মীনাথ, তাহার পুত্র দেবচন্দ্র; দেবচন্দ্রের ভাঙ্কর, পুর ও প্রভাকর নামে তিন পুত্র হয়। তন্মধ্যে ভাঙ্করের পুত্র কেশব, কেশব বড়কাপন” নামে খ্যাত । তত্রত্য শিকদারেরা তদ্বংশোত্তব। প্রভাকরের পুত্রের নাম শুভরাজ ও শ্রীকৃষ্ণ । শুভরাজ পারস্য ভাষায় ব্যুৎপন্ন ও গুণসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন; তিনি দীর্ঘিকা প্রস্তুত প্রভৃতি অনেক জনহিতকর কার্য করিয়া, নিজ গুণে দিন্লী হইতে “খান” উপাধি প্রাপ্ত হন। তিনি ইটার পঞ্চগ্রামের (পাচগাও) দক্ষিণে ও এওলাতলির পুবর্ব দিকে এক বাটী প্রস্তুত করেন, এখন সেস্থান “রাজখলা” বলিয়া পরিচিত এবং তথাকার তৎ্প্রতিষ্ঠিত দীর্ঘিকা শুভরাজ বা “সুরাজ খার দীঘী” নামে আখ্যাত হইয়াছে । শ্রীকৃষ্ণের পুত্রের নাম শ্রীপতি; ইটার অন্তর্গত শ্রীপাড়া তাহার নামানুসারেই খ্যাত। শুভরাজ খার পুত্র বিখ্যাত ভানু নারায়ণ ও ইন্দ্র নারায়ণ। ভানু নারায়ণ বল বিক্রমে অদ্বিতীয় ছিলেন। ইহার সময়ে ব্রিপুরাধিপতির অধীন সামন্ত-সর্দার রাজা চন্দ্রসিংহ বিদ্রোহী হইয়া উঠেন; ভানু নারায়ণ যুদ্ধে ইহাকে পরাভূত ও বন্দী করিয়া ব্রিপুরাধিপতির নিকট প্রেরণ করেন। ভানু নারায়ণের এই কার্ষ্যে মহারাজ তাহার উপর অতিশয় পরিতুষ্ট হন এবং পুরস্কার স্বরূপ চন্দ্রসিংহের অধিকৃত ভূমির কিয়দংশের শাসনাধিকার তাহাকে প্রদান করেন। ব্রিপুরাধিপতি ভানু নারায়ণকে মনুকুল প্রদেশের অধীশ্বর বলিয়া এই সময়ে “রাজা” উপাধি প্রদান করেন। চন্দ্রসিংহের অধিকৃত স্থান ইহারই নামে তদবধি (ভানুকচ্ছ বা ভানুকাছ অধুনা) ভানুগাছ নামে খ্যাত হয়। ভানুবিলও ভানু নারায়ণের নাম ঘোষণা করিতেছে। ভানুগাছ পরগণার রামেশ্বর গ্রামে চন্দ্রসিংহের গড়ের চিহ্ন অদ্যাপি পরিলক্ষিত হইয়া থাকে । ভানু নারায়ণ রাজোপাধি প্রাপ্ত হইয়া, এওলাতলির অল্পদূরে দীর্থিকাদি শোভিত নৃতন রাজধানী নির্মাণ করিয়া তথায় বাস করেন ও তাহার নাম “রাজনগর” রাখেন। ইন্দ্র নারায়ণ ১. ঘ-পরিশিষ্টে (২য় ভাগ ২য় খণ্ড) বংশ-পত্র দেখ। নিধিপতি হইতে বর্তমান কাল পর্য্ত্ত তদ্বংশে ২৩/২৪ পুরুষ চলিতেছে । এই ২৪ পুরুষ সহ পূর্র্বগামী ১৫ পুরুষের যোগ করিলে ৩৯ পুরুষ হয়। পরাশর গোত্রীয় ও অন্যান্য গোত্রীয় সাম্প্রদায়িকদের আগমন কাল হইতে বর্তমান সময় পর্য্যন্ত প্রত্যেক বংশে ঈষৎ ন্যুনাধিক এরূপ পুরুষ সংখ্যা সমবিত বংশ তালিকা আমরা প্রান্ত হইয়াছি। সপ্তম অধ্যায় : ইটার রাজা শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ২৬৫ এওলাতলি বাটীতে বাস করিতে থাকেন। তথায় তদবংশধরগণ এখনও বাস করিতেছেন ভানু নারায়ণই প্রকৃত পক্ষে ইটার প্রথম রাজা । ইহার পাচ পুত্র, যথা-_সুবুদ্ধি নারায়ণ (সুবিদ নারায়ণ), রামচন্দ্র নারায়ণ (নামান্তর ব্রহ্ম নারায়ণ), ধর্ম নারায়ণ, বীরচন্দ্র নারায়ণ । রূপচন্দ্র নারায়ণ ইহাদের বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ছিলেন, কারণবশতঃ ইনি বনভাগ চলিয়া যান।২ জ্যেষ্ঠ সুবুদ্ধি বা সুবিদ নারায়ণ সিংহাসন প্রাপ্ত হন। রাজা সুবিদ নারায়ণ যখন দিল্লী সিংহাসনে বেহলুল লোদী অধিষ্ঠিত থাকিয়া নিজ পরাক্রমে দিল্লীর প্রনষ্ট গৌরব উদ্ধার করিতেছিলেন, সুবিদ নারায়ণ সেই সময় জন্ম গ্রহণ করেন। তাহার পিতা ব্রিপুরাধিপতির আশ্রিত হইলেও, তাহাকে অনেকাংশে দিল্লী স্মাটের আধিপত্য স্বীকার করিয়া চলিতে হইত । সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চলিতে পারে, তদ্রুপ ক্ষমতাপন্ন ভূস্কামী তখন এ অঞ্চলে ছিল না। তৎকালে সুবে বাঙ্গালার দূরবর্তী প্রদেশে স্থানে স্থানে দেওয়ান উপাধি বিশিষ্ট হিন্দু কর্মচারী নিয়োজিত হইতেন; রাজস্ব বিভাগে ইহাদের পদ সর্বোচ্চ ছিল।৩ রাজস্ব বিষয়ে ভূম্বামীদিগকে কিয়ৎ পরিমাণে এই দেওয়ানগণের প্রভাবাধীন হইয়া থাকিতে হইলেও, শাসনকর্তাদের সহিত তাহাদের সম্পর্ক ছিল না। নিজ অধিকার মধ্যে তাহাদের সবর্বতোমুখী প্রভৃতা ছিল, তাহারা অপরাধীর বধদণড পর্য্যন্ত বিধান করিতেন । কাজি, শিকদার প্রভৃতি শাসন সংক্রান্ত নিম্নপদস্থ রাজকীয় কর্্মচারীগণও ইহাদিগকে বিশেষ সন্ত্রম করিত। রাজা সুবিদ নারায়ণ এইরূপ প্রভাবশালী রাজা ছিলেন । সুবিদ নারায়ণের সময়ে “রায়” উপাধি৪ বৈদ্য বংশীয় জনৈক সন্তান্ত ব্যক্তি শ্রীহস্ট্রের দেওয়ান নিযুক্ত হন। এই দেওয়ানের পুবর্বনিবাস রাঢ় দেশে ছিল। তরফের অধিস্বামীগণ, লাউড়ের অধিপতিবর্গ ও আর রাজা সুবিদ নারায়ণ প্রভৃতিকে কিয়ৎ পরিমাণে ইহার বাধ্য থাকিতে হইত, ইহার সহিত তাহাদের রাজস্ব বিষয়ে কতকটা সম্বন্ধ ছিল। কিন্তু ইটা ত্রিপুরার আশ্রিয়ত রাজ্য বলিয়া, কখন কখন সুবিদ নারায়ণ স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ করিতে পশ্চাৎপদ হইতেন না। ইটার পূর্ব বাড়ুয়া পাহাড়, ইহার প্রধান শূঙ্গ পাগড়ীয়া টিলায় সুবিদ নাবায়ণের নির্মিত সুদৃঢ় গড় ছিল। তাহার প্রধান দুর্গ পব্্বতপুর নামক স্থানে ছিল, তথায় সুশাক্ষত বহু সৈন্য অবস্থিতি করিত; দুর্গের চিহ্ন এখনও সেই স্থানে পরিলক্ষিত হইয়া থাকে। রাজার সমাজসংক্কারাদি কার্য রাজা সুবিদ নারায়ণ ধর্মপরায়ণ, ন্যায়নিষ্ঠ ও দাতা ছিলেন। তীহার রাজকোষ যেমন ধনপূর্ণ ছিল, তেমনই তিনি সদ্ধযয় করিতেন, প্রত্যহ সভাভঙ্গের পর তিনি প্রার্থীকে ধন দানে তুষ্ট করিতেন ।৫ তিনি শিষ্টকে যেমন প্রতিপালন করিতেন, দুষ্টদিগের তেমনি যম স্বরূপ ২. শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত তৃতীয় ভাগে তদ্বিবরণ বর্ণিত হইবে। ৩. স্বগীয় রমেশ চন্দ্র দত্ত প্রণীত ভারতবর্ষের ইতিহাস-৮৯, ১৫২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য । ৪. পূর্ববর্তী ৩য় অধ্যায়ে এই উপাধির বিষয় বলা হইয়াছে। ৫. “মহাগুণমন্ত রাজা ধনী যে অশেষ। তান গুণে পূর্ণ হইলেক সবর্বদেশ॥ প্রতিদিন মহারাজা রাজ সভা যান। রাজসভা ভাঙ্গিয়া করেন ধনদান॥” ইত্যাদি ।-কুলাঞ্জলী গ্রন্থ ২৬৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড ছিলেন ।৬ এই জন্য তাহার রাজ্যে সকলেই পরম সুখে বাস করিতেছিল। এক সময় রাজা সমাজসংক্কার কার্যে মনোনিবেশ করেন। তৎকালে দেশের রাজা বা তুস্কামীবর্গই সমাজপতিরূপে গণ্য হইতেন। সমাজসং্কারে প্রবৃত্ত হইলে বৎস, কৃষ্ণাত্রেয়, ও ভরদ্বাজ গোত্রীয় দ্বিজ-দলপতিদের সহিত তাহার মতানৈক্য ঘটে; পরে তাহা একরূপ বিবাদে পরিণত হয়, রাজা বিরক্ত হইয়া বিরুদ্ধবাদী ব্রাহ্মণগণকে দেশ হইতে বিতাড়িত করেন। ব্রাহ্ষণগণ কি করিবেন? রাজাকে অভিসম্পাত করিয়া ক্ষুণ্ন মনে ইটা পরিত্যাগ করিলেন ।৭ বিতাড়িত বিৎস গোত্রীয়গণ ঢাকাদক্ষিণ, লংলা ও তরফে চলিয়া যান, এবং ভরদ্বাজ গোত্রীগণ ংলা ও বালিশিরাবাসী হন। রাজার সহিত বিবাদ উপস্থিত হওয়ায় ইটা হইতে বহু ব্রাহ্মণ চলিয়া গেলেন। রাজা ইহাতে নিরুৎসাহিত হইলেন না, দ্বিগুণ উৎসাহে পঞ্চখ্ড প্রভৃতি স্থান হইতে দশ গোত্রীয় সাম্প্রদায়িক ব্রাহ্ষণদিগকে যত্ন পূর্বক আনিয়া ইটায় স্থাপিত করিলেন।৮ তথ্ব্যতীত বাশিষ্ট, আত্রেয় প্রভৃতি বিভিন্ন গোত্রোৎপন্ন ব্রাহ্মণদিগকেও তিনি ভিন্ন দেশ হইতে আনয়ন করিলেন ।৯ পরাশর গোত্রীয় ব্াহ্মণগণ পুর্ব হইতেই ইটায় বাস করিতেছিলেন। মাহারা জাতি রাজা সুবিদ নারায়ণ “মাহারা” নামে এক নূতন জাতির সৃষ্টি করেন। জাতিমালাদি গ্রন্থে মাহারা জাতির নাম দৃষ্ট হইবে না। রাজা সুবিদ নারায়ণ শিবিকারোহণে রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন ংশে পরিভ্রমণ করতঃ স্বয়ং প্রজার অবস্থা পর্য্যবেক্ষণ করিতেন। ব্রাহ্মণোচিত পবিত্রতা রক্ষার জন্য নীচ জাতীয় লোক দ্বারা শিবিকা বহন না করাইয়া শুদ্ব জাতীয় মাহারা দ্বারা নিজ শিবিকা বহন করাইতে আরন্ত করেন। মাহারাদের উৎপত্তি বিষয়ে রাজার তান্থুল ও তাম্রকুট সেবনের প্রসঙ্গ কথিত হইয়া থাকে। তথকালে রাজা ও রাজকল্লপ ব্যক্তিগণ ভ্রমণ কালেও তান্বল ও তাত্রকুট সেবন করিবার রীতি দেখা যাইত; বাহক তাম্ল--করঙ্ক এবং আলবালা বা হুকা হাতে সঙ্গে সঙ্গে ধাবিত হইত, শিবিকারোহী শিবিকায় থাকিয়াই ধূমপান করিতেন বা তান্ধুল ভক্ষণ করিতেন ।১০ শিবিকা ৬. “জাতঃ সুবুদ্ধিঃ শুদ্ধশ্চ রাজা পরম ধার্মিকঃ। দুষ্টানাং দমকশ্চৈব শিষ্টানাং পরিপালকঃ$8”-বৈদিক নির্ণয় গ্রন্থ বৈদিক সংবাদিনী গ্রন্থের টীকা স্বরূপ পণ্ডিতবর কাশীচন্ত্র বিদ্যাসাগর কর্তৃক এই গ্রন্থ রচিত হইয়াছে। ৭. “বৎস, কৃষ্ণাত্রেয় ভরদ্বাজ গোত্রীয়ৈঃ কৈরপি সহ সুবিদ্য নারায়ণভিধেয়স্য রাজ্ঞ একো মহান বিবাদোভূৎ। তম্মিংশ্চ বসাদি গোত্রীয়াঃ পরাভূতাঃ স্তুঃ রাজ্ঞোহভিশাপং দত্তা তদ্দেশ পরিজহু।”-বৈদিক সংবাদিণী ৮. “অন্য দেশাৎ সামানীয় গতাংশ্চ বহু গোত্রজান্‌। সর্ব্বানদেশে প্রতিষ্ঠাপ্য সমাজ সন্ধনং কৃতং1”-বৈদিক নির্ণয় গ্রন্থ ৯, "50170 50 11101 01069 09110 [01012110100] 91191011110, 01) 10791101101) 01 4১৫)19 90100920171 012)2100, ॥ চ২৪)0) 01 ১911)01- -]. ৯.0. 3010175 9361001 01000. ৬1. 0. 137. ১০. রাজতরঙ্গিণীতে কাশ্মীর রাজ সুম্মলের “তান্থলদায়িক” ভূত্য অজ্জকের নাম প্রাপ্ত হওয়া যায়। ভারত বিখ্যাত মহারাষ্ট্রপতি শিবাজী শিনিকারোহণে ভ্রমণকালীন তাম্রকুটি সেবন করিতেন। জয়ন্তীয়া রাজদরবারে “ডাবাধরণী” বলিয়া একট, সম্মানিত পদ ছিল; “ডাবাধরণী” ডাবা (ইকা) ধারণ করিতেন, এ।ং “বাটাধরণী” বাটা (তান্থলকরঙ্ক বা পাণের ডিবা) ধারণ করিতেন । সপ্তম অধ্যায় : ইটার রাজা শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২৬৭ বাহকগণ যদি জল আচরণীয় জাতীয় হয়, তবে তান্ধুল অথবা জল-পূর্ণ ইকা ব্যবহারে বাধা থাকে না; কথিত আছে, এই জন্য রাজা নিম্নশ্রেণীর দেবোপাধি শুদ্র দ্বারা শিবিকা বহন করাইবার প্রথা প্রবর্তিত করেন ।১১ যাহাই হউক, এই নব সম্প্রদায়টি কালক্রমে চিহিত হইয়া পড়ে ও মাহারা বা মালা বলিয়া পরিচিত হয়। রাজধানীর পূর্ব্বদিপ্্তী গ্রামে ইহারা বাস করিত; যদিও এই গ্রামের নাম পরিবর্তিত হইয়া এখন মহাসহত্্ হইয়াছে, তথাপি আজ পর্য্যন্ত সাধারণে এই গ্রামকে “মালা” বলিয়া থাকে ।১২ রাজা সুবিদ নারায়ণের কমলা সুন্দরী নামে মহিষী, চারি পুত্র ও তিন কন্যা ছিল। তনাধ্যে জ্যেষ্ঠা কন্যা রত্বাবতী খঞ্জা ছিলেন। কাত্যায়ন গোত্রীয় গোবিন্দ চত্রবস্তীর জ্যেষ্ঠ পুত্র রঘুপতির সহিত রত্বাবতীর বিবাহ হয় । রাজা যৌতুক স্বরূপ তাহাকে পাচগাও, ভূমিউড়া, শ্রীপাড়া, সুরানন্দ ও পশ্চিম ভাগ এই পাচ গ্রাম দান করেন ।১৩ ইহাতে রঘুপতি ধনবান বলিয়া পরিগণিত হন। রঘ্বনাথ শিরোমণি মাতৃ ও ভ্রাত পরিচয় রঘুপতির মাতা অতি তেজস্বিণী রমণী ছিলেন। একটি সুন্দরী বধূ আনিয়া ঘরকন্না করিবেন, এ তাহার বহু দিনে সাধ ছিল। রঘুপতির বিবাহ জন্য একটি পাত্রীও একরপ স্থির করিয়া রাখিয়াছিলেন। রঘুপতি তাহার একান্ত অনভিমতে রাজার খঞ্জা কন্যা বিবাহ করায় তিনি অতীব দুঃখিতা হন। এই দুঃখে সেই তেজস্বিণী বিধবা, কনিষ্ঠ পুত্র রঘুনাথকে লইয়া দেশত্যাগ পুবর্বক নবদ্বীপে গমন করেন । এই রঘুনাথই ভূবন বিখ্যাত রঘুনাথ শিরোমণি । প্রসিদ্ধ গোবিন্দ চক্রবত্তীরি পাপ্তিত্য প্রতিভা প্রবাদের ন্যায় শুনা যায়, শুদ্ধি দীপিকার “দীপিকা প্রভা” নাম্নী টীকা যাহার কীর্তি প্রচার করিতেছে, কুশাগ্রবৃদ্ধি শিরোমণি সেই বংশ--খণিরই অমূল্য মণি । খৃষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে “ভারত-গৌরব রঘুনাথ শ্রীহস্টরের পঞ্চখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তাহার মাতার নাম সীতাদেবী ।'১৪ তিনি নিজ পুত্র রঘুপতির ব্যবহারে বিরক্ত হইয়া ১১. ইয়ুল ও বার্ণেসেল কৃত দেশীয় শব্দের ইতিহাসে বর্ণিত আসাদবেগের ১৬০৪ খৃষ্টাব্ের লিখিত বিবরণে জ্ঞাত হওয়া যায়, সম্রাট আকবরের সময়ে ভারতবর্ষে প্রথম তামাকের প্রচলন হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত সারাধলী নামক বৈদ্যক গ্রন্থোক্ত “কলঞ্জ” শব্দের অর্থ তামাক, এবং “কলঞ্জ সংবেষ্টন” অর্থে চুর্ট বলিয়াই অনুমতি । অতএব রাজা সুবিদ নারায়ণের সময়ে তামাকের বিদ্যামানতা স্বীকার করিলেও হকার প্রচলন ছিল কি না বলা যায় না। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তামাকের এত অধিক প্রচলন ঘটে যে, ইহা নিবারণ কল্পে তাহাকে আইন করিতে হইয়াছিল এবং ধুমপানাপরাধীর প্রতি “তশীর” (উল্টা গাধায় আরোহণ) নামক দণ্ড অবধারিত হইয়াছিল । (বিশ্বকোষ ৭ম ভাগ ৬৬৭ পৃষ্ঠা দেখ) ইহা হইতে সহজেই বোধ হয় যে, পূর্ব হইতেই ভারতবর্ষে তামাকের ব্যবহার ছিল। কিন্তু আকবরেরও পৃবের্ব শের শাহের সময়ে রাজা সুবিদ নারায়ণের রাজ্য বিলোপ ঘটে; সুতরাং এই গল্প অকাল্পনিক জ্ঞান করিলে আকবরের পূর্বেই এদেশে তামাকের ও কারও প্রচলন ছিল বলিতে হয়। কিন্তু হুকার ব্যবহারাপেক্ষা এস্থলে তান্থুল ভক্ষণের হেতুই মাহারা জাতির উৎপত্তি বিষয়ে অধিক সঙ্গত ৷ অথবা শুদ্ধচেতা রাজ কর্তৃক' মাহারা জাতির সৃষ্টি হইলে,-বিনা কারণে যখন কিছুই হয় না, পরবর্তীকালে তান্থুল ও হকা ব্যবহারে শুদ্ধাচার রক্ষাই এই জাতির উৎপত্তির কারণ বলিয়া প্রচলিত হইয়া থাকিবে । ১২. সেন্সাসের সময় মাহারাগণ, ভাণ্তারীদের মত কায়স্থ বলিয়া পরিচয় দিয়াছিল। ১৩. “কাত্যায়ন গোত্রজায় রঘৃপতি দ্বিজন্মনে । রাজখলাং সশপ্যঞ্চ যৌতুকত্তেন দত্তবানা!”-বৈহি নির্ণয় গ্রন্থ । কেহ কেহ বলেন, পঞ্চগ্রাম ব্যতীত আরও ১৪ গ্রাম যৌতুক দিয়াছিলেন। ২৬৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড “রঘুপতির সংশ্রব, এমন কি স্বীয় জন্মভূমি পর্য্যন্ত ত্যাগে কৃত সংকল্প হইয়া কনিষ্ঠ পুত্র সহ নবদ্বীপাভিমুখে গমন করেন। এখানে আসিয়া আশ্রয়াভাবে উভয়কেই প্রথমে বিড়ম্বনা ও অনুতাপপ্রস্ত হইতে হইয়াছিল । পরে দৈবানুকূলতা প্রযুক্তি তত্রত্য প্রসিদ্ধ পপ্তিত বাসুদেব সাব্্বভৌম মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হওয়ায় তিনি সদয় হইয়া তাহাদিগকে নিজ বাসস্থানেই আশ্রয় দিলেন। তথায় কিছুদিন অবস্থান করিলে, সাবর্বভৌম মহাশয় কয়েকটি কার্ষ্যে রঘুনাথের অসাধারণ বুদ্ধি ও স্মৃতি শক্তি প্রাখ্য্য এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের১৫ পরিচয় পাইয়া তাহাকে ন্যায় শান্ত্র পড়াইতে আরম্ভ করেন।”১৬ এই চতুষ্পাঠী রত প্রসবিত্রী; রঘুনাথ ব্যতীত স্মৃতিতত্বকার রঘুনন্দন, প্রসিদ্ধ নৈয়ায়িক ভবানন্দ, কৃষ্ণঠানন্দ আগমবাগীশ, হরিদাস ভন্টাচার্ধ্য প্রভৃতি এই টোলেই অধ্যয়ন করেন; সর্বশেষে এই টোলে অপর একজন ছাত্র কিয়ৎকাল অধ্যয়ন জন্য প্রবিষ্ট হন, যাহার নিকট ক্ষুরধার বুদ্ধি রঘুনাথের প্রতিভাও মলিন হইয়া পড়িত, এই অল্প বয়স্ক ছাত্র ভুবন বিখ্যাত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ৷ ইহার সম্পর্কে এস্থলে দুই একটি কথা লিখিয়া লেখনী পবিত্র করিতেছি। শ্রীহট্টের ঢাকাদক্ষিণ শ্রীহট্ট ভূমি বৈষ্ব প্রসূতি । শ্রীহট্রের ইহা পরম সৌভাগ্য যে, বঙ্গ দেশের গৌরবস্তত স্বরূপ মহাপুরুষগণ এই শ্রীহস্ট ভূমেই প্রাদুর্তৃত হইয়াছিলেন। শ্রীহন্ের মধ্যে ঢাকাদক্ষিণকে পুণ্যভূমি বলিতে আপত্তি নাই; এক সময় কুমারিকা অন্তরীপ হইতে হিমালয়ের পাদদেশ পর্য্যন্ত এবং শ্রীহট্ট হইতে গুজরাটি পর্য্যন্ত যাহার প্রেমহিন্লোলে প্রকম্পিত হইয়াছিল, সেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে এই ঢাকাদক্ষিণের শ্রীবিগ্রহ বলিয়া গৌরব করিতে আমাদিগকে কেহ বারণ করিতে পারিবে না। আমরা বংশ ও জীবন বৃত্তান্ত ভাগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পবিত্র গুণগাথা গান করিব বলিয়া স্থির করিলেও এস্থলে বলা অপ্রাসঙ্গিক হইবে না, এই শ্রীহস্ট তাহার পিতৃ ও মাতৃভূমি । পিতা জগন্নাথ মিশ্র শ্রীহস্টরের ঢাকাদক্ষিণে এবং মাতা শচীদেবী জয়পুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। “শ্রীবাস পণ্ডিত আর শ্রীরাম পৰ্তিত। ১৪. রঘুনাথ শিরোমণির কাহিনী শ্রীযুক্ত নগেন্দ্র নাথ বসু প্রণীত “বঙ্গের জাতীয় ইতিহাসে” ২য় ভাগের ৩য় অংশে ১৮৭-১৯০ পৃষ্ঠায় লিখিত হইয়াছে; উদ্ধত অংশ উক্ত ইতিহাস হইতেই গৃহীত হইল। বঙ্গীয় ১৩১১ সনের ১ম সংখ্যা “সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকায়” রঘুনাথ শিরোমণি প্রবন্ধ আমরা প্রকাশ করিয়াছিলাম, তাহা হইতেও কোন কোন স্থল উদ্ধাত হইবে। ১৫. “প্রসিদ্ধ আছে, পঞ্চখণ্ডে অবস্থান কালে পঞ্চম বর্ষে নিজ গ্রামস্থ শিবরাম তর্কসিদ্ধান্তের টোলে অধ্যয়নার্থ প্রেরিত হইয়া দুই দিবসে স্বরবর্ণের পরিচয় ও অভ্যাস হওয়ার পর ব্যপ্ন বর্ণ পরিচয় কালে রঘুনাথ অধ্যাপককে প্রশ্ন করেন যে, “ক” “খ” ইত্যাদি ক্রমে না পড়িয়া “খ” “ক” “জ” “ট” ইত্যাদি ক্রমে পড়িলে কি দোষ হয়? আর দুইটি “ন” তিনটি “শ” ও দুইটি “ব” কেন? “দ্বিতীয়তঃ রঘুনাথ মাতার আদেশে একটি টোল হইতে আগুণ আনিতে গিয়া একটি ছাত্রকে বারম্বার বিরক্ত করায় ছাত্রটি এক হাতা জ্লিত অঙ্গার লইয়া তাহার সম্মুখে ধরিল, বালক রঘুনাথ উপায়ান্তর না দেখিয়া এক অঞ্জলি বালুকা হাতে লইয়া অগ্নি লইবার জন্য প্রস্তুত হইলেন। এ সময় সার্বভৌম মহাশয়ও তথায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি বলিলেন, "কালক্রমে এই ছেলেটি এক রত্ব হইবে।' প্রসঙ্গ ক্রমে তৎকালে তথায় রঘুনাথ সম্বন্ধে মহাশয়ের শ্রুতিগোচর হইয়াছিল ।”-টীকা,-বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস। ১৬. বঙ্গের জাতীয় ইাতিহাস। “রতুগর্ভ আচার্ধ্য বিখ্যাত তার নাম | সপ্তম অধ্যায় : ইটার রাজা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৬৯ শ্রীচন্দ্রশেখর দেব ব্রেলোক্য পূজিত! ভবরোগ নাম বৈদ্য মুরারি নাম যার । শ্রীহন্টে এ সব বৈষ্ঞণবের অবতার॥”-_চৈতন্য ভাগবত । এই উদ্ধৃত পদ্যে যে সকল মহাত্মার নাম দৃষ্ট হইতেছে, তন্ধ্যে এক মুরারি গুপ্ত ব্যতীত আর সকলই ঢাকাদক্ষিণবাসী ছিলেন; কেবল ইহারাই নহেন, চৈতন্য ভাগবতেই লিখিত রহিয়াছেঃ_ প্রভুর পিতার সঙ্গে জন্ম এক গ্রাম! তিন পুত্র তার কৃষ্ণ-পদ-মকরন্দ। কৃষ্ঠানন্দ, জীব, যদুনাথ কবিচন্দ্রা” এই রতুগর্ভ শ্রীমদাগবতের অধ্যাপক ছিলেন। মফঃস্বলের উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গ প্রতিভা ক্ষুরণের ক্ষেত্র বলিয়া যেমন বর্তমানে কলিকাতায় গমন করেন, তৎকালে প্রতিভাশালী ব্যক্তিগণ তন্রপ নবদ্বীপে চলিয়া যাইতেন; রতুগর্ভ আচার্ধ্যও পুত্রপরিবার সহ তাই নবদ্বীপে গিয়া ভাগবতের টোল খুলিয়াছিলেন। রতুবগর্ভের পুত্রগণও পরে পরম পণ্তিত ও ভক্তরূপে প্রখ্যাত হন; তন্মধ্যে পদকর্তা যদুনাথ কবিচন্দ্রের নাম করা যাইতে পারে । যে সকল মহাত্মা পদাবলী প্রণয়নে বঙ্গভাষা শিশুকে বাচাইয়া তুলিয়াছিলেন, তন্মধ্যে যদুনাথ একজন। যদুনাথের সুললিত পদাবলীর মাধূর্য্য পদকল্পতরু নামক প্রাচীন সংগ্রহ গ্রন্থের পাঠক বিদিত আছেন। মুরারি গুপ্তের বাড়ী ঢাকাদক্ষিণ হইতে বহুদূরে ছিল না, এবং খুব সম্ভব যে, ব্রাহ্মণভূমি ঢাকাদক্ষিণের টোলেই বিদ্যাচচ্চা করিতেন; পরে নবদ্বীপে গমন করিয়াছিলেন । এই মুরারি গুপ্ত যে কেবল শ্রীচৈতন্যের এক প্রধান ভক্ত ছিলেন, তাহা নহে, তদ্বযতীত ইনি সর্বর্ব প্রথমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চরিত গাঁথা রচনা করেন এবং কয়েকটি প্রাঞ্জল পদ প্রণয়নে শিশু বঙ্গভাষাকে চির গৌরবাবিত করিয়া রাখিয়াছেন। তৎকালীন ঢাকাদক্ষিণ কিরূপ ছিল? সাম্প্রদায়িক বিপ্রবর্গের আদি ভূমি পঞ্চখণ্ড এই ঢাকাদক্ষিণেরই সংলগ্ন; উভয় স্থানের টোল সমূহে বহু ছাত্র অধ্যয়ন করিত। অধ্যাপকের পুজার পুষ্পচয়নে দলে দলে সকলে সকালে যখন বাহির হইত এবং পুণ্য নদী বরবক্রের ঘাটে দলে দলে যখন স্নানার্থ যাইত, তখন এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যাইত। পরম্পরে দেখা হইলেই বিদ্যাচচ্চা চলিত। টোলে টোলে ছাত্র মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাইত। তৎকালে ছাত্র প্রকৃতির এই চিত্র নবদ্বীপে বিশেষ ভাবে পরিস্ফুট হইয়াছিল। এই গৌরবাবিত ঢাকাদক্ষিণে শ্রীমহাপ্রভুর পিতামহ উপেন্দ্র মিশ্র বাস করিতেন,১৭ শ্রীজগন্নাথ মিশ্র তাহারই অন্যতম পুত্র। শ্রীচেতন্যের পিতা-মাতা জগন্নাথ মিশ্র বাল্যবধিই প্রতিভাশালী ছিলেন, পিতা তাহার বিদ্যাবৈভব বিবর্দিত করিতে, তাহার উদীয়মান প্রতিভাকে আরও প্রভাবিত করিয়া তুলিতে, প্রতিভার ক্ফুরণ ক্ষেত্র নবদ্বীপে প্রেরণ করেন। জগন্নাথ মিশ্র অত্যল্প কাল মধ্যেই তথায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতঃ পুরন্দর পদবি প্রাপ্ত হন। তৎকালে সমগ্র বঙ্গদেশে জ্যোতিষ শান্ত্রে যাহার তুল) পণ্তিত কেহ ছিল না, সেই অমিত-ধী ১৭. “শ্রীহট্্র নিবাসী শ্রীউপেন্্ মিশ্র নাম । পণ্ডিত সদগুণধনী বৈষ্জব প্রধান॥ ' -শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত। ২৭০ শ্রীহ্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড নীলাম্বর চক্রবর্তী শ্রীহট্টের তরফ পরগণাস্থিত জয়পুরবাসী ছিলেন। ঢাকাদক্ষিণ, পঞ্চখণ্ডের ন্যায় জয়পুরও বৈদিক ব্রাহ্মণ ভূমি । জয়পুর তৎকালে এক প্রধান নগর ছিল; এক ভীষণ দুর্ভিক্ষে জয়পুরের ভয়ানক ক্ষতি হয়, স্থানান্তরে তাহা উক্ত হইবে । নীলাম্বর চক্রবর্তী সেই দুঃসময়ে জয়পুর হইতে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা লইয়া নবদ্বীপে গমন করেন। তথায় কিছুকাল বাস করার পর স্বীয় জ্যেষ্ঠা কন্যা বিবাহযোগ্য হইলে, তিনি একটি বরের অন্বেষণ করিতেছিলেন। সেই সময় শ্রীহস্ট্রের বৈদিক কুল-ভূষণ জগন্নাথ মিশ্র “পুরন্দর” পদবি লাভে নবদ্বীপের পঞ্তিত মণ্ডলীতে খ্যাতাপন্ন হইয়াছেন; নীলাম্বর পরম পরিতোষ পূর্বক এই সুপাত্র পুরন্দরের করেই স্বীয় কন্যা শচীদেবীকে সমর্পণ করেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই শচী পুরন্দরের পুত্ররূপে প্রাদুর্ভূত হইয়া ধরা পবিত্র করেন। সুতরাং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীহট্টবাসীগণ তাহাদের নিজের বলিয়া গৌরব করিতে কেহই বারণ করিতে পারিবে না। ইতিপৃবের্ব রত্বগর্ত আচার্য্যের নাম করিয়াছি, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু একদা নদীয়ার পথ দিয়া যাইতে যাইতে ইহার ভাগবৎ ব্যাখ্যা শুনিতে পাইয়া হঠাৎ ভগবৎ প্রেমে বিহ্বল হইয়া রাস্তায় পতিত হইয়াছিলেন। শ্রীহস্টবাসীর হরি কথা শ্রবণে সেই সর্ব্ব প্রথম তাহার কৃষ্ণপ্রেমের পরিস্ফুরণ। রঙ্গ করিয়া শ্রীহট্রবাসী শ্রীবাস পপ্তিতকেই তিনি বলিয়াছিলেন__“কালে আমি এমত বৈষ্ণব হইব যে আজ ভব আদি আমার দ্বারস্থ হইবেন ।” শুনিয়া শ্রীবাস ইহাকে নিমাইর চাঞ্চল্য তৎকালে বহুতর শ্রীহস্বাসী নবদ্বীপে থাকিতেন, “উদ্ধতের শিরোমণি' নিমাই পূর্ববঙ্গ পরিভ্রমণের পর নবদ্বীপে গিয়া, ইহাদিগকে তাহাদের কথ্য ভাষার অনুকরণ করিয়া বিদ্রাপ করিতেন। মহাপ্রভুর বিদ্রীপের তীব্রতায় শ্রীহট্টবাসীরা বাহ্যে যেন চটিয়া উঠিতেন ও বলিতেনঃ--“বল দেখি নিমাই, তুমি কোন দেশীয়? তোমার মা এবং বাপ, তোমার মেসো চন্দ্রশেখর, তোমার সতীর্থ মুরারি গুপ্ত প্রভৃতি সকলই শ্রীহন্টবাসী; তুমি শ্রীহট্টবাসীর সন্তান হইয়া শ্রীহন্ট্রের ভাষা লইয়া বিদ্রুপ করা কি শোভা পায়?” এ সব ঘটনা কিঞ্চিৎ পরবর্তী হইলেও এস্থলে বলিতেছি তাহার কারণ, তদীয় যত কিছু দৌরাত্ম্য, তাহা আপন দেশীয় ও আপনজনের প্রতিই প্রকৃত পক্ষে যাহারা তজ্জন্যে মন্ধান্তিক পীড়া অনুভব না করিত, তাহাদের প্রতিই প্রযোজ্য হইত। এই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ব্যাকরণাদির অধ্যয়ন সমাপন করিয়া কিছুদিন বাসুদেব সাবর্বভৌমের টোলে ন্যায় শাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়াছিলেন, তখন শ্রীহট্টবাসী কুশাগ্রবুদ্ধি রঘুনাথ সহ তাহার যে রঙ্গ হইত, তাহারই একটা চিত্র এস্থলে উল্লেখ করিব। রঘুনাথ ও শ্রীচৈতন্য উত্তর স্থির করিতে পারিতেছিলেন না। নির্জনে এক বৃক্ষমূলে বসিয়া তিনি উত্তর চিন্তা করিতে করিতে একবারে ধ্যানমগ্ন হইয়া পড়েন। সূর্য্যদেব অনেক দূরে চলিয়া গিয়াছেন, শাখাস্থিত পক্ষীরা অঙ্গে বিষ্ঠা ত্যাগ করিয়াছে, এ সকল তিনি জানেন না,-উত্তর চিন্তায় তিনি বিভোর! শ্রীচৈতন্যদেব এমন সময় তথায় উপস্থিত হইলেন এবং তাহাকে তদবস্থ নৃষ্টে গাত্রে ঝারিস্থিত জলের ছিটা দিলেন। জলের শীতলতায় রঘুনাথের চিন্তাস্োত রুদ্ধ হইল, তিনি শ্রীচৈতন্যকে দেখিয়া হাসিলেন। শ্রীচৈতন্য বলিলেন--“তপব্বীর ন্যায় বসিয়া কি ভাবিতেছ?' “তুমি তাহার কি বুঝিবেঃ'- রঘুনাথ উত্তর করিলেন। শ্রীচৈতন্য দেব প্রশ্রটি শুনতে বিশেষ জেদ করাতে রঘুনাথ সপ্তম অধ্যায় : ইটার রাজা শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ২৭১ অগত্যা তাহা বলিলেন। প্রশ্ুটি শ্রবনমাত্র শ্রীচৈতন্য তাহার উপযুক্ত উত্তর দিয়া বলিলেন,_- “এরই জন্য এত চিন্তা?” রঘুনাথ বিম্মিতভাবে বলিলেন-_- “নিমাই! তুমি কি দেবতা?” “ইহার পর আর একটা ঘটনায় রঘুনাথ শ্রীচৈতন্য দেবও এ সময় ন্যায়ের টীকা লিখিতেছিলেন; রঘুনাথ কোনক্রমে জানিতে পারিয়া, এই গ্রন্থখানা তাহাকে দেখাইতে অনুরোধ করেন। নিমাই স্বীকৃত হইয়া একদিন জাহবী সন্নিধানে রঘুনাথকে তাহা পাঠ করিয়া শুনাইতে আরম করেন।” “রঘুনাথের মনে বিশ্বাস ছিল যে, তাহার কৃত গ্রন্থখানা অদ্ধিতীয় হইবে, ইহার দ্বারা তিনি খ্যাত হইবেন। কিন্তু নিমাই কৃত গ্রন্থে অদ্ভুত বিচার পদ্ধতি, অচিত্তিত সিদ্ধান্ত শ্রবণে তাহার সে ভরসা চালিয়া গেল। চিরপোষিত আশা মিলাইয়া গেল, তাহার ধৈর্য্য বিদুরিত হইল এবং চক্ষু ছল ছল করিতে রাগিল। এতদষ্টে করুণ-হৃদয় নিমাই বড় ব্যথিত হইলেন এবং বলিলেন._-“ভাই! তুমি কীদিতেছ কেন?” রঘুনাথ বলিলেন--“আমার আশা ছিল, ন্যায়ের গ্রন্থ দ্বারা জগতে বিখ্যাত হইব, কিন্তু তোমার এ গ্রন্থ থাকিতে আমার লেখায় কেহ দৃকপাত করিবে না।” তজ্জন্য এত ভাবনা কেনঃ এই অফল শাস্ত্রের আবার ভাল মন্দ কি?” সহাস্যে ইহা বলিয়াই নিমাই স্বরচিত টীকা খানা জাহৃবী জলে বিসঙ্জন করিলেন।১৮ এইরূপে জগৎ এক মহামূল্য সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত হইল । এই সময় হইতে নিমাই ন্যায়শাস্ত্র অধ্যয়নও ত্যাগ করিলেন । রঘুনাথের সেই গ্রন্থই পরে পূর্ণ হইয়া “দীধিতি' নামে খ্যাত হয়।” “রঘুনাথ প্রতিভাবলে বাসুদেবকে চমকিত করিয়াছিলেন, তিনি সাবর্বভৌম কৃত টীকায় বহু দোষ বাহির করিয়া দিয়াছিলেন। এমন কি, নিজ পাঠ্যগ্রন্থ গাঙ্গেশোপাধ্যায় কৃত “চিন্তামণি” গ্রন্থেও দোষ প্রদর্শন করেন। নবদ্বীপে তখন ন্যায়ের উপাধি-পরীক্ষা ছিল না। রঘুনাথ নবদ্বীপে পাঠ সমাপন পূর্বক মিথিলায় মহাপপ্তিত পক্ষধর মিশরের নিকট অধ্যয়নার্থে গমন করেন ।”১৯ রঘুনাথ মিথিলায় রঘুনাথের একটি চক্ষু ছিল না। পক্ষধরের টোলে তিনি উপস্থিত হইলে একটি ছাত্র জিজ্ঞাসাচ্ছলে ব্যঙ্গ করিয়া বলিলঃ--“সহস্রাক্ষ ইন্দ্র ও ব্রিনেত্র বিরূপাক্ষকে সকলেই জানে, এক লোচন তুমি কে হেঃ”২০ রঘ্ুনাথ ছাত্রের বিদ্ধপে ক্রুদ্ধ হইয়া উত্তর দিলেন,_- “ইন্দ্র সহস্রাক্ষ, শিব ব্রিনয়ন, ইহা সত্য; কিন্তু ন্যায়শাস্ত্রে তোমরা অন্ধ; ন্যায়শান্ত্রের প্রতি আমারই মাত্র একদৃষ্টি ।”২১ রঘুনাথ টোলে প্রবিষ্ট হইলেন। অনতিবিলম্বেই ততপ্রতি পক্ষধরের দৃষ্টি আকৃষ্ট হইল; নানাদেশীয় ছাত্রগণ তাহার অদ্ভুত প্রতিভা দর্শনে বিস্মিত হইল । মিথিলায় অবস্থানকালে তাহার ১৮. “সেইক্ষণে দয়ানিধির দয়া উপজিল। ১৯. বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকায় আমাদের প্রকাশিত প্রবন্ধ । ২০. “আখগুলঃ সহস্াক্ষো বিরুপাক্ষস্ত্রিলাচনঃ। অন্যে দ্বিলোচনাঃ সব্রবে কো ভবানেকোলোচনঃ” ২১. “আখগুলঃ সহস্রার্শে; বিরূপাক্ষন্ত্রিলোচনঃ।" যুয়ৎ বিলোচনাঃ শাস্ত্রে ন্যায়েহমেক লোচনঃ” ২৭২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড মাতৃবিয়োগ হয় । এই সময় পক্ষধর মিশ্র “সামান্য লক্ষ্ষণা” নামে গ্রন্থ লিখিতেছিলেন, রঘুনাথ এই গ্রন্থে একদা দোষ ধরেন। ইহাতে মিশ্র রঘুনাথকে বলিলেন,_-“কাণা, তুমি কি বিশেষ হেতুতে “সামান্য লক্ষণা" অস্বীকার কর?”২২ কাণা বলিলে রঘুনাথের মনঃপীড়া জন্মিত, তিনি অধ্যাপকের কথায় উত্তর করিলেন,_-“যিনি অন্ধকে চক্ষুম্মান করেন, শিশুরও জ্ঞাননেত্র উন্মীন করেন, তিনিই যথার্থ অধ্যাপক, তদ্যতীত (অন্যায় তর্কপ্রিয়) অন্যে অধ্যাপক নামধারী মাত্র ।”২৩ এই সুত্রে উভয়ের মধ্যে বিচার আর্ত হইল । রঘুনাথ “অল্লকাল পরেই শাস্ত্রীয় বিচারে পক্ষধরকে পরাস্ত করিয়া নবদ্ীপের প্রাধান্য স্থাপন এবং ভবিষ্যতে ছাত্রগণকে ন্যায় শিক্ষা ও উপাধি লাভের জন্য আর মিথিলায় যাইতে না হয়, সেই উদ্দেশ্য সম্যক সাধন করিয়া২৪ মিথিলা হইতে ফিরিয়া আসেন। তিনি অধ্যয়নচ্ছলে প্রশ্ন করিয়া অধ্যাপক পক্ষধরকে অনেকবার বিচারে পরাস্ত করিয়াছিলেন, তাহাতে অধ্যাপক তাহার উপর পরম সত্তুষ্ট হন, এবং তাহাকে ছাত্রগণ মধ্যে সব্ববোচ্চ আসন প্রদান করেন; কেননা পঞ্তিতেরা পুত্র ও শিষ্যের নিকটেই পরাজয় প্রার্থনা করেন,-- “সর্বত্র জয়মিচ্ছন্তি পুত্রাং শিষ্যাৎ পরাজয়ম্‌”২৫ রঘুনাথ মিথিলা হইতে “শিরোমণি” উপাধি লাভ করিয়া নবদ্ীপে প্রত্যাগমন পূর্বক হরিঘোষ নামক জনৈক সম্পন্ন ব্যক্তির অর্থ সাহায্যে ন্যায়ের চতুষ্পাঠী স্থাপন করেন। এই সময়ে বাসুদেব সাব্র্বভৌম, (উড়িষ্যার রাজা প্রতাপ রুদ্রের বৃত্তি প্রাপ্ত হইয়া) উড়িম্যা দেশে সপরিবারে গমন করেন। কিন্তু রঘুনাথের আবির্ভাবে তাহাতে নবদ্বীপের কিছুমাত্র ক্ষতি হয় নাই। দেখিতে দেখিতে রঘ্বনাথের টোল ছাত্র সংখ্যায় পরিপূর্ণ হইল । তখন হইতেই মিথিলা-বিজয়ী শিরোমণি নবদ্বীপে পরীক্ষা গ্রহণ ও উপাধি দানের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। রঘ্ুনাথের গ্রহ্থ কেহ কেহ বলেন যে, রঘুনাথ উত্তর দিয়াছিলেনঃ-_ “নলদ্বীপ কুশ্বীপ নবদ্বীপ নিবাসিনঃ। তর্ক সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত শিরোমণি মনীষিণঃ। এই শ্লোকটিতে পূর্বোক্ত ব্যঙ্গের যথার্থ উত্তর হয় না; অপিচ ইহাতে নলদ্বীপ ও কুশদ্বীপবাসী তর্কসিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তোপাধি দুইজন পঞ্তিতের নাম অনাবশ্যক ও অপ্রাসঙ্গিক রূপে উক্ত হইতেছে। দ্বিতীয়তঃ রঘৃনাথ মিথিলায় যাওয়া মাত্রই উপাধি প্রাপ্ত হন নাই; শ্লোকটিতে শিরোমণি উপাধির উল্লেখও আছে। রঘুনাথের জন্ম শ্রীহত্রে হইলেও, তীহাকে নবদ্ধীপ প্রবাসী বা নিবাসী বলা অসঙ্গত নহে। কিন্তু এই শ্রোকটি রঘুনাথের এই সময়কার প্রত্যুত্তর নহে। ২২. “বক্ষোজপানকৃৎ কাণ সংশয়ে জাতি স্ফুটম। সামান্য-লক্ষণা কম্মাদকম্মাদবলুপ্যতে!” ২৩. “যোহন্ধং করোত্যক্ষিমন্তং যশ্চ বালং প্রবোধয়েৎ। তমেবাধ্যাপকং মন্যে তদন্যে নাম ধারিণঃ1” ২৪. “মিথিলার প্রাধান্য রক্ষার্থে পঞ্ডিতগণ কোন ছাত্রকে ন্যায়ের গ্রন্থ নিজদেশে নিতে দিতেন না। রঘুনাথ দেশে আসিবার সময় অধ্যাপক বলিলেন-“এ দেশ হইতে পুস্তক লইয়া যাইবার রীতি নাই।” রঘুনাথ বলিলেন-“আমার নাম রঘুনাথ, বাচিয়া থাকিলে আর বঙ্গদেশীয়কে মিথিলায় ন্যায় পড়িতে আসিতে হইবে লা।” ইহার কারণ, রঘৃনাথের অলেক ন্যায় গ্রন্থই কষ্তস্থ হইয়াছিল । এই উপায়ে বাসুদেব সাব্্বভৌমও বঙ্গদেশের ন্যায় লইয়া যান । রঘুনাথের ছ% গ্রন্থের অভাব সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়।”-সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা । ২৫. বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস-২য় ভাগ। সপ্তম অধ্যায় : ইটার রাজা শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২৭৩ রঘুনাথের বিদ্যাবত্তা ও বুদ্ধিমত্তার বিষয় যে কেবল শ্রুতি পরম্পরায় চলিয়া আসিতেছে, তাহা নহে,__গঙ্গেশোপাধ্যায় কৃত “চিন্তামণি” গ্রন্থের “দীধিতি” নান্নী টীকা, উদয়নাচার্য্যের “গুণ-কিরণাবলী”র ও বল্পভাচার্য্য কৃত “লীলাবতী'র টীকা, “প্রামাণ্যবাদ”, “নানার্থ বাদ”, “ক্ষণভঙ্গুর বাদ”, “আখ্যাত বাদ”, “পদার্থ খণ্ডন”, “আত্মতত্্ব বিবেক”, প্রভৃতি ততপ্রণীত ্রন্থগুলি তাহার অসামান্য বিদ্যাবস্তা ও ধীশক্তির পরিচয় প্রদান করিতেছে। রঘুনাথের কাব্য শান্ত্রেও অধিকার ছিল; প্রবাদ আছে যে, একদা চতুষ্পাঠীতে কয়েকজন অধ্যাপক আসিলে পক্ষধর রঘ্বুনাথকে জিজ্ঞাসা করেন, “ন্যায় শান্ত্র ভিন্ন অন্য কোনও শাস্ত্রে তোমার অধিকার আছে?” রঘুনাথ বলিয়াছিলেন-_- “তর্কে আমার বুদ্ধি কর্কশ হইলেও, কাব্যশান্ত্রালোচনা কালে আমার মতি সুকোমল, তন্ত্রশান্ত্রে সদা যন্ত্রিত এবং কৃষ্ণতত্বালোচনা যত বলিয়া জানিবেন।”২৬ এতদশ্রবণে পক্ষধর বলিলেন,_-“তুমি নৈয়ায়িক হইয়া কিরূপে কবিতা রচনা করিতে শিক্ষা করিলে?” পক্ষধরের প্রশ্নের উত্তরে রঘুনাথ উত্তর দিলেন,_যিনি “চিন্তামণি”র চিন্তায় বিব্রত, কবিত্‌ তাহার নিকট তুচ্ছ বই নহে; কালকুটপায়ী নীলকণ্ঠের সাপ খেলাইতে কি ভয়?'২৭ বস্তুতঃ রঘুনাথের কবিত্ প্রতিভাও ছিল, কিন্তু ন্যায়ের চচ্চায় ব্রতী থাকায় তিনি কবিতা রচনার অবসর পান নাই; এই জন্যই “নমঃ প্রামাণ্য বাদায় মৎকবিত্বাপহ্যরিণে” ইত্যাদি শ্লোকে প্রামাণ্যবাদকে নমস্কার করিয়াছেন । রঘুনাথের একটি চক্ষু ছিল না বলিয়া কেহ কেহ তাহাকে কাণা শিরোমণি বলিয়া উল্লেখ করেন। তীহার উপাধি শিরোমণি, শুধু এই “শিরোমণি” বলিলেই পণ্তিত সমাজ রঘুনাথ শিরোমণিকেই বুঝিয়া থাকেন। “ভাষাপরিচ্ছেদ”, “সিদ্ধান্ত মুক্তাবলী” প্রভৃতি প্রণেতা বিশ্বনাথ ন্যায়পঞ্চানন “ন্যায়সূত্র বৃত্তির” সমাপ্তিতে শ্রীমচ্ছিরোমণিবর”" বলিয়া, গদাধর ভট্টাচার্য্য “অনুমান খণ্ড দীধিতি”র টীকা প্রারভ্তে২৮ “শিরোমণি” বলিয়া ইহারই নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও গ্রন্থ পরিচয় দিয়া গিয়াছেন। স্বয়ং রঘুনাথও “আত্মতর্ত্ববিবেক” দীধিতিতে সগবের্ব আপনাকে “তার্কিক শিরোমণি” বলিয়া দিয়াছেন ।২৯ ক্ষণভঙ্গুরবাদের “দীধিতি প্রকাশ” ন'মীয় টীকা প্রান্তে তাহাকে “কাত্যায়ন খণিজমণি” বলিয়াছেন।৩০ শক্তিবাদ, বুযুৎপত্তিবাদ আদি বহু গ্রন্থপ্রণেতা দীধিতির টীকাকার গদাধর, শব্দশক্তি ২৬. “কাব্যেহপিকোমল ধিয়ো বয়মের নান্যে তর্কেহপি কর্কশ ধিয়ো বয়মের নান্যে। তন্ত্রেহপি যন্ত্রিতধিয়ো বয়মের নান্যে কৃষ্ঠেহপি সংযত ধিয়ো বয়মের নান্যে॥” ২৭. “কবিতৃং কিয়দৌন্নত্যং চিন্তামণি মনীষিণঃ। নিপীত কালকুটস্য হরস্যেবাহিখেলনমূঃ” ২৮. অভিবন্দ্য মুহুঃ সমাদরাৎ পদপক্কজযুগৎ পুরদ্বিষঃ। _ বিবৃণোতি গদাধরঃ সুধী রতিদুবের্বাধগিরঃ শিরোমণেঃ]' ২৯. “নি্ীয় সারং শান্ত্রাণাং তার্কিকাণাং শিরোমণি । আত্মতত্্ব বিবেকস্য ভাবমুদ্তাবয় ত্যসৌ?” ৩০. “কাত্যায়ন খনিন্গ মণেঃ ক্ষণভঙ্গুরবাদ-রহস্য শিরে:শ্রল্ণ | প্রকাশমধি দীধিতি তনুতে সুধীবর শ্রীল গদাধরঃ1” শ্ী্টের ইতিবৃকতপূর্বাংশ)-১৮ ২৭৪ শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিকা" ও “তর্কার্ণব” প্রণেতা জগদীশ, এবং “কারকচক্র” প্রণেতা ভবানন্দ সিদ্ধান্ত বাগীশ প্রভৃতি পণ্তিত মণ্ডলী এই শিরোমণির দীধিতির টীকা লিখিয়া কীর্তিমান হইয়াছেন। পাশ্চাত্য দার্শনিক পণ্তিতবর্গও শিরোমণির যথেষ্ট গুণগান করিয়া থাকেন। এতাদৃশ জগদিখ্যাত শিরোমণি শ্রীহট্টে জন্যগ্রহণ করিয়া বঙ্গদেশকে গৌরবাবিত করিয়াছেন। “রঘুনাথের ছাত্রগণের মধ্যে মথুরা নাথ ও রামজদ্র প্রধান। কেহ কেহ রামভদ্রকে রঘুনাথের পুত্র বলিয়া নির্দেশ করেন। রঘুনাথ আদৌ বিবাহ করেন নাই, তাহাকে বিবাহের কথা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি কহিতেন, পুত্র কন্যার জন্যই বিবাহের প্রয়োজন, ব্যুৎপত্তিবাদ আমার পুত্র এবং লীলাবতী আমার কন্যা, অতএব বিনা বিবাহেই আমার বিবাহের আশা ফলবতী হইয়াছে। আবার বিবাহের প্রয়োজন কি? রঘুনাথ আজীবন শান্ত্রালোচনাতেই কাটাইয়া খৃষ্টের ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে কলেবর পরিত্যাগ করেন।”৩১ রাজার পুত্রকন্যাদি আমরা রাজ-জামাতা রঘুপতির প্রসঙ্গে বহুদূরে আসিয়া পড়িয়াছি। সে যাহাহউক, রাজা সুবিদ নারায়ণ দ্বিতীয় কন্যা বরদা সুন্দরীকেও একটি সৎপাত্রে সমর্পণ করেন । কিন্তু দুর্ভাগ্য ক্রমে অল্পকাল মধ্যেই তিনি বাল বিধবা হন ও পিতৃগৃহে আসিয়া অবস্থিতি করেন। বরদা সুন্দরী একটি বৃহৎ দীর্ঘিকা খনন দ্বারা নিজ নাম চিরস্মরণীয় করিয়াছেন । এঁ দীর্ঘিকাকে লোকে “বলদা সাগর” বেরদা সাগর) বলিয়া থাকে । রাজার তৃতীয় কন্যা ভানুমতি, পদ্মিনী লক্ষণাবিতা পরমা সুন্দরী ছিলেন। তাহার সযত্বু নির্মিত একটি দীর্ঘথিকা আছে, তাহা “পদ্মদীত্বী” (পদ্মিনীর দীঘী) বলিয়া খ্যাত। রাজা সুবিদ নারায়ণের পুব্রগণের নাম যথাক্রমে সূর্য্য নারায়ণ, চন্দ্রনারায়ণ, শিবনারায়ণ ও কৃষ্ণ নারায়ণ । উঠিয়া গিয়া যথা সম্ভব রাজ্যের ভবিষ্যৎ শৃঙ্খলা করিয়া যাইবেন, তাহার এ বাসনা ছিল, কিন্তু দৈব দুরির্বপাকে তাহা পরিপূরিত হয় নাই। নব নির্মিত বাটা একটি দুর্গরূপে পরিণত হইতে পারে, সে উদ্দেশ্যে বাড়ীর চতুর্দিকে “গড়খাই” কাটাইযা মূন্ময় বড় (পরাটীর প্রস্তুত) করিয়াছিলেন। চতুমপার্্বর্তী থামগুলি এইজন্য “গড়গাও” নামে খ্যাত হইয়াছে। তিনি নূতন বাড়ীর সম্মুখে (পুরর্বদিগ্ভাগে) এক বৃহত্তর দীর্ঘিকা খনন করেন, ইহা “সাগর দীঘী” নামে খ্যাত হয়।৩২ এতত্ুল্য বৃহৎ দীঘী শ্রীহট্ট জিলার অধিক নাই। বাটিকার দক্ষিণ পশ্চিম কোণে রাজা বহুস্থান ব্যাপী এক পুশ্পোদ্যান প্রস্তুত করেন, পরে এঁ স্থানে একটি গ্রাম বসিয়া যায়, সেই গ্রামের নাম “ফুলবাড়ী ।” সে পুষ্পোদ্যানের ফুল ব্যবহারে লাগে নাই সে বাটিকায় রাজা যাইতে পারেন নাই, কালচক্রে সকলই ব্যর্থ হইয়া যায়। রাজকর্ম্মচারীগণ তল এন র্যা দর সর্ধপ প্রমাণ বীজ হইতে কিরূপে মহামহীরুহের উদ্ভব হয়, সুবিদ নারায়ণের রাজ্যবিনাশ-ঘটনা তাহার জলন্ত উদাহরণ । বৈদ্য-কুলতিলক উমানন্দ রাজা সুবিদ নারায়ণের মন্ত্রী ছিলেন। ইটার অন্তর্গত ডলাগ্ামে তাহার ৩১. শ্রীযুক্ত কান্তিচন্দ্র রাটি প্রণীত “নবদ্বীপ মহিমা” ৬০ পৃষ্ঠা । রঘুনাথের বংশ নাই, তীহার ভ্রাতার বংশাবলী “বঙ্গের জাতীয় ইতিহা শে” মুদ্রিত হইয়াছে; স্থানান্তরে তাং উদ্ধৃত হইবে। ৩২. এই দীর্ঘিকাতে সহস্রদল পদ্ম আছে। সপ্তম অধ্যায় : ইটার রাজা শ্রীহট্ের ইতিবৃত্ত ২৭৫ আবাস ভবন ছিল। বৈদ্যবংশোদ্তৰ “পাত্র” দেবানন্দ তৎ্সন্নিহিত কোন স্থানে বাস করিতেন ।৩৩ রাজ্যের প্রধান শান্তিরক্ষক পুবের্ব “পাত্র” বা “টলাপাত্র” উপাধি পাইতেন। রাজার তহশীল কর্মচারীর “মণ্ডল” উপাধি ছিল। “মণ্ডল ভূমি পরিমাপ করিতেন, গ্রামস্থ লোকদিগের মধ্যে বিচার করিতেন, সকল প্রজার কর একত্র করিয়া রাজকোষে প্রেরণ করিতেন; ব্যবসায়ের উপর দৃষ্টি রাখিতেন, পথ সংস্কার করিতেন এবং সীমা স্থির করিতেন ।৩৪ নারায়ণ নামে কায়স্থ কুলোভ্ভব এক ব্যক্তি সুবিদ নারায়ণের মণ্ডল ছিলেন।৩৫ রাজার প্রধান লেখকের “পুরকায়স্থ” পদবি ছিল; কায়স্থ বংশজাত গোবিন্দ এই পদে নিযুক্ত ছিলেন। শেষোক্ত দুইজনের বাসস্থান “মনুকূল” প্রদেশান্তর্গত স্থানে (-ইন্দানগরে) ছিল । রাজকীয় কার্ধ্য সম্পাদনার্থে তাহারা মন্ত্রীন্ভবনের সন্নিকটে সাময়িকভাবে বাস করিতেন। রাজপন্তিত পরাশর গোত্রীয়ও৬ ব্রহ্মানন্দ কাছাড়ি গ্রামবাসী ছিলেন। তদ্বতীত রাজার আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিলেন, তদীয় “ভাগ্তার” রক্ষকের “বিশ্বাস” উপাধি ছিল; পঞ্চেশ্বরবাসী রাজার বিশ্বাস বংশীয়গণ সসম্মানে উক্ত উপাধি ধারণ করিয়া আসিতেছেন। রাজার নাগ বংশীয় জনৈক কর্মচারীর প্রাপ্ত জায়গীর অধুনা “নাগের গাও” নাম প্রাপ্ত হইয়াছে। (চোরীদের করাত কুলাঞ্জলী নামক প্রাচীন গ্রন্থে কথিত হইয়াছে যে, একদা এক মহালয়া তিথিতে উমানন্দ প্রভৃতি কর্মচারী চতুষ্টয় সাগর দীঘীর তীরদেশ দিয়া যদৃচ্ছাক্রমে সভাপপ্তিত সমভিব্যবহারে রাজবাটী অভিমুখে যাইতেছিলেন, দীর্ঘিকা পার্থ উপনীত হইলে, তাহারা দেখিতে পাইলেন যে, বহুব্যক্তি একত্র তথায় স্নান তর্পণ করিতেছে । একজন মাত্র ব্রাহ্মণ এ বহু ব্যক্তিকে তর্পণ করাইতেছেন; ফলতঃ তাহাতে কোনরূপ শৃঙ্খলা ছিল না।৩৭ যাহারা তর্পণ করিতেছিল, তাহারা “সাহা বণিক” জাতীয় লোক । তর্পণার্থী বহুব্যক্তি একত্রিত হইলেও, তাহাদের মধ্যে ব্রাহ্মণের অল্পতা প্রযুক্ত পূর্বোক্ত রীতি অবলম্বন করিতে হইয়াছিল । এই কাণ্ড দর্শনে মন্ত্রী প্রভৃতির কৌতৃহল জন্মিল, কিন্তু অশুদ্ধ মন্ত্রে অবিধি অপ্রণালীতে শাস্ত্রীয় ব্যাপার চলিতেছে দেখিয়া সভাপণ্ডতিত ব্রহ্মানন্দ ক্ষুব্ধ হইলেন। সেইক্ষণে তিনি কৌতুকাঝিষ্ট মন্ত্রী প্রভৃতির অভিপ্রায়ানুসারে, সেই অজ্ঞ ব্রাহ্মণকে তর্পণের সুগুণালী বলিয়া দিলেন। যদিও এই ঘটনাটি যৎসামান্য, কিন্তু দুর্ভাগ্য বশতঃ ইহা রাজার কর্ণগোচর হইলে তিনি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হইলেন। ৩৩. কেহ কেহ বলেন, দেবানন্দ টলা গ্রামে বাস করিতেন। বর্তমানে ইটার টলা বলিয়া কোন গ্রাম পাওয়া যায় না! ইটার শ্রীযুক্ত রাম কমল শাস্ত্রী মহাশয় লিখিয়াছেন যে, “টলার বাড়ী" বলিয়া একথণ্ড ভূমি মাত্র আছে। ৩৪. স্বীয় রমেশ চন্দ্র দত্ত কৃত “ভারতবর্ষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস” ২৬ পৃষ্ঠা। ৩৫. নারায়ণ মণ্ডলের বংশীয়গণ এখনও আছেন, ইহাদের বংশপত্র শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত তৃতীয় ভাগের পরিশিষ্ট সংযোজিত হইবে। ৩৬. কথিত আছে যে, অপর গোত্রীয় দ্বিজবর্ণের সহিত সমাজ সংস্কার লইয়া রাজার মতানৈক্য হওয়ায় তাহাদের মধ্যে ষাহারা রাজকার্য্য করিতেন, তাহারা প্রায় সকলেই রাজকার্ধ্য হইতে অপসৃত হইয়াছিলেন; পরাশর গোত্রীয় দ্বিজবর্গের সহিত রাজার বিরোধ ছিল না। ৩৭. “এক দ্বিজ অতি উচ্চকণ্ঠে মন্ত্র কহে। যে যেমন পারে তাহা শুনিয়া ফুকারে॥ শরদ্ধাশুদ্ধ জ্ঞান নাহি নাহি বিধি তন্ত্র। যে যেম পারে সেই উচ্চারিছে মন্ত্র!” -কুলার্জীলী। ২৭৬ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড পক্ষাপক্ষ সর্ব্বত্রই আছে। মন্ত্রী প্রভৃতির ছিদ্রান্বেবী বিপক্ষগণ এই বিষয়ে প্রতিবাদী হইলে, রাজা সামাজিক বিচারে তাহাদিগকে দপ্তিত করিলেন। রাজার ন্যায়পরতা সব্বজন বিদিত ছিল, তথকালে তিনি অতিশয় বৃদ্ধ হইয়া পড়িলেও, সামাজিক রীতি নীতি রক্ষার প্রতি, উচ্ছঙ্খলতা নিবারণের প্রতি তাহার তীকষদৃষ্টি ছিল, তিনি মন্ত্রী প্রভৃতির অনুরোধেও ন্যায় ভরষ্ট হন নাই। কি সুত্রে কি হয় বলা যায় না; মন্ত্রী প্রভৃতি দুর্দৈব বশতঃই দোষ স্বীকার করিলেন না, অথবা রাজার কৃপাপ্রার্থী হইলেন না। অল্পদোষে গুরুদণ্ড ব্যবস্থিত হইয়াছে বলিয়া, আদিষ্ট সামাজিক দণ্ডও অগ্রাহ্য করিলেন। রাজা ইহাতে অতিমাত্র কোপাবিষ্ট হইলেন এবং তাহাদিগকে সমাজচ্যুত ও কর্মচ্যুত করিলেন। এইরূপে মন্ত্রী প্রভৃতি স্ব স্ব সমাজ হইতে পৃথক হইয়া পড়িলেন। ব্রন্মানন্দ দ্বিজই তীহাদের সাময়িক “ক্রিয়াদি” (শাস্ত্রোক্ত ব্যাপারাদি) সম্পাদনার্থ পুরোহিত বৃত হইলেন। এতিহাসিক তত্ানুসন্ধিৎসু ইটা নিবাসী শ্রীযুক্ত হর কি্কর দাস মহাশয় বিষয়ে আমাদিগকে লিখিয়াছেন-_“রাজা সুবিদ নারায়ণের সময়ে তাহার কর্মচারী একজন ব্রাহ্মণ সহ একদিন সাগর দীঘীর পারে ভ্রমণ করিতে ছিলেন, এই সময়ে এ দীঘীর অপর পারে একজন ব্রাহ্মণ তাহার যজমানগেণ)কে তর্পণ করাইতেছিলেন। কায়স্থ ভদ্র কর্মচারী সঙ্গীয় ব্রান্মণকে শুদ্ধরূপে মন্ত্র উচ্চারণের উপদেশ দিয়া তর্পণের কার্য্য করাইয়া দেওয়ার বিষয় অনুরোধ করেন এবং তদনুসারে ব্রাহ্মণটি এই কার্ধ্য করাইয়া দেন। এই বিষয় পরে মহারাজের কর্ণগোচর হওয়াতে কর্মচারীগণকে জাতিচ্যুত করেন । এই হইতে মুষ্টিমেয় সাহু জাতির উৎপত্তি হয়।” বস্তুতঃ বৈশ্য জাতীয় সাহা-বণিকদের সহিত সংসৃষ্ট হওয়ায় বৈদ্য ও কায়স্থ সমাজ হইতে শ্রীহন্টে এই “মুষ্টিমেয়” সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে । শ্রীহট্রের দেওয়ান এই ঘটনার তিন বৎসর পরে আর একটা ঘটনা উপস্থিত হইয়া রাজমন্ত্রীর বিবাদ চিরস্থায়ী করিয়া তুলিল। শ্রীহট্রের বৈদ্য বংশোত্তব দেওয়ান আনন্দ নারায়ণ রায়৩৮ শিবিকা রোহনে কাথস্থানে যাইতেছিলেন, তিনি দেখিতে পাইলেন যে, এক গৃহস্থ বাটিকার সম্মুখে-দর্শনার্থী জনগণের মধ্যে একটি সুলক্ষণ সম্পন্না পরমা সুন্দরী বালিকা দীড়াইয়া রহিয়াছে। অল্প বয়স্ক ১০১০৩৮১৯১০০ করিবেন, সন্কল্প করিলেন। দেওয়ান বাহাদুর অবশেষে অনুসন্ধানে জ্ঞাত হইলেন যে, উক্ত বালিকা সেন বংশোদ্তবা-__বৈদ্য জাতীয়া, সুতরাং তদীয় সঙ্কল্প সিদ্ধির পক্ষে কোন প্রতিবন্ধকই থাকিল না। এই যে বালিকা, ইহার পিতা রাজা সুবিদ নারায়ণ কর্তৃক, উমানন্দ ও সাহা-বণিক সংসৃষ্ট ঘটনায় পরিত্যক্ত ও সমাজচ্যুত হইয়াছিলেন। ইনিও একজন রাজকর্মচারী ও মন্ত্রী পক্ষীয় লোক ছিলেন। দেওয়ানের সেন-তনয়ার বিবাহ প্রস্তাবের সংবাদ সুবিদ নারায়ণ শুনিতে পাইয়া, যাহাতে এর বিবাহ না হয়, মন্ত্রী প্রভৃতি দেওয়ানের সহানুভূতি লাভ করিতে না পারেন, তজ্জন্য দেওয়ানকে ক্ষান্ত থাকিতে বিশেষ অনুরোধ করিলেন। কিন্তু ব্হ্গীনন্দ ঘটিত ঘটনা মূলতঃ যৎসামান্য ভাবিয়া দেওয়ান তাহাতে প্রতিনিবৃত হইলেন না,__নারী কুলোত্তমা লক্ষমীরূপিনী সেন-তনয়ার পাণি গ্রহণ ৩৮. ইহার রায় উপাধি হইতেই শ্রীহস্ট্রের রায়নগরের নাম হয়। রায় উপাধির বিষয় পৃবের্ব (৩য় অধ্যায়ে) কথিত £ । ৩৯. প্রবাদ এই যে, উত্ত বালিকা শান্ত্রোক্ত পদ্মিনী কন্যা হিলেন। কেবল আঙ্গিক লক্ষণ নহে, প্রবাদানুসারে ইহার মুখমণ্তলের চতুর্দিকে ভ্রমরবৃন্দ উড়িয়া বেড়াইতেছিল এবং বালিকা তাহা নিবপর্ণ করিতেছিল; এইরূপ অবস্থায় 5 €দন দেখিয়াছিলেন। সপ্তম অধ্যায় : ইটার রাজা শরীহত্টরের ইতিবৃত্ত ২৭৭ করিলেন । ইহাতে উমানন্দ প্রভৃতি আনন্দিত ও রাজা আপনাকে অপমানিত জ্ঞান করিলেন। রাজার জিগীষা প্রবর্ধিত হইল, তিনি স্বীয় মত প্রবল রাখিবার ও দেওয়ানকে অপদস্থ করিবার মানসে, পুষ্প পল্লবে শোভিত করিয়া দেওয়ানের বাসগ্রামে (রাঢ়ু দেশে) এই সংবাদ প্রেরণ করিলেন। তখন পবিত্রতার প্রতি লোকের তীক্ষু দৃষ্টি ছিল__-সমাজের বন্ধন কঠিনতর ছিল। রাজ প্রেরিত সংবাদে তত্রত্য সমাজপতি, সত্যাসত্য অবগতির জন্য পাঁচজন ব্রাহ্মণ ও পাচজন ভদ্র সন্তানকে শ্রীহস্টরে পাঠাইলেন। ইহারা শ্রীহট্টে আসিয়া সহরের বিশিষ্ট ব্রাক্মণ ও জদ্রলোক লইয়া এক সভা করেন, এবং দেওয়ানকে নির্দোষ জানিয়া স্বদেশে গমন করেন। এই কীর্তির মূলে রাজা সুবিদ নারায়ণের কার্ধ্য-তৎপরতা বিদ্যমান, রাঢ দেশীয় ব্যক্তিবর্গের মুখে দেওয়ান ইহা জানিতে পারিয়া, অতিশয় ত্রুন্ধ হইলেন। সুবিদ নারায়ণ বুঝিলেন যে, দেওয়ান ইহার প্রতিশোধ লইতে যত্তের ক্রটী করিবেন না। অতঃপর যখন বিবাদ অনিবার্ধ্য হইয়া উঠিল, তখন তিনিও সাহসের সহিত প্রকাশ্য বিবাদে প্রবৃত্ত হইলেন। যখন দিল্লীর সিংহাসন লইয়া হুমায়ুন ও শের শাহের প্রতিদবন্দিতা চলিতেছিল, সেই সময় শ্রীহ্টের বৃদ্ধ রাজা সুবিদ নারায়ণ ও যুবক দেওয়ান আনন্দ নারায়ণ পরস্পর পরস্পরের পতি হইয়া দীড়াইলেন। যাহারা রাঢ় দেশীয় প্রতিনিধিগণের সভায় আহুত হইয়া ব্রহ্মানন্দ ঘটিত ব্যাপার অমূলক বলিয়া সাক্ষ্য দিয়াছিলেন, তাহাদিগকেও এই সময় তিনি সমাজচ্যুত করেন । এই পরিত্যক্ত ব্যক্তিগণ তখন সুচতুর উমানন্দ কর্তৃক সাদরে পরিগৃহীত হওয়ায়, তাহাদের জনসংখ্যা বিশেষরূপে পরিপুষ্ট হয়। সমাভন্রষ্ট এই ব্যক্তিগণ কালক্রমে পৃথক হইয়া পড়ে ও প্রতিপক্ষ কর্তৃক সাহু নামে সংজ্ৰিত হয়। এই সব কারণ বশতঃই পূর্ব শ্রীহট্রে সাহু সমাজ ভুক্ত ব্যক্তিদের অদ্যাপি কথঞ্চিৎ প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়, ইহা তাহাদের পূর্ব্ব প্রভাবের পরিশেষ মাত্র । এই সম্প্রদায়ের বিষয় পরে কথিত হইবে। রাজার ভ্রাতৃ-বংশীয় শ্রীহট্ট বৈদিক সমাজের সম্পাদক ব্রন্মচালবাসী শ্রীযুক্ত কৃষ্ণ কিশোর চৌধুরী মহাশয় লিখিয়াছেনঃ--“সাহা জাতীয় কোন ব্যক্তিকে তর্পণের মন্ত্র বলিয়া দেওয়ার অপরাধে রাজা সুবিদ নারায়ণ কর্তৃক সমাজচ্যুত মন্ত্রী উমানন্দ প্রভৃতিকে উত্তর শ্রীহট্রের দেওয়ান আশ্রয় দেন। ইহাতে রাজা সুবিদ নারায়ণ সেই দেওয়ানকেও সমাজছ্যুত প্রচার করেন। সেই কারণে তীহার সহিত মনোবিবাদ হওয়ায়, উক্ত দেওয়ানের প্ররোচনায় দিল্লীশ্বরের আদেশে “রাজ্য পরিদর্শক” পাঠান বংশোদ্ভবৰ খোয়াজ ওসমান “রাজনগরের রাজাকে” দমন করিতে প্রস্তুত হন। রাজনগরের পূরর্ব-দক্ষিণ কোণে শ্রীসূর্য্য মৌজায় খোয়াজের গড়ের চিহ্ পরিলক্ষিত হয়। রাজার তিন কন্যা ছিলেন, সেই সময়ে কনিষ্ঠা কন্যা ভানুমতীর রূপ লাবণ্যের কথা খোয়াজের শ্রুতি গোচর হইলে, তিনি দিশ্লীশ্বরের জন্য উক্ত কন্যা গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক হন। এতৎ শ্রবণে রাজা অতিশয় করুব্ধ হইয়া উঠেন, তাহাতেই অবিলম্বে যুদ্ধ হইবার সম্ভাবনা হয় ।'৪০ রাজনগরের যুদ্ধ সুবিদ নারায়ণের সহিত দেওয়ানের বিবাদ উপস্থিত হইলে, দেওয়ান দিল্লীতে এই ৪০. উপরি কথিত বিবরণ সহ বিদ্যালয় পাঠ্য “আসাম প্রদেশের বিশেষ বিবরণ” পুস্তিকা ও কুলাঞ্জলী গ্রন্থের এঁক্য আছে। উদ্ধৃত বিবরণে তর্পণের মন্ত্র বলিয়া দেওয়ার কথা লিখিত আছে, উমানন্দের অভিপ্রয়ানুসারে ব্রহ্ষানন্দই মন্ত্র বলিয়া দেন, ইহা পৃবের্ব বলা হইয়াছে। বৈদিক সংবাদিনী গ্রন্থে “রাজ্য পরিদর্শক” বলিয়া খোয়াজ ওসমানের কথা ও রাজকন্যা হরণের বৃত্তান্ত আছে, কিন্তু গ্রন্থকার মুর্শিদাবাদের উন্মেখ করিয়া ভমে পড়িয়াছেন। উক্ত গ্রন্থে এইরূপ অনবধানতার আরও উদাহরণ আছে । ২৭৮ শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড অভিযোগ করেন যে, রাজা রাজস্ব আদায় ক্রমে সমস্তই আত্মসাৎ করিতেছেন, দুর্গ সংস্কার ও সৈন্য বৃদ্ধি করিতেছেন ও বিদ্রোহী হইয়া দাড়াইয়াছেন। এই অভিযোগ উপস্থিত হইলে, তাহাকে দমনের জন্য দেওয়ান আদিষ্ট হন। “রাজ্য পরিদর্শক” খোয়াজ ওসমান সহসা রাজাকে আক্রমণ করিতে সাহস করেন নাই। দেওয়ানের পুনঃ পুনঃ উত্তেজনায় তিনি অবশেষে রাজবাটা আক্রমণে উদ্যত হন। রাজা সুবিদ নারায়ণ গুপ্তচর মুখে সমস্ত জ্ঞাত ছিলেন এবং তিনি পুর্ব হইতেই প্রস্তুত হইয়াছিলেন। দেওয়ানের বিশেষ উদ্যোগে খোয়াজ ওসমান যুদ্ধার্থে ধাবিত হইলে অনতিবিলম্বেই যুদ্ধ আরম্ত হয় । দুই দিন যুদ্ধ হইয়া গেল, উভয় পক্ষেরই সৈন্যগণ হতাহত হইল, কিন্তু মোসলমান সৈন্য দুর্গ জয় করিতে সমর্থ হইল না। তৃতীয় দিবসে মহাবিক্রমে তাহারা পুনবর্ধার দুর্গ আক্রমণ করিল, রাজার প্রধান সেনাপতি জয়সিংহ পরাভূত হইয়া পলায়নপর হইলেন, সৈন্যগণ মুহূর্ত মধ্যে ছিন্ন ভিন্ন ও অদৃশ্য হইয়া গেল। দুর্দান্ত পাঠানগণ তখন জয়োল্লাসে রাজবাটী আক্রমণার্থে ধাবিত হইল, কিন্তু রাজবাটীতে প্রবেশ করিতে সমর্থ না হইয়া অবরোধ করিয়া রহিল। পঞ্চম দিবসে উভয় পক্ষে পুনবর্বার যুদ্ধ আরশ হইল, রাজা স্বয়ং সেনাপতি রূপে সৈন্য পরিচালন করিয়া অতুল্য সাহসে যুদ্ধ করিতে লাগিলেন। তাহার সৈন্যের উৎকট আস্ফালন, রণমাতঙ্গের গভীর বৃংহন ও অশ্বারোহী সৈন্যের তুরঙ্গগণের কর্কশ হ্রেষারব ইত্যাদিতে রণস্থল তুমুল কোলাহল পূর্ণ হইয়া উঠিল। বিজয়ভেরী বাজিতে লাগিল, উৎসাহে উল্লাসে সৈন্যগণ নাচিতে লাগিল, বিপক্ষ বিদ্রাবিত করিতে সকলেই উৎসুক হইল । তীরে তীরে রণক্ষেত্র কণ্টকাকীর্ণ হইল, অসি, শূল ও গুলির আঘাতে উভয় পক্ষের সৈন্য ও তুরঙ্গ-মাতঙ্গাদি ছিন্ন ভিন্রাঙ্গ হইয়া চতুর্দিকে প্রধাবিত হইতে লাগিল, রণক্ষেত্রের অবস্থা দুর্ণিরীক্ষ্য হইয়া উঠিল। রাজার অগ্নিময় উৎসাহ বাক্যে, অতুলনীয় শৌর্য্য বিকাশের জ্বলন্ত উদাহরণে অনুপ্রাণিত হইয়া সৈন্যগণ প্রাণপণে যুঝিতে লাগিল; কিন্তু হায়, সে অতুল উদ্যম ব্যর্থ হইল, প্রখর দাবাগ্নিকে প্রবল বর্ষা প্রবাহ নিব্্বাপিত করিয়া দিল, রাজার সৈন্যসংখ্যা প্রতিক্ষণে ক্ষয় পাইতে লাগিল, কিন্তু এক প্রাণীও পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিল না। ইটার উদীয়মান তপন অন্তমিত হইল, রাজা সেই যুদ্ধে নিহত হইলেন! সেনাগণ একে একে যুদ্ধক্ষেত্রে নিপতিত হইল, যুদ্ধ আর কে করিবে? পথ আর কে অবরোধ করিবে? দেখিতে দেখিতে পাঠান সেনা রাজবাটি প্রবিষ্ট হইল!! পৌরজনকে যেন কেহ অপমানিত না করে, এ জন্য খোয়াজ সৈন্য মধ্যে আদেশ প্রচার করিলেন। তিনি রাণী কমলা সুন্দরীকেও জানাইলেন যে, কন্যা ও পুত্রগণের সহিত স্বেচ্ছা পৃর্র্বক তিনি আত্মসমর্পণ তাহার পক্ষে ভাল হইবে । তাহার প্রতি কোনরূপ অত্যাচার হইবে না এবং অনুগ্রহের নিদর্শন স্বরূপ সম্রাটের জন্য কেবল কন্যাকে গ্রহণ করা যাইবে। হিন্দু-কুল-কামিনী কমলারূপিনী কমলা সুন্দরী কিছুতেই এই ঘৃণ্য প্রস্তাবে সম্মত হইলেন না; হিন্দু মহিলা মরিতে জানে, কমলার চরম সঙ্কল্প তাহাই । খোয়াজ বিবেচনার জন্য রাণীকে দুই দিন সময় দিয়া আমোদাহলাদে বৃত হইলেন। দুই দিনের অবসর পাইয়া রাণী পরমানন্দিতা হইলেন এবং স্বামীর চিতা প্রস্তুত করিয়া, হিন্দু সতীর পরম ব্রত “সহমরণ” অবলম্বনে সকল জ্বালা নিবাইলেন। ভানুমতীও বিষ ভক্ষণে কুল রক্ষা করিলেন। দুর্বত্ত দুরাকাঙ্খের দুবর্বাসনার আহুতি স্বরূপ অতুলনীয় রূপগৌরব চকিতে বিলীন হইয়া গেল! এই সণ্বাদ শ্রবণ মাত্র পাঠান খোমাজ ওসমান শিবির৪১ উঠণ্টয়া, স্বয়ং রাজবাটী প্রবেশ করতঃ রাজপুত্র চতুষ্ঠয়কে ধৃত করিয়া লইলেন। সপ্তম অধ্যায় : ইটার রাজা শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ২৭৯ রাজ ভ্রাতাগণের পলায়ন এই গোলযোগের সময় রাজার ধর্ম নারায়ণ, রামচন্দ্র নারায়ণ ও বীরচন্দ্র নারায়ণ নামক ্রাতৃত্রয় ও অন্যান্য কাজ বংশীয়গণ ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পলায়ন করেন। ধর্ম নারায়ণ “চৈত্র ঘাট নামক স্থানে গমন করতঃ এক বাটিকা প্রস্তুত ক্রমে বাস করেন, তাহার নামানুসারে এ স্থান “ধর্মপুর” বলিয়া খ্যাত হয়। ধর্মপুর পরে ছয়চিরি পরগণায় খারিজ হয়, ছয়চিরি নিবাসী চৌধুরী বংশীয়গণ ইহারই বংশ জাত । রামচন্দ্র নারায়ণ (ওরফে ব্রহ্ম নারায়ণ) পলাইত অবস্থায় পাগড়িয়া দুর্গ আশ্রয় করেন, পরে পাঠান ভয়ে তথা হইতে পাগড়িয়া নামক পথ দিয়া বরমচাল গমন করেন। গুড়াভই, হরিনগর, সিঙ্গুর, নন্দনগর প্রভৃতি স্থানে তাহার বংশীয়গণ অদ্যাপি সসম্মানে বাস করিতেছেন। বীরচন্দ্র নারায়ণ লংলা পরগণায় গমন করিয়া তথায় বাস করেন, সকি সালামত নামক জনৈক পারস্যাগত মোসলমান '৯০৬ বঙ্গাব্দে'৪২ দেশ ভ্রমণে বহির্গত হইয়া বহুস্থান পরিভ্রমণ পৃবর্বক বহুকালে বহুরেশে দিল্লীতে লোদী বংশীয় সম্রাটের সময় আগমন করেন। সম্রাট হইতে তিনি শ্রীহট্টে কতক জায়গীর ভূমি প্রাপ্ত হন এবং শ্রীহন্টরে আসিয়া বীরচন্দ্র নারায়ণের কন্যাকে বিবাহ করেন, লংলার প্রসিদ্ধ জমিদার বংশীয় গণ ইহারই পরবর্তী ।৪৩ রাজভ্রাব্রাগণের বংশ বিবরণ অতি বিস্তৃত, শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত তৃতীয় ভাগে সবিস্তারে তাহা বিবৃত হইবে । সে যাহা হউক, দেওয়ানের পরামর্শে রাজপুত্রদিগকে দিল্লীতে প্রেরণ করা হয়। দিল্লীতে রাজপুত্রগণ বাধ্য হইয়া মোসলমান ধর্ম পরিগ্রহ পূর্বক পৈতৃক সম্পত্তি প্রাপ্ত হন। তাহারা মোসলমান ধর্ম অবলম্বন করিলে তাহাদিগকে “খান” উপাধিতে সম্বর্িত করা হয়। তাহাদের নাম যথাক্রমে জামাল খা, কামাল খা, হাজি খা ও ঈশা খা। ৪১. রাজ বাটীর অব্যবহিত দক্ষিণপূর্র্ব দিকে “পাঠানটোলা” নামে এক পল্লী আছে, এই স্থানে খোয়াজের শিবির ছিল বলিয়া উহ! উক্ত নামে খ্যাত হইয়াছে। ৪২. “মৌলবী আলী আমজদ খার জীবনী” পুস্তিকা দেখ। ৪৩. ১২৬১ বাংলার ।লখিত “রাজবংশাবলী তালিকা” কাগজে [শ্রীযুক্ত কৃষ্ণ কিশোর চোধুরী হইতে প্রাপ্ত) এই কথাটিও লিখিত আছে। লংলার জমিদার বংশীয়গণের কীর্তিকথা বংশ বৃত্তান্ত ভাগে কথিত হইবে। অষ্টম অধ্যায় ইটার পরবর্তী কথা খোয়াজ ওসমানের বিদ্বোহ খোয়াজ ওসমানের দুর্গের কথা বলা হইয়াছে, খোয়াজের দীঘী প্রভৃতি দেখিলে স্পষ্ট বোধ হয় যে, তিনি এদেশে বাড়ী প্রস্তুত করিয়া বাস করিতেছিলেন। “আসাম প্রদেশের বিশেষ বিবরণ” নামক বিদ্যালয় পাঠ্য পুস্তকে ইহাকে “জমিদার” বলিয়াই উল্লেখ করা গিয়াছে ।১ যাহা হউক খোয়াজ ওসমান যুদ্ধে রাজা সুবিদ নারায়ণকে পরাভূত করিয়া রাজবাটা লুণ্ঠন পুরর্বক প্রভূত অর্থ প্রাপ্ত হন। রাজার পুরুষানুক্রমে সংরক্ষিত প্রভূত বিত্ত প্রাপ্ত হইয়া ও নিজ অধীন আফগান সৈন্যের কার্য্য কুশলতায় বিশ্বাস করিয়া খোয়াজ অতিশয় গবির্বত হইয়া উঠেন; এমন কি, তিনি স্বয়ং “খান” 'শোসনকর্তা) উপাধি ধারণ পূর্বক স্বাধীনতা অবলম্বন করেন। শ্রীযুত কেদারনাথ মজুমদার কৃত “ময়মনসিংহের ইতিহাসে” যে এক খোয়াজ খার বৃত্তান্ত লিখিত আছে, সেই খোয়াজ ও এই খোয়াজ ওসমান এক ব্যক্তি বলিয়া অনেকেই স্থির করেন। খোয়াজের কৃত একটা মসজিদের প্রস্তর-লিপি হইতে জানা যায় যে তিনি অধুনা-_লুপ্ত মুয়াজ্জমাবাদে থাকিয়া হুসেন সাহেব অধীনে ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব তীরস্থ তদীয় বিজিত যুক্ত-রাজ্য শাসন করিতেন। মুয়াজ্জমাবাদে তিনি ১৫১৩ খৃষ্টাব্দে এক মসজিদ প্রস্তুত করেন। দক্ষিণ শ্রীহ্রের অধীন ভূজবল গ্রামেও একটি “খোয়াজের মসজিদ” আছে, উদ্দুভাষায় তাহাতে কিছু সিমি জরে নিরারাগররারারসা। ইহা অসন্ভব নহে যে, হুসেন শাহের মৃত্যুর পর তীহার পুত্রের সহিত তদীয় বংশ বিলুপ্ত হইলে, যখন শের শাহ রাজ্যধিকার করেন, তখন খোয়াজ মুয়াজ্জমাবাদ হইতে ইটায় আগমন করেন। এই স্থানে তিনি শান্তভাবে অবস্থিতি করায় প্রথমতঃ রাজানুগহ লাভে সমর্থ হইলেও, পরে শের শাহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উত্থাপন করেন ।২ মুয়াজ্জমাবাদের সীমা লাউড় রাজ্য স্পর্শ করিয়াছিল। খোয়াজের প্ররোচনায় ইতিপূবের্ব প্রতাপগড়ের জমিদার বাজিদ, ময়মনসিংহের অন্তর্গত জঙ্গল বাড়ীর জমিদার রায়েসত আলী ও মসনদ আলী প্রভৃতি বিদ্বোহী হইয়া উঠিয়াছিলেন। কেদার রায় প্রমুখ পূর্ববঙ্গের আরও ভূম্যধিকারীরা তাহাদের সহিত যোগদান করেন। তাহারা পরস্পর সন্ধি সূত্রে অধিকার করতঃ ইটা, কাণিহাটী ও শ্রীহট্ট সহরে সসৈন্যে সুদৃঢ় ভাবে অবস্থিত করেন 1৩ যে সময় এই বিদ্রোহ উপস্থিত হয়, তখন লোদী খা নামক এক যুদ্ধ বিশারদ ব্যক্তি ১. “নিধিপতির বংশে রাজা সুবিদ নারায়ণ জন্মগ্রহণ করেন। তাহার সহিত শ্রীহট্টের দেওয়ানের মনাস্তর হওয়ায় দেওয়ানের প্রার্থনায় দিল্লীশ্বর জমিদার খাজা (খেয়াজ) ওসমান খাঁকে তাহার দমনের জন্য আদেশ করেন। ওসমান দেওয়ানের সাহায্যে অনায়াসে সুবিদ নারায়ণকে পরাস্ত করিয়া তাহার রাজ্য অধিকার করেন।” -আসাম প্রদেশের বিশে বিবরণ,-২৫ পৃষ্ঠা । ২, 01791161115 01 1১011£91. (0. /৯. 5. 9.-1872). ৩. 7116 71920171061 17207111901 9911)01, ৮. 3. অষ্টম অধ্যায় : ইটার পরবস্তী কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৮১ শ্রীহট্টের শাসনকর্তা ছিলেন।৪ স্ম্রাট বিদ্রোহ দমনের সম্পূর্ণ ভার ইহার উপর অর্পণ করেন। সম্রাটের আদেশ প্রাপ্ত লোদী খা বিদ্রোহীদিগকে আক্রমণ করেন, ক্রমাগত কয়েকটি যুদ্ধে বিদ্রোহীদের বল বহুল পরিমাণে ক্ষয় প্রাপ্ত হয়। অবশেষে এক ভীষণ যুদ্ধে খোয়াজ ওসমান খা নিহত হন। মৌলবী মোহাম্মদ আহমদ প্রণীত “শ্রীহট্ট-দর্পণে” লিখিত আছে যে, ১৫৪৮ খৃষ্টাব্দে খোয়াজ ওসমান নিহত হন। ওসমান নিহত হইলে তীহার সহকারী অনেকেই ধৃত ও কারারুদ্ধ হওয়ায় বিদ্রোহ দমিত হয় 1৫ শ্রীসূর্য্য মৌজায় খোয়াজের গড়ের ভগ্মাবশেষ অদ্যাপি দৃষ্ট হইয়া থাকে, “খোয়াজ ওসমানের দীঘী” বলিয়া তথায় অধ্যাপি এক বৃহৎ দীঘিকা দেখিতে পাওয়া যায়। খোয়াজ ওসমান মনু নদীর বক্রতা হাস করিবার অভিপ্রায়ে পাহাড়ের মধ্য ভেদ করিয়া এক বৃহৎ খাল কাটাইয়া ছিলেন, কিন্তু তাহা কার্যকরী হয় নাই। রাজপুত্রগণ “তজকিয়া চৌধুরাই” নামক বাঙ্গালা কাগজে দৃষ্ট হয় যে, পরবর্তীকালে ইটা দেশ উয়াসা, পালপুর, ইন্দেশ্বর ও ইটা এই চারি ভাগে বিভক্ত হয়। তাহাতে ৪ ৭৫ খানা গ্রাম ছিল এবং ইহার রাজস্ব ১০,৯০,০০০ নিন্তান (শের শাহী মুদ্বা) ধার্য্য হয় ।৬ রাজা সুবিদ নারায়ণের রাজ্যচ্যুতির পর তাহার পুত্রগণ দেশে প্রত্যাগমন করিয়া সম্পূর্ণ রাজ্য করায়ত্ত করিতে সমর্থ হন নাই। তাহাদের অধিকৃত ভূভাগই সন্ভবতঃ পরে চারি ভাগে নির্দেশিত হইয়া থাকিবে । যাহা হউক, রাজপুত্রগণ প্রথমতঃ দেশে আসিয়া একত্রই বাস করেন, পরে বিভিন্ন স্থানে গমন করেন। জামাল খা ও কামাল খা আজীবন প্রাচীন রাজবাটীতেই বাস করিয়াছিলেন, রাজবাটীর সন্মুখদিগর্তী দীঘী “জামাল খাঁর দীঘী” নামে পরিচিত হইয়া আসিতেছে। রাজনগরের থানা প্রভৃতি এই দীঘীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। জামাল খা ও কামাল খাঁর পুত্রাদি হয় নাই। হাজি খা ও ঈশা খাঁ গড়গায়ের নিকট পৃথক বাটা প্রস্তুত ও এক বৃহৎ দীর্ঘিকা খনন করেন। নীচে বালুকা ছিল বলিয়া এই দীর্থিকা “বালিদীঘী” এবং তৎ গ্রাম “বালিদীঘীর পার” বলিয়া কথিত হইয়া থাকে । ৪. শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত য ভাগ ২য় খণ্ড ওয় অধ্যায়েও ইহার প্রসঙ্গ লিখিত হইয়াছে। ৫. “একবাল নামে জাহাঙ্গীর” নামক প্রাচীন পারস্য গ্রন্থে, সম্রাট জাহাঙ্গীর বাদশাহের সমকালীয় এক বিদ্রোহী ওসমান খার বিবরণ প্রাপ্ত হওয়া যায়। বাদশাহের সেনাপতি সুজাত খা কর্তৃক তিনি পরাভূত হন। লোদী কর্তৃক পরাজিত থোয়াজ ওসমানকে ভ্রমতঃ কেহ কেহ শেষোক্ত ওসমান খা হইতে অভিন্ন মনে করেন। ভ্রমবশতঃই শ্রীহট্ট অঞ্চলের খোয়াজ ওসমানকে সুজাত খা কর্তৃক বিজিত বলিতে কুষ্ঠিত হন না। কিন্তু “একবাল নামে জাহাঙ্গিরী” বিশেষ রূপে আলোচনা করিলে সুজাত পরাজিত ওসমান খাঁকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পরবর্তী ব্যক্তি বলিয়া স্পষ্ট প্রতীয়মান হইবে । ৬. “তজকিরা চৌধুরাই” নামে সন ১০৩৫ তারিখ যুক্ত বাঙ্গলা ভাষায় লিখিত কাগজের এক প্রস্থ বেজাবেতা নকল প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে । তজকিরা অর্থে স্মারকলিপি । এই কাগজ নির্ভরে কেহ কেহ রাজকুমারদের সময় নির্ধারণ করিতে প্রয়াস পান, কিন্তু এতদ্বারা রাজপুত্রদের সময় নির্ণয় পক্ষে নানা অসুবিধা আছে। সমালোচনায় ইহা প্রকৃত দলিল বলিয়া গণ্য হয় না। পরবর্তী বংশীয়গণের মধ্যে দেওয়ানী মোকদমা উপস্থিত হইলে, সেই মোকদ্দমায় “তজকিরা চৌধুরাই” প্রমাণ্য দলিল নহে বলিয়া নথিভুক্ত হয় নাই। ফলতঃ ইহা রাজপুব্রগণের অধিকৃত ভূমি সম্পকীয়ি পরবর্তী কালের লিখিত একটা স্মারকলিপি মাত্র। তবে এই কাগজের দ্বারা ইহা জানা যাইতেছে সে সন ১০৩৫ তারিখের পৃবর্ব হইতেই “চৌধুরাই” সনন্দ প্রদানের প্রথা প্রবর্তিত ছিল। আর একটা কথা-সোয়া দুই নিস্তানে শের শাহী এক টাকা হয়, এই কাগজেও নিস্তানের উল্লেখ আছে, ইহাতে রাজপুত্রগণের সময় বহু পূর্ববর্তী হইয়াই পড়িতেছে। ২৮২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড অধস্তন রাজ-বংশীয়গণ হাজি খা ও ঈশা খার পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের নাম জ্ঞাত হওয়া যায় নাই,৭ হাজি খাঁর বৃদ্ধ প্রপৌত্র দুইজন ছিলেন, তাহাদের নাম শাহ মোহাম্মদ ও আব্দুল মজিদ। আব্দুল মজিদ বালিদীঘীর পারে এক মসজিদ প্রস্তুত করিয়া খ্যাতনামা হইয়াছেন, তদ্ধংশীয়গণ ও তথাকার অধিবাসীবর্গ অদ্যাপি উক্ত মসজিদে উপাসনা করিয়া থাকেন। ইহার সাত পুত্র, তন্মধ্যে আব্দুল মনসুর জ্যেষ্ঠ, তিনি বালিদীঘীর পার হইতে ভিন্ন স্থানে গমন করতঃ “মনসুর নগর” গ্রাম স্থাপন ও তথায় এক বাটী প্রস্তুত ক্রমে বাস করেন। মন্সুরের আব্দুল মজঃফর ও আব্দুল ফজল নামে দুই পুত্র হয়। ফজল, মন্সুর নগরের বাটীর উত্তরে মধিপুর গ্রামে গিয়া নৃতন বাটা প্রস্তুত করিয়া বাস করেন। এই বাটী এখন জনশূন্য ৷ বাটীর সম্মুখের পুষ্করিণী এখনও ফজলের নাম রক্ষা করিতেছে। এই সময়ে ইটা হইতে আলীনগর প্রভৃতি স্থান খারিজ হইয়া যাওয়াতে তাহাদের সম্পত্তি বহু পরিমাণে হ্াসতা প্রাপ্ত হয়,৮ তখন স্বীয় স্বার্থ উদ্ধারার্থ ইহারা পঞ্চগ্রাম নিবাসী রাজারাম দাস নামক জনৈক অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দূত নিযুক্ত করিয়া দিল্লী প্রেরণ করিয়াছিলেন । রাজারামের পরিচয় রাজারামের প্রপিতামহ লক্ষ্মীকান্ত দাস চিকিৎসাজীবী ছিলেন । ত্রিপুরার নুরনগরস্থ কেন্দাই গ্রাম তাহার আদি বাসস্থান ছিল। ব্যবসায়ের অনুরোধে তিনি ইটার পঞ্চগ্রামে আসিয়া বাস করেন। ইহার পুত্রের নাম সুন্দর রাম, তীহার পুত্র যাদব রাম; রাজারাম যাদব রামেরই প্রথম সন্তান। রাজারাম ও তাহার মধ্যম ভ্রাতা প্রজাপতি সংস্কৃত ও পারস্য ভাষায় সুপপ্তিত ছিলেন। প্রজাপতি সংস্কৃত ভাষায় চণ্তীর একখানা টাকা রচনা করিয়া যশহ্বী হইয়াছেন।৯ রাজবংশীয় “দেওয়ানগণ” সুবিজ্ঞ বুদ্ধিমান রাজারামকে আপনাদের দূত নিযুক্ত করেন। রাজারাম দৃত স্বরূপ বৰ. বরমচালবাসী শ্রীযুক্ত দ্বারকা নাথ চৌধুরী বি. এ আমাদিগের নিকট যে বংশপত্র প্রেরণ করেন তাহাতে এই তিন পুরুষের স্থলে “নাম অজ্ঞাত” লিখিত আছে। আরও দুই খানি বংশপত্রে এইরূপই লিখিত। কিন্তু শ্রীযুক্ত সতীশ চন্দ্র চৌধুরী পরে আমাদিগকে যে বংশ-পত্রিকা প্রেরণ করেন, তাহাতে এই তিন পুরুষ, মধ্যে থাকার বিষয় স্বীকৃত হয় নাই। তাহা হইলেও রাজা সুবিদ নারায়ণকে জাহাঙ্গীর বাদশাহের সমকালবর্তী বলিয়া অনুমান করা যাইতে পারে না। রঘুনাথ শিরোমণির ভ্রাতা রাজজামাতা ছিলেন। শিরোমণির অধ্যাপক বাসুদেব সাব্বভৌমের বংশাবলী (বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ১ম খণ্ড ২৯৫/২৯৬ পৃষ্ঠা এবং বিশ্বকোষ “কুলীন” শব্দ ৩৬৩ পৃষ্ঠা দেখ ।) এবং তদীয় ভ্রাতা রঘূপতির বংশাবলীর পুরুষ সংখ্যার সহিত রাজ বংশাবলীর পুরুষ সংখ্যার অনৈক্য হইবে না। তদ্যতীত শিরোমণির সতীর্থ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পিতৃব্য পুরুষোত্তমের বংশাবলী, রাজার পরাভবকারী খোয়াজ ওসমান নিহন্তা লোদী খার বংশাবলী, রাজকর্মচারী নারায়ণ মণ্ডলের বংশাবলী ও রাজার ভ্রাতুষ্পুত্রীয় পরিণেতা সকি সালামতের বংশের পুরুষ সংখ্যা সহিত রাজবংশাবলীর পুরুস সংখ্যার অবিসংবাদী এক্য দৃষ্ট হইবে । এ বংশপত্রগুলি আলোচনায় রাজাকে কোনরূপেই জাহাঙ্গীর বাদশাহের বহু পূর্ববর্তী না বলিয়া পারা যায় না। উল্লিখিত বংশপত্রগুলি বংশবৃত্তান্ত ভাগে যথাস্থানে প্রদত্ত হইবে। ৮. পরবর্তী অধ্যায়ে বিশেষ বিবরণ দ্রষ্টব্য । | ৯. চণ্তী টীকার প্রথম শ্লোক এইঃ- “চণ্ড বিনাশিনীং চণ্তীং নতথ বিঘ্ন নিবারিণীং। চণ্তীভাব বিবোধায় চণ্তী টীকা প্রতন্যতে” শেষ শ্লোক এই3- শ্রীপ্রজাপতি দাসেন পঞ্চগ্রাম নিখ্।সনা। চণ্তীকা গ্রীতয়ে তস্যাঃ পদের্পিতং কৃতং ময়াঃ” অষ্টম অধ্যায় : ইটার পরবস্তী কথা শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ২৮৩ দিল্লী উপস্থিত হন, তাহার দৌত্য মঞ্জুর হইলে তিনি বাদশাহ হইতে এক সনন্দ প্রাপ্ত হন।১০ রাজারাম ধর্ম পরায়ণ লোক ছিলেন, তিনি বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ ঠাকুর বাণীর১১ শিষ্য হইলেও স্বপ্নাদেশ প্রাপ্তে কাত্যায়ন গোত্রীয় জয়কৃষ্ণ তর্কবাগীশের নিকট শক্তি মন্ত্র গ্রহণ করেন। শ্রীহট্টের (সহরের) জঙগলবাসী জনৈক সন্ন্যাসী তাহাকে একছড়া জপমালা ও এক শালগ্রাম শিলা দিয়া বলিয়াছিলেন যে, শিলার প্রভাবে তাহার কোনরূপ বিপদ ঘটিবে না এবং মালার প্রভাবে তিনি খ্যাতনামা লোক হইবেন । এই শিলা মালা লাভের পরই তিনি দূত নিয়োজিত হন। রাজারাম, শ্রীধর নামে এক দেবতা প্রতিষ্ঠা করিয়া শ্রীধরপুর গ্রাম স্থাপন করেন। তিনি স্বপ্নাদেশে এক শাল্মলী বৃক্ষে কালীর অধিষ্ঠান জানিতে পারিয়া কালীর প্রকাশ করেন। রাজারামের এই কীর্তি অদ্যাপি বিদ্যমান রহিয়াছে ।১২ রাজারামের প্রসঙ্গে আমরা অনেক দুরে আসিয়া পড়িয়াছি। রাজারামের দৌত্যমূলে ইটার রাজবংশীয় জমিদারদের ভূসম্পত্তি নির্দিষ্ট হইয়া থাকিলেও পরে এই সম্পত্তি নিতান্ত হাস হইয়া পড়ে। পূর্বোক্ত ফজলের পুত্র আব্দুল নওয়াজ রাজনগরে নিজ বাসস্থান প্রস্তুত করিয়াছিলেন, সেই বাটিকাও এখন মনুষ্য বাসশুন্য । নওয়াজের পুত্র মোহাম্মদ হাজির প্রবল পরাক্রান্ত জমিদার ছিলেন, ইহার পুত্রাদি হয় নাই। আব্দুল মজঃফরের পুত্র আব্দুল রহুপ, তৎপুত্র মোহাম্মদ আনিস, ইহার পুত্রের নাম মোহাম্মদ আফজল (ওরফে গাবুর মিয়া), তাহার পুত্রের নাম মোহাম্মদ ইয়াকুব; ইয়াকুবের আমীর উন্নেসা নামে এক কন্যা বর্তমান আছেন। আফজল স্বয় পৌত্রী আমীর উন্েিসাকে ঈশা খা বংশীয় আব্দুল খালেক চৌধুরীর সহিত বিবাহ দিয়া সমস্ত সম্পত্তি “অকৃফ” করিয়া দিয়াছেন । ঈশা খা বংশ রাজা সুবিদ নারায়ণের চতুর্থ পুত্র ঈশা খার বৃদ্ধ প্রপৌত্রগণের নাম ইলিয়াস, ইসরাইল ও ইসমাইল খা ছিল। জ্যেষ্ঠ ইলিয়াসের পুণ্র মোহাম্মদ সফি, তৎপুত্র মোহাম্মদ তকি (ওরফে এবা) তাহার পুত্র মোহাম্মদ সকি, সকির পুত্রের নাম মোহাম্মদ মনসুর (ওরফে কটু মিয়া)। কটুমিয়া লংলা পরগণার কানাইটিকরবাসী নজন্বর আলী চৌধুরীর কন্যা করিমউন্নেসাকে বিবাহ করেন। এই রূপবতী রমণীর চরিত্র-দোষ ছিল। ১৮৭০ খৃষ্টাব্দে (১২৭৭ বাং শ্রাবণ মাসে) কটুমিয়া নিজ শ্বশুরালয়ে গমন করিয়াছিলেন । করিমউন্রেসা পিত্রালয়েই ছিলেন, তিনি ১০. এই পারস্য সনন্দ স্থানে স্থানে অপাঠ্য হইলেও মূল বিষয় জ্ঞাত হওয়া যায়, সনন্দের মর্ম এইঃ-“বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মচারী, চৌধুরী, পাঠওয়ারী ও কানুনগো সকল, সরকার শ্রীহ্ট জানিবা যে, যাদব রামের পুত্র পং ইটা সাং পাচগাও নিবাসী রাজারাম দাস উক্ত বিভাগের চৌধুরী আব্দুল মজঃফর প্রভৃতির.পক্ষে দিল্লী রাজধানীতে উজ্জ্বল ও পবিত্র রাজ দরবারে হাজির হইয়া রাজস্ব সম্পকী় কর্তব্য বিষয় সকল রাজধানী সম্পকীয়ি কর্মচারীর কর্ণগোচর করায় তাহা শ্রবণ ও গ্রাহ্য করা গেল এবং মহামান্য বাদশাহ অতি সম্মানিত সনন্দ প্রদত্ত হইল । ২২ যিসদা।” মোহরে মুদ্রিত-“উমদূ উল মুল্ক ৷ আমিনুদোলনা আজিম খাঁ ফিদ্দরী আরঙ্গজেব আলমগীর বাদশাহ গাজী ।” ১১. শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৪র্থ ভাগে ইহার জীবন বৃত্তান্ত লিখিত হইবে। ১২. পাচগায়ের শ্রীযৃত হরকিস্কর দাস মহাশয় এই বংশোত্তব, শ্রীহট্রের ইাতবৃত্ত ৩য় ভাগে এই বংশ বিবরণ কথিত হইবে। ২৮৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খ উপপতিগণের সহিত ষড়যন্ত্র ক্রমে তাহাকে হত্যা করিয়া, মৃতদেহ তদীয় বাটীতে প্রেরণ করেন। “কটুমিয়ার গ্রাম্য গীতি”তে এই বিষাদাত্মক কাহিনী এখনও শ্রুত হওয়া যায়। এই বিষয়ে পরে ফৌজদারী মোকদ্দমা উপস্থিত হইলে, বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায়, শ্রীহট্রের তদানীন্তন জজ কবার্ণ সাহেবের আদেশে) করিমউন্নেসা ও তাহার উপপতি ত্রয় প্রাণদণ্ডে দপ্তিত হয়। শ্রীহট্টে ইহা এক ভয়াবহ অদৃষ্টপূবর্ব ঘটনা, এক সময়ে চারি ব্যক্তির প্রাণদণ্ডের কথা ইতিপুের শুনা যায় নাই। পূর্বোক্ত ইম্াইল খার পুত্রের নাম জাফর বা আলাওল খা, তৎপুত্র মোহাম্মদ এতিম (মতান্তরে সকি), তাহার পুত্র আলী । আলীর পুত্রাদি হয় নাই। সবর্ব কনিষ্ঠ ইসমাইল খার ষষ্ঠ পুরুষে আব্দুল খালেক চৌধুরী (খ্যাত সিকান্দর মিয়া) জন্মগ্রহণ করেন; তাহার নাম পূর্বে উল্লেখ করা গিয়াছে। বর্তমানে ইনিই তত্রত্য প্রধান জমিদার । ইহার পুত্রের নাম আব্দুল হামিদ চৌধুরী । রাজা সুবিদ নারায়ণের বংশীয়গণ মোসলমান ধর্মাবলম্বী হইলেও হিন্দু রীতি নীতির প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখিয়া চলিয়া থাকেন। স্ম্বাত্ত হিন্দু গৃহে বিবাহাদি উৎসবে ইহারা যোগ দিয়া থাকেন; হিন্দুদের মধ্যে সামাজিক বিরোধ উপস্থিত হইলেও ইহারাই মধ্যস্থ হইয়া বিরোধ ভঞ্জন করিয়া দিয়া থাকেন। বলিতে গেলে তরফের ন্যায় ইটাও হিন্দু মোসলমান মধ্যে একরূপ সামাজিকতা ও বাধ্যবাধকতা বহুকাল হইতে চলিয়া আসিতেছে । সপ্তম ও অষ্টম অধ্যায়ে টীকা ইটার রাজা সুবিদ নারায়ণের সময় নিরূপণ সম্বন্ধে মতান্তর দৃষ্ট হয়, তৎসম্বন্ধে কিঞ্িৎ আলোচনা করা আবশ্যক শ্রীযুক্ত ঈশান চন্দ্র চৌধুরী আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ ওসমান খা কর্তৃক পরাভূত হন। নিজ কথার প্রমাণ স্থলে তিনি “একবাল নামে জাহাঙ্গিরী” নামক পারস্য গ্রন্থের উল্লেখ করিয়াছেন । এই গ্রন্থ জাহাঙ্গীর বাদশাহের বখুশী মতমিদ খার প্রণীত; ওসমান ও সুজাত খার যুদ্ধে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তৎকৃত “একবাল নামে জাহাঙ্গিরী” গ্রন্থ ১৮৬৫ খৃষ্টাব্দে কলিকাতার কালীজয় প্রেসে মুদ্রিত হয়। তাহাতে ওসমান ও সুজাত খার যে যুদ্ধ বিবরণ বর্ণিত হইয়াছে, তাহার মর্ম পর পৃষ্ঠায় দেওয়া গেল। বিদ্রোহী ওসমান খাকে দমনের জন্য সম্রাট জাহাঙ্গীরের আদেশে সুজাত খাঁ প্রেরিত হন। কেশওয়ার খা, এগ্ডতেখার খার, সৈয়দ আদমবারা, শেখ আওজা ও মতবিদ খা, এতেমাম খা প্রভৃতি প্রসিদ্ধ বীরপুরুষগণ তাহার সাহায্যে নিযুক্ত হন। সুজাত খা সসৈন্যে বিদ্রোহীদের সন্নিকটবন্তী হইলে ওসমান খা বিশাল বাদশাহী সেনাদলের আগমন সংবাদে বিশেষ সতর্ক হন ও এক নদী পার্্স্থিত দমদমায় যুদ্ধ স্থান নির্ণয় পৃরবর্বক অবস্থিতি করেন । উভয় দল পরস্পরের সম্মুখীন হইলে ওসমান খাঁ একটি বৃহৎকায় হস্তী সম্মুখে রাখিয়া প্লাদশাহী সৈন্যের উপর পতিত হইয়াছিলেন। প্রথমেই বাদশাহ পক্ষে সৈয়দ আদমবার্া. $ এপ্তেখার খা বোম ও দক্ষিণ পার্্বরক্ষক সেনাপতিদ্বয়) নিহত হন, তৎপর সুজাত খার পুত্র ও ভ্রাতাগণও মৃত্যু শয্যায় শায়িত হন। অতঃপর ওসমান খা সুজাত খাকে আক্রমণ করিলে, তদীয় আরদালী ওসমানের হস্তীর শুণ্ডে আঘাত করে, সেই প্রচণ্ড আঘাতে হস্তী পলায়ন পর হয়। ইহার পর এক গুলির আঘাতে আহত হইয়া ওসমান স্বীয় শিবিরে ্রীত হন ও মৃত্যু মুখে পতিত শ্ন। ওসমানের ভ্রাতা আলী « পুত্র মুমূরেজ শিবির ছাড়িয়া রাত্রেই পলায়ন করেন। অবশেষে মুম্রেজ দিদ্লীশ্বরকে ৪৯টি হস্তী অষ্টম অধ্যায় : ইটার পরবর্তী কথা শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ২৮৫ উপটৌকন দিয়া আত্মসমর্পণ করেন। (একবাল নামে জাহাঙ্গিরী--৬৪ পৃষ্ঠা) শ্রীযুক্ত ঈশান চন্দ্র চৌধুরীর মতে এই যুদ্ধ স্থল শ্রীহট্ট জিলায় অবস্থিত । তিনি বলেন, পূর্ব্ব বর্ণিত দমদমা অত্রত্য লাখাটা নদীর তীরবর্তী করাইয়া হাওর বলিয়া বর্তমানে খ্যাত । ইহার প্রায় তিন মাইল ব্যবধানে শ্রীসূর্ধ্য মৌজায় ওসমানের গড় বিদ্যমান। কেননা তাহার মতে সুজাত পরাজিত ওসমান খাই রাজা সুবিদ নারায়ণের পরাভবকারী । এই কথার আনুষঙ্গিক প্রমাণ স্বরূপ তিনি “তজকিরা চৌধুরাই” নামক বাঙ্গালা ভাষায় লিখিত কাগজের উল্লেখ করিয়া বলেন যে শাহজাহান বাদশাহের সময় ইটা, রাজপুত্রদের মধ্যে বিভক্ত হইয়া রাজস্বের বন্দোবস্ত হয়। এই কাগজে সন ১০৩৫ তারিখের সহিত রাজপুত্রগণের নাম আছে। অতএব সুবিদ নারায়ণকে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমসাময়িক বলাই সঙ্গত। তিনি আরও বলেন যে, আকবরের “ওয়াসিল তোমার জমা” হিসাবে ইটার নাম নাই, যদি িিরজালা রা রন রারনাররারি রানির ত। কিন্তু রঘুনাথ শিরোমণির ভ্রাতা, রাজকন্যার স্বামী নির্ধারিত হইলে এই সকল মতবাদের কিছু মাত্র মূল্য থাকে না, সুতরাং তাহার মতে “সম্ভবতঃ রঘুনাথ নামে রঘুপতির কোন ভ্রাতা ছিলেন না।” এ কথার পোষকার্থে “বেদিক-পুরাবৃত্ত” নামক এক অজানা গ্রন্থের উল্লেখ করা গিয়াছে। বৈদিক পুরাবৃত্তে লিখিত আছে যে, “রঘৃনাথ শিরোমণি শাহজলাল বিজিত প্রসিদ্ধ গৌড় গোবিন্দের সভাসদ অষ্টাবিংশ প্রদীপ প্রণেতা মহেশ্বর ন্যায়ালস্কারের ভ্রাতা ছিলেন;__রঘুপতির ভ্রাতা নহেন।” শ্রীযুক্ত হরকিস্কর দাস ও শ্রীযুক্ত গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য্য আনন্দবাজার পত্রিকায় এ সকল আপত্তির তীব্র প্রতিবাদ করিয়াছেন । যথার্থ তত্তপ্রচার করাই ইতিহাস লেখকের প্রধান কর্তব্য । যখন দুই বিসংবাদী মত উপস্থিত হয়, সত্যের সূক্ষ্ম নিরপেক্ষ আলোকে, সমালোচনা সমার্জনীর সহায়ে আবর্জনা পরিফৃত করিয়া তখন প্রকৃত তত্ত্ব প্রকাশ করিতে হয়। আমরা একতর অর্থাৎ শ্রীযুক্ত ঈশান চন্দ্র চৌধুরীর মত উপরে বলিয়াছি, স্বয়ং কোনরূপ সমালোচনার ভার গ্রহণ না করিয়া, দ্বিতীয় মতটাও এ স্থলে প্রকাশ করিতেছি। ১৩১৩ বঙ্গাব্দের জ্যেষ্ঠ, আাঢ, শ্রাবণ এই তিন মাসের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধের সার সংগ্রহ ক্রমে দ্বিতীয় মতটি লিপিবদ্ধ হইতেছে। বলা বাহুল্য যে, এ মতটি পূর্ব হইতেই সর্বত্র বহুল প্রচলিত। দ্বিতীয় মতের মর্ম রাজা সুবিদ নাবায়ণ যে আকবর বাদশাহের পূর্ববর্তী, তাহা অনেকেই বলেন। ১২৯৩ সালে প্রকাশিত “শ্রীহট্র-দর্পণ” পুস্তকের ৭২ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে যে, “সম্রাট শের শাহ কর্তৃক লোদী খা ১৫৪৮ খৃষ্টাব্দে রাজবিদ্রোহী খোয়াজ ওসমান প্রভৃতিকে দমনের জন্য শ্রীহট্র প্রেরিত হন। এই খোয়াজ ওসমান তৎপুবের্ব ইটার সুবিদ নারায়ণের পুত্রগণকে জাতিভ্রংশ করিয়া মোসলমান করেন ।”১৪ ১৩. ১৫৪৫ খৃষ্টাব্দে শের শাহের মৃত্যু হয়, ১৫৪৮ শৃষ্টাব্দে শের শাহের পুত্র সলীম শাহ ভারত সম্রাট ছিলেন। ২৮৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড আলী আমজদ খাঁর জীবনী পুস্তিকায় লিখিত আছে যে, “সন ৯০৬ বঙ্গাব্দের শেষ ভাগে এমন রাজ বংশীয় সকি সালামত নামক জনৈক ব্যক্তি দিল্লী উপস্থিত হইলে, লোদী বং সম্রাট কর্তৃক শ্রীহট্টে জায়গীর প্রাপ্ত হইয়া পৃথিমপাশায় বাস করেন। তিনি রাজনগরের রাজকন্যার রূপে মোহিত হইয়া তাহাকে বিবাহ করেন।” ১২৬২ বঙ্গাব্দের হস্তলিখিত রাজবংশাবলী পত্রিকায় লিখিত আছে যে, “রাজভ্রাতা বীরচন্দ্র নারায়ণের কন্যাকে সকি সালামত বিবাহ করিয়াছিলেন ।” ইত্যাদি । অতএব--“বিহলোল লোদীর সময়ে রাজার প্রাদুর্ভূত হওয়: দৃষ্ট হয়, এবং শের শাহ দিল্লীর সিংহাসনে থাকা কালেই রাজা সুবিদ নারায়ণের রাজত্ব শেষ হইয়াছিল ।” _-(আনন্দ বাজার পত্রিকা ৯-৪-১৩১৩ বাং) যদি ইহাই হয়, তবে রাজা সুবিদ নারায়ণের পরাভবকারী খোয়াজ ওসমান কিরূপে জাহাঙ্গীর বাদশাহের সমকালবর্তী হইতে পারেন? আনন্দ বাজার পত্রিকায় এই কথা আলোচিত হইয়াছে । জাহাঙ্গীর বাদশাহের সেনানায়ক সুজাত খা কর্তৃক যে ওসমান খা পরাভূত হন, তিনি সুবিদ নারায়ণকে পরাভবকারী খোয়াজ ওসমান হইতে ভিন্ন ব্যক্তি । সুজাত খা বিজিত মুম্রেজ-_-পিতা ওসমান খাকে রাজ-বিজেতা খোয়াজ ওসমান খা মনে করা ভ্রান্তি বই নহে। মুমরেজ-পিতা বিদ্বোহী ওসমান খা ইতিহাস প্রসিদ্ধ ব্যক্তি,১৪ তাহার জন্য মোগল বাদশাহকে সন্ত্রাসিত হইতে হইয়াছিল, এবং তাহাকে দমনের জন্য বিশাল মোগলবাহিনী প্রেরিত হইয়াছিল । যথাঃ__ "12 1021161 051021) 7021, এ 006 10520 0 20,000 £1510915, 00179106760 11700560125 2. 50010. 41250910027, 2100 0162801760 10010001116 000৮2, 2100 1780010617067)00. [112 00৬6]050]7, 179%1106106610 (10115 91120 17 21001091016 0৬৮ (0165, 1951 1501 20010106] 17701706101 1 10910106 10161099005 (০ 5010002 10015 1)9115101 9101711: 106 90050. 0110 ৭. 10011106101015 9170 9/211-2001011/50 27709, (176 00100117090)0 01 17101) 106 01007715160 00 518012.61 101021৮, 21072৬62100 6500911615060 000027, ৮৮10) 010675 (0 62006] 0116 ৬/1)016 01 006 00016101 00107179 0ি0]া0 910599.-" "00001 006 219010901) 01 006 70591 91700, 0510021) 1007910 8090060 10 009 02105 01006 50109101615. 116], 0106 78610110010] 17000 01 10101) 21007117090 ড/111) 55/917009 200] 010991001765, 2000 ৮৮25 001)059011918019 10901112101 00] 006 01961290107/5 01 006 17105107111 09৬207%. 1186 17700061121 62176191, 1106৮], 8.0%817020 10102016 21795, 2100 00101001136 402172179 079৬) 0৮ 1990 (0 179061৮6 1170. 9510821) 1790 [919,060 1115 ৮/9,1-616- [01091005 10 00100010002 00]]075 09911176000] 1108 2109.010 9110, 1800010 006 9167791] 081106 61৮21) 00596 [7710109 91211709195 20917090, 8120. 10016 0070 6৬77 (10175 1020076 1016177. 5560 40210 8100 160151121- 100800, 91100 ০00210- ১৪. বঙ্কিমচন্দ্রের “দুর্গেশ নন্দিণা”তে এই ওসমানের কথা উল্লেখ হইয়া তাহাকে বঙ্গ সাহিত্য ঠ্ধের নিকট চির প্রসিদ্ধ করিয়াছে। অষ্টম অধ্যায় : ইটার পরবস্তী কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৮৭ 170211060 11)6 11101 2100 166 59171050100 17711961121] 277), 9/1017 2. 101110- 067 01 0086] 01019 ০01 17016, ৮৮০1৪ 90017 920677050. 01 (176 10125118." +9100)2960 101027, 10670011775 1815 11002100101 90111160010 1015 1)0796, 2170 ৮৮০00600106 ০1610172170 ৮৮101) 1715 50621; 176 00010 016 1015 5/010, 2170 11070110060 00৮7 00106] ৮৮0011705 010 016 21011070981, 10101 005 (1110115 02850 01019 27016 10710905010 1019 ড/0111709, 100806 2. 065192126 01)9106, 2170 0৬6110076৬7 0106 66106172015 10196. 910101]1261, 110৮/6৮6], ৪5011108150 11117075611 [000 1015 90600. ** "/5 10015 0101519, 5/17017 2. [00010] ০01 70৮৪9] 096101915 179৮1776 10621 10111502100 10217) 107016 06520160109 ৬/0011705, 2. 11101৮61521] [021010 7021- 2050 (106 হ0ঠ, 109 01081)06, 2. 11061)111 10211, [0170 901106 11101000010 17200, 50010 091702]7 2া। 0106 00110090. **% 10959107210 1799.01760 1015 (01011062111 ০2017915060, 2110 25001760 001117 2 10161775815 006 186 10001701106. ৬০19 2100 1৬111107192, 00610101006] 2100 501 01 076 05062590, 1160 ৮00) (106 100905 (০ 0061]: 00106599-." "51700961077 17710 5010101$ 00110101160 ৮৮07 00656 [1)10100511101), (176 17291 0299 ৬6] 2700 1৬1007152, ড/1 2. 10111701061 01 006 069099.560 0171665 1€19007)5, ৮/91060 012 0106 11711106715] 610612], 2100] [07959101060 10117) (071-101786 91610172175 2100 5017)6 )০৮/০15." -1719007 01 17591, 10% 01091195 566৮/271, ১6০1. ৬1. 0, 240, 242, উদ্ধৃত অংশের অনুবাদ দেওয়া অনাবশ্যক, “একবাল নামে জাহাঙ্গিরী” গ্রন্থ হইতে এই যুদ্ধ বিবরণের যে মর্ম উদ্ধৃত হইয়াছে, তাহার সহিত ইহার বিশেষ পার্থক্য নাই। যাহারা প্রমাণ করিতে প্রয়াস পান যে, এই যুদ্ধ শ্রীহট্টে,_লাখাটা ছড়ার তীরদেশে ঘটিয়াছিল, তীহাদের প্রয়াস বৃথা; সুজাত খার সহিত ওসমান খাঁর ভীষণ যুদ্ধ উড়িষ্যা দেশে, সুবর্ণ রেখা নদীর তীরে সংঘটিত হয়। অতএব শ্রীহট্টরের লোদী খা পরাজিত খোয়াজ ওসমান এবং উড়িষ্যার সুজাত খা কর্তৃক পরাভূত ওসমান খাঁ দুই পৃথক ব্যক্তি। “তজকিয়া চৌধুরাই” কাগজ১৫ সম্বন্ধে অধিক বলা নি-্প্রয়োজন। পৃবের্ব বলা হইয়াছে যে, দেওয়ানী মোকদ্দমায় ইহা প্রামাণ্য কাগজ বলিয়া গণ্য হয় নাই। এই কাগজ দ্বারা কিছুই প্রমাণ ১৫. তজকিরা চৌধুরাই কাগজ ১৬ পৃষ্ঠায় বাঙ্গালা ভাষায় লিখিত। এই কাগজে ২য় পৃষ্ঠা হইতে ১৬ পৃষ্ঠা পর্য্যত্ত কেবল থ্রামের নামাবলী। প্রথম পৃষ্ঠায় যে সামান্য বিবরণ আছে, তাহা এইরূপঃ- “শ্রীদুর্গা সন ১০৩৫ তজকিরা চৌধুরাই পরগণে ইটা মোকাম তরফ আমল মৃজা মোহাম্মদ সরিফ মৃজামোহাম্মদ তকি ও দেওয়ান ভাইয়া ভৈরব দাস সন ১০৩৫ মৌজা চিনন্তান হিং জামাল খা (অপাঠ্য) (অপাঠ্য) ৩৭৫ 7৯৩৯৬৪ শ্রীঈশা খা, শ্রীহাজি খা, শ্রীকামাল খা শ্রীজামাল খা, শ্রীরূপরাম শ্রীস, (অপাঠ্য) শ্রীরতিরাম শ্রীভবানন্দ রায় ।” ২৮৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড করা যাইতে পারে না। ইহাতে রাজপুত্রগণের নাম আছে, আরও চারিজন ভদ্রলোকের নাম আছে, ইটার কয়েকটি গ্রামের নাম আছে ও ১০৩৫ সন লিখা আছে মাত্র। এতদ্বারা কোন বিষয়ই বর্তমানে নির্ধারিত হইতে পারে না। যখন তজকিরা স্মারকলিপি লিখিত হয়, পূর্বোক্ত তারিখটা সেই সময়কার । “তজকিরা” রাজপুত্রগণের বর্তমান থাকা কালে লিখিত হওয়ার কোন প্রমাণ নাই; ইহা তাহাদের উত্তরাধিকারীদের কাহারও সময় লিখিত হইয়াছিল । “সম্রাট শাহজাহান চন্দ্র বৎসরের গণনার প্রবর্তন করেন, ১০৩৫ হিঃ সনের বহু পরে তিনি সিংহাসনারূঢ় হন; সুতরাং রাজত্ব লাভ করার পৃবের্ব ততকর্তৃক রাজপুত্রগণকে বন্দোবস্ত দেওয়া অসম্ভব ।' ফলতঃ “সম্রাট শাহজাহান হইতে রাজপুত্রগণ ইটার বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন” এ কথা বলা যাইতে পারে না। তারপর “ওয়াশীর তোমার জমার” কথা । আকবর বাদশাহের ওয়াশীল তোমার জমার হিসাবে ইটার নাম দৃষ্ট হয় না বলিয়া, ইটার রাজা সুবিদ নারায়ণকে আকবরের পরবর্তী বিবেচনা করা হাস্যকর ব্যাপার ব্যতীত আর কিছুই নহে। আকবর-রাজত্ে সমগ্র শ্রীহন্ট আট ভাগে বিভক্ত হইয়াছিল, ইহা পুর্বে বলা গিয়াছে। ইটা এই আট ভাগের একটির অন্তর্ভুক্ত ছিল,__ইটা প্রতাপগড়-পঞ্চখণ্ড মহলের অন্তর্গত ছিল; এই জন্য ইটার পৃথকরূপে নাম উল্লেখের প্রয়োজন হয় নাই। ওয়াসিল তোমার জমা হিসাবে শ্রীহট্রের তরফ, ঢাকাদক্ষিণ, দেওরালী প্রভৃতি প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন বহু স্থানের নাম উক্ত হয় নাই, এ অবুক্ত স্থানগুলি আকবর-সাম্রাজ্যের বহির্ভূত ছিল বলিয়া সিদ্ধান্ত করা অসঙ্গত। অতঃপর বৈদিক পুরাবৃত্তের বৃত্তান্ত সম্বন্ধে কিঞ্ আলোচনা করা যাইতেছে। পুরাবৃত্ত গ্রন্থ১৬ সম্বন্ধে এই ইতিবৃত্তের ২য় ভাগ ৫ম অধ্যায়ের টীকা-বিবরণীতে কতক বলা গিয়েছে, সুতরাং এ স্থলে বিশেষ আলোচনার আবশ্যক নাই। রঘুনাথ শিরোমণি ভারত বিখ্যাত ব্যক্তি। বৈদিক পুরাবৃত্ত মতে “অষ্টাবিংশতি প্রদীপ প্রণেতা মহেশ্বর ন্যায়ালক্কার, শিরোমণির ভ্রাতা ছিলেন। রঘুনাথ (বিনা কারণেই?) নবদ্বীপবাসী হন এবং মহেশ্বর শ্রীহট্টাধিপতি গোবিন্দের সভাসদ হইয়াছিলেন। এই গোবিন্দ দিল্লীশ্বরের সেনা কর্তৃক বিজিত হন।” কারণ--গোবিন্দের প্রতাপে দিশ্লীশ্বর “সন্তপ্ত” হইয়াছিলেন (11), এবং তাহাতেই গোবিন্দের রাজ্য-জয়ে “যবন-চমূ” প্রেরিত হয়, যথাঃ__ “তস্য প্রতাপ সন্তপ্ত দিল্লীরাট যবনেশ্বরঃ। গোবিন্দ রাজ্য মাহ প্রেরয়ামাস তাং চমুং॥” ইত্যাদি । গৌড় গোবিন্দ রাজার সময় নির্ধারণ বিষয়ে মতান্তর থাকিলেও ১৩৮৪ খৃষ্টাব্দের পরে যে শ্রীহট্ট যবন সৈন্য কর্তৃক বিজিত হয় নাই, ইহা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সুতরাং গোবিন্দের ১৬. বৈদিক পুরাবৃত্তের প্রামাণ্য সম্বন্ধে অনেকেই সন্দিহান। কেহ কেহ বলেন, ইহা জগদানন্দ প্রণীত; ডলার কাশ্যপগণ বলেন যে ইহা তন্রত্য কৃষ্ণরাম ন্যায় বাগীশ প্রণীত। কেহ কেহ বলেন মূল গ্রন্থ রংপুরে ছিল; কিছুদিন হইল, তথা হইতে আনয়ন করা হয়। রংপুরে ধাহার নিকট ছিল বলিয়া প্রকাশ, অনুসন্ধানে তাহারই ভ্রাতা (পোঃ ভিতরবন্দ, গ্রাম পরমালী বাসী শ্রীযুত আনন্দ মোহন ভট্টাচার্য্য লিখিয়াছেন-“আপনাদের প্রস্তাবিত “বৈদিক পুরাবৃত্ত' বিশেষ রকম অনুসন্ধানে পাওয়া গেল না। যতদূর জানিতে পারিয়াছি, তাহাতে বুঝা যায় যে, এক সময় এ সম্বন্ধে কোন কাগজ আমাদের বাড়ীতে ছিল।' আবার কেহ কেহ বলেন যে একটা প্রাচীন ভুটি কাগজে বৈদিকদের সম্বন্ধে ৩০/৪০ পংক্তি নোট লিখা ছিল, অনেকেই (ভূমিড়াউবাসী শ্রীযুক্ত ব্রজনাথ বিদ্যারতু প্রভৃতি) াহা রংপুরে দেখিয়াছেন; সম্প্রি তাহাই বিবদ্ধিত করিয়া বৈদিক পুরাবৃত্তের আকারে পরিণত করা হইয়াছে। অষ্টম অধ্যায় : ইটার পরবর্তী কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৮৯ সভাসদ ধিনিই হন, এই সময় তাহার বিদ্যমানতার কথা বলা যাইতে পারে। কিন্তু প্রসিদ্ধ রঘুনাথ শিরোমণি খৃষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ ভাগের লোক, তাহার ভ্রাতা চতুর্দশি শতাব্দীর শেষভাগে কিরূপে জীবিত থাকিতে পারেন? বস্তুতঃ রঘুনাথ, মহেশ্বরের ভ্রাতা নহেন, বৈদিক পুরাবৃত্তের অসংলগ্ন অশ্রদ্ধেয় কথায় আস্থা স্থাপন করা যাইতে পারে না। অষ্টাবিংশতি প্রদীপ প্রণেতা শ্রীহস্ট্রের গৌরব মহেশ্বর ন্যায়ালঙ্কার যে শিরোমণির পরবর্তী তাহা প্রমাণিত হইয়াছে। “গোপাল ভট্টের জীবনী দৃষ্টে জানা যায় যে, গোপাল ভট ১৪৫৩ শকে বৃন্দাবন গমনের পর, “হরিভভ্তি বিলাস” প্রণয়ন করেন। সনাতন গোস্বামী ১৪৭৬ শকে এ গ্রন্থের “দিকদর্শিনী” ও ভাগবতের “বৈষ্ণবতোষনী” টীকা লিখা শেষ করেন। যথাঃ-” “শাকে ষট সপ্ততি মনৌ পূর্ণেয়ং টিপ্পনীশুভা ।” এই গ্রন্থ বৃন্দাবন হইতে নবদ্বীপ পর্য্যন্ত আনিয়া প্রসিদ্ধি লাভ করিতে ন্যুনকল্লে ১৫/১৬ বৎসর কাল অতীত হইয়াছিল ।” “স্মার্তঁ রঘুনন্দন ত্প্রণীত আহ্িক ও একাদশীতত্তবের বিষ্ণু পূজা প্রকরণে তদীয় মত উদ্ধৃত করিয়াছেন। এতদ্বারা পঞ্চদশ শত শকের শেষ ভাগে এ গ্রন্থ প্রণীত হওয়া দৃষ্ট হয়। স্মার্ত ভন্টাচার্ধ্য তাহার প্রণীত জ্যোতিস্তত্তের সংক্রান্তি গণনায় বলিয়াছেন । যথাঃ__ “নবাষ্ট শক্রহীনেন শকাব্দান্তেন পুরিতা ।” এতদ্বারাও ১৪৮৯ শতে জ্যোতিস্তত্ব লিখিত হওয়া দৃষ্ট হয়। “মলমাস তত্ব স্বপ্রণীত গ্রন্থের ক্রমনির্দেশে তিনি লিখিয়াছেন, যথাঃ--জ্যোতিষে বাস্ত যজ্ঞকে, দীক্ষায়াং আহিকে কৃত্যে” ইত্যাদি। ইহাতে জ্যোতিস্তত্বের পর আহ্বিক তত্ব বিরচিত হওয়া দৃষ্ট হয়। রঘুনন্দনের গ্রন্থ লিখিত হওয়ার পর ২০/২৫ বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পুবের্ব যে তাহা সাধারণ্যে প্রচলিত হইয়াছিল, এমন অনুমান করা যাইতে পারে না।” “মহেশ্বর ন্যায়ালঙ্কার স্বপ্রণীত “জ্যোতিঃপ্রদীপ” এবং “আহ্িক প্রদীপে” বঘুনন্দনের মত গ্রহণ করিয়াছেন। ইহা হইতে স্পষ্টতঃই শকাব্দ ষোড়শ শতাব্দীর মধ্য বা শেষভাগে এ সকল গ্রন্থ প্রণীত হওয়ার অনুমান হয়। মহেশ্বরের পরবর্তী তদ্বংশীয় তারানাথ ভষ্টাচার্য্যের প্রদত্ত বংশপত্রের সহ সামঞ্জস্য রক্ষা করিয়া আমরা শকাব্দ ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমভাগে মহেশ্বরকে দেখিতে পাই ।” “অতএব খৃষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে প্রাদুর্ভূত শিরোমনি ও খৃষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমে প্রাদুর্তৃুত মহেশ্বরের মধ্যে শতাধিক বৎসরের ব্যবধান দৃষ্ট হয়। এমতাবস্থায় তাহারা “প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থে সমসাময়িক পণ্ডিতগণের মধ্যে একে অন্যের মত গ্রহণ পূর্বক সমালোচনা করিবার রীতি থাকা দৃষ্ট হয় না। মহেশ্বর ন্যায়ালঙ্কার শিরোমণির ভ্রাতা হইলে রঘুনন্দন ও শিরোমণি উভয়ই তাহার সমসাময়িক হন। কিন্তু তাহার গ্রন্থে ম্মার্তত ভন্টাচার্য্যের মত উদ্ধত করিয়া সমালোচনার কথা বলিয়াছি; তিনি স্বপ্রণীত সিদ্ধান্ত প্রদীপে “অত্র শিরোমণি' 'লক্ষণং পরিফৃত্যাহশিরোমণি' বলিয়া শিরোমণির মতও গ্রহণ করিয়া গিয়াছেন। এতদ্বারা শিরোমণি, মহেশ্বরে সমসাময়িক না থাকা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় ।” “ভারত প্রসিদ্ধ শিরোমণি, মহেশ্বরের জ্যেষ্ঠ সহোদর হইলে এই প্রণালীতে তাহার মত গ্রহণেন কোনই কারণ ছিল না। সম্পর্কিত পপ্তিতগণের মধ্যে প্রাটনকালে মত গ্রহণের যে রীতি ছিল, তাহার উদাহরণ স্বরূপ “সাহিত্য-দর্পণ' হইতে নিম্নলিখিত পংক্তি নিচয় উদ্ধৃত করা গেল, শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-১৯ ২৯০ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড যথাঃ_-“মম তাত পাদানাং মহাপাত্র চতুর্দশ ভাষা বারবিলাসিনী ভূজঙ্গ মহাকবীশ্বর শ্রীচন্দমশেখর সন্ধি বিগ্রাহিকলাং।' শ্রীরূপ গোস্বামী, তদীয় অগ্রজ সনাতন গোস্বামীর বাক্য এইরূপই স্ন্ত্রম সূচক ভাবে উদ্ধীত করিয়াছেন।” “এই সকল কারণ ও প্রমাণবলে নিঃসন্দেহরূপে বলা যাইতে পারে যে, শিরোমণি মহেশ্বরের সহোদর ছিলেন না, এবং তাহাদের মধ্যে এই প্রকার সন্বন্ধ কখনও সম্ভবপর নহে।” (__আনন্দবাজার পত্রিকা ১৩-০৩-১৩১৪ বাং)। মহেশ্বরের জীবনকাহিনী এই গ্রন্থের স্থানান্তরে কথিত হইবে, তিনি কৃষ্ণাত্রেয় গোত্রীয় ব্রাহ্মণ, মহেশ্বর হইতে তদ্ধংশে বর্তমানে সপ্তম পুরুষ চলিতেছে, ইহাতেও তীহাকে শিরোমণির ভ্রাতা নির্দেশ করা যাইতে পারে না। রঘুনাথ শিরোমণি কাত্যায়ন গোত্রীয় ছিলেন বলা গিয়াছে; কাজেই শিরোমণির সহিত মহেশ্বরের সহোদর সম্পর্ক থাকিতে পারে না। ১৩০৯ বঙ্গাব্দের “বান্ধব” পত্রিকার ২০৮ পৃষ্ঠার ফুটনোটে ও ১৩১০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন- কার্তিক সংখ্যা বান্ধবের ২৭১ পৃষ্ঠায় শিরোমণিকে স্পষ্টতঃ পূর্ববঙ্গের লোক বলা হইয়াছে। বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস দ্বিতীয় ভাগে তাহাকে শ্রীহন্বাসী বলা গিয়াছে । ১৩১১ বঙ্গাব্দের “বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার” প্রথম সংখ্যায় শিরোমণি সম্বন্ধে দুইটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, দ্বিতীয় প্রবন্ধের লেখক শ্রীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র দে উদ্তট-সাগর শিরোমণিকে নবদ্বীপের রত্ুখনি উদ্ভূত মহামণি বলিয়া প্রচার করিয়াছেন। অল্পদিন হইল, উত্তট-সাগর মহাশয়ের সহিত কোনও শ্রদ্ধাম্পদ বন্ধুর এই বিষয়ে আলাপ কালে, শিরোমণির জন্ম স্থানের প্রকৃত পরিচয় তিনি জ্ঞাত নহেন বলিয়া প্রকাশ করেন। ফলতঃ “নবদ্বীপ নিবাসিনঃ” ইতি উদ্তট শ্রোকের ভাবার্থেই তিনি শিরোমণিকে নবদ্বীপ-নিবাসী বলিয়া থাকিবেন। পণ্ডিত প্রবর গদাধর তাহাকে “কাত্যায়ন খণিজমণি” বলিয়াছেন, কাত্যায়ন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ বঙ্গদেশ মধ্যে শ্রীহট্ট ব্যতীত অন্যত্র কদাচিৎ মিলে, কাজেই “কাত্যায়ন খণিজ মণেঃ” রঘুনাথ শ্রীহট্টবাসী ছিলেন ।১৭ ১৭. পশ্চিম বঙ্গে আদিশুর কর্তৃক আনীত পঞ্চ ব্রাহ্মণ মধ্যে কাত্যায়ন গোত্র ছিল না, ইহাদের গোত্র, যথাঃ “শাগ্ল্যঃ কাশ্যপো বাস্যো ভরদ্বাজস্তথাপরঃ। সাবর্ণঃ কথিকাঃ পূর্র্বং পঞ্চগোত্রাঃ প্রকীর্তিতাঃ0” (কেলীন শব্দ-বিশ্বকোষ ৩১১ পৃষ্ঠা এবং বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ১ম ভাগ ১০৩ পৃষ্ঠা) ইহার পরে রাজা শ্যামল বর্ার আনীত পঞ্চবাহ্ষণ মধ্যেও কাত্যায়ন গোত্র ছিল না, ইহাদের গোত্র, যথাঃ- “আদৌ শুনক শান্ডিল্যো বশিষ্ঠশচ তত পরং। সাবর্ণশ্চ ভরদ্বাজঃ পঞ্চগোত্রাঃ প্রকীর্তিতাঃ॥” (বিশ্বকোষ ৩৩৮ পৃষ্ঠা, বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ২য় ভাগ ৫৭ পৃষ্ঠা) ইহাদের পর বঙ্গদেশে যে ব্রাহ্ষণগণ আগমন করেন, তাহারা ষষ্ঠ গোত্রীয় বলিয়া কীর্তিত, তাহাদের মধ্যেও কাত্যায়ন গোত্র পাওয়া যায় না, ইহাদের গোত্র, যথাঃ- বশিষ্ঠঃ কাশ্যপশ্চৈব কৃষ্ণাত্রেয়স্তথৈবচ। গৌতমশ্চ ভরদ্বাজো ঘাৎস্যশ্চৈবরথীতরঃ। পরাশরোহগ্নিশা ঘৃতকৌশিক কৌশিকৌ । ষষ্ঠ গোত্রাস্ত বিজ্ঞেয়৷ ২ত্যকাদশ সংখ্যক॥” (বৈদিককুলদীপিকা বচং-বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ২য় ভাগ ৫৯ পৃষ্ঠা) অষ্টম অধ্যায় : ইটার পরবর্তী কথা শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত ২৯১ হইয়াছে। সময় নির্দেশ বিষয়ে আর একটা কথা বলিতে বাকি আছে। রাজার ভ্রাতৃবংশীয় বরমচালবাসী শ্রীযুক্ত কৃষ্ণ কিশোর চৌধুরী মহাশয় আমাদিগকে যে বিবরণ পাঠাইয়াছেন, তাহাতে রাজবংশীয় মজঃফর রচিত একটি কবিতা উদ্ধৃত করিয়া দিয়াছেন, এই কবিতাটির কোন কোন স্থল শ্রীযুক্ত সতিশ চন্দ্র চৌধুরীও উদ্ধৃত করিয়া পাঠাইয়াছিলেন; এই কবিতার এক স্থলে লিখিত আছেঃ__ “সুবিদ নারাইনের পত্বী কমলা সুন্দরী । তাহার গর্ভেতে জন্মে পুত্র জন চারি দৈবযোগের হেতু রাজ্যে অঘটন হৈল। শের শাহে হুমাউনে বিবাদ চলিল! সেই কালে সেনাপতি খোয়াজ উসমান। বলবন্ত বুদ্ধিমন্ত লোহানী পাঠান! সে আসিয়া রাজবাড়ী কৈল আক্রমণ । যুদ্ধ করি সুবিদ রাজা ত্যাজিল জীবন” ইত্যাদি । অবস্থানুসারে এ কথাগুলি বৈদিক পুরাবৃত্তের বিবরণাপেক্ষা অল্প প্রামাণ্য বলা যাইতে পারে না। বৈদিক পুরাবৃত্তের অভিনব কাহিনীগুলির অপেক্ষা এ কবিতাও অল্প প্রাচীন নহে। সে যাহা দৃষ্ট হয় না, এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যাইতে পারে। অতঃপর, দাক্ষিণাত্য বৈদিক শ্রেণীর ব্রাহ্মণগণ মধ্যেও কাত্যায়ন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ নাই, ইহাদের গোত্র, যথাঃ “জাতৃকর্ণশ্চ সাবর্ণঃ কাশ্যপো ঘৃত কৌশিকঃ। বাৎস্যঃ কাথায়নঃশচৈব কৌশিকো গৌতমস্তথা॥” মতান্তরেঃ-“গৌতমঃ কাশ্যপোঃ বাৎস্যঃ কাথায়ণ্‌ ঘৃত কৌশিকৌ । কৃষ্ধাত্রেয়োভরদ্বাজৌ দৃশ্যতে ন চ কুত্রচিৎ' (বিশ্বকোষ ৩৪১ পৃষ্ঠা, বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ২য় ভাগ ২০২ পৃষ্ঠা) সপ্তসতী ব্রাহ্মণদের মধ্যেও কাত্যায়ন গোত্র দৃষ্ট হয় না, ইহাদের গোত্র যথা৪- “শুনকঃ গৌতমঃ কাশ্যে কৌগ্ডিন্যশ্চ পরাশরঃ। বশিষ্ঠো হারীতো কীৎসশ্চাষ্টো গোত্রা প্রকীর্তিতাঃ” (বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ১ম ভাগ ৮৮ পৃষ্ঠা) রামদেবের পঞ্জী ও কুলানন্দের কারিকামতে শাকদ্বীপী ব্রাহ্মণ মধ্যে নিম্নলিখিত গোত্রগুলি দৃষ্ট হয়, যথাঃ-কাশ্যপ, মৌদগল্য, পরাশর, ভরদ্বাজ, গৌতম, মৌ্জায়ন, গর্গ, শাণ্ডিল্য, বাৎস্য, ঘৃত কৌশিক, জমদগ্নি ও আলম্যান এবং সাবর্ণ। (বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ২য় ভাগ-৯১, ৯২, ৯৩, ১০২, ১২৯ পৃষ্ঠা) শাকদবীপী ব্রাহ্মণদের মধ্যে, কাত্যায়ন গোত্র পাওয়া যায় না। এই যে সকল গোত্রের উল্লেখ করা গেল, বঙ্গীয় ব্রাহ্মণ সমাজ ইহাদের দ্বারাই গঠিত; ইহাদের মধ্যে যখন কাত্যায়ন গোত্র নাই এবং শ্রীহট্টে যখন কাত্যায়ন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ পাওয়া যায়, “কাত্যায়ন খনিজ মণে” শিরোমণিকে তখন শ্রীহট্টবাসী বলিতে আপত্তির পথ কোথায়? বিশেষতঃ শিরোমনি শ্রীহট্টবাসী বলিতে আপত্তির পথ কোথায়? বিশেষতঃ শিরোমণি শ্রীহট্টবাসী বলিয়া পঞ্তিত সমাজের চির প্রচলিত। (এই বিষয়ে “সম্বন্ধ-নির্ণচ গ্রন্থের ৪০-৪৫ পৃষ্ঠা পর্য্যস্ত দ্রষ্ট ২), এঁ গ্রন্থেও বঙ্গীয় ব্রাহ্মণ সমাে' কাত্যায়ন গোত্রীয়ের অভাবের বিষয় লিখিত হইয়াছে ।) নবম অধ্যায় ইটার বিবিধ কথা মনুকুল প্রদেশের অধিকাংশই এক সময় ইটা নামে অভিহিত হইত। তৎপরে আলীনগর, সমসেরনগর, ভানুগাছ, ছয়চিরি, ইন্দেশ্বর ইটা-ভুক্ত ছিল; পরে খারিজ হইয়া পৃথক হয়। এখন কেবল আলীনগর, সমসেরনগর ও ইটা, এ তিন পরগণার সাধারণ নাম ইটা । প্রাচীন সংবাদ ইটায় ব্রাহ্মণাভ্যুদয়ের পুর্র্ববস্তী এতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায় না। অন্রত্য বড়শীযোড়া পাগাড়ে জনৈক হিন্দু রাজার বাড়ী ছিল বলিয়া কথিত আছে। এ জঙ্গলাকীর্ণ স্থান বর্তমানে লোকলোচনের একরূপ অগোচর হইয়া পড়িয়াছে। কথিত হয়। জনশ্রুতি যে, তত্রত্য রাজার রূপবতী নানী এক কন্যা ছিলেন, তিনি এতদ্দেশ প্রচলিত “মাধ্বত” করিয়া এই দীঘীতে “দেউল” বিসর্জন করিয়াছিলেন।১ উহার নিকটেই “শাকনীয়া দীঘী” প্রবাদানুসারে রাজকন্যা উহাতে শঙ্খ বলয়াদি ধৌত করিয়াছিলেন। তথায় “মাছুনীর জাঙ্গাল” নামে এক প্রাচীন পথের চিহ্ন অদ্যাপি দৃষ্ট হয়। কাঁখত আছে, কোন মৎস্য বিক্রেত্রী “কাওয়া দীঘী” হাওরে মাছ ধরিয়া প্রত্যহ রাজবাড়ী মাছ যুগাইত। কদর্য্য পথে আসিতে অতিরিক্ত বিলম্ব হইত বলিয়া যথাকালে সে রাজবাটী পৌছিতে পারিত না। মাছ আসিতে যাহাতে বিলম্ব না হয়, সেই জন্য “মাছুনীর জাঙ্গাল" নির্মিত হইয়াছিল। হিন্দু রাজার দীঘীর সন্নিকটে “সুন্দর নাথের পুষ্করিণী”। বর্তমানে ইহার পরিচিহ মাত্র আছে। এ স্থানে নাথ জাতীয় সুন্দরের বাড়ী ছিল। প্রবাদানুসারে ইহার একটা বৃষ হইতে “ডেকার হাওরের” নামকরণ হয়, প্রথমভাগে তাহা উল্লেখিত হইয়াছে । কাণিহাটীর আসম রায় ইটার পূর্ববদিপ্ব্তী কাণিহাটা খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীতে জনৈক হিন্দু রাজার অধিকারে ছিল বলিয়া অবগত হওয়া যায়, ইহার নাম আসম রায়। আসম রায় ব্রেপুর রাজবংশের এক শাখা বংশীয় ছিলেন বলিয়া কথিত আছে। আসম রায় একদা একস্থানে একটি বৃহৎ ধ্যাঘ্রকে জালাবদ্ধ করেন, কিন্তু স্থানটি জঙ্গলে ঘন সমাচ্ছন্র থাকায় বধোপায় নির্ধারণে অসমর্থ হন৷ দৈবাৎ শাহ সেলিম উদ্দীন নামে জনৈক ফকির তথায় উপস্থিত হইলেন। সেলিম উদ্দীন শ্রীহন্ট-বিজেতা মজঃ$রদ শাহজলালের অনুসঙ্গিগণের অন্যতম । শ্রীহস্ট- বিজিত হইলে, শাহজলাল কর্তৃক তদীয় অনুসঙ্গিগণ ইসলাম ধর্ম প্রচারার্থ নানাস্থানে প্রেরিত হ-। তন্মধ্যে তাজউদ্দীন ও চোটিম উদ্দীন ভ্রাতৃদয়ের মধ্যে তাজ চৌকি পরগণায় গমন করেন ১. মাঘবত ও দেউল ইত্যাদির বিবরণ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত ১ম ভাগ ৯ম অধ্যায় বর্ণিত হইয়াছে । নবম অধ্যায় : ইটার বিবিধ কথা শ্রীহট্ট্রের ইতিবৃত্ত ২৯৩ এবং সেলিম উদ্দীন আসম রায়ের অধিকার মধ্যে উপস্থিত হন। সেলিম উদ্দীন জালাবদ্ধ ব্যাদ্ দৃষ্টে ব্যঙ্গচ্ছলে বলিয়া উঠিলেন, “ব্যাঘ্ঘ বধে এত যত্ব!-যতে নৈরাশ্য! আশ্চর্য্য বটে!” আসম রায় ফকিরের এই গবির্িত বাক্য শ্রবণে ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিলেন এবং তাহার প্রতিফল দিবার উদ্দেশ্যে তাহাকেই ব্যাঘ্ব বধের অনুমতি দিলেন। অনুমতি পাইয়া ফকির স্বীয় সাধন প্রভাবে সেই ভীষণ ব্যাপ্রকে বিড়াল ছানার ন্যায় অনায়াসে ধৃত করিয়া আনিলেন ও “ওদিকে আর আসিও না” বলিয়া তথা হইতে দূর করিয়া দিলেন। ফকিরের এই অদ্ভুত কার্যে রাজা আশ্চর্য্যাবিত হইলেন, তাঁহার দৈব প্রভাবে তপতি শ্রদ্ধা জন্মিল; তিনি তাহাকে বহু ধন দান করিতে চাহিলেন। সেলিম উদ্দীন ধন গ্রহণ করিলেন না; তবে ধর্ম সাধনার জন্য এক তীরক্ষেপ পরিমিত ভূমি (ধনু হইতে ক্ষেপনে যথায় তীর পতিত হয়, তদন্তর্বন্তী ভূমি) মাত্র চাহিয়া লইলেন, সেই স্থান তদবধি “তীরপাশা” নামে খ্যাত হইল, এবং ব্যাঘ্বকে যে স্থানে আবদ্ধ করা হয়, সেই স্থান “আসম রায়ের বেড়ী” নামে কথিত হইয়া থাকে। ইহার পর, একদা আসম রায় রজনীযোগে ন্দ্রা যাইতেছিলেন, তিনি দেখিতে পাইলেন যে, তাহার গৃহ-বর্তিকা যেন জীবন্ত ভাবে গমন করিতেছে; যাইতে যাইতে সেই প্রদীপ সেলিম উদ্দীনের গৃহে গিয়া উপস্থিত হইয়াছে। এ কি স্বপ্ন? ইহা ত প্রত্যক্ষবৎ বোধ হইতেছে? আসম রায়ের মনে এক নব ভাবের উদয় হইল; তিনি তখনই গাত্রোথান করিয়া সেলিম উদ্দীনের গৃহদ্বারে উপস্থিত হইলেন। “এত রাত্রে রাজা গৃহদ্বারে কেন?”--আসম রায় বলিলেন_- “ফকির, দেখিলাম, আমার গৃহ-বর্তিকা স্বয়ং তোমার গৃহে আগমন করিয়াছে! কথাটার মর্ম কি,__বুঝিয়াছি!-_-আমার রাজয্রী তোমারই গৃহাগত--আমি রাজ্যরষ্ট হইব। অতএব আমি আর এ রাজ্যে থাকিব না, ইহা তোমারই হইল ।” রাত্রি প্রভাতে আর কেহই আসম রায়কে দেখিতে পাইল না। প্রথমতঃ তিনি ত্রেপুর রাজধানী গমনে ইচ্ছুক হন, কিন্তু পরক্ষণেই সে ইচ্ছা পরিত্যাগ পূর্বক কাণিশালিতে নিজ মাতুলালয়ে উপস্থিত হইয়াছিলেন। আসম রায় একাকী রাজ্যত্যাগে চলিয়া যান; তীহার স্ত্রী কণক রাণী, যুবরাজ কালী রায় এবং রাজকন্যা তাহার অনুগামী হইতে পারেন নাই। আসম রায়ের প্রস্থান সংবাদ প্রচারিত হইলে যুবরাজ সিংহাসনাধিকারের চেষ্টা করেন, কিন্তু সেলিম উদ্দীনই রাজ্যের অধিকারী হন। তবে কণক রাণীকে তিনি কতক পরিমাণে ভূমিদান করেন। কণক রাণী তথায় এক নূতন বাড়ী প্রস্তুত ক্রমে বাস করেন, কণক রাণীর নামানুসারে তাহার প্রাপ্ত স্থান “কাণিহাটী” (কনকহাটী) নামে খ্যাত হয়। কণক রাণীর বাড়ী ও দীঘী আজ পর্য্যন্ত তাহার নামেই €কাণীরবাড়ী, কাণীর দীঘী বলিয়া) পরিচিত হইয়া আসিতেছে। সেলিম উদ্দীন স্বীয় পুত্র দৌলত মালিক সহ মনু নদীর পশ্চিম তটে বাড়ী প্রস্তুত ক্রমে বাস করেন, তথায় তাহার কবর ছিল, পরে মনুগর্ভে পতিত হয়। শাহ সেলিম উদ্দীনের কয়েক পুত্র ছিলেন, এক পুত্রের বংশ কাণিহাটীর চৌধুরীগণ ৷ লংলার কৌলা নিবাসী চৌধুরীগণ তাহার অপর পাত্রর বংশজাত। তাহাদের কথা পশ্চাৎ (বংশ- বৃত্তান্ত খণ্ডে) উক্ত হইবে। যম খণ্ড দ্বিতীয় ভাগ- ২৯৪ ৯৬১১ ৮০১ বাসী (৪ জকি ৯ ১৬, আও ১৮ ৯৯ এ ০ ক ২ কপি ্ এ শাসিত * ১৯০ নবম অধ্যায় : ইটার বিবিধ কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৯৫ ইটার দেওয়ান ও কানুনগোগণ ইটার রাজা সুবিদ নারায়ণের যে বিবরণ বলা হইয়াছে, তাহার পরবর্তী ঘটনার মধ্যে ইটার দেওয়ানগণের কথাই বিশেষ উন্লেখযোগ্য । মোসলমান আমলে গুণের আদর ছিল, উপযুক্ত হিন্দুগণও উচ্চপদে নিয়োজিত হইতেন। এমন কি, দেশের সর্ব্ব প্রধান শাসনকর্তা ও সেনাপতির পদও হিন্দুগণ লাভ করিতে পারিতেন। সীমান্ত দেশ শ্রীহট্টেও তাহার ব্যভিচার হয় নাই, নবাব হরকৃষ্ণ ও সেনাপতি হরদয়াল তাহার উদাহরণ। মোসলমান আমলে যে সকল শ্রীহট্রবাসী হিন্দু উচ্চপদে আরূঢ় ছিলেন, তন্মধ্যে ইটাবাসী অর্জুন বংশীয় কানুনগোগণ ও সম্পদ সেন এবং শ্যাম রায় দেওয়ানেরও নাম করা যাইতে পারে। ইটার কানুনগোদের মধ্যে রতিরাম খ্যাত নামা ব্যক্তি । রতিরাম নন্দীউড়া গ্রামবাসী অর্জুন বংশীয় প্রসিদ্ধ ব্যক্তি। ১৬৮৯ থৃষ্টাব্দের (২২ সাবান ১০৯৯ পরগণাতীত সনে২) লিখিত একখানি দলিলে দৃষ্ট হয় যে, যখন কানুনগো পদের ক্ষমতা হ্রাস করা হয় নাই, সেই সময়ে রতিরামের অতি বৃদ্ধ প্রপিতামহ ইটার কানুনগো ছিলেন, তৎপরে তাহার পুত্র দিগম্বর এ পদ লাভ করেন, দিগন্বরের মৃত্যুতে তাহার ভ্রাতুষ্পুত্র পরমানন্দ এ পদের উত্তরাধিকারী হন। পরমানন্দের পুত্র মহানন্দ তৎপর কানুনগো হন। ইহার পরেই কানুনগোদের ক্ষমতা হাস করা হয়। তৎপরে তাহার ভ্রাতুষ্পুত্র ভবানীদাস এ পদ পান। খোয়াজ ওসমানের দেওয়ান নরসিংহ দাসের সহিত তিনি নিজ ভ্রাতুষ্পুত্রীর বিবাহ দিয়াছিলেন। ভবানী দাসের মৃত্যুর পর তাহার পুত্র তিলক রাম শিশু থাকায়, নরসিংহের যত্ে রতিরাম এ পদ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। পূর্বোক্ত তজকিরা চৌধুরাই কাগজে এই রতিরামের নাম আছে। তিলক রাম বয়ঃপাণ্ত হইলে পৈতৃক কানুনগো পদের জন্য আবেদন করিয়া এ পদ প্রাপ্ত হন। ইহাদের পরবর্তী দুর্লভ রামের সময় (১৬৮৯ খৃষ্টাব্দে) উপরোক্ত দলিল স্ম্পাদতি হয় ।৩ সুতরাং তজকিরা চৌধুরাই কাগজ রতিরাম ৰিত থাকা কালেই লিখিত হইয়াছিল বলিতে হইবে । ২. শ্রীহট্ট অঞ্চলের প্রাচীন কোন কোন দলিল পত্রে “পরগণাতীত” নামে এক অবন্দের উল্লেখ পাওয়া যায়, এই অব্দ বঙ্গাব্দের তিন বৎসর মাত্র অগ্রগামী ছিল। ৩. এই প্রাচীন দলিলখানা বাঙ্গালা ভাষায় লিখিত,-মূল দলিল আমাদের নিকট আছে, স্থানে স্থানে অপাঠ্য হওয়ায় এস্থলে উদৃূত করা গেল না। এই দলিল সাহায্যে রতিরাম পর্য্যন্ত নিঙ্নলিখিতরূপ বংশপত্র প্রস্তুত করা যাইতে পারেঃ- (বাণেশ্বর) চিলি ৮ সস দিগম্বর শিব ] পরমানন্দ 55555 মহানন্দ নিত্যান্দ পতি ভবারীদাস মহেশদাস ৰ নিব | তিলকরাম দাস দেবীদাস চান্দরাম রতিরাম চণ্তীরাম বতিরামের পুত্র শ্যামরাম ত'গুত্র হরিচরণ, তাহার পুত্র খুশালর,ম, তৎপুত্র জগন্নাথ, জগন্নাথের পু তারানাথ, তাহার পুত্র দ্বারকানাথ, তৎপুত্র শ্রীযুত দীনেশ চরণ বর্তমান । রতিরাম হইতে সপ্তম পুরুষ চলিতেছে। ২৯৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড সম্পদ সেন ইটার দেওয়ান দ্ধয়ের মধ্যে পঞ্চেশ্বরবাসী সম্পদ সেন ঢাকা-নবাবের দেওয়ান নিযুক্ত হন। এই বংশীয়গণ পুবের্ব চৌয়ালিশের সিদুরগ্রামে ছিলেন, তথা হইতে পঞ্চেশ্বর আগমণ করেন। সম্পদ সেনের সময়ে ইটার জমিদারবর্গ (আব্দুল ফজল ও আব্দুল হেকিম প্রভৃতি) সহ তত্রত্য তালুকদার ও তরফদারদের বিবাহ হওয়ায় তাহাদের অভিযোগ মূলে, দেওয়ানের যত ইটা হইতে ১৭৩৯ খৃষ্টাব্দে অনেক ভূমি খারিজ হইয়া যায়। এঁ সময়ে শ্রীহট্রে সমসের খা ফৌজদার ছিলেন, এবং উক্ত খারিজা ভূমি তাহার নামানুক্রমে সমসেরনগর নামে আখ্যাত হয়। এই সময় দেওয়ান নিজ পুত্র তিলক রামকে নূতন পরগণার (সমসের নগর) কানুনগো নিযুক্তের জন্য চেষ্টা করায়, দশ হাল ভূমি ও অতিরিক্ত ৭২ কাহন কৌড়ির নানকার সহ তীহাকে সমসেরনগরের কানুনগো পদে নিয়োজিত করা হয়। উক্ত সমসেরনগর পরগণায় আব্দুল ফজল, আব্দুল হেকিম প্রভৃতির চৌধুরাই পদ বহাল থাকে 1 দেওয়ানের এক কন্যা ছিলেন, মহা আড়ম্বর সহকারে তিনি গয়গড়বাসী শিবরাম দত্তের সহিত সেই কন্যার বিবাহ দেন। জামাতাকেও তিনি কানুনগো পদে নিযুক্ত করিতে প্রয়াস পান। দেওয়ান যৌতুক স্বরূপ জামাতাকে যে ভূমি দান করেন, শিবরাম তালুক বলিয়া খ্যাত উক্ত ভূমি এখনও তদ্বংশীয়গণের ভোগাধিকার আছে। দেওয়ান কাওয়াদীঘী হাওর হইতে এক খাল কর্তন করিয়া সাধারণের সুবিধা করিয়া দেন, তাহাই “সম্পদ খালি” নামে কথিত হইয়া আসিতেছে । শ্যামরায় দেওয়ান ও তর্থপিতা হরবল্লভ ইটার প্রসিদ্ধ দেওয়ান শ্যামরায় সম্পদ সেনের অব্যবহিত পরবর্তী । দেওয়ানের পূর্ব পুরত্ষ চক্রধর দত্ত খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর প্রারণ্ে রাঢ়ু দেশ হইতে আগমন পুবর্বক ইটায় বাস করেন, তাহার বাসস্থান দত্তগ্রাম নামে খ্যাত হয়। চক্রধরের ধরাধর ও মোদিনীধর নামে দুই কনিষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন, নিজ ভাগ্য পরীক্ষার্থ ধরাধর ত্রিপুরায় এবং মোদিনীধর সন্নিকটবত্তী গয়গড় গ্রামে গমন করিয়া বাস করেন। ৪. এতদ্বিষয়ক পারস্য সনদের মর্্ানুবাদ এইঃ- বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালে রাজকীয় কর্মচারীগণ, চৌধুরী ও কানুনগোবর্গ, পুরকায়স্থ ও রায়ত সকল, পরগণা ইটা, সরকার শ্রীহষ্ট জানিবেন যে,আব্দুল ফজল, আব্দুল হেকিম, মোহাম্মদ নওয়াজ চৌধুরীগণ পরগণে ইটা ও গয়রহ তরফদার ও তালুকদারদের নালিশ এই যে, উহারা নিজ নিজ সরিকি চৌধুরী ও কানুনগোবর্গের সরিকি সনন্দের দৌরাত্মে নিরির্বঘ়ে সরকারী রাজস্ব শোধ করিতে অক্ষম; উভয় পক্ষে বিবাদ মূলে যথারীতি চাষ আবাদ চলিতেছে না। অতএব ভূমি আবাদ প্রভৃতি সাধারণের হিত ও সরকারী উপকার কল্পে এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উক্ত তালুকাতের জমা ইটা পরগণা হইতে খারিজ ক্রমে সমসেরনগর নাম করা গেল। এই পরগণার চৌধুরাই পদে উল্লিখিত আব্দুল ফজল ও আব্দুল হেকিম ও মোহাম্মদ নওয়াজকে; ও সম্পদ রায়ের পুত্র তিলক রায়কে শালিয়ানা ১০/০ দশ হাল ভূমি ও সাবেক ভিন্ন নূতন ৭২ কাহন কৌড়ির নানকার সহ কানুনগো পদে নিযুক্ত করা গেল। কর্তব্য যে উল্লিখিত পরগণা সদর মফগঃম্বল সেরেস্তায় ও সরকারী রাজস্ব উসলি দপ্তরে সন ১৪৪৬ বাঙ্গালা হইতে পৃথক গণ্য করা হয় তন্রত্য চৌধুরাই ও কানুনগো পদ উল্লিখিত ব্যক্তিগণের প্রতি স্থিরতর জানিয়া তাহাদের মন্ত্রনা ও উপদেশে কার্ধ্য চলিবে ও তাহাদের দস্তখত গণ্য হইবে । তাহারাও সরকারী হিতের প্রতি দৃষ্টি রাখিয়া কার্ধ্য করে ও পরগপার আবাদ ও উপন্বত্ব বৃদ্ধির প্রতি মত করে। মোহরে মুদ্বিত-ফৌজদার সমসের ৭ বাহাদুর ও আমিন মান্যবর সৈয়দ বুতব, ২২ জলুস মহরম মাসের ৫ ₹5/রখ ' (এই সনদের পৃষ্ঠলিপিতে সমসেরনগরের খারিজ দাখিলের হিসাব প্রদত্ত হইয়াছে, তাহা উদ্ধৃত করা হইল না।) শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ২৯৭ ইটার বিবিধ কথা নবম অধ্যায় ২৯৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড চক্রধরের পুত্রের নাম জগন্নাথ । জগন্নাথের নবম পুরুষে হরবল্ুভ রায়ের জন্ম হয়। হরবল্লত বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন, তিনি দেশের পাটওয়ারী পদে নিযুক্ত হন। পাটওয়ারী, কানুনগো হইতে নিম্ন পদস্থ রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী; ইহারা বেতন পাইতেন না, তৎপরিবর্তে কিঞ্চিৎ ভূমির উপস্বত ভোগ করিতেন।৫ তাহাদিগকে এই সামান্য উপস্বত্েরেও কিয়দংশ সদরের কানুনগোকে নজর স্বরূপ দিতে হইত। হরবল্পভ এইরূপ নজর দেওয়া অনুচিত মনে করিয়া, তাহা বন্ধ করিয়া দেন। এই জন্য সদরের প্রতাপাবিত কানুনগোর সহিত তাহার বিবাদের সূত্রপাত হয় । তীক্ষ বুদ্ধির জয় সর্বত্র; অন্যায় অত্যাচার কখনই চিরস্থায়ী হইতে পারে না। হরবল্পভ এই প্রথার উচ্ছেদ মানসে যত্ব করিতে লাগিলেন; তাহার উদ্যোগে লংলা, কাণিহাটী ও বরমচাল (ব্রহ্মচাল) পরগণার পাটওয়ারিগণ তৎসহ এতত্প্রতিকারার্থ দিল্লী গমন করেন। হরবল্পত বহু প্রয়াসে জনৈক ওমরাহের অনুগ্রহে দিল্লীশ্বরের নিকট নিজ প্রার্থনা জ্ঞাপন করেন। এই প্রার্থনার ফলে ইটা, কাণিহাটী, বরমচাল ও লংলায় স্বতন্ত্র কানুনগো পদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মফঃস্কল কানুনগোগণ সদরের প্রধান কানুনগোর অধীনতা শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলেন না। হরবল্লুত, পাটওয়ারী হইতে কানুনগো পদে উন্নীত হইলেন ও সগৌরবে দেশে প্রত্যাগমন করিলেন । সদর কানুনগো গণ পৃবর্বাধ্যায়ে সদর কানুনগো লোদী খার বিষয় উল্লেখ করা গিয়াছে, তৃতীয় অধ্যায়ে তদীয় কার্ধ্যকালের বিবরণ ও তৎপর জাহান খার কথা বলা হইয়াছে। লোদী খা ও জাহান খা প্রভৃতি শরীহট্টের প্রকৃত শাসনকর্তা ছিলেন, পরে জাহান খার সময়েই কানুনগোদের শাসন ক্ষমতা রহিত করা হয়। জাহান খা আশৈশব-_কানুনগো ও সুদীর্ঘজীবী ছিলেন, তিনি ষড়শীতি বৎসর এ পদে অধিরূঢ় ছিলেন; তৎপরে তদীয় পুত্র কেশওয়ার খা ১৬৫৬ খৃষ্টাবে শ্রীহট্রের কানুনগো নিযুক্ত হন, কেশওয়ারখালি নামে এক খাল কর্তন করিয়া তিনি সাধারণে স্মরণীয় হইয়া রহিয়াছেন। তদীয় ভ্রাতা হায়ত খা তাহার মৃত্যুর পর কানুনগো পদ প্রাপ্ত হন। হায়াতের মৃত্যু হইলে কেশওয়ারের পুত্র মহতাব খা শাহজাদা আজম শাহের দস্তখত যুক্ত নূতন সনন্দ প্রাপ্ত হন।৬ হরবল্পুভ এই মহতাব খার অধীনতাচ্ছেদ করেন। পৃথক কানুনগো নিযুক্ত হইলে মহতাবের ক্ষমতা অনেক হাস হইয়া গেল। কাজেই মহতাব খা হরবল্পভের উপর অতিশয় ক্রুদ্ধ হইলেন, কিন্তু তাহার কোন ছিদ্র না পাওয়াতে কোন অনিষ্টই করিতে পারিলেন না। হরবল্পভের শ্যামরায়, বিনোদ রায় ও সম্পদ রায় নামে তিন পুত্র এবং মালতী ও শিব সুন্দরী নামে দুই কন্যা ছিলেন। মালতী অতি রূপবতী ছিলেন; বিবাহের পরই স্বামীর মৃত্যু হওয়ায় তিনি পিত্রালয়ে বাস করিতেন । হরবল্লভের বিপত্তি সমর্থ হইত না। মহতাব খা শুনিতে পাইলেন যে, হরবল্পভ এক ইষ্টকালয় প্রস্তুত করিতেছেন। হরবল্লভকে অপদস্থ করিবার ইহাই সুযোগ মনে করিয়া তিনি শ্রীহট্টের তদানীন্তন নবাব ৫. ৮1175 ৮/০1619178011619050 [01 1011017 50110951১% 2181) 01 8 6৬/11915 06 10114 1011010 [06 -110011015 91201511081 /৯০০০/05 01 /৯555017). ৮01. 11. (5১11761) ৬. শ্রীহস্ট্ের প্রসিদ্ধ মজুমদার পরিবার এই বংশীয়, এই বংশের অনেকেই ধ্1নুনগো ছিলেন, প্রসঙ্গানুসারে ক্র তাহা বর্ণিত হইবে। নবম অধ্যায় : ইটার বিবিধ কথা শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ২৯৯ শুকুরুল্লার নিকট হরবন্ুভের বিষয়ে নানা কথা অতিরঞ্জিতভাবে বলিলেন । হরবলুভ কুঅভিসন্ধিতেই সুদৃঢ় অস্টালিকা প্রস্তুত করিতেছেন, প্রতিপাদিত হইল। মহতাব খা ইহাও জীনাইলেন যে, এই হরবল্লভের অতি রূপবতী এক কন্যা আছে, সে কেবল নবাবেরই যোগ্য । প্রকৃত পক্ষে হরবন্ুভ ইষ্টকালয় প্রস্তুত করেন নাই। ইষ্টক দ্বারা ভিত্তি গাথিয়া তদপুরি এক সুরম্য কাষ্ঠময় গৃহ নির্মাণ করাইতেছিলেন। মহতাব খার পরামর্শানুসারে নবাব, হরবন্্ুতকে শ্রীহট্রে আহ্বান করিলেন ও কোন ইষ্টকালয় প্রস্তুত করিতেছেন কি না জিজ্ঞাসা করিলেন। হরবল্লুভ প্রকৃত কথাই বলিলেন, কিন্তু নবাবের তাহা বিশ্বাস হইল না। হরবল্লেভের অপরাধ সাব্যস্থ হইল; তবে তিনি রাজকীয় কর্মচারী বলিয়া তৎপ্রতি অল্প দণ্ডই বিহিত হইল ।-_-নবাব তাহার বিধবা কন্যার কথা উত্থাপন করিয়া সেই কন্যাকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। হরবল্লভ এইবার প্রমাদ গণিলেন; বিধবা কন্যার কথা একবারে অস্বীকার করিলেন । দুরাত্মা শুকুরুল্লা তখন ক্রোধে জুলিয়া উঠিল ও হরবল্লভের প্রতি কঠোর দণ্ডের বিধান করিল। তাহাকে প্রাতঃকাল হইতে সন্ধ্যা পর্য্যন্ত রৌদ্বে দণ্ডায়মান থাকিতে হইত, তদবস্থায় চতুর্দিক হইতে তাহার উপর কাষ্ঠখণ্ড বিক্ষিপ্ত হইত। হরবন্্ভ কুলরক্ষার জন্য ঈদৃশ পাশব অত্যাচার সহ্য করিতে স্বীকৃত হইলেন। দেশবাসী বৃদ্ধগণ হরবন্্ভের যশঃ কীর্তন করিতে লাগিলেন। হরবল্লুভ! তোমার দৃঢ়তা ধন্য, তোমার মানসিক প্রবল প্রশংসনীয়; বড় বড় রাজা রাজড়াদের ব্যবহার দেখিয়াছি; তাহাদের তুলনায় দিল্লী সম্রাট যেরূপ, শ্রীহট্টরের নবাব তোমার তুলনায় তদপেক্ষা কম কিছুতেই নহেন, কিন্তু তাহারা যে দৃঢ়তা প্রদর্শন করিতে পারেন নাই, ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্র তুমি তাহা করিয়াছ, তুমি ধন্য । হরবল্পভের পুত্র শ্যামরায় ও বিনোদ রায়, এই কঠোর অত্যাচারের কথা শুনিলেন। অত্যাচারী শুকুরুল্লার প্রকৃতি তাহারা জানিতেন, সুতরাং কুল ও সন্ত্রম রক্ষার জন্য ভগ্মী মালতীকে সঙ্গে লইয়া তাহারা এই অত্যাচারের প্রতিকারার্থে মুর্শিদাবাদে গমন করিলেন । মুর্শিদাবাদে শ্যামরায় ও মালতী বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। মালতী সে ভীষণ রোগের হস্ত হইতে নিষ্কৃতি লাভ করিতে পারিলেন না,_-অচিরেই প্রাণত্যাগ করিয়া মানসিক যন্ত্রণা হইতে মুক্তি লাভ করিলেন। শ্যামরায় বহু কষ্টে আরোগ্য লাভ করিয়া শুনিলেন যে, কঠোর অত্যাচারে পিতা দেহত্যাগ করিয়াছেন। এই সংবাদ শ্রবণে শ্যামরায়ের মরণাধিক ক্লেশ হইল, তিনি প্রতিজ্ঞা করিলেন যে, এই অত্যাচারের প্রতিশোধের উপায় না করিয়া দেশে ফিরিবেন না। শ্যামরায়ের দেওয়ানী প্রাপ্তি শ্যামরায় বহুদিন মুর্শিদাবাদে রহিলেন, বহুদিনেও নবাব কৃত অত্যাচারের প্রতিকার কল্পে কিছুই করিতে পারিলেন না। এই সময় শ্রীহস্টরের বড়লিখাবাসী শাহু জাতীয় দুর্লভদাস ও হুকমত রায় নামে দুই ধনী সওদাগর মুর্শিদাবাদে বাণিজ্যেপলক্ষে ছিলেন; তাহাদের লবণের একচেটিয়া কারবার ছিল।৭ প্রভূত ধনশালী এই সওদাগরদের নবাব দরবারে বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। ৭. এই সওদাগরদ্বয় বৃহৎ পলওয়ার নৌকাযোগে বিদেশে বাণিজ্য করিতেন। “হুকমত রায়ের ছেগা” বলিয়া শ্রীহট্টে বু মহালের নাম আছে, এগুলি হুকমত রায়ের নামে বন্দোবস্ত হইয়াছিল শ্রীযুক্ত হরকিস্কর দাস মহাশয় লিখিয়াছেন যে এই হুকমত রায়ের কার্ষ্য স্বীকার করিয়াই, দেওয়ান স্বীয় উন্নতি সাধন করিতে সমর্থ হন। হুকমত রায়ের যতই তিনি মুর্শিদাবাদে পরিচিত হন; হুকমত রায়ের চেষ্টাতেই রাজ দরবারে কার্ধ্য প্রাপ্তি হন। শ্রীহট্টের নানাস্থানে লবণের খণি ছিল, ইহাকে “খুলির লবণ” বলিত। নবাবের আদেশে ইহারা পাথর চাপা দিয়া এই খনিগুলি নষ্ট করেন। ইংরেজ রজনুত্রর প্রান্তে বারপাড়া ও দাসগ্রামেন খণি বন্ধ করা হইয়াছিল বলিয়া শুনা যায়। ০০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড সুপপ্তিত ছিলেন, তাহার হস্তাক্ষর অতি সুন্দর ছিল, এই হস্তাক্ষরই তাহার উন্নতির মূল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাজা রাজবল্পভ এই সময় মুর্শিদাবাদে ছিলেন। সওদাগরদের বাণিজ্য সম্পকঁয়ি, কাগজ পত্র সময় সময় নবাব দরবারে দাখিল করিতে হইত । একদা শ্যামরায়ের লিখিত একখণ্ হিসাবের প্রতি রাজার মনোযোগ আকৃষ্ট হওয়ায়, সওদাগরকে জিজ্ঞাসা ক্রমে লেখকের নাম ধামাদি জ্ঞাত হন। এই অবকাশে দুর্লভদাস রাজাকে শ্যামরায়ের বিবরণ জ্ঞাপন করিলেন ও স্বদেশী নিরূপায় জদ্রসন্তানকে একটি পদ প্রদানের অনুরোধ করিলেন। অতঃপর শ্যামরায় রাজসন্লিধানে প্রেরিত হন, রাজা তাহার বিনীত ব্যবহার ও শিষ্টাচারে তুষ্ট হইলেন ও নিজের সেরেস্তায় এক নিঙ্পপদে তাহাকে নিযুক্ত করিলেন। শ্যামরায় কার্য্যতৎপরতা ও নিজ বুদ্ধিবলে অত্যল্প কাল মধ্যেই রাজা রাজবল্লুভকে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হইলেন; তীহার প্রতি প্রত্যেক উচ্চ কর্মচারীরই দৃষ্টি আকর্ষিত হইল। সৌভাগ্য জোয়ারের ন্যায় আসিয়া থাকে; শ্যামরায় সেই সামান্য পদ হইতে ভাগলপুরের দেওয়ানের পদে উন্নীত হইলেন । ইহার পূর্বেই তাহার চেষ্টায়, মুর্শিদাবাদের নবাবের আদেশে অত্যাচারী শুকুরুল্লা পদচ্যুত হইয়াছিলেন, এবং শ্রীহট্টের একজন কার্ধ্যদক্ষ ফৌজদার প্রেরিত হইয়াছিলেন; তাহা অন্যত্র বলা গিয়াছে। কথিত আছে, দিল্লী হইতে মুর্শিদাবাদে এক দুর্বোধ্য পত্র আসিলে রাজকর্মচারীবর্গ ইটার পাঠ ও অর্থ পরিগ্রহে অসমর্থন হন। শ্যামরায় উর্ধতন কর্মচারীকে বলিয়া সেই পত্রখানা দেখেন ও পাঠ করিয়া প্রকৃত অর্থ উদঘাটন করিতে সমর্থ হন। এই বৃত্তান্ত নবাবের কর্ণগোচর হইলে তিনি তুষ্ট হইয়া, পুরঙ্কার স্বরূপ শ্যামরায়কে ভাগলপুরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন । অবিচার অত্যাচার অনেক সময় মানুষকে উন্নতির পথে চালিত করে । অত্যাচার প্রপীড়িত ব্যক্তি যদি দৃঢ় সঙ্কল্লের সহিত কার্য্যক্ষেত্রে উপস্থিত হয়, বাধা প্রতিবন্ধকের প্রতি দৃকপাত না করিয়া সঙ্কল্পিত পথে অগ্রসর হইতে থাকে, তবে বিধাতা স্বয়ং আলোক বর্তিকা ধারণ করিয়া তাহার পথ প্রদর্শক হন, সে কৃতকার্য্য হয়। শ্যামরায় অত্যাচারিত না হইলে বোধ হয় শ্রীহন্টের গৌরব রত্ব হইতে পারিতেন না। শ্যামরায় বহুকাল সম্মানের সহিত এই উচ্চপদে আরূঢু ছিলেন। তিনি ইটা হইতে আলীনগর পরগণা খারিজ করিয়া, আলীনগরের চৌধুরাই সনন্দ আনয়ন করেন। ইতিপূর্বে সমসেরনগর খারিজ হওয়া ও তজকিরা চৌধুরাই কাগজের কথা বলা হইয়াছে । সমসেরনগর, আলীনগর প্রভৃতি খারিজ হওয়ায় দেওয়ান-বংশীয় জমিদারদের সহ ভূমির অংশ নির্ণায়ক এই কাগজ প্রস্তুত হইয়া থাকিতে পারে । রাজা সুবিদ নারায়ণের পুর ঈশা খী বংশীয় মোহাম্মদ সকি নিজ প্রদেয় রাজস্ব পরিশোধ করেন ও তদীয় সম্পত্তির অধিকাংশ হস্তগত করিয়া লন। শ্যামরায় রাজস্ব দাখিল ক্রমে এই সম্পত্তি অধিকার করিলে, সকি স্বেচ্ছা পূর্বক তাহার সহিত আপোষ ক্রমে উভয়ের অংশ নির্ধারণ করতঃ নিজ সম্পত্তি পৃথক করিয়া লইয়াছিলেন। দেওয়ান-দীঘী নবম অধ্যায় : ইটার বিবিধ কথা রী । পেত ০ ৪ ১ রা শরীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩০১ র রঃ &; প্ঃ ৫ টি, রা ছিজ ৩০২ শ্রীহস্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড শ্যামরায় সম্মানের সহিত এই উচ্চ পদে আনূঢ় ছিলেন; তিনি আসিবার সময় স্বগ্রামে একটা দীঘী কাটাইবার জন্য নবাবের অনুমতি প্রার্থনা করেন। নবাব তাহার প্রার্থনা গ্রাহ্য সমসেনগর, লংলা, ঢাকাদক্ষিণ এবং পঞ্চখণ্ প্রভৃতি শ্রীহট্টের বহু স্থানের জমিদার ও কানুনগো প্রভৃতির উপর এক পরওয়ানা প্রেরণ করেন। নবাবের আদেশে উক্ত পরগণার জমিদারবর্গ নিজ নিজ মজুর পাঠাইয়া দিলে, দেওয়ানের ইচ্ছামত এক বৃহৎ দীর্ঘিকা খনন করা হয়; ইহা দেওয়ানের দীঘী নামে খ্যাত। এই দীঘীর কার্ধ্য ১৭৪৯ খৃষ্টাব্দে শেষ হইয়াছিল। জমিদারদের প্রেরিত লোক যথারীতি বেতন পাইয়াছিল ও বেতন সমঝিয়া দেওয়ানের কর্মচারীকে রসিদ দিয়াছিল।৮ এই দেওয়ানের দীঘী শ্যামরায় দেওয়ানের অসীম ক্ষমতার পরিচায়ক; প্রকারান্তরে শ্রীহট্টের তাবৎ জমিদারবর্গ হইতে দেওয়ানের শ্রেষ্ঠতৃ প্রতিপাদিত হইয়াছিল । “দেওয়ানের দীঘী” অদ্যাপি শ্যামরায় দেওয়ানের মহিমা ঘোষণা করিতেছে । দেওয়ানের ভাগিনেয় শ্যামরায় দেওয়ান ভাগলপুর হইতে প্রত্যাগমন কালে কালী ও দুর্গার প্রস্তরমীয় প্রতিমূর্তি আনয়ন করিয়া মহা আড়ূম্বরে স্থাপন করেন। পূজার উৎসবে দেওয়ানের ভগ্নী শিবসুন্দরী দুইটি পুত্রসহ ভ্রাতৃগৃহে আগমন করেন। গয়গড়বাসী রামবন্লভ দত্তের শিবসুন্দরীর বিবাহ হইয়াছিল । ৮. দেওয়ানের দী্ী খনন করিয়া মজুরগণ বেতন পাওয়ার পর যে রসিদ দেয়, তাহার মধ্যে বাণিয়াচঙ্গ, ইটা, লংলা, হাওলী সতরসতী, ও ঢাকাদক্ষিণের জমিদার ও কানুনগোদের প্রেরিত মজুরগণকে প্রদত্ত মূল রসিদ আমরা পাইয়াছি। বাণিয়াচঙ্গাধিপতির প্রেরিত মজুরদিগকে প্রদত্ত রসিদ স্থানান্তরে উদ্ধৃত হইবে, এস্থলে নমুনা স্বরূপ দুই খানা রসিদ উদ্ধাত হইলঃ- ১. “লিখিতং শ্রীচৌধুরী ও কানুনগোবর্গ পরগণে লঙ্গলা মহাল খালিসা কস্য কবজ পত্র মিদং কার্জ্যঞ্চ আগে আমরা পরগণে ইটাত জিউর দিঘিতে মাটি কামলা বেগার দিছিলাম-এবার অজ্ুরা সত্ত্ব দিঘি মজকুর যে মাটি কাটিছিলা এর মবরগ ১৪৮/১০ একসত আটচন্লিস কাহন নও পণ সাড়ে দশ গণ্তা কৌড়ী মোহাফিজ তপছিল জএল মবলগ মজকুর গৌরিবল্পভ ও গয়রহর তহবিল হনে তামাম কামাল সমঝিআ পাইলাম পাইয়া কবজ দিলাম ছালিন হনে দাওয়া করি ঝুটা বাতিল এতদর্শে কবজপত্র দিলাম ইতি সন ১১৫৬ সাল বতারিখ সাবান। (দক্ষিণ পার্থ শীর্ষে-“শ্রীজমীদারান পংলঙ্গলা সহি শ্রীখুসালরায়।” বাম পার্থ সাক্ষীদের নাম অপাঠ্য, নীচে-“তপছিল মাটি কামলা' বিষয়ক বিবরণ অপাঠ্য ।) ২. “লিখিতং শ্রীচৌধুরী ও পুরকায়স্থবর্গ পরগণে ঢাকাদক্ষিণ মহাল খালীসা কস্য কবজ পত্র মিদং কার্জর্থ আগে আমরা মুকাম পরগণে ইটাতে জীউর দিঘীতে মাটি কামলা বেগার দিছিলাম এবার অজুরা সত্ত দিঘী যে মাটি কাটিছিলা এর মবলগ ২৫/১৪ পচিশ কাহন এক পণ চৌদ্দ গণ্ডা কৌড়ী মোং তপছিল জএল মজকুর পরগণে পাইয়া কবজপত্র দিলাম ছালীন হনে দাওয়া করি ঝুটা বাতিল এতদর্থে কবজপত্র দিলাম ইতি সন ১১৫৬ সাল সহরে সাবান ।” (দক্ষিণ পার্থ শীর্ষে-“শ্রীপং ঢাকাদক্ষিণ নব জমীদারান ও পুরকায়স্থবর্গ । সহী শ্রীজয়কৃষ্ণ রায়।” নীচে ও পৃষ্ঠে 'তপছিল' বা মাটি কাজের হিসাব অপাঠ্য |) ৃ আমাদের প্রান্ত তাবৎ রসিদপত্র এক ব্যক্তির লিখিত বোধ হয়,-অক্ষর ও পাঠ একরূপই ৷ সহিগুলি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির সুতরাং অক্ষরও বিভিন্ন । ইটার চৌধুরীবর্গের পক্ষে যে রসিদ দেওয়া হয়, তাহাতে দুইটি পারস্য দস্তখত আছে, তনুধ্যে একটি দস্তখত জমিদার পক্ষীয় কর্মচারীর বলিয়া স্পষ্টতঃই বোধ হয়। বাণিয়াচঙ্গের জমীদার পক্ষীয় রসিদে পাঁচটি পারস্য মোহর মুদ্রিত আছে ও একটি পারস্য দস্তখত আছে। বাহুল্য বিধায় প্রাপ্ত সকল রসিদ এস্থলে উদ্ধৃত হইল না। ইদানীং দেওয়ানের ৮ ঘীর পার্্ব দিয়া লোকেল বোর্ডে. এক সড়ক গিয়াছে, এ সড়কের ,'ম “দেওয়ান দীঘী রোড” রাখা হইয়াছে। নবম অধ্যায় : ইটার বিবিধ কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩০৩ দেওয়ান ভাগিনেয়দ্য়কে দেখিয়া, দুইজনকে দুই গাছি স্বর্ণ হার উপহার দেন। বুদ্ধিমতী শিবসুন্দরী তৎক্ষণাৎ হার প্রত্যর্পণপূবর্বক সহাস্যে বলিলেন যে, শিশুগণ দেশমান্য মাতুল হইতে এই অস্থায়ী দ্রব্য গ্রহণ করিলে তাহাদের মাতুলের গৌরব রক্ষা হয় না। দেওয়ান ভগ্নীর মনোভাব বুঝিতে পারিয়া আলীনগর পরগণার কানুনগো পদ ও চৌধুরাইর অংশ পৃথক সনদের দ্বারা উভয় ভাগিনেয়কে দেওয়াইয়া ছিলেন। তদনুসারে শিশু জয়গোবিন্দ আলীনগরের চৌধুরী ও রত্ুবন্নভ কানুনগো পদ প্রাপ্ত হন। জয়গোবিন্দের প্রাপ্তভূমিই দশসনা বন্দোবস্তের কালে “জয়গোবিন্দ তালুকে” পরিণত হয়। দেওয়ানের দীঘীর কার্য্য সমাধা হইলে, শ্যামরায় পুনবর্বার মুর্শিদাবাদে গমন করিয়াছিলেন, কিন্তু আর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করিতে পারেন নাই; ১৭৫৪ খৃষ্টাব্দে দুরত্ত বিসুচিকা রোগে তথায় তাহার মৃত্যু হয়। লালা বিনোদ রায় ও দেওয়ান পত্রী দেওয়ানের ভ্রাতা বিনোদ রায় অতি সুন্দর পুরুষ ছিলেন, তিনি লালা নামে খ্যাত হন। বৃদ্ধ বিনোদ রায় দশসনা বন্দোবস্তের সময় পর্য্যন্ত জীবিত ছিলেন । এই সময়ে তিনি আলীনগরের ১ হইতে ১৬ নম্বর পর্য্যন্ত তালুক দেওয়ানের নামে তাহার পুত্রের পক্ষে বন্দোবস্ত করান ও ১৭, ১৮ নম্বর তালুক নিজপুত্রের নামে বন্দোবস্ত লন। তাহার এই কার্য্য আপাততঃ সঙ্গত বোধ হইলেও মূল তিনি বিশ্বাসঘাতকাপুবর্বক নিজ স্বার্থসাধন করিতে কুষ্ঠিত হন নাই। দেওয়ানের পুত্রের নামীয় তালকগুলির আয়তন, তাহার নিজপুত্রের নামীয় তালুক দুইটির তুলনায় যৎসামান্য ছিল। অন্যায় কিছুতেই গোপন থাকে না। দেওয়ানের পত্রী দেবরের এই বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানিতে পারিয়া ক্রোধাবেগে তাহাকে হত্যা করিতে ইচ্ছা করেন এবং বধকারীকে পাচ শত মুদ্রা পুরস্কার দিবেন, ঘোষণা করেন । এতদৃশ্রবণে লালা ভীত হইয়া দত্তপ্রম ত্যাগ করিয়া ভবানীনগরে গমন করেন, ১৭৮৯ খৃষ্টাব্দে তথায় তাহার মৃত্যু হয়। অধর্মোপার্ভিত অর্থ স্থায়ী হয় না, লালার মৃত্যুর পর রাজস্ব বাকিতে তাহার বৃহৎ ভূসম্পত্তি নিলাম হইয়া যায়। ভাগ্যলক্ষ্মীর হঠাৎ অন্তর্ধানে লালার পুত্রগণ একবারে হীনদশায় পতিত হন। লালার বংশীয়গণ হীনপ্রভলভাবে ভবানীনগরেই বাস করিতেছেন। দশম অধ্যায় প্রতাপগড়ের রাজবাড়ী শ্রীহট্টের প্রাচীন খণ্ডরাজ্য সমূহের মধ্যে গৌড়ই সমধিক প্রসিদ্ধ, প্রতাপগড় প্রভৃতি পূর্ব ব্রেপুর- রাজবংশীয়ের শাসনাধীন ছিল, পরে গৌড়রাজ্যের অঙ্গীভূত হয়। প্রাচীনকালে প্রতাপগড়ের নাম প্রতাপগড় ছিল না, প্রবাদানুসারে সোণাই কাঞ্চনপুর ছিল তৎপরে প্রতাপসিংহ নামে জনৈক হিন্দুরাজা এ স্থানে রাজত্ব স্থাপন করেন, তীহারই নামানুসারে ইহা প্রতাপগড় বলিয়া খ্যাত হয় । আসাম ডিন্টরিক্ট-গেজেটিয়ারে এইরূপই লিখিত রহিয়াছে ।১ প্রতাপগড়ের পূরবর্বাংশ চরগোলায় জগৎসিংহের গড় নামে পূবর্ব-পশ্চিমে দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এক মূনুয় প্রাচীর আছে। প্রতাপগড় পরগণার উত্তরেও তদ্রুপ দুইটি মৃতপ্াটীর দৃষ্ট হয়। উভয় স্থানের অধিকার--প্রতাপসিংহ ও জগৎসিংহ, নিজ নিজ অধিকৃত স্থানের উত্তর সীমা সংরক্ষণ জন্য এক একটি মৃত্প্রাচীর প্রস্তুত করিয়াছিলেন, ইহাই অনুমান হয়; তাহাদের নামানুসারে তাহা প্রতাপগড় ও জগৎসিংহের গড় বলিয়া পরিচিত। জগত্সিংহের গড়ের অবস্থা অতি শোচনীয়; চরগোলার দক্ষিণদিতর্তী জঙ্গলের অন্তরালে ইহার বিলুপ্তাবশেষ লক্ষিত হয়। এই প্রতাপসিংহ এবং জগৎসিংহকে ছিলেন, জনশ্রুতি তদ্বিষয়ে নীরব । উভয়েরই সিংহাত্মক নামক হইতে তাহাদিগকে এক বংশীয় অনুমান করা যাইতে পারে । সম্ভবতঃ তাহার উভয়েই নিঃসন্তান ছিলেন, মৃত্যুর পর তীহাদের উত্তরাধিকারী কেহই ছিল না। পরে আমীর আজফর নামক এক ব্যক্তি রাজবাড়ী নামে পরিকথিত, প্রতাপসিংহের বসত বাড়ীতে আপন আবাস স্থান নির্ণয় করিয়াছিলেন । কিন্তু তৎকালে তৎ্চতুষ্পার্খ ভয়ানক অরণ্যে সমাচ্ছাদিত ছিল. যৃথে যূথে বন্য মহিষ, বন্য গরু ও শুকরাদি তথায় বিচরণ করিত । কিন্তু প্রতাপগড় পরগণার নাম পরিকল্পনে প্রতাপসিংহের আখ্যানাপেক্ষা মালিক প্রতাবের কথা সুপরিজ্ঞাত ও সুপ্রচারিত। “হস্তবোধ”" নামক প্রথম জরিপের কাগজ পত্রে “প্রতাপগড়” এবং “প্রতাগড়” এই দুই রূ” নামই লিখিত আছে। এই মালিক প্রতাবের পূর্ব পুরুষগণ দেওরালিবাসী ছিলেন। মালিক মোহাম্মদ ও পোড়া রাজা ৃষ্টায় চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগে মৃজা মালিখ মোহাম্মদ তোরাণী গৃহ বিবাদে উত্যত্ত হইয়া পারস্য পরিত্যাগ পূর্বক ভাগ্য পরীক্ষার্থ হিন্দুস্থানে আগমন করেন। দিল্লীতে তিনি কোন সুবিধা করিতে না পারিয়া পূর্র্ববঙ্গাভিমুখে আগমন পুবর্বক নববিজিত “তিন শ ষাট আউলিয়ার মুলুক” শ্রীহস্টের দেওরালি নামক স্থানে উপস্থিত হন। তৎকালে দেওরালির অধিকাংশ স্থল পোড়ারাজা নামক ত্রিপুরা বংশীয় জনৈক ব্যক্তির অধিকারে ছিল; পোড়ারাজা ব্রেপুর রাজগণের সামন্ত স্বরূপ ছিলেন। মৃজা মালিক মোহাম্মদ নিজ অনুচরগণ সহ যখন তত্রত্য নদীর সন্নিকটে উপস্থিত হন. ৯, 9 1 35 10111-5251 01 010 92010110- ৮ 201106 51101), 00016 016 11) ১ :02017 01 1196 বিগ 01 1২014 [91000 ১৪, ॥ 08009 10021 100101)16 170 1145 51৬11 1115 1121116 10 07৩ 79010138011) [90129110. -/5116115 /5550]া 015117101 08)6006015 ৬০1. 11. (51161) ০1100). 11. 0. 62. দশম অধ্যায় : প্রতাপগড়ের রাজবাড়ী শ্রীহপ্টের ইতিবৃত্ত ৩০৫ তখন দেখিতে পাইলেন যে, দাসীগণ পরিবৃতা এক রূপবতী যুবতী স্নানার্থ নদীতে আগমন করিয়াছেন। যুবক তোরাণী যুবতীর লাবণ্যে মোহিত হইলেন ও তাহাকে কোন বড় ঘরের মেয়ে বলিয়া বুঝতে পারিয়া বিবাহের ইচ্ছা করিলেন। পার্বত্য ব্রিপুরা জাতীয় হইলেও পোড়ারাজা বাঙ্গালীর সংস্রবে হিন্দু ধর্মে বিশেষ আস্থাবান না করিয়া তাহাকে অপমানিত করিলেন। নিউকি মোসলমান যুবক ইহা সহ্য করিতে পারিলেন না, সামান্য কয়েকটি অনুচর লইয়াই পোড়ারাজার বাড়ী আক্রমণ করিলেন । অঙ্গুলি নির্দেশ- যোগ্য মুষ্টিমেয় হইলে সেই কয়েকটি সুশিক্ষিত মোসলমান ব্রিপুরাদিগকে পরাভূত করিল। পোড়ারাজা নিরুপায় হইয়া মালিক মোহাম্মদের অনুগ্রহ ভিখারী হইলেন । পোড়ারাজার পুত্র সন্তান ছিল না, তিনি কন্যা উমার সহিত আগন্তুককে স্বরাজ্য প্রদান করিলেন । পোড়ারাজার সহিত ত্ররপুর রাজবংশীয়ের রাজ্যস্থৃতি তথা হইতে বিলুপ্ত হইল। অদ্যাপি তথায় পোড়ারাজার বাড়ীর চিহ্ত পরিলক্ষিত হয়, অদ্যাপি তথায় “রাজার মার দীঘী” প্রভৃতি পোড়ারাজার অবস্থানের প্রমাণ দিতেছে ।২ মালিক মোহাম্মদ দেওরালির অনেক উন্নতি বিধান করেন, পাশ্ববর্তী জনপদ হইতে অনেক লোক আনয়ন করিয়া তিনি দেশে বসতি স্থাপন করেন । তাহার পুত্রের নাম সাদ মালিক; সাদ মালিকের দুই পুত্র; তন্মধ্যে জ্যেষ্ঠ বড় মালিকের একটি পুত্র হয়, ইহার নাম মালিক কামাল উদ্দীন। ইহারা সকলেই দেওয়ালিবাসী | কামাল উদ্দীনের পুত্রের নাম মালিক প্রতাব ।৩ মালিক প্রতাব ও রাজবাড়ী মালিক প্রতাব মহিষ শিকার উপলক্ষে তথায় গিয়া, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দৃষ্টে মোহিত হন। সেই স্থান তখন বিরল বসতি ছিল, পূৃবর্ব কথিত আমীর আজফর নামীয় সন্্রান্ত ব্যক্তি তথায় বাস করিতেন । মালিক প্রতাব তাহার আতিথ্য গ্রহণ করেন ও তদীয় কন্যার রূপ লাবণ্যে মোহিত হইয়া তাহাকে বিবাহ করেন । মালিক প্রতান দেওরালি না গিয়া এই স্থানেই বাস করিতে থাকেন। এই প্রতাবের নামের সহিত প্রতাবগড় বা প্রতাপগড় নামের সম্বন্ধ থাকার কথা আধিক শুনা যায়। রঃ সাল ধন নার পিতার, তৎপৃব্র্ব ইহা যে এক সুসমৃদ্ধ জনপদ ছিল, তাহার প্রমাণ পাওয়া যায় । কাল প্রভবে জনপদ জঙ্গলে পরিণত হয়, আবার সেই জঙ্গল কালে অপসারিত হইয়া জনপদের আকার ধারণ করিয়া থাকে । সুদুর প্রাচীনকালে এক সময় এই স্থানেই ব্রেপুর রাজগণের রাজধানী ছিল বলিয়া অনুমান করা হয় । এই ইতিবৃত্তের ২য় ভাগ (১ম ২. এই সকল স্থান কথঞ্চিৎ নিম্ন বলিয়া বোধ হয়। এগারসণ্ী ও ডেওয়াদি পরগণার হাওরে মধ্যে মধ্যে অদ্যাপি অনেক প্রাচীন দীঘী পরিলক্ষিত হয়। বর্ষাকালে এ সকল স্থান আট, দশ কি ততোধিক হস্ত জলতলে নিমগ্ন থাকে। এইরূপে ডোবা ভূমে দীর্ঘিকা খননের কোন সার্থকতা নাই। ইহাতে অনুমান হয় যে এক সময়ে এ সকল স্থানে জনবসতি ছিল এবং কালে তৎস্থানে জল উঠায় তাহা মনুষ্য বাস শূন্য হাওরে পরিণত হইয়াছে। পৃবের্ব (২য় অধ্যায়ে) কথিত হইয়াছে যে, শাহজলাল দেওরালি অবস্থান কালে বরবক্রের প্রধান স্রোত কুশিয়ারার খাতে প্রবাহিত হইতে আরম হয়। এঁ সময় হইতেই তদ্দক্ষিণাঞ্চলবর্তাী এ সকল স্থানের জল পৃর্রবানুরূপ নিঃসারিত না হইয়া এ সকল স্থান জলপূর্ণ থাকিত বলিয়া লোকালয় উঠিয়া যায়, এবং তাহার নিদর্শন স্বরূপ দীঘীগুলি, হাও"রর মধ্যে মধ্যে এখনও পরিলন্ষি এ হয় । ৩. ঙ-পরিশিষ্ট দেখ। (২য় ভাগ ২ খণ্ড) শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২০ ৩০৬ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড খণ্ড) চতুর্থ অধ্যাষের টীকা প্রসঙ্গে এই বিষয় আলোচিত হইয়াছে ।৪ এই স্থান তখন পর্য্যন্ত ব্রপুর রাজগণের রাজ্যান্তর্গত ছিল; আমীর আজফর তীাহাদেরই অধিকার মধ্যে বাস করিতেন। মালিক প্রতাব আমীর আজফরের অধিকৃত আবাস বাটীই সংস্কার ক্রমে বর্তমান রাজবাটীতে পরিণত করেন এবং মসজিদ ইত্যাদি প্রস্তুত করেন। সেই বাটীকার সম্মুখে তিনি যে এক বৃহৎ দীঘিকা প্রস্তুত করেন, তাহাই “রাজবাড়ীর দীঘী” বলিয়া অদ্যাপি খ্যাত হইয়া রহিয়াছে । সেই বাটীর ভগ্নাবশেষই এখন “রাজবাড়ীর জঙ্গল” রূপে পরিণত ।৫ এ রাজবাটিস্থ অট্টালিকা সমূহে সুদৃশ্য কারুকার্য্য খচিত বহুতর প্রস্তর সংলগ্ন থাকিয়া শ্রীহট্রের প্রস্তর-শিল্পের মহিমা ঘোষণা করিত । এ স্থলে একটি চিত্রের প্রতিরূপ দেওয়া গেল ।৬ মহারাজ প্রতাপ মাণিক্য ও মালিক প্রতাব মালিক প্রতাব যখন প্রতাপগড়ের জঙ্গলে জনপদ স্থাপন করিতেছিলেন, তখন ব্রেপুর রাজবংশীয় প্রতাপান্বিত নরপতি ধর্ম মাণিক্যের পুত্র প্রতাপ মাণিক্য (দ্বিতীয়) সিংহাসনারূঢু ছিলেন। তিনি ধর্ম মাণিক্যের কনিষ্ঠ পুত্র হইলেও সেনাপতির উদ্যোগে সিংহাসনারোহণ করিতে সমর্থ হন। মালিক প্রতাব এই মহারাজ প্রতাপ মাণিক্যের সময়, তাহার অধিকার মধ্যে নব রাজ্য করায় তিনি মহারাজের অসন্তোষ ভাজন হইলেন। প্রবলপ্রতাপ প্রতাপ মাণিক্যের রোষ দৃষ্টিতে অবস্থান করিলে কুশল সম্ভাবনা নাই, মালিক প্রতাব ইহা জানিতেন। এদিকে, প্রতাপ মাণিক্যের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ধন মাণিক্য, কনিষ্ঠকে সিংহাসনচ্যুত করিবার উদ্যোগে ছিলেন; প্রতাপ মাণিক্য সেই প্রবল প্রতিদ্বন্ীর দমন ও সিংহাসন রক্ষার জন্য অতিমাত্র ব্যস্ত হইয়াছিলেন; এই জন্যই মালিক প্রতাবকে দমনের জন্য তিনি তখন সৈন্য প্রেরণ করিলেন না। মালিক প্রতাবের সুশিক্ষিত পাঠান সৈন্য হইতে কার্ধ্য কালে সহায়তা পাইতে পারেন, এরূপ ৪. বর্তমান প্রতাপগড়ের দক্ষিণাংশ গবর্ণমেণ্টের রিজার্ভ ফরেষ্ট্রের অন্তর্ভূক্ত; তন্মধ্যে স্থানে স্থানে জনবসতির চিহ এখনও পরিলক্ষিত হয়। তত্রত্য নাগরা ছড়ার তীরে একস্থানে এক বৃহৎ অট্টালিকার ভগ্নাবশেষ প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে; ইহা কোন প্রাচীন রাজবাটীর তুল্য ও বহুস্থান বিস্তৃত। এ স্থান দিয়া এক সুদীর্ঘ পথ ছিল, ইহার উল্লেখ “হস্ত বোধ" জরিপের কাগজে এবং কোন কোন স্থানে ইহার নিদর্শনও অদ্যাপি আছে। “বাজারি” নামক এক স্থানে-সেই নিবিড় জঙ্গলের মধ্যে স্তুপাকারে কেশরাশি পাওয়া গিয়াছে। সাধারণতঃ হাটের নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়া লোকে ক্ষৌরি করিয়া থাকে । যখন সেই জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে মনুষ্যাবাস ছিল, এই “বাজারি” নামক স্থানে তখন হাট বসিত। লোকে ক্ষৌরি করায় এক স্থানে যে কেশরাশি সঞ্চিত হয়, তাহাই অদ্যাপি তথায়ি রহিয়াছে । ৫. “মন চল যাইরে, প্রতাপগড়ের রাজবাড়ী দেখি আই রে। পানিতে কান্দে পাণি খাউরি শুকনায় কান্দে ভেড়ী, কাটার জঙ্গল লাগিয়া রৈছে আজফরের বাড়ী-মন চল যাইরে 1” ইত্যাদি গ্রাম্য গীতিতে এখনও উক্ত রাজবাড়ীর কথা শুনা যায়। ৬. প্রতাপগড়ের রাজবাটা প্রস্তরের কারুকার্য্য বিশোভিত ছিল। বড় বড় খণ্ডিত প্রস্তব সমূহে নানাবিধ সুদৃশ্য লতাপাতা ও পুষ্পের চিত্র অঙ্কিত ছিল। চিত্রগুলি দেখিলে বিল্রয়াবিষ্ট হইতে হয়। চিত্রগুলি এত পরিষ্কার, বোধ হয় যেন সুদক্ষ চিত্রকর তুলি ধরিয়া কাগজে আকিয়া দিয়াছে; অথবা যেন প্রস্তর কোনরূপে কর্দমের মত নরম করিয়া তদুপরি ছাপা করিয়া লতাপ'তা মুদ্রিত করা হইয়াছে। এ প্রস্তরের কয়েকটি মৈনার চৌধুরীগণের ণৃহে সংরক্ষিত আছে। (ধরস্থকাব একা প্রস্তর-চিত্রের পার্থ উপবেশিত তথায় যে চিত্র গৃহীত হয়, তাহার ও।৬কৃতি দ্রষ্টব্য ।) রাজবাটী এখন জঙ্গলময় হইলেও দরবারগৃহ, অন্দর মহলাদির স্থান নিরূপিত আছে। দশম অধ্যায় : প্রতাপগড়ের রাজবাড়ী শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩০৭ কল্পনাও এ সময় অসম্ভব ছিল না। ফলতঃ তিনি মালিক প্রতাবের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ না করিয়া, তাহাকে সামন্ত শ্রেণীর মধ্যে গণ্য করিলেন ও “রাজা” উপাধি দিলেন। এইরূপে উভয়ের মধ্যে মৈত্রী উপস্থিত হইল । মোসলমান হইলেও মালিক প্রতাব রাজা বলিয়া খ্যাত হইলেন। অচিরেই ধন্য মাণিক্যের সহিত প্রতাপ মাণিক্যের যুদ্ধ উপস্থিত হয়, সুচতুর প্রতাব এই যুদ্ধের সাহায্যে সসৈন্যে পুত্রের সহ গমন করিয়াছিলেন । বিশ্বস্ততা ও শৌর্ধ্য প্রদর্শনে তিনি প্রতাপ মাণিক্যের এরপ প্রিয় হইয়া উঠেন যে, মহারাজ নিজ তনয়া রত্বাবতীকে তৎপুত্র বাজিদের সহিত বিবাহ দিয়া আত্ম-তুষ্টি চরিতার্থ করেন। কেবল তাহাই নহে, মহারাজ জামাতাকে যৌতুক স্বরূপ প্রতাপগড় প্রদান করেন । সেই প্রথমে প্রতাপগড় মোসলমানেরু করায়ত্ত হইল। সুলতান বাজিদ ও হৈড়ন্ব যুদ্ধ ১৪৯০ খৃষ্টাব্দে মহারাজ প্রতাপ মাণিক্য নিহত হন। মালিক প্রতাব ইহার অল্পদিন পরেই মৃত্যুমুখে পতিত হন। তৎপর বাজিদ রাজা হন। কাছাড়ের প্রাচীন নাম হৈড়ম্ব দেশ; বাজিদের সহিত হৈড়ম্ব পতির বিবাদ উপস্থিত হয়। বাজিদের রাজা বৃদ্ধি লালসাই এই বিবাদ উপস্থিত হইবার কারণ, সন্দেহ নাই। বাজিদের পাচ পুত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ মারামত খা একজন বীরপুরুষ ছিলেন, ইহার বিক্রম ময়মনসিংহের অন্তর্গত জঙ্গলবাড়ীর প্রাচীন ভূস্বামী বংশে মারামত খার বিবাহ স্থির হয়, বিবাহ উপলক্ষে মারামত খা সসৈন্যে তথায় গমন করেন।৭ এই সংবাদ প্রান্তে হৈড়ন্ব রাজ প্রতাপগড় আক্রমণে প্রধাবিত হন। প্রতাপগড়ের রাজবাটীতে বৃদ্ধ বাজিদ কয়েকটি পরিচায়ক ও রক্ষী লইয়া অবস্থিতি করিতেছিলেন, তিন এই আকস্মিক সংবাদ প্রান্তে চিন্তিত হইলেন। সৈন্য সমস্তই পুত্রের সহিত চলিয়া গিয়াছে, তখন কিরূপে গৃহরক্ষা হয়? তাহার রক্ষিবর্গের মধ্যে উদাই ও বুধাই নামে দুইটি মনুত্রাতা ছিল, বিশাল দেহী অমিত বলশালী এই মনুযুগলকে আহ্বান পূর্বক তিনি ৭. এই বিবাহ সম্বন্ধে অনেক কৌতুকবহ জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। কথিত আছে, জঙ্গলবাড়ীর প্রাচীন ভূস্বামী বলিয়াছিলেন যে, জামাতাকে জাকজমকে যাইতে হইবে, বৃদ্ধ লোক সঙ্গে থাকিবে না। তদনুসারে মারামত খা সমস্ত সৈন্য ও প্রজা সঙ্গে লইয়া গিয়াছিলেন এবং বৃদ্ধ মন্ত্রীকে এক বৃহৎ নাগরা বা ঢাকের ভিতর পুরিয়া গোপন ভাবে সঙ্গে নিয়াছিলেন। তদবধি প্রাচীনত্বের উদাহরণচ্ছলে এতদঞ্চলে “নাগরার মাঝের বুড়া” বলিয়া একটা কথার ব্যবহার চলিয়া আসিতেছে। এক পঞ্চিল ঝিলের ভিতর দিয়া বরযাত্রীদের পথ নির্দেশ করা হইয়াছিল। এই পঙ্কিল পথে গমন হেতু বরযাত্রীদের পথ কর্দম লিপ্ত হইয়াছিল । ইহারা পৌছিলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে ক্ষুদ্র এক এক ঘট জল দিয়া সেই জলে পদ প্রক্ষালন ও অজু (উপাসনার পূর্বে হস্তমুখাদি ধৌত) করিতে বলা হয়। সেই অত্যল্প জলে এই অসন্তব কার্ধ্য কিরূপে হইবে?-নাগরার ভিতর হইতে মন্ত্রী পরামর্শ দিলেন, বাসের ছিলকা বা বৃক্ষপত্রাদিতে পায়ের কাঁদা মুছিয়া অতি সামান্য জলে পা পরিষ্কার করিবে । এইরূপ পরামর্শানুসারে কার্য্য করায় তাহারা সেই জলটুকুতেই পা ধুইয়া অবশিষ্ট জলে অর্রেশে অজু করিতে সমর্থ হইল;-কন্যাপক্ষ তাহাদের সহিত এই খেলায় পারিয়া উঠিল না। তৎপর কন্যা বিদায়ের পৃবের্ব সমবয়াঃ ও সমবেশা সাতটি যুবতীর মধ্যে হইতে আপনার স্ত্রী পরিচয় করিয়া নেওয়ার জন্য মারামত খাকে বলা হইল । চিন্তিত মারামতকে মন্ত্রী নাগরার মধ্য হইতে বলিলেন,-ন্ীর মুখ দেখার অধিকার স্বামীর স্বর্বব্রই আছে, সেই অধিকার বলে যুবতীদের অবগুষ্ঠন- বন্ত্র উত্তোলন ফথিয়া মুখ দেখিবার অনুমতি লইয়। মুখ দেখিতে হইবে । যে রমণী লঞ়্াশীলা হইবেন-বিদেশ গমন প্রযুক্ত যিনি বিরস বদনা হইবেন, তিনিই বিবাহিতা কন্যা মারামত খা ইহাতেও বিজয়ী হইয়াছিলেন। ৩০৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড আশুবিপদের নিরাকরণোপায় স্থির করিয়া কার্য্য করিতে বলিলেন। রাজ্য রক্ষার অভিপ্রায়ে বিনিনির্মত দুইটি মূনুয় প্রাচীর (গড়) মালিক প্রতাবের পুর্ব হইতে অসম্পূর্ণ ভাবে পড়িয়া রহিয়াছিল। বাজিদের পরামর্শে উক্ত মল্ল যুগল পুররক্ষী দ্বাদশ জন খোজার৮ সাহায্যে অত্যল্পকাল মধ্যে অতি বিস্ময়কর কার্য্য সাধন করিয়া লইল; তাহাদের তন্বাবধানে প্রজাবর্গ এক দিবারাত্রির মধ্যে পৃরর্বকার অসম্পূর্ণ গড় পূর্ণাঙ্গে গঠন করিয়া লইল। রাজবাটীর (প্রায় তিন মাইল) উত্তরে, পুর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত দুইটি ক্ষুদ্র পাহাড়বৎ মৃতপ্রাটীর পূর্ণাবয়বে দণ্ডায়মান দৃষ্ট হইল;-_-একটির অল্প দূরে, ইহারই নাম গড় । তৎকালে ইহা দুরারোহ ও শক্রর পক্ষে অলজ্ঞনীয় ছিল। উত্তরের গড়ুটি প্রতাপগড় পরগণার উত্তর সীমা স্বরূপ হইয়াছে, ইহার স্থানে স্থানে প্রহরার জন্য লোক স্থাপনার্থে বক্রিমা ছিল, দক্ষিণের গড়টি পুবর্ব পশ্চিমে সোজা চলিয়া গিয়াছে। ইজারা গাও নামক স্থানে এই গড়ের সুকৌশলে গঠিত দ্বার ছিল, তথায় এখনও কয়েকটি ক্রম বিন্যস্ত মৃত্তিকাস্তৃপ দৃষ্ট হয়। এই গড় দুটির ভগ্াবশেষ অদ্যাপি বর্তমান রহিয়াছে। শত্রসৈন্য যথাকালে রাজবাটী আক্রমণে অগ্রসর হইল, মন্ত্যুগল তখন দুইখানা বৃহৎ “লাখাই” নামক খড়গ৯ হস্তে মৃন্ময় গড়ের নবনির্মিত দ্বারে দীড়াইল; সাহায্যকারী খোজাগণ তাহাদের পশ্চাতে রহিল । অতঃপর বিপক্ষ সৈন্য ক্রমশঃ সেই দ্বারপথে তির্ধ্গভাবে যেমন অগ্রসর হইতে লাগিল, অমনি উদাই ও বুধাই ভ্রাতৃযুগলের ভীষণ খড়গাঘাতে ছিন্ন স্কন্ধ হইয়া, তৎক্ষণাৎ অপসারিত হইতে লাগিল । পশ্চাতের বিপক্ষ সৈন্যগণ ভাবিতে লাগিল যে অগ্রবর্তিগণ নিবিরবাদে রক্ষিহীন রাজ-ভবনাভিমুখে অগ্রসর হইতেছে। এইরূপ বহু বিপক্ষ সৈন্য অপসারিত করিতে করিতে সহকারী খোজাগণ ক্লান্ত হইয়া পড়িল! নিহত শক্র সরাইবার আর লোক নাই। সেই উন্ত্ত মন্লযুগল তখন স্তূপাকার শক্র শবের উপর দীড়াইয়া আগত সৈন্য বধ করিতে লাগিল । অপ্রশস্ত পথ শবে শবে বন্ধ হইয়া গেল। এই সংবাদ যখন হৈড়ন্ব সৈন্যগণ জানিতে পারিল, তখন আর অগ্রসর হইতে সাহস করিল না, ভীত হইয়া পলায়ন করিল। এইরূপে দুইটি মাত্র বীরের অসম সাহস ও অমানুষিক বীরত্বে ও কৌশলে প্রতাপগড় রক্ষা পাইল। যুদ্ধে যে সকল শক্রসৈন্য নিহত হয়, রাজবাটীর দক্ষিণে একস্থানে তাহাদের মস্তক শ্রেণী চর্তুভূজ ক্ষেত্রের আকারে সারি করিয়া রাখিয়া, সেই মুণ্ড-মালার মধ্যস্থিত ভূখণ্ডে একটি পুঙ্করিণী খনন করা হয়, এই পুঙ্করিণীর নাম “মুণ্ডমালা দীঘী।” পাথারকান্দি আউটপোষ্টের সন্নিকটে বিদ্যমান থাকিয়া অদ্যাপি ইহা সেই অতীত কীর্তির স্ৃতি উদ্দীপ্ত করিতেছে। বাজিদের পরাজয় | এই সময় সৈয়দ হুসেন শাহ বাঙ্গালার অধিপতি । শ্রীহট্র শাসনের ভার তখন কানুনগোর উপর ছিল। প্রতাপগড় তখনও কানুনগো গণের শাসিত ভূভাগের সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিয়ৎ পরিমাণে বাজিদ ব্রিপুরাপতির আশ্রিত ছিলেন। হৈড়ন্বরাজকে পরাভূত করিয়া ও স্বকীয় রাজ্যকে গড় এবং “গড়খালা” নামক পরিখা দ্বারা সুরক্ষিত করিয়া বাজিদ গর্বিত হইয়া উঠিয়াছিলেন; এই সময়ে তিনি স্বয়ং স্বাধীন নৃপতির পরিচায়ক সুলতান উপাধি ধারণ করেন। ৮. প্রতাপগড়ে বালিদীঘীর দক্ষিণে ইহাদের কবরের চিহ্ন এখনও দেখিতে পাওয়া যায় । ৯. মালেরা যুদ্ধের পৃবের্ব ব:ৎ লাখাই-খড়গ কুরুম জাতীয় বৃহৎ প্রস্তরে ধার দিয়াছিল, একটি চিন্রা্কিত প্রস্তরের সহ সেই প্রস্তর হাটখলার মসজিদে রক্ষিত আছে। এ প্রস্তরে দুইটা অস্ত্রাঘাতের চিহ্ু '[& হয়: প্রবাদ যে, মালেরা প্রস্তরে আঘাত ক্রমে অস্ত্রের তীক্ষতা পরীক্ষা করিয়াছিল । শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩০৯ তাপগড়ের রাজবাড়ী দশম অধ্যায় গোর বুনে ম ৪ এ 5) শাক এ ক কত ও কি উট +ইিউিতে ১৯ ঃ ১ শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী ও প্রতাপ গড়ের প্রস্তর চিত্র গ্রহ্থাকারের দক্ষিণে ভূগর্তে প্রাপ্ত কয়লাখণ্ড ও বামপাশে এক খণ্ড পচনশীল বৃক্ষমূল চিত্রসহ ১০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড বাজিদের প্রভাব বিশেষ বর্ধিত হইয়া উঠিল। এই সময় শ্রীহস্ট্রের ভূতপুবর্ব কানুনগো গহর খার সহকারী সুবিদ রাম ও রামদাস, সংগৃহীত রাজস্ব আত্মসাৎ করিয়া, সুলতান বাজিদের আশ্রয় গ্রহণ করেন ।১০ ইহাদিগকে আশ্রয় দেওয়ায় হুসেন শাহের সহিত তীহার বিরোধ উপস্থিত হয়। এই সময় আরও দুই একটি বিদ্রোহী বাজিদের আশ্রয় পাইয়াছিল; সৈয়দ হুসেন সরওয়ার খাকে শ্রীহষ্ট প্রেরণ করেন। সরওয়ার খা জোতিম্যুত সব্ব্বানন্দ১১) শ্রীহন্টবাসী বলিয়া শ্রীহট্টে অবস্থা সম্যক জ্ঞাত ছিলেন। সরওয়ার খা প্রথমেই বিদ্বোহীদগকে আত্মসমর্পণ করিতে বলিলেন, কিন্তু তাহারা কোন কথা গ্রাহ্য করিল না; তখন উভয় পক্ষে যুদ্ধ আরন্ত হইল। যুদ্ধে বাজিদ ও বিদ্রোহীদের পরাজয় হয়; অনেকেই ধৃত হন। বাজিদ উপায়ন্তর না দেখিয়া বশ্যতা স্বীকার করেন ও আপন লাবণ্যবতী কন্যাকে সরওয়ার খার সহিত বিবাহ দিয়া তাহার অনুগ্ধহ ক্রয় করেন। সরওয়ার খা বিদ্রোহী সুবিদ রাম ও রামদাসকে হুসেন শাহের সদনে প্রেরণ করেন, তথায় তাহারা কঠোর দণ্ডে দণ্ডিত হয়। বাজিদের বশ্যতার নিদর্শন স্বরূপ কয়েকটি হস্তী প্রেরিত হইয়াছিল। এবং বাজিদের সুলতান উপাধি রহিত করিয়া, নিরূপিত রাজস্ব প্রদানে তাহাকে বাধ্য করা হয়; এই সময় অবধি প্রতাপগড় বঙ্গের পাঠান রাজত্বের অঙ্গীভূত হইয়াছিল ।১২ সরওয়ারের সহিত বাজিদের যে যুদ্ধ হয়, বাজিদের পুত্র মারামত খা তাহাতে বিশেষ শৌর্য্য প্রকাশ করিয়াছিলেন । যুদ্ধে পরাজয়ের কিছুদিন পরেই বৃদ্ধ বাজিদ প্রাণত্যাগ করেন এবং মারামত খাই রাজ্য প্রাপ্ত হন। মারামতের চারি পুত্র ছিল, মৃত্যুর পর জ্যৈষ্ঠ শমসের খা রাজ্যশাসন করেন। কমলা রাণী ও প্রতাপগড় ধ্বংশ জমসের খার আট পুত্র, তন্মধ্যে আফতাব উদ্দীন খ্যাতনামা । ইহার সময়ে হৈড়ম্বের সহিত পুনবর্বার বিবাদ আরম্ত হয়। এই বিবাদই রাজ্য ধ্বংশের কারণ । এই সময় সম্ভবতঃ তুলসীধ্বজ কাছাড়ের রাজা ছিলেন, কিন্তু রাজা অপেক্ষা রাণীই সমধিক বীর্য্যবতী ছিলেন; সেই রাণীর নাম কমলা । কাছাড়া-রাজ সসৈন্যে প্রতাপগড় আক্রমণ করিলে আফতাব উদ্দীন স্বীয় সৈন্য সহ তাহাকে বাধা দিতে অগ্রসর হন। তাহার সৈন্য সংখ্যা মুষ্টিমেয় হইলেও তিনি ভগ্নোৎসাহ হইলেন না। দৈব তাহার অনুকূলে ছিল, যুদ্ধের আর্ত মাত্রে কাছাড়পতি রণক্ষেত্রে নিপতিত হইলেন। কাছাড় সৈন্য ছত্রভঙ্গে পলায়ন করিল। স্বামীর নিধন বার্তা শ্রবণে রাণী কমলা বিহ্বলা হইলেন বটে, কিন্তু বীরনারী সত্বরেই শোক সম্রণ পূর্বক প্রতিশোধ গ্রহণার্থ রণবেশে সঙ্জিতা হইলেন। তাহার জলন্ত উৎসাহ বাক্যে প্রতি সৈন্য উত্তেজিত ও প্রাণ দিতে প্রস্তুত হইল, অচিরেই তিনি এক বিরাট বাহিনী লইয়া ক্ষুদ্র রুেলনলমূ-ানর ১১. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ২য় খণ্ড ৩য় অধ্যায়ে দেখ। ১২, আইন-ই-আকবরিতে লিখিত আছে যে, শ্রীহট্টের আট মহল মধ্যে প্রথমটিই প্রতাপগড় এবং ইহার রাজস্ব ৩৭০,০০০ দাম। স্ম্রাট আকনরের “ওয়াসিল-তোমার জমা” শোর শাহের রাজন্ব হিসাবে নকল নাত্র। বস্তুতঃ প্রতাপগড় মোসলমান সম্রাজ্যান্তর্গত বিবেচিত হইরৈও, তখনও তত্রত্য অধিপতিরা স্বাধীন ভাবেই শাসন দণ্ড পরিচালন করিতেন। দশম অধ্যায় : প্রতাপগড়ের রাজবাড়ী শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৩১১ আফতাব উদ্দীনকে আক্রমণ করিলেন। আফতাব উদ্দীনও তেজন্বী ও সাহসী পুরুষ ছিলেন; তাহার সৈন্যগণ সংখ্যায় সামান্য হইসেও সাহসে অতুলনীয় ছিল, তাহাদের বিশ্বস্ততায় নির্ভর করিয়া তিনি কমলা রাণীকে বাঁধা দিতে ধাবিত হইলেন। কিন্তু প্রবল বন্যা মুখে ভাসমান তৃণখণ্ডের ন্যায় তাহার সৈন্য মুহূর্তে মধ্যে কোথায় অন্তহ্থিত হইল! প্রতাপগড় কাছাড় রাজ্যের অন্তর্ণিবিষ্ট হইল । বিজয়ী সেন্যগণ রাণীর আদেশে রাজবাটী লৃষ্ঠন করিতে প্রবৃত্ত হয়, কিন্তু তাহারা রাজবাটী প্রবিষ্ট হইয়া একটি প্রাণীকেও তথায় দেখিতে পায় নাই। আফতাব উদ্দীন ও তদীয় ভ্রাতৃবর্ের অনেকেই যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রাণপাত করিয়াছিলেন। অনেকেই বলেন যে, সেই যুদ্ধে প্রতাপগড়ের রাজবংশ নির্খুল হইয়া যায়। কেহ কেহ বলেন যে, মৃতাবশিষ্ট দুই একজন জঙ্গলের অন্তরালে লুক্কাইত ভাবে জঙ্গল বাড়ীর কুটুম্বালয়ে গমন করেন তথা হইতে আর তাহারা এদেশে প্রত্যাবর্তন করেন নাই। একাদশ অধ্যায় প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব সংশয় সমাচার পূরর্বাধ্যায়ে যে ঘটনা বর্ণনা করা গিয়াছে, তাহার কয়েক বৎসর পরে ব্রিপুরাধিপতি কাছাড় জয় করেন। কাছাড়ের সঙ্গে প্রতাপগড় সেইক্ষণে ত্রিপুরা রাজ্যভূক্ত হয়। কাছাড়াধিপতির যে কর্মচারী প্রতাপগড়ে ছিল, সেই যুদ্ধে কাছাড়াধিপতির সহিত তাহারও মৃত্যু হয়। প্রতাপগড়ের জমিদার বংশীয়গণ বলেন যে, পুর্ব বর্ণিত হৈড়স্ব-রাজমহিষি কমলার যুদ্ধকালে তাহাদের পুর্ব পুরুষগণ জঙ্গলবাড়ী গিয়াছিলেন, তন্মধ্যে আফতাব উদ্দীনের সহোদর সাকির উদ্দীনের পুত্র সুলতান মোহাম্মদ ও সিরাজুদ্দীন মোহাম্মদ এবং ওজমন উদ্দীনের পুত্র আজফর মোহাম্মদ, পরে কাছাড়-পতির এই পরাজয় সংবাদে জঙ্গলবাড়ী হইতে স্বদেশে আগমন করেন । এই সমাগত ব্যক্তিব্রয়ের মধ্যে আজফর বয়সে সর্বাপেক্ষা ছোট ছিলেন, কিন্তু তাহার স্বভাব উদ্ধত ছিল, ক্ষীপ্রকারিতা গুণে তিনিই প্রতাপগড় অধিকার করিয়া লন; ইহাতে আজফরের সহিত বয়োজ্যেষ্ঠ সুলতান মোহাম্মদের বিরোধ উপস্থিত হয়। কিন্তু রাজ্যের উত্তরাংশ গ্রহণ করিয়া পৃথক বাটী প্রস্তুত ক্রমে আজফর তথায় চলিয়া গেলে এই বিরোধ মিটিয়া যায়। আজফরের অধিকৃত স্থানই জফরগড় বলিয়া উক্ত হয়। পরগণা জফরগড়ের নামের সহিত এই আজফর নামের সম্বন্ধ থাকা যেন সঙ্গত বোধ হয় না। ইহাদের সম্বন্ধে নানারূপ কিন্বদত্তী শ্রুত হওয়া যায়। কেহ কেহ বলেন যে, পূর্ব বর্ণিত রণহতাবশিষ্ট পলাযিত রাজবংশীয়গণের মৃত্যু হইলে অপর এক বংশের ব্যক্তিগণ প্রতাপগড়ের রাজবংশীয় পরিচয়ে এদেশে আগমন করিয়াছিলেন। প্রতাপগড়ের মোসলমান জমিদারগণ তীব্রভাবে একথা অস্বীকার করেন ও তীহারাই প্রতাপগড়ের রাজবংশীয় বলিয়া প্রকাশ করেন। ফলতঃ প্রকৃত সত্য কি, তাহা এখন অতীতের তিমিরাবৃত গর্ভে লুক্কায়িত রহিয়াছে। সে যাহা হউক, আফতাব উদ্দীন প্রভৃতির সহিত রাজবংশ ধ্বংশ হইয়া থাকিলেও, প্রতাপগড়ে আগত সুলতান মোহাম্মদ প্রভৃতি তাহাদেরই স্থলবর্তা হওয়ায়, পরবর্তী বিবরণ তৎসংসৃষ্টভাবেই একত্র লিখিত হইতেছে এবং বংশ-পত্রেও১ ক্রমানুসারেই নামাবলী দেওয়া গিয়াছে। জঙ্গলবাড়ী হইতে প্রত্যাগত আজফর এবং সুলতান ও সিরাজুদ্দীন আফতাব উদ্দীন প্রভৃতির উত্তরাধিকারী প্রচারে প্রতাপগড় করায়ত্ত করিলেও, প্রতাপগড়ের পুর্ব বর্ণিত রাজগণের তুল্য রাজ ক্ষমতা লাভ করিতে সমর্থ হন নাই; সাধারণ জমিদারদের ন্যায়ই চলিতে থাকেন । সুতরাং ত রা নাবিতা কাকার ররর জারা কিছুই অসঙ্গত হয় না। সুলতান মোহাম্মদ সুলতান মোহাম্মদ অতি সুন্দর পুরুষ ছিলেন, প্রজাবর্গ এই জন্য তাহাকে “রাঙ্গাঠাকুর” বলিত। তিনি প্রথমতঃ পরিত্যক্ত রাজবাটীর সংস্কার করিয়া বাসোপযোগী করিয়া লইয়াছিলেন। ১. ঙ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য (২য় ভাগ ২য় খণ্ড) একাদশ অধ্যায় : প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ৩১৩ লঙ্গাই নদীর গতি পরিবর্তন করিয়া দেওয়া ইহারই কীর্তি। এই নদী পূর্বে নানাস্থান ঘুরিয়া অতিশয় বক্রভাবে প্রবাহিত হইত, ইহাতে জল পথে প্রতাপগড় আসিতে বিলম্ব ঘটিত। তখনকার নদী রাজবাড়ীর পাদদেশ ধৌত করিয়া প্রবাহিত হইত । রাঙ্গাঠাকুর হেমন্তে নদীর একস্থানে বাধ বাঁধিয়া অন্যদিকে নদীর প্রবাহ প্রধাবিত করিয়া দেন। ইহাতে নদীর বক্রতা বহুক্রোশাস প্রাপ্ত হয়। সে স্থানে বাধ দিয়া নদীর গতি পরিবর্তন করা হয়, এ স্থান অদ্যাপি “রাঙ্গার ভাঙ্গা” নামে কথিত হইয়া থাকে ।২ সিরাজউদ্দীন ইহারই ভ্রাতার নাম। জফরগড়ের অধিবাসী আজফর মৃত্যুমুখে পতিত হইলে, সিরাজউদ্দীন তথায় গমন করেন। জফরগড়ের মোসলমান চৌধুরীগণ ইহারই বংশসম্ভৃত ৩ পরবর্তী চৌধুরীগণ রাঙ্গাঠাকুরের পুত্র জান মোহাম্মদ ৷ ইহার পুত্র বদরম্দীন মোহাম্মদের সময় সম্পত্তি বহু পরিমাণে ত্রাস প্রাপ্ত হয় এবং পূবর্ব গৌরব তিরোহিত হয়। সবিস্তৃত রাজবাটার এককোণে পড়িয়া থাকা তিনি যুক্তিসঙ্গত বোধ করেন নাই। তিনি রাজবাটীর কিছু দূরে উত্তর দিকে এক নুতন বাটী নির্মাণ করিয়া তথায় বাস করেন। বদরুদ্দীন মোহাম্মদের পুত্র গোলাম আলী চৌধুরী । ইহার সময়ে অবস্থা আরও শোচনীয় হইয়া পড়ে, রাধারাম (লালা) নামক জনৈক ব্যক্তি শ্রীহট্ট সহর হইতে আসিয়া তাহার সম্পত্তির অনেকাংশ গ্রাস করেন। এই সময় জফরগড়ের চৌধুরীবর্গ বিশেষ প্রবল হইয়া উঠিয়াছিলেন। গোলাম আলীর বৃদ্ধাবস্থায় দশসনা বন্দোবস্তের সূত্রপাত হয়। এই বন্দোবস্তের ভাবিফল সম্বন্ধে তিনি বিশেষ সন্দিহান ছিলেন বলিয়া নিজ জ্ঞাতি ও আত্মীয় পাখারিয়াবাসী কর মোহাম্মদকে আনাইয়া, তাহাকে পরগণার ছয়পণ অংশ প্রদান করেন ও তাহার নামেই প্রথমে তালুক বন্দোবস্ত হইবে স্থির হয়। ইহাতেই পরে প্রতাপগড়ে ১নং কর মোহাম্মদ তালুকের উৎপত্তি হয়। দশসনা বন্দোবস্তের অব্যবহিত পূবের্ব গোলাম আলীর মৃত্যু হইলেও তদীয় পুত্র গোলাম রজা, পিতার নামে ও নিজ নামে প্রতাপগড়ের ৩৩নং ও ৩৪নং তালুক বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন। এই বন্দোবস্তের পৃবের্বই রাধারাম ইহাদের অধিকাংশ সম্পত্তি গ্রাস করিয়া প্রভাবাবিত হইয়া উঠিয়াছিলেন। ২. কথিত আছে যে সুলতান বণিতা স্বীয় প্রসাদাগ্র হইতে, কোন নাবিকের অশ্রীল “সারিগান” শুনিতে পাইয়া বিশেষ লজ্জিত হন ও স্বামীকে সন্নিকটবন্ত্ী নদী ফিরাইয়া দিতে অনুরোধ করেন। তাহার অনুরোধেই এই হিতকর অনুষ্ঠান হয়। রাজবাটীর সন্নিহিত লুঙ্গাই নদীর পৃব্্বাতে এখন শিঙ্গিছড়া প্রবাহিত হইতেছে। ৩. জফরগড়ের অন্তর্গত আতানগর, আলীনগর, শমশেরনগর (শেরপুর), রসুল নগর (ধলছড়া), ও আচলনগর, এই পাচ স্থানে সিরাজউদ্দীন বংশীয় চৌধুরীগণ বাস করেন। এই জন্য জফরগড়ে “পাচ ঠাকুরের দোহাই” দেওয়ার কথা প্রচলিত আছে। এই পাঁচ বংশীয় মিরাশদারগণ ব্যতীত জফরগড় পরগণার মৈন্য নিবাসী হিন্দু মিরাশদারগণ প্রসিদ্ধ; কিন্তু এই হিন্দু চৌধুরী বংশ আতানগরের অন্তর্গত । আতানগরের মোসলমান চৌধুরী বংশ এখন বিলুপ্ত । দশসনা বন্দোবস্ত কালে এ বংশে ওলী মোহাম্মদ চৌধুরী জীবিত ছিলেন । তীহার পুত্র নবি নওয়াজ তৎপুত্র দেওয়ান রসুল চৌধুরী, তৎপুত্র নশা মিয়া চৌধুরী, ইহার একটি শিশু জাত হইয়াছিল । আলীনগর বংশে শ্রীযুত মুসববীর আলী চৌধুরী বর্তমান আছে। শমশেরনগর বংশে শ্রীযুত মোহাম্মদ ইদ্রিস চৌধুরী খ্যাতনামা ব্যক্তি, আচলনগর বংশে শ্রীযুত মুসলিম আলী চৌধুরী প্রভৃতি বিদ্যমান আছেন। ৩১৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড নবাব রাধারাম শ্রীহট্টের তালতলা বাসী দত্ত বংশীয় রাজারাম, শ্রীহট্টের পূবর্বাংশবর্তী নব অস্যুদিত সাহু বংশে বিবাহ করেন। ইহার এক গোধা পুত্র জন্মে তাহারই নাম রাধারাম। রাধারামের ভাগা বিপর্যয় কাহিনী আশ্চর্যজনক | রাধারামের বাড়ীতে একদা এক অতিথি সন্ন্যাসী আগমন করেন। রাধারাম তীহার সেবা শুশ্রষা করিলে তিনি সন্তুষ্ট হইয়া তাহাকে অবধোৌতিক প্রলেপ প্রয়োগের ব্যবস্থা দেন, সেই প্রলেপের আশ্চর্য্য গুণে রাধারামের পা সহজ আকার ধারণ করে । ইহাতে রাধারাম সন্াসীর একান্ত অনুগত হইয়া পড়েন। উভয়ে তথা হইতে প্রতাপগড়ের পৃর্র্বাংশে চরগোলা নামক স্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তীহারা প্রথম রাত্রি যে স্থানে অবস্থান করেন, এ স্থান অদ্যাপি “সন্ন্যাসীর পাট্টা” নামে খ্যাত আছে। চরগোলা তখন ঘোর জঙ্গলাবৃত্ত; সেই স্থানে তখন মনুষ্যবাস ছিল না। এ অঞ্চলে “সহিজা বাদশাহ” নামে জঙ্গলের দেবতা সাধারণের নিকট বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র। সন্যাসী রাধারামকে তোমার উন্নতি অনিবার্য ।” এই উপদেশ দিয়া সন্ন্যাসী তপস্যার্থ ছত্রচুড়া শূঙ্গে চলিয়া গেলেন। রাধারাম সহিজার ভক্ত হইলেন এবং সেই স্থানে নিজ বাসার্থ বাড়ী নির্মাণ করিলেন । কিন্তু সেই জনশূন্য স্থানে আত্মোন্নতির কোন উপায় করিতে না পারিয়া, প্রতাপগড়ের জমিদার গোলাম আলীর বাড়ীর নিকটে এক দোকান স্থাপন করিলেন; সেই দোকানই তাহার উন্নতির সোপান স্বরূপ হইয়াছিল। রাধারাম গোলাম আলীর বাড়ীতে নিত্য নানা দ্রব্য যোগান দিতে লাগিলেন। অত্যল্প কাল মধ্যেই তাহার অনেক টাকা প্রাপ্য হইল । জমিদার টাকা দিতে পারিলেন না, তৎপরিবর্তে ভূমি দান দিলেন। এইরূপে কয়েক বর মধ্যেই গোলাম আলীর অধিকাংশ ভূসম্পত্তি রাধারামের করায়ত্ত হইল। “গোলামরজা চৌধুরী দেখিলেন যে সুচতুর রাধারাম পিতা হইতে অধিকাংশ সম্পত্তি আত্মসাৎ করিয়াছেন । এই সময় তাহার পিতার মৃত্যু হওয়ায় তিনি নিজ সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য কলিকাতার সদর দেওয়ানী আদালতে অভিযোগ উপস্থিত করিলেন। আদালত উভয় পক্ষের কথা শুনিয়া “তরমিম” ডিক্রি (সম অংশে ডিক্রি) দেন। পৃবের্ব কথিত হইয়াছে যে গোলাম আলী হইতে কর মোহাম্মদ চৌধুরী প্রতাপগড়ের ছয়পণ অংশ লাভ করিয়াছিলেন । অবশিষ্ট দশপণ অংশ তীহার ছিল। সদর দেওয়ানীর নিষ্পত্তি অনুসারে কাজেই গোলামরজাকে প্রতাপগড়ের পাচপণ অংশের অধিকারী হইতে হইল। রাধারামও প্রতাপগড়ের পাচপণ অংশ পাইলেন বটে, কিন্তু তিনি তাহাতে সত্তৃষ্ট হইতে পারিলেন না। গোলামরজা চৌধুরীকে তিনি পরম শক্র জ্ঞান করিতে লাগিলেন ও চরগোলায় চলিয়া গিয়া নিজ আবাস বাটীর উত্তরে এক বৃহৎ বাটী প্রস্তুত করিলেন, অদ্যাপি সে বাটা “বড়বাড়ী” নামে কথিত হয়। এই সময় তিনি পার্খববস্তী পার্বত্য কুকি সর্দারের সহিত মিত্রতা স্থাপন করেন। দেখিতে দেখিতে আরও কয়েকটি কুকি সর্দারকে সুচতুর রাধারাম বশ করিয়া ফেলিলেন। এইরূপে কুকি সর্দারগণ তীহার বাধ্য হওয়ায় তিনি শ্রীহট্টের পুর্ব দক্ষিণ প্রান্তে এক পরাক্রান্ত পুরুষ বলিয়া পরিগণিত হইলেন। তাহার মতিগতি পরিবর্তিত হইয়া গেল; ইংরেজদের প্রতি ভীষণ বিদ্বেষ ভাব প্রকাশ করিতে লাগিলেন সদর দেওয়ানী আদালতের ডিক্রিই এই বিদ্বেষের কারণ বোধ হয়। তিনি কুকি প্রভৃতিকে একাদশ অধ্যায় : প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব শ্রীহত্ট্ের ইতিবৃত্ত ৩১৫ ইংরেজের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করিয়া তুলিলেন, এবং স্বয়ং স্বাধীন নবাব বলিয়া পরিচয় দিতে লাগিলেন। তিনি বাটীর পার্থ বিচারালয়, কয়েদখানা, কেন্লা প্রভৃতি স্থাপন করিলেন। রাধারামের দুর্গ ভগ্ন ও জঙ্গলাবৃত্ত অবস্থায় অদ্যাপি “কেল্লাবাড়ী”নামে কথিত হইতেছে। এই সময় রাধারাম ত্রিপুরায় গমন করিয়া মহারাজ দুর্গা মাণিক্যের সহিত দেখা করেন। দুর্গা মাণিক্য তাহাকে সাদরে গ্রহণ করতঃ সম্মানিত করেন এবং চরগোলা প্রভৃতি স্থানের মহারাজের যে ভূসম্পত্তি ছিল, তাহার শাসন ভার অর্পণ করেন। ইতিপৃবের্ব মহারাজের জনৈক কর্মচারী তথায় বাস করিতেন; এখনও লোকে তাহার বসতির স্থান নির্দেশ করিয়া থাকে। রাধারাম কোম্পানীর রাজস্ব দিতেন না, মহারাজকেও কিছু দেওয়া আবশ্যক বোধ করিলেন না। পক্ষান্তরে মহারাজের নামে কুকি সর্দারদের উপর বিশেষ আধিপত্য বিস্তার করিলেন। তাহার পুত্র ও সেনাপতি রণমঙ্গল অনেক বিদ্রোহী কুকিকে যুদ্ধে পরাভূত করিয়া পিতার বাধ্য করেন।৪ এই সময় রাধারাম চরগোলায় স্বজাতীয় লোক বসাইতে ইচ্ছা করেন। কিন্তু জঘন্য বন্য স্থান বলিয়া কেহই তথায় বাস করিতে যায় নাই । নিজ দফতরের কার্ধ্য নির্ববাহার্থ সরকার উপাধি জনৈক ব্যক্তিকে তিনি জমি বাড়ী দান করিয়া চরগোলায় আনিয়াছিলেন। এ বাড়ী “সরকারের বাড়ী” নামে কথিত হইয়া থাকে। তিনি বিভিন্ন স্থান হইতে ভূত্য শ্রেণীর বহু লোক সংগ্রহ করিয়া চরগোলায় আনয়ন করেন। তদ্যতীত প্রতাপগড়ের পাচ পণের অধিকার লাভ করায়, চৌধুরীদের মোসলমান কিরাণ (ভৃত্য) দিগকেও তিনি অংশানুসারে বিভাগ ক্রমে চরগোলায় লইয়া গিয়াছিলেন। হিন্দু ও মোসলমান ভূত্যগণ বিনা বেতনে তাহার কর্ম করিত। রাধারামের অত্যাচার মৈনা নিবাসী কানুরাম চৌধুরীর সঙ্গে রাধারামের সখ্য ভাব ছিল, তদীয় উপদেশ ও পরামর্শে রাধারাম দ্রতগতি চরগোলার উন্নতি সাধন করিতে সমর্থ হন। কানুরাম তাহাকে ইংরেজ বিদ্বেষ ত্যাগ করিতে সবর্বদা উপদেশ দিতেন এবং সাধারণের প্রতি অত্যাচার না করিয়া দয়া প্রকাশের জন্য বলিতেন। এ সংসারে দয়া ও পরের প্রতি সমবেদনা বা সহানুভূতিই তাহাদিগকে বশীভূত করিবার একমাত্র মন্ত্রোষধি, কঠোরতা নহে । কিন্তু দুর্বুদ্ধিবশতঃ রাধারাম যে দিন হইতে এই হিতৈষী বন্ধৃহিত উপদেশ অগ্রাহ্য করিতে আরন্ত করেন, সেই দিন হইতেই তাহার অধঃপতনের সূত্রপাত হয়। রাধারাম ক্ষমতার অপব্যবহার করিতে আরন্ত করিলেন। তাহার কথার বিরুদ্ধে যে চলিত তাহারই মাথা যাইত । ধন-জন-সম্পন্ন ব্যক্তিরও নিস্তার ছিল না, বন্য কুকির হস্তে অচিরেই মৃত্যু ৪. রাধারামের ক্ষুদ্র বংশাবলী এই স্থানেই প্রকাশ করা গেলঃ- রাজারাম দত্ত রা রাধারাম ভিজতে -1--7--নাা জয়মঙগল চৌধুরী রণমঙ্গল রাজমঙ্গল বীরমঙগল রার্ঈম্ল বিছুযঙ্গল রতনমঙ্গল রি গৌরমঙ্গল শ্রীনদীয়ারচান্দ ৩১৬ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত | দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড ঘটিত। রাধারাম নবাবের নাম তখন ভয়ের কারণ হইয়া উঠিয়াছিল। বন্দুকের গুলিতে কতটি লোকের দেহ ভেদ হয়, লোকের সারি করিয়া ইহার পরীক্ষা দেখা হয়। স্ত্রীলোকের গর্ভে কয় মাসে কি অবস্থায় সন্তান থাকে, উদর বিদারণ পুরর্বক সে কৌতৃহল তৃপ্ত করা হয়! একদা শিকারপোলক্ষ্যে রাধারাম নৌকারোহণে শণবিলে ভ্রমণ করিতে ছিলেন। একটি বৃহৎ মৎস্য হঠাৎ নৌকার নীচ দিয়া চলিয়া যাইতে দেখিয়া মাঝি বড়শা-বিদ্ধ করে, ত্রিত-গতি মাযারে বির পারা সারি নারি দাডেড রায়ে সা জিরার জন্য মাঝিকে মৎস্যের ন্যায় নৌকার নীচ দিয়ে যাইতে অনুমতি দেন, মাঝি আদেশ পালনে প্রবৃত্ত হইলে, তাহাকে ঠিক মৎস্যের মত বড়শা-বিদ্ধ করেন! একদা তাহাকে চরগোলার উত্তরদিপ্বত্তী কালীগঞ্জ বাজারে রাত্রি যাপন করিতে হয়। তীহার অনুসঙ্গীরা যে চাটাইগুলোতে শয়ন করিয়াছিল, তাহা ক্ষুদ্রায়তনের ছিল বলিয়া উহাদের পা বাহিরে পড়িয়াছিল, এই অপরাধে রাধারাম তত্রত্য তাবৎ চাটাই প্রস্তুতকারীর পা কাটিয়া দেন ও তন্্রপ ক্ষুদ্রকার চাটাই প্রস্তুত না করিতে উপদেশ দেন। রাধারামের বিচার প্রণালী অতি কঠোরতম ছিল । দাসগ্ামের এক ব্যক্তি অপর প্রতিবাসীর স্ত্রীকে লইয়া কাছাড় চলিয়া যায়। স্বামী, স্ত্রী উদ্ধারের জন্য অভিযোগ করিলে, রাধারাম কাছাড়াধিপতি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নারায়ণ ও তদীয় সর্দারগণের নিকট সেই পলাতক নারী-চোরকে পাঠাইয়া দিতে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করেন, তৎফলে অচিরাৎ ধৃত হইয়া সে ব্যক্তি চরগোলা প্রেরিত হয়। রাধারাম সেই পরদারিকের অঙচ্ছেদান্তে বধ দণ্ডে দণ্তিত করেন; ও সেই ব্যভিচারিণী রমণীর মস্তক মুণ্তন করিয়া তাহাকে স্বামী পদে অর্পণ করেন। রাধারামের অত্যাচারে লোকে ত্রাহি ত্রাহি করিত । তাহার কথায় কেহই প্রতিবাদ করিতে সাহসী হইত না। একদা তিনি দীর্ঘিকা তীরে দাঁড়াইয়া, জলের একদিক উচ্চ দেখাইতেছে বলিলে, পার্শববন্তী অনুচর “নবাব বাহাদুরের কথা সত্য” বলিয়াই সায় দিয়াছিল, তদবধি এ অঞ্চলে তোষামোদকারীদের প্রতি “রাধারামের পানি মাপ” ইতি ব্যঙ্গোক্তি প্রযুক্ত হইয়া থাকে । রাধারামের এবধিধ “নবাবির” বহু আখ্যায়িকা প্রচলিত আছে। রাধারাম গোলামরজা চৌধুরীকে হিংসা করিতেন; হিংসাবশে কুকিদ্বারা তাহাদিগকে বিনাশ করিতে উদ্যোগ করেন। তদনুসারে একদা রাত্রিযোগে বহু সংখ্যক কুকি রণবেশে চৌধুরী বাড়ী আক্রমণ করিয়া বহু লোক বিনষ্ট করে, প্রতাপগড়ের ঘরে ঘরে ক্রন্দনের রোল উথ্থিত হয়; গোলামরজা কানুরাম চৌধুরীর সহায়তায় পলাইয়া প্রাণ রক্ষা করিয়াছিলেন । তৎপরে রাধারাম চরগোলার থানাদারকে আক্রমণ করিয়া প্রকাশ্যে গবর্ণমেন্টের বিরুদ্ধে উথিত হন। ইহা ১৭৮৬ খৃষ্টানদের ঘটনা ।৫ উক্ত স্থান অদ্যাপি “থানার টিলা” নামে কথিত হয়। রাধারাম স্বীয় বন্ধু কানুরামের নিকট কখন কখন পরামর্শ জিজ্ঞাসা করিতেন । তিনি এই বিষয়ে কানুরামের সম্মতি পান নাই। কানুরাম ঘোরতর প্রতিবাদ করিয়া এইরূপ কার্ধো প্রবৃত্ত হইতে তাহাকে নিষেধ করেন । রাধারামের প্রতিবাদ শ্রবণের অভ্যাস ছিল না, বিশেষত? তাহার মনে হইয়াছিল যে, কানুরাম যে প্রকারেই হউক, গোলামরজার পক্ষপাতি হইয়াছেন, সু * সাঃ কানুরামের হিতোপদেশ ফলপ্রদ হয় নাই। ৫. 15840107171 +/69)1) 0] 1786, ও 0170 19৫17813407, এ 27171700701) 0015 045107) 00110790110 00১00117 101460564 14 01701 0012 010170, 1011 0 (0110/1110 91104) 5170 01110 41010511100 ৮11148015 -/৯110175 /555ঠ0) [0151101 0520110005 ৮01,101 (59117580140 1107 41, একাদশ অধ্যায় : প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত ৩১৭ গোলাম রজা অতঃপর নীরব থাকা অসঙ্গত মনে করিলেন ও কোম্পানীর সহায়তায় দুর্দান্ত রাধারামকে দমন করিতে ইচ্ছক হইলেন। তিনি রাধারামের অকথ্য অত্যাচার, তাহার স্বাধীনতা ও ইংরেজ বিদ্বেষ প্রভৃতি গবর্ণমেন্টের গোচর করিলেন। রাধারাম কাহাকেও গ্রাহ্য না করিয়া স্বয়ং নবাব উপাধি ধারণে লোকের প্রতি অকথ্য অত্যাচার করেন, রাজস্ব স্বয়ং আদায় করেন, বধদণ্ড পর্য্যন্ত বিধান করেন, ইত্যাদি জানাইলেন। চরগোলার থানায় আক্রমণ এই কথার পোষক প্রমাণ হইয়া দীড়াইল; তখন রাধারামকে দমন করা কর্তব্য বলিয়া কর্তৃপক্ষ স্থির করিলেন। শ্রীহট্রের রেসিডেন্ট ও কালেক্টর লিগুসে সাহেব এই সংবাদ প্রাপ্তে রাধারামকে দমনের জন্য একদল সৈন্য শণ-_বিল দিয়া জল পথে প্রেরণ করেন। রাধারামের গ্রামাদি দগ্ধ করিয়া যে কোন প্রকারে তাহাকে বাধ্য করার জন্য সৈন্যের অধিনায়ক উপদের্শ দেওয়া হয় ।৬ রাধরাম এই সংবাদ পাইলেন এবং শণবিলের পার্থ এক “খাটি” প্রস্তুত করিয়া তাহাতে সৈন্য সমাবেশ করিলেন। রাধারামের জয় দুইটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী শণবিল শ্রীহট্র জিলার মধ্যে ভয়ঙ্কর তরঙ্গ সন্কুল বিল। শিংলা নদীর কর্দম দ্বারা ক্রমশঃ ইহা ভরিয়া যাইতেছে বটে; কিন্তু রাধারামের সময় শণবিলে প্রাণ থাকিতে লোকে নৌকা ধরিত না। এই শণবিল দিয়া যখন ইংরেজ সৈন্য চরগোলা আক্রমণে আসিতে ছিল, তখন পার্শ্ববর্তী খাটি হইতে গুলি চালাইয়া সৈন্য সহিত নৌকা ডুবাইয়া দেওয়া রাধারামের পক্ষে কষ্টকর হয় নাই। তদ্যতীত নৌকায় সৈন্য সমাবেশ ক্রমে রাধারাম জল যুদ্ধেও বন্দোবস্ত করিয়াছিলেন। প্রথম যাত্রায় ইংরেজ সৈন্যের এইরূপ দুরবস্থা ঘটিলে অনতিবিলম্বে চরগোলাভিমুখে বৃহৎ আর একদল সৈন্য প্রেরিত হয়। এবার প্রকৃতি রাধারামের অনুকূল হইল। ভীষণ বাত্যায় শণবিল রুন্রমূর্ত্ি ধারণ করিল, ধবল ফেণরাশি বিকীর্ণ করিয়া, সাগরোর্মির ন্যায় বিশাল তরঙ্গমালা বিস্তার করিয়া, গভীর গর্জনে সৈন্য-কোলাহল ডুবাইয়া দিয়া, সৈন্যপূর্ণ নৌকাগুলি মুহূর্ত মধ্যে কুক্ষিগত করিল! গবর্ণমেন্ট দেখিলেন যে রাধারামকে দমন করিতে একটু বিশেষ আয়োজনের আবশ্যক; যেমন ভাবিতেছিলেন, ব্যাপার তদ্ধপ সহজ নহে। এই সময় রাধারাম একদা বলিয়াছিলেন যে “ঘরের ইন্দুর বান্ধ কাটিতেছে।” তাহার মনে মনে হইয়াছিল, স্বীয় বন্ধু কানুরাম চৌধুরীর ভরসা ও বুদ্ধি না পাইলে গোলামরজার ঈদৃশ সাহস হইত না--গোলামরজা কানুরামের নিষেধ অগ্রাহ্য করায়, ও তাহাকে অবিশ্বাস করায়, তিনি গোপনে গোলামরজাকে এই পরামর্শ দিয়াছেন। এইরূপ স্থির করিয়া তিনি বন্ধু কানুরামের উদ্দেশ্যে বলিয়াছিলেন--“ঘরের ইন্দ্ুর বান্ধ কাটিতেছে।” এবং এইরূপ মনে করিয়াই তিনি সঙ্কল্প করিলেন যে, কানুরামকে অচিরেই হত্যা করিবেন। রাধারামের এই ভীষণ সঙ্কল্লের কথা নির্দোষ কানুরাম কিন্তুমাত্র জানিতে পারিলেন না। শ্রীহট্টের অন্তর্গত ঘিলাছড়া পরগণায় মাছুরাম দে নামে এক সন্ত্বান্ত কায়স্থ ছিলেন, ইহার এক মাত্র পুত্রের নাম বিনদ রাম, বিনদ রামের সোনা ও হরি নামে দুই পুত্র হয়, ইহারা প্রাপ্ত বয়স্ক ৬. 1 1.0100593 [001101) ৫651১... 59170 5619995 1০9 11৩ 731006 :.০1। 1005000011015 10 টা 010 ৮1 48৫৪ 901২700192১ [০1১1৩, 01411111115 ০010016- -/১116715 ঠ5501) 10151101 09260116015 ৬০1. 11. (9911)01) 0101) 11. ৩১৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্িতীয় খপ হইলে আত্মকলহ প্রযুক্ত একান্নবর্তা থাকা অসুবিধাজনক বোধে পৃথক হন। এঁ সময় সোনা অনেক অস্থাবর সম্পত্তি গোপন করায় হরির মনে বিরক্তি জন্মে । হরি তেজন্বী পুরুষ ছিলেন, ভ্রাতার স্বার্থপরতায় বিরক্ত হইয়া প্রাপ্ত সম্পত্তি ত্যাগ করতঃ অভিমানে তথা হইতে চলিয়া গেলেন। তিনি নানা স্থানে পরিভ্রমণ পূর্বক জফরগড়ের দক্ষিণ প্রান্তে আসিয়া কোন সম্পত্তিশালী ব্যক্তির একমাত্র কন্যাকে বিবাহ করেন। সে স্থান জফরগড়ের ভূম্যধিকারীদের অধিকারে ছিল। তাহারা হরিদাসকে সুদক্ষ ও শিক্ষিত দেখিয়া তাহার দ্বারাই সরকারী রাজস্ব দাখিল করাইতেন। তাহাদের নিকট হইতেই হরিদাস স্বীয় বাসস্থান “মৈনার টুক” প্রাপ্ত হন। নদীর বক্রিমা মধ্যগত ভূখগ্ডকে “টুক” বলে । লঙ্গাই নদীর বর্ণিতব্য টুকে “মৈনামতি” নাম বংশনির্ষিত যন্ত্র যোগে লোকে মৎস্য ধরিত বলিয়া ইহা মৈনার টুক বলিয়া খ্যাত ছিল। পরে গতি পরিবর্তন করিয়া নদী এ স্থান হইতে দূরে চলিয়া যায়।৭ হরিদাস এই স্থানে লোক বসাইলে এঁ স্থানই মৈনা গ্রাম নাম প্রাপ্ত হয় । হরিদাস অল্পকাল মধ্যে প্রভৃত সম্পত্তি অর্জন করিতে সমর্থ হন। হরিদাসের প্রথমা পত্বীর সহিত সপ্ভাব না থাকায় তিনি আর একটি বিবাহ করেন, সেই বিবাহে চারি পুত্র জন্ম; হরিদাসের সব্র্ব কনিষ্ঠ পুত্রই কানুরাম। কানুরাম ভ্রাতৃচতুষ্টয়ের মধ্যে বিদ্যাবুদ্ধিতে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি যে কেবল রাধারামের বন্ধু ও পরামর্শদাতা ছিলেন, তাহা নহে, জফরগড়ের জমিদার ওলী মোহাম্মদ তাহাকে পুত্রবৎ স্নেহ করিতেন। তিনি নিজ ক্ষমতায় প্রভূত ভূসম্পত্তি আয়োজন করেন।৮ দশসনা বন্দোবস্তের কালে যখন মৌলিক সম্মান ও দস্তখতের নৃতন ব্যবস্থা হয়, তখন ওলী মোহাম্মদের পুত্র নবিনওয়াজ চৌধুরীর নামে জফরগড়ের ৪০ নম্বর তালুকের নাম হয়, কানুরাম চৌধুরী নিজ নামে ৪১ নম্বর তালুক বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন ।৯ ৭. এই স্থান এক সময় লঙ্গাই গর্ভে ছিল, কাল সহকারে ভরট লইয়া জঙ্গলময় উচ্চ ভূমে পরিণত হয়। লঙ্গাই নদীর প্রাচীন খাত এখনও তথায় মরাগাঙ্গ নামে খ্যাত রহিয়াছে। মৈনাস্থ উক্ত মরাগাঙ্গের উত্তর-পূর্র্ব কুল মৌজে ছায়াবাড়ী এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম কুল মুলিবাড়ী নামে খ্যাত। কথিত আছে যে, এক সময় পশ্চিম ও দক্ষিণ কুলে মূলি নামক বংশবন ছিল, দিবাভাগে তাহারই ছায়া পৃবর্ব ও উত্তর কুলে পড়িত বলিয়া ছায়াবাড়ী নামে খ্যাত হয় এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ কুল মূলিবাড়ী নাম প্রাপ্ত হয়। যাহা হউক, অন্রত্য একটা পু্করিণী পুনঃসংস্কার কালে (১৩১৫ বাংচৈত্র মাস) ছয় ফিট নিম্নে নল নামক গুল্ের পত্রাবলী ও প্রায় একাদশ ফিট ভুনিম্নে একটি বৃক্ষমূল এবং এক খণ্ড অপরিণত কয়লা প্রাপ্ত হওয়া যায়। বৃক্ষমূলটি কোমল হইয়া গিয়াছে। অপরিণত কয়লা খণ্ড কঠিন প্রস্তরে পরিণত নাহ হইলেও রংটা ঠিক কয়লার মতই গাঢ়তর কৃষ্টবর্ণ হইয়াছে কিন্তু পিপুটা কথঞ্চিত নরম রহিয়াছে, কুদালির আঘাতে সহজেই কাটিয়া যায়। এ সকল স্থল পলি দ্বারা ক্রমশঃ যে ভরট হইয়াছে, ইহাতেই তাহা বেশ বুঝা যায়। উক্ত বৃক্ষমূল এবং অপরিণত কয়লা খণ্ডের প্রতিরূপ প্রস্তর চিত্র সহ গ্রন্থকারের প্রতিকৃতির বাম ও দক্ষিণ পার্শ্ব যথাক্রমে পরিদৃষ্ট হইবে। ৮. কানুরাম চৌধুরীর অপর ভ্রাতৃত্রয়ও বিশেষ ক্ষমতাশালী ছিলেন, জর্ফরগড় পবগণার কিয়দংশ ও সমগ্র প্রতাপগড় পরগণা মৈনার চৌধুরীদের অধিকারভুক্ত হয়, তাহাদের কীর্তিকাহিনী তৃতীয়ভাগে (বংশবৃত্তান্তে) কথিত হইবে । ৯. দশসনা বন্দোবস্তের পাচ বদর পরে তিনি প্রতাপগড়ের মোসলমান জমিদার হইতে ১৭৯৯ শষ্টান্দে (৫ই জ্যৈষ্ঠ) এবং ১৮০০ খৃষ্টাব্দে (১৪ই বৈশাখ তারিখ যুক্ত) দুই খণ্ড কবালা দ্বারা ৩৩ এবং ৩৫ নং তালুকের নয় পণ অশ ক্রয় করিয়াছিলেন, এই কবালাদয় এখনও আছে; ইহাতে প্রাচীন রতি অনুসারে ভূমির স্বত্ব ত্যাগের সহিত “ইজ্জত” “রিয়াসত” ও “দশডখত” বিক্রয় করা গেল বলিয়া গিখিত আছে। এই তালুকদ্বয়ের “্ পণের অতিরিক্ত অংশও চৌধুরী মহাশয় সংগ্রহ করিয়া লইয়াছিলেন। একাদশ অধ্যায় : প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ৩১৯ এ সময় শ্রীহট্টে প্রসিদ্ধ লালা আনন্দরাম বন্দোবস্তের সব্বোচ্চ কর্মচারী ছিলেন, নিজ তালুকে অত্যধিক রাজস্ব ধার্য হওয়ায় কানুরাম শ্রীহট্টে গমন করতঃ আনন্দরামের স্ত্রীকে মাতৃ সম্বোধন করেন এবং ধর্মমাতার যত্বে এ তালুকের রাজস্ব অনেকটা কমাইয়া আনিয়াছিলেন। নিন তিনিই ঠাকুর শান্তরাম নামক জনৈক বৈষ্ণব মহাত্মাকে এদেশে আনয়ন ক্রমে সর্বপ্রথম বৈষ্ণব ধর্মের বীজ বপন করেন। ইহার দুই পুত্র, তন্বধ্যে গৌরচন্দ চৌধুরী দেশ পুঁজিত ছিলেন, তাহার পুত্র উদার চরিত্র অদ্বৈত চরণ চৌধুরীই লেখকের জন্মদাতা । কানুরামের বিপদ যে যাহা হউক, গবর্ণমেন্টের সহিত বিবাদ উপস্থিত হইলে ' “নবাব” রাধারাম বিশেষ চিন্তিত হন, কিন্তু তাহার অত্যাচার কমে নাই। এই সময় কয়েকটি ব্যভিচার পরায়ণ অপরাধী স্ত্রী পুরুষকে জোড়ে জোড়ে একত্র বন্ধন করিয়া গুলি করেন। সবর্ব পশ্চাতে একটি স্ত্রীলোক ছিল, দৈবক্রমে সে বাচিয়া যায়। রাধারাম তাহাকে কাটিয়া ফেলিতে উদ্যত হইলে সে সহিজা বাদশাহের দোহাই দেয়। রাধারাম রাগবশে তাহা অগ্রাহ্য করিয়া সেই স্ত্রীলোককে বধ করেন। সহিজাকে অগ্রাহ্য করিয়াছেন বলিয়া পরক্ষণেই তাহার অনুতাপ হয়। রাধারামের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, সহিজার কৃপাই তাহার উন্নতির মূল। নিজ দোষে এই বিপদ কালে দৈববশে তিনি সহিজাকে অগ্রাহ্য করিয়া ভীত হইলেন। এখন উপায় কি? এ বিপদে আর কে তাহাকে রক্ষা করিবে? রাধারাম ভাবিলেন, মা ছেলেকে কদাপি ত্যাগ করেন, তিনি জগন্মাতা কালীর পূজা করিয়া, তাহারই প্রসাদে রণজয় করিলেন। রাধারাম ১০৮ কালীপৃজা করিতে সঙ্কল্প করিলেন । সমস্তই প্রস্তুত, কালী সন্নিধানে নরবলির ব্যবস্থা হইল। রাধারাম কল্পিত শক্র--স্বীয় বন্ধু কানুরামকে বলি দিয়া কণ্টক শূন্য হইতে মনে করিলেন। তখনও কানুরাম চৌধুরীর সহিত প্রকাশ্য বিরোধ ঘটে নাই। পূজার উপলক্ষে কানুরাম চৌধুরীকে নিমন্ত্রণ করা হইল । বিজয় নামক ক্রীতদীস ও দুইটি মোসলমান সর্দার সঙ্গে কানুরাম চৌধুরী নিমন্ত্রণ রক্ষার্থ গমন করেন। রাধারাম পরম সমাদরে তাহাকে অভ্যর্থনা করিলেন; কানুরাম রাধারামের অভিসন্ধি কিছুই বুঝিতে পারিলেন না। সন্ধ্যার পর হইতেই বহুতর পাঠ্য যথাস্থানে আনয়ন করিয়া রাখা হইতে লাগিল। এ সময় বিজয় ভূত্য কোন সূত্রে জানিতে পারিল যে, তাহার প্রভৃকেই করাল-বদনার সদনে বলিদানের আয়োজন হইতেছে। বিজয়ের শরীর কম্পিত হইল. সে ছলক্রমে স্বীয় প্রতুকে কিছুকালের জন্য বাসায় লইয়া আসিল। কানুরাম বিজয়ের মুখে সেই ভীষণ সংবাদ শুনিলেন; তাহার প্রাণ কীপিয়া উঠিল, দেহ অবশ হইল, কিছুই স্থির করিতে পারিলেন না। তখন স্থলপথে চরগোলা যাওয়া যাইত না. দু-আলিয়া পাহাড় দিয়া লোক চলাচলের রাস্তা ছিল না। শতাব্দ পূবের্ব এ অঞ্চল যেরূপ ঘন বন সমাকীর্ণ ছিল, তথায় যেরূপ ব্যাঘ্ব, মহিষ, ভন্ুকাদির ভয় ছিল, তাহাতে কোন মনুষ্যই জীবন জলার্জীলি দিয়া সে বনে প্রবেশ করিত না। বলশালী বিজয় উপায়ন্তর ন৷ দেখিয়া যুগীয়ানা গিলাপ বন্ত্ে প্রভুকে দৃঢ়রূপে পৃষ্ঠদেশে বন্ধন কবিল এবং তখনই সেই শ্বাপদ সম্কুল ভীষণ অরণ্যের গাঢ স্নন্ধকারে অদৃশ্য হইয়া গেল! সে তখন উন্ত্ত, হাতে উলঙ্গ অসি. পৃষ্ঠে প্রভু; সে পশ্চিম মুখে দৌড়িতে দৌড়িতে প্রতাপগড়ের ৩২০ শ্রীহ্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড জমিদার গৃহে আসিয়া পৌঁছিল। এ দিকে চৌধুরীকে না দেখিয়া রাধারামের লোক তন্ন তন্ন করিয়া চতুর্দিক অবেষণ করিল, কিন্তু তাহাকে পাওয়া গেল না; রাধারাম প্রমাদ গণিলেন। রাধারামের পরাজয় রাধারামের প্রায়শ্চিত্তের সময় উপস্থিত হইয়াছিল; কাল পুরিয়া গিয়াছিল; নতুবা তিনি ইচ্ছা পূর্বক কেন মিত্রকে শক্র জ্ঞান করিবেন, ও তাহাকে যথার্থ শক্র রূপে পরিণত করিবেন? এই সময় গবর্ণমেন্ট পক্ষেও রাধারামের দমন উদ্দেশ্যে বিবিধ তথ্য সংগৃহীত হইতেছিল; কানুরাম চৌধুরী পর দিবসেই তাহাদের সহিত সাক্ষাৎ করিলেন ও যেরূপ আত্মরক্ষা করিতে পারিয়াছেন, যেরূপে রাধারামকে অনায়াসে ধৃত করা যাইতে পারে, তাহা বলিয়া দিলেন। সেই প্রথম চরগোলা প্রবেশের স্থল পথের সন্ধান পাইয়া ইংরেজ সৈন্য রাধারামকে ধৃত করিতে ধাবিত হইল । এবার রাধারামের সমস্ত গব্ব খবর্ব হইল, সমস্ত উদ্যোগ ব্যর্থ হইল; বৃটিশ সৈন্যের বন্দুক বেওনেটের নিকট তীর বল্লমধারী কুকি সৈন্য তিষ্ঠিতে পারিল না। রাধারাম উপায়ান্তর বিহীন হইয়া সপরিবারে ছদ্মবেশে পলায়ন করিলেন। জয়মঙ্গল সামান্য প্রজার বেশে তুতিপাখী শিকারের ভাণে ভ্রমিতে লাগিলেন, কিন্তু অধিক দিন আত্মগোপন করিতে পারিলেন না, ধৃত হইলেন। সেনাপতি রণমঙ্গল তখন জীবিত ছিলেন না। রাজমঙ্গল প্রতাপগড়ের মাঠে ডোমের বেশে বেড়াইতে ছিলেন, তদবস্থায় ধৃত হন। রাধারাম কিছুদিন ছিলেন, পরে সিদ্ধেশ্বরের বারুণীতে ধৃত হন। তাহাকে লৌহপিঞ্জরে আবদ্ধ করিয়া শ্রীহট্টে পাঠাইয়া দেওয়া হয়। রাধারাম পথে আত্মহত্যা করিয়া ইংরেজ রাজের দণ্ড হইতে অব্যাহতি লাভ করেন। জয়মঙ্গলকে বহুদিন কারাগারে বাস করিতে হয়। জয়মঙ্গলের কারাবাসের সময় তদীয় তাবৎ ভূসম্পত্তি প্রতাপগড়ের মোসলমান চৌধুরী কারায়ন্ত করেন। জয়মঙ্গল কারাগারে থাকিয়া বলিয়াছিলেন,--“প্রতাপগড়ের মাটি প্রতাপগড়েই থাকিবে ।” প্রতাপগড়ের জমিদারগণ জয়মঙগলের এই কথা শুনিয়া ভীত হন ও গৃহীত ভূমি ছাড়িয়া দেন। রাধারাম অত্যাচারী হইলেও জয়মঙ্গরের সদাশয়তা ছিল, এই জন্য নিরক্ষর প্রজাবর্গ যে তাহার প্রতি অনুরক্ত ছিল, এতদ্দেশে প্রচলিত গ্রাম্য গীত হইতে তাহা জ্ঞাত হওয়া যায়।১০ জয়মঙ্গল অনেক দিন কারাবাসের পর ইংরেজের বশ্যতা স্বীকার করেন ও মুক্তিলাভ করেন। জয়মঙ্গল তখন “চৌধুরী” খ্যাতি প্রাপ্ত হন। ঘুক্তি প্রাপ্ত হইয়াই তিনি গবর্ণমেন্ট হইতে নিজ সম্পত্তি বন্দোবস্ত করিয়া লইয়াছিলেন। এই বন্দোবস্তের সময় রাধারাম জীবিত না থাকিলেও তাহার নামে প্রতাপগড়ের্র ৮১নং তালুকের নামকরণ হয়। জয়মঙ্গল ৭৯নং তালুক নিজ নামে বন্দোবস্ত করেন। অতঃপর তিনি কয়েকবার হস্তী খেদা করিয়া ১০. “কান্দেরে চরগোলার লোক দেশে দেশান্তর | জয়মঙ্গল আসিবা যবে চরগোলার নগর, ডোম চাড়াল মিলিয়ারে বানাইয়া দিমু ঘব।” ইত্যাদি। ইংরেজ সৈন্য রাধারামের গৃহ ভূমিসাৎ করিয়াছিল, গ্রাম্য গীতিতে তাই গুহ প্রস্থ ত করিয়৷ দিবার প্রসঙ্গ কথিত ্যয়াছে। লু্ঠন প্রান্তে রাধারা?এন ভৃত্য শ্রেণীর লোকেরাও অনেক অর্থ আত্মসাৎ করিয়া ধনী হুধয়া উঠিয়াছিল, দুই এক জন ব্যতীত এক্ষণে অনেকেই পুরর্দশা প্রাপ্ত হইয়াছে। একাদশ অধ্যায় : প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ৩২১ গবর্ণমেন্টের অনেক আয় কবিয়া দিয়াছিলেন। ৩ হাব পিতার সময়ে প্রজাগণ খাজনা দিত না, বৎসরে একদিন নানা সামশ্রী সমেত বৃহৎ সি " (ভেট) দিত; জয়মঙ্গল ইহা রহিত করিয়া খাজানা লইতে আবন্ত করেন । জয়মঙ্গলের পুত্র বিষ্ট্রমঙ্গল প্রতাপশালী জমিদার ছিলেন। কুকিরাজ লাল চুকলার অধীন কয়েকটি সর্দার এক সময়ে প্রতাপগড়ের একস্থলে আপতিত হইয়া ১০৮টি নরমুণ্ড সংগ্রহ ক্রমে লইয়া যায়। বিষ্্রমঙ্গল নরমুণ্ড সমেত ৫/৬টি কুকি সর্দারকে ধবিযা আনিয়া গবর্ণমেন্টের হাতে সমর্পণ করিয়াছিলেন । কুকিরা যে স্থানেব প্রজাদিগকে কাটিয়াছিল, এ স্থান তদবধি “কাটাবাড়ী” নামে খ্যাত হয় ।১১ ত্রিপুরার মহারাজ কৃষ্ণ কিশোর মাণিক্য মণিপুবেব রাজবংশে' এক বিবাহ করিয়াছিলেন। ব্রেপুর রাজবংশীয় রামচন্দ্র ঠাকুব মণিপুর হইতে আগরতলা প্রত্যাবর্তন কালে বিষ্টুম্গল চৌধুরীর আতিথ্য গ্রহণ করেন। চৌধুরীর আতিথে" তিনি পরম পরিতুষ্ট হইয়া, মহারাজের সহিত সাক্ষাৎ করিতে তাহাকে পবামর্শ দেন। তদনুসাবে বিষ্ণুমঙ্গল লোকজন সহ আগরতলায় গমন করেন। মহারাজ তাহাকে বিশেষ সন্ত্রম সহকারে বাসের জন্য উত্তম স্থান নির্দেশ করিয়া দিয়াছিলেন; তাহার অনুসঙ্গী প্রত্যেক ব্যক্তিকে পঁচিশ টাকা করিয়া পুরস্কার এবং তাহার জন্য উপাদেয় দ্রব্য সমেত অশীতি মুদ্রা মূল্যের ভেট প্রেরণ করেন। এ সময় রাজধানীতে ভীষণ ওলাউঠার প্রাদুর্ভীব হওয়ায় ও তাহার অনুষঙ্গী কয়েকটি লোক এ ভয়ঙ্কর রোগে প্রাণত্যাগ করায় তিনি ভীত হইয়া প্রত্যাগমন করেন ৷ মহারাজার সা২১ সাক্ষাৎ হইলে সম্ভবতঃ তাহার অবস্থার পরিবর্তন ঘটিত। জয়মঙ্গল চৌধুরীর মৃত্যু পর গোলামরজা চৌধুরীও প্রাণত্যাগ করেন। গোলামরজার মৃত্যুর পর তদীয় পুত্র আবিদরজা ও আদমরজা চৌধুরী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হন। ইহার অহিফেন সেবী ছিলেন। তাহারা যে সম্পত্তি প্রাপ্ত হন, তাহার পরিমাণ কম ছিল না। কিন্তু তাহারা সেই সম্পত্তি রক্ষা করিতে সমর্থ হন নাই; একবারে নিঃশেষ করিয়া ফেলেন। পরে আবিদরজা চৌধুরীর পুত্র আলীরজা চৌধুবী, মৈনার চৌধুরীগণের কর্ম স্বীকার করিয়া, কথঞ্চিত্রূপে অবস্থার পরিবর্তন করিয়া গিয়াছেন। আলীরজা চৌধুরী বুদ্ধিমান ও সুশ্রী পুরুষ ছিলেন, তাহার পুত্রগণ জীবিত আছেন। প্রতাপগড়ের কাপাড়ীবন্দবাসী সাহু বংশীযগণের পূর্ব পুরুষ নারায়ণ দাস প্রতাপগড়ের “রাজার” সেনাপতি ছিলেন, এখনও “নারাইণের বাড়ী” ও তাহার দীঘীর চিহ্বাদি বর্তমান আছে। প্রতাপগড়ের বিবরণ এই স্থলেই সমাপ্ত করা হইল । সমাপ্তি গৌড়বাজ্যের বিবরণ অতি সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ হইল । “সংক্ষেপে”--কেননা গৌড়ের অনেক বিবরণই বংশ-বৃত্তান্তের অন্তর্ভুক্ত হইবে। গৌড় শ্রীহন্রের অন্তর্গত খণ্তরাজ্য সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিল; তরফ, ইটা, কাণিহাটা, প্রতাপগড় প্রভৃতি স্থানের যে ভূস্বামী স্বতন্ত্রভাবে আধিপত্য করিতেন, তাহাদের অধিকৃত স্থানগুলিও এই গৌড়ের অন্তর্গত বিবেচিত হইত। মোসলমান শাসনকর্তাদের সময়ে গৌড়ের ক্ষমতায় অনেক সময় লাউড় ও জয়ন্তীয়ার অধিপতিদিগকে সন্ত্রাসিত বাকিতে হইত । ১১. শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ৫ম খণ্ড ৪র্থ অধ্যায় দেখ। শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২১ ৩২২ শ্রীহ্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-দ্বিতীয় খণ্ড কমলা, গজদত্ত, ঢাল ইত্যাদি উৎপন্ন দ্রব্য দিল্লী প্রভৃতি স্থানেও সগৌরবে শ্রোহট্টের) গৌড়ের নাম ঘোষণা করিত । গৌড়ের শেষ হিন্দু রাজা গোবিন্দ, গৌড়ের নামযোগেই পরিচিত হইতেন। বহুকাল হইল, শ্রীহট্টের গৌড় অস্তিত্বহীন হইয়াছে; গৌড় বলিয়া যে একটা স্থান শ্রীহট্রে ছিল, তাহা হয়তঃ এখন অনেকেই জ্ঞাত নহে, কিন্তু “গৌড় গোবিন্দ” বলিয়া এক পরাক্রান্ত রাজা শ্রীহট্টে ছিলেন, ইহা আজ পর্য্যন্ত শ্রীহট্টবাসী সকলেই জানে । এই গৌড়ের প্রাটীনত্‌ ও বিস্তৃত বিষয়ে অনেক আখ্যায়িকাই শ্রুত.হওয়া যায়। যখন আধুনিক ব্রিপুরা ও ময়মনসিংহ জিলা গঠিত হয় নাই, যখন ত্রিপুরা প্রাচীন কমলাঙ্ক নামেই খ্যাত হইত এবং ময়মনসিংহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হইয়া ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হইত, সুবর্ণগ্রাম পৃর্ববঙ্গের রাজধানী ছিল, বঙ্গের পূর্ব্বপ্রান্তে যখন একমাত্র শ্রীহট্ট জিলাই সুনাম খ্যাত ছিল, সেই সময় গৌড়ের সীমারেখা কোন কোন স্থানে ঢাকার সীমা সংস্পর্শ করিয়াছিল, ইহার প্রমাণ পাওয়া যায়। এই গৌড়ে অনেক বিখ্যাত গ্রন্থকার জন্গ্রহণ করিয়া শ্রীহত্রের নাম চিরগৌরবাঘিত করিয়া গিয়াছেন। তাহাদের অধিকাংশের বিবরণই বংশ-বৃত্তান্ত ও জীবন-বৃত্তান্ত ভাগে কথিত হইবে। তরফের বিবরণে কয়েক জনের কীর্তি বর্ণিত হইয়াছে, ইটার বিবরণে প্রসঙ্গত তার্কিক-শিরোমণি শিরোমণির কথা কথিত হইয়াছে, বস্তুত এই গৌড় রতনপ্রসবিনী ছিল,_ ইহার এক এক সন্তান গুণে অদ্ধিতীয়, ধর্মে-অতুলনীয়, জ্ঞানে প্রবীণ, উৎসাহে নবীন, কর্মে কৃতী, বিক্রমে বীর, বিদ্যায় বিপুলযশাঃ ছিলেন। এ থাকার বিশেষত্ব বিশেষ খ্যাত, এই জন্যই বোধ হয়_ “সর্ববত্র ব্রিবিধা লোকাঃ উত্তমাধম মধ্যমাঃ। শ্রীহট্টে মধ্যমোনাস্তি চট্টলে নাস্তি চোত্তমা॥” ইতি কথার উৎপত্তি হইয়া থাকিবে। প্রতাপগড়ের বিবরণের সহিত এতদূরে “গৌড়” নামক দ্বিতীয় খণ্ড পরিসমাপ্ত হইল । প্রথম অধ্যায় পূর্ববর্তী রাজগণ প্রাচীন রাজ্য বিবরণ প্রাচীন কালে শ্রীহট্ট জিলা তিন প্রধান ভাগে বিভক্ত ছিল, তন্মধ্যে লাউড় অন্যতম । বর্তমান লাউড় পরগণাতেই ইহার প্রধান নগর ছিল। লাউড় প্রকৃতির এক রম্য নিকেতন। অতি প্রাচীন কালে এই সুরম্য স্থান কামরূপের ভগদত্ত রাজার শাসনাধীন ছিল; তিনি কখন কখন লাউড়ের রাজধানীতে আগমন ও অবস্থিতি পূর্বক এতদ্দেশে শাসনদণ্ড পরিচালন করিতেন। লাউড়ের পাহাড়ে এক উচ্চ স্থান দেখাইয়া এখনও লোকে ভগদত্ত রাজার আবাস স্থানের নির্দেশ করে।১ দ্বিতীয়ভাগ ভগদত্ত বংশীয় ১৯ জন নৃপতি ক্রমান্বয়ে রাজত্ব করেন। সে যাহা হউক, অতঃপর বহুকাল যাবৎ লাউড়ের ইতিবৃত্ত সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। তবে ইহা নিশ্চয়ই যে দীর্ঘকাল পর্য্যন্ত শ্রীহষ্ট দেশ কামরূপের অধীন ছিল। ৃষ্টায় দ্বাদশ শতাব্দীতে লাউড়ে বিজয় মাণিক্য নামে জনৈক হিন্দু নূপতি রাজত্ব করিতেন। জনশ্র্তি ও প্রাচীন মুদ্রাদি হইতে তাহার বিবরণ জ্ঞাত হওয়া গিয়াছে। জগন্নাথপুরে “বিজয় রাজার বাড়ী” বলিয়া যে ভগ্রাবশেষ আছে, কিছুদিন হইল তথায় একটা প্রাটীন মুদ্রা প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে, এই মুদ্রায় বঙ্গাক্ষরে লিখিত আছে, “রাজা বিজয় মাণিক্য শ্রীশ্রীলক্ষ্মী দেব্যা শক ১১১৩” ।২ এই মুদ্রা হইতে বিজয় মাণিক্যের রাজত্ব কালটা মাত্র নিরূপিত হইতেছে । ১১৯১ খৃষ্টাব্দে তিনি জগন্নাথপুর প্রদেশে রাজত্ব করিয়া গিয়াছেন, ইহা নিঃসংশয়িত রূপে বলা যাইতে পারে । কিন্তু কয়েকটি পরম্পরা প্রচলিত জনশ্রুতি ব্যতীত তদ্বিষয়ে আর কিছুই শ্রুত হওয়া যায় না। বিজয় মাণিক্য ব্রাহ্মণ ছিলেন। জগন্নাথ নামক জনৈক বিপ্র বিজয় মাণিক্যের আশ্রয়ে এক বাসুদেব বিগ্রহ স্থাপন করেন। দ্বিজভক্ত রাজা সেই জগন্নাথের দেবসেবা নিবর্বাহের জন্য যে ভূমিদান করেন, জগন্নাথ বিপ্রের নামানুসারে তাহাই জগন্নাথপুর বলিয়া আখ্যাত হয়। রাজা বিজয় মাণিক্যের লক্ষ্মী ও শ্রী নামে দুই মহিষী ছিলেন, বাসুদেবের মন্দিরের পশ্চান্দিকে যে দুটি পু্করিণী আছে, উক্ত মহিষীদ্বয় তাহার প্রতিষ্ঠা করেন বলিয়া কথিত আছে। আরও কথিত আছে যে, উক্ত বিজয় মাণিক্য কুবাজপুরের নিকট মাগুরায় মৃগয়া উপলক্ষে গিয়াছিলেন। এই সময় বঙ্গের লহঝঙ্গ হইতে হরিহর রায় ও রামরায় নামক ভ্রাতৃদ্বয় এদেশে আগমন করিয়া, এক নদীতীরে অন্ন প্রস্তুত করিতে ছিলেন। রাজার নৌকা পরিচালকদের ১. স্বগীয় মহারাজ সৃষ্যকান্ত আচার্ধ্য কৃত শিকার কাহিনীতে লিখিত আছে যে মধুপুর জঙ্গলেও স্থান বিশেষ ভগদত্ত রাজাব বাটীন চিহ, পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এই ভগদত্ত মহাভারতোক্ত ভগদত্ত হইতে ভিন্ন ব্যক্তি বলিয়াই (বাধ হয। মহ ভাবতেব সময় ময়মনসিংহের পশ্চিমাংশ বিদ্যমান থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় না। ময়মনসি তের ইতিহ'স “ণেত। শ্রীযুক্ত কেদার নাথ মজুমদার মহাশ্যও ইহা অনুমান করেন। ২ উত্ত মুদ্রা একটি সিক' (৮1) মুদ্রা । চৌধুরী বংশের একটি প্রা উহা পাইয়াছিল, এক্ষণে উহ! বুবাজপুরের শ্রীযুক্ত মদনমোহন চৌধুল্!র নিকট আছে। ৩২৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড অসাবধানতায় তাহাদের পক্ষান্ন পরিত্যক্ত হয়। এই বিষয় লইয়া নৌকাচালকদের সহিত তাহাদের কলহ উপস্থিত হয় । ইহা যে রাজা বিজয়ের নৌকা, ভ্রাতৃদ্ধয় তাহা ভাবেন নাই। উভয় পক্ষে বচসা বাধিলে তাহাদের মুখে অশ্রীল বাক্য শ্রবণে রাজা রুষ্ট হইয়া তাহাদিগকে ধৃত করিতে আদেশ দিলেন। তখন রাজার নৌকা জানিতে পারিয়া ও বিপদ দেখিয়া রামরায় তৎক্ষণাৎ পলায়নপর হইলেন, কিন্তু হরিরায় পলায়নে অক্ষম হওয়ায় ধৃত হইয়া রাজধানীতে নীত হইলেন। রাজা দ্বিজভক্ত ছিলেন, তিনি হরিহরকে ব্রাহ্মণ জানিয়া, বিশেষতঃ তাহার কবিতা দেখিয়া মুগ্ধ হইলেন। এবং অল্প দিনেই তাহার গুণগ্রামে এরূপ মোহিত হইলেন যে, হরিহরকে নিজ প্রধান কর্মচারী নিযুক্ত করিলেন। এই হরিহরের লাখেরাজ ভূমিই (কুবাজপুরের অন্তর্গত) হরিপুর গ্রাম । হরিহর হইতে বর্তমান কাল পর্য্যন্ত তদ্ব'শে ১৯/২০ পুরুষ চলিতেছে ।৩ বিজয় মাণিক্যের পিতার নাম অথবা তাহার মৃত্যুর পর কে তদীয় পরিত্যক্ত সিংহাসন প্রাপ্ত হন, তীহার সম্বন্ধে কেহই কিছু জানে না-_এস্থলে জনশ্রুতিও নীরব। এই বিজয় রাজের বিবরণ দ্বারা লাউড়ের প্রাচীনতৃ প্রমাণিত হয়; এই রাজ্য যে অতি প্রাচীন প্রথম খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ের শেষে প্রসঙ্গত একথার উল্লেখ করা গিয়াছে। বিজয় মাণিক্যের পরে তদ্ধংশে কে কে রাজসিংহাসন প্রাপ্ত হন, কতকালই তাহারা রাজত্ব করেন, তাহা জ্ঞাত হওয়া যায় না। বিজয় মাণিক্যের বহুকাল পরে এদেশে মোসলমানগণের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। মহারাজ গণেশের মন্ত্রী নরসিংহ সুপ্রসিদ্ধ রাজা বল্লালসেন কুলীনদিগের মধ্যে মর্ধ্যাদা স্থাপন করেন। ভরদ্বাজ গোত্রীয় ভাস্কর বৈদান্তিক বল্লালসেনের সভাপগ্তিত ছিলেন। কুল মর্ধ্যাদা স্থাপন কালে ভাঙ্কর জীবিত ছিলেন না। তৎপুত্র আরুওঝা নাড়ুলী গ্রামে বাস করিতেন বলিয়া তিনি “নাড়িয়াল” নামে পরিচিত হন, এবং সিদ্ধ শ্রোত্রিয় পদ প্রাপ্ত হন। ইহার বংশজাত শ্রীপতি শ্রীহট্স্থ লাউড়াধিপতির সভাপপ্তিত হইয়া লাউড়ে আসিয়া বাস করেন। শ্রীপতির অন্বয়জাত নরসিংহ নাড়িয়াল বিদ্যা শিক্ষার জন্য শ্রীহট্ট হইতে গৌড় রাজধানী সন্নিধানে রামকেলী গ্রামে গমন করেন ও তত্রত্য জটাধর সব্বাধিকারীর নিকট সংস্কৃত ও পারস্য ভাষাদি শিক্ষা করেন।৪ নরসিংহের যশঃ সর্বত্র প্রচারিত হইল । তাহার গুণগ্রাম জ্ঞাত হইয়া দিনাজপুরের রাজা গণেশ তীহাকে স্বীয় আমাত্য পদে বরিত করেন। এ সময় বঙ্গভূমে যোগ্যতর শাসনকর্তা কেহ ছিল না; সেই সুযোগে রাজা গণেশের মনে অতি উচ্চাভিলাষ উপজাত হয়, মন্ত্রীর নিকট তাহা ব্যক্ত করিলে, তৎপরামর্শে তিনি খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীতে (১৩৮৫ খৃষ্টাব্দ) গেয়াস উদ্দীন বাদশাহের পৌত্র দ্বিতীয় শামসউদ্দীনকে নিহত করিয়া গৌড় অধিকার করেন। বঙ্গদেশ বহুকাল পরে বিদ্যুৎঝলকের ন্যায় হিন্দুর গৌরব ছটায় স্বল্লমাত্র প্রভাসিত হয়। মন্ত্রীবর স্বীয় বুদ্ধিবলে কেবল মোসলমানদিগকে দমন করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই,--তিনি মহারাজ গণেশকে সুপরামর্শ দিয়া বহুবিধ সতকার্য্যের অনুষ্ঠান করেন।৫ তীহারই পরামর্শে মহারাজ গণেশ বহুতর দেবমন্দির, পুষ্করিণী প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করেন। তাহার রাজত্বে হিন্দুধধ্্শ কিয়ৎকালের জন্য পুনবর্বার মস্তক ৩. শীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত তৃতীয় ভাগে বংশ-প্ত্রকা সহ তদ্বংশীয় বিবরণ কথিত “হইবে । ৪. অদ্বৈত বাল্যলীলা সৃূত্রমূ। ৫. 11215111915 11150019 01 301001. 5০01. 11. 0. 16 প্রথম অধ্যায় : পূর্রববস্তী রাজগণ শ্ীহস্্রের ইতিবৃত্ত ৩২৭ উত্তোলন করিয়াছিল ।৬ রাজকার্্য ব্যপদেশে নরসিংহকে প্রায়শঃ বিদেশে বাস করিতে হইত । সামাজিক বিষয়েও নরসিংহের কম আধিপত্য ছিল না; বারেন্ত্র সমাজে তিনি অগ্রণী ছিলেন। নরসিংহ মধুমৈত্রকে স্বীয় কন্যা সম্প্রদান করায়, বারেন্ত্র সাজে “কাপ” নামে এক মধ্যবর্তী শ্রেণীর উৎপত্তি হয়; ইহাতে তিনি ব্রাহ্মণ সমাজে চিরম্মরণীয় হইয়া রহিয়াছেন।৭ নরসিংহ বিদেশ প্রবাসী হইলেও আমাদের শ্রীহত্রের অধিবাসী, অতএব ইহা শ্রীহস্্র বাসীরই একটি কীর্তি । রাজ্যদিব্যসিংহ ও কুবেরাচার্য্য ৃষ্টায় পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রারন্তে লাউড় দেশ কাত্যায়ন গোত্রীয় জনৈক ব্রাহ্মণ নৃপতি” কর্তৃক শাসিত হয়; এ রাজার নাম দিব্যসিংহ। দিব্যসিংহের রাজধানী লাউড়ের নবগ্রামে ছিল। নবগ্রামবাসী পূর্বোক্ত নরসিংহ নাড়িয়ালের পুত্র কুবের তর্কপঞ্চানন রাজা দিব্যসিংহের মন্ত্রী ছিলেন ।৯ ইটা-পাঁচ গাও নিবাসী কাত্যায়ন গোত্রীয় শ্রীযুক্ত রামকমল শাস্ত্রী মহাশয় সাম্প্রদায়িক ব্রাহ্মণগণের বিবরণে আমাদিগকে লিখিয়াছেন,_-“কালক্রমে এই কাত্যায়ন বংশে লাউড়ের রাজা দিব্যসিংহ প্রাদুর্ভূত হন। সুপ্রসিদ্ধ অদ্বৈতাচার্য্যের পিতা দত্তকে চন্্রিকা প্রণেতা কুবেরাচার্ধ্য তাহার মন্ত্রী ছিলেন।” রাজমন্ত্রী কুবেরাচার্ধ্য অতি বিদ্বান, বুদ্ধিমান ও ধর্মপরায়ণ ছিলেন । তীহার প্রভাবে লাউড় দেশ অচিরেই সমৃদ্ধি সম্পন্ন হইয়া উঠে। মন্ত্রীর দক্ষতায় রাজা পরিতুষ্ট, জন-হিতৈষণায় প্রজাবর্গ প্রফুল্প, এবং অমায়িকতায় প্রতিবাগীসবর্গ বাধ্য ছিল৷ কুবেরাচার্ধ্য রাজা প্রজা সকলেরই গ্রীতিভাজন ছিলেন। তাহার পাপ্তিত্য প্রতিষ্ঠা নবদ্বীপ পর্য্যন্ত পরিব্যাপ্ত হইয়াছিল, পণ্তিত সমাজে তিনি বিশেষ পরিচিত ছিলেন। শ্রীমৎ অদৈতাচার্্য যাহার আবাসস্থান বলিয়া শান্তিপুর একটি বৈষ্ঞব তীর্থে পরিণত হইয়াছে, যাহার একান্তিক যত বৈষ্ণব ধর্মের বীজ বঙ্গভূমে অস্কুরিত হইয়াছিল, সমস্ত বঙ্গদেশে যাহার যশঃ প্রভা পরিব্যাপ্ত, যিনি প্রাচীনকালীয় তাপস কুলের উদাহরণ রাখিয়া গিয়াছেন, খাষিকল্প সেই অদ্বৈত, কুবেরাচার্ধ্য ও নাভাদেবী হইতে ১৪৩৪ খৃষ্টাব্দের মাঘমাসে নবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।১০ ৬. 91০৮/৫115' 1115001 01 391001. 5০০1. 1]. [১. 108. ৭. “সেই নরসিংহের যশঃ ঘোষে ত্রিভুবন। সব্ব্ব শাস্ত্রে সুপন্তিত অতি বিচক্ষণ] যাহারা মন্ত্রণাবলে শ্রীগণেশ রাজা । গৌড়িয়া বাদশাহে মারি গৌড়ে হৈলা রাজা! যার কন্যা বিবাহের সময় 'কাপের' উৎপত্তি। লাউড় প্রদেশে হয় যাহার বসতি” ইত্যাদি। -অদ্বৈত প্রকাশ গ্রন্থ ৮. “বঙ্গের জাতিয় ইতিহাস” ২য় ভাগ ৩য় অংশ ১৯১ পৃষ্ঠা। ৯. অদ্বৈত প্রকাশ গ্রন্থ ৩২৮ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড অতএব লাউড় কেবল শ্রীহট্রের নহে, সমস্ত বৈষ্ণব সমাজের ভক্তি ও গৌরবের স্থল । অদ্বৈতের জন্গ্রহণের পর রাজা দিব্যসিংহেরও একটি নবকুমার জাত হয়, নবগ্বামে এই রাজকুমারই অদ্বৈতৈর খেলার সঙ্গী ছিলেন। দুই জনে একত্র খেলা করিতেন, ভ্রমণ করিতেন ও অধ্যয়ন করিতেন।১১ অদ্বৈতৈর পিতৃ নাম কমলা, তিনি বাল্যকালেই লাউড়ের পণাতীর্থের মহিমা প্রকাশ করিয়ছিলেন। এই ইতিবৃত্তের প্রথমতাগ নবম অধ্যায়ে 'পণাতীর্থ প্রকাশ প্রসঙ্গে তাহা বলা গিয়াছে। অদ্বৈত ভবিষ্যতে যে একজন মহাপুরুষ বলিয়া খ্যাত হইবেন, তখনই তাহার লক্ষণ ব্যক্ত হইয়াছিল, তখনই তাহার সব্বভতে দয়া ও গুরুজনে একান্ত ভক্তি ইত্যাদি দর্শনে সকলেই প্রীত হইতেন। তিনি অতিশয় মেধাবী ছিলেন, যে কোন বিষয়, যত কেন কঠিন হউক, একবার মাত্র পাঠ করিলেই কদাপি তাহা ভু লতেন না। এই জন্য সকলে তাহাকে “শ্রতিধর” বলিত। কাজেই অত্যল্প কাল মধ্যে বিবিধ শাস্ত্রে তিনি সুশিক্ষিত হইয়া উঠিলেন। কুবেরাচার্য্য পুত্রের কৃতিত্ে আনন্দিত হইয়া অধিকতর ব্যুৎপত্তি লাভের জন্য, তাহাকে শান্তিপুরে প্রেরণ করিলেন। তত্রত্য পূর্ণবাটী গ্রামে১২ অধ্যাপক শান্তদ্বিজের গৃহে অবস্থিত করিয়া, তাহার নিকট তিনি দর্শনাদি শাস্ত্র শিক্ষা করেন। ইহার কিছুকাল পরে, অদ্বৈত-পিতা কুবেরাচার্ধ্য রাজকার্য্য পরিপুরর্বক গঙ্গাবাসের জন্য সপরিবারে শাস্তিপুরে গমন করিয়াছিলেন তাহার কিছুকাল পরে মাধবেন্দ্রপুরী নামক এক সাধু সন্্যাসী শান্তিপুর আগমন কবেন লাউড়বাসী বিজয়পুর নামক এক সন্যাসী মাধবেন্দ্রপুরীর সতীর্থ ছিলেন।১৩ তাহার নিকট অদ্বৈতের বাল্যকালীন অদ্ভুত চরিত্র শ্রবণে মাধবেন্দ্রপুরীর মনে এই ভাব জন্মে যে, এই বালকটি এক মহাপুরুষ হইবে; তাই তিনি ভ্রমণোপলক্ষে ইচ্ছা করিয়াই শান্তিপুরে আগমন করেন মাধবেন্দ্রপুরী অসাধারণ সাধুপুরুষ ছিলেন, ইহার শিষ্য ঈশ্বরপুরী হইতেই পরে শ্রীচৈতন্যদেব দীক্ষিত হন। মাধবেন্দ্রপুরী শান্তিপুরে আগমন করিলে, অছৈত তাহার মহিমায় মুগ্ধ হইয়, সেই যতিশ্রেষ্ঠ হইতে দীক্ষা মন্ত্র ঈশ্বরোপাসনা প্রণালী) গ্রহণ করেন। অতঃপর পিতার মৃত্যু হইলে, অদ্বৈত তীর্থভ্রমণে বহির্গত হন। তিনি ভারতবর্ষের প্রায় সমস্ত তীর্থ পর্যটন করেন ও নানাস্থানের সাধু মহাত্মাদের সহিত সম্মিলিত হন। তীর্থ দর্শনের পর তিনি শান্তিপুরে প্রত্যাগমন পুবর্বক যে তরঙ্গ উত্থাপন করেন, তাহাতে দেশে এক তুমুল আন্দোলন উপস্থিত হয়, সে আন্দোলন তরঙ্গে প্রাচীন বৈষ্তবধন্মন সংস্কৃত হইবার সূত্রপাত হয়। এ তিনি বৈষ্ঞব সমাজের নেতা । শতাব্দজীবী অদ্বৈতাচার্ধ্য দুইটি বিবাহ কবিয়াছিলেন। তাহাব পত্রীদ্ধষের শ্রী ও সীতাদেবী ৷ ১১. “তবে কমলাক্ষে শ্রীকুবের অতি রঙ্গে। ূ পড়িবারে দিলা রাজকুঙরের সঙ্গে!”-অদ্বৈত প্রকাশ গ্রন্থ ১২. এই গ্রাম অধুনা গঙ্গা গর্ভে পতিত হইয়া বিলুপ্ত হইয়াছে। অদ্ধৈতাচার্য্যের জীবনী পশ্চাৎ বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করা যাইবে। ১৩. “ছিলন্্র দেশেতে ছিল বনগ্রাম নাম। বিমল নির্মল হয় আত্মারাম ধাম সেহি গ্রামে আমি ছিল/ম পূর্ববাশ্রমে ।” ইত্যাদি প্রাচীন অদ্বৈতমঙ্গল গ্রন্থ প্রথম অধ্যায় : পূর্ববর্তী রাজগণ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ৩২৯ তাহার পাচ পুত্র, যথা--অধ্যতানন্দ, কৃষ্ণমিশ্র, জগদীশ ও বলরাম মিশ্র। অদ্বৈতবংশীয়গণ এখন বঙ্গদেশের নানাস্থানে সম্মানে বাস করিতেছেন । বৈষ্ণব সমাজে তীহারাই শীর্ষস্থানীয় এবং “গোস্বামী” বলিয়া খ্যাত অদ্বৈতপ্রভূ হইতে বর্তমান বংশীয়গণ পর্য্যন্ত ১৩/১৪ পুরুষ, কোথাও বা ১৫/১৬ পুরুষ চলতেছে । কৃষ্ণদাস শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতাদি বৈষ্গগ্রন্থে অদ্বৈতাচার্য্যের অনুগত ভক্তগণের নামের তালিকায় কৃষ্ণদাস নামক ব্যক্তিকে পাওয়া যায় । ইনি শ্রীহষ্টবাসী। যখন অদ্বৈতাচার্ধ্য শান্তিপুর অবস্থিতি করিতেছিলেন, লাউড়ের রাজা দিব্যসিংহ তখন বৃদ্ধ হইযাছিলেন এবং রাজকুমারও তখন উপযুক্ত। বৃদ্ধ বয়সে রাজা সুশিক্ষিত কুমারের উপর বাজে ব গুরুভার অর্পণ করিতে অভিলাষ করা অস্বাভাবিক নহে। এদিকে মন্ত্রিতনয় অদ্বৈতৈর যশোভাতিতে চতুর্দিক প্রভাসিত; বৈষ্ঞব সমাজে তিনি তখন অসাধারণ মহাপুরুষ বলিরা পুঁজরত ' শক্তি উপাসক বৃদ্ধ রাজা এ সংবাদ শুনিয়াছেন। বৃদ্ধকালে তাহাব আর রাজ্যশাসনের উৎমাহ্‌ ঘাই! তাই তিনি উপযুক্ত পুত্রকে রাজ্য সমর্পণ পূর্বক, শাস্তি লাভের আশায় কাশী গমন ব্যপদেশে শান্তিপুরে গমন করিলেন। অদ্ধৈতাচার্য্য মহামান্য বৃদ্ধ রাজাকে সসম্মানে গ্রহণ করিলেন ' আচার্য্য রাজার ভাব লক্ষ্য করিয়া দেখিলেন যে দিব্যসিংহ আর সে প্রতাপাঞ্ধিত নরপতি নহেন, মনের ভাব সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হইয়া গিয়াছে। রাজা কাশী না গিয়া তিনি সেই স্থান্ইে কিছুকাল অবস্থিতি করিতে বাসনা করিলেন। এই রূপে অদ্বৈতৈর সংম্নবে থাকিয়া, অদ্বৈতৈর উপদেশে রাজা অবশেষে শক্তি উপাসনা ত্যাগ করিয়া বৈষ্ণবধর্্ণ অবলম্বন করিলেন ।১৪ রাজা দিব্যসিংহেরই বৈষ্তবাবস্থার নাম কৃষ্ণদাস। সাধারণতঃ তিনি “লাউড়িয়' কৃষ্তদাস” নামে খ্যাত ছিলেন। অদ্বৈতের প্রভাব কতদূর ছিল, এই একটি ঘটনা আলোচনা করিলেই তাহার পরিচয় পাওয়া যায়। এইরূপ আরও অনেক মান্যগণ্য ব্যক্তি তাহার প্রভাবে পদানত ও পরম বৈষ্ঞব হন। যাহাদের অত্যাচারে লোকে ত্রাসিত হইত, অদ্ধৈতাচার্য্যের শিক্ষা প্রভাবে তাহারাও দীনস্বভাব সাধু হয় ও বৈষ্ঝব ধর্মের মহিমা ঘোষণা করে। উদাহরণ এই কৃষ্ণদাস।১৫ কৃষ্ণদাস বৈষ্ঃবধর্্ম অবলম্বন পূর্বক শান্তিপুরের অনতিদূরে গঙ্গাতীরে এক পুশ্পোদ্যান নির্মাণ ক্রমে তথায় বাস করিতে লাগিলেন; এঁ স্থান “ফুল্লুবাটী” নামে খ্যাত হয়। কৃষ্ণদাস (দিব্যসিংহ) অদ্ধৈতাচার্য্ের বাল্যচরিত--যাহা নবগ্রামে (লাউড়ে) স্বয়ং প্রত্যক্ষ করেন, ফুল্পবাটী অবস্থান কালে তত্তাবৎ ঘটনা অবলম্বনে সংস্কৃত সংক্ষেপে এক গ্রন্থ রচনা করেন, এই গ্রন্থের নাম “বাল্যলীলা-সূত্র ।” শ্রী চৈতন্যদেবও তদনুচরগণের চরিত্র ঘটিত অনেক ১৪. “শাক্ত মন্ত্র ছাড়ি গ্রহণ কৈলা বিষ্জু মনু। প্রভু কহে আজি তুয়া হৈলা নিষুণ তনুঃ”-অদ্বৈত প্রকাশ গ্রন্থ ১৫. “শ্রীহস্ট দেশেব রাজা বৈষ্ণব হইল । এই রাজা ধেধ্বের দ্বেষী ছিল বড়। বৈরাগী হৈএা প্রভুর কৃপা পাইল দৃঢ়1”-অদৈত প্রকাশ গ্রন্থ ৩৩০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড প্রাচীন গ্রন্থ দৃষ্ট হয়, বাল্যলীলা-সূত্র এ সকলের আদি। তৎপূরের্ব চরিত্রবর্ণনাত্বক এইরূপ গ্রন্থ বঙ্গদেশে হয় নাই। এতদ্যতীত তিনি সংস্কৃত “বিষ্ণুতক্তি রত্বাবলী” গ্রন্থের পয়ার ছন্দে অনুবাদ করেন ।১৬ শ্রীহট্রবাসী সন্ত্ান্ত নৃপতি-কবি কর্তৃক গ্রন্থ রচনার সূত্রপাত হয় এবং তিনিই শিশু বঙ্গভাষার পরিপুষ্টী করিয়া ছিলেন, ইহা ভাবিতে আনন্দ। ঈশান নাগর ও অছৈত প্রকাশ যে সমাজে যখন কোন মহাপুরুষ আবির্ভূত হন, সেই মহাপুরুষের প্রভাবে অন্যান্য বিষয়ের ন্যায়, তথাকার সাহিত্য ও উন্নতি লাভ করে,_-সাহিত্য তাহারই কীর্তিকলাপে পূর্ণ হয়, নবভাবে নববলে বলিয়ান হয়। আমাদের বঙ্গসাহিত্যেরও সে সৌভাগ্য উপস্থিত হইয়াছিল। কিন্তু তখন বঙ্গভাষার শৈশব অবস্থা, তাই সে মহাশক্তি ভাষা শিশুকে বাচাইয়া তুলিতেই পর্য্যবসিত হয়। এই লীলা লেখকগণের আদর্শ শ্রীহট্টবাসী মুরারি গুপ্ত। ইনি বাঙ্গালায় অনেক পদ এবং সংস্কৃত ভাষায় প্রসিদ্ধ “চৈতন্যচরিত” রচনা করেন। শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুর প্রধান অনুসঙ্গী শ্রীনিত্যানন্দ ও অদ্বৈতাচার্ধ্য মহাপ্রভুর ন্যায় ইহাদের লীলা কথাও অল্প বিস্তর বর্ণিত হইয়াছে । অদ্বৈত প্রভুর চরিত্রগ্রন্থের মধ্যে অদ্বৈতপ্রকাশ ও অদ্বৈতমঙ্গলই প্রধান । উভয় গ্রন্থই অদ্বৈত প্রভুর শিষ্য প্রণীত ও প্রামাণ্য; তন্মধ্যে অদ্বৈতপ্রকাশ্যই সর্ব্বাপেক্ষা প্রাচীন । ঈশান নাগর অদ্বৈতাচায্যের শিষ্য ও অনুচর ছিলেন। ঈশানের জন্ম স্থান লাউড় । ঈশানের পিতা দরিদ্র ব্যক্তি- আত্মীয় বন্ধু বিহীন ঈশানের যখন পিতৃ বিয়োগ ঘটে, তখন তাহার বয়ক্রম পাচ বৎসর মাত্র; পাচ বৎসরের অপোগণ্ড শিশু লইয়া দুঃখিনী ঈশানজননী ভীষণ সংসার--সাগরে ভাসিলেন। ঘরে যৎসামান্য তৈজস পত্র ছিল, প্রতিবাসীদের পরামর্শ ও আদেশে তাহা বিক্রয় করিলেন এবং তদ্বারা পতির উদ্ধদেহিক অনুষ্ঠান সম্পাদিত হইল। ব্রাহ্মণের জাতিরক্ষা হইল বটে, কিন্তু ঈশানের প্রাণ রক্ষার উপায় থাকিল না। ঘরে থাকিলে না খাইয়া সপুত্রে মরেন, কাজেই অনাথা বিধবা গৃহের বাহির হইলেন । কিন্তু কোথায় যাইবেন? কে তাহার শিশুর মুখে দুটি অন্ন দিবে? হঠাৎ অদ্বৈতপ্রভুর কথা বিধবার মনে পড়িল । অদ্বৈতের প্রভাব তখন সমস্ত বঙ্গে পরিব্যাপ্ত। সব্ববজীবে দয়া, অনাথ নিরাশ্রয়ের প্রতি তাহার অসীম সমবেদনা প্রভৃতি স্মরণ হওয়ায় বিধবার হৃদয়ে ভরসা হইল, মনে বল আসিল । বিধবা ক্ষণ বিলম্ব না করিয়া শান্তি পুরাভিমুখে ধাবিত হইলেন। ঈশানের দুঃখিনী জননী যেদিন অদ্ধৈতের শান্তি ভবনে উপস্থিত হইলেন, সেদিন অদ্বৈতগৃহে আনন্দোৎসব, সেইদিন অদ্বৈতের জ্যেষ্ঠ তনয় অচ্যুতানন্দের শুভ বিদ্যারন্ত ছিল। দীর্ঘ পর্য্যটনে ১৬. শ্রীযুক্ত দীনেশ চন্দ্র সেন কৃত “বঙ্গ ভাষা ও সাহিত্য” গ্রন্থ দষ্টব্য। প্রাচীন কালে জয়তীর্থ মুনির শিষ্য বিষ্ঞুপুরী। বিষ্ট্ুভক্তি রত্বাবলী নামক গ্রন্থ রচনা করেন। জয়তীর্ঘে একশিষ্যের নাম পুরুষোত্তম, ইহার শিষ! ব্যাসতীর্থ, ব্যাসের শিষ্য লক্ষপতি । লক্ষমীপতিই অদ্বৈতাচার্য্যের মন্ত্রদাতা বাধবেন্্রপুরীর গুরু ৷ দিব্য সিংহ অদ্বৈতাচার্য্ের ৭ মন্ত্রথহণ করায়, বিষ্টুপুরীর +৩ তাহার সম্বন্ধ সূচিত হইতেছে ' তিনি গুরু সম্পকীয়ি, বিষ্ণুপুরীর কৃত গ্রন্থ অনুবাদ করিয়া যশন্বী হইয়াছেন ।-মৎসম্পাদিত শ্রীহট্রদর্পণ পত্রিকা প্রথম অধ্যায় : পূর্বববস্তী রাজগণ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ৩৩১ বহুরেশে বিধবা সেই উৎসব দিনে উপস্থিত হলেন। অদ্বৈতগৃহিনী সীতাদেবী আদর করিয়া '্াহাকে বসাইলেন; তাহার দুঃখের কাহিনী শ্রবণে সেই আনন্দবাসরেই সীতা দরদরিত ধারায় রোদন করিতে লাগিলেন। দুঃখিনীর নিরাশ্রয় তনয়কে সীতা কোলে লইলেন, তাহার মুখচুন্বন করিলেন। এরূপ দিগন্ত প্রসারিত দয়া, এরূপ অপার কৃপাব চিত্রদর্শনে বিধবার নেত্রে কৃতজ্ঞতার উপহার, মুক্তাবিন্দুর ন্যায় ঝরিতে লাগিল । অদ্বৈত বিধবাকে আশ্রয় দিলেন। সে ১৪৯৭ খৃষ্টানদের কথা । ঈশান তখন পঞ্চম বর্ষিয় বালক মাত্র । অদ্বৈত প্রভু ঈশানকে সে শুভদিনেই দীক্ষামন্ত্র দান করিলেন। ঈশান অদ্বৈতৈর শিষ্য মধ্যে পরিগণিত হইলেন। অদ্বৈতাচার্য্ের যত্বে ঈশান কালক্রমে পত্তিত হইয়া উঠিলেন। কিন্ত্বু তিনি মন্ত্র চর্চা না করিয়া সর্বদা তাহার পরিচর্য্যা করিয়াই পরিতৃপ্ত হইতেন। ১৫৫৮ খৃষ্টাব্দে অদ্বৈত প্রভু অপ্রকট হন। গুরুব দেহত্যাগে ঈশান অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া পড়েন। শোকদগ্ধ ঈশানের তখন জীবনভার বহনের একমাত্র উপায়, গুরুর চরিত্র চিন্তায় ছিল। ঈশানের মনে এই সময় একটা শুভ কল্পনা উপজাত হয়, যাহাব জন্য বঙ্গভাষা তাহার নিকট ঝণী। ঈশান স্বীয় গুরুর মধুর জীবন কাহিনী, যাহা স্বয়ং সঙ্গে থাকিয়া প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন,_-লিখিয়া রাখিতে ইচ্ছা করিলেন। কিন্তু অদ্বৈতের বাল্যলীলা তিনি দেখেন নাই। শ্রীহট্টে যাহা ঘটিয়াছিল, এবং শান্তিপুরে তাহার ম্মরণাতীত কালে যে হিল্লোল উঠিয়াছিল, তাহা তিনি জানেন না। কিন্তু তজ্জন্য ঈশান পশ্চাৎপদ হইলেন না। লাউড়ের রাজা দিব্যসিংহের গ্রন্থে তিনি গুরুর শ্রীহস্টীয় লীলা প্রাপ্ত হইলেন এবং অদ্বৈতৈর আবাল্যসঙ্গী পদ্মনাভ ও শ্যামদাসের নিকট, শান্তিপুরে সংঘটিত তাহার ম্মরণাতীত কালের ঘটনাবলী শুনিয়া লিখিয়া রাখিলেন।১৭ অবশিষ্ট ঘটনাবলী নিজেই প্রত্যক্ষ করিয়াছেন; সুতরাং অদ্বৈতচবিত্র বর্ণন করিতে তাহার প্রতিবন্ধক থাকিল না। এই শুভানুষ্ঠানের জন্য ঈশান অদ্বৈতের জন্মভূমি লাউড়ে যাইবেন মনে করিলেন । নবগ্রাম অদ্বৈতৈর জন্মভূমি ও তাহার প্রিয়স্থান।১৮ অদ্বৈত একদা ঈশানকে বলিয়াছিলেন যে তাহার অবর্তমানে ঈশান যেন লাউড়ে গিয়ী বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করেন ।১৯ ঈশান এই সময় সেই আজ্ঞা প্রতিপালন করিবার উপযুক্ত কাল মনে করিলেন, এবং অনতিবিলম্বেই সীতাদেবীর অনুমতি লইয়া লাউড়ে আগমন করিলেন। ১৭. “লাউড়িয়া কৃষ্ণদাসের বাল্যলীলা সূত্র। যে গ্রন্থ পড়িলে হয় ভুবন পবিত্র” 'যে পুড়িনু যে শুনিনু কৃষ্ণদাস মুখে । পদ্মনাথ শ্যামদাস যে কহিল! মোকে॥ পাপচক্ষে যে লীলা মুগ্রি করিনু দর্শন । প্রভু আজ্ঞামতে তাহা করিনু বর্ণন॥” -অদ্ধ্ৈত প্রকাশ গ্রন্থ ১৮. “বঙ্গদেশ শ্রীহট্ট নিকট নবগ্রাম। সব্ববারাধ্য অদ্বৈতচন্ত্রের প্রিয়ধাম]” ইত্যাদি। -ভক্তি রত্বাকর গ্রন্থ ১৯. “তুমি মোর প্রিয় শিষ্য আত্মজ সমানে । মোর অগোচরে দুঃখ না ভাবিও মনে। গৌর নাম প্রচারিং “নার জনুস্থানে।” -অগ্ৈত প্রকাশ গ্রন্থ ৩৩২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড শ্রীহট্টরে আসিয়া ধর্ম প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে ঈশান নিজ সক্কল্লানুযায়ী অদ্বৈতাচার্য্যের লীলা ঘটিত যে গ্রন্থ রচনা করেন, তাহারই নাম “অদ্বৈতপ্রকাশ”। অদ্বৈতপ্রকাশ যখন প্রণীত হয়, তখন ঈশানের বয়স ৭০ বৎসরের উ্দে। গ্রন্থখানি ১৫৬৮ খৃষ্টাব্দে রচিত হয় ।২০ ঈশান শান্তিপুর হইতে আগমনের পর বিবাহ করিয়াছিলেন। সীতাদেবীর আদেশ ও অনুরোধে সেই ব্রন্চর্য্য ব্রতাবলম্বী প্রবীনভক্তকে বাধ্য হইয়া বৃদ্ধকালে দার পরিগ্রহ করিতে হইয়াছিল। ঈশান হইতে একান্ত আপত্য করিলেও তাহা গ্রাহ্য হয় নাই:২১ কাজেই তিনি বিবাহ করেন। কবির বংশীয়গণ এখনও বর্তমান আছেন।”২২ ২০. “চৌদ্দশত নবতি শকাব্দ পরিমাণে । লীলাগ্রন্থ সাঙ্গ কৈলু শ্রীলাউড় ধামে।”-এ ২১. “অরে ঈশানদাস তোরে করি বড় শ্নেহ। মোর তুষ্টি হয় তু করিলে বিবাহ। মুঞ্জি কহিলাম মাতা বুঝি আজ্ঞা কর। এই আজ্জা পালিতে নাহিক সাধ্য মোর॥” -অদ্বৈত প্রকাশ গ্রন্থ ২২. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা, ১৩০৩ বাংলা মাঘমাস-মত্প্রকাশিত “ঈশান নাগর” প্রবন্ধ দ্বিতীয় অধ্যায় জগন্নাথপুরের কথা রামশঙ্কর বা রামকান্ত বা রমনাথ মিশ্র পূরর্বধ্যায়ে রাজা দিব্যসিংহের পুত্রের বিষয় উল্লেখ করা গিয়াছে । তিনি কতকাল রাজ্যশাসন করেন এবং তাহার পুত্রাদি জন্মিয়াছিল কিনা ইত্যাদি কথা বৈষ্ঞবগন্থে লিখিত হয় নাই। হয়ত তাহার সহিতই তদ্বংশের বিলোপ হইয়া থাকিবে । কিন্তু ঠিক এঁ সময়ই লাউড়ে রমা বা রাম নামক জনৈক প্রসিদ্ধ ব্যক্তির অবস্থিতির বিষয় জানা যায়। ইনি পূর্বোক্ত অজ্ঞাতনামা রাজকুমার কি না, নিশ্চিত বলা যায় না। জগন্নাথ পুরের কাত্যায়ন গোত্রীয় বিজয়সিংহ রাজার বংশ বলিয়া পরিচিত ব্রাহ্মণগণ বলেন যে এই রমা বা রামই তাহাদের আদিপুরুষ । ইহাকে ৃষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর লোক বলা যাইতে পারে। সেই এক সময় লাউড় দুই ভিন্ন বংশীয় রাজার শাসনাধীন ছিল, এমন প্রমাণ নাই। পুনশ্চ এই বংশে “সিংহ” উপাধি ধারণের প্রথাও দৃষ্ট হয়।১ কিন্তু মৈথিল কাত্যায়ন গোত্রীয়দের সহ উহাদের প্রবরের মিল নাই । দিব্যসিংহ যদি মৈথিল বিপ্র হন তবে ইহাদিগকে তদ্বংশীয় বলিয়া স্বীকার করা যায় না।২ পুব্র্বোক্ত রাম বা রমার পুত্রের নাম কেশব ছিল; জগন্নাথপুরের কাত্যায়নগণ বলেন যে, এই কেশব হইতেই তাহাদের উদ্তব। এস্থলে বাণিয়াচঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা কেশব মিশ্রের কথা উল্লেখ করা আবশ্যক । ইনি পূর্বোক্ত রাম বা রমা-পুত্র হইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। এই কেশব মিশ্রের বংশীয়গণ তাহাকে কান্যকুজাগত বলেন । বাণিয়াচঙ্গ ও জগন্নাথ পুরের কাত্যায়ন মধ্যে প্রবরের পার্থক্য থাকায় এই কেশব মিশ্র নবাগত ও ভিন্ন বলিয়াই প্রমাণ হয়। কেশব মিশ্র সন্বন্ধে কথা নাই। বাণিয়াচঙ্গে যে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে, তাহাতে তাহাকে নবাগত বলিতে হয়। তিনি বাণিজ্য ব্যপদেশে এদেশে আগমন করেন। তাহার নৌকায় এক পাষাণ রূপিণী কালী ছিলেন। এদেশে আসিলে বহুক্রোশ সাগরকল্প হাওরে (জলগগ্ন প্রান্তরে) তিনি শুষ্কভূমি না পাইয়া, দেবীর দৈনিক পুজা কোথায় কিরূপে নিবর্বাহ করিবেন, তাহা ভাবিয়া চিন্তাকুলিত হইলেন। দৈবক্রমে সন্ধ্যার পৃবের্ব একখণ্ড ভূভাগ প্রাপ্তে তথায় দেবীর সিংহাসন স্থাপন পূর্বক পূজা সমাধা করেন। ১. মৈথিল বিপ্রগণের সাধারণ উপাধি মিশ্র। মিথিলার রাজবংশীয়গণের “সিংহ” উপাধি ধারণ করিবার উদাহরণ আছে, যথা-শিবসিংহ, বলভদ্র সিংহ প্রভৃতি । লাউড়ের রাজারও নাম দিব্যসিংহ এবং জগন্নাথপুরে ও বিজয়সিংহ, প্রতাপসিংহ প্রভৃতি সিংহত্মক নাম দৃষ্ট হয়। ২. এঁতিহাসিক তত্ানুসন্ষিৎসু ইটা নিবাসী শ্রীযুক্ত হরকিস্করদাস মহাশয় অনুমান করেন যে, শ্রীহন্টের সমস্ত কাত্যায়ন পৃবের্ব এক ছিলেন, পরে তাহাদের মধ্যে নানাকারণে প্রবরের পরিবর্তন সংঘটিত হইয়াছে। কিন্তু অনেকে এই কথা মানিয়া নিতে প্রস্তুত নহেন। ৩৩৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড পরে দেবীকে তথা হইতে উত্তোলন করিতে পারিয়া, দৈবাভিপ্রায় মতে সেই স্থানেই তিনি অবস্থিতি করেন।৩ কেশবের কর্মচারী জনৈক বণিক বা বাণিয়া ছিল। সেই বাণিয়া ও নৌকা চালক চঙ্গ জাতীয় ব্যক্তির যুগ নামানুসারে “বাণিয়াচঙ্গ” নামে সেই স্থান খ্যাত হয়।৪ কেহ কেহ বলেন যে, বাণিজ্য ব্যবসায়ী কেশব মিশ্র এই স্থানটি বাণিয়া অর্থাৎ ব্যবসায়ীর পক্ষে “চঙ্গ” অর্থাৎ সুন্দর বলিয়া বাণিয়াচঙ্গ নামে খ্যাত করেন। বাণিয়াচঙ্গের জনৈক দেওয়ানের মতে পারস্য “বানায় জঙ্গ” (যুদ্ধের স্থল) পদ হইতে এই নামের উত্তব; কিন্তু বণিক ও চঙ্গ বিষয়ক এই কিংবদস্তীর উল্লেখ সরকারী কাগজপব্রেও প্রাপ্ত হওয়া যায়।৫ কাত্যায়ন গোত্রীয় কেশব মিশ্র সেই স্থানে নিজ আধিপত্য বিস্তার করতঃ তথাকার প্রথম রাজা বলিয়া পরিগণিত হন। বাণিয়াচঙ্গের কাত্যায়নগণ বলেন যে কেশব মিশ্র কান্যকুজাগত এবং তিনি স্বদেশ হইতে নানা লোক আনিয়া বাণিয়াচঙ্গে বসতি স্থাপন করেন ।৬ জল হইতে নবোথিত সেই বাণিয়াচঙ্গে বণিক ও চঙ্গকৃত প্রথম বসতি স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গেই তাহা কেশব মিশ্রের অধিকার ভুক্ত হইয়াছিল, ইহা অসঙ্গত ব্যাপার নহে। জগন্নাথপুরের কেশব জগন্নাথপুরের ইতিহাস নামক মুদ্রিত ক্ষুদ্র পুস্তিকায় লিখিত আছে যে জগন্নাথপুর ও বাণিয়াচঙ্গের রাজবংশ এক মুলোৎপন্ন। রমাকান্ত বা রাম নামক জনৈক কাত্যায়ন গোত্রীয় বিপ্র লাউড়ে আগমন করত বাস করেন, ইহার 'এক পুত্রের নাম কেশব, তিনি লাউড় ত্যাগ করতঃ জগন্নাথপুরের গমন করেন ও তথায় বাস করেন । রমাকান্তের জ্যেষ্ঠ তনয় লাউড়েই অবস্থিতি করেন। এস্কলে এক “কেশব” নাম থাকায় যে বাণিয়াচঙ্গ ও জগন্নাথপুরের বিভিন্ন প্রবর যুক্ত দুই ভিন্ন বংশকে “জগন্নাথপুরের ইতিহাস” পুস্তিকায় এক বংশীয় বলিয়া প্রতিপন্ন করা হইয়াছে তাহা সহজেই অনুমিত হয়। বস্তুত বাণিয়াচঙ্গের কেশব মিশরের সঙ্গে জগন্নাথপুরের কাত্যায়নগণের কোনরূপ সম্পর্ক থাকার বিষয় প্রমাণিত হয় না। জগন্নাথপুরের কেশবের পুত্রের নাম শণি বা শনাই, শণির পুত্র প্রজাপতি । প্রজাপতির পুত্রের নাম দুর্বার । দুবর্বার দিল্লী সম্রাটের অনুগ্রহ লাভ করিয়া “খা” উপাধি প্রাপ্ত হন। তখন হিন্দুদিগকেও “খা” উপাধি প্রদত্ত হইত ।৭ দুর্বার খা জগন্নাথপুরে নিজ নামে এক বৃহৎ দীঘি খনন করাইয়াছিলেন। যাহারা দীর্ঘিকা খনন করাইতেন সাধারণতঃ তাহাদের সম্মানার্থ “খা” উপাধি প্রদত্ত বলিয়া কথিত হয়। ৩. নব্যভারত-পৌষমাস-১৩১৪ বাংলা “পরমহংস শ্রীমদ্‌ ব্রহ্মানন্দপুরী” প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য । ইহাতে কেশব মিশ্রের বংশধর শ্রীযুক্তপদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় কর্তৃক এইরূপ বিবরণ লেখা হইয়াছে। ৪. 4১ 11670109170, 57170 %/09 [125111776,9/10) 20161 01 0107176 01 1391770250078 00921000761), 28170170160 17) 0106 10507 0৮6] 0195 5106 01) ৮1101) (106 ৬1110.50 ৮/95 510195070610115 10111. ঠা) 17086 01 0000655 911 25 118 0100 0020, ৮ ৮ ৮7106৮21067 £009115 01590092163. 25 11)6% 00 2 (150 19105616059 01 11১0 025521001) 01 076 781105, আআ) ও 9111526৮৮89 (01111060109 010 [00115 7)101)লা0, 49110152552] 01507101 0820119675 ৬০01. 1]. (55117610) 01751). 11. 0. 26. ৫. [81967 10. 798 18150 151 811) 1883 2150 1২09. 1462 [02050 3-9-16884. ৬. 11675 5520 101500101 058260156]15. ৬০1. |], (9911)61) 018900. 11. 10. 26. ৭. “কৃষ্ণবিজয়” প্রণেতা মালাধর বসু বা গুণরাজ খা ও তদ্বংশীয় পুরন্দর খার বঙ্গসাহিত্যে সুপরিচিত । দ্বিতীয় অধ্যায় : জগন্নাথপুরের কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৩৫ দুর্বার খার পুত্র রাজ সিংহ বা পণ্ডিত খা, ইহার পুত্র জয়, বিজয় ও পরমানন্দ। পরমানন্দ তদীয় কনিষ্ঠা পত্বীর গর্ভ সন্তৃত ছিলেন। সব্র্ব জ্যেষ্ঠ জয়সিংহ, “গোবিন্দ সিংহ” এই উপনামেও মৃত্যু হয়। সেই সম্পত্তি জয় ও বিজয়ের ন্যায্য প্রাপ্য হইলেও এক অচিত্তিত প্রতিবন্ধকে তাহা তাহারা অধিকার করিতে পারেন নাই । কর্ণ খা ইতিপূর্ব্রে বাণিয়াচঙ্গ প্রতিষ্ঠাতা কেশব মিশ্রেব নাম উল্লেখিত হইয়াছে । এই উভয় কেশবই সমসাময়িক ছিলেন। বাণিয়াচঙ্জ প্রতিষ্ঠাতা কেশব মিশ্রের পুত্রের নাম দক্ষ, তৎপুত্র নন্দন, ইহার গণপতি ও কল্যাণ নামে দুই পুত্র হয়, তন্মোধ্যে কনিষ্ঠ কল্যাণের বাহুধর ও পদ্মনাভ নামে দুইপুত্র জন্মে। পদ্মনাভ কীর্তিমান পুরুষ; তাহার চেষ্টায় তদীয় রাজ্যসীমা অতিশয় প্রবর্ধিত হয়। তিনি বাণিয়াচঙ্গের সৌষ্টৰ বিশেষরূপে বর্ধিত করেন; বাণিয়াচঙ্গের সুবৃহৎ “সাগরদীঘী” তাহারই কীর্ত্ি। তিনি কর্ণের ন্যায় দাতা ছিলেন, তাহার “কর্ণ খা” উপাধি ছিল। তিনি বিদ্যানুরাগী ও প্রজাবৎসল ছিলেন। বাণিয়াচঙ্গে তিনি অনেক ব্রাহ্মণদের প্রতিষ্ঠা করেন ও সামাজিক শৃঙ্খলা স্থাপন করিয়া চিরম্মরণীয় হইয়া রহিয়াছেন। তিনিই সুদূর কোটালিপাড় হইতে শ্রীকৃষ্ণ তর্কালঙ্কারকে বাণিয়াচঙ্গে স্থাপন করেন। এই পদ্মনাভের একাদশ পুত্র হয়, তন্মধ্যে সুন্দরখা* জ্যেষ্ঠ ও গোবিন্দ খা কনিষ্ঠ । গোবিন্দ খা প্রবল প্রতাপাৰিত ছিলেন এবং তিনিই রাজ্যাধিকার করেন। ইহার রাজ্যসীমা জগন্নাথপুরের রাজা জয় সিংহ (ওরফে গোবিন্দ সিংহ) ও বিজয় সিংহের অধিকৃত ভূমি স্পর্শ করিয়াছিল। গোবিন্দ খা জয়সিংহ (বা গোবিন্দ সিংহ) ও বিজয় সিংহের পরস্পর সমসাময়িক ছিলেন। জয় ও বিজয় সিংহ গোবিন্দখার ন্যায় প্রতাপশালী ছিলেন না; যুদ্ধবিদ্যাপেক্ষা শান্ত্রালোচনাই তাহাদের প্রীতিপ্রদ ছিল।৯ গোবিন্দ খা ও গোবিন্দ সিংহ লাউড়ের অধিপতির বংশ বিলোপ ঘটিলে লাউড়ের অরক্ষিত প্রজাগণের উপরে খাসিয়ারা অত্যাচার করিতে আরম্ত করে; প্রজাগণ এই বিপদ হইতে ত্রাণ পাইবার জন্য নিজ ধন প্রাণ রক্ষার জন্য প্রতাপা্িত বাণিয়াচঙ্গ পতির আশ্রয় প্রার্থনা করে। গোবিন্দ খা তাহাদিগকে আশ্রয় দান করেন ও অনতিবিলম্বে সসৈন্যে লাউড়ে গমন পূর্বক লাউড় অধিকার করেন। খাসিয়ারা পাহাড়ে আশ্রয় লইতে বাধ্য হয়, গোবিন্দ খা লাউড় রক্ষার বিশেষ বন্দোবস্ত করেন, সত্বরেই তথায় কতকগুলি সৈন্য রক্ষিত হয়। জগন্নাথপুরের ইতিহাস পুস্তিকায় লিখিত আছে যে, লাউড় ও জগন্নাথপুরের রাজবংশীয়দের মধ্যে রাজ্য অবিভক্তভাবে ছিল। দিল্লীদরবারে লাউরপতিই পরিচিত ছিলেন, জগন্নাথপুরের নাম ৮. সুন্দরখী জ্যেষ্ঠ ছিলেন, কিন্তু গোবিন্দ পৈতৃক রাজ্য অধিকার করায় তিনি বঞ্চিত হন। এই সময় তিনি বাণিয়াচঙ্গ ত্যাগ করিয়া সম্ভবতঃ বেতকান্দি নামক স্থানে গিয়া থাকিবেন। তাহার বংশীয়গণ এখন বেতকান্দিতে অবস্থিতি করিতেছেন। বাণিয়াচঙ্গের কাত্যায়ন গোত্রীয় সহ ইহাদের প্রবরের এক্য নাই। সন্তবতঃ এই সময় ইহারা প্রবর পরিবর্তন করিয়া, জগন্নাথপুরের সমপ্রবর হইয়া থাকিবেন। বিবাদমূলে এইরূপ সন্বন্ধচ্ছেদের উদাহরণ শ্রীহট্টরে বিরল নহে। ৯. “গোবিন্দ ছিলেন শুধু জোরে বলবান। জয়সিংহ বিদ্যাবুদ্ধি উভয়ে প্রধান।” ৩৩৬ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড দিল্লীতে পরিজ্ঞাত ছিল না, লাউড় পতির নামেই “এজমালি” সম্পত্তির কর প্রদত্ত হইতে ।১০ বস্তুতঃ তৎকালে এজমালি সম্পত্তির উপর সামান্য কর নির্দিষ্ট থাকিলেও, স্বাধীন লাউড় রাজ্যের উপর কোনরূপ কর অবধারিত ছিল না। তবে লাউড়াধিপতি মোগল সাম্রাজ্যের সীমান্ত রক্ষক রূপে পরিগণিত হইতেন।৯১ যাহা হউক, গোবিন্দ খা খাসিয়াদিগকে বিতাড়িত করিয়া লাউড়রাজ্য অধিকার ও ভোগ করিতে লাগিলেন কিন্তু লাউড় সংসৃষ্ট এজমালি সম্পত্তির পূর্র্ববৎ রাজস্ব জয়সিংহ (গোবিন্দ ংহ) ও বিজয় সিংহকে বহন করিতে হইল । জয় ও বিজয় এইরূপে লাউড় রাজ্যের অধিকার হইতে বঞ্চিত হইয়া মনে মনে নিতান্ত ক্ষুব্ধ হইলেন। গোবিন্দ খাব বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হওয়া তাহাদের সাহসে কুলাইল না। তাহারা তখন রাজদ্বারে আশ্রয় গ্রহণ করাই মনে করিলেন এবং দিল্লী গমন করিয়া লাউড় রাজ্যের অধিকার প্রাপ্তির প্রার্থনা করিলেন ।১২ সম্রাট, জয়সিংহের আবেদনে লাউড়ের আভ্যন্তরীন অবস্থা জ্ঞাত হইয়া গোবিন্দ খার উপর অসন্তুষ্ট হইলেন। তখন গোবিন্দকে আনয়নের জন্য আরিন্দা (দূত) প্রেরণ করিলেন । গোবিন্দ সিংহের বক্তব্য না শুনা পর্যন্ত জয় সিংহকে দিনী অবস্থানের জনা আদেশ পরদণ্ত হইল; সুতরাং জয়সিংহও দেশে যাইতে পারিলেন না। গোবিন্দ খাকে নেওয়ার জন্য দূত আসিল । কিন্তু গোবিন্দ খা আরিন্দার কথা গ্রাহ্য করিলেন না; অপিতু তাহাকে পদাঘাত করিলেন। বলবান গোবিন্দখার ভীম পদাঘাত সে ক্ষুদ্রপ্রাণ মোসলমান সহ্য করিতে পারিল না, ভূপতিত হইয়া মুঙ্ছিত হইল । সেই মুঙ্ছা আর ভাঙ্গিল না!! দৈববশতঃ গোবিন্দকে এইরূপে দিল্লী সম্রাটের বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হইতে হইল। এই সময় তিনি বাণিয়াচঙ্গের চতুর্দিকে মৃত্প্রাটীর নির্মাণ করিয়া নগর সুরক্ষিত করেন। তাহার কিছুকাল পরেই তাহাকে ধৃত করার জন্য দিল্লী হইতে সৈন্য প্রেরিত হয়। বলিতে আনন্দ হয় যে, বীরবর গোবিন্দের অতুল বিক্রম তাহারা সহ্য করিতে সমর্থ হয় নাই। সৈন্যাধ্যক্ষ গোবিন্দখার সাহস ও শৌর্য্যে মোহিত হইলেন। তিনি বুঝিলেন যে গোবিন্দকে কখনই জীবিতাবস্থায় দিল্লীতে নিতে সমর্থ হইবেন না। এদিকে তিনি তাহাকে ধৃত করিতেই আদিষ্ট-বধ করিতে নহে। উপায়ান্তর বিহীন হইয়া তখন তিনি চাতুর্ধ্য অবলম্বন করাই শ্রেয়বোধ করিলেন। ১০. জগন্নাথপুরের ইতিহাস পুস্তিকায় অনেক অসংলগ্ন কথার সমাবেশ আছে বলিয়া আমরা এ গ্রন্থের অনুসরণ করিতে পারি নাই; তাহাতে বাণিয়াচঙ্গের গোবিন্দ সহ জয় ও বিজয়ের সমস্ত সম্পত্তি এজমালি থাকার কথা লিখিত আছে; ইহা নিতান্তই অলীক । লাউড় ও জগন্নাথপুরের সম্পত্তি এজমালি ছিল বলিয়াও লিখিত আছে। বাণিয়াচঙ্গের গোবিন্দ খা লাউড় অধিকার করায় উক্ত এজমালি সম্পত্তির কতক তাহার অধিকারে আসিতে পারে। ১১, 1411117009.560 (0 1068 117021001202717, (186 19195 9711017716050 10 17700119158 (176 06161706 01 (10 71010167101 0101701198১ 15৬10116. | -1701)00675 51890501021 40001110055 01 45920 ৮০1. 1]. (5911)60) 7১. 92 ১২. “বিরক্ত হইয়া তিনি করিলা নিশ্চিত। সম্পত্তি হইতে তারে করিব বধ্রিত! গোবিন্দের অনিষ্টেতে করি দৃঢ় পণ । চলিলা যে হ্ৃষ্ট মন নবাব ভবন! বলে এক নিবেদন করি তব কাছে। আমি আর গোবিন্দের যত ভূমি আছে! সর্বস্ব আমাকে দেও সনন্দ করিয়া। আমি একা সব কর দিব পাঠাইয়া!” ইত্যাদি-জগন্নাথপুরের ইতিহাস । দ্বিতীয় অধ্যায় : জগন্নাথপুরের কথা শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৩৩৭ যুদ্ধ স্থৃগিত হইল, অধ্যক্ষ মণিব্যবসায়ী রূপে আজমীরগঞ্জে উপস্থিত হইলেন। গোবিন্দ খা মণিব্যবসায়ীর আহ্বানে মণি দেখিতে তাহার নৌকায় উঠিলেন। তদবস্থায় তাহাকে ধৃত করা হইল । যথাকালে গোবিন্দ খা দিল্লীতে পৌছিলেন। দূত হত্যা ও আদেশ অমান্যের জন্য গোবিন্দের প্রতি প্রাণদপ্তের আদেশ হইল । বিধি নির্র্দ্ধ অখপ্তনীয়। জয় সিংহ বিনা চেষ্টাতেই ঘটনাচক্রে কৃতকার্য হইলেন। কিন্তু জয়োল্লাসে দেশে আসা তাহার ভাগ্যে ছিল না। তিনি কুমুহূর্তে যাত্রা করিয়াছিলেন, তাই বিচারপ্রার্থী হইয়াও তাহাকে কিয়ংকালের জন্য দিল্লীতে নজরবন্দী স্বরূপ থাকিতে হইয়াছিল । দুর্ভাগ্য বশতঃই দেশে যাওয়ার আদেশ পাইতে তাহার অযথা বিলম্ব হইয়াছিল। অনেক দিন তিনি দিল্লীতে ছিলেন এবং লাউড়ের রাজা বলিয়া দিল্লীতে পরিচিত হন। দিল্লীতে তিনি “গোবিন্দ সিংহ” এই উপনামেই খ্যাত ছিলেন ।১৩ যাহাহউক গোবিন্দ খার দণ্ডের অবধারিত দিন উপস্থিত হইল । ঘাতক পূর্ব পরিচিত গোবিন্দ সিংহকে (জয় সিংহকে) বধ্য বোধ করিয়া, তাহাকেই ধরিল। ইহাকেই বলে বিধিচক্র! জয়সিংহ অপরের অনিষ্ট করিতে গিয়া নিজের প্রাণ বিনষ্ট কবিলেন! গোবিন্দ খার সভা পঞ্তিত জাতুকর্ণ গোত্রীয় মুরারি বিশারদ 1১৪ স্বীয় পান্তিত্য বলে হিন্দু মন্ত্রী ও রাজকর্্মচারীদিগকে সন্তুষ্ট করিয়া গোবিন্দ খার প্রাণ রক্ষার চেষ্টা করিতেছিলেন, এই আকস্মিক ঘটনায় তিনি বিশেষ ভরসা পাইলেন যাহা হউক, যথাকালে এই ভ্রান্তির কথা প্রচারিত হইল । ঈশ্বরেচ্ছা বশতঃ এই বিভ্রাট ঘটিয়াছে, মন্ত্রী প্রভৃতি এইরূপ বুঝাইলে সম্রাট লাউড়াধিপতি গোবিন্দকে প্রাণদণ্ড হইতে অব্যাহতি দিলেন বটে কিন্তু হিন্দুর পক্ষে দণ্ড-অষ্ট প্রকার মৃত্যুর অন্যতম, জাতি ধ্বংস করিলেন!১৫ জাত্যন্তবিত হইলে গোবিন্দ খার নাম হবিব খা রাখা হয়।১৬ জয় সিংহ (ওরফে গোবিন্দ সিংহ) নিহত হইলে প্রতিদবন্্ীবিহীন হব্বি খা সমগ্র রাজ্যের সনন্দ লাভ করেন। এই সময় হইতেই বাণিয়াচঙ্গে ব্রাহ্মণ বংশীয় রাজগণ মোসলমান হন ।১৭ ১৩. “জয়সিংহের দুইনাম ছিল প্রকাশিত। গোবিন্দ বলিয়া তাকে অনেকে জানিতঃ”-জগন্নাথপুরের ইতিহাস ১৪. বংশাবলী সহ সাময়িক বিবরণ পশ্চাৎ বর্ণিত হইবে। ১৫. শ)2 15501117801 1006 01 1911], 081150 00011708, ৮৮85 007 90106 09150, 5151171001860 (0 [61101 200 00679 020077706 2. 1৬198182102 0210- -[16117575 56201501021 48000101805 014৯5522৬০1. []. (5911760) ১৬. “একের তবে যব্‌ গিয়াছে এক প্রাণ । অনুচিত বধ করা আর এক জান! অতএব গোবিন্দকে প্রাণে নামারিয়া | জাতি নাশ কর তারে গোস্ত খাওয়াইয়া॥ নবাব বলিলা যব এমত বচন। গোবিন্দের জাতি নাশ হইল তখন! জাতিচ্যুত হইলেন গোবিন্দ যখন। হবিব খা নাম তার হইল তখন!” _-জগন্নাথপুরের ইতিহাস ১৭. এই কাহিনী জগন্নাথপুরের কাত্যায়ন গোত্রীয় বলিয়া পরিচিত চৌধুরীদের বিরচিত জগন্নাথপুরের ইতিহাস হইতে লব্ধ ৷ গোবিন্দ খার জাতিনাশের কারণ এইরূপই; ইহা অনেকেই বলেন। শ্রীহস্্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২২ ৩৩৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড হবিব খা ও বিজয়সিংহ গোবিন্দ খা মোসলমান হইয়া বাদশাহের সনন্দ লাভ করতঃ অক্ষতদেহে দেশে প্রত্যাগমন করায় সব্ব্বসাধারণের কাছে তাহার প্রতাপ সমধিক বর্ধিত হইল । হবিব খা দেশে আসিলে তদীয় আত্মীয় ও জ্ঞাতিগণ তাহার জাতিপাতে মর্মাহত হইয়াছিলেন। তিনি দুঃখে ও লজ্জায় প্রথমতঃ বাণিয়াচঙ্গে যান নাই। তাহার স্ত্রী ব্রহ্ষচর্ধ্য অবলম্বন পৃরর্কক বাণিয়াচঙ্গেই অবস্থিতি করিতে লাগিলেন । পাছে রাজার দৃষ্টি পথে পতিত হন, এই কারণে তিনি রাজবাটী ত্যাগ করিয়া থক এক বাটাতে বাস করিতে লাগিলেন। সেই বাটীর সম্মুখবন্তী দীর্ঘিকা আজ পর্য্যন্ত “ঠাকুরাণীর দীঘী” নামে কথিত হয়। হবিব খা পুনশ্চ বিবাহ করিয়াছিলেন ।১৮ তিনি লাউড় ও বাণিয়াচঙ্গ উভয়ব্রই বাস করিতে লাগিলেন। এদিকে, বিজয় সিংহ যখন ভ্রাতার পরিমাণ সংবাদ শুনিলেন, তখন তাহার বিষাদের সীমা থাকিল না। এই অভাবিত ঘটনা গোবিন্দ খার চক্রান্তে সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া তাহার ধারণা জন্মিল। শক্রকে অবসর অবস্থা অসঙ্গত এই নীতি পরিচালিত হইয়া হবিব খা, ভ্রাতূশোক সন্তপ্ত বিজয় সিংহকে তখন একেবারেই সেমস্ত সম্পত্তি হইতে) অধিকারচ্যুত করিলেন ।১৯ এই সময় তাহার আয় সপ্তক্ষ মুদ্রার ন্যুন ছিল না। তরফাধিপতির অধিকৃত ভূভাগ ব্যতীত শ্রীহন্রের অধিকাংশ পরগণায় তাহার অধিকার বিস্তৃত হইয়াছিল ।২০ বিজয় সিংহ যখন দেখিলেন যে পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের কোন উপায়ই নাই, তখন চরম উপায় দিল্লী গমন করিলেন এবং তিনিই জয়সিংহের (ওরফে গোবিন্দ সিংহের) ভ্রাতা ও প্রকৃত রাজ্যের অর্ধভাগের সম্মান লাভ করিলেন । | বিজয় জয়োল্লাসে দেশ আসিয়া সনন্দের বলে লাউড়ে অধিকার লাভের চেষ্টা পাইলেন, কিন্তু হবিব খা তাহাকে কিছুতেই সম্পত্তি ছাড়িয়া দিলেন না। উভয়পক্ষে যুদ্ধ উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা হইয়া উঠিল; কিন্তু বিজয়ের সৈন্যবল নিতান্ত অল্প থাকায় তিনি যুদ্ধে জয়ের আশা করিতে পারিলেন না। আত্মীয়বর্গ তাহাকে দিল্লী গমনপুবর্ধক প্রতিকার করিতে পরামর্শ দিতে লাগিল । তখন বিজয় প্রকৃত অবস্থা সম্রাটের গোচর করত রাজকীয় সৈন্য সাহায্যে নিজ সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য কৃত সঙ্কল্প হইলেন। সম্রাটের আদেশের বিরুদ্ধে পুনঃ পুনঃ চলা সঙ্গত নহে; তাহা হইলে সমস্ত লাউড় রাজ্যের অধিকার হইতে হয়ত বঞ্চিত হইতে হইবে ইহা ভাবিয়া হবিব খা বিজয়ের পুনঃ দিল্লী গমন ংবাদে চিন্তিত হইলেন। এই সময়ে (খৃষ্টাব্দ ১৭শ শতাব্দী) শ্রীহট্টে কবি বন্পুত নামে এক প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন, ইনি দিল্লী সম্রাট কর্তৃক শ্রীহট্রের দস্তিদার পদে নিযুক্ত হইয়াছিলেন।২১ ইহার ক্ষমতা সামান্য ছিল না। ১৮. কথিত আছে, হবিব খা বাদশাহ পরিবারের জনৈক মহিলার পাণি গ্রহণ করতঃ তাঁহাকে সঙ্গে করিয়া আনিয়াছিলেন, এবং তাহার সঙ্গে আরও কয়েকজন সন্তান্ত মোসলমান বাণিয়াচঙ্গে আইসেন। ১৯. “হবিব খা আরম্তিলা করিতে শাসন। বিজয়কে অধিকার না দিলা তখন॥”-জগন্নাথপুরের ইতিহাস ২০. কথিত আছে, ইটা ঢাকাদক্ষিণ, পঞ্চথণ্ড প্রভৃতি পরগণাও হবিব খার রাজ্যতুক্ত হইয়াছিল। এখনও বাণিয়াচঙ্গ পরগণাকে “সাতলাখী” বলে এবং বাণিয়াচঙ্গের আমন ধান “লাখীধান” নামে খ্যাত। ২১. এতদ্বিবরণ ২য় ভাগ ২য় খণ্ড ৩য় অধ্যায় দ্রষ্টব্য । দ্বিতীয় অধ্যায় : জগন্নাথপুরের কথা শ্রীহপ্টরের ইতিবৃত্ত ৩৩৯ বিজয় সিংহ ইহারই পরামর্শ ও সহায়তা পাইতেছেন শুনিয়া হবিব খা অনেকাংশে হতোৎসাহ হইলেন। যাহা হউক, প্রধানতঃ ইহারই মধ্যস্থতায় বিজয় সিংহ ও হবিব খার মধ্যে পরে আপোষ-মীমাংসা হয়। বিজয় সিংহ হবিব খার অনুগত্য স্বীকার ক্রমে স্বীয় সম্পত্তির ছয়পণ অংশ গ্রহণেই তুষ্ট থাকিলেন, হবিব খা দশপণ অংশের অধিকারী রহিলেন। পরমানন্দ সিংহ ও দাস জাতি যখন বিজয় সিংহ ও হবিব খার মধ্যে বিবাদ চলিতেছিল তখন বিজয় সিংহের বৈমাত্রেয় ভ্রাতা পরমানন্দ সিংহ দেশে ছিলেন না, বিদ্যার্থীভাবে নবদ্বীপে ছিলেন। পরমানন্দের পত্বী পতিবিরহ সূচক একটি শ্লোক রচনা পূর্বক নিজগৃহে যদৃচ্ছাক্রর্মে রাখিয়াছিলেন। একদা বিজয় সিংহ অন্তঃপুরে গিয়া বিশেষ কার্য্যনুরোধে ভ্রাতাগৃহে প্রবেশ করিলে এই শ্রোকটি কোনরূপে তাহার দৃষ্টিপথে পতিত হয়; তৎপাঠে তিনি অনুতপ্ত হন। তিনি তখন পরমানন্দকে আনয়নের জন্য “দাস” জাতীয় একব্যক্তিকে নবদীপে প্রেরণ করিলেন । এ ব্যক্তি যথাকালে নবদ্বীপে গিয়া পরমানন্দকে জ্যেষ্ঠের আদেশ জ্ঞাপন পুরর্বক দেশে লইয়া আসিল। রাজা ইহাতে অতিশয় তুষ্ট হইলেন এবং তাহার কার্য্যতৎপরতার পুরঙ্কার স্বরূপ সমাজে তাহাদের জল আচরণের বিশেষ সহায়তা করিলেন। কথিত আছে যে, জাতুকর্ণ গোত্রীয় মুরারি বিশারদ তৃষ্ঠাতুর হইয়া দাসজাতীয় বলিয়া পরিচয় পান। তখন তিনি দাস জাতির জল ব্যবহার্য্য বলিয়া ব্যবস্থা দান করেন। পপ্তিতের ব্যবস্থা রাজবিধির সহায়তায় সত্তরই ফলপ্রদ হইয়া উঠিয়াছিল। পরমানন্দের সহিত একজন স্ত্বান্ত ব্যক্তি এদেশে আগমন করেন, কেশবপুরের প্রসিদ্ধ দত্তবংশীয়গণ তাহারই বংশসন্তুত বলিয়া কথিত আছে। আবার এ বংশীয়গণ রাজা বিজয় সিংহের সময় সপ্তগ্বাম (সাতগীও) হইতে আগমন করিয়াছিলেন বলিয়াও শুনা যায়। সে যাহা হউক, বিজয় সিংহের সময় দত্তবংশীয় প্রভাকর নামক একব্যক্তি আগমন করেন জানা যায়। প্রভাকরের পুত্র শল্ুদাসের বুদ্ধি প্রাখর্ষ্যে তুষ্ট হইয়া বিজয় সিংহ তাহাকে মন্ত্রিত্ব প্রদান করিয়াছিলেন । বিজয় সিংহের পরে, শঙ্তুদাসের পুত্র বিজয় রায় জগন্নাথপুরের দেওয়ান হইয়াছিলেন। পুনর্রিবাদ | বিজয় সিংহের সময়ে রাঘব ভট্টাচার্য্য নামক ভরদ্বাজ গোত্রীয় জনৈক বিপ্র মিথিলা হইতে এদেশে আগমন করেন। ইহার গুণে মোহিত হইয়া বিজয় সিংহ তাহার নিকট দীক্ষিত হইয়াছিলেন। এই রাঘব পণ্তিত বংশীয়গণ এখন শিক সোণাইতা পরগণার সাচায়নী গ্রামে বাস করিতেছেন । কবি বল্লপভের যত্বে বিজয় সিংহ ও হবিব খা বিরোধ ভর্জন হইয়া কিছুদিন শান্তিতে অতিবাহিত হইল বটে কিন্তু পরস্পরের মনোমালিন্য দূর হয় নাই। এইজন্যই কিছুদিন যাইতে না যাইতেই বিবাদানল পুনরুদ্দীপ্ত হইল । দুর্ভাগ্য ও দুর্দিন উপস্থিত হইলে, ভাল করিতে গিয়াও মন্দ ফল ভোগ করিতে হয়। বিবাদের চিরশান্তির জন্য উভয় রাজ্যের সীমা চিহিতি করিয়া লইতে বিজয় সিংহ সংকল্প করিলেন। এই (রাজ্য বিভাগ) প্রস্তাবে হবিৰ খাও অসম্মত হইলেন না। স্থিরীকৃত যাত্রা করিবেন এবং উভয়ে একত্রসম্মিলিত হইয়া রাজ্যসীমা নির্ঘারণ করিবেন । নির্দিষ্ট দিবস উপস্থিত হইল, অঙ্গীকারানুসারে উভয়েই অনুরচরবর্গ সহ যাত্রা করিয়া, একস্থানে সম্মিলিত হইলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বিজয় সিংহের নির্দেশিত সীমা ন্যায়সঙ্গত না হওয়ায় হবিব খাঁ ক্রুদ্ধ হইলেন ও অবজ্ঞা সহকারে তাহার শিবিকা ভাঙ্গিয়া ফেলিলেন। হবিব খার ঈদৃশ আচরণে বিজয় সিংহ মর্মাহত হইলেন ও এই অপমানের প্রতিশোধ গ্রহণ করিতে ৩৪০ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড প্রতিজ্ঞা করিলেন। যে স্থলে বিজয়ের পান্ধী ভগ্ন হইয়াছিলেন, অদ্যাপি এ স্থান “পান্থী ভাঙ্গা” নামে কথিত হইয়া থাকে । এইরূপে বিবাদের সৃষ্টি হইল। হবিব খা বিজয় সিংহকে জাতিত্রষ্ট করিতে কল্পনা করিলেন। প্রথমতঃ নিজপুত্রের সহিত বিজয় সিংহের কন্যার বিবাহ দেওয়ার কথা উপস্থিত করিলেন। বিজয় সিংহ হবিব খাঁর অভিপ্রায় বুঝিতে পারিয়া একবারে জুলিয়া উঠিলেন ও তদীয় সবর্বনাশ সাধনের উপায় অবেষণ করিতে লাগিলেন। তিনি প্রকাশ্যভাবে হঠাৎ হবিব খার বিরুদ্ধে দাড়াইলেন না; (দেেবর্বলের বল) কৌশল অবলম্বনে, চাতুর্ধ্যজাল বিস্তার করিয়া বীরবরের অনিষ্ট সাধনের চেষ্টা করিতে লাগিলেন । কিছুদিন মধ্যেই তিনি মৌখিক ভালবাসা প্রদর্শনে হবিব খাকে তুষ্ট করিলেন। সরলতা বীরপুরুষদের এক লক্ষণ । হবিব খা বিজয়ের কুটিলতা অনুধাবন করিতে পারিলেন না। কিয়দ্দিবসান্তে একদা বিজয় সিংহ পূর্বোক্ত বিবাহ প্রসঙ্গ উন্লেখে হবিব খার পুত্র (প্রস্তাবিত জামাতা) মজলিস আলমকে নিমন্ত্রণ করত নিজগৃহে আনয়ন করিলেন ও (নিজ সঙ্কল্লানুসারে) হবিব খার বংশ বিলোপ করার মানসে তাহার গুপ্ত হত্যার উপায় করিতে লাগিলেন । অনিন্দ সুন্দর আলমের রূপে দর্শক মাত্রেই মোহিত হইত, বিজয় তনয়াও তাহাকে দেখিয়াছিলেন। আলম নিশ্চিত নিহত হইতেন, যদি দয়াবতী বালিকা তাহাকে আশু বিপদ্ধার্তা না জানাইতেন, যদি রাত্রে তাহাকে পলাইবার পরামর্শ না পাঠাইতেন। নৌকাযোগে পলায়ন করাই স্থির হইল। যে খাল দিয়া তাহার অনুচর শুধু বৈঠাযোগে নৌকা চালাইয়া আলমকে লইয়া জগন্নাথপুরের পতন পুত্র প্রমুখাৎ হবিব খা এই ভয়ানক বিশ্বাসঘাতকতার কথা শুনিয়া ক্রোধে ক্ষিপ্ত প্রায় হইলেন। বিজয় সিংহও অতি সন্তর্পণে আত্মরক্ষা করিতে লাগিলেন । কিন্তু কিছুতেই তিনি হবিব খার ভীষণ রোষবহি হইতে আত্মরক্ষা করিতে সমর্থ হইলেন না। একদা বিজয়সিংহ সন্নিকটবর্তীঁ বনে স্বজন ও সৈন্য পরিবৃত হইয়া মৃগয়ায় বহির্গত হন। হবিবের গুপ্তচর সর্্রই ফিরিত, সেই মৃগয়া-কাননে গুপ্ত. ঘাতকের হস্তে মৃগের পরিবর্তে সেদিন এক শোকাবহ রাজহত্যা হইয়া গেল! বিজয়সিংহ নিহত হইলেন। বিজয়-গৃহে হাহাকার ধ্বনি উ্থিত হইল। সেই সময় হবিব খার সৈন্যগণ জগন্নাথপুরে উপস্থিত হইয়া রাজবাটী লুণ্ঠন করিতে লাগিল। বিজয়ের পুত্র রাজবল্লভ সিংহ (নামান্তর প্রতাপসিংহ) ও গন্ধব্্বরায় বালকমাত্র ছিলেন; তাহারা পলাইয়া প্রাণরক্ষা করিলেন। যখন চলিয়া গেল, বিজয়-তনয়দয় বাটা প্রত্যাগমনপূরর্বক দেখিলেন যে, বাড়ীতে লুষ্ঠিতাবশেষ অতি সামান্য দ্রব্যই তাহাদের ব্যবহারের জন্য রহিয়াছে। এইরূপে পিতার অপরাধে রাজপুত্রদ্য় হঠাৎ দারিদ্রদশা প্রাপ্ত হইয়াছেন। বিপদ বিপদকেই আহ্বান করে, দুর্ভাগ্যবশতঃ অতঃপর পিতৃব্য পরমান্দের পুত্র-বিনোদচন্দ্রের (ওরফে রূপসিংহের) সহিত তাহাদের বিবাদ উপস্থিত হইল ও নানা বাহুল্য খরচ জন্য খণজালে জড়িত হইয়া পড়িলেন।২২ এই সুযোগে কুবাজপুরের চৌধুরীদের পূর্বপুরুষ তাহাদের ভূসম্পত্তি হস্তগত করিয়া লইয়াছিলেন।২৩ এইরূপে গৃহবিবাদে জগন্নাথপুরের রাজবংশীয়গণ দারিদ্ব্যের চরম সীমায় ২২. ইহাদের বংশাবলী ছ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য । (২য় ভাগ ৩য় খণ্ড) ২৩. শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত বংশবৃততান্ত খণ্ডে এতদ্বিবরণ কথিত হইবে । দ্বিতীয় অধ্যায় : জগন্নাথপুরের কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৪১ উপস্থিত হইলেন। যে পথে মহা বংশ ধ্বংস প্রাপ্ত হইয়াছে, সে পথে ক্ষুদ্র জগন্নাথপুরের রাজ্য বিলোপ ঘটিবে, বড় কথা নহে। জগন্নাথপুরের রাজবাটীর ভগ্নাবশেষ এখনই সেই আত্মকলহের নিদর্শনস্বরূপ বর্তমান আছে ।২৪ সাহিত্য-চর্চা জগন্নাথপুরের অধঃপতন সংঘটন হইলে,-বিধি-চক্রে রাজবংশীয়গণ দৈন্যদশা প্রাপ্ত হইলে, তাহাদের কর্মচারী, কেশবপুরের দত্তবংশীয়গণ অন্য কাহারও দাসত্ব স্বীকার করেন নাই। তাহারা রাজআশ্রিত ছিলেন, রাজার অবস্থা বিপর্য্যয়ে অন্যের দ্বারস্থ হইতে তাহাদের প্রবৃত্তি হয় নাই,_তাহারা অনন্যচিত্তে সাহিত্য-চ্চায় মনঃনিবেশ করেন। এই সময়েই রাধামাধব দত্ত সংস্কৃত “ভাষায় গীত গোবিন্দের টীকা” “ভারত-সাবিত্রী” “ভ্রমরগীতা” রচনা করেন।২৫ তিনি মাতৃভাষার সেবাতেও অমনোযোগী ছিলেন না, বাঙ্গালা “কৃষ্ণলীলা” গীতিকাব্য “পদ্মপুরাণ” ও “সূর্যযবূত পাচালী” তাহার পরিচালক । বর্তমানেও তদ্ংশীয় ভক্ত রাধারমণ দত্ত মহাশয়ের কৃষ্ণলীলার পদাবলী বৈষ্ব সমাজে আদৃত । ২৪. এইস্থলে একটা কথা উল্লেখ করিয়া রাখা ভাল । রাজা বিজয়সিংহ সন্বন্ধে প্রবাদ এই যে, তাহার পুত্র সম্তানাদি ছিল না। এই কথায় ধাহাদেব বিশ্বাস, তাহারা “জগন্নাথপুরের ইতিহাস” পুস্তিকাকে উপন্যাস মনে করেন। এই পুস্তিকার রচয়িতা স্বয়ং অবশ্যই বিজয়সিংহের বংশধর বলিয়া আপনার পরিচয় দিয়াছেন । ২৫. এই গ্রন্থগুলি মুদ্রিত হওয়া আবশ্যক, কেশবপুরে কবিব স্বহস্তলিখিত পাণ্ুলিপি আছে। তৃতীয় অধ্যায় বাণিয়াচঙ্গের কথা বাণিয়াচঙ্গ নগর ও কেশব মিশ্র বাণিয়াচঙগ নগরের নামোপত্তির কথা দ্বিতীয় অধ্যায়ে কথিত হইয়াছে। নগরের নাম হইতেই পশ্চাৎ পরগণার নামকরণ হয়। বাণিয়াচঙ্গের রাজাদের অধিকৃত ভূপরিমাণ নিতান্ত অল্প ছিল না। এক সময় শ্রীহট্রের উত্তর সীমা হইতে দক্ষিণে ভেড়ামোহনা নদী পর্য্যন্ত স্থান ব্যাপী তাহাদের রাজ্য ছিল। ইহা হইতে পারে বহু পরগণা খারিজ হইয়া যাওয়ায় পূবর্ব আয়তনের হ্রাসতা হইয়াছে; তথাপি ইহার ন্যায় বৃহৎ পরগণা শ্রীহস্টে ল্পই আছে। বর্তমানে বাণিয়াচঙ্গ কসবা ও জোয়ার ভেদে দুইটী পরগণায় বিভক্ত হইয়াছে । কসবা বাণিয়াচঙ্গের মধ্যেই বাণিয়াচঙ্গ নগর। চতুর্দিকে মৃতপ্রাীর ও পরিখাবেষ্টিত এই নগর অক্ষাংশ ২৪০৩$ উঃ এবং দ্রাঘিমা ৯১০২৫ পৃঃ মধ্যে অবস্থিত । এই প্রাচীন নগরের আকার কিয়ৎপরিমাণে আয়তক্ষেত্রের ন্যায় এবং পরিমাণ প্রায় ৮ বর্গমাইল হইবে। চতুর্দিকে প্রাচীর বেষ্টিত সম চতুরত্্র বাণিয়াচঙ্গ গ্রামকে দূর হইতে প্রকাণ্ড পর্বতের ন্যায় দেখা যায়। বিগত ১৯০১ শ্বীষ্টাব্দের গণানুসারে বাণিয়াচঙ্গের লোকসংখ্যা ২৮৮৮৩ জন। এত বড় গ্রাম সমস্ত বঙ্গদেশে আছে কিনা সন্দেহ ।১ প্রতি পাড়ার চতুঃপার্থ্বে আম ও বীশবাড়ী থাকায় বহুজনাকীর্ণ হইলেও ইহা ভাটী অঞ্চলের অন্যান্য গ্রামের ন্যায় তেমন ঘেসাঘেসি দেখা যায় না। বাণিয়াচঙ্গ নগর বর্তমানে অপেক্ষাকৃত হীনপ্রভ হইয়া পড়িলেও তথায় প্রায় দুইশত দোকান, দুইটি বৃহৎ বাজার, ডিস্পেনসারি, হাইস্কুল ও তার অফিস প্রভৃতি আছে। অধিবাসীর অবস্থাও উন্নত। কেশব মিশ্র হইতে রাজা পদ্মনাভ পর্য্যন্ত সকলেই বাণিয়াচঙ্গে অবস্থিতি করিয়া নগরের সৌষ্টরব বৃদ্ধি করেন। পদ্মনাভ ইহার মধ্যদেশে সুবৃহৎ দীর্ঘিকা খনন করান ও রাজবাটী প্রস্তুত করেন। পদ্মনাভ এ বংশে দাতাকর্ণ ছিলেন, তিনি বাণিয়াচঙ্গে বহুতর সন্তরান্ত ব্যক্তিকে স্থাপন করেন। কাত্যায়ন ব্যতীত জাতুকর্ণ ভরদ্বাজ ও কাশ্যপ প্রভৃতি গোত্রীয় বহুতর প্রধান বংশীয়গণ বাণিয়াচঙ্গে আছেন। গৌতম গোত্রীয়দের শিষ্য সম্পদ ঢাকা জিলা পর্য্যন্ত বিস্তৃত, ইহারা বলেন যে তাহারা রাজার গুরুবংশ। অনেকে অনুমান করেন তাহারা রাজার বৈদিক ক্রিয়া কলাপের ঝত্বিক ছিলেন, তাই আজিও শ্রাদ্ধকালে দব্বাঁ উপহার পান। ইহাদের মধ্যেই মহাদেব পঞ্চানন ্রাদুর্ভূত হন, তাহার নামে বাণিয়াচঙ্গের যশ দেশ-দেশান্তর পর্য্যন্ত বিস্তারিত হইয়াছে। জাতুকর্ণ গোত্রীয় মুরারি বিশারদের নাম পূর্বে করা গিয়াছে, সুসঙ্গ মহারাজের গুরু বাকলজোড়ের উষ্টাচার্ধ্গণ বাণিয়াচঙ্গের এই জাতুকর্ণ বংশীয়। রাজার জামাতৃবংশ ভরদ্বাজ গোত্রীয় শততুজ মিশ্রের সন্ততিগণও বিশেষ মান্যস্পদ ৷ তদ্যতীত কাশ্যপ গোত্রীয় দ্বিজগণ এবং রাজার সেনাপতি চুরঙ্গ বংশ ও বিশেষ প্রতিষ্ঠিত । স্থনান্তরে ইহাদের বংশ বিবরণ বর্ণিত হইবে। প্রজাবর্গের জলকষ্ট নিবারণার্থে রাজা পদ্মনাভ সহস্রসংখ্যক দীর্ঘিকা খনন করায়াছিলেন বলিয়া কথিত ১. জনবহুল শাস্তিপুরের লোকসংখ্যাও বানিচঙ্গ হইতে কম। তৃতীয় অধ্যায় : বাণিয়াচঙ্গের কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৪৩ আছে।২ এই জনহিতকর কার্য্যের জন্যই তিনি সর্বপ্রথম “খা' উপাধি প্রান্ত হন। তৎপুত্র গোবিন্দ খা, সমতল ক্ষেত্রে অবস্থিত নগরটিকে মোসলমান হইতে সুরক্ষিত করিবার জন্য ইহার চতুপার্শ প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত করেন। তিনি বীরপুরুষ ছিলেন, রাজ্যবৃদ্ধির প্রতি তাহার বিশেষ দৃষ্টি ছিল। গোবিন্দ মহিষী বাণিয়াচঙ্গে পৃথক বাটী প্রস্তুত করতঃ বাস করেন, বলা গিয়াছে জাত্যন্তরিত হওয়ার পর রাজা বাণিয়াচঙ্গে অবস্থিতি করিতে ভালবাসিতেন না; নিকটে থাকিয়া ধর্ম পরায়ণা পত্বীর মনঃৰষ্ট বৃদ্ধি করিতে তাহার ইচ্ছা হইত না। তদবধি তিনি নবাধিকৃত লাউড়ের বাড়ীতেই অধিক সময় বাস করতেন; বিশেষ কার্ধ্য ব্যতীত বাণিয়াচঙ্গে আসিতেন না। পুত্র মজলিস পিতৃসন্নিধানেই বাস করিতেন, কাজেই তিনিও লাউড়বাসী ছিলেন । খাসিয়া আক্রমণ ও লাউড় ধ্ব হবিব খার দুই পুত্র। জ্যেষ্ঠের নাম মজলিস আলম খা ।৩ আলমের পুত্র আনওয়ার খা। ইহার সময়ে এক আকস্মিক উৎপাতে লাউড় নগর বিধ্বস্ত ও পরিত্যক্ত হয়। খাসিয়াপবর্বতের কয়্েকাট রাজা (সর্দার) একত্র মিলিত হইয়া লাউড় আক্রমণ করে। পঙ্গপালের ন্যায় বন্য খাসিয়া সৈন্য পব্বত হইতে আপতিত হইল, মুহুর্তে পথ ঘাট ছাইয়া ফেলিল। যে অল্পসংখ্যক রাজসৈন্য ছিল, নিমেষের মধ্যে তাহাদের চিহ্ন লোপ পাইল । অধিবাসীদিগের যে যথায় পারিল, প্রাণ লইয়া উদ্শ্বাসে পলাইল। তাহাদের পশুবৎ অত্যাচারে অবশিষ্ট বালবৃদ্ধ সকলেই নিহত হইল, লাউড় একরূপ জনশূন্য হইয়া পড়িল ।৪ অদ্বৈতাচার্য্যের বিষয় বর্ণনা করা গিয়াছে। অদ্বৈতাচার্ধ্য শ্রীহট্ট পরিত্যাগ করিয়া গেলেও তাহার জন্মগৃহ তদীয় ভক্তগণ ধ্বংসমুখে পতিত হইতে দেন নাই ।৫ এই খাসিয়া বিপ্রবের কালে আচার্য্ের পীঠরক্ষক নাগরবংশীয়গণ পলাইয়া গোয়ালন্দের নিকটবর্তী ঝাকপাল গ্রামে চলিয়া যান, অদ্যাপি এ বংশীয়গণ তথায় অবস্থিতি করিতেছেন ।৬ এইরূপে লাউড় একরূপ জনশূন্য হইয়া পড়িল-নবগ্রাম ধ্বংসপ্রাপ্ত হইল এবং পাব্ব্বত্যভূমি বলিয়া অতি অল্পকাল মধ্যেই জঙ্গলাবৃত হইয়া উঠিল ।৭ যে স্থানে পৃের্ব দিব্যসিংহ রাজত্ করিয়াছেন, ব্যাঘ ভন্নুক এখন তথাকার রাজা; নাগরিকগণ নবভূষায় সজ্জিত হইয়া সগর্ে যথায় ভ্রমণ করিত, এখন তাহা মৃগমাতঙ্গের বিচরণ ক্ষেত্র। জনকোলাহলের পরিবর্তে বিহঙ্ ২ 1. 11000201790, 006 106010100/ 00100177155101761 51156 161)01160 (৬106 16106 0. 3385 105050 0176 90 96056, 1881) 00810 1116 101110100]1 0115191) 11) 13900159018210 117 51177021901 (0100 1 100. ৩. ইহার নামে বাণিয়াচঙ্গের উপান্তস্থিত মজলিসপুর গ্রাম আজিও বর্তমান আছে। 8. "1 1744 4৯৮0, ভি এল5 00800 09 0106 10118515. 2100 1008009 01 10106 [0601016 70060 (0 5211197017276,-" -48552171, 10015100100 02200669675. ৬০| 1]. (9911701) 01891) 11. 2. 25. অদ্ধৈতাচার্য্ের জন্মগৃহ উদ্ধার প্রসঙ্গ এই গ্রন্থের ১ম ভাগ ৯ম অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য । ৬. ঈশান নাগরের বিস্তৃত বংশাবলী দেওয়া অনাবশ্যক, এস্থলে একটা শাখা সংক্ষেপে প্রদত্ত হইল। ঈশান নাগরের তিন পুত্র-পুরুষোত্তম নাগর, হরিবল্পভ ও কৃষ্ণবল্পভ। তন্মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুরুষোত্তমের পুত্র রমানাথ, তৎপুত্র কৃষ্ণচরণ, তৎপুত্র গোপালকৃষ্ণ, তাহার পুর্র স্বরূপচন্ত্র, ইহার পুত্র ঈশ্বরচন্দ্র, তৎপুত্র যাদবচন্ত্র, যাদবের পুত্র যোগেশচন্ত্র ও এক শিশু জীবিত আছেন। ৭. ১২৯২ বাংলা-কার্তিক সংখ্যা শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকায় আমাদের কর্তৃক বিস্তৃতভাবে এতদ্বিবরণ প্রকাশিত হয়। রি ৩৪৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড কলরবে সে স্থল এখন প্রতিধ্বনিত। জগতের বৈচিত্রই এই,-সে উত্তর কোশলও নাই, সে দ্বারাবতীও নাই। বাণিয়াচঙ্গের হাবিলি লাউড়ের জঙ্গলে এখন “বাণিয়াচঙ্গের হাবিলি” নামে এক দুর্গের ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়। এই হাবিলি বহু প্রকোষ্ট বিশিষ্ট । অনুমানিক পাচশত সৈন্য তাহাতে অনায়াসে বাস করিতে পারে; প্রহরার জন্য স্থানে স্থানে উচ্চ মঞ্চাদি ছিল। রাজ্যের উত্তরাংশে খাসিয়া অত্যাচার নিবারণ কল্পে আনওয়ার খা পরে ইহা নির্মাণ করেন। এই জন্যই দুর্গটি “বাণিয়াচঙ্গের হাবিলি” নামে খ্যাত আছে। দুর্গের প্রকোষ্ট বিশেষের কারুকার্ধ্য দৃষ্টে অনুমতি হয় যে, তিনি কখন স্বয়ং তথায় গিয়াও অবস্থিতি করিতেন। কোন কোন প্রকোষ্ট নৃপবাস তিনি যোগ্য কারুকার্ষ্যে সুশোভিত ছিল কিন্তু বিগত ভূকম্পে অনেক অংশে তাহা নষ্ট হইয়া গিয়াছে।৮ খালিসা ও মোজরাই আনওয়ার খা যখন বাণিয়াচঙ্গের অধিকার প্রাপ্ত হন, সেইসময় পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকা হইতে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত হয়। বাঙ্গালার সুবেদার মুর্শিদকুলী খাঁ স্বীয় নামানুক্রমে প্রাচীন মকসুদা বাদের নাম পরিবর্তন করিয়া মুর্শিদাবাদ করেন। তিনি ১৭২২ খৃষ্টাব্দে রাজস্বের এক নৃতন হিসাব প্রস্তুত করেন ' তৎকালে বাণিয়াচঙ্গের অধিপতি স্বাধীন লাউড় ও অষ্টাবিংশতি পরগণায় তাহাদের অধিকারেব নিদর্শন প্রদর্শন করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে এই অষ্টাবিংশ পরগণার ভুক্ত্ূপে আরও অনেক অতিরিক্ত ভূমি বাহির হইয়া পড়িল। এই অতিরিক্ত ভূমির জন্য কর অবধারিত হয়, কিন্তু বাণিয়াচঙ্গপতি নির্দিষ্ট কর দিয়া সেই ভূমি গ্রহণ না করায়, অন্য লোকের সহিত তাহা বন্দোবস্ত করা হয়। বন্দোবস্ত-কৃত এই ভূমিই “খালিসা” নামে খ্যাত এবং যে ভূমি পৃবর্বাবধি বাণিয়াচঙ্গ-পতির অধিকারে ছিল। তাহা “মোজরাই” বলিয়া কথিত হয়।৯ সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সবডিভিশন ব্যতীত শ্রীহন্টরের অন্যত্র এইরূপ বিভাগ দৃষ্ট হয় না। ৮. এঁতিহাসিক হান্টার সাহেব ই্টেটিষ্টিকেল একাউন্টস্‌ গ্রন্থে লিখিয়াছেন যে, “গোবিন্দ খার আবিদরেজা খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে লাউড় পরিত্যাগ পূর্বক বাণিয়াচঙ্গ নগর নির্মাণ করেন।” একথাটি যে নিতান্তই ভিত্তিবিহীন ও অলীক তাহা সহজেই দেখা যাইতেছে । মিঃ গেইট তদীয় 77196979 01 5921) গ্রন্থে এই কথার প্রতিধ্বনি করিয়াছেন, তৎসমালোচনা স্থলে শ্রীযুক্ত পদ্ননাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় লিখিয়াছেন,_ 1155 11901007 0০701) 27001706086 1717000 120011155 01321015701 15 07986799257 1015179, 076 13121]7)217 20010659107 01 00010705091 [10] 17071) ৮/691 21709601160 ৪1 02101590172 2180 01121 85 1015 06506170981005 £76৬/ 11) 0০09৬/21 01069 00011]160 14810] 2101 00111 2. 16510617012] 00711095 (10016 (0 [916৬০])110179519। 19105 (যা. 07115 17119101501 49521).-45 01101091 51010. 1১. 20.) গোবিন্দ খার আবিদরেজা বলিয়া কোন পৌত্র ছিলেন না, পরিশিষ্ট উদ্ধৃত বংশপত্রে পাঠক তাহা দেখিতে পাইবেন। দ্বিতীয়তঃ বাণিয়াচঙ্গ নগর যে অতি প্রাচীন, এই সময়ের বহুপূর্বে যে নির্মিত হইয়াছে, তাহা তত্রত্য দীঘী প্রভৃতির প্রাচীনত্ব দৃষ্টে এবং এই সময়ের পূর্বকার ব্যক্তিদের (গোবিন্দ খার জ্ঞাতি ও সহোদর ভ্রাতাদের) নামীয় গ্রামের নাম হইতেই প্রমাণিত হয়। (চ-পরিশিষ্ট দেখ) খাসিয়াগণ কর্তৃক লাউড় বিধ্বংস ও আনওয়ার কর্তৃক “বাণিয়াচঙ্গের হাবিলি, নির্মাণ ঘটনা হইতেই এই ভ্রমাত্ক মতের সৃষ্টি হইয়াছে গেজিটিয়ারেও আনওয়ার খা নামের স্থুলে ভ্রমতঃ 'আবেদ' নাম লিখিত হইয়াছে। ৯. খালিসা অর্থে খালাস (পৃথক) করিয়া নেওয়া ভূমি এবং মোজরাই অর্থে যে ভূমির রাজস্ব মোজরা (উলস। মিলিত। তৃতীয় অধ্যায় : বাণিয়াচঙ্গের কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৪৫ কথিত ২৮ পরগণার নাম এস্থলে (উত্তরদিক হইতে) যথাক্রমে লিখিত হইল-প্রথমত- রাজকী বা স্বাধীন লাউড় পবর্বত। দ্বিতীয়তঃ-১। পরগণা বংশীকুণ্তী। ২।” রণদিঘা । ৩।” সেলবরষ। ৪ |” সুখাইড়। ৫1 ” বেতাল। ৬। ” পলাশ । ৭। ” লক্ষণছিরি (লক্ষণশ্রী) ৮।” চামতলা। ৯। ” পাগলা । ১০। ” দুহালিয়া। ১১।” বাজুজাতুয়া। ১২।” সিংহচাপড়। ১৩।” সফাহার। (সফি নগর?) ১৪। ” সিকসোণাইতা । (সোণাউতা) ১৫। আতুয়াজান । ১৬। ” আটগাও। ১৭।” কুবাজপুর | ১৮। ” জোয়ার বাণিয়াচঙ্গ ৷ ১৯। ” কসবা বাণিয়াচঙ্গ। ২০। ” জলসুখা। ২১। ” বিথঙ্গল। ২৪।” কুরশা। ২৫। ” জনতরি (মন্ত্রী) । ২৬। ” হাউলি সোণাইতা । ২৭।” সতর সতী । ২৮।” পাইকুড়া (?)১০ এই সময় আনওয়ার খা দেওয়ান উপাধি প্রাপ্ত হন। তদবধি বাণিয়াচঙ্গের অধিপতিগণ দেওয়ান উপাধি ধারণ করিতেছেন। ১০. ১৯০৫ খৃষ্টাব্দ ২৪শে মে তারিখের ৫০৫ নং চিঠির উত্তরে হবিগঞ্জের সবডিভিশনেল অফিসারের নিকট, বাণিয়াচঙ্গের দেওয়ান শ্রীযুক্ত আজমান রজা সাহেব কর্তৃক ২৮ পরগণার লিষ্টসহ যে বিবরণ প্রদণ্ড হয়, তাহা হইতে উদ্ধৃত হইল। ৩৪৬ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড নাওরা মহাল আনওয়ার খার তিন পুত্র, তন্মধ্যে আহমদ খা খ্যাতনামা । সম্রাট আওরঙগজেবের সময় মগ ও পর্তুগীজ জল দস্যুদিগের অত্যাচার দমন করার জন্য ঢাকায় “নাওরা বিভাগ” স্থাপিত হয়। ইহার ব্যয় নির্ববাহার্থ পূর্ববঙ্গের অনেকটি মহাল খারিজ হইয়া ঢাকার নেজামত সেরেস্তায় ভুক্ত হয়। বাণিয়াচঙ্গ পরগণার কোনও মহাল এ জন্য খারিজ না হইলেও, নবাব আলীবর্দি খার সময়ে বাণিয়াচঙ্গপতির উপরে এই কারণে ৪৮ খানা সুবৃহৎ কোষ নৌকা যোগাইবার ভার থাকে। তদনুসারে তিনি ৪৮ খানা বৃহৎ কোষনৌকা (রণতরি) যোগাইতেন ও তজ্জন্য “নাওরা জায়গীর” উল্মেখে মহালের ব্রি-চতুর্থাংশ রাজস্ব বাদ পাইতেন।১১ এই বাদপ্রাপ্ত রাজস্কের পরিমাণ ৬১৯৪৮ টাকা ছিল।১২ যে সকল মহালের রাজ্ব বাদ পাওয়া যাইত, তাহা “নাওরা মহাল” বলিয়া কথিত হয়।১৩ তদ্যতীত দিল্লী রাজদরবারের জন্য শীতল পাটি, তসর বন্ত্র ও হস্তী প্রেরণ জন্য আরও কয়েক সহমত টাকা বাদ পাওয়া যাইত ।১৪ পরবর্তী কীর্তি রাজকীয় আদেশবলে এই সময় ইটাপরগণার শ্যামরায় দেওয়ান শ্রীহট্টের ভূম্যধিকারীর সাহায্যে এক প্রকাণ্ড দীর্ঘিকা খনন করেন ।১৫ বাণিয়াচঙ্গপতি তাহাতে মজুর দিতে হইয়াছিল। বাণিয়াচঙ্গের দেওয়ান সাহেব পক্ষে, মজুর সহ আতাউল্লা মৃধা নামক এক ব্যক্তি ইটা গিয়াছিল। মজুরদের বেতন প্রাপ্তে মৃধা যে রসিদ দেয় তাহাতে দেওয়ান আদমের১৬ নামাঙ্কিত মোহর ও “১১৫৬ বাং” (১৭৪৯ খৃষ্টাব্দ) তারিখ আছে।১৭ ১১. "17 076 0070 ০06১1102101 থআাচ। 20100100148 10120029105 ৮985 17000095600) 1076 [3917190179175 01161 210 910990001611019 (10166-0071) 011015 98507055 85595560.” শাঃচে [01077011021 11090501016 17151019 200 56501511001 13025002 1)7৬15101) (5)11761). 0. 291]. 12. "০৮/2701) 851210115111706101 171 1169. 1961016 0176 01510711501067)1 01 52116 920 21105172179, ৮75 10616, 17 211 205373, 908101160 7ি0) 3 167151171021055 110৬ 15011106. 10 70 €]62 ৮/9090 26101770291 [92115011)1)21) 01 8910192801)9186 171) 076 10710 01 59901707917 20 00551911275 85565960107 7948" [170 10111) 7610011 170170 1176 56160 00110171066 011 1176 48175 01 0065 12891 177019 00177108179. ৬০1. 1. (9861029110755100170%.) 7. 445. ১৩. বাণিয়াচঙ্গে এখনও ১৬ কোষা, ৩২ কোষা ইত্যাদি মহালের নাম শুনা যায়। যে যে মহালের আয় হইতে যত ং্যক নৌকা প্রেরিত হইত, সেই সংখ্যানুসারে মহালের নাম নির্দিষ্ট হইত। ১৪. শ্রীযুত কৈলাস চন্দ্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাস ৩য় ভাগ ৩য় অধ্যায় ২৯৭ পৃষ্ঠা। ১৫. এতদ্বিবরণ ইতিপূর্বে (২য় ভাগ ৯ম অধ্যায়ে) কথিত হইয়াছে। ১৬. বাণিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের যে বংশাবলী আমাদের হস্তগত হইয়াছে, তাহাতে এঁ সময়ে আহমদ খা ও তাহার দুইভ্রাতা বর্তমান ছিলেন বলিয়া দেখা যায়। ইহাদের নাম আমুদ ও হবিব ছিল বলিয়া কথিত আছে । আদম বলিয়া এ সময়ে বা ইহার কিছুপরে বাণিয়াচঙ্গ বংশে কেহ ছিলেন না। রসিদের লিখিত আদম, আহমদ খার ভ্রাতাদের অন্যতমের নামের গোলযোগ হইতেও পারে, যথা আমুদ-আদম | আমুদ ও আদম নামে বিশেষ পার্থক্য না থাকাতে আমুদের ডাক নাম আদম হওয়াও বিচিত্র নহে। তাহা না হইলে এই আদমকে বাণিয়াচঙ্গাধিপতির দেওয়ান অভিধাযুক্ত কোন উচ্চ কর্মচারী বলিয়া নির্দেশ করিলে বোধ হয় সঙ্গত হইবে। ১৭. মূল রসিদ আমাদের হস্তগত হইয়াছে, তাহা এইরূপঃ-“লিখিতং শ্রীসেক আতাউল্লা মৃধা পং বাণিয়াচঙ্গ মহাল মজকুর কবজ পুত্র মিদং কার্য্যঞ্চ আগে আমি মুকাম পরগণে--ইটাতে জিউর দিঘিতে পরগণা মজকুরের মাটী কামলা বেগার লৈয়া গিয়া মাটীকাম করিছিলাম আমবার অজুরা সত্ব দিঘি মজকুর যে মাটা কাটিছিলাম এর মলবগ ২০/১৪॥ বিস কাহন দুইপণ চৌদ্দগপ্তা সাড়ে কৌড়ি মোং তপছিল মবলগ মজকুর গৌরিবল্পভ পৌতদারও গয়রহর তহবিলে হনে তামাম কামাল সমজিয়া পাইলাম পাইয়া কবজ দিলাম ছালিন হনে দাওয়া করিঝুঁটা বাতিল এতদর্থে কবজপত্র দিলাম । ইতি সন ১১৫৩ সাল বতারিখ সাবান ।” (রসিদের দক্ষিণপার্থশীর্ষে পাচটি পারস্য মোহর এবং আতাউল্লা মৃধার নাম দস্তখত আছে। তৃতীয় অধ্যায় : বাণিয়াচঙ্গের কথা শ্রৃহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৪৭ দেওয়ান আহমদ খাঁর তিন পুত্র জামাল, কামাল১৮ ও কেশর। তন্মধ্যে জামালের পুত্রের নাম আবিদুর রজা (আবিদ রজা)। ইনি অতি শিষ্ট ও ধার্মিক লোক ছিলেন। নিতান্ত বাল্য কালে ইহার বিবাহ হইয়াছিল স্ত্রীর সন্তান হওয়ার উপযুক্ত কাল চলিয়া যাওয়ায় তিনি সদা চিন্তিত থাকিতেন। এক পত্বী থাকা সত দ্বিতীয় দার গ্রহণে তাহার ইচ্ছা ছিল না। এস্থলে বলা আবশ্যক যে, এই বংশীয়েরা মোসলমান হইলেও, হিন্দু রীতি নীতির বিশেষ পক্ষপাতী । যাহা হউক, অবশেষে বিবিসাহেবার গর্ভ লক্ষণ প্রকাশ পায়। স্ত্রীর সন্তান হইবার “উমেদ” (সম্ভাবনা) হওয়ায়, আনন্দিত হইয়া তিনি দানাদি অনেক সকার্য্য করিয়াছিলেন । সেই গর্ভে একটি সুন্দর পুত্র সন্তান জাত হয়, ইহার নাম উমেদরজা রাখেন। উমেদরজার সময় পর্য্যন্ত বাণিয়াচঙ্গের সম্পত্তি একবারে “নষ্ট হয় নাই। তৎকালে তিনিই শ্রীহট্ট্রের সর্ব্বপ্রধান ভূম্যধিকারী ও এক মাত্র রাজকর ব্যক্তি ছিলেন।১৯ দেওয়ান উমেদরজা বড়ই রা ও লোকহিতৈসীছিলেন। কৃষকেরা এবন পর্ন বিপদকালে দেওয়ান উমেদরজার “দোহাই” দিয়া থাকে । কতকাল যাবৎ তাহার মৃত্যু হইয়াছে, কিন্তু তাহার জন্য হিতৈষণা আজও সাধারণের স্থৃতিপটে তাহাকে জাগ্রত রাখিয়াছে। দেওয়ান উমেদরজার সময় গবর্ণমেন্ট লাউড় প্রভৃতি সম্পত্তি হইতে তাহাদিগকে অধিকারচ্যত করেন। উমেদরজা অনেক ভূমিদান ইরা নারে পা সারার যারে গানার ররর রর কুরাের জনের সনন্দ রক্ষিত আছে, এই সনন্দ গুলিতে ১৭৬৪-১৭৮৫ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত তারিখ পাওয়া যায় ।২০ এ সময়ের পরেও তিনি কয়েক বৎসর জীবিত ছিলেন। দেওয়ান উমেদরজার চারি পুত্র দেওয়ান আদমরজা, কুরবানরজা, আলমরজা ও আসাদর রজা। ইহারাও বহুব্যক্তিকে ভূদান করিয়া যশস্বী হইয়াছেন; শ্রীহট্ট কালেক্টরীর রেকর্ডে এ সনন্দগুলির প্রতিলিপিও আছে ।২১ এই ভ্রাতৃ চতুষ্টয়ের নামে অনেক বৃহৎ বৃহৎ তালুকের ১৮. ইহাদের নামে দুইটি দিঘী বর্তমান রহিয়াছে। ১৯. ৮018 [07010716107 01 32012011076, 001789067 1529, ৬170 15 0176 01719 26178117067 01 (106 0151101 (11721) 15 2. 76510206210912 010 17918. [550800 রি 1106 191107 ৮/11002) 109 11. 00181111115, 0109 0011601017, (0 10110 13091% 01 [২5৬110০-1)9060 1511% .)2011820%, 1790. -৬10০ 519050091 400081005 01 45927) ৬০1. 1. (১911)61). ২০. পরগণা বাণিয়াচঙ্গে দেওয়ানরা যে সমস্ত ভূমিদান করেন, তন্মধ্যে কয়েকটি সনদের গ্রাপকের নাম নিম্নে দেওয়া গেল, ইহারা সকলই বাণিয়াচঙ্গবাসী ছিলেন। প্রাপকের নাম বঙ্গাব্দ ভূপরিমাণ দাতার নাম ও ঠিকানা সদানন্দ তর্কালঙ্কার ১১৭১ ৪8/০ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ নন্দরাম শঙ্মী ১১৭১ 8/০ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ রাজগীর সন্যাসী ক) ১১৮০ ১৪২ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ হৃদয়রাম শর্শা ১১৮১ ৫/০ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ মিয়াকাম উল্লা ১১৮৯ ৪/০ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ সৈয়দএওজ উল্লা ১১৮৯ ১৫1০ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ বিক্রমরাম শর্মা ১১৯০ 8/০ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ শ্যামরাম শর্মা ১১৯২ ৬/০ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ ২১. রাজকৃষ্ত শর্মা ১১৯৮ ৬/০ উমেদরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ কীর্তিরাম সন্যাসী ১১৯৪ ১/০ আলমরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ নবশঙ্কর সন্যাসী ১২০০ পা আলমরজা সাং বাণিয়াচঙ্গ বিক্রমরাম শর্মা ১১৯৬ আসাদররজা সাং বাণিয়াচঙ্গ জিদ ভরা তারক নিত সহ উট: কেশবমিশ্র বংশীয় কাত্যায়নগোত্রীয় ব্রাহ্মণগণ ৃরের ইহাদের শিষ্য ছিলেন। এখনও তত্রত্য সননযাসীর মন্ত্রশিষ্য অনেক আছেন। ৩৪৮ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত | দ্বিতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড নামকরণ হইয়াছে। আলমরজা সরল ও সদয় হৃদয় ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু কর্মচারীগণ তাহাকে নির্বোধ মনে করিত । তিনি অনর্থক অনেক ব্যয় করিতেন, তাহার সম্বন্ধে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। অনুচিত অপব্যয় করার জন্য আজ পর্য্যন্ত লোকে “আলম বেঢপা” বলিয়া বোকা লোককে সংজ্ঞিত করে। দেওয়ান আলমরজার পুত্র নসরতরজা এবং কুরবানরজা এবং কুরবানরজার পুত্র আমন রজা ও জামন রজা। পিতৃবিয়োগের কিয়ৎকাল পর অল্প বয়সে জামনরজা জমিদারীর ভার প্রাপ্ত হন। সেই সময় সরকার বাহাদুর বাদী ও দেওয়ান জামন রজ৷ গয়রহ বিবাদী নামীয় ১৮৪২ ইং ৪৪৯৬ নং মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হইলে, তাহাদের পূর্বপুরুষ প্রদত্ত ভূমি সুত্রে “ব্রাহ্মণান” “ভালে আদমিয়ান” “খুসবাসান” নামে কতক ভূমি কসবা বাণিয়াচঙ্গ হইতে গবর্ণমেন্ট খাস করতঃ নুতন বন্দোবস্ত করেন। জামন রজার পুত্র মামন রজা, মামনরজার পুত্র দেওয়ান আজমান রজা বর্তমান আছেন। সাধারণ দুটাকথা বাণিয়াচঙ্গ-কর্মচারীদের মধ্যে “লঙ্কর” “জমাদার” “সরদার” উপাধি ধারী কর্মচারীবর্গ শাসন কার্ষ্যে নিযুক্ত ছিলেন। ইহাদের অনেকেই কালক্রমে জমিদার শ্রেণীতে গণ্য হইয়াছেন। যাহারা হিসাব পত্র রক্ষিত ও আয় ব্যয় সংক্রান্ত দায়িত্ব জনক কার্ষ্য করিতেন, তাহারা বিশ্বাস খ্যাতি প্রাপ্ত হইতেন।২২ অদ্যাপি তদ্ংশীয়গণ এ উপাধি ধারণ করিতেছেন । “মণ্ডল” উপাধিধারী কর্মচারিগণ রাজস্ব আদায়ের কর্ম করিতেন২৩ ও আদায়ী রাজস্বের নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক স্বরূপ প্রাপ্ত হইতেন। অবৈধাচরণ করিলে ইহারা কঠোর দণ্ড পাইতেন। অনেক মণ্ডল বংশীয় ব্যক্তি পরে জমিদার শ্রেণীতে উন্নীত হইয়াছেন। দেওয়ানদের অনুগ্ধহে দেশে অনেকেই সম্মানিত ও পরে জমিদার শ্রেণীতে পরিগণিত হইয়াছেন। উদাহরণ স্বরূপ পাইলগাওর জমিদার বংশের উল্লেখ করা যাইতে পারে । এই বংশীয় হুলাস রাম চৌধুরী দেওয়ান উমেদ রজার এক উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিলেন। প্রভুর অনুগ্রহে তিনি অনেক ভূমি দান প্রাপ্ত হন। কথিত আছে, তাহার আয়ত্তাধীন ভূমি তখন চাষযোগ্য ছিল না, পরে তাহাই আয়কর হইয়া এক জমিদারী রূপে পরিণত হয়। হুলাস রাম চৌধুরী হইতেই পাইলগীর জমিদারী; ইহা বর্তমান বংশীয়গণও স্বীকার করেন। দেওয়ান সাহেবেরা দেশের দণ্ড মুণ্ডের কর্তা ছিলেন; ইহাদের হুকুম অগ্রাহ্য করিবার লোক এদেশে ছিল না। দৃষ্টাত্তস্থলে চান্দভরাঙ্গ মৌজার কোন সন্তাত্ত মোসলমান ভদ্রলোকের কথা উল্লেখ করা যাইতে পারে । সেই সন্্রান্ত মোসলমান পরিবার বংশ মর্য্যাদায় সুনামগঞ্জে অতি সম্মানিত ছিল। এক সময় এই পরিবারের কেহ কোন অবৈধাচরণ করায়, দেওয়ান সাহেবের আদেশে বাণিয়াচঙ্গে আনীত ও প্রাণদপ্তীজ্ঞা প্রাপ্ত হন। পরে হোসেন আলম নামক জনৈক পীর (সাধু) দেওয়ান সাহেবকে বিশেষ অনুরোধ করিলে ইহাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই ঘটনা সামান্য হইলেও, যখন বাণিয়াচুঙ্গের অধিকাংশ সম্পত্তি হস্তচ্যুত হইয়াছে. সেই অধঃপতিত অবস্থায়ও তাহাদের ক্ষমতা কতদূর ছিল, তাহার পরিচায়ক। এই দেওয়ানবংশের অনেক বীর্তি প্রবাদের ন্যায় এদেশে প্রচারিত; এখনও ইহাদের সম্মান দেশে অত্যন্ত অধিক। প্রকৃতপক্ষে বাণিয়াচঙ্গের সব্বাঙ্গীণ উন্নতি দেওয়ান বংশ হইতেই হইয়াছে। ২২. দ্বিতীয়ভাগ দ্বিতীয়খণ্ডের ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের টীকায় ইতিপৃর্র্ব “বিশ্বাস” শব্দের অর্থ আলোচিত হইয়াছে ২৩. এ ষষ্ঠ অধ্যায়ে মগ্ডলদের অধিকারের কথা লিখিত হইয়াছে। তৃতীয় অধ্যায় : বাণিয়াচঙ্গের কথা শ্রীহট্ট্রের ইতিবৃত্ত ৩৪৯ ইতিপূবের্ব বাণিয়াচঙ্গের কয়েকটি প্রধান ব্রাহ্মণবংশের উল্লেখ করা হইয়াছে; তদ্যতীত নাগ, নন্দী, দত্ত ও সেন, বাণিয়াচঙ্গে এই কয়েকটি মৌলিক ভজদ্রবংশ। দত্তবংশ এখন নিবর্বশ। নবাগত মধ্যে জগদীশপুরের দত্ত, চুন্টার সেন, সুঘরের মজুমদার বংশীয়েরা পুবর্বগৌরবে সম্মানিত। যথাস্থানে ইহাদের বংশ বিবরণ কথিত হইবে । সেন বংশীয় শিবচরণ সেনের দান শক্তিতে লোক মুগ্ধ হইয়াছিল ও তাহাকে “দাতা শিবচরণ” বলিত। “দাতা শিবচরণ” নাম লোকে অদ্যাপি ভূলে নাই৷ ভন্টদের দ্বারাও বাণিয়াচঙ্গ দূর দৃরান্তের পরিচিত হইয়াছে। মকরন্দ রায় ও নবানরায়ণভট্ট অতি বিখ্যাত কবিতা রচয়িতা ছিলেন। আজিও তাহাদের বিরচিত কবিতা শুনিবার জন্য লোক ব্যাকুল । ইহারা ব্রজবুলিতে মনোহারি কবিতা রচনা করিতে পারিতেন। যে স্থানের অধিপতি মোসলমান, তথায় মোসলমানের সংখ্যা বাহুল্য হইবে বলা বাহুল্য । বাণিয়াচঙ্গে জদ্রবংশীয় মোসলমান অনেক আছেন; তনাধ্য প্রসিদ্ধ “মৌলবী বাড়ীই” এস্থলে উল্লেখযোগ্য ৷ তাহাদের পূর্বপুরুষ মৌলবী ওবেদুল হোসেন হায়দরাবাদের নিজাম বাহাদুরের পুত্রদ্ধয়ের শিক্ষক ও রেসিডেন্টের মোনশী ছিলেন। কথিত আছে, নিজামের পরলোক গমনের পান। ইহা হইতে কিছু জহরাৎ লইয়া এবং অবশিষ্ট বিক্রয় করিয়া প্রচুর ধন সম্পত্তি লাভ করতঃ বাড়ী প্রত্যাগমন করেন। তাহার সম্মানের চূড়ান্ত হইয়াছিল, কিন্তু নিলামে গাগলাযোড় পরগণা ক্রয় করায় গৌরীপুরের জমিদারসহ বিবাদ উপস্থিত হয়, তাহাতেই তাহাদিগকে দীন দশায় উপস্থিত হইতে হইয়াছে। কিন্তু এসকল কাহিনীর এখানে উল্লেখ মাত্রই থাকিল, স্থলান্তরে বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হইবে । যে লাউড় রাজ্য (পং লাউড় ও বাণিয়াচঙ্গে) পৌরাণিকযুগে ভগদত্ত নৃপতি কর্তৃক শাসিত হইয়াছিল, খৃষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে যে দেশে বিজয়মাণিক্যের সিংহাসন স্থাপিত ছিল, দ্বিজ জগন্নাথের মহিমায় যে রাজ্যের একাংশ আজও তন্নামে পরিচিত, যে দেশের সুসন্তানের বুদ্ধিবলে খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীতে বঙ্গভূমে হিন্দুশৌর্য্ের ঈষৎ মাত্র বিকাশ লক্ষিত হইয়াছিল, সে দেশের কাহিনী কম গৌরবাত্মক নহে। যে দেশে বৈষ্জব মান্য সন্ন্যাসীবর মাধবেন্দ্রের সতীর্থ বিজয়পুরীর পূর্বাশ্রম, যে দেশ সুবিখ্যাত বৈষ্জুবাচার্ধ্য অ্ৈতপ্রভুর জন্মভূমি, তাহারই মহিমায় যথায় পুণ্যতীর্থ “পণা” অবস্থিত যে স্থানে কবি বর ঈশানের কবিতা কদন্ব বিকশিত হইয়াছিল, নারায়ণ দেবের সংগীতধ্বনি উ্িত হইয়াছিল,২৪ এবং রাধামাধবের সরল সংস্কৃতের নধুর ঝঙ্কার উচ্চারিত হইয়াছিল, ইদানীং যে দেশে ভট্টকবি মকরন্দের সুধাস্রোত ছুটিয়াছিল, সাহিত্য ক্ষেত্রেও সে স্থান পরিচিত থাকার যোগ্য । যে স্থানে কর্ণখা দানে ও জনহিতৈষণায়, গোবিন্দ খা সাহস ও শৌর্য্য, জয়সিংহ সারল্যে এবং বিজয়সিংহ কৌটিল্যে খ্যাত, সে স্থানের কাহিনী আলোচনায় লাভ আছে। সেই লাউড় রাজ্যের (পং লাউড় ও বাণিয়াচঙ্গ) বিবরণ এস্থলে সংক্ষেপে সমাপন করা গেল। ২৪. ময়মনসিংহ যে কবিকে লইয়া গৌরব করিতে প্রয়াশী, জলসুখা পরগণার নগর গ্রামে সেই নারায়ণদেব জন্যগ্রহণ করেন ও তথা হইতেই সন্নিকটবর্তী গৌড় গ্রামে গমন করেন, ইহার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে, অতএব নারায়ণদেব প্রকৃতপক্ষে শ্রীহট্রের লোক। প্রথম অধ্যায় আদি নৃপতিগণ মহল জয়ন্তীয়া জয়ন্তীয়া উত্তর-শ্রীহট্্ সবডিভিশনের উত্তর-পৃবর্বাংশে অবস্থিত । জয়ন্তীয়া পরগণাগুলি প্রাচীন জয়ন্তীয়া রাজ্যের একাংশ মাত্র । জয়ন্তীয়া রাজ্য অতি, প্রাচীন। জয়ন্তীয়ার বাউরভাগ পরগণায় একটি মহাপীঠ বর্তমান । পীঠাধিষ্টাত্রী ভৈরবীর নাম জয়ন্তী;১ জয়ন্তীদেবীর অধিষ্ঠিত স্থানই জয়ন্তীপুর। জয়ন্তীদেবীর নামানুসারেই এই জনপদ জয়ন্তীয়া রাজ্য ও তদুত্তরবত্তী পর্র্বতশ্রেণী জয়ন্তীয়া পর্বত নামে আখ্যাত হইয়া থাকে । জয়ন্তীয়ার অধিপতিগণ যেরূপ দীর্ঘকাল স্বাধীনতা সম্পদ উপভোগ করিয়াছেন, বহুস্থানের রাজাদের ভাগ্যে তাহা ঘটে নাই। রূপে নির্ধারণ করতঃ ইহার রাজস্ব (২৭২০০ দাম) ৬৮০ টাকা স্থির করেন; আইন-ই-আকবরি গ্রন্থে ইহা লিখিত আছে। ত্রিপুরা যুদ্ধেও এইরূপ নির্দেশ রহিয়াছে। আইন-ই-আকবরির এ নির্দেশ কত যথার্থ তাহা বলা যায় না। আকবরের রাজত্বসময়ে জয়ন্তীয়া কি ত্রিপুরা মোসলমান কর্তৃক বিজিত হয় নাই বলিয়াই ব্লকমেন সাহেব সিদ্ধান্ত করিয়াছেন ।২ যে বৎসর রাজা তোদরমল্ল “ওয়াশীল তোমার জমা” নামক রাজস্ব হিসাব প্রস্তুত করেন সেই বৎসর রলফ ফিচ ২৪111) 77001)) নামক জনৈক ইংরেজ ভ্রমণকারী ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্য দিয়া চট্টগ্রামে গমন করিয়াছিলেন, তাহার ভ্রমণ বৃত্তান্ত আলোচনা করিলেও পূর্বোক্ত সিদ্ধান্তেই উপনীত হওয়া যায়। আবার জয়ন্তীয়াবাসীগণ শ্রীহট্রের অপরাংশকে “মোগলান” শব্দে অদ্যাপি নির্দেশ করিয়া থাকে । মোগলদের অধিকৃত জনপদ মোগলান শব্দের বাচ্য। ইহাতেও মোগল সম্রটগণের শাসনকালে জয়ন্তীয়া স্বাধীন ছিল বলিয়াই নিরূপিত হয়। সুতরাং আইন-ই-আকবরির বর্ণনা নিরর্থক হইয়া পড়িতেছে। তবে এইরূপ অনুমান করা যাইতে পারে যে, আকবরের রাজত্ব সময়ে জয়ন্তীয়ার কিছুটা অংশ মোগল সাম্রাজ্যের করদ হইয়া থাকিবে । “সরকার শ্রীহন্রের” আটটি “মহল” মধ্যে জয়ন্তীয়ার রাজস্ব সর্বাপেক্ষা অল্প থাকাও দৃষ্ট হওয়ায়, সেই অংশের আয়তনের ক্ষুদ্রতাই উপলব্ধি হয়। জয়ন্তীয়া রাজ্য সমতল ও পব্্বত ভেদে দুইভাগে বিভক্ত । শ্রীহস্ট জিলার অন্তর্ভুক্ত অষ্টাদশ পরগণা সমন্বিত সমতল জয়ন্তীয়া বর্তমান রাজবংশের স্থাপয়িতা পর্বত রায়ের রাজত্বের পূর্ব্ব হইতেই জয়ন্তীয়া রাজ্যের অংশরূপে পরিগৃহীত হইয়া আসিতেছিল। এই অংশেই জয়ন্তীদেবীর পীঠস্থান অবস্থিত । জয়ন্তীয়ার স্বাধীন অবস্থায় এই সমতল ও পার্বত্য জয়ন্তীয়ার মধ্যে কোনরূপ রাজনৈতিক ভেদ ছিল না। ১. “জয়ন্ত্যাং রামজজ্ঘা চ জয়ন্তী ক্রমদীশ্বরঃ।”-তন্ত্রচুড়ামণি । ২. ৬1005007028] 01 00685151010 59016 011561752] ৬০1. ১011. 0911. 1. 55204 234. ৩. এই পুস্তকের প্রথম ভাগ ১০ম অধ্যায় দ্রষ্টব্য । সুরমা নদীর সমস্ত উত্তর দিক এক সময় জয়ন্তীরারাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমান ১৮ পরগণার অতিরিক্ত উক্ত অংশই আইন-ই-আকবরির উদ্দিষ্ট “জয়ন্তীয়া” হইতে পারে। শ্রৃহপ্রের ইতিবৃত্তপূর্বাংশ)-২৩ ৩৫৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড পবিত্র জয়ন্তী-ক্ষেত্র পুরাকালে এক সমৃদ্ধ হিন্দুরাজ্য ছিল৷ জৈমিনি ভারতে যে নারীরাজ্যের উল্লেখ আছে,৪ এই জয়ন্তীই সেই নারীরাজ্য। মহাভারতের বর্ণিত সময়ে এদেশের অধীশ্বরী প্রমীলা ছিলেন। এই বীর-নারীর সহিত বীরশ্রেষ্ঠ অর্জুনের যুদ্ধ হইয়াছিল। তথা হইতে অর্জন মণিপুরে গমন করিয়াছিলেন, প্রথম খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ে তাহার উন্লেখ করা গিয়াছে। ইহার পরও সুদীর্ঘকাল এস্থান হিন্দুপতিদের শাসনাধীনে ছিল। খৃষ্টায় একাদশ শতাব্দীতে জয়স্তীপুরে কামদেব নামক জনৈক হিন্দু নরপতি রাজত্ব করিতেন। মোলব দেশের অন্তর্গত ধারানগরাধিপতি মুঞ্জরাজের কিঞ্চিৎ পরে কামদেবের সময় নির্দেশ করা যাইতে পারে । মুঞ্জুরাজের ভ্রাতুষ্পুত্র ভোজরাজ। ইনি “সরস্বতী কণ্ঠাভরণ” গ্রন্থের রচয়িতা এবং ইনিও কামদেবের সম-সাময়িক। ইহার রাজত্বকাল খৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দীর মধ্যে অনুমান করা যাইতে পারে ।৫ কবিরাজ নামক কবিকৃত প্রসিদ্ধ “রাধব পাণ্ডবীয়” গ্রন্থের প্রথমে কবিরাজের নামোল্লেখ আছে; ইহাতে মুঞ্জরাজের সহিত কবিরাজের পরিচয় থাকা সূচিত হইতেছে। “রাঘব পাপ্তবীয়” গ্রন্থের প্রথম সর্গে লিখিত আছে যে, কবিরাজ জয়ন্তীপুর-পতি কামদেবের সভায় ছিলেন, এবং তৎকর্তৃক উৎসাহিত হইয়া তিনি “রাঘব পাণ্বীয়” গ্রন্থ রচনা করেন।৬ ইহাতে এই অনুমিত হয় যে, জয়ন্তীপুর-পতির আগ্রহে কবিরাজ ধারানগরী হইতে জয়ন্তীয়াতে আগমন করিয়াছিলেন । অতএব খৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দীতে জয্তীয়া দেশ কামদেব নামক হিন্দু নৃপতি কর্তৃক শাসিত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যাইতেছে। এই নৃপতি মধ্যদেশ হইতে ব্রাহ্মণ আনয়ন করিয়াছিলেন বলিয়া উন্লেখিত আছে। একখানি প্রসিদ্ধ সংস্কৃত কাব্য পূর্বাঞ্চলীয় জয়ন্তীয়াপুর-পতির প্রোৎসাহে প্রণীত হয়, ইহা তদ্দেশবাসীর গৌরবময় সন্দেহ নাই। ইহার পরেও জয়ন্তীপুরে হিন্দুরাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। কহলন রাজতরঙ্গিণী গ্রন্থের চতুর্থ তরঙ্গে লিখিত আছে যে, কাশ্ীর-রাজ জয়াপীড় দিপ্বিজয়ে বহির্গত হইয়া পুরর্বদেশীয় রাজা ভীম সেনকে পরাভূত করত নেপাল রাজ্যে প্রবেশ করেন, তৎপর তিনি বিশাল “শ্ত্রীরাজ্য জয় করেন।” (লৌকিক ৮৯ অন্দের) ১২১৩ খৃষ্টাব্দের পৃবের্ব ইহা ঘটে । বস্তুতঃ বামজঙ্ব পীঠক বহুকাল হিন্দু নৃপতি কর্তৃক পরিলক্ষিত হইয়া আসিয়াছিল, বহুকাল জয়স্তীয়ায় হিন্দু রাজত্ব ছিল। জনশ্রুতি মুখে এখনও জয়ন্তীয়ার শেষ হিন্দু নৃূপতি চতুষ্টয়ের নাম শ্রুত হওয়া যায়। কথিত 8. জৈমিনি ভারত ২১।২২শ অধ্যায় দ্রষ্টব্য । ৫. (১) বাসব দত্তার মুখবদ্ধ লেখক ফিড্জ এডওয়ার্ড সাহেব লিখিয়াছেন যে, মুঞ্জরাজ ভোজরাজ খৃষ্টীয় ১০০০ ত ছিলেন। (২) উজ্জয়িনী দেশের জ্যোতিব্রত্ুদের মতানুসারে হান্টার সাহেব, খৃষ্টীয় ১০৪২ অন্দে ভোজরাজ বিদ্যমান ছিলেন বলিয়া লিখিয়াছেন। (৩) কহলন রাজতরঙ্গিণীতে লিখিত আছে যে, কাশ্নীর-রাজ অনস্তদেবের সময়ে (১০৩৬ খৃষ্টাব্দের পর), মালব দেশে ভোজরাজ রাজত্ব করেন। (৪) ভোজরাজের প্রাদুর্ভাব কাল ১১০০ খৃষ্টাব্দ বলিয়া উইলসন্‌ সাহেব লিখিয়াছেন, কিন্তু ফিড্জ এড্ওয়ার্ড সাহেবের মতে উহা ভ্রমাত্বক। যাহাহউক, অধিকাংশ মতেই ভোজরাজ খৃষ্টায় একাদশ শতাব্দীর লোক । ৬. “আনেতা মধ্যদেশাৎ প্রবচনবিদুষাং সোমপাং ব্রাহ্মণানা- -রাঘব পাণুবীয় ১ম সর্গ ২৫ শ্রোক। প্রথম অধ্যায় : আদি নৃপতিগণ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৫৫ আছে যে ইহারা ব্রাক্মণ জাতীয় ছিলেন, ইহাদের নাম যথাক্রমেঃ- ১. কেদারেশ্বর রায়। ২. ধনেশ্বর রায় । ৩. কন্দর্প রায়। ৪. জয়ন্ত রায়।৭ হিন্দু রাজত্বের বিলোপ আসামের প্রাগৃজ্যোতিষ ও কুগ্জিল রাজ্য যেরূপ বিলুপ্ত হয়, জয়ন্তীয়ার হিন্দু রাজত্ব তদ্রপই বিনষ্ট হইয়া যায়। অসভ্য খস ও সিন্টেগ (57176) জাতীয়দের উৎপাতে প্রাচীন রাজ্যের বিলোপ ঘটে। কিন্তু ইহাও যে কত পুরাতন ঘটনা তাহা নির্দেশ করা কঠিন। সেই অনিশ্চিত অতি রাজপদাভিষিক্ত হইয়াছিল, সেই বিবরণ এখন অতীতের তিমিরাবৃত গর্ভে নিহিত হইয়াছে। জনশ্রুতি অনুসারে জয়ন্তীয়া পবর্বতের সুতঙ্গন নামক স্থান” হইতেই রাজবংশীয় আদি পুরুষের অভ্যুদয় ঘটে। কথিত আছে, তিনি শৈশবাবস্থায় তরুমূলস্থ প্রস্তরতলে নিদ্রা যাইতেছিলেন, তদবস্থায় একটা কৃষ্ণ সর্প তাহার শিরদেশে ফণা বিস্তার করিয়া রৌদ্রতাপ বারণ করিতেছিল। কোন পার্বত্য সর্দার এই অদ্ভুত ঘটনা দৃষ্টে নিদ্রিত বালককে দৈবক্ষমতা বিশিষ্ট প্রদান করিয়া তাহাকেই আপনাদের অধিপতি বলিয়া র করে ও নিজ বক্ষে আচড় দিয়া, বক্ষঃক্ষরিত শোণিত বিন্দু দ্বারা বালককে রাজটীকা প্রদান করে । সেই বালকের পর কতজন জয়ন্তীয়ার রাজসিংহাসনে উপবেশন করিয়াছিলেন, জানা যায় না। প্রাচীন মুদ্রা ও তাত্রফলকাদি হইতে বিংশতি জন স্বাধীন নৃপতির নাম সংগ্রহ করা যাইতে পারে, তাহাদের মধ্যে পর্বত রায়ই প্রথম, পবর্বত রায় অবধি রাজগণের নামগুলি বঙ্গভাষা হইতে গৃহীত হইয়াছে। ইহাতে অনুমিত হয় যে, পবর্বত রায়ই সর্বপ্রথম পর্বত হইতে জয়ন্তীয়ার সমতল ক্ষেত্রে নিজ আধিপত্য বিস্তার করেন। এবং সমতলের প্রজাগণ কর্তৃকই তিনি পব্বত রায় বা পব্র্বতের রাজা এই উপনাম প্রাপ্ত হন। আসামের ইতিহাস প্রণেতা গেইট সাহেবও এইরূপ অনুমান করিয়াছেন।৯ পর্বত রায়ের কাল নির্ণয় পর্বত রায় হইতে পরবর্তী যে সকল নৃপতির নাম পাওয়া যায়, জয়ন্তীয়ার সেই নৃপতিবর্গের মধ্যে সপ্তম রাজা ধন মাণিকের রাজত্বকাল খৃষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর অন্তভাগ; তাহার সময় হইতে পূর্ববর্তী প্রতিজনের রাজত্বকাল ষোলবসর করিয়া ধরিলে১০ পব্র্বত রায়ের শাসনকাল ১৫০০ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৫১৬ খৃষ্টাব্দ পর্য্যত্ত বলা যাইতে পারে । ৭. "[%71017 10 10 00150069109 11)696 1)1117061), (176 08110002 0210910795 16 11190 109 2.110 01872101102) 1017155, 01 9/15018 010০ 1951 (0২07 ৬6176 15509155৬22. 101701055৬2] ২2৬, [910051102 [২99, 9170 099 হানে চ29." -059165 11191017901 45587. 010910- এ, 27266. ৮. এই সুতঙ্গন হইতেই সিন্টেঙ্গ শব্দের উৎপত্তি হইয়া থাকিতে পারে। অথবা ইহা জয়ন্তী শব্দের খাসি সংরক্করণও হইতে পারে। ৯. [108 9150 [92717975706 007206001160 0781 11 ৮795 100 ড/100 65027106016 92৮9 ০0 (06 09177098, 007769 1000 006 70191105 080 ৪0006 0001 011715 20106900121 1116000) 11) 0106 10115. 1119 179106 29081 79 1076 1010 01016171105 562105 [0 0010) 015 50010951000." -08165171156015 01 45920 0102109- 20, 6255. ১০. আসামের ইতিহাস প্রণেতা গেইট সাহেব এইরূপ হিসাব ধরিয়াছেন, কিন্তু তাহা সম্পূর্ণ যথার্থ বলিয়া বোধ করা যায় না। ৩৫৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড মাঝ গোসাহিঃ ও বুড়াপব্বতরায় গোস্বামী বা গোসাঞ্জি উপাধি বঙ্গদেশে বৈষ্ব সম্প্রদায়ের এক শ্রেণীর সন্রান্ত ব্যক্তিরা পুরুষানুক্রমে ব্যবহার করেন। আসাম অঞ্চলে “গোহাই” বা গৌসাঞ্ শব্দ রাজপরিবার ও রাজকর্মচারীদের মধ্যে ব্যবহৃত । পর্রতি রায়ের পরবর্তী রাজার নাম মাঝ গোসাঞ্ি। আসাম অঞ্চলের প্রথানুসারে তিনি এই উপাধি ধারণ করিয়া থাকিবেন। পূর্বোক্ত হিসাবানুসারে তাহার শাসনকাল ১৫১৬ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৫৩২ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত বলিতে হইবে। মাঝ গোসাঞ্জি ও তৎপরবত্তী রাজা বুড়াপবর্বতরায়ের বিষয় কিছুই জ্ঞাত হওয়া যায় না; ইহার শাসনকাল গেইট সাহেবের অনুমান মতে ১৫৩২ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৫৪৮ খৃষ্টাব্দ পর্য্যস্ত। বড় গোসাঞ্জি ও মহাপীঠ ইহাদের পরবত্তী বড় গোসাঞ্জি ধর্মানুরাগী রাজা ছিলেন; তিনি সম্ভবত ১৫৪৮ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৫৬৪ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত জয়ন্তীয়া রাজ্য শাসন করিয়া গিয়াছেন। যে মহাপীঠের জন্য জয়ন্তীয়া জন-সাধারণের নিকট পবিত্র তীর্থরূপে পূজিত, পূর্বতন হিন্দুরাজত্বের সহিত যাহা বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছিল; এই ধর্ানুরাগী রাজার রাজত্বকালে সেই মহাপীঠ পুনঃপ্রকাশিত হয়। পীঠপ্রকাশ প্রসঙ্গে সে বিষয় স্থানান্তরে বর্ণিত হইয়াছে ।১১ কয়েকটি বালকের ক্রীড়ামূলে জঙ্ঘাকৃতি এক প্রস্তরখণ্ডে ভৈরবীর অধিষ্ঠান প্রকটিত হয়। রাজা নিজ গুরু জনৈক তান্ত্রিক সিদ্ধপুরুষসহ সেই স্থানে উপনীত হইয়া, দেবীকে রাজধানীতে আনয়ন করিতে সচেষ্ট হন। রাজাদেশে খনকেরা খনন করিতে আরন্ত করিলে পার্থখিত ভুরি পরিমাণ বালুকায় গর্তটি পূরিয়া যাইতে লাগিল । পুনঃ পুনঃ চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্য্য হইলেন, তাহা দৈব অভিপ্রায়ে সংঘটিত হইতেছে ভাবিয়া, রাজা সেই উদ্যমে ক্ষান্ত হইলেন ও সেই স্থান সুচারুরূপে বাধাইয়া দিলেন। অনতিবিলম্বে চতুর্দিক প্রাচীরে বেষ্টিত হইল এবং প্রাটারের গায় সহস্র প্রদীপ প্রজ্বালনের ব্যবস্থা থাকিল ও নিয়তির পূজা পরিচালনের সুবন্দোবস্ত হইল। পরে ভৈরবের অনুসন্ধানে এ স্থানের উত্তরে এক শিব আবিষ্কৃত হন, প্রকাশক রাজগুরু সেই সিদ্ধ ব্রাহ্মণের নামানুসারে তৎপুজিত সেই শিব “রূপনাথ” বলিয়া খ্যাত হইলেন। অনেকের মতে এই রূপনাথই বামজজ্ঘা পীঠের ভৈরব । আবার কেহ কেহ বামজজ্ঘাপীঠকে আকড়িয়া ধরা যে একটি মূর্তি দেখা যায়, উহাকেই ক্রমদীশ্বর ভৈরব বলেন। সে যাহা হউক, রূপনাথ আবিষ্কৃত হইলে মহারাজ রূপনাথের দক্ষিণদিকে এক পাকা মন্দির প্রস্তুত করিয়া দিলেন। কথিত আছে, স্বপ্রাদেশ হওয়ায় মহাদেবকে আর মন্দিরতলে লইয়া যাওয়ার চেষ্টা হইল না। মন্দির শূন্য পড়িয়া রহিল; তদবধি রূপনাথ তৃণকুটীরেই অবস্থিতি করিতেছেন। রূপনাথের এই কুটীর খাসিয়া রমণীগণ প্রস্তুত করিয়া দিয়া থাকে, পুরুষদের নির্মাণাধিকার নাই। জয়ন্তীয়াধিষ্ঠাত্রীর মহিমা অত্যল্প কালেই চতুর্দিকে প্রচারিত হইল: দলে দলে সাধু সন্যাসীগণ দেবী দর্শনে আসিতে লাগিলেন। মহারাজ দেবস্থানের সুশৃঙ্খলা করিয়া দেওয়ায় সব্র্ববিষয়েই সুব্যবস্থা হইল। মহারাজ দেবীর সেবায় সমস্ত জয়ন্তীয়া রাজ্য উৎসর্গ করিলেন, দেবীর নিয়মিত সেবা নির্বধাহার্থ কোনরূপ দেবত্র দিলেন না, বলিলেন-“মায়ের চরণাঙ্কিত ও স্বনামীয় এই রাজ্যই তীহার,-ভিন্ন বন্দোবস্তের আবশ্যক কি”? সুতরাং রাজভাণ্ডার হইতে সাক্ষাত্ভাবে দেবীর সেবার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি প্রেরণের ব্যবস্থা হয়। ধর্মাত্বা বড় ১১. ্্রীহট্রের ইতিবৃত্তে ১ম ভাগ ৯ম অধ্যায় দ্রষ্টব্য । প্রথম অধ্যায় : আদি নৃপতিগণ শ্রীহন্্রের ইতিবৃত্ত ৩৫৭ গোসাঞ্চির এ অনুঙ্ঞায় পরবর্তী রাজগণও অবহেলা প্রদর্শন করেন নাই। জয়স্তীয়ায় বহুতর দেবতার জন্য দেবত্রদানের ব্যবস্থা হইলেও, শান্ত্রোক্ত এই প্রাচীন মহাপীঠের জন্য কোনরূপ দেবত্র প্রদত্ত হয় নাই। জয়ন্তীয়াপতি ও ত্রৈপুর-নৃপতি বড় গোসাঞ্চির পর বিজয় মাণিক (সম্ভবত) ১৫৬৪ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনারোহণ করেন। তাহার সময়ে ব্রেপুর- রাজবংশেও বিজয় মাণিক্য নামে প্রবল পরাক্রান্ত এক রাজা রাজত্ব করিতেন। এই বিজয়মাণিক্য প্রখ্যাতকীর্তি রত্বমাণিক্যের ষষ্টপুরুষ স্থানীয় । ১৫৩৫ খৃষ্টাব্দে তিনি রাজ সিংহাসনে আরূঢ় হন, ইহার পরাক্রমের সংবাদ শ্রবণে জয়ন্তিয়াপতি স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া তৎসহ মৈত্রী স্থাপন করিয়াছিলেন। ত্রিপুরার “ইতিহাস রচয়িতা বর্ণনা করিয়াছেন,-“জয়ন্তীয়াপতি নানাপ্রকার উপচৌকন প্রদান পূর্র্বক ত্রিপুরেশ্বরের কৃপা প্রার্থনা করেন। জয়ন্তীয়ারাজের বিনয় ও ভক্তিতে বাধ্য হইয়া মহারাজ বিজয়মাণিক্য প্রসাদস্বরূপ তাহাকে একটি হস্তী প্রদান করেন। মহারাজ বিজয়মাণিক্য রাজধানীতে পদার্পণ করিয়া শ্রুত হইলেন যে, জয়ন্তীয়াপতি প্রচার করিয়াছেন, “বিজয় মাণিক্য ভয়াতুর হইয়া আমাকে একটি হস্তী উপটৌকন প্রদান করিয়াছেন, এই কাব্য শ্রবণমাত্র জয়ন্তীয়াপতিকে ধৃত করিয়া আনিবার জন্য তিনি বৃহৎ একদল সৈন্য প্রেরণ করিলেন। জয়ন্তীয়ারাজ ব্রেপুর সৈন্যের আগমন বার্তা শ্রবণে ভয়ে কাতর হইয়া রাজধানী পরিত্যাগ করেন, এবং হৈড়ম্বপতির দ্বারা ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া সৈন্যের প্রত্যাবর্তনের আদেশ প্রেরণ করিয়াছিলেন” ।১২ ইহার পর উভয় বিজয়ের মৈত্রীভঙ্গের কোন কারণ উপস্থিত হয় নাই এবং বিজয়মাণিক নিরুদ্বেগেই জয়ন্তীয়া শাসন করিতেছিলেন; কিন্তু অবশেষে এক বিষম অনর্থ উপস্থিত হয়। নরনারায়ণের জয়ন্তীয়া জয় কামরূপের কোচবংশীয় রাজা নারায়ণের রাজত্বকাল ১৫৩৪ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৫৮৫ খৃষ্টাব্দ পর্য্ত্ত। তিনি অতি প্রতাপশালী নৃপতি ছিলেন। নারায়ণের ভ্রাতা যুদ্ধবিদ্যা-বিশারদ শুক্ধ্বজ (চিলারায়) তদীয় সেনাপতি ছিলেন। চিলারায়ের বাহুবলে নরনারায়ণের রাজ্যসীমা বহুবিস্তৃত হইয়া পড়িয়াছিল। পূর্র্ববিভাগে তিনি কাছাড় ও মণিপুর জয় করণান্তর নিজ বিজয়বাহিনী জয়ন্তীয়া-পতির বিরুদ্ধে চালিত করেন। বিজয় মাণিক ঝটিতি সসৈন্যে চিলারায়ের গতিরোধ করিয়া দণ্ডায়মান হইলে, উভয়পক্ষে ঘোরতর সংগ্রাম উপস্থিত হয়; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বিজয় মাণিক হঠাৎ নিহত হওয়ায় চিলারায়েরই জয় হইল । এই বিজয়বার্তী প্রাপ্তে নরনারায়ণ, বিজয়মাণিকের পুত্র প্রতাপরায়কে করদ রাজারূপে জয়ন্তীয়ার সিংহাসন প্রদান করেন।১৩ রাজা প্রতাপ রায় সিংহাসনারোহণ করিলেন বটে, কিন্তু কোচ নৃপতির অনুজ্ঞায় নিজনামে মুদ্রা প্রচারের অধিকার হইতে বঞ্চিত হইলেন। জয়ন্তীয়া হইতে যে কয়েকটি মুদ্রা পাওয়া গিয়াছে, তাহাতে দেখা যায় যে, দ্বিতীয় বড় গোসাঞ্জির পূর্ববর্তী মুদ্রাগুলিতে রাজাদের নামের পরিবর্তে ১২. শ্রীযুত কৈলাসচন্ত্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাস ২য় ভাগ ৪র্থ অধ্যায় ৫৯ পৃষ্ঠা। আসামের ইতিহাস প্রণেতা গেইট সাহেব নিজ ইতিহাসেও এই বিষয়ের অভাসমাত্র উল্লেখ করিয়াছেন। ১৩. “চিলারায় জয়ন্তীয়া রাজ্য আক্রমণ করি তার রজাক নিক হাতেরে বধ করে, নর নারায়ণে সেই রজার পুতেকক পিতৃ-সিংহাসন ত বহাই তেওঁক করতলীয়া রজা পাতিলে ।” শ্রীযুক্ত পদ্মনাশ বরুয়া কৃত “আসামর বুরঞ্জী' ৫ম অধ্যায় ২৮ পৃষ্ঠা। দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড ৩৫৮ শ্রীহত্্রের ইতিবৃত্ত ২ গাঞহশাযা তে আত ও ম্ট-০ .. র্‌ ৯৬ প্রথম অধ্যায় : আদি নৃপতিগণ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৩৫৯ শুধু “জয়ন্তীয়ার মহারাজ” মাত্র মুদ্রিত আছে।১৪ প্রতাপরায়ের শাসনকাল ১৫৮০ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৫৯৬ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত অবধারিত হইয়াছে। ধনমাণিক ও শক্রদমন প্রতাপ রায়ের মৃত্যুর পর ধনমাণিক রাজসিংহাসন লাভ করেন। তিনি প্রতিভাবান নৃপতি ছিলেন। খৃষ্টায় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রান্তে তিনি দিমারুয়ার রাজা প্রভাকরকে ঘোরতর যুদ্ধে পরাজয় করতঃ ধৃত করেন। প্রভাকর উপয়ান্তর রহিত হইয়া নিজ সংরক্ষক ব্রহ্মপুর (হৈড়ম্ব) পতি শক্রদমনের সহায়তা প্রার্থনা করেন। তদনূসারে প্রভাকরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য শক্রদমন প্রথমতঃ জয়ন্তীয়া-পতির নিকট পত্র প্রেরণ করেন, কিন্তু তাহার চেষ্টা ফলবতী হইল না; তখন তিনি ধনমাণিকের বিরুদ্ধে রণনিপুণ একদল সৈন্য প্রেরণ করিলেন। জয়ন্তীয়া পতিও তাহাদের গতিরোধ করিয়া দাড়াইলেন, কিন্তু সসৈন্য কাছাড়ী সৈন্যের সহ্য করিতে পারিল না, ধন মাণিক সম্পূর্ণরূপে পরাভূত হইলেন এবং সন্ধির প্রস্তাব করিলেন। উভয়ের মধ্যে সন্ধির সর্ত অবধারিত হইল, ধন মাণিক শক্রদমনকে কর দিতে স্বীকৃত হইলেন ও নিজ দুহিতৃদ্বয়কে তাহার সহিত বিবাহ দিলেন। কেবল তাহাই নহে, নিজ ভাগিনেয় ও উত্তরাধিকারী যশোমাণিককে প্রতিভূস্বরূপ ব্রহ্মপুরে প্রেরণ করিতে হইল। বলা আবশ্যক যে, জয়ন্তীয়া রাজ-পরিবারের মধ্যে বিবাহ প্রথার প্রচলন যাই, এজন্য ভাগিনেয়ই রাজ সিংহাসনের অধিকারী হইতেন। জয়ন্তীয়া-পতিগণ হিন্দু ধর্মাশ্রিত হইলেও, তাহাদের পূরর্বপুরুষাচরিত এই পাব্ববত্য রীতি ত্যাগ করিতে পারেন নাই । অতএব ধন মাণিক মৃত্যুমুখে পতিত হন (১৬১২ খৃষ্টাব্দ)। যশোমানিক ও প্রতাপ সিংহ ধনমাণিকের মৃত্যুর পর “শক্রদমন” যশোমাণিককে মুক্তি প্রদান করিলে, তিনি জয়ন্তীয়াপুরে আগমনপূরর্বক সিংহাসনারোহণ করেন ও পূবর্ব অপমানে প্রতিশোধ লইতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন। তিনি ইহার এক সহজ উপায় বাহির করিলেন। তীহার কন্যা অতি সুন্দরী ছিলেন, সেই কন্যা তিনি তদানীন্তন আহোমরাজ প্রতাপ সিংহকে (বুড়া রাজা বা সুসেংফা) প্রদান করিতে ইচ্ছা করিলেন । কথা রহিল যে, হৈড়ম্বরাজ্যের ভিতর দিয়া সেই কন্যাকে লইতে হইবে । ্রস্থান্তরে১৫ বর্ণিত হইয়াছে যে, যশোমাণিক এই কন্যাকে তৎপূর্ব্বে ব্রহ্মপুর (হৈড়ম্ব) পতিকে প্রদান করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন যাহা হউক, প্রতাপসিংহ যশোমাণিকের প্রস্তাবে সম্মত হইয়া রাজা শক্রদমনের নিকট দূত প্রেরণপূর্বক, তাহার রাজ্যাত্যন্তর দিয়া জয়ন্তীয়া রাজকুমারীকে সসৈন্যে লইয়া যাইতে চাহিলেন। প্রতাপসিংহের পরাজয় শক্রদমন ইহাতে সম্মত হইলেন না, তখন উভয়ে যুদ্ধ বাধিল (১৬১৮ খৃষ্টাব্দ)। প্রথম উদ্যমে ধরম টীকানামক স্থানে হৈড়ম-সৈন্য পরাভূত হয়; বহুতর বল্লম, বন্দুক ও তরবারি ১৪. "15 5210 1118 0176 0£1176 0017016079 17019095690 07 17170 ৮৮95 (79106 91701110001 17 [110116 এ171106 00105 111 1015 0৮৬1 102106" -078151119001 01552001090, 1৬, 0551, ১৫, [২০1901% 01 (179 19102765501 0156 11151011021 16562101705 11) /১55810-1897. 1. 18. ৩৬০ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড প্রভৃতি অস্ত্রাদি আহোম সেনাপতি হস্তগত করেন। জয়ান্তে সুন্দর গোসাঞ্জি নামক সেনাপতিকে রহা দুর্গে রাখিয়া আহোমপতি নিজ রাজধানী প্রত্যাগমন করিলেন । প্রতাপসিংহ অধিকাংশ সৈন্য লইয়া চলিয়া গেলে, একদা রাত্রিযোগে শক্রুদমনের ভ্রাতা তদীয় সেনাপতি ভীমদর্প বা ভীমবল ভীমবেগে রহা দুর্গ আক্রমণ করিলেন। এই অতর্কিত প্রবল আক্রমণ আহোম-সৈন্য রোধ করিতে পারিল না, অধিকাংশই মৃত্যুমুখে পতিত হইল ও অবশিষ্টেরা পলায়নপূরর্বক প্রাণ বাচাইল। এই কীর্তি স্থায়ী করণোদ্দেশে শক্রদমন নিজ রাজধানী মাইবঙ্গের নাম কীর্তিপুর রাখেন, এবং প্রতাপসিংহের পরাভবকারী বলিয়া নিজে প্রতাপনারায়ণ নাম করেন ।১৬ বার্ষিক বিংশতি সংখ্যক দাস ও নয়টি অশ্ব করস্বরূপ আহোমরাজকে দেওয়ার যে নিয়ম ছিল, এই সময় হইতে তাহা রহিত হয়।১৭ কথিত আছে, যশোমাণিক শক্রদমনের এই বিজয়ের পর কোচবিহার করিয়াছিলেন, এবং পশ্চিম কোচরাজ্যের অধীশ্বর লক্ষ্মীনারায়ণের কন্যার পানি গ্রহণ করতঃ, ইহার সেবা পরিচালনের বন্দোবস্ত করিয়া দিয়েছিলেন 1১৮ জয়স্তেশ্বরী মূর্তি শ্রীহট্টের পঞ্চখণ্ড পরগণায় জয়ন্তেশ্বরী সম্বন্ধে কিন্তু অন্যরূপ প্রবাদ শুনা যায়। সুরমানদীর উত্তর তীরবর্তী ভূভাগ প্রায়ই জয়ন্তীয়াপতির অধিকারে ছিল, এমন কি ইংরেজাধিকারের পূর্বর্ব পর্য্যস্তও দক্ষিণকাছ পরগণা জয়ন্তীয়া রাজ্যের অঙন্গস্বরূপ গণ্য হইত; জয়ন্তীয়ার সীমা কখন কখন আরও দক্ষিণে অগ্রসর হইত । পঞ্চখণ্ড পবগণা পর্য্যন্ত কোন সময় জয়ন্তীয়ার সীমা বিস্তৃতি হইয়াছিল কি না বলা যায় না; কিন্তু তত্রত্য সুপাতলা গ্রামে দুর্গাদলই নামে জয়ন্তীয়ার জনৈক কর্মচারী বাস করিতেন বলিয়া জানা যায়। দুর্গাদলইর দীঘী এখনও উক্ত গ্রামে জঙ্গলাচ্ছাদিত হইয়া রহিয়াছে। কথিত আছে, এই দীর্ঘ খননকালে দু"খানা মূর্তি পাওয়া যায়; একখানা বিষ্ুমূর্তি, ইহাই পঞ্চখণ্ডের বাসুদেব । দ্বিতীয়খানা দুর্গামূর্তি। তাহা দলই কর্তৃক জয়ন্তীয়ায় প্রেরিত হয়। কিন্তু এই মূর্তি জয়ন্তেশ্বরীর মূর্তি না হইয়া গৌরীশঙ্কর বা অন্য কোন প্রস্তরমূর্তি হওয়াই সম্ভব । ধাতুমূর্তি বহুকাল মাটীর নীচে অবিকৃত অবস্থায় থাকা সম্তাবনীয় নহে। সুন্দর রায় ও ছোটপর্র্ত রায় যশোমাণিকের মৃত্যুর পর (১৬২৫ খৃষ্টাব্দ) সুন্দর রায় জয়ন্তীয়ার সিংহাসনে উপবেশন করেন; তিনি ১৬২৫ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৬৩৬ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত জয়ন্তীয়া শাসন করেন বলিয়া কথিত হয়। ইহার মৃত্যুর পর ছোটপবর্বত রায় রাজা হন; তাহার রাজত্বকাল ১৬৩৬ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৬৪৭ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত । এই দুই রাজার বিবরণ কিছুই জ্ঞাত হওয়া যায় নাই। সম্ভবতঃ তাহাদের রাজত্ব সময়ে কোনরূপ বিগ্রহাদি ম্মরণীয় ঘটনা উপস্থিত হয় নাই। ১৬. -09105 1715101 01 /859ল970- 01210, 1৬, 2110 2. 6707 109, 248. ১৭. "নি017) (1881 0216, (1101702901)9115 068560 (0 1709) 1176 01101006 01 [1776 10010185 9100 (৮/৪7)19 51255 ৮/11017) 01025 1880 001706119 0152 (01076 40005. -1২010011 07) (170 [0107555 06076 11150011081 70562101165 11) 4552117-- 1897. 018. ১৮. [015 5710 07981 176 1010101510 19200 ৮/111 11ঘ। 00610096601 051776095201, ৮৮010 955 (10277060011) ৮/015101001900 ৮৮111) 2621 98551001092 0211761981)111 70910517150 01 9599800- 01720, 20. 5551. দ্বিতীয় অধ্যায় আহোম বিজয় যশোমন্ত রায় পূ্ব্বাধ্যয়ে বর্ণিত ছোট পব্র্বতরায়ের মৃত্যুর পরে তদীয় উত্তরাধিকারী যশোমন্তরায় ১৬৪৭ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনারোহণ করেন। আহোমদের অধিপতি নরিয়া রাজা (সুতিনফা) ১৬৪৭ খৃষ্টাব্দে (রাজ্যাধিকারের পরেই) তৎসন্নিধানে দূত প্রেরণ পূর্বক তৎসহ মিত্রতা স্থাপন করেন। দুঃখের বিষয় রাজনৈতিক মৈত্রী অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হইতে পারে না। একটী আহেমপ্রজা জয়ন্তীয়ায় বাণিজ্যের অনুমতি প্রাপ্ত হইয়াছিল। সে জয়ন্তীয়া রাজ্যে প্রবেশ করিলে,_কি কারণে বলা যায় না, ধৃত ও বন্দীকৃত হয় এবং তাহার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। নরিয়া রাজা এই সংবাদ জানিতে পারিয়া, রাজা যশোমন্ত রায়কে ইহা জানাইলে, যদিও সে ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়া দেওয়া হইয়াছিল, কিন্তু তাহার সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করা যায় নাই। এই ঘটনায় উভয়রাজ্যে বিবাদের সূত্রপাত হয়, উভয়রাজ্যের পার্বত্য পথ গুলি বন্ধ করা হয়, এবং জয়ন্তীয়ার কতিপয় ব্যবসায়ীকে যুবরাজ জয়ধ্বজ (সুতামলা) ধৃত করতঃ কারারুদ্ধ করেন। এই বিরোধ আট বৎসর কাল চলিয়াছিল; তৎপর উভয় রাজ্যে পুনরায় মৈত্রী স্থাপিত হয়। ১৬৫৮ খৃষ্টাব্দে রাজা যশোমস্তের পৌত্র প্রথম রায় বিদ্রোহ উত্থাপন করেন; কিন্তু তাহাতে কিছুই হয় নাই । ইহার দুই বৎসর পর তাহার মৃত্যু হয়। বাণসিংহ ও জয়ন্তীমুদ্বা যশোমন্তরায়ের মৃত্যুর পর বাণসিংহ (১৬৬০ খৃষ্টাব্দে) রাজা হন। ১৬৬৩ খৃষ্টাব্দে যখন আহোম নৃপতি চক্রব্বজ (সুপাং মাং) সিংহাসনারোহণ করেন, সেই উৎসবে নিমন্ত্রিত হইয়া বাণসিংহ তৎসহ সাক্ষাৎ করিয়াছিলেন । জয়ন্তীয়ায় প্রাচীনকাল হইতে মুদ্রা প্রস্তুত হইত, কোচরাজ নরনারায়ণের অনুজ্ঞানুসারে জয়ন্তীমুদ্রাতে রাজগণের নাম মুদ্রণের প্রথা রহিত হয়, বলা গিয়াছে । জয়ন্তীয়ারাজ বাণসিংহের রাজত্বকালের যে একটা মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে, তাহাই ইহার প্রমাণ। জয়ন্তীয়ার স্থানীয় ভাষায় এই মুদ্রাকে “কাটরা টাকা” বলে। টাকার একদিকে তরবারি (কাটারি) চিহ্ন অঙ্কিত থাকায় এরূপ নামকরণ হইয়াছে । যে কথা বলা যাইতেছে, উহার সম্মুখভাগে *শ্রীশ্রীজয়ন্তাপুর পুরন্দরস্য ১৫৯১” এবং বিপরীতদিকে “শ্রীশ্রীরঘুনাথ পাদপদ্ পরায়ণস্য” মুদ্রিত আছে। এই মুদ্রা হইতে রাজার ধর্ম বিশ্বাসের পরিচয়ও পাওয়া যায়। তিনি রাম উপাসক না হইতে মুদ্রায় রঘুনাথের নাম মুদ্রিত হত না ।১ ১৬৬৯ খৃষ্টাব্দে তাহার মৃত্যু হয়। ১. অথবা রদুনাথ নামক কেহ রাজগুরু ছিলেন, এবং তাহার নামই “কাটরা টাকায়” মুদ্রিত হয়, ইহাও কল্পনা করা যাইতে পারে। জয়ন্তীপুরকে তদ্দেশে কথ্য ভাষায় “জয়ন্তাপুর” বলা হয় বলিয়াই মুদ্রাতে “জয়স্তাপুর” নাম মুদ্রিত হইয়া থাকিবে । ৩৬২ শ্রীহট্রের ইতিনৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড প্রতাপসিংহ ও লক্ষ্মীনারায়ণ ্‌ বাণসিংহের পরবর্তী রাজা প্রতাপসিংহ। ১৬৭৮ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত (সম্ভবতঃ) তিনি জয়ন্তীয়ার রাজসিংহাসনে ছিলেন; ইহার রাজত্ব বিবরণ কিছুই জ্ঞাত হওয়া যায় না। ইহার পরে লক্ষ্মীনারায়ণ সিংহাসন প্রাপ্ত হন। গেইট সাহেব কৃত আসামের ইতিহাসে ইহার রাজত্বকাল ১৬৭৮ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৬৯৪ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত লিখিত হইয়াছে। তিনি জয়ন্তীয়াপুরে যে এক রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন, তাহার ভগ্রাবশেষ অদ্যাপি আছে। ইহার দ্বারদেশে সংলগ্ন প্রস্তর লিপিতে “১৬৩২” শক অঙ্কিত দৃষ্ট হয়। কিন্তু (১৬৩২ শক) ১৭১০ খৃষ্টাব্দ ইহার সময়ের অনেক পরবর্তী বলিয়া গেইট সাহেব অনুমান করেন যে, ১৬০২ শকই বিশুদ্ধ পাঠ। যাহা হউক, এ প্রস্তর-লিপি ১৬৩২ শকে, পরবর্তী রাজা কর্তৃক তথায় যে সংলগ্ন হয় নাই, তাহারও কোন প্রমাণ নাই। অন্যত্র২ উল্লেখ আছে যে, আহোমরাজ চক্রধ্বজ (সুপাং মাং) এবং উদয়াদিত্যের সসুনাট ফা) সহিত লক্ষ্ীনারায়ণের রাজনৈতিক পত্রাদির আদান প্রদান চলিত । উদয়াদিত্য লক্ষ্মীনারায়ণের সাময়িক রাজা হইলেও চক্রধ্বজ তাহার পূর্ববর্তী রাজা ছিলেন; “আসামের বুরঞ্জী” হইতে তাহা জানিতে পারা যায়। লক্ষ্মীনারায়ণের পরে রামসিংহ জয়ন্তীয়ার রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন । ১৬৯৪ হইতে ১৭০৪ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত ইহার রাজত্বকাল। প্রতারণা পুরবর্বক পর সম্পত্তি গ্রাস করিতে প্রয়াস পাইলে কিরূপ প্রতিফল পাইতে হয়, তদুদাহরণে ইহার কাহিনী পূর্ণ! কাছাড়রাজ তাত্রধ্বজের কিঞ্চিৎ পৃরর্ব হইতে হৈড়ন্ব (কোছাড়) পতিগণ আসামের আহোম নৃপতির করপ্রদ রাজা স্বরূপ ছিলেন। তাশ্রধ্বজ কর প্রদান করা রহিত করেন। ইহাতে আহোম রাজ বদ্রসিংহ (সুক্রংফা) ১৭০৬ খৃষ্টাব্দে ডিসেম্বর মাসের শেষাংশে কাছাড়রাজ্য আক্রমনার্থ দুইদল সৈন্য প্রেরণ করেন। উভয় দলে প্রায় সপ্ততি সহস্র সৈন্য ছিল। একদল সৈন্য রহা দুর্গের পথে এবং অপর দল ধনশিরী (ধনশ্রী) নদীতীর পথে ধাবিত হয়। ইহারা অতি সহজেই কীর্তিপুর (মাইবঙ্গ) অধিকার করিল। তাম্রধ্বজ পলায়নপূবর্বক কাছাড়ের সমতলস্থিত খাসপুরে গমন করেন। জয়ন্তীয়াপতি রামসিংহের সহিত তাত্রধ্বজের ্রীতিবন্ধন ছিল; খাসপুর আসিয়াই তিনি সত্বর রামসিংহের সহায়তা প্রান্তের প্রত্যাশায় তৎসকাশে দূত পাঠাইলেন। এদিকে জ্বর ও আমাশয় পীড়া সংক্রামক ভাবে আহোম সৈন্যদিগকে আক্রমণ করিলে, তাহারা কাছাড় পরিত্যাগ করতঃ চলিয়া গেল। অতঃপর রাম সিংহের সাহায্য গ্রহণের আবশ্যক নাই, ভাবিয়া তাশ্রধ্বজ তাহাকে জানাইলেন। কিন্তু তিনি অবসর ত্যাগের পাত্র ছিলেন না, তাই সে কথায় কর্ণপাত না করিয়া খাসপুরে আগমন করিলেন। ত্রিপুরার ইতিহাসে লিখিত হইয়াছে-“জয়ন্তীয়ারাজ একখানি উৎকৃষ্ট ও বৃহৎ নৌকা প্রস্তুতপূবর্বক তদারোহণে খাসপুরে গমন করেন। তিনি মহারাজ তাশ্রধ্বজকে বলিলেন, “বন্ধো! আমি এই নৌকা আপনার জন্য প্রস্তুত করাইয়াছি, আসুন আমরা উভয়ে ইহাতে একবার আরোহণ করি” । সরলচিত্ত তাত্রধ্বজ সেই নৌকায় আরোহণ করিলে, কপটমিত্র জয়ন্তীয়াপতি তাহাকে বঙ্ধনপৃরর্বক বরবক্রের প্রবল স্লোতে নৌকা ছাড়িয়া দিলেন। কাছাড়-পতির সৈন্যগণ আশ্চর্য্য ঘটনা দর্শনে ধনুবর্বাণ হস্তে ২. "চ২6001 01 0186 170£555 01017 11150011091 [550901)65 11) /55210-1897. 2. 18. দ্বিতীয় অধ্যায় : আহোম বিজয় শ্রীহত্ট্রের ০ ৩৬৩ ৩৬৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড দণ্ডায়মান হইল । তাত্রধ্বজ হস্তসঞ্চালন দ্বারা তাহাদিগকে নিষেধ করিলেন। জয়ন্তীয়া-পতি স্থীয় রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া কাছাড়পতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করিলেন। তদনস্তর তাশ্রধ্বজের পত্বী রাণী চন্দ্রপ্রভাবতী জয়ন্তীয়ারাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও সমস্ত অবস্থা বর্ণন পৃবর্বক আসামের অধিপতি স্বর্গদেবের৩ সাহায্য প্রার্থনা করিলেন ।8 রামসিংহ এই সময় কাছাড়ের অনেক স্থান নিজরাজ্যভুক্ত করিয়া লইয়াছিলেন। বুন্দাশীল ও ইচ্ছামতী দুর্গ এই সময় আক্রান্ত ও পরিগৃহীত হইয়াছিল। গেইট সাহেব লিখিয়াছেন যে, তাশ্রধ্বজ নিজেও স্বর্দেবের নিকট, জনৈক ধর্মাচার্য্য ছারা পূর্ব অবাধ্যতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতঃ সাহায্য প্রার্থনা করিয়াছিলেন ।৫ আহোম সৈন্যের জয়ন্তীয়া আক্রমণ কাছাড়-রাজ মহিষীর প্রার্থনানুসারে আহোমরাজ রুদ্রসিংহ, তাম্রধ্বজকে সত্তর মুক্তি দেওয়ার জন্য রামসিংহকে, তদীয় সামন্ত গোভা নাম স্থানের আহোম রাজকর্তৃক জানাইলেন। রামসিংহ তাহাতে কর্ণপাত করিলেন না। ইহাতে রুদ্রসিংহ রুদ্রমূর্তি ধারণ করিলেন। প্রথমেই গোভার বাজার বন্ধ করা হইল, তৎপর ১৭০৭ খৃষ্টাব্দে ডিসেম্বর মাসের প্রথমাংশে ব্রিচত্বারিংশৎ সহস্র (৪৩০০০) সৈন্যসহ সেনাপতি বড়বড় য়া কপিল উপত্যকা পথে জয়ন্তীয়াপুর অবরোধ করিতে ধাবিত হইলেন। দ্বিতীয় একদল সৈন্য সেনা-নায়ক বড়ফুকনের অধীনে গোভার মধ্য দিয়া অগ্রসর হইল । জয়ন্তীয়ার অন্তর্গত বালেশ্বর. ধলাগাও, ও মূলা গোল স্বল্লায়াসেই অধিকৃত হইল । বড়বডুয়া মূলাগোল হইতে জয়ন্তীয়া-পতির নিকট এক দৃত পাঠাইয়া, তাশ্রধ্বজকে অর্পণ করা হইবে কি না, জিজ্ঞাসা করিলেন। রামসিংহ তাহাকে এবং বড় ফুকন্‌্কে অগ্রসর হইতে নিষেধ করিয়া পাঠাইলেন এবং স্থানে স্থানে কামান পাতিয়া রাখিলেন। কিন্তু যখন বিরাট আহোম বাহিনী সন্নিকটবর্তী হইল, নগরে আতঙ্কের উচ্্বাস উঠিল, অন্তঃপুর মধ্য হইতে বিলাপধ্বনি শ্রুত হইতে লাগিল, তখন তাহার সাহস ও রণোতৎসাহ চলিয়া গেল। তিনি মূল্যবান ধনরতু ভূগর্তে প্রোথিত করিয়া পলায়ন করিতে কৃতসন্কল্প হইলেন। জয়ন্তীয়ার সন্্ান্ত সর্দারগণ ইহা জানিতে পারিলেন এবং রাজাকে নিষেধ করিলেন । দিলেন না;-আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য করিলেন। রামসিংহ উপায়ান্তর বিহীন হইয়া বিংশতি সংখ্যক হস্তী উপহার সহ বড়বড় য়ার শিবিরে চলিলেন। শিবিরে পৌছিলে তীহাকে হস্তী হইতে অবতরণ করিতে হইল; তিনি অস্বপৃষ্ঠে আরোহণ করতঃ সেনাপতির বন্ত্রাবাসে উপস্থিত হইলেন। বড়বড়ুয়া সসম্মানে তাহাকে গ্রহণ করিলেন, কিন্তু তাহাকে আর জয়ন্তীপুরে প্রত্যাবর্তন করিতে দেওয়া হইল না। প্রজাদের গোলযোগ ও জয়স্তীয়াজয় | এদিকে রামসিংহকে রাজধানী আসিতে না দেওয়ায়, জয়ন্তীয়ার সন্তাত্ত সর্দারগণ ব্যথিত ও বিচলিত হইলেন, এবং বড়ফুকন চালিত আহোম সৈন্যকে ক্রমাগত দুইবার আক্রমণ করিলেন। ৩. দেবরাজ ইন্দ্রনংশজ আহোমরাজগণ স্বর্গদেব উপাধি দারণ করিতেন। ৪. শ্রীযূত কৈলাস চন্দ্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাস ৩য় ভাগ ১ম অধ্যায় ২৬১ পৃষ্ঠা । ৫. 08115 1115601% 015527- 01771)- 01. 0298. দ্বিতীয় অধ্যায় : আহোম বিজয় শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত ৩৬৫ দুর্ভাগ্যবশতঃ সেই আক্রমণ ফলপ্রদ না হওয়ায় তাহাদিগকে নিজ হতাহত সৈন্য লইয়া ফিরিতে হইল। অবশেষে জয়ন্তীয়াবাসিগণ বুড়ীটিকর পাহাড়ে নববলের সহিত বিপক্ষদিগকে আক্রমণ করিল, এবং নিজেদের পূর্ব প্রস্তুত কয়েকটা অস্থায়ী দুর্গে নিরাপদে অবস্থান করিতে লাগিল। আহোম সৈন্যগণ পথের দুর্গমতায় ও এইরূপ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আক্রমণ বশতঃ পরিশ্রান্ত হইয়া নব সাহায্যের প্রতীক্ষা করিতেছিল। তাহাদের সাহায্যকারী সৈন্য আসিয়া পৌছিলে, তাহারা সহজেই জয়ন্তীয়াবাসীদিগকে তাড়াইয়া দিল। বিতাড়িত জয়ন্তীয়াবাসীগণ বড়পাণি নদীতটস্থ আটক বা অস্থায়ী দুর্গে আসিয়া জানাইল যে, আহোম সৈন্য গোভায় চলিয়া গেলে, তাহারা তামধ্বজকে প্রত্যর্পণ করিবে। বড়ফুকন একথা গ্রাহ্য করিলেন না এবং তত্রত্য অস্থায়ী-দুর্গ আক্রমণ করতঃ হস্তগত করিলেন। এই সময় বড়বড়ুয়া জয়ন্তীয়াপুরে পৌছিয়াছেন, সংবাদ পাইয়া, তৎসহ সম্মিলিত হইতে তিনি ত্বরিত পদে ধাবিত হইলেন। জয়স্তীয়া অধিকৃত হইল । রুদ্রসিংহ, হৈড়ম্বরাজ তাম্রধ্বজ ও জয়ন্তীয়াপতিকে তাহার নিকট প্রেরণের আদেশ দিলেন। তদনুসারে হৈড়ম্বরাজ মাইবঙ্গ পথে এবং রামসিংহ জয়ন্তীয়ার পাব্বত্যপথে প্রেরিত হইলেন। রুদ্রসিংহের আদেশানুসারে জয়ন্তীয়া-পতির ধনরতুন, অন্ত্শস্তর, গজবাজি, তৎসকাশে নীত হইল এবং অপর সম্পত্তি সৈন্যগণ মধ্যে বিতরীত হইল । জয়ন্তীয়া ও কাছাড়রাজ্য আহোমরাজ্যের অঙ্গীভূত করা হইল। ১৭০৮ খৃষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে এই বিষয় ঘোষণা করা হয়। রুদ্রসিংহ এই রাজনৈতিক সংবাদ শ্রীহট্টের (গৌড়ের) তদানীন্তন ফৌজদার মতিউল্লা বাহাদুরকে জ্ঞাপন করিয়াছিলেন । প্রজাদের পুনরাক্রমণ ও আহোমদের পরাজয় এদিকে জয়ন্তীয়ার অধিবাসিগণ ইহাতে আরও উত্তেজিত হইল। রাজাকে হিন্দু প্রজা দেবতা স্বরূপ জ্ঞান করে । সেই রাজা পর শিবিরে বন্দী, ইহা তাহাদের একান্ত অসহ্য । তাহারা নিজ অধিপতির উদ্ধার কল্পে প্রাণাত্ত চেষ্টা করিতে লাগিল। তাহারা জয়ন্তীয়ার সামন্ত-নৃপতি খাইরামাধিপতি বড় দলকেই স্বমতে আনয়ন করিল এবং দুইশত খাসিয়াপল্লীর অধিবাসীদিগকে উত্তেজিত ও অনুসঙ্গী করিয়া শেষ চেষ্টায় ৃত হইল । রামসিংহ আহোমদের দ্বারা গোভায় নীত হইয়াছিলেন। উৎকৃষ্ট সৈনিক বেষ্টনে, সতর্কভাবে তাহাকে রাখা হইয়াছিল। জয়ন্তীয়ার প্রজাগণ তাহাকে মুক্ত করিতে পারিল না বটে, কিন্তু বড়ফুকনের বিজিত অষ্ট দুর্গের মধ্যে তিনটা প্রথমেই পুনরাধিকৃত হইল । জয়ন্তেশ্বরীর মূর্তি অহোমগণ লইযা গিয়াছিল, তাহারও উদ্ধার করা হইল । অহোম সেনা-নায়ক বহু চেষ্টা করিয়াও ্বাম জয়ে কৃতকার্ধ্য হইতে পারিলেন না। বহুতর অহোমবীর রণশায়ী হইল; ইহাতে অবশিষ্টেরা চকিত, শঙ্কিত ও ছত্রভঙ্গ ক্রমে পলায়িত হইতে লাগিল; এবং অবশেষে পশ্চাদ্ধাবিত জয়ন্তীয়াপুরিগণ কর্তৃক বিতাড়িত হইল। এই পরাজয় সংবাদ প্রাণ্তে রাজা রুদ্সিংহ অন্যতর সেনানায়ক বুড়া গোসাঞ্চির অধিনায়কত্বে আরও চারি সহস্র সৈন্য প্রেরণ করিলেন। ইহারা আসিয়া পৌছিলে সংমিলিত সৈন্যগণ জয়ন্তীয়াপুরিদিগকে আক্রমণ করিল। জয়ন্তীয়াবাসিগণ “বেগতিক” দেখিয়া সম্মুখ সংগ্ামে অগ্রসর হইল না, কিন্তু শিবিরে প্রত্যাগমণ কালে ছাউনির চতুষ্পার্বব্তী গ্রামাদি দগ্ধ করিয়া দিল। তৃতীয় অধ্যায় পরবর্তী কীর্তি জয়নারায়ণ ও হাটকেশ্বর রাম সিংহের উত্তরাধিকারী জয়নারায়ণ তাহার মৃত্যুর পরেই সিংহাসনারোহণ করেন। রাজকোষে একান্ত অর্থাভাব দর্শনে তিনি প্রথমেই টাকা প্রস্তুত করিতে মনোনিবেশ করেন। তীহার রাজ্যারোহণ কালের একটা টাকা পাওয়া গিয়েছে । ইহার সম্মুখ দিকে “শ্ীশ্রীজয়ন্তাপুর পুরন্দরস্য শাকে ১৫৯২” এবং বিপরীত দিকে “শ্রীশ্রীশিব চরণ কমল মধুকরস্য।” এইরূপ লিখিত আছে। তাহার মৃত্যুর বৎসরে মুদ্রিত আর একটা “কাটরা টাকা” মিলিয়াছে; তাহারও উভয়দিকে পুর্বোক্তরূপ এবং শক সংখ্যা ১৬৫৩ মুদ্রিত আছে। রাজা জয়নারায়ণের সময়ে শ্রীহট্টের চুড়খাইড়ু পরগণার সেন গ্রাম নিবাসী আগমবাগীশ উপাধি-ধারী জনৈক বিপ্র হাটকেশ্বর মহাদেবকে জয়ন্তীয়ার বড়হাওর নামক স্থান হইতে নিজগ্রামে আনয়ন ও স্থাপন করেন। হাটকেশ্বর শিব শ্রীহট্রের হিন্দুরাজা গোবিন্দের পূজিত দেবতা । যখন শ্রীহস্ট্রে যবনগণ প্রবিষ্ট হয়, যখন শ্রীহট্টের গ্রীবাপীঠ প্রভৃতি দেবস্থান সংগোপিত করিয়া, বিপ্রবের করাল গ্রাস হইতে রক্ষা হয়, তখন এই প্রাচীন শিব প্রান্তবস্তা হিন্দুরাজ্য জয়ন্তীয়ার জঙ্গলাচ্ছাদিত প্রান্তরে ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক আনীত ও রক্ষিত হন। এই শিব রাজা জয়নারায়ণের সময়ে আগমবাগীশ কর্তৃক সেনগ্ামে নীত হইলে, রাজা তত্শ্ববণে ক্রুন্ধ হইয়া সসৈন্যে সেনগ্রামে আগমন করেন । চুড়খাইড় সম্ভবতঃ তৎকালেই জয়ন্তীয়া রাজ্যের অধীন করা হয়। জয়ন্তীয়ার শেষ নৃপতি রাজেন্দ্র সিংহের সময় পর্যন্ত ইহা জয়ন্তীয়ার অধীন ছিল। সেন গ্রামে পৌছিয়া রাজা আগমবাগীশকে শিব আনয়নের বিষয় জিজ্ঞাসিলে তিনি ভীত হইলেন ও বলিলেন যে ইচ্ছা করিলে মহারাজ মহাদেবকে পুনঃ জয়ন্তীয়াপুরে লইয়া যাইতে পারেন । কিন্তু শিব আর স্থানান্তরিত হইলেন না এবং আগমবাগীশকে তাহার সেবায়েত নিযুক্ত করা হইল । হাটকেশ্বরের বিশেষ বিবরণ ভৌগলিক- বৃত্তান্ত ভাগে ৯ম অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য । জয়নারায়ণ ও শূরদর্প নারায়ণ কাছাড়-প্রতি তামরধ্বজের পুত্র শূরদর্প নারায়ণ ১৭০৮ খৃষ্টাব্দে নয় বৎসর সিংহাসনারোহণ করেন। জয়নারায়ণেরও সিংহাসনারোহণ কাল তাহাই । শূরদর্প নারায়ণ বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত জয়নারায়ণ আহোম-পতির রক্ষাধীনে ছিলেন। তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে তাহার সহিত জয়ন্তীয়াপতির বিরোধ উপস্থিত হয় । উভয়েই স্ব স্ব পূর্বববর্তীর ন্যায় পরস্পরের অহিত চেষ্টায় প্রবৃত্ত হন। কিন্তু বিবাদের প্রকাশ্য কারণ, একটি অতি জঘন্য ঘটনা । ত্রিপুরার ইতিহাসে লিখিত হইয়াছে, “জয়ন্তীয়া-পতির ভ্রাতা স্থীয় ভ্রাতুষ্পুত্রীর কলুষিত প্রণয়ে মুগ্ধ হইয়া তাহাকে লইয়া পলায়ন করেন। সেই পাপিষ্ঠ ও পাপীয়সীর আশ্রয়দাতা বলিয়া জয়ন্তী-রাজ কাছাড়-পতির তৃতীয় অধ্যায় : পরবর্তী কীর্তি শ্রীহত্্রের ইতিবৃত্ত ৩৬৯ প্রতিকূলে অস্ত্রধারণ করেন। সংগ্রাম উপস্থিত হইলে জয়ন্তীয়াপতির ভ্রাতা স্বীয় প্রণয়িণী ও সহচরবর্গের সহিত দুরাত্রম্য পার্বত্য প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন। প্রবাদ অনুসারে জয়ন্তীয়া- পতির ভ্রাতা ও তাহার ভ্রাতুষ্পুত্রী অঙ্গমী নাগা সরদারগণের আদি পিতামাতা । তাহাদের অনুচরবর্গ ও অন্যান্য নাগাজাতির সংযোগে পরাক্রমশালী অঙ্গমী নাগাদিগের উৎপত্তি প্রবল সংগ্রামে কাছাড়পতি পরাজিত হন। জয়ন্তীয়া-রাজ কর্তৃক মাইবঙ্গ নগরী বিনষ্ট হয়। কাছাড়পতি বর্তমান কাছাড় প্রদেশে উপনীত হইয়া খাসপুরে রাজপাট স্থাপন করেন।”১ শুরদর্প নারায়ন আহোম নৃপতির আশ্রিত ছিলেন, সুতরাং তিনি “আসামপতির সাহায্যে জয়ন্তীয়া বিনষ্ট করিতে স্থিরপ্রতিজ্ঞ হইয়াছিলেন। কিন্তু অকাল-মৃত্যু দ্বারা তাহার সমস্ত উদ্যোগ বিফল হইয়াছিল।”২ বড় গোসাশ্রি (ছ্িতীয়) জয়নারায়ণের মৃত্যুর (১৭৩১ খৃষ্টাব্দ) পর বড় গোসাঞ্ (দ্বিতীয়) সিংহাসনারোহণ করেন। এই সময়ের একটি সিকি মুদ্রা প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে; তাহার সম্মুখদিগকে “শ্রীশ্রীরাজা বড় গোসাঞ্ি” এবং বিপরীত দিকে “সিংহ বাহাদুরস্য-১৬৫৩” এইরূপ লিখিত আছে। সুতরং “রাজা বড় গোসাঞ্জি সিংহ বাহাদুরের” সিংহাসনারোহণ কাল ১৭৩১ খৃষ্টানদের পরে হইতে পারে না। তাহার নামাঙ্কিত ১৬৯২ শতাব্দীয় একখানা তাত্রপত্র প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে । এতএব ১৭৩১ হইতে ১৭৭০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ চল্লিশবর্ষ কাল ব্যাপিয়া তিনি রাজ্যশাসন করেন, ইহা নিঃসংশয়িতভাবে বলা যাইতে পারে । এইরূপ কথিত আছে যে, এক সময় বড় গোসাঞ্ি এবং তাহার ভগ্ী গৌরী কুয়রীকে সামন্তরাজ খাইরামের “সিম্‌” (অধিপতি) ধৃত করিয়া নিয়াছিলেন। অবশেষে চেরাপুঞ্জির সিম্‌ অমরসিংহের প্রেরিত এক ব্যক্তির সহায়তায় তাহারা বিষমুক্ত হন। এই কার্য্যের পুরস্কার স্বরূপ দুইখানা বৃহৎ গ্রাম তদীয় রাজ্য ভুক্ত করিয়া দেওয়া হইয়াছিল । চেরারাজের বংশধরগণ স্থুলপ্রদেশে, আঙ্গাজোর ও ফতেপুর নামক উক্ত দুইগ্রাম অদ্যাপি লাখেরাজ ভোগ করিতেছেন। কি কারণে বলা যায় না, ১৭৬৯ খৃষ্টাব্দে তিনি কতকটি সৈন্য ও সর্দারগণসহ আহোম রাজ্যের সীমার সন্নিকটে গিয়াছিলেন। পরে রহাগামী ক্ষুদ্র আহোম সৈন্যদলের উপস্থিতিতে বিশ্মিত হইয়া প্রত্যাগমন করেন। ইহার পরে, বড় গোসাঞ্ি ও তাহার পত্রী রাণী কাশ্বীসতী হরেকৃষ্ণ উপাধ্যায় নামক ব্রাহ্মণ হইতে ঈশ্বরোপাসনার জন্য মন্ত্র গ্রহণ করেন। বড় গোসাঞ্জি গুরুদক্ষিণা স্বরূপ পরগণা সাতবাক- নয়ামাটি মৌজা হইতে সিংহমোহরাকঞ্কিত তাত্রপত্রে ৬০/ হাল ভূমি এবং কাশাসতী দেবীরাজ অভিমতে পরগণা বাজেরাজ-ধনপুর মৌজা হইতে ৩০/হাল ভূমি গুরুকে বঙ্ষাত্র দান করেন। কালীস্থাপন ও সন্যাসগ্রহণ কথিত আছে, বড় গোসাঞ্জির সময়ে নিজপাটের প্রসিদ্ধ কালীমূর্তি স্থাপিত হন। প্রাচীর বেষ্টিত বাটীকায় সুন্দর ও বৃহৎ মন্দির নির্মাণ করাইয়া, তাহাতে এই কালীমৃর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কালীর এরূপ মাহাত্ম্য ছিল যে, কোন ব্যক্তি প্রাণদপ্ডতের আদেশ প্রাপ্ত হইয়াও কালী বাড়ীতে আশ্রয় লইতে পারিলে দণ্ড হইতে মুক্ত হইত। এই কালীর অর্নার জন্য লীলাপুরী নামক এক সন্ন্যাসী যুবককে নিযুক্ত করা হয়। লীলাপুরীর মহিমার কথা অধিক বলিবার আবশ্যক করে না, ১. শ্রীযুত কৈলাসচন্ত্র সিংহ প্রণীত ত্রিপরার ইতিহাস ৩য় ভাগ ১ম অধ্যায় পৃষ্ঠা ২৫৫। ২. শ্রীযুত কৈলাসমচন্দ্র সিংহ প্রণীত ব্রিপরার ইতিহাস ৩য় ভাগ ১ম অধ্যায় পৃষ্ঠা ২৬১। শ্রীহস্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২৪ ৃ ৭০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড তাহার ধর্মমনিষ্ঠা ও উপদেশে মোহিত হইয়া বড় গোসাগি ব্রহ্ষপুরী হইতে সন্যাসমন্ত্র গ্রহণ করতঃ সন্যাসী হন। (১৭৭০ খৃষ্টাব্দ 1) সন্াসী হইলে তাহার নাম “রাজপুরী” রাখা হয়। এই সময় তিনি খরিল পরগণায় ষোলহাল জমিসহ নিজপাটের কালীবাড়ী উক্ত লীলাপুরীকে দান করেন। এই ভূমি তাহার ভাগিনেয়ী ও ভাগিনেয় এবং উত্তরাধিকারী ছত্রসিংহ, মন্ত্রী উমন্পনর ও সেনাপতি মাণিক্যরায়ের অভিমতে প্রদত্ত হয়।৩ এই “অভিমতি” গ্রহণ করায় বোধ হয় যে, তখন রাজ্যের সহিত তাহার বিশেষ সম্বন্ধ ছিল না। সরকারী কাগজপত্রে দৃষ্ট হয় যে, সন্নযাসের অব্যবহিত পরেই এই ভূমি প্রদত্ত হয়। ইহাও জানা যায় যে বড় গোসাঞ্ি (রাজপুরী) হইতে আত্মাপুরী সন্ন্যাস মন্ত্র গ্রহণ করিয়াছিলেন ।৪ বড় গোসাঞ্চথির দান অনেক পরগণাতেই দৃষ্ট হয়। বর্ণফৌদ ও বাউরভাগ পরগণার ঝিঙাবাড়ী ও দলইর কান্দিতে তিনি কালীর সেবা পরিচালনার্থ যে ভূমি দান করেন, তাহা অদ্যাপি উক্ত কালীবাড়ীর নি্কর মহাল রূপে আছে ।৫ দেবত্র ও ব্রহ্ষত্র ব্যতীতও তাহার ভূদানের বিষয় জ্ঞাত হওয়া যায়। বিনন্দ রাম লঙ্কর নামক ব্যক্তিকে তিনি তিপরা খাল মৌজা হইতে কতক ভুমি “নিমকি” দান করিয়াছিলেন ।৬ ছত্রসিংহ বড় গোসাঞ্ছি সন্ন্যাস গ্রহণ করিলে পর ছত্রসিংহ সিংহাসনারোহণ করেন । শ্রীহট্রের কোন কোন অধিবাসীর উপর অত্যাচার করাতে, মেজর হেনিকার (1%98)07 17610101156) কর্তৃক, ইহার রাজত্ব সময়ে জয়ন্তীয়া জয় করা হয়। পরে জয়ন্তীয়া-পতি অর্থদণ্ড দিয়া কোম্পানী বাহাদুরের তুষ্টি বিধান করিলে (১৭৭৪ খৃষ্টাব্দে) জয়ন্তীয়া রাজ্য বৃটিশ কবল হইতে বিমুক্ত হয়।৭ ছত্রসিংহ রাজার, এই সময়কার (১৬৯৬ শাকাঙ্কিত) একটা কাটরা টাকা পাওয়া গিয়াছে। অর্থদণ্ড প্রদানে অর্থাভাব হওয়ায় ১৭৭৪ খৃষ্টাব্েই তৎকর্তৃক যে কতক টাকা মুদ্রিত হইয়াছিল, তাহা বলা যাইতে পারে । ৩. 1২01১০01017 1110 1১061655 01 11150071021 70502101095 17) 55217071897, 15. 1, ৪. জয়ন্তীয়ায় বৃটিশাধিকার স্থাপিত হইলে ভূমি বন্দোবস্তকালে মালীকগণ স্বত্ের যে প্রমাণ উপস্থিত করেন, তন্মধ্যে দয়ালপুরী সিংহমোহ্রাষ্কিত যে সনদ দাখিল করেন, তাহার বিবরণ শ্রহিট্রের মহাফেজখানায় রক্ষিত, জয়ন্তীয়া প্রথম বন্দোবস্তের কাগজে প্রাপ্ত হওয়া যায়। উক্ত কাগজের ৪&র্থ ধারার ৩৯নং মোকদমার বিবরণে লিখিত আছে-“দয়ালপুরী ১৬৯২ শকাব্দা সনের ১৭ই কার্তিক সিংহ মোহরের তাত্রপত্র দাখিল করে । ইহাতে জানা গেল যে জয়ন্তার বড় গোসাইন রাজা লীলাপুরী সন্ন্যাসী হইতে সন্যাস গ্রহণ করিয়া মঠ মন্দির অর্থাৎ নিজপাট মৌজার কালীবাড়ী ও খরিল পরগণায় ১৬/ হাল জমি এই পত্র দ্বারায় লীলাপুরীকে দান করিয়াছিলেন। সে মতে লীলাপুরী ও তস্য শিষ্য আত্মাপুরীর মরণান্তর বাদীর গুরু গোবিন্দপুরী বাদীকে হিস্বায় রাখিয়া (?) মৃত্যু হওয়াতে তদবধি বাদী; উক্ত মঠমন্দিরে দখলকার থাকিয়া প্রশংসিত দেবতার সেবা পূজা করিতেছে ।” ৫. জয়ন্তীয়ার প্রথম বন্দোবস্তের কাগজ, পং বাউরভাগ । রোবকারি-সন ১২৪৭ বাংলা ১১ শ্রাবণ । ৬, জয়ন্তীয়ার প্রথম বন্দোবস্তের কাগজে ৩৫ নং মোকদ্দমার বিবরণে দৃষ্ট হয় যে ভবানী বড়দলইর পুত্র শ্যামরায় লঙ্কর, তাহার পিতামহ বিনন্দরাম লক্করের “নিমকি” স্বরূপ প্রাপ্ত তিনহালের ভূমের দাবি উপস্থিত করিয়াছিল! এই নিমৃকি শব্দ হইতে কেহ কেহ অনুমান করেন যে জয়ন্তীয়ায় যাহারা লবণ (নিমক) প্রস্তুত করিত, তাহার! পুরস্কার স্বরূপ ভূমি লাখেরাজ প্রাপ্ত হইত । আবার “লাখেরাজ” অর্থেও জয়ন্তীয়ায় “নিমূকি” শব্দের ব্যবহার দৃষ্ট হইয়া থাকে। ৭. 02151115101 01 4592, ৬০1. 20. 1,261. তৃতীয় অধ্যায় : পরবর্তী কীর্তি শ্রীহ্টের ইতিবৃত্ত ৩৭১ তৎকর্তৃক খাজা খিদুরের স্ত্রী নমসবিবি নান্নী রমণীকে “নিমকির জন্য” প্রায় কুড়ি হাল ভূমি লাখেরাজ দানের কথা জ্ঞাত হওয়া যায়।৮ যাত্রানারায়ণ ও বিজয়নারায়ণ ছত্রসিংহের মৃত্যুর পর যাত্রানারায়ণ ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনারোহণ করতঃ পাচ বৎসর কাল রাজত্ব করেন বলিয়া, আমাদের জয়ন্তীয়া-বিবরণ প্রদাতা শ্রীযুক্ত রাধাচরণ পাল লিখিয়াছেন; কিন্তু গেইট সাহেব লিখিত আসামের ইতিহাসে ইহার নাম লিখিত হয় নাই। এই গ্রন্থের “এ” পরিশিষ্টে জয়ন্তীয়া রাজগণের গুণাবলী লিখিত হইয়াছে, তাহাতে ছত্রসিংুহের পর রাজা বিজয়নারায়ণের রাজত্বকাল ১৭৮০ হইতে ১৭৯০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বলিয়া লিখিত হইয়াছে। ১৭০৪। ৭ শতাব্দের দুইটি “কাটরা টাকা” পাওয়া গিয়াছে, কিন্ত্ুু তাহাতেও রাজার নাম লিখিত নাই৷ রাণী কাশাসতী বড় গোসাঞ্জির বিধবা পত্বী রাণী কাশাসতী রাজপুরীর (বড় গোসাঞ্জির) শিষ্য আত্মাপুরীকে বাজেরাজ পরণণাস্থ লামা গোবিন্দপুরে দেবত্র স্বরূপ ১৭১০ শকে পৌষ মাসে (১৭৮৮ খৃষ্টাব্দ) সিংহমোহরাঙ্কিত তাম্পত্রে ২৭/০ হাল ভূমি নি্কর দান করেন।৯ এই ভূমি জয়ন্তীয়া-পতির অভিমতে প্রদত্ত হয়। অন্যত্র১০ দেখিতে পাওয়া যায় এ কাশাসতী দেবীই লীলাপুরী সন্ন্যাসীর মঠস্থ কালীর সেবা পরিচালনার্থে রাজা বিজয়নারায়ণের অভিমতে ২৫/০ হাল জমি দান করেন। এই ভূমি ১৭১০ শকে প্রদত্ত হয়। এতদ্বারা দ্বিতীয় রামসিংহের সিংহাসনারোহণের পূর্ব অর্থাৎ ১৭৯০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বিজয়নারায়ণের শাসনকাল বলা যাইতে পারে । এই দুই সেনাপতির শাসনকাল লইয়া আরও গোলযোগ দষ্ট হয়। গবর্ণমেন্ট রক্ষিত কাগজে১১ লিখিত আছে, “জয়ন্তীর যাত্রানারায়ণ রাজা দেওয়ান মাণিক চন্দ্র রায়কে পং আড়াইখা সম্বন্ধিয় বগাবাড়ি মৌজা হইতে ২৩/।০ জমি ১৭১২ শতাব্দ সনের ২৫ ভাদ্র তারিখে সিংহমোহরের পত্র দ্বারায় দান করিয়াছিলেন ।”১২ ইহা হইতে ১৭৯০ খৃষ্টাব্দেও যাত্রানারায়ণের বিদ্যমানতা প্রমাণিত হইতেছে। এবং তাহাতে এই উভয়কে একব্যক্তি বলিয়াই মনে করা যাইতে পারে ।১৩ গেইট সাহেবের আসামের ইতিহাসে রাজাদের নামাবলীতে এই জন্যই একটি নাম বিলোপ করা হইয়াছে । আমাদের জয়ন্তীয়ার বিবরণ প্রদাতাও, পাচ বৎসর মাত্র যাত্রানারায়ণের শাসনকাল লিখিয়া, পরে ১৭৯০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বিজয়নারায়ণের শাসনকাল বলিয়া লিখিয়াছেন। ৮. রোবকারি-সন ১২৪৭, -পং বর্ণফৌদ। ৯. জয়ন্তীয়া প্রথম বন্দোবস্তের কাগজ, রোবকারি-১২৪৭ বাংলা। ১০. [5])011 0) 00107057095 01 11151011091 79360101105 11 /১33010. 0). 12. ১১. জয়ন্তীয়া প্রথম বন্দোবস্তের কাগজ, রোবকারি-১২৪৭ বাংলা-শ্রাবণ। ১২. অবিকল লিখিত হইল, বর্ণাশুদ্ধি পর্য্যস্ত রাখিয়া দিলাম । জয়ন্তী বা জয়ন্তীয়াপুর তদ্দেশে কথ্য ভাষায় “জয়ন্তাপুর” বলিয়া কথিত হয়। ১৩. এইরূপ অনুমান করিবার পক্ষে একটা সুবিধাও আছে। বাঙ্গালা ভাষায় বিজয়ও যাত্রা একার্থ প্রকাশক । উদাহরণঃ-“বিজয় করিল নদে নন্দ ঘোষের বালা । হাতেতে মোহন বাশী গলে বনমালা॥”- প্রাচীন পদ এবং৪- “একেক দয়িতাগণ যেন মন্ত হাতী। জগন্নাথের বিজয় করায় করি হাতাহাতি ॥”-শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত ৩৭২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড রামসিংহ (দ্বিতীয়) রামসিংহ (দ্বিতীয়) ১৭৯০ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনারোহণ করিয়াছিলেন। ইহার সময়ের একটা সিকিমুদ্বা ও একটা টাকা পাওয়া গিয়াছে । সিকি মুদ্রার রামসিংহ সম্মুখ দিকে "শ্রীশ্রী সিংহ নৃপবরস্য” এবং বিপরীত দিকে “শাকে ১৭১২” অঙ্কিত। টাকাও এ শকাব্দেই মুদ্রিত হয়, তাহারও সম্মুখদিকে পূর্রববূপ এবং বিপরীত দিকে শকাব্দ অঙ্কিত আছে। রামসিংহ অল্প বয়সেই সিংহাসনারোহণ করিয়াছিলেন, তিনি সিংহাসনারোহণ করিয়াও নানা বিষয় শিক্ষা করিয়াছিলেন। একখানা দানপত্র হইতে জানা যায় যে বিজয় মুন্সেফ নামক ব্যক্তি হইতে তিনি লক্ষ্যভেদ শিক্ষা করিয়াছিলেন ।১৪ ঢুগীর মঠ ও বিবিধ দান রাজা রামসিংহের ধর্ম বিষয়ে বিশেষ উৎসাহ ছিল, তিনি প্রথম যৌবনেই নিত্যানন্দ গোস্বামী নামক জনৈক ব্রাহ্মণের নিকট দীক্ষিত হন এবং ঢুপী নামক গ্রামস্থ প্রায় ৪০০ হস্ত উচ্চ একটি সুন্দর শৈলখণ্ডের উপর সুচারু শিল্প শোভিত এক উচ্চ-চুড় মন্দিরে ১৭৯৮ খৃষ্টাব্দে রামেশ্বর নামক শিব স্থাপন করেন। শিবের সন্নিকটে একটা প্রস্তরময় বৃষ রক্ষিত হয়, এটিকে হঠাৎ সজীব বলিয়াই বোধ হইত । বিগত ভীষণ ভূকম্পে এই বৃষটি ও যে মন্দির চূড়া প্রায় দশ মাইল দূর হইতে দৃষ্ট হইত, তাহা বিচুর্ণিত ও ধরাশায়ী হয়। রামেশ্বরকে উদ্ধার করা হইয়াছে। কিন্তু বৃষটি এখনও ইষ্টক রাশির তলে শয্যাগত রহিয়াছে। এই মঠের নামই ঢুপীর মঠ ।১৫ করেন ও তৎসেবা পরিচালনার্থে বৌলখেল, জলডুবি খেল হইতে প্রায় উনবিংশতি হাল ভূমি দান করেন। ইহার পরেও তিনি এই মঠের জন্য দেবত্র দান করিয়াছিলেন; তিনি (১৭৩৫ শতাব্দের ২৫শে ফাল্গুন তারিখে, অর্থাৎ) ১৮০৩ খৃষ্টাব্দে পাচভাগ পরগণা হইতেও ১২৯/০ হাল ভূমি দান করেন।১৬ নিত্যানন্দ গোস্বামীর নাম উল্লেখ করিয়াছি, এই গোস্বামীর উপদেশে বৈষ্ঞবধর্ম্ের তাহার বিশেষ শ্রদ্ধা হয় এবং তিনি ১৮০৬ খৃষ্টাবে শ্রীশ্রীরাধা গোবিন্দ যুগলমূর্তি স্থাপন করিয়া, এই নিত্যানন্দ গোস্কামীকেই তাহার অর্নাকার্য্যে নিয়োজিত করেন ও সেবা পরিচালনার জন্য ১৪. “রামসিংহ রাজা বিজয় “মুনছিপ' হইতে বন্দুক ফয়ের করণের সঙ্কেত শিক্ষা করিয়া বৌলাখেল মৌজা হইতে দশকেয়ারি একহাত জমি সিংহমোহরের পত্র দ্বারা” দান করেন ।-জয়ন্তীয়া প্রথম বন্দোবস্তের কাগজ, মোকদ্দমা নং ৩৭1৫৫ । ১৫. জয়ন্তীয়ার প্রথম বন্দোবস্তের কাগজে দৃষ্ট হয় যে, জগন্নাথপুরী বাদী নামীয় ৬২ নং আপত্তির মোকদ্দমার বিবরণে প্রকাশ আছে £-“রাজা রামসিংহ ঢুপী পবর্বতে শ্রীশ্রীরামেশ্বর শিব স্থাপন করিয়া বাদীর পরমণ্ডর কুকড়পুরী সন্ন্যাসীকে বৌলখেল মৌজা হৈতে তিন কেত্তা জমি মঠ মন্দির সহিত ১৭২০ সনের লিখিত সিংহমোহরের পত্র দ্বারায় দান করাতে রুকড় সন্নাসী, ওপরবাদীর গুরু লীলাপুরী ইহার উপস্থত্ব ভোগদখল করে। ইহা প্রমাণিত হওয়াতে মোয়াজি ৬] জমি নিষ্কর বাহাল থাকা ও বাকি জমির প্রতি + + + (কীট ভক্ষিত) নিযুক্ত করা বিহিত হয়।” ইহা হইতে রুকড়পুরীর পরবস্তীগিণের নামও পাওয়া যাইতেছে; যথা-রুকড়পুরীর শিষ্য লীলাপুরী, তর্থশষ্য জগন্নাথপুরী । কিন্তু আমাদের জয়ন্তীয়ার বিবরণ প্রদাতা ভিন্নরূপ শিষ্য-প্রণালিকা প্রেরণ করিয়াছেন । ১৬. জয়ন্তীয়ার প্রথম বন্দোবস্তের কাগজ। তৃতীয় অধ্যায় : পরবর্তী কীর্তি শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৭৩ চিকনাগোল হইতে ৩৮/০ হাল জমি দান করেন ।১৭ বড় গোসাঞ্জির বিধবা পত্রী রাণী কাশাসতী দীর্ঘজীবনী রমণী ছিলেন; এই সময় পর্যন্ত তিনি জীবিতা ছিলেন। রাজা রামসিংহের অনুমোদিত তাহার প্রদত্ত দানপত্র দৃষ্ট হয়। তিনিও রাধাগোবিন্দের সেবা-পরিচালনার্থ উক্ত গোস্বামীকে ১৮০৬ খৃষ্টাব্দে রাধানগর হইতে কতক ভূমি দান করেন ।১৮ ধর্মপরায়ণা রাণী কাশাসতী বৃদ্ধকালে বহু দেবত্র দান করিয়া জয়ন্তীয়ায় অবিনশ্বর কীর্তি ৯৪৮১১ লিল বাসুদেব ও জগন্নাথের সেবা নিবর্বাহের জন্য মৌজা ডে ২৮০ হাল ভূমি দান করেন।১৯ ১৮১৩ খৃষ্টাব্দে দিতীয় এ ৭ ৬০১০১ র উদ্দেশ্যে আরও কতক তুমি “দান করিয়াছিলেন ।৯০ সন্ধি ব্রহ্মযুদ্ধের আরম্ভকালে ইংরেজ-গভর্ণমেন্ট সীমান্তবর্তী জয়ন্তীয়াপতির সহিত সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হওয়া আবশ্যক বোধ করিয়াছিলেন । ১৮২৪ খৃষ্টাব্দে জয়ন্তীয়াপতি ও ইষ্ট ই্ডিয়া কোম্পানার মধ্যে যে সন্ধিপত্র সাক্ষরিত হয়, তাহাতে “জয়ন্তীয়া অধিপতির স্বাধীনতা চিরদিন অক্ষুণ্ন থাকবে” এই মর্ষের সর্তও ছিল। বৃটিশ পলিটিকেল অফিসার ব্রহ্মদেশীয়দিগকে জয়ন্তীয়ারাজ্যে প্রবিষ্ট না হইবার জন্য এক নিষেধ পত্রিকা লিখিয়াছেন। এই পত্র প্রাপ্তে ব্রহ্মদেশীয়েরাও আর এক “উপর চাল” চালিয়াছিল, তাহারা আপনাদিগকে আহোমদের স্থলবর্তী বলিয়া এবং জয়ন্তীয়ার সহিত আহোমদের পুর্ব সম্বন্ধ উল্লেখ করিয়া, রাজা রামসিংহকে তাহাদের বশ্যতা স্বীকারের জন্য আহ্বান করিয়াছিল। ইহার পরে ব্রহ্মদেশীয় একটি ক্ষুদ্র সৈন্যদল জয়ন্তীয়া রাজ্য সীমার সন্নিকটবর্তী হইয়াছিল; কিন্তু একদল ইংরেজ-সৈন্য রাজসৈন্যের সহিত সম্মিলিত হওয়ার সংবাদ পাইয়াই তাহারা চলিয়া যায়। এই যৎসামান্য গোলযোগ ব্যতীত রামসিংহের শীসনকাল পরম শান্তিতে অতিবাহিত হইয়াছিল। ১৮৩২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত সুদীর্ঘ দ্বিচতারিংশৎ বর্ষকাল তিনি জয়ন্তীয়ার শাসনদণ্ড পরিচালন করেন । তীহার সময়ে জয়ন্তীয়ায় অনেক মঠ-মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়, স্থাপত্য বিদ্যার উৎকর্ষ সাধিত হয়। অনেকেই রাজদত্ত ভূসম্পত্তি প্রাপ্তে অবস্থার উন্নতি সাধনে সমর্থ হয়। ১৭. “রাজা রামসিংহ বাদী জগবন্ধু গোস্বামীর পিতা নিত্যানন্দ গোস্বামীকে ১৭৩৮ সনের ২৫ অগ্রহায়ণ তারিখে রাধাগোবিন্দ দেবতা স্থাপিত করিয়া মৌজা চিকনাগোল হইতে এক কিত্তায় ২৬/০ হাল ও এক কিস্তায় ১২/০ হাল সিংহমোহরের তাম্রপত্রে দেবউত্তর (দেবত্র) দান করিয়াছিলেন।” জয়ন্তীয়া (পাচভাগ পং) প্রথম বন্দোবস্তের কাগজ,-১২৪৭ বাংলা ১১ই শ্রাবণের রোবকারি। ১৮. এ কাগজে-পং বাজেরাজ ভুমিপরিমাণ-২৪--০ হাল দানকারিণী-রাণী কাশাসতী প্রাপক-নিত্যানন্দ গোস্বামী তারিখ ৭ই ভাদ্র, ১৭২৭ শকাব্দ [২০]30৭৮ 01) 0০ [70876950111 11156071091 (6562101105 |) 4552. বিবরণীতেও এই ভুঁদানের উল্লেখ আছে। ১৯ জয়ন্তীয়ার প্রথম বন্দোবস্তের কাগজ, রোবকারি-১২৪৭ বাংলা ১১ শ্রাবণ । ২০ 1২61)017 0ো) 1129 78061769501 006 11150017021 16582701069 111 /১552]7)- 1897. 5, 12. ৩৭৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড তাহার সময়ে প্রজা সাধারণের অবস্থা ভাল ছিল, দেশের দারিদ্র দূর হইয়াছিল এবং তাহাতে রাজকোষেও অর্থ সঞ্চিত হইয়াছিল। রাজকোষে অর্থাভাব উপস্থিত হইলেই সাধারণতঃ দেশের হিতকর কার্য অনুষ্ঠিত হইতে পারে না। রাজকোষে অর্থ থাকিলেই এ দেশের রাজারা সাধারণতঃ দান ধ্যান ও দেবপ্রতিষ্ঠাদি সংকার্ষে মনোযোগ দিয়া থাকেন। রাজা রামসিংহের মৃত্যুর সহিতই জয়ন্তীয়ার সৌভাগ্যসূর্য চিরঅস্তমিত হয়। যে উদ্ধত রাজছত্র পাঠান ও মোগলের প্রচণ্ড প্রতাপেও বিনত হয় নাই, রামসিংহের মৃত্যুর পরেই তাহা বিভগ্নু হইয়া যায়। পরপর্তী অধ্যায়ে তাহা বর্ণিত হইতেছে ; এস্থলে স্বাধীন নৃপতি বর্গের নাম ও [ত শাসন কালের ডল্লেখ পৃব্বক জয়ন্তায়ার ভাগ্য যুগাধ্যায়ের উপসংহার করা গেল। রাজগণের নাম সন্তাবিত শাসন কাল। ১ মহারাজ পর্ব্তিরায় ১৫০০-১৫১৬ খৃষ্টাব্ ২ ” মাঝ গোসাঞ্চি ১৫১৬-১৫৩২ খৃষ্টাব্দ ৩ ” বুড়া পর্বত রায় ১৫৩২-১৫৪৮ খৃষ্টাব্ 8৪ ” বড় গোসাঞ্ি (১ম) ১৫৪৮-১৫৬৪ খৃষ্টাব্ ৫ ” বিজয় মাণিক ১৫৬৪-১৫৮০ খৃষ্টাব্দ ৬ ” প্রতাপ রায় ১৫৮০-১৫৯৬ খৃষ্টাব্দ ৭ ” ধন মাণিক ১৫৯৬-১৬১২ খৃষ্টাব্ ৮ ” যশোমাণিক ১৬১২-১৬২৫ খৃষ্টাব্দ ৯ ” সুন্দর রায় ১৬২৫-১৬৩৫ খৃষ্টাব্ ১০ ” ছোট পর্রবতরায় ১৬৩৬-১৬৪৭ খৃষ্টাব্দ ১১ ” যশোমত্ত রায় ১৬৪৭-১৬৬০ খৃষ্টাব ১২” বাণসিংহ ১৬৬০-১৬৬৯ খৃষ্টাব্দ ১৩ ” প্রতাপসিহহ ১৬৬৯-১৬৭৮ খৃষ্টান ১৪ ” লক্ষমীনারায়ণ ১৬৭৮-১৬৯৪ খৃষ্টাব্দ ১৫ ” রামসিংহ (১ম) ১৬৯৪-১৭০৮ খৃষ্টাব্দ ১৬ " জয়নারায়ণ ১৭০৮-১৭৩১ খৃষ্টাব্দ ১৭” বড় গোসাঞ্জি (২য়) ১৭৩১-১৭৭০ খৃষ্টাব্দ ১৮” ছত্রসিংহ ১৭৭০-১৭৮০ খৃষ্টাব্দ ১৯ ” যাত্রানারায়ণ বা বিজয় নারায়ণ ১৭৮০-১৭৯০ খৃষ্টাব্দ ২০ ” রামসিংহ (২য়) ১৭৯০-১৮৩২ খৃষ্টাব্দ চতুর্থ অধ্যায় বৃটিশাধিকার জয়ন্তীয়া মহাপীঠ প্রকাশ সম্বন্ধে যে গল্প প্রচলিত আছে, তাহার সহিত একটি রাখাল বালকের অপমৃত্যুর কথা জড়িত রহিয়াছে। সেই গল্পচ্ছলেই হউক বা কালিকা পুরাণোক্ত বিধানানুযায়ীই হউক ফালজোরের কালী সদনে নরবলি প্রদানের প্রথা প্রবর্তিত হইয়াছিল । শারদীয়া পূজার নবমী তিথিতে এবং রাজকুমারদের জন্মাদি বিশেষ উৎসব উপলক্ষে তথায় নরবলি দেওয়া হইত । চরগণ ভিন্ন রাজ্য হইতেই সাধারণতঃ বলির জন্য মনুষ্য সংগ্রহ করিত। তৎকালে শ্রীহট্টবাসীর ইহা এক ভীষণ ভয়ের বিষয় ছিল। মনুষ্য সংগ্রহকারীরা “খোজকর” বা “খোজেধরা” নামে কথিত হইত । খোজকরের নাম করিয়া বৃদ্ধেরা শিশুদিগকে ভয় দেখাইত; অতি দুরন্ত ছেলেও খোজকরের নামে গৃহকোণে লুকাইত ।১ ১৮২১ খৃষ্টাব্দে যখন রামসিংহ (২য়) জয়ন্তীয়ার শাসনদণ্ড পরিচালনা করিতেছিলেন, তখন শ্রীহট্র হইতে কয়েকটি বৃটিশ প্রজা ধৃত করিয়া জয়ন্তেশ্বরীর নিকট বলি দেওয়া হয়। গবর্ণমেন্ট এই সংবাদ প্রাপ্তে রায় সিংহকে এক সুতীব্র পত্র লিখিয়া জানাইয়াছিলেন যে, ভবিষ্যতে বৃটিশ প্রজার উপর এইরূপ অকথ্য অত্যাচার ঘটিলে-এইরূপ নরহত্যা হইলে জয়ন্তীয়া অধিকার করা হইবে । ইহার পর কয়েক বৎসর নরবলির সংবাদ পাওয়া যায় নাই। রাজেন্দ্রসিংহ ও নরবলির কথা রামসিংহের মৃত্যুর পর ১৮৩২ খৃষ্টাব্দে রাজেন্দ্রসিংহ সিংহাসনারোহণ করেন । এঁ বৎসরেই কয়েকটি বৃটিশ প্রজাকে কালীর সম্মুখে বলি দেওয়ার কথা প্রচারিত হয়; ইহাতেই বিভ্রাট ঘটে। কিন্তু জানা যায় যে, রাজা প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। যদিও জয়ন্তীয়ায় এরূপ একটা প্রবাদ চলিয়া আসিতেছিল যে, যে বৎসরে দেবীর নিকট নরবলি না হইবে, সেই বৎসরে রাজা রাজ্যচূত হইবেন; যদিও অজ্ঞতাবশতঃ এই প্রবাদে অনেকেরই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তথাপি রাজাকে এই হত্যা সম্বন্ধে দোষী স্থির করা সঙ্গত হয় না। জয়ন্তীয়াপুরের কোন ব্যক্তিই ব্যক্ত করে না যে, ১ আমাদের বাল্যকালে এই ভয়ের কারণ দূর হইয়া গেলেও, “খোজে ধরার ভয়” দেখানের রীতি অচল হয় নাই। জয়ন্তীয়ার মত, অতি প্রাচীন কালে ব্রেপুর-রাজগণও নরবলি দিতেন। এমন কি, জনৈক রাজা নরবলির প্রসাদ খাইয়াছিলেন বলিয়া সংস্কৃত রাজমালায় লিখিত আছে। যাহা হউক, খোজকর শব্দের ব্যবহার শ্রীহ্ট অঞ্চলে, জয়ন্তীয়ার নরবলির পূর্ব হইতেই প্রচলিত ছিল বলিয়া! বোধ হয়। আইন-ই-আকবরিতে লিখিত আছে যে, শ্রীহট্ট হইতে খোজা আমদানী হইত । খোজা ব্যবসায়ীগণ অপরের ছেলে চুরী করিয়া প্রক্রিয়া বিশেষে তাহাদিগকে নপুংসক করিয়া লইত। “খোজকর” শব্দের প্রচলন সম্ভবতঃ সেই সময় হইতে হইয়া থাকিবে; পরে জয়ন্তীয়ার ছেলেধরাদের প্রতিও এ শব্দ প্রযোজ্য হইয়াছিল শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহোদয় লিখিয়াছেনঃ-“শ্রীহত্ট হইতে খোজা ভারতের সর্বত্র রপ্তানি হইত । মোসলমানদের এই একটা ব্যবসায় দীড়াইয়াছিল যে উহারা ছেলেদের খোজা করিয়া বিক্রি করিত। কেবল নিজেদের বালকগণের যে এই দশা করিত, তাহা নহে, নলে ছলে অন্যান্য স্থল হইতে ছেলে সংগ্রহ করিয়া খোজা করিত। জাহাঙ্গীরের সময় উহা নিবৃত্ত হয় এ ব্যবসায় হইতেই খোজকরের ভয় এদেশে প্রবল হইয়াছিল ।” ৩৭৬ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড রাজা রাজেন্দ্রসিংহ এই হত্যা সংশ্রবে ছিলেন।২ রাজা রাজেন্দ্রসিংহ বৈষ্ণবধর্মের গোড়া ছিলেন, বৈষ্ঞবধর্ম্মে তাহার প্রগাটু নিষ্ঠা ছিল। “জীবে দয়া” যে ধর্মের সার উপদেশ, সেই ধর্ম তিনি যাজন করিতেন, সেই ধর্মের অনুষ্ঠানে- হরিনাম সংকীর্্নেই তিনি সর্বদা রত থাকিতেন, এই জন্য বালক হইলেও লোকের কাছে তিনি “রাজা যুধিষ্ঠির” বলিয়া কীর্তিত হইতেন। রাজা রাজেন্দ্রসিংহ ভক্ত ছিলেন, ভক্তির সহিত নিজ উপাস্যদেবতার লীলাঘটিত গীত রচনা করিতেন ও তাহা স্বয়ং গান করিয়া তৃপ্ত হইতেন।৩ এই কবি ও ভক্ত রাজা হত্যা সংশ্রবে ছিলেন ইহা বিশ্বাস করিতে ইচ্ছা হয় না। রাজা হত্যা সংশ্রবে না থাকিলেও কুচত্রীর চক্রজালে তিনি জড়িত হইয়া পড়িয়াছিলেন। কুচত্রীর চক্রান্ত ও ভীষণ বলি শ্রুত হওয়া যায় যে, জয়ন্তীয়ারাজের জনৈক মন্ত্রী কোন গুরুতর অপরাধে কারারুদ্ধ হইয়াছিলেন; তিনিও কোনক্রমে করাগার হইতে পলায়ন করেন; এবং আত্মরক্ষা ও প্রতিশোধ গ্রহণের প্রবল তাড়নায় অধীর হইয়া কৌশলক্রমে পরম যত্বে এইরূপ একটি ঘটনার সৃষ্টিক্রমে তাহা বৃটিশ গবর্ণমেন্টের গোচরীভূত করেন। গোভার সামন্ত নৃপতি তাহার সহায় ছিলেন। ২. আমাদের জয়ন্তীয়ার বিবরণ প্রদাতা শ্রীযুত রাধাচরণ পাল লিখিয়াছেন-“আমরা গভীর অনুসন্ধানে পরিজ্ঞাত হইয়াছি, রাজা কখনও নরবলি দিতেন না। রাজেন্দ্রসিংহের সমসাময়িক অনেক লোককে বাল্যকালে দেখিয়াছি, তাহারা সকলেই একবাক্যে এপ বলিতেন।” ৩. এই নৃপতি-কৰি কৃত একটি ঝুলন-সঙ্গীত এইঃ- ঝুলন সঙ্গীত রাগিণী-সুরট মল্লার, তাল-কেওয়ালি। ঘুঙ্গুরেরা ঝননন বাজে, দহু ঝোলনা ঝোলে। [ধু] রঙ্গে রঙ্গিনী রঙ্গিয়া গোপীয়ানা বিছে, ক্যাবলি আচানক ছাজে (সাজে)! ছোওয়া বেলি, কুন্দন কেওয়ালী, জাই জুই দল বেল চান্বেলি, মত্ত চিত্ত মধুপান মগনমে, ভ্রমরা ভননন গাজে।১! রূপ রঙ্গকি ঘটা বনিয়ে, এওছে ছিঙ্গরোয়া বরণ নাহি যাওয়ে, নিরখি নিরখি বলি যাউ, চরণকো রাজা রাজেন্দ্রসিংহ মহারাজে! ২ শব্দের অর্থঃ- ঘুঙ্গুরোয়া-ঘৃঘুর, পায়ের অলঙ্কার বিশেষ। গোপীয়ানা-গোপীগণ। ছোওয়া-পুষ্পবিশেষ। গোজে-গুপ্রন করে। বিছে-মধ্যে। বনিয়েনির্মিত হওয়া, তৈয়ার হওয়া । এওছে ছিঙ্গরোয়া_এরপ শৃঙ্গার বা বেশ। ৪. এই মহাত্বার বংশীয়গণ অদ্যাপি জয়ন্তীয়ায় বাস করিতেছেন। চতুর্থ অধ্যায় : বৃটিশাধিকার শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৭৭ গোভা-পতি ছত্রসিংহ এই অনর্থের মূল। তাহার নিয়োজিত চরগণ বলির জন্য চারিটি বৃটিশপ্রজা ধৃত করিয়া লইয়া যায়। এঁ ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনটিকে কালীর সম্মুখে বলি দেওয়া হয়, চতুর্থ ব্যক্তি পলায়নপূর্র্বক প্রাণরক্ষা করে। এই নৃশংস ব্যাপারের সংবাদ বৃটিশ কর্তৃপক্ষীয়ের গোচরীতুক্ত হইলে গভর্ণমেন্ট প্রকুপিত হন । হতাবশিষ্ট চতুর্থ ব্যক্তি গবর্ণমেন্টে এই সংবাদ প্রথম প্রচারিত করে বলিয়াও শুনা যায় ।৫ জয়ন্তীয়া গ্রহণ প্রায় আড়াই বৎসর কাল রাজা ও গবর্ণমেন্টের মধ্যে এই বিষয় লইয়া পেখালেখি হইল, স্বরূপ জয়ন্তীয়ার সমতল ক্ষেত্রে ১৮৩৫ খৃষ্টাব্দে বৃটিশ শাসনাধীন করা হয়।৬ ইহাই সরকারি বিবরণের মর্ম । লোকমুখে আরও কিঞ্চিৎ জানা যায় । ছাতকের ইংলিশ কোম্পানীর হেরি সাহেব (7279 [77119)-যিনি এসিষ্টান্ট পলিটিকেল এজেন্ট ছিলেন, ইতিপৃবের্ব জয়ন্তীয়াপতির সহিত ব্যক্তিগতভাবে মৈত্রী স্থাপিত করিয়াছিলেন । সরলহদয় রাজা. রাজনীতিবিৎ এই ইংরেজ বন্ধুর কূটকৌশলে বিনা যুদ্ধে নিরস্ত্র ও শান্তভাবে ধৃত হন। তিনি স্বীয় সেনাপতি ও মন্ত্রীবর্গের নিষেধ সত্ত্বেও বন্ধুর নিকট উপস্থিত হইয়া আত্ম-সমর্পণ করেন । শোনা যায় যে, তখন তিনি ষোলবর্ষ বয়সের বালকমাত্র ছিলেন। তখনও তাহার মুখে রেখা-গোপ বই উঠে নাই। তাহাকে শ্রীহন্টে আনয়ন করা এবং তত্রত্য বাবু মুরারি চন্দ্রের বাড়িতে রাখা হয়।৭ এইরূপে জয়ন্তীয়া রাজ্যের সমতলভাগ গৃহীত ও রাজা বন্দীদশাগ্রস্ত হইলেন। তাহার রাজ্যের পার্বত্য অংশ তখনও গ্রহণ করা হয় নাই। কিন্তু রাজ্যের লাভজনক সমতলাংশ গৃহীত ৫. "্যা। 1832, 00 90191001501 01006 8710151) 009৬1018]1001) ৬০16 56120 109 ০1010105111, 00০ [২9]2 06 00৬9, 0178 ০1116 [96119 ০1)1600211)5 06191100101 017 910062201), (106৮ ৮/০1৩ 0817160 00 2. 121181016 ৮/1101)17) 00 10011002810755 01 00102 ৮/17676 (7100 ৮/০16 09008701151 17000019150 21 006 91071106 01015911, 006 0001101 [970৬10017012119 20600601015 55090911700 050 0701051% 06711001165 210 69৬6 11011719010 01 006 100771016 58011006 ৬/10101) 10980. 10621) 90001001151." -1/190106152165 10101/-7951 চ101701675 01 7617091. 7. 233. এই বিবরণে পাওয়া যাইতেছে যে, জয়ন্তীয়ার সামন্তরাজ্য গোভাস্থিত কোন এক কালী মুর্তির নিকটে এই নরবলি দেওয়া হইয়াছিল। এতদ্বারা জয়ন্তীয়ারাজের নির্দোষিতা সম্বন্ধে পৃরর্বকথিত জনশ্রুতির সত্যতা সম্যক উপলব্ধি হয়। ৬. [7 00560116170 019110191) 911016015 1195170 0001) 59071060 91 (100 51111) 0115911 21 9117052. হাঃ] 01 086 001710171010005 7600521 01 006 1২2]8 (0 50117161101 06 17018106115, 115 50919 211156360 (0 0105 97111951) 0017711810185 11) 10176 621 1835. -35]307% 018 096 2০-5600161867) 01008177012 791691755 1880. ৭. জয়ন্তীয়ার একটি গ্রাম্য গীতিতে এই করুণ রসাস্ক কথার আভাস পাওয়া যায়ঃ- “মুই কই যাউম রে-কোথায় গেলে তরি, হাকিম হৈলা হুকুমদার পেদা প্রাণের বৈরী; _রে মুই কই যাউম রে। বাট্টি রুটি ইন্দ্র (রাজেন্দ্র) সিংরে, মুখে রেখা দাড়ি, বন্দী করি থৈল নিয়া মুরারি চান্দের বাড়ী, _রে মুই কই যাউম রে”। ৩৭৮ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড হওয়ায়, ক্ষোভ ও অভিমানে তিনি পার্বত্য অংশও স্বেচ্ছায় ত্যাগ করিলেন; তখন তাহাকে মাসিক পাঁচশত টাকা বৃত্তি দিয়া শ্রীহট্টেই রাখা হইল মৃত্যুকাল পর্যন্ত তিনি এই বৃত্তি ভোগ করিয়াছিলেন । সরকারি কাগজ পত্রেও এই বিবরণ প্রাপ্ত হওয়া যায়।৮ মাসিক এই সামান্য বৃত্তিতে তাহার কখন কখন অকুলান হইত, কেনই বা কুলাইবে? জানা যায় যে, তখনকার সহরবাসী বিখ্যাত ধনী কাঙ্গাল দাস সাহাজীর নিকট রাজার সোনার থালি, কাদি সহিত স্বর্ণময় কলার থোড়, সোনার কুমড়া ইত্যাদি মূল্যবান দ্রব্যরাজি বাধা পড়িয়াছিল। জয়ন্তীয়ার এইরূপ শোচনীয় পরিণাম হইলে, অধিবাসীবর্গ স্তন্তিত হইয়া রহিয়াছিল, কিছুই অবধারণ করিতে পারে নাই; কিন্তু মন্ত্রী ও কর্মচারিগণ সহসা বশতাপন্ন হন নাই। প্রজা সাধারণ ক্রমে তাহাদের মতাবলম্বী হইয়াছিল । জয়ন্তীয়ার সমতলভাগ বৃটিশ শাসনাধীন হইলেও ১৮৮৫ ৃষ্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত পার্বত্য অংশ পরিগৃহীত হইতে পারে নাই। জয়ন্তীয়া রাজ্যের সমতল প্রদেশ শ্রীহট্ট ও কাছাড় জিলায় এবং গোভাপতির অধিকৃত স্থান নওগা জিলায় ভুক্ত হয়; তদ্যতীত পার্বত্য ভাগ খাসিয়া ও জয়ন্তীয়া পরত জিলার অন্তর্ভূক্ত হইয়াছে। রাজা নরেন্দ্রসিংহ ১৬৬১ খৃষ্টাব্দে রাজা রাজেন্দ্র সিংহের মৃত্যু হয়। তাহার মৃত্যুর পর নরেন্দ্রসিংহ নামে মাত্র রাজা হন। বৃটিশ গবর্ণমেন্ট জয়ন্তীয়ার এই নিরীহ স্বপদচ্যুত বংশধরকে বৃত্তি দেওয়ার উপযুক্ত বোধ করেন নাই । পরে শ্রীহপ্রের ডিপুটী কমিশনার মিঃ লটমন জনসন সাহেব নরেন্দ্র সিংহের দুরবস্থার কথা ইপ্রিয়া গবর্ণমেন্টে পরিজ্ঞাপন করেন, তখন তাহাকেও মাসিক পাচশত টাকা করিয়া বৃত্তি দেওয়ার আদেশ হয় ও তিনিও আজীবন এই বৃত্তি ভোগ করেন। রাজেন্দ্রসিংহ গন্ভীর প্রকৃতি বিশিষ্ট, বুদ্ধিমান ও চরিত্রবান পুরুষ ছিলেন । গ্রামবাসীরা তাহার পরদুঃখ কাতরাদি গুণের কথা এখনও ভুলিতে পারে নাই। ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দে (মাঘমাসে) দেশের সাধারণ জনগণকে কাদাইয়া নরেন্দ্রসিংহ অকালে কালের করাল কবলে নিপতিত হন। রাজ্যহীন হইলেও নরেন্দ্রসিংহ প্রজাবর্গ হইতে, যে কোনও স্বাধীন সেনাপতির ন্যায় শ্রদ্ধা প্রাপ্ত হইতেন। তিনি যখন জয়ন্তীয়া হইতে শ্রীহট্রে আসিতেন, তাহার সঙ্গে শরীর রক্ষক ও পতাকাবাহী এ . অনুসঙ্গিবর্গ অনুগমন করিত। পথে একদা তদবস্থায় তিনি হঠাৎ ব্যদ্াক্রান্ত হইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হন। বর্তমান উত্তরাধিকারী রাজা নরেন্দ্রসিংহের ভাগিনেয় ও উত্তরাধিকারী শ্রীযুত নরসিংহ ও ছত্রসিংহ ভূপতি এখন বর্তমান আছেন। ইহারা শৈশবেই মাতৃহীন। পরে একমাত্র অভিভাবক স্নেহময় মাতুলের মৃত্যু হইলে, একবারে তীহারা নিরাশ্রয় হইয়া পড়েন। তখন শ্রীহট্রের জজ বাহাদুর ইহাদের ৮,156 [8109 95 00709560 0) 10116 0119756 01 00111911010 9/101) 06110917) 01 1015 (11051701) 170 1720 09811160011 07700 01010151) 5000)005 2180 09110751011519 17010015160 (10677) 21 0116 91111176 01 10911. 176 09010017 011015 (01716019079 125 2) 01981755985 0707-107 2101763660 (0 076 01951110101 5911)01 2170 132], ৬010010191119 1951£1760 016 10111-00071160)0, & [96175101) 01 900 2817501701) ৮085 £1817060 10 1102 0619560 [9)9 00] 1116 2110] 116 7651060 1) 5911761 101101] 1715 068117 101861- -10170275 51280511021] 40000100501 4855ল900 চতুর্থ অধ্যায় : বৃটিশাধিকার শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৭৯ অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন । এবং তাহাদিগকে শ্রীহস্ট সহরে আনাইয়া ইংরেজী শিক্ষার বন্দোবস্ত করিয়া দেন। ইহারা অনেক দিন শ্রীহস্্রে অবস্থান করেন, কিন্তু গবর্ণমেন্ট তাহাদিগকে বৃত্তি দেওয়ার আবশ্যক মনে করেন নাই। বিগত ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে তাহারা অয়স্তীয়াপুরে গমন করেন। তাহারা জয়ন্তীয়ায় গিয়া ভগ্নপ্রায় প্রাীন প্রাসাদের একাংশেই বাস করিতেছেন! রাজবাটীর অবস্থা যে রাজবাটী এক সময় শ্রীহট্রের গৌরব স্বরূপ ছিল, এখন তাহার শোচনীয় ভগ্নাবস্থা দৃষ্টে কে না ব্যথিত হয়? প্রস্তর-রচিত প্রকাণ্ড দরবার গৃহ, তাহাতে প্রস্তরময় প্রশস্ত “চৌকী” গুলি পড়িয়া রহিয়াছে! সৈন্যাহবানের প্রস্তরময় “বড় মাড়ৌ” নামক উচ্চ মঞ্চ,-প্রয়োজন সময়ে যাহাতে আরোহণ পূর্বক সূর্যধ্বনি করিলে বহুক্রোশ দূর হইতে শুনা যাইত; এবং জয়ন্তেশ্বরীর সুচাররু মন্দির ও কোষাগার ইত্যাদি ভগ্রাবস্থায় পতিত রহিয়াছে। বৃহত্তর কামান গুলি-যাহা শ্রীহট্টে আনয়ন করার সুবিধা হয় নাই,৯ পুবর্ববৎ যথাস্থানে পড়িয়া রহিয়াছে। বহুতর মন্দির ও গৃহাদির অবস্থা একরূপই; এই সকল আর মনুষ্য ব্যবহারযোগ্য রহে নাই । জয়ন্তীয়ার এ দুর্দিনে জয়ন্তেশ্বরীর ধাতুময়ী মূর্তিও জয়ন্তীয়া হইতে অন্তর্হিতা-অপর্হিতা হইয়াছেন! নাই-এশ্ব্য্য গবির্বতা জয়ন্তীয়ায় এখন আর কিছুই নাই! যে রাজবাটী এক সময়ে খাসিয়া রমণীগণের কলকণ্ঠের কিন্নর-গীতিতে মুখরিত ছিল, তাহা এখন নীরব-নিস্তব্ধ, -বহুল অংশ পরিত্যক্ত, ভয়ে তথায় লোক চলাচল করে না; এই ভগ্নপ্রায় ভয়াবহ প্রাচীন বাটীতে দৈন্যদশাপন্ন নরসিংহ ও ছত্রসিংহ বাস করিতেছেন! কাল, তুমিই জগতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাদাতা! যাহারা সহস্র লোকের আহার দাতা ছিলেন, তাহাদের বংশরদের আজ এই দশা! যাহারা ৪৮৪ বর্গমাইল সমতল ভূমি ও ৬০৬০ বর্গমাইল পার্বত্য প্রদেশের অধীশ্বর ছিলেন, তাহাদের বংশধরদের এই অবস্থা! জয়ন্তীয়ার হাট হইতে যে কথঞ্চিত আয় হয়, তাহাতেই নির্ভর করিয়া কোন রূপে তাহাদিগকে জীবিকা নিবর্বাহ করিতে হইতেছে! পরিবর্তনশীল কাল, তুমিই জগতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাদাতা! ৯. শ্রীহট্রে ডিপুটী কমিশনার অফিসের সম্মুখে সংরক্ষিত দুইটি বড় কামান জয়ন্তীয়া হইতে আনীত হয়। পঞ্চম অধ্যায় রাজস্কাদির কথা সীমা দক্ষিণে সুরমা নদী, উত্তর কাছ, দক্ষিণ কাছ১ ও ইছা কলস পরগণা; পশ্চিমে বরম, পয়াইন তেলিখাল নামক অপ্রশস্ত তিনটি নদী । পরিমাণ ৪৮৪ বর্গমাইল । রাজাদের সময়ে আয়তন সময় সময় আরও বর্ধিত হইত এবং পার্রত্যপ্রদেশ সহ ইহা একটি দেশ বলিয়াই গণ্য হইত। পূর্বকার রাজস্ব কিন্তু তখন জয়ন্তীয়া রাজ্যের আয় যথেষ্ট ছিল না। প্রধানতঃ শস্যাদিই প্রজাগণ হইতে গ্রহণ করা হইত, নগদ টাকা অত্যল্পই রাজস্ব আদায় করা যাইত। হাট বাজার ও ঘাট ইত্যাদি হইতে প্রায় নয় সহস্র টাকা বার্ষিক আদায় হইত। অর্থদণ্ড ও উপহার ইত্যাদি আয়ের মধ্যেই গণ্য ছিল। নগদ আয় এই সমুদায়ে ত্রিশ সহত্্র মুদ্রার অধিক ছিল না। ইহাই সরকারী ইতিহাসের মত।২ কিন্তু ইহা যে কতদূর বিশ্বাস্য বলা যায় না; জয়ন্তীয়া-রাজ-ভাণ্তারের “সাত রাজার ধনের” কথা এখনও প্রবাদরূপে লোকে বলিয়া থাকে । ভূমির উপর যে কর ধার্য ছিল, সরকারী কাজপত্রে তাহার নিরিখ বা পরিমাণ অতি সামান্য ছিল বলিয়া দৃষ্ট হয়। বিংশতি হাল জমির খাজানা মধ্যে সামান্য কিছু শস্য ও নগদ ৮ (আট) টাকা মাত্র হিসেবে আদায় করা হইত 1৩ ১. এই পরগণা পুরে্ধ জয়ন্তীয়া রাজ্যের অধীন ছিল। ২. 11002 1552006 0119]2 9985 0070৬0 0017) 56612] 106905- 140170 75৬81709 ৮৮05 10010 1] 10100 01129100007, 0669 ৮/:০ 1৬160] 018 81019011010001005, 07 6000915,10282715 2100 টি51061165, 2ম 17) ৮111101) 9285 9210 100 10105 1) 20086 8800 10] লা2া)1]0- 01176] 50111005 0616১৮11116 ড/616 17001501001165, [076561765 2170 [ি)95. 1106 00181 17700107601 1919) 75 95111198000 81 হো? 25000 00 30000 067 হোগা), 2150 00 0115 20005 106 20060 [100 9100011)1 1001111100 0 52105 016 06170971705 0101) 5001001017196 0100675 11701151) ৮/110561721105 11 0045500$- -481101015 15520) [01510101 0226005615 ৬০1. 1]. (5911)210) 01828]. ৬1]. 15234. ৩. কমিশনার মিঃ লুইস সাহেবের ১৮৩৫ খৃষ্টানদের ১৩ নং চিঠির ১২ ধারার মর্শমতে দেখা যায় যেঃ- “রাজার আমলে প্রত্যেক চৌধুরী চটী ২০ হালের কাত ৮ টাকা ও শিকদার চট & টাকা একুনে নগদ ১২ টাকা সেলামি ও ২০ ভূতা । (মাপ বিশেষ ।) ১ পালি। (মাপ বিশেষ ।) ৩ সের। ২ সের। ৫ ছড়া। ২০ মুড়া। ১ রাস। ॥৯ গণ্ডা রাজ সরকারে দিতেক।” রব ধর বুখও পঞ্চম অধ্যায় : রাজস্বাদির কথা শ্রীহত্ট্ের ইতিবৃত্ত ৩৮১ তদ্ধযতীত শারদীয়া পূজাকালেও কিছু দ্রব্যাদি আদায় হইত এবং হস্তী খেদা উপলক্ষে কোন কোন স্থানের প্রজাদিগকে খাটিতে হইত ।৫ শস্যশ্যামলা সমতল ক্ষেত্রেই যখন রাজস্বের এইরূপ ব্যবস্থা ছিল, তখন আয়োপায়হীন পর্বত হইতে যে বেশী কিছু আদায় হইত না, তাহা সহজেই অনুমিত হয়। প্রত্যেক পাব্ব্বত্য- পল্লী হইতে বার্ষিক একটা করিয়া পুংছাগল রাজস্ব পাওয়া যাইত। এরূপ অবস্থায় জয়ন্তীয়ার প্রজারা যে পরম সুখে কাল কর্তন করিত, তাহা বলা বাহুল্য । সুবিধা অসুবিধা ও বাঙালি কর্মচারী ণ এইরূপ রাজস্ব আদায়ের প্রথা থাকায়, রাজকোষে বিশেষ অর্থ সঞ্চিত হোক, বা না হোক, রাজাদের আবশ্যকীয় ব্যয় ও কার্য নির্বাহের কোন অসুবিধা ঘটিত না। কারণ কোনও কর্মচারিকেই নগদ টাকায় বেতন দেওয়া হইত না, প্রত্যেকেই তাহাদের পদানুরূপ ভূমি লাখেরাজ পাইত; এই সমস্ত লাখেরাজ ভূমির মধ্যে অনেকটিই এখন পূর্র্বাধিকারীর পদের নামানুসারে আখ্যাপ্রাপ্ত হইয়াছে । “বাটা ধরণীর মাটী”, “ডাবা ধরণীর মাটী”, “ঠাকুরের মাটী”, “শিবের মাটী”, ইত্যাদি ভূপরিচায়ক সংজ্ঞা জয়ন্তীয়ায় প্রবেশ করিলেই শুনিতে পাওয়া যায়। রাজা যখন দরবারে বসিতেন, তখন যথানির্দি্ট স্থানে সভাসদ, মন্ত্রী, সভাপপ্তিত, সেনাপতি প্রভৃতি উপবেশন করিতেন; ইহাদের অধিকাংশই শ্রীহট্টবাসী বাঙালী ছিলেন। রাজার ব্রিপার্ে পরিচায়কবর্গ দীড়াইয়া থাকিত। “ডাবাধরণী" অভিধাযুক্ত কর্মচারী ডাবা (হুকা) ধারণ করিয়া রহিত। ইচ্ছা মাত্র রাজা তাহাতে তাশ্কুট সেবন করিতেন। “বাটা ধরণী' উপাধিযুক্ত ব্যক্তি সজ্জিত পান দান (পানের বাটা বা ডিবা) হস্তে পার্থে দণ্ডায়মান থাকিত;৬ ইচ্ছা মাত্র রাজা তাহা হইতে তান্ুল গ্রহণ করতঃ তাহা চবর্বণ করিতেন। রাজা রাজেন্দ্রসিংহের সময়ে শ্যামাচরণ বাটাধরণী পানদান ধারণ কার্যে নিযুক্ত ছিলেন বলিয়া জানা যায়। জয়ন্তীয়া-পতির সেনাপতিগণ প্রায়ই শ্রীহত্রের হিন্দুসাধারণ হইতে নিযুক্ত হইতেন। রাজা বড়গোসাঞ্জচির সেনাপতি মাণিক্যরায়ের নাম জানা গিয়েছে শ্রীহস্টবাসী হিন্দু সেনাপতি নিয়োগ করায় রাজাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়। ভিন্নজাতীয় সেনাপতি থাকায় খাসিয়া বা সিন্টেঙ সর্দারগণ তাহাদের সহিত ষড়যন্ত্র করিতে অগ্রসর হইত না। শ্রীহন্টের ভিন্ন অংশে বাসকারী “সেনাপতি” ছিলেন। শ্রীহট্রের কৌড়িয়া পরগনার অন্তর্গত চন্দ্রগ্রামের “দাস, সেনাপতি”৭ মূর্তির “ধরসেনাপতি” বড়লেখার “দাস সেনাপতি” গণের নাম, এস্থলে করা যাইতে পারে । তাহাদের বংশধরগণ এখনও সসম্মানে এ সকল স্থানে বাস করিতেছেন। ৪. শারদীয়া পূজাকালে দিতে হইতঃ- 'ধান্য 0০ পুরসা। (মাপ বিশেষ ।) ঘৃত 1০ অর্ধসের। কলা ১ ছড়া। কলাই ১ কাটি।' (মাপ বিশেষ ।) ৫. হস্তী খেদার জন্য প্রজাদিগকে একহাল করিয়া ভূমি নিষ্কর দেওয়া হইত, যাহারা এইরূপ নিফকর ভূমি ভোগ করিত, খেদা উপস্থিত হইলে বিনা বেতনে তাহাদিগকে খাটিতে হইত বলিয়া জ্ঞাত হওয়া যায়। ৬. পূর্র্বকালীন নরপতিগণের “তান্থল করঙ্ক বাহিনী” স্ত্রীলোক নিযুক্ত থাকিত। ৭. এই বংশীয় গজেন্দ্রকিশোর দাস প্রথম জয়ন্তীয়ার সেনাপতি পদ প্রান্ত হন। ভ্রাতৃষ্পুত্র হরচন্দ্র হইতেই চন্ত্রথামের নামকরণ হয়। হরচন্দ্রের ভ্রাতুষ্পুত্র মাণিক্য রাজা বড়গোসাঞ্জির সময়ে জয়ন্তীয়ায় সেনাপতি ছিলেন। ইহাদের কাহিনী বংশ বৃত্তান্ত ভাগে বর্ণিত হইবে। ৩৮২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড জয়ন্তীয়ার রাজকীয় চিহ্ন সিংহ ছিল। সনদ, তাম্রশাসন এবং পতাকাদিতে সিংহ চিহ্ুই অঙ্কিত থাকিত। ভূমি বন্দোবস্ত জয়ন্তীয়া রাজ্য বৃটিশাধিকৃত হইলে, প্রথমেই সমতল ভূমির পরিমাণ নির্ধারণার্থে জমি পরিমাপ করার বন্দোবস্ত হয়। পবিমাপ কার্য সমাপ্ত হইলে, রঘ্ুনাথ পাল ও মদনমোহন ঘোষ নামক কর্মচারিদ্বয় গবর্ণমেন্টে নক্সা দাখিল করেন, এবং কাণ্তেন ফিসার প্রথমতঃ এক বৎসর ম্যাদে ১৮৩৬ খৃষ্টাব্দে জমির বন্দোবস্ত দেন। ভূমির নিরিখ নির্ারণার্থ প্রতি মৌজায় এক এক “বৈঠক” হয়। ১৮৩৭ খৃষ্টাব্দের ২১শে মার্চের লিখিত “সদর কৌন্সিলের” চিঠির মর্মানুসারে জয়ন্তীয়রাজ্য শ্রীহস্ট জিলার সংসৃষ্ট থাকা স্থির হয়।৮ বৃটিশাধিকারের পূর্ব কাছাড়াধিপতির অধিকৃত জয়ন্তীয়ার কোন কোন অংশ কাছাড় জিলার সংসৃষ্ট হইয়া কাছাড়াধীনে ছিল, পগে তাহাও শ্রীহট্রের কালেন্টরী ভুক্ত হয়। এই সমস্ত জমির পরিমাপ কার্য হেনরি থুলিওর (14611101727 71. 1170111:2) সাহেবের ২৪ অঙ্গুলি হাতের “নল” দ্বারা হইয়া, ভূপরিমাপ নির্দিষ্ট হয়।৯ “নিরিখি” নির্ধারণার্থ প্রতি পরগণায় “বৈঠক” বসিলে অনেকেই অনেক বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করিয়াছিল, অনেকেই নিষ্কর ভোগের “দাবী” প্রদর্শন করিয়াছিল। তনুধ্যে যাহাদের দাবি বলবৎ হয়, তাহাদের নিষ্কর “বাহাল” রাখা হইয়াছিল। কিন্তু অধিকাংশেরই দাবি অগ্রাহ্য হয়। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, আড়াইখা পরগণার শুভাসিংহরাজা ফতেপুর মৌজার তাবৎ জমি রাজদত্ত নিষ্কর বলিয়া আপত্তি করেন, কিন্তু তাহার দাঝ; অগ্রাহ্য হয়। পাচভাগ পরগণার প্রত্যেক প্রজা পুজার যোগান দেওয়া ও খেদার পারিশ্রমিক বাবতে একহাল করিয়া নিষ্কর ভোগের আপত্তি করিয়াছিল, তাহাও গ্রাহ্য হয় নাই। সর্বত্রই ২০ হাল ভূমির রাজস্ব, আট টাকা মাত্র দেওয়ার কথা উঠিয়াছিল। রাজাদের প্রতিষ্ঠিত দেবতার দেবত্র ভূমিগুলিই নিষ্কর রাখা হয়; তদ্যতীত অপর প্রজাগণ অবশেষে বাধ্য হইয়া বন্দোবস্ত লইতে আরম করে । জয়ন্তীয়ার উপবিভাগ বলা গিয়াছে যে ৬০৬০ বর্গমাইল পার্বত্য প্রদেশ ব্যতীত জয়ন্তীয়ার সমতল ভূমির পরিমাণ ৪৮৪ বর্গমাইল ছিল। রাজাদের সময়ে পার্বত্য প্রদেশ দ্বাদশ “রাজে” বা উপবিভাগে ৮. জয়ন্তীয়ার প্রথম বন্দোবস্তের কাগজ (প্রতি পরগণার) প্রথম ধারায় এইরূপ লিখিত হইয়াছেঃ- “প্রকাশ আছে যে শ্রীযুত সদর কৌল্সিলেব সাহেবদিগের আজ্ঞামতে জয়ন্তারাজ্য সরকার বাহাদুরের অধিকার হইয়া এঁ রাজ্যের জমি জমা নির্দিষ্ট না থাকা প্রযুক্ত প্রথমতঃ শ্রীযুক্ত কাণ্তেন নম্তব সাহেবের আজ্ঞানুসারে রঘুনাথ পাল ও মদন মোহন ঘোষ নক্সানবিস জয়স্তাসম্বন্ধীয় পরগণার নক্সা দাখিল করিলে এঁ রাজ্যে হেড়ন্ সংসৃষ্ট হওয়াতে শ্রীযুক্ত কাণ্তেন তামিস ফিশার ম।হেব জয়ন্তানিবাসী লোকদিগের স্বীকার মতে জয়ন্তা সম্বন্ধীয় তাবৎ পরগণার জমিনের বন্দোবস্ত সন ১২৪২ বাঙ্গালাতে এক বৎসর ম্যাদ করিয়া, সন ১৮৩৭ ইং ২১ মার্চের চিঠির আদেশানুসারে জয়ন্তারাজ্যে এই (শ্রীহস্র) জিলার সংসৃষ্ট ও তাহার বন্দোবস্তের ভার এ হুজুর (শ্রীহটে কালেক্টর সাহেব নিকট) প্রতিপালন হইবেক ও এই গরুঞনণার তাবৎ জমির কাগজ প্রস্তুত হওয়াতে তদ্তপূর্র্বক সন ১৮২৫ ইং ৯ আইনের ৫ ধারার ২য় ও ধর্থ প্রকরণ মতে (অমুক) মৌজায় বৈঠক করা গেল।” ৯. পূর্বোক্ত কাগজে (কোন কোন পরগণার) দ্বিতীয় ধারায় এইরূপ লিখিত হইয়াছেঃ- “হৈড়ম্বের সুপ্রেপ্টান্ট সাহেবের সমীপীয় ৬নং বহিতে পরগণার মোয়াজি (এত) হাল ছিল কিন্তু অদ্য শ্রীযুক্ত হেনরি থুলিওর নেরনিউ সার্য়ার সাহেব দ্বাবায় ২৪ অঙ্গুলি হ'তের নলে (এত) হাল জমি নির্ধারিত হইল ।” এই পরিমাপে জমির পরিমাণ অনেক বর্ধিত হইয়াছিল । “নল”-মাপকাঠি বিশেষ । পঞ্চম অধ্যায় : রাজস্বাদির কথা শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ৩৮৩ এবং সমতল ক্ষেত্র দশ রাজে বিভক্ত ছিল । এই দশরাজের নাম, যথাঃ- (১) জয়ন্তীয়া পুরীরাজ। (২) চারিকাঠা। (৩) জাফলং । (8) ফালজোর। (৫) ধরগাম। (৬) আড়াই খা। (৭) পাচভাগ। (৮) খরিল। (৯) চতুল। (১০) চাউরা। প্রথমোক্ত চারি রাজের নাম “খেল” ; এবং অবশিষ্টগুলি “হাজারকি' নামে খ্যাত ছিল। এই সমতল ক্ষেত্রে কোন পর্বত নাই, পশ্চিমাংশের অনেকটা জলাভূমি মাত্র আছে। এই সমতল ভূভাগের ৩১০০০০ একর জমি মধ্যে, উত্তরদিগর্তী সাতবাক' পরগণায় ৯৫৫০০ একর পতিত ভূমি ব্যতীত অবশিষ্ট ২১৪৫০০ একরেই চাষ হইয়া থাকে ।১০ জয়ন্তীয়ায় ভূমি আবাদ ও লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে, উক্ত দশরাজ পরে সপ্তদশ পরগণাতে বিভক্ত হয় ।১১ যথাঃ- (১) পীয়াইনগোল-----৭৪.০৬ বর্গমাইল (১০) বড়দেশ-----০৩.০৯ বর্গমাইল (২) ধরগাম-----১০৫.৭৮ ” (১১) বাজেরাজ-----১২.১৫ ” (৩) জাফলং----- ৪০.০৭ ” (১২) চতুল-----৩৩.৯৫ ” (8) জয়ন্তীয়াপুরীরাজ-----৫৯.১৫ ” (১৩) চারিকাঠা-----৩৭.৮৮” (৫) আড়াই খা-----৬৩.৪১” (১৪) ফালজোর-----৩১.৮৪ ” (৬) পশ্চিমভাগ-----৭৩.৪৯ ” (১৫) চাউরা-----০৯.৯২ ” (৭) খরিল----- ৪৬.৯৫ ” (১৬) মূলাগোল-----৫৯.১৪ ” (৮) বর্ণফৌদ-----৬৬.৮৩ ” এই সপ্তদশ (১৭) সাতবাক-----৩৬.৮৫ " এবং- (১৮) পশ্চিমভাগ (৯) বাউরভাগ----- ১৯.৬৩ " বাজে রাজ-০৪.৫৪১২ শেষোক্ত পশ্চিম-বাজেরাজকে পৃথক এক পরগণা গণ্যে সাধারণতঃ “জয়ন্তীয়া পরগণা” বলিতে এই অষ্টাদশটি পরগণাই বুঝায়; কিন্তু সরকারী কাগজপত্রে সপ্তদশ পরগণাই লিখিত আছে। রাজস্বের পরিমাণ প্রজারা বন্দোবস্ত লইতে আরন্ত করিলে প্রথমতঃ খাজনার হার অধিক ছিল না, কিন্তু পরিণামে অনেক বৃদ্ধি পাইয়াছিল।১৩ ১৮৩৬ খৃষ্টাব্দের একাব্দ ম্যাদি বন্দোবস্তে সমস্ত জয়ন্তীয়া ১০, /8110715 4১592]7) [01917001 08266915 ৬০1. 11. (5911101) 01780). ৬111. 2 233-101. ১১. পূবের্ব দক্ষিণকাছ প্রভৃতি জয়ন্তীয়ার অন্তর্গত ছিল, এই সময় তাহা জয়ন্তীয়া হইতে নিযুক্ত হইলেও, নৃতন জরিপে ভূপরিমাণ অনেক বর্ধিত হইয়া পড়ে । (বর্গমাইল প্রমাণে তাহাই প্রদর্শিত হইতেছে ।) ১২. এই পরগণাটির স্থান মানচিত্রে নির্দেশিত হয় নাই। ১৩. খাজনার হার এবং দ্বিতীয় পরিমাপে জমির পরিমাণ কিরূপ বর্ধিত হয়, নিঙ্নে তাহা প্রদর্শিত হইলঃ- নাম ভূপরিমান ভুপরিমান রাজস্বহার (কেদার প্রতি) (কোছাড় সংসৃষ্ঠ কাগজে) (২য় পরিমাপে) দুফসল একফসল ভিট পিয়াইনগোল৭৬৫/০ হাল ৩২৫০/০ হাল ৬ ৬ ঙ৬ ধরগাম রঃ ৪ ৪ জাফলং - - আড়াইখা ১০৬৪/০ "* ৩৭০৭/০ ” ৩৮৪ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত রাজ্যে ৩৫৯৮৮ টাকা রাজস্ব ধার্য করা হয় ।১৪ এই টাকা কেবল ১৮ পরগণা অর্থাৎ সমতলভূমি হইতে গৃহীত হয়; তৎকালে পর্বত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড হইতে রাজস্ব আদায় হয় নাই। ১৮৩৮ হইতে ১৮৪০ খৃষ্টাব্দের মধ্যেই জমির প্রকৃত বন্দোবস্ত হইয়াছিল, এবং ম্যাদও এক বৎসরের স্থলে পাচ বৎসর করা হইয়াছিল ।১৫ ১৮৫৫ খৃষ্টাব্দে পুনবর্বার জয়ন্তীয়ায় একটি বন্দোবস্ত হয়, তখন ব্যাদ বর্ধিত হইয়া ২০ বৎসর করা হয় এবং পার্বত্য প্রদেশ হইতেও এঁ সময়ে রাজস্ব আদায়ের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পার্বত্য জাতীয়গণ রাজাদের সময়ের রাজস্ব প্রদানের প্রথামত প্রতি পল্লী হইতে একটি করিয়া পুংছাগল প্রদান করিয়াছিল বলিয়া জানা যায়।১৬ জয়ন্তীয়ায় ক্রমাগত ছয়বার ভুবন্দোবস্ত হইয়াছে। প্রতি বন্দোবস্তেই রাজস্বের হার ও ভূপরিমাণ বৃদ্ধির সহিত রাজস্বও বর্ধিত হইয়াছে; নিম্নে তাহা লিখিত হইল ৪- সময় রাজ পরিমাণ ১ম বন্দোবস্ত ১৮৩৬ খৃষ্টাব্দ ৩৫৯৮৮ টাকা। ২য় বন্দোবস্ত ১৮৩৮-১৮৪০ খৃষ্টাব্দ ৩৮৯২৮ টাকা ৩য় বন্দোবস্ত ১৮৪৬ খৃষ্টাব্দ ৪২৮৪৬ টাকা ৪র্থ বন্দোবস্ত ১৮৫৬ খৃষ্টাব্দ ৫৭৬৫০ টাকা ৫ম বন্দোবস্ত ১৮৭৬-১৮৮১ খৃষ্টাব্দ ১৬৭৫৪২ টাকা ৬ষ্ঠ বন্দোবস্ত ১৮৯২-১৮৯৭ খৃষ্টাব্দ ২২১৭২৮ টাকা এতদ্বারা দেখা যাইতেছে যে গবর্ণমেন্ট জয়ন্তীয়া হইতে বার্ষিক দ্বিলক্ষাধিক টাকা কেবল ভূরাজস্ব মধ্যেই প্রাপ্ত হন। রাজস্ব আদায় জন্য জয়ন্তীয়ায় দুইটি তহশীল আফিস স্থাপিত হইয়াছে, একটি গোয়াইন ঘাট নামক স্থানে, অপরটি কানাইরঘাটে । পীয়াইনগোল, ধরগাম, জাফলং জয়ন্তীয়াপুরীরাজ, আড়াই খা ও পশ্চিম ভাগ এই ছয়টি পরগণা গোয়াইনঘাট তহশীলের অধীন, অবশিষ্ট পরগণাগুলি কানাইরঘাট তহশীলের অন্তর্ভূক্ত । পাচভাগ - ৪১৯০/০ ”" - - খরিল - ২৩১৩/০ ৮ - বর্ণফৌদ ৮৩২/০ প্র ২৮৫২/০ ” বাজেরাজ ৮ ১৪০৫/০ বাউরভাগ ৬৮৬/০ ” ৭৬৯/০ ” ফালজোর ১৩০৯/০ ” টা রা রা রাযি মুলাগোল ১৪৮৩/০ ” 0/5 7.0 পু সাতবাক 1৮41 ১1 রি পশ্চিমবাজেরাজ ২১০/০ ” ৩০৯/০ ” ₹)/ ৮ ৫ ৮২ চুড়খাইড় 1/৫ টি 9/. ১৪. 11) 1836 8. 55111217091 560৮1077610 925 001701000 007 0106 ০2৫ 10% 0০810121]) 19167 (172 172৬617119 255655060 207001117160 00 35988 ৮171017৮525 190911৩0176 78119 60015216101 01 101)0 817)010111 091217109 10100 121701122182- -4$595211) 1[0151110 0926116615. ৬০1. 11. (5911)61) 011210, ৮11]. ৮. 234. ১৫, 45577] 10151010101 0782606075. ৬০1, 11. (55117600 01791). ৬1. 2,234. 16. 41106 98৫101101501211017 016 006 1011], 100 01787100 ৬/25 1170166170755 10৬61011059 51]78 9/1)1017 0০018915160 91701) 01 0170 13211610191 2 108-608. 0106 ৪. 968. 00) 62০1% ৮11196০.-১66€ 1106 51251150102] 45000001815 01 45527). ষষ্ঠ অধ্যায় বিবিধ কথা জয়ন্তীয়ায় গবর্ণমেন্টের একটি থানা ও তদধীনে দুইটি আউটপোষ্ট স্থাপিত হইয়াছে । থানা কানাইরঘাটের এলাকায় প্রায় পঞ্চাশীতি সহস্র লোকের বাস, এখানে একজন সবইনিস্পেক্টর ও আটটি কনেষ্টবল থাকে । আউট পোষ্ট-জয়ন্তীয়াপুর ও 'গোইনঘাটেও একজন করিয়া সবইনিসপেক্টর ও যথাক্রমে চারি ও পাঁচটি কনেষ্টবল থাকার কথা আছে। কানাইরঘাট ও গোয়াইনঘাটে দুইটি তহশীল অফিস আছে, পুবের্বই বলা হইয়াছে। নদী, উৎপননদ্রব্য ও বাজার ইত্যাদি জয়ন্তীয়ায় সাধারণতঃ অধিক বৃষ্টি হইয়া থাকে, নদীর বেগ প্রথর। জয়ন্তীয়া লোভা, গোয়াইন, পীয়াইন, চেঙ্গরখাল, তেলিখাল, হারিগাঙ্গ ও বড়গাঙ্গ প্রভৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলি প্রবাহিত। ইহারা সুরমা নদীতে পতিত হইতেছে; চেঙ্গর খাল গোয়াইন নদীর শাখা বিশেষ। এই সকল নদী সহযোগেই জয়ন্তীয়ায় অন্তবর্বাণিজ্য নিবর্বাহিত হয়। তেজপত্র, কমলা, লঙ্কা, পাখা পাণ, ঝলাঙ্গ, ও কাষ্ঠ ইত্যাদিই প্রধান উৎপন দ্রব্য ৷ জয়ন্তীয়য় সুগন্ধযুক্ত সুমিষ্ট একপ্রকার কুমড় জন্নিয়া থাকে। জয়ন্তীয়ায় প্রায় অষ্টাবিশংতি সংখ্যক বাজার আছে ।১ তন্মধ্যে নিজ পাটের বাজার সব্্বাপেক্ষা বৃহৎ। কানাইরঘাট, লাখাট, গাছবাড়ী, নওয়াবাজার প্রভৃতি অনতিবহৎ বাজারগুলি বিশেষ বিশেষ বারে বসিয়া থাকে । নিজ পাটের বাজারে পূর্ব স্বদেশী এড়ি মুগার বস্ত্র পাওয়া যাইত, এখন আর পাওয়া যায় না।২ চা-বাগান জয়ন্তীয়ার ভূমি স্বভাবতই উত্্বরা। ধান্য যথেষ্ট পরিমাণে জন্িয়া থাকে; জয়ন্তীয়াবাসীগণ দুর্ভিক্ষ কাহাকে বলে জানিত না। কিন্তু প্রায় একাদশটি চা-বাগান হওয়ায় এবং অন্যান্য কারণে জয়ন্তীয়ায় প্রতিবর্ষেই ধান আমদানী করিতে হয়। এই একাদশ সংখ্যক চা বাগান মধ্যে চিক্নাগোল নামক চা-বাগানটির স্বত্বাধিকারী বাবু জুয়ারমল তুষ্তীয়াল নামক শ্রীহট্রের জনৈক ১. গোয়াইন ঘাট থানার অধীন বাজারগুলির নামঃ- বিন্নাকান্দি, চৈলাখাল, গেরো, গোয়াইন, হরিপুর, জগাবহর হাওর, কহাইঘর, মাণিকগঞ্জ, মিতিরীমহাল, নিজপাট, পাচতাহীখেল, জাফলং বাগান, পানিছড়া, সরুফৌদ। কানাইরঘাটের অধীন বাজারগুলির নামঃ- আগবাটিয়া, ভবানীগঞ্জ, বীরদল, ফতেগঞ্জ, চতুলবাজার, গাছবাড়ী, কানাইরঘাট, লালাখাল, মানিকগঞ্জ, মুখীগঞ্জ, মূলাগোল, নৃতনপুর, রাজাগঞ্জ, সরকারের হাট । ২. এখনও দুই একজন এড়ি কাপড়ের শিল্পী আছে কিন্তু ব্যবসায় চলে না বলিয়া তাহারা আবাদ করিয়াই দিন যাপন করিতেছে। শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২৫ ৩৮৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড বন্ত্রব্যবসায়ী; অবশিষ্ট দশটিই ইংরেজ কোম্পানীর স্থাপিত ।৩ এই সমস্ত চা-বাগানের এলাকায় প্রায় ১৩৩৫৭ একর ভূমি আছে এবং সাত সহস্র কুলি কার্য্য করিয়া থাকে। ডিস্পেন্সারি ও স্কুলাদি জয়্তীয়া স্বভাতইই বৃষ্টিপ্রধান স্থান বলিয়া স্বাস্থ্য খুব ভাল নহে। অনেকে বলেন যে চা- বাগান হওয়ার পূর্বের স্বাস্থ্য ভাল ছিল। জয়ন্তীয়ায় তিনটি সরকারী দাতব্য চিকিৎসালয় আছে, একটি জয়ন্তীয়াপুরে, অপর দুইটি গোয়াইনঘাট ও কানাইরঘাটে । তিনটি ওঁষধালয়ের জন্য গবর্ণমেন্ট বার্ষিক গড়ে তিনহাজার টাকা ব্যয় করিয়া থাকেন। জয়ন্তীয়ায় দুইটিমাত্র মধ্যশ্রেণীর বিদ্যালয় আছে, একটি মধ্যবঙ্গ (জয়ন্তীয়াপুরে) ও অন্যটি মধ্যইংরেজী (কানাইরঘাটে); জয়ন্তীয়া হইতে গবর্ণমেন্ট প্রতিবর্ষে প্রায় দ্বিলক্ষ মুদ্রা রাজস্ব প্রাপ্ত হইলেও শিক্ষার জন্য অল্পমাত্রই ব্যয় দিয়া থাকেন। জয়ন্তীয়ার অধিবাসীগণ অশিক্ষিত,৪ তাহাদের শিক্ষাকল্লে গবর্ণমেন্ট একটু কৃপাকটাক্ষ করিলেই হয়। বাঙালা গ্রন্থ সম্মান লাভ করিতেন। জয়ন্তীয়া বাসী বাঙ্গালী বিচরিত দুইখানা প্রাচীন গ্রন্থ আছে, একখানার নাম “রত্বাবলী।” দ্বিতীয় গ্রন্থের নাম “অদ্ভুত ভারত ।” অন্যায় সমরে অভিমন্যু নিহত হইলে পাণ্ডব পক্ষীয় রমণীগণের যুদ্ধ বিবরণ ইহার প্রতিপাদ্য বিষয় । ভাষা ও সংজ্ঞাদি শিব ওঝা, রামরায় মজুমদার, মোহন রাম ধর, প্রভৃতি জয়ন্তীয়ার সঙ্গীত রচয়িতা কবি; রাজা রাজেন্দ্র সিংহ বাহাদুরকেও ইহাদের একাসনে স্থান দান করা যাইতে পারে। ইহাদের ৩. চা-বাগানগুলির তালিকা নিঙ্গে লিখিত হইলঃ- যেথানাধীনে সধিকৃও তুমি গোয়াইন ঘাট ৮৭২ একব চেরাপাঙ্গ ও ফতেপুর চিকনাগোল এ ২৪৩০ একর গুলনী এ ১৩৬৮ একর জাফলং এ ১৯১০ একর বাগছড়া জয়্তীয়াপুণ ৭১৩ একব জয়্তীয়া এ ৬১২ একর কলাখাল এ ১৩৯৬ একর দৌকারগোল কানাইর ঘাট ৬৩০ একর ৮৯২ একর ৯৩৭ একব ১০২৭ একর __ | 8. "1716 17055 01 10176 0801016 15 010011619 1011010171, 11) 0801) 6921590110১ 10111711700) 10০0016 ৬৮1)1 ৮ (00010, ৬/1)0 10)05/5 13010911 [91109 " -1811119 [₹০-50(1161701)1 ত017011-1880 ষষ্ঠ অধ্যায় : বিবিধ কথা শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত ৩৮৭ রচিত গীত ও পূর্বোক্ত গ্রন্থদ্ধয়ে জয়ন্তীয়াপুরে ব্যবহৃত গ্রাম্য ভাষা বহুল পরিমাণে থাকায় অনেকের পক্ষে সুপাঠ্য বোধ হয় না। জয়স্তীয়া শ্রীহটরান্তর্গত হইলেও জলবায়ুর পার্থক্যের সহিত লোকের প্রকৃতি ও ভাষা কিঞ্ৎ ভিন্ন রকমের; ভাষায় গ্রাম্যতা দোষ অত্যাধিক । তথায় “ফৌদ”, “দমকি”, “পু্জি” ইত্যাদি শব্দ সংযোজিত দৃষ্ট হয়। রাজকীয় শাসন সম্পকয়ি গ্রামাদি “খেল”, এবং “কুয়রী” (রাজমাতা বা কন্যা), “কুয়র” (কুমার, বা উচ্চপদস্থ রাজ কর্মচারীর ভোগত্র ভূম “খলা নামে খ্যাত। কতিপয় গৃহসমষ্টির নাম “চটি”; চারি চটিতে এক “ফৌদ” ্ষুদ্র্াম); চারি ফৌদে৫ এক “দমিক” (বৃহৎ গ্রাম) হইয়া থাকে । জয়ন্তীয়ায় সাধারণতঃ গ্রাম স্থানে “গাম”৬ শব্দ কথিত হয়। জয়ন্তীয়ার বাঙ্গালীরা “মোগলান” শবে শ্রীহন্টের অপরাংশকে নির্দেশ করে। মোগলান অর্থে মোগলদের অধিকৃত দেশ। শ্রীহট্ট মোগলদের অধিকৃত হইলেই জয়ন্তীয়ায় এই সংজ্ঞার সৃষ্টি হইয়া থাকিবে। জয়ন্তীয়া যে কখনও মোগলাধিকৃত হয় নাই, এই “মোগলান” শব্দের ব্যবহার দ্বারাই তাহা জানা যায়। জয়ন্তীয়ায় রাজকীয় উচ্চপদস্থ কর্মচারীগণের “বিষয়ধর”" সংজ্ঞা ছিল; কার্য ভেদে ষষ্ঠী, সেতত, নক্তি, ওস্তাদ ও কীর্নী নামে খ্যাত হইতেন। বড়দলই ও দলই প্রায়শঃ সন্ত্ান্ত ব্যক্তিদের পদবি ছিল; মুন্সেফগণও সম্মান ভাজন ছিলেন৷ রামসিংহ রাজা, বিজয় মুন্সেফ হইতে যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষা করিয়াছিলেন । ইহার পুত্র গৌরচন্ত্র পিতৃপ্রাপ্ত লাখেরাজ অর্জমায় বৃটিশ গবর্ণমেন্ট হইতে ভোগ করিয়াছিলেন। কীর্তন ও সংকীর্তবন জয়ন্তীয়ায় কীর্তনের বিশেষ আদর ছিল, কাজেই কীর্তনী পদবীও সম্মানিত ছিল। রামরায় প্রভৃতি বৈষ্তব কবিদের কৃত সুললিত গীত গুলিই গান করা কীর্তশীর ও ওন্তাদের কর্ম জয়ততীয়ায় মৃদঙ্গ বাদকের সংজ্ঞা “ওস্তাদ ।” তথায় কীর্তন ও সংকীর্তনে বিভেদ আছে মৃদঙ্গ করতাল সহযোগে ভাবভেদে (মান মণুরাদি) রাধাকৃষ্ণ লীলাত্মক গীতই কীর্তন নামে কথিত হয়। সঙ্গীত সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট লোক ভিন্ন অপর লোক কীর্তনের দলে যোগ দিতে পারে না। কিন্তু সংবীর্তনে সকলেই যোগদান করিতে পারে, এবং দেবতা লইয়া নগর পরিভ্রমণ পূর্বক গান করাই সংকীর্ত্তন বলিয়া কথিত থাকে। রমণী-সঙ্গীত ও রাস গান জয়ন্তীয়ায় স্ত্রীলোকেরাও “কীর্তন” করে । তাহারা মৃদঙ্গ করতালের পরিবর্তে করতালি দিয়া গান ধরে। জয়ন্তীয়ার স্ত্রী-সঙ্গীত অশ্লীলতা বর্জিত এবং তাহারাও ভাবভেদে ও লীলানুক্রমে গান করিয়া থাকে,__-এ রীতি তাহারা কদাপি ভঙ্গ করে না। জয়ন্তীয়ায় খাসিয়া রমণীগণ রাসগান করিয়া থাকে । মণিপুরী কুমারীরাও প্রশংসিতরূপে রাসগান করে। কিন্তু ইহাদের রাসের তুলনায় ৫. “ফৌদ”" আসাম দেশজ গোত্রবাচক শব্দ । ৬. আশ্চর্যের বিষয়, ভাটেরার, তাম্রশাসনে “গাম” শব্দটি ভূরিশঃ ব্যবহৃত হইয়াছে। ৭. বড়দলই ও দলই আসাম দেশীয় শব্দ । দলই-দলপতি শব্দের অপত্রংশ । ৩৮৮ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড তাহা অতি তুচ্ছ। সংস্কৃত সাহিত্যে কিন্নর গীতিকার কথা শুনা যায়, ইহাদের সুকণ্ঠ নিঃসৃত সুললিত স্বরলহরী শুনিলে, ইহাই সেই কিন্নর-গীতি বলিয়া মনে হয়। পৃবর্বকথিত কবি রামরায় ও মোহনরায় বিশেষ যত্বে ইহাদিগকে রাসগানের রীতি শিক্ষা দিয়াছিলেন। রাসগানে তাহাদেরই রচিত ভাব রসাত্মক পদাবলী গীত হইয়া থাকে। সামাজিকতা ও বিবাহ প্রথা জয়ন্তীয়ার বাঙ্গালী হিন্দুদের সামাজিক প্রথা অল্প ইতরবিশেষে অপরাপর স্থানেরই মত; কিন্তু সামাজিক বিচারের প্রথা এখনও বলবত্তর রহিয়াছে । অপরাধীর প্রতি দুই প্রকার দণ্ড বিহিত হইয়া থাকে,__-গলবস্ত্রে ক্ষমা প্রার্থনা করা ও কীর্তন দানে দোষ ক্ষালন করা । সামাজিক বিচার প্রথা ক্রমশঃ উঠিয়া যাইতেছে জয়ন্তীয়ার রাজাদের মধ্যে কোনরূপ বিবাহ প্রথা ছিল না, এই কারণেই রাজাদের মধ্যে পুত্রের সিংহাসনারোহণ করার প্রথা হয় নাই এবং এই জন্যই তথায় ভাগিনেয়গণই উত্তরাধিকার লাভ করে ।৮ রাজাদের মধ্যে বিবাহ বিধি না থাকিলেও খাসিয়া প্রজাদের মধ্যে একরূপ বিবাহ্প্রথা প্রচলিত আছে। বরকন্যার মনোমিলন হইলেই বিবাহ হইয়া গেল; অভিভাবককে কিছুই করিতে হয় না। বরের পক্ষে কন্যাকে যথাসাধ্য বন্ত্রালঙ্কার দান এবং উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজনকে ভোজন করানই বিবাহের প্রধান অঙ্গ । বিবাহের পর বরকে শ্বশুর গৃহে থাকিতে হয়। ইহাদের মধ্যে বিধবা-বিবাহ ও বিবাহ-চ্ছেদ প্রথাও প্রচলিত আছে। বিধবা-বিবাহের নাম “সেঙ্গা।” এক খানা পাণ ছিড়িয়া ফেলিয়া “নিকাশ” শব্দ উচ্চারণ করিলেই বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হইয়া যায়। ইহাদের মধ্যে স্ত্রী-পুরুষ সকলেই পরিশ্রমী,_ ভিক্ষুক সংখ্যা নাই বলিলেই হয় । “প্রমীলার রাজ্যে” পুরুষাপেক্ষা স্ত্রীলোকেরা অত্যাধিক সুশ্রী ও স্ৃর্তিবিশিষ্টা।৯ ইহারা অতিশয় অলঙ্কার প্রিয়া। খাসিয়া রমণীগণ ওজন বিশিষ্ট স্বর্ণহার অধিক ভালবাসে । জয়ন্তীয়ায় স্বর্ণকারদের ব্যবসায় এক সময় বিশেষ লাভজনক ছিল এবং এই শিল্প বিশেষ উৎ্কর্ষতা লাভ করিয়াছিল ।১০ ৮. ইহা পার্বত্য খাসিয়া রীতি । যেখানে বিবাহবন্ধন শ্রথ সেই অনার্য্য ভূভাগে এইরূপ রীতি প্রায়শঃ দৃষ্ট হয়। ৯. এই বিষয়ে একটি প্রবাদ-বাক্য আছে যথাঃ- “পান পানি নারী, তিনে জয়ন্তীয়া পুরী 1” বাংলা পাণ হইতে খাসিয়া পাণ উৎকৃষ্ট, জয়ন্তীয়ার নদীগুলি সুজলা (-সারি নদীর সুনির্মল জলের তলস্থ 'বিচরণশীল মৎস্য সুস্পষ্ট দেখা যায়), এবং নারীগণ বিশেষ কান্তিবিশিষ্টা । ১০. জয়ন্তীয়ায় রমণীগণ সাধারণতঃ যে সকল অলঙ্কার ব্যবহার করে, তাহার নামঃ- ১। লং-উপরকাণের অলঙ্কার । স্বর্ণনির্মিত, লংএর আকৃতি । ২। ছুচী-নিম্ন কাণের অলঙ্কার । (স্বর্ণনির্মিত) ৩। (ক) প্রবাল খচিত স্বর্ণমালা, (খ) স্বর্ণময় গল্লার গোটা, গলার অলঙ্কার । গলার হার (গ) মোহনমালা (ঘ) কণ্ি, ৪। নথ, বেশর ও ফুল। (হ্বর্ণময়) নাকের অলঙ্কার। ৫। শাখা-রৌপ্যনির্মিত হাতের অলঙ্কার । ৬। বাইনদড়ী, কবজ, হাতপাট্টা-বাহুর অলঙ্কার । ৭। খাড় ও পাজের-পায়ের অলঙ্কার । এতদ্যতীত “হাসলি” প্রভৃতি আরও দুই চারি পদ অলঙ্কার ব্যবহার করিতে দেখা যায়। ষষ্ঠ অধ্যায় : বিবিধ কথা শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৩৮৯ এলি ধর্ম জয়ন্তীয়ার রাজারা হিন্দুধর্মাবলম্বী ছিলেন। ইহাদের মধ্যে অধিকাংশই শাক্ত এবং কেহ কেহ বৈষ্ণব ধর্মেও আস্াবান ছিলেন । রাজা রাজেন্দ্র সিংহের বৈষ্ণবতা বিশেষরূপে খ্যাত হইয়াছিল। জয়ন্তীয়ায় দুর্গোৎসব পব্র্ব মহাসমারোহে সম্পাদিত হইত; এই সময়ে নরবলি দানের প্রথা ছিল। মহাবিষুব সংক্রান্তিতেও রাজারা বিশেষ আড়ম্বর করিতেন। পার্বত্য খাসিয়াদের মধ্যে ধর্মহীন গোখাদক থাকিলেও, সিন্টেঙ্গণ হিন্দু ধর্মে আস্থাবান; তাহারা দৈত্য দানব পূজা করিলেও তাহা অনেকটা হিন্দুধর্মের আদর্শে মার্জিতি। নাটিয়াঙ্গের সিন্টেঙ্গণ “দুর্গামাই ও কালীমাই”কে পৃজা করিয়া থাকে। দেববিগ্রহাদি রাজাদের স্থাপিত দেববিগ্রহ ও মহাপীঠ জয়ন্তীয়াবাসী বাঙ্গালী ও খাসিয়া সকলেই সমভাবে মান্য করে। ফালজোরের পীঠাধিষ্টাত্রী কালী ও রূপনাথ ব্যতীত পশ্চাদ্বর্ণিত দেবতার বিষয়ও উল্লেখযোগ্য । জয়ন্তেশ্বরীর বিষয়ও এস্থলে বর্ণিত হইল না, তদ্বিবরণ প্রসঙ্গতঃ স্থানান্তরে উক্ত হইয়াছে । জয়ন্তীয়ার হরিপুরে “তপ্তকুণ্ড” নামে একটা উষ্ণ কুণ্ড আছে, তদ্িবরণও অন্যত্র কথিত হইয়াছে। বিন্নাটেকের কালী--এই কালীকে লোকে বিশেষ শ্রদ্ধা ও ভয় করিয়া থাকে। ইহার বাড়ীর নিকট দিয়া যে খাল প্রবাহিত হয় তাহার নাম “কালিকার খাল” হইয়াছে। এই কালী পৃবের্ব বামজঙ্ঘাপীঠের নিকটে ছিলেন। বাউর ভাগের কালী--একফুট দীর্ঘ, নয় ইঞ্চি প্রসর একখৎ প্রস্তরে এই কালীমৃর্তি উৎকীর্ণ। ইহার প্রসাদ কেহই খায় না। কথিত আছে যে, ইহার প্রসাদ ভক্ষণে রোগ জন্মে ও মৃত্যু হয়। গৌরী শঙ্কর-_-রাজবাটার এক মাইল উত্তরে এক শৈল খন্ডের উপরে এক প্রস্তরখণ্ডে শিব ও দুর্গার প্রতিমূর্তি অঙ্কিত। ইহার দক্ষিণ পার্স্থ ক্ষুদ্র পল্লীটি দেবতার নামানুসারে “গৌরীভুবন” বলিয়া খ্যাত । উমনন্দী-_বড় গাঙ্গের তীরে প্রাচীর বেষ্টিত এক মন্দিরে হরপার্ব্বতীর প্রতিমূর্তি বিরাজিত। ইহা উমানন্দী মন্দির নামে খ্যাত । ভোলানাথ (দুইজন)--১. নিজ পাটের ভোলানাথ ছয়বুড়ী নদীতীরে অবস্থিত। ২. কামাইদ গ্রামের ভোলানাথ (আড়াই খা পরগণাধীন) কামাইদ গ্রামে অবস্থিত। কথিত আছে, এই মহাদেবকে কুঠারঘাত করায় জনৈক যবন মৃত্যুমুখে পতিত হয়। জগন্নাথ--ভৌডিগ গ্রামে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রী মূর্তি আছেন। রথযাত্রায় রাজারা এই স্থানে রথ দর্শন করিতেন। নিজ পাটের কালী--এই কালীর বিবরণ পৃবের্ব কথিত হইয়াছে। মহারাজ বড় গোসাঞ্ছি, লীলাপুরী দ্বারা এই কালী প্রতিষ্ঠা করেন ও পশ্চাৎ স্বয়ং সন্ন্যাসধর্্ গ্রহণ করতঃ ইহার অর্্নায় জীবন কর্তন করেন ও বহুতর নিষ্কর ভূমি প্রদান করেন। অদ্যাপি বাজেরাজ পরগণার গোবিন্দপুরে- -৩৯৭/০ বিঘা, বর্ণফৌদের ঝিঙাবাড়ীতে ৮৫/০ বিঘা ও ৫২৭/০ বিঘা, বাউরভাগের দলইর কান্দিতে ৪৫/০ বিঘা নিষ্কর ভূমি আছে। লীলাপুরী সেবায়েতগণের নামাবরী এইঃ-_ প্রথমতঃ-_-লীলাপুরী । (সন্ন্যাসী) তৎশিষ্য-রাজপুরী । (মহারাজ বড় গোসাঞ্ছি) ৯০ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-চতুর্থ খণ্ড ” _-আত্মাপুরী । ”"--গোবিন্দপুরী । ”-- দয়ালপুরী। ”--বিশ্বনাথপুরী । ”"--রামপুরী। ”-_কৈলাশপুরী শু গণেশপুরী । ইহারা জীবিত আছেন। রামেশ্বর শিব- ইহারা বিবরণও পুবের্ব লিখিত হইয়াছে। রাজা রামসিংহ (দ্বিতীয়) এই শিব প্রতিষ্ঠা করেন। ইহারই মন্দির প্রসিদ্ধ ঢুগীর মঠ। রাজা দেবসেবার জন্য বহু দেবত্র দান করেন, অদ্যাপি বাজেরাজ, খরিল, জয়স্তীয়াপুরীরাজ প্রভৃতি পরগণায় ৪৭৮/০ বিঘা নিষ্কর ভূমি এই দেবতার) সেবা পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট আছে। রুকড়পুরী হইতে সেবায়েতগণের নামবলী এইঃ-_ প্রথমতঃ--রুকড়পুরী। (সন্ন্যাসী) তৎশিষ্য-_-লালপুরী । তৎশিষ্য--জগন্নাথপুরী 1১১ তর্থশিষ্য-_ গোবিন্দপুরী ৷ তৎশিষ্য--কল্যাণপুরী । তৎশিষ্য-_ভৈরবপুরী ৷ (জীবিত) তথশিষ্য-_ভবানীপুরী ৷ (জীবিত)। শ্রীযুক্ত ভৈরব পুরী সন্যাসীর বয়ঃক্রম প্রায় ১০০ শত বৎসর হইবে। সাধারণে ইহাকে সিদ্ধ পুরুষ বলিয়া মান্য করে। শুনা যায় যে, নিশীথ সময়ে ইনি ব্যাঘাদি হিংস্র জন্তুপূর্ণ জঙ্গল দিয়া গমনাগমন করেন; ব্যাঘ্াদি তাহার কোন অনিষ্টই করে না। এই সাধু মহাত্ার পবিত্র নামের সহিত আমরা জয়ন্তীয়ার সাধারণ বিবরণ পরিসমাপ্ত করিলাম । ১১. রাজা রামসিংহের প্রদত্ত সনদে দৃষ্ট হয় যে, রুকড়পুরীর শিষ্য লালপুরী এবং তথুশিষ্য জগন্নাথপুরী । ইহাই যথার্থ বোধ হয়। মতান্তরেঃ- রুকড়পুরী ভবানীপুরী ভৈরবপুরী তথশষ্য - জগন্নাথপুরী " - গোবর্ধনপুরী - কল্যাণপুরী । - ভৈরবপুরী ৷ (জীবিত) - ভবানীপুরী ।” প্রথম অধ্যায় প্রথম অবস্থা পাশ্চাত্য জাতির ভারতাগমন ইউরোপীয় জাতির মধ্যে ভারতবর্ষে সর্ব্বপ্রথম পট্টুগীজদের আগমন হয়; ইহাদের পরে ওলন্দাজগণ চুঁচুড়ায় এক উপনিবেশ স্থাপন করে । তৎপর দিনেমারগণ বাণিজ্য ব্যপদেশে আসিয়া শ্রীরামপুর অধিকার করে। ইহাদের পরেই ইংরেজ জাতীয় বণিকগণের শুভাগমন হয়। ভারতবর্ষে বাণিজ্য করিবার জন্য ১৬০০ খৃষ্টাব্দে ইংলণ্ডে “ইষ্ট ইগ্ডিয়া কোম্পানী” নামে এক বণিক সম্প্রদায় গঠিত হয়, ইহারা বাণিজ্যার্থে ভারতবর্ষে আগমন পূর্বক সুরাট, হুগলী, কাশিম বাজার প্রভৃতি স্থানে কুঠী স্থাপন করেন। ইংরেজ আগমনের অল্প পরেই ফরাসীদের চক্ষু ফুটিল, তাহারা দেখিল যে স্পর্শমণির স্পর্শে রাঙ্গ সোণা হয়। অমনি ভারতাভিমুখে ফরাসী জাহাজ ধাবিত হইল। ফরাসীদের অধিকৃতস্থানের মধ্যে ভারতে পপ্ডিচেরী, চন্দ্রনগর এখনও তাহাদের গৌরব ঘোষণা করিতেছে। সম্রাট শাহজাহানের প্রিয়তমা তনয়া জাহানীরার বস্ত্াঞ্চলে অগ্নি সংযুক্ত হইয়া গাত্র দগ্ধ হয়। চিকিৎসক বৌটন সাহেব ১৬৪৫ খৃষ্টাব্দে সুরাট হইতে দিল্লী গিয়া তাহার আরোগ্য করেন এবং অভিপ্রেত পুরস্কার গ্রহণ করিতে আদিষ্ট হইলে, মনস্বী চিকিৎসক নিজ স্বার্থাপেক্ষা জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ মূল্যবান জ্ঞান করেন; তাহার প্রার্থনানুসারে ইংরেজ কোম্পানী বঙ্গে বিনাশুক্কে বাণিজ্য করিবার অনুমতি প্রাপ্ত হন। ইংরেজ কোম্পানীর কর্মচারীগণ ১৬৬৩ খৃষ্টাব্দে সর্ব্বপ্রথম বালেশ্বরে কুঠী স্থাপন করেন। বণিক আর্টজন বিনতভাবে উড়িষ্যার মোসলমান শাসন কর্তার তুষ্টি বিধানে বাণিজ্য বিস্তারে সুত্রপাত করেন। যখন সিরাজউদ্দৌলা বঙ্গের সিংহাসনে অধিরুট্ু, বঙ্গে তখন ইংরেজ বণিকের বাণিজ্য বিশেষ ভাবে প্রসারিত হইয়াছিল। দৈব্য নির্ব্বন্ধে সেই সময় (১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে) পলাশী ক্ষেত্রে নবাব সৈন্যের সহিত ইংরেজদের এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বিশাল নবাব সৈন্যের বিশ্বাসঘাতক অধিনায়কের শৈথিল্য প্রযুক্ত নবাব পক্ষ পরাজিত হইল, ইংরেজগণ বিজয় গৌরবে বঙ্গে বিচরণ করিতে লাগিলেন। পরে অকর্মণ্য নবাব মীরজাফরের সময় ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে ইষ্ট ইপ্ডিয়া কোম্পানী বঙ্গ বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানী পদ গ্রহণ করেন। শ্রীহট্ট তখন বাঙালার নবাবের অধীনে ছিল, সুতরাং বঙ্গের অপরাপর জিলার ন্যায় শ্রীহট্রেও ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে ইংরেজের অধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রীহট্রের মোসলমান ফৌজদারের অধিকৃত ভূভাগের পরিমাণ তখন ২৮৬১ বর্গমাইল মাত্র ছিল; ইংরেজ কোম্পানী ২৮৬১ বর্গমাইল ভূভাগের রাজস্ব আদায়ে নিযুক্ত হন। ইষ্ট ইপ্তিয়া কোম্পানী দেওয়ানী বা শুধু রাজন্ব আদায়ের ভারই গ্রহণ করেন; শাসনভার বা ফৌজদারী ক্ষমতা তখনও মোসলমান নবাবগণের হাতেই ন্যস্ত থাকে। শ্রীহট্রের তৎকালীন মোসলমান ফৌজদারগণের নাম ও শাসন বিবরণ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ্বিতীয়ভাগ দ্বিতীয়খণ্ডের তৃতীয় অধ্যায়ে লিখিত হইয়াছে। ৩৯৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড শ্রীহট্ট্রে প্রথম ইংরেজ শাসনকর্তা মোগল শাসন সময়ে শ্রীহন্ট হইতে হস্তী, মসন্পা, কাষ্ঠ প্রভৃতি উৎপন্ন দ্রব্য ব্যতীত যৎসামান্য কর আদায় হইলেও শ্রীহট্ট শাসনকর্তীর পদ অতি গৌরবান্বিত বিবেচিত হইত-_বঙ্গীয় নবাবের ঘনিষ্ট আত্মীয়বর্গই এখানকার আমিল পদে নিয়োজিত হইতেন।১ ইষ্ট ইপ্তিয়া কোম্পানী দেওয়ানী গ্রহণ করিলে পূর্ববঙ্গের রাজস্ব সংগ্রহ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কর্ম নিবর্বাহার্থ ঢাকায় “রেডিনিউ বোর্ড” প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই বোর্ড হইতে মিষ্টার থেকারে (77700/518) সর্বোচ্চ কর্মচারী রূপে শ্রীহট্রে প্রথম আগমন করেন শ্রীহট্টে তখন যে সকল ইংরেজ কর্মচারী আগমন করেন তাহাদের “রেসিডেন্ট” আখ্যা ছিল, ইহাদের পদ অতি সম্মানিত বিবেচিত হইত । এই প্রসিদ্ধ পন্যাসিক থেকারের পিতামহ শ্রীহট্রের এই সম্মানিত পদে নিযুক্ত হইয়াছিলেন। থেকারে শ্রীহট্টে পৌছিয়াই প্রথমে বাসের নিমিত্ত এক বৃহৎ গৃহ নির্মাণ করেন। নবাব তালাবের পশ্চিম তীরে, বর্তমানে যথায় ডিপুটী কমিশনারের বাঙ্গালা বিদ্যমান, সেই গৃহ তাহারই সন্নিকটবর্তী স্থানে নির্মিত হইয়াছিল। এ সময় শ্রীহট্টে কোন আদালত ছিল না: তরফের সুলতানসিতে নবাবি বিচারালয় ছিল; বিচারের জন্য অর্থী প্রত্যর্থীগণ সুলতানসি গমন করিত ।২ মিষ্টার থেকারের সময়ে জয়ন্তীয়া-পতি ছত্রসিংহ শ্রীহন্টের বুটিশ প্রজাদিগকে নিপীড়িত করেন। ইহাতে মেজর হেনিকার কর্তৃক পরিচলিত হইয়া ইংরেজ সৈন্য জয়ন্তীয়া জয়ে সগথ হয়: জয়ন্তীয়া-পতি অর্থ দণ্ড দিয়া কোম্পানী বাহাদুরের তুষ্টি বিধানে অব্যাহতি লাভ কবেন ॥5 থেকারের পরবর্তী ইংরেজ কর্মচারীর নাম মিষ্টর সমনার (5817101) এবং মিষ্টাব হলাগ (70119110) 18 মিষ্টার সমনারের নাম “আসাম ডিস্ট্রিক্ট গেজিটিয়ার” গ্রন্থে নাই । সমনার থেকারের সহকারী কর্মচারী ছিলেন বলিয়া বোধ হয়। মিষ্টার হলাণ্ড ঢাকা কৌন্সিলের সদস্য ছিলেন। শ্রীহ্টের ভূস্কামীবর্গের সহ ভূমির বন্দোবস্ত ও রাজস্ব নির্ঘারণের জন্য ঢাকা কৌন্সিল হইতে ১৭৭৬ ৃষটাব্ডে শ্রীহ্টে প্রেরিত হন। তিনি শ্রীহন্ট্রে আগমন পূবর্বক রাজস্বের এক হিসাব প্রস্তুত করেন তাহাতে শ্রীহন্টরের রাজস্ব প্রায় ২৫০০০০ টাকা নির্ধারিত হয়। তিনি ইহাও উল্লেখ করেন শ্রীহন্টরের অধিবাসীগণ উদ্ধত প্রকৃতি বিধায় তত্প্রদত্ত হিসাবানুরূপ রাজস্ব আদায় করা সুকঠিন ।৫ ১, +1176 10)150700,%161460 10010 15৬০0086 160১.090%017117010 0০910 2 [6৬/ 01১1014100১, $]100১, 074 5০০, ₹₹+*%]0110 50201001 11501 ৬০১ 21855 001151061501 25 01) 101101210 01001110061. 8৭ 58101 ৮৪5 00000166) 9% ৪ 10601 16190101) 01101) [8৬/90 01173211091. -101116175 91001501081 4১0০০001005 01550], ৬০1. 11- (5911)01). ১০৪/৯55211) [31501101 0229115815. ৬০1.. 1]. (91116) 2. 42 শ্রীহট্টের ভাগ চতুর্থ খণ্ড তৃতীয় অধ্যায় দেখ। "/৯০1 016 [06৮/81)9 1090 ০০1) 001811)60 99 31010151) 090৬61117161)0, 21) 91000 925 [19000 11) 011210 ০1 1170 10151100, 211 1%10551511780106189 90701)61 2010 1101101)0 50050055101 1014 0৮ 01000110111. -সি11101001 76205 01 07011151079 214 51811501001 11169 [98009 101515101), চি 291. শ্রীহট্রের কালেক্টরগণের ক্রমানুযায়ী নামাবলীজ জ-পরিশিষ্টে (২য় ভাগ ৫ম খণ্ড) দ্রষ্টব্য । ৫. "11. 11011910191] 10111591100 1015 00511)055 11) 11001 01000016 50116 56111610101 16101110010 19000 8170 70165911050 1115 16111-101] (0 0176 0017011, 01710011111) 10 1109 1955 0101 হি. 2500600 [১01 21017) 041 5010 80 006 521৩ (1116, 006 0169 /০16 11050 001001011 [১০০1১15 0170 0181 11 ৬/০110 76001110 111101। (1010016 10164117011" -[1)6 11৬65 01 0116 1,117005998. 2 প্রথম অধ্যায় : প্রথম অবস্থা শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৩৯৫ শ্রীহট্টের দেওয়ান ইতিপুবের্ব (২য় ভাগ ২য় খণ্ডে ৩য় অধ্যায়) সাদেকুল হরমাণিক নামাঙ্কিত শ্রীহস্ট্রের মোহরের বিষয় বলা হইয়াছে, মোহরোল্লিখিত মাণিক চাদ দেওয়ান দীর্ঘজীবী পুরুষ ছিলেন, এবং সেই সময়ে তিনি বৃদ্ধ হইয়া পড়িলেও শ্রীহট্রের দেওয়ানীর ভার এতথকাল পর্যন্ত তাহারই উপর ন্যস্ত ছিল। মাণিক চাদের পূর্র্বপুরুষগণ উত্তরাধিকারী ক্রমে শ্রীহস্রের দেওয়ান ছিলেন। তদীয় পিতা দেওয়ান মুক্তারাম যশহ্বী পুরুষ ছিলেন। মণিপুরাধিপতি পেম হেইবার সময় (১৭১৪ খৃষ্টাব্দ) হইতে নানা বিষয়ে শ্রীহট্রের অধিবাসীগণ সহ মণিপুরীদের সংশ্রব ঘটে । অতঃপর মণিপুরের কোন রাজা কিয়ৎকালের জন্য শ্রীহট্টে আসিয়া বাস করেন বলিয়া কথিত আছে। সম্ভবত ব্রক্ষরাজের ভয়ে মণিপুর পতি শ্রীহট্রে আগমন করিয়া থাকিতে পারেন। মণিপুর পতির সহিত সেই সময়ে দেওয়ান মুক্তারামের সৌহৃদ্য জন্মিয়াছিল, তাহার চিহ্ন স্বরূপ দেওয়ানকে তিনি দুই দেববিগ্রহ প্রদান করেন। রাজদত্ত সেই দুই বিগ্রহকে মুক্তারাম সাদিপুরে স্থাপন করিয়া দেবসেবার জন্য প্রচুর ভূসম্পত্তি দান করেন।৬ এইরূপে সাদিপুরের আখড়া প্রতিষ্ঠিত হয়। সাদিপুরের দেবত্র ভূমির আয় বর্তমানে সহস্র মুদ্রার ন্যুন নহে। মুক্তারামের একমাত্র পুত্র দেওয়ান মাণিক চাদ। পাথারিয়াবাসী দুর্লূব দাস নামক প্রতৃত ধনশালী এক ব্যক্তির লবণের এক চেটিয়া কারবার ছিল, তিনি অনেক ভূসম্পত্তির অধিকারী ছিলেন; মাণিক চাদের সহিত তাহার এক বৃহৎ মোকদমা ছিল। এই মোকদ্দমায় দেওয়ানকে জওয়াব দাখিল করিতে এবং দেওয়ানী পদের জামানত পুনঃসংস্কার করিতে ঢাকায় যাইতে হয়, এই জন্য হলাণ্ড সাহেবকে ১৭৭৪ খৃষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারী তারিখে চার্জ সমজাইয়া দিয়া আপন কাজে ঢাকায় গমন করিয়াছিলেন ।৭ দেওয়ানের মৃত্যু সম্বন্ধে এক রহস্য আছে; কোন ঘটনায় ১৭৮২ খৃষ্টাব্দে তাহার মৃত্যু প্রচারিত হয়; ইহার পর তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন, তাহাকে বাধ্য হইয়া আত্মগোপন করিতে হইয়াছিল বলিয়া কথিত আছে। বাবু মুরারি চন্দ্র দেওয়ানের একমাত্র পুত্র ছিলেন। দেওয়ানের মৃত্যুর সহিত দেওয়ানী পদ উঠিয়া যায়। বাবু মুরারি চন্দ্রের কীর্তিকাহিনী বংশ বৃত্তান্ত খণ্ডে বর্ণিতব্য। শ্রীহস্টের স্বনাম ধন্য ৬. "[9)7 01101100715 5010 10 179৬0 1558060 50106 (11505 11) 51161 7776 /১021015 01016 920119101 /১10)19 210 9150 521010110৬6 10001) 01018 0৬০7 00 1৮101101011), [0817061 01 01)0 /৯10)19 যো) (1১0 10116 011৬1011109- (01091) 10607, 009 006 919 01141910101," -110110015 91001511081 /00001)05 01 4৯552), ৬০1. 11 (১911001) চি. 120 ৭. মিঃ হলাণ্ড দেওয়ান হইতে চার্জ গ্রহণ করিয়া ঢাকা-রেভিনিউ কৌন্সিলের বড় সাহেব বরাবরে যে রিপোর্ট দেন, তাহার জাবেদা নকল সংগ্রহ করিয়া নিম্নে প্রদত্ত হইল। মূল কাগজে দস্তখতটা উঠিয়া যাওয়ায় অপাঠ্য হইয়াছে; 70 0010) 171095011) 1550, /১011116 007191 210 00-1709৬111010] (:01011011 011২5৬০1810 1)0002. 00011165170). 10110101701 016 10০৬০) 01 0115 01900 00176 0011260 10 160207 10 108008 11) 01001 10 1010 3911 2114 8115৬/91 10 2 5011 ০01) ০1190 98811501011] 09 0109 10011501025 11) 010 500016100 ০0] 01 11101091016 ] 12৬6 (91:01) 01101) 17956]1 06 0100160 01 01801058001118 016 17111001195 01016 10305117955 01015 [90৬1106 0111 10151010011). 1126 07617010001 (0 6 9001 8051 0060161 561%5111. 000101671801) ১১11)! [116 120) 1থঃএঞ্াও 1778. ৩৯৬ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড রাজা গিরিশচন্দ্র ইহারই একমাত্র কন্যা ব্রজসুন্দরীর পোষ্য পুত্র ছিলেন এবং মুরারী চাদ কলেজ স্থাপন দ্বারা স্বীয় মাতামহের নাম চিরম্মরণীয় করিয়া রাখিয়াছেন। লিগুসে (7২০১০: [1759/) সাহেব শ্রীহট্রের রেসিডেন্টি পদে নিযুক্ত হন। লিগুসে সাহেব ১৭৭৬ ৃষ্টাব্দে ভারতবর্ষে আগমন করেন ও আড়াই বৎসরকাল ঢাকায় অবস্থিতি করার পর রেসিডেন্ট ও কালেক্টর স্বরূপে শ্রীহট্টে আগমন করেন । তিনি দশ বৎসরের উর্ঘকাল এই পদে ছিলেন; মিষ্টার হিগ্ুমেন সাহেব তীহার সহকারী কার্যকারক ছিলেন।৮ লিগুসে সাহেব তাহার শাসন সময়ের বিস্তৃত বিবরণ করিয়া গিয়াছেন, তাহাতে শ্রীহট্টরের অনেক কথা অবগত হওয়া যায়। লিগুসে সাহেবের শাসনকাল শ্রীহট্টের প্রাকৃতিক দৃশ্য লিগুসে সাহেব লিখিয়াছেনঃ__ “আমি ঢাকা হইতে নৌকা যোগ অনুকূল স্রোতে যাত্রা করিলাম । বিংশতি মাইল অতিক্রান্ত হইলেই নৌকা এক বিশাল জলস্রোতে পতিত হইল, ইহার নাম মেঘনা (মেঘনাদ)। এই স্রোত অবলম্বনে আমাদিগকে বহুদূর অগ্রসর হইতে হইবে । নীল লহরীমালা বিলসিত জলরাশি থৈ থৈ করিতেছে, অল্প বায়ুবেগেই বিশাল তরঙ্গরাজি উথ্থিত হইতেছিল। আমার নৌকা তৎপর শত মাইল বিস্তৃত এক হুদে উপস্থিত হয়। নৌকার গতি নির্ধারণের জন্য আমাদিগকে সমুদ্র যাত্রার উপযোগী কম্পাস যন্ত্র ব্যবহার করিতে হইয়াছিল ।”৯ “নৌকা ক্রমেই অগ্রসর হইতে লাগিল। কোথাও জলরাশির মধ্যে দ্বীপের পর মনুষ্যবাস সমূহ দৃষ্টিগোচর হইল। প্রত্যেক গৃহস্থের নৌকাই সম্বল। জল পরিপ্রাবিত এইরূপ বুস্থান অতিক্রম করিয়া নৌকা শস্য ক্ষেত্রের মধ্য দিয়া চলিল। অর্থ জলমগ্নু সুন্দর সবুজ ধান্যক্ষেত্র; গাছগুলি সরিয়া অগ্রগতি নৌকার পথ দিতেছিল এবং নৌকা অগ্রসর হইলেই পশ্চাতে পুনঃ মস্তক তুলিয়া দণ্ডায়মান হইতেছিল, এ দৃশ্য অতি মনোমুধ্ধকর;১০ কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষ অগণ্য পতঙ্গের উৎপাতন বড়ই বিরক্তি উৎপাদন করিয়াছিল; দীপ জ্বালিলে ইহাদের উৎপাত প্রবর্ধিত হইত।” “যাত্রার সপ্তম দিবসে প্রায় চল্লিশ মাইল দূর হইতে শ্রীহট্রের উচ্চ পদস্থ শ্রেণীর মেঘসন্নিভ শ্যামল দৃশ্য নয়ন পথে পতিত হইল। নৌকা অগ্রসর হইলে ক্রমে সুরমা বক্ষে চলিতে লাগিল, আর ত্রিশ মাইল অগ্রসর হইলেই শ্রীহস্ট পৌঁছা যাইবে । এথা হইতে নৌকা ক্রমশঃ উপরে উঠিতে লাগিল, নদীতীর ক্রমশঃ উচ্চ দেখাইতে লাগিল এবং চতুষ্পার্শের দৃশ্য মনোহারী চিত্রের ন্যায় প্রতিভাত হইতে লাগিল।” ৮. শ্রীহট্ট দর্পণ পুস্তিকায় হড্্‌সন এবং অন্যত্র হামিল্টন বলিয়া লিখিত আছে। ঢাকা ব্রু বুকে “হিতুমেন” নাম দৃষ্; আমরা এই নাম এস্থলে গ্রহণ করিয়াছি। ৰ ৯, "[]1 09551100179 ০০৪ ০-৬/2105 9১1161. 11920 16000156 10 হা) (2017019255, 0180 52076 25 16562. 210 909010 ৪ 51215] 000156 01110181) ৪ 19106 1701 1655 (1090) 010 1)0010160 171155 11 670161)1. "5 [1৬55 01 086 [.81105895. ১০, পর) 00955111115 0081/05. ] 0600061101% 7025560 1010808110৩ 06105 01 ৮/1101106, +*%% 17051107098 61৬17 929 00 0170 ০০০. 25 1. 20৬০11060 2110 26911) 15176 10806010151 0011111010 0011154 0 %29 100০1 9001)0.” “5 1065 01 0180 1.1110595. লিশুসে দৃষ্ট হুদ (হাওর) ক্রমশঃ ভরট হইয়া যাইতেছে, খৃষ্ঠীয় সপ্তম শতাব্দীতে ইহাই প্রকাণ্ড সাগর সদৃশ ছিল। প্রথম অধ্যায় : প্রথম অবস্থা শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত ৩৯৭ শ্রীহট্ট সহর ও দরগা “আমলাগণ তরণী সুসজ্জিত করিয়া অভ্যর্থনার জন্য শ্রীহস্ট হইতে আগমন করিয়াছিল, এবং আমার জন্য নির্দিষ্ট বাসস্থান পর্যন্ত অনুসরণ করিয়াছিল। একটি বৃহৎ বাজার ও ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত কয়েকটি টীলা এবং প্রায সমসংখ্যক হিন্দু মুসলমান অধিবাসীগণের আবাস গৃহ লইয়াই তখনকার সহর ছিল ।১১ শ্রীহট্টরে শাহজলালের প্রসিদ্ধ দরগার কথা আমি জ্ঞাত হইয়াছিলাম: ভারতবর্ষের প্রত্যেক অংশ হইতে মোসলমান যাত্রীগণ এই দরগায় সমাগত হইয়া থাকে।” “নবাগত রেসিডেন্টকেও এই দরগার সম্মান প্রদর্শন করিতে হইত, ইহাই চিরন্তন রীতি ছিল। সেই রীতি অনুসারে আমাকেও পাদুকা বাহিরে রাখিয়া নগ্রপদে কবর দর্শনে ও পীরের সম্মানার্থ তথায় পাঁচটি সুবর্ণ মুদ্রা উপটৌকন দিতে হইয়াছিল ।” “দরগা হইতে গৃহে প্রত্যাবর্তন করিলে প্রজাপুঞ্জ সম্মান প্রদর্শনে আসিতে লাগিল হিন্দু অনুশাসনানুসারে রিক্তহস্তে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সহিত সাক্ষাৎ করা অনুচিত। কাজেই সাক্ষাৎকারীদের উপহৃত রৌপ্য মুদ্রায় আমার টেবিল আচ্ছাদিত হইয়া উঠিল। এক টাকার কম কেহই প্রদান করে নাই। সন্তাত্ত দাতাদিগকে কিছু পান সুপারি দিয়া বিদায় করা হইয়াছিল ।” “হলাও সাহেবের কর্মচারী গুকরি সিং (মতান্তরে গোলাব সিং) এবং প্রেম নারায়ণ বসু নামে দুই ব্যক্তি তখনকার বিভিন্ন অফিসের কার্য চালাইতে ছিল, ইহারা বেশ সচ্চরিত্র লোক। আমি তাহাদিগকে নিজকার্ষে বহাল রাখিয়া ছিলাম । তন্মধ্যে প্রথমোক্ত ব্যক্তি ভারতবর্ষ ত্যাগের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমার নিকট ছিল এবং পরেও আত্মীয় বন্ধুর ন্যায় পত্র লিখিত ।” লিগুস সাহেবের বর্ণনা হইতে জানা যায় যে দেশের শাসনভার তখনও মোসলমান নবাবের হাত ছিল। রাজন্ব বিভাগ ব্যতীত বিচার সম্পর্কে তাহার নিজের পরও এক আদালত ছিল। কিন্তু বিচার কার্ষে দেশীয় পণ্ডিতবর্গ হইতে তিনি আইনের ব্যাখ্যা বিষয়ে সহায়তা পাইতেন। অশান্তি দমন লিগুসে সাহেব শ্রীহট্টে, আসিয়াই এক গোলযোগে পতিত হন। কোম্পানীর দেওয়ানী গ্রহণের প্রাক্কালে খাসিয়ারা মোসলমান ফৌজদারদের সহ নিয়ত বিরোধ করিত, ইংরেজ আমলের আরন্তকালেও তাহা তিরোহিত হয় নাই, ১৭৭৯ খৃষ্টাব্দেই ইহার সূত্রপাত হয়। ইংরেজ পর্তুগীজ, ওলন্দাজ প্রভৃতি অনেক জাতীয় লোকেরা ব্যবসায়োপলক্ষে শ্রীহন্টরে থাকিত, “নিম্নশ্রেণীর” এই সমস্ত ইউরোপীয় জাতির অসদ্যবহারে খাসিয়ারা ক্ষেপিয়া উঠিয়াছিল। লিগুসে সাহেব এই ব্যবসায়ীদিগকে রক্ষার জন্য এক ক্ষুদ্র দুর্গ প্রস্তুত করা আবশ্যক মনে করিয়াছিলেন।১২ কেবল সীমান্ত দেশে নহে, দেশের অভ্যন্তরেও এই সময়ে একটি গোলযোগ উপস্থিত হইয়াছিল, এই সনে কোন নীলাম ক্রেতাকে ভূমিতে দখল দেওয়াইবার জন্য দশজন সিপাহী ও হাবিলদার বালিশিরা প্রেরিত হয়। ইহাতে ভূমির পূর্র্বাধিকারী উত্তেজিত হইয়া দুইজন সৈনিককে হত ও বহুতর ব্যক্তিকে আহত করে । কেবল তাহাই নহে, এই সময় গবর্ণমেন্টের রাজস্ব, ২০০০ সহস্র টাকার কৌড়ি বোঝাই নৌকা লুগ্ঠন করে । এই সংবাদ প্রাপ্ত শরীহট্ট হইতে নূতন সৈন্যদল বালিশিরা প্রেরিত হয় ও তাহারা নীলাম ক্রেতাকে ভূমিতে দখল দেয়। তৎকালে পুর্র্বাধিকারী অনুপস্থিত ছিল, কিন্তু সে সন্ত্ররেই বহুলোক লইয়া উপস্থিত হইল; ১৯, 116 [55 1)0116 117২0১5 ৬০]..]]1 1১, 1ঠি, ১২. 4৯110151৯৭0) [)151:100 02010190175 ৬০1.. ]1. (5৬11101)12 ১ ৩৯৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড যাহাকে পাইল, কাটিতে লাগিল; কাছারী প্রভৃতিতে অগ্নিসংযোগ করিল ও বহুতর সিপাহীকে নিহত ও বন্দী করিয়া পলাইয়া গেল ।১৩ যাহা হউক, এই বিদ্রোহীকে কর্তৃপক্ষ ঢাকায় গ্রেফতার করায় অশান্তি দমিত হয়। শ্রীহট্টে কৌড়ি-মুদ্রা ও রাজস্ব নবাব আমলে শ্রীহট্টে কৌড়ির প্রচলন ছিল, লিগুসে সাহেব কৌড়ির বিভ্রাটে বড়ই ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়েন। অন্যান্য ইউরোপীয় জাতির অনুকরণে তিনি এই সময় চুণার ব্যবসায় আরম করেন। এই সম্বন্ধে তিনি লিখিয়াছেন; “ভারতবর্ষের অন্যান্য স্থানেব ন্যায় শ্রীহট্রে রাজস্ব আদায় হইত না। এদেশে রৌপ্য বা তাযত্রের প্রচলন ছিল না বলিলেও হয়। আফিকার রমণীগণ যে কৌড়িকে অঙ্গের ভূষণ মনে করে, তাহাই এথায় মুদ্রারূপে ব্যবহৃত হইত, বাঙ্গালার অন্যান্য অংশে যে কৌড়ি নাই তাহা নহে; তথায় ইহা সামান্য খাদ্যোপকরণ ক্রয়ার্থ ইতর শ্রেণীর মধ্যেই আবদ্ধ । সমুদ্র হইতে সার্ঘ শত ক্রোশ দূরবর্তী শ্রীহত্টরে কিরূপে কৌড়ি প্রধান মুদ্রার স্থান অধিকার করিল, বলা যায় না। “আশ্চয্যের বিষয় যে বালেশ্বর হইতে চট্টল পর্যন্ত, অথবা মালাবার বা করমণ্ডলের বিশাল উপকূল ভাগের কোথাও কৌড়ি অধিক পরিমাণে দৃষ্ট হয় না। শ্রীহট্ট হইতে সার্ঘ সপ্তশত ক্রোশ দূরবর্তী মালদ্বীপ ও নিকোবর দ্বীপদ্ধয়ে বহুল পরিমাণে কৌড়ি জন্মিয়া থাকে। “আমার সংগৃহীত রাজস্বের মোট পরিমাণ ২৫০০০০ টাকা হইয়াছিল । এই টাকার বিপুল কৌড়িরাশি রাজস্ব স্বরূপ গ্রহণ করা যে কতদূর আয়াসসাধ্য, তাহা সহজেই অনুমান করা যাইতে পারে । এই সকল কৌড়ি রাখার জন্য অনেকগুলি বড় বড় ঘর নির্মাণ ও বৎসর শেষে এক বৃহৎ তরী শ্রেণী সঙ্জিত করতঃ ঢাকায় প্রেরণ করিতে হইত। ইহাতে শতকরা দশটাকা ক্ষতি হইত। ঢাকা যাওয়ার পথেও আরও কতক অপচয় ঘটিত ।” “আমার পৃবের্ব ঢাকায় কৌড়ি পাঠাইতে এক একটি করিয়া গণনা করার প্রথা ছিল, আমি তাহা উঠাইয়া ওজন পুর্র্বক কৌড়ি গ্রহণের প্রথা প্রচলিত করিতে ইচ্ছা করিলে আমার বিচরণ কৃষ্ণকায় খাজাঞ্চি তাহা অসম্ভব বলিয়া প্রকাশ করে। কিন্তু আমার হুকুম অন্যথা হইবার নহে, কাজেই ওজন আরন্ত হয়। কিন্তু কৌড়ির গায়ে বালি সংলগ্ন থাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যা অপেক্ষা এক তৃতীয়াংশ অধিক মূল্য দীড়াইল। আমি তখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ যন্ত্র নির্মাণ ক্রমে তদ্বারা ওজন কার্য সমাধা করিতে লাগিলাম। বৃদ্ধ খাজার্জির পরামর্শে এক ঝুড়িতে কৌড়ি রাখিয়া পরিমাপের কার্য নিব্বাহ করা হইত । এইরূপে রাজস্ব আদায় করিয়া ঢাকায় প্রেরণ ও প্রকাশ্য নীলামে বিক্রয় পূর্বক রৌপ্য মুদ্রায় পরিণত করা হইত। সুখের বিষয় যে, এই প্রথা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় নাই, সত্ত্বরেই তাহা উঠাইয়া দেওয়া হয়।” রেসিডেন্টের বেতন ও তখনকার বাণিজ্য “এখন ব্যবসায় বাণিজ্যের এক বিস্তৃত ক্ষেত্র আমার নয়ন সমক্ষে প্রসারিত দেখিতে পাইলাম । রেসিডেন্টরূপে আমার বার্ধিক বেতন পঞ্চ সহজতর মুদ্রার অধিক ছিল না; সুতরাং ধনোপার্্জনের উপায়ান্তর অবলম্বন করিতে হইয়াছিল; তাহা ব্যক্তিগত পরিশ্রমের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করিত ।” ১৩. /৯110175 ঠ5$0ঘা। 19015101100 08/6006৩7৭ ৬০1, 11 (591161) টি 39 প্রথম অধ্যায় : প্রথম অবস্থা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৩৯৯ ০৮০৭১০৫৭২৭৮ ধান্য ব্যতীত তথায় আর কিছু জনিত না। সংলগ্ন ভূমির অবস্থা কিছু উন্নত ছিল, তথায় ইক্ষু, তুলা প্রভৃতি মূল্যবান শস্য জন্মিত। রি যাইত। চীন সীমান্ত হইতে “মুগাজ ধুতি' নামক নিম্নশ্রেণীর রেশম আমদানী হইত । তদ্যতীত পব্র্বত শ্রেণী চুণের অফুরন্ত ভাণ্তার স্বরূপ ছিল।” “বাণিজ্যের এই শাখার উপরেই আমার ভাবি সৌভাগ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠত হইয়াছিল ।. পাহাড়ের তলভূমিতে উৎকৃষ্ট হাতীও পাওয়া যাইত । আরও অনেকগুলি সামান্য জিনিষ বিক্রয়ার্থ বিদেশে প্রেরিত হই৩। যথা--খারাপ মসলিন, গজদন্ত, গম, মধু ও বনজ ওঁষধ। যথাসময়ে প্রকৃতি সতী অক্ষয় ভাপ্তার খুলিয়া ললাম কমলা লেবু বিলাইন্তেন।” “চূণাব অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হইয়া জানিতে পারিলাম যে, গ্রীক, আর্মেনিয়ান ও নিশ্নশ্রেণীর ইউরোপীয়গণ কর্তৃক সামান্য ভাবে ইহার ব্যবসায় পরিচালিত হইতেছে। তাহাদের অপেক্ষা আমার অধিক সুযোগ সুবিধা থাকায় সন্তবরেই এক চেটিয়া অধিকার হইবে বলিয়া আমার ধারণা জন্মিল।” লিগুসে সাহেবের চুনার ব্যবসায় “এরূপ ধারণা আমার অন্যায় হয় নাই; সত্তবরেই আশাতিরিক্ত ফল লাভ হইল। যে কৌড়িরাশি রাজস্ব স্বরূপ আদায় হইত, তাদ্বারা আমি চুনা ক্রয় করিয়া, বিদেশে রপ্তানি করিতাম এবং ছয়মাস মধ্যে তাহার মূল্য স্বরূপ রৌপ্য মুদ্রা প্রাপ্ত হইয়া ঢাকায় রাজস্ব প্রেরণ করিতাম।” “চুণের পাহাড় আমাদের এলাকাধীন ছিল না, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন দলপতিগণের অধিকারে ছিল। এ ঢুণা পাহাড় তাহাদের নিকট হইতে পত্তুনি গ্রহণ করার বাসনা আমার হৃদয়ে জাগরূক হয়। সুতরাং দলপতিদের নিকট আমার অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলাম। তাহারা এতদ্বিষয়ে ইতি কর্তব্যতা নির্ধারণ জন্য পৃবের্ব আমার সহিত দেখা করিতে চাহিল। গিরি-পাদলগ্ পাণুয়াভূমে সভার স্থান স্থিরীকৃত হইল ।” “প্রকৃতি দেবী তথায় বড় মোহন বেশে সঙ্জিতা হইয়াছেন। উচ্চ গিরি চূড়াগুলি মনোহর পত্র পুষ্পে শোভিত হইয়া সমতল ভূমি হইতে কেমন সুন্দর সোজাভাবে উ্থিত হইয়াছে; বৃক্ষে বৃক্ষে উষ্ণদেশ সূলভ নানা জাতীয় ফুল ফলরাজি কি সুন্দর শোভাই বিকাশ করিতেছে প্রকৃতির এহেন রূপমাধূর্য আমি আর কোথাও দেখি নাই। বিশাল গিরিহদয় লম্বমান রজতরেখারূপী জলপ্রপাত সমূহে বিভক্ত হইয়া কি অনুপম শোভাই প্রকটিত করিতেছিল। প্রবাহিনীর বারিই বা কি স্বচ্ছ, নিম্নে যে জলজন্তুগুলি খেলিয়া বেড়াইতেছিল তাহাও পরিদৃশ্যমান হইতেছিল; আমার মনে হইল, আমি যেন স্বর্গরাজ্যের মনোরম প্রদেশে উপবেশন করিয়া রহিয়াছি।” “কিন্তু এই সাধের ইডেন উদ্যানের অধিবাসীদিগকে দেখিয়া আমার সে চমক ভাঙ্গিল। বিপুল পার্বত্য রাজ্যের নানাভাগ হইতে দলপতি-দল বহু সহচর পরিবৃত হইয়া রণবেশে আমার সহিত দেখা করিতে উপস্থিত হইল । আমার সহিত তাহাদের শান্তি ও বন্ধুতার ভাব ব্যতীত আর কিছু না থাকিলেও তাহাদের ভাবভঙ্গি, যুদ্ধনাদ ও অন্ত্রসঞ্চালনাদি দৃষ্টে বোধ হইল যে, অপরাপর অসভ্য জাতি হইতে তাহাদের প্রকৃতি কিছুমাত্র বিভিন্ন নহে।” “কথাবার্তী সমাপ্ত হইলে দলপতিগণ আমাকে চুণের খনি দেখাইতে চাহিল ৷ তদনুসারে ছয় খানা নৌকা সজ্জিত হইলে, প্রত্যেক নৌকায় ছয়জন করিয়া বলিষ্ঠ নাবিক নিয়োজিত করা ংইল। বহুকষ্টে আমরা চূণী পাহাড়ে উপনীত হইলাম । আমি তথায় যে পরিমাণ চুণা দেখিলাম, ৪০০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড তাহাতে সমস্ত পৃথিবীর কার্ধ অনায়াসে নির্বাহ হইতে পারে। চুণা বোঝাই হইলে নৌকাগুলি যেন বিদ্যুদ্ধেগে অবতরণ করিতেছে মনে হইল।” “পাণুয়ায় অবস্থিতি কলে রেশম, নানাজাতি ফল ও উৎকৃষ্ট লৌহ লইয়া একদল অসভ্য জাতি আসিয়াছিল। তাহাদের স্ত্রীলোকেরাও ভার বহন করে। অধিকরূপে পাণ ও চৃণ ব্যবহার করায় তাহাদের দাত ভয়ানক কাল, দেহ পুরুষোচিত কর্কশ । কিন্তু যুবতীগণ সুশ্রী এবং বিবাহ না হইলে পাণ চবর্বণের অধিকার নাই বলিয়া দীতগুলিও পরিষ্কার । তাহাদের বলের বিষয় আমি কল্পনাও করিতে পারি না। আমি একটি বালিকার লৌহভার উঠাইবার অনুমতি লই। কিন্তু বিশেষ চেষ্টা করিয়া আমি কৃতকার্ধ্য হইতে না পারায় তাহাদের মধ্যে হাসির রোল পড়িয়া যায়।” দেশী সৈন্য “আমার সঙ্গে এক শতের অধিক সৈনিক পুরুষ ছিল না। তন্মধ্যে প্রায় অধিকাংশই হিন্দুস্থানী লোক থাকায় পার্বত্য প্রদেশের জলবায়ু তাহাদের সহ্য হইল না, তাহারা দলে দলে মরিতে লাগিল। আমি তখন দেশ রক্ষার জন্য দেশী সৈন্য সংগ্রহের বিষয় বোর্ডে লিখিলে, শ্রীহট্রবাসী দ্বারা এক দল সৈন্য গঠন করিবার অনুমতি লাভ করি। অচিরেই আমার অধিনায়কত্বের একদল দেশী সৈন্য প্রস্তুত হইল। আমার ইচ্ছামত আমি এ সৈন্য দলের সংখ্যার হাস করিতে পারিতাম এবং কোন বিপজ্জনক কার্য উপস্থিত হইলে আমি তাহাদের সঙ্গে সঙ্গে যাইতাম ।”১৪ ভীষণ বন্যা ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে এবং তৎপরবর্তী শ্রীহট্টে প্রচুর শস্য জন্মিয়াছিল, এমন কি লোকের গোলাগৃহ ধান্য ধারণে সক্ষম হয় নাই। দেশের লোক উৎফুল্প হইল, দেশে আনন্দ উৎসব চলিতে লাগিল, কিন্তু এ আনন্দ অচিরাৎ ঘোর নিরানন্দে পরিণত হইয়া গেল। প্রচুর বৃষ্টি হইয়া নদীতে হঠাৎ ত্রিশ ফিট জল বৃদ্ধি পাইল, দেখিতে দেখিতে লোকের বাড়ী ঘর ডুবিয়া গেল, গরু মহিষ ভাসিতে লাগিল, লোক মাচা প্রস্তুত করিয়া অনেকেই তাহাতে আশ্রয় লইল। সে এক ভীষণ দৃশ্য, লোকের আর্তনাদ, জলের কল কল ধ্বনি;-গৃহ প্রাঙ্গনে সাগর তরঙ্গ খেলা করিতে লাগিল। সমগ্র দেশে হাহাকার ধ্বনি উ্থিত হইল, ভীষণ বন্যা দেশটাকে একাবারে ছারখার করিল। লিগুসে সাহেব লিখিয়াছেনঃ-_ “এতদপেক্ষা ভয়াবহ দৃশ্য কল্পনাও করা যায় না। ভীষণ তরঙ্গাভিঘাতে এত গো মহিষ প্রভৃতি অসংখ্য জীব প্রাণ হারাইতে ছিল যে, যার কোন উপায় উদ্ভাবন করা স্ব ছিল না। বিগত বৎসরের অপরিমিত শস্যে পরিপূর্ণ নদীতীরস্থিত ভাণ্তার-গৃহগুলি বিশাল বন্যাস্রোতে ভাসিয়া গেল। উচ্চ ভূমিস্থিত সামান্য কতিপয় শস্যাগার ভিন্ন থাকিবার মধ্যে কিছুই রহিল না; ১৪. 00111111601 51611807010 1701 17 £070181 ০7০০৫ 0016 1161110160 006001০1161). [116 1761) ৬/61৩ 01161 1011/65 01001011161 [00%176255 0]. 015 01117090001 016 111115 25 50 09010101005 00 01617 1162111) 11191 01৩ ১7010 02101116105 10 06501056. ] 0101005৫010 0176 73010 10 11110011710 1110 061011.6 01 1 [70110017501 এ. থা) 65090152 থিএ 10106110110 10116 (01710191010 178016 00005 (07190 11010 ৪ 01111) ০0105. 1115 54051680115 28:69 10 000 00101770110 71617911760 ৮/101) 116, 2110 11015 012110770111 10151117801 0 00111 1005 1651061706 11) 0015 ০0010 1৬19 ০0105 ] 170160560 01175981060 4৭ 90085100) 10.11711. | 80001109110 007) 115611 1) 6৬০19 561৮108 01 01608169. 4176 1165 01 0106 1.1705995. প্রথম অধ্যায় : প্রথম অবস্থা শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত ৪০১ রহিল কেবল দেশব্যাপী হৃদয়ভেদী আর্তনাদ । দর্শদিনের মধ্যে দারুন অন্নকষ্ট উপস্থিত হইল, প্রচুর শস্য ও সমৃদ্দিপূর্ণ শ্রীহট্টভূমি দুর্ভিক্ষের করাল কবলে পতিত হইল ।” “আমি নিরুপায় হইয়া, যে সমুদায় ধান্য বিক্রয়ার্থ বিদেশে প্রেরিত হইয়াছিল, তাহা পুনরানয়ন জন্য নৌকা পাঠাইলাম। কিয়দংশ ধান্য পুনরানীত হইল বটে কিন্তু গতবারের অধিকাংশ ধান্য বিনষ্ট হওয়ায় এবং এবারের ফসলও অগাধ জলে নিমগ্ন থাকায় দেশব্যাপী ভীষণ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস হইতে অধিবাসীগণকে রক্ষা করার কে'ন উপায়ই দৃষ্ট হইল না।” “আমি নিজে বিষম সমস্যায় পতিত হইলাম। পৃরের্ব “সুপ্রিম বোর্ডে” দেশের অবস্থা সম্বন্ধে যে বিবরণ প্রেরণ করি বর্তমানে ঠিক তাহার বিপরীত বিবরণ প্রেরণ করিত হইল । গবর্ণমেন্ট যদিও তৎকালে সাহায্য করিতে কুষ্ঠিত হয় নাই, তথাপি এই বিবরণ তাহাদের এত অসম্ভব বোধ হইল যে, তাহারা দেশের অবস্থা জ্ঞাপন জন্য একজর্ন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে স্থানীয় তদন্তের জন্য পাঠাইলেন। সে ব্যক্তি নিন্নভূমির নিদারুন দুর্গতি দেখিয়াই আমার প্রত্যেক বাক্যের সত্যতা প্রতিপাদন করিল । কাজেই গবর্ণমেন্ট বিশেষ সাহায্য করিলেন, কিন্তু তাহা সত্ত্বেও- বলিতে দুঃখ হয়, প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক দারুণ জঠর জ্বালায় প্রাণ হারাইল 1” শ্রীহট্ট ইজারা যখন শ্রীহট্টবাসীর এইরূপ দুঃসময় উপস্থিত, তখন তাহারা আর এক সমস্যায় পাড়য়াছিল। গবর্ণর জেনারেল ওয়ারেন হেষ্টিংসের ভারত শাসনকাল ১৭৮৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত; তিনি নিজ প্রিয়পাত্র দেওয়ান গঙ্গাগোবিন্দ সিংহকে বঙ্গের কোন কোন জিলা ইজারা দিয়াছিলেন। ইহাতে পূর্ব মালিকগণকে স্বসম্পত্তি হইতে বঞ্চিত হইয়া ইজারাদারের গৃহীত রাজস্ব হইতে কিছু কিছু খোরাকী মাত্র পাইয়াই তুষ্ট থাকিতে হইয়াছিল ।১৫ লিগুসে জীবনী গ্রন্থে কথিত আছে যে, শ্রীহস্ট জিলাও গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ ইজারা নিয়াছিলেন। এই সময় গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ শ্রীহট্টে আগমন করেন, তদবসরে লিগুসে সাহেব ঢাকা হইয়া কিছুকালের জন্য হিন্দুস্থান দেখিতে গমন করেন। গঙ্গাগোবিন্দ স্বয়ং শ্রীহট্ট আগমন করিয়াও রাজস্ব সংগ্রহে সম্পূর্ণ অকৃতকার্ধ্য হইয়া চলিয়া যান। লিগুসে সাহেব তখন বেনারসে ছিলেন, জরুরী চিঠি দিয়া বেনারস হইতে তীহাঁকে আনাইয়া শ্রীহস্টে পুনঃ প্রেরণ করা হয়। এই বিষয় লক্ষ্য করিয়াই তিনি লিখিয়াছেন যে, শ্রীহট্টের লোককে শাসন করিয়া, রীতিমত রাজস্ব সংহ করা “কালা আদমীর কাজ নহে ।” এই অত্যল্প কাল লিগুসে সাহেব শ্রীহট্টে না থাকিলেও হামিল্টন নামে তাহার এক সহকারী ইংরেজ কর্মচারী সন্ত্রীক শ্রীহট্টে ছিলেন। হামিল্টনের স্ত্রীর পৃবের্ব কোন ইংরেজ-মহিলা শ্রীহন্রে আগমন করেন নাই। লিগুসে সাহেব যখন ঢাকা গমন করেন; তখন বন্যার জল অপসারিত হইয়াছিল বটে কিন্তু খাদ্যাভাবে লোকে তখনও কষ্ট পাইতেছিল, আহারের জন্য হাওরের গভীর জলে ডুব দিয়া শালুক বা নীলোৎপলের মূল ইত্যাদি সংগ্রহ করিতে সাহেব বহুলোককে দেখিতে পাইয়াছিলেন। তিনি শ্রীহস্টে প্রত্যাগত হইয়াও শ্রীহট্টবাসী জনসাধারণের ক্রেশ অপনোদন করিতে সমর্থ হন নাই। পৃবের্ব পেটের কঠোর জ্বালায় লোককে ঘাস পাতা খাইতে হইয়াছিল, পরে অন্নকষ্ট বিদূরীত হইলেও শ্রীহট্রের অধিবাসীগণের দুঃখের অবসান হয় নাই। অল্লাহারের পর পূর্ণ আহার অনেকেরই অসহ্য হইয়াছিল ।” তজ্জন্য আমাশয়; উদরাময় প্রভৃতি রোগের উৎপাত উপস্থিত হইয়াছিল । ১৫, ৬/. ৬/. [101010175 /৯05550119107) 01) 1211060 [010190119 ৫০০. শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২৬ ৪০২ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড মোহরমের হাঙ্গামা বিপদ বিপদকে আকর্ষণ করে: বির রান ন্র বারাক সাহেব শ্রীহস্্ের হিন্দুগণের নানা গুণের প্রশংসাবাদ করিলেও মোসলমানদিগকে উর্দত ও অদম্য বলিয়া নিন্দা করিয়াছেন। তৎকালীন মোসলমানগণ ইংরেজদিগকে বিদ্বেষ করিত, ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে মোহরম পবর্ব উপলক্ষে শ্রীহট্টবাসী মোসলমানগণ এই বিদ্বেষের প্রকাশ্য পরিচয় দিয়াছিল। শ্রীহট্টে ইংরেজ শাসনের উচ্ছেদ কল্লে তাহারা বদ্ধপরিকর হইলে যে হাঙ্গামো উপস্থিত হয়, তদ্িষয়ে লিগ্তসে সাহেব লিখিয়াছেন__ “মোহরম অর্থাৎ ইসলাম ধর্্ালন্বী ব্যক্তিবর্গের বার্ষিক ধর্মোৎসব হওয়ার প্রাকালে একদল হিন্দু অধিবাসী আমার নিকট গোপনে এই কথা জানায় যে উৎসবে মোসলমানগণ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে অভ্যুথিত হওয়ার নিশ্চিত সংবাদ তাহারা পাইয়াছে এবং হিন্দু দেবমন্দিরাদিতেই যে এই আগমণের প্রথম সূচনা হইবে, তাহারও উল্লেখ করে। তদুত্তরে, “এইরূপ উত্থানের কোন পরিচিহ্ৃই আজ পর্যন্ত লক্ষিত হয় নাই ও তাহা বিশ্বাসযোগ্য নহে;” এই বলিয়া আমি তাহাদিগকে বিদায় করি। আমার সৈন্যগণ তৎকালে প্রদেশময় নানাস্থানে বিক্ষিপ্ত থাকায় ৪০ বা ৫০ জনের অধিক কর্মঠ লোক একত্র করিতে পারি নাই; এই সামান্য সৈন্যবল প্রস্তুত রাখিবার জন্য আমার কৃষ্ণকায় জমাদারকে আদেশ করি !” “উৎসব দিনে রাত্রি পাচ ঘটিকার পৃবর্ব পর্যন্ত কোন দুর্ঘটনাই ঘটে নাই। তৎপর দলে দলে হিন্দু অধিবাসীগণ দ্রুত পদ বিক্ষেপে, যেন প্রাণ ভয়ে আসিয়া আমার বাসভবনে আশ্রয় গ্রহণ করিল। সকলের গায়েই মোসলমানদের অত্যাচারের চিহ্ন বিদ্যমান, সকলেই আহত । এ দৃশ্য অবলোকনে আমি কয়েক মুহূর্তের জন্য আমার প্রকোষ্ঠে প্রবেশ পুবর্বক পিস্তলগুলি সজ্জিত করতঃ প্রিয় ভত্যের হস্তে অর্পণ করিয়া, তাহাকে অনুক্ষণ আমার কাছে থাবিতে ও আমাকে বিপদাপন্ন দেখিলে এই পিস্তল আমার হাতে দিতে আদেশ করি। তৎপর আশ্বারোহীর একখানা হাল্কা তরবারি হাতে লইয়া বহিগত হই । বিলম্বের সময় ছিল না, শহরের নানাদিকে আগুন জুলিয়া ছিল।” এই সমস্ত সৈন্যবল লইয়া লোকসমারোহের দিকে অগ্রসর হইলাম । লোকসংখ্যা সম্বন্ধে আমার যে ধারণা ছিল, তদপেক্ষা অনেক অধিক দেখিয়া আমি অবাক হইলাম । আমার অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাহারা পশ্চাতে হটিয়া একটি পাহাড়ের উপর আশ্রয় গ্রহণ করে । আমি তাহাদিগকে অনুসরণ ক্রমে পাহাড়ের শিখর দেশে উপনীত হইয়া তৎসম্মুখস্থ সমতল ক্ষেত্রে আমার সেনা ব্যুহ রচনা করি। তৎপর বিনা যুদ্ধে মীমাংসা সম্ভবপর কিনা আলাপক্রমে জানিবার তিনশত লোকের পুরোভাগে অবস্থিত । তাহার ব্যবহার অতি গবির্বত। আমি প্রধান শান্তিরক্ষক রূপে যে তথায় তাহার সম্মুখীন হইয়াছি, এই কথা তাহাকে শান্তভাবে জানাইয়া বলিলাম, “আমি শুনিয়াছি, শহরে হাঙ্গামা হইয়াছে, আগামী কল্য তাহার বিচার করিব, আপাততঃ তোমারা অস্ত্র শস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া স্বীয় স্বীয় বাসস্থানে প্রত্যাবর্তন কর, এই আমার বাসনা ।” “সে বিনা বাক্যব্যয়ে তনুহুূর্তেই আপন অসি উত্তোলন করিল ও উচ্চকণ্ঠে বলিয়া উঠিল “আজ মারিবার দিন, নয় মরিবার দিন, আজ- ইংরেজ রাজত্বের শেষ দিন! এই কথার সঙ্গে সঙ্গেই সে আমার মস্তক লক্ষ্য করিয়া এক গুরুতর আঘাত করিল ।১৬ সৌভাগ্যক্রমে এ আঘাত আমি স্বীয় হস্তস্থিত তরবারি ছারা প্রত্যাখ্যান করি, অন্যথা আমার জীবন রক্ষার উপায় থাকিত ১৬. ৮171৩ 11171601710) 016৬/ 1015 5৮/০1৫, 0110 2১0০019811701110 ৬/101) 21000 ৮0100 01015 15 1100 ৫99 1001011 01 010 106 161) 01 0100 21971 1১ 01 0ো। 01011 011760 91709৬9 1109৬ 0010 1108. ৮116 1,195 01110 1511105095. প্রথম অধ্যায় : প্রথম অবস্থা শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৪০৩ না। আমার কৃষ্তকায় ভৃত্য সেই মুহূর্তেই আমার হাতে একটি পিস্তল দেয়, আমি তৎক্ষণাৎ তাহা আওয়াজ করিলে সেই ধর্মযাজক সাংঘাতিক রূপে আহত হইয়া প্রাণ হারায় । সিপাহীগণ আমার এই বিপদাপন্ন অবস্থা দৃষ্টে আমাকে সম্মুখে রাখিয়াই পশ্চাৎ হইতে শক্রনিবাসে গুলি বর্ষণ করিতে থাকে । আমি কৃষ্ণকায় জমাদার সহ ইন্দ্রজাল প্রভাবেই যেন রক্ষা পাইয়া আপন সৈন্য শ্রেণীতে প্রবেশ করিলাম ও তৎপর 'বেয়নেট' যোগে তাহাদিগকে আক্রমণ করিলে তাহারা নানাদিকে পলাইয়া গেল।” আমি তখন রণক্ষেত্রের চতুর্দিকে নিরীক্ষণ করিয়া দেখিলাম, এই স্বল্প কাল মধ্যে কি দুর্ঘটনাই ঘটিয়াছে; হতভাগ্য ধর্ম যাজক দুইটি ভ্রাতা সহ ইহলোক পরিত্যাগ করিয়াছে । তাহাদের মৃত দেহ রণভূমে বিলুষ্ঠিত হইতেছে। তদীয় সহচরগণ মধ্যেও অনেকেই আহত হইয়া ভূমি শয্যায় শয়ান রহিয়াছে । এদিকে আমাদের পক্ষে একজন সিপাহী ও ছয়জন জন আহত হইয়াছিল । সৌভাগ্যবশত তাহারা পলায়ন করে নাই, অন্যথায় শহরে একটি ইংরেজও প্রাণে বাচিত না। “আমার ইংরেজ সহকারী জীবন হারাইয়াছেন বলিয়া আমার ধারণা ছিল, কিন্তু তাহাকেও অনুসন্ধানে পাওয়া গেল। তিনি আমার নিকটে সরল ভাবে স্বীকার করিলেন যে, তিনি সমর ক্ষেত্রের বিভীষিকা দেখিয়া ভীত হইয়া পলায়ন করিয়াছিলেন ।” “বিষয়টি যেরূপ গুরুতর হইয়া দীড়াইয়াছিল, তাহাতে কর্তৃপক্ষকে উহা জানান আমি উচিত মনে করিলাম । আমি তথকালে অসুবিধা ভোগ করিতেছি মনে করিয়া তাহারা তৎক্ষণাৎ নৃতন সৈন্য প্রেরণের আদেশ করিলেন। কিন্তু গোলযোগ সত্ত্বরেই নিবৃত্ত হওয়ায় সৈন্য আনয়নের আবশ্যক হয় নাই এবং উক্ত আদেশ রহিত হয় ।”১৭ লিগুসে সাহেব মোহরমের প্রসিদ্ধ হাঙ্গামার বিবরণ সকৌন্সিল গবর্ণর জেনারেলকে ১৭৮২ ৃষ্টাব্দের ১৪ই ডিসেম্বর তারিখের রিপোর্ট দ্বারা জ্ঞাপন করেন। এই রিপোর্টে কয়েকটা নুতন কথা পাওয়া যায়--আক্রমণকারীগণ প্রথমেই দেওয়ানের বাড়ী আক্রমণ করিয়া শহরের সর্বরবত্র অগ্নিদান করিয়াছিল। সদকানুনগো মহাতাব খার বিষয় পৃবের্ব বলা গিয়াছে ইহার পুত্র মসুদ বখৎ এই সময় কানুনগো ছিলেন। লিগুসে সাহেব প্রথমতঃ তাহাকে ও কোম্পানীর সিপাহীর জমাদারকে হাঙ্গামাস্থলে প্রেরণ করেন; পরে সন্ধ্যার পৃবর্ব সময় তিনি সৈন্যসহ যোগ দেন। কোম্পানীর সিপাহীর সেই জামাদার এই যুদ্ধে পশ্চাৎ নিহত হয়।১৮ ১৭. ণা76 [,//05 01116 1.1705055 নামক গ্রন্থে এই বিবরণ বর্ণিত আছে, এবং [01195 93126151108] 4১0০9811501 /১5১০1. ৬০1. 11. গ্রন্থে ইহা উদ্ধৃত হইয়াছে । এই অনুবাদে আমরা ১৩০০ বঙ্গাৰে “শ্রীহট্টবাসী” পত্রিকা প্রবন্ধ হইতে কতক সহায়তা লাভ করিয়াছি। ১৮" এই প্রাচীন রিপোর্ট পর পৃষ্ঠায় টাকাস্থলে উদ্ধৃত করা গেল; কীট তক্ষত হওয়ায় যে যে স্থানে অপাঠ্য হইয়াছে, সেই সেই স্থানে** ৫ চিহ্ন দৃষ্ট হইবে,- 17101101312 ৮৬/27/০105 009৬917701 0360191 2114 116700075 0106 9000761)0 0:0011011. [0 ৬/11,111/. '001010911801), || 21595 170 109 106 01706] 0106 106065511 01 65001011178 01) 6)0101055 10 20001010. ০ ৮111) 10110৬/119 70111001015, [701 50110 085 [031 11700 (110 1৬/0-111705 01 1106 8111001101113 01 ১9111901703 310৬1) 5121)5 01110 11050 01710811616 0110 0111719 07519951110) 0111 01015 025 01169 06)111110100 25561010111, 11) 1001120100৯ 00195 0110109171৮ 20717901610 0019111001101)5 01501) 06 [01011).11017 11161010115 ৬/০10 এ 1191 11011010৬/1) [07011610040 00116 [161006৫01০1 16174 01 91010106-/1 13১0101069 01077111000 01101 0100 01100005 9101010 ৪০৪ শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড দেওয়ান মাণিকচাদের বিষয়ও রিপোর্টে উল্লেখ করা গিয়াছে, মাণিক টাদ তখন অতি বৃদ্ধ হইয়া পড়িয়াছিলেন; এই হাঙ্গামায় তাহার মৃত্যু ঘটে বলিয়া প্রকাশ ১৯ অনেকে বলেন যে, হাঙ্গামার কিছুকাল পরে তাহার মৃত্যু হয়, কিন্তু হাঙ্গামা উপলক্ষে তাহার মৃত্যু ঘোষিত হওয়ায়, যে কয়েকদিন জীবিত ছিলেন,__তাহাকে আত্মগোপন করিয়া থাকিতে হইয়াছিল ।!! এই হাঙ্গামার নায়ক ধর্মযাজকের নাম কি ছিল, জানা যায় না। তাহার যে দুই ভ্রাতার কথা উল্লেখিত হইয়াছে, তাহারা “পীরজাদা” বলিয়া খ্যাত ছিলেন, ইহাদের ডাক নাম হাদা মিয়া ও ১. 015০0170117019 (1)911 16116109905 001617)017105 ৫0111) 010 1৬101701011) 0110 610052 1)01171055 [0901010 ৮/916 0111590101060 %/101) ৫1090(01 00115000010 1 0169 01১০৩%০৫ 0317)00995 11 ॥ [001)11৩ 00৫ 16[995911060 (1113 (0 1770 05 0 71021106 11) 1100 16৬61 0০016 19011017090 00111) (1০ 00165611 00৬০1110610 [90110101190 1011901655৭ 1 * | ০০010 0010 00110051 61700909815 10 [06৬01000119 * 1011] (10111601006 0015 ] 01 10 011০ 00770510119 * 001 ৮/101)0001 61001. 10111006 01004/1016 * 11015 ৫9 1009 00111111100 05501170011 1114 * [)10068000 10 [190 1)2৮/০15' 1)01156 01 ৮/019111) 2190 11515190 01901) 115 51101011110 11 110 ৯/10101) 110 0০০01701119 010 0৫. ৬/108 01115 * 1701 52115600 01769 171515060 2150 0001) 1118 ৮/90৫01) 0005 76111 095110904 01115 * ৬/25 101 * [06৬/থ]) ৬101) 1015 [0112505 ০১10560 (11611 [)0150115 11) + 01 0116 * [10(0111101106 17611) 01091101)1 1700 00 11015 60601, 1 11111000101019 40510210110 11 1011):10001 01 9০91০9* 2074 0110 11024 00170110600 1)011) 01 0101) ৬1115501700] (0 01১60৬0ঘ [001501000 110 * (0 65151 * 11017 16956)1111 [)10৬০৫ 1) ৬০11) 0০----7001 [0109০0০6010 11051110165 ** 011০ [01150 101011)( 1110 11010056501 ৬/0151)1]) 0110 01060 0110 1170605 11) 00115101) (1)10-11)0 (0৬1) 50111 £769161 0111120865 ৮/০08101 1)0%0 19661) 0017)17010100 ১1001) 1 10114 10177 0011 1010111911) 100 10101 11190010, ৬৮100) 30 5990100%5 10-৮/0105 0110 01950 01 ৩৮০71110 11179101160 [0 010 [1000 ৬/10010 016 1100 05 95591170174 ৬1101001150 0117) 81001095011 হিটো। 0101106 00 016 101156 ৮০16 1 5495 1010 11)0 61101621615 190 1761 10 ৬495 51000150 01901) 0106 (50 018. 11111, 1 17)95011 17001076 থ 0110 11090 01 11) 582009১ 01১01) 109 01112] 21009 50]]1)10 1 (010 2. 9100111১009 01 7761) 012৬/]) 000 0001) 0110 10016 00171010161 017790 ৬/111। 5১/0105 019৮1) 010 1990) 01 10056 ৮/1০ 01 0100 [115৩1 01106 ৮110 11010 10126 [00111015 01 12110 09001171001]! 0110 ৬/০1০৩ 91010810090 1১9 11961] 0919011001)1$ 11109৬/1১০ 0177100: 11016 1] 010070 (116 5691000/5 10 11911 0110 000611060 0101 ৮101) 1109 16101100101 5880)0%৩ ] 80৬911060 ০700০5100121004 ৮101) 01101) 01011 [0900 06 ০0110000101 01109 ৮/61০ 0021 10 * ৬/01015. 11014110611) 0701 2 01511102110 11001901160 01 010 * 179010010 [1001 1 [0165010100 * 1101 95 20) 61701210810 05 21718001010 0110 * 01061 01101 0 [001019601 11156501791101) 11011) [01006) 01611 011/501 ৬/25 91101. ৬০ 010 1101 * ৫05 01 [10716110165 (0 0069 11611 010015 5911 ** 01010 1২1151090015-90৬0102 0109 0 %* ৬/11] * 101৬0 0015 (1১০ 06171911091 (01180100161) * 116 01081711779 06179100700 11)6 £100010, ৮1101) [110 5621)055 [051/00 (01- ৮1010 0110 01710110011010 1701) 1100 ৬/10) 010110515010 2291 100৬/ 01010৬/ 01161050195 * 11901 016 06101110111 5৮/01৫ 17 11010 0110 ৬০1০ 11011) 0৬০17০01716 059191619 ৮/000110060 1৬/০1৬০ 01 11 1001). 11016 01৫ 015- (1790100 61060 9170 010110 1৬/০ ৫9১5 01 16901৬01 51111 12111211) ] 596 170 [00105160101 1010116/01 (01 (17056 17০0016 ৬/1)0 ৮4616 01 0106 [00991 10017000161) 01519031010) 010 110 11810, [08] 01 01017) (911 1] 116 801101 210 ] ঞ]া) 10105 10 [10 11000 0৬/ 0110170 001 00656 095190180995 1৬০ 581110104- £5 গো) ি]1) 00100109805 01101762016 ৮111) 000 570291951 +* 01 0110 52176 11770 ৮101) 00110955 2010 10000101101 00111100 0000156 01 012 01111010005 0150011921106 1 190091 11511 [09 ০01001 ৬/111 1101 110001 081 (11521)1010041101)- [119৬6 0106 11011001100, ৮101) 0110 21091051 19519001, 11010791016 911 21101 (36111011001), 010 70091 0101. 1107)1016 501৬০1)1 হি, 1 ১1191 [)০০061]061 140, 1782. "4৯ 51011710151) 15 5010 10 170৮০ 00৮6 [01900 11 10৬11) 09 0100 1৬101110915 11) ৮1101) ৬0110 0000110 100৬ 01) ৬/৫$ ৭101090500 10 196 1011160." -110011015 91201151800) /50000115 01 45501) ৬০]. 1]. (5%110610). ৮৮ 129. প্রথম অধ্যায় : প্রথম অবস্থা শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ৪০৫ মাধা মিয়া। শ্রীহট্রের ইদ্‌গার ময়দানের উত্তরদিপ্বত্তী টীলার উপর থাকিয়া প্রথমতঃ তীহারা যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন। এই টীলাকে অদ্যাপি লোকে হাদামিয়া-মাধামিয়ার টিলা বলিয়া থাকে । সৈয়দ বংশীয় এই সন্ত্বাত্ত ধর্মযাজকদের মৃত্যুতে মোসলমানদের মনের আক্রোশ শীঘ প্রশমিত হয় নাই। কিছুকাল পরে এক ধর্মোন্ুত্ত ফকির কোন অভিযোগ সম্বন্ধে এক দরখাস্ত দিতে লিগ্তসে সাহেবের সহিত দেখা করিতে চাহে । তাহার ভাব ভঙ্গীতে হামিন্টন সাহেবের মনে সন্দেহ হওয়ায় সে ধরা পড়ে । তখন সেই ফকির প্রতিশোধ গ্রহণে অকৃতকার্ধ্য হইয়া বস্তাভ্যন্তর হইতে তীক্ষধার ছুরিকা বাহির করত নিজের উদরে প্রবেশ করাইয়া আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর হইতে লিওসে সাহেব সহচর ব্যতীত নগর ভ্রমণে বাহির হইতেন না।২০ খাসিয়া আকব্রমণ ইতি পূর্ব খাসিয়াদের অসন্তোষের বিষয় বলা গিয়াছে, উপরোক্ত হাঙ্গামা নিবৃত্ত হইতে না হইতেই তাহারা পুনঃ উত্তেজিত হইয়া উঠে। উহারা ১৭৮৩ খৃষ্টাব্দে এক হাবিলদারকে নিহত করে। তাহাই পর ইংরেজ গারদ আক্রান্ত হয়; ইহাতে উভয় পক্ষেরই বিশেষ ক্ষতি হয়। লিগসে সাহেবের নিজের কারবার স্থলও রক্ষা পায় নাই; ০০০০০০০১০০০ করিয়া কাটিয়া ফেলিয়াছিল 1২১ পুনঃ বন্যা পরবর্তী বর্ধা সমাগমে (১৭৮৪ খৃষ্টাব্দে) প্রচুর বৃষ্টি হইল, বন্যায় খাসিয়াগণ পবর্বত শৃঙ্গ আশ্রয় করায় তাহাদের উৎপাত নিবৃত্ত হইল বটে, কিন্তু শ্রীহস্র জলের তলে ডুবিয়া গেল। লোকে বলিতে লাগিল যে, স্বরণাতীত কাল পর্যন্ত এইরূপ জলের খেলা আর দৃষ্ট হয় নাই। শহরের গৃহাদি জলমগ্ন হইয়া গিয়াছিল, গবাদি পশু ও বহুতর মনুষ্য স্রোতোমুখে ভাসিয়া গিয়াছিল।২২ সেপ্টেম্বর মাসে ব্রহ্মপুত্র তীর হইতে সরমাতট পর্যন্ত ভূভাগ তরঙ্গ সমাকুল বৃহৎ বারিধারা ন্যায়- প্রতীয়মান হইয়াছিল, দেশের দুই তৃতীয়াংশ পশু ভাসিয়া গিয়াছিল এবং নিন্ন স্থানবাসী এক চতুর্থাংশ মনুষ্য প্রাণত্যাগ করিয়াছিল 1২৩ চাউলের মূল্য পরবর্তী বর্ষে বিধাতা প্রসন্ন হইলেন, প্রচুর ধান্য হইল, বাজারে টাকায় সাড়ে চারিমণ করিয়া চাউল বিক্রয় হইতে লাগিল, লোকে খাইয়া প্রাণ বাচাইল। টাকায় সাড়ে চারিমণ! _-শেষে তাহাও লইতে ক্রেতার অভাব উপস্থিত হইয়াছিল ।২৪ এই বৎসরে শ্রীহত্টরের পূর্র্ব-দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে যুগপৎ দুইটা উৎপাত উপস্থিত হয়। শ্রীহট্রের পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে সাহু জাতীয় রাধারাম, নবাব উপাধি ধারণ পূর্বক স্বাধীনতা ২০, [776 [195 01 0106 1,1110585. ২১, /5520) [015101010929116615 ৬০0]. []. (5১11)60). 01019. 1]. 2. 34. ২২, 996 072 00116010175 10116 ০. 46, 9190. 25017 )01716 1784. ২৩. 109 1৭0. 56 ৫9160 30 11010) 1785. ২৪, "[1 1786 91001705500 ৪0 000 0010 9170117110011005 (0 11)6171196৩, 06 [7100 5010 101১৩ 90 19৬/ 25 1001৩19 00 09৬67 006 ০091 01০00111116 (0 010 00421." -/১950]] [015111010 0922:9106015. ৬০01. 11. 2. 91. ৪০৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ_পঞ্চম খণ্ড অবলম্বন করেন; ইহার বিবরণ পৃরের্ব (শ্রীহট্টের ইতিবৃত্তে ২য় ভাগ, ২য় খণ্ডে, ১১শ অধ্যায়ে) বলা গিয়াছে। দ্বিতীয়তঃ খাসিয়া অভিযান;_-খাসিয়া ইতিপূবের্ব একবার ইংরেজ গারদ আক্রমণ করিয়া অনেক ক্ষতি করিয়াছিল। এই সময়ে লাউড়ের খাসিয়ারা নিকটবর্তী প্রতিবাসীদের সহিত একযোগে শ্রীহট্টের সমতল ক্ষেত্রে পতিত হইয়া হত্যা ও বিলুষ্ঠনে লোকের বিষম ত্রাস উৎপাদন করিয়াছিল । তাহারা শ্রীহস্ের উত্তর প্রান্তবর্তী বংশীকুপ্তা, রণদিঘা, সেলবরষ, বেতাল, আটগাও আক্রমণ করিয়া প্রায় তিন শতের অধিক অধিবাসীকে বধ করে । এই সংবাদ প্রাপ্ত মাত্রই শ্রীহট্র হইতে সৈন্য প্রেরিত হয়; কিন্তু পার্বত্য খাসিয়ারা সৈন্য পৌছার পৃব্রবেই পব্বতারোহণ করে ।২৫ যাহা হউক লিগুসে সাহেবের যত্বে অচিরেই শান্তি সংস্থাপিত হয় । এই বৎসরে লিগুসে সাহেব ছোটলেখা পরগণায় সাড়ে একুশ হাল ভূমি দেবত্র দান করেন ।২৬ তৎপ্রদত্ত অনেক লাখেরাজ ভূমি আছে। গম ও কফি দেশে শান্তি স্থাপিত হইলে দেশের কৃষি বিষয়ে উন্নতি বিধান কল্লে লিগুসে মনোনিবেশ করিয়াছিলেন। তিনি এ দেশের উচ্চ ভূমি গম চাষের পক্ষে অতি উপযোগী বোধ করিয়া জমিদারদিগকে গম চাষের জন্য অনুরোধ করেন ও পঞ্চাশ মন বীজ আনাইয়া বিতরণ করেন। সকলেই সাগ্রহে বীজ গ্রহণ করিয়াছিল। শস্য জন্মিয়াছে কি না, সাহেব ইহা জিজ্ঞাসা করিলে “উত্তম রূপে শস্য জন্নিয়াছে” সর্বত্রই এই উত্তর প্রাপ্ত হন; কিন্তু পর বর্ষে জানা গেল, দেশের প্রথা ছাড়িয়া একটি লোকও নূতন পথে অগ্রসর হয় নাই; গমের একটি বীজও ভূমিতে উপ্ত হয় নাই! সাহেব কফির চাষও প্রবর্তিত করিতে চেষ্টা করেন। তিনি দূরবর্তী স্থান হইতে কফির চারা আনাইয়া এক সময় আপন উদ্যান রক্ষককে দিয়াছিলেন। এই চারা রোপিত হওয়ার পর তিনি অল্পকালের জন্য শ্রীহট্ট ত্যাগ করিয়াছিলেন। প্রত্যাগমনপূবর্বক বাগান দর্শনে গমন করিয়া দেখিতে পান যে কয়েকটি চারা বৃহৎ ও নূতন এবং কতকটা ক্ষুদ্র । ইহার কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রকৃত কথা ব্যক্ত করিতে উদ্যান রক্ষককে বাধ্য করা হয়। সে বলে যে, গরু ও ছাগলে অনেকটা চারা নষ্ট করিয়া ফেলায়, সে জঙ্গল হইতে এরূপ চারা আনিয়া রোপন করিয়াছে। বৃক্ষগুলি ফলবান হইলে দেখা গেল যে, সকল বৃক্ষেই একরূপ ফল হইয়াছে। ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, ্রীহ্্রের জঙ্গলে স্বভাবজাত কফি বৃক্ষ আছে; এবং শ্রীহস্রের ভূমি কফি চাষের যোগ্য ।২৭ জাহাজ নির্মাণ ও পশু শিকার শ্রীহট্টের জঙ্গলে জাহাজ নির্মাণোপযোগী কাষ্টের প্রাচ্য দৃষ্টে লিগুসে সাহেব ৪০০ টন বোঝাই হইতে পারে, এরূপ এক জাহাজ নির্মাণ করেন, সাগরগম্য জাহাজ নির্মাণ ও এই জাহাজ ১৭ ফিট জল ভাঙ্গিয়া চলিত। ত্যদ্ধতীত তিনি ২০ খানা জাহাজের এক বহর নির্মাণ করিয়াছিলেন। মান্দ্রাজে দুর্িক্ষ উপস্থিত হইলে চাউল বোঝাই লইয়া এই বহর মান্দ্রাজ প্রেরিত 29. 25 09115010735 16117] 0. 84 ৫9150 26010) 0010০ 1787. ২৬. ছোটলেখার ধর্্মদাস বৈষ্$ব ১১৯২ বাংলা ১লা মাঘ এই ভূমি প্রাপ্ত হন। মোহরে “কোম্পানী এঙ্গরাজ বাহাদুর” ও লিগুসে সাহেবের দস্তখত আছে। ২৭. সম্প্রতি দক্ষিণ শ্রীহন্টরের চা কর সাহেবেরা অল্প স্বল্প কফির চাষ করিতেছেন শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত, ভৌগলিক বৃত্তান্তের ৩ অধ্যায় দেখ। প্রথম অধ্যায় : প্রথম অবস্থা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪০৭ হয়।২৮ তৎকালে ভারতবধঁয়ি সূত্রধরগণ জাহাজ নির্মাণে সমর্থ ছিল।২৯ লিগুসে সাহেব প্রায়ই শিকারে যাইতেন, এবং প্রতিবর্ষে প্রায় ৫০/৬০টি ব্যাঘঘ বধ করিতেন। ব্যাঘ্ব ও মহিষের লড়াই সম্বন্ধে তিনি অতি সুন্দর বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি একবার “কুকি পাহাড়ে” (সম্ভবতঃ প্রতাপগড় পাহাড়ে) হস্তী ধরতে গিয়া একটি গপ্ডার বধ করেন ও একটি কুকি বালককে ধৃত করিয়া আনেন । ইহার সম্বন্ধে তিনি লিখিয়াছেন যে, একটা পোষা বানর ব্যতীত আর কাহারও সংসর্গ তাহার ভাল লাগিল না এবং তাহার শিক্ষা ক্ষমতা এরূপ নিম্ন শ্রেণীব ছিল যে, এক বৎসরে এ টার বাক রানাভাহির চি গর সিসির গালি পরিশেষে একদিন সে পলাইয়া অরণ্য আশ্রয় করে। পুণ্যাহ লিগসে সাহেব ১৭৮৯ খৃষ্টাব্দের ৩১শে জুন কার্যত্যাগ করিয়া প্রচুর অর্থ লইয়া বিলাতে গমন করেন; এই অর্থবলে তথায় তিনি “লর্ড” উপাধি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। লিগুসে সাহেবের শাসনকালে নানাবিধ কৌতকাবহ ঘটনা সংঘটিত হয়। তিনি যেমন দেশের বিদ্রোহ দমন ও শান্তি স্থাপন করেন; তেমনি রাজস্ব আদায় সম্বন্ধেও বিশেষ বন্দোবস্ত করতঃ কৃতকার্য্য হন। রাজস্ব আদায়ের প্রথম দিন পুণ্যাহ-পবর্ব নামে খ্যাত । পুণ্যাহ নবাৰি আমলের কথা । পুণ্যাহ-পর্বে শ্রীহট্টের প্রথম জমিদারের কপালে তিনি স্বয়ং চন্দনের ফোটা ও গলায় ফুলের মালা দিতেন, তৎপরেই রাজস্ব গৃহীত হইতে আরন্ত হইত। শ্রীহট্র জিলায় খিত্তা পরগণা হইতেই প্রথম ভূবন্দোবস্ত আরন্ত হয়, এইজন্য রাজস্কবের কাগজ পত্রে খিত্তা পরগণার নাম প্রথম এবং খিত্তার ১নং তালুক, শ্রীহট্ট জিলার সমস্ত তালুকের আদি; এই জন্য খিত্তার ১নং তালুকের অধিকারীই এই “ফুল চন্দন” রূপে সম্মান প্রাপ্ত হইতেন।৩০ জল ও অগ্নি-পরীক্ষা লিগ্ুসে সাহেবের সময়ে শাসন বা ফৌজদারী বিচার ভার মোসলমান ফৌজদারের উপর থাকিলেও তিনি বিচার কার্যে বিশেষ মনোযোগ ও দৃষ্টি রাখিতেন। তখন বিচার কার্ষ্যে সত্যাসতা নির্ণয় করা যে স্থলে কঠিন হইয়া উঠিত, সে স্থলে জল বা অগ্নি পরীক্ষা গৃহীত হইত। একদা জল পরীক্ষা উপস্থিত হইলে তাহার সাক্ষাতে দুই ব্যক্তি জলে ডুব দেয়, কতক সময় পরে তাহারা ভাসিয়া উঠে, ও তাহার মধ্যে এক ব্যক্তি নিরাপত্তিতে আপন অপরাধ স্বীকার করে। এতদৃষ্টে সাহেব বিশ্মিত হইলেও তিনি ক্রমশঃ এ প্রথা উঠাইয়া দিতে যত্ব করেন ।৩১ শ্রীহট্রের লোককে তিনি “মামলাবাজ” বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন । মোকদ্দমার মধ্যে শতকরা ৯০টি “হদশিকন্ব” বা সীমা ব্যত্যয়ের জন্য হইত। তিনি পোলিশ ও দেওয়ানী ২৮, /১55011) [0150100082000015 ৬০|. 1]. (591160 00001) ৬.১, 155. ২৯. জনৈক ইংরেজ গ্রন্থকার লিখিয়াছেঃ- “/১ 11011710750 ০015 20 51110)-001108116 ৬05 11 50 €661018% ০00141110) 11) 17010 01101 51115 00010 ০০ (0110 ৮/০016) 08110 ৮1101) 591100 (0 01011191705 11) ০010100119 ৬/101) 3110151)-001110 51105 0100 01710610112 001)৬০১ 01 0111151) 1182105-" ৩০. এই সম্মানিত বংশের অবস্থা কালক্রমে হীন হইয়া পড়ে এবং তদ্বংশীয় এক ব্যক্তি শ্রীহট্রের আখালিয়াতে বিবাহ করিয়া খিত্ত! হইতে উঠিয়া সেই স্থানে গিয়া বাস করেন। বর্তমানে এই বংশে শ্রীযুক্ত গোকুল নাথ চৌধুরী জীবিত আছেন। ৩১, [1001015 91011501081 /000101015 91 /550া) ৬০]. 1]. (5911701) 7৯. 113. ৪০৮ শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড বিভাগেও সংস্কার কার্য্যে মনোনিবেশ করিয়াছিলেন। এঁ সময় সতীদাহ প্রচলিত ছিল, শ্রীহট্টের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সতীগণ মৃত পতির চিতাগ্নিতে আত্মপ্রাণ আহুতি দিতেন। লিগুসে সাহেব তাহার সময়ের সতীদাহের কথাও উল্লেখ করিয়াছেন; আমরা বংশ-বৃত্তান্ত ভাগে তাহা বর্ণনা করিব। সৈয়দ উল্লার অধ্যবসায় শ্রীহট্ের মোসলমানদিগকে তিনি উদ্ধত, অশাসিত ও জিঘাংসাপরায়ণ বলিয়াছেন; বাস্তবিক তৎকালের মোসলমান সমাজ ইংরেজ বিদ্বেষ পোষণ করিতেন শ্রীহট্টরের সৈয়দ উল্লা নামক ব্যক্তির কার্ধ্যতৎপরতা এই কথায় জলন্ত উদাহরণ । পৃবর্বকথিত মোহরমের হাঙ্গামায় যে সকল লোক নিহত হয়, সৈয়দ উল্লার পিতা তন্মধ্যে একজন । বালক সৈয়দ উল্লাও যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিল। লিগুসে সাহেব ভারতবর্ষ ত্যাগ করিয়া বিলাতে চলিয়া যাওয়ার অনেক পরে এই বালক বয়ংপ্রাপ্ত হয় এবং সে প্রতিশোধ গ্রহণ জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠে। সে উপান্তর না দেখিয়া বিলাতগামী কোন জাহাজের রসদাধ্যক্ষের ভূত্যের পদ গ্রহণ করে। রসদাধ্যক্ষের নাম মিঃ স্মল, ইনি লিগুসে সাহেবের প্রতিবাসী ছিলেন। সৈয়দ উল্লা ইহার সঙ্গে ইংলণ্ডে গিয়া পিতৃহঙ্থ্যাকে খুঁজিতে থাকে । একদা লিগুসে সাহেবের সহিত পথে দেখা হইলে সে তৎসন্নিধানেই তাহারই সন্ধান জিজ্ঞাসা করে। লিগুসে সাহেব নিজের পরিচয় দিলে সে বলিয়া উঠিল,_-“কি তুমিই আমাদের পীরজাদাদিগকে ও আমার বৃদ্ধ পিতাকে হত্যা করিয়াছিলে?” লিগুসে সাহেব আরক্তলোচন, জিঘাংসা পরায়ণ সেই যুবককে মিষ্ট বাক্যে বুঝাইলেন যে, ইহাতে তাহার কোন দোষ ছিল না। তখন সেই বীরহদয় সরল যুবক অকপটে আপন অন্তিপ্রায় প্রকাশ করিয়া, ক্রুটী স্বীকার করে। লিগুসে সাহেব শ্রীহট্টবাসীর প্রকৃতি ভালরূপে জানিতেন। এই যুবক তাহাকে বধ করিবার অভিপ্রায়ে শ্রীহ্ট হইতে ইংলণ্ে গমন করিয়াছিল, তখন সে সাহেবকে নির্দোষ জানিয়া প্রতিনিবৃত্ত হইল, তখন সাহেবও আদরের সহিত আশ্রয় দিলেন; ইহার প্রতি তিনি আর অনুমাত্র অবিশ্বাস পোষণ করেন নাই। অনেকের নিষেধ অগ্রাহ্য করিয়াও তিনি ইহাকে কার্য্যে নিযুক্ত করেন; সে প্রাচ্য প্রণালীর তরকারী যোগে এক বেলা সাহেবের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করিত ।৩২ সাহেব বিলাতে গিয়াও অধিবাসীর প্রতি মমতা শূন্য হইতে পারেন নাই; তিনি পূর্বে কর্মচারীদের নিকট পত্র লিখিয়া তখনও শ্রীহট্টের সংবাদ অবগত হইতেন। তখনকার ভারত প্রবাসী ইংরেজগণ প্রায়ই এইরূপ সহ্ৃদয় ছিলেন এবং সহৃদয়তার জন্যই তাহারা ভারতবাসীর শ্রদ্ধার পাত্র হইয়াছিলেন। ৩২. 7715 1105 01 010 11105095 ৬০]. 111, 2৮১ 215-217. দ্বিতীয় অধ্যায় দশসনা বন্দোবস্ত লিগুসে সাহেবের পর জন উইলিস (0177 11119) সাহেব শ্রীহট্রের রেসিডেন্টেন “দ এ? হন। সব্র্বসাধারণের নিকট তিনি “দেলার জঙ্গ বাহাদুর” এই উপাধিতে খ্যাত ছিলেন । ১4৮৯ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত তাহার কার্যকাল । শ্রীহট্টে আসিয়াই প্রায় লক্ষ টাক! 41 তিনি শ্রীহট্রের জেইল নির্মাণ করেন। গঙ্গাসিংহের দৌরাত্ম্য ১৭৮৮ খৃষ্টাব্দের শেষ সময় এক দুর্ঘটনার সূচনা হয়; গঙ্গাসিংহ নামক এ দন্য খাসিয়াদের যোগে ইছামতি থানা ও বাজার লুণ্ঠন ও তত্রত্য অনেক ব্যক্তিকে নিত পথে | অনুসন্ধানে জানা যায় যে, অধিবাসীদিগকে শুধু মৎস্য ও তরকারী খাইয়া প্রাণধারণ বিতে হইতেছে। উইলিস্‌ সাহেব এ বিষয়ে অবহেলা করা অসঙ্গত মনে করিলেন, তিনি ১৭৮৮, *ঠাব্দেছ জুলাই মাসেই খাসিয়া পব্্বতের পাদস্থিত পাুয়াতে এক দল সৈন্য পাঠাইলেন ৷ ৭ রা ইহাতে ভীত হইল না, তাহারা এ স্থান দিয়া আক্রমণ পূর্বক বহু স্্াত্ ব্যক্তিকে নিঃ'. : রি প্রথমেই থানাদার মৃত্যু মুখে পতিত হইলেন; দুইজন ইংরেজ সওদাগর বহু ৮" বক্ষ পাইলেন । এই সংবাদ কলিকাতায় পেরণ করা হয় এবং নেপটন্যান্ট চিপের অধিনাব ন নন এক দল সৈন্য প্রেরিত হয়। লেপ্টন্যান্ট চিপের প্রতি উইলিস্‌ সাহেবের আদেশ ছিল ।-! বিশেষ কারণ ব্যতীত অগ্নিদান বা গুরুতর অত্যাচার যেন করা না হয় ; সত্তাবে যাহাতে কাষ সিদ্ধ 'য়. তাহাই কর্তব্য হইবে। বস্তুতঃ বিনা রক্তপাতেই পাতুয়া পুনরাধিকৃত হইয়াছিল । জনহিতকর কার্ষ্য ১৭৮৮ খৃষ্টাব্দে উইলিস্‌ সাহেব সমগ্র শ্রীহট্ট জিলার লোক সংখ্যাও গ্রহণ করেন। তাহাতে দেখা গেল, শ্রীহন্রের অধিবাসী সংখ্যা ৪৯২৯৪৫ জন মাত্র; তন্মধ্যে সহরেই ৭৫৩৮২ জন অধিবাসী । এই সংখ্যা প্রকৃত জনসংখ্যাপেক্ষা অনেক ন্যুন১ হইলেও, পরবর্তী বন্যা রোগ জনিত মৃত্যুই সংখ্যা হ্রাসের কারণ ছিল, সন্দেহ নাই। উইলিস্‌ সাহেব এই সনেই একজন সুবিজ্ঞ চিকিৎসক আনয়ন জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিয়াছিলেন। পরবন্তী রেসিডেন্টের সময় প্রাবনে শ্রীহত্ট্রের যেরূপ ক্ষতি সাধিত হয়; তাহার নিরাকরগ কল্পেও উইলিস্‌ সাহেব চেষ্টার ক্রটি করেন নাই। সুরমা নদীর তীরদেশ স্বভাবতঃ নিম্ন বলিয়া ১. 0076 12075 ৮4016 6৬1010019 ৬619 70001) 010৬1 019 179110 &0, -[0150101 092601605 ৬01.. 11. 2. 65. প্রথমোক্ত সংখ্যার মধ্যে ৮৮২৪৫ পুরুষ, ১৬৪৩৮১ স্ত্রী এবং ১৪০৩১৯ শিশু গণিত হইয়াছিল। তন্ধ্যে সহরের জন সংখ্যাই অধিক ছিল। ৪১০ শ্রীহস্্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড বর্ষাকালে তীরভূমি প্রায়শঃ পরিপ্রাবিত হইত। হিন্দু রাজাদের আমলের বহু প্রাচীন একটা বীধ সম্পূর্ণ অকর্মণ্য অদৃশ্য প্রায় হইয়া পড়িয়াছিল। ইহা মেরামতের জন্য আট হাজার টাকা মঞ্জুর হইয়াছিল; উইলিস্‌ সাহেব ১৭৯০ খৃষ্টাব্দে সুরমা তীরে প্রায় একশত মাইল দীর্ঘ বাধ প্রস্তুত করিয়। লোক-ক্লেশ বারণ করেন। শেষ কানুনগো ও জিলা জরিপ উইলিস্‌ সাহেব শ্রীহন্টে আসিয়াই লর্ড কর্ণওয়ালিসের উপদেশানুসারে জরিপ আরন্ত করেন। ইতিপুবের্ব সদর কানুনগো মসুদ বখতের নাম উল্লেখ করা গিয়াছে, তাহার কার্য্যকাল অন্তে কিছু দিনের জন্য কানুনগো পদ উঠিয়া যায় এবং তৎস্থুলে ওয়াদাদারগণ নিযুক্ত হন, ইহারা চৌধুরীদের নিকট হইতে রাজস্ব সংগ্রহ করিতেন।২ উইলিস সাহেব ১৭৯০ খৃষ্টাব্দে জরিপ কাজ সমাধা করেন। বঙ্গের অপরাপর স্থানে যেমন চৌধুরীদের নামে জরিপ হয়, শ্রীহট্টরে তদনুরূপ না হইয়া খোদ প্রজাদের নামে হইয়াছিল ।৩ এই জরিপে শ্রীহট্ট জিলার ২১০০ বর্গ মাইল ভূমি পরিমাপিত হয়। জরিপ করিবার কালে কানুনগো ও মোসলমান অধিবাসীগণ নানারূপে প্রতিবন্ধকতা করিয়াছিল।& অতঃপর ভূমি বন্দোবস্তের প্রস্তাব হইলে উইলিস সাহেব কানুনগো পদের পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক মনে করেন। ভূতপুরর্ব কানুনগো মসুদবখতের ভ্রাতা গোপন গাজীর পুত্র মোহম্মদ বখৃত মজুমদারকে ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দে এই পদে নিযুক্ত করা হয়। ইনিই শ্রীহট্রের শেষ কানুনগো; দশসনা বন্দোবস্তের পর এই পদে একবারে উঠিয়া যায়। মীর খা হইতে মোহম্মদ বখত পর্যন্ত ৩৩৩ বৎসর একই বংশীয় ব্যক্তিগণই শ্রীহট্রের গৌরব জনক সদর কানুনগো পদের দায়িতৃ পূর্ণ কার্য; করিয়াছিলেন । দশসনা বন্দোবস্ত লর্ড কর্ণওয়ালিসের পূর্বে প্রায়শঃ জমিদারি নিলাম হইত, রাজকর্মচারিগণ উহা ক্রয় করিতেন; প্রজাদের উপর তাহাদের মায়৷ দয়া দেখা যাইত না, রাজস্ব আদায়ে গবর্ণমেন্টেরও বিলক্ষণ অসুবিধা হইত; এই সকল অনিষ্ট সংশোধনার্থে লর্ড কর্ণওয়ালিস্‌ দশ বৎসর ম্যাদে একটি বন্দোবস্ত করেন; তাহাই চিরস্থায়ী রূপে গণ্য হইবার জন্য বিলাতের কর্তৃপক্ষের নিকট লিখেন; কোম্পানীর অধ্যক্ষেরা সেই প্রস্তাব অনুমোদন করিলে, তাহাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলিয়া গণ্য হয়। এই বন্দোবস্ত অনুসারে মিরাশদারগণ ভূমির অধিকারী হইলেন, তাহাদের সহিত রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারিত করিয়া গবর্ণমেন্ট স্বীকার করিলেন যে, ভবিষ্যতে সে রাজস্ব কখনও বর্ধিত করা হইবে না। ২, 0010001 31110151) 00৬০1111001), 00110112065 ৮/০1০ 21001151160 (018 01770 0110 ৬/21)080919 000101190 ০0৬০1 (10 00170000101115. 00115105065 ৬/016 25581) ০111919%০0 [01 এ 91১01 10116 [016৬1000500 (109 06000110101 561- [167)01)[, -109009 13106 3090. 7. 292. ৩. 1119 010 1701, 25 11 10051 01 01) 00101 ৫1501015 01 1301191, 21101 1100 011700611161105 ৮101) 11)6 €:178110115 0110110 1501000 00116010175, 0810 56111017611 ৬/05 25 01116 17000 01760 ৮111) 016 20101] 01010101015 01 [70 $011.. -/5501 101501000729006615 ৬০]. 11. 01701), ৬11. 0,214. ৪. 0০011901015 16061 (0 00 00৬61)01 001)0121 0110 19161061501 010৩ 90000101076 600011011, 1০. 119, 4215৫ 24117 106018219 1790. দ্বিতীয় অধ্যায় : দশসনা বন্দোবস্ত শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪১১ জন উইলিস্ও জরিপ শেষ করিয়া, শ্রীহট্টে ২৬৩৯৩টি মহালে ৩১৬,৯১১ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ পূর্বক দশ বৎসরের জন্য বন্দোবস্ত দিয়াছিলেন। তৎকালে শ্রীহট্ট জিলায় এক বাণিয়াচঙ্গের অধিপতি ব্যতীত প্রকৃত জমিদার পদবাচ্য কেহ ছিলেন না,৫ অধিকাংশ ভূমিই জোতদখলকারদের সহিত বন্দোবস্ত করা হয়। পরে ইংলও্ হইতে মঞ্ত্র্রী হুকুম আসিলে এই দশসনা বন্দোবস্তই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত হয়। ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দের ২২শে মার্চ এই মর্মে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হইয়াছিল। এই বিজ্ঞাপনই আইনে পরিণত হইয়া “১৭৯৩ ইং ১ আইন” নামে খ্যাত হয়; এবং উক্ত চিরস্থায়ী মহালগুলি “দশসনা"” মহাল নামেই আখ্যাত হইয়া থাকে । এই সময় উইলিস সাহেব শ্রীহট্টবাসী একজন বিচক্ষণ,ব্যক্তির সহায়তা পাইয়াছিলেন, ইহার নাম লালা আনন্দ রাম। প্রসিদ্ধ ফরহাদ খার পুলের দক্ষিণ কোণে, গোয়ালিছড়ার পৃরর্বতীরে ইহার বাড়ির ভগ্নাবশেষ এখনও লক্ষিত হয়। লালা আনন্দরাম শ্রীহন্টের সাহু বংশীয় ছিলেন। শ্রীহট্টের দশসনা মহাল সমূহের উপর যে জমা ধার্য্য হয়, লালা আনন্দরাম কর্তৃকই তাহা নির্ধারিত হইয়াছিল। রাজস্ব আদায়ের অসুবিধার জন্য এই সময় শ্রীহক্ট জিলার দশটি কেন্দ্র স্থাপিত হয়, এই কেন্দ্র সমূহও “জিলা” বলিয়া খ্যাত। তখনও শ্রীহট্রে নবাবি আমলের নির্দিষ্ট ১৬৪টি পরগণা ছিল। এই সময় লঙ্করপুর ঢাকার রাজস্ব বিভাগ হইতে পৃথক হইয়া শ্রীহট্টের কালেক্টরী ভুক্ত হয়।৬ এই জিলা গুলির নাম শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ১ম ভাগ ১০ম অধ্যায়ে লিখিত হইয়াছে।৭ প্রত্যেক জিলায় এক এক জন স্থানীয় কর্মচারি নিযুক্ত হইয়াছিলেন। জন উইলিসের সময় সে সকল মহাল বন্দোবস্ত হয়, পরবর্তী কালে তদ্বতীত চিরস্থায়ী মহাল সংখ্যা আরও অনেক বর্ধিত হয়। এ সময়কার অনেক দেবত্র, ব্রন্মত্র, চেরাগী, মুদতমাস, খানেবাড়ী, নানকার প্রভৃতি নিষ্কর মহালে পরে জমা ধার্য্য হইয়া সকর চিরস্থায়ী মহালের সংখ্যা বর্ধিত করে, তদ্বিবরণ পরে কথিত হইবে । ফরাসীর অদম্যতা জন উইলিস্‌ সাহেবের প্রত্যেক শুভানুষ্ঠানেই বিশেষ দৃষ্টি ছিল। শাহ জলালের দরগার বড় মসজিদ গৃহের সম্মুখ পার্খস্থ ছোট প্রার্থনাগারটি তিনি নিজ ব্যয়ে প্রস্তুত করিয়া দিয়াছিলেন।৮ তাহার সময় শ্রীহট্রে একজন ফরাসী অদম্য হইয়া উঠিয়াছিল। এই ব্যক্তির নাম ডিকেম্পিনী (৬. 1০019171019) ছিল; সে ১৭৮৬ খৃষ্টাব্দ হইতে শ্রীহট্রে বসবাস করিতেছিল। লিগুসে সাহেবের সময়ে এই ব্যক্তি কোনরূপ অশিষ্ঠ ব্যবহার করে নাই, কিন্তু এই সময়ে যে যথার্থস্বরূপ প্রকটিত করিয়াছিল। সে এক খণ্ড ভূমি ক্রয় করে; বিক্রেতার উহাতে প্রকৃত স্বত্ব ছিল কিনা বলা ৫. ৮1790 0119 20111171001 1010৬) ০9 1101 10016, 09116 006 0৬/761 01 30111001006 ১0 0100 01706 01 1106 1991710110110 56101011701), 00 20109] 00011001915 01 10110 10110 0190 1101 10116 €01)0101)00715 ৮/০1০ 5০01০০16095 11 70০150175 ৬/101) ৮/1101) 0110 50111011161)0 ৬/05 1100. -1011105 90201501081 /৯0০01005 01 /5500) ৬০]. 11. (9911)61) 2. 117. ৬.7. 11115 07716 00 10150101৬25 11060 1100 161, 211195 (:010191111) 164 10208115. 1.05121190 ৬/1)101 ৮/৪5 10115001160 (0) [09000 061৬/001) 1789 0100 1793. -108008 01006 ০০০1. 7. 291. ৭. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ১ম ভাগ ১ম অধ্যায়ে জয়ন্তীয়াও একটি জিলা রূপে লিখিত হইয়াছে। জয়ন্তীয়ার ৩৩টি চিরস্থায়ী মহাল থাকিলেও, ভয়ন্তীয়া ইহার কয়েক বৎসর পরে বৃটিশ শাসনাধীন হইয়া এলাম মহালের গণ্য হয়। প্রত্যেক জিলার স্থানীয় কর্মচারীই “জিলাদার” নামে খ্যাত । জিলাদারগণ তহশীলদারের অধীন কর্মচারী । ৮, [6 /১557)1015070008)0906015 ৬০0]. 1]. 01019. 11]. 0. 82. ৪১২ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড যায় না। গবর্ণমেন্টের অনুমতি না লইয়াই এ বিদেশী ব্যক্তি উক্ত ভূমিতে এক বাঙ্গলা (গৃহ) প্রস্তুত করিতে আরন্ত করলেন এবং নানারূপ আইন-বিগহ্হিত কার্য করিতে থাকে । সে যাহার প্রতি বিরক্ত হইত, তাহাকেই কয়েদ, অর্থদণ্ড বা বন্দী করিত। একদা এক তালুকদারকে বন্দী করা হয়, উইলিস্‌ সাহেব ইহা জানিতে পারিয়া, তাহাকে মুক্ত দিতে অনুমতি করেন। ফরাসী- স্পষ্টরূপে বলে যে সে গবর্ণমেন্টের প্রজা নহে এবং উইলিসের আদেশ শুনিতে বাধ্য নহে। এই সময় স্বাধীন খাসিয়া সর্দারের সহিত সে সম্বন্ধে স্থাপন করিয়াছিল । এই দুর্বুত্ত ব্যক্তির সন্বন্ধে বেশী কিছু জানা যায় না। তবে যখন তাহাণ স্বদেশে ঘোরতর বিপ্লব (ফেঞ্চ রিভলিউশন) উপস্থিত হয়, তখন সম্ভবতঃ “স দেশে চলিয়। গিয়াছিল। জন হিতৈষী জন উইলিদ সাহেব দশসনা পন্দোবস্তের কার্য সমাধা করিয়া শ্রীহস্ট হইতে চলিয়া যান। তৎপরবন্তী শীসনকর্তৃগণ কর্ণওয়ালিস ১৭৯৩ খৃষ্টান্দে ভারতবর্ষ তা! করলে সার জন শোর গবর্ণর জেনারল রূপে আগমন করেন, তৎপর মার্কুইন অব ওয়েলেপনী ১৭৯৮ হইতে ১৮০৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ভারত শাসন করেন: শ্রীহন্্রের এই সময়কাব কালেক্টবগণ মধ্যে জন উইলিস ১৭৯৩ খৃষ্টাবে শ্রীহট্র ত্যাগ করিলে, জে. আর. নটী (ম্ৃতাত্তরে জে. আর. বানটা) সাহেব অল্প কয়েক মাসের জন্য কালেক্টররূপে শ্রীহট্টে আগমন করেন : উইলিসের পর আর রেসিডেন্ট পদের নাম শুনা যায় না। নটা বা বানটী সাহেব শ্রীহন্রে নিজবায়ে একটি শড়ক প্রস্তুত করিয়া ছিলেন বলিয়া জানা যায়। তৎপর ১৭৯৪ খৃষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসে এইচ. লজ (11. 1.:৫৪০) সাহেব শ্রীহট্রে আগমন করিয়া চারি বংসর কাল অবস্থিতি করেন । কলিকাতা হইতে শী'ট্ট আগমনের সময় তিনি ১০৬১ টাকা এলাওয়েন্স স্বরূপ গবর্ণমেন্ট হইতে আদায় করেন বাশয়া উক্ত আছে। লজ সাহেব নটী কৃত শড্কটি নিজ ব্যয়ে মেরামত করাইয়া হিলেন। লজ সাহেব চলিয়া গেলে মিঃ আমুটা (0. /১111১ : সাহেব ১৭৯৭ খৃষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসের শেষভাগে শ্রীহন্ট্রে আসিয়া পৌঁছেন। তখন শ্রীহন্টে অ'দালত গৃহাদির অবস্থা ভাল ছিল না, আমুটী সাহেব একটি ইষ্টকালয় প্রস্তুত করেন। তীহার রিপোর্ট হইতে জানা যায় যে গোদাম গৃহের ন্যায় তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট এক ইষ্টকালয়ের একাংশে কাগজ পত্র রক্ষিত হইত, একটি বাংলাতে মোহরেরগণ কাজ করিত ও অপরটিতে বিচার হইত । কালেক্টরের রিপোর্ট প্রান্তে সারজন শোর শ্রীহত্টে একটি উৎকৃষ্ট অট্টালিকা প্রস্তুত করিতে ইচ্ছা করেন। প্রত্যুস্তরে আমুটা সাহেব জ্ঞাপন করেন যে চারিটি প্রকোষ্ট ও উত্তর দক্ষিণ দিকে বারান্দা সমধিত একটি ভাল দালান দশ হাজার টাকার কমে কিছুতেই প্রস্তুত হইতে পারে না । এই প্রস্তাবানুসারে পরে একটি দালান প্রস্তুত করা হয়। আমুটীর সময় (জানুয়ারী--১৭৯৮ খৃষ্টাব্দ) উৎকৃষ্ট চাউলের মণ বাজারে বার আনাতে বিক্রয় হইত। ১৮০০ খৃষ্টাব্দে তিনি সহরে গৃহকর স্থাপন করিতে ইচ্ছা করেন; গণনায় কসবা শ্রীহস্ট্রে ৩১২২০ খানা গৃহ প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছিল।৯ ইহার পরবর্ষে সমথ জিলায় অধিবাসী বর্ণের খ্যা ১০৩৩৭ ও তাহাদের ব্যবহার্ধ্য নৌকার সংখ্যা ২৩০০০ খানা হয়। এ সময় তালুকদারদের সংখ্যা ২৭০০০ ছিল 1১০ ইতিপূর্বে১১ বদরপুর দুর্গের কথা লিখিত হইয়াছে, তাহাতে বঙ্গাক্ষরে অঙ্কিত” একখানা শাসনপত্র পায়া গিয়াছে, ইহাতে “১২০৭ সাল” “বদরপুর” “কাপ্তান” “এঙ্গরাজ” এই ৯. /550]) [01511101022916615 ৬০1. 1]. 0101১, ৬1. ৮197. ১০. ড/. 11010111015 2051 11015, 09225016215 ৬০01.. 11. 553. দ্বিতীয় অধ্যায় : দশসনা বন্দোবস্ত শ্রৃহত্রের ইতিবৃত্ত ৪১৩ কয়েকটি শব্দ ব্যতীত আর কিছুই পাঠ করা যায় না।১২ বদরপুর দুর্গ আমুটীর সময় নির্মিত হয় বলিয়া অনুমিত। শ্রীহট্টরের কালেক্টরীতে প্রাচীন সনদের কয়েকটি নকল বহি আছে, এ সকল কাগজ পত্রে আমুটী সাহেবের দস্তখত দৃষ্ট হয় ! আমুটী সাহেব ১৮০৩ খৃষ্টাব্দে এপ্রিল মাসের শেষ ভাগে শ্রীহট্ট পরিত্যাগ করিলে লেইরি (0. %/. 1.1) সাহেব তিন মাসের জন্য শ্রীহট্রে আগমন করেন। তৎপর মলিং (৫. 5. 1৬101111? _মতান্তরে মরিং) সাহেব শাসনকাল; ইনি ১৮০৭ খৃষ্টাব্দে জানুয়ারী মাস পর্যন্ত কার্য্য করেন। মলিঙ্গের পর মরগান (7. 1015810.) সাহেব এক মাসের জন্য শ্রীহট্রে আগমন করেন: তৎপর ফেঞ্চ (7. 17970.) সাহেব দশমাসের জন্য কালেক্টর নিযুক্ত হন; তাহার পরে মেকসুয়েল সাহেব (ছ. ?/০,/০।) শ্রীহষ্টে প্রেরিত হন; একমাস অন্তে পুনঃ ফেঞ্চ সাহেব শ্রীহস্টে প্রত্যাগমন করেন ও প্রায় তিন বৎসর অবস্থিতি করেন। তিনি তিন মাসের জন্য স্থানান্তরে গমন করিলে মেক্নবল (1. ৬/. 1490191০) সাহেব শ্রীহট্টে প্রেরিত হন; তৎপর ফ্রেঞ্চ সাহেব পুনরাগমন করিয়া ১৮১৮ খৃষ্টাব্দের ৬ই জুন পর্য্যন্ত একাক্রমে ছয় বৎসর কার্ধ্য করেন। তৎপর টমাস বার্ণহাম (10101725 711701011) এবং তাহার পরে ওয়ার্ড 0.1» ৬:14) সাহেব কালেন্ঠর নিযুক্ত হন; ওয়ার্ড সাহেব ১৮২০ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত শ্রীহস্ট্রে ছিলেন ।১৩ হস্তবোধ জরিপ (১৭৮৮-১৭৯০) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় শ্রীহট্টরে অনেকস্থল অনাবাদ ও জঙ্গলপূর্ণ দুর্গম কার্ধ্য জরিপ কার্য্য সুচারুরূপে হইতে পারে নাই, এই জরিপ থাকায় দ্বারা ভূমির পরিমাণ মোটামুটি জানা গিয়াছিল; সেই জরিপ হস্তবোধ জরিপ নামে খ্যাত। হস্তবোধের জরিপ অনেক স্থলে শুদ্ধ নহে বলিয়া স্বয়ং উইলিস্‌ সাহেবই রিপোর্ট করিয়াছিলেন ।১৪ হস্তবোধের জরিপি জমিই “দশসনা” মহাল ভুক্ত হইয়াছিল । এলাম জমি দশসনা মহালের অতিরিক্ত অনেক ভূমিই শ্রীহট্টরে ছিল, এবং সব্বসাধারণে বিনা রাজস্বে তাহা ভোগ করিতেছিল, এই সমস্ত ভূমির অনুসন্ধানার্থে সদর বোর্ড ১৮০২ খৃষ্টাব্দে আদেশ করেন। তদনুসারে শ্রীহট্টের কালেক্টর কর্তৃক নিয়োজিত হইয়া পাটওয়ারিগণ দশসনা মহালের অন্তর্গত উক্ত ভূমির আনুমানিক মৌজাওয়ারি দাখিল করিলে, কালেক্টর সাহেব এই মর্মে এলাম বা এতেলা নামা জারি করেন যে, পাটওয়ারিদের দাখিল মৌজাওয়ারির প্রতি কাহারও কোনও আপত্তি থাকিলে তাহা যেন উপস্থিত করা হয়। কিন্তু কার্য্য এই পর্য্যস্তই মাত্র হইল । এলাম বা এতেলানামা জারি হইয়া কার্ষ্য স্থগিত হওয়ায় এই অতিরিক্ত ভূমি পরে এলাম ভূমি নামে ১১. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ২য় খণ্ড ৩ অধ্যায় দেখ। ১২. 81901107076 191071655 01 1100 11151011081 [২6509101105 11) /১550]) 1897. 1১. 10 ১৩. শ্রীহট্টের কালেক্টরগণের ক্রমানুযায়ী নাম ও শাসনকালের নির্দেশ (২য় ভাগ ৫ খু ১/২ অধ্যায়ে উল্লেখিত) জ-পরিশিষ্ট দেখ। ১৪, 0110 01711105 10011001110 510৬/ 0170 1%0001001% 01 ০701) 05110, 0111 01050 0০0117708110১ 0 01101) 010 ৮0116 9110 1501655 010013001, 014 90176 00110 €519105 01০ 5111110 50101 1016 1)0001)0001)% 11115 01100111210. -/৯5500]) 1)1511101 0926016015 ৬1 11. (5911700) 0101 ৬11, 2215, ৪১৪ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড অভিহিত হয়। ১৮০৪ খৃষ্টান্দে এই ভূমির কিয়দংশ মলিং সাহেব কর্তৃক চিরস্থায়ীরূপে “হালাবাদি” নামে বন্দোবস্ত হয়! স্থালাবাদি মুমাদি প্রভৃতি চিরস্থায়ী মহাল হাল অর্থে বর্তমান। বর্তমানে অর্থাৎ দশসনা বন্দোবস্তের পরে এই সময়ে (১৮০৭ শৃষ্টাব্ হইতে ১৮১২ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত) এইব্প অনেক নৃতন আবাদি ভূমি চিরস্থায়ীরূপে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়, এই সকল তালুক “হালাবাদি মুমাদি” নামে অভিহিত হইয়া থাকে । ইহাদের সংখ্যা ৫০০ এবং রাজস্ব ২৮০৮ টাকা। খাস হালাবাদি-- এই নামে আর এক শ্রেণীর চিরস্থায়ী মহাল শ্রীহন্রে আছে, এই মহালগুলিও হালাবাদি মৃমাদি শ্রেণীর অন্তর্গত ছিল, পরে রাজস্ব বাকিতে নিলাম হইলে, গবর্ণমেন্ট স্বয়ং ক্রয় করতঃ সেই নির্দিষ্ট খাজানার উপর অপরের নিকট বিক্রয় করেন। এই মহালগুলি গবর্ণমেন্টেব খাস বা নিজস্ব হইয়াছিল বলিয়া “খাস হালাবাদি” নামে খ্যাত; এইরূপ মহালের সংখ্যা ১৫ এবং ব্রাজস্ক ১৩২৮ টাকা । খাস মুমাদি-শ্রীহন্রে এই নামে এক শ্রেণীর চিরস্থায়ী মহাল আছে। এইগুলি প্রকৃত দশসনা মহাল ছিল এবং পরে ইহাও খাজানা বাকিতে নিলাম হইয়া গেলে স্বয়ং গবর্ণমেন্ট ক্রয় করেন এবং নির্দিষ্ট জমার উপর অপরের নিকট বিক্রয় করেন। এইরূপ মহালের সংখ্যা ৪৬৪টি এবং রাজস্ব ৬০৪০ টাকা । কিন্তু এইরূপ মহালের ভূমির পরিমাণ নির্দেশক হালাবাদি জরিপ ইহার আট বৎসর পরে আরন্ত হইয়া কিছুদিন স্থগিত থাকে ও তাহার দুই বৎসর পরে পুনবর্বার আরন্ত হইয়া জরিপ হয়। বাজেয়াফৃতি মুমাদি-_মহালের মোট সংখ্যা ৫০৯৯৪টি এবং রাজস্ব ৩৬৭৬৬০ টাকা। বাজেয়াফৃতি মহাল অনেকটি বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত, এই সকল মহালের মধ্যে ৩৬টি প্রধান ।১৫ ১৫. বাজেয়াফৃতি ৩৬টি প্রধান মহালের নামত, সংখ্যা ও রাজস্ব পরিমাণ নিম্নে প্রদত্ত হইলঃ- নাম সংখ্যা রাজস্ব ১ দেবোত্তর (দেবত্র)-দেবোদ্েেশে যে ভূমি দাতব্য হইয়াছিল। ২০১৪ ২০,৮৪৭ ২ ব্রহ্গত্তর (ব্মত্র)-ব্রক্মণের ভরণ পোষণার্থ দাতব্য ভূমি । ৭১১০ ৭০১৪ ৩ চেরাগী-মসজিদ ও কববদিতে চেরাগ বা প্রদীপ দেওয়ার ব্যয় নির্ব্বাহার্থ দাতব্য ভূমি । ৩৩০৪ ৫০৫০ ৪ মুদতমাশ-মোল্লা ও ছাত্রগণের জন্য যে ভূমি দেওয়া হইয়াছিল। ৪৮১৮ ১২,২৬১ ৫ শিন্লি-মোসলমান পীরেব সেবাব্যয় নির্ব্বাহার্থ দাতব্য ভূমি । ৪৯ ৯১ ৬ রুজিণা-বিশেষ কয়েক মোসলমান পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য দাতব্য ভূমি । ৪৫ ২৭ ৭ দারসৃসফা-চিকিৎসালয়েব্যয় নির্্বাহার্থ দাতব্য ভূমি । ৫৪ ৯১ ৮ তোপখানা-নবাবি আমলে সেনা নিবাসের জন্য প্রদত্ত ভূমি । ১৯৬ ৫০ ৯ বখ্সা-বিশেষ কার্য্যে পুরস্কার স্বরূপ প্রদত্ত ভূমি । ৭৫ ৮৭ ১০ জায়গীর-মুফ্তিগণকে ব্যবস্থাদানের জন্য বেতনের পরিবর্তে প্রদত্ত ভূমি । ৭ ২৭৫ ১১ মোদরসা-সম্রাট কর্তুক শিক্ষা-ব্যয় নির্ববাহার্থ প্রদত্ত ভূষি । ৪১ ৮৫ ১২ শিবোত্তর (শিবত্র)-শিবপুজা পরিচালনার্থ প্রদত্ত ভূমি । ৫৬ ১৫১ ১৩ বিষ্টুত্তর-বিষ্ুপুজার ব্যয় বিধান জন্য প্রদত্ত ভূমি । ২২ ১৫ ১৪ দুর্গোত্তর-দুর্গাপুজার ব্যয় বিধান জন্য প্রদত্ত ভূমি । ১ ২ দ্বিতীয় অধ্যায় : দশসনা বন্দোবস্ত শ্রীহস্ট্ের ইতিবৃত্ত ৪১৫ ফ্রেঞ্চ সাহেবের সময়ে শ্রীহস্র সহরে গৃহকর আদায় হইতে আরন্ত হয়। ১৮১১ খৃষ্টাব্দে সহরে ১০০৯৮ খানা গৃহে মোট ৯২৬ টাকা আদায় করা হইয়াছিল । প্রথম উদ্যমে এই কর স্থাপন এক উৎপাতরূপে পরিণত হইয়াছিল, কারণ প্রত্যেকেই ইহাতে প্রতিবন্ধক জন্মাইয়াছিল, দোকানদারগণ দোকানপাট বন্ধ করিয়া দিযাছিল। বিজ জমা-দশসনা বন্দোবস্ত কালে ধিশেষ কারণে কর নন ধার্য্য হয় নাই, এরূপ ভূমি । ১০৯ ১৬ খারিজ ইমাম-“ইমামের বায়েড়া” আলোকিত করার জন্য প্রদত্ত ভূমি । ১ ৩ ১৭ নজর ইমাম-ইমামের পারিতোষিক স্বরূপ তাজিযাকারীর জন্য দাতব্য ভূমি । | ৩৬ ৭ ১৮ খাস মহাল-চিরস্থায়ী মহালের মধ্যে বাজস্ব বাকিতে নিলাম হইয়া পরে যে ভূমি সরকারে খরিদ করা হয়। ৃ ৩৭ ৬৫ ১৯ সাফি-বন্দোবস্তের সময় যে ভূমির বাজস্ক সিনাক্ত করা হইয়াছিল । ১২ ১৪ ২০ মোজরাই-সরকারী মোহাফিজ খানার কাগজ হেফাজতে রক্ষার্থে ভূম্যাধিকারিগণ দফৃতরি নিযুক্ত করিতেন, এ দফৃতরিদেব বেওনের পরিবর্তে প্রদত্ত ৬মি । ৩৮ ৩ ২১ খুসবাস-চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় ভূম্যধিকারীগণ যে ভূমি নিষ্কর প্রাপ্ত হন। | ১৮৯ ১৪৪ ২২ নানকার জমিদারি-চিরস্থায়ী বন্দোবস্থবকালে কয়েক জন জমিদারকে | যে ভূমি নি্কর প্রদণ্ত হইয়াছিল। ২৫৯ ৪৯২ ২৩ নানকার কানুনগো-কানুনগোদের বেতনের পরিবর্তে প্রদত্ত ভূমি । ১৭১৭ ৪২৫১ ২৪ রসুস জামিনী-অপর ব্যক্তিদের জামিন হওয়াধ জন্য কানুনগোদিগকে প্রদত্ত ভূমি | '৩১ ৯০ ২৫ খোরপোষ-বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওরণপোষণ জন্য প্রদত্ত ভূমি । ঙ ১৩ ২৬ খানেবাড়ী-বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাস জন্য প্রদত্ত ভূমি । ৩১৭৫ ২৫০৭ ২৭ বেলম্বরি খানেবাড়ী-বিশিষ্ট ব্যক্তিদে জন্য যাহা অনির্দিষ্ট ছিল। ২৯ ১৭৫ ২৮ হুড় মহাল-কর্দমময় ভূমিকে হুড বলে, এইরূপ যে ভূমি পরে চাষযোগ্য হইলে বন্দোবস্ত হয়। ২১ ১৩৩৪ ২৯ তন্খা মোজরাই-শ্রীহট্টের কোন কোন আমিলের চাকরকে আবশ্যক মত লোকদিয়া সাহায্য করিবে বলিয়া যে ভূমি প্রদত্ত হয়। ১৪১ ৩৭৪ ৩০ ছেগা হিম্মত খা-হিম্মত খা সেনাপতিকে প্রদত্ত ভূমি । ২ ৮৬ ৩১ এ হাতিম খা-হাতিম খা সেনাপতিকে প্রদত্ত ভূমি । ৩ ১০ ৩২ এ অলী খা-পার্বত্য জাতিদের আক্রমণ সময় সাহায্যার্থ অলীখাকে প্রদত্ত ভূমি । ১০১ ৭৬৮ ৩৩ এ বক্তার সিংহ-বক্তার সিংহ সেনাপতিকে প্রদত্ত ভূমি । ১৪১ ২৫৯ ৩৪ এ লাখিরাজ মাজুল জমিদার-জমিদারি উচ্ছেদ হইয়া গিয়াছে, এরপ ব্যক্তিদের জীবিকা নির্ব্বাহার্থ প্রদত্ত ভূমি । ১০ ২৬ ৩৫ চক সানন্দ রায়-সানন্দ রায়কে যে ভূমি নি্র প্রদত্ত হইয়াছিল । ১৬ ১৯ ৩৬ নজর পঞ্চতন পাক-হজরত মোহাম্মদ, আলী, ফতেমা বিবি, হাসন ও হুসনের “পুণ্য পৌঁছান” অর্থাৎ ইহাদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা ও শির্মি প্রভৃতি জন্য প্রদত্ত ভূমি । এতদ্যতীত ইজাত মহাল নামে ৮৪৯ টাকা জমাযুক্ত আরও ৮টি মহাল আছে । এবং “জয়ন্তীয়া মুমাদি' ও “এলাম মুমাদি” নামে আবও দুই প্রকার চিরস্থায়ী মহাল পরে বন্দোবস্ত হয় । জয়ন্তীয়া মুমাদির সংখ্যা ৩৩টি এবং রাজস্ব ৪০৩ টাকা; এলাম মুমাদির সংখ্যা ৯টি এবং বাজস্ব ১৩২ টাকা । শেষোক্ত দুইটি মহাল বাজেয়াণ্তি মহাল শ্রেণীর অন্তর্গত নহে। ? ৫ ১৬ শ্রীহন্টরেব ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড বন্দব বাজার গঠন 'এই সময় শ্রীহট্টের বন্দর-বাজার বর্তমান স্থানে ছিল না। শহরের পূর্র্ব-দক্ষিণ প্রান্তবস্তী দাঁড়ি হাওরের পশ্চিমাংশে, উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত যে একটা বড় রাস্তা আছে, তখন ইহারই দুই ন'রে দোকান শেণী ছিল, এই সময় উক্ত বন্দর বাজারের অনেক দোকান পরিত্যক্ত হওয়ায় ধা সারের অবস্থা মন্দ হইয়া পড়ে । বর্তমান বন্দর বাজারের অনেক অংশই পূর্বে জন্লা বা ওনাশয়েরই নিগ্নে ছিল, উত্তরের অল্লাংশেই ভূমি ছিল, বড় বড় মট্কা (মৃৎ্কলসী) ফেলিয়া শদুপরি মাটী ভরাইয়া অধিকাংশ চিপ৮৪২-৬৫ ১৪ ৯৯ তৃ০১৮৮ '্লাঃক্ষে দেখিয়াছিলেন, সেই প্রাচীন ব্যক্তিদের কাছে বাল্যকালে শুনিতে পাইয়াছিলেন, এমন ধ্যক্তিগণ হইতে আমরা তাহা জানিতে পারিয়াছি, এবং “চালি বন্দর” বলিয়া খ্যাত পরিত্যক্ত বন্দরের ভগ্ন প্রায় কোন কোন ইষ্টক-গৃহ বাল্যকালে আমরাও দেখিয়াছি । কেবল বন্দর-বাজার নহে, বর্তমান সহরের অনেক প্রসিদ্ধ স্থল ও অনেক রাস্তা এই উপায়ে দর্মিতি হয়; এই সকল শড়কের দুই পার্থে এখনও জল্লা রহিয়াছে,_-দেখিলে বোধ হয় যে, মধ্য; মাটী ভরাইয়া পথটি প্রস্তুত করা গিয়াছে। শীট শহর এতি পুর্বে বরশ,এ। ও গড়দুয়ার লইয়া শহর ছিল, পরে মোসলমান সময়ে কিছু দক্ষি/বত্রী হয়: তখনও াখালিয়া, রায়নগরের উত্তরাংশ ও শেখ ঘাটের কিয়দংশ সহরের ন্তর্গ € ্ল | ইংপেজ আদঃলর প্রথমে নবাব তালাবের তীরদেশ হইতে পথঘাট পর্যস্ত শহর বিস্তৃত *1' লিগুসে সাহেব শহরটিকে একটি বৃহৎ বাজার বলিয়া লিখিয়াছেন। বস্তুতঃ এই সময়েই -।হরের অথেক স্থাণ। ভ্লাট করিয়া কার্যোপযোগী করা হয়। ১৮১৩ খৃষ্টাব্দে সহরের পরিধি ১ .এশশ লা চারি মাইল এবং অধিবাসী সংখ্যা ৩০০০ জন ছিল। সমগ্র জিলায় এই সময়ে আবী টা ১,১,০09০০ ভন হইয়াছিল | কল্যাণ লিং চকল্য'ণ ইতপুকো (2 ভা৭ ২য় খণ্ড ৩য় অধ্যায়ে) সুবেদার কল্যাণ সিংহ কর্তৃক আগা মোহাম্মদ বেজা নামল এ দদ, |এতদাহীকে দমন করার কথা বলা গিয়াছে। মোগলকে বদরপুর হইতে বিতাড্রিত কাঁরয়, 'ল।!ণ 'শংহ বদরপুরেই অবস্থিতি করেন। কিছুকাল পরে তিনি কোম্পানীর হার্যা পরিত্যাগ পুলি ৭: +গুলি পদচ্যুত ও পেন্শন প্রাপ্ত সিপাহী সংগ্রহ করিয়া, কাছাড়ের চাইল:কান্দি নামধ গানে “কাটি নূতন রাজ্য স্থাপন করিতে চেষ্টা করেন। তখন কৃষ্ণচন্দ্র কাছাড়ের বাজা, তিদ এহ এতবাদ শ্রীহটেব কালেক্টর ম্যাজিক্ট্েটকে জানাইলে, কল্যাণ সিংহের বিরুদ্ধে একদল সৈন। গ্রোকত হয়। এটিশ সৈন্যাভিযান সংবাদে সুবেদার কল্যাণ সিংহ জয়স্তীয়ায় পলাযন করেন, কিন্তু অচিরেই জয়ন্তীয়া-পতি কর্তৃক ধৃত ও কারারদদ্ধ হন। একদা কল্যাণ লিংহ্র কারাগার হতে পলায়ন করিয়। যান ও বিবিধ স্থান ভ্রমণ করিয়া কুমিল্লা নগরে উপস্থিত হন, তথায় তাহার শত্যু হন। এই. ঘটনার পর নানা বিষয়ে কাছাড়ের সহিত শ্রীহত্টের রলাজনৈভিক সম্বন্ধ ঘটে, “উপ সংহারে” অতি সংক্ষেপে তাহা বিবৃত করা যাইবে। হালাবাদি জরিপ ১৮২০ খস্তাব্দে ওয়ার্ড হেব হালাবাদি ভূমির জরিপ আর করেন; কতক ভূমি জরিপ হইয়া নানা কারণে ই স্থগিত হয়। পর ১৮২২ খু্ব্দ হইতে ১৮২৯ খৃষ্টাব্দের মধ্যে টকার (6. '1010) সাহেব হ।ণ'লাদি জবিপ শেষ করেন । এই জরিপকে টকার সাহেবি জরিপও বলিয়া থাকে। দ্বিতীয় অধ্যায় : দশসনা বন্দোবস্ত শ্রীহত্টরের ইতিবৃত্ত ৪১৭ ওয়ার্ড সাহেবের পর কলিন্স (0. 00113) সাহেব শ্রীহন্টের কালেক্টর ম্যাজিষ্ট্রেট পদে নিযুক্ত হন, তৎপরেই টকার সাহেব আগমন করেন। মধ্যে টরকুয়া্ড (৬4. ]. 10108910) সাহেব তিন মাসের জন্য শ্রীহট্টে আসেন; টকার সাহেব ১৮২৯ খৃষ্টাব্দের ২৪শে ফেুয়ারী পর্য্যন্ত শ্রীহট্রে অবস্থিতি করেন। টরকুয়াণ্ড সাহেবের মাসিক বেতন আড়াই হাজার টাকা ছিল ।১৬ খাসিয়াদের আক্রমণ শ্রীহট্টের উত্তর পব্বতবাসী স্বাধীন খাসিয়া জাতি কখন কখন উত্তেজিত হইত, উইলিস সাহেবের রিপোর্ট হইতে জানা যায় যে, সেই উত্তেজনার মূলে ছাতকের ইংলিস্‌ কোম্পানীর কার্য্যকারিতা ছিল; ৪র্থ অধ্যায়ে ইংলিস্‌ বিবরণ প্রসঙ্গে তাহার অন্যরূপ প্রমাণ দেওয়া যাইবে। কিছুদিন খাসিয়ারা শান্তভাব অবলম্বন করিয়াছিল, কিন্তু অবশেষে তত্প্রদেশে সৈন্য প্রেরণ অনিবার্ধ্য হইয়া উঠে। ১৮২৭ খৃষ্টাব্দে পাতুয়ার সন্নিকটবর্তা খাসিয়ারা এক সিপাহী ও এক ডাকওয়ালা এবং এক ধোবাকে নিহত করে। এই সময় চেরাপুঞ্জিতে ডেভিড স্কট (7991৫ 9০০1.) নামে গবর্ণর জেনারেলের জনৈক এজেন্ট বাস করিতেন। “সিলেট লাইট ইনফেন্টি” নামক দেশী সৈন্য দলের কিয়দংশ সীমান্ত রক্ষার্থ তথায় থাকিত। ডেভিড্‌ স্কট সাহেব অনুপস্থিত থাকায় শ্রীহস্ট্রের কালেক্টর-ম্যাজিষ্ট্রেট টকার সাহেব উক্ত সৈন্য দলের অধিনায়ক কাণ্তেন লিষ্টার (0%1)1917 [.50) সাহেবকে নিজ দায়িতে লেখেন যে গবর্ণমেন্টের স্বার্থ রক্ষার্থ তিনি যেন আক্রমণকারী খাসিয়াদিগকে সৈন্য দ্বারা অচিরাৎ দমন করেন । এই উপদেশ মত কার্ধ্য হইয়াছিল, কিন্তু ফল শুভজনক হয় নাই। ১৮২৪ খৃষ্টাব্দে আসাম ইংরেজদের অধিকারভুক্ত হয় তখন জয়ন্তীয়ার মধ্য দিয়া শ্রীহস্ট হইতে আসাম যাওয়া যাইতে পারিত; কিন্তু এই সময় ব্রন্ষযুদ্ধ উপস্থিত হওয়ায় বদরপুরে একদল সৈন্য প্রেরিত হয় ও জয়ন্তীয়ার পথ বন্ধ হইয়া যায়। তখন পাতুয়া, চেরাপুঞ্জি হইয়া শিলং যাওয়ার পথ প্রস্তুত করা আবশ্যক হইয়া উঠে। খাসিয়া পবর্বতের লংখাও নামক স্থানের রাজা ইংরেজদের কথামত পথ দিতে স্বীকৃতি হইয়া ১৮২৬ খৃষ্টাব্দে সন্ধি বদ্ধ হন। তদানুসারে লেপ্টেনান্ট বেডিগফিল্ড (93০151614) ও বালটন (3811007) সাহেব তথায় প্রেরিত হন। নিজ রাজ্যের ভিতর দিয়া পথ দিতে রাম্বরায় অঞ্চলের রাজাও স্বীকৃত হন; কিন্তু ১৮২৯ খৃষ্টাব্দে রাজাগণ এই জন্য নিতান্ত অশান্ত হইয়া উঠে; প্রথমে তিনিই আক্রান্ত ও নিহতন হন; অনেকটি গ্রাম লুষ্ঠিত হয়, খাসিয়া প্রজারা কামরূপ পর্য্যন্ত অগ্রসর হইয়া বনগা থানা আক্রমণ করতঃ তত্রত্য পুলিশ কর্মচারী প্রভৃতিকে হত্যা করে। পূর্বোক্ত লেপ্টেনান্টদ্বয় এবং কয়েকটি সিপাহীও নিহত হয় । গবর্ণমেন্টকে তখন বাধ্য হইয়া যুদ্ধ ঘোষণা করিতে হয় ।১৭ কাণ্তেন লিষ্টার “সিলেট লাইট ইনফেন্টি” সৈন্যদল সহ পথে বিলম্ব না করিয়া বরাবর চেরাপুঞ্জি উপস্থিত হইয়া যুদ্ধে প্রবৃত্ত হন।১৮ এলেন্স্‌ রিপোর্ট হইতে জানা যায় যে এই সময়, ১৬. ইহাদের শাসনকালের নির্দেশ (২য় ভাগ ৫ম খণ্ড ১।২ অধ্যায় উন্মেখিত) জ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য ১৭. ']। 1826 1176 চ২০)9 01 13017811710৬/ 2110/0৫ 1017016 01090 0001055 01 1)111, (9 0:01011601 9001710-৬ 011৩) ৮4100) 55010 [100৩1 011 /১11 1829 10110519905 01052 11) 2705 2100 10905500100 1.1601051021715 73901811610 100 102011801 ৯/111) 5018) 5019095.11)15 160 109 [17111019 019210110105- -[710011975 91001501001 /৯০০০11105 01 /55817). ১৮. 96০ 06191100001 10 0. 5৬/111101) 1350. 01161 5০0161 919 00 016 0190ানাা)010, টি0ো ৬/11110])5 001) [09৬10 9০001, /১2911 10 10110 0০0৬1717011 0612121, 0900 300 1১12 1829. শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২৭ ৪১৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড আবশ্যক হওয়ায় চেরাপুঞ্জির রাজাকে ভোলাগঞ্জ হইতে ৪৬ হাল ভূমি দিয়া চেরা ষ্টেশন গ্রহণ করা হয়। (১৮২৯-৩০ খৃষ্টাব্দে |) খাসিয়াদের যুদ্ধনীতি পৃথক, এক সঙ্গে হঠাৎ আপতিত হইয়া অপ্রস্তুত সৈন্যদিগকে হতাহত করিয়া চলিয়া যায়; সম্মুখ সমরে তাহারা অভ্যস্ত নহে। সুতরাং লিষ্টার সাহেবকে বিশেষ বেগ পাইতে হইয়াছিল, তিনি শ্রীঘঘ কিছুই করিয়া উঠিতে পারেন নাই। গবর্ণমেন্ট সৈন্যদের উৎসাহ বর্ধনার্থ তাহাদের ভাতা এক টাকা হারে বর্ধিত করিয়া দিয়াছিলেন।১৯ লিষ্টার অনেকটি খণ্ড যুদ্ধের পর ১৮৩৩ খৃষ্টাব্দে খাগিয়াদের শেষ রাজাকে গবর্ণমেন্টের সম্পূর্ণ অধীনতা স্বীকার করিতে বাধ্য করেন। টকার সাহেবের পর ১৮৪০ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত শ্রীহট্টে আট জন কালেক্টরী আগমন করেন। (ইহাদের নিযুক্তি ও কার্য্য ত্যাগের তারিখ পরিশিষ্টে দেওয়া হলো ।) এই সময় মধ্যে জয়ন্তীয়ায় ইংরেজাধিকার হয়, ও খাসিয়া এবং জয়ন্তীয়া পাহাড় এক ভিন্ন ডিস্ত্রিক্টে পরিণত হয় ।২০ নিষ্কর মহাল ও থাক জরিপ ইংরেজ কর্তৃক জয়ন্তীয়া জয়ের পর, এই সময়েই (১৮৩৬-১৮৪০ খৃষ্টাব্দ) শ্রীহট্টের নিফর মহালগুলি জরিপ হয়।২১ এবং থুলিয়ার সাহেব কর্তৃক জয়ন্তীয়া জরিপ (১৮৩৭-১৮৪০ খৃষ্টাব্দ); ১৯. 17 [1 গো) 01700160 (0 65116 1101 ০ 54111 00111111111001৩ 10 0:0001011) [.15101 0110 [16 010001 011115 ০005 076 201010৬/100172105$ 01 010 09০১০1107 001/0101 11) 0010001 রি 01001 00016 0) 20510015 ০7:০11101)5 11) 01001)1115- /৯5 015৬/00 (0 (110 10611 01 00115 (01110110000 001701101, 1115 1.0105111]) 11) 001017081 1185 19961) 7169560 19 1] 11161) 90110 0106 1 1১01 17)011৩100) 000111% 016 01776 009 ৬1516 8011911) 0101)109)00 11) 01০ 111115, 0110 (091716501৬0 01101 111 0000110, 11109 11011 ০ ০0110116010 1110 50106 11101121000 ৬/1)01) 0৮1 01709 110 100 6100500 11) 51100 11] [110 (05515811115. 11905 [01901716 01161 01) 2 1001116, 01117051101 561- ৬100, ৬111) 119 1,008] 0010১ 11) /১550]]) -[:(61 1017 0110 01161 56010121910 0) 00৮01711001) 09111701919 10310 9৫00, 0100 4১82101. -[99104 2611) 10176 1829. ২০. এই ডিন্ট্রিক্টের উত্তরে কামরূপ ও বনগাঁ, পূর্বে কাছাড়, দক্ষিণে শ্রীহস্ট, এবং পশ্চিমে গারো পাহাড় । পরিমাণফল ৬০২৭ বর্গমাইল, লোক সংখ্যা ২০২২৫০। ইহার প্রধান নগর শিলং। জোয়াই একটি মহকুমা এবং চেরাপুঞ্জি ও চেলা প্রসিদ্ধ স্থান। এ স্থানদ্বয়ে কয়লা ও লৌহের খণি আছে। থারিয়াঘাট তত্রত্য এক বড় পল্পি। মিলং সবডিভিশনে ১৫টি সিমশিপ, ৩টি লিংডশিপ ও ৭টি ওয়াদাদারশিপ (ষ্টেট) আছে। জোয়াইয়ে ১৯টি দলইশিপ ও ৩টি সরদারশিপ আছে। ২১. দশসনা বন্দোবস্তের সময় শ্রীহ্ট্রে অনেক মহাল নিফকর থাকে, তৎপরে তাহা বাজেয়াফৃত হইয়া কর ধার্য্য হয়, তাহা বাদে যে সকল মহাল নিষ্কর থাকে, তাহার সংখ্যা ১৭৭০টি মাত্র, নিমে ইহার সংখ্যা ও সংজ্ঞা দেওয়া গেলঃ- নাম থখ্যা রাজস্ব ১. সিদ্ধ নিষ্কর-প্রাচীন সনদ দৃষ্টে যে মহাল গুলি নি্কর রাখা হয় নাই। ৪০০ নাই ২. খানেবাড়ী জমিদারি-জমিদারদের যে যে বাস ভূমি নিফকর আছে। ২৭ ' ” ৩. খসিমহাল-বাণিয়াচঙ্গের দেওয়ান সাহেবকে দেওয়া নিফর ভূমি । ২৭ & ৪. কসবে শ্রীহট্র-হায়দর গাজীর প্রাপ্ত মহাল শ্রীহট্ট সহর। ১ ৫. সর্বপ্রকার মহালের-রিভমশন চিরস্থায়ী প্রভৃতি বন্দোবস্ত হইয়া গেলে যে সকল মহালের ২৫ গুণ রাজস্ব এককালে গ্রহণ করিয়া নিষকর করা হইয়াছে। ১৩১৫ ” ৬. কিছমল-পং পাথারিয়ার এলাম ভূম হইতে ২৩৪০ একর ভূমি ৯৯২৪ টাকা গ্রহণে চা-কর সাহেবকে নিষ্কর দেওয়া হয়। ১ রর ৭. এলাম রিভশন-(এ গুলি পশ্চাৎ নিষ্কর করা হয়) এক টাকার ন্যন পরিমিত কর যুক্ত মহাল গুলির ২৫ গুণ খাজনা দাখিল ক্রমে নিষ্কর করা হয়। ২৫ এ দ্বিতীয় অধ্যায় : দশসনা বন্দোবস্ত শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪১৯ তিনি জয়ন্তীয়া জরিপের দুই বৎসর পর লাতু “জিলার” ১১টি পরগণায় জরিপ করেন। এই জরিপের ১৭ বৎসর পরে প্রসিদ্ধ থাক জরিপ হয়। প্রত্যেক মহাল থাক অর্থাৎ চিহ্ানুসারে জরিপ হয় বলিয়া এই জরিপ থাকবস্ত নামে খ্যাত। ইহাই প্রকৃত “রেভিনিউ সার্ভে ।” প্রায় সাত বসরে এই জরিপ সমাধা হইয়াছিল । (১৮৫৯-১৮৬৫ খৃষ্টাব্দ ।) বর্ণিত সময়ে শ্রীহন্রের অবস্থা অনেকটা হীন হইয়া পড়ে, ৪০ বর্ষ পর্ব্রবে যে শ্রীহট্ট সর্ব্ব বিষয়ে উন্নত ছিল, যথায় চাউলের মন বার আনা মূল্যে বিক্রয় হইত, এই সময় আর সেরূপ ছিল না। এই সময় সমগ্র জিলায় ৫০০০ টাকার উর্ঘ আয়ের জমিদারের সংখ্যা ১৫ জনের অধিক ছিল না, অধিকাংশ জমিদারের অবস্থাই শোচনীয় ছিল। ১৮৩৬ খৃষ্টাব্দে রাজস্ব বাকিতে শ্রীহট্টে ১০০৪টি মহাল নিলাম হইয়া যায়, ইহাতেই দেশের অসচ্ছলতার কথা স্পষ্ট বোধগম্য হইবে ।২২ ইতিপৃবের্ব খাসিয়াদের উল্লেখ করা হইয়াছে, খাসিয়া অভিযানের সময়েই শ্রীহস্টে কুকির উৎপাত আরম্ত হয়; পরবর্তী অধ্যায়ে তদ্বিবরণ কথিত হইবে । ২২. 17761716170 01 [17010, 7501219 90) 1837. তৃতীয় অধ্যায় বিবিধ কুকি জাতি ত্রিপুরা পব্বতের পূর্ব ও উত্তরদিত্তী পব্রবতমালা পইতু, পাইতু, ফুন, ফুনতেই প্রভৃতিতে নানা শ্রেণীর অসভ্যদের বাস; এই অসভ্যগণের জাতের নাম খচাক । শ্রীহট্টবাসীগণ ইহাদিগবে কুকি নামে অভিহিত করেন; কাছাড়বাসী জন সাধারণের কাছে তাহারা লুশাই আখ্যা প্রাপ্ত হয় সরকারী কাগজপত্রে উভয় নামই দৃষ্ট হয়। কুকিগণ প্রাচীন কিরাত বংশজ। কুকিদের প্রকৃতি অতি উদ্ধত; শক্র দূরে থাক, তাহাদের পরস্পরের মধ্যে বিরোধ ঘটিলেং একে অন্যের প্রাণ বধ না করিয়া স্থির থাকিতে পারে না। তাহাদের একতার দৃঢ় বন্ধন অতীং প্রশংসনীয় । ব্যভিচার প্রায়ই দেখা যায় না, ব্যভিচারীর দণ্ড অতি কঠিন। কিন্তু অবিবাহিতাবস্থায় ইহা তত দোষনীয় গণ্য হয় না। ইহারা একরূপ উলঙ্গই থাকে । স্ত্রীলোকেরা সামান্য একখং বস্ত্রে সম্মুখ দিগ আবৃত করে কিন্তু তাহাও সব্বর্ঘদা স্মরণ থাকে না। ইহারা মাংসাশী ও মদিরাসক্ত। কুকুরকে ভোজন করাইয়া বধ করতঃ অগ্নিদগ্ধ করিয় উদরস্থ সিদ্ধ তণ্ডুল অতি উপাদেয় মিষ্টান্রের ন্যায় খাইয়া থাকে । পৃবের্ব কুকিরা নরমাংস খাইত অধুনা তাহা করে না, কিন্তু যুদ্ধে প্রথম নিহত ব্যক্তির যকৃতের কিয়দংশ খাইয়া থাকে । কুকিগণ ত্রিপুরাধিপতিকে তাহাদের সাব্বভৌম নরপতি বলিয়া মান্য করিলেও, তাহার বিরুদ্ধে বহুবার তাহাদের অস্ত্র ধারণ করিতে দেখা গিয়াছে। ইহাদের ভিন্ন ভিন্ন দলের সর্দারগৎ রাজা বলিয়া কথিত হয়। প্রথম কুকি আক্রমণ যে সময়ে শ্রীহট্টের উত্তরাংশে খাসিয়ারা ইংরেজের বিরুদ্ধাচারণ করিতেছিল, দক্ষিণাংশে সেই সময়েই কুকিগণ গোলযোগ উপস্থিত করে । টকার সাহেবের সময়ে (১৮২৬ খৃষ্টাব্দে কুকিরাজ বৃত্তাই কয়েকটি কাঠুরিয়াকে প্রতি মধ্যে নিহত করে । এই ঘটনার অনুসন্ধান জন দূত প্রেরিত হইলে, জানা গেল যে, প্রতাপগড়ের জমিদার১ হইতে কুকিগণ উপহার পাইত রীত্যানুযায়ী উপহার না পাওয়ায় তাহারা ক্ষেপিয়া এইরূপ প্রতিশোধ দিয়াছে। কুকির গবর্ণমেন্টের সম্বাদ বাহকের মধ্যে দুই ব্যক্তিকে আবদ্ধ করিয়া রাখে ও উহাদের মুক্তির জন টাকা দিয়া সেই দুই ব্যক্তিকে মুক্ত করিয়া আনেন ।২ সেই প্রথম বারে গবর্ণমেন্ট কুকিদিগকে বৃটিশাধিকৃত বাজারে আসিতে নিষেধ করা ব্যতীত আর কোনও প্রতিকার করিতে পারেন নাই । এই ঘটনার পর ১৮৪৩ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত কুকিগণ কোনরূপ অত্যাচার করে নাই । এঁ সালের শেষভাগ হইতে ১৮৪৯ -ৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত এনাণ্ড (4. 3. /১7781) সাহেব শ্রীহন্রের কালেক্ট ছিলেন। তাহার সময়ে দ্বিতীয় বার কুকির আক্রমণ হয় । ১. এই সময় উক্ত পরগণার অধিকাংশ ভাগই মৈনার চৌধুরী বংশীয়দের অধিকারে ছিল। ২, 966 0110 /১5501) 10151101 038720110619 ৬০]. (51161) 0190. 1], ৮. 43 তৃতীয় অধ্যায় : বিবিধ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪২১ লালচুক্রার আক্রমণ বলা গিয়াছে, কুকিগণ নামতঃ ব্রিপুরেশ্বরের অধীন, সুতরাং ইহাদিগের অত্যাচার নিবারণ জন্য সময় সময় ত্রিপুরার সঙ্গেও গবর্ণমেন্টকে বিবাদ করিতে হইয়াছিল । কুকিরাজ লালড়িহুয়ার পুত্র লালচুক্লা, পিতার মৃত দেহের সহিত লৌকিক প্রথা মত নরমুণ্ড দিতে ইচ্ছা করিয়া, ১৮৪৪ ৃষ্টাব্দের ১৬ই এপ্রিল প্রতাপগড় পরগণাস্থিত কচুবাড়ী আক্রমণ পূর্বক ২০টি নরমুণ্ড ও ৬টি স্রলোককে ধৃত করিয়া লইয়া যায়। লালচুরা ব্রিপুরেশ্বরের সামন্ত রাজা ছিল। এইজন্য এই অত্যাচারের প্রতিবিধানার্থে এনান্ড সাহেব গবর্ণমেন্টের পক্ষে ত্রিপুরেশ্বরকে লিখিলে, লালচুর্লাকে ধৃত করিতে ব্রিপুরাপতি দশজন বরকন্দাজ পাঠাইয়া দেন। এই অভিযান প্রহসনের সংবাদ কর্তৃপক্ষ হাস্য সম্বরণ করিতে পারেন নাই। গবর্ণমেন্ট বিরক্ত হইয়া মহারাজকে লিখিলেন যে, আগামী ডিসেম্বর মাসের পৃবের্ব অপরাধীকে গবর্ণমেন্টের হস্তে সমর্পণ না করিলে, বৃটিশ সৈন্য অপরাধীকে ধৃত করিবার জন্য তাহার রাজ্যে প্রবিষ্ট হইতে বাধ্য হইবে। এই ঘটনার পর ত্রিপুরেশ্বর ২৭ জন সাক্ষির সহিত ৪ জন কুকিকে শ্রীহস্টরে পাঠাইয়া দিলেন; তাহারা এনান্ড সাহেবের সন্নিধানে উপস্থিত হইয়া প্রকাশ করে যে, এই বিবরণের কিছুই তাহারা জানে না। বস্তুতঃ এই বিষয়ে ব্রিপুরেশ্বর সন্তোষজনক কিছুই করিতে পারেন নাই। কাজেই গবর্ণমেন্ট স্বয়ং কার্য্যক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইলেন; কাণ্তেন ব্লেকউড্‌ ত্রিপুরা রাজ্যের ভিতর দিয়া লালচুক্লাকে ধরিতে সসৈন্যে ধাবিত হইলেন। লালচুর্াণ অচিরেই আত্মসমর্পণ করে, শ্রীহন্টে তাহার বিচার হয় ও তৎপ্রতি দ্বীপান্তর বাসের আদেশ হয়। ১৮৪৭ খৃষ্টাব্দে কুকিরা শ্রীহন্ট ও ব্রিপুরার সীমান্ত স্থলে ভীষণ উৎপীড়ন করে ও দেড়শতের অধিক প্রজা বিনষ্ট করে । ইংরেজ গবর্ণমেন্ট ইহার প্রতিশোধ লইতে প্রস্তুত হইলে ব্রিপুরাধিপতি জ্ঞাপন করেন যে, এই হত্যাকাণ্ড তাহার রাজ্যের মধ্যে ঘটিয়াছে, গবর্ণমেন্টের হস্তার্পণের অধিকার নাই। সে সময় কাণ্তেন ফিশারের মানচিত্রানুযায়ী ত্রিপুরা রাজ্যের সীমার ভিতরে এই ৩. লালদুরা এক বিখ্যাক কুকি সর্দার, ইহার বংশাবলী এইরূপঃ-_- রাজা চুংপুল রাজা লাল কলিম ও রাজা লাল পুইমি রাজা কুজাশিয়া | | (বা লার) (প্রথম আক্রমণকারী) রাজা লাল হুলন | রাজা লালচুরা রাজা লালমিশিং 177টি রাজা মুরছুইলাল রাজা ডাকুনিপুর মি রাজা লাল জয়েস্তা রাজা বান খামপুই। (ইনি বাঙ্গালায় বেশ কবিতা লিখিতে পারেন) ৪২২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড ঘটনা সংঘটিত হওয়া নিরূপিত হয় । ১৮৪৯ খৃষ্টাব্দে ও তাহার পরবর্ষে কুকিরা উৎপাত করে। এ অত্যাচারও লাতু কালেন্টরী বিভাগের অন্তর্গত স্থানে সংঘটিত হয়, এবং ইহাতেও মহারাজ পূর্বোক্ত আপত্তি উত্থাপন করেন। এই সময় কাণ্তেন লিষ্টার সসৈন্যে কাছাড়ের দিকে কুকি দমনে গিয়াছিলেন। ইহার পর কয়েক বৎসর মধ্যে কুকিগণ শ্রীহস্ট জিলায় কোনও রূপ অত্যাচার করে নাই। এনান্ড সাহেবের পর ১৮৫৭ অন্দে প্রারন্ত পর্যন্ত শ্রীহট্টে যথাক্রমে ছয়জন কালেক্টর আগমন করতঃ কার্যকাল অন্তে চলিয়া যান, (ইহাদের নামাদি “জ”-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য;) এতন্ধ্যে ১৮৫৩ খৃষ্টাব্দে পুলিশের রিপোর্টানুযায়ী শ্রীহট্টের জন সংখ্যা ১৩৯৩৫০০ নির্দিষ্ট হইয়াছিল। তাহার পরে হেউড্‌ (২. 0. 7০০০৫) সাহেব ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দের মে মাসে শ্রীহট্ট আগমন করিয়া দশন মাস অবস্থিতি করেন । বিদ্রোহী সিপাহী ও লাতুর লড়াই হেউডের শাসন সময় (১৮৫৭ খৃষ্টাব্দে) শ্রীহট্টবাসীগণ বিশেষ উৎকণ্ঠিত ও সন্ত্রাসিত হইয়াছিল, সমগ্র ভারতব্যাপী যে ভীষণ বিদ্রোহ বহি প্রজ্বলিত হয়, শত সহস্র ইংরেজ, শত শত রাজভভ্ত প্রজার প্রাণ যে প্রজ্জবলদ বহি মুখে আহৃতি প্রাপ্ত হইতেছিল, তাহারই একটি স্ফুলিঙ্ শ্রীহট্ট জিলার ইংরেজদিগকে বিদগ্ধ করিতে ধাবিত হইয়াছিল । চট্টগ্রামে গবর্ণমেন্ট তিন শত সীমান্তরক্ষক সৈন্য ছিল ইহারা উত্তর পশ্চিমের “সিপাহী বিদ্রোহের” সংবাদে বিদ্রোহী হইয়া, তথাকার কালেন্টরী লুষ্ঠন করতঃ ২৭৮২৬৭ টাকা ও তিনটি হস্তী লইয়া এবং কারারুদ্ধ অপরাধিদিগকে মুক্ত করিয়া, ত্রিপুরার মধ্যভেদ পূর্ব্বক শ্রীহট্ট জিলায় প্রবেশ করে। শ্রীহস্্ে প্রবিষ্ট হইয়া তাহারা লংলার জমিদার মৌলবী আলী আহম্মদ খার বৃদ্ধ পিতা ধর্মভীরু গৌছআলী খা হইতে রসদ আদায় করিয়া লয়, এই জন্য জমিদারকে পশ্চাৎ নির্দোষীতার প্রমাণ দিতে বিশেষ বেগ পাইতে হইয়াছিল ।৫ এই সংবাদ পাইয়া শ্রীহট্টের পদাতিক সৈন্যদল (5১119. [1811 110) লইয়া মেজর বিং (14৭10 378) সাহেব প্রতাপগড় অভিমুখে ধাবিত হন। প্রতাপগড় পৌছিয়া সৈন্যগণ রন্ধনের উদ্যোগ করিতেছিল, এমন সংবাদ পাওয়া যায় যে, বিদ্রোহীরা লাতু অভিমুখে চলিয়া গিয়াছে,৬ ইহা শ্রবণ মাত্র বিং সাহেব সৈন্যদিগকে লাতু যাত্রার আদেশ দেন, সৈন্যগণ “অর্থসিদ্ধ অন্ন” ত্যাগ করিয়া তৎক্ষণাৎ যাত্রা করিল। লাতুর বাজারের নিকট বিদ্রোহীদের সহিত বৃটিশ সৈন্যের সাক্ষাৎ বিদ্রোহীগণ নদীতীরবর্তী মাল-গড় টালায় আশ্রয় লইল ও ইংরেজদের উপর গুলি বর্ষণ করিতে লাগিল। বৃটিশ সৈন্য নদীতীরে নিম্নে ছিল, বিদ্রোহীদের প্রথম গুলিতেই মেজর বিং প্রাণত্যাগ করেন । দেখিতে দেখিতে আরও পাঁচটি বীর যোদ্ধা নিহত ও একটি গুরুতর আহত হইয়া পড়িল, সৈন্যগণ প্রমাদ রা ররর ীনিতরাি 214, 310, 000 401) ০017700917165 01 006 [২6116101011 11011179. ৫. 110111915 91210150021 4৯০০০080105 01 /5591]) ৬01.. 11. (9%11160) চ. 130. ৬. এই সংবাদ কালামিয়া নামক জনৈক মৌসলমান প্রদান করিয়াছিল, কালামিয়া মৈনার চৌধুরীদের প্রজা ছিল, চৌধুরীদের ইহাকেই সৈন্যদের পথ প্রদর্শনের জন্য বিং সাহেবের সাহায্যে প্রেরণ করিয়াছিলেন, তদ্যতীত তাহারা রসদ ও কুলি ইত্যাদি প্রদান করিয়াও সাহায্য করেন। তৃত অধ্যায় : বিবিধ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪২৩ করিলেন । ইহাই লাতুর লড়াই নামে খ্যাত।৭ ২৩ জন হত ব্যক্তি পরিত্যাগ পূর্বক বিদ্রোহীরা লুক্কায়িত হইল । তাহারা মণিপুর যাইতে ন। পারে, এই জন্য তাহাদিগকে বাধা দিতে পথে সৈন্য স্থাপিত করা হইয়াছিল । একস্থানে দশটি বিদ্রোহী দলল্রষ্ট হইয়া অবস্থিতি করিতেছিল, এই সংবাদ পাইয়া ১৬ জন সৈন্য তাহাদিগকে আক্রমণ করে; আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন হত হইলে দুইজন পলায়ন করিয়া প্রাণ রক্ষা করে। স্থানে পুনবর্বার পরাস্ত ও ছিন্রভিন্ন হইয়া পড়ে । ইহারা জীবিত রহে, তাহারা সকলেই পলাইয়া কুকিদের আশ্রয়ে গমন করিয়াছিল । ইহারা কুকিদিগকে গবর্ণমেন্টের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করিতে চেষ্টা করিয়াছে, ইহা অস্বাভাবিক নহে; কিন্তু কুকিগণ পাচ বৎসরের মধ্যে শ্রীহট্টে কোনরূপ অত্যাচার করে নাই। আদমপুর আক্রমণ বিদ্রোহের গোলযোগ দূর হইলে হে উড সাহেব শ্রীহট্র ত্যাগ করেন, তৎপরব্তীঁ পাচ বৎসর মধ্যে সাতজন কালেক্টর শ্রীহট্ট আগমন করেন ।৮ তৎপরে স্মিথ (71690076 97110) সাহেবের সময়ে ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে লালচুক্লার পুত্র মুরছুইলাল, সুখপাইলাল নামকণ দুদ্ধর্ষ স্বাধীন কুকি সর্দারের ভগিনীকে বিবাহ করে; এই বিবাহে ভগিনীর সঙ্গে দাসী যৌতুক দিবার জন্য রা রা মারার এ কয়েকটি স্ত্রীলোক ধৃত করিয়া লইয়া যায়। ইহার পরে কুকিগণ গবর্ণমেন্টের সহিত সন্ধি করে; যে সকল স্ত্রীলোক ধৃত করিয়া নিয়াছিল, তাহার কয়েকটি দাসী স্বরূপ প্রদত্ত হইয়াছিল, কয়েকটিকে কুকিগণ বিবাহ করিয়াছিল এবং কয়েকটি পলাইয়া দেশে আসিয়াছিল। চঞ্চল-চরিত্র, অস্থির প্রকৃতি কুকিদের সন্ধি অধিকদিন স্থির থাকে নাই; সন্ধি ভঙ্গ করায় ১৮৬৯ খৃষ্টাব্দে তাহাদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করিতে হয়। এই সময় ত্রিপুরায় পলিটীকেল এজেন্টের নূতন পদ প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ৭, 900 6110 /855017 10151110 09926110615 ৬01. 1]. (১১1101) 0081) 11. 1. 01. ৮. ২য় ভাগ ৫ম খণ্ড জ-পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য । ৯. মুরছুইলাল নামতঃ ব্রিপুরেশ্বরের অধীন হইলেও রাজা সুখপাইলাল সম্পূর্ণ স্বাধীন সর্দার ছিল। ত্রিপুরেশ্বর নানারূপ উপহার দিয়া সময় সময় তাহাদিগকে শান্ত করিবার চেষ্টা করিতেন। লঙ্গাই দফার হালামগণের নিকট রাজদণ্ড উপহার ধাতুনির্মিত এক অশ্বারোহী যোদ্ধা মূর্তি পাওয়া গিয়াছে। ইহার পৃষ্ঠে ব্রিপুরেশ্বর বিজয় মাণিক্য ও ছত্র মাণিক্যের নামাঙ্কিত রহিয়াছে । শাখা-চেপাদি দফার হালাম কুকিগণের কাছে ইহাদেরই প্রদত্ত একহস্তী ও ব্যাত্ব মূর্তি মিলিয়াছে, লিটা নারির “পূর্ব্বাপর্ষ্য ক্রমাত্তবন্ত আরীয়া ইদানীং যদি বৈপরীত্যমাচরক্তি। তদোপরি ধর্মঃ শসানাশো ভবিষ্যতি পশ্চাদগজ শার্দুলৌ ।” অর্থাৎ তোমাদের সহ পূর্বাধি আত্মীয়তা আছে। এখন তোমরা সেই আত্মীয়তা রক্ষা না করিলে তোমাদের ধর্ম ও শস্য নষ্ট হইবে এবং পরে তোমরা হস্তী অথবা ব্যাদ্র কর্তৃক বিনষ্ট হইবে। (নব্য ভারত-১৩০৪ বাংলা ৭ম সংখ্যা)। ৪২৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড খেলাত প্রদান এই সময় কাছাড়ের ডিপুটী কমিশনার এডগার সাহেব উপহার প্রদানে কুকিদিগকে শান্ত করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন; তিনি সুখপাইলালের সহিত সন্ধি ও বন্ধুতা স্থাপন করিয়া তাহাকে এক আশ্চর্য্য খেলাত দান করেন। লোহিত ও ্বর্ণ-পুষ্প খচিত সবুজ রঙ্গের পাজামা, সবুজ ও স্বর্ণ-্রান্ত বিশিষ্ট বেগুণে রঙ্গের কুর্তা, সবুজ ও স্বেত রেসমের নির্মিত অদ্ভূতাকার টু'পী, উজ্জ্বল কাচের মালা ও কাচ নির্মিত কুণ্ুল, ইহাই উপহারের উপাদান 1১০ এডগার সাহেব ভাবিলেন যে মূল্যহীন কাচমালা দিয়া অসভ্যদিগকে বাধ্য করিয়া লইলেন, কিন্তু তাহারা ভাবিল বিপরীত;--মণিপুর দরবারে গিয়া তাহারা প্রকাশ করিল যে, কাছাড়ের বড় সাহেব তাহাদের রাজাকে কর দিয়াছেন । বস্তুতঃ তাহারা ভাবিয়াছিল যে, তাহাদের অত্যাচার যত বাড়িবে, গবর্ণমেন্ট ততই ভীত হইবেন ও তাহাদিগকে আরও খেলাত দিবেন; এই ভাবিয়া কুকিগণ মণিপুর, কাছাড়, শ্রীহট্ট ও ত্রিপুরা জিলা বিশেষ উদ্যোগে এককালে আক্রমণ করে । শেষ আক্রমণ যখন সদরলেও্ড (ন্‌. 0. 58016170) সাহেব শ্রীহট্টে কালেক্টর স্বরূপ ছিলেন, এই আক্রমণ সেই সময়েই সংঘটিত হয়। ১৮৭১ খৃষ্টানদের ২৩শে জানুয়ারী শ্রীহস্টরের কাছাড়িয়া পাড়া আক্রমণ করিয়া কুকিগণ ২০টি মনুষ্য বধ ও কতকগুলি স্ত্রীলোককে বন্দী করিয়া লইয়া যায়, ২৪শে তারিখ চরগোলা আক্রমণ করিয়া দুইজনকে বধ করে, এবং ২৭শে তারিখে আলীনগর আক্রমণ করিয়া অনেক লোককে হত্যা করে। কিন্তু এ সময়কার" কাছাড়ের আক্রমণ বিশেষ ক্ষতি জনক ছিল, অনেকটি চা-বাগান আক্রান্ত হইয়াছিল, তন্মধ্যে আলেকজাণ্তারপুর চা ক্ষেত্রের লইয়া যায়। এই সকল আক্রমণ প্রধানতঃ এডগার সাহেবের বন্ধু কর্তৃকই হইয়াছিল! এই সংবাদ প্রাপ্তে গবর্ণমেন্ট বুঝিলেন যে মূল্যহীন বেলওয়ারি মালায় অসভ্যগণ দমিত হইবে না, দস্তুর মত অভিযানের প্রয়োজন। তদনুসারে ১৮৭১ খৃষ্টানদের নভেম্বর মাসে কাছাড় ও চট্টগ্রামে দুইটি বৃহৎ সেনাদল গঠিত হয়; ইহারা ভিন্ন ভিন্ন সময় পরাক্রমের সহিত কুকিদের বাসস্থান আক্রমণ করে; অনেকটি কুকি সর্দার ধৃত ও বশ্যতা স্বীকার করিতে বাধ্য হয়। ত্রিপুরা রাজ্যের পৃরর্ব সীমা এই সময় নির্দিষ্ট হওয়ায়, সুখপাইলালের বাস ভূমি ত্রিপুরা রাজ্য হইতে বিচ্ছিন্ন করা হয়।১১ ইহার কিছুকাল পরে তাহারা পুনবর্ধার ক্ষেপিয়া উঠে, তখন গবর্মমেন্ট উত্তর লুশাই গ্রহণ করেন। ১৮৯০ খৃষ্টাব্দে তাহারা উত্তরলুশাইর শাসন কর্তা কাণ্ডেন ব্রাউন সাহেবকে হত্যা করে, তখন গবর্ণমেন্ট ক্রদ্ধ হইয়া লুশাইক্ষেত্রে যে অগ্নি ক্রীড়া প্রদর্শিত করেন, তাহার ফলে সমগ্র লুশাই প্রদেশ গবর্ণমেন্টের করায়ত্ত হয়। তদবধি আর তাহাদের অত্যাচার শুনা যায় নাই। লুশাই প্রদেশ গবর্ণমেন্ট ৭২২৭ বর্গমাইল পরিধি বিশিষ্ট লুশাই প্রদেশ হস্তগত করিয়া ক্রমে অসভ্য কুকিদিগকে সভ্যতার আলোক দেখাইতে চেষ্টা করিতেছেন। লুশাই পর্বত উত্তর দক্ষিণে বিস্তুত। ১০. 96 00567%61. 2507 75৮78219, 1871. ১১. 11000615 91211511081 /১0000015 01 /35ঞাা) ৬০]. ]] (591161) ৮. 129. ৬10০ 85920 10150101 02261156015 ৬০1. []. ১. 45. তৃতীয় অধ্যায় : বিবিধ শ্রীহত্টরের ইতিবৃত্ত ৪২৫ লুশাই প্রদেশের উত্তরে কাছাড় জিলা, পূবের্ব মণিপুর ও ব্রন্দেশ, দক্ষিণে ব্রহ্মদেশ এবং পশ্চিমে পার্বত্য ত্রিপুরা ও পার্বত্য চাটিগা। লোক সংখ্যা প্রায় ৮২৪৩৪ । টিপাই, ধলেশ্বরী, সুনাই, এ প্রদেশের প্রধান নদী। আইজল ও লেংলে দুর্গই প্রধান স্থান। আইজলে একদল সৈন্য আছে, তদ্যতীত সাইরাং ও চাঙ্গশীল সৈনিক নিবাস। টিপাইমুখ ও লুশাই হাটই প্রধান বাণিজ্য স্থান । সে যাহা হউক, কুকিদের অত্যাচার হইতে প্রজা রক্ষার্থে শ্রীহট্টের দক্ষিণ অংশে লঙ্গাই, আদমপুর ও আলী নগর নামে তিনটি গারদ ছিল, গারদগুলিতে এক একজন হাবিলদার ও কয়েকটি সিপাহী থাকিত, কুকিরা দমিত হওয়ায় অনাবশ্যক বোধে এই গারদণগ্ডলি উঠাইয়া লওয়া হইয়াছে। কুকি সর্দারগণও এখন অনেকেই শান্তভাবে অবল্বর্ন করিয়াছে । ব্রিপুরেশ্বরের যত তাহারা অধীন সামন্ত সর্দারগণ মধ্যে সভ্যতালোক ঈষৎ প্রবেশোন্ুখ হইয়াছে, পূর্বোক্ত মুরছুইলালের পুত্র বাণখাম্পুইরাজা বেশ বাঙ্গালা কবিতা লিখিতে পারেন। হামিদবখ্ত্‌ মজুমদার লুশাই যুদ্ধের প্রসঙ্গে হামিদবখৃত্‌ মজুমদারের নাম অবশ্য উল্লেখযোগ্য ৷ লুশাই সমরে ও তৎপু্বববস্তী সিপাহী বিদ্রোহের সময় হামিদবখৃত্‌ মজুমদার সাহেব রাজভক্তির বিশেষ পরিচয় দেন, নানারূপে গবর্ণমেন্টের সহায়তা করেন। যখন বিদ্রোহী সিপাহীদের আগমনের সংবাদে সহরের ইংরেজগণ ও অধিবাসী সমূহ ভয়ত্রস্ত হইয়াছিল, তখন শ্রীহট্টের শেষ কানুনগো হামিদবখূৃত্‌ সাহেবের পুত্র হাজি সৈয়দবখূত্‌ বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হইয়া ছিলেন। তথাপি তিনি স্বীয় জ্যোষ্ঠ পুত্র হামিদবখৃত্‌ মজুমদারের সহিত, পৈত্রিক ছয়টি কামান লইয়া সহর রক্ষায় প্রস্তুত হন। কিন্তু সংশয়ের বশবর্তী হইয়া গবর্ণমেন্ট সেই কামান ছয়টি কাড়িয়া লন। শেষে কামানগুলি ফিরাইয়া দিতে প্রস্তুত হইলেও বৃদ্ধ হাজি সাহেব তাহা পুর্গ্রহণ করেন নাই । কামানগুলি অদ্যাপি শ্রীহস্টরের কালেক্টরীতে রক্ষিত আছে। সৈয়দবখ্ত্‌ মজুমদার অনেক দিন মক্কায় ছিলেন, এবং তিন বৎসরের জন্য মক্কায় সেরিফ কৌল্সিলের সদস্য নিযুক্ত হইয়াছিলেন, তুরক্কের সুলতান ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দে তাহাকে “্টার অব মেজিদি” উপাধি ও সম্মান সূচক সনন্দ দিয়াছিলেন। দিল্লীর ভাগ্যচ্যুত সমত্রাট-তনয় ফিরোজ শাহ ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে শাহজালালের কবর দর্শনে আগমন করিলে, একমাত্র মজুমদার সাহেবেরই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করিয়াছিলেন। হামিদবখ্ত্‌ মজুমদার লুশাই সমরে বিশেষরূপে সাহায্য করিলে; পুরস্কার স্বরূপ গবর্ণমেন্ট ইহাকে আদালতে উপস্থিত না হইবার ক্ষমতা প্রদান করেন। হামিদবখ্ত্‌ সাহেব অনেক দিন ডিপুটী কালেক্টর ও ডিপুটী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিযুক্ত ছিলেন। পৃবের্ব “এলাম মুমাদি” মহালে উল্লেখ করিয়াছি, গবর্ণমেন্টের ১৮৭১ খৃষ্টানদের ৩৭১ নং পত্রের মর্খানুসারে পাচ বৎসরের অগ্রিম খাজানা গ্রহণ পূর্বক ১২ টাকা রাজস্ব “এলাম মুমাদি” নামে নয়টি মহাল তৎকর্তৃক চিরস্থায়ীরূপে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।১২ এলাম ভূমি এলাম শব্দের অর্থ পৃবের্ব বলা হইয়াছে; সাধারণতঃ লোকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অতিরিক্ত মহালকে এলাম বলিয়া থাকে । ১২৮৭-৩৪ খৃষ্টাব্দে সব্ব্ব প্রথম লেপ্টেনান্ট পিশার সাহেব এলাম ১২. বংশবৃত্তান্ত ভাগে এই বংশের অপরাপর কথা সন্নিবেশিত হইবে। ৪২৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড জরিপ করেন। তাহার পরে অনেক নৃতন ভূমি আবাদ হয়, অনেক ভূমি ভরট হইয়া বাহির হয়, এবং লুশাই সমের উপলক্ষে পার্বত্য ত্রিপুরার সীমা নির্দেশ হওয়ায়ও কতক ভূমি প্রাপ্ত হওয়া যায়। এই ভূমির পরিমাণ অল্প নহে, ১৮৭১-১৮৮০ খুষ্টাব্দের মধ্যে এই ভূমি হামিদবখ্ত্‌ মজুমদার কর্তৃক জরিপ হইয়া ১৪৪১৮৫ একর নির্দিষ্ট হয়, ইহার মধ্যে ২১৮০২ একর আবাদ ছিল। ১৮৩৬ খৃষ্টাব্দে মিল্টন সাহেবের সময় দশ বৎসরের ম্যাদে একবার এলাম ভূমি বন্দোবস্ত হইলেও, এই সময়েই সদরলেণ্ড সাহেবের অভিপ্রায় মতে বন্দোবস্ত দেওয়ার পক্ষে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়।১৩ সদরলেণ্ড সাহেবের যত্তে শ্রীহট্রের আর একটি হিতকর কার্য্য হয়; ১৮৭২ খৃষ্টাব্দে ইহার সময়েই জিলার রাস্তাঘাট প্রস্তুতাদির জন্য এক কোমিটা স্থাপিত হয়, এ ধ'মিটির সভাপতি স্বয়ং সাহেবেই নিযুক্ত হন; ইহাই ডিন্টিক্ট বোর্ড । সদরলেও সাহেব শ্রীহট্টের শেষ কালেক্টর, ইহার সময়েই শ্রীহট্টকে আসাম ভুক্ত করা হয়; সুতরাং কালেক্টর নামের পরিবর্তে ডিপুটী কমিশনার এই নাম হইয়াছিল। শ্রীহট্ট আসামে প্রাচীন কালাবধি শ্রীহট্ট বঙ্গের অঙ্গরূপে ঢাকা বিভাগের কমিশনারের শাসনাধীন ছিল; ১৮৭৪ খৃষ্টাব্দে আসাম প্রদেশে পৃথক চিফকমিশনার নিয়োগ করার বিষয় স্থির হইলে দেখা গেল যে, আসামের আয় নিতান্ত অল্প, প্রযুক্ত চিফকমিশনারির ব্যয় সংকুলান হইবে না, এই জন্য আয় বহুল শ্রীহট্ট জিলাকেও আসাম প্রদেশ ভূক্ত করা হয়। এ সময় লর্ড নর্ঘবক ভারতের গবর্ণর জেনারেল; তিনি শ্রীহন্টে আগমন করিয়া ছিলেন। শ্রীহট্টবাসী আইন বর্জিত আসামের অধীনে যাইতে নিতান্তই অনিচ্ছুক ছিল, তাহারা আপনাদের অসুবিধা ও দুঃখ কাহিনী বর্ণনা করিয়া লর্ড বাহাদুরের নিকট এক আবেদন করিয়াছিল, লর্ড নর্থব্রক যদিও তাহাদের সঙ্গত প্রার্থনায় কর্ণ- পাত করেন নাই, তথাপি তিনি প্রতিশ্রুত হন যে, শ্রীহস্টরের বিধিব্যবস্থা পূৃবর্ববৎ অব্যাহত ১৩. "[) 1871, 51015 ৮০19 18001) (0 ০1601 & 5০11107101]1 1) 2 11016 16601002110 05021150 71101111017, 2110 0611116 10105 ৬/০1০ 1810 00৬/) 11) 1870." -4১550]1) [01501610920016015 ৬০]. 1]. (5911101) 01700. ৬]]. 7. 226. এলাম ভূমির প্রকার, পান্টার সংখ্যা ও রাজস্ব পরিমাণ নিম্নে দেওয়া গেলঃ- নাম সংখ্যা রাজস্ব ১. এলাম-২০ বংসর ম্যাদে হামিদবখূত্‌ সাহেব কর্তৃক বন্দোবস্ত দেওয়া ভূমি । ৩১৯৩ ৩৮৪০৮ ২. নানকার পাটওয়ারি_-পাট ওয়ারিদের বেতনের পরিবর্তে যে ভূমি দেওয়া হয় এবং উক্ত পদ উঠিয়া গেলে ১৮৩৩ অন্দে বাজেয়াফ্ত হইয়া ম্যাদি বন্দোবস্ত হয়। ১২৭৮ ৪৩০৭ ৩. চরভরট-নদীর পলি দ্বারা সে ভূমি ভরট হইয়াছিল, তাহা । ৫৯০ ১৯৬৫ ৪. বিল ভরট-বিল ভরিয়া যাওয়াতে যে ভূমি বাহির হইয়াছে। ৩৪ ৮২ ৫. খাস ম্যাদি-খাজানা বাকিতে গবর্ণমেন্ট যে সকল মহাল ক্রয় করতঃ ম্যদি বন্দোবস্ত দিয়াছেন। ১৭৩ ১৬৫২ ৬. জয়ন্তীয়া বায়তওয়ারি-জয়ন্তীয়ার প্রজাদের সহ যাহা বন্দোবস্ত হইয়াছে। ২১০১৩ ৬৪৬৪৭ ৭. ওয়েষ্টসেণ্ড (পতিত ভূমি)-বেঙ্গল গবর্ণমেন্টের ১৮৮৬৬ খৃষ্টাব্দে চিঠির মর্শ মতে ৩০ বৎসর ম্যাদে যে ভূমি চাকরদের সহ বন্দোবস্ত হয়। ৭ ২০০২৫ পরে ওয়েষ্ট লেপ্ডের সংখ্যা ও ম্যাদ অনেক পরিমাণে বর্ধিত হইয়াছে, জয়ন্তীয়ার ভূমি ও রাজস্ব পরিমাণও হইয়াছে। এলাম ভূমির রাজন্বে নিরিখ স্থায়ী নহে। তৃতীয় অধ্যায় : বিবিধ শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৪২৭ থাকিবে । রাজস্ব সংগ্রহ ও ভূমি বন্দোবস্তে বাঙ্গালার সর্বত্র যে নীতি প্রচলিত, শ্রীহট্টরে আসামের শাসন প্রণালী অনুসৃত হইবে না ।১৪ শ্রীহষ্ট আসাম ভুক্ত হওয়ার পর কালেক্টর ও ম্যাজিষ্ট্রেট পদের স্থলে ডিপুটী কমিশনারের পদ সৃষ্ট হয়।১৫ ১৮৭৪ খৃষ্টানদের অক্টোবর মাসে ক্রে (&., 01) সাহেব প্রথম ডিপুটী কমিশনার রূপে আগমন করেন। তৎপরে ১৮৭৭ খৃষ্টাব্দে এক মাসের জন্য মেনসন (4. 10115017) সাহেব এবং তাহার পরে খ্যাতনামা লটমান্‌ জনসন (17011 10100101) 1017113011) সাহেব শ্রীহট্টে আগমন করেন । ইনি ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত অবস্থিতি করেন। চারি সবডিভিশন ও মিউনিসিপালিটি শ্রীহট্টের পরিমাণ ফল প্রায় সার্ঘ পঞ্চ সহম্ত্র বর্গ মাইল, এতবড় একটা জিলার অধিবাসীবর্গকে এক স্থানে বসিয়া শীসন করা অসুবিধাজনক বলিয়া, ১৮৬০ খৃষ্টাব্দে মহকুমা বিভাগের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, কিন্তু তখন এতৎ সম্বন্ধে কিছুই স্থির হয় নাই; পরে ১৮৬৭ খৃষ্টাব্দে করিমগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ও সুনামগঞ্জ সবডিভিশন পৃথক হইবে বলিয়া গেজেটে প্রকাশ হয়, তদনুসারে ১৮৭৭ খৃষ্টাব্দে জানুয়ারী মাসে সর্ব্ব প্রথমে সুনামগঞ্জ সবডিভিশন খোলা হয় ও একজন ইউরোপীয় সবডিভিশনেল অফিসারের উপর সমস্ত ভার অর্পিত হয়। উক্ত কর্মচারীর বাসের জন্য বাংলা ও কাছারী গৃহ প্রস্তুতের ব্যয় তখন প্রথমতঃ ২০০০ টাকা ধার্য্য হইয়াছিল। ইহার পর-বর্ষেই করিমগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সবডিভিশন স্থাপিত হয়। ১৪. পর সেক্রেটারী “শ্রীহ্টবাসী বর্গের আবেদনের প্রত্যুত্তরে শ্রীহট্রের কালেক্টর সাহেবকে এ নি0োংণ" ৬া]1/৬, 110 501) 9০010101001 1274. "911, 1.17115 15806511610 0116 009৬6]া)0 09186101 11) 008111011 ৫110015 1796 10 201010/16089 110100001) (1) 0০9%০1)1)01 01 00101 1০001091 91 0115 [061011581 510100 09/ 0010011) 11110001101) 01010 101501101 ০0 99110. 02011510100 0015061 01 01101 01511100109 /১55901). 1100 17001101101 100611051১9 থো) 811015101) 19111013111 ৮/1101) 1095 511100 [095500 17110 18, [01 1110 01211516101 061121) [0৮/619 (1011) 0119 3017801 090৬0111170111 00 01০ 00017118611 01 [11019 0110 110 11110055101) 01 0110 17010118111 ৭০০11) 00 ০৬ 11001 0115 10 ৬/ 60601 50110 17790061121 010100 11) 016 3551617) 00061 ৬/10101) 01069 119001)60111)111)610 001111)510160 2. [12 16101% ] থা 10 6১001901001 0172 11001700110) 01 70617011218505 11981101015 15৬ 1103 0101) 01৬01) 10171101 ০017100131101) 0 2 ৫9615101) ৬/11101) 1105 10961) [095564 01101 10176 2110 201611 0011510017011011. |] ৬০5 [0০01)0110 0/ 1) 1000 [.1011110: 00৮০1া)01 ৩11 060122 08101)0611 2110 11 1095 0981) 50110110180 0) 1116 56০7১191% 01 51016 8001 ৫00০ 72%014 (0 911 1106 00115100190101)5 $6% (0111) 81) (116 11121701121 11001 001010/06001700121. 00100111961 0100 0115061 01 0110 01501101101 016 70955176 01 2) 001 (0117911) ৬/111)- 079৬5 11১6 0151101 [িটো॥ 00111501011011 01 00118117) 20001101110165 1) 73011801 ৬/11] 77000 2119 5110510101101 01801106 11) 006 70006 01 92011110151011110 5911101. 11616 ৬111 027100171) 06 710 6/107106 /11815৬€1 11 079 55161) 0119/ 00101001091 [0100000119 01110017 %/17101) 1101191010211515 01 99111211159 10101161109 11৬০৫, 1101 11) 0)৩ [01117010155 ৬/1101) 80019 1010100817০ 30171868110 01৩ 36111013017 2170 00110010101) 01 10110 1০071৫. 3. 1715 185061)01709 016 00৬617)01 9018910] 10) 007010011 1991915 01701761019 01801160001 1001 20606৫ 10 06 01261 01 171017011811515, 9110 ] আরা) 001601755111)01 1815 11017001010 1100101; 00৬611)01 [79 0০ [0198560 10 ০0058 11015 16019 10 ০০ ০011))01109060 10 1190. টিটি রাত সত রনি । ৪২৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড এই বর্ষে সব্ব্ব প্রথম শ্রীহট্ট সহরে মিউনিসিপালিটি স্থাপন করা হয়, পরবর্তী কালে ইহার প্রসার বর্ধিত হইয়াছিল। মিউনিসিপালিটির নির্ধারণ অনুসারে শ্রীহষ্ট সহরের উত্তর সীমা আহ্বরখানার শড়ক, পুবের্ব গোয়ালি ছড়া, দক্ষিণে সুরমা নদী, পশ্চিমে সাগর দীঘীর পার ও উজানলেন। শ্রীহট্ট সহর কলিকাতা হইতে ৩৩২ মাইল এবং শিলং হইতে ৭২ মাইল দূরবর্তী লোক সংখ্যা ১৩৮৯৩ জন। তিনটি সবডিভিশন পৃথক হইয়া গেলে দেখা গেল যে, সদর ডিভিশনের আয়তন অনেক বড় রহিয়াছে, বিশেষঃ কাজ কর্ম সদরে অত্যন্ত অধিক, এই জন্য ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে দক্ষিণ শ্রীহট্র বা মৌলবীবাজার নামে পঞ্চম সবডিভিশন পৃথক করা হইল। ১৮৮০ খৃষ্টাব্দে জনসন সাহেবের সময় হইতে শ্রীহস্্রে স্থানীয়-কর বসিয়াছে। ইহারই যত্নে শ্রীহষ্টে ভলন্টিয়ার সৈন্য নির্দিষ্ট হয়; তৎকালে (১৮৮০ খৃষ্টাব্দ) ইহাদের সংখ্যা ৪২ জন মাত্র ছিল।১৬ প্রতাপগড় তহশীল জয়ন্তীয়া ব্যতীত শ্রীহট্টরের মধ্যে প্রতাপগড় পরগণাতেই এলাম ভূমির পরিমাণ অধিক; এই জন্য প্রতাপগড়ে পৃথক তহশীল অফিস স্থাপনের প্রস্তাব ১৮৭৮ খৃষ্টাব্দে উপস্থিত হয়। প্রতাপগড়ের এলাম ভূমের রাজস্ব ৩৬০০ টাকা হইতে হঠাৎ ১১৮০০ টাকা পর্য্যন্ত বর্ধিত হওয়ায় এ প্রস্তাব জনসন সাহেবের সময় কার্যে পরিণত হইয়াছিল। ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে প্রতাপগড়ে নৃতন বন্দোবস্ত হয়, ১৮৯৪ খৃষ্টাব্দে তহশীল অফিস উঠিয়া যায়।১৭ মৈননার চৌধুরীদের কেহ কেহ স্বেচ্ছাতঃ চিরস্থায়ী মহাল এস্তেফা দিলে সেই ভূমি গবর্ণমেন্টের খাস গণ্য হয়, তখন সেই ভূমিই এস্তেফাকারী চৌধুরীগণ গবর্ণমেন্ট হইতে ম্যাদি বন্দোবস্ত আনেন; ইহাতে প্রতাপগড়ে “রসদ ববান” নামে১৮ এক শ্রেণীর লোকের উৎপত্তি হয়; চৌধুরীদের আত্মবিরোধ মূলেই ইহার উত্তব। তদ্্যতীত দশসনা বন্দোবস্ত কালে প্রতাপগড়ে জঙ্গলা ভূমির আধিক্য বশতঃ তত্রত্য তালুক সমূহের সীমা নির্দেশে অসুবিধা ঘটায়, চিরস্থায়ী ৮০টি তালুকের ভূমি অচিহিন্ত ভাবে কয়েকটি মৌজায় থাকায়, তথায় ৮০ ববান নামক আর একরূপ তালুকের উৎপত্তি হইয়াছে। প্রতাপগড়ের অন্তর্গত দু-আলিয়া পাহাড়ে উক্ত রসদ ববান ও ৮০ ববানের ভূমি পড়িয়াছে।১৯ এইরূপ মহাল এক প্রতাপগড় ব্যতীত অন্য কোনও স্থানে নাই। রসদ ববানের উৎপত্তি মিরাসদারদের ক্ষতিজনক হইলেও গবর্ণমেন্টের তহশীল আফিসের পক্ষে লাভকর হইয়াছে । পূর্বোক্ত দশসনা এস্তেফাকারী চৌধুরীগণ পরে এলাম ভূমির বন্দোবস্ত২০ ছাড়িয়া দিলেই প্রতাপগড়ের খাস ভূমির খাজনা স্বয়ং গবর্ণমেন্ট গ্রহণ প্রবৃত্ত হন, ১৬. বিগত ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে ইহাদের সংখ্যা ৩৩৪ জনে পরিণত হয়, তন্মধ্যে শ্রীহষ্টরে বাস করেন ১৭৮ জন। ১৭. প্রতাপগড় পরগণার জঙ্গল ভূমি দ্রুতবেগে আবাদ হইতে থাকায় এবং দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী আবাদকারকদের করিমগঞ্জে গিয়া খাজনা দেওয়া অসুবিধাজনক বিবেচিত হওয়ায় সম্প্রতি (১৯০৯ খৃষ্টাব্দ) প্রতাপগড়ে পুনঃ তহশীল আফিস স্থাপিত হইয়াছে ও তথায় একজন স্থায়ী সবডিপুটী কালেক্টর নিযুক্ত হইয়াছেন। ১৮৮, 1]. 005511)5 1২019$ 0) 9899) 111811215, ৫9060 2508 00716 1890. 19. "0070701 17151551 8090165 10 015 11881)8 107) 07৩ 800 018 061211) 0191075, 100৬7) 23 0802 210 18580 08001), 216 [901 07৮/214 0116 0৮/7615 01 90178 01 016 [01772161801 5500150 2518169 00 285617861)19 |) 006 100119112 1)1119. ৫০. -/59871 10150100 09826116615 ৬০1. 1]. (51160. 01990 ৬1]. [৮ 229. ২০. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগে এ সকল বৃত্তান্ত বিস্তারিত রূপে বর্ণিত হইবে। তৃতীয় অধ্যায় : বিবিধ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত ৪২৯ তখনই প্রতাপগড় তহশীল স্থাপনের প্রস্তাব হইয়া, পরে তাহা কার্য্যে পরিণত হয়। শ্রীহট্ট আসাম ভুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় কর ও আসাম-ভূমি রাজস্ব বিষয়ক বিধি (১৮৮৬ সনের ১ আইন) শ্রীহন্টে প্রচলিত হয়। ইহাতে বলিতে গেলে লর্ড নর্থকুকের পুরর্ধ প্রতিজ্ঞার ব্যভিচার ঘটিয়াছে। শ্রীহত্টের স্থানীয় কর ও ভুরাজন্ব নামতঃ পৃথক হইলেও কার্য্যতঃ একরূপ। স্থানীয় কর বাকি পড়িলেও, ভূরাজস্ব বাকি পড়ার ন্যায়, তালুক নিলাম হইয়া আদায় করা যায়। ইহাতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মূলে প্রকৃত পক্ষে আঘাত করা হইয়াছে শ্রীহস্ট আসাম ভুক্ত হওয়ার কালে শ্রীহন্বাসী যে ভয় করিয়াছিল, তাহাই সত্য পরিণত হইতে আর্ত হয়। একত্রিংশৎ বর্ষ কাল আসামের অধীনে থাকিয়া,_-পূর্র্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ সৃষ্ট হওয়ায়, আবার শ্রীহট্ট বঙ্গের সহিত একত্র হইয়াছে, পূর্বের ন্যায় আবার ঢাকা বোর্ডের অধীন হইয়াছে; ্রীহট্টবাসী গবর্ণমেন্টের নিকট অনেক আশাই করেন। মহালের অধিকারী শ্রীহস্ট্রে বৃহৎ জমিদারের সংখ্যা অধিক না থাকিলেও, শস্য শ্যামল “লক্ষীর হাট” শ্রীহট্রের প্রজাগণ অন্যান্য জিলার অধিবাসী অপেক্ষা কোন অংশেই হীনদশাপন্ন নহে। শ্রীহট্টের অর্থ একত্রে দুই একত্থানে মাত্র ভাণ্তার-বদ্ধ হয় নাই, বিভাগিত রূপে প্রত্যেকের ঘরেই গিয়াছে; এই জন্য শ্রীহস্টে প্রায় সকলেই কিছু না কিছু ভূসম্পত্তির অধিকারী । ইহাদের সংখ্যা ক্রমশঃই বর্ধিত হইতেছে। দশসনা বান্দোবস্তের অব্যবহিত পরে (১৭৯৫ খৃষ্টাব্দে) মহালের সংখ্যা ২৬৩৯৩ টি এবঃ অধিকারী সংখ্যা ২৯৩১৭ জন ছিল। ১৮৬৫ খৃষ্টাব্দে মহালগুলির সংখ্যা ৫২৭৮৬ এবং অধিকারী সংখ্যা প্রায় পঞ্চ লক্ষ হয়। ১৮৭১ খৃষ্টাব্দে মহালের সংখ্যা ৭৮১৫৫টিতে পরিণত হইয়াছিল এবং অধিকারী সংখ্যা ৫৪৮৬১২ জন হয়। তাহার পর হইতে বর্তমান সময় পর্য্যস্ত এই সংখ্যা আরও অনেক বর্ধিত হইয়া থাকিবে । এইরূপ সকলেই কিছু কিছু ভূসম্পত্তির মালীক হওয়ায় তাহাদিগকে মোটা ভাত মোটা কাপড়ের জন্য বিশেষ চিন্তিত হয় না বটে, কিন্তু তাহাতেই শ্রীহস্্রের ধনীর সংখ্যা নিতান্ত অল্প হইয়া দীড়াইয়াছে। বিগত ভূকম্পের পর হইতে শ্রীহট্টবাসী জনগণের অবস্থা পূর্র্বাপেক্ষা অনেক মন্দ হইয়া পড়িয়াছে; ভূমির অবস্থা পরিবর্তন ও রোগের আধিক্যই ইহার প্রধান কারণ বলিয়া বোধ হয়। ভূকম্প ইতিপৃবের্ব কয়েক বাবের বন্যার কথা উল্লেখ করা গিয়াছে। ইদানিং ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীহট্ট জিলায় খুব জল হয়; কিন্তু উক্ত সনের ভূকম্পই বিশেষ উন্লেখযোগ্য । ইহার ২৮ বৎসর পূবের্ব ১৮৬৯ খৃষ্টাব্দে একবার ভয়ানক ভূকম্প হইয়া শ্রীহট্রের অনেক ক্ষতি করিয়াছিল। সেই ভূকম্পের বেগ ব্রন্ষদেশ হইতে পাটনা পর্য্যন্ত হইয়াছিল। এই সময় শ্রীহট্ সহরের গিজ্জার চূড়া ভগ্ন হইয়া গিয়াছিল, কাছারী গৃহের দেওয়াল ও সারকিট বাংলা প্রভৃতি ফাটিয়া চৌচির হইয়াছিল এবং জিলার পূর্ব্ব প্রান্তে নদীতীর অনেকটা বসিয়া গিয়াছিল। এই ভূকম্পের কাছাড়ের কোন কোন স্থুলের ভূমি প্রায় ৪০ ফিট নিম্নগামী হইয়া পড়ে! কিন্তু এ ভূকম্পও বিগত ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দের ভূকম্পের তুলনায় কিছুই নহে। ১২ই জুন কিছুক্ষণেই প্রভাত হইয়াছিল, এই তারিখের ভীষণ ভূকম্পে শ্রীহট্রের যে ক্ষতি সংসাধিত ৪৩০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড হইয়াছে, তাহা কখনও যে পূর্ণ হইবে, তার আশা নাই। এই ভীষণতম ভূকম্প বঙ্গদেশের একটি স্মৃতি-পীড়ক ঘটনা । রংপুর ও শ্রীহন্টেই ইহার তীব্রতা অধিক অনুভূত হয়। ১৭৫০০০০ বর্গমাইল ভূমি ব্যাপিয়া__হিমালয় হইতে মসলিপটম পর্য্যন্ত স্থান এককালে কম্পিত হইয়া উঠে। শরীহন্টে বৈকালে ৪টা ৫০ মিনিটের সময় কম্পন শুরু হয়, চালনির উপরে পরিচালিত তরলের যেরূপ অবস্থা ঘটে, শ্রীহট্টৰাসী সকলের অবস্থা তৎকালে অনেকটা সেইরূপ দীড়িয়েছিল। সকলেই সন্ত্রস্ত, স্তপ্িত ও হতবুদ্ধি হইয়া পড়িয়াছিল। মুহূর্ত মধ্যে সমস্ত সহর ধ্বংশরাশিতে পরিপূর্ণ হইয়াছিল। আসামের চিফ কমিশনার সদাশয় কটন বাহাদুর এই সংবাদ প্রাপ্তে বড় লাটের নিকট এই মর্মে টেলিগ্রাফ করেন যে, সমগ্র শ্রীহট্ট সহর ধুলিসাৎ হইয়া গিয়াছে । আসাম গেজেটে শ্রীহট্রের অবস্থা জ্ঞাপক এইরূপ মন্তব্য প্রকাশিত হয় যে, শ্রীহট্ট জিলায় অধিকাং পতিত ও অনেক স্থল বসিয়া গিয়াছে ।২১ এইরূপ ক্ষতি জিলার উত্তরাংশেই অধিক হইয়াছিল।২২ এই ভূকম্প জিলার সর্বত্র ভূমি চৌচির করিয়া, ভূগর্ত হইতে কৃষ্তবর্ণ বালুকা ও জলস্রোতঃ ও অঙ্গার বহির্গত করিয়া দিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই, অনেক স্থলে বহু লোকের প্রাণ সংহার করিয়া হাহাকারের রোল উথ্থিত করিয়া দিয়াছিল; গবর্ণমেন্টের রিপোর্ট পাঠে জানা যায় যে এই ভূকম্পে শ্রীহট্ট জিলায় ৫৪৫ জন লোকের প্রাণ বিনষ্ট হইয়াছিল ।২৩ শ্রীহষ্ট একটা প্রাচীন এঁতিহাসিক শহর; কিন্তু ভুকম্পে ইহার অনেক প্রাচীন কীর্তি এককালে লোপ করিয়াছে! ইহার সৌন্র্য্য সম্পদ একবারে বিনষ্ট করিয়াছে! কি সরকারী, কি অধিবাসীবর্গের নির্শিত, ভূকম্পের পর কয়েকটি অক্টালিকাও দণ্ডায়মান ছিল না; এমন কি কোনও কোনও কুড়ে ঘর পর্য্যন্ত ভূমিসাৎ হইয়াছিল । শ্রীহস্ট্ের এ ক্ষতি পূরণ হওয়া সময় সাপেক্ষ । ভূকম্পের পর সহরের বর্তমান অন্ট্রালিকাদি নির্মাণ করা হইয়াছে; তন্মধ্যে ডিপটী কমিশনারের আফিসই উল্লেখযোগ্য ৷ এই দালান ৩৫০০০ বর্গফিট ভূমির উপর দণ্ডায়মান; ইহার প্রস্তুত ব্যয় ১৬৬০০০ টাকা । তদ্যতীত ১৪৬০০০ টাকা ব্যয়ে ৭.২ একর ব্যাপী শ্রীহট্ট জেইল মেরামত করা হয়। ২১, ৮9911)6115 92: 4151101 17101115 [9৩762150৬10 1161 ০0171001109811017 010 40101 01101717615, 0110 1015 0 1500] 00510) [0 0011507101 11101595 0101 00৩ 01005 01 11015 01 01001990501) 11181 00117)8 0100 1011)9 06 0119 10174 11) 019৩ 00011009 15 (0001 11) 91101) 2 00510101) * ক ৮1776 0109 001718)) 10070 15 0001) 101 11010 1110 (৮40 170110100 9০215 01090, 70 090 566501 011106 201711) 00206 1095 0661) 11191 17) 17821) [19095 076 12010 1705 0০০17 00018115110 1109 02171. ৫০০." -/১55001) 02720016-16075 1897. ২২, "শা 15 ০০115 01010115015, 650001911১1 0106 10101, 00৬০0 110 70109 [৩0171 ৬4616 070৬/60.” -/55$20) 101501101 0222006215 ৬০. 11. 7. 14. ৩, মৃত্যু সংখ্যাঃ সহর-৫৫ দক্ষিণ শ্রীহট্র-৮, উত্তর শ্রীহট্ট-১৭৮, হবিগঞ্জ-৭, করিমগঞ্জ-১০, সুনামগঞ্জ-২৮৭ জন। চতুর্থ অধ্যায় ইংলিস কোম্পানী ইংলিস কোম্পানী প্রতিষ্ঠা শতাব্দীর অধিক কাল যাবৎ যাহাদের কার্য্য কলাপে শ্রীহন্টরের এক অংশের জন সাধারণের বিশেষ সম্বন্ধ ছিল, কোন কোন রাজনৈতিক বিষয়েও যাহারা সংলিপ্ত ছিলেন, শ্রীহট্টে বাণিজ্য সমৃদ্ধিতে যাহারা অদ্ধিতীয় প্রভাব বিশিষ্ট ছিলেন, তাহাদের বিবরণ না থাকিলে শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্তের অঙ্হানি হইত, সন্দেহ নাই। শ্ীহট্টের চুণা অতি প্রসিদ্ধ, এইরূপ উৎকৃষ্ট চুণা বঙ্গদেশের কুত্রাপি মিলে না। বাঙ্গালার নবাব মীরজাফর ও মীর কাশেমের সহিত ইংরেজের যে সন্ধি হয়, তাহাতেও প্রচুর লাভকণ শ্রীহষ্টের চণার উল্লেখ থাকা অতি আবশ্যক বিবেচিত হয়।১ নবাবের কর্মচারী চুণার দারোগ। বলিয়া অভিহিত হইতেন। তৎপর শ্রীহট্টে ইংরেজাধিকার পূর্ণরূপে ব্যাপ্ত হইলে, বৃটিশ রাজপুরুষ লিওস সাহেব এই চূণার কারবারে প্রভৃত ধন উপার্জনিপূরর্বক লর্ড শ্রেণীতে উন্নীত হইয়াছিলেন। লিগুসে সাহেবের পরেই ইধলিস কোম্পানীর অভ্যুদয় হয়।২ ইংলিস কোম্পানী ছাতকেই চূণার প্রধান আড্ডা করেন। ইংলিস কোম্পানীর অভ্যদয়ের পৃবের্ব ছাতক একটি সামান্য গ্রাম ছিল। তৎপুবের্ব একজন সন্যাসী একটা ছত্রক (ছোতি) ভূমিতে প্রোথিত করিয়া তাহার তলে অবস্থিতি করিতেন । ক্রমে এঁ স্থানে একটা ক্ষুদ্র হাট বসে এবং তাহাই কালক্রমে ছত্রক বা ছাতক বাজার আখ্যা হইয়াছে। ১৭৮৯ খৃষ্টাব্দে লিগুসে সাহেব শ্রীহট্র ত্যাগ করেন, তাহার চারি বৎসর পরে ১৭৯৪ খৃষ্টাব্দে রেইট ও জর্জ ইংলিস নামক দুইজন ইংরেজ মিলিত হইয়া “রেইট ইংলিস এণ্ড কোম্পানী” নামে যৌথ কারবার স্থাপন করিয়া চুণার ব্যবসায় আরন্ত করেন। ১৮১৯ খৃষ্টাব্দে রেইট সাহেবের মৃত্যু হওয়ায় তদীয় স্ত্রী মিসেস ইরেইট অধিকারিণী হইয়া জর্জ ইংলিস সাহেবের নিকট নিজ অংশ বিক্রয় করেন। তদবধি এই কারবার “ইংলিস কোম্পানী” নামে খ্যাত হয়। জর্জ ইংলিস পূর্ণ উদ্যমে চুণার কারবার চালাইয়া ছিলেন, তিনি চূণা ব্যবসায়ীগণ হইতে সমস্ত চৃণা ক্রয় করিয়া লইতেন ও তাহা কলিকাতায় চালান দিতেন। জর্জ ইংলিস সাহেব শ্রী জিলায় ৫৬ বৎসর বাস করিয়া ৭৬ বৎসর বয়সে ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে পরলোক গমন করেন। ১. শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ২য় খণ্ড ৩য় অধ্যায় দেখ। -৬1০ /৯1101105017511621)5, 12105501761) 2110 5011005 ৬01. 1. [১. 48-35. 2. ৮৬110704599, (01181710119) & এতো 0) 006 50151060106 5091 [11019 ০010100179, 691801191190 & 090101% 01 5১11761, 0110 00178017090 010 11710 01209 ৬/10) 0:91001012, 1681)1116 01101710813 [01100116 01111115611 0110 1451176 0172 (09011090101 01 01101 01091751115 211701151 10106 706010016 41910181105 0601) [18011 90%017064 0১ 1176 ৩০1101) 01 0119 [10115 া19, 0110 105 5062011) 10108765560 01001 0106 [01015011716 10016 01 0170 [71105 (59৬61111721) -১11 1056]0) 1), 00016615 11110912501) 0০00110]. ৪৩২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড ছাতকের একটি টিলার উপর তাহার সমাধি স্তন্ত নির্মিত হইয়াছে; পঞ্চ সোপানে চত্বরে উঠিতে হয়, গ্রেনাইট প্রস্তরে অঙ্কিত জীবনী-লিপি সহ এই অততযুচ্চ মন্দির প্রায় দেড় প্রহর দূরবর্তী স্থান হইতে দৃষ্ট হয়। এই সুদৃঢ় সমাধি স্ত্তের চূড়া বিগত ভূকম্পে ভগ্ন করিয়া ফেলিয়াছে। জর্জ ইংলিস, হারি ইংলিস ও জন ইংলিস নামে দুই পুত্র রাখিয়া পরলোক গমন করেন। জন ইংলিস উদাসীন প্রকৃতির লোক ছিলেন শ্রীহস্টে গির্জা-গৃহ যে স্থানে অবস্থিত, এ বিস্তৃত স্থান ইনিই ধর্মোদ্দেশে দান করিয়াছিলেন । পিতার মৃত্যুর অল্প পরেই তিনি নিজ অংশ জ্যেষ্ঠের নিকট বিক্রয় করিয়া যথেচ্ছ চলিয়া যান। হারি সাহেব ইংলিস কোম্পানীর একমাত্র অধিকারী হইয়া বিশেষ যত্বের সহিত কারবার চালাইতে থাকেন। খাসিয়া পর্বতে বৃটিশ কর্মচারী লিন্ডসে সাহেবের সময় একবার খাসিয়ারা উৎপাত করে । তাহার কিছু পরে শ্রীহট্রের রেসিডেন্ট জন উইলিসের সময় কাণ্ডেন টমাস ওয়েলস্‌ (08027 গা. ড/6191) ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দে খাসিয়া পবর্বতে প্রহরী স্বরূপ নিযুক্ত হইয়াছিলেন। ইহার পর ডেভিট্‌ স্কট এজেন্ট রূপে তথায় প্রেরিত হন; ১৮২৬-৩১ খৃষ্টাব্দ তিনি খাসিয়া পর্বতে ছিলেন। ইহার সময়ে খাসিয়া পাহড়ে প্রকৃত বৃটিশ প্রভূত প্রবল হইতে আরম হয়। তাহার পরে, অল্পকাল রবার্টসন ও কর্ণেল জেঙ্কিস (1. না, 0. ২০০৪501। 870. 001. 0011019) সাহেবের উপর খাসিয়া পর্বতের ভার থাকে। তৎপর প্রসিদ্ধ কর্ণেল লিষ্টার (0০1. 7. 0. 17510) ১৮৩৫-৫৪ শৃষ্টাব্দ খাসিয়া পাহাড়ে ইংরেজ গবর্ণমেন্টের পক্ষে অবস্থিতি করেন । ইনিই “91179117910 17970” সৈন্য দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং চেরার দেওয়ানী কার্য্যভারও তাহার হস্তেই ন্যস্ত ছিল। অমিত-বলশালী এই যোদ্ধা পুরুষের বাহুবলে নাগাপাহাড়৩ ও গারোপাহাড়ে৪ বৃটিশ পতাকা উডভ্ীন হয়। এই সময় খাসিয়া পাহাড়ের পলিটিকেল এজেন্টের উপর ভারতের উত্তর-পৃবর্বংশের সমস্ত ভার ন্যস্ত হয়। হারি সাহেব পিতার জীবদ্দশায় ১৮৩৫-৫০ খষ্টাব্দ পর্য্যন্ত এই এজেন্টের সহকারী স্বরূপে কার্য্য করিয়াছিলেন । এই পদে থাকিয়াই তিনি জয়ন্তীয়া দখল করেন, তৎপ্রসঙ্গে জয়ন্তীয়ার করিয়াছিলেন। এই পদে থাকিয়াই তিনি জয়ন্তীয়া দখল করেন, তথ্প্রসঙ্গে জয়ন্তীয়ার বিবরণে ইতিপুবের্ব [২য় ভাগ ৪র্থ খণ্ড ৪র্থ অধ্যায়ে] কথিত হইয়াছে। চুণের একচেটিয়া হারি সাহেব কার্য্যোপলক্ষে অনেক খাসিয়া সর্দারের সহিত পরিচিত হওয়ায়, অতি শ্রীঘ্বই কোম্পানীর বিশেষ শ্রীবৃদ্ধি সাধন করিতে সমর্থ হন। জয়ন্তীয়৷ দখল করায় গবর্ণমেন্টের নিকট হারি সাহেবের প্রতিপত্তি বর্ধিত হয়। কর্ণেল লিষ্টার সাহেব নিজ দুহিতা সোফিয়াকে তাহার নিকট বিবাহ দেন। ফলে হারি সাহেব খাসিয়া ও জয়ন্তীয়া পর্বতের সমস্ত চুণা পাথরের মহাল ইজারা বন্দোবস্ত লইয়া চুণার একচেটিয়া ব্যবসায় আরমু করেন। ৩. নাগরাজ তনয়া উলুপীর পুত্র এরাবত নাগা প্রদেশের রাজা ছিলেন, ইহা মহাভারত হইতে জানা যায়। নাগা জিলার পশ্চিমে ও উত্তরে নওগা ও শিবসাগর, পৃ স্বাধীন নাগা পাহাড়, দক্ষিণে মণিপুর ও কাছাড় জিগা। পরিধি ১৭০৬ বর্গ মাইল, লোক সংখ্যা-১০২৪০২। প্রধান নগর-কোহিমা। ৪. গারো পাহাড় সুরমা উপত্যকা বিভাগের অন্তর্ভৃত্ত নহে। ইহার উত্তরে গোয়ালপাড়।, পর্বে খাসিয়া পাহাড়, দক্ষিণে ময়মনসিংহ, পশ্চিমে গোয়ালপাড়া ও রংপুর ৷ পরিধি ৩১৪০ বর্গ মাইল, লো সংখা! ১৩৮২৭৪ ড্র । প্রধান নগর-তৃরা। চতুর্থ অধ্যায় : ইংলিস কোম্পানী শ্ীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত ৪৩৩ প্রতি বসরে সমস্ত খনির কাজ চলিত না। জলের গতিক দৃষ্টে যে খনির পাথর নামান সুবিধাজনক বোধ করিতেন, সেই খনিতেই কাজ হইত। বৎসর ভরা ডিনামাইট ও লৌহ- শাবলাঘাতে পাথর ভাঙ্গিয়া পাহাড়-ঘাটে মজুদ রাখা হইত, পূর্ণ বর্ধাতে পব্বত হইতে মাপের “ঢকি নৌকা” দ্বারা চুণা নামান যাইত, শরৎ কালে বন সংগৃহীত হইত, হেমন্তে চুণা “পোক্তানি” (পাড়া) এবং চেত্র-বৈশাখ মাসে চুণা গোলাজাত করিয়া রাখা হইত । মহালের খাজনা, চূণা ভাঙ্গানি ও লামানি এবং আমলাদের বেতন ইত্যাদি সমস্ত খরচ ধরিয়া, পাথরের উপর হাজার করা যে দর নির্ধারিত হইত, তাহারই দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রয় করা যাইত। ইহাতে হারি সাহেবের ৪৬৬৯8 ০০৩ ব্যবসায়ের কথা অল্পই শুনা যায়। বৎসরের প্রথম ভাগে সরমানদীতে,-গোবিন্দগঞ্জ হইতে চি পর্য্যন্ত স্থান ব্যাপিয়া, ব্যাপারীগণ অবস্থিতি করিত এবং এক অবধারিত দিবসে প্রতি ব্যবসায়ীকে নম্বর দিয়া নির্দেশ করা যাইত। এই ব্যবসায়ীগণ জমিদারি পুণ্যাহের অনুক্রমে মে মাসের কোন নির্দিষ্ট দিবসে কোম্পানীর আফিসে উপস্থিত হইয়া দেয় মূল্যের কিয়দংশ অগ্রিম প্রদান করিত। তৎপর কোম্পানী বর্ষার মধ্যে ঘাটে ঘাটে নম্বরানুক্রমে তাহাদের নৌকায় চুণা পৌছাইয়া দিতেন। ৩০শে এপ্রিল হিসাব নিকাশ হইত, প্রধান গোমস্তা বা দেওয়ান টাকা লইতেন। এ দিনে তাহার সম্মুখে “কোমর”-_-পরিমিত টাকার রাশি স্তুপীকৃত হইতে দেখা যাইত। এতদ্যতীত হারি সাহেব হেমন্তে ছাতকের নদীব্রয়ের সঙ্গম-সংঘটিত চরে কমলার কারবার খুলিতেন; ইহাতেও প্রচুর লভ্য হইত । প্রচুর লাভকর এই ব্যবসাগুলির ফল একা হারি সাহেব ভোগ করিতেছেন, এতদৃষ্টে অন্যান্য ইংরেজ বণিকদের প্রলোভিত হওয়া অস্বাভাবিক নহে। কিন্তু কোনও ইংরেজ, এই লোভ সংবরণ করিতে না পারিয়া, খাসিয়া পাহাড়ে প্রবেশ করলেই, প্রতাপশালী ইলিস কোম্পানী তাহাকে বহ্ি-মুখ পতঙ্গের দশা প্রাণ্ড করাইতে চেষ্টা করিতেন । কোম্পানীর অত্যাচার ১৮৫৪ খৃষ্টাব্দে আসামের কমিশনারের (001)1019510।007 01 ১5321) অধীনে চেরাতে প্রধান এসিষ্টেন্ট কমিশনারের (27701091 /. ০.) পদ প্রতিষ্ঠিত হয়, সুলেখক সুদক্ষ হডসন (০. ঘ. 70501) সাহেব এ পদে নিযুক্ত হইয়া ১৮৫৮ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত ছিলেন । এই সময় মিঃ কোলমেন (00191707) নামে এক বণিক, এক মোনশী ও ২৫-৩০ জন লোক লইয়া বাণিজ্যের অভিপ্রায়ে শ্রীহট্ট হইতে চেরাপুঞ্জি যাত্রা করেন। চেলার এলাকাস্থ কাপড়িয়া বাজারে তিনি অবস্থিতি কালে কোন ওয়াদাদারের লোকেরা তাহাকে আক্রমণ করে ও তাহার খাসিয়া চাকরকে ধরিয়া লইয়া পনর দিন আটক রাখে । সাহেব তখন নৌকায় শ্রীহন্টে প্রত্যাবর্তন করিতে আরন্ত করেন, কিন্তু অনতিবিলম্বেই সশস্ত্র বৃহৎ একদল বাঙ্গালী তদীয় নৌকা আক্রমণ পুলিশ ষ্টেশনে উপস্থিত হন। এই বাঙ্গালী অন্ত্রধারী লোকেরা কাহার প্ররোচনায় এই কার্ষ্যে সর হয়, তাহা বুঝিতে কাহারও বাকি রহে নাই। কিন্তু আদালতে অনেক সময় সত্যও মিথ্যাতে পরিণত হইয়া থাকে; সুতরাং সাহেব আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করিয়া কোনও ফল পাইলেন না। এই ঘটনার প্রায় সমসময়ে কলিকাতার গ্নাড্টোন উইলি এণ্ড কোম্পানী (7465575 018051976 ৮/১1116 270 0০.) হেডেন সাহেবকে (গা. তি. 0. 784081) পেট্রোলিয়াম তৈলের শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২৮ ৪৩৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড অনুসন্ধান করিতে খাসিয়া পবর্ষতে প্রেরণ করেন। হেডেন সাহেব, হেলফর্ড ব্রাউনলো (৬. [71211010 73705%1 10৬) সাহেবের সহিত নৌকাযোগে ছাতক হইতে চেলায় রওয়ানা হন। কোথাও কোন কিছু নাই, হঠাৎ কাপড়িয়া বাজারের কিছু ভাটীতে একদল বাঙ্গালী লাঠিয়াল তাহার নৌকা আক্রমণ পূর্বক দুইটা হস্তী দ্বারা নৌকা ভাঙ্গিয়া উঠাইয়া ফেলে । গজারোহী একজন সন্ত্ান্ত বাঙ্গালী জদ্রলোকের আদেশে লাঠিয়ালেরা সাহেবের বন্দুক ও দুই শত টাকার সম্পত্তি কাড়িয়া লয়, তাহাদিগকে জলের মধ্য দিয়া ছেঁচড়াইয়া টানিয়া লইয়া যায় এবং রক্ত মাখা আর্্রবস্ত্রে সন্ধ্যা পর্য্যন্ত কয়েদ রাখিয়া পরে ছাতকে বাহির করিয়া দেয়। ইহারাও ইধ্লিস কোম্পানীর নামে এই বলিয়া অভিযোগ করেন যে, আক্রমণকারীরা ইংলিস কোম্পানীর বাধ্য ও অনুগত, ইংলিস কোম্পানীই এই ব্যাপারে মূলীভূত কারণ । ইহারও ফল পৃরর্বানুরূপ হইয়াছিল! কোম্পানীর লোকানুরাগ লাভ এই সময় ইংলিস কোম্পানী কারবার ব্যতীত অনেক ভূসম্পত্তি ক্রয় করিয়াছিলেন; ছাতকে এজমালী দুই তালুকের 8/৫ মাইল মধ্যে, আর কাহারও অধিকার ছিল না। লাউড়ে ইংলিস কোম্পানীরই একাধিপত্য ছিল। মহারাম, পাওুয়া প্রভৃতি স্থানের অধিকাংশেই কোম্পানীর অধিকার ছিল, এমতাবস্থায় ওয়াদাদার বা ক্ষুদ্র মিরাশদারগণ বাধ্য না হইবে কেন? আবার জমিদারিতে খাজনার হার পার্শ্ববন্তী তালুক হইতে অর্দেকেরও কম ছিল, সুতরাং প্রজা সাধারণ বাধ্য না হইবে কেন? এতদ্যতীত পদস্থ লোকের কাহাকে কর্ম দিয়া, কাহাকেও বা কোনরূপ সুবিধা করিয়া দিয়া বশে রাখা হইয়াছিল। ছাতকের চৌধুরীদের অবস্থা অপেক্ষাকৃত মন্দ হইলেও তাহারা কোম্পানীর কোন কর্ম্ম স্বীকার করেন নাই। হারি সাহেব তাহাদের শক্তিকে বাটীতে বসিয়া বিনা কাজেই মাসিক দশ টাকা হিসাবে সম্মানজনক (70199) বৃত্তি ভোগের ব্যবস্থা করেন, এত করিলে লোক বাধ্য না হইয়া পারে কি? এতদ্যতীত শাহ আরপীনের দরগাতে বৃত্তি বরাদ্ধ ছিল, ছাতকের কালী এবং মহাপ্রভুর আখড়ায় বৃত্তি স্থাপিত করা হয়। সমারোহ সহকারে এ দেবতার রথ ও দোল ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হইত। হারি সাহেবের চেরাপুঞ্জিত খাস কৃঠির হাতাতে রথোৎসব হইত, ঠাকুরকে হস্তীর উপর উঠাইয়া ছাতক হইতে তথায় নেওয়া যাইত; অনেক খাসিয়া এই উৎসবে যোগ দিত, ইহাতে তাহাদের মধ্যেও কিয়ৎপরিমাণে হিন্দুয়ানীর প্রচার হইত। এই সকল কারণে কোম্পানীর প্রতি সাধারণের বিশেষ অনুরাগ ছিল; এই সকলই কোম্পানীর ব্যবসায়ের সুবিধা বিধানের পক্ষে উপায় স্বরূপ হইয়া দাড়াইয়াছিল। কোম্পানীর বিরাগ লাভ চেরাপুঞ্জিরপ্রধান এসিষ্টেন্ট কমিশনার হডসন সাহেবের নিকট কোম্পানীর ব্যবহার ভাল লাগিত না। ইংলিস কোম্পানীর পক্ষ হইতে যে' কোন মোকদ্দমা উপস্থিত করা হইত, ইনি তাহা ডিসমিস করিয়া ফেলিতেন। ইহাতে কোম্পানীর কর্মচারীগণ নিতান্তই উত্যক্ত ও অসুবিধা গ্রস্ত হইয়া উঠিয়াছিল। হড্সন সাহেবের আগমনের দুই বৎসর পরে ঢাকা রেভিনিউ বোর্ডের সদস্য এলেন (ডা. . £১1197) সাহেরু খাসিয়া পর্বত সম্বন্ধে অনুসন্ধানের জন্য প্রেরিত হইয়া ১৮৫৮ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে খুঁক রিপোর্ট প্রেরণ করেন। তাহা সাধারণতঃ “এলেনস্‌ রিপোর্ট” বলিয়া খ্যাত। চতুর্থ অধ্যায় : ইংলিস কোম্পানী শ্রৃপ্ট্ের ইতিবৃত্ত ৪৩৫ এই রিপোর্টে উপরিউক্ত বিবরণ এবং তাদৃশ বহু প্রথা বর্ণিত হইয়াছে। ইতঃপুবের্ব চেরা হইতে প্রায় শত মাইল দুরস্থ গৌহাটীতে আসামের কমিশনারের কোর্টে চেরাপুঞ্জির সকল মোকদমারই আপিল যাইত; এলেন সাহেবের মতানুসারে এই সময় হইতে শ্রীহট্টের সিভিল ও সেশন জজের আদালতে চেরাপুঞ্জির আপিল হইবে বলিয়া স্থির হয়। কেবল পূর্বদেশ সংক্রান্ত ও পলিটিকেল মোকদ্দমা এজেন্ট ও আসামের কমিশনারের নিকট পূর্র্ববৎ হইত । এলেন সাহেব যে রিপোর্ট করেন, তাহাই পরে ইংলিস কোম্পানীর এক চেটিয়া ব্যবসায় ভাঙ্গিয়া যাইবার কারণ স্বরূপ হইয়াছিল । হারি সাহেবও এলেন ও হড্‌ সনের ব্যবহারে বিরক্ত ছিলেন। হড্‌ সনের কথা আমলারা প্রায়শই তাহার নিকট বলিত। একদা তিনি নিজ দেওয়ান ব্রজমোহন রায়কে বলেন:--“রও, ইহাকে আমি ঘরের বিল্লি (বিড়াল) বানাইব |” আমলাদের লভ্য এই ব্রজমোহন রায়ের বেতন ১২ টাকা হইতে ২০০ টাকাতে উন্নীত হইয়াছিল। বেতন ব্যতীত কর্মচারিগণ কোম্পানীর লভ্যের উপর হার মতে কমিশন পাইতেন। দেওয়ানের পদে বেতন বাদে কমিশন বাবতে বৎসরে দুই সহস্র হইতে পঞ্চ সহস্ন টাকা পর্য্যন্ত পাওয়া যাইত। দেওয়ান হইতে সামান্য চৌকিদারকে পর্য্যন্ত কমিশন দেওয়ার রীতি ছিল। ইহাতে সকলেই সন্তুষ্ট ছিল। বৎসরের শেষে সকলেই এক সঙ্গে কতক টাকা পাইতে পারিত। কমলা লেবুর অস্থায়ী বিভাগে কোম্পানীর অংশ ও অপর লোকের অংশ থাকিলেও আমলারা পুরা লাভের উপরই কমিশন পাইতেন। দেওয়ান খাজার্জি, সেরেস্তাদার, ডিহিমোহরের, মোহাফেজ, বরকন্দাজ, চৌকিদার ইত্যাদি স্থায়ী কর্মচারী সংখ্যা অনেক ছিল । কমলা বিভাগে সাময়িক অনেক কর্মচারী নিয়োজিত হইত । কর্মচারীগণের বিশেষ বিদায় কালের বেতন কর্তিত হইত না, এবং বিদায়ের মধ্যে কাহাকেও ডাকাইয়া কাজে হাজির করিলে পথ খরচ দেওয়া যাইত । কন্মপ্রার্থিগণ কর্ম না পাইয়া ফিরিয়া গেলেও যাতায়াত খরচ দেওয়া হইত। ইহা হারি সাহেবের বিশেষ উদারতার পরিচায়ক। হারি সাহেব অনেক দিন এদেশে থাকিয়া, এ দেশীয় আচার ব্যবহারের অনেকটা পক্ষপাতী হইয়া উঠিয়াছিলেন। তিনি গুড়গুড়ি ইকাতে তাম্্কুট পান করিতেন । তীহার সদ্যবহারে ও সৌভাগ্য প্রভৃতি নানা কারণে সাধারণে তাহাকে মহাপুরুষ বলিয়া মনে করিত। হারি সাহেব সম্বন্ধে নানা গল্প শুনা গিয়া থাকে ।৫ ৫. এস্থলে একটা আশ্্য্য ঘটনার উল্লেখ করা যাইতেছে। একদা এক প্রৌঢ় বয়স্ক চেরাপুর্জিতে গিয়া দরবারে উপবিষ্ট হারি সাহেবের পদে পতিত হইয়া ক্ষমা চাইতে থাকেন ও ভাই ভাই বলিয়া কীদিয়া আকুল হন। কারণ জিজ্ঞাসায় ব্রাহ্মণ বলেন যে, শ্রীক্ষেত্রে গিয়া তিনি দেবতার দর্শন পান নাই। প্রত্যাদেশে জানিয়াছেন, পৃব্বজন্মে হারি সাহেব তাহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন, তাহার নিকট তিনি গুরুতর দোষে অপরাধী । যদি তাহার প্রসাদ ভক্ষণে ও ক্ষমা প্রান্তে অপরাধ মোচিত না হয়, তবে দর্শন পাইবেন না, এবং অপরাধের জন্যও অনেক ভুগিতে হইবে। প্রত্যাদেশ প্রাপ্তির পর ব্রাহ্মণ বহু অনুসন্ধানে এখানে আসিয়াছেন। হারি সাহেব ব্রাহ্মণের কথা শুনিলেন এবং জুয়াচোর মনে করিয়া তাহাকে কয়েদ করিয়া রাখিলেন। পরে আমলাদের পরামর্শে শ্রীক্ষেত্রে পুলিশ কর্মচারীকে এই বিষয় অনুসন্ধানের অনুরোধ করিলেন। তত্রত্য পুলিশ কর্মচারীরা তিনমাস অনুসন্ধান করিয়া পরে ইহা সত্য বলিয়াই লিখিলেন, তখন হারি সাহেবের আর বিন্ময়ের অবধি থাকিল না। কিন্তু ব্রাব্ষণ কিরূপে শ্লেচ্ছের প্রসাদ খাইবেন! পণ্ডিতগণের ব্যবস্থায় তখন এক পাত্রে কিছু মিছরি রক্ষিত হয়, এবং তাহা হইতে সাহেব একটু গ্রহণ কপ্লেন। ব্রাহ্মণ সেই মিছরি প্রসাদ ভক্ষণে ও ক্ষমা প্রাপ্তে পুনঃ শ্রীক্ষেত্রে গমন করেন । হারি সাহেব ব্রাহ্ষণকে এক জোড়া কাপড় এবং শ্রীক্ষেত্রে যাতায়াতের খরচ দিয়া বিদায় দেন। ৪৩৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড মেনেজার নিযুক্তি হারি সাহেবের মৃত্যু নিজ আগ্রহে বৃদ্ধ বয়সে হারি সাহেব বিলাত যাইতে প্রস্তুত হন। এই সময় তিনি আপন বিরুদ্ধাচারী হড্সন সাহেবকে মেনেজার নিযুক্ত করিতে ইচ্ছা করেন। প্রস্তাব চলিল, কিন্তু হড্সন কোম্পানীর “বিলি” হইতে স্বীকার পাইলেন না। হারি সাহেব মাসিক সহস্্ টাকা দিবেন বলিয়া প্রতিশ্রণতি হইলেন, তেজন্বী হড়্‌সন তথাপি অস্বীকৃত হইলেন। তাহার পরে হারি সাহেব, বেতন বাদে কোম্পানীর লভ্যের এক চতুর্থাংশ প্রদানের প্রস্তাব করিলে, হড্সন আর লোভ সংবরণ করিতে পারিলেন না। কিন্তু এই লভ্যের কথা লিখিত ভাবে ছিল না--মৌখিক ছিল। এইরূপ বন্দোবস্ত করিয়া হারি সাহেব বিলাত যাত্রা করেন, এই যাত্রাই তাহার শেষ যাত্রা হইল; বিলাত পৌঁছিয়াই ৫৭ বৎসর বয়সে ১৮৬০ খৃষ্টানদের ৩১শে জুলাই দীর্ঘবপু দীর্ঘশৃশ্রু সুগঠিত দেহ হারি সাহেব মানবলীলা সম্বরণ করেন। মৃত্যুর পৃবের্ব তিনি বলিয়াছিলেন যে, তাহার দেহ চেরাপুঞ্জিতে লইয়া গিয়া মাটীর উপরে রাখিয়া যেন সমাহিত করা হয়। এইরূপ সমাহিত করার একটা উদ্দেশ্য ছিল। তিনি যে সকল স্বাধীন খাসিয়া সর্দার হইতে চুণা মহাল ইজারা আনেন, তাহার দেহ যতদিন “মাটীর নীচে” না যায় ততদিন পর্য্যন্ত সর্তভঙ্গ করিতে পারিবে না বলিয়া তাহাদিগকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করাইয়াছিলেন। যাহা হউক তাহার দেহ বহুমূল্য মসল্লার আরকে চিরাপাচ্য রাখার মানসে মমি করিয়া রাখা হয়। পরে তীহার মৃত্যুর দশ বৎসরান্তে তদীয় (14/7/1)) পত্ীর মৃত্যু হইলে উভয়ের শবদেহ একত্রে চেরাপুঞ্জিতে আনিয়া কথানুরূপ রক্ষিত হয়। কিন্তু একত্রে দেহ রক্ষিত হইলেও সোফিয়ার ব্যবহার হিন্দুর নিকট মার্জনী নহে। উপযুক্ত পুত্র কন্যার জননী হইয়াও স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি পত্যন্তর গ্রহণ করেন। কথিত আছে, এই জন্য লজ্জায় তাহার প্রথম পুত্র আত্মহত্যা করেন। এই বিবাহের ফলেও সোফিয়ার একটি পুত্র জাত হয়। কোম্পানীর অধিকারিণী ও হড্সন সাহেব হারি সাহেবের মৃত্যুর পর তাহার পত্বী কোম্পানীর অধিকারিণী হন, ও শেষ পুত্র কিছু বড় হইলে ভারতবর্ষে আগমন করেন। ছাতক আসিলে মেনেজার হড্্‌সন সাহেব সহ কোম্পানীর লত্যের চতুর্থাংশ টাকার বিষয় লইয়া বিরোধ উপস্থিত হয়। হড্সন সাহেব শ্রীহট্রের সদর আমিনীতে এই বিষয়ে অভিযোগ করিলে মেম সাহেব জবাব দেন যে, মেনেজারের মাসিক বেতন সহস্র মুদ্রা; ইহাই প্রচুর । তিনি ত অংশী নহেন যে, লভ্যের চতুর্থাংশ পাইবেন? শ্রীহত্রে মেমের জয় হওয়ায় আপিল হয় ও দেওয়ান ব্রজমোহন সাক্ষ্য নির্ভরে হড্সন, জয়লাভ করেন। মেম তখন বিলাতের প্রিভি কোন্সিলে পুনরপি আপিল করতে উদ্যতা হন। হড্সন বিলাতের আপিলের খরচ চালাইতে অসমর্থ ছিলেন, কাজেই লভ্য বাবতে অশীতি সহস্র টাকা মাত্র আপোষ লইয়া লভ্যের দাবী ত্যাগ করেন। হড়্‌সন এই টাকা তখন গ্রহণ না করিয়া কোম্পানীর খাতায় নিজ নামে জমা রাখিয়া দেন। হড্্‌সন সাহেব ন্যায়বান ও তেজস্বী পুরুষ ছিলেন। হারি সাহেবের মৃত্যুর পর যেরূপ উদ্যামে কর্ম চালাইতে ছিলেন, তাহাতে কোম্পানীর চরম উন্নতি ঘটিয়াছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যব্রমে মেম সাহেবের সহিত মনোমালিন্য ঘটায় তাহার মন অনেকটা ভগ্ন হইয়া যায়, উদ্যম উৎসাহ কমিয়া যায়, তিনি কার্য্যস্থাণে না থাকিয়া অধিকাংশ সমরহই শ্রীহট্ট সহরে, ঢাকায় বা কালকাতায় কাটাইতেন। শ্রীহট্রে নবাব তালাবের দক্ষিণ তীরে নদীর উপরে হড্সন সাহেবের কুঠি ছিল, চতুর্থ অধ্যায় : ইংলিস কোম্পানী শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৩৭ ভূকম্পে তাহার চিহ্ত বিলোপ হইয়াছে। মেনেজারের শৈথিল্যে কোম্পানীর অবনতির সূত্রপাত হয়, কমলা ও জমিদারি বিভাগেও ক্ষতি হইতে আর্ত হইয়াছিল । হড্সন সাহেবের সহিত আপোষ হইলে মেম বিলাতে চলিয়া যায়; তথায় তাহার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পৃবের্ব তিনি যে চরম-পত্র সম্পাদিত করেন, তাহাতে তাহার তিন পুত্র কোম্পানীর অধিকারী হন। ইহাদের মধ্যে এল, এ. এল ইংলিস (10170 4৯100 1,501 118]15),--যিনি সাধারণতঃ লিও ইংলিস নামে খ্যাত ছিলেন, বিলাতের মেনেজার নিযুক্ত হন। ভারতবর্ষে আসিয়াও তাহাকে কারবার দেখিতে হইত । লিও ইধলিস সাহেব উদ্ধত প্রকৃতি লোক ছিলেন। শিকার, নৌকাচালন ইত্যাদিতে সময় ক্ষেপন করিতে ভালবাসিতেন। ভারতবর্ষে আসিয়া তিনি পিতামাতার চেরাপুঞ্জির কুঠির হাতায় চত্বরোপরি স্থাপন করিয়া তদুপরি সমাধি নির্মাণ করেন; ইহাতে হারি সাহেবের দেহ মাটীর উপরেই থাকিয়া যায়। শেডওয়েলের মেনেজারি ১৮৬৪ খৃষ্টাব্দে চেরাপু্জি হইতে শিলং নামক স্থানে আসামের রাজধানী পরিবর্তিত হইলে, লিও ইংলিস সাহেব পিতার আমলের সমস্ত সরঞ্জাম একক্ত্রী এসিষ্টেন্ট কমিশনার শেডওয়েল (এ. ). 8. 31190৬61.) সাহেবের নিকট বিক্রয় করিয়া ফেলেন এবং শিলং সহরে যে ক্ষুদ্র তদের পুরর্বতীরে গবণমেন্ট হাউস অবস্থিত, তাহার পশ্চিমপারে “ইংলিস-বী” (178]15-১)) নামে এক বিচিত্র বাসভবন প্রস্তুত করেন, সদ্বীপ কৃত্রিম সরোবর, বৃক্ষ-বটিকা, জলপ্রণালিকা প্রভৃতি সাজ সঙ্জায় এই বাটা গবর্ণমেন্ট হাউস হইতে কম সুন্দর ছিল না। লিও ইংলিস, শেড্ওয়েল্‌ সাহেবকে ১৮৭৮ খৃষ্টাব্দে হড্সন সাহেবের নীচে চীফ্‌ একাউন্টেন্ট পদে নিযুক্ত করেন। অল্পকাল মধ্যে হড্সনের মৃত্যু হওয়ায় ইনিই তৎপদে বৃত হন। হড্সনের যে ৮০,০০০ টাকা জমা ছিল, প্রতি বৎসর নিকাশের সময় এ টাকা লইয়া যাইতে বলা হইলে তিনি গ্রহণ না করিয়া বলিতেন, “আমার সামান্য দৃষ্টিপাতের জন্য কোম্পানী মাসিক সহন্্র মুদ্রা দিতেছেন; এই টাকা কোম্পানীতেই জমা থাকুক ।” তাহার মৃত্যুর পর কাজেই তদীয় অভিপ্রায় মত উক্ত টাকা কোম্পানীর মূলধন ভুক্ত করা হয়। লিও ইংলিস সাহেব শিলং বাসকালে, চিফকমিশনার ইলিয়াট (৬. 0. 4৯ 8111016) সাহেবের সহিত তাহার বিশেষ সপ্তাব হয়, কিন্তু কোন গুহ্য কারণে এই সন্ভাব শেষে ভীষণ শক্রতায় পরিণত হইয়াছিল । শুনা যায় যে, তিনি ইলিয়ট সাহেবকে অনেক লোকের সাক্ষাতে অপমানিত করিয়াছিলেন । ইহার ফল কোম্পানীর পক্ষে ভয়ানক হইয়া দীড়াইয়াছিল। ইলিয়ট সাহেবের সময়ে কোন কোন চূণা পাথরের মহালের ইজারার ম্যাদ অতীত হয়, এই সূত্রে এন্ল্স্‌ রিপোর্টের উল্লেখ ক্রমে আসাম গবর্ণমেন্ট, ইংলিস গবর্ণমেন্টে লিখিয়া, ইংলিস কোম্পানীর একচেটিয়া ভাঙ্গিয়া দিতে লাগিল । যে মহালের ম্যাদ অন্ত হয়, তাহাই প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় হইতে থাকে। সে সময় মেনেজার সাহেব কৌশলক্রমে মহাল গুলি বিনামা বন্দোবস্ত করিয়া কোম্পানীর মান রক্ষা করেন। যাহা হউক, ইলিয়ট সাহেবের সহিত অসম্যবহার করাতে শিলং শহরের সাহেব সমাজ লিও ইংলিস সাহেবের উপর বিরক্ত হওয়ায় তিনি বিলাতে চলিয়া যান। এই সময় চেরাপুঞ্জির পুলিশ দ্বারা কোম্পানী নানারূপে বাধা প্রাপ্ত হন; শেডওয়েল সাহেব এই সকল বিষয় এবং ইংলিস কোম্পানী ছ্বারা দেশের কিরূপ উপকার সাধিত হইয়াছে, তাহা প্রদর্শন করিয়া গবর্ণমেন্টে চিফ কমিশনারের হুকুমের বিরুদ্ধে এক ৪৩৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড দরখাস্ত করেন, কিন্তু কোন ফলোদয় হয় নাই। এই সময় .কোম্পানীর আয় অনেক কমিয়া যায়, ব্যয় বাদে ৮০/৯০ সহস্রের অধিক লভ্য দাড়ায় নাই। ইলিয়ট সাহেব চলিয়া গেলে কোম্পানীর একটু সুবিধা হইয়াছিল । কোম্পানীর অবনতি লিও ইংলিস ১৮৯৬ খৃষ্টাব্দে ভারতবর্ষে পুনরাগমন করেন। তিনি নিজ উপভ্রাতার অংশ ক্রয় করিয়া লওয়ায় কোম্পানীতে অপরের অংশও রহিত হয়, কিন্তু অন্য কারণে কোম্পানীর অবনতি ঘটিতে আরম্ত হয়। লিও ইধলিস সাহেবের আগমনের ফলে শেডওয়েল সাহেব নৃতন দেওয়ান নিযুক্ত করেন, সেই ব্যক্তির নিয়োগে সকলের অভিমত না থাকায় আমলাদের মধ্যে দুইটি দল গঠিত হয় । বিরুদ্ধ দলের কেহ কেহ লিও সাহেবের নিকট মেনেজারের বিরুদ্ধে নানা কথা তুলিতে থাকে। ১৮৯৪ খৃষ্টাব্দে ছাতকে কিলবর্ণ কোম্পানীর এক এজেনি স্থাপিত হয়। এজেন্ট সাহেবের সহিত শেডওয়েল সাহেবের পুবর্বপরিচয় থাকায়, তিনি কোম্পানীর কুঠির হাতায় উক্ত এজেন্টের বাসা ও জাহাজ গুদাম ইত্যাদি প্রস্তুত করিয়া দিয়াছিলেন। জাহাজের ষ্টেশন, কোম্পানীর কুঠির সম্মুখে আসায় জাহাজে চুণা বোঝাই দেওয়ারও সুবিধা হয়। তদনন্তর যখন দারুন ভূকম্পে সমস্ত গৃহাদি ভূমিসাৎ করিয়া ফেলিল, পাহাড়ের অনেক নদীর গতিরোধ, অনেকের গতি পরিবর্তিত এবং কোন কোন স্থানে নৃতন স্রোতের উদ্ভব হইল; যখন চুণার খনি কোন কোনটি অকর্মণ্য হইয়া গেল, কোন পাহাড় ধসিয়া কমলার বাগান সব বিনষ্ট হইয়া গেল, তখন ইর্থলিস কোম্পানীর যে বিস্তর ক্ষতি হইল,-_-তাহা বলা বাহুল্য । এই সময় কিলবর্ণ কোম্পানীর এজেন্ট ও ইরলিস কোম্পানীকে নৃতন গৃহাদি প্রস্তুত করিয়া দিতে তাড়া দিতে লাগিলেন, এবং ভিতরে ভিতরে স্থানটি গবর্ণমেন্ট কর্তৃক গৃহীত হইবার জন্য প্রস্তাব চালাইলেন। শেড্ওয়েল সাহেবের এক পুত্র কিলবর্ণ কোম্পানীর কয়লার কারবারের এজেন্ট ছিলেন। এই সূত্রে লিও ইংলিস সাহেবের বিরুদ্ধপক্ষীয় আমলাগণ তদ্বিরুদ্ধে নানা কথা উত্থাপন করিতে লাগিল। ভূগ্রহণের প্রশ্ন মীমাংসায় শ্রীহট্রের তদানিত্তন ডিপুটি কমিশনার ও্বয়েন (৮. চা. 00707) সাহেব ছাতকে গিয়া তদন্ত করেন এবং ইংলিস কোম্পানীর স্বেচ্ছাপ্রদত্ত ভূমিতেই এজেন্ট সাহেবকে গৃহ প্রস্তুত করিতে হুকুম দেন। ইধলিস কোম্পানীরই জয় হইল; এজেন্ট সাহেব গৃহাদি প্রস্তুত না করিয়া ঘাটে এক ফ্লেট রাখিয়াই কাজ চালাইতে লাগিলেন। কোম্পানীর বিলোপ এই সকল কারণ পরম্পরায় লিও ইংলিস সাহেরে মন বিরক্ত হইয়া উঠিল; কোম্পানীর আমলাদের মধ্যেও বিভিন্ন দলাদলি চলিতেছিল:; লিও ইংলিস সাহেব এই সময়ই কারবার ছাড়িয়া দিতে ইচ্ছুক হইলেন। এই সংবাদে দেশের অনেক গণ্যমান্য লোক তাহাকে নিষেধ করিয়াছিলেন, এমন কি, আসামের চিফ কমিশনার মহামতি কটন (নন. 7. 5. 0০07) সাহেবও বলিয়াছিলেন যে, এই ষ্টেট অতি প্রাচীন, ইহার দ্বারা এ দেশের অনেক উন্নতি সাধিত হইয়'ছে। অতএব হহা নষ্ট করা সঙ্গত নহে। কিন্তু লিও ইংলিস সাহেব এক কথার লোক ছিলেন, তিনি কিছুতেই প্রতিনিবৃত্ত হইলেন না। চতুর্থ অধ্যায় : ইংলিস কোম্পানী শরীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৩৯ অনেকেই কোম্পানীর সম্পত্তি ক্রয় করিতে উদ্যত হইল, তন্ধ্যে প্রখ্যাত-নামা স্বগয়ি মহারাজ সূর্য্যকান্ত বাহাদুর অন্যতম। কোম্পানীর লাউড় বিভাগের সংলগ্নভাবে গৌরীপুরের জমিদারি থাকায় তত্রত্য জমিদার বাবুও উহা ক্রয় করিতে ইচ্ছুক হন। গৌরীপুরের মেনেজার অতি সুচত্বর লোক, তাহার বাক্য মহিমায় সাহেব প্রায় চারিলক্ষ টাকার সম্পত্তি আড়াই লক্ষ টাকায় বিক্রয় করিতে সম্মত হইলেন। এই সময়ে ভাগ্যকুলের কুপ্তবাবুগণ সংবাদ পাইয়া প্রস্তাব করেন যে, তাহাদের নিকট ষ্টেট বিক্রয় করিলে তাহারা আরও পঁচিশ হাজার টাকা অধিক দিবেন। পচিশ হাজার কেন পঁচিশ লক্ষ হলেও কথা ভঙ্গ করিতে পারেন না বলিয়া লিও ইংলিস সাহেব তাহাদের অগ্রাহ্য করিলেন। গৌরীপুরের সহিত সমস্ত ঠিক হইয়া উঠিল এবং ১৯০২ ৃষ্টাব্দের ২৯শে মে তারিখে ষ্টেট বিক্রীত হওয়ায় ১০৮ বৎসরের কোম্পানী ভাঙ্গিয়া গেল। তখন এই ষ্টেটের মালীক গৌরীপুরের জমিদার পুণ্যশ্রোক শ্রীযুক্ত ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী মহোদয়। বর্তমানে তাহার অধীনে কারবার ও জমিদারি উভয়েরই উন্নতি লক্ষিত হইতেছে। পঞ্চম অধ্যায় ইংরেজ আমলের প্রথম শতাব্দী ব্যবসায় শ্রীহ জিলার অধিবাসীগণের অবস্থা পৃবের্ব অপেক্ষাকৃত উন্নত ছিল, তাহারা ক্রমাগত দৈন্যদশায় পতিত হইতেছে। ইংরেজ গবর্ণমেন্টের দেওয়ানী গ্রহণের পর হইতে শত বৎসর পর্য্যস্ত অর্থাৎ বর্তমান কাল হইতে প্রায় পঞ্চাশৎ বর্ষ পূরর্বকার অবস্থার সহিত বর্তমান কালের আচার ব্যবহারের অনেক প্রভেদ বৈষম্য দৃষ্ট হয়। পূর্ব যেমন ব্যবসায়াদি জাতিগত ছিল, এখন আর তদ্রুপ নাই; এই সময় মধ্যেই ধীরে ধীরে তাহা পরিবর্তিত হইয়া বর্তমান অবস্থায় উপনীত হইয়াছে। তখনও ব্রাহ্মণ গুরুতা, রাজপপ্ডিতি ও যাজনাদি ত্যাগ করিয়া অধিক মাত্রায় চাকুরী ও দোকানদারী প্রভৃতি কায়স্থ ও বৈশ্যোচিত বৃত্তি নিতান্ত অভাবে না পড়িলে গ্রহণ করিতেন না। কেহ কেহ দেবত্র ব্রহ্ষাত্র শাসনে নিযুক্ত থাকিলেও গুরুতাদিই মূল ব্যবসায় ছিল; তীহারা সামাজিক বিষয়ে “পাতি” বা ব্যবস্থা পত্র দিতেন, ব্যবস্থাদানে অনেক স্থুলেই অর্থ মিলিত। চিকিৎসা প্রধানতঃ বৈদ্যেরই ছিল, ইহারা কবিরাজ নামে খ্যাত হইতেন। সমাজে কবিরাজদের যথেষ্ট সম্মান ছিল। রোগী আরোগ্য হইলে কবিরাজ আরোগ্য স্নান দিয়া নববন্্র, কলসী বা পারিতোষিক লইতেন; কবিরাজকে সকলেই সন্ত্রম করিত। শ্রীহট্টে বৈদ্য-কায়স্থ ভেদ না থাকায় কবিরাজদের ব্যবসায় প্রায়শঃ ব্রাহ্মণগণেরাই করিতেন। কায়স্থগণ প্রধানতঃ রাজকার্য্য ও মোহরেরি করিতেন। কায়স্থ্ের কাজের তখন অতিশয় সম্মান ছিল। দলিলাদি লিখিয়া স্বচ্ছন্দে তাহারা জীবিকা নিবর্বাহ করিতে সমর্থ হইতেন। এখনকার মতন তখন সকল জাতিতে লিখাপড়ার এত চর্চা ছিল না। দলিলাদি লিখাইবার জন্য প্রহর, দেড় প্রহর দূর হইতে হাটিয়া লোকে মোহরেরকে লইয়া যাইত। কায়স্থগণ লিখাপড়ার কাজে অত্যন্ত নিপুণতা ও তীক্ষুবুদ্ধির পরিচয় দিতেন বলিয়া “কায়েতে বুদ্ধি” বা “মোহরেরি বুঝ” কথার উৎপত্তি হইয়াছে । ফলতঃ সকল জাতিরই ব্যবসায়গত বিশেষত যুক্ত সম্মান যথেষ্ট ছিল। এই সময়কার সাহু জাতির বিষয়ে শ্রীযুক্ত সারদা চরণ ধর মহাশয় লিখিয়াছেন,--“সাহু জাতি সম্বন্ধে কিছু না বলিলে চলিবে না। যাহারা কায়স্থ জাতি হইতে জাতিম্যুত বা সমাজচ্যুত হইয়া নূতন উপসন্প্রদায় গঠিত করিয়াছিলেন, তাহারাই শুধু তাহাদের পূবর্বকার উচ্চ শ্রেণীর উপযুক্ত ব্যবসায় অর্থাৎ বিষয় কর্ম্েই লিপ্ত ছিলেন। তাহাদের কেহ কেহ আবার বাণিজ্যাদিতে ও মহাজনী ব্যবসায়ও লিপ্ত হন। তাহাদের ধনীগণ “সাহাজী” এই সম্মানসূচক উপাধিতে অভিহিত হইতেন। তখন “সাহাজী” পদবীটি সওদাগরের সম্মান আনয়ন করিত। শ্রীহট্টে অনেক ধনী সাহাজীর বাড়ী অদ্যাপি লোকমুখে পরিচিত হইয়া থাকে। পরে তীহাদেরই সন্তান সন্ততিগণ স্বীয় উপাধি ধারণে বীতশ্র্ধ হইয়া দাস আখ্যা ধারণ করেন ।” পরে তিনি লিখিয়াছেন--“নবশাখকুল যথা- তৈলিক, ফুলমালী, গোপ, নাপিত, কুম্তকার, বারুই, তাতি ও কামার এবং দাস প্রভৃতি নিজ নিজ ব্যবসায়ে প্রচুর অর্থ লাভ করিত ।” পঞ্চম অধ্যায় : ইংরেজ আমলের প্রথম শতান্দী শ্রীহত্টরের ইতিবৃত্ত ৪৪১ “কম্মী শ্রেণীতে কৈবর্ত, সোণার, সুতার, নট, ধোপা, ডোম, চণ্তাল প্রভৃতি জাতীর বৃত্তি অবলম্বন করিয়া স্বচ্ছন্দে জীবিকা অর্জন করিত। যুগীরা দেশের কাপড় যোগাইত। গুঁড়িরা অনেকেই তখন সাহা উপাধি ধারণ করিলেও ব্যবসায় ত্যাগ করে নাই।” পবিত্রতা জাতিগত ব্যবসায় থাকায় প্রত্যেকেই নিজ নিজ ব্যবসায় সহজেই উন্নতি করিতে পারিত। শ্রীহন্ট্ের সামাজিক বিবরণ বংশ-বৃত্ান্ত ভাগে কথিত হইতে বলিয়া তদ্বিষয়ে কিছুই লিখিত হইল না, এস্থলে এইমাত্র বক্তব্য যে, সামাজিক পবিত্রতা রক্ষার প্রতি তখনও বিশেষ দৃষ্টি রাখা হইত। মোসলমান আমলের কথা যথাস্থানে বলিয়াছি; জাতির পবিত্রতা রক্ষা কলে সমাজ কিরূপ কঠোর শাসন করিতেন, রাজা সুবিদ নারায়ণের সময় সাহা সংস্ববজনিত সাহু সম্প্রদায়ের উৎপত্তি ঘটনাই তাহার প্রমাণ। তখন মোসলমানের আহার্য্যের গন্ধ প্রাপ্তে জাতি যাইত । সব্র্বানন্দের জাতিপাতের ঘটনা পাঠক জ্ঞাত হইয়াছেন; তাহার বহু পরেও এই কারণেই কৌড়িয়ার রামপাশার চৌধুরীগণ মোসলমান দুই শাখায় বিভক্ত হইয়া পড়িয়াছিল।২ তখন অন্ত্যজ এবং ভিন্ন জাতির সহিত সহজে কেহ সংসর্গ করিত না। এখন প্রকাশ্যে অস্বীকার মাত্র করিলে অতি গুরুতর বিষয়ও সমাজ সহ্য করিয়া থাকে। ইংরেজ রাজের অভেদাচারের প্রভাব শিক্ষিত সমাজে বহু মাত্রায় সংক্রমিত হইতেছে, কিন্তু তৎকালে ব্রাহ্মণ শুদ্রের মধ্যে এভাব অনেকটা কম ছিল ব্রাহ্মণ উপস্থিত হইলে তাহাকে পৃথক আসন দেওয়া হইত, ব্রাহ্মণের জন্য পৃথক হকা রক্ষার প্রতি তীব্র দৃষ্টি ছিল। অতিবড় ধনবান ও শক্তিমান ব্যক্তি ও ব্রাহ্মণের সমক্ষে ক্ষুদ্র ছিলেন। কি জমিদার কি উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী, ব্রাক্মণের পদধূলি লইতে কেহই লজ্জা বা অপমান বোধ করিতেন না। ব্রাক্ষণও এই মর্যাদা প্রাপ্তির উপযোগী চরিত্র রক্ষা করিতেন । জমিদার, মিরাশদার ও জমির পরিমাণ ইংরেজ আমলের প্রথমে দুই চারি স্থলে “চৌধুরী” খেতাব প্রদত্ত হইলেও দশসনা বন্দোবস্তের পরে এই খেতাব দেওয়ার প্রথা রহিত হয়। তৎকালে চৌধুরীরাই সন্ত্বান্ত শ্রেণীর মধ্যে সাধারণতঃ গণ্য হইতেন। শ্রীহ্রের অনেক উচ্চপদস্থ ব্রা্মণও এই উপাধিদারী । তদ্যতীত নবাবি আমলের শিকদার, কানুনগো, পুরকায়স্থ প্রভৃতি বংশানুক্রমিক উপাধিধারীদেরও বিশেষ সম্মান ছিল। সচরাচর চৌধুরাই শ্রীহস্টের প্রধান ভূম্যধিকারী; তদ্যতীত তাপাদার, তালুকদার প্রভৃতিও অল্লাধিক পরিমাণে ভূমির অধিকারী ছিলেন শ্রীহট্টে পঞ্চশত মুদ্রার অধিক রাজস্ব প্রদানকারী জমিদার বলিয়া সম্মানিত, পঞ্চাশং মুদ্রার অধিক রাজন্ব প্রদাতা মিরাশদার নামে খ্যাত এবং তন্নিন্নে যাহারা রাজস্ব প্রদান করেন, তাহারা তাপাদার বা তালুকদার শ্রেণীতে গণ্য হন। ১. পূবর্বীবহিষ্থা শ্রীহট্রের পূর্র্বাংশে সাহুজাতীয় ব্যক্তিগণের সাধারণ উপাধি দাস। সহরবাসী সাছ জাতীয়গণকায়স্থকুলোচিত তাহাদের পূর্ব উপাধিই (সেন, দত্ত প্রভৃতি যে উপাধি পূর্ব কায়স্থ থাকাকালে ছিল) প্রায়শঃ ধারণ করেন । ২. পঞ্চখণ্ড প্রভৃতি স্থানেও এইরূপ উদাহরণ পাওয়া যায়, বংশ-বৃত্তাস্ত ভাগে তাহা কথিত হইবে। ৩. শ্রীহষ্টের পক্ষে ইহা বড় গৌরবের কথা যে কেবল এখানেই সংস্কৃত মূলক রেখ যষ্টি, কেদার, হল (হাল) প্রভৃতি পরিমাণ অদ্যাপি প্রচলিত আছে। ৪৪২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড শ্রীহট্টরের ভূমি পরিমাপে দস্তিদারী নল ব্যবহার হইত, এখনও হয়। ইহার মাপ ১৮ ইঞ্চি হাতের ১৪ হাত এখানকার ভূমির পরিমাণও সমগ্র বাঙ্গালাদেশ হইতে বিভিন্ন। শ্রীহট্রের ভূমির পরিমাণ এইরূপঃ-_ ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া 8 কড়ায় ১ গণ্তা ২০ গণ্ডায় ১ পণ ৪ পণে ১ রেখ (৪৯ বর্গ হাত) ৪ রেখে ১ যষ্টি ৭ যষ্টিতে ১ পোয়া ৪ পোয়া বা ২৮ যষ্টিতে ১ কেয়ার (কেদার) ১২ কেয়ারে ১ হাল(হল)(৬৫৮৫ বর্গহাত)৩ কৌড়ির প্রচলনও শ্রীহট্টের একটি বিশেষত, শ্রীহস্টের মুদ্রার পরিমাণ এইরূপঃ-_ ৪ কোড়িতে ১ গঞ্তা ৫ গণ্ডায় ১ পয়সা ২০ গণ্ডায় বা ৪ পোয়াতে ১ আনা বা পণ ১৬ পণে ১ কাহন বা টাকা কিন্তু লিগুসে সাহেব শ্রীহট্টের রেসিডেন্ট থাকা কালে ৪ কাহনে বা ৫১২০ কৌড়িতে ১ টাকা গণ্য হইত। ১৮২০ খৃষ্টাব্দ হইতে কৌড়ির প্রচলন বন্ধ হয়। বাড়ীঘর ও দ্রব্যের মূল্য তৎকালে ধনীগণ লাদাউ দালান নির্মাণ করিতেন; তাহা অধিক কাল স্থায়ী হইত। কোন কোন পুরাতন দালান অদ্যাপি অটুট রহিয়াছে। উপরে অশ্বথ বৃক্ষ জন্নিয়াছে, দ্বিখণ্ড করিতে পারে নাই। প্রবল ভূকম্পে বরং বসিয়া গিয়াছে, কিন্তু ভাঙ্গে নাই। ভদ্র বিশিষ্টের বহিবর্বাটীতে পুফরিণীপারে শিবমন্দির ও ভিতর বাটীতে বিষ্ণু মন্দির থাকিত; গৃহস্থ ঠাকুরের সেবাতে মনোযোগী থাকিতেন; পূজারি দ্বারা রীতিমত পূজা অঙ্চা হইত। লোকের দেবদ্ধিজ ভক্তি ছিল। গৃহস্থ নিদ্রা ত্যাগ করিয়াই ঠাকুর ঘরের ছারে প্রণাম করিয়া বা সূর্য্য প্রণাম করিয়া, গো গৃহের দোয়ার নিজে খুলিয়া গরু কেমন আছে দেখিতেন। কাহারও বাটীতে কিছু ফলিলে অগ্ে দেবতা ও ব্রাহ্মণকে না দিয়া খাইতেন না৷ দ্রব্যাদি সুলভ ছিল, টাকায় দেড়মণ চাউল পাওয়া যাইত, ঘৃতের সের আনা, তৈলের সের আনা, দুধের সের দুই পয়সাতে পাওয়া যাইত। কোন কোন গ্রামে দুধ বিক্রয়ই হইত না! মাসে এক টাকা খরচ করিলে একজনে রাজভোগে খাইতে পারিত। চাকরের মাসিক বেতন আনা, ॥০ আনা কি উর্দসংখ্যা আনা ছিল,। জমির মূল্যেও সুলভ ছিল, এক কেদার ভূমি দশ টাকার অধিক মূল্যে বিক্রয় হইত না। ভ্রমণে ভয় পথের সুবিধা না থাকিলেও লোকে তীর্থ যাত্রা করিত। ভর সঙ্কুল পথে স্ত্রী-পুরুষ দল ঝাধয়া তীর্থে যাইতেন। জীবনে একবার তীর্থ দর্শন না করিলে জীবন বৃথা গণ্য হইত। এক দিনের পথ পঞ্চম অধ্যায় : ইংরেজ আমলের প্রথম শতাব্দী শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৪৪৩ খাওয়াইত। যাত্রীকে উপযুক্ত রূপ লোক লঙ্কর লইয়া সুরক্ষিত ভাবে চলিতে হইত । তথাপি পথে প্রায়শঃ রাহাজানি, ডাকাতি হইত। ভাটা অঞ্চলের কোন কোন জমিদার দস্যুবৃত্ত ছিলেন বলিয়া জানা যায়। লুঠতরাজ দাঙ্গা হাঙ্গামা প্রায়ই হইত। দারগা, বরকন্দাজ রীতিমত ভয়ের পাত্র ছিল। ইহারা গ্রামে আসিলে লোকে যে কোন প্রকারে তাহাদের তুষ্টি সম্পাদন করিত । জলদস্যুদের ভয় বারণার্থে জল পুলিশ নিযুক্ত ছিল, ইহারা নৌকায় থাকিত। জল পুলিশের নৌকা দস্যু সন্ধানে নদী পথ ভ্রমণ করিত। ইহাদের নৌকায় “নাগরা” থাকিত; দারগার নায়ের নাগরার ধ্বনিতে লোক চমকিত ও ত্রাসিত হইত। কাছারীর আমলাগণ, এমন কি হাকিম পর্য্যন্ত বেজায় ঘুষ প্রিয় ছিলেন । বিচারে ঘুষ প্রদানই মোকদ্দমা জয়ের কারণ ছিল। ঘুষের জোরে একজনের সম্পত্তি অপরের হইয়া যাইত। তবে এখনকার মত এত মিথ্যা সাক্ষ্য ছিল না। আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য ভয়ানক পাপ কাজ বিবেচিত হইত। কিন্তু অনেক বিষয়ই পঞ্চায়েতের দ্বারা মীমাংসিত হইত, তাহাতে ন্যায়ের মর্যাদা বিশেষ ভাবে রক্ষিত হইত। ধরিত্রী এত অনুর্ব্বরা ছিল না, ক্ষেত্রে অল্পয়াসে প্রচুর শস্য জন্মিত। গাতীতে যত দুধ দিত, গাছ যত বড় হইত ও যত বেশী ফল ধরিত, এখন তাহার অর্্া অর্দি হইয়াছে । রোগ-শোক এত অধিক ছিল না; তখন সড়কের বাহুল্য ছিল না-_দেশের জল প্রবাহ ভালরূপ নিষ্কাশিত হইবারও বাধা ছিল না। সুতরাং ম্যালেরিয়ার এত প্রকোপ হয় নাই। ওলাউঠাই একমাত্র মহামারী ছিল, বহু বৎসর পরে ইহা এক একবার দেখা দিত। লোক সবল ও সুস্থদেহ, প্রফুল্প ও শ্রম সহিষ্ণু, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও ধর্মপ্রাণ ছিল। দুর্ভিক্ষ্য তখন এইরূপ “গায়ের লাগা” ছিল না; এক পেটের জন্য লোকের কোন চিন্তাই করিতে হইত না। গৃহস্থের সন্তানাদিও সংখ্যায় অধিক, দীর্ঘজীবী ও সুস্থকায় হইত। স্ত্রীলোকের ব্যবহার ত্রীলোকের ব্যবহারে এখন যেরূপ বিলাসিতার লীলা পরিলক্ষিত হয়, তখন অদ্বপ ছিল না; এ বিষয়ে শ্রীযুক্ত সারদা চরণ ধর মহাশয় আমাদিগকে এইরূপ লিখিয়া পাঠাইয়াছেনঃ-_- “ব্রাহ্মণ ও শুদ্র লোকের মেয়ে মাত্রেরই কলসী দিয়া পুঞ্করিণী হইতে জল আনয়ন করিতে, পাকশাক করিতে ও চরখা দিয়া সূতা কাটিতে হইত,"ইহাতে কেহই লজ্জা মনে করিত না। সূতা কাটার পয়সা মেয়েদের অলঙ্কারের ন্যায় নিজস্বই হইত। বিধবারা সূতা কাটিয়াই শিশু সন্তান নিয়ে জীবিকা নিবর্বাহ করিতে সক্ষম হইত; কাহারও গলগ্রহ না হইয়াও থাকিতে পারিত । গৃহস্থ্বাড়ীতে নিত্য ব্যবহার্ষ্য শাকসজী প্রধানতঃ মেয়েদের যত্বেই জন্মিত।' শাশুড়ীকে তাহারা মা হইতেও অধিক ভক্তি করিত। স্বামীকে দেবতার মত, শশুর ও ভাসুরকে গুরুর ন্যায় দেখিত। এই সময়ে কেহ কেহ সহমরণ যাইত বলিয়া জানা যায়। তাহারা স্বামীর পাতে খাইত ও এক' শয্যাতে উঠিতে ও ত্যাগ করিতে প্রতিদিনই স্বামীর পাদবন্দনা করিত। ননদ ভাজে ঝগড়া চিরপ্রসিদ্ধ ছিল। অসতীর ভয়ঙ্কর লাঞ্কুনা ছিল, ধরা পড়িলে চুল কাটিয়া গালে চুণ কালী দিয়া কুলের বাহির করিয়া দিত। অসতী হইবার সুযোগও বড়ই কম ছিল। মেয়েরা মোটা শাড়ি পরাই ভ্দ্রতাজনক ও সম্মানসূচক মনে করিত । মিহ্ধুতির চল ছিল না, চাদর ব্যবহার্ষ্য ছিল। কুলের অলঙ্কার, শাড়ী ও শাল পুরুযানুক্রমে ব্যবহার করা হইত । মেয়েরা সীমান্তে ও ললাটে সধবার চিহ্ন সিন্দুরের বও ফোটা ও হাতে সেরভর ওজনের বড় বড় ধবল শঙ্খা ধারন করিত। শাশুড়ী হইতে পুত্রবধূ 88৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড পৌত্রবধূ পর্য্যন্ত, এমন কি ভাঙ্গিয়া না যাওয়া পর্য্যন্ত অনেক পুরুষে চলিত। স্ত্রীলোকেরা মাথায় টীকা; কানে ঠেক, কানফুল, কড়ি; নাকে নথ ও সেবর; গলায় মালা, হাসলি, পাচ লহরী বা সাতলহরী ব্যবহার করিতেন। হাতে শঙ্খ, কঙ্কণ, বলয়; বাহুতে বাজু বন্ধ, বাজু; পায়ে বেকি, খাড় , ঘুঙগুর ও পাজেব পরিত। মধ্যবিত্ত গৃহস্থের মেয়েরা রজত অলঙ্কারই বেশী পরিত; দুই চারিপদ স্বর্ণালঙ্কারও থাকিত। ধনীদের মেয়েরাও কোমরের নীচে স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহার করিত না। অলঙ্কারের কারুকার্য অপেক্ষা ওজনের গুরুত্বই গৌরবের কারণ হইত । যিনি যত বেশী ওজনের অলঙ্কার ব্যবহার করিতেন, তিনি তত অবস্থাপন্ন ধনীর মেয়ে বা গৃহিনী বলিয়া বিবেচিত হইতেন। স্ত্রীলোকদিগকে নয়নে কজ্জল, পায়ে আলতা ব্যবহার করিতে হইত। শাড়ীর মধ্যে মেঘডন্বর, চন্দ্রকোণা, রাসমগ্ডল প্রভৃতি প্রধান ছিল; কছিদা, ছয়নু ও গণপিছ প্রভৃতির বহুল প্রচলন ছিল; বিবাহের কন্যাকে লেটের চাদর দেওয়া যাইত । স্ত্রীলোকেরা বড়ই লজ্জাশীলা ছিল, কিন্তু গর্ভাধানের সংঙ্কার-উৎসবের ধামালি গানে তাহারা অশ্লীলতার শ্রাদ্ধ করিতেন। শ্রীহত্রে বাসর গৃহের উৎপাত কোন দিনই বেশী ছিল না। বিবাহাদিতে স্ত্রীআচারের বিশেষ ঘটা ছিল। সত্রীলোকেরা কাজকর্মে দক্ষ ছিলেন, সাধারণ ওঁষধপত্র মুখে মুখে জানিতেন ও সময়ে ব্যবহার করাইতেন। তখনকার স্ত্রীলোকেরা স্বীয় চরিত্রে ও গুণে যথার্থই রূপিনী ছিলেন।” বিবাহ ও ভোজন বিবাহ উৎসব বিশেষ ঘটার সহিত সম্পন্ন হইত। বিবাহকালে বরকেও কাণে কুগল, মণিবন্ধে বাজুবন্ধ, গলায় হার এবং মাথায় শোলার মুকুট পরিতে হইত। বরের হাতে কোন কোন স্থলে বালা শোভা পাইত। বরযাত্রী ও কন্যাযাত্রী ধুমধামেব সহিত লোক লঙ্কর লইয়া চলিতেন। উভয় দলে প্রায়ই লাঠিযুদ্ধ হইত ও তাহাতে জয়লাভ না করিলে বিজিত পক্ষকে অনেক বিদ্রুপ সহ্য করিতে হইত। নিমন্ত্রণে সাধারণতঃ নিরূপিত গুয়াপাণ ও সন্ত্ান্ত স্থলে কাটাপাণ ও তৈল না পাঠাইলে নিমন্ত্রণ উপযুক্ত বিবেচিত হইত না। খাওয়াতে রীত্যনুযায়ী উপবেশন করার প্রতি তীক্ষু দৃষ্টি ছিল, (এখনও অনেকটা আছে ।) গ্রামে কে কাহার অগ্রে, কে কোন বংশের পরে বসিবেন, তাহার একটু ব্যতিক্রম হইত না। খাদ্যে নানারকমের পিঠা ও শ্রীহট্রের বিশেষত্ব বিরণীর ভাতের বাহুল্য ঘটিত। জদ্র বিশিষ্টগণ (বোধ হয় যবনানুকরণে) লৌহ নির্মিত আধ-হাত উচু “ভোজন বেড়ীর” উপর থালা রাখিয়া খাইতেন ও ডাবরে মোচন করিতেন। পংক্তি ভোজনের বাধা নিয়ম ছিল, যে সে আনিয়া ভাত পরিবেশন করিতে পারিতেন না, যে সে ঘরের মেয়ে দশজনের জন্য পাক করিতে পাইতেন না। কাহারও সম্বন্ধ একটু খাট হইলে জ্ঞতি গোটা দশজনে সে মেয়ের রীধা পাক স্পর্শ করিতেন না। অন বিচার বড় বেশি ছিল; অন্নানে কেহই খাইত না। পরিচ্ছদ ও আমোদ লামাগরঃ পরের পরিমানে ঝুরি গায়ে চাদর, নিমা, শীতকালে মিরজাই ও আঙ্গরাখা (অঙ্গরক্ষা) ব্যবহার করিত। এক বস্ত্ে বাড়ীর বাহির হইত না। শীতকালে সাধারণ লোকে যুগীয়ানা গিলাপ, মধ্যবিত্ত প্রবীণ ব্যক্তি বনাত, তরুণ বয়স্কগণ দোলাই এবং সন্ত্রাস্তগণ শাল ব্যবহার করিতেন। দরবারে বা রাজদ্বারে যাইতে চাপকান, আচকান, লাটুদার পাগড়ী ও পায়ে নাগরা জুতা পরিতেন। সাধারণতঃ পুরুধেরা ধুতি হাটুর নীচে বড় নামিত না। পুরুষেরা কপালে স্বীয় ধর্ম সম্প্রদায়ের বিধি মত তিলক দিতেন, নব্য বঙ্গের মত তাহা অসভ্যতার বিবেচিত হইত পঞ্চম অধ্যায় : ইংরেজ আমলের প্রথম শতাব্দী শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত 8৪৫ না। চন্দন চর্চিত দেহে মধ্যবিত্ত গৃহস্থ ছাতা-বেহারা সহ গৃহের বাহির হইতেন। বেহারাগণ শ্রীহত্টের পত্র নির্শিত বৃহৎ ছাতি দীর্ঘ বংশদণ্ডে উচু করিয়া মাথার উপর ধরিয়া চলিত। ছাতা বেহারার ব্যবহার আমরাও কিছু কিছু দেখিয়াছি । সন্্ান্ত ধনীগণ পালকীতে বাহির হইতেন। তামাক পাণ মজলিশি ভদ্রতা ছিল, (এখনও আছে ।) সঙ্গীত চন্চা বেশী রকমই ছিল,৪ জুয়াখেলাও খুব চলিত । ঘাটু গানে৫ সকলেই আমোদ উপভোগ করিত, ঘাটুর গানও পরবতী কালের ন্যায় ইতর-জন-সেবিত ছিল না,_কৃষ্ণলীলা গীত হইত । ধনী গৃহস্থের বাড়ীতে ঘাটু ছোকরা রাজভোগে লালিত হইত। দাস দাসী দাস দাসীর সংখ্যা বাহুল্য সন্ত্রমাধিক্যের কারণ হইত । ভদ্রলোক মাত্রেই এক জন নফর সঙ্গে না থাকিলে ঘরের বাহির হইতেন না। খালি মাথায় বাহির হওয়া অনেক স্থুলেই অরীতি গণ্য হইত । পাগড়ী, লাঠি ও সাথে নফর থাকাই জদ্রত্বের পরিচায়ক ছিল। দাস দাসীদের প্রতি অনেক সময় নির্দয় ব্যবহার করা হইত। বাদিরে লাথি গোলামরে কিল ।” দাস দাসীকে “দুরস্ত” রাখিবার এই মন্ত্র বা শ্লোক হইতেই ইহার প্রমাণ পাওয়া যায়। এই সময়েও দাস দাসী বিক্রয়ের প্রথা দূর হয় নাই, তবে দাস দাসীর মূল্য আমলাপেক্ষা কিঞিওৎ বর্ধিত হইয়াছিল এবং বিক্রেতাগণ বিক্রয় লব্ধ অর্থ হইতে মুনিবানা বা মালিকানা বাবতে কিছু রাখিয়া অবশিষ্ট মূল্য দাসদাসির আত্মীয়স্বজনকেই দিতেন,৬ কিন্তু পৃবের্ব এ রীতি ছিল না ।৭ বিপদে পড়িয়া ৪. সঙ্গীত চর্চার ফল স্বর্নপ শ্রীহট্টরে অনেক বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞের ও সঙ্গীত রচয়িতা উদ্ভব হইয়াছিল; শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্রের বংশ-বৃত্তান্ত ও জীবন-বৃত্তান্ত ভাগে ইহাদের কথা লিখিত হইবে । ৫. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত-ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ভাগে অষ্টম অধ্যায়ে ইহার উল্লেখ করা গিয়াছে; মান, মাথুর ইত্যাদি ভেদে ঘাট্ুগান রচিত হইত । শ্রীযুক্ত দীনেশ চন্দ্র সেনকৃত “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য” গ্রন্থের ৭ম অধ্যায়ে শ্রীহট্রের বি সত্যরাম কৃত একটি ঘাটু সঙ্গীত প্রকাশিত হইয়াছে। ৬. প্রমাণ স্বরূপ আমাদের গৃহ-সংরক্ষিত মদীয় খুল্পপিতামহ নামীয় কয়েক খানা মনুষ্য-ক্রয়-পত্রর হইতে এক খানা দলিলের অবিকল নকল এস্থলে উদ্ধীত হইলঃ- “ইআরদিকীদ্ধক শ্রীফকীরচন্দ্র দাস ওলদে কানুরাম দাস চৌং সাকীন পরগণে জফড়গড় মৌজে ছায়াবাড়ি সদাশয়েষু লেখিতং শ্রীশান্তরাম দাস ওলদে পশাই রামদাস সাকীনাআন লোহারপাড়া মতাবেক পরগণে ডৌয়াদিগ নির্দোয় ফারগ পব্র মিদং কার্য্যঞ্ঃ আগে তুমার খরিদা নফর শ্রীগনেষ ভির্থর (১) পাশ আমার নফর সুকাই ভির্থর বেটি (২) শ্রীশচিদাসিকে বিবাহ দিবার কারণ নির্দাআনা (৩) মবলগ ১৬ সুল্প (৪) রূপাত্তা (৫) সীক্কা তুমার পাশ হনে (৭) নগদ সমজীয়া নিয়া আমার দাসি মজকুরির মাতাকে ও ভ্রাতাকে সমজাইআ দিলাম এবং আমার মুনিবানা (৮) মবলগ ১-০ পনেদুই ব্ধপায়া সীর্কী সমজীয়া পাইআ দাসি মজকুরিকে নির্দাও (৯) করিআ দিলাম দাসি মজকুরির দস্তর মতে তুমার কালিজি (১০) কার্য্য করিব এং দাসি মজকুরির গর্ভে যে সন্তানাদি হৈবেন এই শিরাতে (১১) আমার কুন (১২) অর্থে দাবি নাই দাসি মজুকুরি ও সন্তাদির উপর আমি ও আমার সন্তান ইদর কুন অর্থে কুন দাবি নাই ও না রহিল আমার শত্ত পরিত্যাগে তুমি ও তুমার সন্তান আদির শত্ত (১৩) করিয়া দিলাম দান বিক্রি সত্যাধিকার সন্তানাদি ক্রমে তুমার এতধর্থে নির্দাও ফারগ পত্র লেখিআ দিলাম ইতি সন ১২৪৩ সাল বাঙ্গালা মাহে ২৪ বৈশাখ ।” (পোর্থে সাক্রি সত জনের নাম ও দক্ষিণ শীর্ষে বিক্রেতার নাম আছে । আট আনার ষ্ট্যাপ |) ৭. ২য় খণ্ড ৩য় অধ্যায়ের শেষাংশে উদ্ধৃত টীকায় দাসী বিক্রয় পত্র দ্রষ্টব্য । ৪৪৬ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড স্বাধীন ব্যক্তিগণ আত্মবিক্রয় পূর্বক চিরদাসত্ব অঙ্গীকারেরও উদাহরণ পাওয়া যায় ।৮ মোসলমান মাহি জাতি দেশে দুর্ভিক্ষ এত ছিল না, দৈবাৎ উপস্থিত হইলে নিম্ন শ্রেণীর লোক জাতি ত্যাগ করিত; মোল্লাগণ তাহাদিগকে মোসলমান করিয়া লইতেন। এই সম্বন্ধে শ্রীযুক্ত সারদা চরণ ধর মহাশয় আমাদিগকে লিখিয়াছেন যে, “এ জিলার জদ্র অজদ্ধ অধিকাংশ মোসলমান জাতিমারা হিন্দু। কৈবর্ত, মাল, ডোম, চাড়ালগণ মোসলমান হইয়া “মাহি' নাম ধারণ করতঃ অদ্যাপি পূর্ব্ব ব্যবসায়ই করিতেছে । আর অন্যান্য জাতি “শেখ' ইত্যাদি হইয়া কৃষি ও অন্যান্য কর্ম করিতেছে । ভদ্র মোসলমানগণ কায়স্থ-ব্যবসায় করিতেন, এখনও করেন। কি হিন্দু কি মোসলমান,-সামান্য লোকে পাদুকা ব্যবহার করিতে পারিত না, বিবাহের নহবৎখানা উঠাইতে পারিত না এবং তীহাদের স্ত্রীলোকেরা নাকে নথ ও পায়ে অলঙ্কার পরিতে পারিত না।” পর দেবকার্য্য জদ্র গৃহস্থের বাটীতে দোল দুর্গোৎসব হইত, যতদূর সাধ্য স্বয়ং কর্তাই দেবকার্ষ্যে স্বহস্তে কর্ম করিতেন, এই সময়ে কেহ পাদুকা ব্যবহার করিতেন না। গুরুদের বাড়ীতে আসিলেও কেহ খড়ম বা জুতা ব্যবহার করিতেন না ও পাড়ার সকলেই সেই বাড়ীতে আসিয়া প্রসাদ পাইতেন। দুর্গোৎসবে কাঠাম বিসর্্জনে যাওয়া কালে প্রতি গ্রামেই কে আগে যাইবেন, কাহার কাঠাম পাছে ৮. প্রমাণ স্বরূপ আমাদের গৃহ-সংরক্ষিত মদীয় পিতামহ নামীয় কয়েক খানা মনুষ্য-ক্রয়-পত্র হইতে একখানা দলিলের অবিকল নকল এস্থলে উদ্ধৃত হইলঃ- “ইআদিকীর্ঘ শ্রীগৌরচন্দ্র দাস ওলদে কানুরাম দাস চৌং সাকিন পরগণে জফরগড় মৌজা । ছায়াবাড়ী সদাশয়েষু লেখিতং শ্রীগনেস কুইস্যারি (১) উদ্মর (২) আন্দাজী ২৫ পচিশ বছর (৩) ওলদে জীত রাম কুইসারি সাকীন পরগণে সাবাজপুর মৌজে চান্দপুর ইলাল পরগণে জফরগড় মৌজে ছায়াবাড়ী মজকুর আত্মবিক্রয় পা্টরা পত্র মিদং কার্য্যঞ্চঃ আগে আমি খানি বেগর (৪) ও পুসাগ (৫) বেগর পেরেসান (৬) কুন মতে জীবিকা রক্ষা হওয়াতে এবং ইমাক্যাদার (৭) হেয়া (৮) ইমাক্যা পরিশোধ ও পরদাক্ত (৯) হৈতে পারিনা প্রযুক্ত আমি আমার সইছা (১০) পূর্বক সহুসে (১১) আমার আত্ম অজয়মাল (১২) ১৬ শুল্প (১৩) টাকা সীক্যা লৈয়া (১৪) আপনার স্থানে আত্ম-বিক্রি হৈলাম তহরির তারিখ আবদি (১৫) আপনার খানি (১৬) খাইয়া ও পুসাগ পৈরিয়া হামেসা (১৭) নিকট হাজির (১৮) থাকিআ আবরণী (১৯) হেজমত (২০) নেসী (২১) ঝুটা আঙ্গাক্তি (২২) সত্রব কাজী (২৩) বেদস্তুর (২৪) ভির্থত্তান (২৫) কর্ম জখন্‌ (২৬) জাহা আজ্ঞাকর তাহা পালন করিমু এবং আমাকে আপনে বিবাহ দিলে জে (২৭) সন্তান আদি হৈবেক (২৮) তাহারাহ (২৯) আপনার ভির্থান (৩০) হৈবেক আমি ও আমার জে সন্তান ক্রমেতে আপনে ও আগনার সন্তান আদির দান বিক্রি সত্যাধিকার হৈল (৩১) আর অজেমাল (৩২) মং মজকুর আপনার পাস (৩৩) হৈতে আমার নিজ হস্থে বেবাক (৩৪) সমজিয়া লৈয়া আমার ইসাকা পরিশুদার্থে (৩৫) দিলাম এতদর্থে আত্মবিক্রি পান্টা পত্র লেখিয়া দিলাম। ইতি ১২৪২ সাল বাঙ্গালা মাহে ৬ শ্রাবণ । (পার্থ সাক্ষি ৬ জন, দক্ষিণ শীর্ষে দলিলদাতা ও দলিল লেখকের নাম আছে। স্ট্যাম্প।1০ আনা ।) (১) রাঢু জাতীয় লোকেরা পুর্ব “কুইসারি” বা কুশিয়ারি খেতাব লিখিত। ইহারা প্রধাণতঃ কুশিয়ার উৎপন্ন করিয়া থাকে । (২) বয়স, (৩) বৎসর, (8) জন্য, (৫) পোষাক, (৬) শঙ্কট, (৭) “ইসাক্যা” ও পাঠ করা যায়। (৮) হইয়া, (৯) পোষণ, (১০) স্বইচ্ছা, (১১) স্বজ্ঞানে, (১২) মূল্য, (১৩) ষোল, (১৪) লইয়া, (১৫) অবধি, (১৬) ভক্ষ্য. (১৭) সব্র্দা, (১৮) উপস্থিত, (১৯।২০।২১।২২।২৩।২৪) বুঝা গেল না। (২৫) ভূত্যোপযোগী, (২৬) যখন, (২৭) যে, (২৮) হইবেক, (২৯) তাহারাও, (৩০) ভূত্যবগ, (৩১) হইল, (৩২) মূল্য, (৩৩) পাশ, (৩৪) সমুদয়, (৩৫) পরিশোধার্থে। পঞ্চম অধ্যায় : ইংরেজ আমলের প্রথম শতাব্দী শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ৪৪৭ যাইবে ইত্যাদি বাধা নিয়ম ছিল। বিবাহ ও শ্রাদ্ধ সভাতে এবং গোবিন্দ কীর্তনের মেলে সামাজিক গোলমাল মীমাংসিত হইত । পুরাণ পাঠ, শনি ও সত্যনারায়ণের সেবায় পাঁচালী পাঠ, এবং শ্রাবণ মাসে পদ্ম পুরাণ পাঠ হইত, সুর সংযোগে যিনি লাচাড়ী গাইতে পারিতেন, তাহার খুব নাম ছিল। চামর হাতে খোল করতাল যোগেও পদ্মপুরাণ এবং চৈতন্যমঙ্গল গীত হইত। বৈষ্ণবের ঘরে ঘরে তুলসী ও চন্দন সহ ভাগবৎ ও বিশ্বস্তরের (শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থের) পুজা ও ধূপ ধুনা দেওয়া যাইত। গ্রাম্য-বন্ধন গ্রাম্য মেলবন্ধন বড়ই সুন্দর ছিল। ব্রাহ্মণ ভদ্র, বড় ও ছোট লোক একে অন্যকে বয়সের হইলেই কেহ কাহাকেও নাম ধরিয়া ডাকিবার নিয়ম ছিল না, উহা বড়ই বে আদবি গণ্য হইত। ভাণ্ডারী বা ভূত্যবর্গের সহিতও এইরূপ গ্রাম সম্বন্ধ্য রক্ষিত হইত এবং ব্যবহারে তাহা যেন প্রকৃত সম্বন্ধ বলিয়াই বোধ হইত । একান্নবর্তী প্রথাতে তখন বিকারের কীট প্রবেশ করে নাই; বাড়ীর বয়োজ্যেষ্ঠ যাহা করিতেন, অপর সকলের অবাধে তাহা মানিয়া চলিত; ছোট ভাই বড় ভাইকে পিতার মত ও তাহার স্ত্রীকে মাতার সমান দেখিতেন। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা “হামবড়াই” ভাব অপরিজ্ঞাত ছিল। হিন্দু মোসলমানে সপ্তাব ছিল, কোন কোন গ্রামে মোসলমানেও বিষহরি ও শীতলি দেবীর পুজা দিত, দুর্গোৎসবের মিছিলের সঙ্গে মোসলমানরাও যাইত, পক্ষান্তরে মহরমের সময় হিন্দুরাও তরবারি খেলায় মাতিত। সতক্রিয়া ও সুশিক্ষা কোন গৃহস্থের অবস্থা উন্নত হইলেই দেবালয় স্থাপন, পুকরিণী ও অশ্বথ নির্মাদি করিতেন। ইতর লোকেরা টাকা হইলে নৌকা এবং পাট বিষহরি পূজাই অধিক করিত। নৌকা পূজার বিবরণ ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ভাগে (অষ্টম অধ্যায়ে) বলা গিয়াছে; বহু সংখ্যক দেবদেবীর প্রতিমূর্তি সহ বিষহরির কাঠাম প্রস্তুত ক্রমে পূজা করাই নৌকা পুজা নামে খ্যাত। মানসিক কাব্যদুর্গা ও ডরাই পূজায় কপালী (কেওয়ালি) ও গুরমা (নপুংসক) গণ গান গাইত, উহাদের অশ্ীলতা গানে দুই ব্যক্তি একত্র উপবেশন করা কঠিন হইলেও অনেক লোকই তাহার পক্ষপাতি ছিল। ইহা এক রূপ উঠিয়াই গিয়াছে। পাড়ায় পাড়ায় রামায়ণ মহাভারত পাঠের প্রথা বড়ই সুন্দর ছিল; বলিতে গেলে কৃত্তিবাস ও কাশীদাসের প্রভাবে,_রাম যুধিষ্ঠিরাদির আদর্শেই বঙ্গ সমাজ গঠিত হইয়াছিল এবং সে প্রভাব আজ পর্য্যন্ত একবারে লুপ্ত হয় নাই। হাট হইতে মধ্যবিত্ত ব্যক্তিরা ঘরে ফিরিলে হাত পা ধুইয়া কাপড় বদলাইয়া ঘরে যাইতেন। বাহ্যক্রিয়া সমাপনান্তেও বন্ত্রত্যাগ ও গা ধুইতে হইত । জলগ্রহণ ব্যতীত কেহই প্রস্রাব করিত না, লোকের ্বাস্থ্যও ভাল ছিল। ছেলেদের সুশিক্ষার বন্দোবস্ত ছিল। প্রাচীন শিক্ষাপদ্ধতি এসময়ে উঠিয়া গেলেও গুরুমহাশয়ের বেত্রের গুণে ছাত্রের চরিত্র অনেকটা মার্জিত হইত। ছেলেরা পিতামাতার নিকট মুখে মুখে চাণাক্য শ্লোক শিখিয়া লইত ৷ ভূমিতে বানুকাস্তর বিস্তার করিয়া খড়ি দিয়া তাহাতে ক খ লিখিত, ও “শিশুবোধক” হইতে “ক য়ে করাত, খ য়ে খরগোস” শিখিত। লিখিবার উন্নতির সহিত কলাপাতে ও সবর্বশেষে ভোটিয়া কাগজে লিখিবার অধিকার পাইত। ছুটীর পূর্বে ৪৪৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড খড়িবাড়ী মাটীতে রাখিয়া তাহার উপরে মাথাদিয়া সরস্বতী প্রণাম করতঃ বাড়ী যাইত। সন্ধ্যার গর মজলিসে অভিভাবকদের মধ্যেও কখন কখন “শ্রোককণ্ঠ” চলিত। ইহাকে শ্রোকের লড়াই বলা যাইতে পারে। একজন প্রথমে একটি সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারণ করিতেন, প্রতিদবন্দথীকে উচ্চারিত শ্রোকের শেষাক্ষরকে আদ্যাক্ষর করিয়া আর একটি বলিতে হইত; তখন প্রথম ব্যক্তিকে তদুচ্চারিত শ্লোকের শেষাক্ষরযুক্ত আর একটি শ্লোক বলিতে হইত, এইরূপ এক এক জন শত শত নৃতন শ্লোক আবৃত্তি করিয়া, পরাস্ত না হওয়া পর্য্যন্ত শ্লোক শিক্ষার পরিচয় দিতেন ও আমোদ উপভোগ করিতেন। ফলতঃ লোক অনেক পরিমাণে মার্জিতি চরিত্র ও সত্তুষ্ট ছিল। মোসলমানের পর ইংরেজের নৃতন ও সুব্যবস্থিত শাসনে দেশের চোর দস্যুর ভয় দূর হওয়ায় লোকে অনেকটা নিরাপদ হইয়াছিল। ইংরেজের ন্যায়পরাণতার প্রতি কাহারও সন্দেহের কোন কারণ ছিল না। ইংরেজ রাজপুরুষেরাও দেশের লোকের সহিত মিশিতেন। রাজনৈতিক কোন আন্দোলনের প্রয়োজন পড়িত না। কেবল ১৮৭৪ সালে শ্রীহট্ট আসাম ভুক্ত হওয়ার সময় একটু আন্দোলন চলিয়াছিল; তাহাও লাট সাহেব বাহাদুরের আশ্বীসবাণীতে অল্লেই দমিত হইয়াছিল। বস্তুতঃ ইংরেজ আমলের প্রথম শতাব্দীতে শ্রীহট্টবাসী এতটা অভাব্রস্থ ছিল না, সুতরাং সুখেই ছিল। উপসংহার--কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক সীমাদি--কাছাড় জিলার উত্তরে নওগা ও নাগা পাহাড়, পৃবের্ব মণিপুর, দক্ষিণে লুশাই পাহাড়, পশ্চিমে শ্রীহট্ট জিলা ও জয়ন্তীয়া পাহাড় । এই জিলার পার্বত্য অংশ উত্তর কাছাড় নামে খ্যাত। কাছাড় জিলার পরিমাণ ফল ৩৭৬৯ বর্গমাইল এবং লোক সংখ্যা ৪৫৫৫৯৩ জন মাত্র । বিভাগাদি-_-কাছাড়ে সদর বিভাগ (শিলচর) ও হাইলাকান্দি এই দুইটি সবডিভিশন আছে; হাফলং বিভাগই উত্তর কাছাড়। এতদংশ ব্যতীত কাছাড় জিলার পরিমাণ ফল ২৩৬৩ বর্গ মাইল এবং লোক সংখ্যা ৪১৪৭৮১ জন। কাছাড়ে শিলচর, লক্ষীপুর, হাইলাকান্দি ও কাঠিগড়া এই চারিটি থানা ও সুনাই এবং কাটিলিছড়া এই তিনটি ফাড়ি থানা আছে । কাছাড়ে উল্লেখিত ২২টি পরগণা, ১০৭৮টি গ্রাম ও ৯৫৬১৬ খানা বাড়ী আছে। ডাক্তার খানা-_কাছাড় জিলায় শিলচর, হাইলাকান্দি, কাঠিগড়া, হাফলং, লক্ষ্মীপুর, বড়খলা, ফেন্ছাছড়া এই সাতটি ডাক্তারখানা আছে। ফ্কুল--শিলচর ও হাইলাকান্দিতে দুইটি এনট্রেন্স স্কুল আছে, মধ্য ইংরেজি স্কুলের সংখ্যা তিনটি ও মধ্য বাঙ্গালা স্কুল একটি । উচ্চ প্রাইমারী স্কুলের সংখ্যা ১১টি এবং নিম্ন প্রাইমারী স্কুল ২৩০টি; বালিকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪টি মাত্র। তদ্যতীত একটি ট্রেইনিং স্কুল ও সার্ভে স্কুল আছে। কাছাড়ে দুইটি মুদ্বাযন্তর আছে এবং শিলচর নামে একখানি সংবাদপত্র প্রকাশ হইয়া থাকে । ডাকঘরাদি--কাছাড়ে পোষ্ট অফিসের সংখ্যা ৩০টি; তন্মধ্যে ১৯টিতে টেলিগ্রাফের তার সংলগ্ন আছে। সুরমা উপত্যকার কমিশনার সাহেব শিলচরেই অবস্থিতি করেন । এ জিলা, একজন ডিপুটা কমিশনার কর্তৃক শাসিত, তাহার জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট উভয়ের ক্ষমতাই আছে; তাহার অধীনে এসিষ্টান্ট কমিশনার প্রভৃতি আছেন । পব্বতাদি_বড় আইল, রেংটি, টীলাইন প্রভৃতি কাছাড়ের প্রধান পব্বত, ইহার উচ্চতা ২৫০০ হইতে ৫০০০ ফিট পর্য্যন্ত। বড় আইলের উচ্চ শৃঙ্গ হেম্পিওপেট ৬১৫৩ ফিট উচ্চ। বরাক নদীর দক্ষিণ তীরে, জিলার পূর্ব্ব প্রান্তে ভুবন পাহাড়ে প্রসিদ্ধ ভুবনতীর্থ বিরাজমান । এই তীর্থে অনেক ছিন্নাবয়ব প্রস্তর মূর্তি আছে। অনেক সন্যাসী ভূবন তীর্থে গমন করেন । কাছাড়ের পশ্চিম প্রান্তে শ্রীহট্ট ও কাছাড়ের সন্ধিস্থলে সিদ্ধেশ্বর তীর্থ, ইহার বিবরণ ভৌগোলিক বৃত্তান্তে নবম অধ্যায়ে কথিত হইয়াছে । নিমাতা পাহাড় এখন একটি স্বাস্থ্য নিবাসে পরিণত হইয়াছে। নদী ও বিল--বরবক্র বা বরাকই কাছাড়ের প্রধান নদী। সোনাই, ধলাই, জিরি, জাটিঙ্গ প্রভৃতি ইহার উপনদী । হাওরের মধ্যে বকরি হাওর (১০ বর্গ মাইল), বোয়ালিয়া (৬ বর্গ মাইল), চাতলা (দের্ঘ্য ১২ মাইল, প্রস্ত ২ মাইল,) বয়া (২ বর্গ মাইল) প্রভৃতি প্রধান। পানিমুরের নিকটে কপিলী নদীর তীরে উষ্*প্রত্রবণ আছে। খনিজদ্রব্য--মাইবঙ্গের উত্তরে এবং গংজঙ্গের নিকটে চুণা পাথরের খনি আছে। বরাক শ্ীহপ্টরের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-২৯ ৪৫০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড নদীর তীরে মাছিমপুরে মেটে তৈল মিলে, দামছড়াহাজার উত্তরে লারং নামক স্থানে কেরাসিন তৈল আছে বলিয়া জানা গিয়াছে। সরসপুর ভুবন প্রভৃতি পাহাড়ে লবণাক্ত উৎস আছে। উৎপন্ন দ্রব্য-কাছাড় হইতে প্রধানতঃ চা, ধান, ইক্ষু, সুপারি, তিসি কার্পাস, কলাই, রবার, মোম, কাষ্ঠ, বেত্র, বাশ, ইন প্রভৃতি উৎপন্ন দ্রব্য প্রতি বৎসর রপ্তানি হইয়া থাকে। কাছাড়ে চা বাগানের সংখ্যা ১৩৬টি, তন্মধ্যে সদর ডিভিশনে ১১৭টি চা ক্ষেত্র আছে। ১৮৫৫ খৃষ্টাব্দে কাছাড়ে সর্বপ্রথম চা বাগানের সৃষ্টি হয়। সমতল কাছাড়ে বাজ'রের সংখ্যা ৫৩টি মাত্র । কাছাড়ের প্রধান নগর শিলচর। লক্ষ্মীপুর একটি প্রসিদ্ধ বাজার সোনাইমুখ কাষ্ঠ ও বাঁশ প্রভৃতি কারবারের প্রধান কেন্দ্র। কাছাড়ে প্রতি বৎসর একটি মেলা বসিয়া থাকে। সিদ্দেশ্বরের বারুণী অতি প্রসিদ্ধ। জীবজন্ত্র-_কাছাড়ের দক্ষিণ অংশে হাতী পাওয়া যায়। তথ্যতীত বন্য, মহিষ, বৃষ, ভন্ুক, বিবিধ জাতীয় বানর, বনমানুষ প্রভৃতি আছে। পক্ষীর মধ্যে বন্য হংস, ময়ুর, তোতা ইত্যাদি এবং গৃহপালিত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষই প্রধান । অধিবাসী-_ নাগা, কুকি, মিকির, কাছাড়ী ও মণিপুরীই প্রধান । বাঙ্গালীর সংখ্যা নিতান্ত অল্প নহে; ইহারা সমস্তই শ্রীহট্ট জিলা হইতে তথায় গিয়া বাস করতঃ তথাকার অধিবাসী বলিয়া পরিণত হইয়াছে। নিম্নলিখিত পরগণা সমূহের অনেকটিতেই বাঙ্গালী অধিবাসী আছে। কাছাড়ের ২২টি পরগণার নাম আয়তন, তালুক বা পান্টরার সংখ্যা এই স্থলেই সন্নিবেশিত করা গেলঃ-_ পরগণা, যথা নাম আয়তন তালু, খ্যা রাজস্ক (বর্গ মাইল) (টাকা) । ১. উদারবন্ধ ৫৭ ৩৭৮ ০ ২. কাঠিগড়া ১৮ ৩২৮ ৫৭৯৯ ৩. কালাইন ২৩ ৩১২ ৭১২৮ ৪. গুমরা ৫ ২৯০ ৩২৬৬ ৫. চাতলাহাঁওর ১২৯ ২৭৪০ ৩০১৫৬ ৬. জয়নগর ২৬ ২৫৮ ৩৩৪২ ৭. জলালপুর ১০ ১৭১ ৩৩৫০ ৮. ডেভিড্সনাবাদ ৫৫ ৯ ৩২৬৬ ৯. ফুল্বাড়ী ১০ ১৯৮ ৪০০৭ ১০. বনরাজ ১৬৩ ২৪৫ ১০৮৮৬ ১১. বড়খলা ৩৮ ৪৩৩ ১৪২৯৫ ১২. বর্ণাপুর ৩৭ ৮৮৮ ১৭৫৮৮ ১৪. বংশাকু্ ৫৩ ১৬৭ ৩৪৩৮ ১৫. বিক্রমপুর ২২ ৩৮৩ ৭৮১৬ ১৬. যাত্রাপুর ১২ ৩৯৩ ৫১২৬ ১৭, রাজনগর ১০ ১৯৮ ৪8০০৭ ১৮. -পাইর বালি ৩৩ ১৮১ ০ . নর ১০৫ ৯২২ ৩০২৭৪ উপসংহার- কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৪৫১ ২০. লেভারপুতা ১০ ১১২ ১৯১৪ ২১. সরসপুর ৭৪ ৫৩২ ০ ২২. সুনপুর ৩০ ৬২৯ ০ বর্গমাইল ও টাকার ভগ্নাংশ এস্থলে লিখিত হইল না। এঁতিহাসিক এ পৃর্বকথা কাছাড়ের পুরর্বনাম হৈড়ম্বদেশ। কথিত আছে যে, হিড়িম্বা,নান্নী রাক্ষসী এই স্থলে বাস করিত, তাহার গর্ভে ভীমের ওরসে ঘটোতকচের জন্ম হয়। ঘটোতকচ এই প্রদেশের রাজা হইয়াছিলেন। হিড়িম্বার বাসস্থান বলিয়া এই প্রদেশ হৈড়ন্ব দেশ নামে অভিহিত হয়। কাছাড়ের শ্রীযুক্ত মণিরাম বর্মা মহাশয় আমাদিগকে লিখিয়াছেন যে, কাছাড়ী জাতির মধ্যে প্রচলিত স্তব বাক্যে হৈড়ম্ব শব্দের অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী বটবৃক্ষ সমব্িত পবিত্র স্থান। কেহ কেহ বলেন, প্রাচীন বারণাবত নগরার নিকটে হিড়িম্বার বাসস্থান ছিল, বর্তমান কাছাড়ে নহে। কাছাড়-রাজবংশ কামরূপের ফা বংশীয় কোন রাজ্যত্রষ্ট নৃূপতি হইতে উদ্ভূত । পরে এই দেশে কাছাড়ী জাতি বসতি করে । গেইট সাহেবের মতে কাছাড়ী জাতির বাসভূমি বলিয়া ইহা কাছাড় নামে অভিহিত হইয়াছে। অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয়ের মতে, সংস্কৃত কচ্ছ শব্দ হইতে শ্রীহস্টীয় অপভ্রংশে কাছার (পবর্বত সন্নিহিত স্থান)। এবং তাহা হইতে কাছাড় নাম হইয়াছে, এবং কাছাড়ের প্রধান ও আদিম অধিবাসীই কাছাড়ী জাতি বলিয়া খ্যাত হইয়াছে।১ কিন্তু হিড়িম্বা নামের সহিত এই জাতির বাসস্থানের সম্বন্ধ পুবর্ব হইতে ছিল বলিয়াই জানা যায়। পৃবের্ব ইহারা কামরূপে বাস করিত, তথা হইতে ক্রমে দক্ষিণাবর্তী হইয়াছিল। কোচ জাতির উৎপাতে পরে ইহারা ডিমাপুরে আসিয়া বাস করে। তাদের মতে এ স্থান হিড়িম্বাপুর নামেই খ্যাত ছিল, পরে বৈদেশিক লেখকগণ হিড়িম্বাপুর তৎপর ডিমাপুর আখ্যা ধারণ করে । আবার কাছাড়ী জাতির সাধারণ উপাধি ডিমাচা । ডিমাচাগণ মধ্যে যাহারা রাজ সিংহাসনে আরোহণ করিতেন বিষ্ণু অংশ বলিয়া পরবর্তী কালে তাহারাই নারায়ণ উপাধি ধারণ করেন। এই ডিমাচাগণের বাসভূমিই ডিমাপুর নামে খ্যাত হওয়াও অসম্ভব নহে, যাহা হউক, খৃষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর প্রাচীন লিপিমালাতেও কাছাড়ের রাজগণকে “হেড়বেশ্বর” আখ্যা দেওয়া হইয়াছে দৃষ্ট হয়।২ ডিমাপুরে কাছাড়ীদের প্রাচীন কীর্তির অনেক চিহ্ন এখনও পরিলক্ষিত হয়, যখন আহোম ১.৮]. 0910 15 01 0017010) 000 016 090119115 110৬0 81৬1 01011 00106 (0 10190 1507101 01 080181. ৬০ [11011 25 ৮/61] 0০ 1014 0101 016 1২2100115 00৬০ 1020176 0110 [0100. 1176 1901 15 01100 1106 10100 1005 1601) 61৬91) (0 06 0150101 09% 019 130169115 01 5911161, 0০011501115 1) 00101)117 [019৫0 510101710 10100 [700111011)5. 17116 ৮01৫ "19017110115 5011 0564 111 59911561117 00512119111)6 8 09101011010 01 010 (001 01 8 170011101011, | 19 0011৬60 [1017 501151011 "19017010110" ৮1101) 1102115 ”5 [01911 11001 10001119118,” 012 [01906 10601 ৮/০(০1 ৬/1061106 0106 1121706010০ 3151০ 01 9001) 11) 9011098, 0 "70010115” 215 101008119 010০ 11201019501 (5201)20' 25 1106 17301129115 210 01173211691. -4৯, 01008150109 ০12]. 09105 11151019 ০1 4১5501া) 09 210টি 200012010) 3109201100 10. 4.0 14. ২. "76 19011011010 01 01101 01710 ৬95 50160 1,010 01111011109. টিটো) 0015 (1010, 010 10118 11101010001 17110111090 06000010009 ০0০0819 11) 11050111011015 2110 01119] 1000105. *% * 16100519601) 55050600100 11170 10178 19561) 1120 17017)0 01 1170 11580110111 10111070, 2110 0101 10177010015 10)11109 & ০এ]00110। 0 [11110010081 1, 02111115101 01 1/855811. 00720, ৮০ 2244. দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড উপসংহার- কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৪৫৩ জাতি ইষ্টক প্রস্তুত করিতে শিখে নাই, ডিমাপুরের অধিবাসীরা তখন এই নগরের তিন দিক ইষ্টক-প্রাটীরে বেষ্টিত করিয়াছিল । প্রায় দেড় মাইল স্থান ব্যাপিয়া উক্ত প্রাচীরের ভগ্নাবশেষ আছে। ডিমাপুরের দক্ষিণ দিকে প্রাচীর ছিল না, ধনশ্রী নদী এ দিক রক্ষার জন্য ক্ষিপ্রগতি প্রবাহিত হইতেছিল। পূর্বদিকে মজবুদ ইষ্টক নির্মিত জানালা যুক্ত প্রবেশদ্বার । ইহার অভ্যন্তরে এক স্থানে গড়ে পাচ ফিট পরিধি বিশিষ্ট দ্বাদশ ফিট দীর্ঘ খোদিত প্রস্তর-স্তত্ত-শ্রেণী রহিয়াছে; সর্বোচ্চ স্তন্তটির উচ্চতা ১৬ ফিট এবং ঝেষ্টন প্রায় ২৩ ফিট। অদ্যাপি সর্ব্বপ্াসী কাল এ গুলি ধ্বংস করিতে পারে নাই। ইহার একটি আলোক চিত্র এস্থলে প্রদত্ত হইল। জন প্রবাদানুসারে এই নগর প্রাচীন নৃপতি চন্দ্রধ্বজ, কর্তৃক নির্মিত হয়। দেশাঙ্গরাজ ডিমাপুরে রাজত্ব করিতেছিলেন,_-১৫৩৬ খৃষ্টাব্দে একদা তিনি আহোমগণ কর্তৃক আক্রান্ত হন ও পরাস্ত হইয়া ডিমাপুর পরিত্যাগ করেন৷ তদবধিই ডিমাপুর পরিত্যক্ত হয়। সম্ভবতঃ তিনিই মাইবঙ্গ নগর প্রতিষ্ঠা করেন। শত্রুর আক্রমণ হইতে রক্ষার জন্য ভগ্নাবশেষ অদ্যাপি আছে। চিলারায়ের আক্রমণ কিন্তু মাইবঙ্গের বাসও কাছাড়ীদের নিরাপদ হয় নাই। খৃষ্টায় ষোড়শ শতাব্দীতে কোচরাজ নরনারায়ণের প্রসিদ্ধ সেনাপতি শুর্লধ্বজ ওরফে চিলারায়৩ কাছাড় আক্রমণ করেন। তখন কাছাড়ে কে রাজা ছিলেন, জানা যায় না, হেড়ম্বেশ্বর বলিয়াই তিনি উল্লেখিত হইয়াছেন । পরাভূত হইয়া নরনারায়ণের অধীনতা স্বীকার করিতে বাধ্য হন। কাছাড়ে বার্ষিক ৭০,০০০ টাকা ১০০০ মোহর ও ৬০টি হাতী কর নির্ধারিত হয়।৪ যখন কাছাড় রাজ্য বার্ষিক এই গুরুভার বহন করিতে সমর্থ ছিল, তখনকার কাছাড় অত্যুন্নত ছিল, তাহা অনুমান করা যাইতে পারে। শ্রীযুক্ত নিখিলচন্দ্র রায় কৃত মুর্শিদাবাদের ইতিহাস ১ম খণ্ডের ২১৬ পৃষ্ঠায় লিখিত হইয়াছে যে এক সময় রংপুর হইতে ত্রিপুরা পর্য্যত্ত কাছাড় রাজ্যের সীমা বিস্তৃত হইয়াছিল। মাইবঙ্গে অধুনা আবিষ্কৃত একটি প্রস্তর লিপিতে মহারাজ মেঘ নারায়ণের নাম ও ১৪৯৮ শকাব্দ (১৫৭৬ খৃষ্টাব্দ) অঙ্কিত আছে;৫ ইহাতে বোধ হয় যে প্রাগুক্ত “হৈড়বেশ্বর” উপাধিতে এই মেঘনারায়ণই উদ্দিষ্ট হইয়া থাকিবেন। ৩. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ৪র্থ খণ্ড ১ম অধ্যায়ে চিলারায়ের প্রসঙ্গ দ্রষ্টব্য । ৪. “চিলারায়ের নিজর পরাক্রমের হিড়ম্বার রজাক যুদ্ধত ঘটাই করে কয়েক নরনারায়ণ রজার তলতীয়া করে। হিড়ন্বেশ্বর যুদ্ধত ঘাটিলত বছরি ৭০,০০০ টাকা ১০০০ সোণার মোহর আরু ৬০টা হাতী কর স্বরূপে শোধাবলৈ মাস্তি হৈ নিজস্ব করতলীয়া রজা বুলি স্বীকার করে।” -শ্রীযুকত পদ্মনাথ বরুয়া প্রণীত “আসামর বুর্জ” ৫ম অধ্যায় ২০ পৃষ্ঠা। ৫. “শুভমন্তু শ্রীশ্রীমেঘনারায়ণ দেব হাচেউসা বংশ জাহৈ মাইবঙ্গ রাজত। শাকাব্দা ৪। ১৪৯৮ বতেবিখ আষাঢ় ২৬1” ৪৫৪ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড এতিহাসিক ইষ্টক কাছাড় জিলার বহুলাংশ একসময় ত্রেপুর রাজবংশীয়দের অধীনে ছিল। ত্রেপুর রাজবংশীয়গণের রাজধানী যে কাছাড় জিলার স্থানে স্থানে ছিল, তাহা ইতিপুবের্ব৬ বলা গিয়াছে । কথিত আছে কোন কাছাড়াধিপতির পুত্র ব্রৈপুর রাজবংশে বিবাহ করিয়া, প্রায় তিনশত বৎসর পৃবের্ব কাছাড়ের দক্ষিণ দিগবস্তী সমতল ভাগ যৌতুক প্রাপ্ত হন।৭ ১৪৮৭ খৃষ্টাব্দ পর্য্যস্ত হাইলাকান্দি প্রভৃতি স্থান যে ত্রেপুর গণের অধীনে ছিল, তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়।৮ হাইলাকান্দির নিকটে “শুভমস্তু শকাব্দা ১৪ ৯” অঙ্কিত ইষ্টক পাওয়া গিয়াছে; এ ইষ্টকগুলি কোন দীর্ঘিকার ঘাটে ছিল। লোকের ধারণা যে, এই ইষ্টক গুলি ব্রেপুর নৃপতি নির্মিত ।৯ নির্ভয় নারায়ণ ও রণচণ্তী দেবী এবং পরবর্তীরাজগণ খৃষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দী হইতে কাছাড়ের এঁতিহাসিক বিবরণ একরূপ অবগত হয়। উক্ত শতাব্দীর প্রারন্তে কাছাড়-রাজ শক্রদমন জয়ন্তীয়া পতি ধনমানিককে যুদ্ধে ঘোরতর রূপে পরাভূত করতঃ নিজের করপ্রদ করিয়া ছিলেন; তাহার বিস্তৃত বিবরণ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ৪র্থ খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ে প্রদত্ত হইয়াছে । কেবল জয়ন্তীয়া-পতি নহে, বীরবর শক্রদমন আহোম-নৃপতি প্রতাপ সিংহকেও পরাজয় করেন এবং স্বয়ং প্রতাপনারায়ণ নাম ধারণ পূর্বক রাজধানী মাইবঙ্গকে কীর্তিপুর নামে অভিহিত করেন 1১০ ইনিই কাছাড় রাজ-বংশাবলীতে নির্ভয় নারায়ণ নামে কথিত হইয়াছেন ।১১ গল্লে কথিত হইয়াছে যে একদা তিনি স্বপ্রদর্শনে নদী তীরে গিয়া সর্পরূপিনী রণচণ্তী দেবীকে দর্শন করেন। বিষধর সর্পকে তাহার ভয় হইল না, দেবী জ্ঞানে নির্তয় চিন্তে তাহার লাঙ্গুলে হস্তার্পন করিলেন; সর্প তৎক্ষণাৎ অসিতে পরিণত হইল! এই দেবীরূপী তরবারি লইয়া তিনি গৃহে আগমন করিলেন । পরে রাত্রে পুনঃ স্বপ্নে অবগত হইলেন যে, এই অসি সযতেে সংরক্ষিত হইলে তৎকৃপায় রাজবংশে কোন অমঙ্গল স্পর্শ করিবে না। এই তরবারি তথাপি রাজবংশে পূজিত হইতে আরঞ্ু হয়। প্রবাদ আছে যে, কাছাড়ের শেষ রাজার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হইবার পূর্বে এই তরবারি রাজপ্রসাদ হইতে অপসূৃত হইয়াছিল ।১২ ৬. শ্রীহস্রের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ১ম খণ্ড ৪র্থ অধ্যায়ে দেখ। ৭. "71016 15 81018010101) 0101 1 5 (01710119 1110101060 11 00161176001), 110 ৮85 [01950101000 210109 0 01800010009 (0 9 159017011 3218. ৬10 10211100115 0901911001, 9০০৫ 01166 11001)0164 9০915 250." -৬1, 09105 11150019 06455এ, 00700), 20. 0247. ৮. 1৯217)1901101)5 চ২015011.,-1835 4৯. ৮ ৯. ১৪ এবং ৯ সংখ্যার মধ্যে একটা ০ ছিল বলিয়া বোধ হয়, উহা স্পষ্টরূপে পাঠ করা দুষ্কর, ০ হইলে ১৪০৯ শকাব্দ হয়। ূ , 5০৫ 06 1২61১011011 006 [9:00105$ 010110 11191011081 19562101195 111 4১550) (. 10. ১০. শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ৪র্থ খণ্ড ১ম অধ্যায় দেখ। ১১. আমরা কাছাড় হইতে যে রাজ বংশাবলী সংগ্রহ করিয়াছি এবং ১৩০৯ বঙ্গাব্জে অগ্রহায়ণ মাসের শিলচর পত্রে যে বংশাবলী মুদ্রিত হয়, তাহাতে অনেক নামই অতিরিক্ত যোজিত বলিয়া বোধ হয় এবং নাম গুলি ক্রমানুযায়ী লিখিত হয় নাই। &-পরিশিষ্ট (১) ও (২) আমাদের সংগৃহীত ও মিঃ গেইট সাহেবের প্রস্তুত বংশাবলী দেওয়া হইল। ১২. রণচণ্তী দেবীর মন্দিরের চিত্র এস্থলে দেওয়া গেল। পসংহার- কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৫৫ শক্রদমনের মৃত্যুর পর তদীয় পুত্র নরনারায়ণ অত্যল্প কাল রাজ্য ভোগ করিয়া মৃত্যুমুখে পৃতিত হন। তখন তদীয় খুল্পতাত ভীমবল সিংহাসনারোহণ করেন, ইনিই শক্রদমনের সহিত আহোমরাজের পুবর্ব কথিত যুদ্ধকালে সেনাপতিত্ব করিয়াছিলেন। ১৬৩৭ খৃষ্টাব্দে ইহার মৃত্যুর গর তদীয় পুত্র উক্ত বল্পভ কিছুদিন রাজ্য শাসন করেন, তৎপুত্র বীরদর্প নারায়ণ ১ রাজা হন। ইনি এক আহোম রাজকুমারীর পাণিগ্রহণ করিলেও উভয় পক্ষে সভ্ভাব সংরক্ষিত হইতে পারে নাই। নিরূপিত কর প্রদান না করিলে তাহার রাজ্য আক্রান্ত হইবে বলিয়া ১৬৬০ খৃষ্টাব্দে তাহাকে জ্ঞাপন করা হয়! ইহার সময়ে কাছাড় রাজবংশে হিন্দু ধর্ম প্রবেশ লাভ করে, রাজবংশীয়গণ শাক্তমতে দীক্ষিত হন। ইহার নিদর্শন স্বরূপ বীবদর্প নারায়ণ একটি শঙ্খে পৌরানিক দশ অবতারের চিত্র অঙ্কিত করিয়া রাখেন । চিত্রের নিম্নদেশে ১৫৯৩ শকাব্দ বীরদর্প নীরায়ণেব রাজত্ব কালে ইহা খোদিত হয় বলিয়া লিখিত আছে ।১৩ ১৬৭১ খৃষ্টাব্দের পর তিনি জীবিত ছিলেন কি না, জানা যায় না। শক্রদমনের পর গরুড়ধ্বজ নারায়ণ এবং তাহার পর মকরধ্বজ রাজা হন। কথিত আছে যে, ইহার সমযে ব্রহ্মা সৈন্য মণিপুর আক্রমণ করিলে, ইনিই স্বকীয় সৈন্য সাহায্যে ব্রহ্মসৈন্য বিতাড়িত করেন। তৎপরবত্তী রাজা উদয়াদিত্য ৷ ইহারা গড়ে দশ বৎসর করিয়া রাজতৃ করিয়াছিলেন। উদযাদিত্যের পরে ১৭০৬ খৃষ্টাব্দে তাশ্রধ্বজ সিংহাসনারোহন করেন। কথিত আছে, তিনি কোচ বংশীয জনৈক সেনাপতির কাঞ্চনা নান্নী কন্যাকে বিবাহ করিয়াছিলেন । ইহার সময়ে আহোম-পতি রুদ্রসিংহ সপ্ততি সহত্্র সৈন্যসহ কাছাড় আক্রমণ কবেন ও মাইবঙ্গ অধিকার করেন: তাত্রধ্বজ পলায়ন পূর্বক খাসপুর (ব্রক্ষপুর)১৪ গমন করতঃ তথায় অবস্থিতি করেন। ইহার বিস্তৃত বিববণ ২য় ভাগ ৪র্থ খণ্ডের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কথিত হইয়াছে । তাশ্্রধ্বজের পুত্র সুরদর্প নারায়ণ। জয়ন্তীয়ার অধিপতি জয়নারায়ণ সহ ইহার বিবাদ বাধিয়াছিল, সে কাহিনীও ইতিপূর্বে চতুর্থ খণ্ডের তৃতীয় অধ্যায়ে কথিত হইয়াছে। ইহার পরবর্তী রাজা হরিশচন্দ্র নারায়ণ, বংশাবলীতে ইনিই সম্ভবতঃ ধর্মধ্বজ নামে কথিত হইয়াছেন । মাইবঙ্গের গিবিগাত্রোৎকীর্ণ একটা মন্দিরের প্রস্তর লিপি হইতে জানা যায় যে, ১৬৪৩ শকে (১৭২১ খৃষ্টাব্দে) হৈড়ম্বেশ্বর হরিশচন্দ্র নারায়ণের রাজত্তে ইহা নির্মিত হয়।১৫ ১৩. উক্ত এঁতিহাসিক শঙ্খের প্রতিকৃতি এস্থলে প্রদত্ত হইল। ১৪. কাছাড়ের শ্রীযৃত মণি রাম বর্মা মহাশয় আমাদিগকে লিখিয়াছেন যে বহু পূর্ব জনৈক কাছাড়ী নৃপতির সহিত ওদীয় কনিষ্ঠের বিবাদ উপস্থিত হইলে তিনি ডিমাপুর হইতে ত্রিপুরাভিমুখে যাত্রা কালীন অনুসঙ্গি কয়েকটি কোচ একত্থানে উপনিবেশ করে, তাহাদের নামানুসারে সে স্থান কোচপুর নামে খ্যাত হয়, পরে কোচপুর হইতে খাসপুর নাম হইয়াছে। তাম্রধ্বজের কোচ জাতীয়া রাণী গ্রহণ ও খাসপুর পলায়ন, পরস্পর সম্বন্ধ সূচক এই কথাটি যথার্থ বলিয়াই অনুমিত হয়। খাসপুর রাজবাটীর সিংহদ্বারের চিত্র এই স্থানেই সন্নিবেশিত হইল। ১৫. প্রস্তর লিপিঃ_ “শ্রীশ্রীরণচন্ত্রী পদারবিন্দ মধুকরস্য বগা গোহাই শ্রীশ্রী রা হিড়নেশ্বর শ্রীশ্রীযূত হরিশচন্দ্র নারায়ণ নৃপস্য শক শুবমস্তু শকাব্দ ১৬৪৩ মার্গ শীর্ষস্য দ্বাদশ দিবস গতে ভূমিপুত্র বাসরে পাষাণ নির্শিতং প্রাসাদং সম্পূর্ণ মিতি।” ৪৫৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড ইহার মৃত্যুর পর তৎপুত্র কীর্তিচন্ত্র নারায়ণ সিংহাসনারোহণ করেন। ১৬৫৮ শকে (১৭৩৬ ৃষ্টাব্) ভাদ্র মাসে তিনি বড়খলাবাসী মণিরাম লঙ্করকে নিজ উজির (মন্ত্রী) নিয়োগ করেন। এই নিয়োগ পত্র হইতে জানা যায় যে কাছাড়ের মন্ত্রীপদ বংশানুক্রমিক ছিল । দ্বিতীয় পত্র খানা মন্ত্রী প্রতি অনুধহ বিষয়ক অঙ্গীকার পত্র । দুখানি সনন্দই আলোক চিত্রের সহিত এস্থলে উদ্ধৃত করা গেলঃ_ শ্রীরাম ্বস্থিঃ প্রচণ্ড দৌর্দগ্ড ভব প্রতাপ দাবানল শলভিকৃত বৈরিনিকর (১) শরবিন্দু সুন্দর জশ (২) হেড়ম্বরপুর পুরিত পুরন্দর শ্রীশ্রীযুক্ত কির্তিচন্দ্র নারায়ণ মহারাজা মহামহগ্র (৩) প্রচণ্ড প্রতাপেষু-_ অভয় পত্র লিখনং মিধং কার্জযথ-__ ---আর বড়খলার চান্দখা লঙ্করর বেটা (৪) মনিবামরে আমি জানিয়া কাচারির নিঅমে (৫) উজির পাতিলাম (৬) এতে (৭) অখন (৮) অবধি তুমার (৯) উজিরর বেটা ও নাতি ও পরিনাতি (১০) তার ধারা সূত্র (১১) ক্রমে এই উজির হৈআ (১২) জাইৰ (১৩) আর --স্বস্থি-স্বস্তি। (১) বৈরী নিকর। (২) যশঃ। (৩) মহামহোগ্র । (৪) বেটা_পুত্র । (৫) নিয়মে । (৬) উজির পাতিলাম-মন্ত্রী করিলাম । (৭) এতে-ইহাতে (৮) এখন (৯) তোমার । (১০) পরিনাতি-প্রপৌত্র ৷ (১১) ধারা সূত্র-ধারাসূত্রানুসারে, বংশানুক্রমে (১২) হইয়া । (১৩) যাইব । (১৪) মজজুমদার--পদ বিং (১৫) হইব। (১৬) তুইয়ানপদ বিং। (১৭) এতদর্থে। (১৮) কালকাদাল-কালে। (১৯) কোন দিন। (২০) দড়-দৃঢ়। (২১) ভাড়িব-বঞ্চনা করিব। (২২) চত্ু্সীমা । (২৩) পৃবের্ব (২৪) হাওর (২৫) পশ্চিমে । (২৬) সীমা। (২৭) অর্থ বোধ হইল না। (২৮) জায়রে--জিম্বায় অর্থাৎ তত্বাধীনে। (২৯) পূর্ককি। (৩০) চতুঃসীমায়। (৩১) সন্দেহ না আছে-সন্দেহ নাই। (৩২) রাজ্যের । (৩৩) মনুষ্য । (৩৪) যে। (৩৫) অর্থবোধ হইল না। (৩৬) করিয়া । (৩৭) করিনু-করিব । (৩৮) ভাদ্রস্য। এই অভয় পত্রের এইরূপ অর্থ করা যাইতে পারেঃ_ বড়খলা বাসী চান্দখা লক্করের পুত্র মণিরামের বিষয় অবগত হইয়া “কাচারির” প্রথামত মন্ত্রী নিযুক্ত করিলাম । এখন হইতে বংশানুক্রমে তোমার পুত্র পৌত্রাদিক্রমে মন্ত্রী হইবেক। এতদঘ্যতীত মজুমদারের পুন্র মজুমদার ও বড় ভুইয়ার পুত্র বড় ভূইয়াই হইবেক। এই বিধি কালানুক্রমে সুদৃঢ় থাকিবে, কাহাকেও বঞ্চনা করা হইবে না। আর---এই চতু£সীমায় তোমাকে ভূমি দেওয়া গেল, এই দান সম্বন্ধেও কোন সংশয় নাই । এ রাজ্যের যে ব্যক্তি উজিরের বাক্যানুসারে না চলিবে---তাহার সর্বস্ব দণ্ড করিব। এতদর্থে অভয় পত্র দিলাম । ইতি । (১) চণ্রী। (২) সাক্ষি। (৩) স্বস্তি । (8) প্রতাপেষু। (৫) যত। (৬) এত । (৭) যদ বুনিয়াদ-যতদিন বংশ থাকিবেক। (৮) হাকিমতি-হাকিমের ক্ষমতা । (৯) তোমারে । (১০) এতে-ইহাতে। (১১) আইল-আলবাল। (১২) সীমা । (১৩) বিষয়েতে। (১৪) যে। (১৫) রক্ষা। (১৬) করিব। (১৭) মহা মহা। (১৮) অপরাধ । (১৯) ৭ শাঠা-সাতটা | (২০) ক্ষেমিয়া-ক্ষমা করিয়া । (২১) করিব। (২২) অপন্যায়-অন্যায়। (২৩) সাস্তি-দণ্ড। (২৪) লবন। (২৫) বেকবুল-অস্বীকার। (২৬) ভুলিব। (২৭) সত্য ৭5সাত সত্য । এই অভয় পত্রের এইরূপ অর্থ করা যাইতে পারেঃ-বড়খলাবাসী চান্দ লঙ্করের পুত্র মন্ত্রি মণিরামের প্রতি- যতদিন আমার রাজ্য সম্পদ থাকিবে, ততদিনের জন্য মন্ত্রীত্ব ও তদনসঙ্গীয় জমিদারী তোমাকে দিলাম, ইহা তোমার বংশাবলী ক্রমে থাকিবেক। তোমার প্রাপ্ত ভূমির সীমাদি লঙ্ঘন পূর্বক যে ব্যক্তি হিংসা করিবে, তাহাকে প্রাণদণ্ড করিব। এ বংশ তোমার বংশীয়কে পালন করিবেক। তোমার মহা মহা অপবাধ হইলে সাতটা অপরাধ ক্ষমা করতঃ তৎপর দণ্ড দেওয়া যাইবে । তোমার বংশীয় কেহ এ বংশ ইহাতে দণ্ড পাইবে না। এ অনুগ্রহ ভুলিলে (অস্পষ্ট) এ অঙ্গীকার ভুলিব না। সাত সত্য। ইতি। উপসংহার- কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৪৫৭ মজুন্দারের (১৪) বেটা মজুন্দার হৈব (১৫) আর বড় ভুইআর (১৬) বেটা বড় ভুইআ হৈব এতধর্থে (১৭) অভয় দিলাম এতে কাল কাদাল (১৮) কুনদিন (১৯) এই বাক্য দড় (২০) কুন জনে না ভাড়িব (২১) আর চতুরসিমা (২২) পূরের্ব (২৩) বন্পা হাহর (২৪) ও আভঙ্গ পশ্ছুমে (২৫) তহিরর পশ্ৃছমর শিমা (২৬) এই তাহিররে (২৭) বড়খলার জায়রে (২৮) দিলাম আর উত্তরে পানিঘাট দক্ষিণে বড়বরাক এই পূর্বক (২৯) চতুর স্কিমাএ (৩০) দিলাম এতে কুন সন্দেহ না আছে (৩১) আর রাজ্যর (৩২) মনুশ্য (৩৩) জে (৩৪) জনে উজিরর বাক্যে না চলে মেল দেয়ান (৩৫) হেলা করিআ (৩৬) (অস্পষ্ট)---সর্ববদণ্ড করিমু (৩৭) এতদর্থে অভয় পত্র দিলাম ইতি শক ১৬৫৮ 1২৯ ভাত্রশ্য” (৩৮) ১৪ চণ্ডি (১) শাক্ষি (২) “---স্বস্থি (৩) প্রচণ্ড দৌর্দগড ভব প্রতাপ দাবানল শলভিকৃত বৈরি নিকর শরদি সুন্দর জশ হেড়ম্বপুর প্রপুরিত পুরন্দর শ্রীশ্রীযুক্ত কির্তিচন্দ্র নারায়ণ মহারাজা মহামহগ্র প্রচণ্ড প্রতাপষু (৪)-- অভয় খাতিল জমা পত্র লেখিতং কাজ্য্চ৪__ বড়খলার চান্দ লঙ্কর বেটা মণিরাম উজির গং (অস্পষ্ট) প্রতি আর আমার বংশেত জত (৫) দিবস রাজ্য সম্পদ আছে অত (৬) দিবস জদ বুনিআদ (৭) বংশাবলি হাক্ষিমইতি (৮) জমিধারি তুমারে (৯) দিলাম এতে (১০) তুমার আইল (১১) শিমাউ (১২) বিসএত (১৩) জে (১৪) হিংসা করে তার প্রাণ বৈক্ষা (১৫) না করিমু (১৬) আর আমার বংশে তুমার বংশরে পালন করিব মহা ২ (১৭) অপরাদ (১৮) পাইলে ৭ শাঠা (১৯) অপরাদ খেমিআ (২০) উচিত দণ্ড করিমু (২১) আর আমার বংশে তুমার বংশরে অপনিআয় (২২) শাস্থি ২৩) না করিমু তুমার বংশে আমার নুন (২৪) বেকবুল (২৫) করে (অস্পষ্ট) এই খাতিল জমাত না ভুলিমু (২৬) সত্য ৭ (২৭) এতেরিক্তে খাতিল জমা পত্র দিলাম। ইতি শক ১৬৫৮ তারিক ২৯ ভাদ্রস্য। এই দুখানা দলিল হইতে জানা যায় যে, কাছাড়ের মন্ত্রী জায়গীর পাইতেন, কোন ব্যক্তি মন্ত্রীকে হিংসা করিলে গুরুতর রাজদণ্ড ভোগ করিত । মন্ত্রী সাতবার “মহা অপরাধ” করিলে অব্যাহতি পাইতেন। “মহা অপরাধ” অর্থে হত্যা,_অদ্যাপি তদঞ্চলে মন্ত্রীর “সাত খুন মাফ” পাওয়ার কথা প্রবাদরূপে লিখিত আছে। এই দুখানা দলিল হইতে ১৭৬ বৎসর পুর্ব কাছাড়ে ব্যবহৃত বঙ্গভাষার কথাও প্রাপ্ত হওয়া যাইবে । জয়ন্তীয়ায় প্রচলিত “পাতিলাম” প্রভৃতি শবও এই দলিলে দৃষ্ট হয়। প্রাচীন দলিল মাত্রেই বর্ণাশুদ্ধির প্রতি লক্ষ্য থাকা দৃষ্ট হয় না, _ইহাতেও নাই। ২য় দলিল খানার শীর্ষে “১৪ চণ্তী” দেবীর নাম ত্রিপুরা রাজ্যের প্রসিদ্ধ ১৪ দেবতার স্মারক কি না বিবেচ্য । মহারাজ কীর্তিচন্ত্বের পর রামচন্দ্র রাজা হন। গেইট সাহেব ইহারই নাম “সন্ধিকারী” দিয়াছেন। বংশাবলীতে রাজার নাম রামচন্দ্র ছিল বলিয়া জ্ঞাত হওয়া যায়। রামচন্দ্রের শাসন সময়ে ব্রিপুরাধিপতি কাছাড় আক্রমণ করিয়াছিলেন; রামচন্দ্র অনন্যোপায় হইয়া তৎসহ সন্ধি করিতে বাধ্য হন। ১৭৬৫ খৃষ্টাদে আহোমরাজ রাজেশ্বর সিহর দূত ইহার নিকটে উপস্থিত হইলে তিনি তৎ্প্রতি অসদ্ধবহার করায় আহোমরাজ ক্ুুদ্ধ হন ও সেনাপতি বড়বড়ুয়াকে সসৈন্যে প্রেরণ ৪৫৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড করেন। আহোম সৈন্যের আগমনে কাছাড়পতি ভীত হইয়া আত্মসমর্পণ করেন ও রাজেশ্বর সিংহ সন্ধানে নীত হন। তখন রামচন্দ্র অনন্যোপায় হইয়া সন্ধি করতঃ আত্মমোচন করেন। সন্ধিকারী রাজা রামচন্দ্র ১৭৭১ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত রাজত্ব করেন। ইহার পরে হরিশচন্ত্র ভূুপতি সিংহাসনারোহণ করেন, ইহার সিংহাসনারোহণের পরে রাজমাতা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর অভিপ্রায়ে তদানীন্তন রাজধানী খাসপুরে ১৬৯৩ শকে (১৭৭১ ৃষ্টাব্দে) এক নূতন প্রাসাদ নির্মিত হইয়াছিল ।১৬ এই প্রাসাদ সংলগ্ন (এক হাত দীর্ঘ ও তিন পোয়া প্রস্থ) প্রস্তরের লিপি এস্থলে দেওয়া গেলঃ__ শাকে কার্তিকস্থিতে ভাঙ্করে হেড়ম্বাধিপতি তদন্তর্গত খাসপুর নাম নগরে----তৎপাদ পঙ্কজ মকরন্দ লোলুপমানা শ্রীল শ্রীমতী রাজ মাতা লক্ষী প্রিয়াদেবী সাধিতেষ্টকাদি নিচয় নির্মিত বিচিত্র প্রাসাদভিরাম ।” তাহার মন্ত্রীর নাম জয়সিংহ বর্্া ছিল। তিনি বর্ণারপুরের নিকট চন্দ্রগিরিতে এক মন্দির নির্মাণ পৃবর্বক শিব স্থাপন করেন। মন্দির সংলগ্ন লিপিতে "শ্রীযুক্ত জয়সিংহ্‌ মহাপাত্র--১৭০৬ শকাব্দ” লিখিত আছে। মহারাজ হরিশচন্দ্রের দুই পুত্র, জ্যেষ্ঠ কৃষ্ণচন্দ্র ও কনিষ্ঠের নাম গোবিন্দ চন্দ্র । কাছাড়ের রাজধানী ব্রেপুর রাজধানীর ন্যায় কাছাড়ের রাজধানী উত্তর হইত. ক্রমশঃ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হইয়াছে দেখা যায়। শিলচর হইতে প্রাচীনতম ডিমাপুর প্রায় একশত মাইল উত্তর পূর্বে অবস্থিত । ডিমাপুরের পর মাইবঙ্গের প্রতিষ্ঠা, ইহার অবস্থান বর্তমান রাজধানী শিলচরের প্রায় পঞ্চাশৎ মাইল উত্তরে । তাহার পরেই খাসপুরে রাজধানী স্থাপিত হয়, ইহাও শিলচর হইতে কিঞ্চিদধিক দশ মাইল উত্তরে অবস্থিত। উদারবন্দ পরগণা স্থিত শিবরবন্দ মৌজায় উক্ত রাজপাট ছিল। এ স্থানে মহারাজ হরিশচন্দ্র ও তৎপুত্র কৃষ্ণচন্দ্র ও গোবিন্দ চন্দ্রের নামে আখ্যাত তিনটি ইষ্টকালয়ের ভগ্নাবশেষ আছে । তন্মধ্যে “হরিশচন্দ্র রাজার পাট' নামে পরিচিত প্রাসাদের মেজটি দৈর্ঘ্যে ১২ ফিট প্রস্তে ৮ ফিট এবং চতুর্দিগস্থ বারেন্দাগুলি ৪ ১/২ ফিট প্রশস্ত। খাসপুরের রাজবাটীর সিংহদ্বারের ও রণচত্তী দেবীর মন্দিরের চিত্র প্রদত্ত হইয়াছে। রাজনগর পরগণায়ও প্রাচীন রাজকীর্তির অনেক নিদর্শন আছে। উক্ত পরগণায় হাতীরহাড় নামক গ্রামে “গোয়ারের জঙ্গাল” বলিয়া খ্যাত দুইটি বাধ আছে, উহা ঘাঘরা নদী পর্য্যত্ত বিস্তৃত। পশ্চিমদিগের বাধটির কোন কোন স্থান প্রায় ১০০ ফিট প্রশস্ত, ইহার উচ্চতা ১০ ফিট হইবে, ইহার নিম্নদেশে প্রায় দুই ফিট খনন করিলে একটা প্রাটীর পাওয়া যায়, ইহাও প্রায় ১৪০ ফিট দীর্ঘ এবং ছয় ফিট উচ্চ হইবে। জনপ্রবাদানুসারে তিপ্রা জাতীয়দের এদেশ আক্রমণ কালে উহ বিনির্মিত হইয়াছিল । ১৬. 96110 [২1১01 01 10 [90£1055$ 011116 111500110841 13650101117. /55011).-1891. ১ 10. উপসংহার- কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৪৫৯ মহারাজ কৃষ্ণচন্ত্ পিতার পরলোকগমণের পর কৃষ্ণচন্দ্র ১৭৭৩ খৃষ্টাব্দে কাছাড় রাজসিংহাসনে আরোহন করেন। তিনি ব্রাহ্মণ গুরুতর অভিপ্রায় লইয়া রাজ কার্য্য করিতেন বলিয়া কথিত আছে। যোগশান্ত্রে পারদরশী পঞ্চখণ্ড পরগণাবাসী গোগীনাথ শিরোমণি তাহার সভাপপ্তিত ছিলেন। ইহাকে তিনি অনেক নিষ্কর ভূমিদান করেন।১৭ সমগ্র কাছাড় জিলায় এই দান প্রাপ্ত ভূমিটুকু ব্যতীত আর দশসনা মহাল নাই। গেইট স্বীয় আসামের ইতিহাসে লিখিয়াছেন যে ইহার সময়েই ব্রাক্মণগণ কর্তৃক তীরা ভীমপুত্র ঘটোৎ্কচ বংশীয় বলিয়া পরিচয় দিতে ও আপনাদিগকে হিন্দু ও ক্ষত্রিয় জাতি বলিতে শিক্ষিত হয়। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র মণিপুর রাজবংশে বিবাহ করেন ও শ্বশুরের উদাহরণে বৈষ্ণব ধর্শে দীক্ষিত হন। অনেকের মতে ইহাই কাছাড় রাজবংশের হিন্দু ধর্ম প্রহণ; বস্তুতঃ তাহা ভ্রান্ত ধারণা । মহারাজ সুরদর্প নারায়ণ প্রথম হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন; তদঙ্কিত শঙ্খ-চিত্রই তাহার প্রমাণ । কৃষ্ণচন্দ্র বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণের পরেই খাসপুরে বিষ্ণু মন্দির, দ্বাদশচক্রের মন্দির প্রভৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিষ্ণু মন্দিরের চিত্র এস্থলে প্রদত্ত হইল। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সময় আগা মোহাম্মদ রেজা নামক জনৈক মোগল কর্তৃক খাসপুর আক্রান্ত হয়, কৃষ্ণচন্দ্র গোয়াবাড়ী নামক স্থানে পলায়ন করেন। বিজয়োন্মত্ত মোগল খাসপুর অধিকার করিয়া বদরপুর আক্রমণ করে, সে বৃত্তান্ত ইতিপূর্বে১৮ বর্ণনা করা গিয়াছে। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সময়েই ১৮০৭ খৃষ্টাব্দে কাছাড় ও শ্রীহট্রের সীমা লইয়া গোলযোগ উপস্থিত হয়। সীমা নির্ধারণ জন্য গবর্ণমেন্ট পক্ষে শ্রীহট্রের এক আমীন গমন করেন ও সীমা স্থলে এক খালা খনন করা হয়। রাজ পক্ষীয় লোকেরা পরে সীমানাস্থিত এই খাল ভরাইয়া দেয় ও শস্য কাটিয়া লইয়া যায়। চাপঘাট পরগণাও এইরূপ ঘটনা ঘটে । এই সকল বিরক্তিকর ব্যাপার নিবারণের জন্য বদরপুরের দুর্গাধ্যক্ষ তীব্রভাবে আদিষ্ট হন। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, বিবাদীয় ভূমির অধিকাংশ যথার্থই কাছাড় রাজ্যের অন্তর্গত 1১৯ সুতরাং গবর্ণমেন্ট আর অগ্রসর হন নাই। ১৭. দানপত্রের প্রতিলিপি এইঃ- “শ্রীশ্রীহৈড়ম্বাধীপরাধিপতি কৃষ্টচন্দ্রধ্বজ নারায়ণ বাহাদুর নৃপ-সম্মত-দান পত্রিকেয়ম। গোগীনাথেতি বিখ্যাতঃ কুলীনশ্চশ্রিয়ান্বিতঃ প্রত্যক্ষ সাধকস্ত্রহি নাড়ী শোধন কর্মভিঃ। শ্রীহট্রান্তর্গতে মন্যো বংশ (অস্পষ্ট) ইষ্টং মত্তবা চ যং বিপ্রং সন্ত্রমান্নত কন্দরঃ। ধর্মাধ্যক্ষ মহীশেন ঘত্র ন্ত্রী কৃতং শিরঃ ভুষা শিরোমণিস্তস্য সঙ্গতা প্রাজ্ঞ সম্মতা। দানাহ মীদৃশং পাত্রং শাস্ত্রো---সমীক্ষচ | প্রদত্তা ভবতে ভূমিঃ শ্রীগোপীনাথ শর্মণ। শিরোমণিত্যু অস্পষ্ট) পঞ্চখপ্তাধিবাসিনে, নিষ্কং ভূগ্জতাং তানিম্নে যসীৎ সীমাকৃতা। স্থাস্যত্যা সন্ততেঃ সাতু ভবন্ান্না প্রভাষিতা।” ইহার পরে ভূমির চতুঃসীমা ও পরিমাণ লিখিত ছিল, অক্ষর অস্পষ্ট ও অপাঠ্য বিধায় উদ্ধৃত হইল না। গোপীনাথ শিরোমণির জীবন চতুর্থ ভাগে দেওয়া যাইবে । ১৮. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ২য় খণ্ড ৩য় অধ্যায় দেখ। ১৯, /৯110115 /5550]) [01507101 0886010015 ৬০1. []. (9%110010), ৮. 38. ৪৬০ শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড মণিপুর রাজধানী ও রাজবংশ ইহার পর নানাকারণে মণিপুরের সহিত কাছাড়ের বিশেষ সম্বন্ধ সংঘটিত হয়। এ স্থুলে তাই মণিপুরের কথা একটু বলা প্রয়োজন। কাছাড়ের পূর্ব সীমায় মণিপুর রাজ্য অবস্থিত, ইহার উত্তরে নাগা পাহাড়, দক্ষিণে লুশাই পাহাড় ও ব্রহ্ম দেশ এবং পৃরের ব্রন্মদেশ । আয়তন ৮৪৫৬ বর্গ মাইল এবং লোক সংখ্যা ৮৪৪৬৫ জন। প্রধান নগর ইমফাল, লগতাক নামক সুবিস্তৃত হুদের সন্নিধানে অবস্থিত, উক্ত হুদের সংলগ্নভাবে লিমফেল ও তেইওল নামক বিস্তৃত ঝিল বিদ্যমান। এক সময় ইহারা লগতাকেরই অংশ ছিল, তৎকালে এই লগতাক সাগর সদৃশ প্রতীয়মান হইত, সন্দেহ নাই। মণিপুরের অধিবাসী মণিপুরী জাতি অত্যন্ত পুষ্প প্রিয়। সব্র্বদা সুন্দর ফুল, পুষ্পগুচ্ছ ও পত্রস্তবকাদি কাণে দেয়, বীর্তনাদি উপলক্ষ পাইলেই গলদেশে পুষ্পমালা ধারণ করে, কপালে তিলক কাটে ও দেহ চন্দন চর্চিত করে। কুমারীরা সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকে ও সঙ্গীত ইহাদের অতি প্রিয়। এই মণিপুরীদের আচার ব্যবহার সে কথা স্মৃতিপথারূঢ় করিয়া দেয় । মহাভারতে বর্ণিত আছে যে, পারুপুত্র অর্জন মহেন্দ্র পর্বত দর্শনের পর সমুদ্রোপকৃলে অবস্থিত মণিপুরাধিপতি চিত্রবাহন-দুহিতা চিত্রাঙ্গদাকে বিবাহ করিয়াছিলেন। কলিঙ্গ পত্তনের পাশ্বস্থ সমুদ্রতীরবর্তী বর্তমান মনফুরকেই কেহ কেহ মণিপুর বলিয়া অনুমান করেন। শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ১ম খণ্ড প্রথম অধ্যায়ের শেষে টীকা প্রসঙ্গে আমরা মণিপুরের অবস্থান বিষয়ে কিঞিৎ আলোচনা করিয়াছি। পূর্ব প্রান্তবর্তী প্রাগজ্যোতিষ, কৌগ্ল্য, শোণিতপুর (তেজপুর) প্রভৃতি প্রাচীন আর্ধ্যনগরী সমূহের অবস্থানের সহিত নাগরাজ-রাজ্য নাগাপাহাড় এবং তব্দক্ষিণাদিপন্তী মণিপুর রাজ্যের সংস্থিতি প্রভৃতি চিন্তা করিলে এই মণিপুরকেই মহাভারতোক্ত মণিপুর বলিতেই মনে হয়। পূর্বোক্ত ঝিলাদি সমবিত লগতাক তৎকালে সাগর সদৃশ ছিল এবং তাহাই যে সাগর বলিয়া বর্ণিত হয় নাই, তাহা বলা যাইতে পারে না।২১ আবার স্থান বিশেষের রাজবংশ অজ্ঞাত কারণে ভিন্ন স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করায় সে স্থানও পূবর্ব নামে পরিচিত হওয়াও অসম্ভব নহে। নাগারাজ্য ও মণিপুর যেরূপ পাশাপাশি, এই উভয় রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যেও তন্রপ ঘনিষ্ট সম্বন্ধ আছে। মণিপুর রাজ্যের রাজগনের অভিষেক কালীন সর্পের মূর্তিময় অঙ্গত্রাণ ইত্যাদি ধারণ করায় এই সম্বন্ধ সূচিত হয়। কোন কারণে মণিপুরীদের জাতিপাত ঘটিলে নাগান্ন ভক্ষণে তাহারা সমাজে পুনঃ গৃহীত হওয়ার প্রথা পরস্পরের সম্পর্কই বিজ্ঞাপিত করে। কিন্তু চতুর্দিকস্থ অসভ্য পার্বত্য জাতির তুলনায় মণিপুরীদিগকে সুসভ্য বলা যাইতে পারে, ইহাদের আকৃতি প্রকৃতি দৃষ্টে গন্ধবর্ধ জাতি বলিয়া তাহাদিগকে নির্দেশ করিতে ইচ্ছা হয়। প্রাচীন কাহিনী মণিপুরের পুর্ব ইতিহাস একরূপ অজ্ঞাত হইলেও নাগাজাতীয় নৃপতি প্রসিদ্ধ পেম হেইবার পৃবের্ব ক্রমান্বয়ে ৩৬ জন নরপতির রাজ্যশাসন কথা শুনা যায়। পেমহেইবা মণিপুর-রাজ্যের দত্তক পুত্র ছিলেন, ১৭১৪ খৃষ্টাব্দে তিনি পিতাকে নিহত ক্রমে গরীব নয়াজ নাম ধারণ পূর্বক ২০. ১২ পৃষ্ঠা দেখ। ২১. খুঃ ৭ম শতাব্দীতে শ্রীহট্ট ও সাগর তীরে ছিল? শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৬১ ঢুর কথা ভৌগোলিক উপসংহার- ৪৬২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড সিংহাসনাধিকার করেন; ইহার রাজত্বকাল 8০ বৎসর; এই সময়ে ব্রহ্মরাজ্যও মাণপুরেন প্রাধান্য স্বীকার করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। গরীব নয়াজের ২য় পুত্র জিটসই ১৭৫৪ খৃষ্টাব্দে পিতা ও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শ্যামসইকে নিহত করিয়া সিংহাসনারোহণ করেন, কিন্তু পাঁচ বৎসর মাত্র রাজত্ত করার পর সবর্ব কনিষ্ঠ ভ্রাতা বুরুটসহ কর্তৃক বিতাড়িত হইয়া প্রাণ ত্যাগ করেন। ইনি দুই বৎসর মাত্র জীবিত ছিলেন; তৎপর শ্যামসইর পুত্র গুরুশ্যাম রাজা হন। ইনি নিজ ভ্রাত' জয়সিংহ ভাগ্যচন্ত্রকে সাহায্যার্থে রাখেন । ভাগ্যচন্দ্রই পরে মণিপুরের রাজা হন, ইহার সময়েই মণিপুরে গোবিন্দজী স্থাপিত হইয়াছিলেন। অতঃপর কয়েকবার মণিপুর ব্রহ্মসৈন্য কর্তৃক আক্রান্ত হয়, ১৭৬৫ শ্ৃষ্টাব্দে তিনি ব্রন্মসৈন্য কর্তৃক তাড়িত হইয়া কাছাড়ে পলায়ন করেন; ভাগ্যচন্দ্র বৃদ্ধ বয়সে রাজ্যের পুনরগদ্ধারে সমর্থ হইয়াছিলেন। ১৭৯৯ খৃষ্টাব্দে তিনি নবদ্বীপ গমন করেন, কিন্তু ভগবানগোলার সন্নিকটে পদ্মাগর্ভে মৃত্যু মুখে পতিত হন। কাছাড় রাজ্যের অসহায়তা তাহার মৃত্যুর পর তদীয় পুত্র হর্ষচন্ত্র (মতান্তরে রবীন চন্দ্র) তিন বৎসর রাজত্ব করেন! মধুচন্দ্র নামে তাহার দূর সম্পর্কিত এক ভ্রাতা তাহাকে নিহত করিয়া সিংহাসনারোহণ করেন। কিন্তু মধুচন্দ্রেরও ভাগ্য বড় সুপ্রসন্ন ছিল না। তিনিও নিজ ভ্রাতা কর্তৃক উত্যক্ত হন, প্রকৃতই ১৮০৯ খৃষ্টাব্দে মণিপুরে বিষম অন্তব্বিবাদ উপস্থিত হইয়াছিল। মধুচন্দ্র (মধুসিংহ) স্বীয় ভ্রাতা কর্তৃক রাজ্যত্যুত হইয়া, কৃষ্ণচন্দ্রের আশ্রয় গ্রহণ করেন।২২ কৃষ্ণচন্ত্র ৫০০ সৈন্য সহ তীহার সাহায্য করিয়াছিলেন; কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে মধুসিংহ প্রাণত্যাগ করেন। তৎপর ব্রহ্মরাজ মণিপুর আক্রমণ করিয়াছিলেন, এবং তখন মারজিৎথকে বাধ্য হইয়া কিয়থকালের জন্য মহারাজ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আশ্রয়ে কাছাড়ে আসিয়া বাস করিতে হইয়াছিল। এই সময়ে কাছাড়াধিপতির ভ্রাতা গোবিন্দ চন্দ্র অতিথি মারজিতের একটা মনোহর অশ্ব বলক্রমে গ্রহণ করিয়াছিলেন ।২৩ এ ঘটনার তিন বৎসর পরে ১৮১৩ খৃষ্টাব্দে কৃষ্ণচন্দ্র মৃত্যুমুখে পতিত হন। মহারাজ গোবিন্দ চন্ত্র কৃষ্ণ চন্দ্রের মৃত্যুর পর গোবিন্দ চন্দ্রই সিংহাসনারোহন করেন । গোবিন্দ চন্দ্র সিংহাসনারোহন করিয়া রাজ্যের বিধি ব্যবস্থা সুশৃঙ্খলাবদ্ধ করেন। এই সময়ে তিনি কাছাড়ের আইন সংস্কার নৃতন বিধি প্রবর্তিত করেন। ১৮১৭ খৃষ্টাব্দে সঙ্কলিত তৎপ্রবার্তিত দণ্তবিধি ইত্যাদি বিষয়ক কয়েকটি আইনের মূল গ্রন্থ পাওয়া গিয়াছে, তাহাতে জানা যায় যে,__ঈষ্ুর মধ্যে অর্থ দণ্তই অধিক ছিল। ব্রাহ্মণকে প্রায়ই দণ্ডভোগ করিতে হইত না, পক্ষান্তরে ব্রাহ্মণোঁৎপীড়নকাবী গুরু দণ্ডে দপ্তিত হইত । হস্তদ্বারা যে ব্রাহ্ষণকে আঘাত করিত, তাহার হস্ত ছেদন করা যাইত। ব্বা্মণের একাসনে উপবেশন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইত এবং নিতম্বের মাংশছেদনই ইহার দণ্ড ছিল। স্বর্ণ রতবাদি বিষয়ে বঞ্চনা করিলে নাসিকা ও হস্তছেদনই দণ্ড ছিল। চুরের প্রতি গুরু দণ্ডের ব্যবস্থা ছিল। ঘোড়া, হাতী, গরু প্রভৃতি হরণ কারীর হস্তপদ ছেদিত হইত। শত পণ স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং ২০ দ্রোণ ধান্য হরণে মৃত্যুদণ্ড বিহিত ছিল। কিন্তু চোর ব্রাহ্মণ হইলে তাহার দণ্ড অপমান, কারণ “ব্রাহ্মণের যে অপমান, সেই বধের তুল্য ।” ভয় প্রদর্শন করিয়া কেহ ২২. (7001)1015 91919110| /00001105 01 /১558]). ৬০1. 11. (59110) 7৮. 120. ২৩, শ্রীযুক্ত কৈলাস চন্দ্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাস ৩য় ভাগ ১ম অধ্যায় ২৬৩ পৃষ্ঠা । উপসংহার- কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক শ্রীহত্টরের ইতিবৃত্ত ৪৬৩ কার্ধ্যোদ্ধার করিলে অর্থদণ্ডে দণ্তিত হইত। অসমর্থ বৃদ্ধ পোষণ না করিলেও অর্থদণ্ড দিতে হইত। নীচ জাতি অন্য জাতীকে অপমান করিলে বিশেষরূপে দগ্ডিত হইত। সাধারণতঃ সুরাপানে গুরুদণ্ডই বিহিত ছিল, ব্রাহ্ষণকে সুরাপান করাইলে বধদণ্ড নির্দিষ্ট ছিল। “লশুণ” অপবিত্র বস্তুর মধ্যে গণ্য হইত এবং উচ্চ জাতিকে ভক্ষণ করাইলে দণ্ডিত হইতে হইত। অপরাধী স্ত্রীলোকের প্রতি অবস্থানুসারে দণ্ডের গুরুত্ব ছিল,-_ অসচ্চরিত্রা স্ত্রীলোক পুরুষকে বিষ বা অগ্নিদ্ধারা নিহত করিয়া তাহাকে জলে ডুবাইয়া মারাই বিধি ছিল । স্ত্রীলোকের প্রতি বলৎকার করিলে অপরাধীকে লৌহ কটাহে রাখিয়া অগ্নি জ্বালাইয়া দগ্ধ করা হইত। বলৎকার ব্যতীত অর্থ দণ্ডই বিহিত ছিল। এতদ্দেশে বিন্না নামে দীর্ঘপত্র বিশিষ্ট স্বনাম প্রসিদ্ধ একরূপ তৃণ সর্বত্রই দেখিতে পাওয়া যায়, যে গৃহ দাহ করে, শয্যাদি নাশ করে ও রাজপত্রী গমন করে, উক্ত বিন্না তৃণের পত্রাচ্ছিদিত করিয়া তাহাকে অগ্নিদগ্ধ করতঃ হনন করাই বিধি ছিল; কিন্তু বধ্য ব্যক্তি ১০০ শত মোহর দিতে পারিলে অব্যাহতি পাইত। অঙ্গচ্ছেদ দণ্ডে দণ্ডনীয় ব্যক্তির অব্যাহতি পাইতে হইলে ৫০টি মোহর প্রদান নির্দিষ্ট ছিল। রাজাজ্ঞা খণ্ডনকারীর কিন্তু কিছুতেই অব্যাহতির পথ ছিল না। এরূপ বিশেষ বিশেষ অপরাধে গুরুদণ্ড ব্যবস্থিত থাকিলেও লোক সাধারণতঃ নীতি বিহীন কার্ধ্য করিতে ভীত হইত, কাজেই কচিৎ এইরূপ দণ্ড লোকে ভোগ করিত। এই আইন গুলির যে জীর্ণ শীর্ণ মূল পুস্তক আমাদের হস্তগত হয়, তাহাদের উপর ও নীচ দিক পঁচিয়া নষ্ট হইয়া পড়ায় অপাঠ্য হওয়ায় সমুদায় পাঠ করা হয় নাই। রাজকীয় উক্ত জীর্ণ আগন সব্ব্বধ্বংসী কালের হস্ত হইতে রক্ষার উদ্দেশ্যে । যতদূর পাঠকরা যায়, অপরিবর্তিত ভাবে উপনংহারের টিকাধ্যায়ে তাহা যোজিত হইল। এতদ্বারা এদেশীয় পরবস্তী হিন্দু নৃপতি বর্গের প্রচাবিত আইনের নমুনা ও শাসননীতির আভাষ প্রাপ্ত হওয়া যাইবে । মহারাজ গোবিন্দ চন্দ্র এই সময় স্বনামাঞ্কিত মুদ্রাও প্রচারিত করিয়া ছিলেন, এই সময়কার একট। কাছাড়ী রৌপ্য মুদ্রা প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে; ইহার একদিকে “গোবিন্দ চন্দ্র রাজেন্দ্র” বাহাদুরের নাম ও অপরদিকে “হেড়িন্ব পুরধীশ শ্রীরণচন্তী পদাজুষ” ইতি বাক্যে অঙ্কিত। গোবিন্দ চন্দ্র খাসপুরে প্রসিদ্ধ “ম্নান মন্দির” প্রস্তুত করিয়াছিলেন, ইহা অদ্যাপি অভ্গ্নাবস্থায় আছে। স্থলে উক্ত স্নান মন্দির এবং তত্প্রচারিত মুদ্রার চিত্র দেওয়া গেল। মারজিতের আক্রমণ ম্খগুর-পতি মধুসিংহের উল্লেখ ইতিপূরের্ব করা গিয়াছে, তাহার অন্যতম ভ্রাতা গ্তীযসি্হকে গোবিন্দ চন্দ্র নিজ সেনাপতি নিযুক্ত করিয়াছিলেন। গশ্ভীরসিংহ মারজিতের চির বিরোধী ছিলেন। ১৮১৮ খৃষ্টাব্দে মারজিত কাছাড়া আক্রমণ করেন । গোবিন্দ চন্দ্রও বাধা দিতে এপ। হইলেন, কিন্তু সেনাপতি গন্তীরসিংহ বিশ্বাসঘাতকতা পূর্ব্বক ভ্রাতৃপক্ষে যোগ দেন। গেলিন্দ চন্দ্র ভাবেন নাই যে মণিপুর-বীর গন্ভীরসিংহ ব্যক্তিগত ভাবে ভ্রাতার বৈরী হইলেও পরাধীন করিয়া দিতে ইচ্ছা করেন না; গোবিন্দ চন্দ্রের সমস্ত আশা ভরসা নিবর্বাপিত হইল; এই অচিন্তিত পূর্ব বিপৎপাতে গোবিন্দ চন্দ্র অনন্যোপায় হইয়া শ্রীহস্ট্রে আগমন পুরবর্বক ইংরেজ গবর্ণমেন্টের সাহায্য প্রার্থী হন। কিন্তু তৎকালে তাহাকে নিরাশ হইতে হয়। গোবিন্দচন্দ্রের সেনাপতি স্বরণ গন্তীরসিংহ মারজিতকে পরাজিত না করিলেও এক ভাবে তৎপক্ষে যোগ দেন নাই। তাহার অপর ভ্রাতা চৌরজিৎ নিবর্বাসিত ভাবে জয়ন্তীয়ায় দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড , ক. সক ৯ পরার ৭ - সর ক উপসংহার- কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত ৪৬৫ ছিলেন, গল্তীরসিংহ তাহাকে আহ্বান করেন। ভ্রাতার আহ্বানে তিনি সসৈন্যে কাছাড়ে আগমন করিলে ভয়ে মারজিত মণিপুরে প্রস্থান করেন। চৌরজিৎ কাছাড়ের দক্ষিণ দিক আয়ত্ত করিয়া লন। ইহার পরবর্ষে ব্রক্মরাজ জয় করেন; মারজিৎ বিপৎকালে কাছাড়ে আগমন পূর্বক ভ্রাতা চৌরজিৎ ও গন্তীর সিংহের সহিত সন্ধি করিয়া কাছাড়ে বাস করিতে বাধ্য হন। কিন্তু তথায়ও তিনি শান্তি লাভে সমর্থ হইলেন না, ব্রক্মরাজ তাহার অনুসরণে কাছাড় আক্রমণ করেন । মারজিৎথকেও গোবিন্দচন্ত্রের সমদশা লাভ করিতে হইল,--তিনিও ইংরেজ গবর্ণমেন্টের সাহায্য প্রার্থী হইলেন। £ ব্রহ্ম যুদ্ধ ও বদরপুরের সন্ধি ১৮২৪ খৃষ্টাব্দের ৫ই মার্চ গবর্ণর জেনারল ব্রহ্মযুদ্ধ ঘোষণা পত্রে লিখিত হয় যে গবর্ণমেন্টের আশ্রিত কাছাড় রাজ্যে ব্রহ্ম সেন্য প্রবেশ করায় গবর্ণমেন্ট অস্ত্র ধারণ করিতে বাধ্য হইলেন। যে দিবস লর্ড আমাহার্ট এই ঘোষণা প্রচার করেন, তাহার পরদিন গবর্ণরজেনারলের এজেন্ট সকল সাহেব বদরপুরে গোবিন্দচন্দ্রের সহিত সন্ধি পত্র সাক্ষর করেন, তাহাতে ইষ্ট ইও্য়া কোম্পানী বহিঃশক্র হইতে চিরদিন কাছাড় রাজ্য রক্ষা করিতে প্রতিশ্রুত হন। ইহাও নির্ধারিত হয় যে যুদ্ধাবশানে কাছাড়পতি দশ সহস্র মুদ্রা বার্ষিক কর প্রদান করিবেন । জুন মাসে বারশত সৈন্য লইয়া কর্ণেল ইনেস (0010701 [1709) সাহেব কাছাড় যাত্রা করতঃ যাত্রাপুর অধিকার করেন; যাত্রাপুর অধিকৃত হওয়ার পর দুধপাতিল নামক স্থান অধিকৃত হয় এবং মণিপুর পর্য্যত্ত একটি রাস্তা প্রস্তুতের জন্য কার্ধ্যারন্ত হয়। কিন্তু বৃষ্টি প্রভৃতির প্রতিবন্ধক ও স্থানের দুর্গমতায় রাস্তা প্রস্তুতের কাজ অধিক অগ্রসর হইতে পারে নাই । এই উদ্যমে বহুতর বলীবর্দ ও অনেকটি হস্তী বিনষ্ট হয়, ইনেস চালিত সৈন্যও কাছাড় উদ্ধারাস্তর প্রতি নিবৃত্ত হয়। ব্রক্ম সৈন্য সমূহ কাছাড় হইতে মণিপুরে গিয়া আড্ডা করে। ব্রহ্ম সৈন্য কর্তৃক মণিপুর অধিকৃত হইলে মণিপুরের বহুতর প্রজা পলায়ন করিয়া কাছাড় ও শ্রীহট্টে আগমন পূর্বক উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছিল । 'এই সময়েই গন্তীরসিংহ পাঁচশত অনুচর সহ শ্ত্রীহট্টে আগমন করেন শ্রীহট্রের মণিপুরী রাজবাটী এই সময়েই নির্মিত হইয়াছিল। গত ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে ভীষণ ভূকম্পে উক্ত রাজবাটা বিধ্বস্ত হইয়াছে। গন্ভীরসিংহ শ্রীহট্টে গবর্ণমেন্টের আশ্রয়ে গন্তীরসিংহ শ্রীহট্টে বাস করিতে লাগিলেন, তাহার সৈন্যদিগকে গবর্ণমেন্ট অস্ত্রশত্ত্র দিয়া পরিপুষ্ট ও সুশিক্ষিত করিলেন । ইহাতে অবশ্যই গবর্ণমেন্টের সুউদ্দেশ্য ছিল। এই সৈন্য সংখ্যা ক্রমে দ্বিগুণ হইতেও অধিক হইয়াছিল। গন্ভীরসিংহ বীরপুরুষ ছিলেন, গবর্ণমেন্ট পুনঃ পুনঃ ইহা স্বীকার করিয়াছেন। গন্তীরসিংহ হইতে গবর্ণমেন্ট অনেক সহায়তা প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। শ্রীহন্্র হইতে খাসিয়া পবর্বতের উপর দিয়া রাস্তা প্রস্তুত কালে, খাসিয়াদের অন্যতম অধিনায়ক কমলাসিংহ ও চৌবরসিংহ গবর্ণমেন্টের বিরুদ্ধে উথিত হইয়া, তত্রত্য ইংরেজ কর্মচারী সহ বহু সংখ্যক দেশীয় লোক নিহত করে । শ্রীহট্রের রাজকর্শচারীর অনুরোধে পার্্বত্য-যুদ্ধ-বিশারদ গল্ভীরসিংহ যুদ্ধক্ষেত্রে গমন করেন । ইতিপ্!বের্ব (৫ম খণ্ডে) দ্বিতীয় অয়ে ১৮২৯ খৃষ্টাব্দে খাসিয়া বিজয়ের যে বিবরণ বর্ণিত হইয়াছে, সে যুদ্ধ প্রধানতঃ ইহারই সহায়তা শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৩০ ৪৬৬ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড ও শৌর্ষ্যে জয় করা হয়। এই সময়ে মহরম পবর্ব ও রথযাত্রা এক তারিখে উপস্থিত হওয়ায় শ্রীহ্টের হিন্দু ও মোসলমান মধ্যে এক হাঙ্গামা উপস্থিত হয়। শ্রীহত্ট্রের বীর্য্যবান মোসলমানদিগকে দমিত রাখা অসন্ভব বোধ করিয়া, নামে মাত্র নবাব, গণর খা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন যে রথযাত্রার তারিখটা একদিন পিছাইয়া দেওয়া হউক । ইংরেজ কর্তৃপক্ষ গন্তীরসিংহকে এই কথা ব্যক্ত করিলে তিনি বলেন যে, তাহা কদাপি সম্ভবপর নহে। কাজেই এক তারিখে হিন্দু মোসলমানের উভয় উৎসবই সম্পাদিত হয়, এবং উভয় পক্ষে ঘোরতর বিবাদ উপস্থিত হয়। মোসলমানগণ হিন্দুদিগকে তীব্রতেজে আক্রমণ করে। হিন্দুগণ ভয়ে গন্তীরসিংহের নিকট উপস্থিত হয়। বলা বাহুল্য তৎপর মণিপুরী সৈন্যের সহিত লাঠির সহায়তায় মোসলমানগণ অল্পক্ষণ মাত্র মারামারি করিতে সমর্থ হইয়াছিল। গন্তীরসিংহের সৈন্যদল “গল্ভীরসিংহের লেভী” নামে খ্যাত ছিল, এবং গবর্ণমেন্ট কর্তৃক কাণ্তেন গ্রান্ট সাহেব ইহার অধিনায়ক নিযুক্ত হন। এই মণিপুরী সৈন্যদল ব্রহ্মযুদ্ধের সময় বিশেষ কার্যকর হইয়াছিল। ব্রহ্ম সৈন্য সমূহ কাছাড় হইতে মণিপুরে গিয়া আড্ডা করিলে, গন্তীরসিংহ নিজ পাঁচ মণিপুরী সৈন্য লইয়া ব্রহ্ম সৈন্যদিগকে তাড়াইয়া দিতে ১৮২৫ খৃষ্টাব্দের ১৭ই মে তারিখে লেপ্টেনান্ট পেম্বারটন (1.0: চ০110107) সহ শ্রীহট্ট হইতে যাত্রা করেন, এবং বহু কষ্টেব পর ১০ই জুন মণিপুর উপস্থিত হন। তাহার উপস্থিতি মাত্র শক্রগণ ইমফার ত্যাগ করতঃ ১০ মাইল দূরবর্তী অন্দর নামক স্থানে চলিয়া যায় এবং অবশেষে মণিপুর ত্যাগ করে । ্রক্ষযুদ্ধের অবসানে ১৮২৬ খৃষ্টাব্দে ২৪শে ফেব্রুয়ারী যান্দবো নগরে যে সন্ধি সাক্ষরিত হয়, তাহার সর্তানুসারে গন্তীরসিংহ ব্রহ্মরাজ কর্তৃক মণিপুর-পতি বলিয়া স্বীকৃত হন।২৪ অতঃপর গন্তীরসিংহ নিবিবর্বাদে মণিপুরের সিংহাসনারোহণ করেন ।২৫ গোবিন্দচন্ত্র কাছাড়ে ব্রহ্ষযুদ্ধের অবসানে মহারাজ গোবিন্দচন্ত্র কাছাড়ের রাজ সিংহাসনে পুনরারোহণ করেন (১৮২৬ খৃষ্টাব্দ ।) কিন্তু অধিক দিন রাজ্য সম্ভোগ তাহার ভাগ্যে ঘটে নাই। ১৮৩০ খৃষ্টাব্দে ২৪. 4৯ ০011601101, 011681105 &০. ৬০1. |. ৮. 212, ২৫ মণিপুরের অবশিষ্ট কথাঃ- গন্তীর সিংহের ভ্রাতা মধুসিংহের ১৮৩৪ খৃষ্টাব্দে মৃত্যু হইলে তদীয় অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্র চন্্রকীর্তি সিংহ রাজা হন ও সেনাপতি নরসিংহের তন্বাধীনে থাকেন। নরসিংহ রাজমাতা কর্তৃক নিহত হওয়ায় গুপ্ত মন্ত্রনা জ্ঞাত হইয়া ১৮৪৪ খৃষ্টাব্দে স্বয়ং রাজা হন। ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে নরসিংহের মৃত্যু হইলে তীহার ভ্রাতাই রাজা হন, কিন্তু নরসিংহের পুত্রগণ তখন পলায়িত চন্দ্রকত্তিকে কাছাড় হইতে আনয়ন করতঃ মণিপুর সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দের নাগাযুদ্ধে চন্দরকীর্তি গবর্ণমেন্টকে সৈন্যদ্বারা বিশেষ সহায়তা করেন, সাত বৎসর পরে তীহার মৃত্যু হয় ও তদীয় জোষ্ঠ্য পুত্র সুবচন্দ্র সিংহ রাজা লাভ করেন। তাহার রাজত্বের চতুর্থ বর্ষে বৈমাত্রেয় ভ্রাতগণ সহ বিবাদ উপস্থিত হইলে, তাহাকে রাজ্য হইতে বঞ্চিত হইতে হয়। এই সময়ে কুলচন্্ রাজা হন; গবর্ণমেন্ট ইহা অনুমোদন করেন ও বীর সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎকে রাজ্য হইতে দূরে রাখিতে অনুরোধ করেন। এই অনুবোধ রক্ষিত না হওয়ায় আসামের চিফকমিশনার কুইন্টন সাহেব পরিষদবর্গ ও ৪০০ সৈন্য সহ মণিপুরে গমন করেন। ১৮৯১ খৃষ্টাব্দে ২৪শে মাঘ টিকেন্দ্রজিৎকে ধৃত করার উদ্দেশে যুদ্ধ হয় ও সন্ধ্যা পর্য্যত্ত যুদ্ধ স্থগিত হয়। তখন সপারিষদ চিফকমিশনার নিবন্ত্রাবস্থায় টিকেন্দ্রজিৎসহ সাক্ষাৎ কারতে গিয়া উদ্ধত মণিপুরগণ কর্তৃক নির্দয় ভাবে নিহত হন! এই জোমহর্ষণ ভীষণ হত্যাকাণ্ডের পরিণান ফল টিকেন্দ্রজিতের ফাঁসি! কুলচন্দ্রের নিবর্বাসন এবং নরসিংহের প্রপৌত্র বালক চূড়াচান্দকে রাজ্য সমর্পন । উপসংহার- কাছাড়ের কথা ভৌগোলিক শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ৪৬৭ কতকগুলি মণিপুরী,-_সন্ভবতঃ তকর্তৃক অপমানিত মারজিতের অনুচর, একদা রজনী যোগে গোপনভাবে রাজ প্রাসাদে প্রবিষ্ট হইয়া তাহাকে হত্যা করে। গোবিন্দচন্দ্রের উত্তরাধিকারী কেহ ছিল না, কাজেই তদীয় গবর্ণমেন্ট কর্তৃক অধিকৃত হয় ।২৬ উত্তর কাছাড় মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাচাদিন নামে এক সেবক উত্তরাদিখ্র্তী পার্বত্য প্রদেশ শাসনের ভার প্রাপ্ত হইয়াছিলেন; কৃষ্ণচন্দ্র মৃত্যুর পর রাজ্য সংক্রান্ত গোলযোগে তিনি স্বাধীনতা অবলম্বন করেন। গোবিন্দচন্দ্র কৌশল জাল বিস্তার ক্রমে তাহার পুত্র তুলারাম, পিতার কর্মকাণ্ডে গোবিন্দচন্দ্রের ভয়ানক শক্র হইয়া দীড়ান। এবং নাগা, কুকি প্রভৃতি দ্বারা দল গঠিত করিয়া তাহাকে উত্যক্ত করিতে থাকেন। ক্রমাগত তিনটি যুদ্ধে তুলারাম জয়লাত করেন। বহুকাল কলহের পর, ইষ্ট ইপ্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক বাধ্য হইয়া, ১৮২৯ খৃষ্টাব্দে গোবিন্দচন্দ্র তুলারামকে ২২২৪ বর্গমাইল পরিমিত ভূমির অধিকার ছাড়িয়া দিয়া তাহাকে অধীন রাজা বলিয়া স্বীকার করেন। ইহাই সম্প্রতি উত্তর কাছাড় নামে অভিহিত । ১৮৩৫ খৃষ্টাব্দে তুলারামের রাজ্যসীমা উত্তরে যমুনা ও দয়াং নদী, পৃবের্ব ধনশ্রী নদী, দক্ষিণে মাহুর নদী ও নাগাপাহাড় এবং পশ্চিমে দয়াং নদী নির্দিষ্ট। ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে তুলারামের মৃত্যু হয়। তুলারামের মৃত্যুর পর তাহার পুত্র নকুলরাম ও ব্রজনাথ উত্তর কাছাড় শাসন করেন। ইষ্ট ইপ্তিযা কোম্পানীকে বার্ষিক ৮টি হাতী কর স্বরূপ দিতে হইত। ১৮৫৩ খৃষ্টাব্দে নকুলরাম নাগাদিগের প্রতিকৃলে অস্ত্র ধারণ করিয়া প্রাণত্যাগ করেন। এই নকুলরাম গবর্ণমেন্টের আদেশ গ্রহণ করেন নাই, এই কারণে তাহার মৃত্যুর পর তদীয় রাজ্য গবর্ণমেন্ট অধিকার করেন। নকুলরামের বংশধরগণ কিঞ্চিৎ বৃত্তি ও কতক ভূমি নিষ্কর স্বরূপ প্রাপ্ত হন। কাছাড় রাজ্যের আধুনিক কথা ১৮৩০ খৃষ্টাব্দে গবর্ণমেন্ট কর্তৃক কাছাড় রাজ্য অধিকৃত হইলে কাণ্তেন ফিসার ইহার প্রধান শাসনকর্তা বা সুপারিনটেন্ডেন্ট.নিযুক্ত হন। কিন্তু এই রাজ্য গবর্ণমেন্টের অধিকারভূক্ত হওয়ায় ঘোষণা পত্র ১৮৩২ খৃষ্টাব্দের ১৪ই আগষ্টের পূর্ব প্রচারিত হয় নাই। ১৮৩৬ খৃষ্টাব্দে কাছাড় জিলা ঢাকা কমিশনারের অধীন করা হয়, কিন্তু ১৮৫৯ খৃষ্টাব্দের পৃবের্ব দেওয়ানী বিচার প্রবর্তিত হয় নাই। ১৮৬২ খৃষ্টাব্দ হইতে দণ্ডবিধি আইনানুসারে বিচার আরম হয়। ১৮৬৪ খৃষ্টাব্দে সুপারিনটেনডেন্ট পদের পরিবর্তে ডিপুটী কমিশনার পদের সৃষ্টি হয়, এই কর্মচারীর ম্যাজিষ্ট্রেট, কালেক্টর ও সবজজের ক্ষমতা আছে। ১৮৬৭ খৃষ্টাব্দ হইতে শ্রীহট্রের জজ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাছাড় গিয়া সেসনের বিচার করিয়া আসিতেছেন। ১৮৬৯ খৃষ্টাব্দের ১লা জুন হাইলাকান্দি সবডিভিশন পৃথক করা হয় ও একজন এসিষ্টাণ্টের উপর ইহার শাসনভার সমর্পিত করা হয়। ইহার পর ১৮৭১ খৃষ্টাব্দে লুশাই কর্তৃক কাছাড় আক্রান্ত হয়, তদ্বিবরণ প্রসঙ্গতঃ ৫ম খণ্ডের ৩য় অধ্যায়ে বিবৃত করা গিয়াছে। লুশাইগণ বাশের ছিলকা ভাঙ্গিয়া বিশেষ চিহ্ে চিহিতত করতঃ শাঙ্কেতিক ভাবে বাক্য আদান প্রদান করিয়া থাকে; এই নিরক্ষর অসভ্যগণের মধ্যে ইহা পরস্পর পত্র ব্যবহার স্বরূপ হয়। ২৬, "000/0709 01017019 9/0 11:01) 05521779160 11) 1830 ৬/111,৩0 21) 50) 3110151) 19010 [00550 ,১:131 01100 ০0100, 11) 9০০01001106 ৮101) 110 ০01010101) 01 01৩ [16019 01 1826.” -17100010175 9. /৯, 01 85501. ৬০1. 11. (5911860) ৪৬৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড ১৮৭৪ খৃষ্টাব্ষে আসামে চিফকমিশনার পদের সৃষ্টি হইলে কাছাড়কে পুনব্বার আসাম প্রদেশ তুক্ত করা হইয়াছিল; সম্প্রতি ইহাও পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের অন্তর্ভূক্ত হইয়াছে। উত্তর কাছাড়ের সবডিভিশনেল আফিস গংজং নামক শৈল শৃঙ্গে ১৮৮৬ খৃষ্টাবে স্থাপিত হইয়াছিল। কিন্তু দুই বৎসর অতীত হইতে না হইতেই (১৮৮২ খৃষ্টাব্দ) শঙ্কুধন নামক এক কাছাড়ী প্রকাশ করে যে, সে স্বর্গ হইতে অলৌকিক ক্ষমতা লাভ করতঃ “দেও” হইয়াছে! সুতরাং সে দেও উপাধি ধারণ করিয়া অনেক উদ্ধত সহচর সহ লোকের ভীতি উৎপাদন করে। মাইবঙ্গের চতুদ্দিগ্বতী অধিবাসী তাহাকে মান্য করিয়া একরূপ কর দিতে আরম্ত করে। কাছাড়ের ডিপুটী কমিশনার মেজর বয়েড ইহাকে দমন করা আবশ্যক বোধে দলবল সহ মাইবঙ্গ উপস্থিত হন। পরদিন প্রত্যুষে বিকট বাদ্য ও চিৎকার ধ্বনিতে তাহার নিদ্রাভঙ্গ হয়; ত্রস্তে সৈনিকগণ সঙ্গীন সহ বন্দুক হস্তে প্রস্তুত হইয়া দীড়ায়। দেখিতে দেখিতে দেওগণ দা হস্তে তীরবেগে তাহাদের মধ্যে প্রবেশ করিয়া আঘাত করিতে আরন্ত করে; পলায়ন কালে দৈবচক্রে শস্ুধন নিহত হয়। মেজর বয়েডের হস্তের দুই আঙ্গুলির মধ্যে গুরুতর আঘাত লাগায় কিছু দিন মধ্যে তিনিও মৃত্যুমুখে পতিত হন। ১৮৯৮ খৃষ্টাব্দে আফিসাদি গংজং হইতে ৩১১৭ ফিট উচ্চ হাফলং শৃঙ্গ স্থানান্তরিত করা হইয়াছে। এস্থানের উত্তর পূর্ববদপ্র্তী প্রাকৃতিক শোভা অতিশয় সুন্দর । পুলিশ সুপারিনডেনডে্টই এখানকার প্রধান কর্মচারী; বিচার ও শাসন, উভয় ক্ষমতাই তিনি পরিচালন করেন। উপসংহারের টীকা মহারাজ গোবিন্দ চন্দ্রের আইন খেসতিত) তেষাং পতনে দ্বিগুণঃ-_ মারণে মারনং-__ কৃতাপরাধোপি রাজনি কৃত প্রহারং শুল মারো প্যাগ্নেপচেৎব_ ব্রান্দণেতের বিষয়মেতৎ সব্ব পাপষ বস্তিতেমপি ব্রাহ্মণং কদাচিদপিন হন্যাৎ__ ভার্ষ্যা পুত্রদাস শিষ্য কনিষ্ঠ সোদরাঃ কৃতাপরাধ্য (ছিন) রজ্বাবন্ধনেন (ছিন্ন)* অতি সূক্ষ্ম কঞ্চি ইতি খ্যাতেন এবাং পৃষ্ঠে তাড়নং কুরধ্যাৎ_ যুগপ (ছিন্ন) পদপথি তুল্য গমনেচ ; সহোপবেশনে বাতাড়ন দপদণ্ডঃ-- ১. বাজাতে-রাজাকে। ২. তাহাকেহ-্তাহাকেও। উপরে যে সকল লিখা গিয়াছে ভেদের কথা ইহাতে যদি এ সকলের পতন হয় তবে রাজাতে (১) ৬২১০ সাগে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়।-_ তবে তাহাকেহ রাজা প্রতিবদল শূলাদি দ্বারা মারিত হয়_ কৃতাপরাধী যে রাজা তাকেই যদি কোন গাথিয়া অগ্নিতে পাচনা করিব ব্রাহ্মণের মারণত্তিক শাস্তি পাই-_ সব্ব্ব পাপযুক্ত যে ব্রাহ্মণ তাকেহ (২) বধ করিতে পারে না__ ভার্ধ্য ও পুত্র দাস ও শিশ্য ও কনিষ্ঠ সোদর এই সকলে অপরাধ করিলে রাজ্বাদি বন্ধন করিয়া বাসের সূক্ষ্ম কঞ্চি (৩) দিয়া পৃষ্ঠেতে তাড়ন করিতে পারে এহাতে রাজদণ্ড নাই ব্রাহ্মণের সহিত তুল্য হৈয়া বাদ (8) করে যে শৃদ্রে কিম্বা পথে যাইতে সমান হৈয়া গমন করে যে শূদ্রে কিম্বা এক সমান সয্যাতে শয়ন করে যে শুদ্ধে কিন্বা সান আসনেতে বৈশে (৫) যে শৃঞ্ছ্রে তাকে রাজা বেত দিবেন ৯% আইন গ্রন্থাবলীর কাগজ জীর্ণ; কাগজ পচিযা উপর ও নীচ দিক ক্ষয় হইয়াছে ও নাড়াচাড়ায়। ক্রমশঃ ক্ষয় হইতেছে, এক এক স্থল খসিয়া পড়িয়াছে, তৎস্থলে (ছিন্ন) লিখিত হইল। কোন ও চিহণদি নাই, চ্ছেদ স্থলে এক এক রেখা মাত্র অঙ্কিত আছে। ৪৭০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত চর্মভেদে সর্বত্র সার্ঘ দ্বিশত পণাঃ-_ (ছিন) পঞ্চদশত (ছিন্ন) অস্থিভেদে সহম্ত্র পণাঃ (ছিন্ন) নাসাকর দস্তা জ্বী নাং অস্থিভেদ পঞ্চশত পণাঃ__ (ছিন) ভ্রমিতে উভয়োর্দ্ডঃ__ ব্রাহ্মণেষু কোপাৎ পানিং প্রহরণ শুদ্রঃ পাণি ছেদন দণ্ডঃ- কোপাৎ পাদেন প্রহরণ পাদ ছেদন দত্যু৪-- সহাসনেবসন্‌ শুদ্রঃ কট্যাং কৃতচিহঃ (ছিন্ন) অথবা নিতম্ব সমীপ মাংস খণ্ডং কর্তয়েৎ_ কোপাৎ প্রহারার্থং ভ্রকুট্য মুখং বিস্তারয়ত শূদ্রস্য ছাবাষ্টো ছেদয়েৎ__ ব্াহ্মণোপরি মুত্র মুৎসৃজতঃ শুদ্রস্য লিঙ্গং ছেদয়েৎ__- ব্রান্ষণোপরি পুরীযষোৎসর্গে গুদং ছেদয়েং_ ৩. বাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দীর্ঘ শাখাকে কঞ্চি বলে ৪. বাদ-বাদানুবাদ । ৫. বৈশেন্উপবেশন করে । ৬. ব্যক্তিয়েব্যক্তি ৷ ৭. মারণেতে-্প্রাস। ৮. আরেক-আরও এক। ৯. দুইয়-উভয় । দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড সমান ব্যক্তিয়ে (৬) মারণেতে (৭) যদি চম্ম ভেদ হয় তবে রাজাতে ১৫7%পনর কাহন দশ পণ দণ্ড দিতে হয়। সমান ব্যক্তিয়ে মারিতে যদি মাংস ভেদ হয় তবে রাজাতে ৩১ 1০ একত্তিস কাহন চাইর পণ দণ্ড দিতে হয়__ সমান ব্যক্তিয়ে অস্থি ভেদ করিলে ৬২ শাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয় কর্ণ কিন্বা নাসিকা কিম্বা দন্তাদি ভেদ করিলে রাজাতে ৩১ একত্তিস কাহন চাইর পণ দণ্ড দিতে হয়। এবঞ্ সমান ব্রা্গণে যদি এক জনার উপর আরেক (৮) জনায়ে পরস্পর অস্ত্র ভ্রমায় তবে উভয়েহি রাজাতে ৩১ 1০ একত্তিস কাহন চাইর পণ দণ্ড দিতে হয়-_ শূদ্বে যদি ক্রোধ করিয়া ব্বাহ্মণকে হস্ত দ্বারা প্রহার করে তবে তাহাকে হস্ত ছেদন করিতে হয়__ শৃদ্ে যদি ক্রোধত পাদ দ্বারা ব্রাহ্মণকে প্রহার করে তবে তাহার পাদ ছেদন করিতে হয়__ ব্রাহ্মণের একাসনেতে একাকী যদি শূদ্র বৈসে তবে তাহার নিতম্বের মাংস ছেদন করিতে হয়-_- শৃদ্বে কোপ করিয়া ব্রাহ্মণকে মারিবার নিমিত্তে যদি ভ্রুকুটী মুখ বিস্তার করে তবে দুইয় (৯) ঠোট ছেদন করিতে হয়_ শুদ্রে ক্রোধ করিয়া যদি ব্রাহ্মণের উপর ওস্রাব করে তবে তাহার লিঙ্গ ছেদন করিতে হয়-_ শুদ্রে যদি ক্রোধ করিয়া ব্রাহ্মণের উপর বিষ্ঠা ক্ষেপন করে তবে তার গুদ ছেদন করিতে হয়-_ উপসংহারের টীকা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৭১ ্রাহ্মণস্য কেশেষু পাদয়ো বর্বশ্রীবায়াং বা শৃদ্ধে যদি ক্রোধ করিয়া স্ত্রাহ্মণের অণ্ডকোষে বা কোগাদগৃহৃতঃ শুদ্রস্যহস্তৌ কেশেতে ধরে কিন্বা গ্রীবাতে ধরে কিন্বা ছেদয়েৎ__ পায়েতে ধরে কিম্বা অণ্ডরকোষেতে ধরে তবে তার হস্ত ছেদন করিতে হয়- (এস্থলে একপাতা নাই ।) র শিরসি প্রহরন্‌ চৌরবৎ (ছিন্ন) কিন্তু মস্তকেতে তাড়না করিলে চৌরির প্রাপ্রোতি_ প্রায় রাজদণ্ড দিতে হয়-_ মহিষাদিনাং কুক্কুরাদীনাঞ্চ স্বামী মহীষাদির ও কুক্ুরাদির স্বামী সমর্থ শক্তোপ্যেতান অবারয়ন সার্ঘদিশত পণ থাকিতে কোন ব্যক্তিব উপব মহিষাদি ও দণ্তযঃ_ কুক্কুরাদি রুষিতে যদি বাবণ না করে তবে ১৫[এপনর কাহন দশ পণ দণ্ড দিতে হয-_ (ছিব) ত্যুক্তেপি যদি না তদাপঞ্চ শত পণ ই দূরকর ২ এমত বলিতেহ যদি মহিষাদি দণ্তঃ-_ ও কুকুরাদির স্বামীয়ে আসিয়া বারণ না করে ত রাজাতে ৩১ 1০ একত্তিস কাহন চাইল পণ দণ্ড দিতে হয়-_ বাক পারুষ্যাদিনা নীচো যদি লঙ্ঘয়েৎ _ নীচ লোকে যদি (ছিন্ন) ব্যক্তিকে বাক্য তদাং নীচং স এর রাজদণ্যোন ভবতি-_ দাবা (ছিনন) এহাতে নীট লোক (ছিন্ন) ম ব্যক্তিয়ে হস্তদ্বারা ছিন্ন) তবে রাজ দণ্ড হয় না সম্পূর্ণ জানা কর্তব্য কোন কোন ব্যক্তিকে চৌর বলা জায তাহা নিরুপনের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুত হেড়বেশ্বর নৃপেন্ত্র বাহাদুরের হুজুর কৌশল (*:) হোত বিবাদদর্পণ গ্রন্থানুসারে দেববাণি (১০) ও ভাষাতে (১১) নীচের লিখিতানুসাবে শক ১৭৩৯ সালেব ১ পহিলা বৈশাখে জারী করিলেন-_ চৌরের সহিত সব্র্বদা সংসর্গ করে যে কিম্বা যাহা পাশ চৌব কর্মের খনিত্রাদি অস্ত্র থাকে ও যাহার শাশ চৌরিত 'দব্য পাওয়া জায় সেহ চোর হয়--এই এই চিহ্ন দ্বারা চোরকে অবধাবণ ক'রযা রাজা" (১২) সপ্রমাণ দ্রব্যস্বামীজে ব্য দেওয়াইযা চোবকে যথা (ছিনন) বেন_ চোরানাং নিগ্রহে পরমং যত কুর্য্যা চোরকে নিগ্ং কবিতে রাজা পবম যত করিবেন- চোরের নিগ্রহেনে যশোবৃদ্ধি হয অতএব পরম যত্ব কবিব রাশ (ছির)_ চোর দুই প্রকার হ.-- চৌবৈঃ সহ মিলন খনিত্রাদি দ্রব্যাণমন্য তমেনাপি চৌরমবধার্ধ্য রাজা চোরিত দ্রব্যং দ্বব্যস্বামীনে দাপয়িতা শাস্ত্রোক্তং দণ্ডং ৪ জার তি ৪৭২ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত প্রকাশা (ছিন)- তত্র প্রকাশ চৌরা বণিগাদয়ঃ-- অপ্রকাশ চৌরা সন্ধি ছিন্ন) দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড প্রকাশ চোর ও অপ্রকাশ চোর কপট তোল (১৩) করে যে বণিগাদি সেই প্রকাশ চোর-_ সন্ধানাদি দ্বারা চৌরি করে যে সেই অপ্রকাশ চৌর-- জানা কর্তব্য কপট তোল করি ও কপট গণা (১৪) করি ও কপট লেখ্য দ্বারা ধনের বৃদ্ধি ও হ্রাস করিয়া পুক্রদ্বারাদিকে প্রতিপোষণ করে যে ব্যক্তি এ ২ ব্যক্তি রায়ে (১৫) কত স্রাসেতে কি দণ্ড হবে তাহা নিরূপণ নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুত হেড়ন্বেশ্বর বাহাদুরের হুজুর কৌশল হৈতে বিবাদ দর্পণ গ্রন্থানুসারে দেববাণি ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৯৩ সালের ১ পহিলা বৈশাখ জারী করিলেন ইতি কপট (ছিন্ন) কপট লেখ্যেন কপট গণনেন অর্থস্য বৃদ্ধি হ্রাসাভ্যাং বণিজ: পরিবারান্‌ পুর্তস্তি_ যঃ কপট তুলাদিনা পরদ্রব্যাষ্টমাং সম্পতরতি সপণ শতদ্বয় দণ্তযঃ_ যন্ত্র নবমাঃশ অপহরতি স পঞ্চবিংশতি পণ ন্যুনপণ শতদ্বয় দণ্ড দদ্যাৎ__ দশমাংশ হরণে পঞ্চাশৎ পণন্যনপণ দ্বিশতং দণ্ডং__ একাদশাংশ হরণে পঞ্চপণাধিক সপ্ততি পণ নূন্যপন দ্বিশতং-_ দ্বাদশাংশ হরণে পণ শতং দণ্ডধং-_ ক্রয়োদশাংশ হরণে পঞ্চপণাধিক সপ্ততি পণাঃ__ * ৯. কৌশল-কৌঙ্সিল? ১০. দেববানি- সংস্কৃত ।' ১১. ভাষা-5বঙ্গভাষা । ১২. রাজায়ন্রাজা । ১৩, তোল5ওজন। ১৫. ব্যক্তিরায়ব্যক্তিরা, ব্যক্তিগণ । কপট তোল ও কপট গণন ও কপট লেখ্য এই সকল দ্বারা ধনের বৃদ্ধি ও হাস করিয়া পুত্রদারাদিগকে প্রতি পালন করে যে ব্যক্তি-_ রা দ্রব্যের অষ্টম ভাগের ১ এক ভাগ হরণ করিলে রাজাতে ১২ সাড়ে বার কাহন দণ্ড দিতে হয় এবং নবম ভাগের এক ভাগ হরণ করিলে রাজাতে ১০%৮দশ কাহন পনর পণ দণ্ড দিতে হয়__ দশমাংশ হরণ করিলে রাজাতে ৯ | নও কাহন ছয় পণ দণ্ড দিতে হয়-_ একাদশাংশ হরণ করিলে ৮1৮ আষ্ট (১৬) কাহন সাত পণ রাজাতে দণ্ড দিতে হয় দ্বাদশাংশ হরণ করিলে রাজাতে ৬ 1০ স্বয়া ছয় পণ দণ্ড দিতে হয়-_ ক্রয়োদশাংশ হরণেতে ৪।%চাইর কাহন এগার (১৭) পণ রাজাতে দণ্ড দিতে হয়-_ উপসংহারের টাকা চতুর্দশাংশ হরণে পঞ্চাশৎপণাঃ__ পঞ্চদশাংশ হরণে পঞ্চ (ছিন্ন) পণাঃ-_ ষষ্ট সপ্তমাংশ মপহরতি তস্য পণ দ্বিশতোপরি পঞ্চবিংশতি পণ বৃদ্ধিঃ__ যষ্টাং ছিন্ন) পণদ্বিশতোপরি পঞ্ঝাশৎ পণ পঞ্চমাংশ হরণে পণ দ্বিশতোপরি পঞ্চ সপ্ততি পণ বৃদ্ধিঃ- চতুর্থাংশ হরণে পণদ্বিশতোপরি শতপণ বৃদ্ধিঃ_ তৃতীয়াংশ হরণে পণদ্বিশতোপরি পঞ্চবিংশতি পণাধিক শতপণবৃদ্ধিঃ- দ্বিতীয়াংশ হরণে পণদ্বিশতোপরি পঞ্ঝাৎপণাধিক শতপণ বৃদ্ধি এবঞ্চ চোবিত দ্রব্য মষ্টধা বিভজ্য ষ্টমাংশঃ- নবধা বিভজ্য নবমাংশ ইত্যাদি ক্রমেণ বোধ্যঃ-_ শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ৪৭৩ চতুর্দঘশাংশ হরণেতে ৩1০ তিন কাহন দুই পণ দণ্ড দিতে হয়_ পঞ্চদশাংশ হরণেতে ১০ এক কাহন নও (১৮) পণ দণ্ড দিতে হয়-- এই ক্রমে আধকাংশ হরণেতে অধিক দণ্ড দিতে হয়-_ সপ্তমাংশ হরণেতে ১৪./০ এক চৌদ্দ কাহণ এক পণ দণ্ড দিতে হয়-_ ষষ্টাংশ হরণেতে ১৭]*সতর কাহণ দশ পণ দণ্ড'দিতে হয় পঞ্চমাংশ হরণেতে ১৭॥১৯১সতর কাহন তিন পণ দণ্ড দিতে হয়-_ চতুর্থাংশ হরণ করিলে ১৯14 উন্বইস (১৯) কাহন বার পণ দণ্ড দিতে হয়-- তৃতীয়াংশ হরণ করিলে ২১%১একইস কাহন পাচ পণ দণ্ড দিতে হয় দ্বিতীয়াংশ হরণ করিলে রাজাতে ২২৬৫ বাইস কাহন চৌদ্দ পণ দণ্ড দিতে হয়_ চোরিত দ্রব্যকে অষ্ট ভাগ করিয়া প্রতি ভাগেতে যাহা হয় এই এক ভাগকে পুনশ্চ নবমাংশ ও দশমাংশ ইত্যাক্রমে (২০) বৃদ্ধি ও হাস করিতে হয়_ জানা কর্তব্য তাম্াদি ওষধ দ্বারা সুবর্ণ করি বিক্রী (২১) করিলে এবং কুক্ুরাদির মাংস হরিণাদির মাংস করি (২২) বিক্রী করিলে এবং অল্প মূল্য দ্রব্য যদি বঞ্চনা করি বহুমূল্য বিক্রী করিলে যাহা দণ্ড হবে তাহা নিরুপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুত হেড়ব্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হুজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পণ গ্রস্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১ পইলা বৈশাখে জারী করিলেন ইতি অসুবর্ণস্য ওঁষাধি যোগাৎ সুবর্ণনুত্রম মুৎপাদ্য যঃ ক্রয়াদি ব্যবহারং করোতি যশ্চম্বাদি ংসং হরিণাদি মাংসত্েন প্রকাশ্য বিক্রি নীয়তে স নাসাদণ্ড কর শূন্য করণীয়ঃ পন সহস্র দণ্ডশ্চ সুবর্ণাতিরিক্ত যে দ্রব্য তাতে (২২) ওঁষধাদি ভ্রম জন্মাইয়া এবং কুক্কুরাদির মাংসকে হরিণাদির মাংস হেন প্রকাশ করিয়া বিক্রয়াদি ব্যবহার করে যে ব্যক্তি তাহার নাসাছেদ ও হস্তছেদ ও দন্ত শূন্য বাত্রয়া ৬২1০ রাজা দণ্ড লইতে হয় ১৬. আষ্ট- আট । ১৭. এগৃ্গার-এগার। ১৮. নওননয়। ৪৭৪ শ্রীহট্টরের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড (ছিন) দ্রবাং গ্রহীত্বা ছিন্ন) প্রকাশ্য ছছিন) অল্প মূল্য দ্রব্য আনিয়া যদি বহু মূল্য কোন বঞ্চয়ন্তি তেহর্থানুরূপতোদপ্তাঃ দ্রব্য হেন প্রকাশ করিয়া স্ত্রী ও বালককে বঞ্চনা করিয়া স্ত্রী ও বালকেতে বিক্রয় করে তবে মৃল্যানুরূপ অর্থাৎ যত টাকার দ্রব্য হয় তত টাকা রাজাতে দণ্ড দিতে হয় ওষধাদি যোগাদ্ধেমাদিকং কৃত্রিম কৃত্বা যে ওষধাদি দিয়া সুবর্ণাদিতে কৃত্রিম বিত্রীণত্তিতে ক্রেতা মূল্যং দত মূলদিগুণং দণ্ড. জন্মাইয়া যেই ব্যক্তিয়ে বিক্রয় করে সেই রাজনি দদ্যাৎ_ ব্যক্তিযে ক্রয় কর্তাতে (২৩) মূল্য ফিরৎ দিয়া রাজাতে মূল্যের দ্বিগুণ দণ্ড দিতে হয়-- এনিরর এক রাত্রি ও এক দিবস কাল ব্যাপক টি ুব্ ্ীযা়নানে ক্ষয়োন অগ্নিতে দাহ রিলে কিঞ্চিন্মাত্র ক্ষীণ না হয় যে সুবর্ণ তাকেহি (২৪) অথ রজত পণশতে পলদ্বয় মেব- শুদ্ধ সুবর্ণ জানিবা-_ তথা ভবতি ত্রপুনিরাঙ্গ শীশৈ বা অষ্ট এক রাত্রি দিবা ব্যাপক অন্নিতে দাহ পলামব-_ করিলে শত পলেতে দুই পল ক্ষীণ হয় যে রজতেতে (২৫) তাকেহি শুদ্ধ রূপা বলি-__ তথা তাবতি তাম্রেপণ পঞ্চকং__ পিতল ও রাঙ্গ ও শীস (২৬) ছিন্ন) ত্রিদিবা ব্যাপক অগ্নি (ছিন্ন) করিলে যদি অষ্ট পণ (ছিন্ন) তাবহি শুদ্ধ জানিবা_ তাদৃশে লৌহে দশপলানি ক্ষীয়ন্তে_ শতপল তাম্তরেতে ৫ পাচ পদ ক্ষীণ হয়_ শত পল লৌহেতে ১০ দশ পল যদি ক্ষীণ হয় তবেহি শুদ্ধ তাহা-__ ইতি সম্পূর্ণ জানা কর্তব্য অপ্রকাশ চোর অর্থাৎ সিংহ দিয়া (২৭) গৃহেতে প্রবিষ্ট হৈয়া চোরি করে যে ব্যক্তিয়ে তাহার কি ২ দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুত হেড়বেশ্বর নৃপেক্দর বাহাদুরের হুজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পণ গ্রস্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখে জারী করিলেন ইতি-_ খননং কৃত্বা গৃহং প্রবিশ্য যে চৌবাশ্টৌর্যং খনন করিয়া গৃহেতে প্রবিষ্ট হৈয়া চৌরি কুর্ববন্তি রাজাতেষাং হস্ত ছিত্বা তীক্ষ শূলে করে যে ব্যক্তি এমত চোরকে রাজায়ে হস্ত দ্বয় নিবেশয়েৎ_ - ছেদন করিয়া তীক্ষ শূলেতে প্রবিষ্ট করেন__ ১৯. উত্বইস:উনিশ। ২০. ইত্যাক্রমেনইত্যাদি ক্রমে ২১. বিরী-বিক্রয ৷ ২২. কবি-কবিয়া (বলিয়া)। * তাতে-তাহাতে । উপসংহারের টীকা ছিন্ন) নাং না বাণ বধ্য৪-- তাদি রত্তা (ছিন্ন) মধ্যম পুরুষ হরণে হস্তপাদৌ ছিতা চতুষ্পথে স্থাপ্য- অধম পুরুষ হরণে পণসহন্বদণ্ড-_ অশ্থ হর্তারং হস্তপাদৌ কটিং ছিত্‌ প্রমাপয়েৎ_- গবোষ্ট্রগজাপহরণে একচরাণা দিকঃ বিংশতি দ্রোণ ন্যুন ধান্যাপ হরণে তত্সমং ধানং স্বামিনি দদ্যাৎ তদেকাদশ গুণঞ্ রাজনি দণ্তত্ননে দদ্যাচ্চ-_ ইতোধিকাপ হরণে মারণীয়ঃ__ ব্রাহ্ষণস্যাবমানমেব বধ$- মধ্যবিধ ব্রাহ্মণ চৌরস্য ললাটে ভগাদি চিহ্ন কৃত রাজ্যা্বিঃ সারয়েৎ-_ চৌরিতত্েন জ্ঞাতানাং দ্রব্যাণাং ক্রেতা রক্ষিতা গোপন কর্তা চ- চৌর সম দপ্ত-- ২৩,. ক্রয় কর্তীতে ক্রেতাকে। ২৪. তাকেহি _ তাহাকেই। ২৫. রজতেতে-রজতে । ২৬. শীন- সীসক। শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত ৪৭৫ কুলীন পুরুষ ও স্ত্রীলোক ও মরকত অর্থাৎ প্রস্তরাদি ও রত্ব এই সকলকে রাত্রিতে উপরের লিখিতানুসারে যদি চোরি করে তবে সেই বধ্য হয়__ এবং মধ্যম পুরুষকে যদি হরণ করে তবে রাজা তাহার হস্ত ও পাদ ছেদন করিয়া সেই চোর ব্যক্তিকে চতুষ্পথে অর্থাৎ চৌক বাজারে রাখিবেন- যদি অধম পুরুষকে হরণ করে তবে রাজাতে ৬২ বাসইট কাহন আষ্ট পণ দণ্ড দিতে হয়-_ ঘোটক হরণ করে যে ব্যক্তি তাহার হস্ত ও পদ ও কোটি ছেদ করিয়া মারিবেক- গো ও অআস্ট্র অর্থাৎ উট ও গজ অর্থাৎ হস্থি এই সকলকে চোরি করিলে তাহার এক চরণ ছেদন করিবেক ।- বিংশতি দ্বোণের (ছিন) ধান্যর ন্যুন ধান্য (ছিন্ন) ধান্যর স্বামীকে তাদ্‌ (ছিন্ন) দিয়া রাজাতে এ ধান্যে ছিপ) শদগ্ুণ ধান্যের মূল্য দণ্ড দিতে হয়__ বিংশতি দ্রোণ পরিমিত ধান্যের অধিক ধান্য চোরি করিলে মারনীয় হয়-_ যদি ব্রান্মণ চোর হয় তবে তাহাকে অপমান করিব ব্রাহ্মণের যে অপমান সেই বধের তুল্য__ মধ্যম ব্রাহ্মণে যদি চৌরি করে তবে তাহার ললাটেতে ভগাঙ্ক করাইয়া রাজ্য হৈতে বাহির করিবেক- ক্রয় ও রক্ষণ ও গোপন করে সেই চৌর-__ সমান দণ্ড হয়। ২৭. সিংহ দিয়া-মাটি খনন করার উপযোগী সিং এর আকৃতি যন্ত্র দ্বারা খুঁদিয়া সিঁদ কাটিয়া। ৪৭৬ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ_পঞ্চম খণ্ড সম্পূর্ণ জানা কর্তব্য অকন্মাৎ কর্ম করে যে ও বল করি কর্ম করে (২৮) [ছিন্রী করি করব করে যে তাহার দণ্ড কি হবে তাহা নিরূপণের [ছিন্ন] এই আইন শ্রীযুত হেড়ন্বেশ্বর নৃপেন্্র বাহাদুরের হুজুর [ছিন্ন] হৈতে বিবাদদর্পণ গ্রন্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সনের ১ বৈশাখে জারী করিলেন সহসা বলেন দর্পিতৈর্ষৎ কর্ম ক্রিয়তে তৎ অকস্মাৎ যে কর্ম করে ও বলদ্বারা কর্ম সাহসং প্রথম মধ্যমোত্তমভেদাৎ তৎ ত্রিবিধং- করে যে দর্পদ্বারা কর্ম করে যে তাহার নাম সহসা সেই প্রথম মধ্যম উত্তম ভেদে তিন প্রকার হয়-- লাঙ্গলসেতু পুষ্প মূল ফলেষু লাঙ্গল (২৯) সেতু পুষ্প ও মূল ও ফল সাহসন বিনাশিতেষু বা তেষাং মধ্যে অল্প এই সবের মধ্যে অল্প মূল্য যেই সেই দ্রব্য মূল্যে পণশতং__ (৩০) হয় তাহাকে যদি সাহসাদি দ্বারা চোরি করে অথবা বিনাশ করে তবে রাজাতে ৬।০ সয়াছয় কাহন দণ্ড দিতে হয়-_ বহু মূল্যেই যেই যেই দ্রব্য যদি চোরি সি করে কিম্বা নাশ করে তবে রাজাতে সেই দ্রব্যের সমান মূল্য দণ্ড দিতে হয়_ ্ত্ীপুং হেমরভ্নাদেব বিপ্রধন কৃমি কোষাড্ভব স্ত্রী ও পুরুষ হেম ও রত্ব ও দেব বিপ্রধান ও টি ০১৮৯০০০৯৪৫ রা কৃমি কোষাড্ভব অর্থাৎ তসরাদি বস্ত্র ও পষ্ট বন্ত্রাদি এ সকল দ্রব্য চোরি করিলে রাজাতে এ দ্রব্যের সমান মূল্য দণ্ড দিতে হয়__ বি হীন বর্ণ পুরুষে যদি সাহস করি উপরের 05508 লিখিতানুসারে কর্ম করে তবে রাজাতে দ্রব্যের গুণ মূল্য দণ্ড দিতে হয়-__ চোর সংসর্গ নিবৃত্ত যে হর্তা তাড়নীয় চোরের সংসর্গে নিবৃতে (৩১) থাকে যে স্যাৎ__ তাহাকে রা [ছিন্না] করিতে হয়__ অথ প্রথম সাহসস্যল্পধনে শতং মধ্যমধনে উত্তরোত্তর ক্রমে অধিক [ছিন্ন] করিলে দ্বিশতং তদপেক্ষ্য কিঞ্রিদধিকে (ছিন্ন) দ্বিশতং উত্তরোত্তর ক্রমে দণ্ড অধিক হয় অথবা ১৫1০/০ বহু মূল্যেতে (ছিন্ন) সমং মধ্যম সাহসস্য পনর কাহন দশ পণের নুন ধন চোরি করিলে পঞ্চশতং তত্রাপি ক্রিয়াভেদো বিবক্ষণীয়ঃ-_ ৬।০ সয়াছয়কাহন দণ্--১৫॥ পনর কাহন দশ পণ চোরি করলে ১২০ সাড়ে বার কাহন দণ্ডঁ_ তদপেক্ষাত (৩২) কিঞ্চিৎ অধিক ধন চুরি করিলে ১৫পনর কাহন দশ পণ দণ্ড ২৮. বল করি-বলপূর্বকি। তদপেক্ষাত অধিক ধন চোরি করিলে সেই ২৯. কৃষি কার্ষোর যন্ত্র বিং। ৩০. যেই যেই- যে যে। ধনের তুল্য ধন দ'* এবং বহু মূল্য দ্রব্য হয় উপসংহারের টীকা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৭৭ জানা কর্তব্য মাতা পিতা স্ত্রী ও পুত্র এ সকলকে ভরণ পোষণ না করিলে এবং ব্রাহ্মণেতে ও ক্ষত্রিতে ও বৈশ্যেতে ও শূদ্বেতে (৩৩) বিষ্ঠা দিয়া কিম্বাসুরাও রসুন ভক্ষণ কায এবং মোহন ও বশিকরণ ও উচ্চাটন এ সকল করাইবার উদ্যেগ করে যে এবং ব্রাহ্মণের ভেশ (৩৪) ধারণা (৩৫) করে যে শৃদ্রে তাহার কি দণ্ড হবে তাহার নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুক্ত হেড়ন্শ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হুজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পন গ্রস্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের রশক ১৭৩৯ সালের ১লা পহিলা বৈশাখে জারী করিলেন-__ মাতৃ পিতু স্ত্রী পুত্র ভরণ পোষণ (ছিন্ন) পণাষ্ট পণা দণ্ড ব্রাহ্মণ দূষণে শুদ্রস্য ষোড়শ সুবর্ণ দণ্ডঃ__ লশুনাদিকং ভো; যিত্বা শত সুবর্ণ দণ্ড সুরাং পায়যিত্বা বধ্যঃ__ বিষ্টাদিনা ক্ষত্রিয়ং দৃষয়িত্া অক্টো সুবর্ণান দণ্তঃ- লশুনাদিনা পঞ্চাশ১-- (ছিনন) রয়া অঙ্গছেদ__ বিষ্ঠাদিনা বৈশ্যং দূষয়িত্া চতুঃ সুবর্ণান দপ্তঃ লশুনাদিনা পঞ্চবিংশতি সুবর্ণান দপ্তঃ সুরয়া অল্লাঙ্গছেদঃ ইত্যুৎকৃষ্ট ব্রাহ্মণাদি বিষয়ং অন্যত্র দ্বিশতপণা দণ্ডঃ সমর্থ থাকিয়া যেই ব্যক্তিয়ে মাতা পিতা ও স্ত্রী ও পুত্র এই সকলকে যদি ভরণ পোষণ না করে তবে সেই ব্যক্তিয়ে রাজাতে ৩৫৪০ সাড়ে পয়ত্তিস কাহন দণ্ড দিতে হয়_ শৃদ্রে যদি বিষ্ঠাদি দ্বারা ব্রাহ্মণকে দুষ্ট করে তবে রাজাতে ১৬ ষোড়শ সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয় শুদ্রে যদি ব্রান্মণকে লশুনাদি ভক্ষণ করায় তবে রাজাতে ১০০ একশত সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়__ সুরাপান করাইয়া যদি শূদ্ে ব্রাহ্মণকে দুষ্ট করে তবে রাজা এ ব্যক্তিকে বধ করিতে হয়__ এবং শৃদ্রে যদি বিষ্ঠাদি দ্বারা ক্ষত্রিয়কে দুষ্ট করে তবে রাজাতে ৮ আষ্ট সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয় যদি লশুনাদি দ্বারা নষ্ট করে তবে রাজাতে ৫০ পঞ্চাশ সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়__ সুরা ভক্ষণ করাইয়া যদি ক্ষত্রিয়কে দুষ্ট এবং বৈশ্যকে যদি শৃদে বিষ্ঠাদি দ্বারা নষ্ট করে তবে রাজাতে ৪ চাইর সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়।-__ লশুনাদি ভক্ষণ করাইলে রাজাতে ২৫ পঞ্চবিংশতি সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়-_ সুরাপান করাইয়া দুষ্ট করাইলে করিতে হয়-এই সব দণ্ড উৎকৃষ্ট ব্রাহ্মণ ও উৎকৃষ্ট ক্ষত্রিয় ও উৎকৃষ্ট বৈশ্যের হয়__ অন্যত্র এতাদৃশ কর্ম করিলে ১২1০ সাড়ে বস কাহন দণ্ড দিতে হয়-- ৩২. তদপেক্ষাত - তদপেক্ষাও ৩৩. শৃদ্রেতে_ শ্দ্রকে ৩৪. ভেশন বেশ ৩৫. ধারণা _ ধারণ ৪৭৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ] দ্বিতীয় ভাগ-পঞ্চম খণ্ড স্তন্তন ও মোহন ও বশীকরণ ও উচ্চাটন এবং স্তন্তন মোহন বশীকরণ গু বিদ্বেষণ ও মারণ এইসব কর্মের উদ্যোগ বিদ্বেণোচ্চাটন মারণ রূপ যটকর্মস্বপি করে যে ব্যক্তি তাকে রাজাতে ১২০ সাড়ে বার কাহন দণ্ড দিতে হয়__ জানা কর্তব্য যেই ২ খানে বধ ও হস্তাদি ও হস্তাদি ছেদন তাহার প্রতিনিধি দণ্ড কি দিবেক তাহা নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুত হেড়ন্বেশ্বর নৃপেন্্র বাহাদুরের হুজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পণ গ্রস্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৯৩ সালের ১ পহিলা বৈশাখ জারী করিলেন ইতি-_ বধ প্রতিনিধি দণ্ডঃ সুবর্ণ শতং__ বধযোগ্য অপরাধি ব্যক্তিয়ে যদি ১০০ একশত সুবর্ণ দণ্ড দিতে পারে তবে এ ব্যক্তিকে বধ করাবেন না। এবং অঙ্গছেদন যোগ্য অপরাধি ব্যক্তিয়ে যদি ৫০ পঞ্চাশৎ সুবর্ণ দণ্ড দিতে পারে তবে অঙ্গছেদ করাবেন না। বিংশতিঃ রাজ্য হৈতে বাহির করিবার রাজ্যাঘ্হিক্করণ প্রতিনিধিঃ_ যোগ্য অপরাধি ব্যক্তিয়ে যদি ২৫ পরঞ্চবিংশতি সুবর্ণ দণ্ড দিতে পারে তবে বাহির করাবেন না। জানা কর্তব্য নিরপরাধির অপরাধি বলিয়া বান্ধিলে এবং অপরাধি ব্যক্তিকে ছেন্ন) এবং অন্যের শরীরেতে শশ্ত্র ছছিন্র) তনমাত্রেতে এবং স্ত্রী (ছিন্ন) শ করিলে এবং রাজাজ্ঞা পালন না করিলে যেই যেই দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুত হেড়ন্বেশ্বর নৃপেন্দ বাহাদুরের হুজুর কৌশল হৈতে বিবাদপূর্ণ প্রস্থানুসারে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখ জারী করিলেন ইতি_ অঙ্গছেদন প্রতিনিধিঃ পঞ্চাশৎ__ নিরপরাধং যো বধ্নতি যশ্চ সাপরাধং নিরপরাধি ব্যক্তিকে যদি অপরাধি হেন মুঞ্চতি স পণ সহস্র দণ্ার্হঃ_ বলিয়া বান্ধে এবং অপরাধি ব্যক্তিকে পাইয়া যে ছাড়ে এই দুই ব্যক্তিয়ে রাজাতে ৬২০ সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়-_ কুট প্রমাণের কৃট মুদ্রয়া বা যঃ কার্য্যং কুট প্রমাণ অর্থাৎ মিথ্যা লেখা পত্র সাধয়েৎ স পণ সহস্র দণ্তার্থ (ছিন্ন) অল্লাপরাধ করিয়া ও কুট মুদ্রা অর্থাৎ মিথ্যা মোহর মং বানাইয়া (৩৬) কার্যোদ্ধার করে যে ব্যক্তি সেই রাজাতে ৬২০ সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড অতি অল্প বিসয়েতে (৩৭) করিতে হয়-_ পরদেহে শন্ত্রপাতন মাত্রে ব্রাহ্মণীতর গর্ভ অন্যের শরীরেতে অস্ত্র দ্বারা অল্প ক্ষত পাতনে চ পণ সহস্রং- 8 করিলে এবং ব্রাহ্ণী ভিন্বা যে স্ত্রী যদি ইহার গব্র্ভ নষ্ট কান তবে রাজাতে ৬২৪০ সান বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়_ উপসংহারের টীকা ছিন্ন) পবীতাদি বিপ্র চিহ্ন ধারণেন জীবিকাং কুবর্বতঃ শুদ্স্যাষ্ট শতপণ দণ্ডঃ__ বিক্রয়িনঃ দেব প্রতিমাভেদকস্য পণ সহস্র দণ্ড বিষাগ্ন্যাদিনা পুরুষদ্বীং প্রবেশয়েৎ- পতিগুরু নিজপত্যত্বীং কর্ণকরনাসৌক্ট শৃন্যাং কৃত্বা গোদ্ারা প্রমাপয়েৎ্র শুদ্ধিচিন্তামণৌ স্ত্রীনাং বধাঙ্গং ছেদন নিষেধঃ- শিষ্যগা গুরুগা পতিদ্বী নিন্দিতগাচ ত্যাজ্যা_ বিবাদ নির্ণয়ে ধান্যাদি শস্য যুক্ত ভূমি গৃহ সমৃহ গ্রাম গোষ্ঠাদি নানাবিধ শস্যযৃক্ত খলসংজ্ঞক স্থান দাহকা রাজপত্যুভিগামিচ ধীরণ পত্রাগ্নিনা দগ্ধব্যাঃ বীবণং বির্বা ইতি খ্যাতং__ ৩৬. বানাইয়া ক প্রস্তুত করিয়া । ৩৭. বিষয়েতে _ বিষয়ে । ৩৮. তাকেহ- তাহাও ৩৯. ব্যক্তিরা 5 বাক্তিগণ। 8০. ঠট ঠোট । (ছিনু) পঞ্চাগাব্র্ভণীং স্ত্িয়ং শিলাং বধ্বা অন্ধ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৭৯ যজ্জপবীতাদি ধারণ করি ব্রাহ্মণের যেই ২ চিহ্ন তাকেহ (৩৮) ধারণ করিয়া যদি উপজীবিকা করে তবে সেই শৃদ্রে রাজাতে ৫০ পঞ্চাশ কাহন দণ্ড দিতে হয়-__ যাহার ভক্ষ যেই দ্রব্য না হয় সেই দ্রব্য. যদি তাহার পাশ বিক্রয় করে এবং নির্মিত দেবতা প্রতিমা ভাঙ্গে তবে এ ২ ব্যক্তিরা (৩৯) রাভ্ভাতে ৬২০ সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়-__ যেই স্ত্রীয়ে কিম্বা সেও অর্থাৎ পুন নষ্ট করে যে সত্রীয়ে তাকে শিলা বান্ধিয়া জলেতে ক্ষেপনা করিব । কিন্তু গর্ভাযুক্তা হইলে জলেতে ক্ষেপনা করিবে না স্বামী কিন্বা গুরু কিন্বা আত্ম পুত্র এই সকলকে বধ করে যে স্ত্রীয়ে তাহার নাসা ও হস্ত ও ওষ্ট অর্থাৎ ঠুক (৪০) এই সকল ছেদন করিয়া গো দ্বারা মারিবেক- কিন্তু শুদ্ধিচিন্তামণিকারের মতে স্ত্রীলোকের বধ ও অঙ্গচ্ছেদ করিতে পাবে নাহি (৪১) শিরোধুগ্তনাদি (ছিন্ন) অপমান করিয়া দেশের বাহির করিবেক-_ শিষ্য গামিনী ও গুরু গামিণী ও পতিত্বী অর্থাৎ পতিকেহ মারিয়াছে যেই স্ত্রীয়ে এই সকল সত্রীকেহ এতাদৃশ মতে দেশের বাহির করিব এবং নিন্দিত পুরুষ গামিনী যে স্ত্রী তাকেহ (৪২) এতাদৃশমতে দেশের বাহির করিব-_ ' বিবাদ নির্ণয়েতে লিখিয়াছেন--ধান্যাদি শস্য যুক্ত যে ভূমি ও গৃহ সমূহ ও গ্রাম ও গোষ্ঠাদি ও নানাবিধ শস্যখলা (৪৩) নাম এই সকলেতে অগ্নি দিয়া দাহ করে যে ব্যক্তি এবং রাজপত্বীতে অভিগমন করি যে ব্যক্তি তাকে বীর্থা (88) পত্র দিয়া বেষ্টিত করিয়া দাহ করিবেক-_ ৪১. নাহি কদাপিনা। ৪২, তাকেহ- তাহাকেও ৪৩. খলা হ ধ্যান্যাদি ».বহের নির্দিষ্ঠ স্থান ৪৪. বীন্বা _ বিগ্রা তৃণ, শ্রীহট্র ও কাছাড়াঞ্চলের মাঠে দীর্ঘপত্রএকরুপ তৃণ জন্মে। ৪৮০ শ্রীহন্্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ-পর্চম খণ্ড সম্পূর্ণ এ গবির্ভপী স্ত্রীকে পরিশ্রম-- করাইয়া পরিশ্রম জননে ওষধ প্রয়োগেন গব্ঙভ নষ্ট করে তবে ১৫০/০ পনর কাহন প্রহারেণ বা গব্র্তপাতান প্রথমধ্যমোত্তম দশপন এবং যদি ওষধাদির যোগ করাইয়া (ছি দণ্জঃ গব্র্ভ নষ্ট করে তবে ৩১।০ সয়া একতিস কাহন এবং যদি প্রহার দ্বারা গবৃর্ভ নষ্ট করে তবে রাজাতে ৬২॥- সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয় অকৃত্বামপি রাজাজ্ঞাং কৃতাং কৃতবায়ঃ _ রাজায় যেই বিষয়ের আজ্ঞা না দিয়াছেন প্রকাশয়তি রাজাজ্ঞা খওয়তি বা কট প্রস্ত রাদিনা সেই বিষয়ের আজ্ঞা দিয়াছেন হেন বলিয়া যে তোলয়তি বা তস্য মারণ মঙ্গ ছেদো বা-_ প্রকাশ করে ও যে ব্যক্তিয়ে রাজাজ্ঞা খণ্ডন করে ও যে ব্যক্তিয়ে কুট প্রস্তরাদি অর্থাৎ অল্প শিলা দ্বারা তোল (8৫) করিয়া অধিক বানায় (৪৬) এই সকল ব্যক্তির মারণ রূপ দণ্ড ও অঙ্গ ছেদন রূপ দণ্ড করিবেক কিন্তু এই দণ্ড বিষয় বুঝিয়া করিতে হয়। জানা কর্তব্য এক ব্যক্তিয়ে অন্য ব্যক্তিকে প্রকাশিত মতে বধ করিলে এবং অপ্রকাশিত মতে বধ করিলে যাহা দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুত হেড়ন্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হুজুর কৌশল হৈতে বিবাদ্দর্পন গ্রন্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের রে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখে জারী করিলেন__ প্রকাশ বধকা (ছিন্ন) নির্জন স্থানং শীত্বাবা প্রকাশ করি বধ করে যে ব্যক্তি ও বধ (ছিন্ন) তেষমঙ্গ ছেদন পূর্বক মারণং অপ্রকাশক করি বধ করে যে ব্যক্তি এই দুই ব্যক্তিকে রাজায়ে অঙ্জছেদন পূর্বক মারিবেক- তাদৃশ বধকস্য ব্রাহ্মণস্য শিরোমুণ্ডয়িত্া কিন্তু এতাদৃশ বধক যদি ব্রাহ্মণ হয় ললাটে ভগাঙ্কং দত্থা গর্দভেন পুরাদ্বহিষ্করণং তবে বধ করিতে পারে না কিন্তু শিরোমুণ্ডন দণ্ড করাইয়া ললাটেতে ভগাঙ্ক করাইয়া গর্দভেতে চড়াইয়া পুরী হৈতে বাহির করিব জানা কর্তব্য অন্যের স্ত্রীর সহিত মৈথুন করিলে এই ব্যক্তির কি দণ্ড হবে এবং অন্যের স্ত্রীরে জাইয়া যদি মোহ জন্মায় তবে কি দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুত হেড়ম্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হুজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পন গ্রন্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখে জারি করিলেন ইতি__ 8৫. তোল _ তৌল। ৪৬. বানায় প্রস্তুত করে (এস্থলে) প্রদর্শণ করে। উপসংহারের টীকা পরক্ত্রীয়া সহ নির্জনে রাত্যাদী সন্ধান পুরর্বকমবস্থিতিঃ আকর্ষণ (ছি) সম্তাষণঞ্চ হি) দিচ ত্রীড়া ছিন্ন) নালিঙ্গনান্চ (ছিত্র) স্ত্রীয়াসহ মৈথুনাকুল সম্ভাষণে প্রথম সাহস দণ্ড__ পরদারাভিমর্ষিণো ব্রাহ্মণে তরান্‌ ত্রীন্‌ কর্ণ নাসাদি ছেদন দ্ূপ দণ্ড কৃত্া প্রবাসয়েৎ__ ক্ষত্রিয়াং বৈশ্যায়াং ব্রাহ্মণোগত্যা পঞ্চশত পণ দণ্ডার্হঃ-__ রজক : য়ং গত্বা সহস্যং-_ ধন ভ্রাত্রাদি সৌন্দর্য্যাদি দর্পণ যা পতি ছিন্ন) ভ্যভিচরতি তাং (ছিন্ন) লোক মধ্যে কুক্ুরৈ খাদয়েৎ_ অননুরক্তায়াং দর্পেনাভি য়ে শায়যিত্বা দাহয়েৎ__ গন্তারং মারণ নিযুক্তঃ পুরুতাস্তত্র কাষ্ঠং ক্ষিপেষু-_ চগ্ডালাদি স্ত্রীগমনে ক্ষত্রিয় বৈশ্যো কৃতাশিরফ্ক পুরুষাকেস্কৌ প্রবাসয়েৎ_ ইতি সম্পূর্ণ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৮১ অন্যের স্ত্রীর সহিত প্রতি সন্ধান করিয়া নির্জন স্থানেতে নিয়া কি (ছিন্ন) দি কালেতে অবস্থিত হৈয়া চিত্তাকর্ষণের উপযুক্ত কথা কহে যে ব্যক্তি ও অন্যের স্ত্রীর সহিত এক শয্যাতে শয়ন করে যে ও ক্রীড়া করায় ও চুম্বন আলিঙ্গন করে যে এই সব ব্যক্তিরা রাজাতে ১৫] পনর কাহন দশ পন দণ্ড দিতে হয়-_ বাহ্ণাতিরিক্ত যে তিনবর্ণ সে যদি পরদার করে তবে তাহার কর্ণ ও নাসাদি ছেদন করাইয়া বাহির করাইব সমান বর্ণেতে এতাদৃশ দণ্ড ব্রাহ্মণে যদি ক্ষত্রিণীও বৈশ্যানী ও শুদ্রানী গমন করে তবে রাজাতে ৩১ 1০ একত্তিস কাহন চাইর পণ দণ্ড দিতে হয়-_ রজক অর্থাৎ ধুপা চম্্নকারক অর্থাৎ চামারর স্ত্রী যদি ব্রাহ্মণাদি গমন করে তবে রাজাতে ৬২০ সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়__ ধন ও ভ্রাতাদির ও সৌন্দর্য্য এই সবের গবের্বতে দর্প করিয়া স্বামীকে না মানিয়া অন্য পুরুষের সহিত (ছিন্ন) র করে যেই স্ত্রীয়ে এতা (ছিন্ন) স্ত্রীকে রাজায়ে লোক (ছিন্ন) তে অননুরক্তা অর্থাৎ মানেনা যে স্ত্রী তাকে যদি দর্প করিয়া অভিগমন করে তবে তাহাকে অগ্নি মধ্যেতে লৌহমায় পাত্রেতে শয়ন করাইয়া দাহ করাবেক-_ মারণেতে নিযুক্ত যেই যেই পুরুষ সেই সকলে তাহার উপর কাষ্ঠ ক্ষেপনা করিবেক ক্ষত্রিয়ে ও বৈশ্যে যদি চণ্তালাদির স্ত্রী গমন অঙ্কিত করাইয়া দেশ হৈতে বাহির করাব-_ আমাদের প্রাপ্ত আইন গ্রন্থাবলীতে ইহার পর আরও একটি পাতা ছিল, কিন্তু তাহা এত জীর্ণ ও মলাযুক্ত যে অনেক স্থলে অক্ষর পাঠ করা কঠিন, তাই উক্ত অপাঠ্য পাতের নকল এ স্থলে দেওয়া গেল না। এই অপাঠ্য পত্রের পরও আর অনেকটি পত্রে সমাবেশ ছিল বলিয়া বোধ হয়, কিন্তু তাহা ও সম্মুখের কয়েকটি পত্র বহু অনুসন্ধানেও পাওয়া যায় নাই। যাহা পাওয়া গিয়াছে, অবিকল উদ্ধৃত হইয়াছে। পৃবের্ব বাংলা লেখকদের বর্ণ শুদ্ধির দিকে দৃষ্টি থাকিত না। প্রায় 'সবর্বত্র ইহা দেখা যায়। আহ্রনর সং্্কৃত অংশও যথাযথ চগ্ধীত হইয়াছে; কোন অংশই সংশোধন করা হয় নাই। প্রাচীন লেখার উপর কোন স্থলেই হস্তক্ষেপ করা উচিত নহে। শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৩১ প্রথম ভাগের পরিশিষ্ট পরিশিষ্ট (ক) (ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ১ম ভাগ ১য় অধ্যায়) ১৯০১ খৃষ্টাব্দের লোকসংখ্যার বিবরণ ১ ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনানুসারে শ্রীহট্র জিলার লোকসংখ্যা--২,২৪১,৮৪৮ জন। তৎপৃবের্ব ১৮৯১ খৃষ্টাব্দের গণনানুসারে ২১৫৪৫৯৩ জন ছিল। "১৮৮১ ” & ১৯৬৯০০৯ " ১৮৭২৮ রঃ ১৭১৯৫৩৯ ” শ্রীহত্রের লোকসংখ্যা ক্রমশঃ বর্ধিত হইতেছে। ২ ১৯০১ খৃষ্টানদের গণনানুসারে শ্রীহট্ট জিল'য় মোট হিন্দু সংখ্যা ১০৪৯২৪৮ এবং । খ্যা ১১৮০৩২৪ জন ত্রান্ম, খৃষ্টীয়ান ও জৈনাদি বিবিধ কার্যালম্বী ১২২৭৬ জন মাত্র হয়। ৩ ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনায় সমগ্র শ্রীহস্ট জিলায় পুরুষ সংখ্যা ১১৪১০৬০ জন এবং ত্ীলোকের সংখ্যা ১১০০৭৮৮ জন মাত্র হয়। ৪ ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনানুসারে শ্রীহত্টরে, বিবাহিত ব্যক্তির সংখ্যা ৮৯০৭১১ জন (তন্মধ্যে পুং ৪৩৫৩৭৩ জন এবং স্ত্রী ৪৫৪৭৯৮ জন); এবং অবিবাহিতের সংখ্যা--১০৭৭৪৩৬ জন। (তন্মধ্যে পুং ৬৫০৯৩ এবং স্ত্রী ৪১২৩৪৩ জন ।) বিপত্বীক ও বিধবা সংখ্যা--২৭৪২৪১ জন (ইহার মধ্যে, বিপত্বীক ৪০৫৯৪ জন এবং বিধবা ২৩৩৬৪৭ জন ।) ক. হিন্দুদের মধ্যে বিবাহিত ৪২০৮৩৩ জন (তন্মধ্যে পুং ২০৭৯০৭ জন এবং স্ত্রী ২১২৯২৬ জন ।) অবিবাহিত ৪৬০৭০৯ জন (তনুধ্যে পুং ৩০০০৫৪ জন এবং স্ত্রী ১৬০৬৫৫ জন 1) খ. মোসলমান মধ্যে বিবাহিত ৪৬৪২৪৩ জন, (তন্মধ্যে পুং সংখ্যা ২২৪৮৭৮ জন এবং ৪৮৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ স্ত্রী ২৩৯৩৬৫ জন ।) অবিবাহিত মোসলমান সংখ্যা ৬১০৫৫২ জন, (তন্মধ্যে পুং ৩৬১৫২০ জন এবং স্ত্রী ২৪৯০৩২ জন ।) ৫ ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনানুসারে শ্রীহট্ট জিলায় শিক্ষিত লোকের সংখ্যা ৯৭৫১৯ জন মাত্র হয়। (ইহার মধ্যে পুং সংখ্যা ৯২৯৬৮ জন এবং স্ত্রী ৪৫৫১ জন মাত্র ।) ক. ইহাদের মধ্যে বঙ্গভাষাজ্ঞ ৯৩০৫৭ জন, (তেন্মধ্যে পুং সংখ্যা ৮৮৭৬১ জন এবং স্ত্রী ৪২৯৬ জন ।) ইংরেজী ভাষাজ্ঞ ৫৯৬৬ জন তেন্মধ্যে পুং ৫৮৫৫ জন ও স্ত্রী ১১১ জন মাত্র ।) অন্যান্য ভাষাবিদের সংখ্যা ৩৭৯১ জন মাত্র, (তন্মধ্যে পু ৩৫৭৫ এবং স্ত্রী সংখ্যা ২১৬ জন মাত্র ।) খ. বঙ্গভাষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু ৭১২২১ জন (তন্মধ্যে পুং ৬৭৬১৩ জন ওন্ত্রী ৩৬০৮ জন |) ইংরেজী শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু সংখ্যা ৪৭১৬ জন তন্মধ্যে পুং ৪৬৭৪ জন ওন্ত্রী ৪২ জন।) ইংরেজী শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে মোসলমান সংখ্যা ৯৭০ জন (তেনধ্যে পুং ৯৬১ জন ও সত্রী১৯ জন।) লিখিতে পড়িতে জানেন, এরূপ মোসলমানের সংখ্যা ২১৬৪৬ জন, তন্মধ্যে পুং ২১০১১ জন ও স্ত্রী ৬৩৫ জন।) ৬ ১৯০১ খৃষ্টানদের গণানুসারে শ্রীহট্ট জিলায় অশিক্ষিত লোকের সংখ্যা ২১৪৩২৯ জন, (নধ্যে পুং ১০৪৮০৯২ জন এবং স্ত্রী ১০৯৬২৩৭ জন |) & ৭ ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণানুসারে ব্যবসায় উল্লেখে নিম্নলিখিত রূপ সংখ্যা প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে;__মিরাসদার বা ভূমির উপস্বত্বভোগী--৪৮৫১০৩ (তন্ধ্যে পুং ২৫১২৫৬ স্ত্রী ২৩৩৮৪৭) প্রজা বা কৃষিজীবী ১১৬৮৫৬৪ (তন্মধ্যে পুং ৫৯৫৭৯ও স্ত্রী ৫৭২৭৭১) বাগানের মজুর (প্রধানত বৈদেশিক) ১৩৫২১৪ তেনুধ্যে পুং ৬৬১৯১ স্ত্রী ৬৯০২৩) জালজীবী ১১৩৭২২ (তনুধ্যে পুং ৫৮০৬৫ স্ত্রী ৫৫৬৫৭) গুরুতা বা পৌরোহিত্য ব্যবসায়ী ২৮৬৮৬ (তনুধ্যে পুং ১৪৪৫৪ স্ত্রী ১৪৩৩২) সাধারণ মজুর ২২৭৬৩ (তন্মধ্যে পুং ১১৮৩৮ স্ত্রী ১০৯২৫) লোক গণনা সম্বন্ধে অপর জ্ঞাতব্য (ছ) এবং (জ) পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য । পরিশিষ্ট (খ) (ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ১ম ভাগ ১ম অধ্যায়) শ্রীহট্রের বাজারসমূহ উত্তর শ্রীহট্ট সদর থানাধীনে আখালিয়া বাজার । কাজির বাজার বন্দর বাজার । গোলাপগঞ্জ থানাধীনে কুড়ের বাজার । গোলাপগঞ্জ । চন্দরপুর । ঠাকুর বাড়ী । পুরকায়স্থ বাজার। পৃরর্বভাগ বাজার । ভাইয়ার বাজার । ভাইয়ার পররোতন) রাখালগঞ্জ। ফেনুগঞ্জ থানাথীনে ঘিলাছড়া । চৌধুরী বাজার। ফেচুগঞ্জ বিহানী বাজার । সেনর বাজার । বালাগঞ্জ থানা ধীনে খনকার বাজার । গিয়াসনগর বাজার । গোয়ালা বাজার । থানার বাজার । দেওয়ানর বাজার । নওয়া বাজার । পরগণার বাজার । পুরকায়স্থ বাজার । বালাগজ। বরুঙ্গার বাজার। মঙ্গলচন্তীর বাজার । মোক্তারপুর বাজার । বিশ্বনাথ থানাধীনে আমতলি বাজার । কামালর বাজার । কালীগঞ্জ । পরগণার বাজার । বিশ্বনাথের বাজার । মুফতির বাজার । রাজাগঞ্জ। লামাকাজি বাজার । সৈফাগঞ্জ। হবার বাজার জয়ন্তীয়া অঞ্চলের কানাইঘাট থানাধীনে মগবাটিয়া বাজার । কানাইরঘাট বাজার । গাছবাড়ী বাজার । চাতল বাজার। চান্দের হাট। নৃতনপুর বাজার । বীরদল বাজার । ভবানীগঞ্জ ৷ মাণিকগঞ্জ। দেবীগঞ্জ । মূলাগাল বাজার । রাজাগঞ্জ। ৪৮৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত গোয়াইনঘাট থানাধীনে কানাইঘর বাজার । জগাবহর বাজার । পীচহাতী খেল বাজার । মানিকগঞ্জ । করিমগঞ্জ থানাধীনে কমুমুখ বাজার। কালীনগর বাজার। খলার বাজার । চাদনিঘাট বাজার । দরগার বাজার । বচলার বাজার । বিয়াবাইল বাজার ভাঙ্গা বাজার । মিয়াখালি বাজার। মোনশী বাজার। লক্ষ্মীর বাজার । শ্রীকোণা বাজার । সাহজী বাজার । জলচুপ থানাধীনে আজীমগঞ্জ । আলীনগর বাজার । কানুনগোর বাজার । কালীবাড়ী বাজার । গাঙ্গৃকুলর বাজার । তালিমপুর বাজার। দক্ষিণগোল বাজার। পাখীয়ালা বাজার । বরণীর বাজার। বৈরাগী বাজার। গারোর বাজার । জাফলং বাজার । পানিছড়া বাজার। মিরতিরি বাজার। করিমগঞ্জ করিমগঞ্জ । কাজিখালের ধার বাজার। ঘোড়ামারালসকর বাজার । ছাগলীর বাজার। নয়াবাজার । বদরপুর বাজার । এ (পুরাতন) ভোলানাথ বাজার । মিয়ারবাজার। রতনগঞ্জ। লাতু বাজার । শ্রীগৌরী বাজার সুরানন্দপুর বাজার । আফিসর বাজার । কলাজুরা বাজার । কাটলতলি বাজার । গজভাগ বাজার । গোগালরায়ের বাজার। চুড়খাই বাজার। তেরাদল বাজার। দুবাঘর বাজার । ফকিরর বাজার। বিচরার বাজার । যোগপ্রচণ্ড খা বাজার। প্রথম ভাগ গোয়াইন বাজার । নিজপাট বাজার । বিন্নাকান্দি বাজার । সরুফৌদ বাজার। কালীগঞ্জ । কুছখাউরী বাজার। চপরা বাজার । দর্তপুর বাজার । পুরান বাজার । বাবুর বাজার । বৈদ্যনগর | মণিপুরীপাড়া বাজার । শীরের বাজার। রাতাবাড়ী বাজার। নিলাম বাজার। শাহজলালর বাজার । স্বরূপগঞ্জ। আভঙ্গীর বাজার। কাকুরা বাজার। কামালর বাজার । গঘড়ার বাজার । ঘাঘুর বাজার। জলঢুব বাজার। দাশের বাজার । ধামাইর বাজার। বড়লিখার বাজার। বিহানি বাজার । বোয়ালির বাজার । পরিশিষ্ট শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৮৯ ভোলাঢহর বাজার । মিয়াখালি বাজার। মোনশী বাজার । রাধার বাজার । রাজার বাজার। রামদার বাজার। শালেশ্বর বাজার । শিরাজগঞ্জ । শিয়ালঠেক। সাবাজপুর বাজার সুজানগর বাজার । সোণারূপা বাজার । রাতাবাড়ী ও পাথারকান্দি থানাধীনে আদমটালা বাগানহাট । আনীপুর বাগান হাট । ইভটীলা বাগান হাট। ইচাগঞ্জ । এরালীগোল বাগান বাজার । ওঁদন বাজার। কানাই বাজার। চরগোলা বাজার। চান্দখিরা বাগানহাট । তিলভূম বাগান হাট । নয়াবাজার। পরগণার বাজার । পাথরকান্দি বাজার । পুরনী বাগানহাট । বড়নালীর বাজার। বাবুর বাজার। বালীছড়া বাজার । বৈঠাখাল বাগানহাট। মেধূলি বাগান হাট। লঙ্গাই বাগানহাট। সলগই বাগানহাট । হাতীখিরা হাট । উহ সলগই বাগানহাট। দক্ষিণ শ্রীহট্র কমলগঞ্জ থানাধীনে আদিয়াছড়া বাগান । আলীনগর বাগান। কমলগঞ্জ বাজার । কাটাবিল বাগানহাট । কাণিহাটী বাজার । কুর্মছড়া বাগানহাট। ঘাটের বাজার । টীলার বাজার । তুলসীদাসীর বাজার । তেতইগীর বাজার। দীঘীর পারর বাজার । দৌরাছড়া বাগানহাট । পাথারিয়া বাগানহাট । বাবুর বাজার [শ্রীনাথপুর)। বাবুর বাজার (কোমার ঢেকি) বাদেউরাহাতের বাজার। বৈরাগীর বাজার। মদনপুর বাগান। মহালরপাড়া বাজার । মাধবপুর বাগানহাট। মিরতিঙ্গা বাগানহাট। মোনশী বাজার। রাণীর বাজার। সলিমুল্লার বাজার । শমসেরনগর বাজার । সরকারের বাজার । মতিগঞ্জ থানাধীনে কাকিয়াছড়া বাজার । কালাপুর গোসাঞ্জির বাজার । জীবনগঞ্জ বাজার । মতিগঞ্জ। রাজারবাজার । বৌলেশ্বির বাজার । শ্রীমঙ্গল বাজার । সিন্দুর খা বাজার। মৌলবীবাজার থানাধীনে আখাইলকুড়া। কালেরখা বাজার কাজির বাজার (আথানগিরি) ৪৯০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত কাজির বাজার (বেকামুড়া)। গোপীনাথগঞ্জ। টিপির বাজার। দুর্গাগঞ্জ। মনুমুখ বাজার । শ্যামরায়ের বাজার | রাজনগর থানাধীনে কদম হাট। ঘোষের বাজার । তারাপাশাবাজার । ভাঙ্গার হাট । সবকারের বাজার । নবিগঞ্জ থানাধীনে ইনায়েতগঞ্জ। নবিগঞ্জ। মাধবপুর থানাধীনে ইটাখলা বাজার । ছাতি আইন বাজার । ধর্মঘর বাজার। মোনশী বাজার । সাহাপুর হাট । মুচিকান্দি থানাধীনে আমু বাজার । গাজীগঞ্জ। চুনারুঘাট বাজার । পারকুল বাজার। রাজাবাজার। লালচান্দ বাজার । গোবিন্দপুর বাজার । ফকিরর বাজার । দশের বাজার । ভৈরবের বাজার। মৌলবী বাজার। সরকারের বাজার। কানকাপন বাজার । চৌধুরীর বাজার । রাজকৃষ্ণর বাজার । ভাটের বাজার। সাহেবের বাজার । হবিগঞ্জ খাগাউড়' বাজার । শিবগঞ্জ। কালীর বাজার । তেলিয়াপাড়া বাজার । মনতলা বাজার । বাগাসুরা বাজার । সুরমাছড়া বাগানহাট । আসাবপাড়া বাজার । চান্দপুর বাজার। দারাগাও বাজার । বসিরগঞ্জ। রেমাছড়া বাজার । সাকির মাহামুদ । প্রথম ভাগ নয়াবাজার। দীঘীরপার বাজার । বদনগঞ্জ। শিবগঞ্জ । ঘরগাও বাজার। দেওয়ানদীঘীরপার বাজার। বাগিচার বাজার । ভৈরবগঞ্জ। সোণাতুলা বাজার। গোপায়া বাজার। সৈয়দপুর বাজার। জগদীপপুর বাজার । দেওগাছ বাজার । মাধবপুর বাজার । বেজোড়া হাট । সেনঘর বাজার। গড়গড়িয়া বাজার । চান্দভাঙ্গা বাজার । দেওয়ানডি বাজার । মুচিকান্দি বাজার । লঙ্করপুর বাজার। হবিবুল্লা বাজার । লাখাই থানাধীনে বুল্লাবাজার। বাণিয়াচঙ্গ থানাধীনে আজমীরগঞ্জ। গুণাই বাজার । মারকলি বাজার । বিথঙ্গলবাজার। হবিগঞ্জ থানাধীনে তুঙ্গেশ্বর বাজার। পুটিয়াজুরী বাজার। বাহুবল বাজার । মীরপুর হাট। সাহাজী বাজার । ছাতক থানাধীনে আমবাড়ী বাজার । গোবিন্দগঞ্জ । জাউয়ার হাট। দোয়ারা বাজার । মরজা বাজার । সোণাউতা বাজার । জগন্নাথপুর থানাধীনে ইসাকপুর বাজার । কেশবপুর বাজার । পালিগাও বাজার । রসুলগঞ্জ। তাহিরপুর থানাধীনে তাহিরপুর বাজার । লাখাই বাজার। ইকরাম বাজার । জলসুখা বাজার । বাণিয়াচঙ্জ বাজার শনঘর বাজার। দাউদনগর বাজার । পুরীখলা বাজার। বেকিটেকা বাজার ৷ শায়েস্তাগঞ্জ । সুঘর বাজার। সুনামগঞ্জ ইমামগঞ্জ হাট । চৌধুরীর হাট। জিয়াপুর বাজার । নয়াবাজার। বারুইগীাও বাজার । হিমচৌধুরীর হাট । কামারখালা বাজার । জগন্নাথপুর বাজার । বুধরাইল বাজার । শিবগঞ্জ । বাধাঘাট বাজার । শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৯১ কমলগঞ্জ। পুকরা বাজার । বিরাটর হাট। সুজাতপুর ৷ নন্দনপুর বাজার । পৈল বাজার । মশাজান বাজার । সরকারের বাজার । হবিগঞ্জ। কালাকুরা বাজার। ছাতক বাজার । দোহালিয়া বাজার । মঙ্গলপুর বাজার । সিংহচাপড় ব'জার। কামিনীপুর বাজার। পাটখুরা বাজার। রমাপতি বাজার । হুসেনপুর হাট। শ্রীপুর বাজার ৪৯২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ দিরাই থানাধীনে আনন্দপুর বাজার । গাছিয়া বাজার । চরণারচর বাজার । রাহুতলা বাজার। শ্যামারচর বাজার । সজনপুর বাজার । সম্পা বাজার। হুসেনপুর বাজার । ধর্মপাশা থানাধীনে ধর্মপাশা বাজার। জয়শ্রী বাজার । পাইকার হাটা বাজার। বিচনা বাজার । বীর বাজার। মহিশ্বলা বাজার । মধ্য বাজার। রাজপুর বাজার। শণবাড়ী বাজার। সুনামগঞ্জ থানাধীনে জয়কলস বাজার। জয়নগর বাজার । পাগলা বাজার। সাচনা বাজার। সুনামগঞ্জ । বাজার সংখ্যা উত্তর শ্রীহট্ট (জয়ন্তীয়ার বাজারসহ) - ৬৬ করিমগঞ্জ (চো বাগানের বাজারসহ) _ ১০৭ দক্ষিণ শ্রীহট্ট চো বাগানের বাজারসহ) -_ ৭১ হবিগঞ্জ (চা বাগানে বাজারসহ) _ ৬৭ সুনামগঞ্জ -----------------++তাত _ ৫৭ মোট _ ৩৬৮ পরিশিষ্ট গে) (ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ১ম ভাগ ১ম অধ্যায়) শ্রীহস্টরের পোষ্ট অফিসসমূহ উত্তর শ্রীহট্ট হেড আফিস :-শ্রীহট্ট বা সিলেট (সহরে)। তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস আখালিয়া (আখালিয়া) কুরুয়া কেরুয়া) খাদিমনগর 'শ্রীহট্ট) গোলাপগঞ্জ (বরায়া) জলালপুর (জলালপুর) জয়ন্তীয়াপুর (জয়ন্তীয়া পুরীরাজ) তাজপুর (দুলালী) ঢাকা দক্ষিণ (ঢাকা দক্ষিণ) বিশ্বনাথ (বাজুবণ ভাগ) ভোলাগঞ্জ (পাওুয়া) রায়নগর [শ্রীহস্ট) লালবাজার (চৈতন্যনগর)। সব আফিস :_গোয়াইন ঘাট (ধরগাম)। তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস :_-জাফলং (জাফলং)। সব আফিস :-_-ফেঞ্চ গঞ্জ হোউলিমৌরাপুর)।% তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ গিলাছড়া (গিলাছড়া), মোগল বাজার (রেঙ্গা)। সব আফিস :__ বালাগঞ্জ (বোয়ালজুর)। তদ্যতীত-_কানাইর ঘাট, (চাউরা, জয়ন্তীয়া,* এই ব্রাঞ্চ আফিস করিমগঞ্জ সব আফিসের অধীন; এবং বেগমপুর (অরঙ্গপুর) এই ব্রাঞ্চ আফিস দক্ষিণ শ্রীহস্ট্ের মনুমুখ সব আফিসের অধীন । করিমগঞ্জ সব আফিস :-_ করিমগঞ্জ (কুশিয়ার কুল)।% তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ করিমগঞ্জ বাজার (কুশিয়ার কুল) কালীগঞ্জ বাজার (এগারসতী) গঙ্গাজল (চাপথাট) জলডুব (বাহাদুরপুর) বড়লিখা (পাথারিয়া) বিহানিবাজার (পঞ্চখণ্ড) ভাঙ্গাবাজার (চাপঘাট) বীরশ্রী কেশিয়ার কুল) লাউতা (পঞ্চখণ্ড) লাতু (বোরপাড়া) শ্রীগৌরী (চাপঘাট) সিদ্ধরপুর সব আফিস :-- চুরখাই (চুড়খাইড়) ৪৯৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ আটগ্রাম [ইছামতী]- সব আপিস তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ হাতীখিরা [প্রতাপগড়] সব আফিস এ দুর্মভছড়া [প্রতাপগড়]।% প্রথম ভাগ ব্রাহ্মণগাও [ইছামতী] :-চান্দখিরা প্রেতাপগড়) £। :_দক্ষিণ ভাগ (পাথারিয়া)।ঈ এ ইছামতী [ইছামতী | এ পাথারকান্দি [প্রতাপগড়া* তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ কানাই বাজার |প্রতাপগড়] নিলাম বাজার [ভৌয়াদি! সব আফিস :_ রাতাবাড়ী [পলডহর] দক্ষিণ শ্রী. সব আফিস :- মৌলবী বাজার (চৌয়ালিস্) তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ কমলপুর ভোনুগাছ) দুর্লভপুর (চৌয়ালিস) দীঘীরপার (চৌয়ালিস) রাজনগর (শমশেরনগর) সব আফিস :_ কাজলদাড়া (লংলা)%। তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-- ইন্দেশ্বর (ইন্দেশ্বর)*% করিমপুর (ইন্দেশ্বর) খাজুরীছড়া ছেয়চিরি) ফুলতলা (ভাটেরা)*% সব আফিস :_ কুলাউড়া (লংলা) তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস- পৃথিমপাশা (লংলা) রজনীগঞ্জ (লংলা) সব আফিস :_ শম্শেরনগর (কাণিহাটী)%। কমলগঞ্জ (ভানুগাছ) কৈলাসহর (রাজকী)* দত্তত্রাম (কাণিহ।টা) হাজিপুর সব আফিস :- যোগছড়া (আদমপুর)% সব আফিস :_ সাতগাও (সাতগাও) তদ্যতীত--শমশেরগঞ্জ (সাতগাও) এই ব্রাঞ্চ আফিস হবিগঞ্জ সবডিভিশনের সাটিয়াজুরী সব আফিসের অধীন । পরিশিষ্ট শ্রীহত্রের ইতিবৃত্ত ৪৯৫ হবিগঞ্জ সব আফিস . হবিগঞ্জ [তরফ]% তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ কালিয়ার ভাঙ্গা (বাণিয়াচ) জলসুখা (জলসুখা) পৈল (তরফ) পুখুরা (বাণিয়াচ্গ) মাদনা (লখাই)% মান্দারকান্দি (মান্দারকান্দি) বামৈ (বামৈ) বাণিয়াচঙ্গ বোণিয়াচঙ্গ) বেকিটেকা (তরফ) ্রাহ্মণডুরা (উচাইল) লাখাই (লাখাই) , সুজাতপুর (জোয়ানসাহী) সব আফিস :_ আজমীরগঞ্জ (জয়ার বাণিয়াচঙ্গ) তদধীন ব্রা আফিস-_ কাকাইলছেও (বিথঙ্গল) বিথঙ্গল (বিথঙ্গল) সব আফিস :_ আদমপুর (আদমপুর)।% এ ইটাখলা (বেজোড়া)%। তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস- ছাতি আইন (বেজোড়া) গোবিন্দপুর (কাশিমনগর) মাধবপুর (বেজোড়া) বেজোড়া (বেজোড়া) সব আফিস :_ ইনায়েতগঞ্জ (আগনা) তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ সৈদপুর বাজার (আগনা) সব আফিস :_ কালীঘাট [বালিশিরা] এঁ চান্দপুর বাগান [তরফ] এ নবিগঞ্জ (জয়ার বাণিয়াচঙ্গ) তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস কলাভরপুর লুগাও (দিনারপুর) সব আফিস :- শায়েস্তাগঞ্জ (তরফ) তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ আসাম পাড়া (তরফ) গোপায়া (তরফ) চুনারুঘাট (তরফ) নরপতি (তরফ) বসিরগঞ্জ বাজার (তরফ) মুচিকান্দি (তরফ) লালচান্দ (তৈরফ) সুঘর (তরফ) সব আফিস :- সাটিয়াজুরী (তরফ) তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-- পুটিজুরী (পুঁটিজুরী) . বাহুবল (ফয়জাবাদ) রসিদপুর তেরফ) সব আফিস- শ্রীমঙ্গল (বালিশিরা) ৪৯৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ সুনামগঞ্জ সব আফিস :_ সুনামগঞ্জ (লক্ষণশ্রী) আমবাড়ী (পাগলা) গৌরারং (লক্ষণশ্রী) তাহিরপুর (লাউড়) দিরাইচান্দপুর (খালিসা বেতাল) ধর্মপাশা (শেলবরষ) পাগলা (পাগলা) পাথারিয়া (খালিসা বেতাল) সুখাইড় [সুখাইড। সাচনা [বেতাল] সব আফিস :- ছাতক |ছাতক]* সব আফিস :- গোবিন্দগঞ্জ [কৌড়িয়া] তদধীন ব্রাঞ্চ আফিস-_ জগঝাপ [পাগলা] জাতুয়া [জাতুয়া] সব আফিস: দোয়ারাবাজার (দুহালিয়া) তদ্যতীত- কামারখাল [নৈগাঙ্গ কুবাজপুর, (আতুয়াজান), জগন্নাথপুর কিসমত] আতুয়াজান, জগন্নাথপুর (এ), পাইলগাও [এ এই চারিটী পোষ্ট আফিস হবিগঞ্জ সবডিভিশনের ইনায়েতগঞ্জী সব আফিসের অধীনে । চিহ্নিত পোষ্ট আফিসসমূহে টেলিগ্রাফের তার সংলগ্ন আছে। ৯০০৭ ফেঞ্ছঞ্ £৮শন বাণান কই গু (ঘে) ১ম ভাগ তে 25 হত রি হত নাহ উ১ শৃন্খ হথ ৯৬) চক্র 8৮ ₹৮ চিতা ক রমগঞ্জ গল গত ন্‌ ক ০০8০5 5৮ ্র। ন.* শীত ক্স ০ ধী/৮ এ ৯১ | 2. কি 1 ূ ২ ১ ৬৮. মর 3. প্রলশ ট্রেশন ও আটউ পন্টসাহ ্ঁ ১৬ ১৪ ৪৯৮ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ তদধীন আউট পোষ্ট-_ শ্রীমঙ্গল ২ ষ্টেশন বা থানা :__ কুলাউড়া ্‌ ৮ পৃরের্ব মতিগঞ্জ, কমলগঞ্জ ও হিঙ্গাজিয়ায় আউটপোষ্ট ছিল। হবিগঞ্জ ষ্টেশন বা থানা :_ হবিগঞ্জ 8 ১৪ তদধীন আউট পোষ্ট :_ মুচিকান্দি ২ - ৮ ষ্টেশন বা থানা :- নবিগঞ্জ ২ - ১৫১ বাণিয়াচঙ্গ ২ - ৮ তদধীন আউট পোষ্ট- _ আবিদাবাদ ৯ ৮ ষ্টেশন বা থানা :- মাধবপুর ২ ৮ তদধীন আউট পোষ্ট লাখাই ৮ পুবের্ব আজমীরগঞ্জ একটি আউট পোষ্ট র্‌ সুনামগঞ্জ ষ্টেশন বা থানা :- সুনামগঞ্জ ২ - ৬২ তদধীন আউট পোষ্ট :_ তাহিরপুর ১ - ) ষ্টেশন বা থানা :- ছাতক ২ রি ধর্মপাশা ২ - ৮ দিরাই - ১ ৮ তদধীন আউট পোষ্ট-_ জগন্নাথপুর ৬ পৃবের্ব পাণুয়াতে একটি আউট পোষ্ট ন্‌ শরহটটের প্রতোক সবাডভিশনের এক একজন ইনিস্পেক্টর আছেন। পরিশিষ্ট (৩) (ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ১ম ভাগ চতুর্থ অধ্যায়) শ্রীহ্ট্রের চা বাগান সমূহ উত্তর শ্রীহট্ট , সংখ্যা নাম অধিকারীর নাম যে যে থানাধীনে যত মাইল দূরে ১. ইন্দানগর লুভা টি কোং ফেঞ্চুগঞ্জ ২১ ১/৪ ২. কালাগোল কন্সলিডেটেড টি এণ্ড লেণ্ড কোং সদর ৯ ৩. কেওয়াছড়া লাঞ্কতোড়া টি কোং & ৫ ১/২ ৪. খাদিমনগর নর্থ সিলেট টি কোং ” ৫. গুলনী কন্সলিডেটেড টি এণ্ড লেণ্ড কোং গোয়াইনঘাট ১২ ৬. চেঙ্গারখাল (ফতেপুর) এ রম ১০ ৭. চিকনাগোল বাবুজোয়ারমল তুষ্জিয়াল রা ১০ ১/২ ৮. জয়ন্তীয়া কন্সলিডেটেড্‌ টি এগ লেগ্ড কোং এ ৩২ ৯. জাফলং এ ্ ২৮ ১০. ডকার গোল লুভাটি কোং কানাইরঘাট ৪০ ১১. তারাপুর বাবু বৈকুষ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত পারকুল হ্‌ ১২. নুনছড়া লুভা টি কোং কানাইর ঘাট ৩৯ ১৩. বড়ঙ্গান কন্সলিডেটেড টি এণ্ড লে্ড কোং সদর ১০ ১৪. বাগছড়া এ জয়ন্তীয়াপুর ৩ ১৫. ব্রাহ্মণছড়া মাং বক্ত্ত, করিম বক্স, গোলাম রব্বানি ও আব্দুল মজিদ এ ৪ ১৬. মহুরাপুর এবং আনিপুর লেও মর্গেজ বেঙ্ক অব ইত্ডিয়া ফেঞ্চুগঞ্জ ২০ ১৭. মালনীছড়া সিলেট টি কোং জয়ন্তীয়াপুর ৩ ১/২ ১৮. মূলাগোল লুভা টি কোং কানাইর ঘাট ৩৫ ৫০০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ১৯. লাঞ্কতোড়া ২০. নালাখাল ২১, লভাছড়া হ্যা নাম ১. অলিভিয়া ছড়া ২. আদম ঠীলা ৩. আশিপুর ৪. এরালী গোল ৫. কাল-ছড়া ৬. কালী'নগর ৭, কেকড়া গোল ৮. গন্তীরছড়া ৯. চরগোল" ১০. চান্দশিরা ১১. চান্দনী ঘাট ও বিদা'নগর ১২. চাম্পাবাড়ী ১৩, টারবীণ ছড়া ১৪. তিলভূম ১৫. দক্ষিণ গোল ১৬ ধামাই এবং শিলঘাট ১০. পুতনী ১৮. পিপলা গোল ১৯. বৈঠাখাল ২০. তুব্বিঘাট বা ইভ টীলা লাক্কতোড়া টি কোং কন্সলিডেটেড্‌ টি এণ্ড লেগ্ড কোং লুভা টি কোং করিমগঞ্জ অধিকারীর নাম কন্সলিডেটেড্‌ টি এণ্ড লেণ্ড কোং মিঃ এইচ ব্রাউন কনেষ্টবল চরগোলা টি এসসিয়েশন এরালী গোল টি কোং চরগোলা টি এসসিয়েশন ভারত সমিতি কনসলিডেটেড টি এণ্ড লেণ্ড কোং এ চরগোলা টি এসসিয়েশন চান্দখিরা টি কোং পুতনী টি কোং চরগোলা টি এসসিয়েশন মিঃজি এসসি ভূপেন্্রশ্রী ঘোষ ধামাই টি কোং পুতনী টি কোং ] কনসলিডেটেড টি এণ্ড লেণ্ড কোং মিঃ এম সি নৌড, লুইস ও প্রথম ভাগ সদর ৩ জয়ন্তীয়াপুর ৩৪ কানাইরঘাট ৩২ যে যে থানাধীনে যত মাইল দূরে রাতাবাড়ী ৪০ পাথারকান্দি ২৩ রাতাবাড়ী ৩০ পাথারকান্দি ১৭ রাতাবাড়ী ৩২ রাতাবাড়ী ৩০ ৮৪] ৪8০ ঠ$ ৩৯ 2) ৩০ পাথারকান্দি ২৪ রাতাবাড়ী ২১ পাথারকান্দি ২৫ রাতাবাড়ী ৩০ পাথারকান্দি ৩৪ জলডুব ২১ 9 ২৬ পাথারকান্দি ২৭ ২৬ রগ ২৬ ২১, ২২. ২৩, ২৪. ৫. ্৬. ২২৭. ষ্ঠ, ২৯, ৩১ ৩২. ৩৩. ৩৪. ৩৫. মদনপুর মাগুরাছড়া লঙ্গাই ভেলি লালখিরা এবং সোণাখিরা এবং ফানাই শমনভাগ শিপিন জুরী বিল শিংলাছড়া এবং বালিছড়া সলগই সাহবাজপুর সোণারুপা হাতীখিরা ংখ্যা নাম আমরইল ছড়া আলীনগর উধনা উত্তরভাগ এফ এইচ নৌড বাবু ঈশ্বর চন্দ্র দত্ত ও প্রসন্ন কুমার দত্ত চরগোলা টি এসসিয়েশন ইষ্ট ইপ্তিয়া এগ সিলন টি কোং বাবু ঈশ্বর চন্দ্র দত্ত ও প্রসন্ন কুমার দত্ত লঙ্গাই ভেলি টি কোং এ ইষ্ট ইগ্ডিয়া এড সিলন টি কোং শমনভাগ টি কোং শিপিন জুরী বিল টি কোং ইষ্ট ইপ্তিয়া এড সিলন টি কোং চরগোলা টি এসসিয়েশন হাতীখিরা টি কোং বাবু গোলক চন্দ্র দাস প্রভৃতি মিঃ সি মেঞ্জিস প্রভৃতি হাতীখিরা টি কোং দক্ষিণ শ্রীহট্র অধিকারীর নাম কন্সলিডেটেড্‌ টি এণ্ড লেণ্ড কোং আলীনগর টি কোং লংলা (শ্রীহ্ট) টি কোং মিঃ এইচ. এস ুর প্রভৃতি ইন্দেশ্বর টি এও শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৫০১ ৫ জলডুব ১৫ রাতাবাড়ী ৪২ ৩৪ 'পাথারকান্দি ৯ পাথারকান্দি ২৩ ২৭ রাতাবাড়ী ৩৭ জলড়ুব ২৭ পাথারকান্দি ২৮ রাতাবাড়ী ৩৫ রাতাবাড়ী ৩৬ পাথারকান্দি ৩০ জলডুব ১৫ জলড়ুব ২৭ পাথাবকান্দি ৩২ যে যে থানাধীনে যত মাইল দূরে শ্রীমঙ্গল ২৪ কমলগঞ্জ ১৬ মৌলবীবাজার ১৬ রাজনগর ১৩ ৫০২ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ ট্রেডিং কোং ১৫ ৬. কাকিয়াছড়া কন্সলিডেটেড্‌ টি এগ লেগ্ড কোং শ্রীমঙ্গল ১৭ ৭. কাজুরীছড়া এ ২৩ ৮, কাণিহাটী লংলা [শ্রীহট্ট) টি কোং কমলগঞ্জ ১৬ ৯. কাপনা পাহাড় মিঃ এইচ. আর কুগ প্রভৃতি হিঙ্গাজিয়া ৩০ ১০. কালীঘাট কন্সলিটেড্‌ টি এণ্ড লেও্ড কোং শ্রীমঙ্গল ১৯ ১১. কালীটি কালীটি টি কোং হিঙ্গাজিয়া ২৪ ১২. কুুর্মছড়া মি থমাস্‌ মেক্লিন কমলগঞ্জ ২২ ১৩. ক্রেভাডন মিঃ কে. সি. হেরিশন প্রভৃতি জিঙ্গাজিয়া ২৭ ১৪. গন্ধীছড়া কনসলিডেটেড্‌ টি এও লে কোং মতিগঞ্জ ২২ ১৫. গয়াসনগর মিঃ এইচ. পি. এস মেকমিকিন মৌলবীবাজার ৭ ১৬. গাজীপুর মিঃ এনড্র ইউল এগু কোংপ্রতৃতি হিঙ্গাজিয়া ২৩ ১৭. গোবিন্দপুর বাবু বৈকুষ্ঠ নাথ শর্মা ও সুখময় চৌধুরী কমলগঞ্জ ২০ ১৮. চাতলাপুর আলীনগর টি কোং ১৯ ১৯. চান্দভাগ লুভা টি কোং রাজনগর ১৭ ২০. তিপরাছড়া কন্সলিডেটেড্‌ টি এণ্ড লেও্ড কোং শ্রীমঙ্গল ২৬ ২১. ধলাই ধলাই টী কোং কমলগঞ্জ ২৩ ২২, পত্রখলা মিঃ থমাস মেকমিকিন & ২২ ২৩. পবর্বতপুর মিসট্রেস বেলফোর রাজনগর ৮ ২৪. পান্নাকান্দি সৈয়দ আলী আকবর খন্দকার হিঙ্গাজিয়া ১৫ ২৫. প্ুঁটীয়াছড়া কন্সলিডেটেড টি এগুড লে কোং শ্রীমঙ্গল ২৩ ২৬. ফুলছড়া এ রর ১৮ ২৭. ফুলতলা নিউ সিলেট টি কোং হিঙ্গাজিয়া ৩২ ২৮, ফুসকুরী কন্সলিডেটেড্‌ টি এণ্ড লেণ্ড কোং মতিগঞ্জ ২২ ২৯. বরমচাল মিঃ মেকলিন এণ্ড কোং প্রভৃতি রাজনগর ২১ ৩০. গরমছড়া কনসলিডেটেড টি এগ লেগ্ড কোং শ্রীমঙ্গল ২৪ ৩১. ভবউড়া (উত্তর) ভবউড়া [শ্রীহট্র) টি কোং শ্রীমঙ্গল ১৪ পরিশিষ্ট শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৫০৩ ৩২. এ দেক্ষণ) এ £ ১৫ ৩৩. মিরতিংণ মিঃ জে পিটার এড আরএলএস্টন কমলগঞ্জ ৯ ৩৪. মাজডি্‌ মাজডিহি টি কোং শ্রীমঙ্গল ৯ ৩৫. মাধবপুর মিঃ থমাস মেকমিকিন কমলগঞ্জ ১৯ ৩৬. মির্জাপুর মিঃ সি. ই. লেন প্রভৃতি শ্রীমঙ্গল ৩০ ৩৭. যোগহড়া কন্সলিডেটেড টি এণ্ড সেণ্ড কোং ” ১১ ৩৮. রতু ইম্পিরিয়েল টি কোং হিঙ্গাজিয়া ২৯ ৩৯. লাখিছড়া কন্সলিডেটেড টি কোং শ্রীমঙ্গল ২০ ৪০. রাগগিয়াছড়া মৌলবী আলী আমজদ খান হিঙ্গাজিয়া ২১ ৪১. রাজকী স্ুরমাভেলি টি কোং ” ৩৬ ৪২. রাজঘাট কন্সলিডেটেড টি এ লেগ কোং শ্রীমঙ্গল ২৫ ৪৩. রাজনগর রাজনগর টি কোং রাজনগর ১০ 8৪8. লংলা লংলা (শ্রীহস্) টি কোং হিঙ্গাজিয়া ১৪ ৪৫. লোষনী মিঃ আর. এল আসটন ্ ১২ ৪৬. শিশুর বা দীঘাইছড়া কন্সলিডেটেড টি এও্ড লেণ্ড কোং ” ১৮ ৪৭. শিলুয়া সুরমাভেলি টি কোং টা ৩৪ 8৪৮. সমশের নগর (বাগীছড়াসহ) লংলা শ্রীহন্ট টি কোং কমলগঞ্জ ১৫ ৪৯. সাগর নাল কন্সলিডেটেড টি এগ লে কোং হিঙ্গাজিয়া ৩০ ৫০. সাত গা মিঃ জে এটকিন প্রভৃতি শ্রীমঙ্গল ২১ ৫১. সিন্দরখান কন্সলিডেটেড্‌ টি এড লে্ড কোং ” ২৪ ৫২. হরছড়া বাবু সূর্য্মণি দাস রাজনগর ১৬ ৫৩. হালাইছড়া কনসলিডেটেড টি এগ লেগ্ড কোং হিঙ্গাজিয়া ১৪ ৫৪. হিঙ্গাজিয়া চবগোলা টি এসসিয়েশন ” ১৫ ৫৫. হুগলীছড়া কনসলিডেটেড টি এণ্ড লেন্ড কোং শ্রীমঙ্গল ২৬ হবিগঞ্জ খ্যা নাম অধিকারীর নাম যে যে থানাধীনে যত মাইল দূরে ১ আসো বা ঘনশ্যামপুর মিঃ এচিশন প্রভৃতি মুচিকান্দি ২৩ ২. চান্দপুর চান্দপুর টি কোং / ২১ চান্দিখিরা চান্দিখিরা টি কোং ্ ২২ 8৪. দেওয়ানদি মিঃ আর. এল এসটন প্রভৃতি " ১৭ ৫০৪ শ্রীহট্রের ইতিনং প্রথম ভাগ ৫. তেলিয়াপাড়। তেপিযা পাড়া টি কোৎ স্ধবগ্ব ্ ৬. দারাগাও উবউবা টি প্রভৃতি মুচিলন্দি ১৬ ৭. পারকুল পারকুল সিপ্তিকেট ১৯ ৮. রমসিদপ্ব বরউড়া শ্রীহ "্ট নং ন্‌ ১৬ ১. রেশমা ইম্পিরিয়েল টি বে, ” ২৪ ১০. লক্করপুব লহ্করপুল ই কোং ১৯ ১১. লালচান্দ মিঃ আব, এল এদিন প্রভাতি ১২ ১২. সুরমা ইম্পিধিফেল টি ও মাধবপুর ২০ তদ্যতীত উত্তর শ্রীহটের অধীনে_ চোবাগাঙ্গ, দনক গোল, দলদ্ি, চহ্'ক. ছড়া ও হামিদ নগর . : পাঁচটি চা বাগান। করিমগঞ্জের অধীনে ব্রিমিতি, দুল্পভ্ই 2. রামনগর, নি নী - ষ্টেট ৬ পাথরিয়া এ+ পাটি চা ক্ষেত্র দক্ষিণ শ্রীহট্রের দধীনে-- একারুনী, খ'ইছণ গঞ্ধিছড়া, তিলকগুঃ, দেওছড়া, দিলদর* €, ভূবাছড়া, খালছড়া ও সুনতলা এই নয়টি চা বাবান। এবং হবিগঞ্জের জধীনে-_ কমলছড়া. কাপাইছড়া, ঘবঘরিয়া, প-্শ্‌ ও শিলাছড়া এই ?" টি চা ক্ষেত্র। মোট ২৪টি চা বাগানের নাম পূর্বোক্ত বিবরণে লিখিত হয় নাই; এতৎসহ শ্রী: এর চা বাগানসমূহের মোট খ্যা ১৩০টি. পরিশিষ্ট (চ) ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ১ম ভাগ ৫ম অধ্যায় শড়কসমূহ উত্তর শ্রীহট্ট ১. শ্রীহট্ট হইতে প্রাচীন প্রধান শড়ক পুর্বাভিমুখে গ্ঢাকাউত্তর পর্য্যন্ত খাসিয়া করিমগঞ্জের এলাকায় প্রবেশ করত দুই শাখায় বিভক্ত হইয়া কাছাড় গিয়াছে। এ শড়ক গাড়ী চলিবার যোগ্য । এ শড়কে দুইটি পরিদর্শন বাংলা আছে। নাম গোলাপগঞ্জ (১০ মাইল দূরে ও রামদা (১৮ মাইল দুরে)। ২. শ্রীহট্ট হইতে একটা শড়ক পশ্চিমাভিমুখে গোবিন্দগঞ্জ ও তথা হইতে সুনামগঞ্জ গিয়াছে। ইহাও গাড়ী চলিবার যোগ্য । পং বাংলা,__ গোবিন্দগঞ্জ (১৪ মাইল)। স্রল্মগঞ্জ (৪১ মাইল)। ৩. শ্রীহট্ট হইতে একটা শড়ক পূর্ব উত্তরাভিমুখে কোম্পানীগঞ্জ গিয়াছে। পং বাংলা কোম্পানীগঞ্জ (১৭ মাইল)। ৪. শ্রীহস্ট হইতে একটা শড়ক পৃবর্ব উত্তরাভিমুখে জয়ন্তীয়া-নিজপাট গিয়াছে। (তথা হইতে জোয়াই হইয়া একটা পথ ৬৪ মাইল দৃরে শিলং গিয়াছে ।) পং বাংলা-হরিপুর (১৪ মাইল); জয়ন্তীয়াপুর (২৬ মাইল)' (ক)--জয়ন্তীয়াপুর হইতে একটা শাখা-পথ কানাইর্ঘাট হইয়া শ্রীহট্ট-কাছাড় রোতেব সহিত মিলিত হইয়াছে। পং বাংলা-কানাইবঘাট (২১ মাইল) ৫. শ্রীহট্র হইতে একটা শড়ক দক্ষিণাভিমুখে ফেঁচুগঞ্জ পর্য্যন্ত গিয়াছে। ফেচুগঞ্জ পর্য্যস্ত গাড়ী চলিয়া থাকে পং ব'া ফেঁচুগঞ্জ (১৫ মাইল)। ৬. শ্ত্রীহস্ট হইতে একটি শ্ড়ক দক্ষিণ-পশ্চিমাভিমুখে বেগমপুর পর্য্যত্ত গিয়াছে । (এ শড়কের একটা শাখা পশ্চিম দিকে বিশ্বনাথ পর্য্যন্ত গিয়াছে।) শাখাপথ- শ্রীহস্র কাছাড-রোডের হেতিমগঞ্জ, এবং গোলাপগঞ্জ হইতে পূরর্ব-দক্ষিণমুখে দুইটি শড়ক ঢাকাদক্ষিণ ঠাকুরবাড়ী গিয়াছে এবং শ্রীহট্ট হইতে একটা শড়ক জলালপুর পর্য্যন্ত গিয়াছে। করিমগঞ্জ ১. শ্রীহট্ট-কাছাড-বোডেব একটা শাখা চূড়খাই হইতে পূর্রবাভিমুখে করিমগঞ্জ হইয়া বদরপুর ও তথা হইতে ক'ছাড় গিয়াছে। পং বাংলা সেওলা। ডাক বাংলা করিমণঞ্জ ও বদরপুর । ২. করিমগঞ্জ হইতে দগ্ধ'শভিমুখে দুল্লুভছড়া পর্য্যন্ত একটা শড়ক গিয়াছে । পং বাংলা- নিলাম বাজার (১০ মাইল); পাথাবকান্দি (২০ মাইল); দুল্পভছড়া (৩৪ মাইল)। (ক) শাখা-_-পাথারকান্দি হইতে পশ্চিমাভিমুখে বড়লিখা। ৫০৬ শ্রীহট্টেব ইতিবৃ প্রথম ভাগ (খ) পাথাবকান্দি হইতে দক্ষিণাভিমুখে চান্দখিরা, বৈঠাখাল হইয়া হাতীখিরা পর্য্যন্ত । (গ) পাথাবকান্দি হইতে দক্ষিণাভিমুখে শিলুয়া পর্য্যত্ত। ৩. শ্রীহট্ট-কাছাড় রোডের চুড়খাই-করিমগঞ্জ শাখা হইতে একটা শড়ক পশ্চিমাভিমুখে লাতু ও তথা হইতে দক্ষিণাভিমুখে বডলিখা ও জুড়ী ষ্টেশন হইয়া দক্ষিণ শ্রীহস্ট্রে প্রবেশ করিয়াছে। পং বাংলা-বড়লিখা (১৫ মাইল)। (ক) শাখা-_লাতু ষ্টেশন হইতে পশ্চিমাভিমুখে (8 মাইল দূরে) জলড়ুব ও তথা হইতে উত্তরাভিমুখে (৭ মাইল দূরে) বৈরাগী বাজাব পর্য্যন্ত গিয়াছে। (খ) লাতু স্টেশন হইতে পুরর্বাভিমুখে (৮ মাইল দূরে) নিলামবাজার পর্য্যন্ত । দক্ষিণ শ্রীহট্ট ১. শ্রীহট্ট-_ফেঁচুগঞ্জ রাস্তা বর্ধিত হইয়া ভাটেরা, বরমচাল, হিঙ্গাজিয়া, তাজপুর প্রভৃতি অতিক্রম করত: শ্রীমঙ্গল ও মীরপুর হইয়া হবিগঞ্জে প্রবেশ করিয়াছে। পং বাংলা-শ্রীমঙ্গল ও মীরপুর । (কে) শাখা-_হিঙ্গাজিয়া হইতে মৌলবীবাজার । (খ) শমশেরনগর ষ্টেশন হইতে মৌলবীবাজাব। (গ) শ্রীমঙ্গল হইতে মৌলবীবাজার । (ঘ) মৌলবীবাজার হইতে মনুমুখ (৯ মাইল দুরে) হবিগঞ্জ ১. হবিগঞ্জ হইতে একটা শড়ক পশ্চিমাভিমুখে বাণিয়াচঙ্গ হইয়া জলসুখা গিয়াছে। (কে) শাখা-_হবিগঞ্জ হইতে মাদনা । (খ) মুচিকান্দি হইতে ইটাখোলা। ২. হবিগঞ্জ হইতে দক্ষিণাভিমুখে একটা শড়ক গোবিন্দপুর গিয়াছে। কে) শাখা-জগদীশপুর হইতে মাধবপুর । সুনামগঞ্জ ১. গোবিন্দগঞ্জ হইতে একটা শড়ক সুনামগঞ্জ পর্য্যন্ত গিয়াছে । পরিশিষ্ট ছে) (ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ১ম ভাগ ৭ম অধ্যায়) সবডিভিশনানুসারে জাতি নির্দেশে সংখ্যা জাতি 1 উল্তর রহ করিমগঞ্জ | দক্ষিণ শ্রহট | হবিগঞ্জ | সুনামগঞ্জ | মোট কায়স্থ ১৫১৯৭ ৬৯২৬ ৮৯৮৮ ২২০১২ | ১০৭৬০ | ৬৩৮৮৩ কামার ১০৫১ ২২৮৫ ২৮৬৮ ২৪৮৫ | ১০০৬ ৯৪৯৫ কুমার ১৩১০ ১৯৯৮ ৩৪৩৭ ৩৯১৫ | ১৬৭৮ ১২১৭৮ গণক ৭০৭. ৪৫৬ ৮৮৩ ২৬০৮ | ৯৫৬ ৫৬১০ গোয়ালা | ১৩২৫ ১৬৮৩ ৫৭৭৪ ৪৭৮৪ | ৫৬১ ১৪১২৭ চামার | ৪৯৮ ১৮৫৭ ১০১৬৭ ১৯৬১ | ২৭৬ ১৯৭৫৯ ঢোলি ৯৭০ ৬৬৮ ৬৫৪৯ ১৩৩২ | ৫৮৪ ১০১০৩ তেলি ৩২৫২ ৫১৪৭ ৮৭৭৮ ৯০৮১ | ৩৯৫৪ ৩০৩১২ দাস ১৪৯৮৩ ২১৫০২ ২০৬৫৩ ৩৩৯৭২] ৬৩১৫৩ ১৬৪২৬৩ ধোপা ৪1১৭৯ ৪০৮৮ ৫৫২৫ ৫১২৩ | 8০৭৩ ২৩৫০৮ নমঃশুদ্র | ২০০৫ [৩৫৮৫৮ | ১৫১৮২ 1 ৪২৩১৭] ১৮২১৫ | ১৩২৩০৭ নাপিত | ৩৪০৯ ২৮৭৫ ৪৫১২ ৬৯২৩ | ৩৫০৫ ২০২২৪ ৮৬০১ 1 ৬৩৪৪ ৯১৬৫ ১১২৩৬ | 8৪১৫ ৩৯৭৬১ ৬৪৫৪ ূ ১০০০৫ ১৮৪১৩ ৩৮৮০ | ১৫৩২ ৪১১৮৪ ৮১৭ ১৩১১১ ২৭৮ ৫৩০ | ১৩০৭ ১৬০৪৩ ১৫১৯৭ ১৪৪৯৯ | ১৫৮৬৪ ২১৯৮৬।| ১১৩৬৯ | ৭৮৯১৫ ১২৫১ ৩৮৩৮ ৯০২০ ২২৩৫ | ২ ১৬৩৪৬ ৯৬২ ৪8৪৯ ১১৭৩ ৯০১ | ৩১১ ৩৭৯৬ ২৯৯৮ ৩৮৭৮ ৩৭৬৫ ১৬৪৬৯] ৭২৯৬ ৩৪৪০৬ ক পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য গবিশিষ্ট জে) (ভৌগোলিক বত্তান্ত ১ম গ ৭ম অধ্যায়) ১১০১ খুক্চের চা" কলি সংখ্যা । চি জাতি 7 পুং স্ত্রী | আগরয়। ৯০ অহ] | আগবওয়াল" ৮ | দাহিব ২৭৫৬ ূ দাদুর। ১৯ | আসামী ৩ ৷ বান ৫85 ২৬ খস ১৬০৪ ১৪৭৯ ূ হর ১২২ ৯১২১ খান ১৫৩ ৮৬ মন্দ টড ১৪২ খান্দাইত ৫০ ২৮ পা %" £ ৫৫৭ খাবিয়া ২০৪ ১৮৬ লেওখাব ১০২ 1 ৬৫ ১১৪ ' গবাইট ২২৭ ১৫৭ মাঝ ৪৫০ ৪৬৪ | গুরং ১৫৪ ১২৫ মালো ৮৮০০ ৭১৮২ । স্বাটওয়ালা ২২০ ২৩৪ মন্দ ৩৮৫৯ ৪১৫৭ মুসহর ১৪৬৮ ১৪৩৭ পাশী ১৯১৭ ১৯০৮ রাজওয়ার ১৭৯ ৩১৭ রাজবংশী ৩০৯ ২৬৩ রাজবহর ৮৬৮ ৫৫২ লহাইতকুরি ২২৩ ১৭৫ সাওতাল ৯৫৩৬ ৬৮৫৭ সূত্রধর ৬৮৮৫ ৬৮৬৩ সূরাহিয়া ৩৭৪ ০ সেওর ২ ১২ হাইজঙ্গ ১৫১৬ ১২৮৯ ক্ষত্রি ৫৩৫২ ৫৩৩৮ ক্ষামতি ০ ৫৭০ ৪০২ অল্প সংখ্যক বলিয়া এতদ্যতীত আরও কয়েকটি জাতীয় লোকের সংখ্যা এ তালিকাভূক্ত করা হয় নাই। 2 পপি আপ পে 1 নাম । কালটৈরব কালী গোপাল কিউ গোবিন্দ জিউ গোবিন্দ জিউ জগন্নাথ জিউ ৬গন্নাথ জিউ জগনাথ জিউ মহাপ্রত্র জিউ রাধামাধক জিউ বলদেৰ জিউ ক) মসুন্ার কানাই লা” মহাপ্রভু মহাপ্রভু মহেশ্বর পরিশিষ্ট (ঞ) (ভৌগোলিক বৃত্তান্ত ১ম ভাগ ৯ম অধ্যায়) প্রধান দেবালয়সমূহ উত্তর শ্রীহট্ট স্থাপয়িতা। ঠিকানা প্রভৃতি ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত দশনামী আখড়া নামে খ্যাত। ১৮০০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত । লংলাবাসী কালীচরণ ভন্টাচার্য্যের তত্বাবধানে কালীঘাটে প্রতিষ্ঠিত। ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত আখড়ার নাম গোপালটীলা । ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে রাঘব খলাবাসী জগন্নাথ নাজির কর্তৃক স্থাপিত । নয়া শড়ক শ্রীহ্ট। ১৮০০ ৃষ্টাব্দে যশবন্ত সিংহ কর্তৃক স্থাপিত জিন্দাবাজার, সিলেট । ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত । বাল'গঞ্জ, শ্রীহট্। ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে হরকৃষ্ণ গোসাঞ্ঞ কর্তৃক স্থাপিত। জিন্দাবাজার । ১৮০০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত । কালীঘাট, শ্রীহট্ট। ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত । সাদিপুর, শ্রীহট্। ১৭০০ ঠাকুর যুগল কর্তৃক স্থাপিত। যুগলটীলার আখাড়া নামে খ্যাত। ১৭৫০ খৃষ্টাব্দ মদনমোঙ্গি স্থাপিত । মিরাবাজার, শ্রীহ্ট ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে লালা গৌরহরি নিংহ কর্তৃক স্থাপিত। ্রীদুর্গা বাড়ী নামে খ্যাত । ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত। শ্যামসুন্দরের আখড়া । করিমগঞ্জ ঠাকুর ফকির কর্তৃক স্থাপিত। হাটখলা, প্রতাপগড়। ঠাকুর ককির কর্তৃক স্থাপিত । বাদে কুশিয়ার কুল। ধাবু মুরারি চন্দ্র কর্তৃক স্থাপিত । ডৌয়াদি। দক্ষিণ শ্রীহট্ট ১৭৫৭ খুষ্টাস্দ হৃদয়ানন্দ দত্ত কর্তৃক স্থাপিত । গয়ঘর, ইটা। পরিশিষ্ট শরীহাক্টেব ইতিবৃত্ত ৫১১ কালী ১৭২৮ খৃষ্টাব্দে রাজারাম দাস কর্তৃক স্থাপিত। কদমহাট্া, শমশের নগর কালী ১৮০০ খৃষ্টাব্দে গঙ্গারাম শর্মা কর্তৃক স্থাপিত। সাধুহাটী, হাউলি সতরসতা জগন্নাথ ১৮৩৪ খৃষ্টাব্দে জগন্নাথ দাস কর্তৃক স্থাপিত । আখাইলকুর', শমসের নগর বিনোদরায় ১৭০০ শৃষ্টাব্দে ঠাকুর শান্তরাম কর্তৃক স্থাপিত। পানিশালি ইন্দরেশ্বর । বিষ্পদ গয়ঘর বাসী অনুপরাম দত্ত কর্তৃক ১৭৮৮ খৃষ্টাবে স্থাপিত। আবন্দা, ইটা! হবিগঞ্জ কালী মহারাজ রামগঙ্গা মাণিক্য বষগা-রাজকাছারী কালী, মহাদেব ও বিষ কেশব মিশ্র। বাণিয়াচ্গ। কালী, মহাদেব ও বিষ্ণু ১৭০০ খৃষ্টাব্দে লঙ্করপুরে স্থাপিত ও ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে হবিগঞ্জে স্থানান্তরিত । সহরে গিরিধারী রাটীশালবাসী লালসিং চৌধুরী কর্তৃক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত । নয়াগাও মহাপ্রভুর কর্তৃক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত । আখড়া । গোবিন্দ জিউ কৃষ্ণদাস রামায়েত। নবিগঞ্জ বাজার। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু রামনারায়ণ ও রাজনারায়ণ সাহা কর্তৃক স্থাপিত। ঘাটীয়া। (গীরাঙ্গ মহাপ্রভু ১৮৪০ খৃষ্টাব্দে বিদুরানন্দ গোস্বামী কর্তৃক স্থাপিত । ইকবাম। রাধাগোবিন্দ কৃষ্ণচন্দ্র গোস্কামী। মুড়াকড়ি। সুনামগঞ্জ নাম স্থাপয়িতা। ঠিকানা প্রভৃতি কালী বাণিয়াচঙ্গের হিন্দু ভূস্বামী স্থাপিত । মন্দলীবাগ, ছাতক। কালী ১৮০০ খৃষ্টাব্দে তিলক নন্দী স্থাপিত । তাতিকোণা, ছাতক কালী ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত । সহরে। চৈতন্যমহাপ্রভু ১৮০০ খৃষ্টাব্দে জগন্নাথ চৌধুরী । তাতিকোণা, ছাতক। জগন্নাথ ১৮০০ খৃষ্টাব্দে সুনামদী সিপাহী । সহরে। জগন্নাথ ১৮০০ খৃষ্টাব্দে জগন্নাথপুরের চৌধুরীগণ কর্তৃক স্থাপিত সহরে। রাধামাধব ১৮৯০ খৃষ্টাব্দে জানকীদাসী বৈষ্তবী কর্তৃক স্থাপিত। পাথারিয়া শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৩৩ দ্বিতীয় ভাগ পরিশিষ্ট (ক) এতিহাসিক বৃত্তান্ত (২য় ভাগ ১ম খণ্ড ৪র্থ অধ্যায়) ত্রেপুর রাজবংশ তালিকা ১. রাজমালা, ২. বিশ্বকোষ ও মহারাজ স্বর্গীয় বীরচন্ত্র মাণিক্য বাহাদুরের অর্থসাহায্যে বিতরিত শ্রীমভাগবতের ভূমিকা । প্রকাশিত তিনটি বংশ-তালিকা অবলম্বনে বিশেষ আলোচনা পূর্ব্বক লিখিত। (তিনটি বংশ-পত্রের লিখিত নামাবলীতে অনৈক্য প্রদর্শন জন্য নামের পূবের্ব যথাক্রমে (১) (২) €৩) সংখ্যা দেওয়া হইয়াছে; এই অঙ্কপাত না থাকিলে তিনটি তালিকার মিল আছে বুঝিতে হইবে) | স্ট্র শর ঙ্ (পরের পৃষ্ঠায়) ৫১৬ শ্রীহট্টের ইতিবত্ত দ্বিতীয় ভাগ তুর্ব্সু অনু পুরু শ্রীকৃষ্ণ (৪৭ পুরুষ) অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ সুন্ধ পুর্বক (৪২ পুরুষ) (১৯ পুরুষ) কর্ণ যুধিষ্ঠিরাদি | ও অর্জন বৃষসেন ূ / পরীক্ষিৎ (বিষ্ুপুরাণ ও শ্রীমদ্তাগবত মতে) (পরের পৃষ্ঠায়) ১, ২ মুচঙগফা ও উদ্ধব দ্বিতীয় ভাগ | ১, ২ সাধুরায় ৩ সাধরায় চি । ই) 159৬0 ৫) 1৯৮1৩, (%) 15782, উ15 11১ 189 915 0১ 5181515৮০৩১ (8১০০ ১1৪০০ 1 ই ৮ 905 ৮৭২১ 45৮ ১৪৯০৪ ৮০৩ ০০০: - | আর ৪451 ১51৫ 2৮ দঃবন২ট 1৮1 ১12৩৯ | | | টিনার 8145151 ৯৩] 1৩/ত 15145 | সি রঃ ১০৮৪৬ ৯85 | ১৫1৫ 5241 153611806 দেরী 1]1011)৩ € 51৮১ 4৩ 1৬৩৭১৪১ 1৩0৪ 1৬৪০ ৮৯৪ টানার রর -__ 7 | ০ ূ ড় শা টি বল্ল ১৬115151115) :5৫ 1৮৮ ১৮৯৯ € [৫211৩৯৪2৩1৮ ্ মে পরিশিষ্ট (বে) (ধতিহাসিক বৃত্তান্ত ২য় খণ্ড ১ম অধ্যায়) তরফের সৈয়দ বংশপাত্রকা সৈয়দ শাহ নসিরউদ্দীন সিপা-ই-সালার।* সৈয়দ ৃ সৈয়দ ফকির (ইহা ছয় পুত্রের একতম রামশ্রী বাসী হন।) সৈয়দ খোদাবন্দ ইসমাইল সুলেমান ইব্বাহিম মলেক-উল-উলমা। (ইহার চারি পুত্র) টিটি মোহাম্মদ তকি (ইহার পুত্রই সৈয়দ নসির উদ্দীন সিপা-ই-সালার) ৫২২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২১১১ ৯8১৬ 218 512 80415 ৮১৯ 92125105 /৬১/৮৮ 188 | | | ৃ্‌ ৰ ূ | ৪ ১1 1০৮৮৯ 2৫85 ৪৯1০ 5815 808 ৩) 21 ২) ৮/৭ ৬৬ ৬০1০ | | | _া- উরি লা ৩5285 [*৮৯ (20 ৮1৪ ৩১উ /59147 ৯ | ১21 ৪৫০1) ১21৯ ৮0৩) এই 1৩৯৪ 12১ ৯1০ ৩১ 15856 | ূ ূ | | 18১ ১০ 13) 18], ৮০ 0810 0851 ৩১ 124805 8:৫2 এখইও £81১ দাএই) (2৯1৯০) | | | রা রর | আনি 18৮1৩] 15৮14 18৮ 4] 18 &18] 15118 181515 ৩১ 12৮১ 91৯ /4৪1০ 180৯ ধাশই/) 4908৯ এই) নিত এ 2 ৮৪৬ 18৮14] 5৮ 02৮ ৩৯ 1 | ডা বা ১5) ৯৭ | 15291521882 123২ এএইি 4৮1৯1) উ/৮1৯৮/৬ 21৯৯] ৃ ূ | এ :144১1৬/ &118119 এ, এই ১]১/, 1 __ ূ | | (92 চি এ এুইটু) না এ 11১ (1১) ॥ এ) কপি ৮1৫৪৮ 1৯ 155১৬ 1৯ (4১৮৮৮) (4১৯১এ/এখখং) ] 3২2৮৯ 1৮৩] | 14১৮1০ 1৯ ১৪], ৮:১৮:১০ 1৩] ১21 ৮1২১৮৯ 102২ ১৩১৮৯ উহ (বিডির টির] পির রর রিতা _______ 18521 12৯৪৩ 145] (4১ 9৮৬৬ - (8৪ ৮৮ 4৮ ৮উ) ___া_ 20৬১৯ উট. ইউ ই আইজ): 28১১৪) 2255 ১১1৪ 14৩৯ 1১ 81০৩ 1128-55:-া2 উ|ই ৬৯৯৮ ৮1৮৪ ৫২৮2 পরিশিষ্ট (গ) (ধতিহাসিক বৃত্তান্ত ২য় ভাগ ২য় খণ্ড ৫ম অধ্যায়) পৃর্ব্ব ঢ ্ পশ্চিম ০ ৬৫ ০৬৪ ০৬৩ ০ ৬৭ ০৫৯ ০৬০ ০ ৬৯ ৫২৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ পূর্ব ০ ৩৮ ০৩৭. সপ ঁ ০ ৩৬ টু রে পশ্চিম ০0 ৩০ ০0০৯১ ০৫ ০ ২. ০৪ ০৬ মুড়ারবন্দের দরগায় শতাধিক কবর আছে, অধিকাংশই পৃথক ইষ্টকময় প্রাচীর বেষ্টিত ও উপরে ইষ্টকস্তৃপ বিশিষ্ট । সৈয়দ নসিরউদ্দিন সাহেবের দেহ অন্তর্হিত হইলে তদীয় বন্ত্রাদি শ্রীহত্ট্রে ও এই স্থানে কবর দেওয়া হয়। দরগাটির পূর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত, পূর্ব্ব প্রান্তে খোয়াই নদী প্রবাহিত। (০) শূন্য চিহ্ন দ্বারা কবরের অবস্থান পরিচিহিত করা হইয়াছে। দুইটি রেখা পাতন পূর্বক প্রবেশ পথ পরিচিহিত করা হইয়াছে । এই নক্সা ১২০০ (অস্পষ্ট) অঙ্কিত নক্সা দৃষ্টে এহ স্থলে যোজিত করা হই । নিম্নে কবর সংখ্যানুসাদ্দে নর্দেশ করা গেল, যথা-- শাহ সিরাজউদ্দিন এস্ত্রী শাহ মহেবউল্লা সাহবের স্ত্রী এ ভ্রাতা ১১ শাহ মোহাম্মদ উল্লা ১৮ বড়মিয়া ১৯ দৌলত আবিদ ২২ শাহ দাউদসাহেবের স্ত্রী ২৩ শাহ দাউদ ২৮ শাহ খোদাবন্দ সাহেবের স্ত্রী ২৯ শাহ খোন্দাবন্দ ৩০ শাহ হাসনআলি ৩৩ সৈয়দশাহ ৩৪ শাহ সয়েফ ৩৫ এন্ত্রী ৩৭ শাহ ইন্রাইল ৪৬ কুতুব-উল-আউলিয়া ৪৭ এন্ত্রী ৪৮ এ বৈবাহিক ৪২ ৪] পি ৪88 শ্রৃহট্টের ইতিবৃত্ত ৫২৫ ৫৫ শাহনুরি ৫৬ এন্ত্রী ৫৯ মৌলবী ইসমাইল ৬০ আব্দুল ইমাম ৬১ সওদাগর আজিমাবাদ ৬২ একটি মসজিদগৃহ ৬৩ ইয়ার মোহাম্মদ ৬৪ হাজি দৌলত ৬৫ মোহাম্মদ ইউসুফ ৬৮ শাহ খোন্দকার ৬৯ এন্ত্রী ৮২ মিয়াখোন্দকার ৮৩ এস্ত্রী ৮৭ মাজারিয়া খোন্দকার ৮৮ এন্ত্রী ৯০ শাহ মুসা ৯১ এন্ত্রী ৯২ শাহ মোহাম্মদ ৯৩ শাহ আব্বাস বেরারি সাহেবের কবর ৯৪ শাহ গিয়াস ৯৫ শাহ হারুণ ৯৬ শাহ কত্ত ৯৭ শাহ সুলেমন পরিশিষ্ট (ঘ) (তিহাসিক বৃত্তান্ত ২য় ভাগ ২য় খণ্ড ৬।৭ম অধ্যায়) ইটার রাজবংশাবলী-১ম বাৎস গোত্রীয় আনন্দ হইতে পঞ্চদশপুরুষের নাম অজ্জাত, তৎপরঃ- নিধিপতি রি দর লক্ীনাথ ও ১ শা ূ শুভরাজ খা শ্রীকৃষ্ণ টি রি (মহাদেবি বড়কাপন ভানুনারায়ণ ইন্দ্রনারায়ণ* শ্রীপাড়া) রাজাসুবুদ্ধিনারায়ণ (সুবিদ নারায়ণ) ভা রর না শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৫২৭ | 1228) ১181491৩ ১) " পা ঢ1এই % | ৪1৩ ৯16৮০০,৫ 52/4112৩ ১১1 4 (48 ১৩১০৬৯৩) ইটার রাজবংশাবলী-২য় (১ম রাজবংশাবলী প্রথমাংশ দেখ) শুভরাজ খা | ভানুনারায়ণ | রাজা সুবুদ্ধিনারায়ণ জামাল খা কামাল খা হাজি খা ঈশা খা (কৃষ্ণনারায়ণ) অজ্ঞাত | অজ্ঞাত | ইন হাজিরা ইলিয়াস খা ইসরাইল খা ইসমাইল খা | | | মোহাম্মদ সফি মোহাম্মদ জাফর মোহাম্মদ মইনউদ্দীন ৰ (বা মোহাম্মদ রূপ | বা আলাওল খাঁ) মোহাম্মদ নু মোহাম্মদ তকি | ূ (ওরফে এবা) মোহাম্মদ সকি 1 ৰ (বা এতিম) (বা আশা) মোহাম্মদ সকি | ৰ মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ মনসুর 575 কেটুমিয়া) (খ্যাত সিকান্দর মিয়া) | ণ আব্দুল হেলিম চৌদুরী আব্দুল হামিদ চৌধুরী পরিশিষ্ট (ড) (এতিহাসিক বৃত্তান্ত ২য় ভাগ ২য় খণ্ড ১০ ও ১১শ অধ্যায়) প্রতাপগড়ের রাজবংশ নৃজা মালিক মোহাম্মদ তোরাণী কা 1 টি মানিক পরকাব রোজা) বারামত খা রোজা) বড় খা ডিন মজলিস করম রা জমসের ৰা সোবান্দাজ ৰা সরফরাজঙ্বা তেগরীজ ৰা ত (রাজা) সাকিরউদ্দীন ও উুদীন তাহি্উদ্দীন. আসফউদীন আজফর মোহম্মদ সাদ আহা) জানমোহাম্দ বদক্রীন সোহান দিাী চৌধুরী গোলাম রজা গোলাম নবি আবিদ রজা আদম রজা 4 আলী রজা আহম্মদ রজা | | শ্রীযুত সাদত রজা প্রভৃতি । শ্রীযুত ইয়াকুব রজা (ছয় পুত্র জীবিত আছেন ।) শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৩৪ দ্বিতীয় ভাগ ৫৩০ শ্রীহস্রের ইতিবৃত্ত জনিত এ সার 11৮৯ 1,2৪৬ 18 ৯৮০০ ০505৩ ভি ১721 এ ডি গাল ৃ ১৯21৯ 1০১৫1/৮৯১) 1০1৬৪ (২১৪৯) ছিপ ০ 1৬ ৮১] 1৯ ৬এ৯০ [উি এ 18৪৫ (৮৯ (8 2 | ১৮ | | | | | | | ৯1৯ 1৮5 1১১৬০ লা ১ (৯ 1১২) 2৪৩ ১১৯1৮ ৃ ূ | ৯৩141- 1১1৬ 211 | _______া___াাঁল্র্াা ১৮০ | ১২ 1০১৯৪1৮ ৮১৫1২৩)1৮ (87৯ ৯৪ ই ৪২ ০14১ &২ £18 ৩১৩1) (৫) ৪৩১০ পরিশিষ্ট ছে) (এতিহাসিক বৃত্তান্ত ২য় ভাগ ৩য় খণ্ড ২য় ও ৩য় অধ্যায়) জগন্নাথপুরের রাজবংশ রমানাথ (লাউড়) একপুত্র কেশব (জগন্নাথপুরের গমন) একপুত্র (কোশীবাসী) | (লোউড়ে অবস্থিতি শানি বা শনাই | প্রজাপতি | দুবর্বার খা | রাজসিংহ (পপ্তিত খা) জয় সিংহ বিজয় সিংহ পরমানন্দ সিং (গোবিন্দ সিংহ) না | | বিনোদ রায় রাজবল্লভ গন্ধবর্বরায় | (প্রতাপ সিংহ) ৃ দেবচন্দ্র এ গা রায় স্তরায় রঘুনাথ সুবিদ রায় টি তাং) | | | মথুরেশ রায় মধুসূদন রায় রঘুনাথ রায় হরিহর | | বিনোদ রায় জগত্বল্নুভ কি [৮৮ ণ টিসি জগৎরায় অনুপ রায় সানন্দ রায় | | ৃ [ যশমন্তরায় সমুদরায় * কামদেব হরিরায়+ গোলোকনাথ সদানন্দ | (১৪ নং তাং) | (৮০ নং) | খুলনরায়+ | জীবনরায়+ | | (১৫ নং তাং) সুন্দররায় (৮ নং) স্বরূপরায় গোপীনাথ মদনমোহন | | | চৌধুরী চৌধুরী রামনারায়ণ রাজীবরায় দীননাথ টার বদনচান্দ | | চৌধুরী | করুণচন্দ্ররায় জয়গোপাল টা তারানাথ চৌধুরী | চৌধুরী চৌধুরী (জীবিত) অক্ষয়কুমার (জীবিত) চৌধুরী (জীবিত) ইখারা চিরস্থায়ী মহাল বন্দোধত্ত কারক । (মহালের নং নামের পরে দেওয়া হইয়াছে।) + ইহারা হালাবাদি মহাল বন্দোবস্ত কারক মেহারের নং নামের পরে দেওয়া হইয়াছে ।) পরিশিষ্ট (জে) (এঁতিহাসিক বৃত্তান্ত ২য় ভাগ ৫ম খণ্ড ১ম ও ২য় অধ্যায়) শ্রীহট্টের রেসিডেন্ট ও কালেক্টর ম্যাজিষ্ট্রেট এবং ডিপুটি কমিশনারগণের নামাবলী ক্রমিক নাম আগমন কাল | গমন কাল সংখ্যা (তাং মাস, খুঃ) | (তাং, মাস, থ্ঃ) মিঃ থেকারে শ্রৌহট্টের প্রথম রেসিডেন্ট), হিরা মিঃ সমনার (৬1, 900100) £ | চিত] তিলিততিত০০, মিঃ হলাগড (৮1. [7011070) |] িিগিতিিদিত | 55০55, রবার্ট লিগ্তসে (২০৮৩1117057) ১-১-১৭৭৯ | ৩০-৬-১৭৮৯ মিঃ হিন্দমেন (৬1. [1)1709177) মতান্তর মিঃ হডসন বা মিঃ হামিল্টন (সেহকারী) | এ এ জন উইলিস (]01॥7 ৬1115) ৩০-৬-১৭৮৯ | ৩০-১১-১৭৯৩ (মতান্তরে জে আর বানটা) ১-১২-১৭৯৩ | ১০-১-১৭৯৪ এইচ লজ (7. 1.০৪০) ১১-১-১৭৯৪ | ১৭৯৭ জে আমুটী (0. /১1)1700) ০-১-১৭৯৭ | ০-৪-১৮০৩ জে ডবলিউ লেইরি (. ৬/. 1:01) ০-৪-১৮০৩ ০-৭-১৮০৩ সি এস মলিং (০ 5 19111) মেতান্তরে মিঃ মলিঙ্গ) ০-৭-১৮০৩ ০-১-১৮০৭ এফ মারগান (75. 7৬ 01:2011) ০-২-১৮০৭ ০-৩-১৮০৮ জি ফ্রেঞ্চ (0 নি011017) ০-৪-১৭০৭ ০-১১-১৮০৯ ই মেঝুয়েল (5. 11০,511) ১২-১০-১৮০৯ | ৬-১১-১৮০৯ (পুনঃ) জে ফিঞ্চ ৭-১১-১৮০৯ | ৩০-১১-১৮১২ জে ডবলিউ মেকনবল (0 ৬/ 7৮190179016) | ১-১২-১৮১২ | ১৬-৩-১৮১৩ (পুনবর্বারি) জে ফ্রেঞ্চ ১৭-৩-১৮১৩ | ৬-১-১৮১৮ টমাস বার্ণ হাম (117017093 7017110010) ৬-১-১৮১৮ | ১৪-১২-১৮১৮ জেপি ওয়ার্ড (]. 7. ৬/৪1) ১৪-১২-১৮১৮ | ১৭-৮-১৮২০ জি কলিন্স (0. 0011175) মতান্তরে জি ফকলেস ১৭-৮-১৮২০ | ৮-৭-১৮২৪ সি টকার (০. 1011) ৮-৭-১৮২৪ | ১৭-১২-১৮২৫ ডবলিউ জে টরকুয়াণ্ড (৬. ].101008170) | ১৭-১২-১৮২৫ | ৮-৩-১৮২৬ (পুনঃ) সি টকার ৮-৩-১৮২৬ | ২৪-২-১৮২৯ সি বেরি (0301) ২৪-২-১৮২৯ | ১৫-৭-১৮২৯ (পুনঃ) ডবলিউ «জ টরকুয়াও ১৫-৭-১৮২৯ | ৯-৪-১৮৩১ এফ গোল্ডসবেরি (5. 0010929) ৯-৪-১৮৩১ | ১৫-৮-১৮৩১ ৫৩৪ শ্রীহট্ট্রের ইতিবৃত্ত দ্বিতীয় ভাগ ফর্স মতান্তরে € ১৫-৮-১৮৩১ 1 ২৬-৬-১৮৩৫ এ সি বিডউয়েল (১. 0. 310%/911) ২৬-৬-১৮৩৫ | ২৪-১১-১৮৩৫ আর এইচ মিলটন (€. 11 1111017) ২৪-১১-১৮৩৫ | ১৬-১১-১৮৩৫ এ সি প্রাওডেন (৫১. ০ 10%/001) ১৬-১১-১৮৩৮ | ১৭-১০-১৮৩৯ (পুনঃ) এ সি বিডউয়েল ১৭-১০-১৮৩৯ | ৩০-৬-১৮৪০ (পুনঃ) এ সি প্রাওডেন ৩০-৬-১৮৪০ | ৭-৩-১৮৪২ (পুনশ্চ) এ সি বিডউয়েল ৭-৩-১৮৪২ | ৪-২-১৮৪৩ (পুনশ্চ) এ সি প্রওডেন ৪-২-১৮৪৩ | ২০-৩-১৮৪৩ সি এফ সিলী (০. চ. 5০1) ২০-৩-১৮৪৩ | ২৫-৪-১৮৪৩ এ এস এনাও (/৯. 9. /১1110170) ২৫-৪-১৮৪৩ | ১-৪-১৮৪৭ সি ডবলিউ মেকিলফ ১-৪-১৮৪৭ | ১-১০-১৮৪৭ (পুনঃ) এ এস এনাণ্ ১-১০-১৮৪৭ | ১-১২-১৮৪৯ ডবলিউ বি ব্যাকল ডে. 3. 730০11০) ১-১২-১৮৪৯ | ৩-১-১৮৫০ এস এ জি সেভার শ্রীহট্র দর্পণ গ্রন্থমতে মিঃ মাজ | ৩-১-১৮৫০ | ৭-৯-১৮৫৫ টি সি লারকিন (থা. 0. 1.017017) ৭-৯-১৮৫৫ | ২২-১২-১৮৫৫ এফ এ গ্নোভার (7. /১.010৬০1) শ্রীহট্ট দর্পণে-গলবর ২২-১২-১৮৫৫ | ৪-১-১৮৫৬ এ সি বার্ণাডর (/১. 039110100) ৪-১-১৮৫৬ | ২৮-১-১৮৫৬ (পুনঃ) এফ এ গ্লোভার ২৮-১-১৮৫৬ | ১৬-১২-১৮৫৬ (পুনঃ) টি সি লারকিন ১৬-১২-১৮৫৬ ! ১১-৩-১৮৫৬ আর ও হেউড (২. 09. ঢ০/৬০০০০) ১১-৩-১৮৫৬ 1 ৬-১২-১৮৫৭ এইচ নেলসন (17. 161507) ৬-১২-১৮৫৮ | ২৮-৪-১৮৫৯ ডবলিউ জে লঙগমোর (৬. ]. [,01787016) | ২৮-৪-১৮৫৯ | ১০-১১-১৮৫৯ পি এ হামফে (১. &. ন0010110169) ১০-১১-১৮৫৯ | ১৩-১২-১৮৫৯ টি ওয়ালটন (. ৬/৪11017) ১৩-১২-১৮৫৯ | ১-৩-১৯৬০ জি জি বেলফোর (0. 0. 8911001) ১-৩-১৮৬০ 1 ১২-৬-১৮৬১ (পুনঃ) টি ওয়ালট ১২-৬-১৮৬১ | ২৪-৬-১৮৬১ এসএফ ডেভিস (5.5. 09৬19) ২৪-৬-১৮৬১ | ২-১২-১৮৬১ থিওডর ম্মিথ (717900010 917710) 17011026) | ২-১২-১৮৬১ | ১২-৩-১৮৬১ এস এইচ সি টেলার (5. 7. ০110) | ১২-৩-১৮৬১ | পাঠ উদ্ধার সম্ভব হয়নি এইচ বেবরীজ ২০-২-১৮৬৪ |” জেমস সাদরলেও ভ্রমণ | ৫-৩-১৮৬৪ রর (পুনঃ) এইচ বেবরীজ (0701156) ২০-৪-১৮৬৪ |” (পুনঃ) জেমস সাদরলেও দ্রমণ্ড ১০-৫-১৮৬৪ |” (0810795 91101)0118170 [01 07117)0170) ডবলিও কেন্বল (৬/ [০71016 1110110156) 1 ২৬-৩-১৮৬৫ |” রর শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৫৩৫ ৬৯ ৬২ ৬৩ ৬৪ ৬৫ ৬৬ ৬৭ ৬৮ ৬৯ ৭0 ৭১ ৭৯, ৭৩ ৭৪ ৭৫ ৭৬ ৭৭ ৭৮ ৭১৯ ০৮০ ৮৯ ৮২ ৮৩ ৮৪ ৮৫ ৮৬ ৮৭ ৮৮ ৮৯ ৯০ ৯৯ (পুনশ্চ) টি ওয় ৩০-৫-১৮৬৫ ৮ (পুনঃ) কেম্বল সাহেব ৬-১-১৮৬৮ এফ ডব্রিউ ভি পিটার্সন (ঢ. ৬. ৬. 7১010501) | ১৭-১০-১৮৬৮ |” (পুনশ্চ) কেন্বল সাহেব ১৭-১২-১৮৬৮ |” (পুনশ্চ) ড্রমণ্ড সাহেব ১-১-১৮৭০ |” এইচ সি সাদারলেওড (7. ০ 900751017) | ২৭-১০-১৮৭০ |” এ এল করে (4.1... 019১) ০-১০-১৮৭৪ |” এ মেনসন (/৯. 110175017) ৫-৪-১৮৭৭ * হেনরী লটমন জনসন ২২-৪-১৮৭৮ | ৯-৫-১৮৮৫ (701) 10101171011 101311011) জি ষ্টিভেনসন (0 31০৮675011) ১০-৫-১৮৮৫ | ১১-০-১৮৮৯ জে কেনেডী (0. 101701১) ১৩-৬-১৮৮৯ |” এফ এল হেরালড (7. 1.. যে ]0) ১১-৩-১৮৯১ |” ডবলিউ এইচ লী (৬. 11. [০০ 0017117) | ২৪-১২-১৮৯১ | ১৭-৩-১৮৯২ পি এইচ ওব্রায়েন (1১ 11. 01311017) ১৮-৩-১৮৯২ | ১৯-৭-১৮৯২ (পুনঃ) লী সাহেব (4০018 01007) ২০-৭-১৮৯২ | ২৯-১০-১৮৯৩ বিবি নিউবোলড (3 13 ২০৬/701) ২৯-১০-১৮৯৩ | ১৮-৮-১৮৯৪ (09100101111 এফসি হেনিকার (1: 0. 1107111) ৭-৪-১৮৯৫ | ৩-১২-১৮৯৫ (91001910175) (পুনঃ) ওরব্রায়েন সাহেব ৪-১২-১৮৯২ | ৭-৭-১৮৯৬ এল জে কার্শ ৮-৭-১৮৯৬ | ১-১১-১৮৯৬ (পুনঃ) ওব্রায়েন সাহেব ২-১১-১৮৯৬ | ২৩-১-১৮৯৮ টি ইমার্সন (010191018) ২৭-২-১৮৯৮ | ২৭-১১-১৮৯৮ এ পোর্টিয়স (/ 7১0171005) ২৮-১১-১৮৯৮ | ২৭-১১-১৯০০ ডি এইচ লিজ (1). 11. 1,০০9) ৮-৯-১৯০০ | ১১-৮-১৯০২ আব্দুল মজিদ (01901801109) ১২-৮০-১৯০২ | ২০-১০-১৯০২, (পুনঃ) লিজ সাহেব ২১-১০-১৯০২ | ১-৭-১৯০৩ জে সি আরবুথ নট ১-৮-১৯০৩ এইচ এল সেলকেন্ড (7.1... 501091) (পুনঃ) আরবুথ নট সাহেব (এ. 0. /১0017010) এস জি হার্ট সাহেব যিঃ কোহন সাহেব মিঃ হেজলেট সাহেব (বতমানে) মন্তব্য-৭৬ সংখ্যক সাহেব কিছুদিন স্থায়ী হইয়াছিলেন। পরিশিষ্ট (ঝ) (তিহাসিক বৃত্বাত্ত ২য় ভাগ ৫ম খণ্ড ৪র্থ অধ্যায়) আসামের চিফ-কমিশনারদের নামাবলী ক্রমানুযায়ী নাম শাসনকাল কর্ণেল আর এইচ কিটিজ (091. ₹. লু. 52100790) ১৮৭৪-১৮৭৮ সার স্টুয়ার্ট বেলি (৩2 96087393169) ১৮৭৮-১৮৮১ মিঃ সি এ ইলিয়ট (পরে সার চার্লস) (0. &. 811101) ১৮৮১-১৮৮৩ মিঃ ডবলিউ ই ওয়ার্ড ডে. 2. ৬/০1৫) ১৮৮৫-১৮৮৭ মিঃ ডি ফিটজ পেট্রিক (পেরে সার ডেনিস) (572201০) ১৮৮৭-১৮৮৯ মিঃ জে ওয়েষ্ট লেও (পরে সার জেমস) (1. ৬/০91107) ১৮৮৯-১৮৮৯ মিঃ জে ডবলিউ কুইন্টন (য. ৬. 017107) ১৮৮৯-১৮৯১ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কলেট (787901017 701102] 0011600) ১৮৯১-১৮৯১ (পুনঃ) ডবলিউ ই ওয়ার্ড (পরে সার উইলিয়াম) ১৮৯১-১৮৯৬ অনারেবল জে এস কটন (11011. [. 9. 001107) ১৮৯৬-১৯০০ মিঃ জে বি ফুলার (ঘ. 3. 1711০) ্‌ ১৯০০-১৯০০ (পুনঃ) অনারেবল জে এস কটন (পরে সার হেনরি) ১৮৯৬-১৯০২ (পুনঃ) জে বি ফুলার (পরে সার বোমৃফিল্ড) ১৯০২-১৯০৪ অনারেবল এল হেয়ার (07). [.. 7916) পেরে সাব লেনসেট)+ ১৯০৬-১৯০৮ সার চার্লস বেলি (917 0010095 73819) ১৯০৮ সার লেনসেট হেয়ার+ বর্তমান % ১৯০৫ খৃষ্টাব্দের ১৬ই অক্টোবর হইতে ইনি পূর্র্ববঙ্গ ও আসামের ছোটলাট নিযুক্ত। + ইহারা পূর্ববঙ্গ ও আসামের ছোটলাট। পরিশিষ্ট (ঞ-১) এঁতিহাসিক বৃত্তাত্ত-উপসং হৈড়ম্বীর রাজবংশাবলী আমাদের সংগৃহীত এই বংশাবলীতে প্রায় ১৮০ জন নরপতির নাম দৃষ্ট হয় শ্রীযুক্ত কৈলাস চন্দ্র সিংহ প্রকাশিত বংশাবলীসহ ইহার অনেক অনৈক্য লক্ষিত হয়। কাছারের রাজগণের উপাধি “নারায়ণ” ; কিন্তু নিম্নে প্রত্যেক নামের সহিত অনাবশ্যক বোধে উপাধি লিখিত হইল না। ১. ভীমসেন ২. ঘটোৎকচ ৩. মেঘবর্ণ 8. মেঘবলুভ ৫. মেঘসিংহ ৬. মেঘরিপুধ্বজ ৭. মেঘকান্তি ৮. মেঘদর্প ৯. মেঘসালী ১০. মেঘদ্যুতি ১১. মেঘকেতু ১২. দিব্যনারায়ণ ১৩. দৈবান্ধর ১৪. শিব ১৫. শিবনাথ ১৬. শিবকান্তি ১৭. নির্ভয়নারায়ণ ১৮. উদয়ভীম ১৯. উত্ানধ্বজ? ২০. উমানন্দ ২১. উদ্দানন্দ ২২. কার্তিকচন্ত্ ২৩. উইন্দ ২৪. মুনীন্দ্র নারায়ণ ২. কেতু ২৬. ভীমকীর্তি ২৭. ভীম্মসেন ২৮. ভীম্মপালক ২৯. শিবমোহন ৩০. বিশ্বন্তর ৩১. বিনোদকেশব ৩২. কেন্দ্রবল ৩৩. বিতাল ৩৪. বিশ্বপ্রমোদ ৩৫. উনদ (7) ৩৬. উপেন্দ্ ৩৭. উদয় চন্দ্র ৩৮. কালী ৩৯. কুগল্য () ৪০. রত্রচন্ ৪১. কান্তিলচন্দ্র (€?) ৪২. শক্রজিৎ ৪৩. সুদর্শন ৪৪. সুধৈর্য্য ৪৫. সুশীতল ৪৬. প্যারীভ্দ্ব ৪৭. ভাঙ্করধ্বজ ৪৮. ভানুচন্্ ৪৯. বেতাল ৫০. হিরণ্যনারায়ণ ৫১. মিরেন্দ্র ৫২. ইন্দুচন্্ ৫৩. হিমেশ্বর ৫৪. জদ্রসেন ৫৫. সকন (৪) ৫৬. ঈশান ৫৭. ঈশ্বর ৫৮. ইন্দি (ইন্দ? চন্দ্র) ৫৯. ইন্দসিংহ ৬০. গুণবীর্তি ৬১. পীতকীর্ত্ি ৬২. উপেন্দ্রকীর্তি ৬৩. নীল নারায়ণ ৬৪. পদ্মনাভ ৬৫. পদ্মলোচন ৬৬. পদ্মসেন ৬৭. পীতনারায়ণ ৬৮. ভূষণারায়ণ ৬৯. গুণচন্দ্ ৭০, সুরসেন ৭১. রিপুদর্প ৭২. বলভ্দ্র ৭৩. চন্দশেখর ৭৪. মুকুটভর্জান ৭৫. ক্কন্দসেন ৭৬. দিগীশচন্দ্ ৭৭. দিব্যচন্দ্ ৭৮. দীবন্ধু ৫৩৮ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত ৭৯. দিবেন্দু ৫) ৮০. গোত্রনারায়ণ ৮১. গোপী ৮২. মহেশ্বর ৮৩. মহেন্দ্র ৮৪. মণ্ডল ৮৫ কুলভ্দ্র ৮৬. কুলির (?) ৮৭. ভানু ৮৮. কমল ৮৯. পঙ্ক ৯০. সজীব ৯১. জয়দ্রথ ৯২. শব ৯৩. শক্রজিৎ ৯৪. গান্তীব ৯৫. ভূতেন্্র ৯৬. ভুবনচন্ত্ ৯৭. ব্রক্মজিৎ ৯৮. বিশ্বজিৎ ৯৯. মণিজিৎ ১০০, ভ ত্‌ ১০১. মদনজিৎ ১০২. ইন্দ্রজিৎ ১০৩. শঙ্খজিৎ ১০৪. বিনোদ ১০৫. বিন্দুচন্্ ১০৬. বিশ্বাসচন্দ্রধ্বজ ১০৭. বিন্দুরেকধ্বজ ১০৮. কুটধ্বজ ১০৯, প্রতাপর্ধ,এ ১১০. বিধুধ্বজ ১১১. ইন্দ্রধ্বজ ১১২. হলতধ্বজ ১১৩. সিংহপাল ১১৪. হৈমধ্বজ ১১৫. শিখণগুচন্দ্ ১১৬. কুমুদর্বজ ১১৭. প্রমত্তধ্বজ ১১৮. উদিতচন্ত্ ১১৯. প্রভাকর ১২০. কর্পূরচন্ত্ ১২১. গিরীশচন্ত্র ১২২. গৌরচন্দ্ ১২৩. বীরচন্দ্ ১২৪. সুজিত চন্দ্র ১২৫. সুহাক চন্দ্র ১২৬. রণচন্্ ১২৭. রু্রচতন্র ১২৮. প্রকাশচন্্র ১২৯. প্রফুল্চন্দ্র ১৩০. প্রদ্যুননচন্ত্ ১৩১. প্রকাণ্ডচন্ত্র ১৩২. বিক্রমচন্ত্ ১৩৩. বিপুলচন্দ্র ১৩৪. বিষ্ণচন্র ১৩৫. বিশ্বেশ্বর ১৩৬. আদিত্য ১৩৭. বীরচন্ত্ ১৩৮. পুণ্তরীকর ১৩৯. ভূপাল ১৪০. প্রসেন ১৪১. পুরন্দর ১৪২. ত্রিলোচন ১৪৩. দ্বিবিধ ১৪৪. কার্তিকচন্দ্ ১৪৫. নীলচন্ত্ ১৪৬. মকরন্দচন্ত্ ১৪৭. জনার্দন ১৪৮. কেশবচন্দ্ দ্বিতীয় ভাগ ১৪৯. রণচন্দ্র (দ্বিতীয়) ১৫০. মানচন্দ্ ১৫১. বীরদর্প ১৫২. বীরভ্দ্র ১৫৩. বীরসিংহ ১৫৪. নীরসিহং ১৫৫. মেঘবল ১৫৬. উদয়চন্দ্র ১৫৭. বাহুবর ১৫৮. শ্যামচন্দ্ ১৫৯. ইন্দ্রবল ১৬০. বীরধ্বজ ১৬১. চন্দ্রধ্বজ ১৬২. মেঘধ্বজ ১৬৩. শিখিধ্বজ ১৬৪. উদয়াদিত্য ১৬৫. মযুরধ্বজ ১৬৬, গরুড়ধ্বজ ১৬৭. মকরধ্বজ ১৬৮. তাত্রধ্বজ ১৬৯. সুরদর্পনারায়ণ ১৭০. গল্তীরসিংহধ্বজ ১৭১. হিমোদ্রিনারায়ণ ১৭২. গোপীচন্দ্ ১৭৩. তুলসীধ্বজ ১৭৪, ধর্মধ্বজ ১৭৫. রামচন্দ্র ১৭৬. কার্তিকচন্দ্ ১৭৭. হরিশচন্দ্ ১৭৮. লক্ষ্মীচন্্ ১৭৯. কৃষ্ণচন্দ্র ১৮০. গোবিন্দচন্দ্র পরিশিষ্ট (ঞ-২) ধতিহাসিক বৃত্তাত্ত-উপসংহার আসামের ইতিহাস প্রণেতা মিঃ গেইট সাহেব সংকলিত কাছাড়ের পতিগণের ক্রমানুযায়ী নাম ও শাসন সময় । ১. খুনকরা--১৫২০ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করেন বলিয়া জানা যায়। ২. দেশাঙ্গ_-১৫৩৬ খৃষ্টাব্দে মৃত্যু হয় বলিয়া জানা যায়। ৩. হেড়ন্বেশ্বর (উিপাধিমাত্র)--১৫৭০ খৃষ্টাব্দে রাজত্‌ করেন বলিযা জানা যায়। ৪. শক্রদমন বা প্রত্যপনারায়ণ--১৬১০ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করেন বলিয়া জানা যায়। ৫. নরনারায়ণ (শক্রদমনের পুত্র) ৬. ভীমদর্প বা ভীমবল--১৫২০ খৃষ্টাব্দে মৃত্যু হয় বলিয়া জানা যায়। ৭, বীরদর্প--১৬৪৪-১৬৩৭ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করেন। ৮. গরহ্ধ্বজ ৯. সকরধ্বজ -(ক্রমাঘয়ে রাজা হন) ১১. তামরধ্বজ--১৭০৬ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করেন এবং ১৭০৮ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন বলিয়া জানা যায়। ১২. সুরদর্প_-১৭০৮ খৃষ্টাব্দে সিংহারোহণ করেন । ১৩. হরিশচন্দ্র নারায়ণ--১৭২১ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করেন বশিয়া জানা যায়। ১৪. সন্ধিকারী (নাম নহে)_-১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করেন বলিয়া জানা যায়। ১৫. হরিশচন্দ্র ভুপতি--১৭৭১ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করেন বলিয়া জানা যায়। ১৬. কৃষ্ণচন্দ্র--১৬৯০ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করেন বলিয়া জানা যায়। এবং ১৮১৩ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। ১৭. গোবিন্দচন্দ্র_-১৮১৩ খৃষ্টাব্দে সিংহাসন আরোহণ করেন এবং ১৮৩০ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।