শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত

অগ্যুতচর স্যুতচরণ চৌধুরী তর্তবনিধি

ূ্বাংশ

৫৮.৮5210ল

বলে খন শেখটিতা ৪৮

০1২11177171 71২ 7111২ হ8/৯-1৮ ২13৯ €০৯76) [/৯ 1115101% 01 ১%11791] [39 4017১ 00017201201) 00170861011117%, 17150 1501101077-1 910)

প্রথম প্রকাশ : নভেম্বর ২০০০ প্রথম প্রকাশ : ১৯১০ থি.

বইওয়ালার পক্ষে রান মৈত্র কর্তক ১৪৯, ক্যানাল স্টরাট, শ্রাঙমি কলকাতা-৪৮ পেকে প্রকাশিত এবং বাসন্তী প্রেস, ১৯এ, ঘোষ লেন, কলকাতা-৬ থেকে মুদ্রিত

ভূমিকা

ইতিহাসের সত্যানুসন্ধান একটি কঠিন কাজ এবং দুরূহ দায়িত্ব সাধারণ লেখকের পক্ষে ধরনের এতিহাসিকের দায়িত্ব পালন করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু প্রায় একশত বৎসর পূর্বে শ্রী অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্বনিধি সিলেটের বিভিন্ন যুগের বিভিন্ন সময়ের ইতিহাসের তথ্যগুলোকে একজন গবেষকের শ্রম নিষ্ঠা দিয়ে চয়ন করেছেন সিলেটের অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তার নিজস্ব সত্য তথ্যের আলোকে আলোকিত করেছেন। একজন লেখক গবেষক হিসেবে তিনি যে পরিশ্রম প্রতিভার পরিচয় রেখে গেছেন আজীবন তা প্রশংসার দাবিদার |

সিলেট একটি প্রাচীন জনপদের নাম সিলেট অঞ্চলের লোকজন প্রাচীনকালে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল সর্বশেষ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এম জি ওসমানী রণক্ষেত্রে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন সিলেটে চীনা পর্বাজক হিউয়েন সাং ৬৪০ সালে ভ্রমণ করে-- এই অঞ্চলকে শ্রীক্ষেত্র বলে বর্ণনা করেছেন। ১৯১৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট ভ্রমণকালে এই অঞ্চলকে শ্রীভূমি আখ্যা দিয়েছেন প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া অঞ্চলটির শ্রী এখনও অন্তহিত হয়নি বরং আরও শ্রীময়ী হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বে সিলেটের মানুষ বাংলার গৌরবময় সভ্যতা সংস্কৃতির এতিহ্য বহন করে চলেছে। এতিহাসিক নিদর্শন, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি, শ্রুতি, স্মৃতি, দলিল, দস্তাবেজ, প্রাচীন শিলালিপি, ভাঙ্কর্য লিপিবদ্ধ বিবরণ সিলেটের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে লুকিয়ে আছে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতাকে শ্রী অচ্যুত চরণ চৌধুরী আমাদের জনসম্মুখে হাজির করেছেন শুধুমাত্র এই একটি কারণে তিনি আমাদের কাছে অমর হয়ে আছেন এখানে তার গ্রন্থের সার্থকতা

আমি দুই যুগ ধরে ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহ করার কাজে নিয়োজিত আমার লিখিত রাজনগরের ইতিবৃত্ত, মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস সিলেট বিভাগের ইতিবৃত্ত গ্রন্থসমূহ প্রকাশিত হয়েছে। অচিরেই উভয় বাংলা ইতিহাস নিয়ে লিখিত বাংলার ইতিবৃত্ত গ্রন্থ প্রকাশের পথে ইদানীং অনেক লেখক প্রকাশক ইতিহাস গবেষণা প্রকাশনার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন তা বাঙালিদের জন্য আনন্দের কথা কারণ বাঙালিরা নিজের ইতিহাস সাধারণত না পড়ে পাশ্চাত্য ইতিহাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

এদিক দিয়ে এটা গর্বের কথা বিশেষ করে সিলেটের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত শ্রী অছ্ভুত চরণ চৌধুরী তন্্নিধি লিখিত তিন খণ্ডে শ্রীহ্টরের ইতিবৃত্ত গ্রন্থের পুনঃপ্রকাশনার দায়িত্‌ জনাব সিকদার আবুল বাশার সাহেব গ্রহণ করে যে এঁতিহাসিক কার্য সম্পাদন করতে যাচ্ছেন তার জন্য যে কোনো ইতিহাস এতিহ্যপ্রেমিক লোক হিসেবে তাকে অভিনন্দন জানানো উচিত জনাব সিকদার সাহেবের অক্লান্ত পরিশ্রম অধ্যবসায়ের মাধ্যমে গ্রন্থটি পুনঃপ্রকাশের জন্য ইতিহাসবিদদের পক্ষ থেকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি গ্রন্থটি বাংলার ইতিহাস সাহিত্যে মূল্যবান সংযোজন ইতিহাস এঁতিহ্যের শেকড় সন্ধানী বাঙালি মাত্রেই গ্রন্থটি সংগ্রহে রাখা উচিত। নতুন সংক্করণের বহুল প্রচার কামনা করছি।

ভূমিকার পেছনের কথা

শ্রীহন্্রের ইতিহাস রচিত হয় প্রায় একানব্বই বৎসর পূর্বে। শতানদী প্রাচীন সেই গ্রন্থ তিনটি আলোর মুখ দেখে এক অভাবনীয় ইতিহাস সৃষ্টি করে বসে। কারণ গ্রন্থকার সেই গ্রন্থ রচনাকালে সাধারণত এতিহাসিকগণ যে রীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করেন তিনি তার ধারেকাছেও যাননি লেখক স্বর্গীয় অষ্্যুতচরণ চৌধুরী তত্বুনিধি মহাশয় যে কতটুকু মমতৃবোধে পুস্তক তিনটি রচনা করেছিলেন তা ভাবলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। শুধুমাত্র একজন লেখকের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়__ সম্ভব তার পক্ষে যার হৃদয়ে প্রগাঢ় দেশপ্রেম, স্বজাতির দেশবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা এবং জন্মভূমিকে যিনি মাতৃ সমতুল্য বোধ করেন। এক্ষেত্রে শ্রী চৌধুরী প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বিশ্বাস করার কারণ আছে

অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি মহাশয় নিজের দেশকে তার পরিবার. সন্তান, ভাই এমনকি প্রাণাধিক স্ত্রীর ভালোবাসার উপরে স্থান দান করেছিলেন লেখার কাজে মনোনিবেশকালে তিনি স্ত্রী, শিশুকন্যা, এক ভাই পুত্রকে হারান তারা বিভিন্ন কারণে রোগ-ভোগে সময়ে মৃত্যমুখে পতিত হন। কার্ষকালে একেকটি আঘাত আসতে থাকে তার লিখিত ভূমিকায় পাঠক ঘটনাগুলো দেখতে পাবেন__ তাতে অশ্রু রোধ করা পাঠকের পক্ষেও সম্ভব নয়। এহেন আঘাতও শ্রী চৌধুরীকে কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়নি কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা বিবেচনা করলে তাকে ধন্যবাদ-দেবার ভাষা থাকে না কাজ সম্ভব কেন হয়েছিল আজ একশত বৎসর পরে যদি প্রশ্ন তোলা যায় তার জবাব হবে শী চৌধুরী মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন

প্রকাতর ভাণ্তারেতে শ্রীহট্রের মাঝে_

কতো শোভা মনোলোভা-_ সর্ব্বত্র বিরাজে :

বিদেশের বর্ণনায় মুগ্ধ তনুমন-_

মোহবশে দেশপানে চাইনে কখন

তিনি বলেছেন “তখন সংকল্প করলাম শ্রীহট্রের অতীতকথা কিছু কিছু সংগ্রহ করিব ।' সেই “কিছু কিছু' সংগ্রহের ক্ষেত্রে তিনি যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন তাও এক বিম্ময়ের বিষয় বিভিন্ন এলাকার প্রধান- অপ্রধান ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে তথ্যের জন্য তিনি প্রথমত প্রচারপত্র বিলি করেন উচ্চ-নিম্স-মধ্য বংশীয় পরিবার প্রধানদের কাছে তাদের বংশের গৌরব কীর্তিগাথা সুকর্ম-দু্ষর্ম সকল বিষয় জানতে চান। কিন্তু এক্ষেত্র তার সচেতনতা বজায় ছিল যেন কেউ নিজের বংশের নাম কামানোর জন্য অতিরপ্তিত ভুল তথ্য দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত না করেন৷ এক্ষেত্রে তিনি অতি আধুনিক “বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করেন। প্রাপ্ত প্রতিটি তথ্যকে তিনি “ক্রস্‌ চেক' করেন তা সন্ত্রেও তিনি ভুল করতে পারেন বিষয়ে তার সতত সতর্কতা ছিল এক্ষেত্রে তার বিন্ম স্বীধারোক্তি তাকে মহাপুরুষের মর্যাদায় অভিষিক্ত করে পরিতাপের বিষয়, আজ এমন মানুষের কীর্তি কথা, তার নাম আমাদের

[সাত]

শিক্ষিতদের অধিকাংশই জানেন না গুণের আদর মর্যাদা যেখানে নেই সেখানে গুণী জনে না, কথাটি কী সর্বাংশে সত্য?

বাংলাদেশের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন এতিহ্য রয়েছে, সারাদেশটি যদি একটি দেহ হয় শ্রীহট্ট বা আজকের সিলেট তার মস্তক স্বরূপ বলতে হবে। হিন্দু-মুসলমান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সিলেট (শ্রীহট্ট) গৌতম বুদ্ধ, শ্রীচেতন্য, শাহজালাল (রঃ) কাল থেকেই এদেশের গণমানুষের পুণ্যভূমি। কারা বাস করতেন সেখানে, কেমন ছিলেন তারা? তাদের জীবনযাত্রাসহ এলাকায় প্রচলিত সর্বপ্রকার কিংবদন্তি এই বইয়ে অতি যতেুর সাথে পরিবেশিত হয়েছে শ্রী চৌধুরীর বিজ্ঞানমনঙ্কতার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিংবদত্তিগুলির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও প্রদান করা হয়েছে মোট কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত পড়তে শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত পাঠক স্বস্তি পাবেন বলে বোধহয় না।

অন্যদিকে পুস্তক প্রকাশের ব্যয় আজকালকার বাজার মুল্য হিসেবে কম হলেও সেকালে একেবারে কম ছিল না। প্রথমত ৯০০ কপি প্রায় ২৫০০ টাকা, সেই ব্যয়ভাব বহন করাও তত্তরনিধির পক্ষে সম্ভব ছিল না। অবশেষে একজন মহানুভব ব্যক্তি কোনো প্রকার আর্থিক লাভালাভ ছাড়াই সেই টাকাটা যোগান দিয়েছিলেন এটাও ইতিহাস বটে আজকের দিনে বর্তমান সমাজে এরপ দৃষ্টাত্ত কয়টির দেখা মেলেঃ আরও একটি দৃষ্টান্তমূলক বিষয় উল্লেখ করা প্রমোজন-__ তন্নিধি ব্যক্তি হিসেবে দেশ-জনগণ জাতির প্রতি কেমন দায়বোধ করতেন সেই ঘটনা তার প্রয়াণ তার জন্ম গ্রামের ডাকঘর মৈনা-ডাকঘরটি পাথারকান্দি অফিসের অধীনস্থ একটি শাখা অফিস হিসেবে চালু ছিল। পরিচালনার ঝামেলার জন্য কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিতে উদ্যোগী হন। তখন তন্্ুনিধি নিজেই এগিয়ে এসে তার পবিচালনার ভার নিজের কাধে তুলে নেন। কানাই বাজারের অফিসে গ্রামের পথের 'শাশে_ জমিদারির কাছারি বাড়িতে এক কোণে বসে আম, জাম, কাঠাল আর বাশবনের হায়ায় ঘরের কোণে লাল রঙের টিনের চিঠির বাক্স ঝুলছে; হাতলওয়ালা চেয়ারে বসে পোস্ট মাস্টার 'খালি গা, পরনের ধুতি হাটু” ওপর তোলা" চোখে গোল ফ্রেমের চশমা এটে ডাকঘরের পরিত্যক্ত কাগজে ইতিহাস রচনা করছেন-_ কল্পনা করা যায়ঃ কাজের প্রতি, দেশের প্রতি কতটুকু মমতুবোধ থাকলে এমন কাজ করা যায় আজ তাও বিবেচনার দাবি বাখে।

পুস্তক প্রকাশের পর সমগ্র ভাবতবর্ষে তা কেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তাও ভেবে দেখবার মতো সেকালের বিখ্যাত সব দৈনিক সাপ্তাহিক পত্র- পত্রিকা এর গুণকীর্তন করেছিল ইংরোজ দেনিক এমপায়ার অকুগ্ঠ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে গুণকীর্তন করে 'এতিহাসিক চিত্র, প্রবাসী", “সাহিত্য সংবাদ", 'অমৃতবাজার', 'আনন্দবাজার', “ঢাকা রিভিউ", “সম্মিলন' এরাও

গ্রন্থ রচনায় তন্ুনিধি মহাশয় একাদিক্রমে পনেরো বছর ব্যয় করেন। তার বক্তবোর কিয়দংশ উপস্থাপন করে আমার বক্তব্য শেষ করি : তিনি লিখেছেন “দীর্ঘকালের চেষ্টা প্রাম় পঞ্চদশ বৎসরের পরিশ্রমে শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত সম্পূর্ণ প্রকাশিত হইল ইহাতে অবশাই আনন্দিত হইবার কথা ছিল কিন্তু কয়েকটি ঘটনা মনে হইয়৷ আজ সে সুখ পূর্ণাঙ্গ উপভোগ করিতে পাবিতেছি না। ইতিবৃত্তের কপি লইয়া যখন সর্বপ্রথম কলিকাতায় যাইতে হয় সেই সময় মদীয সহধর্মিণী পীড়িতা হইয়া পড়েন; আমার আগমনাপেক্ষায় তাহার সুচিকিৎসার

[আট]

বিশেষ বন্দোবস্ত হইতে পারে নাই সেই বোগেই আট মাসেব একটি শিশুপুত্র রাখিযা তিনি পরলোক গমন করেন “কুসুমাঙ্গ সেই শিশুটিকে বুকে তলিযা লইলাম। কিছুদিনেব জন্য ইতিবৃত্ত মুদ্রণের তত্বাবধান স্থগিন বহিল। শিশু লইযাই ব্যস্ত থাকিতে হইল সেই সময় কনিষ্ঠ সহোদর অনিরুদ্ধ চরণ চেঁধুবী (যিনি ইতিবৃত্তের জন" উপকরণ সংগ্রহ কবেছিলেন) কলিকাতায় যাওয়ার জন্য উত্তেজিত কবিতে লাশিল |... কলিকাতায় চলিলাম কিন্তু হায়... জানিলাম না যে ইহার তাহার সহিত শেষ দেখা বিদ্যুত্বাতায ব্যাধি সংবাদ পাইযা তৎক্ষণাৎ চলিয়া আসিলাম। কিন্তু অনকদ্ধকে পাইলাম না। সে তখন দু খময সংসাবেব বন্ধনমুক্ত হইয়া চলিয়া গিয়াছে।

মাত্র পাচটি মাসের মধ্যে এই দইটি শোক কুসুমাঙ্গের ফুল মুখ চাহিয়া ভুনিতে চেষ্টা করিলাম যখন তাহার বয়স এক বৎসর উত্তীর্ণ হঈয়াছে তখন সে অমৃতভাষে পিতাকেই “মা' বলিয়া ডাকে। ... ইতিবৃত্তেব মুদ্রণ শেষ করিতে কলিকাতায় যাইতে হইবে-_ কর্তব আর শ্নেহ উভয়ের মহাযুদ্ধে শেষোক্তই পবাজিত হইল কলিকাতায চলিলাম যাত্রাকালেব সেই চিত্র এখনও মন হইতে মুছে নাই। বন্টাব সম্মুখে অনোব কোলে থাকিযা ফুলু কুসুমেব ন্যায় সে আমার পানে চাহিয়া রহিল অল্পদিন যে 'বাবা' বলিনি শিখিযাছে, কিছুদূরে গিযা শুনিতে পাইলাম যে সে ডাকিতেছে বাবা আইও ।' সাতদ্দন যাই না যাইতে তাহার জবর হইল আর সেই ডাক শুনিয়াই সেই ডাক বাবা আইও (এস) থামিল না. কেহই থামাইতে পারিল না। ... কাজ একরূপ শেষ করিয়া বাড়ি আসিলাম। কিন্তু তাহার পীড়া কঠিন হইয়া পড়িয়াছে।

ইতিবৃত্ত (পৃরর্বাংশ) রূপ-মানসপুত্র পাইলাম, কিন্তু আমাব সোনার কুসুমাঙগকে চিরতরে হার।ইলাম 1”

আমরা মনে করি শ্রীহট্রের ইতিবৃত্তের রচনা কাহিনা নিয়েই একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা সন্তব। সে যাই হোক, এই গ্রন্থ বাঙালি জাতির পৌরব:ং এর অবদান কোনোকালে নিঃশেষ হবে না। গ্রন্থটি পুনমুদ্রণ করতে পেরে আমবা গৌরবান্ধিত আশা কবি অনিসঞ্ধিৎসু দেশপ্রেমিক পাঠকগণ গ্রন্থ মনোযোগ সহকারে পাঠ করতে পরান্ুখ হবে না। তাহলে আমরা নিজেদের শ্রম সার্থক মনে করব।

ভূমিকা

একে গ্রন্থ রচনা করেন অপরে তাহার ভূমিকা লিখেন, এই আজ কালকার ফেশন। আমি তদনুবন্তী হইয়া এই ভূমিকার অবতারণা কবিতেছি না। গ্রন্থকার শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্্ুনিধি মহাশয বঙ্গীয় সাহিত্য জগতে নিতান্ত অপ্রসিদ্ধ নহেন যে ভূমিকা লিখিয়া তাহাকে বাড়াইতে হইবে,__ তবে শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রণয়ন কার্ষ্যে আমার অল্প একটু সম্পর্ক ছিল, অতএব একটা কৈফিয়ত দিবার আছে; সেই নিমিত্ত এই প্রয়াস

প্রা আট বৎসর হইল নিম্নলিখিত চিঠিখানি শ্রীহস্ট জিলার সর্বত্র প্রচারিত হইয়াছিল

শ্রী শ্রী কাত্যায়নী শরণম্‌

বহুমানাস্পদ শ্রীযুক্ত মহোদয সমীপেষু

বিনীতনিবেদননিদম্_

আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজের এই একটা অতিশয় অগৌরবের কথা যে তাহারা স্বদেশের কাহিনী কিছুই পরিজ্ঞাত নহেন। কোনও কোনও ব্যক্তির আবার এইরূপ মতও আছে যে এদেশে এমন কিছুই নাই যাহা জানিবার উপযুক্ত। এইপ্ধপ অজ্ঞানতা গুঁদাসীনোর মূল আমাদের জড়তা এবং ইহার ফল আমাদের অবশ্যন্তাবী অধোগতি আমরা যে দেশে জন্নিয়াছি তাহা মহিমাধিত, এই চিন্তাটুকু মনে আসিলেও মন উচ্চ আশায় স্ফীত হয়। সমগ্র ভারতভূমির চিন্তা করা অস্মাদৃশ ক্ষুদ ব্যক্তির ক্ষমতায়ত্ত নহে, তাই ক্ষমতায় যতদূর কুলায়, আপন জিলার কাহিনী সংগ্রহ নিমিত্ত বাসন করিয়াছি, জানিনা ভগবতী সেই বাসনা কতদূর পূর্ণ করিবেন আপাততঃ বিবরণ সংগ্রহের নিমিত্ত আপনার নিকট এই সাহায্য প্রার্থনা যে আপনার জনুস্থান যে পরগণায় সেই পরগণা সম্বন্ধীয় জ্ঞাতব্য বিষয় সমূহের বিবরণী যতদূর পারেন সংগ্রহ করিয়া আমার নিকট প্রেরণ করেন। কিরূপ বিবরণ সংগ্ৰহ করিতে হইবে তাহা স্বয়ং অবধারণ করিতে পারেন। যাহা কিছু জানিতে স্বদেশীয় বা বিদেশীয় লোকের ওৎসুক্য জন্মিতে পারে এইরূপ বিবরণীর সমাদরনীয় হইবে দিজ্ঘাত্রপ্রদর্শনচ্ছলে নিম্গে কতিপয় বিষয় উল্লেখ করা যাইতেছে।

১. প্রসিদ্ধ হান_

ক. তীর্থ বা দেবালয় বা মাহাত্যযুক্ত স্থান (হিন্দু-মোসলমান নিরবির্বশেষে)।

খ. দেশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তির জনাস্থান বা অবস্থিতির স্থান।

গ. প্রসিদ্ধ এতিহাসিক ঘটনার স্থল।

ঘ. প্রসিদ্ধ উৎপনু দ্রব্য, আয়কর, শিল্প, বাণিজ্য প্রভৃতির স্থান।

উ. অন্য কোনও কারণে প্রসিদ্ধ স্থান: যথা-তুদ, জলপ্রপাত এবং ।বখ্যাত দীর্ঘিকা, মন্দির প্রভৃতি প্রাচীন কীর্তি সংবলিত স্থান

[দশ]

২. প্রসিদ্ধ ব্যক্তি__

(হিন্দু-মোসলমান উচ্চ-নীচকুল অথবা স্ত্রী-পুরুষ নিবির্বশেষে)

ক. সাধু বা সিদ্ধ পুরুষ বা ধর্ম সম্প্রদায় প্রবর্তক

খ. বিদ্ধান (যে কোনও ভাষায় হউন) এবং প্রতিভাশালী ব্যক্তি (যে বিষয়ে হউন)।

গ. কবি বা গ্রন্থকার (যে কোনও ভাষায় হউন)।

ঘ. সঙ্গীতজ্, গান রচয়িতা ইত্যাদি

উ. উচ্চ পদবী যুক্ত কিংবা সম্পত্তি অর্জনকারী

চ. শিল্পী, কারবারী ইত্যাদি

ছ. বিখ্যাত বংশের প্রবর্তক বা প্রসিদ্ধ পরিবারের আদি পুরুষ

জ. অন্য কোনও কারণে প্রসিদ্ধ; যথা--দয়াবৃত্তি, বুদ্ধিব তীক্ষতা, শারীরিক সামর্থ্য ইত্যাদি।

৩. ভারতবর্ষের অন্যান্যস্থলে অপ্রচলিত আচার-ব্যবহার; কোনও তাত্রশাসন বা পুরাতন মুদ্বা ইত্যাদির বিবরণী: এবং কোনও মর্যাদাশীল সামাজিক সম্প্রদায়ের ইতিহাস।

দ্রষ্টব্য

১. কোনও প্রসিদ্ধ মাহাত্মযুক্ত স্থান সম্বন্ধীয় বিবরণে তৎসন্বন্ধে যে সকল প্রবাদ প্রচলিত আছে তাহা উল্লেখ করা আবশ্যক সুপ্ত তীর্থাদি বিষয়েও উল্লেখ থাকিলে ভাল

২. কোনও গ্রাম বা পরগণার নামেব ইতিবৃত্ত অনুসন্ধান করিলেও অনেক তন্ত্ প্রকটিত হয়।

৩. কোন দেশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তির বা বিখ্যাত পরিবাবের বংশের বা সম্প্রদায়ের বিষয়ে কোনও শাসনপত্র বা এতিহাসিক দলিল থাকিলে তাহার উল্লেখ করা এবং উহা কোথায় কি অবস্থায আছে সেই বিবরণ জানা আবশ্যক 'বংশবৃক্ষ' থাকিলে ইহার নকল কিম্বা তাহা পাইবার উপায় বলাও দরকার

৪. কোনও প্রাচীন অথবা আধুনিক কনি ব' গ্রন্থকার সম্বন্ধে লিখিবার সময়ে তত্প্রণীত গ্রন্থের বিবরণ, উহা কোন ভাষায় লিখিত, গ্রন্থের বিষয়, গ্রন্থ ছাপা হইয়াছে কিনা, হস্তলিখিত হইলে কোথায় কিনূপে প্রাপ্তব্য ইত্যাদি লিখিতে চেষ্টা করিবেন বলা বাহুল্য, প্রাচীন-নতুন বাঙ্গলা সংস্কৃত আরব্য পারস্য পদ্য-গদ্য যে কোন গ্রন্থই হউক এই জিলার অধিবাসী কাহ।রও লিখিত হইলে তাহার বিবরণ সগৃহীত হওয়া একান্ত আবশ্যক কোনও গ্রন্থের লোপ হইয়া থাকিলেও গ্রন্থকার এবং গ্রন্থ বিষয়ে বিববণ জানা থাকিলে তাহার উল্লেখ প্রয়োজন।

৫. কোন শিল্প বা উৎপন্ন দ্রব্য বিষয়ে লিখিবার কালে শিল্প বা দ্রব্য কোন জাহীয় লোকের ব্যবসায়ের অধীন, কিরূপে উহার ব্যবহার চলে ইত্যাদির বিবরণ লেখা আবশ্যক শিল্প বা দ্রব্য লুপ্ত বা অপ্রচলিত হইলেও তদ্বিষয়ের বিবরণ লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত।

৬. প্রাচীন কালেব প্রসিদ্ধ ব্যক্তির বিবরণ লিখিতে অনেক সময় প্রবাদ বাক্যের উপব নির্ভর করিতে হইবে কিন্তু যদি যথাসাধ্য সুপরীক্ষিত সত্য ঘটনাই লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত, তথাপি যেন কোনও অলৌকিক বা আপাত দৃষ্টিতে অমূলক ঘটনাবলী উপেক্ষিত না হয়। তবে বিবরণ সংগ্রাহক অবশ্যই এই সকল সম্বন্ধে স্বীয় মতামত দিতে পারেন

৭, কোনও ধর্মসম্প্রদায়ের প্রবর্তক বিষয়ে লিখিতে হইলে সম্প্রদায় সম্বন্ধেও বিশেষ বিবরণ থাকা দরকার

[এগার]

৮. একই স্থানের বিবরণ সংগ্রহ নিমিত্ত একাধিক ব্যক্তিকে লিখা হইয়া থাকিলেও প্রত্যেকেই স্বীয় সামার্থ্যানুরূপ সংগ্রহ করিবেন, এবং কোনও বিষয়ে অন্য ব্যক্তি লিখিয়া গাকিলেও কেহ যেন সেই বিষয়ে উপেক্ষা না করেন। বলা বাহুল্য এই সম্বন্ধে আপনি অবশ্যই দেশহিতৈষণাপ্রণোদিত হইয়া কার্য্য করিবেন। যেকোনও উপায়ে দেশের গৌরবাম্পদ বিষয় সমূহ সাধারণের নিকট প্রচারিত হয় তৎপক্ষে মনোযোগী হইবেন। আপনি যদি এমন কোনও ব্যক্তির নাম জানেন যাহার নিকট এই সকল বিষয়ে বহুল তত্ব জানিতে পারা যাইবে, তবে দয়া করিয়া অনতিবিলম্বে তাহার নাম ধাম (পোঃ সহ) জানাইয়া অনুগৃহীত করিবেন। এতদ্বিষয়ে মহাশয়ের নিকট অধিক লিখা নিম্প্রয়োজন মনে করি জিজ্ঞাসিত বিবরণ সহ উত্তর যত সত্তর হইতে পারে দিয়া বাধিত করিবেন এই প্রার্থনায় ইতি।

সন ১৩০৯ সাল তারিখ ১৫ই আশ্বিন।

অনুগ্রহাকাজিক্ষিণ

শ্রীপদ্ননাথ দেবশর্ম্ণ

(ঠিকানা শ্রীহট্)।

এই চিঠিখানা পাইয়া শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্ত্বনিধি মহাশয় আমাকে লিখিয়া জানান

যে তিনি ইহার কিছুদিন পূর্ব 'শ্রীহট্টদীপিকা' নামক একখানি শ্রীহট্রের ইতিহাস বিষয়ক পুস্তক

লিখিয়া প্রেসে পাঠাইযা দিয়াছেন, আমি তৎক্ষণাৎ তাহাকে পুস্তক খানি প্রেস হইতে ফিরাইয়া

আনিতে অনুরোধ করিয়া লিখিয়া পাঠাই যে উপরি উদ্ধৃত চিঠির উত্তরে যে সকল বিবরণী আমার

হস্তগত হইবে, তত্তাবং তাহারই হস্তে সমর্পিত হইবে, এবং তিনিই মৎসংকল্লিত ইতিবৃত্ত

লিখিবার জন্য বৃত হইবেন। ১৩০৯ সালে চিঠি খানি সর্বত্র বিলি হয়। কিন্তু বৎসর কালের

মধ্যেও আশানুরূপ বিববণী হস্তগত হইল না দেখিয়া পুনশ্চ ১৩১০ সালের শ্রাবণ মাসে শ্রীহট্রস্থ

ইক্লি ক্রনিকল সংবাদপত্রে এবং কাছাড়ের শিলচর পত্রে বিজ্ঞাপন দিয়া সাধারণ হইতে এঁতিহাসিক মালমসলা প্রার্থনা করা হয়।

তখন আমি শ্রীহত্টরের স্কুল ডেপুটী ইন্সপেক্টর ছিলাম এই নিমিত্ত যাবতীয় মধ্যশ্রেণীর বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহাশয়গণ এবং সংস্কৃত চতুষ্পাগী সমূহের অধ্যাপক মহোদয়বৃন্দ আমাকে তাহাদের আপনার লোক ভাবিয়াই প্রভৃত পরিমাণে নানাস্থানের বিবরণী প্রদান পূর্বক চিরানুগৃহীত করিয়াছেন। এতদ্যতীত ইটা পাঁচগাও নিবাসী উকিল শ্রীযুক্ত হরকিস্কর দাস, তরফ সুঘর নিবাসী স্বর্গীয় ঈষানচন্দ্র মজুমদার, তুঙ্গেশ্চর নিবাসী শ্রীযুক্ত শ্রীশচন্দ্র মজুমদাত্র, পৈল নিবাসী জমিদার মৌলভী শাহ সৈয়দ এমদাদ উল হক এবং জয়ন্তীপুর নিবাসী শ্রীযুক্ত রাধাচরণ পাল, এই সকল মহাশয় ব্যক্তি এই কাজটি যেন নিজের ভাবিয়া বিশেষ শ্রম স্বীকার পূর্বক তাহাদের পরগণার বিবরণী দিয়া যথেষ্ট সহায়তা করিয়াছেন শ্রীহস্ট শহরের উপকণ্ঠ নিবাসী শ্রীযুক্ত সারদাচরণ ধর মোনশী মহোদয় শহরের জিলার অনেক প্রাচীন কাহিনী প্রদান করিয়া অশেষ অনুকূল্য প্রদর্শন করিয়াছেন বিশেষভাবে ইহাদের নাম উল্লেখিত হইলেও, অপর যে সমস্ত ভদ্রলোক কৃপা করিয়া বিবরণ সংগ্রহ কল্পে আমাদের সহায়তা বিধান করিয়াছেন, মাত্র বাহুল্য ভয়ে তাহাদেব নাম স্থলে উল্লেখ করা হইল না, তাহারা সকলেই আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন |

১৩১৩ সাল পর্যন্ত যে সকল উপকরণ হস্তগত হইয়াছিল, তাহাও প্রচুর বিবেচনা না করাতে, সংগৃহীত বিবরণাবলীর একখানি সূচিপত্র পুস্তিকাকারে মুদ্রিত করিয়া ১৩১৪ সালের প্রারন্জে বিতরণ করা হইয়াছিল। উদ্দেশ্য এই ছিল, যে যদি কেহ ইহাতে কোনও স্থান বা ব্যক্তি

[বার]

সম্বন্ধে উল্লেখ না দেখেন, তবে তৎ্সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য বিষয় আমাদিগকে লিখিয়া পাঠাইবেন। ইহাতেও অনেক ফল হইয়াছিল অনেকে গতবর্ষত্রয়ে এমনকি এই বৎসরেও বহু বিবরণী পাঠাইয়া আমাদিগকে বাধিত করিয়াছেন

শ্রীহট্টের কালেক্টরির মোহাফেজ খানায় যে সমস্ত কাগজ পত্র হইতে বহু এঁতিহাসিক উপকরণ সংগৃহীত হইতে পারে তাহা পর্যবেক্ষণার্থ ১৩১০ সালে ডেপুটী কমিশনার সাহেব বাহাদুর নিকট আবেদন করা হয়। ১৩১১ সালে মহামান্য শ্রীযুক্ত চিফ কমিশনার সাহেবের সেক্রেটারী বাহাদুর এতদ্বিষয়ে অনুমতি প্রদান করেন।

শ্রীযুক্ত অচ্যত বাবু স্বয়ং এই কাগজপত্র তদন্ত করিবার ভার গ্রহণ করিয়া প্রায় বৎসরার্থ কাল প্রভূত পরিশ্রম সহকারে ইতিবৃত্তের বহু মাল-মসলা সংগ্রহ করিয়াছেন। পারস্যে লিখিত অনেকগুলো সনদের সার সংক্ষেপেও সংগৃহীত হইয়াছে। ইহা বংশ বৃত্তান্ত ভাগ সংকলনে বিশেষ সহায়তা করিবে

শ্ীহট্টরের ইতিবৃত্ত চারিভাগে বিভক্ত হইয়াছে। ১ম ভৌগোলিক বৃত্তান্ত, ২য় এঁতিহাসিক বৃত্তান্ত, ৩য় বংশ বৃত্তান্ত, ৪র্থ জীবন বৃত্তান্ত সম্প্রতি এই 'পূবর্বাংশে' ভৌগোলিক এঁতিহাসিক বৃত্তান্ত প্রকাশিত হইল, “উত্তরাংশে' অপর দুই ভাগ প্রকাশিত করিবার সংকল্প আছে, তাহা ভগবদিচ্ছার উপর এবং অনেকটা এই পৃবর্বাংশ সাধারণ্যে কিরূপ গৃহীত হয় তাহার উপর নির্ভর করে।,

শ্রীহপ্টরের ইতিবৃত্ত 'সচিত্র' প্রকাশ করিবার নিমিত্ত অনেক স্থানে ফটো চাহিয়াও পাওয়া গেল না। যতটুকু সংগ্রহ করিতে পারা গেল, তা দেওয়া গেল।

পৃবের্বই বলিয়াছি ইতিবৃত্তের লেখক শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্বনিধি মহাশয়ের গুণ কীর্তন এই ভূমিকার উদ্দেশ্য নহে। তথাপি এইমাত্র বলা উচিত মনে করিতেছি যে শ্রীহস্ের ইতিবৃত্তঁ এই আকারে প্রকাশিত হওয়া নিতান্তই বিধিনির্দিষ্ট ছিল। তাই অচ্যুত বাবুকে গ্রন্থপ্রণেতারূপে পাওয়া গিয়াছে এই কার্য্য যদি আমার করিতে হইত তবে অদ্যাপি উহা আদৌ রচিত হইত কিনা তাহাই সন্দেহের বিষয় ছিল-_ রচিত হইলেও ইহা এতবড় এবং ঈদৃশ সুপাঠ্য না হইবারই কথা ছিল অগ্যুত বাবুর ধৈর্য্য অধ্যবসায় পুরাতন্ত্াভিজ্ঞতা লিপিকুশলতা আমার নাই যত্রতত্র পাওয়া দুর্ঘট তথাপি এমন বলিতেছিনা যে এই ইতিবৃত্ত সব্ববাঙ্গ সুন্দর হইয়াছে। এই প্রদেশে এতদৃশ জাতীয় ইতিবৃত্ত প্রণয়নের বোধ হয় এই প্রথম উদ্যম। প্রথম বলিয়াই ইহাতে নানা ত্রুটি থাকিবার সম্ভাবনা সহদয় পাঠকবৃন্দ দৌষভাগ বর্জন পুরর্বক গুণটুকু গ্রহণ করিয়া প্রণেতার উৎসাহ বর্ধন করেন, এই প্রার্থনা

বঙ্গাব্দা ৪১৩১৭ শ্রী পন্নাথ দেবশর্্া

অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্বনিধির পরিচিতি ১২৭২ সনের (১৮৬৫ খিষ্টাব্দে)ট ২৩শে মাঘ করিমগঞর্জের অন্তর্গত জফরগড় পরগণার মৈনা গ্রামে অগ্যুতচরণ দেব চৌধুরীর জন্ম হয়। তার মহাপ্রয়াণ ঘটে ১৩৬০ সনের ১০ই আশ্বিন তর্তনিধির শৈশব বাল্যকাল কেটেছে মৈনার গ্রামীণ জীবন পরিবেশে বাশ বেত বনে ঘেরা, আর পারিবারিক সরল অনাড়ত্বর জীবন প্রতিবেশের মধ্যেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।

শৈশবে তার হাতেখড়ি হয় বাড়ির পাঠশালায় গ্রামের বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে অচ্যতচরণ শ্রীহট্র সরকারী উচ্চ ইংরাজী স্কুলে শিক্ষা লাভের জন্য ভর্তি হন। "শ্রীহট্রের ইতিবৃত্' গ্রন্থের ভূমিকায় তত্বনিধি তার বাল্যকালের কথা ম্মরণ করিতে গিয়া শ্রীহস্ট সরকারী উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে পাঠকালের কথা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া বিনোদবিহারী চক্রবর্তী উপেন্দ্রচন্দ্র গুহের সম্পাদনায় শ্রীহট্ট থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা 'বিবর্তন'-এর মাঘ সংখ্যা; তর্তবনিধি “মনি" শীর্ষক একটি সত্যমূলক ঘটনার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা প্রসঙ্গে এই স্কুলের কথা উল্লেখ করেছেন এই নিবন্ধ তিনি যখন লেখেন তখন তার বয়স পচাত্তর বছর; স্মৃতিশক্তি তখন অটুট। দেহ কর্মশক্তিহীন তবুও তিনি লিখে চলেছেন। কী অসাধারণ দৃঢ়তা অধ্যবসায় তখনও তার ছিল ভাবলে বিস্ময় লাগে। স্কুলের অভিজ্ঞতা বর্ণনা থেকে সে কালের সরকারি স্কুলের পারিপার্থিকতার একটি ছবি এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, যার অনেক কিছুই হয়ত আজ আর নেই।

'শ্রীহন্ট শহরের উত্তরাংশে “ঈদগার মাঠ" নামে স্থান। মহরমাদি মুসলমান পর্বকালে স্থানে বহু “তাবুজ' একত্রিত হয়। বালকবেলা যবে শ্রীহষ্টে গভর্ণমেন্ট স্কুলে ইংরেজী অধ্যয়ন করিতাম, তখন বেড়াইবার উপলক্ষে অন্যান্য ছাত্রের ন্যায় আমিও কখন কখন যাইতাম। ঈদগার ময়দানে উত্তর দিকে দক্ষিণ দিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টিলা, পশ্চিম দিকে ছোট পুকুরের মত গর্ত আছে। পূর্বদিকে একটা টিলা রহিয়াছে মধ্যে সামান্য ফাকা স্থান দেড়টা বাজিলে স্কুল ছুটি হয়, তখন অনেক ছাত্রের মত কখন কখন আমিও গিয়া চক' (ফুল খড়ি) দিয়া কোঠার গায় নামাদি যা মনে আসিত-_ লিখিতাম ।'

(বিবর্তন মাঘ, ১ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা) বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনকালে অচ্যুতচরণ, প্যারীচরণ দাসের নয়াসড়ক বাসায় বসবাস করতেন। এই প্যারীচরণ উনিশ শতকের শ্রীভূমির এক উল্লেখযোগ্য মনীষী প্যারীচরণের ঘনিষ্ঠ সান্ধ্য সাহচর্ষেই অচ্যুতচরণ চৌধুরীর কিশোর মন সাহিত্য রচনার প্রেরণা লাভ করে। পরবর্তীকালে শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত" গ্রন্থ রচনাকালে এবং অন্যানা সাহিত্য কর্ম বিষয়ক আলোচনা প্রসঙ্গে তার ছোটবেলার এই অভিজ্ঞতার কথা তিনি নির্ধিধায় বারবার উল্লেখ করেছেন। স্কুল জীবনে তত্ুনিধি তার সহপাঠী হিসেবে যাদের পেয়েছিলেন তাদের অনেকেই সাহিত্য অপরাপর ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে বিশেষ ব্যুৎপত্তি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে রজনীকান্ত রায় দস্তিদার, সারদাচরণ ধর, ভারতচন্দ্র দাস, প্রহাদচরণ সেন প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিতৃ।

সাহিত্য, দর্শন, বিশেষত বৈষ্ণব-দর্শন, ইতিহাস, ভূগোল, ভাষা সংস্কৃতি সম্বন্ধে অচ্যুত চৌধুরীর অগাধ পাগ্তিত্য ছিল। তার সৃষ্টিকর্মের মধ্যে এই অসাধারণ পরিচয়টিকে সহজেই উপলব্ধি করা যায়। অর্জিত শিক্ষা অধ্যবসায় শুধু তার সাহিত্যকর্মকেই সমৃদ্ধি দান করেনি, যথার্থ শিক্ষাকে জীবনের অনুষঙ্গ রূপে গ্রহণ করে তার সার্থক ঘনিষ্ঠ আচরণটিও তার মধ্যে

[চৌদ্দ]

সার্থক হয়ে ফুটে উঠেছে। তার সংসার জীবন কিংবা পারিবারিক জীবন সন্বন্ধে বিস্তৃত কোন তথ্য অবগত হওয়া যায় না। বিচ্ছিন্নভাবে লেখা কিছু চিঠিপত্র, আত্ম্ীয়-পরিজনদের নিকট থেকে সংগৃহীত অসংলগ্ন কিছু কথা কিংবা তার নিজের হাতে লেখা জীবন কথা' বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা বিবিধ মন্তব্য প্রসঙ্গ থেকে তার যে পরিচয়টি পাওয়া যায় তা কোন পূর্ণ অবয়ব সৃষ্টি করতে সমর্থ হয় না। তার প্রকৃত পরিচয়টি খুঁজে পাওয়া সম্ভব তারই সৃজনশীল প্রতিভা বৈচিত্র্য আর ব্যক্তি জীবন পরিচয়ের যোগফলের মধ্যে, যার মধ্যে দিয়ে তত্বনিধির জীবন সাহিত্যের এক পূর্ণায়ত রূপকে অনুভব করা যায়।

শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি মৈনাতেই ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে এসে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সাহিত্যসেবা ধর্মসাধনায় নিয়োজিত করার সংকল্প গ্রহণ করেন; কিন্তু অভিভাবকদের চাপে পড়ে তাকে বিয়ে করে সংসারী হতে হয়। পারিবারিক সম্পর্কে ভ্রাতুষ্পুত্র সাতাশী বছরের বৃদ্ধ শ্রীযুক্ত অন্নদাচরণ চৌধুরীর মাধ্যমে তার বিবাহিত জীবনের একটি পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যায়। সংসার ধর্মপালনের জন্য তাকে তিনবারই বিয়ে করতে হয়। প্রথম বিয়ে হয় লাতু গ্রামের গোবিন্দচরণ রায়ের মেয়ের সঙ্গে প্রথমা স্ত্রী চিনয়ী নামে এক মেয়ে হেমাঙ্গ নামে এক ছেলেকে রেখে মারা যান। তারপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন শ্রীহট্ট জিলার ফেুগঞ্জ শহরের ইন্দানগরে এই স্ত্রীও দীর্ঘ রোগ ভোগের পর মারা যান। তারপর জলডুবের জনৈক ভবানীচরণ দাসের মেয়েকে বিয়ে করে পুনরায় সংসারী হন। এই তৃতীয় স্ত্রীর দিকে বীণাপাণি এখনও বর্তমান দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে সুষমার সঙ্গে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রীযুক্ত কুমুদবন্ধু রায়ের বিয়ে হয়৷ ছেলে কুসুমাঙ্গকে শিশু অবস্থায় রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী মারা যান। মেয়ে চিন্মুয়ী সম্বন্ধে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি হেমাঙ্গ কুসামাঙ্গ এই দুটি ছেলেই অকালে মারা যায়। তাছাড়া কনিষ্ঠ ভ্রাতা অনিরুদ্ধ, অপর কন্যা নীলিমা, এইসব একান্ত আপনজনরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এই মৃত্যুর পর মৃত্যুর বেদনা তত্বনিধির জীবনকে তীব্রভাবে আঘাত করে রক্তাক্ত করে তুললেও তীর স্থিরপ্রজ্ঞ চেতনাকে পর্যুদস্ত করতে সক্ষম হয়নি।

অচ্যুত চৌধুরীর পারিবারিক জীবন যে সুখকর ছিল না তার বিবাহিত জীবনের এইসব দুর্ঘটনা থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু সুখ শব্দের গুঢ় অর্থকে বোধ হয় তিনি এই বয়সেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। জীবন যুদ্ধে কখনো তিনি হার মানেননি বরঞ্চ মৃত্যুর এই বেদনা থেকে তিনি জীবনকে আরো গভীরভাবে ভালোবাসতে শিখেছিলেন। এর মধ্যে থেকে যে তত্বনিধিকে আমরা প্রত্যক্ষ করি, যে মনন ধী-শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে আমরা অনুভব করি তা সন্দেহাতীতভাবে পৃথিবীর যে কোন মনীষীর ব্যক্তি জীবনের সঙ্গে তুলনীয়

সংসার জীবনে স্ত্রীদের বিয়োগ ব্যথা তন্তুনিধির ব্যক্তিগত জীবনকে যতখানি নিদারুণ করে তুলেছিল তার চেয়ে বেশী আঘাত তিনি পেয়েছিলেন সন্তানদের ভাইয়ের মৃত্যুতে তার যৌবনের সমস্ত স্বপ্রসাধই শুধু নিঃশেষে হারিয়ে যায়নি__ স্নেহ-মমতার আধারগুলো, যাদের মুখ চেয়ে এক দুর্ভাগা পিতার জীবন অন্তত বিশ্বাস করে ভালোবাসতে পারে, জীবনের সমস্ত নিষ্ঠুরতাকে ভুলে গিয়ে একটু সান্ত্বনার আশ্বাস পেতে পারে, সেই মৃৎপাত্রের তৈলাধারটিও পর্যন্ত জ্বলে পুড়ে খাক্‌ হয়ে গেছে। এই ক্ষতি শুধু তার ব্যক্তিগতই নয়, বিশেষত হেমাঙ্গের মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের পক্ষেও এক বিরাট ক্ষতি হয়ে দাঁড়ালো তার মৃত্যু হয়েছিল কৈশোর- যৌবনের বয়ঃসন্ধিকালে এই বয়সেই সে এক প্রতিশ্রতিবান কবিরূপে প্রতিষ্ঠালাভ করেছিল

পুত্র কুসুমাঙ্গের জীবনস্থৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তত্তবনিধির সৃষ্টিপর্বের এক ইতিহাস। এক ইতিহাস, প্রকাশের আনন্দ আর মৃত্যুর বিড়ন্বনায় বড়ই বেদনাবহ। কুসুমাঙ্গের জন্ম হয় ১৯০৯

[পনর]

সালের ৮ই ফেবুয়ারি। ছেলেটির বয়স যখন মাত্র সাড়ে সাত মাস, সে সময় লেখক শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত গ্রন্থ প্রকাশনাদিব ব্যাপারে কোলকাতায় ঠিক সে সময় কুসুমাঙ্গের মা কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হন এবং মাত্র পচিশ বছর বয়সে তিনি মারা যান। জীবনের পরম প্রাপ্তির মুহুর্তে এমন নিদারুণ আঘাত তার জীবনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়ে গেল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, তার প্রাণের ফুল কুসুমও অযত্ব আর অবহেলায় ক্রমে শুকিয়ে ঝরে পড়তে লাগলো সেই অভিশপ্ত দিনগুলোর কথা স্মরণ কবে তিনি লিখেছিলেন__ “সোনার বান্ধ বুকে লইলাম তপ্ত হৃদয় শীতল হইল। জলন্ত আগুন নির্বাপিত হইল আমি যথার্থই তাহার মাতৃ পদারূঢ়া হইলাম ।'

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দেড় বছরের শিশু কুসুমাঙ্গ ১৩১৭ সনের ২৭শে কার্তিক মারা গেল। এই মৃত্যুর আঘাত তাকে দারুণভাবে বিপর্যন্ত করে তুলেছিল। এক তীব্র অপরাধবোধ তাঁকে বৃশ্চিকের মতো দংশন করেছিল। তার বারবারই মনে হয়েছে এই মৃত্যুর জন্য বুঝি নিজেই দায়ী ছিলেন ' 'শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থ নিয়ে তিনি যদি ব্যস্ত না থাকতেন তাহলে হয়তো সংসারের প্রতি, ছেলের প্রতি তিনি যথা কর্তব্য সম্পাদন করতে সক্ষম হতেন এই গ্রানি থেকে মুক্তি পাবার জন্যে তিনি গ্রন্থথানি উপসর্গপত্রে কুসুমাঙ্গের উদ্দেশ্য লেখা কটি কথা সংযোজন করতে চেয়েছিলেন.__

“উপসর্গ'

ইতিবৃত্ত!

সম্ফুট বিশেষ?

শ্রীহপ্টরের ইতিবৃত্ত প্রকাশে প্রবৃত্ত হইয়া যে ম্মৃতিপীড়ক নিদারুণ স্থৃতি সম্বল করিয়াছি সমগ্র

সাগর বারি সিঞ্জনে তাহা মুছিবে না। দেড় বৎসরের মাতৃহীন পুত্র যাহাকে দিবানিশি বুকে রাখিতাম যাহার টাদ মুখের তুলনায় পূর্ণচনত্েরপ্রদীপ্ত প্রভা মলিন হইয়া যাইত হায়!

ইতিবৃত্ত গ্রন্থে এই উপসর্গ পত্র সংযোজন শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। উত্তরাংশে ভূমিকা পত্রে তিনি এই সময়কার তাব মানসিক অবস্থা বিবৃত করেছেন। সেই সময় তিনি তার সংগৃহীত গ্রন্থগুলো নিয়ে বাড়িতেই একটি লাইব্রেরী স্থাপন করেছিলেন এই লাইবেরীর নাম ছিল প্রথমে 'শ্রীহরি লাইবেরী।" পুত্র কুসুমাঙ্গের নাম স্মৃতি অক্ষয় করে রাখার জন্যই তিনি তার নাম পরিবর্তন করে রাখলেন “কুসুম লাইব্রেরী ।'

তত্তবনিধির নিষ্ঠা অধ্যবসায়ের ফলে এই কুসুম লাইব্রেরী পরবর্তীকালে এক বিশাল গ্রন্থাগারে পরিণত হয়। তার রক্ষণাবেক্ষণ নানা কারণে অসুবিধাজনক হয়ে উঠায় পরবর্তীকালে তিনি শ্রীহট্ট সাহিত্য পবিষদকে সমগ্র লাইবেরীটিই দান করেন। তখন “কুসুম লাইব্রেরী'র সংগ্রহে প্রায় দুই হাজার বই ছিল। এই দান করার মধ্যে একটি সাধারণ শর্ত ছিল এই যে “আমার কন্যা, জামাতা ভ্রাতুষ্পুত্র কেহ বাড়িতে আনিয়া বই পড়িয়া ফেরত দিতে পারিবে ।” এই দান সাহিত্য পরিষদের পক্ষে গ্রহণ করে শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক প্রয়াত যতীন্দ্রমোহন ভন্টাচার্য মহাশয়

শ্রীহট্ট্ের ইতিবৃত্ত উত্তরাংশ যখন প্রকাশ পেল, তার জীবন থেকে হারিয়ে গেল আরেক নয়নমণি-_- তীর মেয়ে__ হৃদয় পটের নির্মল আলেখ্য নীলিমা ।' এভাবে বার বার মৃত্যু এসে তার চলার পথ রুদ্ধ করে দীড়িয়েছে, এই ভয়াবহতা আকনম্মিক আঘাত তাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে কিন্তু সাধনায় নিরস্ত করতে পারেনি তীব্র সংকটের মুখে তার ধ্যান-ধারণা তাকে সংকট থেকে মুক্তি দান করেছে। সমস্ত সংশয়ের উত্তর তিনি বিশ্ববিধানেরই মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। জগৎ সংসারের নিয়ম-নীতি সম্বন্ধে তিনি অনবহিত ছিলেন না। ব্রিকালদর্শীর মতো

[ষোল]

তার স্থিতধী বোধ বিশ্ব নিয়মের সারাৎসারকে উপলব্ধি করতে পেরে গভীর দুঃখের মধ্যেও সান্ত্বনার আশ্বীসকে খুঁজে পেয়েছিল

অচ্যুত চৌধুরীর কর্মজীবন মৈনার গ্রামীণ জীবন পরিবেশেরই মতো সরল অথচ বৈচিত্র্যময় ছিল। জীবিকার প্রয়োজনে গ্রাম ছেড়ে বাইরে যাবার কোনো প্রলোভন তার ছিল না। যদিও চৌধুরী বাড়ির, বিশেষত অদ্বৈত চৌধুবী তার বংশধরগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রাচুর্য তখন তলানিতে এসে ঠেকেছে তবু অর্থের চাইতে পরমার্থ চিন্তাই ছিল তাদের মৌল আদর্শ। এই পরমার্থ শুধু ঈশ্বরের সাধনায়ই নিমগ্ন আত্মকেন্দ্রিক ছিল না, সাধারণের কল্যাণ মঙ্গল সাধনই ছিল তাদের জীবনব্রত। অন্য শরিকের ঘরে অবশ; তখন লক্ষ্মী ছিলেন অচলা। মহাকালের জমিদার আর মৈনার চৌধুরী বাড়ির যৌথ কাঠের কারবার; বনাঞ্চল থেকে খেদা করে হাতী ধরা এক বিরাট লাভজনক ব্যবসা ছিল। তর্ত্বনিধি এই লাভকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এতিহাসিক প্রত্বতাত্ত্িক গবেষণায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে দিনাতিপাত করে চলেছেন। ফলে স্বভাবই প্রাচুর্যের মুখ তিনি দেখেননি; এর জন্য অবশ্য কোনদিনই তার কোনো আক্ষেপ ছিল না। তার জীবনের মৌল লক্ষ্য আদর্শ ছিল সাহিত্য-সাধনা গবেষণা এই আরাধনায় তার ইষ্ট সিদ্ধি লাভ ঘটেছিল এই সিদ্ধিলাভের উপযুক্ত জীবন পরিবেশ তিনি তার গ্রাম বাড়িতেই খুঁজে পেয়েছিলেন। সাহিত্য চর্চার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম জীবনের শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্ম সংস্কৃতি চেতনার উন্নতি প্রসারণের জন্যও তিনি আজীবন নিরলস প্রয়াস করে গেছেন। আজন্ লালিত বৈষ্ঞবীয় পরিবেশে, সাধুসঙ্গ প্রসঙ্গে এবং সাহিত্য সাহিত্যিক সাহচর্ষে তার জীবন অতিবাহিত হয়েছে। এই শিক্ষা সহবাস তাকে যথার্থ এক মনীষী বূপে গড়ে তুলেছিল। তার নির্মল চরিত্রের সান্নিধ্যে যারাই এসেছেন তারাই মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে বিশেষতঃ জমিদারির প্রজাসাধারণের প্রতি তার ব্যবহার এতই আন্তরিক ছিল যে জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই নীচ স্বার্থকেন্দ্রিক কোনো সংঘর্ষে তাকে লিপ্ত হতে হয়নি আদর্শের সঙ্গে আত্মার এমন নিবিড় একাত্মতা, মানব চরিত্রের এমন দুর্লভ গৌরবে অধিকারীই তিনি ছিলেন। সতজন হিসেবে তার জনপ্রিয়তা তাকে সাধারণ্যে বৈষ্ণব বাবাজী' নামেই পরিচিতি দান করেছিল ব্যক্তিগত আদর্শ, মহত্ব সৃজনশীল সাহিত্যত্রষ্টা রূপে তিনি দুর্লভ অমরত্ব লাভ করেছেন।

শিক্ষার পাঠ শেষ করে পাকাপাকিভাবে গ্রামে বসবাস করার আগে কিছুদিন তিনি শিক্ষকতার কাজও করেছেন। তার কৃতী ছাত্রদের মধ্যে উত্তর শ্রীহট্টের অধিবাসী মহেন্দ্রনাথ দে পুরকায়স্থ এবং সুনামগঞ্জের রমেশচন্দ্র চৌধুরী এই দুজন বিশেষ উল্লেখযোগ্য সহাধ্যায়ীদের মধ্যে যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রজনীকান্ত রায় দস্তিদার, “পরিদর্শক' সম্পাদক ভারতচন্দ্র দাস, সারদাচরণ ধর প্রমুখ উল্লেখযোগ্য মৈনা গ্রামে বাসকালে তিনি সেই গ্রামের পাঠশালায়ও দীর্ঘদিন শিক্ষাদানকার্ষে ব্রতী ছিলেন

তন্্নিধি-লিখিত আত্মকথামূলক বিবিধ বক্তব্য থেকে জানা যায় যে তিনি সরকারের রাজস্ব আদায়ের জন্য পাথারকান্দিতে যে তহশীল অফিস রয়েছে সেখানে বেশ কিছুদিন কাজ করেছিলেন। সে সময় সংসারের বোঝা দারিদ্র তাকে আষ্টেপৃষ্টে বেধে রেখেছিল

মৈনা গ্রামের পোষ্ট অফিস ছিল কানাইবাজার। এই অফিসটি প্রথমে চৌধুরীদের কাছারী বাড়িতেই ছিল। তখন ছিল এটি পাথারকান্দি অফিসের অধীনন্থ একটি শাখা ডাকঘর এই অফিস পরিচালনা নিয়ে একবার ঝামেলা হয়। বিভাগীয় তদন্তের পর অফিসটি উঠিয়ে নেবার অবস্থা দেখা দিলে তত্বনিধি নিজে তার পরিচালনার দায়িতৃটি কাধে তুলে নেন। শুধুমাত্র জনসেবার স্বার্থেই যে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সে কথা ডাকঘরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচল অবস্থার ঘটনা-সূত্র থেকেই জানা যায়। কানাই বাজারের সেই পোষ্ট মাস্টারের চেহারাটা

[সতের]

একবার ভেবে দেখা যাক, গ্রামেব পথের পাশে জমিদারের কাছারী বাড়ির এক প্রান্তে আম-জাম কীঠাল আর বাশ বনেব ছাযায এক ঘরের দাওয়ায় লাল চিঠির বাক্স ঝুলছে, ঘরের ভিতরে কাঠেন হাতল দেয়া চেয়ারে উপবিষ্ট পোষ্ট মাষ্টার, খালি গা, পরণে হাটুর উপর তোলা ধুতি, চোখে গোল তারের চশমা এটে একমনে ডাক বিভাগের সরকারি কাগজপত্র, 791] 1151, কিংবা আসাম সরকাবেব বাজস্ব বিভাগের ঢ০7)-এর পৃষ্ঠায় বাজার খরচের হিসেবের সঙ্গে তন্ত্র-মন্ত্র, গুরু নামাবলী, ঠিকুজী বিচার এমনকি প্রবন্ধ কবিতার খসড়া লিখে চলেছেন। মনে পড়ে যায বামপ্রসাদ সেনের কথা

মৈনার চৌধুরী পবিবারটি ছিল বৈষ্ণব ধর্মাশ্রয়ী এক আদর্শ তক্ত পরিবার তাদেরই পূর্বপুরুষ হুলাস রাম আকুল রামের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে বৈষ্ণব ধর্মের যে বীজটি উপ্ত হযেছিল তার ধাবা একাল পর্যন্ত এই বংশের মধ্যে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে রক্ষিত আছে। পতামহ গৌরন্দ্র পিতা অদ্বৈতচরণ শুধু ব্যক্তি পরিচয়েই বৈষ্ণব নামধারী মাত্র নন, হথাযথভ বে শীগৌবাঙ্গ অদ্বৈত আচার্ষের আদর্শে অনুপ্রাণিত সাধক ছিলেন। তন্্রনিধির জীবন ঢবিত্রেব মধে নিষ্ঠাবান বৈষ্ণবজনোচিত আদর্শ মহিমার যে প্রকাশকে অনুভব করা যায় তা তিন্ পারিবাবিক এঁতিহ্য সূত্রেই লাভ করেছিলেন।

বৈষ্ণব মবাপুক্ষদের সঙ্গ প্রসঙ্গ তার জীবন সৃষ্টিশীল প্রতিভাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে পভ বত ক'ছে। শ্রীপত্রিকা, শ্রীশ্রীবিষ্ণপ্রিয়া পত্রিকা, শ্রীশ্রীবিষ্ণ-গৌরাঙ্গ প্রভৃতি বিবিধ পত্র- পত্িবা প"ম নবদ্বীপ বৃন্দাবন ধামকে কেন্দ্র করে চৈতন্যধর্মাশ্রয়ী যে আন্দোলন উনবিংশ শতক দিতীযার্ধ বিংশ শতকেব পধ্শের দশক পর্যন্ত প্রায় একশত বছর ধরে প্রবাহমান ছিল সেই আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট সেবক প্রাণপুরুষবপেও তিনি পরিগণিত ছিলেন, অহ ভানমৃক্ত. আত্মপ্রচারবিমুখ এই সদাশয় যথার্থ ভক্ত বৈষ্ণব একান্তভাবেই নিজেকে গোপন বেখে হঠিষ্ঠ লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠাবান সক্রিয় ছিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গ সমাজ শাখা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদানই শুধু উল্লেখ্য নয়, ভার মতামত দৃষ্টিভঙ্গি পর্যন্ত বাংলাদেশের এই শাখা সখ. কে যথেষ্ট গুরুত্ব শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচনা করতে হত এই সমাজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল তৈতন্য আদর্শের যথাযথ রূপকে এবং তার প্রদর্শিত জীবনবেদকে গ্রামীণ মানুষের মর্মে 'পীঙগে দিযে এক আদর্শ সমাজ গঠন ধর্মীয় গৌড়ামী কিংবা উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রচার নয়, রপ 'স্পদায়-নিরপেক্ষ উদারতা নিম্ে তত্তনিধি মৈনা গ্রামেও শ্রীগৌরাঙ্গ শাখা সমাজ প্রতিষ্ঠা 25|হালেলন

জীবন নিষ্ঠার সঙ্গে বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি ভক্তি বৈষ্ণব সাহিত্য সেবার জন্য বৈষ্ণব 'হাম«্”লর পন্তিতবর্গ তাকে 'তন্তনিধি' উপাণ্ধতে ভূষিত করেন। আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন তার বিঃম্বা 1 চারিত্রিক মহত্ত্ব বৈষ্ঞবীয় শাস্ত্রে অসাধারণ বুৎপত্তি দর্শন করে তাকে 'গৌরভূষণ' অভিধায় সম্মানিত করেছেন। তন্ত্বনিধিক সাহিত্য মানসের মর্মমূলে যে আধ্যাত্ম চিন্তা জীবনাদর্শ সতত প্রেরণশীল ছিল তা'ব যথার্থ পরিচয় আমার লেখা তন্ত্বনিধির জীবনী গ্রন্থে যথাসা; তুলে ধরার প্রয়াস করা হয়েছে আল্লাচনা পূর্ণাঙ্গ বিস্তৃত না হলেও এই অতি দীন উপস্থাপনাৰ মধ্যে দিয়ে তাৰ একটা নির্দিষ্ট পরিচিতি লাভ করা সম্ভব। পরবর্তী কালের গবেষকদেব কাছে তত্ত্বনিধি প্রসঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার প্রেক্ষিতে এই প্রচেষ্টা কিছুটা সহায়ক বলে অ"শ বাখি।

('পর্বপাতিন ভয়েবুল্া রোড, দীঘলিপুখুবি পাব, গুযাহাটি, ভারত কর্তৃক প্রকাশিত শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত' পুনঃমুদণ এব প্রথম খত পবিচিতি সংযোজিত হয়েছে। এটি রচনা করেছেন সুবীর কর। - প্রকাশক)

্রীহস্টরেব ২তিবত্ত পূর্বাংশ)-২

সূচিপত্র প্রথম ভাগ : ভৌগোলিক বৃত্তান্ত

প্রথম অধ্যায় জিলার সংক্ষিপ্ত কথা পৃষ্ঠা ২৭-৩২ অবস্থান, সীমা, দেশের প্রকৃতি, শোভা, জনবসতি, বাজাব, বিদ্যালয়, চিকিৎসালয়, পোষ্ট টেলিগ্রাফ অফিস প্রভৃতি, বিভাগ উপবিভাগ, শাসনকর্তা, আয

দ্বিতীয় অধ্যায় প্রাকৃতিক বিবরণ পৃষ্ঠা ৩৩-৩৯ পাহাড়, নদী উপনদী, হাওর, উৎস প্রশ্রবণ, প্রপাত, মরুভূমি

তৃতীয় অধ্যায় কৃষিজাত দ্রব্য পৃষ্ঠা ৪০-৪৯

চাষ, চার চাষ

চতুর্থ অধ্যায় শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য পৃষ্টা ৫০-৬১ সূত্রশিল্প, কাষ্ঠশিল্প, বংশ বেত্রশিল্প, পর্ণ তণশিল্প, ধাতবশিল্প দত্তশিল্প, বিলুণ্-চর্ঘশিল্প, গন্ধ খাদ্যশিল্প, লাক্ষা লাক্ষিক শিল্প, খনিজ বাণিজ্য দ্রব্য, চূর্ণ, তৈল, কয়ল' লবণ ইত্যাদি

পঞ্চম অধ্যায় বাণিজ্য পৃষ্টা ৬২-৬৫ বাণিজ্য স্থান, স্টিমার লাইন, রেইলওয়ে লাইন, কাচা সড়ক, আমদানী, রপ্তানি ষষ্ঠ অধ্যায় ইতর প্রাণী পৃষ্ঠা ৬৬-৭২ হস্তী, খেদা ফাস পরতালা শিকার, অন্যান্য জন্তু, শিকারী পালিত পশু, পক্ষী মৎস্যাদি সপ্তম অধ্যায় অধিবাসী পৃষ্ঠা ৭৩-৮৩

হিন্দুজাতি--(কামার, কায়স্থ, কাহার, কুমার, কুশিয়ারী, কেওযালি, কৈবর্ত, গণক, গপ্তপাল, গন্ধবণিক, গোয়ালা, চামার, চুণার, ঢুলি, তাতি, তেলী, দাস, ধোপা, [শদীযাল]-ডোমপাটনি, নমঃশুদ্র, নাপিত, ব্রাহ্মণ (বর্ণ), ভাট, ভুঁইমালী, ময়রা, মাহারা, ঘুগী, লোহাইত কুরী, বারই, বৈদ্য, শাখারি, শুড়ী, সাহা বা সাহু, সুবর্ণবণিক); পার্বত্য জাতি--(কুকি, খাসিয়া, গারো, চুটিয়া,

[উনিশ]

তিপ্রা মণিপুরী, লালুং) মোসলমান জাতি-_(কুরেশী, জোলা, নাগারছি, পাঠান, মোগল, বেজ, শেখ, সৈয়দ) খৃষ্টান জাতি এবং কুলি

অষ্টম অধ্যায় ধর্ম শিক্ষা পৃষ্ঠা ৮৪-৯১ মোসলমান; হিন্দু, শান্ত, শৈব বিষ্ঞব, কিশোরী ভজন, জগন্মোহনী মণিপুরী রাস, কুকিদের বৃক্ষাদি পূজা; ধর্্মোসব, বিদ্যাশিক্ষা, পূর্ববর্তী বিবরণ স্কুলাদির বিবরণ, ভাষা, সংবাদপত্র

নবম অধ্যায়

তীর্থস্থান পৃষ্ঠা ৯২-১২০ মহাপীঠ, রামজঙ্খাপীঠ, পীঠপ্রকাশ, রূপনাথ গুহা, সাতহাত পানি গঙ্গা; শ্রীবাপাঠ-পরিচয়ের পন্থা, মহাপীঠ ভৈরব প্রকাশ, পূজার মাহাত্ম্য; ঠাকুর বাড়ী গোপেশ্বর শিব; পণাতীর্থ অদ্বৈতৈর আখরা, নির্মাই শিব, উনকোটা তীর্থ, সিদ্ধেশ্বর শিব, পূণ্য সিলা নদী, হাটকেশ্বর তুঙ্গেশ্বর মহাদেব, ব্রহ্ষকুও তণ্ত কুণ্ড, মাধব তীর্থ শিবলিঙ্গ তীর্থ, বাসু দেবের বাড়ী, বিথঙ্গলের যুগলটালার আখড়া; মোসলমান তীর্থ শাহজালালের দরগা প্রভৃতি

দশম অধ্যায়

পরগণা সমূহ ৃষ্ঠা ১২১-১২৬ আকবর রাজত্বে শ্রীহট্রের বিভাগ, পরগণার সংখ্যা, কালেক্টরী-বিভাগ, উত্তর শ্রীহস্ট্রের পরগণার নামাদি, করিমগঞ্জের পরগণার নামাদি, দক্ষিণ শ্রীহট্রের পরগণার নামাদি, হবিগঞ্জের পরগণার নামাদি, সুনামগঞ্জের পরগণার নামাদি

দ্বিতীয় ভাগ : এতিহাসিক বৃত্তাত্ত প্রথম খণ্ড : হিন্দু প্রভাব প্রাচীনতৃ

প্রথম অধ্যায় প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য পৃষ্ঠা ১৩১-১৩৭ বঙ্গদেশ কত প্রাচীন, শ্রীহট্্ের প্রাচীনতৃ. বঙ্গদেশের গঠন, প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য, শ্রীহট্টদেশ কামরূপের অধীন, লাউড় পর্বতে ভগদত্ত রাজার বাড়ী, নারীদেশ

ছিতীয় অধ্যায় ভাটেরার তাত্রশাসন পৃষ্ঠা ১৩৮-১৫৩ প্রথম প্রশস্তির মন্খার্থ, দ্বিতীয় প্রশস্তির মন্মার্থ, প্রশস্তি কথিত তত্ব, দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকা

তৃতীয় অধ্যায় বৈদেশিক উল্লেখ পৃষ্ঠা ১৫৪-১৫৭

'কিরাদিয়া', বাঙ্গালায় আর্ধ্য নিবাস, সাগর তীরে শ্রীহট্ট, সাগরের উন্লেখ-নিদর্শন, শ্রীহট্টে আর্ধ্যরাজ্য |

[বিশ]

চতুর্থ অধ্যায় ত্রিপুরা বংশীয় রাজগণ পৃষ্ঠা ১৫৮-১৬৪ ত্রিপুর বংশীয় রাজগণের প্রাচীন রাজ্য, ত্রেপর রাজগণের প্রাচীন রাজধানী, আদি ধর্মপা ব্রাহ্মণগণ, চৈনিক পরিব্রাজক ভারত সাম্রাজ্য, বৈদিকদের উপনিবেশ

পঞ্চম অধ্যায়

শ্রীহট্ট্রের সাম্প্রদায়িকগণ পৃষ্ঠা ১৬৫-১৭৩ কৈলা সহর কাতলের গল্প, প্রাটান রাজবাটী, পরবর্তী ব্রেপুর নৃপতিবর্গ, নিধিপতি স্বধর্মপার যক্ঞ, চতুর্থ পঞ্চম অধ্যায়ের টীকা

ষষ্ঠ অধ্যায় মোসলমান আক্রমণ পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৮ কীর্তিধর হীরাবস্তু, মোসলমানের প্রথমাক্রমণ দ্বিতীয় আক্রমণ, অপরিচিত বিলুপ্ত রাজ্য, নিষক্ষ

দ্বিতীয় খণ্ড : মোসলমান প্রভাব গৌড়

| প্রথম অধ্যায়

রাজা গোবিন্দ পৃষ্ঠা ১৮১-১৯০ শ্রীহস্্রের তিনটী ভিন্ন রাজ্য, রাজা গৌড় গোবিন্দ, চক্রপানি দত্ত মহীপতিব কথা, শামস্উদ্দীনও প্রতাপমাণিক্য, শাহজালাল নামে বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভিন্ন বুরহান উদ্দীন, সুলতান সিকান্দর শাহ, শ্রীহপ্টের দ্বিতীয় আদিনা মসজিদ, অনুরূপ ঘটনাবলী, সিকান্দরের পরাজয়

দ্বিতীয় অধ্যায় দরবেশ শাহজালাল পৃষ্ঠা ১৯১-২১০ দরবেশ শাহজালাল (জীবনী), শাহজালাল নসির উদ্দীন সিপাহ সালার, শাহজালাল সিকান্দার গাজী, গৌড় গোবিন্দ কর্তৃক খেওয়া বন্ধ করা, প্রতিদ্বন্দ্বী দর্শন পলায়ন, শাসনকর্তা নিয়োগাদি, এসলাম ধর্ম প্রচার মৃত্যু; মসজিদ দরগার দ্রব্যাদি, দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকা

তৃতীয় অধ্যায় নবাবী আমল পৃষ্ঠা ২১১-২১৯ নবাব ইস্পেন্দিয়ার, খঃ ১৩৮৫-১৪৯৫ পর্য্যত্ত গৌড় রাজ্য, সৈম সেন শাহ হুসেন শাহ সুরকির সময়ে শ্রীহট্টট বরশালাগ্রাম সব্র্বানন্দ, শেখ সাহেবের সময়ে শ্রীহট্র, বিদ্রোহ দমন, কানুনগো লোদী খা, আকবর শাহের সময়ে শ্রীহস্, শ্রীহস্ট্রের আমীল সংখ, নরনারায়ণের শ্রীহট্র বিজয়, অমর মাণিক্যের শ্রীহট্র বিজয়, অনির্দিষ্ট কালীয় আমীলদের নাম

চতুর্থ অধ্যায় নবাবী আমল পষ্ঠা ২২০-২৪০ নবাব জামন সৈয়দ ইব্রাহিম খা, আরঙ্গজজেবের সমকালবত্তী আমীলগণ, বাহাদুর শাহের

[একুশ] সমকালবর্তা, হরকৃষ্ণ দাসের বংশ পরিচয়, হরকৃষ্ণের নবাবী প্রাপ্তি, হরকৃষ্ণের হত্যা, হরকৃষ্জের কর্মচারীদের, হরকৃষ্ণের পববর্তী কথা সাদেকুল হরমাণিক, নবাব শমশের খা, জমা কামেল তোমাব্‌, আহমদ শাহের সমকালবত্ত' ফৌজদাব, দ্বিতীয় আলমগীরের সমকালবর্তী, সন্ধিপত্রে শ্রীহট্রের চুণার কথা, ই্রেজামলের নবাবগণ। নবাবী আমলে দেশের অবস্থা- (কর্মচারী, বৈকুষ্ঠবাস, রায় রায় বাহাদুর, চৌধুরী খেতাব, দ্রবে,র মূল্যাদি, খোজা, সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার, মহাপুরুষ গ্রন্থকার)

পঞ্চম অধ্যায় তরফের কথা | পৃষ্ঠা ২৪১-২৫২ রাজা আচাক নারায়ণ, তরফ জয়, নানা স্থানের নামকরণ, দ্বাদশ আউলিয়ার দরগা, নাসিরউদ্দীনের কবর, ইব্রাহিম কালিদাস, মুলক-উল-উলমা, বেজোড়ায় ভ্রাতৃহত্যা, অমর মাণিক্যের তর্রফাক্রমণ, সুলতান-শি, আরাকান-পতিসহ পরিচয়, রাজ্য বিভাগ, তরফদার, কুতব- উল-আউলিয়া, দরগা, পৈলবংশ, বুলবুলে বাঙ্গালা, ক্ষমতার. হ্রাসতা

ষষ্ঠ অধ্যায় তরফের অবশিষ্ট কথা পৃষ্ঠা ২৫৩-২৬৩ খোন্দকারদের কথা, তরফে গৃহবিবাদ, যুদ্ধোদ্যোগ যুদ্ধ, অভিযোগ, আপোষকরণ, তরফের পুর্ব আয়তন, পরবর্তী কথা, বিষগাও বালিশিরা

সপ্তম অধ্যায় ইটার রাজা পৃষ্ঠা ২৬৪-২৭৯ পৃরর্ব কথা, রাজা সুবিদ নারায়ণ, রাজার সমাজ সংস্কারাদি, মাহারাজাতি, রঘুনাথ শিরোমণি, শ্রীহন্টের ঢাকাদক্ষিণ, শ্রীচেতন্যের পিতামাতা, রঘুনাথ শ্রীচৈওন্য, রঘুনাথের গ্রন্থ, রাজার পুত্রকন্যাদি, রাজকর্মমচারীগণ, রাজ কর্মচারীদের কর্মচ্যুতি, শ্রীহন্টের দেওয়ান, রাজনগরের যুদ্ধ-

পলায়ন

অষ্টম অধ্যায় ইটার পরবর্তী কথা পৃষ্ঠা ২৮০-২৯১ খোয়াজ ওসমানের বিদ্রোহ, রাজপুত্রগণ, অধস্তন রাজবংশীয়গণ, এরজারামের পবিচয়, ঈশা খা ংশ, সপ্তম অষ্টম অধ্যায়ের টীকা

নবম অধ্যায় ইটার বিবিধ কথা পৃষ্ঠা ২৯২-৩০৩ প্রাচীন সংবাদ, কাণিহাটীর অসম রায়, ইটার দেওয়ান কানুনগ্ে সম্পদ সেন, শ্যামবায় দেওয়ান, সদর কানুনগোগণ, হরবল্নবের বিপত্তি, শ্যামরায়ের দেও বী প্রাপ্তি, চে. -ফ্লান-দীঘী, দেওয়ানের ভাগিনেয় লাল বিনোদ রায় দেওযান পত্রী

[বাইশ]

দশম অধ্যায় প্রতাপগড়ের রাজবাড়ী পৃষ্ঠা ৩০৪-৩১১ অপরিজ্ঞাত আখ্যান, মালিক মোহাম্মদ পোড়া রাজা, মালিক প্রতাব রাজবাড়ী, প্রতাপ মাণিক্য, সুলতান বাজিদ হৈড়ন্ব যুদ্ধ, বাজিদের পরাজয়, প্রতাপগড় ধ্বংস

একাদশ অধ্যায়

প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব পৃষ্ঠা ৩১২-৩২২ সংশয় সমাচার, সুলতান মোহাম্মদ, পরবর্তী চৌধুরীগণ, নবাব রাধারাম, অচ্যাচার, রাধারামের জয়, কানুরামের পরিচয়, কানুরামের বিপদ, রাধারামের পরাজয়, সমাপ্তি

তৃতীয় খণ্ড : মোসলমান প্রভাব লাউড়

প্রথম অধ্যায় পূর্ববন্তী রাজগণ পৃষ্ঠা ৩২৫-৩৩২ প্রাচীন রাজ্যবিবরণ, মহারাজ গণেশের মন্ত্রী নরসিংহ, রাজা দিব্যসিংহ কুরেরাচার্ধ্য, শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্য্য, কৃষ্ণদাস, ঈশান নাগর অদ্বৈতপ্রকাশ গ্রন্থ

দ্বিতীয় অধ্যায় জগন্নাথপুরের কথা পৃষ্ঠা ৩৩৩-৩৪১ রামশঙ্কর বা রমানাথ মিশ্র, কেশব মিশ্র, জগন্নাথপুরের কেশব, কর্ণ খা, গোবিন্দ খা গোবিন্দ সিংহ, হবিব খা বিজয় সিংহ, পরমানন্দ সিংহ দাসজাতি, পুনবির্ববাদ, জগন্নাথপুরের পতন

তৃতীয় অধ্যায় বাণিয়াচঙ্গের কথা পৃষ্ঠা ৩৪২-৩৪৯ বাণিয়াঙ্গ নগর কেশব মিশ্র, খাসিয়া আক্রমণ লাউড় ধ্বংস, বাণিয়াচঙ্গের হাবিলি, খালিসা মোজরাই, নাওরা মহাল, পরবর্তী কীর্তি, সাধারণ দুটা কথা

চতুর্থ খণ্ড : মোসলমান প্রভাব জয়ন্তীয়া

প্রথম অধ্যায় আদি নৃপতিগণ পৃষ্ঠা ৩৫৩-৩৬০ মহল জয়ন্তীয়া, জয়ন্তীয়ার হিন্দুরাজা, হিন্দুরাজত্বের বিলোপ, পর্বত রায়ের কাল নির্ণয়, বড় গোসাঞ্জি মহাপীঠ, ধন মাণিক শক্রাদমন, প্রতাপসিংহের পরাজয় জয়ন্তেশ্বরী মূর্তি

দ্বিতীয় অধ্যায় আহোম বিজয় পৃষ্ঠা ৩৬১-৩৬৭ যশোমন্ত রায়, বাণসিংহ জয়ন্তীমুদ্রা, প্রতাপসিংহ লক্ষ্মীনারায়ণ, কাছাড় রাজের প্রতি চাতুর্ষ্য,

[তেইশ] আহোম সৈন্যের জয়ন্তীয়া আক্রমণ, প্রজাদের গোলযোগ, আহোমদের পরাজয়, রামাসিংহের মৃত্যু, রাজনৈতিক চিঠি

তৃতীয় অধ্যায় পরবর্তী কীর্তি পৃষ্ঠা ৩৬৮-৩৭৪ জয় নারায়ণ হাটকেশ্বর--শুরদর্ণ নারায়ণ, বড় গোসাঞ্ি (দ্বিতীয়), কালী স্থাপন সন্াস গ্রহণ, ছত্রসিংহ, যাত্রানারায়ণ বিজয় নারায়ণ, রাণীকাসারাম সিংহ (দ্বিতীয়), ঢুপির মঠ, সন্ধি, রাজগণের ক্রমিক নামাবলী

চতুর্থ অধ্যায় বৃটিশাধিকার পৃষ্ঠা ৩৭৫-৩৭৯ খোজকর, রাজেন্দ্রসিংহ নরবলির কথা, কুচক্রীর চক্রান্ত ভীষণ বলি, জয়ন্তীয়া গ্রহণ, রাজা নরেন্দ্রসিংহ, রাজবাটীর অবস্থা

পঞ্চম অধ্যায়

রাজস্বাদির কথা পৃষ্ঠা ৩৮০-৩৮৪ সীমা, পৃব্বকার রাজস্ব, সুবিধা-অসুবিধা বাঙ্গালী-কর্মচারী, ভূমি বন্দোবস্ত, জয়স্তীয়ার উপবিভাগ, রাজস্কের পরিমাণ

ষষ্ঠ অধ্যায় বিবিধ কথা পৃষ্ঠা ৩৮৫-৩৯০ নদী, উৎপনুদ্রব্য বাজার ইত্যাদি, চা বাগান, ডিস্পেন্সারি স্কুল, বাঙ্গালা গ্রন্থ, ভাষা সংজ্ঞাদি, রমণী সঙ্গীত রাসগান, সামাজিকতা বিবাহপ্রথা, ধর্ম, দেববিগ্রহাদি

পঞ্চম খণ্ড : ইংরেজ প্রভাব

প্রথম অধ্যায়

প্রথম অবস্থা পৃষ্ঠা ৩৯৩-৪০৮ পাশ্চাত্যজাতির ভারতাগমন, শ্রীহট্টের প্রথম ইংরেজ শাসনকর্তী শ্রীহট্রের দেওয়ান, লিগুসে সাহেবের শাসনকাল, শ্রীহস্রের প্রাকৃতিক দৃশ্য, শ্রীহট্ট দরগা, অশান্তি দমন, শ্রীহট্রের কৌড়ি মুদ্রা রাজস্ব, লিগ্ডসে সাহেবের চূণার ব্যবসায়, দেশী সৈন্য, শ্্রীহত্র ইজারা, মোহরমের হাঙ্গামা, খাসিয়া আক্রমণ, গম কফি, জাহাজ নির্মাণ শিকার, পুন্যাহ, জল অগ্নি পরীক্ষা, সৈয়দউল্লার

দ্বিতীয় অধ্যায় দশসনা বন্দোবস্ত পৃষ্টা ৪০৯-৪১৯ গঙ্গা সিংহের দৌরাত্ৃ, জন-হিতকর কার্ষ্য, শেষ কানুনগো জিলা জরিপ, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, জনৈক ফরাসীর অদম্যতা, উইলিসের পরবর্তী শাসনকর্তাগণ. হস্তবোধ জরিপ, এলাম, খাস

[চব্বিশ]

হালাবাদি, খাস মুমাদি প্রভৃতি, বন্দর বাজার গঠন, শ্রীহষ্্ট সহব, হালাবাদি জরিপ, খাসিযা আক্রমণ, নিষ্কর থাক জরিপ

তৃতীয় অধ্যায় বিবিধ পৃষ্ঠা ৪8২০-৪৩০ কুকি জাতি, প্রথম কুকি আক্রমণ, লালচুক্লার আক্রমণ, বিদ্রোহী সিপাহি লাতুর লড়াই, আদমপুরের আক্রমণ, খেলাত দান, শেষ আক্রমণ, লুসাই প্রদেশ, হামিদ বখত মজুমদার, এলাম ভূমি, শ্রীহট্ট আসামে, চারি সবডিভিশন মিউনিসিপালিটি স্থাপন, প্রতাপগড় তহশিল, ভূকম্প

চতুর্থ অধ্যায় ইংলিস কোম্পানী পৃষ্ঠা ৪৩১-৪৩৯ ইংলিস কোম্পানীর প্রতিষ্ঠা, জর্জ ইংলিস, খাসিয়া পর্বতের বৃটিশ কর্মচারী, চুণের একচেটিয়া, কোম্পানীর অত্যাচার, কোম্পানীর লোকানুরাগ লাভ, কোম্পানীর বিরাগ লাভ, আমলাদের লত্য, মেনেজার নিযুক্তি হারি সাহেবের মেনেজারি, কোম্পানীব অবনতি, বিলোপ

পঞ্চম অধ্যায় ইংরেজ আমলের প্রথম শতাব্দী পৃষ্ঠা ৪৪০-৪৪৮ ব্যবসায়, পবিত্রতা, জমিদার মিরাশদার জমির পরিমাণ, বাড়ী ঘর দ্রব্যের মূল্য, ভ্রমণে ভয়, ঘুষ প্রথা, স্ত্রীলোকের ব্যবহার, বিবাহ ভোজন, পরিচ্ছদ আমোদ, দাসদাসী (দাসদাসী ক্রয় বিক্রয়ের দলিল), দেবকার্ধ্য, গ্রাব্যবন্ধন, সতক্রয়া সুশিক্ষা

উপসংহার কাছাড়ের কথা পৃষ্ঠা ৪৪৯-৪৬৮ ভৌগোলিক বিবরণ, পুর্ব বিবরণ, চিলারায়ের আক্রমণ, মহারাজ কৃষ্ণচন্ত্র গোবিন্দচন্্র, মারজিতের কাছাড় আক্রমণ, ব্রহ্মযুদ্ধ বদরপুরের সন্ধি, উত্তর কাছাড় পৃষ্ঠা

উপসংহারাধ্যায়ের টীকা (প্রাচীন আইন) পৃষ্ঠা ৪৬৯-৪৮২ পরিশিষ্ট প্রথমভাগ পরিশিষ্ট ক-ঞ পৃষ্ঠা ৪৮৫-৫১১ ছিতীয় ভাগ

পরিশিষ্ট ক_-এ "ঠা ”১৫-৫৩৯

প্রথম অধ্যায়

জিলার সংক্ষিপ্ত কথা

অবস্থান

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বঙ্গভূমির উত্তর-পূর্ব্ব প্রান্তভাগে শ্রীহট্ট অবস্থিত; শ্রীহস্ট প্রাচীন বঙ্গভূমির অংশ বিশেষ কিন্তু ১৮৭৪ খৃষ্টাব্দের পর হইতে শ্রীহন্রকে আসাম প্রদেশভুক্ত করা হয়।১ আসাম প্রদেশের (দ্বাদশটি জিলা২) মধ্যে শ্রীহষ্ট স্র্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করিয়া আসিতেছিল।

এক ব্রিংশৎ বর্ষ কাল শ্রীহন্ট আসাম সংসৃষ্ট ছিল, অধুনা (১৯০৫ খৃষ্টানদের ১৬ই অক্টোবর তারিখ হইতে) বঙ্গদেশের ঢাকা চট্টগ্রাম বিভাগ, (দারজিলিঙ ব্যতীত সমগ্র) রাজশাহী বিভাগ, এবং ভাগলপুর বিভাগের মালদহ জিলা, আসাম প্রদেশের সহিত সংযুক্ত হইয়া (সাতাইশটি জিলাতে) পূর্ববঙ্গ আসাম নামে এক নব প্রদেশ গঠিত হওয়ায় শ্রীহস্টও তদন্তর্ভূক্ত হইয়াছে ।৩ সুতরাং ত্রিশ বৎসরের পর শ্রীহট্র আবার পূর্ববঙ্গের অঙ্গীভূত হইল বলিতে হইবে এই পূর্ববঙ্গ আসাম প্রদেশের পরিমাণ ফল ১০৬৫৪০ বর্গমাইল, এবং লোকসংখ্যা (১৯০১ খৃষ্টাব্দে গণনানুসারে) প্রায় ৩১৭০০০০০। এই প্রদেশ একজন লেফটেন্যান্ট গবর্ণরের শাসনাধীন হইয়াছে।

১... আইন_ই-আকবরি রিয়াজ-উস-সালাতিন প্রভৃতি পারস্য গ্রন্থে শ্রীহ্ট বঙ্গদেশের অন্তর্গত বলিয়া লিখিত আছে। ভক্জিরত্বাকর নামক গ্রন্থে দেখা যায যে, “বঙ্গদেশ” বলিতে পূর্ববঙ্গ প্রধানতঃ শ্রীহট্র, ময়মনসিংহ, ঢাকা প্রভৃতিই বুঝাইত।

২. আসাম প্রদেশ তিনভাগে বিভক্ত ছিল: যথাঃ-__ সুরমা উপত্যকা- শ্রীহট্ট কাছাড় জিলা ব্রক্ষপুত্র উপত্যকা--গোয়ালপাড়া, কামরূপ, নওগাঁ, দরঙ্গ, শিবসাগর লক্ষ্মীমপুর জিলা পার্বত্য প্রদেশ__গারো পাহাড়, খাসিয়া জয়্তীয়া পাহাড়, নাগা পাহাড় এবং লুশাই পাহাড়।

(উত্তর কাছাড় পব্বতময় বলিয়া পার্রত্য প্রদেশেব অংশরূপে গণ্য করা যায়।)

সমগ্র আসাম প্রদেশের পরিমাণ ফল ৫৬২৪৩ বর্গমাইল লোকসংখ্যা (১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনা অনুসারে) ৬১২৬৩৪৩ জন হইয়াছিল। আসাম প্রদেশ একজন চিফ কমিশনার কর্তৃক শাসিত হইত শিলং সহরই আসাম প্রদেশের রাজধানী ছিল

৩. পূর্ববঙ্গ আসাম প্রদেশ পাচ বিভাগে বিভক্ত হইয়াছেঃ- ঢাকা বিভাগ-ঢাক।, ফরিদপুর, বাখরগঞ্জ ময়মনসিংহ জিলা ট্টগ্রাম বিভাগ-_ক্রিপুরা, চট্টগ্রাম, পার্ব্বত্য চট্টগ্রাম নোয়াখালি জিলা রাজশাহী বিভাগ--দিনাজপুর, বাজশাহী, রঙ্গপুর, বগুড়া, পাবনা, মালপহ জলপাইগুড়ি জিলা সুরমা উপত্যকা বিভাগ--শ্রীহন্্, কাছাড়, খাসিয়া জয়ন্তীয়া পাহাড়, নাগা পাহাড়, লৃশাই পাহাড় আসাম উপত্যকা বিভাগ--গোয়াল পাড়া, কামরূপ, দবঙ্গ, নওগী, লক্ষ্মীপুর, শিবসাগর এবং গারো পাহাড় মণিপুর পার্বত্য ত্রিপুরা এই নবপ্রদেশের কবদ রাজ্য

২৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

সীমা

শ্রীহট্ট জিলার উত্তর সীমাস্থলে খাসিয়া জয়ন্তীয়া পাহাড় পশ্চিমে পূর্বদিকে কাছাড় জিলা, দক্ষিণে পার্বত্য ত্রিপুরা, এবং পশ্চিমে ত্রিপুরা ময়মনসিংহ জিলা শ্রীহন্ট জিলা উত্তর অক্ষাংশ ২৩.৫৮ হইতে ২৫.৩$ এবং পূর্ব দ্রাঘিমা ৯০.৫৮ হইতে ৯২.৩৮ মধ্যে অবস্থিত শ্রীহস্ট সমুদ্রগর্ত হইতে ৫৫ ফিট উর্দে স্থিত।

পরিমাণ ফল লোকসংখ্যা

শ্রীহট্ট জিলার পবিমাণ ফল (জয়ন্তীয়া সহ) ৫৪৪৩ বর্গমাইল এই জিলার দৈর্ঘ্য পূর্ব্রে পশ্চিমে প্রায় ৯০ মাইল এবং প্রস্ত উত্তর দক্ষিণে প্রায় ৭৫ মাইল। সম জিলার লোক সংখ্যা (১৯০১ খৃষ্টানদের গণনানুসারে) ২২৪১৮৪৮ জন |

দেশের প্রকৃতি

শ্রীহট্ট জিলার অধিকাংশ ভূমিই সমতল প্রান্তর স্থানে স্থানে জঙ্গলাচ্ছাদিত বালুকাময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টিলা আছে। প্রান্তরে বহুতর নদী প্রবাহিত; সাধারণত: নদীগুলির তীর দেশেই জনবসতি দৃষ্ট হয়। শ্রীহট্রে হাওরের সংখ্যাও কম নহে,৫ বর্ধাকালে হাওরগুলিতে অনেক জল হয়। শ্রীহস্রের পূর্র্বদিক ক্রমোন্নত এবং পশ্চিমাংশ নিন্ন। শ্রীহট্রের ভূমিগুলি অতি উর্ব্বরা, বৃষ্টিপাত মাত্রেই মাটি কৃষ্ণবর্ণ পক্কাকার ধারণ করে।

শোভা

শ্রীহট্ট ঘনবসতি সমাচ্ছন্ন জনপদ হইলেও ইহার অনেক স্থান জল জঙ্গলাবৃত। উত্তরে খাসিয়া জয়ন্তীয়া পর্বত এবং দক্ষিণে ত্রিপুরা পর্বত উন্নত শীর্ষে দণ্ডায়মান থাকিয়া উভয় দিক রক্ষা করিতেছে। পৃর্র্বদিগ্ভাগে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড় দণ্ডায়মান, এবং সুরমা বরাক নদী পুর্ব হইতে পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইতেছে; সুরমা উপত্যকার সুরম্য প্রান্তর উভয় পার্থ বিস্তৃত রহিয়াছে। জঙ্গলাবৃত ভূমি পশ্চিমাংশে ক্রমশঃ হাসতা প্রাপ্ত হইয়াছে; এবং উত্তর-পশ্চিমাংশে জলা ভূমির বাহুল্য পরিলক্ষিত হয়। শ্রীহস্ট্ের প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়ন-মনোমুগ্ধকর। পাহাড়ের নীরব গভীর ভাবের বিশদ বর্ণনা, বিস্তৃত বন-সুষমার মাধূর্য্য প্রকীর্ত্ন, সহজ সাধ্য নহে। বনে বৃক্ষের সারি বৃক্ষের পর বৃক্ষ, সরল সতেজ সুদীর্ঘ, শাখায় শাখায় আকাশ সমাচ্ছন্ন। কোন কোন পুষ্টাঙ্গ বৃক্ষে স্ুলাঙ্গী লতা; লতায় লতায় ফুল,__সুন্দর দৃশ্য

কোন পাহাড়ের যে অংশে বংশবন, তথাকার শোভা অবর্ণনীয়,-শুধু অনুভব গম্য। ঈষৎ হরিদ্রাভ নবীন নধর শ্যামল পত্রাবলী বিশোভিত বংএদপ্তশ্রেণী সজীবতা সৌন্দর্য্যের জীবন্ত ছবি। ক্রোশের পর ক্রোশ- দৃষ্টি যতদুর চলে, তরঙ্গের পর তরঙ্গ অতুল জলধির ন্যায় চলিয়াছে। পার নাই-_সীমা নাই, দেখিতে দেখিতে দর্শকের চিত্ত অজ্ঞাতে অভিভূত,-স্তন্তিত হইয়া পড়ে: দর্শককে আত্মহারা হইতে হয়। উর্দে দৃষ্টিপাত করিলে আর একরপ দৃশ্য, শঙ্গ, তাহার পর আরও ৪. লোকসংখ্যা সম্বন্ধীয় বিবিধ নিময় ক-পবিশিষ্টে দ্রষ্টব্য ? হাওর শব্দের অর্থ প্রান্তর বর্াকালে জলমগ্র অবস্থায় ইহা সাগরের ন্যাঘ হইয়া পড়ে বোধ হয, সাগব হইতে

হাওব শব্দটি হইয়া থাকিবে (561 95০ল]া) [)1501161 032520101602 901, 11-05511)0) 1১12)

প্রথম অধ্যায় : জিলার সর্থক্ষপ্ত কথা শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ২৯ উন্নত শৃঙ্গ, তদুপরি বিশাল বৃক্ষরাজি,_-মহামহিমাময় দৃশ্য

শ্রীহত্রের এই অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বিমোহিত-চিত্ত কবি যথার্থই গাহিয়াছেন : “প্রকৃতির ভাণ্তরেতে শ্রীহট্রের মাঝে, কত শোভা মনোলোভা সর্বত্র বিরাজে। প্রতিভা প্রসূৃত নয়, প্রকৃত বিষয়, দেখনা পথিক গিয়ে যদি মনে লয়?

“যে দেশের বন শোভা অত্বলন ভবে, প্রকাণ্ড দীঘল দ্রম আপন গৌরবে উচ্চশিরঃ; ঝোপ ঝাড়ে সুষমার সীমা বিভূষণা বনবধূ লতার মহিমা

কত শত বনফুল কাননে ফলিত, কত শত পুষ্পকলি কন্দরে কলিত।

বিপিনের কলকণ্ঠ সুগায়কগণ নিত্য প্রাতে বিভু গুণ করে সংকীর্তন

'অদূরে পাহাড় শোভে নীল নতঃ তলে কত নদী নির্বরিণী উপবীত গলে, অপূর্ব্ব গশ্তীর মূর্তি প্রশান্ত দর্শন শেখ দুরে, যেন যোগী যোগে নিমগন।” ইত্যাদি। (প্যারি চরণ দাস কৃত পদ্য পুস্তক ৩য় ভাগ)

বর্ষাকালে হাওরের দৃশ্য অদ্রূপই গা্ীর্যময় যতদূর দৃষ্টির সীমা,_বহু যোজন ব্যাপী অনন্ত জলের রাশি,__কুল নাই, কিনারা নাই, যেন বিশাল সমুদ্র সুনীল সলিল রাশি টলটল করিতেছে; বাযুবেগে ছলছল চলিতেছে। কখন বা হুঙ্কার করিয়া সুশুভ্র ফুৎকার ছাড়িয়া, উর্মিরাজি প্রধাবিত হইতেছে কোথাও বা স্থির সলিলে, নীলাস্তরণে কুমুদ কহলারাদি জলজ পুষ্পরাশি প্রস্ফুটিত রহিয়াছে যেন নীলাকাশে অগণ্য নক্ষত্র পুঞ্জ।। হেমন্ত ঝতুতে মাঠের শোভা,_-শ্যামল দুর্বাদল বিলসিত মাঠগুলির মাধূর্যযময় দৃশ্যই বাকি মনোরম! কিন্তু সব্ধর্বোপরি যখন শস্য শ্যামল ক্ষেত্রগুলি বায়ুতর লহরে লহরে ক্রমোন্নত ভাবে খেলিতে থাকে, জলের সুষমা যখন স্থলে প্রতিভাসিত হয়, তখন লক্ষ্মীর ন্নেহামৃত বৈভবা, গৌরবশালিনী সেই ক্ষেত্র-সম্পত্তির মাধুর্য মন মোহিত না হইয়া যায় না। তখন কবির ভাবে মন যেন গাইতে থাকে - 'শ্রীহট্র লক্ষ্মীর হাট আনন্দের ধাম: ্বর্গাপেক্ষা প্রিয়তর ভূমির নাম ।' (কবি প্যারি চরণের পদ্য পুস্তক)

৩০ শ্রীহট্রের ইতিব প্রথম ভাগ

জলবায়ু

শ্রৃহট্ট্রের এই সৌভাগ্য সম্পদের, প্রকৃতির এই শুভাশীর্ব্বাদের বর্ণনা বাহুল্যের সম্প্রতি আবশ্যকতা নাই: বিষয় প্রসঙ্গে তাহা ক্রমে পরিব্যাপ্ত হইবে

শ্রীহট্রের জলবায়ু কিঞ্চিৎ আর্র হইলেও ইহা স্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যকারিতার একটি প্রমাণ এই যে, শ্রীহট্টের লোককে স্থানান্তরে গেলে পেটের পীড়া বা জ্রাদিতে কিছুদিন ভূগিয়া তথাকার জলবায়ু সহ্য করিতে হয়, কিন্তু অন্যস্থানের লোক শ্রীহট্রে আসিলে তাহাদিগকে কিছুমাত্র ভুগিতে হয় না। শ্রীহত্রের গ্রীষ্মাপেক্ষা শীতের প্রভাবই অধিক। জিলায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টির গড় বার্ষিক ১০০ ইঞ্চির কম নহে।৬ ইহার কারণ, শ্রীহষ্ট চেরাপুঞ্জির নিকটবর্তী, চেরাপুঞ্জি অতি বৃষ্টির জন্য পৃথিবী খ্যাত এই জন্যই শ্রীহত্রের জলবায়ু কথঞ্চিত আর্দ ভাবাপন্ন।

বৈশাখ হইতে ভাদ্রমাস পর্যন্তই সাধারণতঃ বৃষ্টি হয়। কার্তিক হইতেই শীত অনুভূত হইতে থাকে, এবং পৌষ মাঘ মাসে শীতের প্রাচূর্ধ্য উপলব্ধি হয়। ফাল্গুন, চৈত্র বৈশাখ মাসে রৌদ্রের তাপ তীক্ষুতা প্রাপ্ত হয়।

শ্রীহট্ট জিলায় রোগের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত অল্প, কিন্ত বর্তমানে ম্যালেরিয়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়

জনবসতি বাজার

শ্রীহট্ট জিলায় (জয়ন্তীয়া সহ) ১৯১টি পরগণা আছে শ্রীহট্ট জিলায় গ্রামের সংখ্যা প্রায় অষ্ট সহন্্ অধিবাসীর বসতিবাটীর সংখ্যা পঞ্চ লক্ষের কম নহে।

শ্রীহট্রের অধিবাসীদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয়ের জন্য প্রায় চারিশত বাজার আছে। বাজারের সংখ্যা শ্রীহট্রে ৩৬৪টি, এবং জয়ন্তীয়ায় ২৮টি ।৮

বিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র

শ্রীহট্টবাসী জন সাধারণের সুশিক্ষার জন্য শ্রীহস্টে একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কলেজ সাতটি এন্ট্রেস স্কুল আছে মধ্য-ইংরাজী বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪২টি, এবং মধ্য-বঙ্গ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪টি। শ্রীহট্ট জিলায় বর্তমানে ৩৭টি উচ্চ প্রাথমিক এবং ৭৫১টি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। তদ্যতীত সদরে একটি মধ্য-বঙ্গ বালিকা বিদ্যালয় ৮৩টি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় আছে ।৯ “শিক্ষা প্রকরণে” বিশেষ বিবরণ লিখিত হইল

সব্র্ব সাধারণের স্বাস্থ্য রক্ষা সুচিকিৎসার জন্য শ্রীহস্্র জিলায় গবর্ণমেন্ট ৪৩টি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করিয়াছেন শহরের প্রধান দাতব্য চিকিৎসালয় ১৮৬৩ খৃষ্টাব্দে স্থাপিত হইয়াছে

৬. সুনামগঞ্জ সবডিভিশনেই বৃষ্টির পরিমাণ অধিক; ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে তথায় প্রা ২১০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। উত্তর শ্রীহট্টে বার্ষিক বৃষ্টিপাত গড়ে ১৫৭ ইঞ্চি করিমগঞ্জে ১৬০ ইঞ্চি দক্ষিণ শ্রীহ্টে বৃষ্টির গড় ১০৪ ইঞ্চি এবং হবিগঞ্জে ৯৪ ইঞ্চি মাত্র

৭. পরবর্তী ১০ম অধ্যায়ে পরগণার নামাদি বিধরণ লিখিত হইবে

৮. বাজারগুলির নাম অবস্থান খ-পরিশিষ্টে দ্টব্য |

৯. সব সংখ্যা স্িরতর থাকাব সম্ভাবনা নাই; ১৯০৬ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত এইন্ধপ ছিল

প্রথম অধ্যায় : জিলার সংক্ষিণ্ড কথা শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৩১

পোস্ট আফিস টেলিগ্রাফ আফিস

শ্রীহ্ট জিলায় পোস্ট আফিসের সংখ্যা বর্তমানে ১৩৮টি ইহার মধ্যে একটি হেড আফিস, ৩৪টি সব আফিস এবং ১০৩টি ব্রাঞ্চ আফিস আছে ।১০ এই ১৩৮টি পোস্ট আফিসের মধ্যে কম্বাইও্ড আফিস ৩২টি কম্বাইও আফিসে টেলিগ্রাফের তার সংযুক্ত থাকায় ডাকের কাজ টেলিগ্রাফের কাজ উভয়ই হইতে পারে। শ্রীহন্রের পোস্ট আফিস সমূহের সংখ্যা ক্রমশঃ বর্ধিত হইতেছে।

শ্রীহট্টে টেলিগ্রাফের একটি হেড আফিস আছে তথা হইতে টেলিগ্রাফ লাইন নিম্ন শাখাগুলিতে বিভক্ত হইয়াছে।

১. শ্রীহট্ট হইতে চেরাপুষ্জি হইয়া শিলং তথা হইতে গোহাটী হইয়া ভারতবর্ষের অন্যান্য স্থানে গিয়াছে

২. শ্রীহ্র হইতে ছাতক হইয়া সুনামগঞ্জ পর্য্যন্ত গিয়াছে।

৩. শ্রীহট্ট হইতে ফেঁচুগঞ্জ হইয়া বালাগঞ্জ পর্য্যত্ত গিয়াছে

৪. শ্রীহট্ট হইতে পূর্বদিকে শিলচর পর্য্যন্ত গিয়াছে

৪-ক. শিলচর হইতে বদরপুর করিমগঞ্জ গিয়াছে এবং তৎপরে দক্ষিণদিকে পাথরকান্দি দুর্পভিছড়া পর্য্যন্ত গিয়াছে।

৫. শ্রীহট্ট হইতে কাজলদাড়া, শমশের নগর, মোনশীর বাজার, মৌলবী বাজার কালীঘাট হইয়া হবিগঞ্জ পর্য্যন্ত এবং হবিগঞ্জ হইতে একশাখা মাদনা পর্য্যস্ত এবং অপর শাখা বাণিয়াচঙ্গ হইয়া মারকুলি পর্যন্ত গিয়াছে।

বিভাগ উপবিভাগ শাসন কার্য্ের সুবিধার জন্য শ্রীহট্ট জিলাকে পাচভাগে বিভক্ত করা হইয়াছে যথাঃ

নাম পরিমাণ জনসংখ্যা ১. উত্তর শ্রীহট্ট ৮৬৩.৫০ বর্গমাইল ৪৬৩৪৭৭ ২. করিমগঞ্জ ১০৬৬.০০ ২২৪১৮৪৮ ৩. দক্ষিণ শ্রীহট্ট ১০৬৪.০০ ৩৭৯১৫৮ ৪. হবিগঞ্জ ৯৯৯.০০ ৫৫৫০০১ ৫. সুনামগঞ্জ ১৪৫০” ৪৩৩৭৫২

এই পাঁচটি সবডিভিশনের অধীনে ১৬টি পুলিশ স্টেশন বা থানা তদধীনে ১৫টি আউট পোস্ট বা ফাড়ি থানা আছে।

(বর্তমান পুলিশ থানা সমূহের নামাদি ঘ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য ।)

এরি

শাসনকর্তা

শ্রীহট্ট জিলা একজন ডিপুটী কমিশনার কর্তৃক শাসিত হইতেছে। এই ডিপুটী কমিশনার সুরমা উপত্যকার কমিশনার সাহেবের অধীন। তদ্যতীত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট তাহার

১০. পোস্ট আফিস সমূহের নামাদি গ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য |

৩২ শ্রীহট্রের ইতিব প্রথম ভাগ

সহকারী, জেইল সুপারিনটেনডেন্ট প্রভৃতি উচ্চ কর্মচারিগণ আছেন। বিচার বিভাগে ডিস্ট্রিক্ট জজ তদীয় সহকারী এবং সবজজ এডিশনেল সবজজ প্রভৃতি কর্মচারী আছেন

প্রত্যেক সবডিভিশনের ভার এক এক জন এসিশ্টেন্ট বা একক্ট্রা এসিস্টেন্ট কমিশনারের উপর অর্পিত। সবডিভিশনেল আফিসারের অধীনে একস্ট্রা এসিস্টান্ট সবডিপুটাগণ আছেন। মোহকুমা গুলিতে দেওয়ানী বিচার কাধ্য মোলেফগণ কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

মোহকুমা গুলিতে পুলিসের ইনিসপেক্টর প্রভৃতি অবস্থিতি করেন। শ্রীহস্র জিলায় পুলিশের জন ইনসেপেক্টর, ৪৯ জন সবইনসপেক্টর, 8 জন হেডকনেস্টেবল ২৬৭ জন কনেস্টেবল বর্তমান আছে। গ্রাম্য চৌকিদারের সংখ্যা বর্তমানে ৫১৫৮টি ।১১

আয়

শ্রীহট্টের গবর্ণমেন্টেব নানা বিষয়ে আয় হইয়া থাকে ১৯৪০ খৃ্টাব্দের মে আয় নিঙ্নে প্রদর্শিত হইলঃ_

ভুরাজস্ব ৮৪২৪৪৩ টাকা এঁ (বিবিধ) ৬৩২৯৫ ৯০৫৭৩৮ " ভজলকর ৬৬৯০০ বনকর ৭০৪২৫ আবগারী ২৬০৭০৮ " স্টাম্প ৫৫৫৭৯২ ”» রেজেন্টারী ৫৩৭০৯ প্রভিন্সিযেলরেট ২৩৭৪১৫ ইনকম্‌ টেক্স ৫৩৫১৯ ২২০৪২০৬ ৮.

১১. এই সকল সংখ্যা ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে সংগৃহীত হয়। এইগুলি অবশ্যই পরিবর্তনশীল একটা মোটামুটি ধাবণা জন্মাইবাণ নিমিত্ত এই সকল দেওয়া হইল

দ্বিতীয় অধ্যায়

প্রাকৃতিক বিবরণ পাহাড়

রস্তরময় বৃক্ষাদি পূর্ণ অত্যুচ্চ স্থানকে পবর্বত অথবা পাহাড় বলে। পাহাড়ের সর্বোচ্চ স্থানকে পৰ্র্বত শৃঙ্গ বলিয়া থাকে বিচ্ছিন্ন পাহাড় খণ্ডের নাম টিলা

শ্রীহট্ট জিলার উত্তরে খাসিয়া জয়ন্তীয়া পাহাড় শ্রেণী উন্নত শীর্ষে শ্রীহট্টের পূর্ব গৌরবের সাক্ষ্য দিতে দণ্ডায়মান রহিয়াছে এই অত্যুচ্চ পর্বত শ্রেণী শ্রীহট্ট জিলার সীমা বহির্ভত হইলেও বড় আখিয়া পা্ুুয়া পরগণা এবং মুলাগোলে পর্বতের অংশ বিশেষ শ্রীহট্ট জিলা তুক্ত হইয়াছে।

শ্রীহস্্ জিলায় অনেকটি পাহাড় আছে, তন্মধ্যে নিম্নলিখিত গুলি বিখ্যাত এই পাহাড় গুলির মূল, শ্রীহট্ট জিলার দক্ষিণ সীমাবর্তী ত্রিপুরা পর্বত শ্রেণী

১. পল্ডহরের বা সরসপুরের পাহাড়--শ্রীহট্ট জিলার পূর্ব সীমায়, শ্রীহট্ট কাছাড়ের মধ্যে অবস্থিত। ইহা উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ৫০ মাইল দীর্ঘ; প্রস্থ কোন কোন স্থলে ১৩ মাইল ইহার পৃবের্ব কাছাড় জিলা, পশ্চিমে পল্ডহর, এগারসতী চাপঘাট পরগণা। ইহার উচ্চ শৃঙ্গ ছত্রচূড়া (ছাতাচূড়া) ২০৩৪ ফিট উচ্চ।

ত্রিপুরার ইতিহাস লেখক শ্রীযৃত কৈলাস চন্দ্র সিংহ বলেন যে, ত্রিপুরার মহারাজ ছত্র মাণিক্যের নামানুক্রমে এই অত্যুচ্চ শৃঙ্গটার নামকরণ হয় ছত্রচুড়া হইতে পবর্বতের উচ্চতা ক্রমশঃ হাসতা প্রাপ্ত হইয়া, উত্তরাভিমুখে বদরপুর পর্য্যন্ত চলিয়া আসিয়াছে মধ্যস্থানের নাম সরসপুর, এস্থানের উচ্চতা প্রায় ১০০০ ফিট; বদরপুরের নিকট উচ্চতা ৪০০ ফিটের অধিক নহে।

২. দু-আলিয়া বা প্রতাপগড়ের পাহাড়- প্রতাপগড় পরগণার মণ্যে, উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ৩০ মাইল দীর্ঘ ইহা পল্ডহরের পাহাড়ের প্রায় পাচ মাইল মাত্র পশ্চিমে অবস্থিত: সবর্বাধিক উচ্চতা ১৫০০ ফিট।

৩. আদম আইল বা পাথারিয়া পাহাড়-দু-আলিয়া পাহাড়ের অল্প কয়েক মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ! ইহা উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ২৮ মাইল দীর্ঘ এবং প্রস্থ প্রায় সাত আট মাইল ইহার পূর্বে প্রতাপগড়, জফরগড় রফিনগর পরগণা; পশ্চিমে পাথারিয়া শাহবাজপুর প্রভৃতি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ_-৮০০ ফিট উচ্চ মাধবতীর্থ নামক জলপ্রপাত এই পাহাড়ে অবস্থিত।

৪. ষাড়ের গজ বা লংলার পাহাড়-ইহা আদম আইল পাহাড়ের পশ্চিম দিকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত বৃষের ককুদের ন্যায় ইহার আকৃতি বলিয়া এই নাম হইয়াছে। ইহা উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ১২ মাইল দীর্ঘ। ইহার পূর্বে পাথারিয়া পরগণা, পশ্চিমে লংলা। উচ্চ শূঙ্গ-ষাড়ের গজ, ১১০০ ফিট উচ্চ।

৫. আদমপুরের পাহাড়--লংলার পাহাড়ের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে: উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ২৩ মাইল দীর্ঘ। ইহার পূবের্ব আদমপুর, ইটা পশ্চিমে চৌয়ালিশ। সব্র্বাধিক উচ্চতা ৬০০ ফিট।

শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৩

৩৪ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ ইহা ষাড়ের গজ হইতে প্রায় পাচ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত

৬. বড়শী যোড়া বা বালিশিরার পাহাড়_ইহা আদমপুর পাহাড়ের দক্ষিণ পশ্চিমে ইহার দৈর্ঘ্য উত্তর দক্ষিণে প্রায় ২২ মাইল, প্রস্থ মাইল। ইহার পূরের্ব ভানুগাছ ছয়চিরি পরগণা, পশ্চিমে বালিশিরা চৌয়ালিশ প্রভৃতি এই পাহাড় ক্রমশঃ উচ্চতা প্রাপ্ত হইয়াছে; ইহা ১৫০ ফিট হইতে ৩০০ ফিট মাত্র উচ্চ, শূঙ্গের নাম-_চূড়ামণি টিলা, ইহা ৭০০ ফিট উচ্চ। এই পাহাড়ে অনেকটি চা বাগান আছে।

৭. সাতর্গাও বিষগায়ের পাহাড়-_-বালিশিরার পাহাড় হইতে মাইল পশ্চিম দিকে অবস্থিত। ইহা উত্তরে দক্ষিণে প্রায় ৩০ মাইল দীর্ঘ, সব্্বাধিক উচ্চতা ৬০০ ফিট: ইহার পূর্ব্রে বালিশিরা, সাতগাও পচাউন প্রভৃতি পরগণা পশ্চিম তরফ, ফৈয়জাবাদ প্রভৃতি এই পাহাড় ধীরভাবে উচ্চতা প্রাপ্ত হইয়াছে এবং ইহার উপর অনেক চা বাগান আছে।

৮. রঘুনন্দন পাহাড়-ইহা জিলার দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত বিষগগায়ের পাহাড় হইতে প্রায় ১৬ মাইল পশ্চিমে, উত্তর দক্ষিণে প্রায় ১৮ মাইল দৈর্ঘ্য ব্যাপিয়া অবস্থিত; সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ৭০০ ফিট। বিষগায়ের পাহাড়ের ন্যায় রঘুনন্দন পাহাড়ও অত্যুচ্চ নহে।

সকল ভিন্ন বাড়ুয়া বা ইটার পাহাড়, লাউড়ের পাহাড় প্রভৃতি আরও পাহাড় আছে।

টিলা সকলের মধ্যে সদরের মিনারের (মনারায়ের) টিলা, করিমগঞ্জের নিকটবর্তী দেউলীর টিলা প্রভৃতি বিশেষ খ্যাত

যে জলগ্রোতঃ পব্বতাদি হইতে নির্গত হইয়া সাগরে পতিত হয়, তাহার নাম নদী কোন নদী বৃহৎ নদীতে নিপতিত হইলে তাহা উপনদী নামে কথিত হয়। শ্রীহট্র জিলায় প্রকৃত পক্ষে সকলটিই উপনদী। শ্রীহন্ট্ে প্রধান নদী বরাক বা বরবক্র, তাহার উপনদী সমূহ লইয়া, এক বৃহৎ

বরবক্র

বরবক্র বা বরাক নদী মণিপুরের উত্তরে আঙ্গামীনাগা পাহাড় হইতে উৎপন্ন হইয়া, প্রথমতঃ দক্ষিণাভিমুখে মণিপুর দিয়া প্রায় ১৮০ মাইল প্রবাহিত হইয়াছে, তৎপর কাছাড় জিলায় প্রবেশ করিয়াছে কাছাড় জিলার পুর্ব সীমা পর্য্যন্ত নৌকা চলিতে পারে, তাহার উপর দিক নৌগম্য নহে। বরাক নদী কাছাড় জিলা ভেদ করিয়া, বদরপুরের কাছে শ্রীহস্ট জিলায় প্রবিষ্ট হইয়াছে তথা হইতে সাত মাইল প্রবাহিত হইয়া দুই প্রধান শাখাতে বিভক্ত হইয়াছে উত্তর শাখা সুরম্যা বা সুরমা নামে খ্যাত এবং দক্ষিণ শাখার নাম কুশিয়ারা বা বরাক।

১. কুশিয়ারা বা বরাক-_ভাঙ্গার বাজারের নিকট মূল বরাক নদী হইতে নির্গত হইয়া. স্থানে স্থানে বিভিন্ন নামে ধারণপুবর্ক বাহাদুরপুরের নিকট পুনঃ দ্বিশাখায় বিভক্ত হইয়াছে

(ক) উত্তর বা প্রথম শাখা বিবিয়ানা নাম ধারণ পুবর্ক কালনীর সহ মিশিযা ধলেশ্বরী নদীতে পড়িতেছে।

(খ) দক্ষিণ বা দ্বিতীয় শাখা বরাক নামেই নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ হইয়া ধলেশ্বরীতেই

৬৩০৩ ০।

দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রাকৃতিক বিবরণ শ্রৃহত্টের ইতিবৃত্ত ৩৫

কুশিয়ারা বা বরাক নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ মাইল। মূল নদী তীরে- ভাঙ্গা বাজার, করিমগঞ্জ, ফেঁঞুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, মনুমুখ প্রভৃতি বিবিয়ানা তীরে--শেরপুর, ইনায়েৎগঞ্জ, মারকলি প্রভৃতি এই পথে শিলচর পর্য্যন্ত বারমাস ষ্টিমার চলিতে পারে। দক্ষিণ শাখা (বরাক) তীরে__নবিগঞ্জ, কালিয়ার ভাঙ্গা, হবিগঞ্জ, রতনপুর, সুজাতপুর, বাজুকা

২. সুরমা-_হরুটিকরের নিকট মূল বরাক নদী হইতে বিভক্ত হইয়া উত্তর পশ্চিম পশ্চিমাভিমুখে সুনামগঞ্জ পর্য্যন্ত গিয়াছে, তৎপর দক্ষিণাভিমুখী হইয়া দিরাই দিয়া মারকলির নিকট বিবিয়ানার সহিত মিলিত হইয়াছে। ইহার তীরে-_আটগ্রাম, কানাইরঘাট, রামদা, গোলাপগঞ্জ, সাহাগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, ছাতক, দুহালিয়া, আমবাড়ী, সুনামগঞ্জ, পাথারিয়া দিরাই" প্রভৃতি সুরমার দৈর্ঘ্য দুইশত মাইলেরও অধিক।

(ক) কালনী বিবিয়ানার সহিত সুরমা সংমিলিত হইয়া কালনী নাম ধারণ করিয়াছে। তীরে-রণভঞ্জি

(খ) সুরমার দ্বিতীয় এক শাখা চরণার চর, শ্যামার চর হইয়া ময়মনসিংহে প্রবেশ করতঃ আজমীরগঞ্জের নিকট ধলেশ্বরীর সহিত মিলিত হইয়াছে

৩. ধলেশ্বরী বা ভেড়ামোহানা-ইহা মূল নদী নহে, কালনী, বিবিয়ানা প্রভৃতির সংমশ্রণে আজমীরগঞ্জ হইতে এক বিশাল জল প্রবাহ প্রায় ৪৫ মাইল ধাবিত হইয়া পরে মেঘনা নদীতে পরিণত হইতেছে। ইহা শ্রীহট্ট ময়মনসিংহ জিলার মধ্যে সীমারূপে প্রবাহিত হইতেছে

তীরবর্তী স্থান_আজমীরগঞ্জ, কাকাইলছেও, বিথঙ্গল, মাদনা .

ইহাদের উপনদী সমুহঃ-

১. লঙ্গাই-_ত্রিপুরা পর্রবতান্তর্গত জম্পাই পাহাড় হইতে উৎপন্ন হইয়া উত্তরাভিমুখে করিমগর্জের তিনমাইল দক্ষিণে (লঙ্গাই ষ্টেশন) পর্য্যন্ত আসিয়াছে তৎপর দক্ষিণ পশ্চিমাভিমুখে হাকালুকি হাওরের মধ্যে দিয়া জুড়ী নদীর সহিত একত্রে ফেঞ্চুগঞ্জের নিকট কুশিয়ারাতে পতিত হইতেছে। হাকালুকিতে লঙ্গাই নদীর নিতান্ত দুরবস্থা ঘটিয়াছে। বর্ষাকালে তথায় লঙ্গাইর অস্তিত্ব লুণ্প্রায় হইয়া যায় এবং হেমন্তে জল শুষ্ক হইলে, হাওরের বিভিন্ন খাতে ক্ষীণ কলেবরে অবস্থান করে। ইহার দৈর্ঘ্য জুড়ী সম্মিলন পর্য্যন্ত প্রায় ৯৫ মাইল তীরবর্তী স্থান__হাতীখিরা, বৈঠাখাল, চান্দখিরা, পাথারকান্দি, নিলামের বাজার, লাতু, জলডুপ প্রভৃতি

২. মনু-_ত্রিপুরা পর্ববতান্তর্গত সঙ্খলং পাহাড় হইতে নির্গত হইয়া উত্তর পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া মনুমুখে কুশিয়ারাতে পতিত হইতেছে।

উৎপত্তি স্থান হইতে ইহার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ মাইল।

তীরবর্তী স্থান-_কৈলাসহর, তীরপাশা, কদমহাটা, মৌলবীবাজার, আখাইল কুড়া প্রভৃতি

(ক) ইহার প্রধান উপনদী--ধলাই। ধলাই নদী ত্রিপুরা পর্বত হইতে নির্গত হইয়া উত্তরাভিমুখে ধাবিত হইয়া মনুর সহিত মিলিত হইতেছে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মাইল। তীরে--কমলগঞ্জ।

৩. খোয়াই--প্রাচীন ক্ষমা নদী ত্রিপুরা পর্বত হইতে নির্গত হইয়া উত্তর পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া হবিগঞ্জের সন্নিকটে বরাক নদীতে পতিত হইতেছে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ মাইল। তীরে-_জয্তীয়াপুর, গোয়াইনঘাট প্রভৃতি

৩৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

৫. পিয়াইন--জয়ন্তীয়া পাহাড় হইতে উৎপন্ন হইয়া, দক্ষিণ পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া ছাতকের উত্তরে সুরমাতে পতিত হইতেছে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ মাইল তীরে-_রম্তমপুর, কোম্পানীগঞ্জ প্রভৃতি

৬. বৌলাই-_খাসিয়া পর্বত হইতে নির্গত হইয়া, দক্ষিণ পশ্চিমাভিমুখে প্রবাহিত হইয়া কংস নদের সহ সম্মিলনে ধনু নাম ধারণে ময়মনসিংহ জিলায় প্রবেশ করিয়াছে। দৈর্ঘ্য গ্রায় ৩০ মাইল তীরবর্তী স্থান__তাহিরপুর, জগদীশপুর, হরিহরপুর প্রভতি। যাদুকাটা নদী রক্তি নদী ইহার উপনদী।

৭. কংস-গারো পাহাড় হইতে নির্গত হইয়া পূর্ব দক্ষিণাভিমুখে (ধর্মপাশার নিকট) শ্রীহট্রের সীমা রেখা রূপে কিছু দূর অগ্রসর হইয়া বৌলাইর সহিত সম্মিলনে ধনু নামে পুনঃ ময়মনসিংহে প্রবেশ করিয়াছে। দৈর্ঘ্য ৩৫ মাইল তীরে-_ধর্মপাশা, তাজপুর প্রভৃতি

শ্রীহট্ট জিলায় আরও বহুতর নদী আছে। তন্মধ্যেঃ_

উত্তর শ্রীহট্রে -_ লুবা, বার, কুইগাঙ্গ।

করিমগঞ্জে -__ লুলা, শিংলা, কচুগাঙ্গ।

দক্ষিণ শ্রীহত্ট -_ জুড়ী, গোপলা।

হবিগঞ্জে _- করঙ্গী, সুতাং, কলকলিয়া। সুনামগঞ্জে __ ধামালিয়া, ীনি, মহাসিংহ (মাসিং)। এই সকল নদী অপেক্ষাকৃত প্রসিদ্ধ

শিংলা নদী ত্রিপুরা পবর্বত হইতে বাহির হইয়া শণ বিলে পতিত হইতেছে কচুগাঙ্গ শণ বিল হইতে বাহির হইয়া কুশিয়ারাতে পড়িতেছে।

জুড়ী ত্রিপুরা পর্বত হইতে বাহির হইয়া হাকালুকি হাওরের মধ্যদিয়া লঙ্গাই সম্মিলনে কুশিয়ারাতে পতিত হইতেছে তীরে--ঘিলাছড়া বাজার

মাসিং নদী ভরল বিল হইতে উৎপন্ন হইয়া সুরমায় পড়িতেছে।

ছড়া খালা--পব্বত নিঃসৃত ক্ষীণকায় স্রোতকে ছড়া (3:০০) বলে। শ্রীহট্টে অগণ্য পার্বত্য ছড়া আছে। উদাহরণ স্থলে--উত্তর শ্রীহট্টে (সদরে)-__ গোয়ালি ছড়া, করিমগঞ্জে (জাফর গড়ে)-বড় ছড়া, দক্ষিণে শ্রীহট্রে (লংলায়)--পালকী ছড়া, হবিগঞ্জে (মুচিকান্দি)_-বেয়াছড়ার নাম করা যাইতে পারে।

মানব কৃত প্রোতকে খাল (খাত) বলে যথা-মৌলবী খাল,_মৌলবী আবদুর রহিম কর্তৃক খনিত। এই খাল সুরমা নদীর সহিত কুশিয়ারাকে সংযুক্ত করে। ইহাতে করিমগঞ্জ প্রভৃতি পূর্বাঞ্চল হইতে শ্রীহট্র সহরে যাওয়ার রাস্তা সংক্ষেপ হয়।

আমিরউদ্দীন খাল--বরাকের সহিত ইটাখলা নদীকে সংযুক্ত করিয়াছে এই খালে শ্রীহট্ট হইতে ঢাকা যাওয়ার পথ সংক্ষেপে হয়।

নটী খাল-_ইহা মানবকৃত নহে। করিমগঞ্জে কুশিয়ারার সহিত লঙ্গাই নদীকে সংযুক্ত করিয়াছে এই খালের নাম তত্ব একটু কবিত্ব বা রসিকতা আছে যখন লঙ্গাই নদীতে জল বৃদ্ধি হয়, তখন ইহা লঙ্গাইকে কুশিয়ারার সহিত সংযোগ কবে, তখন এই প্রোতস্বতী উত্তরবাহিনী হইয়া কুশিয়ারাতে আত্মসমর্পণ করে আবার কুশিযারাতে জল বৃদ্ধি হইলে নটাখাল লঙ্গাইব দিকে ফিরিয়া যায়, দক্ষিণবাহিনী হইয়া লঙ্গাইর সহিত মিলিত হয়। নটাখাল হেমন্তে শুকাইয়া যায়।

শ্রীহট্ট জিলায় খালের সংখ্যা অগণ্য। প্রায় সমস্ত খালই হেমস্তে শুষ্ক হইয়। যায়।

দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রাকৃতিক বিবরণ শ্রৃহট্রের ইতিবৃত্ত ৩৭

শ্রীহট্ট জিলায় জোয়ারের বেগ দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অল্প দূর পর্য্যন্ত যৎসামান্য অনুভব হয়। নদীর বেগ প্রখর কিন্তু হেমন্ত কালে অপেক্ষাকৃত অল্প।

হাওর বা প্রান্তর হাওর শব্দটি শ্রীহট্টেই শুনা যায়, প্রান্তর ইহার ঠিক অনুবাদ না হইলেও ইহার অনেকটা ভাব প্রকাশ করিতে পারে। বর্ষার অনতি গভীর জলমগ্ন ভূভাগ-যাহার অধিকাংশই হেমন্তে শুষ্ক হইয়া যায়, তাহাকেই এতদঞ্চলে হাওর বলে। হাওরের যে অংশে হেমন্তে জল থাকে, সেই গভীর অংশকে কি বলা যায়। বিলই প্রকৃত পক্ষে হুদ ।১

উত্তর শ্রীহট্রে নিম্ন লিখিত হাওর গুলি প্রসিদ্ধঃ-

১. জিল্কার হাওর ঝিন্কার হাওর শ্রীহট্ট সহর হইতে ১৬ মাইল উত্তর পশ্চিমে ইছাকলস পরগণার মধ্যে অবস্থিত

২. বাড়ুয়া হাইল্কা হাওর শ্রীহট্র সহর হইতে ১০ মাইল দক্ষিণ দক্ষিণ পশ্চিমে রেঙ্গা পরগণার মধ্যে এই দুই হাওর অবস্থিত

৩. চাতল মৈজল। শ্রীহত্্র সহর হইতে ১২ মাইল দক্ষিণে গহরপুর পরগণায় অবস্থিত

৪. বড় হাওর শ্রীহট্ট সহর হইতে প্রায় ১২ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে মোক্তারপুর পরগণায় অবস্থিত

৫. বানাইয়া হাওর শ্রীহ্র সহর হইতে ২২ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে দুলালী পরগণায় অবস্থিত।

৬. শউলা হাওর শ্রীহস্ট হইতে মাইল পৃরের্ব বরায়া পরগণায় অবস্থিত।

করিম গঞ্জের প্রসিদ্ধ হাওরঃ-

১. শণ বিল। ইহার উত্তরাংশের নাম রাতা বিল শ্রীহট্ট সহর হইতে ৪০ মাইল পূর্ব্ব দক্ষিণে এগারসতী পরগণা মধ্যে অবস্থিত

২. হাকালুকি হাওর শ্রীহট্ট সহর হইতে ২২ মাইল দক্ষিণ পূর্বে পাথারিয়া পরগণায় অবস্থিত শ্রীহট্রের পৃবর্বাংশে ইহাই বৃহত্তম হাওর

দক্ষিণ শ্রীহট্রের প্রধান হাওরঃ__

১. হাইল হাওর--এই প্রসিদ্ধ হাওর শ্রীহট্্ট সহর হইতে প্রায় ৪৫ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে চৌয়াল্লিশ পরগণা মধ্যে অবস্থিত

২. কাওয়া দীঘির হাওর-_-এই হাওর শ্রীহট্ট সহর হইতে প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে ইটা শমশের নগর এই উভয় পরগণায় অবস্থিত

হবিগঞ্জের প্রসিদ্ধ হাওর গুলিঃ__ ১. মাকাল কান্দির হাওর-শ্রীহট্ট সহর হইতে ৪০ মাইল দক্ষিণ পশ্চিম দিকে বাণিয়াচঙ্গ পরগণায় অবস্থিত ১. সংঙ্কৃত বিল শব্দের অর্থ গর্ত “হাওর” শব্দটি বোধ হয় “সাগরের” অপত্রংশ। ফলতঃ বর্ষায় হাওর গুলিকে এক একটি ক্ষুদ্র সাগরের ন্যায় দেখায়। ২. পূর্ব পশ্চিম এই দুই দিকে পাহাড় থাকায় এই বিল অগ্রসর সুদীর্ঘ এবং গভীর তরঙ্গ সঙ্কুল হইয়াছে। এই বিল সম্বন্ধে প্রবাদ বাকা এই- “শণ বিলে নড়ে চড়ে, রাতায় পরাণে মারে ।”

৩৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

২. কাগাপাশা ঘোলডুবার হাওর-শ্রীহস্ট সহর হইতে ৩৫ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে বাণিয়াচঙ্গ পরগণায় অবস্থিত।

৩. ঘুঙ্গিয়া জুরি-শ্রীহট্ট সহর হইতে ৩৬ মাইল দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে তরফ মান্দার কান্দি পরগণার মধ্যে অবস্থিত

সুনামগঞ্জের অধীন হাওর গুলিঃ-

১. দেখার হাওর--শ্রীহট্ট হইতে ৩০ মাইল পশ্চিম উত্তরে পাগলা পরগণায় অবস্থিত।

২. শনির হাওর- শ্রীহট্ট সহর হইতে ৫০ মাইল পশ্চিম উত্তরে লাউড় পরগণায় অবস্থিত।

৩. জয়ার হাওর- শ্রীহট্ট সহর হইতে পশ্চিম উত্তরে ৩০ মাইল দূরে লক্ষণ শ্রী (লক্ষ্মণ ছিরি) পরগণায় অবস্থিত।

৪. জামাই কাটা, নলুয়া, পরুয়া, মহাই হাওর-শ্রীহট্ট সহর হইতে ২৫ মাইল পশ্চিম দক্ষিণে আতুয়াজান পরগণাতে এই হাওরগুলি অবস্থিত।

৫. টেঙ্গুয়ার হাওর-শ্রীহট্ট সহর হইতে ৫৫ মাইল পশ্চিম উত্তরে বংশীকুণ্তা পরগণায় অবস্থিত

৬. টগার হাওর-শ্রীহস্ট সহর হইতে ৬০ মাইল পশ্চিমে সেলবরষ পরগণায় এই হাওর অবস্থিত

এতত্তিন্ন উত্তর শ্রীহট্টে-লঙ্গুয়ার হাওর; করিমগঞ্জে-_মুড়িয়া; দক্ষিণ শ্রীহট্টে-ডেকার হাওর; হবিগঞ্জে--হরিপুরের হাওর এবং সুনামগঞ্জে-মাটি আইল প্রভৃতি আরও বহুতর হাওর আছে।

হাকালুকি সম্বন্ধে গল্প

হাকালুকি হাওরের উৎপত্তি সম্বন্ধে এক আশ্চর্য্য জনশ্রুতি আছে;-অতি প্রাচীন কালে স্থান সমভূমি ছিল। তথাকার অধিবাসী কয়েকটি ব্রাহ্মণ সদাচার সম্পন্ন না থাকায় যথেচ্ছাচারে শিবপুজা করিতেন। একটি নীচ জাতীয়া দাসী অশুচিভাবে পুষ্পচয়ন করিত; কিন্তু একজন ব্রাহ্মণ এই সকল ব্যবহারে অন্তরে ব্যথা পাইতেন শুদ্ধভাবে শিবপূজা করিতেন। অবশেষে যখন তাহাদের পাপের ভরা পূর্ণ হইল, তখন একদা সেই শুদ্ধাচার ব্রাহ্মণকে স্থানান্তরে পলাইয়া যাইতে দৈবাদেশ হইল দিকে হঠাৎ দৈব উৎপাত উপস্থিত হইল, এক সঙ্গে ঝড় ভূকম্প ভীমবেগে প্রলয় কাণ্ড উপস্থিত করিল, দেখিতে দেখিতে সেই স্থান অদৃশ্য হইয়া গেল। প্রবাদানুসারে সেই

স্থানেই হাকালুকি হাওর হইয়াছে ।৩

ডেকার হাওর সম্বন্ধে গল্প

ডেকার হাওর সম্বন্ধেও একটা গল্প প্রচলিত আছে, গল্পটি আরও অলৌকিক প্রবাদ এইঃ- বরশীযোড়া পাহাড়ের নিকটস্থ হিন্দুরাজার দীঘী হইতে এক স্বর্ণকান্তি বৃষ উ্থিত হইত নিকটস্থ সুন্দরনাথ নামক ব্যক্তির পালিত একটা বৃষের সহিত যুদ্ধ করিত। একদা সুন্রনাথের বষের শৃঙ্গাঘাতে আতিবাহিক বা দৈব দেহধারী সেই বৃষ পরাজিত হয় দশহাল গ্রামের পশ্ি'মদিকে মৃতের ন্যায় পড়িয়া রহে। তদবধি আর তাহাকে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হইতে দেখা যায় নাই। ৩. হাইল হাওর সম্বন্ধেও তদনুরূপ গল্প শুনা যায়। এবং পলায়িত ব্রাহ্মণই ছত্রবটের চৌধুরীদিগেন আদি পুরণ্ষ

বলিয়া উক্ত হন।

হাকালুকি (খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দীর) বৈদিক তামফলকোক্ত “হাঙ্কলা কৌকিকাং পুরীং"” দ্বারা নির্দেশিত ভূভাগ তখন

বোধ হয়, উহা জনপদ ছিল ডুকম্পাদিতে যে উচ্চ নীচ হয়, তাহার প্রমাণ ১৩০৪ সালেই পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রাকৃতিক বিবরণ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৩৯

অল্পবয়স্ক বৃষকে এতদঞ্চলে “ডেকা” বলে; দুইটি ডেকার যুদ্ধ হইতে এই হাওরের নাম ডেকার হাওর হইয়াছে

হ্্দ শ্রীহট্টে প্রকৃত হুদ নাই। নবিগঞ্জের নিকটস্থ “অমৃতকুণ্” শ্রীহট্ট জিলায় প্রকৃত হদপদবাচ্য হইতে পারে। অমৃতকুণ্ডের জল অতি পরিষ্কার, চতুর্দিকের যে সকল লোকে তাহা পান করে, তাহাদের ওলাউঠা প্রভৃতি ব্যাধি প্রায়ই হয় না! ইহা একটি পবিত্র জলাশয় পবিণত হইয়াছে; বারুণী যোগে বহুতর লোক অমৃতকুণ্ডে স্নান তর্পণাদি করিয়া থাকে বাণিয়াচঙ্গের দেওয়ান বংশীয়গণ পূরের্ব অমৃত কুস্তের জল নেওয়াইয়া পান করিতেন।

উৎস প্রসবণ

পণা-_লাউড়ের পণা একটি প্রসিদ্ধ ঝরণা, ইহা একটি তীর্থ বিশেষ; বারুণী যোগে বহুলোক পণাম্নানে যায়।

ফুলতলীর প্রপ্রবণ--দিনাবপুরের ফুলতলির প্রত্রবণটিও বিশেষ বিখ্যাত

ঠাপ্তাকুয়া__বারপাড়া পরগণায় এই উৎসের জল শীতল বলিয়া ঠাণ্ডাকুয়া নামে আখ্যাত।

দরগা মহলার উৎস--এই উৎসটি বিশেষ বিখ্যাত, মোসলমানগণ ইহার জল অতি পবিত্র মনে করেন ইহা ইষ্টক দ্বারা বাধান। শাহজালাল এই উৎসের জল ব্যবহার করিতেন

নয়া সড়কের উৎস--এই উৎসের জল ঈষৎ উষ্ণ

এই দুইটি উৎস সদরে অবস্থিত, সদরের গাণিছড়াব কাছে আর একটি উৎস আছে।

তগ্তকুণ্--জয়ন্তীয়ার হরিপুরে (সরকারী ডাক বাঙ্গালাব সন্নিকট) আর একটি আশ্চর্য্য উৎস আছে। ইহার আয়তন প্রায় দেড় কেদার ভূমি ব্যাপী কুণ্ডটি সমতল বিশিষ্ট নহে, পশ্চিমোত্তরাংশে গভীরতা অধিক। কুন্তের জল উষ্ণ নহে--শীতল, কিন্তু জলতলস্থ ভূমি অতি উত্তপ্ত-মুহূর্তকালও দাঁড়ান যায় না। ভূমিতে পদসংলগ্ন না করিয়া সন্তরণ করিলে কোনও কষ্ট হয় না। সন্তবতঃ কুণ্ততলে ভূগর্তে কোনরূপ উত্তাপযুক্ত দাহ্য পদার্থ আছে। বর্ষাকালে এই স্থানে প্রচুর পরিমাণে জল হয়, এবং কুণ্তটি ১০/১২ হাত জলের নীচে পড়িয়া যায়। বারুণীযোগে স্থানেও কেহ কেহ স্নান তর্পণ করে।

প্রপাত

শ্রীহট্রের পাহাড়গুলিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্ধ অনেক প্রপাত আছে। আদম আইল পাহাড়ের “মাধব” নামক প্রপাতটি বিশেষ বিখ্যাত প্রায় শতাধিক হস্ত উর্ঘ হইতে প্রবলবেগে জল পতিত হইতেছে। বৃষ্টি হইলে বহুদূর হইতে জল পতন শব্দ শ্রুত হওয়া যায়।

মরুভূমি প্রকৃতির লীলানিকেতন শ্রীহষ্টে, মরুতূমিরও একটা নমুনা ক্ষেত্র আছে! লাউড় পরগণায় যাদুকাটা নদীর পার্খদেশে কিয়ৎ পরিমাণ স্থান ব্যাপী এক খণ্ড বালুকাময় ভূমি আছে; তাহাতে বৃক্ষাদি কিছুই জন্মে না শ্রীহট্টরে এইরূপ বালুকাময় স্থান আর দেখিতে পাওয়া যায় না। ইহাকে ক্ষুদ্বায়তন মরুভূমির নমুনা বলা যাইতে পারে।

তৃতীয় অধ্যায় কৃষিজাত দ্রব্য ধান্যাদি

শ্রহট্ট বৃষ্টি-মাতৃক দেশ। বৃষ্টির জলই এখানে কৃষি কার্য্ের পক্ষে প্রচুর হয়। শ্রহিষ্ট জিলার ভূমিতে সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কোন কোন স্থলে চারা ভূমিতে রবিশস্যের জন্য সামান্যরূপে সার ব্যবহারের প্রচলন আছে। এক মাত্র গোবরই সাররূপে ব্যবহৃত হইয়া থাকে।

আশু শালি ধান্য

শ্রীহট্টের স্ববপ্রধান উৎপন্ন দ্রব্য ধান্য, বহু জাতীয় ধান্য শ্রীহট্টের উব্র্বর ক্ষেত্রে উৎপন্ন হয়। অনতি উচ্চভুমিতে নানা জাতি শালি ধান্য আশু ধান্য জন্মে। বৈশাখ হইতে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আশু ধান্যের সময়; শীঘব উৎপন্ন হয় বলিয়া ইহার নাম আশু ধান্য। “দুমাই” নামক আশু ধান? দুই মাসে জন্বিয়া থাকে।

নিশ্নভূমিতে আছরা, বাগদার প্রভৃতি ধান্য জন্মে। জলাভূমে আমন, কাতারিয়া, আমনবাদাল জন্মে জল বৃদ্ধির সহিত ধান্যের চারাও বৃদ্ধি পাইতে থাকে কোন কোন স্থলে ১৫/২০ হাত পর্য্যন্ত বাড়িয়া থাকে যে নিম্নভূমিতে হেমন্ত কালেও কিছু কিছু জল থাকে, তথায় “শাইলবোর” জন্মিয়া থাকে ধান্য পৌষ মাসে রোপণ করতঃ চৈত্র বৈশাখ মাসে কাটিয়া থাকে সুনামগঞ্জে হবিগঞ্জেই ইহা অধিকরূপে জন্মিয়া থাকে।

বিরণী ধান্য অনতি উচ্চভূমে জন্মে বিরণী কেবল পিষ্টকান্ন প্রস্তুত জন্যই ব্যবহৃত হয়।

রবি শস্য ইক্ষু

ধান্য ব্যতীত সর্ষপ, তিসি, মূলাবীজ, তিল, কলাই, মুগ প্রভৃতি রবিশস্য মধ্যে প্রধান প্রায় সর্বত্রই জন্মে।

ইক্ষুর চাষও মন্দ হয় না, করিমগঞ্জে সবডিভিশনের দক্ষিণে, দক্ষিণ শ্রীহট্রে এবং হবিগঞ্জে প্রধানতঃ ইক্ষুর চাষ হয়। খাগড়া, ধল বোম্বাই এই তিন জাতীয় ইক্ষু সচরাচর চাষ করা হয়।১

১. ১৯০০-১ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত চারি বৎসরে ধান্যাদি চাষের কিরূপ ত্রাস বৃদ্ধি হইয়াছে, নি্নে তাহা প্রদর্শিত হইল

শস্য ১৯০০-১ অন্দে যত একর ১৯০৩-৪ অন্দে যত একর মন্তব্য ধান্য ১৯৬৬৯৩০ ২৪৯৩০২০ বৃদ্ধি সর্ষপ ৩৮৪৩৩ ৩৭০০০ হাস তিসি ৬৮৪৩৩ ৬৯০০০ বৃদ্ধি ইক্ষু ১১৩৪৬ ১৫০০০ বৃদ্ধি কলাই মুগ ৫৫২৮ ৩০০০ হাস নানাবিধ ৪১০৪২৭ ২৯৮৮২০ স্াস

তৃতীয় অধ্যায় : কৃষিজাত দ্রব্য শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪১ শন পাট

শন নদীতীরেই সামান্যরূপ উৎপন্ন হয়, ইহার সূত্র সুদৃঢ় দীর্ঘস্থায়ী শণসুত্র জাল প্রস্তুত কার্য্যেই ব্যয়িত হইয়া যায়। শ্রীহট্র জিলায় পাটের চাষ ক্রমশঃ বর্ধিত হইতেছে উত্তর শ্রীহ্

হবিগঞ্জ দক্ষিণ শ্রীহন্রে এবং কুশিয়ারা মনৃতীরেই ইহার চাষ অধিক হইয়া থাকে ১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে প্রায় ৩০০০ একর ভূমিতে পাটের চাষ হইয়াছিল।

তামাক তামাক তরফ পরগণায় এবং অন্যান্য আনেও কিয়ৎ পরিমাণে উৎপন্ন হইয়া থাকে।

ফল-মূল কমলা

শ্রীহট্টরের কমলা অতি বিখ্যাত। এরপ মিষ্ট রসাত্মক কমলা ভারতবর্ষের অন্যত্র জন্মে না। কমলার গাছ ১২-১৪ ফিটের অধিক উচ্চ হইতে দেখা যায় না, কমলার পত্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র; গাছ দেখিতে অতি সুন্দর চেলা প্রভৃতি স্থানে কমলার ধৃহৎ বৃহৎ বাগান আছে। ফলবান কমলা বাগানের সৌন্দর্য্য মোহিত হইবে না এরূপ লোক অতি বিরল। কমলা প্রধানতঃ খাসিয়া পাহাড়ে জন্নিয়া থাকিলেও শ্রীহস্টরের জয়ন্তীয়া, পঞ্চখণ্ প্রভৃতি স্থানেও ইহা নূন্যাধিক জন্নিয়া থাকে পৌষ মাঘ মাস কমলা পাকিবার সময়; সুপন্ক কমলা দেখিতে অতি সুন্দর কমলার শত বার আনা হইতে দুই টাকা পর্য্যন্ত মূল্যে বিক্রয় হয় ।২ বর্তমান রেইলওয়ে যোগে বহু পরিমাণে কমলা রপ্তানি হওয়ায় মূল্য বর্ধিত হইতেছে। পূর্ববঙ্গ শাসন বিবরণীতে দৃষ্ট হয় যে, ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে শ্রীহ্ হইতে ১৩৫২১৩ মন কমলা বিদেশে রপ্তানি হইয়াছিল

আনারস

শ্রীহট্টের আনারস বঙ্গ বিখ্যাত। আনারস যে এত সুমিষ্ট উপাদেয় হইতে পারে, ইহা বিদেশীয়ের ধারণাতীত।৩ এই মিষ্ট রসাত্মক ফলের জনুস্থান শ্রীহট্রের জলড়ুব পঞ্চখণ্ড। টীলা ভূমিতে আনারসের বাগান হয় আনারস আফা, শ্রাবণ মাসে পরিপক্ক হইয়া থাকে আনারসের শত সাধারণতঃ দুই টাকা হইতে চারি টাকা পর্য্যন্ত বিক্রয় হয়। বর্তমান রেইলওয়ে যোগে আনারসের রপ্তানি বর্ধিত হওয়ায় মূল্যও বৃদ্ধি পাইতেছে।

ভুবি বা লটকাফল জলডুব, পঞ্চখণ্ড কুশিয়ার কুল প্রভৃতি স্থানের ভূবিফলও উত্তম বটে ভূবি একরূপ বন্য ফল বিশেষ। ইহা ঈষৎ অল্মধুররসাত্মক, আকার সুপারি সদৃশ পাইকারী মূল্য প্রতি ধামা বা টুকরি তিন চারি আনা মাত্র ২. আইন-ই-আকবরি প্রভৃতি গ্রন্থে কমলার মিষ্টতার সুখ্যাতি লিখিত হইয়াছে। শ্রীহট্রের সুকবি প্যারীচরণ দাস শ্রীহট্টের গৌরব ঘোষণা উপলক্ষে কমলার গুণ বর্ণনা করিয়াছেন; “যে দেশেতে কমলার শোভা চমণ্কার লোহিত ললাম লাম বর্ণের বাহার, কি কোমল অঙ্গ! আর সুরস সঞ্চার, কি মধুর রস! পানে তৃপ্তি সবাকার।” ইত্যাদি।

৪২ শ্রীহন্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

কদলী

শ্রীহট্ট জিলায় অনেক জাতি কদলী আছে।

১. “অমৃত সাগর” কদলী অতি বৃহৎ, সুগন্ধ বিশিষ্ট সুখাদ্য।

২. “ডিঙ্গামানিক” কলা সর্বাপেক্ষা লম্বা, সব্্বাপেক্ষা কোমল, কিন্তু অধিক পাকিয়া গেলে অশ্্ স্বাদ বিশিষ্ট হইয়া যায়। এই জন্য বাকল ঈষৎ সবুজ থাকিতেই সংগৃহীত হইয়া বিক্রয় করা হয়।

৩. “কুল-পতি” বা “সাফরি কলাই” কদলীর মধ্যে সর্ব্বোৎকৃষ্ট খাইতে অতি উত্তম ইহা যথার্থই কলা-কুলপতি।

৪. “চিনি চাপা” বা “চাপা কলা” আকৃতিতে কুলপতি কলার মত, গুণে প্রায় “ডিঙ্গা মাণিক” প্রকৃতি বিশিষ্ট

৫. “মত্তমান” “শাইল” বা “ভূষা” কলা দেখিতে যেমন, খাইতে তেমন উৎকৃষ্ট নহে। মূল্যও অপেক্ষাকৃত সুলভ।

৬. “আতিয়া” কলা দুই জাতীয়,-ঘি আঠি ভীম আঠি। এই কদলী আকৃতিতে বৃহৎ, কিন্ত আঠি থাকায় খাইতে তেমন সুবিধাজনক নহে ঘী আঠিতে বীজ কম থাকে আঠি কলা অতি শীতল এবং ইহার পত্র কোমল বৃহৎ। ভোজনাদি উৎসবে সাধারণতঃ ইহার পত্রেই লোকে ভোজন করে।

শ্রীহত্টে সাধারণতঃ পুঙ্করিণীর তীরে বাড়ীর চারিধারে কদলী বৃক্ষ রোপণ করা হয়। কলা একটি আয়কর ফল হইলেও ধান ব্যতীত অপর ফল মাঠে রোপণ করা শ্রীহট্টবাসিগণ উপযুক্ত মনে করেন না।

আমন কাঠাল

আম্্র কীঠাল শ্রীহন্টরের সর্বত্রই জন্মে। চৌকি বাণিয়াচঙ্গের আম অপেক্ষাকৃত মিষ্ট, তাহাতে পোকাও কিঞ্চিৎ অল্প হয়। তরফ, জলডুব, কুশিয়ারকুল প্রভৃতি স্থানের কাঠাল মিষ্টতর, কদলীর ন্যায় আমর কাঠালে গাছ সাধারণতঃ বাড়ীর চারি পাশেই লাগান হইয়া থাকে

লেবু বা জামির

শ্রীহন্রে বৃজাতীয় জামির আছে।

১. “মাথো” বা “জান্কুরা” (বাতাপিলেবু)_-ভিতরে লাল সাদা ভেদে দুই জাতীয়। ইহার এক একটা খুব বড় হইয়া থাকে

২. “পানি” বা “ঝুটা জামির”__খাইতে প্রায় মাথো জামিরের মত, ইহাতে শীতলতা গুণ অধিক এবং আকৃতি মাথার মত গোল নহে।

৩. “জাড়া জামির” “জাজি জামির”-_জাড়া জামিরের পুরু বাকলের সবুজ বর্ণ অংশ ফেলিয়া দিয়া, অবশিষ্ট নারিকেলের মত খাওয়া যায়; ইহা শীতলতা গুণবিশিষ্ট “জাজি” আকৃতিতে ক্ষুদ্র, গুণে সামান্য ইতর বিশেষে মাথোর মত।

৩. আনারসের গুণে মোহিত হইয়া পূর্বোক্ত কবি সগৌরবে বলিতেছেন;

“যে দেশে জনমে অতি মিষ্ট আনারস,

সিঙ্ধমথা সুধাসম মিষ্ট যার রস।” ইত্যাদি।

তৃতীয় অধ্যায় : কৃষিজাত দ্রব্য শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৩

৪. “এলাচি জামির” “আদা জামির” এবং “চস্নি বা কলম্বক জামির”--ভক্ষ্য নহে. অন্ন ব্যঞ্জনাদি সুগন্ধ করিবার জন্য ইহা ব্যবহৃত হয়। এলাচি আদা জামিরের গন্ধ উৎকৃষ্ট ইহা €লা, ঢাকাদক্ষিণ পরগণায় অধিক পরিমাণে জন্মে তত্ভিন-_ ৫. “সাতকড়া” “কাটা” “করুণ” প্রভৃতি আরও অনেক জাতি জামির আছে। সাতকড়া জয়ন্তীয়ায় বু পরিমাণে উৎপন্ন হয়!

বিবিধ ফল

গোলাবজাম, কারজাম, জামুল, এওলা বা আমলকী, বদরী, বেল, বন বাদাম, কয়ফল (পেঁপে), শফরি আম (পেয়ারা), দাড়িম (দাড়িম্ব) সর্বত্রই জন্মিয়া থাকে। তেঁতুল, চাল্তা, থেকল, ডেফল, আমড়া এবং লেওইর ফল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। চাল্তা, থৈকল, ডেফল লেওইর বন্যফল বিশেষ ইহা অশ্নরসাত্বক কেবল টক প্রস্তুতেই ব্যবহৃত হয়।

পাহাড় হইতে পানিয়ালা বা লুকলুকি (ত্রিপুরা অঞ্চলে বেকইর) পিঠাকরা নামে বালক বালিকার প্রিয় দুই জাতীয় ফল সংগৃহীত হইয়া সন্নিকটব্তী বাজারে বিক্রয় করা হয়। শ্রাবণ মাসে লুকলুকি পাকে পিঠাকরার পুং বৃক্ষেই “আগর” প্রাপ্ত হওয়া যায়।

গুবাক

চাপঘাট পরগণায় অপর্য্যাপ্ত পরিমাণে গুবাক উৎপন্ন হয়, সাধারণতঃ নদীতীরবত্তী বাড়ীগুলিতে গুবাগ বৃক্ষের সারি দেখিতে পাওয়া যায়,--একত্রে বহুবৃক্ষের সারি সমন্বিত বাড়ীগুলির দৃশ্য অতি সুন্দর চাপঘাট ব্যতীত জয়ন্তীয়া, কুশিয়ারকুল প্রভৃতি পরগণাতেও বেশ সুপারি জন্মে তাল নারিকেল যৎসামান্যরূপেই জন্মিয়া থাকে

তরমুজ, চিনার শসা এবং খীরা বহু পরিমাণে চাষ করা হয়। তরমুজ চিনার কুকি জাতীয়েরা “জুমে” চাষ করে। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে প্রতাপগড় লংলা প্রভৃতি স্থানে ইহা ক্রয় করিতে পাওয়া যায়;-উভয় ফলই অতিশয় শীতল চিনারের মধ্যে “বালিচিনার” সপক্ক হইলে আপনা হইতেই ফাটিয়া যায়। শসা জ্যৈষ্ঠমাসে মিলে, ইহা বাড়ীতেই জন্মান হয়। শীত খতুতে খীরা পাওয়া যায়, ইহা সাধারণতঃ মাঠে উৎপন্ন করা হয়।

পানিফল মূল

পানিফল বা সিঙ্গাইর হাওর বা বিলাদিতে আপনা আপনি জলে জন্মিয়া থাকে এবং আধাঢ শ্রাবণ মাসে সংগৃহীত হইয়া বিক্রয় হয়।

মূলের মধ্যে “সাকরকন্দ” আলুই প্রসিদ্ধ, নদীতীরে ইহা প্রচুর রূপে চাষ করা হয়। শীতল গুণবিশিষ্ট “শীকআলু" মধ্যে মধ্যে পাওয়া যায়।

শাক সজি শ্রীহট্র জিলার উর্বর ভূমিতে সর্বপ্রকার শাক সজিই প্রচুররূপে উৎপন্ন হয়। ইহার মধ্যে গোল আলুই প্রধান। গোল আলু জয়্তীয়া, ভোলাগঞ্জ তরফ প্রভৃতি স্থানে বহু পরিমাণে জন্যে। বেগুন সর্বত্রই জন্মে, তবে লংলার বেগুন সর্বোৎকৃষ্ট প্রসিদ্ধ মূলক বা মূলা সর্বত্রই জন,

8৪ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

তবে তরফের মূলা সর্বোৎকৃষ্ট তরপের গোলগাও নামক স্থানে প্রচুর পরিমাণে উত্তম মূলা উৎপন্ন হয়। শ্রীহন্ট জলডুবের কচুরমুখী উৎকৃষ্টতর।

প্রতাপগড় লংলা প্রভৃতি স্থানে কুকিরমুখী (011১) ক্রয় করিতে মিলে ইহার এক একটি ১০-১৫ সের পর্য্যন্ত ওজনের হইয়া থাকে

কচুর মুড়া (মূল), মানকচু, ওলকচু সর্বত্রই পাওয়া যায়। বিবিধ রকম “উরি' (সীম), মিঠা লাউ, পানিলাউ, কুমড়া (কুম্মাণ্ড) বহুলরূপে সর্ববব্র জন্যে

তদ্যতীত উদাইয়া (উচ্ছে) করালা, কাকরোল কাকুরা, পুরল চিচিজ্গা এবং বিঙ্গা ডেড়েশ তরকারির জন্য পাওয়া যায়। (দাইয়া করালা একজাতীয়, দ্বিতীয়টি আকারে বৃহৎ এবং সাধারণতঃ কুকিরা জুমে ফলাইয়া থাকে কাকরোল কাকুরাও এক জাতীয় এবং দ্বিতীয়টি বৃহত্তর এই দুইটিকে বন্য তরকারি, বিশেষ বোধ করা অসঙ্গত নহে। চিচিঙ্গা অতিশয় লম্বা হইয়া থাকে

শাকের মধ্যে নালিশাক, নটে বা ডেঙ্গাশাক, লাইশাক (সর্ষপ জাতীয়) প্রধান ক্ষুদ্র শাক পালইশাক টিলাভূমের সন্নিকটে স্বভাবজাতরূপে পাওয়া যায়। অশ্নরসাত্মক খৃুঙ্গাশাক (টকপালং), সলিফা শাক সর্বত্রই পাওয়া যায়।

গন্ধিডাটা (গন্ধমাতৃকের ডাটা), রামকলার থোড় করিল (সংস্কৃত করির বা বাশের কচি অঙ্কুর) কোন কোন স্থানে পাহাড় হইতে সংগৃহীত হইয়া উপাদেয় তরকারিরূপে ব্যবহৃত হয়।

কপি, শালগম, বিট, গাজর প্রভৃতি অনেক লোকে সযত্তে উৎপাদন করেন

মসল্লাদি

তেজপত্র--মসল্লার মধ্যে তেজপত্র শ্রীহট্টরের চিহ্নিত প্রসিদ্ধ মসন্লা। আইন-ই-আকবরি প্রভৃতি গ্রন্থে ইহার উন্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। খাসিয়া পাহাড়, ছাতক জয়ন্তীয়ায় অত্যাধিকরূপে তেজপত্র পাওয়া যায়।

পাণ-__জয়ন্তীয়ায় উৎপন্ন “পাণ” উৎকৃষ্টতর; খাসিয়াগণ ইহা প্রচুররূপে উৎপন্ন করে বলিয়া “খাসিয়া-পাণ” বলিয়া খ্যাত। “বাঙ্গালা পাণ” জিলার সর্বত্রই জন্নিয়া থাকিলেও, বারুই জাতীয় ব্যক্তিগণ সুরমা, মনু, কুশিয়ারা খোয়াই তীরেই ইহা অধিকরূপে উৎপাদন করিয়া থাকে

মরিচ-_লালমরিচ বা লঙ্কা সর্বত্র প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয় গোলমরিচ যথেষ্ট জন্মে না।

ঝলাঙ্গ_-জয়ন্তীয়ায় রসুন জাতীয় ক্ষুদ্রাকৃতি ঝলাঙ্গ উৎপন্ন হয়। ঝলাঙ্গের গন্ধ, পেঁয়াজ অথবা রসুনাপেক্ষা অতিশয় মৃদু উপ্রগন্ধী পেয়াজাদি হইতে ইহা এই জন্যই আদরণীয়। শ্রীহট্টের বাজারে ইহা কখন কখন ক্রয় করিতে পাওয়া যায়।

এতদ্যতীত আদা, হরিদ্রা, ধনিয়া, পাটনাই জীরা, পেয়াজ, রসুন প্রভৃতি সর্বত্রই জন্মে।

পাহাড়ে গন্ধমাতৃক (গান্ধি) যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়।

ওষধাদি শ্রীহন্টরের পাহাড়ে যথেষ্ট পরিমাণে হরিতকী পাওয়া যায়। ইহা কখন কখন সংগৃহীত হয় বটে, কিন্তু ব্যবসায়ে বিশেষভাবে পর্য্যন্ত কেহ মনোযোগ দেন নাই। চালমুগরার গোটা সম্বন্ধেও প্রায় তদ্রুপ ইহাও কখন কখন পাহাড় হইতে সংগৃহীত করিতে সামান্যরূপ তৈল প্রস্তুত করা যায়। পাহাড়ে মুসব্বর গাছও প্রাপ্ত হওয়া যায়।

তৃতীয় অধ্যায : কৃষিজাত দ্রব্য শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৪৫ শ্রীহট্রের বংশলোচন বা বাশের চূণ প্রসিদ্ধ

সাধারণ লোকের মধ্যে জ্বরে নিম্বপত্র বলা, কুইনাইনের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। চিরতা পত্রও অনেকে ব্যবহার করে। ইহা সর্বত্রই উৎপন্ন হয়।

বিরেচক ওষধরূপে সাধারণ লোকে “জামালগোটা” প্রায়ই ব্যবহার করে।

আমাশয়ে সচরাচর “বেলশুট” “ওলটকম্বলের ডাটা” “কাষ্টবরুজ” (কুটজ) ব্যবহৃত হয়। ইহা সর্ব্বব্র সুলভ

গুলঞ্চ ('আমবরুজ”) কখন কখন জ্বরে ব্যবহৃত হয়

কফে শ্বেতবাসক পত্র সচবাচর ব্যবহাব করিয়া থাকে।

দন্তরোগে আম্ছাল নিষ্বছাল এবং স্ত্রীরোগে অশোকছালের ব্যবহাব দেখা গিয়া থাকে!

তদ্যতীত গঁদ, ধাতফল (“এওলা”) প্রভৃতি পরিচিত ওঁষধ পাহাড়ে গ্রামাদিতে প্রচুররূপে

পাওয়া যায়। শতমূল অনন্তমূল প্রভৃতিও নানা স্থানে স্বভাবজাতবপে উৎপন্ন হয়। শ্রীহট্টের জঙ্গলে প্রায় সর্বপ্রকার বনজাত (“বনাজ”) ওঁষধ বহুলরূপে পাওয়া যায়।

চু?

শ্রীহস্ট জিলায় বল প্রচারিত পুষ্পগুলির নামঃ__

বড়বৃক্ষ জাতীয়-_-চস্পক, বকুল, কদ্ব, কাঞ্চন, অশোক প্রভৃতি

ছোটবৃক্ষ জাতীয . সেফালিকা, করবীর, কামিনী, স্থলপদ্ন প্রভৃতি

চারা জাতীয়_- গর, গন্ধবাজ, বিবিধ জবা, গাঁদাফুল প্রভৃতি

গুল জাতীয়_-“গালাপ, সেউতি (শ্বেতগোলাপ), যুথি (জুই), জাতি (বৃহৎ জাতীয় জুই), বেলি, চামেলি, কুন্দ, কেতকী, রঙ্গন নেযারি প্রভৃতি

লতা জাতীয়-লবঙ্গ (লংফুল), মাধবী, বনমালতী, ঝুমকালতা, কুঙ্গলতা প্রভৃতি

কন্দজাতীয়--বজনীগন্ধা, চণ্তীফুল, চন্দ্রকলা, সব্বজয়া/ভূইচাপা প্রভৃতি

জলজ পুষ্পের মধ্যে শ্বেত রক্তপদ্ম এবং শ্বেত রক্ত কুমুদ (সোপলাফুল) এবং এঁ জাতীয় নীলাভ সালুক ফুলই প্রধান; এতদ্যতীত বিবিধ বনফুল প্রাপ্ত হওয়া যায়। আয়কর ফুলের মধ্য, মণিপুরী জাতি কুসুম ফুলের চাষ করিয়া থাকে। কুসুম্বের বীজে তৈল হয় ফুলে কাপড়ে গোলাপি বং হয় ' কুসুন্বেব তৈল ওুঁষধে ব্যবহার্ষ্য।

ৃক্ষাদি রক্ষিত জঙ্গল

শ্রীহট্টের বিস্তৃত জঙ্গল অকর্মণ্য নহে। জঙ্গলগুলি আয়ের এক পন্থা বিশেষ গবর্ণমেন্ট এই জঙ্গল হইতে প্রতিবর্ষে অনেক টাকা রাজস্ব আদায় করেন। প্রতাপগড় পরগণায় গবর্ণমেন্ট রক্ষিত ১০৩ বর্গমাইল জঙ্গলভূমি আছে, ইহার নাম “রিজার্ভ ফরেস্ট” এতদ্যতীত ১৭৭ বর্গমাইল “আনরলাশশ্ট ফরেস্ট” আছে:--ইহার পরিমাণ জয়ন্তীয়া পরগণায় অধিক গবর্ণমেন্টের বনকর সম্বন্ধে ১৯০৪ খৃষ্টাবে প্রায় সপ্ততি সহস্র টাকা আয় হইয়াছিল

৪৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ আবশ্যকীয় বৃক্ষ

্রীহট্রের কাষ্ঠের কারবার আধুনিক নহে, আইন-ই-আকবরি গ্রে দৃষ্ট হয় যে, মোগল সম্রাট আকবরের সময়েও শ্রীহট্ট হইতে প্রচুর কাষ্ঠ ব্যবসায়ীগণ লইয়া যাইত।

শ্রীহট্ (সদর), করিমগঞ্জ, ভাঙ্গা পাথারকান্দি, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ, লাখাই, আজমীরগঞ্জ কা্ঠ কারবারের প্রধান স্থান নিশ্নলিখিত বৃক্ষের কাষ্ঠ বিবিধ কার্ষ্যে ব্যবহৃত হয় প্রতিবৎসরেই প্রচুর পরিমাণে পাহাড় হইতে নামাইয়া আনা হয়। চাম আম (বন্য), রাতা কুর্তা, পীং পোংতা, শিমইল জারইল, গন্ধরই সুতরং, পুমা তুলা, কদম ফরিস, কাওয়া ঠোটি কাইমূলা, সুন্দি বনাক প্রভৃতি তত্িন্ন নাগেশ্বর গান্বারি, কাঠাল পালান প্রভৃতিও নানা কার্যে লাগে

জারইল বৃক্ষ একত্র অনেকটা বহ্স্থান ব্যাপ্ত করিয়া উৎপন্ন হয়; গাছগুলি যখন গোলাপি রঙ্গের কুসুমে সুশোভিত হয় তখন বনস্থল অতি শোভনীয় দৃশ্য ধারণ করে। জারইল পুমা প্রভৃতিতে নৌকা প্রস্তুত হয়।

চাম, কীঠাল জাতীয় বৃহৎ বন্য বৃক্ষ চাম, কীঠাল, সুন্দি, গন্ধরই প্রভৃতিতে উৎকৃষ্ট তক্তা হয়। চৌকি, খাট, আলমায়রা, সিন্দুক, টেবিল, বেঞ্চ প্রভৃতি ব্যবহার্ধ্য দ্রব্যাদি এই সকল কাষ্ঠে প্রস্তুত হয়। সকল এবং বনাক, গান্বারি প্রভৃতির তক্তা গৃহ প্রস্তুত কার্য্েও ব্যবহৃত হয়। তদ্যতীত গৃহের বরগা প্রভৃতি প্রস্তুত হয়।

সুতরং তুলা প্রভৃতির তক্তাতে চা-র বাক্স প্রস্তুত হইয়া থাকে কাঠাল, কাইমুলা, কাওয়াঠোটি, কুর্তা প্রভৃতিতে ঘরের খুটী হয়।

কদন্ব নাগেশ্বর (নাগকেশ্বর) স্বনাম প্রসিদ্ধ পুষ্পবৃক্ষ নাগেশ্বরের সুগন্ধি পুষ্প হইতে একরূপ আতর ফল হইতে তৈল হয়। ইহার কাষ্ঠ অতিশয় দৃট় বলিয়া দালানের কড়ি (বিম), ববগা ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়।

পুমা পালানের কাণ্ঠ হালকা কেদারা দোলা খেলনা প্রভৃতি প্রস্তুত হয়।

পাহাড়ে রবার বৃক্ষ আছে, রবারের ব্যবসায়ে অগ্রসর হইতে কাহাকেও দেখা যায় না। অশ্বথ বট বৃক্ষাদি সর্বত্রই দৃষ্ট হয়। উচাইলের অন্তর্গত উজ্জ্বলপুরের মাঠে প্রায় ছয় কেদার ভূব্যাপী এক মহা বটবৃক্ষ আছে।

বিবিধ বৃক্ষ

প্রায় সর্ধ্র প্রাপ্য উদাল (উদ্দালক) বৃক্ষের বন্ধল দ্বারা উৎকৃষ্ট সুদৃঢ় রজ্জু প্রস্তুত হয়। উপরোক্ত কাইমূলার নির্য্যাস দ্বারা গদ বা আঠার কার্যা চলে মহাল বৃক্ষের নির্য্যাস হইতে ধুনা হয়। ধুনা দেবকার্য্যে লাগে। বলওয়া বনচাল্তা বৃক্ষের পত্র রৌদ্র-শুষ্ক করতঃ কাষ্ঠ পালিশ করার নীতি ছিল, এখন শিরিন কাগজ তাহার স্থান অধিকার করিয়াছে তথাপি খেলনা প্রভৃতির পালিশ কার্যে এখনও এঁ সব পত্র ব্যবহৃত হয়।

কীরতা পাতা, কন্দ জাতীয় একরূপ উদ্ভিদেব পত্র, ভোজনাদি উৎসবে ইহার পত্র বহুলরূপে ব্যবহৃত হয়। “ছাতাপাতি” কন্দ জাতীয় উদ্ভিদের পত্র, ইহা দ্বারা ছত্র প্রস্তুত হয় “আনরকলি” একর সুবৃহৎ পত্রবিশিষ্ট উদ্ভিদ, ইহা পাহাড়ে জন্মে; ইহার পাতা এত ধৃহৎ যে একজন মনুষ্য তাহার উপরে স্বচ্ছন্দে শয়ন করিতে পারে

তৃতীয় অধ্যায় : কৃষিজাত দ্রব্য শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ৪৭ বাশ বেত

বাশের মধ্যে মূলি, খাং, ডলু, জাই, বরুয়া, পেঁচা, বাশকাল, মৃত্তিঙ্গা প্রভৃতি নানা জাতীয় বাশ আছে।

জাই, বরুয়া, পেঁচা বৃহৎ জাতীয বাঁশ। তন্মধ্যে বরুয়া সবর্বাপেক্ষা দৃঢ় পেঁচা বাশ পাহাড় ব্যতীত অন্যত্র জন্মে না। জাই, বকয়া এবং বেতো বাশ গ্রামাদিতে জন্মে। বেতো বাশ পরিপক্ক না হওয়া পর্য্যন্ত তদ্বারা বেতের ন্যায় গৃহের চালার বন্ধনাদি কার্য্য করা যায়। বাঁশকে চিরিয়া তদ্বারা বেত প্রস্তুত করিতে হয়।

মূলিবাশ সাধারণ কার্যে বহুলরূপে ব্যবহৃত হয়। খাং ডলু গৃহকার্ষ্য (অর্থাৎ ঘরের চালের “রুয়া খাপ” প্রস্তুতে) ব্যবহৃত হয় জাই বরুয়াতে ঘরের খুঁটী হয়।

করিমগঞ্জ সবডিভিশন লংলা প্রভৃতি স্থানে কচি ডলু বাশের চোঙ্গা কাটিয়া তন্মধ্যে বিরণীর চাল জল .ভরিয়া চোঙ্গার মুখ বন্ধ ক্রমে পোড়ান হয়। পোড়ান হইলে চালগুলি পক হইয়া একরূপ পিষ্টকে প্রস্তুত হয়। সাধারণতঃ পৌষ মাঘ মাসে এই পিষ্টক লোকে আগ্রহের সহিত ব্যবহার করে।

বেতের মধ্যে গন্লা, জালি সুন্দি প্রভৃতি নানারূপ বেত্র পাওয়া যায় গন্লা বেত্র বৃহৎ জাতীয় এবং সুন্দি ক্ষুদ্র জাতীয়, উৎকৃষ্ট সুক্ষ কার্ষ্যে সুন্দিবেত ব্যবস্ৃত হয়।

ছনের মধ্যে বড়লুথা উলু নামক ছন চাল ছাওয়ার কার্যে অধিকরূপে ব্যবহৃত হয়। যে স্থানে ছন উৎপন্ন হয়, তাহাকে “ছনের খলা” বলিয়া থাকে বড়লুথা ছন পাহাড়ে জন্ে।

নল মুর্তা পাহাড়ের পঞ্টিল স্থানে জন্নিয়া থাকে নল চিরিয়া চাটি মুর্তার বেত্র দ্বারা উৎকৃষ্ট পাটি প্রস্তুত হয়।

অদ্ভুত আকরিক উদ্ভিদ

সুনামগঞ্জের হাওরগুলির মধ্যে হবিগঞ্জের অনেক স্থলে (মকার হাওর, সৌলাগড় প্রভৃতি স্থানে) পক্ষের নীচে (ভূগর্ভে) এক প্রকার অদ্ভুত উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। অন্য কোন দেশে এই প্রকার আশ্চর্য্য উদ্ভিদের কথা শুনা যায় না; এই উত্ভিদের নাম “কচম বৃক্ষ” এই উত্ভিদ শাখা পত্রাদি বিহীন। জলতলে পক্ষের নিম্নে অবক্র স্থুলাঙ্গ লতার ন্যায় দীর্ঘভাবে ইহা বর্ধিত হয়। এক একটা সাধারণতঃ ১২/১৪ হাত লম্বা ৩/৪ হাত পরিধি (বেড়) বিশিষ্ট হয়। তদপেক্ষা লম্বা বড় কচমও প্রাপ্ত হওয়া যায়। কচম কাষ্ঠের সামান্য একটা অংশ বা খণ্ড কাচা অবস্থায় মাটির নীচে রাখিলে তাহাও বর্ধিত হইয়া বৃক্ষে পরিণত হয়। কচম কাষ্ঠ সংগ্রহ করিয়া স্থানীয় লোক শুষ্ক করতঃ জ্বালানি কাষ্ঠরূপে ব্যবহার করে। হেমন্তে জলাভূমি শুষ্ক হইলে কাষ্ঠ সংগ্রহকারীরা লৌহশলাকা বিলের ধারে পঙ্কের মধ্যে প্রোথিত করিয়া, তন্নিন্নে কচম আছে কিনা দেখে সন্ধান পাইলে খুঁদিয়া বা টানিয়া বৃক্ষ বাহির করিয়া লয়। এই কাণ্ঠের বর্ণ হরিদ্রাভ লোহিত কচম একবার শুঙ্ক হইয়া গেলে তন্মধ্যে সহজে জল প্রবেশ করিতে পারে না।

জুমের চাষ জুম চাষের উল্লেখ পূবের্ব করা গিয়াছে, জুম চাষ কি, তৎসম্বন্ধে কিছু বলা আবশ্যক খাসিয়া, কুকি, নাগা, কাছাড়ী প্রভৃতি পার্বত্য জাতীয় লোকেরা টীলার উপরে জুম আবাদ করে। আবাদের

৪৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

জন্য স্থান নির্ধারণ করিয়া, এক এক পুঞ্জির বা পাড়ার লোক একত্র জুমের জন্য কাজ করিতে থাকে সাধারণতঃ অগ্রহায়ণ পৌষ মাসে সকলে মিলিয়া জঙ্গল কাটিয়া ফেলে; জঙ্গল শুক হইয়া গেলে, ফাল্গুন বা চেত্র মাসে তাহাতে আগুন লাগাইয়া জ্বালাইয়া ফেলে; তৎপরে বৈশাখ মাসেই সাধারণতঃ বীজাদি রোপণ করা হয়। “টাকল” নামক দা দিয়া ছোট ছোট গর্ত করতঃ তাহাতে ধান্য, ভুক্টা (কুকিরদানা-820), কার্পাস, তিল, লঙ্কামরিচ, তরমুজ, চিনার প্রভৃতির বীজ একত্রে রোপণ করা হয়। থাবা নামক বেত্র নির্মিত দীর্ঘাকার চাঙ্গারিতে সমস্ত বীজ একত্রে মিশ্রিত ভাবে থাকে রোপণ কালে তাহার এক এক মুষ্টি এক এক গর্তে ফেলিয়া দেওয়া হয়। তৎপরে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় বীজ অস্কুরিত হইয়া, কালক্রমে ফলবান হয়।

জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে জুম একবার পরিষ্কার করিয়া দেওয়া হয়, এই সময় ভুট্টা চিনার পরিপরু হইয়া থাকে চিনার সাধারণতঃ টাকায় ২০/২২টি করিয়া পাওয়া যায়। যখন যে শস্য পর হয়, তখনই তাহা সংগৃহীত হয়। তিলের গাছ কাটিয়া তিল সংগ্রহ করা হয় না, তিল পাকিলে বন্ত্রখ্ড নীচে ধরিয়া তাহার উপরে গাছ ঝাড়িয়া দেওয়া হয় মাত্র বলা বাহুল্য যে ইহাতে অনেক অপচয় হয় অনেক তিল গাছে থাকিয়া যায়

পৃর্বোক্ত শস্য ব্যতীত লাউ, কুমড়া, পেয়াজ কচুরমুখী জুমে ফলিত হয়। জুমের লাউ, কুমড়া কচুরমুখী ইত্যাদি অতি উত্তম, কিন্তু ধান্য সুখাদ্য নহে কচুরমুখী এক একটা খুব বড় হয়, দেখিতেও সুন্দর লুসাই জাতি তদ্বারা একরপ পিষ্টক প্রস্তুত করিয়া ভক্ষণ করে।

দীর্ঘকাল এক স্থানে জুম করিলে ফসল হয় না বলিয়া, দুই বৎসর কাল এক এক স্থানে জুম করার প্রথা দেখা যায়। দুই বৎসরান্তে জুমের জন্য নৃতন স্থান নির্ধারিত হয় জুমের স্থান এইরূপে দূরে চলিয়া গেলে পুষ্জি বা পাড়ার লোকও তথায় উঠিয়া গিয়৷ নৃতন পুঞ্জি স্থ।'সন করে। কারণ ফসলের সময় প্রায়ই জুম পাহারা দিতে হয়।

চার চাষ

চা এক জাতীয় চারা বৃক্ষের পত্র। প্রথমে রোদে শুষ্ক, তৎপর অগ্নি তপ্ত করতঃ ব্যবহারোপযোগী করিয়া লইতে হয়।

১৮২৩ খৃষ্টাব্দে আসামে সর্বপ্রথম বন্য চা বৃক্ষ পাওয়া যায়। তাহাতে আসামের ভূমি চা আমাদের পক্ষে উপযোগী বিবেচিত হইলে, ১৮৩৫ খৃষ্টাব্দে লক্ষ্মীপুরে সব্ব্বপ্রথম এক চা বাগান প্রস্তুত করা হয়।

শ্রীহট্ট্রে চা-র চাষ হইতে পারে কি না, অনুসন্ধান চলিলে ১৮৫৬ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্রের জঙ্গলেও স্বভাবজাত চা বৃক্ষসমূহ প্রাপ্ত হওয়! যায়। তৎপর “নর্থ সিলেট টি কোম্পানী” স্থাপিত হইয়া, ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দে “মালনী ছড়া চা বাগান” নামে একটি চা ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়। ইহার পর হইতেই শ্রীহন্রে ক্রমশ চার চাষ বর্ধিত হইতেছে।

ইংরেজ কোম্পানীগণই সাধারণতঃ চার চাষ করিয়া থাকেন। শ্রীহস্ট জিলায় দেশীয়গণের পরিচালিত অনেকটি চা ক্ষেত্র আছে। দেশীয়গণের পরিচালিত চা বাগানগুলি এক এক ব্যক্তি বিশেষের সম্পত্তি, তন্ধ্যে স্বর্গীয় রাজা গিরীশচন্দ্রের বিদ্যানগর চা-বাগান বিশেষ !বখ্যাত। দুইটি বাগান দেশীয়গণের যৌথ মুলধনে পরিচালিত “ইন্দেশ্বর টি এও ট্রেডিং কোম্পানীর” উত্তর ভাগ চা-বাগান “ভারত সমিতির” কালীনগর চা-বাগানের নাম উল্লেখিতব্য।

শ্রীহন্টে বর্তমানে যোলটি চা ক্ষেত্র দেশীয় লোক কর্তৃক পরিচালিত হইতেছে:

তৃতীয় অধ্যায় : কৃষিজাত দ্রব্য | শ্রীহত্ট্ের ইতিবৃত্ত ৪৯ উ-পরিশিষ্টে সকল এবং অপর সমস্ত চা-বাগানের অধিকারীদের নামাদি লিখিত হইবে ইংরেজ চালিত চা বাগানসমূহ মধ্যে-_এক বা একাধিক ব্যক্তি বিশেষের সম্পত্তি স্বরূপও

প্রায় পনরটি বাগান এখন এই জিলায় আছে। চা-করের সম্মান দেশীয় জমিদারাপেক্ষা কোন

অংশে হীন নহে। এতাদৃশ স্বাধীন ব্যবসায় অগ্রসর হওয়া শ্রীহট্টবাসীর গৌরবের কথা। শ্রীহ্র জিলায় বর্তমান ১৫৪টি চা বাগান আছে।৪

বিস্তৃত ভূভাগে সারি সারি সতেজ চা বৃক্ষ সমবিত চা-বাগানের শোভা নয়ন তৃপ্তিকর। চা বৃক্ষের কচি পাতাতেই চা প্রস্তুত হয় বলিয়া গাছগুলি ছাটিয়া দেয়, এজন্য উচ্চ বৃক্ষ দেখিতে পাওয়া যায় না। বীজ সংগ্রহের জন্য সামান্য দুই চারিটি গাছ কলম দেওয়া হয় না। . সঞ

শ্রীহট্টের উব্র্ধর ক্ষেত্র চা চাষের উপযুক্ত হইলেও ১৮৮৫ খুষ্টাব্দের' পৃরর্ব পর্য্য্ত উন্নতি কল্পে বিশেষ যত্ন দেওয়া হয় নাই। ১৮৬৮ খৃষ্টাব্দে ২০৫০ একর ভূমিতে মাত্র চা আবাদ হইয়াছিল এবং

২৫১০০০ পাউও চা চালান হয়।

১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে চা চালানের পরিমাণ ৫৫৬১০০০ পাউও্ড হইয়াছিল। ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে চা চালানের পরিমাণ ২০৬২৭০০০ পাউণ্ড পর্য্যন্ত বর্ধিত হয়, বিগত ১৯০০ খৃষ্টাব্দে আবাদের পরিমাণ ৭১৪৯০ একর ভূমি এবং চা চালানের পরিমাণ ৩৫০৪২০০০ পাউও। গত ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে ১৩০৩৫৮ একর ভূমি আবাদ হইয়াছে।

ভিন্ন ভিন্ন স্থান হইতে আনীত কুলিরা চা-বাগানের কাজ করিয়া থাকে কুলিরাই চা পত্র সংগ্রহ করে, পরে কলের সাহায্যে তাহা ব্যবহারোপযোগী হয় আড়কাটিয়া নানারূপ প্রলোভন দিয়া দুর্তিক্ষক্িষ্ট দরিদ্রদিগকে ছোট নাগপুর প্রভৃতি অঞ্চল হইতেই সচরাচর আনয়ন করে। ইহাদের সংখ্যা ১৮৯১ খৃষ্টাব্দে ৭১৯৫০ জন ছিল, পরবর্তী দশ বৎসরে সংখ্যা বর্ধিত হইয়া ১৪৪৮৭৬ জনে পরিণত হইয়াছে ।৫

কফির চাষ

শ্রীহট্রের জঙ্গলে চার ন্যায় স্বভাবজাত কফি বৃক্ষও পাওয়া যায়; ১৭৮৯ খৃষ্টাব্দে পূর্বেই তাহা জানা গিয়াছিল।৬ শ্রীহট্রে কফির চাষও আরন্ত হইয়াছে দক্ষিণ শ্রীহট্রের অন্তর্গত মোনশীবাজার পোস্ট আফিসের অধীন, দৌরাছড়া লঙ্গাইছড়া নামে দুইটি কফিক্ষেত্র আছে ।৭ কফির চাষও ক্রমশঃ বর্ধিত হইবে বলিয়া আশা করা যায়।

৪. উ-পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য

৫. ১৯০১ খৃষ্টাব্দে আগত কুলিদের নিবাসস্থান সংখ্যা বঙ্গের বিভিন্ন স্থান হইতে আনীত ২২০৬৭ জন ছোটনাগপুর ২২৭৪৫ " মধ্যপ্রদেশ ১২৬৮১ যুক্তপ্রদেশ ৪১১৬৭ মান্দ্রাজ " ১০০৭৯

মোট - ১৪৪৮৭৬৫ ৬. শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ ৫ম খণ্ড ১ম অধ্যায়ে এতদ্বিবরণ বর্ণিত হইবে

৭, "০৪ 09001) 11) [110 170৬1100 01 /১5০11)”-1111) 11) 1902

শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৪

চতুর্থ অধ্যায় শিল্পোৎপন্ন দ্রব্য

সূত্র শিল্প

শ্ীহস্টের সুত্র-শিল্প বা বন্ত্রবয়ন নিতান্ত অবহেলনীয় ছিল না, দেশের অভাব দেশীয় শিল্লেই পূর্ণ হইয়া যাইত; বিদেশের মুখ পানে চাহিতে হইত না, কিন্তু এখন অতীতের গৌরব করা বৃথা ল্রপুরের উর্ণি চাদর, ঢাকাই উর্ণি হইতে কোন অংশে নিকৃষ্ট নহে। প্রমাণ চাদরের দৈর্ঘ্য ৭/৮ হাত প্রস্থ $ হাত হইয়া থাকে। লঙ্করপুরের নিকটবর্তী ছিলিমনগর নিবাসী তত্তুবায়গণ ইহা প্রস্তুত করিয়া থাকে। সূক্ষ্ম সৃত্রকে লাজমণ্ডে আর্দ করিয়া শুষ্ক করিলেই তাহা বয়নোপযোগী হয় তত্তুবায়গণ তাহাদের নিজের প্রস্তুত তাতে ইহা প্রস্তুত করিয়া থাকে; প্রতি চাদরের মূল্য ১০ হইতে পর্য্ত্ত। এই সকল তস্তুবায়েরা ধুতি শাড়িও প্রস্তুত করে। রঞ্জিত সূত্রের ডোরা বসাইয়া উৎকৃষ্ট শাড়ি প্রস্তুত হয়। ধুতি শাড়ির সাধারণতঃ ১০ হাত দীর্ঘ হাত প্রস্তুত থাকে। কিন্তু মূল্য অধিক হওয়ায় ধুতি বা শাড়ি অধিক বিক্রয় হয় না। বিলাতি সূত্রের প্রচলন হওয়ায় তাতিরা ২৫০ নং সুতা দ্বারা এরূপ বন্তরাদি তৈয়ার করে৷ এক যোড়া উৎকৃষ্ট ধুতি প্রস্তুত করিতে একজন শিল্পীর অন্ততঃ পনর দিন সময়ের আবশ্যক করে; এবং প্রায় পাচ টাকা মূল্যের ২৫০ নং সুতা লাগিয়া থাকে সুতরাং এক ঘোড়া ভাল ধুতি ১০ টাকা এবং শাড়ি ১২ টাকার কম মূল্যে বিক্রয় করিতে পারা যায় না। মূল্যবান উড়ানি চাদর প্রভৃতিতে মধ্যে মধ্যে সোনালী কাজও থাকে

এই গৌরবাত্মক ব্যবসাটি লোপ পাইতেছিল; দেশের লোক সস্তার মোহে ভুলিয়া স্থায়ীত্ব প্রতি দৃষ্টি না করিয়া, ইহার প্রতি যথোচিত আদর করেন নাই; ইহার সমধিক আদর বাঞ্থনীয়। দেশীয় লোকের নিকট উৎসাহ পাইলে ছিলিমনগরের তস্ত্ুবায়গণ ইহাতে আরও উৎকর্ষ প্রদর্শন করিতে পারিবে।

সার্ঘ শত বর্ষ পূর্বে তথায় ফ্লানেল বন্ত্রের থান প্রস্তুত হইত, কিন্তু এখন আর হয় না। অপকৃষ্ট হইলেও মূল্য অধিক দিয়া, দেশীয় দ্রব্যের আদর করা উৎসাহ দেওয়া উচিত, কথা সকলের বুদ্ধিতে প্রবেশ করে না; কাজেই ইহা লোপ পাইয়াছে।

এগ্ডি বস্ত্র

হবিগঞ্জের উত্তর মাছুলিয়া গ্রামের নমঃশুদ্র জাতীয় লোকেরা ২০/২৫ বৎসর পূর্ধে গুটিপোকা পোষিয়া, তাহার সুত্রে এক প্রকার মোটা এগ্ডি বন্ত প্রস্তুত করিত। স্বভাবজাত এরও (ভেরেপ্তা) বৃক্ষে পোকা ধরান হইত, এরও পত্র ভক্ষণ করিয়া গুটিপোকা ব!চে। এগ্ডি রেসম সূত্রের ধুতি মুগার ধুতি নামে কথিত হইত ।১ ইহার এক খান ৮/১০ বৎসর কাল অনায়াসে ব্যবহার করা যাইতে পারিত। ইহাও দেশের লোকের উৎসাহ অভাবে বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে বলিলে অতত্যুক্তি হয় না। তবে তত্রত) হিয়ালাগ্রামে এখনও ২/৪ ঘর নমঃশুদ্র গুটিপোকা পোষিয়া এগ্ডি বস্ত্র বয়ন করিয়া থাকে জলসুখার সর্নিকটেও ২/৪ ঘর নমঃশুদ্র এরূপ ব্যবসায়ে লিপ্ত আছে। যদি স্বদেশবৎসল শিক্ষিত ধনীদের অনুকূল দৃষ্টি সত্বর সত্বর এদিকে পতিত না হয়, তবে অচিরে ইহা বিলুপ্ত হইয়া যাইবে

১. [12091110191] 0077011৩01৬] 11. (15019017-1838) 0. 552.

চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৫১

জয়ন্তীয়াতেও এন্ড প্রস্তুত হইত, দেশীয় লোকের অবহেলা অনাদরে তাহাও বিলুপ্ত প্রায়: এখনও তথায় দুইজন শিল্পী বাচিয়া আছে এবং নিজ ব্যবহার্য্য বস্ত্াদি প্রস্তুত করতঃ এই শিল্পের নাম রক্ষা করিতেছে ।২

মণিপুরী খেস

বন্ত্রবয়ন বিষয়ে মণিপুরীদের উদ্যম অধ্যবসায় প্রশংসনীয় মাঞ্চেষ্টারের সুলভ বন্ত্র, খেস প্রস্তুত বিষয়ে তাহাদিগকে নিরুৎসাহ করিতে পারে নাই। নিজেদের প্রস্তুত খেস ফেলিয়া তাহারা বিদেশী সুলভ বস্ত্র ক্রয় করিতে অগ্রসর হয় না। মণিপুরী স্ত্রীলোকেরা সব্বদাই এই খেস ব্যবহার করে। সদর, প্রতাপগড় ভানুগাছ প্রভৃতি স্থানের মণিপুরীরা উৎকৃষ্ট খেস পাতল মশারি প্রস্তুত করে। খেসের মূল্য টাকা হইতে ৫/৭ পাচ সাত টাকা পর্য্যন্ত হয়। ভিতরে তুলা ভরিয়া মণিপুরীগণ “লাইচাং” নামে একরূপ শীতবস্ত্র বয়ন করে, লাইচাঙ্গের মূল্য ৪/৫ টাকা হইয়া থাকে মণিপুরীদের প্রস্তুত গামোছা সুলভ অথচ ভাল

যুগীয়ানা গিলাপ

যুগীয়ানা কাপড় এক সময় জিলায় সকলেই সাদরে ব্যবহার করিত; লজ্জানিবারক মোটা বন্ত্র পরিতে তখন কেহই লজ্জা বোধ করিত না। কিন্তু যে বিদেশী বস্ত্র পরিধান করা না করা প্রায় সমান, তদ্রীপ সূক্ষ্ম বস্ত্র সমধিক আদরণীয় হওয়ায়, যুগীদের বস্ত্র ব্যবসায় নিতান্ত মন্দীভূত ভাবে চলিতেছে। যুগীদের প্রস্তুত কাপড়ের মধ্যে “গিলাপ” বা জোড়া চাদর শীত নিবারণোপযোগী; শীত খতুতে অনেকেই এই “গিলাপ” ব্যবহার করেন; বিলাতি মূল্যবান সার্্জ প্রভৃতি হইতে অল্পমূল্যের এই গিলাপ শীত নিবারণ পক্ষে কম উপযোগী নহে গিলাপের থান ২২/২৪ হাত দীর্ঘ দেড় হাত প্রস্থ বিশিষ্ট হয়, সুতরাং মধ্যে সেলাই করিয়া হাত লম্বা জোড়া চাদর প্রস্তুত করতঃ ব্যবহার করিতে হয়। গিলাপের মূল্য ১।০ টাকা হইতে টাকা পর্য্যন্ত হইয়া থাকে। যুগীয়ানা ধুতি প্রভৃতির এখন আর আদর নাই; ইহার ব্যবহার একবারেই উঠিয়া গিয়াছে বলিলেও অত্যুক্তি নহে; তাহা না হইলে যুগী জাতির দুর্গতি কেন?

পৃবের্ব এদেশীয় স্ত্রীলোকেরা বিধবা হইলেই সুতা কাটিত, এখন তাহা প্রায় ভুলিয়া গিয়াছে। বিধবার সুতা তখন যুগীরা ক্রয় করিয়া লইত। এখন তাতি এবং যুগীরা আমদানীকৃত বিদেশীয় সূত্র দ্বারাই প্রায়শঃ বস্ত্র প্রস্তুত করে

শ্রীহট্টরের দ্বাবিংশতি লক্ষ অধিবাসীর মধ্যে ২৩৮৩ ব্যক্তি মাত্র সূতা কাটার ব্যবসায়ে লিপ্ত আছে এবং পঞ্চ সহস্র ব্যক্তি মাত্র এখন বন্ত্র বয়ন ব্যবসায়ে জীবিকা নিবর্বাহ করিতেছে; কিন্তু তাহাতেও চলে না-সঙ্গে সঙ্গে কৃষি চালাইতে হয়। না হইবে কেন? ইতর-জন ভদ্রলোকেরই অনুকরণ করিয়া থাকে; সভ্য ভদ্র লোকের অনুকরণে দেশের কৃষকেরাও এখন বিদেশীয় বস্ত্র বহুল পরিমাণে ব্যবহার করে। মাঞ্চেষ্টার, দেশের অর্থ শোষণ করিয়া লইতেছে; সরকারী গ্রন্থ পত্রেই একথা প্রকাশ 1৩ মণিপুরীগণ পুবের্ব বিদেশীয় বন্ত্র স্পর্শ করিত না, এখন পুরুষদের মধ্য রোগ কিয়ৎ পরিমাণে প্রবেশ করিয়াছে। ২,

010 11511 0110 15152160 109 /১55010050 111011৮8115 10196 56100160 01010.0001 01 1119, 10100512110 1811018 111115, 1101) 2 9৬ 0001 [011195011070 ৬1095, 01 06 ০1011) [019000১4 15 £701811% 111010€4 (শে 11000 ৬/০০1 4101 ৮০1 111110 0017005 (9 7101101 "

-4৯৯৯৭॥] 10190101 00760005 (9৮11101) ৬০1. [1]. 0. 154.

৩. 1100 8080 11055011170100191 [0090191191) 06. 015900 11) 00 01100]) 101)105 01 1510001003107 0710 110 11 1101110-11900 ০1011. "117 [001 09510 15 3171000019 10016561100, 1001 00৬/ 01 016]) 10101), 010 10011----- 1 1901, 006 ৮616 01119 50009 [15015 11) 5১11)01 ৬1)0১০ [011100100] 116007৯ 0110211) 10701106৬0৬ 0100 10011), ৯598] 1)150100 050/0010015 ৮০]. 1] (51101) 00010) ৬. 0. 154.

৫২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ মৎস্যের জাল

মৎস্য শিকারের জন্য শণসূত্রের দ্বারা নানারূপ জাল প্রস্তুত করা হয়, এস্থলে তাহারই উল্লেখ করা যাইতেছে।

মহাজাল--সর্বপ্রকার জালের মধ্যে মহাজাল সর্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ, ইহার এক এক খানা শতাধিক টাকা মূল্যে বিক্রয় হয়। এবং নৌকা সাহায্যে বহু স্থান ব্যপ্ত করিয়া এককালে বহুসংখ্যক মৎস্য ধৃত করা হয়।

বড় জাল অথবা গল্কা জাল--ইহার এক খানা ১৩-২০ টাকা পর্য্যন্ত মূল্যে বিক্রয় হয়। ইহা প্রায় ৭০ হাত দীর্ঘ হাতের কম পরিসর যুক্ত হয় না। জালের উপরে বংশদণ্ড খণ্ড সমূহ বীধা থাকায় জালের উপরি ভাগ ভাসিয়া থাকে; তাহাতে উপর দিয়া মৎস্য পলায়ন করিতে পারে না। পায়ের সাহায্যে এই জালের নিম্নভাগ চালিত করিতে হয়।

ঝাকি জাল-_-ঝাঁকি জালের প্রান্তভাগে সীসক খণ্ড সমূহ সংলগ্ন থাকে জাল হাতে লইলে সঙ্কৃচিত থাকে, এবং ছুড়িয়া জলে ফেলিতে বিস্তৃত হইয়া পড়ে তখন প্রান্ত সংলগ্ন এক গাছ দড়ি দ্বারা টানিয়া উঠাইয়া থাকে।

হুরাজাল-_ইহাও অতি লম্বা হয়। দুই দিকে দুই ব্যক্তি জালের উভয় প্রান্তে ধরিয়া, জাল টানিয়া লইয়া মৎস্য শিকার করে। হুরাজালের মূল্য ৬-৮ টাকা পর্য্যন্ত হয়।

খেত জাল-_এই জাল চতুষ্কোণ বিশিষ্ট ।8 +আকৃতি বংশদণ্ডে জালের চারি কোণ বাঁধিয়া জলে ডুবাইয়া রাখিয়া দেয়, দড়ির সাহায্যে ক্ষণে ক্ষণে টানিয়া তুলিয়া মৎস্য শিকার করে। ইহার এক খানা ৪-৭ টাকা মূল্যে বিক্রয় হয়

হেফাজাল-_ ইহা ত্রিকোণাকার। % ইংরেজী ওয়াই আকৃতি বংশদণ্ডে, ইহার তিন প্রান্ত বন্ধন করতঃ, নৌকায় বসিয়া মৎস্য শিকার করে ইহার মূল্য ৩-৪ টাকা হইয়া থাকে

আকৃতিতে ইহা ক্ষুদ্রতর হইলে “ছাটজাল” বলে, এবং তদপেক্ষা ক্ষুদ্র হইলে “পেলুইন” বলিয়া থাকে পেলুইন জালের | 1. মুল্য আনা পর্য্যন্ত হয়, অর হস্ত পরিমিত অল্প জলে ঠেলিয়া, তদ্বারা গুড়া মৎস্যই শিকার করে।

তদ্যতীত “উথাল জাল”, “সঙ্গা জাল”, প্রভৃতি নামে মৎস্য শিকারের জন্য আরও অনেক জাতি জাল আছে।

ব্যাঘব শিকারের জন্যও দড়ির জাল প্রস্তুত হয়। ব্যাঘ্ধ শিকারের জালের আকৃতি অনেকটা হুরাজালের মত। বংশদণ্ড দ্বারা জাল খাটাইয়া ব্যাঘকে বিতাড়িত করে তাহাতে পলায়ন করিতে গিয়া ব্যাঘ্ব জালে জড়িত হইয়া পড়ে শৃকরাদি জন্তু শিকারের জন্য তুল্যাকৃতি অপেক্ষাকৃত ছোট জাল ব্যবহৃত হয়। পক্ষী শিকারের জন্যও জাল প্রস্তুত ব্যবহৃত হয়। দুই দিকে দুখানা জাল মাটিতে বিস্তৃত থাকে, মধ্যস্থলে খাদ্য ছড়ান হয়। খাদ্যের লোভে পাখী গুলি পতিত হইলে, দড়ির সাহায্যে সেই জাল হঠাৎ টানিয়া পক্ষীদের উপর ফেলান হয়।

3০091 001101161105 019/055 1১601) 11100100710 11710003119 111 59110611৬1, 11171050)- %/010 ৬05 001180101 01016 |) 1780, 0011 070 5110) 01 4060) 10065 01৫01), ৮4101) 010৬ 17 1961 01 ৬০০ ১100) (011) 10900, 01)

07052161106. 0017৬140101910 101000119 11 100৬169111 10110 900 116 0150 0001]1 1661 091 20) ০1110)১, 4714 50111117071) 10 118070185, 109064 ৮101) 1100 01) 016 90085101) 014 5০91010) 10 11101 1010১14071০)

-/১55৪]) [01507101 02760105015, ৬০01. 11 (5511)21) 1১,115.

চতুর্থ অধ্যায় : শিল্পোৎপন্ন দ্রব্য শ্রৃট্টের ইতিবৃত্ত ৫৩

কাণ্ঠ শিল্প

শ্রীহট্টের কাষ্ঠ অতি উত্তম। মোগল সম্রাট আকবরের রাজত্ব কালেও শ্রীহট্র হইতে কাষ্ঠ বিদেশে রপ্তানি হওয়ার বিবরণ প্রাপ্ত হওয়া যায়। সে দেশে কাষ্ঠের এরপ প্রাচ্য এবং বৃহৎ নদী হাওরের বাহুল্য, সে দেশে নৌ-নির্মাণ বিষয়ে যে দক্ষতা প্রদর্শন করিবে, তাহাতে সন্দেহ নাই। শ্রীহট্টে প্রাচীনকালে সমর তরি প্রস্তুত হইত। ভাটেরার তাম্রফলকোল্লেখিত রাজা ঈশানদেবের সমর তরি ছিল, মোগল রাজত্বের সময় লাউড়াধিপতিকে রাজস্বের পরিবর্তে সমরতরি যোগাইতে হইত এই সমরতরি উৎ্রুষ্ট সক নৌকা বিশেষ

পূর্ব শ্রীহ্্রে সমুদ্র যানও নির্মিত হইত মিঃ লিগুসে সাহেব ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে প্রায় একাদশ সহমত মন বাহী এক জাহাজ নির্মাণ করিয়াছিলেন তদ্যতীত তিনি বিংশতি সংখ্যক জাহাজের এক বহর প্রস্তুত করিয়াছিলেন মান্দ্রাজে দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হইলে ধান্য বোঝাই হইয়া বহর তথায় গিয়াছিল।৫ এখন যদিও তদ্রুপ উৎকৃষ্ট তরি নির্মাতা নাই, তথাপি হবিগঞ্জ প্রভৃতি স্থানের সুদীর্ঘ “পলওয়ার” নৌকা বিশেষ উল্লেখযোগ্য 1৬

বালাগঞ্জ প্রভৃতি স্থানের নৌকাও সুন্দর সুবিস্তৃত। পাত্ুয়ার “বারকী” নৌকা অল্প জলে চলার পক্ষে বিশেষ উপযোগী অভিনব আকৃতি বিশিষ্ট

ভাঙ্গা, “মনুমুখ”, আজমীরগঞ্জ প্রভৃতি অনেক স্থানেই কাষ্ঠ চিরিয়া তক্তা দ্বারা নৌকা প্রস্তুত করা হয়।

কাষ্ঠ নির্মিত অন্যান্য দ্রব্য

কড়ি (বিম), বরগা, গৃহের খুঁটি, চৌকাট, কপাট ইত্যাদি সুদৃঢ় কাষ্ঠের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়। দ্রব্যগুলি সুত্রধরেরা সুন্দর মত প্রস্তুত করিতে পারে

চাপঘাট, লংলা, রাজনগর লক্করপুরে উৎকৃষ্ট পালকী প্রস্তুত হয়। শ্রীহট্ট, করিমগঞ্জ পঞ্চখণ্ডে উৎকৃষ্ট কেদারা ক্রয় করিতে পাওয়া যায়।

ঢাকা দক্ষিণে কাণ্টের খাঞ্চা বা বাটা (কাষ্ঠ নির্মিত থালা) এবং চাড়ী নামক কাষ্ঠপাত্র প্রস্তুত হয়।

শ্রীহট্ট, লাতু করিমগঞ্জে উৎকৃষ্ট কাষ্ঠপাদুকা (খড়ম) প্রস্তুত হয়। কাষ্ঠ পাদুকার জন্য কাষ্ঠনির্মিত বলুয়া এবং শিশুদের জন্য কাষ্ঠনির্মিত সুরঞ্জিত খেলানা শ্রীহস্রের বিশেষ কাষ্ট-শিল্প খেলানা প্রস্তুত বিষয়ে সুত্রধরগণ বিশেষ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ইহার পালিশ কার্য্যে রঙ্গের বাহারে সকলেরই মন মোহিত হয়। সাধারণতঃ ২৫টি খেলানার সেট ১1০ মূল্যে বিক্রয় হয়। বলুয়া এবং দাবা পাশাখেলার গুটিতেও রং দেওয়া হয়। তত্যতীত শ্রীহট্রে ইকার নারিচা, নারিকেল কুরানি প্রভৃতি নানা দ্রব্য প্রস্তুত হইয়া থাকে।

৮017৩ 58001৬131) 1101891 [9590১595 15951 (৬/0 10105 01 00015 1101 [0010 0156%/1)010, 016 [.0101101 12217 010 10৬01 ৮০০৫ 0010101 /570111150৭11011 তি60০010 001 1880-81

৬. সদরেব মটাই কোম্পানীর প্রস্তুত বেট লাঠি প্রসিদ্ধ কমুয়াদির সূত্রধর নিমাইচাদ বংশানুক্রমে বেহালা প্রস্তুত বিষয়ে সুশিক্ষিত ইন্দেশ্বরেব রাধাকিশোর সিংহ পাখাটানার কল আবিষ্কার করিয়াছেন; পঞ্চখণ্ডের এক ব্যক্তি কাষ্ঠ-নির্শিত সুক্ষ বেত্র-ফাড়া কল প্রস্তুত করিয়াছেন। তত্রত্য শ্রীবিপিনচন্দ্র দে কাঠের উপর উৎকৃষ্ট স্থায়ী নামের মোহর, চিত্র-ব্লক ইত্যাদি প্রস্তুত কবিতে সমর্থ, তাহা কোন অংশেই কলিকাতা নির্মিত রবাবষ্্যাম্প প্রভৃতি হইতে নিকৃষ্ট নহে: ইনি ওয়াটারপেইন্টিং চিত্র অঙ্কিত করিতে পারেন।

৫৪ শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

লাউড়ের প্রস্তুত হকার নল প্রসিদ্ধ

সদরে কাঠের লাঠি খেলার বেট প্রস্তুত হয়। তরফের কচুয়াদি গ্রামের সূত্রধর উৎকৃষ্ট বেহালা প্রস্তুত করিতে পারে ।৭

শ্রীহট্টে মণিপুরী জাতীয় সুত্রধরের কাণ্ঠের কার্য্য, বিশেষতঃ গৃহ নির্মাণাদিতে বিশেষ নৈপুণ্য প্রকাশ করিয়া থাকে।

কাষ্ঠের রথ নির্মাণে সূত্রধরগণ যথেষ্ট শিল্প চাতুর্য্য প্রদর্শন করিয়াছে; নবিগঞ্জ আখাইল কুড়ার রথ তাহার দৃষ্টান্ত স্থল। পুর্ব সুতারের কার্যে জাতিগত ছিল, এখন শিক্ষাগত হইয়া দীড়াইয়াছে। সুত্রধরের বেতন সাধারণতঃ দৈনিক আট আনা হইতে বার আনা পর্য্যন্ত হইয়া থাকে।

বংশ বেত্রশিল্প

এই শিল্পের মধ্যে শীতল পাটি সর্বপ্রধান বিশেষ বিখ্যাত। মূর্তা নামক এক জাতীয় গুলোর বেত্র দ্বারা ইহা প্রস্তুত হয়। ইহা শীতল, মসৃণ আরামজনক বলিয়া সর্বত্র আদৃত। বঙ্গদেশের অন্য কোথাও এইরূপ পাটি প্রস্তুত হইতে পারে না।

পাটির বেত্র রঞ্জিত ক্রমে পাশা, দাবা প্রভৃতি বিবিধ খেলার ছক ইত্যাদি চিত্রিত করা হয়। পাটির মূল্য গুণানুসারে 1০ আনা হইতে ১০ দশ টাকা পর্য্যন্ত হইতে পারে বেত্র যত চিকণ হয়, মূল্য ততই বর্ধিত হয়। পৃবের্ব নবাবের আমলে ২০/২৫ টাকা হইতে ৮০/৯০ টাকা, এমন কি শত দ্বিশত টাকা পর্য্যন্ত মূল্যের পাটি প্রস্তুত হইত বলিয়াও শুনা যায়। ২০/২১ হাত দীর্ঘ পাটিকে “সফ” বলিয়া থাকে। ইটা চৌয়ালিশ পরগণাতেই সর্বোৎকৃষ্ট শীতল পাটি শস্তুত হয়।৮ করিমগঞ্জের অন্তর্গত কোন কোন স্থানেও পাটি প্রস্তুত হইয়। থাকে পাটি প্রস্তুতকারণগণ “পাটিয়ারা দাস” নামে খ্যাত। ১৮৭৬-৭৭ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট হইতে ৩৯২৭ টাকা মূল্যের পাটি রপ্তানি হইয়াছিল

নল নামক গুল দ্বারা চাটি প্রস্তুত হয়; মূর্তাতেও চাটি প্রস্তুত হইয়া থাকে চাটি প্রস্তুতের বেত্র, পাটির ন্যায় সূক্ষ্ম নহে; কাজেই চাটি, পাটি অপেক্ষা মোটা এবং অল্প মূল্যে বিক্রয় হয়। সব্রবোৎকৃষ্ট চাটির মূল্য বার আনার অধিক হয় না; জলসুখা জগন্নাথপুর প্রভৃতি স্থানে চাটি প্রস্তুত হয়, জফরগড় প্রতাপগড়ের চাটি উৎকৃষ্ট

চাপঘাট তরফ পরগণায় বাশের ছিক্কা দ্বারা “নেউলি” প্রস্তুত হয়, নেউলি দেখিতে শীতল পাটির অনুরূপ এবং দীর্ঘতর নেউলিতে সাধারণতঃ ভাল গৃহের বেড়া প্রস্তুত করা হয়। আজ কাল নেউলির ব্যবহারটা পূর্র্ববৎ দৃষ্ট হয় না।

শ্রীহট্টের চাচ বা ধাড়া (দরমা) প্রসিদ্ধ; ইহা দূরবর্তী স্থানেও রপ্তানি হয়। করিমগঞ্জের অধীন ৭. এই উৎকৃষ্ট শিল্পটি ভগবানের কৃপায় এখন সমভাবে চলিয়াছে। ইটার ধুলীজুবা চৌয়ালিশের আটঘর গ্রামেই

উৎকৃষ্ট পাটি প্রস্তুত হয়। ধুলীজুরার শিল্পী যদুরাম দাস বিগত ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে কলিকাতার কৃষি-শিল্প প্রদর্শনীতে

৯০ টাকা মূল্যের এক পাটি প্রেরণ করিয়া প্রশংসাপত্র স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হন।

৮.0 08100 01৫ 09101)00 (07)110016 06 9%1170115 01020) 210 01 4 00১9 00081)1%, 0 581৬1069191 01101 005111? 85 110016 255/55 0. (6911 ০8106 08910915 210 8150 (91) 010611100 11) 0106 10401 0100 10110 1081 101101001118 0 91106 010 00106 ১১০০1110/- 1100 86177980৩01 ৮101 1510100৬111 95 00101000911) 00 &1170708%1016 91 10170000, 1১81 0001101) 01069 01719 00951 21)0111 010100 010105 2901, 0116 216 10110 0115১1601১9 00 11010901100 2101016 ৬/11101 15 যা)016 0017৬011617, 11 01180100811 0৫ 010900, 0110 10915 [19000] 10171

-/5550]া) [010101 05820116015 ৬01 11. (9911)01) 0180 0১158.

চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৫৫

লক্ষ্মীর বাজার, সেওলা, পঞ্চখণ্ড, জফরগড় এবং জলসুখা জগন্নাথপুর প্রভৃতি স্থানে চাচ প্রস্তুত হয়। বিগত ১৯০২-৩ খৃষ্টাবে শ্রীহট্ট হইতে ষ্টিমার যোগে ১৪০০০০ মন ওজনের চাচ ভিন্ন স্থানে রপ্তানি হইয়াছিল

এতদ্বযতীত শ্রীহট্ট সদরের বেত্র নির্মিত পেটারা, বাক্স, মুড়া এবং বাশের চেয়ার ইজিচেয়ার অতি প্রসিদ্ধ। বাক্স চেয়ার ইউরোপীয়ানগনের বিশেষ আদৃত। সদরের পক্ষীর পিঞ্জর বেশ সুন্দর সুলভ

বাশের টুকরি বা ধামা, ধান্য রক্ষার জন্য সুবৃহৎ “টালি” বা “আগুলি” এবং চালনি প্রভৃতি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সর্বর্বত্রই প্রস্তুত হইয়া থাকে।

এই'লিকে শরীর কারিরগান বিলের তা পদ কার দরের নেছা ভান পাড়ার কারিকরগণের প্রস্তুত বংশ-- বেত্র নির্মিত এক ছোট গৃহ ১৮৮৩ খৃষ্টাব্দে ইংলগ্ডের প্রদর্শনীতে প্রেরিত হইয়াছিল এই গৃহ বিশেষ প্রশংসিত পারিতোষিক প্রাপ্ত হয়।

পর্ণ তৃণ-শিল্প

এই শিল্পের মধ্যে শ্রীহট্রের পাতার ছাতি অতি বিখ্যাত। “ছাতাপাতি” নামক একরূপ পত্রের দ্বারা ইহা প্রস্তুত করা হয়। বংশ-বেত্রের ফ্েইমের ভিতরে “ছাতাপাতি' রাখিয়া ছত্র প্রস্তুত করে। ইহার মূপ্য সাধারণতঃ তিন আনা হইতে সাত আনা পর্য্যন্ত হয়। পূবের্ব বৃহদাকার “বেহারা ছাতি” প্রস্তুত হইত: বেহারাগণ সন্তান্ত ব্যক্তির উপর তাহা ধারণ করিয়া যাইত, এখন ইহার ব্যবহার উঠিয়া গিয়াছে বলিয়া প্রস্তুত হয় না।

পাতার ছাতি রৌদ্র বৃষ্টি বারণ পক্ষে অতি উপযোগী ! এই আবশ্যকীয় দ্রব্যটির ব্যবহার অনেকেই লজ্জাকর মনে করেন, কিন্তু গবর্ণমেন্ট এই পাতার ছাতি বাশের মুড়ার সুখ্যাতি না করিয়া থাকিতে পারেন নাই ।৯

পত্র নির্মিত ক্ষুদ্রাকার ছত্র কৃষকেরা মস্তকে বাঁধিয়া কাজ কর্ম করে, এরূপ ছত্রের নাম “ছাতা” ইহার মূল্য তিন পয়সা হইতে পাচ পয়সা পর্য্যস্ত।

কুশ নামক তৃণ দ্বারা ভানুগাছ পরগণায় কুশাসন প্রস্তুত হয়। ঢাকা দক্ষিণ পঞ্চখণ্ডের কুশাসন অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট

শ্রীহ্ট সদরের তালপত্রের পাখা বিখ্যাত অত্যুৎকৃষ্ট।

ধাতব শিল্প

তৈজসপত্রাদির মধ্যে শ্রীহন্র জিন্দাবাজারের প্রস্তুত পিতলের লোটা (ঘটি) উৎকৃষ্ট বেশ ব্যবহারোপযোগী ব্রহ্মচালে পিতলের বাসন পিটা কাসার কটোরা (বাটি) এবং করতাল প্রস্তুত হয়। শ্রীহট্ট, ব্রহ্ষচাল, বদরপুর, মাধবপুর, আখাইলকুরা শ্রীমঙ্গল প্রভৃতি স্থানে পিতল ভরত- কীসার বাসন প্রস্তুত হয়। পিতল দ্বারা সাধারণতঃ লোটা, কলস, তাগেরা, ডেগ, তসলা প্রভৃতি পর্তুত হয়। কাসাতে বাটি বাট্লই (তসলা বিশেষ), লোটা চুণের কৌটা প্রস্তুত হয়।

বদরপুরে মণিপুরীরা ভরত-কীসার লোটা ভরত-পিতলের বর্তুল (বাট্লই) করতাল প্রস্তুত করে। গলিত ধাতুই ভরত নামে কথিত হইয়া থাকে।

৯. এই বংশে বর্তমানে শ্রীযুক্ত বিষুণচরণ দে বি. বর্তমান আছেন

৫৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

ইটার পাচগাও রাজনগরের লৌহদ্বব্য অতি উৎকৃষ্ট। পীচগার কর্মকারগণ বহু পূর্ব হইতেই লৌহশিল্লে বঙ্গ বিখ্যাত হইয়াছিল, প্রসিদ্ধ জাহানকোষা তোপ ইহাদের বীর্তি।

জাহানকোষা তোপ-কাঠরার দক্ষিণপূবর্ব দিকে এক অশ্ব তরুর সংলগ্ন কাণ্ড মধ্যে এই প্রসিদ্ধ তোপ অদ্যাপি অবস্থিত রহিয়াছে ইহার দৈর্ঘ্য ১২ হাত, পরিধি হাত, মুখের বেড় দেড় হাত অগ্নি সংযোগ ছিদ্র দেড় ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট কামান সংলগ্ন পিত্তলফলক পাঠে জানা যায় যে, জাহাঙ্গীরনগরে জনার্দন কর্মকার কর্তৃক ১০৪৭ হিঃ সনে ইহা নির্মিত হয়। হরবন্নভ নামক এক ব্যক্তির তত্ত্বীধীনে পাচগার জনার্ঘন কর্মকার এই কামান নিম্াণ করেন। এই কামান নির্মাণ করায় জনার্দনের বংশ প্রসিদ্ধ লাভ করে, এবং কুলোজ্জ্বলকারী জনার্দনের নামে তাহার বংশ “জনাইর গোষ্ঠী” নামে খ্যাত হয় আজ পর্য্যন্ত জনাইর গোষ্ঠীর লোকেরা জাহান কোষার উন্লেখে গৌরব করিয়া থাকে জনার্দনের বংশে পরেও অনেক প্রসিদ্ধ শিল্পীর উদ্ভব হয়।১০

পাচগাও, রাজনগর থানার অধীন বলিয়া পাচগার প্রস্তুত লৌহ দ্রব্যও রাজনগরের জিনিষ বলিয়া খ্যাত। তন্মধ্যে খড়গ, বুকি দা, বটি দা, জাতি বা ছরতা প্রভৃতি বিখ্যাত খড়গ উৎকৃষ্ট বড় হইলে ১০/১৫ টাকা মূল্যে বিক্রয় হইয়া থাকে খড়গ প্রভৃতি উপর রৌপ্য পিতলের সুন্দর কারুকার্য করা হয় 1১১

শ্রীহট্টে সোনারূপার কার্য্য দেশীয় স্বর্ণকার মণিপুরীগণ করিয়া থাকে: সহরে ঢাকাবাসী স্বর্ণকারদের দোকানও দৃষ্ট হয়। জয়ন্তীয়ায় স্বর্ণকারের প্রস্তুত বিশেষ বিশেষ দ্রব্য প্রশংসনীয় লক্করপুরের সোনারূপার গিল্টির কার্ষ্য অতি চমৎকার প্রসিদ্ধ ।৯২ কারিগরেরা লবঙ্গ প্রভৃতি মসলার উপরও গিল্টি করিয়া দিতে পারে।

মৃৎ শিল্প হিন্দু কুমার জাতিরা এবং খুসকী নামক মোসলমানেরা মাটির বাসন প্রস্তুত করে কলসী, ঘট, পাতিল, সরা, কাই, সানকি, কুজা, কলকি কাছলা এবং মটকা প্রভৃতিই অধিকরপে প্রস্তুত হয়। মটকা কাছলা অতি বৃহৎ পাত্র। তদ্তীত সময় বিশেষে দেবমূর্তি হাতী ঘোড়া প্রভৃতি খেলানাও প্রস্তুত হইয়া থাকে৷ দেব দেবীর মূর্তি গঠন উপলক্ষে কুন্তকার গণকগণ মধ্যে মধ্যে শিল্পের চমৎকারিত্ প্রদর্শন করিয়া থাকে

১০. পাচ গার কর্মকারগণ পূবের্ব তরবারি বন্দুক প্রস্তুত করিত। ১৮৮২ শুষ্টান্দে কলিকাতার শিল্প প্রদর্শনীতে পাচগায়ের কমলচরণ ধর, কিশোররাম ধর কর্মকাব লৌহ দ্রব্য প্রেরণ করিয়া বিশেষ পারিতোধিক লাভ করেন। ১৯০৬ খৃষ্টানদের কলিকাতা কৃষিশিল্প প্রদর্শনীতেও তন্রত্য প্রাণকৃষ্ণ ধর, মধুসুদন ধর শঙ্গুনাথ ধর কর্মকার অনেক লৌহ দ্রব্য প্রেরণ করতঃ প্রসংশিত পুরফৃত হইয়াছেন। তত্রহ্য গোবিন্দরাম ধর একপ্রকার তালা প্রস্তুত করিয়া গিয়াছেন, এই তালা যুক্ত বাক্সের ডালা ফেলিয়া দিলেই বাক্স আপনা হইতে বন্ধ হয়;-চাবি ব্যবহারের আবশ্যক করে না, বাক্স খুলিতেই মাত্র চাবির প্রয়োজন

১১, "/১1 10511709017 11016 015 806৬ 11581710105 ৩10 1109) 511/01 50011] /0110 01001 1101) 10) 0৩০1 ১0). [11016 86 1077610015 9/0110015 110182১১014 1101) 508110100 01000810110811 1110 131517101,"

91801511001 /১05000115 01 /১5581]) ৮0] 1] (3911061) 01017. 0 22.

১২. /101001 50601911501 9911011701610001010 15 1৬1/9-৬/010, 006 081৬0101110) 00100101150 19 11011 11101700119 010 0506.11655 ৬0110 0017১1১05 911৬/া9 1815, /110) 01৩ ১০1৫ 0017106 ()যা 52010) 00) ৩৪০], (0115 1101) ৫1-12 00 42710, ৯1075 [গো 41712 00 42, 01001) [0] ব310) বি ৭5015 0106 [ংা। 3৯10) 0 ৬৯০1, 21010110115 (1017 2৬ 16) 2 ০1 -111101675 90211501091 8000 0105 0 ঠিডএ1 (১5110010011)

চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত ৫৭

বেযোড়া পরগণার বেঙ্গাড়ুবা গ্রামে পাক কার্য্ের উপযোগী সুদৃঢ় পাতিল প্রস্তুত হয়; সকল পাত্র “বেঙ্গাডুবি পাতিল” নামে পরিচিত রিচি পরগণার লুকরা গ্রামও মাটির বাসন প্রস্তুত জন্য বিখ্যাত। তরফের মাটির বাসনও অতি উৎকৃষ্ট তথায় কলসী, কলকি, সানকি, কুজা প্রভৃতি বহু প্রকার বাসন প্রস্তুত হয়। তন্মধ্যে কুজা কলকি প্রভৃতি দেখিতে চিনাবাসন বলিয়া বোধ হয়। শ্রীহট্ট সদরেও মাটির বাসন তৈয়ার হয়। বস্তুতঃ জিলার সর্বত্রই অল্প বিস্তর মাটির বাসন প্রস্তুত হইয়া থাকে শ্রীহট্ট জিলার মাটির বাসন দৃঢ়ত, ব্যবহারোপযোগী সুন্দর

প্রস্তর শিল্প পৃর্বকালে শ্রীহট্ে যে প্রস্তর শিল্প উৎকর্ষ প্রাপ্ত হইয়াছিল, উনকোটি তীর্থের প্রস্তর মূর্তি, জয়ন্তীয়া অন্যান্য স্থানের দেবমুর্তি এবং প্রতাপগড়ের রাজবাটীতে প্রাপ্ত প্রস্তর-চিত্র তাহার প্রমাণ বর্তমানে শ্রীহট্টে এই শিল্পের কোনরূপ কার্য্য দৃষ্ট হয় না। কেবল মাত্র জয়স্তীয়ায় প্রস্তরের “পাটা” (শিল নোড়া) শ্রীহস্টের প্রস্তর শিল্পের কঙ্কাল মাত্র রক্ষা করিতেছে

দন্ত শিল্প

শ্রীহট্টের হস্তীদন্তের পাটি ভারত বিখ্যাত। সদর পাথারিয়া পরগণায় ইহার কারিকরগণ ছিল, এখনও দুই একটি আছে। হস্তীদত্তের বেত্র চুলের ন্যায় চিন্ধণ করিয়া, তদ্বারা পাটি প্রস্তুত করা হয়। কখন কখন ইহার সহিত স্বর্ণতারের ফুল পাতা তুলিয়া সৌন্দর্য্য মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। এইরূপ এক একটি পাটি ৩-৬ শত টাকা মূল্যেও বিক্রয় করা হয়।

হস্তীদত্তে অতি সুন্দর উৎকৃষ্ট পাখা প্রস্তুত হয়। কলিকাতার যাদুঘরে শ্রীহস্টের কারিকর প্রস্তুত একখানা হস্তীদন্তের পাখা সযত্তে রক্ষিত হইয়াছে তদ্বতীত হস্তীদন্তের চুড়ী, চিরুণী, বাক্স, কৌটা, লাঠি, খড়মের খুঁটি দাব। এবং পাশাখেলার গুটি ইত্যাদি প্রস্তুত হয় ।১৩

হস্তীদন্তের কারিকরকে “খণ্ডিকর” বলে বড়ই দুঃখের বিষয়, এই অস্যুৎকৃষ্ট দেশীয় শিল্পটি উৎসাহের অভাবে লোপ হইবার উপক্রম হইয়াছে ধনবান বিলাসী ব্যক্তিগণ বিদেশজাত কাচ খণ্ড ডি গার গাাদাপাস রানি নার রান

কেন?

মহিষ সিং এর চিরুণী শ্রীহত্রে প্রস্তুত হইয়া থাকে হরিণের সিং কাটারীর বাঁট নির্বাণ প্রভৃতি

সামান্য কাজে লাগিয়া থাকে শ্রীহ্ট সহরের শাখারীরা দক্ষতার সহিত সুন্দর শাখা প্রস্তুত করিয়া

থাকে ।১৪

১৩. ৮110 11010012010 0 91011 1000101১ 1৬৩5 ৩7110109101 0 0 00011100101 1100015 10) 0116 10৮৮1) 01 51101 105৩ 01000100 0৩ 0000 001 05 501101171125 1101) 12৮5 ৬৪116 00701 510115

--010011015 51011510098] 18060811015 91 /555011) (১9111610001).

১৪. ১৮০৫ খৃষ্টাব্দে লক্ষৌবাসী শের আলী জাফর “আফেল-ই-মাহাফিল” নামক উর্দু গ্রন্থে শ্রীহন্টের বিবরণে এই বিষয়ে লিখিয়াছেনঃ-সিলেট, ইহা একটি পার্বত্য নগর এখানকার গঞ্ডার চরের ঢালের ন্যায় সুন্দর ঢাল ভারতবর্ষের কোন স্থানে প্রস্তুত হয় না এখানকার কমলা লেবু প্রসিদ্ধ পাহাড়ে মুসব্বর গাছ আছে। ইত্যাদি ঢালের উৎকর্ষ বিষয়ে হামিন্টন সাহেব লিখিয়াছেন_

“5110105171806 11) 51170110756 1072 0900) 00104 0/00810001 11018 (0111006111005010 000 90012010119 91006 10190 ৬৫110191) 100 /11011 01009 21৩ ৩০৮০1০৫|' ৬/ 11101111110) [300৭1111018 00/0101001৬01,11-1828 1) 5৭১.

৫৮ শ্রীহস্ট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ বিলুপ্ত চর্ম শিল্প শ্রীহট্টের ঢাল ভারত বিখ্যাত ছিল; শ্রীহট্ট সহরের লামা বাজারের পশ্চিমে ঢালকার পাড়া মহত্তায় পৃবের্ব ঢাল প্রস্তুত হইয়া ভারতবর্ষের সর্বত্র রপ্তানি হইত। পাথারিয়া পরগণাও উৎকৃষ্ট ঢালের জন্য প্রসিদ্ধ ঢাল প্রস্তুতকারীরা “ঢালকর” নামে খ্যাত। লামা বাজারের ঢালকর বংশ এখন প্রায় নির্মূল; ঢাল ব্যবসায়ও বিলুপ্ত। রিয়াজ-উস-সালাতিন প্রভৃতি পারস্য গ্রন্থে লিখিত আছে যে, উৎকৃষ্ট ঢালের জন্য শ্রীহস্ট সমস্ত হিন্দুস্থানে বিখ্যাত। অনেক ইংরেজ লেখকও ইহার উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন।১৫ ইটার কেওয়ালীরা পুরের্ব জুতা প্রস্তুত করিত, দেশীয় লোক তাহাই ব্যবহার করিত।

গন্ধ খাদ্য শিল্প

শ্রৃহট্র জিলার আতর প্রসিদ্ধ। পাথারিয়া পরগণায় আগর কাষ্ঠ হইতে উৎকৃষ্ট আতর প্রস্তুত হয়। পিঠাকরা নামক এক জাতীয় বৃক্ষের সার কাণ্ঠ চূর্ণ করতঃ তাহা চোয়াইয়া আতর প্রস্তুত করে ।১৬ আতর প্রস্তুতের কাষ্ঠ পরিচয় করা সহজ নহে, সকল বৃক্ষেই আতর হয় না। অনেক বৃক্ষই আগরের কাণ্ঠের ন্যায় গন্ধবিশিষ্ট হইলেও চোয়াইলে আতর বাহির হয় না, এইরূপ কাষ্ঠকে “আষ্টাং₹” বলে আতর প্রস্তুত হইয়া গেলে আগরচূর্ণ রাশি ফেলিয়া দেয় না, ইহাও কাজে লাগে আগর-চূর্ণে মণ্ড মিশাইয়া উৎকৃষ্ট “ধূপ” প্রস্তুত করা হয়। দেবার্চনাকালে ধূপ আগর-চূর্ণ, উভয়ই জ্বালান হয়। ইহার গন্ধ মনোহর আগরের আতর মোসলমানদের অতি প্রিয় পদার্থ; প্রাচীন কালাবধি ইহার আদর সমভাবে আছে আরব প্রভৃতি দেশেও আগরের আতর প্র !'সনীয়।

আগর ব্যতীত নাগেশ্বর ফুল হইতে একরূপ আতর প্রস্তুত হয়; বিশুদ্ধ নাগেশ্বরী আতরের গন্ধ সুদীর্ঘকাল স্থায়ী। খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে তরফের লালি গুড় অতি প্রসিদ্ধ ইহাকে একরূপ অপকৃষ্ট চিনি বলিলেই হয়। এই গুড়ের দানা বড় বড় হয় এবং খাইতে উত্তম। চরগোলা প্রভৃতি স্থান হইতে যথেষ্ট পরিমাণে গুড় রপ্তানি হইয়া থাকে।

১৫. 0) 78010110, 4 1000 91 ফি 25 01601600106 009 091100 /১5097, ৬4110] 051১0119410 05109817101

06508101) (0 /১18018 00001011065 2১801150910 07. 0655 0911801 1910701018-

17000101575 51811510041 80008105 ৬০01. 11 (5911001) 0. 25.

পাথারিয়া ঢাকা দক্ষিণেই আগর চোয়ান হয়। আজিমগঞ্জের হামিদ আলী চৌধুবীব আতর প্রস্তুতের বিস্তৃত কারবার আছে।

১৬. ভিন্ন দেশীয় কেহ কেহ মনে করেন যে, কমলার রসে “কমলা মধু” প্রস্তুত হয়, “সখী” নামক পত্রিকায় এইরূপ একটা কথা প্রকাশিত হইয়াছিল; ধারণা ভুল;-মধুমক্ষিকারাই কমলার ফুল-রেণু দ্বাবা কমলা বাগানে মধুচক্র প্রস্তুত করে। ইহার উপাদেয়তা সম্বন্ধে কবি প্যারীচরণ দাস লিখিয়াছেন-

“ভারতে কোথাও আর খুঁজে মিলা ভার, কমলা মধুর সম দ্রব্যে মিষ্ট তার। হায় বৃথা পুরাকালে নয়নের নীরে, তিতিলা দানবকুল জলধির তীরে; না পাইয়া সুধা (যবে ইঘদ্‌ হাসিয়া, ভুবন মোহিনী মুখে দিলেন বাটিয়া, মোহিনী মোহন কান্তি, দেবে দেব সীধু), ছিল নাকি সংসারে কমলার মধুঃ”-পদ্য পুস্তক কমলা মধু এত উৎকৃষ্ট, কবির এই সুন্দর বর্ণনায়ও যেন তাহার উৎকর্ষ প্রকটিত হয় নাই।

চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপন্ দ্রব্য শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ৫৯

তরফ, ভানুগাছ, পাথারকান্দি প্রভৃতি স্থানের মণিপুরীগণ ভাল চিড়া প্রস্তুত করে।

মধু মনুষ্য শিল্পীর প্রস্তুত না হইলেও এই স্থলেই তাহার উল্লেখ আবশ্যক ইন্দেশ্বর, চরগোলা শ্রভৃতি স্থান হইতে মধু সংগৃহীত হয়। কমলা-মধু এক দেব-দুর্নুভ বস্তু, ছাতক হইতে শ্রীহস্ট্ের বাজারে ইহা সংগৃহীত হয়।১৭ বংশীকুপ্তা, নবিগঞ্জ, আজমীরগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে ঘ্ৃত প্রস্তুত হয়; এবং সুনামগঞ্জ হবিগঞ্জ সবডিভিশনের শুষ্ক মৎস্য দূরদেশে রপ্তানি হইয়া থাকে।

লাক্ষা লাক্ষিক শিল্প

কুশিয়ারকুল, ভাটেরা, বরমচাল (্রক্ষচাল), লংলা, ইন্দেশ্বর, কাণিহাটা প্রভৃতি স্থানে বটবৃক্ষে লা- পোকা (পিপীলিকা বিশেষ) ধরান হয় পোকাণগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রশাখায় আঠার মত পদার্থ প্রস্তুত করে, এঁ পদার্থের বর্ণ লোহিত। প্রশাখা কর্তন করতঃ ইহা সংগৃহীত হয়; ইহারই নাম “লার ঝুরি ।”

লার কাজ যাহারা করে. তাহাদিগকে "লাহারি” বলে এবং কার্য্য “কুপ্তের কাজ” বলিয়া কথিত হয় লঙ্করপুরের নিকটস্থ লাকুড়িপাড়া উর্দু গ্রামের মোসলমানগণ লাক্ষারঞ্জিত লাঠি, রঙ্গীন বাক্স, বল্পম ছাতির বাট প্রস্তুত করে এক সময় ছাতির রঞ্জিত বাট বল্লম বিশেষ আদরনীয় ছিল, এখন উভয়ই অনাবশ্যক হইয়া পড়ায় আর প্রস্তুত হয় না!

লস্করপুরের লার চুড়ি এখন মোসলমান রমণীগণ অতি আদরের সহিত ব্যবহার করেন, ইহা বিখ্যাত বহু পরিমাণে প্রস্তুত হয়।

লার ব্যবসায় ক্রমশঃই হাস পাইতেছে, ২০/২৫ বৎসর পূবেব যেরূপ ছিল, এখন তাহার

চতুর্থাংশও নাই ।১৮ চাকরী ব্যতীত যে কোন আয়কব স্বাধীন ব্যবসায় করিলেই বাঙ্গালীর সন্ত্রমের হানি হয়!!

খনিজ দ্রব্য চ্‌ণ

রে

শ্রীহট্টভূমি রত্ুপ্রসূতি নানাস্থানে নানাবিধ পদার্থ আছে, কিন্তু ব্যবসায়ের বন্দোবস্ত নাই। খনিজ দ্রব্যের ব্যবসায়ের মধ্যে শ্রীহট্টের চুণের ব্যবসায়ই বিশেষ বিখ্যাত। মোগল রাজত্বের সময়েও ইহার ব্যবসায় চলিত, সে সমস্ত কথা যথাস্থানে উক্ত হইবে ছাতকের নিকটবর্তী উতম (উতমা) ব্রহ্ম পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে চুণা পাথর পাওয়া যায়। সকল স্থান হইতে “চুণা পাথর” সংগৃহীত হইয়া থাকে, এবং ছাতক হইতে সুনামগঞ্জ পর্য্যন্ত সুরমা নদীর ধারে ভাটায় জ্বালাইয়া ১৭. "/00800 25 96015 990, 190 ৮১ [017900০6৫17 00115100121)10 00121111105. 1011 00170015119 13 10৬/ 11) 0 ৬০7 17110001511106 00170011101), 11101105001 15 16260 0] 01101001101, 0007 (01106850175, ৮1101 110 01010101517950 1001 701 9000066460 | 0150০9৬০111, 11110 10710] 0001105 00070) 0170 0100- -/5521) [01511101 0220116615 ৬০1. [1] (১1101) 0191) 0 106 ১৮. প্রতি সহম্্র মণ চুণা ছাতকে আনয়ন করার ব্যয় নিম্নলিখিত বূপঃ-

খনন কার্য্যের মজুরি ৩০ টাকা ডিনামাইট টে... নৌকা বোঝাই বাবতে ১০ নৌকা ভাড়া ৫০ " সরকারী রাজস্ব ১৬২

এতদ্যতীত চুণাপাথর ভাটায় পোড়াইতে প্রায় ১২০ টাকা পর্য্যন্ত বায় হয়।

৬০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

তাহা ব্যবহারোপযোগী করিয়া লয়

ইংরেজ রাজত্ প্রথমে, রেসিডেন্ট (কালেক্টর) লিগুসে সাহেব চুণার কারবার করেন। তৎপর “ইংলিশ কোম্পানী” বহুকাল যাবৎ ছাতকে চণার কারবার করিয়া আসিতেছিলেন; সম্প্রতি (১৯০২ খৃষ্টাব্দে) ময়মনসিংহের গৌরিপুরস্থ স্বদেশবৎসল জমিদার শ্রীযুক্ত ব্রজেন্ত্রকিশোর রায়চৌধুরী ব্যবসায় করিতে আরন্ত করিয়াছেন এই বিষয়ের বিস্তৃত বিবরণ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ পঞ্চম খণ্ডে ৪র্থ অধ্যায়ে বিবৃত করা যাইবে

১৯০২-৩ খৃষ্টাবে শ্রীহট্র হইতে প্রায় ২০ লক্ষ মণ চূণা রপ্তানি হইয়াছিল, কলিকাতায় প্রতি সহস্র মণের মূল্য ২৯০ টাকা হইতে ৪০০ টাকা পর্য্যন্ত হইয়া থাকে ।১৯ জয়ন্তীয়ার জাফলঙ্গের পাহাড়েও চুণাপাথর আছে।

লাউড়ের পাহাড়ে লোহা আছে, কিন্তু তাহা উঠাইবার কোন চেষ্টা হয় নাই।

তৈল

শ্রীহট্ট কাছাড় জিলার মধ্যস্থ ঝালনা ছড়ায় মেটে তৈল মিলে ১৯০৫-৬ খৃষ্টাব্দের “পূর্ববঙ্গ আসামের এড্মিনিস্ট্রেশন রিপোর্টে” দৃষ্ট হয় যে, বদরপুরে বরাক নদীতীরে পিট্রিলিয়াম তৈল পাওয়া যায়। এই তৈলে স্নেহ পদার্থ অধিক থাকায় কিঞ্িৎ ভারি !

জয়ন্তীয়া পাহাড়েও সম্প্রতি একরূপ খনিজ তৈল আবিষ্কৃত হইয়াছে ।২০

কয়লা

কয়লা শ্রীহন্ট্রের পাহাড়ে পাওয়া যাইতে পারে কি না, বিষয়ে অনুসন্ধান হইলে, জানা যায় যে, শ্রীহট্ে কয়লার খনির অভাব নাই। জয়ন্তীয়া লংলার পাহাড়ে কমলা আছে। লংলা পাহাড়স্থ কয়লার খনি ১৮৭৬ খৃষ্টাব্দে আবিস্কৃত হইয়াছে, কিন্তু এযাবৎ কয়লা উত্তোলনেব কোনবপ চেষ্টা হয় নাই ।২১

লবণ

বহু পূর্বে দেশীয় লবণই লোকে ব্যবহার করিত বলিয়া জানা যায়। নবাবি আমলেও এদেশের লবণের খনি হইতে লবণাক্ত জল সংগ্রহ পূর্বক লবণ প্রস্তুত করা হইত। লবণের খনিকে এদেশে “খুলি” বলিয়া থাকে খুলির জল দেখিতে কর্দমাক্ত বোধ হয়, ইহাই সং করতঃ জ্বাল দিলে লবণ পাওয়া যায়। খুলির লবণ ঈষৎ কথায়

লঙ্গাই শিংলা উজানের পাহাড়ে খুলি আছে। লঙ্গাই-আটিল গাঙ্গের মুখ নামক স্থানের বাজারিছড়ার খুলি প্রসিদ্ধ; শিংলা উজানের গুদগুদি ছড়ার খুলি বিখ্যাত

১৯, ৮1106 07500৬10416 0811 01001011511 00001601011 50111105111 01010111013 111115191৬1 13050 17 41১12001404

710 81061911018) 07 1010 40169110106 09010981081 ১01০ 01 110019-1901.

২০, 0041 179516001001 (1870) 0601) 01১0%০100 81 1.0100111, 00116) ৫000111101005 1196 901 1067 0 01119, 1071091 100 ৬০100 01016 ১11 ৮০0১০1৬ -1100100075 91811০01001 4১০09001005 0) ১১০।)। ৬01- 11 (5911761) 1) 21

২১, [010১১511501 0001 0150 06107 150008110 11117018100) ৮8116551001009 8110110)11090৬ 9011601) 176100 10 18 11)01)) ৯১৬০] 1)15107101 04/601601% 50) 11 (5911001) 001) 1 11

চতুর্থ অধ্যায় : শিল্লোৎপনন দ্রব্য শ্রহট্টের ইতিবৃত্ত ৬১

দু-আলিয়া পাহাড়ের নুণ্টাছড়ার উৎপত্তি স্থলে লবণের খুলি থাকায় উহার জল লবণাক্ত ছিল; যে বংশীয় লোকেরা তদ্বারা লবণ প্রস্তুত করিত. অদ্যাপি তাহারা “নুনির বংশী” বলিয়া কথিত হয়েন।

আদম আইল পাহাড়ের উত্তর পূর্ব প্রান্তে দাসগ্রামের নিকট লবণের এক বৃহৎ খুলি ছিল, খুলির লবণ প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হইত; অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে খুলি পাথর চাপা দিয়া নষ্ট করা হয়।

লৌহাদি

শ্রীহট্টের নিকটস্থ পর্র্বতের প্রস্তুর গুলিতে (ঝাওয়া পাথর) লৌহ প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। পূর্বে এই দেশী লৌহ “ঢেলিলোহা” নামে কথিত হইত, তদ্বারা লোকে দ্রব্যাদি প্রস্তুত করিত।

শুক্তি মুক্তা__ঘুঙ্গিয়া জুরির হাওরে উৎকৃষ্ট শুক্তি মিলে। তরফের করম নামক ক্ষুদ্র নদীর ঝিনুক হইতে মুক্তা পাওয়া যাইত বলিয়া কথিত আছে।

প্রস্তর মাটী--শ্রীহট্ট জিলার নানাস্থানে বহু পরিমাণে প্রস্তর প্রাপ্ত হওয়া যায়, প্রস্তর সমূহ ইমারত ঘাট ইত্যাদি প্রস্তুত কার্য্যে ব্যবহৃত হয়। জয়ন্তীয়া পাহাড়ে প্রাপ্ত প্রস্তর রাশিই অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট।

“ঢেউমাটী” নামে কথিত লৌহমিশ্র রঞ্জিত মৃত্তিকা সর্ব্রই প্রাপ্ত হওয়া যায়। দিনারপুরের ঢেউমাটি উৎকৃষ্ট।

৬২ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

পঞ্চম অধ্যায়

বাণিজ্য

শ্রীহট্টের বাণিজ্য নিতান্ত অবহেলনীয় নহে প্রায় অর শতাব্দী পূর্বে পাশ্চাত্য বণিকগণ এক বৃহৎ কোম্পানী গঠিত করিয়া চীন, জাপান প্রভৃতি দেশের সহিত বাণিজ্য করিতে মনস্থ করেন, তাহাদের সঙ্কল্প কার্যে পরিণত হইলে, এই শ্রীহট্ট নগরীই সেই প্রাচ্য বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থান হইত, বণিক সমিতির মন্তব্যে ইহা অবগত হওয়া যায়।১ তখনও ভারতবর্ষের পূর্ববপ্রান্তে শ্রীহট্টই সর্রপ্রধান বাণিজ্য স্থান ছিল।

বাণিজ্য স্থান

নদীতীরবর্তী কয়েকটি প্রধান গঞ্জ বা বাজারট শ্রীহট্টের প্রধান বাণিজ্য স্থান শ্রীহট্ট (কাজির বাজার বন্দর বাজার), বালাগঞ্জ, করিমগঞ্জ, মৌলবীবাজার, নবিগঞ্জ, সমসেরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, আজমীরগঞ্জ বাণিয়াচঙ্গ প্রধান বাণিজ্য স্থান। এতদ্বযতীত বহুতর বাজার অন্তর্বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত: খ.-__-পরিশিষ্টে বাজার গুলির নামাদি লিখিত হইল অন্তর্বাণিজ্য সাধারণতঃ নৌকা ভারবাহী মজুরদের দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে বিদেশের সহিত নৌকা, ষ্টিমার গেইলওয়ে এই ত্রিবিধ উপায়েই বাণিজ্য কার্ষ্য চলিয়া থাকে

ষ্টিমার লাইন

ঢাকার অন্তর্গত নারায়ণগঞ্জ বন্দর হইতে “ইগ্য়া জেনারেল ষ্টিম নেভিগেশন কোম্পানীর” একখানি ষ্টিমার প্রত্যহ শ্রীহট্রের জন্য যাত্রা করিয়া, তথা হইতে ১৭টি ষ্টেশন অতিক্রম করতঃ শ্রীহট্ট জিলায় প্রবেশ করে। শ্রীহট্ট জিলায় যথাক্রমে মাদনা, (এস্থান হইতে জলপথে এবং স্থলপথে হবিগঞ্জ যাইতে হয় ।) বিথঙ্গল, আজমীরগঞ্জ, মহাকুলি, ইনায়েতগঞ্জ, শেরপুর, মনু-মুখ, (এস্থান হইতে স্থলপথে মৌলবীবাজার যাওয়া যায়।) বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, (এস্থান হইতে স্থলপথে শ্রীহট্ট সহরে যাইবার সড়ক আছে ।) নায়ের ঘাট, (এস্থান হইতে ঠাকুরবাড়ী অল্পদূরে 1) বৈরাগীবাজার, সেওলা, লক্ষমীবাজার, করিমগঞ্জ, ভাঙ্গাবাজার বদরপুর এই ১৬টি ষ্টেশন অতিক্রম করিয়া, কাছাড় জিলায় প্রবেশ করে তিনটি স্টেশনের পব্ই শিলচর পৌঁছে। এই স্টিমার যথাক্রমে পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালনি-বিবিয়ানা কুশিয়ারা-বরাক দিয়া শিলচরে যায়

উক্ত কোম্পানীর আর একখানা ষ্টিমার পূর্বোক্ত পথে মহাকুলি পর্য্যন্ত আসিয়া, ভিন্ন পথে দিরাই, পাসাইয়া কলস, সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, হরিপুর, ছাতক, কলারুকা, গোবিন্দপুর, লামা কাজিরবাজার, বাইয়ার মুখ ষ্টেশন হইয়া শ্রীহট্ট সহরে পৌছে। এই ছ্লিমার পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালনি-বিবিয়ানা সুরমা দিয়া শ্রীহট্টে পৌছে।

একখানা ক্ষুদ্র ট্টিমারলঞ্চ অধিক বর্ষা হইলে, করিমগঞ্জ হইতে নটী খাল লঙ্গাই দিয়া প্রতাপগড়ের চান্দখিরা বাগান পর্য্যন্ত গমন করে। ফেঞ্চুগঞ্জ ষ্টেশন এই কোম্পানীর সমস্ত ষ্টেশন

১. ”]101 010 100160101906 10111715105 0000 ০9010107001 ১91101, ০1190001111 11) 00007 0৮411 00081101110 -]16 10117081 0110170 /5518010 3001015 01 1361001-1847 52191

পঞ্চম অধ্যায় : বাণিজ্য শ্রীহস্রের ইতিবত্ত ৬৩

হইতে বৃহত্তর ষ্টিমারের কলকজা হঠাৎ নষ্ট হইয়া গেলে তাহা মেরামত করিয়া লইবার জন্য এখানে একটা ক্ষুদ্র কারখানা আছে।

রেইলওয়ে লাইন

আসাম বেঙ্গল রেইলওয়ের কার্য্য ১৮৯২ খৃষ্টাব্দে আরন্ু হইয়া, ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে প্রথমতঃ শিলচর পর্য্যন্ত গাড়ী চলিয়া ছিল। এই রেইলওয়ে লাইন শ্রীহট্ট জিলার দক্ষিণ দিক দিয়া সমস্ত শ্রীহট্ট জিলা ভেদকরতঃ চলিয়া গিয়াছে। চট্টগ্রাম বন্দর হইতে ১৩৫ মাইল দূরে, কাশিমনগর পরগণায় প্রবিষ্ট হইয়া, বদরপুরে ২৫৩ মাইল চিহ্বের নিকট শ্রীহট্ট জিলা ত্যাগ করিয়াছে শ্রীহ্ট জিলার মধ্যে যে সকল ষ্টেশন পড়িয়াছে, পশ্চিম হইতে তাহাদের নাম যথাক্রমে লিখিত হইল$__

সর্ব প্রথম ষ্টেশন (হবিগঞ্জের অন্তর্গত) মনতলা (১৪২ মাইল চিহ্ন), তৎপর ইটাখলা (১৪৭ মাইল চিহ), সাহাজীবাজার (১৫৫ মাইল চিহ), শায়েস্তাগঞ্জ (১৬০ মাইল চিহ্ন), দারাগাও (১৬৫ মাইল চিহ্ন), রসিদপুর (১৬৮ মাইল চিহৃ); দক্ষিণ শ্রীহট্ন্তর্গত) সাতগাও (১৭৫ মাইল চিহ্‌), শ্রীমঙ্গল (১৭৯ মাইল চিহ্ু), আলীনগর (১৮৭ মাইল চিহ্ন), শমশের নগর (১৯১ মাইল চিহ্ন) টীলাগাও (১৯৭ মাইল চিহ্ন), কুলাউড়া (২০৫ মাইল চিহ্ু), জুড়ী (২১২ মাইল চিহৃ): (করিমগঞ্জাত্তরগত) দক্ষিণভাগ (২১৬ মাইল চিহ্), বড়লিখা (২২২ মাইল চিহ), লাতু (২২৯ মাইল চিহ), লঙ্গাই (২৩৮ মাইল চিহ্), করিমগঞ্জ (২৩৯ মাইল চিহ), চরগোলা (২৪৩ মাইল চিহ্ত), ভাঙ্গা (২৪৭ মাইল চিহ্ন) বদরপুর জঙ্কশন (২৫২ মাইল চিহ্ন)। বদরপুর জঙ্কশন শ্রীহট্র জিলার মধ্যে বড় ষ্টেশন শ্রীমঙ্গল, শমশের নগর, লঙ্গাই চরগোলা; এই ষ্টেশনেই অধিক মাল উঠিয়া থাকে ফেঁচুগঞ্জ হইতে শ্রীহট্র পর্য্যন্ত ঘোড়ার গাড়ী চলিয়া থাকে

কাচা সড়ক

প্রাচীনকালে শ্রীহন্ট জিলায় কয়েকটি সড়ক ছিল, তাহার ভগ্নাবশেষ এখনও আছে। তন্ধ্যে (প্রতাপগড়, জফরগড় প্রভৃতি পরগণায়) পিঠাখাউরীর জাঙ্গাল, (ঢাকা দক্ষিণে) দেওয়ানের সড়ক, (লংলায়) রাজসড়ক প্রভৃতির নাম করা যাইতে পারে। ইংরেজ আগমনের পূর্বেই সকল সড়ক নষ্ট হইয়া যায়। শ্রীহট্টের কালেক্টর মিঃ লোজ সাহেবের (১৭৯৪ খৃষ্টানদের) রিপোর্টে জ্ঞাত হওয়া যায় যে, তাহার পূর্ববর্তী শাসনকর্তা (মিঃ আমুটার) নিজ ব্যয়ে প্রস্তুত একটি মাত্র সড়ক ছিল। হন্টার সাহেবের ইতিহাসে লিখিত আছে যে, ১৮৫৩ খৃষ্টাব্দে শ্রীহস্র হইতে কাছাড় পধ্যত্ত ৮২ মাইল দীর্ঘ একটি মাত্র পথ ছিল। ১৮৭৬ খৃষ্টান শ্রীহট্র-ছাতক রাস্তা আরন্ত হয়। এই দুইটি সড়কই সুপ্রাচীন ইদানীং বহুতর সড়ক প্রস্তুত হইয়াছে। চ-পরিশিষ্টে প্রধান প্রধান সড়ক গুলির বিবরণ লিখিত হইবে

শ্রীহট্ট জিলায় সম্প্রতি পাবলিক ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্টের অধীনে প্রায় ১২০ মাইল এবং লোকেল বোর্ডের অধীনে প্রায় ১২০০ মাইল সড়ক সংরক্ষিত আছে।

শ্রীহন্ট হইতে শিলং ৭২ মাইল। শিলং যাওয়ার পথে একটু বিশেষত্ব আছে। শ্রীহট্ট সহর হইতে স্থলপথে হাটিয়া বা নৌকাযোগে ছাতক হইয়া কোম্পানীগঞ্জ, তথা হইতে থারিয়া ঘাট যাইতে হয়। থারিয়া ঘাট হইতে উদ্ধদিকে পাহাড়ের উপর উঠিতে হয়। পদরব্ুজে যাওয়া কষ্টকর বিবেচনায় অধিকাংশ লোকই “থাবা” আরোহণে শিলং যায়। থারিয়াঘাটে থাবা পাওয়া যায়। থাবা দুই প্রকার; ঝুড়িবৎ দীর্ঘাকার থাবা দ্রব্যাদি বহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। মনুষ্য বহনোপযোগী

৬৪ শ্রীহস্ট্ের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

থাবা বাশের একরূপ মোড়া বা চেয়ার বিশেষ খাসিয়ারা এই থাবা সংলগ্ন রজ্জু মাথায় দিয়া থাবা পৃষ্ঠদেশে লয়, আরোহী তদুপরি উপবেশন করে। খাসিয়ারা আরোহী সহিত থাবা পৃষ্ঠে লইয়া অনায়াসে পাহাড়ের উপর দিয়া চলিয়া যায়। শ্রীহট্ট হইতে শিলং যাইতে রাজারগাও, কোম্পানীগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ, থারিয়াঘাট, চেরাপুঞ্জী, চেরাডিম, ডম্পেপ্‌, মালিম প্রভৃতি প্রধান জায়গা অতিক্রম করিতে হয়।

আমদানী রপ্তানি আমদানী

শ্রীহট্ট জিলায় প্রতিবর্ষে লবণ, তৈল নানাজাতি দাইল, ওঁষধ, চিনি, মিছরি, ময়দা প্রভৃতি খাদ্য দ্রব্য; কড়াই বর্গা প্রভৃতি লৌহ নির্মিত দ্রব্য; মদ, গাজা, আফিম প্রভৃতি মাদক দ্রব্য; চীনাবাসন, এনামেলড বাসন, পিতল কীসার বাসন, সুপারি নারিকেল; এলাচ লবঙ্গ প্রভৃতি মসল্লা; পেঁয়াজ, তামাক মৌরী প্রভৃতি; করগেটেডু আয়রণ, আলকাতরা, বিলাতী মাটি প্রভৃতি আমদানি হয়।

রপ্তানি

রপ্তানির মধ্যে নিশ্নলিখিত দ্রব্যগুলি প্রধানঃ-_-চাল ধান; (করিমগঞ্জ, দক্ষিণ শ্রীহট্ট, হবিগঞ্জ সুনামগঞ্জ হইতে অধিক ।) চা, (করিমগঞ্জ দক্ষিণ শ্রীহট্ট হইতে অধিক ।) তিসি, সর্ধপ, কমলা কমলামধু, (অধিকাংশই ছাতক হইতে প্রেরিত হয়।) মধু, মোম, লা, আগরকাষ্ঠ আতর; (করিমগঞ্জ সবডিভিশন হইতে); তেজপত্র, মরিচ, মধু (জয়ন্তীয়া হইতে); কার্পাস, চর্ম, ঘৃত, (আজমীরগঞ্জ সুনামগঞ্জ হইতে); পুরাতন ঘৃত (জলসুখা হইতে); চুণা (ছাতক লাউড়ের অন্তর্গত তেলিগা হইতে রপ্তানি হয় ।) শীতলপাটি, সফ খড়গা, (দক্ষিণ শ্রীহট্ট হইতে), আনারস, বাশ, বেত, ছন, কাণ্ঠ, চাচ, চাটি, (কেরিমগঞ্জ সবডিভিশন হইতে প্রেরিত হয়।) পাতার ছাতি বাশের মুড়া (সদর শ্রীহট্ট হইতে) এবং আলু (ভোলাগঞ্জ জয়ন্তীয়া হইতে); শুষ্ক মৎস্য (সুনামগঞ্জ হবিগঞ্জ হইতেই প্রধানতঃ রপ্তানি হয় প্রতি বৎসর প্রায় লক্ষ টাকার শুষ্ক মৎস্য রপ্তানি হইয়া থাকে ।) তদ্যতীত সর্প তৈল, মাছের তৈল, হস্তীদত্ত, মহিষের সিং, হরিণের সিং, চর্ম, মৃত জন্তুর হাড় প্রভৃতি রপ্তানি হয়।

উষধের মধ্যে চারুচিনি, চালমূগরার তৈল, বংশলোচন, এবং পশুর মধ্যে হস্তী বিদেশে প্রেরিত হয়। ছাপরা জিলার হরিহরছত্রের মেলায় শ্রীহস্টের হস্তী বিক্রয় হইয়া থাকে।

ঢাকা, কলিকাতার সহিত পরোক্ষভাবে এবং খাসিয়া পর্বত, পার্বত্য ত্রিপুরা কাছাড় জিলার সহিত সাক্ষাৎ ভাবে বাণিজ্য চলিয়া থাকে খাসিয়া পর্বত হইতে চুণা, আলু, কমলা, মধু পাণ এবং সৃতা আমদানী হয়। খাসিয়ারা ইহা বহন করিয়া আনিয়া থাকে, এবং প্রত্যাগমনকালে ধান্য, তৈল, শুষ্ক মৎস্য লইয়া চলিয়া যায়।

পার্বত্য ত্রিপুরা হইতে সুতা, তিল, বেত কাষ্ঠ প্রভৃতি লঙ্গাই শিংলা নদীপথে এবং জুড়ী, মনু খোয়াই নদী দিয়া আসিয়া থাকে শ্রীহস্টর হইয়া বিভিন্ন স্থানে প্রেরিত হয়। এই সমস্ত দ্রব্য মনুমুখ মুছিকান্দিতে রিজেষ্টরী হইয়া থাকে।

শ্রীহট্ট হইতে পার্বত্য ত্রিপুরায় তামাক, মসাল্লা শুষ্ক মৎস্য রপ্তানি হয়। ১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট হইতে প্রায় ২০০০০ টাকার শুষ্ক মৎস্য পার্বত্য ত্রিপুরায় রপ্তানি হয়। ১৯০৫-৬ খৃষ্টাব্দে

পঞ্চম অধ্যায় : বাণিজ্য শ্ীহত্টরের ইতিবৃত্ত ৬৫ শ্রীহট্ট হইতে ১৩৫২১৩ মণ কয়লা বিদেশে রপ্তানি হইয়াছে। নৌকাযোগে যে সমস্ত দ্রব্যাদি আমদানী রপ্তানি হয়, ভৈরব বাজারে তাহার রেজেষ্টরী হইয়া থাকে ।২

শ্রীহট্রের বনজাত দ্রব্যাদি বিভিন্ন নদী পথে রপ্তানি হইয়া থাকে, সকল দ্রব্যের কর আদায়ের জন্য গবর্ণমেন্টের ১১টি ফরষ্টে আফিস আছে ।৩

আবগারী সম্বন্ধীয় দোকানের সংখ্যা শ্রীহট্ট জিলায় প্রায় ১৬২টির ন্যুন নহে ।8

২. ১৯০৩ খৃষ্টান্দেব ৩১শে মার পর্য্যস্ত, পূর্ব পাচ বৎসরের আমদানী বপ্তানিৰ গড়পড়তা মণ কবা (সহস মণের হিসাবে) প্রদর্শিত হইতেছেঃ__

আমদানী কত | দ্রব্য পাচ বৎসনের গড় | রপ্তানি কৃত দ্রব্য

আলু ৩৫ সহস্র মণ কাষ্ঠ ১৪ সহস্র মণ কয়লা চর্ম শৃঙ্গ ১৭:

তগ্ডুল চুণা " ১৮৪৭ তামাক তুলা 5৬, তৈল” ততুল ১৮৭০ " ধাত পাট ১৭.

মটর ইত্যাদি পাটি চাটি ইত্যাদি| ১৩৮

মসাল্লা মসাল্লা ২৮"

লবণ শর্ষপাদি বীজ ১০

ররর পা

৩. পাথারকান্দি, লঙ্গাই, শিলুয়া, মৌলবীবাজার, মনুমুখ, কানাইরঘাট, ছাতক, সুনামগঞ্জ লাউড্রেরগড়, মুচিকান্দি দিনারপুর | ৪. দোকান সংখ্যা বিক্রয়ের পরিমাণঃ-

আফিম ২১টি দোকান। (১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে বিক্রয় ১৬/।০ মণ) গাজা ৯৪টি (১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে বিক্রয় ২৩২/৪০ মণ) দেশীয় মদ ৪৭টি (১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে বিক্রয় ২৩২/০ মণ)

শীহষ্টরের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৫

ষষ্ঠ অধ্যায়

ইতর প্রাণী

শ্রীহন্্রের জঙ্গলে প্রায় সর্ব্বপ্রকার হিংস্র জন্তুই আছে। আরণ্য জন্তুর মধ্যে সব্বাগে শ্রীহত্রে হস্তীর বিষয় উল্লেখ করা কর্তব্য

হস্তী .. হস্তীরা দলবদ্ধ ভাবে বিচরণ করে। প্রতি দলেই চরাল কুন্কী নামে কথিতা এক একটি বৃহতকায় হস্তিনী এবং গুপ্তা নামে কথিত এক একটি দীতাল হস্তী থাকে৷ ইহারাই দলপতি স্বরূপ। এক স্থান হইতে স্থানান্তরে যাইতে চরালকুন্কী সর্বাগ্রে গুপ্তা সবর্ব পশ্চাতে থাকে সাধারণতঃ হস্তিনীদিগকে কুন্কী বলা হয়। দন্তবিহীন হস্তীর নাম মাক্না মধ্যে মধ্যে যুথত্রষ্ট হস্তীও প্রাপ্ত হওয়া যায়, ইহাদের ক্ষুদ্র দলে হস্তিনীরা থাকে না; এইরূপ দলে কখন কখন ৭/৮টি মাক্না গুপ্তা তৃস্তী মাত্র থাকে গুপ্তার দল নিভীঁক এবং শিকারীরা সহজে ইহাদিগকে ধৃত করিতে পারে না।

দুই ভিন্ন দলে পরস্পর দেখা হইলে কখন কখন উভয় দলের দলপতি গুপ্তা হস্তী মধ্যে বিবাদ বাধিয়া থাকে এক দলের মধ্যেও কখন কখন বলবান্‌ কোন মাক্না, দলপতি গুপ্তার গতিদ্বন্্ী হইলে উভয়ে সংগ্বাম উপস্থিত হয় ইহাতে যে পরাজিত হয়, সে দল ছাড়িয়া পলায়ন করে এই রূপ যুথত্রষ্ট কয়েকটি একত্র মিলিয়া “গুপ্তার দল” হয়।

বর্ধাকালে হস্তীযুথ দুর্গম উচ্চতর পর্বতে চলিয়া যায়। শীতাগমে নিশ্নপ্রদেশে প্রত্যাগমন করে। এক প্রান্তরের বনজঙ্গল ভক্ষিত হইলে সমস্ত যুখ অন্য প্রান্তরে চলিয়া যায়। গমনকালে অগ্ৰবস্তীগণ পথাবরোধক বৃক্ষশাখা ভাঙ্গিয়া, লতা ছিন্ন করিয়া সুন্দর পথ প্রস্তুত করিয়া যায়। এইরূপ পথকে “দোয়াল” বলে দুর্গম পাহাড়ে হস্তীর দোয়ালই বন কামলাদের চলাচলের প্রধান রাস্তারূপে গণ্য হয়।

বন্য হস্তীর চলাচলের একটি কায়দা আছে, ইহারা “এক পাড়ায়” যায়; অর্থাৎ অগ্ববর্ত্িনী চরাল কুন্কীর পদচিহের উপর পদ বিক্ষেপ করিয়া দলের তাবৎ হাতীই চলিয়া যায়, ইহাতে পদচিহ দৃষ্টে সেই পথে মাত্র একটি হাতী গিয়াছে বলিয়াই বোধ হয় তবে শাবকগণ “এক পাড়ায়” যাইতে পারে না; এই জন্য শাবকের পদচিহ্ন দৃষ্টে দলের বৃহত্ব অনুমান করিয়া লওয়া হয়।

তিনরূপ উপায়ে হাতী ধরা হয়, যথা- খেদা, ফাস পরতালা: যে সকল স্থানে প্রায়শঃ হস্তী ধৃত করা হয়, সে স্থানকে রমৃনা বলে। শ্রীহ্ জিলায় ছয়টি রমূনা প্রসিদ্ধ।১ যথা-১. শিংলা, ২. লঙ্গাই, ৩. লাউড়, ৪. ভানুগাছ, ৫. মূলাগোল ৬. তারাপুর এই রম্নাগুলির মধ্যে শিংলা লঙ্গাই সর্বোৎকৃষ্ট ছিল, কিন্তু বর্তমানে বহুদূর পর্য্যত্ত আবাদ হইয়া যাওয়াতে হস্তী পুবর্ববৎ আগমন করে না।

১. "91512015010 100৬/10507700 [01 01609110171 11111001161৬1011015 11) ১১110. -[7010615 50901501098] /৯০০0011105 01 /১558]) ৮০1, 11. (১911910)

ষষ্ঠ অধ্যায় : ইতর প্রাণী শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৬৭

খেদা

খেদান্র প্রধান কার্য্যকারকের নাম পার্জালী। পাঞ্জালীগণই প্রথমতঃ জঙ্গলে গিয়া হাতীর সন্ধান করে; পদচিহ্ন পরীক্ষায় তাহাদের গতি আনুমানিক সংখ্যা নির্দেশ করে। প্রতাপগড় পরগণায় অনেক মোসলমান এই কার্য্যে দক্ষতা লাভ করে, ইহাদের নামে গ্রাম তান্তুক প্রভৃতি আছে। পাঞ্জালীরা সুবিধাজনক স্থানে হস্তীযুথকে দেখিতে পাইলে, অপর লোকের সাহায্যে ঘেরাও করিয়া লয়। যে সকল লোক এইরূপে হস্তীযুথকে ঝেষ্টন করিয়া দাড়ায়, তাহাদিগকে “গড়ওয়া” বলে। প্রতি খেদায় পাঞ্জালী সংখ্যা অন্যুন ১৬ জন এবং গড়ওয়া সংখ্যা ৩০০ শত জন হওয়া চাই।

প্রথমতঃ এইরূপ বেষ্টন করিয়া, সকলে একসঙ্গে চিৎকার করিয়া উঠে/ ইহাতে হস্তীযুথ ভীত হইয়া, একস্থানে নিঃশব্দে দীড়াইয়া রহে। এই অবকাশে পাঞ্জালীরা কয়েক হাত অন্তর অন্তরে দুই দুই জন লোক পাহারার কার্য্যে রাখিয়া দেয়। দুই জনের একজন, নিকট হইতে বৃক্ষাদি কাটিয়া পাঞ্জালীদের নির্দেশানুসারে হস্তীদের গমন পথের মুখে এক সুবৃহৎ “খোয়াড়” প্রস্তুত করিতে থাকে যাহারা প্রহরায় থাকে, তাহাদের সম্মুখে অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত রহে।

এই খোয়াড়ের বহির্তাগে বৃক্ষের ঠেকান দেওয়া হয়, যেন ভিতর হইতে ঠেলিয়া ধরিলে কোন অনিষ্ট না ঘটে উক্ত খোয়াড়ের নাম “গড়”

যখন যে স্থানে হস্তীযৃুথকে, ঘেরাও করিয়া, অগ্নি জ্বালিয়া আবদ্ধ রাখা হয়, তাহার নাম “পাতবেড়”। এই পাতবেড়ের মধ্যেই গড় বান্ধা হয়। গড়ের মধ্যে একটি ছড়া থাকা চাই; হস্তীরা আবশ্যক মত তাহার জল পান করিবে পাতবেড়ের পেছন দিকে অর্থাৎ হস্তী যে দিকে থাকে, সেই দিকে গড়ের মুখ রাখা হয়। মুখ হইতে দুই বিপরীত দিকে দুইটা বাহু বিস্তৃত করা হয়, ইহার নাম “পাইরালা” গড়ের মুখ আবশ্যক মত বন্ধ করিবার জন্য বড় বড় বৃক্ষ নির্মিত দুয়ার কৌশল ক্রমে রক্ষা করা হয়। পইরালার সম্মুখে (এবং দ্বার দেশেও) শুষ্ক বংশ পত্রাদি রাখিয়া দেয়। এগ্যতীত গড়ের ভিতরে ৭/৮ হাত বিস্তার প্রায় দুই হাত গভীর এক পরিখা (খালা) খনন করা হয়।

গড় বাধনের কার্য্য শেষ হইলে, যথা নির্দিষ্ট সময় পাতবেড়ের পশ্চাৎ দিক হইতে চিৎকার ধ্বনি, বন্দুকের আওয়াজ ঢাকের শব্দে তুমুল কোলাহল করিয়া, হস্তীযুথকে বিতাড়িত করে। হস্তীরা সম্মুখ দিক নিরাপদ ভাবিয়া গড়ের দিকে বিদ্যুৎগতিতে ধাবিত হয়। সমস্ত হস্তী পইরালার সীমায় যাওয়া মাত্রই তাহাদের পশ্চাতে, পূর্ব রক্ষিত শুষ্ক পত্র সমূহে অগ্নিদান করা হয়, অগ্নি দৃষ্ে তাহারা অধিকতর ভীত হইয়া গড়ে প্রবেশ করে দলের শেষ হস্তীটি দুয়ারের সীমা পার হওয়া মাত্র, সুকৌশলে রক্ষিত কপাট বা বৃক্ষ সমূহ দ্বারা পথ বন্ধ করিয়া দেওয়া হয় এই স্থানেও শু পত্র রক্ষিত থাকিলে তাহাতে অগ্নি সংযোগ করা হয়।

সাধারণতঃ হস্তীরা পশ্াৎদিকে দৃষ্টি না করিয়া পলায়ন জন্য সম্মুখে ধাবিত হয়, কিন্তু একটু অগ্রসর হইয়াই শুষ্ক পরিখা দৃষ্টে তীত পশ্চাৎপদ হয়। কোন কোন দুরন্ত হস্তী পরিখা পার হইয়া, গড় ঠেলিয়া ফেলিয়া বাহির হইতে চেষ্টা পায়; কিন্তু গড়ের বহির্ভাগ হইতে ঠেকান থাকায় বাহিরের লোক বল্লম দ্বারা আঘাত করায় হস্তীকে নিরুদ্যম হইতে হয়। ইহাকে “গড়দাখিল” করা বলে। খেদার পক্ষে এই সময়টাই মূল্যবান বিপদজনক খেদার লোকদিগকে এই সময় অতি ক্ষিপ্রকারিতার সহিত কার্ধ্য সম্পাদন করিতে হয় গড়ের দুয়ার বন্ধকরণ, শুষ্ক পত্রে অগ্নিদান ইত্যাদি নিমেষ মধ্যে সমাধা করিতে হয়। হস্তী সমূহ গড়ে আবদ্ধ হইলে, সম্ভবতঃ যত সত্বুর পারা যায়, এক একটি শিক্ষিতা পোষা কুন্কী সুবিধা মত গড়ে প্রবেশ করাইয়া, তৎসহায়তায় বন্য হস্তী বন্ধন করিয়া

৬৮ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

ফেলা হয়। ইহারই নাম হাতী খেদা। খেদাইয়া অর্থাৎ বিতাড়িত করিয়া হাতীকে আবদ্ধ করা হয় বলিয়া, ইহা খেদা নামে কথিত হয় খেদায় প্রায় সমস্ত দলকেই এক সঙ্গে আবদ্ধ করা যায়।

ফাস শিকার

কিন্তু ফাস শিকারে প্রতিবারে একটি হাতীর অধিক ধরা যায় না। যখন কোন কারণ বশতঃ অথবা আহারাধ্েষণে একাকী একটি কুন্কী হাতী বিচরণ করিতে দেখা যায়, তখন মাহুতগণ দুইটি শিক্ষিত পোষা কুন্কী লইয়া তাহার নিকট গমন করে। পোষা হস্তিণীদের দেহলগ্র একগাছি রজ্জুর এক পার্থে ফাদ আটা থাকে পোষা হস্তিণী বন্যটির নিকটবর্তী হইয়া শুপ্ুদ্বারা নিমেষে তাহার মাথায় ফাসটি তুলিয়া দেয়। বন্য হস্তী স্বভাবসিদ্ধ অভ্যাস বশে তখন শুণুটি গুটাইয়া লয়, তাহাতে তাহার গলদেশে ফাস লাগিয়া যায়। দ্বিতীয় হস্তিণীটিও তৎক্ষণাৎ নিজ দেহলগ্ন ফাস বন্যটির গলায় তুলিয়া দিয়া, উভয়ে পেছন ফিরিয়া দুই পার্থ হইতে টানিতে থাকে, উভয়ের টানাটানিতে বন্য হস্তী পরিশ্রান্ত “কাবু” হইয়া পড়িলে, মাহুত তাহার পশ্চান্দিকের পদে রজ্জু

লগ্ন করিয়া বৃক্ষে বাধিয়া ফেলে

ফাঁস শিকারে এক উদ্যমে 8/৫টি হাতীর অধিক ধরা হয় না। মূলাগোল প্রভৃতি স্থানে ফাস

শিকার করা হয়। ফাস শিকারে মাক্না কি গুপ্তা হাতী ধরা অতি বিপদজনক

পরতালা শিকার

যুথত্রষ্ট মাক্না কি গুণ্ডা হাতী ধরিবার উপায় পরতালা যখন ইহার মদমত্ত হয়, তখন মাহুতগণ চারিটি কুন্কী তাহার কাছে লইয়া যায়। হস্তিণী দেখিলেই মদমন্ত হস্তী তাহার কাছে আসে, হস্তিণীগণ তখন তাহার মুখের দিকে পাছা রাখিয়া দাড়ার, প্রাণান্তেও সম্মুখে যায় না; গেলে জীবন রক্ষা কঠিন হইয়া পড়ে। একটি হস্তিণী সবর্ব পশ্চাৎ থাকে, তাহার উপরে উঠিবার জন্য রজ্জু নি্মিত সিঁড়ি রহে। মাহুত অতি সতর্ক ভাবে বন্য হস্তীর পায়ে রজ্জু বাধিয়া এই সিঁড়ির সাহায্যে হাতীর উপরে উঠিয়া যায়। এই সময়ে হস্তিনীগণ শুণড দ্বারা স্পর্শাদি করিয়া মদমন্ত হস্তীকে ভুলাইয়া রাখে। শ্রীহট্টে পরতালা শিকারের প্রথা প্রচলিত নাই, খেদা করিয়াই প্রধানতঃ হাতী ধরা হয়।

অন্যান্য জন্তু

হস্তী ব্যতীত শ্রীহট্রের জঙ্গলে বড় বাঘ (7২০91 120), চিতা বাঘ (1,০01), খুপিবাঘ (/০1 প্রভৃতি হিংস্র জন্তু প্রায়ই পাওয়া যায়। দূরবন্তীঁ জঙ্গলে গপ্ডার কৃষ্ণভলুক আছে। পূর্বে শ্রীহট্ট জিলার দক্ষিণাংশে গণ্ডারের পাল বিচরণ করিত, বর্তমানে লঙ্গাই শিংলা উজানের দূরবর্তী জঙগলেই হস্তীযৃথের ন্যায়, তাহাদিগকে পালে পালে ভ্রমণ করিতে দেখা যায়।

প্রায় চল্লিশবর্ষ পৃরের্ব জঙ্গল সন্নিহিত পল্লীতে বন্য মহিষের উপদ্রব ছিল, লোকে বন্য মহিষ শিকার করিয়া আত্মরক্ষা করিত; কিন্তু এখন আর বন্য মহিষের নাম শুনা যায় না। দুর্গম পাহাড়ে এখনও মহিষ প্রাপ্ত হওয়া যায়।

মেট্না নামধেয় বন্যগো শ্রীহট্টের জঙ্গলে আছে। কুকি জাতি উহা পোষিয়া থাকে। জয়ন্তীয়ার জঙ্গলে গবয় (বন গরু) আছে।

ষষ্ঠ অধ্যায় : ইতর প্রাণী শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ৬৯

হরিণের মধ্যে “শিঙ্গাল” “খাটলী বা আমড়াখাউরী”" নামক দুই জাতি হরিণই সচরাচর ৃষ্ট হয়। শিঙ্গালের বৃহৎ শৃঙ্গ হয় ইহারা আকারে গরুর মত বৃহৎ। খাট্লীর আকার ছাগলেরই মত, লোহিত কৃষ্ণতেদে ইহারা দুই প্রকার

জঙ্গল সন্নিহিত গ্রামাদিতে বন্য শুকরের উৎপাত আছে; তত্তৎ স্থানে লোকে পাহারা দিয়া শস্যাদি রক্ষা করে।

এতদ্যতীত লজ্জাবতী বিড়াল, বনবিড়াল, কাষ্ঠবিড়াল, উদবিড়াল, দ্রতধাবণশীল “বাড়ল” নামক বিড়াল জাতীয় জন্তু, শজারু, শশক, শৃগাল, বন্যরোহিত, নরুল (লেউল) প্রভৃতি ববৎ জন্তু আছে।

শিকারী

“শিকারী” নামক এক অদ্ভুত জন্তুর নাম শ্রীহট্ট জিলার পূর্বাঞ্চলে শুনা যায়। ইহাদের আকৃতি কুকুরের মত, বর্ণ লোহিত এবং লেজ প্রায় দুই হাত পরিমিত হয়। ইহারা বৃক্ষারোহণে সক্ষম। ইহাদের প্রস্রাব এরূপ তেজক্কর যে, কোন প্রাণীর চক্ষে কণামাত্র পতিত হইলে; তৎক্ষণাৎ চক্ষু নষ্ট হইয়া যায়। ইহারা মাংসাসী এবং দলবদ্ধ হইয়া বিচরণ করে বন্য শুকরের পাল প্রভৃতি দেখিতে পাইলে ইহারা বৃক্ষারোহণপূবর্বক তাহাদের চক্ষে প্রস্রাব ত্যাগ করিয়া থাকে কয়েকটিতে মিলিয়া অন্ধ পশুকে পশ্চাৎ বধ করতঃ ভক্ষণ করে।

শ্রীহট্টরের জঙ্গলে বিবিধ জাতীয় বানর আছে। তন্মধ্যে “হনুমান” জাতীয়েরা সবর্বাপেক্ষা বৃহৎ, ইহাদের মুখমণ্ডল মশীকৃষ্ণ এবং শব্দ গভীর। ইহাদিগকে সাধারণতঃ হুন্ুক বলে। দ্বিতীয় লাঙ্গুলবিহীন বানর, ইহারা কৃষ্ণকায়, আকৃতিও নিতান্ত ছোট নহে। তৃতীয় দীর্ঘ লাঙ্গুল বানর, ইহাদের বর্ণ অল্প শ্বেতাভ লাঙ্গুল দীর্ঘ এবং কপাল রেখাবিশিষ্ট এই জাতীয় বানর লোকালয়েও আসিয়া থাকে। চতুর্থ মর্কট জাতীয় ক্ষুদ্রাকার বানর সাধারণতঃ লোকালয় সন্নিধানে বাস করে। শ্ীহন্ট্রের জঙ্গলে বনমানুষও মধ্যে মধ্যে দৃষ্ট হয়।

পালিত পশু

পালিত পশুর মধ্যে হস্তী, অশ্ব, কাকা মূর্জনা নাহল গো, মেষ, ছাগল, কুক্কুর, বিড়ালই প্রধান শ্রীহট্টে গোজাতির অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হইতেছে। গোচারণের ভূমির অভাব এবং বংশ বৃদ্ধির জন্য পৃথক ষাড় রক্ষা বিষয়ে অবহেলাই ইহার কারণ বলিয়া অনুমিত হয়। গো-রক্ষা বিষয়ে সকলেরই মনোযোগ আকৃষ্ট হওয়া কর্তব্য বংশরক্ষাকল্লে বিশেষ ষাঁড় রক্ষা না করাই গো-কুলের অবনতির মূল কারণ বলিয়া গবর্ণমেন্ট অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়াছেন ।২

২. ৮0110080010 91 99110011015 ১0100 01 0110 50151 01 11101110110., 010 010 01100151700, 11011 5101০, 0100 1101 01110016111) 010956 01101101গো) 15 [910 101000110, 0০৬/5, 01115 0116 050010158 11701 16[010071011৬6 [0৬615 81 0110 9111051 [05511010 110115110, 0110 0০011111006 (0 00 5০ ৬/101)0011 1111011101১5101), 1100 19010116501 000 0911 0০ 0011) 01096 10110010115 21101 110) 80001101)1 15 0৬০11719015 00) 311001 21) 11111)-0017801]1 11) 500010.

-/১9521]) [)01507101 0020110015 ৬01. 11 (৩১11101) 001. 1৬. 0,132.

গোজাতির অবনতির মূল কোথায়; উদ্ধৃত বিবরণে তাহা ব্যক্ত আছে, বিষয়ে সমভাবে অবহেলা অনুষ্ঠিত হইলে গো-কুল যে নি প্রায় না হইবে, তাহা বলা যাইতে পারে না।

ষষ্ঠ অধ্যায় : ইতর প্রাণী শ্রীহত্ট্রের ইতিবৃত্ত ৭১

পক্ষী

শ্রীহট্র জিলায় নানাজাতীয় পক্ষী দেখিতে পাওয়া যায়। মনুষ্য ভাষা অনুকারী পক্ষীর মধ্যে, শ্রীহট্ট জিলায় ময়না, তোতা (শুক), শারি (শালিক) প্রভৃতি প্রধান। ময়নার কথা ধীর, গন্তীর স্পষ্ট | ময়নার মধ্যে “সোণাকাণি” অর্থাৎ স্বর্ণকর্ণবিশিষ্ট ময়নাই শ্রেষ্ঠ

বিঙ্গরাজ (বিহঙ্গরাজ) নামক বিখ্যাত পক্ষী শ্রীহট্টেই প্রাপ্ত হওয়া যায়। আইন-ই-আকবরি প্রভৃতি গ্রন্থে শ্রীহ্রের বিহঙ্গরাজ পক্ষীর সুখ্যাতি লিখিত আছে। ইহারা কৃষ্ণবর্ণ এবং দীর্ঘ লাঙ্গুলবিশিষ্ট ইহাদের বর্ণ বৈচিত্র না থাকিলেও স্বর বৈচিত্রের জন্য তাহারা বিখ্যাত। যখন ইহাদের সুমিষ্ট স্বর লহরীতে কানন প্রতিধ্বনিতে হইতে থাকে, তখন প্রাণীমাত্রই মুগ্ধ হইয়া থাকে। ইহারা বিবিধ জন্তুর স্বর অবিকল অনুকরণ করিতে পারে বলিয়াই “হরবোলা” নামেও আখ্যাত হয়। ইহাদের মিষ্ট স্বরে আকৃষ্ট হইয়া, অন্যান্য বন্য পক্ষীরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইহাদের সঙ্গে থাকে: এই জন্যই ইহাদিগকে “বিহঙ্গরাজ” বলা হয়। ইহারা মাংসাসী পক্ষী; ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিবিধ পক্ষী ইহাদের সঙ্গে সঙ্গে ফিরাতে, তাহাদের আহারের অভাব হয় না; আবশ্যক হইলে অপর পক্ষী ধরিয়া, তাহার মাংস ভক্ষণ করে।

শেরগঞ্জ নামক পক্ষীর বিষয়ও আইন-ই-আকবরি রিয়াজ-উস্-সালাতিন প্রভৃতি গ্রন্থে পাওয়া যায় শেরগঞ্জ নীলবর্ণবিশিষ্ট এবং দেখিতে সুন্দর, ইহাদের স্বরও সুমিষ্ট | বিহঙ্গরাজ শেরগঞ্জ শ্রীহস্ট্রের ভিন্ন ভিন্ন স্থানের জঙ্গলে দেখিতে পাওয়া যায়।

সুমিষ্ট স্বরবিশিষ্ট শ্যামা, দৈয়েল, ক্ষুদ্রকায় তৃতিয়া প্রভৃতি আরও অনেক পক্ষী আছে। সকল পক্ষীই সযত্বে লোকে পোষিয়া থাকে এবং বাজারেও বিক্রয় হয়।

কোকিল. বউ-কথা-ক (কীঠাল পাখী), হল্‌্দে পাখী, কাঠঠোকরা, মেছোয়ারাঙ্গা (মৎস্যরঙ্গ), প্রভৃতি পক্ষী সর্বত্রই দৃষ্ট হয়। পালক ব্যবসায়ীরা মেছোয়া রাখাল শিকার করিয়া লইয়া যায়। এই সকল পাখী বন্য হইলেও কখন কখন লোকালয়েও আসিয়া থাকে

পাহাড়ে “ধনেশ্বর” নামক এক প্রকার পক্ষী পাওয়া যায়। ইহার আকৃতি বৃহৎ কাকের মত. কিন্তু ঠোটটা শরীর হইতেও বড়, এজন্য দেখিতে কদাকার ইহাদের দেহে চবির্বর পরিমাণ অত্যধিক থাকায় রৌদ্রে বাহির হইতে পারে না। লোকে আগ্রহ সহকারে ধনেশ্বর শিকার করিয়া ইহার তৈল সংগ্রহ করে। সুতিকারোগে ইহার তৈল অতি উপকারী। ক্ষুদ্র বৃহৎ ভেদে ধনেশ্বর দ্বিবিধ।

ঘুঘু ঢগী) কয়েক জাতীয়ই দৃষ্ট হয়। “ঘুড়মাকড়” নামীয় বৃহৎ জাতীয় ঘৃঘু লোকে আগ্রহ সহকারে শিকার করতঃ তাহার মাংস উপাদেয় বোধে ভক্ষণ করে।

“মধুরা” নামে এক প্রকার পক্ষী পাহাড়ে থাকে, ইহাদের আকার বন্য কুকুট তুল্য কিন্তু শব্দ ঠিক ব্যাঘ গর্জনবৎ। ইহাদের শব্দে কখন কখন পার্বত্য প্রদেশের পথিককে বিত্রস্ত হইতে হয়। নয়ুরাকৃতি “পরকদন্ব” পক্ষী তিতর বন্য কুকুট প্রায় সর্বত্রই আছে।

চিল, বলহা প্রভৃতি বৃহৎ মৎস্যাসী পক্ষী বুলবুল, বাবুই, খ্জন প্রভৃতি ক্ষুদ্র পক্ষী এবং বিবিধ প্রকার বন্য পক্ষী সর্ববব্রই দেখা যায়।

জলচর পক্ষীর মধ্যে রাজহংস, পাতিহাস, সরালি (হংসবিশেষ), বিবিধ জাতীয় বক, ডাউক (দ্যাতুহ) প্রভৃতি বিস্তৃত হাওরে প্রায়ই দেখিতে পাওয়া যায়।

গ্রাম্য পক্ষীর মধ্যে কাক, চড়ই, শালিক প্রভৃতি প্রধান। জলালী কবৃতরকেও এই শ্রেণীর মধ্যে গণ্য করা যাইতে পারে। জলালী কবুতর পৃর্র্বে এদেশে ছিল না। দিন্নীনগরে পীর

৭২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

নেজামউদ্দীন, শাহজালালকে এক জোড়া কাজলা (নীল) রঙ্গের কপোত উপহার দেন। শাহজালাল এই জোড়া কবৃতর সহ শ্রীহট্রে আগমন করেন, ইহাদেরই বংশধর জলালী কবুতর নামে খ্যাত ইহাদিগকে হিন্দু মোসলমান কেহই হিংসা করে না।

পালিত পক্ষীর মধ্যে-_রাজহংস, পাতিহাস, কবুতর কুকুটই দৃষ্ট হয়। ময়না, তোতা, প্রভৃতি বন্য পক্ষী পোষ মানিলেও পিঞ্জরাবদ্ধ ভাবে রাখিতে হয়।

মৎস্যাদি

মৎস্যের মধ্যে রউ (রোহিত), বাউ (কাতলা), চিতল, বোয়াল, ঘাঘট, শউল প্রভৃতি প্রধান সর্ব্বত্রই প্রচুর পরিমাণে প্রান্ত পাওয়া যায়।

পার্বত্য নদীর জঙ্গলাংশে মহাশউল পালান নামে দুই জাতীয় মৎস্য মিলে। মহাশউলের আকার দীর্ঘাকৃতি রোহিতের ন্যায়, এবং খাইতে সুস্বাদু মৃদু (মোলায়েম); আসামের শিক্ষাবিভাগের ডিরেক্টর উইলসন সাহেব, লাউড়ের পণাতীর্থে এক সময় একটা মহাশউল ধৃত করেন, উহা ওজনে একমণ পয়ত্রিশ সের হইয়াছিল।

শউল জাতীয় পীপলা নামক মস্যও পাহাড়ের নদীতে পাওয়া যায়।

সুরমা, কুশিয়ারা, বিবিয়ানা, ধলেশ্বরী প্রভৃতি নদীতে প্রতি বৎসর অনেক ইলিশ মৎস্য ধৃত হয়। তদ্তীত ঘনিয়া, গজার, শউল, কানলা, পাবিয়া, বাচা, বাইন, মাগুর, কই, চেঙ্গ, চিংড়ি (ইচা), রাণী, টেংরা, পুটি প্রভৃতি বহু প্রকার মৎস্য পাওয়া যায়।

ঘাঘট জাতীয় “বাঘমাছ” আকারে অতি বৃহৎ হইয়া থাকে আট জনের কম লোকে বহন করিয়া নিতে পারে না, এরূপ বৃহৎ আকারের বাঘমাছও ধৃত হয়। বাঘমাছ, গজার, নানিন্দ শিল্গী প্রভৃতি মৎস্য হিন্দুগণ আহার করেন না।

সুনামগঞ্জ সবডিভিশনেই প্রতি বৎসর সর্র্বপেক্ষা অধিক মৎস্য ধৃত হয়। মৎস্য ব্যতীত প্রতিবর্ষে অনেক কচ্ছপ কমট ধৃত হইয়া থাকে। “বাঙ্কা” নামীয় কচ্ছপের আদর অধিক। মোসলমানগণ কচ্ছপ ম্পর্শও করে না।

সব সময় অনেক বৃহৎ মৎস্যের সংবাদ শুনা যায়। ১৯০৩ খৃষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে ইনায়েতগঞ্জের নিকট কাতিয়া গ্রামে ১৩/১৪ বৎসরের একটি বালক হাওরের জলে ডুব দিয়া ঘাস কাটিয়া ভাসাইয়া দিতেছিল; তদবস্থায় এক বৃহৎ বোয়ালমাছ বালকের মস্তক হইতে কটি পর্য্যন্ত গ্রাস করিয়াছিল; পরদিন উভয়েরই মৃত্যুদেহ ভাসিয়া উঠিয়াছিল।

সর্পের মধ্যে কৃষ্ণসর্প বা আলদ (ত্রিপুরায় পানক সর্প) অতি তয়ঙ্কর। ইহাদেরই ফণের উপর গোক্ষুরের চিহ্্‌ দৃষ্ট হয়। দাড়াইস, বেকাত্রিশ শীখানি প্রভৃতি অনেক জাতীয় বিষাক্ত সর্প আছে। বুড়া সাপও অনেক রূপ আছে। পাহাড়ে ওলোবুড়া নামক অজগর জাতীয় সুবৃৎ সর্পও পাওয়া যায়। অজগরেরা হরিণ শূকর প্রভৃতি অনায়াসে গিলিয়া ফেলে।

বিবিয়ানা ধনেশ্বরীতে ঘড়িয়াল কুন্তীর মধ্যে মধ্যে দেখা যায়।

নদী হাওর হইতে বহু উদবিড়াল (উদ) ধৃত করিয়া গড়োয়ালেরা অনেক চর্ম কলিকাতায় চালান দেয় এবং প্রতি বৎসর বহু অর্থ উপার্জন করে।

সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৭৩

সপ্তম অধ্যায় অধিবাসী

শ্রীহত্ট্রের অধিবাসীর মধ্যে হিন্দু, মোসলমান, ব্রান্ম, খৃষ্টান, দৈত্য উপাসক প্রভৃতি নানা ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি আছে। কয়েক সম্প্রদায় পার্বত্য জাতি ভিন্ন সকলই বাঙ্গালী জাতি। নিম্নে প্রধান জাতি সমূহের সংক্ষেপ পরিচয় লিপিবদ্ধ হইল কোন জাতীয় লোক কিরূপ সম্মান'ভাজন এবং তাহাদের সামাজিক অবস্থার বিষয় তৃতীয়ভাগে সামাজিক বিবরণে পশ্চাৎ বিবৃত হইবে, এই স্থানে তত্তাবৎ লিখিত হইল না। অধ্যায়ে বিভিন্ন জাতিদের যে জনসংখ্যা লিখিত হইল, তাহা ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনানুসারে প্রাপ্ত, বুঝিতে হইবে। কামার--কামার নবশায়ক জাতির অন্তর্গত। লৌহ দ্রব্য প্রস্তুত করা ইহাদের ব্যবসায়, ইদানীং অনেকে স্বর্ণ রৌপ্যের ব্যবসায়ও করিয়া থাকে শ্রীহন্টে ইহাদের সংখ্যা ৯৪৯৫ জন হয়, (তন্মধ্যে পুং ৪৯৯১ এবং স্ত্রী ৪৫০৪ জন।) ছোট নাগপুরাদি অঞ্চলে ইহারা লোহার নামে পরিচিত, গত গণনা কালে ২০০৩ জন লোহার নামে পরিচয় দেয়। লোহারদের অধিকাংশই চা বাগানের কুলির কার্যে আমদানী কৃত। কায়স্থ-_কায়স্থ জাতি প্রাচীন ক্ষত্রিয় জাতি হইতে অভিন্ন কায়স্থ জাতি অতি সম্মাননীয়। লিপি বিদ্যাই তীহাদের প্রধান ব্যবসায়। শ্রীহন্্রে বৈদ্য কায়স্থের মধ্যে বিবাহাদি প্রচলিত আছে ।১ শ্রীহন্রে কায়স্থ অধিবাসীর সংখ্যা ৬৩৮৮৩ জন (তনুধ্যে পুং ৩২৬৭৬ এবং স্ত্রী ৩১২০৭ জন 1) কাহার_ রা জন। (তন্মধ্যে পুং ১১৫৫ এবং স্ত্রী ১১৫২ জন।) এই সংখ্যা মধ্যে চা বাগানের কুলির সংখ্যা কতক সামিল হইয়াছে কুমার- ইহারাও নবশায়ক শ্রেণী ভুক্ত “গোপ তিলীচ মালীচ মন্ত্রীমোদক বারূজী | কুলালঃ কর্ম্মকারশ্চ নাপিতো নবশায়কাঃ1” ইহাদের মধ্যে কুলালই কুমার নামে কথিত সংখ্যা ১২২৭৮ জন; (তন্মধ্যে পুং ৬১৮৫ এবং স্ত্রী ৬০৯৩ জন ।) কুশিয়ারী_ ইহারা “রা” নামেও কথিত হয়। ইহারা ইক্ষু অর্থাৎ কুশিয়ারের চাষ করিয়া থাকে বলিয়াই ইহাদের এই নাম হইয়াছে এই জাতীয় লোক বঙ্গের অন্য কোন জিলায় নাই। ইহাদের আকার প্রকার দৃষ্টে অনুমিত হইয়াছে যে, পুবের্ব ইহারা কোন পার্বত্য জাতির শাখা বিশেষ ছিল।২ ইহারা বলবান, সাহসী অত্যন্ত পরিশ্রমী বর্ণ সাধারণতঃ কৃষ্ণ। ইহাদের জল অচল ছিল, সম্প্রতি চল হইতেছে। ইহাদের সংখ্যা ১৩৯০ জন; (তন্মধ্যে পুং ৫৯৫ এবং স্ত্রী ৬০৫ জন ।) শ্রীহস্ট্রের জলড়ুব গ্রামেই ইহাদের বাস অধিক; তাহাদের ব্রাহ্মণগণই জলডুবের অন্যতম

শি সী সাত পসস সসপ সসস

১. এস্থানে সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা ১৪শ খণ্ড ১ম সংখ্যা ২৪ পৃষ্ঠা দেখিতে পারেন। নগেন্দ্রবাবু বলেন, সর্ব্বপ্রই পৃৰের্ব বৈদ্য কায়স্তে যৌন সম্বন্ধ ছিল।

২. ৮1006 100১19115 716 0 09১1৩ 11010100519 3১11101. 10017 ০০711010810 11 80701911) 01811, 0110 1108) থা ৯010019১১০৫ 16190 005001100 (0]া। 90110 11111 111

৭৪ শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

জমিদার কুশিয়ার, ভুবি, কাঠাল আনারসের চাষ বিক্রয়ই ইহাদের প্রধান ব্যবসায়।

কেওয়ালী বা কপালী--প্রবাদানুসারে ব্রাহ্মণের দ্বারা শদ্রার গর্তে ইহাদের উৎপত্তি, এবং ক্রিয়াহীনতায় পতিত ইহাদের জল চল নহে, এবং ব্যবসায় বন্ত্র বয়নই ছিল, এখন পরিত্যক্ত হইয়াছে। সংখ্যা ১১২৬ জন; (তনুধ্যে পুং ৫২২ এবং স্ত্রী ৬০৪ জন ।)

কৈবর্ত-_মিঃ রিজলী সাহেবের মতে ইহারাই বাঙ্জালার আদি অধিবাসী ইহারাই জালিক দাস। আসাম প্রভৃতি স্থানে হালিক নামক তাহাদের আর এক শ্রেণী আছে। ক্ষত্রিয় পিতা বৈশ্য মাতা হইতে ইহাদের উৎপত্তি তীবর সংসর্গে ইহাদের পাতিত্য কথিত হইয়াছে ।৩ শ্রীহন্টরের জালিক কৈবর্ত দাসের সংখ্যা ৪৪৭০১ জন; (তন্মধ্যে পুং ২৩১২৬ এবং স্ত্রী ২১৬১০ জন ।)

গণক-গ্রহবিপ্র গণক শাস্ত্রে দুই পৃথক জাতি ভবিষ্য পুরাণের মতে সূর্য্দেবের ওরসে, ব্াহ্মণীর গর্ভে গ্রহ নক্ষত্রাদির তত্বালোচনার জন্য গ্রহ বিপ্রের উত্তব হয়। ইহারাই শাকদ্ীপী বিশুদ্ধ বিপ্র। উক্ত পুরাণের ১৩৯ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণের পুত্র শান্ব ইহাদিগকে শাকদ্বীপ হইতে ভারতবর্ষে আনয়ন করেন ইহাদের বিশুদ্ধতা গৌরব কাহিনী ভবিষ্য পুরাণে বিশেষ ভাবে বর্ণিত আছে। কিন্তু গণক জাতি এই গ্রহবিপ্র হইতে বিভিন্ন শাকদ্বীপী দেবলের ওঁরসে বৈশ্যার গর্ভে গণকের জন্ম হযয়।& মূলে উভয়ে দুই জাতি হইলেও, উভয় জাতীয় ব্যক্তিগণ “গণক” এই সাধারণ সংজ্ঞার অন্তর্গত হওয়াতে প্রকৃত গণক হইতে শাকন্বীপী গ্রহবিপ্র গণকে প্রভেদ করা কঠিন। এইরূপ নাম মাহাত্যে আরও অনেক জাতির অধঃপতন অঞ্চলে পরিদৃষ্ হয়। সমাজে গণকের সম্মান অধিক নহে, ইহাদের জল অচল শ্রীহস্ট জিলায় সংখ্যা ৫৬১০ জন; (তনুধ্যে পুং ২৮৪৭ জন এবং স্ত্রী ২৭৬৩ জন 1) .

গণ্ডপাল বা গাড়ওয়াল-_পূর্রবে ইহারা পার্ধ্বত্য জাতীয় ছিল বলিয়া বিবেচিত হয়।৫ নৌকা

রক্ষণ নৌকাচালনে ইহারা অদ্ধিতীয়। পূর্বে শ্রীহট্রের পশ্চিমাঞ্চলে জলদস্যু অত্যন্ত ভয়

ছিল, তখন গাড়ওয়াল ব্যতীত কেহই নৌকা চালাইতে সাহস করিত দা ইহাদের সংখ্যা মোটে ৩৩২ জন মাত্র পাওয়া যায়; (তন্মুধ্যে পুং ৮৩ এবং স্ত্রী ২৪৯ জন ।)৬

গন্ধবণিক--প্রাচীন গন্ধবণিক জাতির ব্যবসায় সুগন্ধি দ্রব্যের বিক্রয়। বৈশ্যবর্ণ সম্ভুত বণিকগণ বৃত্তিভেদে পাচ প্রকারঃ-_গন্ধবণিক, শঙ্খবণিক, কাংসবণিক, সুবর্ণবণিক, মণিবণিক ।? এই পঞ্চবণিক মধ্যে গন্ধবণিক শ্রেষ্ঠ ! বল্লালচরিত লেখক আনন্দ ভট্ট বলেন যে, ক্রিয়া লোপ হেতু ইহারা শৃদ্রত্ প্রাপ্ত হইয়াছেন ।৮ ইহাদিগকে সাধারণতঃ “বাণিয়া” বলা হয়। বর্তমানে স্বর্ণালঙ্কার

৩. ক্ক্ষত্র বীর্যোন বৈশ্যায়াং কৈবর্তঃ পরিকীর্তিতঃ। 011] ৩51111-”-1২৩17011 01 111815050৯0 45৩৯1])- কলৌ তীরব সংসর্গাৎ ধীববঃ পতিতো ভুঁবি।” 1901. 701 11129 _ব্রহ্ষবৈবর্ত পুরাণ ৬. সেপাসেব সময ইহারা বোধ হয় অন্য জিলা বটতলা মুদ্রিত জাতি মালায় লিখিত হইয়াছে- নেৌকাবাহনে নিযুক্ত ছিল; তাই পুং সংখ্যা এত কম “তার কেহ তীবর সঙ্গেতে সঙ্গ করি। হইয়াছে বলিয়া বোধ হয়! কলিতে পতিত হলো মংস্য আদি ধরি ।” ৭. “গান্গিক শাঙ্খিকশ্চৈব কাংশ্/ক মণিকারক।

৪. “শাকদ্বীপাৎ সুপর্ণেন চাণীতো যশ্চদেবল। সুবর্ণ জীবিকশ্চৈব পঞতে বণিঙঃ স্মুতাঃ।” তন্সদ্বগণকোজাতো বৈশ্যায়াং বাদকোহপি চ।” -পরশুরাম সংহিতা _বৃহদ্র্শ্বপুরাণে উত্তর খন্ডে ৯ম অধ্যাম। ৮. “নিগমশ্ঠ গান্ধিকেন্ড বৈশ্যবর্ণ সমুদ্তব€

৫. "011 10150 01 0011 10707113191) 01181) 15 051 শঁশৈঃ শ্দত্মাপনঃ ক্রিয়ালোপাদি হে না ।”*-বল্লাল [0৩9 ৫10 10111001) ৮৮10 010 0101)10504 4৯ বচিত।

01010 011 10001 1005100101 010 11905 001 ৬০৭17

সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৭৫

বিক্রয়াদি ইহাদের ব্যবসায় ইহারা এখন “নবশায়ক” শ্রেণীর ন্যায় পরিগণিত। সংখ্যা ১০৬৬ জন; (তনাধ্যে পুং ৫৮০ এবং স্ত্রী ৪৮৬ জন।)

গোয়ালা- শ্রীহট্রে গোয়ালদের সংখ্যা অতি অধিক নহে; ইহাদের জল চল আছে। সংখ্যা ১৪১২৭ জন। এই সংখ্যা মধ্যে চা বাগানের কুলি সংখ্যাও আছে।

চামার- ইহারা অন্ত্যজ জাতি, হিন্দু সমাজের নিম্নস্তরে ইহাদের স্থান চর্ম প্রস্তুত করতঃ বিক্রয় চর্ম্ের কাজই ইহাদের ব্যবসায়! ইহাদের সংখ্যা প্রায় দ্বিসহস্র পাওয়া গেলেও, শ্রীহট্রে চামার অধিবাসীর সংখ্যা অতি অল্প মুচিগণ পৃথকরূপে গণিত হইলেও, মুচি চামার দুই পৃথক জাতি নহে; ইহাদের সংখ্যাও প্রায় পঞ্চ সহস্্। কিন্তু এই সংখ্যার মধ্যে চা বাগানের কুলি সংখ্যাই অধিক মুচিদের ভিন্ন পুরোহিত নাই

চুণার-_চুণপোড়া বিক্রয় ইহাদের ব্যবসায়, শ্রীহট্টে এই জাতীয় লোকের সংখ্যা ২৭০ জন; (তনাধ্যে পুং ১১৬ এবং স্ত্রী ১৫৪ জন।)

ঢোলি বা বাদ্যকর--ডোম, পাটনি, বা কৈবর্ত হইতে ইহাদের উদ্ভব বলিয়া অনুমিত হয়।৯ ইহাদের সংখ্যা ১০২৫৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ৪৯৮১ এবং স্ত্রী ৫২৭৪ জন ।) যাহারা বাদ্যকর বলিয়া পরিচয় দিয়াছে, তাহাদের সংখ্যা ১৫২ জন পূর্বোক্ত সংখ্যার মধ্যে ধৃত হইয়াছে।

তাতি_তত্তববায়গণ মধ্যে সাধারণতঃ ক্ষীর তাতি আচরণীয়; অন্যান্য নহে। তাতিগণ নবশায়ক শ্রেণীর মধ্যে পরিগণিত হয় | যথা-_

“গোপ তিলিচ মালীচ তন্ত্রীমোদক বারুজী |”

এই শ্রোকোক্ত তন্ত্রীই তাতি। শ্রীহট্টে গত লোক গণনার কালে ইহাদের সংখ্যা প্রায় তিন সহঞ্র হয়, এই সংখ্যা মধ্যে অধিকাংশই পশ্চিমাঞ্চলের লোক চা বাগানের কুলির কাজে আমদানী কৃত।

তেলী--তেলী বা তিলি জাতি নবশায়ক শ্রেণীর অন্তর্গত। কিন্তু শ্রীযুক্ত ধর্মানন্দ মহাভারতী মহাশয় বহুতর শাস্ত্রীয় প্রমাণ যোগে ইহাদিগকে বৈশ্যবর্ণ বলিয়া প্রতিপাদন করিয়াছেন তৈল প্রস্তুত বিক্রয় ইহাদের ব্যবসায়; ইহাদের জল আচরণীয়। সংখ্যা ৩০৩১২ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৫৫২১ এবং স্ত্রী ১৪৭৯১ জন।)

দাস-_-দাস জাতীয়েরা বঙ্গের সামরিক জাতি বলিয়া কথিত হয়। ১৮৯১ খৃষ্টাব্দের গণনাকালে শ্রীহট্ট জিলায় ইহারা, হালুয়াদাস বলিয়া জাতীয় পরিচয় লিখাইয়াছিল: কিন্তু গত ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনায় হালুয়াদাস, দাস শুদ্রদাস এই তিন নামে জাতীয় পরিচয় দেয়। পূর্ব্বে ইহাদের জল চল ছিল না, এখন তাহাদের জল চল হইয়াছে। শ্রীহট্রে ইহাদের সামাজিক সম্মান কম নহে; নবশায়ক শ্রেণীর উপরে ইহাদের স্থান নির্দেশ করিতে কোন আপত্তি নাই; কিন্তু ইহাদের ব্রাহ্মণদের সম্মান সমাজে নিতান্ত অল্প ।১০

দাস জাতির মধ্যে অনেক শিক্ষিত লোকও আছেন-_তীাহারা সমাজেও বেশ সম্মাননীয় হইয়াছেন! ইহাদের সংখ্যা ১৪৩০৪৩ জন; (তন্ধ্যে পুং ৭২১৮৯ এবং ্ত্রী ৭৩৮৫৪ জন ।)

৯. ৮/১ 17011001001 02310 ৬1010) 1005 0০১১1015 ১110118 10017010100 19917, 000111 07 00100112-7161091% 01) 1100 0০- 515 01 /৬৩৭11. 09. 128.

১০, 11170 100011৩৬100) 10৬0 10001770001 01001150155 10010 001১ 1176 (94০) চে 0010৫ 11010950189] /000101 10 07007 0৬1 0000010001৩ 1005 জাতেট 01181110115 4 81118010000 বিগ101,10059 1014 £100110061 1110110110070৩5 11) 51101, 0010 01109 109৬1 01100) 10 121৮ 0৩৮5 00 1১50) 0010 10) ১৪00 01010 ৯10 ৬৭1১১ 10 19৩ ৯0001101109 760১0১01755 0006 1101৯ ৩1911]15 01 00140110060 09 00010180727 0091৩৯91111000১ 16

7২০16011011 (1৩ 01501 01 /৬*১০।1-19()1 1. 137

৭৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

এই সংখ্যার ভিতর দাস পরিচয়ে পুং ৩৬৩৬৪ স্ত্রী ৩৪৩২৪ জন; শুদ্র পরিচয়ে পুং ২২০২০ স্ত্রী ২৩৩২২ জন, এবং হালুয়াদাস পরিচয়ে পুং ১৩৮০৫ স্ত্রী ১৩৫০৮ জন।

গত লোক গণনাকালে “শৃদ্রদাস” বলিয়া অনেক ব্যক্তি পুং সংখ্যা ১০৬৩২ এবং স্ত্রী ১০৫৮৮ জন ।) জাতীয় পরিচয় দিয়াছিল, শুদ্রদাসের মধ্যে “ভান্তারি” শ্রেণীর অনেক ব্যক্তি থাকিলেও, অধিকাংশ সংখ্যাই দাস জাতীয় লোকের দ্বারা পূর্ণ হইয়াছিল বলিয়া নিঃসংশয়ে বলা যায়। সেই সংখ্যা যোগ করিলে শ্রীহট্ট জিলায় দাস জাতীয় লোক ১৬৪২৬৩ জন হয়। দাসেরা পরিশ্রমী বলবান; চাষ বাসই তাহাদের প্রধান ব্যবসায়

ধোপা বা ধোবি-রজক জাতীয়গণ ধোপা বা ধোবি নামে কথিত হয়। ব্রহ্মবৈবর্ত-পুরাণের মতে ধীবর কন্যার গর্ভে ধীবরের ওরসে রজকের উৎপত্তি ।১১ হিন্দুজাতির শুচিত্ব লাভের ইহারা একটি অবলম্বন। বন্ত্র ধৌত করাই ইহাদের ব্যবসায় শ্রাদ্ধাদিতে ইহাদের সাহায্য ব্যতীত পবিভ্রতা প্রাপ্তির পথ থাকে না। গত সেন্সাসের সময় শ্রীহট্ট জিলায় ধোপা ধোবি এই দুই সংজ্ঞায় ইহারা জাতীয় পরিচয় দিয়া থাকিলেও, ইহারা এক জাতি মোট সংখ্যা ২৩৫০৮; (তনুধ্যে পুং ১১৮৬৯ এবং স্ত্রী ১১৬৩৯ জন ।) এই সংখ্যা মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের লোকও কতক আছে।

(নেদীয়াল)১২ ডোম পাটনি-_মৎস্য ধরা জাল, দাম, চাটি, চাচ ইত্যাদি প্রস্তুত করাই ইহাদের কর্ম্ম। পাটনিরা নৌকার কাজও করিয়া থাকে রামচন্দ্র জনকভবন গমন কালীন মাধব পাটনির নৌকায় নদী পার হন বলিয়া কথিত আছে অন্রদামঙ্গলেও ঘাটিয়াল ঈশ্বর পাটনির নাম পাওয়া যায়। পাটনি আধুনিক জাতি নহে ডোম পাটনি মূলতঃ একই জাতি হইলেও পাটনিরা এক্ষণে ডোম বলিয়া পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে ইহাদের সংখ্যা ৭৩২৪৬ জন; (ওন্ধ্যে পুং ৩৭১৬৮ এবং স্ত্রী ৩৬০৭৮ জন 1)

নমঃশুদ্র চগ্তাল)_নমঃশুদ্র চণ্তাল একজাতি বলিয়াই খ্যাত। কিন্তু মূলতঃ ইহারা এক জাতীয় ছিল বলিয়া বোধ হয় না। চণ্তালাপেক্ষা নমঃশৃদ্র জাতীয়গণ আচার ব্যবহারে অনেকাংশে উন্নত ছিল বলিয়াই অনুমান করা যায়। বিষ্র্রসংহিতায়-_-“বধ্য ঘাতিত্ং চণগ্ডালানাম” বলিয়া উল্লেখ আছে। অর্থাৎ রাজাজ্ঞায় প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিকে বধ করাই চণ্ডালের কার্য্য ছিল। ব্রাহ্মণীর গর্ভে শৃদ্রের ওরসে চগ্ডালের উৎপত্তি হয় বলিয়াই নিণীতি আছে।১৩

নমঃশুদ্র জাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে ব্রন্মবৈবর্তপুরাণে লিখিত আছে যে, খতুর প্রথম দিবসে ঝষির ওরসে ব্রাহ্মণীর গর্ভে ইহাদের উদ্ভব হয়। কুৎসিত উদরে জাত প্রযুক্ত ইহারা “কুদর” নামে কথিত ।১৪ নমঃশুদ্রগণ সকলেই কাশ্যপ গোত্রীয়; তাহারা কশ্যপ খষির সন্তান বলিয়া প্রকাশ করে। পরাশরসংহিতায় লিখিত আছে যে, খতুর প্রথমবাসরে নারীগণ চণ্ডালীর ন্যায় পরিগণিত হয়।১৫ সুতরাং খতুর প্রথম দিবসে (কুৎসিত বা অপবির্র উদরে) গর্ভোৎপত্তি হওয়ায় সেই ১১. “তীবর্ম্যাং ধীবরাৎ পুত্রো বভূব বজকঃ শ্মৃতঃ।”-ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে

১২. সেঙ্গাসরিপোর্টে ডোম পাটনি জাতিকে নদীয়াল সংজ্ঞায় অভিহিত করায় শব্দটি বন্ধনী রাখা গেল। ১৩. “ত্রান্মণ্যাং শূদ্রবীর্যেণ পতিতো জারদোষতঃ। সদ্যে বতব চণ্তাল সর্র্স্যাধমশ্চাশচি।”-পরশুরাম সংহিতা ১৪. “ব্রাহ্মণ্যাং মৃষিবীর্য্েণ ঝতোঃ প্রথম বাসরে। কুৎসিতশ্চোদরে জাতঃ কদর স্তেন কীর্তিতঃ। তদাশৌচং বিপ্রতুল্যাং পতিত খতু দোষতঃ।”-ব্রহ্মবৈবর্ত প্রাণ ১৫. “প্রথমেহনি চণ্তালা দ্বিতীয়ে ব্রহ্মঘাতিনী। তৃতীয়ে রজকী প্রোক্তা চতুর্থেনি শুদ্ধযতিয়”-পরাশর সংহিতা

সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহষ্টরের ইতিবৃত্ত ৭৭

গর্ভোসন্ৃত নমঃশূদ্রগণ চণ্ডাল বলিয়া কথিত হইয়া থাকিবে। বন্তৃতঃ ইহারা দুই পৃথক জাতি সংখ্যা ১৩২৩০৭ জন; ইহারা পরিশ্রমী, কার্য্য তৎপর সহিষ্কু জাতি মৎস্য শিকার এবং নৌকা চালনাদি ইহাদের ব্যবসায় চণ্তালেরা হীনতম জাতি।

নাপিত-- ইহারা নবশায়ক শ্রেণীর অন্তর্গত। শ্রাদ্ধ, বিবাহাদিতে ইহাদের সাহায্য ব্যতীত হিন্দুসমাজ পবিভ্রতা লাভ করিতে পারে না। ভগবতীর ইচ্ছা ক্রমে সৃষ্টির আদিতে ইহাদের উৎপত্তি হয় বলিয়া কথিত আছে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময়ে নাপিতের মোদক বৃত্তি অবলম্বন করার রানা নিিসা রর রাজা রন

হয়; (তন্মধ্যে পুং ১০৭৭৫ এবং স্ত্রী ১০৪৪৯ জন ।)

ব্াহ্মণ_ ব্রাহ্মণ জাতি ভারতবর্ষে হিন্দুজাতীয় সকলের শীর্ষস্থানীয় ও'নমস্য। শ্রীহট্রে অতি প্রাচীন কালাবধি ব্রাহ্মণগণের অবস্থিতির প্রমাণ থাকিলেও, খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে সম্মানিত সাম্প্রদায়িক বিপ্রগণ আগমন করেন; ইহাদের আগমনের সহিত শ্রীহট্রে মৈথিল বাচস্পতি মিশরের মত বিশেষ রূপে প্রচলিত হয়। সাম্প্রদায়িক গণের পরে, পশ্চিম দেশ হইতে আরও বহুতর উচ্চ শ্রেণীর ব্রাহ্মণ এদেশে আগমন করেন। অবস্থাভেদে গুরূতা, জমিদারী পৌরোহিত্যই ইহাদের জীবনোপায়ের প্রধান পন্থা। অনেকে সরকারী চাকরীও করিয়া থাকেন। ব্রাহ্মণেরা হিন্দু সমাজের ব্যবস্থাপক, শাসক সমাজ পরিচালক ইহাদের উন্নতি অবনতির উপরে হিন্দুসমাজের শুভাশুভ সম্পূর্ণ নির্ভর করে। পূর্বে হিন্দুসমাজ ব্রাহ্মণ সমাজের পোষণ জন্য তীব্র দৃষ্টি রাখিত, এবং সাক্ষাতভাবে তাহার শুভফল প্রাপ্ত হইতে; এখন সময়ের গতিতে সকলই পরিবর্তিত হইয়াছে। সদব্রাহ্মণের সংখ্যা শ্রীহস্রে ৩৯৭৬১ জন; (তন্মধ্যে পুং ২১২৬৯ এবং স্ত্রী ১৮৪৯২ জন ।)১৬

ব্রাহ্মণ (বর্ণয)-_-যে সকল জাতির জল সমাজের চল নহে, তাহাদের পৌরোহিত্য করিয়া যে ্রাহ্মণেরা স্বসমাজ পরিত্যক্ত হইয়াছেন, তাহারাই “বর্ণ ব্রাহ্মণ” নামে আখ্যাত হইয়াছেন। বর্ণ ব্রাহ্মণের সংখ্যা ২৪০০ জন; (তনুধ্যে পুং ১২৬০ এবং স্ত্রী ১১৪০ জন।)

ভাট বা ভ্টকবি--কবিতা রচনা কবিতা গানই ইহাদের ব্যবসায় ইহারা উপবীত ধারণ করে ক্ষত্রিয় জাতীয় বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকে শ্রীহট্টে ইহাদের সামাজিক সম্মান কম নহে। ইহাদের সংখ্যা ৭৭৮ জন; (তনুধ্যে পুং ৩৩২ এবং স্ত্রী ৪৪৬ জন |)

ভূঁইমালী--পাল্কী আদি বহন মাটী খনন প্রভৃতি কার্ধ্য ইহাদের জাতিগত ব্যবসায়। ঠা জিনা হাড়ি আরা মারার বিডির ছার সুযারীযা এরা রাড হলের হাড়ি আখ্যা ধারণ করিতে অনেকেই লজ্জা বোধ করে গত সেন্সাসে শ্রীহট্টে ১৭৪৯ ব্যক্তি হাড়ি বলিয়া আত্মপরিচয় দিয়াছিল। এই জাতীয়ের মোট সংখ্যা ৪১১৮৪ জন; (তনাধ্যে পুং ২০৫৬৪ এবং স্ত্রী ২০৬২০ জন ।) ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে লেট জাতির ওঁরসে চণ্তালিণীর গর্ভে হাড়ি জাতির উৎপত্তি হয়। কিন্তু ভুইমালী বলিয়া প্রাচীন গ্রস্থাদিতে কোন জাতির উল্লেখ পাওয়া যায় না।

ময়রা--মোদক বা ময়রাদের ব্যবসায় সন্দেশাদি মিষ্টান্ন প্রস্তুত বিক্রয়। ইহারা নবশায়ক শ্রেণীর অন্তর্গত শুদ্ধ জাতি বলিয়া বিবেচিত হইয়া থাকে সংখ্যা ৮৫২ জন; (তনুধ্যে পুং ৪৩৪ জন এবং স্ত্রী ৪১৮ জন)

মাহারা--পাল্কী বহন ইহাদের কার্য্য। সম্প্রতি চাষ আবাদ করিতেছে ইটার রাজা সুবিদ নারায়ণ এই জাতির সৃষ্টিকর্তা বলিয়া কথিত আছে। ইহাদের জল চল না হইলেও হ্কা চল আছে। (অন্যান্য জিলায় কাহার জাতীয়গণ অনেকাংশে মাহারাদের তুল্য ।) সংখ্যা ৩৪৮১ জন; ১৬. শ্রীহ্টরে ব্রাহ্মণ সংখ্যা ইহার অনেক অধিক সন্দেহ নাই সেন্সাসে অনেক ভুল আছে।

৭৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

তেনধ্যে পুং ১৪৪৮ এবং স্ত্রী ২০২৩ জন 1) মালো-_ইহারা মৎস্যজীবী জাতি হিন্দু সমাজে কৈবর্তের পরেই ইহাদের স্থান নির্দেশ করা যাইতে পারে 1১৭ শ্রীহস্ট জিলায় ইহাদের সংখ্যা ১৫৯৮২ প্রাপ্ত হওয়া গেলেও, ইহার মধ্যে প্রকৃত শ্রীহট্টবাসীর সংখ্যা অতি সামান্য পূর্বোক্ত সংখ্যার অধিকাংশই চা বাগানের কুলিদের প্রাপ্য। যুগী-_গঙ্গাপুত্র কন্যার গর্ভে বেশধারীরপুত্র রূপে যুগী জাতির উৎপত্তি হয়।১৮ বল্লাল চরিত লেখক গোপালভট্ট বলেন যে, রাজকোপে আচার ভ্রষ্টতা হেতু ইহারা অনাচরণীয় হইয়াছে যুগীগণ আপনাদের আদি পুরুষের নাম গোরক্ষনাথ বলিয়া উল্লেখ করে, এবং নিজেরা “নাথ” উপাধি ধারণ করে।১৯ তাহারা যোগীর সন্তান বলিয়া, মৃত্যু হইলে সম্নযাসীর ন্যায় দেহ সমাহিত করে। ইহাদের পুরোহিত নাই, স্বজাতির মধ্যে কোন শিক্ষিত ব্যক্তি যক্ঞসূত্রে ধারণ করতঃ পৌরোহিত্য কার্ধ্য করিয়া থাকে; ইহারা মোহন্ত নামে পরিচয় দেয়। বন্ত্রবয়ন ইহাদের ব্যবসায়, অধুনা অনেকেই চাষ আবাদ করিয়া থাকে সংখ্যা ৭৮৯১৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ৩৯৬১৩ এবং স্ত্রী ৩৯৩০২ জন ।) লোহাইত কুরী--মেঘনা তীরবর্তী লোহাইতেরা মৎস্য ধৃত বিক্রয় করতঃ জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। শ্রীহট্টরবাসী লোহাইত কুরীগণ ধান্য সিদ্ধ দিয়া উষ্ণা তুল প্রস্তুত করতঃ তাহার ব্যবসায় করে। ইহাদের প্রস্তুত খৈ প্রসিদ্ধ সংখ্যা ৩৯৮; (তন্মধ্যে পুং ২২৩ এবং স্ত্রী ১৭৫ জন।) বারই--বারূজীগণ বর প্রস্তুত করতঃ পাণের ব্যবসায় করে বলিয়া “বরজ” বা বারই নামে কথিত হয়। বারূজীগণ নবশায়ক শ্রেণীর অন্তর্গত ইহাদের মধ্যে দ্র, মিত্র, দত্ত, নন্দী, দেব প্রভৃতি উপাধির প্রচলন দৃষ্টে কেহ কেহ কায়স্থ হইতেই ইহাদের উদ্ভব অনুমান করেন। আবার কেহ কেহ ইহা দিগকে বৈশ্য বর্ণ বলিয়া প্রতিপাদন করিয়াছেন শিক্ষিত বারূজীগণ মধ্যে (পশ্চিম বক্ষে) “বৈশ্য বারূজী” সভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায়, ইহাদিগকে বৈশ্যবর্ণ বলা অযৌক্তিক হয় নাই। শ্রীহস্রে বারজীগণ কায়স্থ বলিয়া পরিচয় দিতেই অধিক আগ্রহাঘিত। এই রূপে কায়স্থ বলিয়া আত্মগোপন করায় ১৮৯১ ৃষ্টাব্দে সমগ্র আসাম প্রদেশে বারূজী সংজ্ঞায় ৪৪২৯ ব্যক্তিকে মাত্র পাওয়া গিয়াছিল। ১৯০১ অব্দে ইহাদের সংখ্যা শ্রীহত্র জিলায় ১৬৩৪৬ জন; (তন্মধ্যে পুং ৮৩৩৮ এবং স্ত্রী ৮০০৮ জন।) বৈদ্য-বৈদ্য জাতি অতি সম্মানিত। বৈদ্যগণই পৌরাণিক অন্ষষ্ঠ জাতি মনুসংহিতা মতে ব্রাহ্মণের, বিধিমত বৈশ্যকন্যাতে জাত সুপুত্রই অন্বষ্ঠ।২০ ইহাদের জাতিগত ব্যবসায় ব্রাহ্মণের চিকিৎসা ।২১ শব্দকল্পক্রমেও বৈদ্যগণের ব্যবসায় চিকিৎসা বলিয়া কথিত হইয়াছে ।২২ কিন্তু বক্ষ বৈবর্তত পুরাণ মতে বিপ্ররমণীর গর্তে অশ্বিনীকুমার কর্তৃক উৎপন্ন পত্রই বৈদ্য ।২৩ রাজা রাধাকান্ত

১৭. [৬1010-/৯ (51101 02516, 1210101109 0610৬/ 01560100112. -[২00011 07 0100 (5017505 01 /5507-190. 7). 138.

১৮. “গঙ্গাপুত্রস্য কন্যায়াং বীর্ষেন বেশধারিণ বড়ুব বেশধারীচ পুত্রো! যুঙ্গী প্রকীর্তিতঃ।” -ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ।

১৯, [1 9017)0 ৬0110 0০১ (00215) 30916 011011501০5 8101), 2110 012170 00501111701) 09018155118 11001), 00৬০- [69 01 0019. 001.” -16100য 01) 1100 00115015 91 /55581)-1901. 1). 131

২০. “ব্রাহ্মণাদ্বৈশ্য কন্যায়াং অন্থষ্ঠো নাম জায়তে ।” (১০ অধ্যায় শ্রোঃ) “বৈশ্যায়াং বিধিনা বিপ্রাৎ জাতশ্যম্বষ্ঠ উচ্যতে ।”-মনুসংহিতা ২১. বৈশ্যায়াং ব্রাহ্মণাজ্জাত অন্বষ্ঠ মুনিসত্তম | ব্রা্মণানাং চিকিৎসার্থং নির্দৃষ্টো মুন-পুঙ্গবৈ ।” ২২. “অন্বষ্ঠ। বিপ্রাদ্ৈশ্যায়ামুৎপন্নঃ অয়ং চিকিৎসাবৃত্তিঃ, বৈদ্য ইতি খ্যাতৃঃ।”-শব্দকল্পদ্রম ৫ম খণ্ড ১৩৬ পৃষ্টা ২৩. “বৈদ্যহশ্থিনী কুমারেন জাতশ্চ বিপ্রযোধিতি ৷” ব্রহ্ধনৈবর্ত পুরাণ-ব্রহ্মখণ্ড ১০ম অধ্যায়।

সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৭৯

দব বাহাদুর ব্রক্ষবৈবর্ত্ত পুরাণোক্ত বৈদ্যগণকে সর্পের মন্ত্রৌধধি পরায়ণ “মালবৈদ্য” বলিয়া লখিয়াছেন।২৪ সুতরাং ব্রহ্ষবৈবর্তত পুরাণোক্ত বৈদ্যদিগকে অন্বষ্ঠ বলা যাইতে পারে না। পশ্চিম বঙ্গে বৈদ্যগণ উপবীত ধারণ করেন।। শ্রীহট্টে অতি প্রাচীন কালাবধি বৈদ্য জাতির বাস ছিল, ভাটেরার তাম্্ফলকে জনৈক বৈদ্যবংশীয় রাজমন্ত্রীর নাম প্রাপ্ত হওয়া যায়। পরবস্তীকালে রাজা গৌড় গোবিন্দ বৈদ্যজাতীয় মহীপতি দত্তকে এদেশে আনয়ন পূর্বক স্থাপন করার বিষয় জ্ঞাত হওয়া যায়। শ্রীহট্টরের বৈদ্যগণ উপবীতধারী নহেন এবং কায়স্থের সহিত তাহাদের আদান প্রদান প্লচলিত আছে। তাহারা কায়স্থের ন্যায়ই মাসাশৌচ ধারণ করেন। শ্রীহস্ট জিলায় তুঙ্গেশ্বর প্রভৃতি ২১ স্থানে বর্তমানে বিশুদ্ধতা সংরক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি ক্ষিত হয়। ইহাদের সংখ্যা ৩৭৯৬ গন; (তন্মধ্যে পুং ১৯৬২ এবং স্ত্রী ১৮৩৪ জন ।)

শীখারি-পরশুরাম সংহিতায় গান্ধিক, শাঙ্খিক, কাংস্যক, মণিকারক সুবর্ণ জীবিকা বলিয়া যে পঞ্চবণিকের উল্লেখ আছে, তনুধ্যে শাঙ্খিক বণিকগণই শীখারি নামে কথিত হন। ইহারা 'বশ্যবর্ণ। কায়স্থ সমাজভুক্ত হইতে ইহাদের অত্যধিক আগ্রহ ইহাদের ব্রা্ষণগণ এখনও মনাচরণীয় রহিয়াছেন; ইহাদের সংখ্যা ৭০ জন মাত্র, কিন্তু এই সংখ্যা ঠিক নহে, অনেকেই কায়স্থ বলিয়া আত্মগোপন করিয়াছে বলিয়া অনুমিত হয়

শুড়ী- শৌপ্ডিক বা শুড়ী জাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে নানা মত প্রচলিত ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণের মতে বৈশ্য পুরুষ ধীবর কন্যার যোগে শুড়ীর উৎপত্তি।২৫ পরশুরাম সংহিতার মতে কৈবর্ত পতা গাণিক মাতার যোগে ইহাদের উদ্ভব হয়।২৬ শুপ্তা বা সুরা প্রস্তুত বিক্রয়ই ইহাদের ব্যবসায়। বৈদিক যুগে যখন সোম সুরা পবিত্র বস্তু মধ্যে পরিগণিত ছিল, তখন শুড়ী জাতি অনাদূত ছিল না, পরে কাল ক্রমে নীচ ব্যবসায়ী বলিয়া নীচ শ্রেণীর মধ্যে পরিগণিত হইয়াছে। সদ্য ব্যবসায়ী শুড়ীর সংস্ববে গেলে, মদের প্রলোভনে পড়িতে হয়, এই জন্য হিন্দু সমাজের এই সতর্কতা হস্তীপদতলে প্রাণত্যাগ করিবে, তথাপি শুপ্তিকালয়ে যাইবে না,২৭ ইতি বাক্যের উৎপত্তি এই জন্যই হইয়াছিল শুড়ীগণ প্রায়শঃ সাহা উপাধি ধারণ করে; এই জন্য যাহারা নিজ ব্যবসায় পরিত্যাগ করিয়াছে, তাহাদিগকে বৈশ্য-সাহা জাতি হইতে পরিচয় করা কঠিন হইয়া দীড়াইয়াছে। কিন্তু তাহারা যে বৈশ্য সাহা জাতি হইতে পৃথক, তাহারা নিজেই মুদ্রিত পুস্তকাদি প্রচার করতঃ তাহা স্পষ্টাক্ষরে ব্যক্ত করিতেছে।

সাহা বা সাহু--পরশুরাম সংহিতায় “গাঙ্ধিক শাঙ্খিক শচৈব কাংসক মণিকারক, সুবর্ণজীবিকশ্চৈব পঞ্চেতে বণিজন্মৃতাঃ;” বলিয়া যে পঞ্চবণিকের উল্লেখ আছে, শ্রীযুক্ত ধর্ম্মানন্দ মহাভারতী মহাশয় “সিদ্ধান্ত সমুদ্র ষষ্ঠ খণ্ডে এবং শ্রীযুক্ত কৃষ্ণনাথ ঘোষ মহাশয় “কুলপ্রতিভা” ধন্থেব তৃতীয় খণ্ডে, বহুতর অকাট্য প্রমাণ সহযোগে সাহাজাতিকে সেই পঞ্চ বণিকের অন্তর্গত মণিবণিক বলিয়া উন্বেখ করিয়াছেন কুলপ্রতিভায় লিখিত হইয়াছে যে, মণি বণিকেরা পরবর্তীকালে শস্যাদি বিক্রয় ব্যবসায়ে বৃত হওয়া খন্ধবণিক বলিয়া খ্যাত হয়। সুতরাং ইহারা ২৪. “বদ্যোহশ্থিনী কুমারেন জাতশ্চ বিপ্রযোধিতি।

তেচ গ্রাম গুণশ্চ মন্ত্রোষিধি পরায়ণ।

তেভ্যাশ্চ জাতো সন্তানং তে ব্যাল গ্রহিনৌভুবি।”

-শাবকল্পদ্রুম | ২৫. “বৈশ্য তীবর কন্যায়াং সদ্যঃ শুন্তী বভুবহ।”-ত্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ ২৬. “তাতো গাণিক কন্যায়াং কৈবর্তাদের শৌগ্তিকঃ।” ২৭, “হস্তিনা পীড্যমানোপি গচ্ছেৎ শৌপ্তিকালয়ং।”

৮০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

বৈশ্যবর্ণ সন্তৃত। প্রায় দ্বাদশবর্ষ যাবৎ ঢাকার সাহাগণ “স্বজাতি হিতসাধন সমিতি” প্রতিষ্ঠা করতঃ আপনাদিগকে বৈশ্যবর্ণ বলিয়া নির্ধারিত করিয়াছেন। সাহা উপাধিটা প্রকৃত পক্ষে বৈশ্যদের উপাধি। অমরকোষ অভিধানে বৈশ্যদিগকে “সার্থবাহো” বলিয়া উল্লেখ দৃষ্ট হয়, সাহা শব্দ এই “সার্থবাহ” শব্দ হইতেই নিষ্পন্ন হইয়া থাকিবে অধ্যাপক শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ মহাশয় বলেন যে, বণিকদিগকে সাধু বলিত, তৎপর সাহু এবং তাহার পর সাহা উপাধি দীড়াইয়াছে। সাহাদের আকৃতি এবং তাহাদের আচার ব্যবহার দেখিলে তাহাদিগকে কখনই নীচ শ্রেণীর লোক বলিয়া বোধ করা যায় না। “প্রচ্ছন্না বা প্রকাশ্যা বা বেদিতব্যা স্বকম্মভিঃ:” মনুসংহিতোক্ত ইতি প্রমাণে তাহাদের কার্য্যাদি দর্শন করিলে, পূর্বকথিত সিদ্ধান্তে অবিশ্বাস করিবার হেতু পাওয়া যায় না। “সাহাকুল পরিচয়” নামক পুস্তকে লিখিত আছে যে, বৈশ্য জাতীয় খন্ধবণিকগণ বঙ্গভূমে আসিয়া বৌদ্ধভাবাপনন হওয়ায়, সমাজে অচল হয়; আবার কেহ কেহ, বল্লালের কোপে সুবর্ণ বণিকের ন্যায় দশাগ্রস্ত হওয়ার কথাও বলেন। উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ফরেক্কাবাদে এবং আসাম- কামরূপে সাহাদের জল অচল নহে। যাহা হউক, সাহা উপাধিটাই বর্তমানে তাহাদের পক্ষে বিশেষ ক্ষতিজনক হইয়াছে বলিয়া বোধ হয়; কারণ প্রকৃত শুড়ীরাও সাহা উপাধি ধারণ করায়, এবং তন্মধ্যে যাহারা মদ্য প্রস্তুত ইত্যাদি ব্যবসায় ত্যাগ করিয়াছে, বৈশ্য সাহা জাতি হইতে তাহাদের পার্থক্য নির্ণয় করা অনেক সময় কঠিন হইয়া পড়ে এই এক উপাধির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সাধারণতঃ ইহারা অনেকাংশে অবজ্ঞাত হইয়াছে।

্রীহট্রে সাহা শ্রেণীর বহুতর লোক আছেন। সাধারণ সম্মানে কায়স্থের পরেই তাহাদের স্থান নির্দেশ করা যাইতে পারে, ইহা (মিঃ ওয়ালটন প্রভৃতি) বহুতর রাজপুরুষ উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন। কিন্তু উত্তর শ্রীহট্ট, করিমগঞ্জ দক্ষিণ শ্রীহট্ট (পূরর্বাংশ) বাসী সাহুগণ, সিদ্ধান্তসমুদ্, কুলপ্রতিভা, সাহাকুল পরিচয় প্রভৃতি মুদ্রিত পুস্তকগুলির প্রতিপাদিত ঠিক বৈশ্যবর্ণ ছিল না, ইহারা উক্ত বৈশ্য সাহা-বণিকগণ হইতেও বিভিন্ন ছিল। রাজা সুবিদ নারায়ণের সময়, পূর্বোক্ত বৈশ্য- সাহার সংঘ্বে, বৈদ্য কায়স্থ সমাজ হইতে ইহারা পৃথক হইয়া পড়ে এবং কালক্রমে আপনাদিগকে বৈশ্যসাহা জ্ঞানে তদনুরূপই চলিয়া আসিতেছে। “কুলাঞ্জলী” নামে হস্তলিখিত এক পুথিতে ইহাদের উৎপত্তি কথা সংক্ষেপে লিখিত পাওয়া গিয়াছে ।২৮ ইহাদের সংখ্যা অতি সামান্য এবং ক্রমশঃই হ্রাস হইতেছে; অনুমান ছয় সহস্রের অধিক হইবে না; ইহারাও সাধু (সাউধ) বা সাহু বলিয়া কথিত হইয়া থাকে ইহাদের বিবরণ পশ্চাৎ উক্ত হইবে ।২৯ সমগ্র শ্রীহট্ট জিলায় সাহাদের সংখ্যা ৩৪৪০৬ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৬৮৫৫ এবং স্ত্রী ১৭৫৫১ জন 1)

সুবর্ণ বণিক বা সোণার-_সুবর্ণবণিকগণ, বৈশ্যবর্ণ সন্ভৃত পঞ্চবণিকের একতম কথিত আছে, স্বর্ণমুদ্রা খণ গ্রহণের প্রস্তাব করেন; বল্লুভানন্দ বিনা “নন্ধকে” খণদানে অসম্মত হওয়ায় বল্লাল ক্রোধভরে জবলিয়া উঠেন এবং প্রতিফল স্বরূপ ইহাদিগকে সমাজে অচল করেন কেহ বলেন যে স্বর্ণ অপহরণ দোষেই ইহারা পতিত হইয়াছেন। কেহ কেহ বা ব্রাহ্মণের অভিসম্পাতকে ইহাদের ২৮. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২য় ভাগ দ্বিতীয় খণ্ড ৭ম অধ্যায় দ্রষ্টব্য ইহাদের উৎপত্তি বৃত্তান্ত এখনও অতি প্রাচীন ঘটনা

হইয়া দীড়ায় নাই, এখনও বহুতর ব্যক্তি পরম্পরায় সে সংবাদ জ্ঞাত আছেন বৈশ্য-সাহা সংস্রবের পর তাহারা

পরম্পর কি ভাবে চলিতেছে, সামাজিক বৃত্তান্তে সে কথা দ্রষ্টব্য ২৯. হবিগঞ্জ প্রভৃতি ভাটা অঞ্চলের সাহাবণিকগণ পূর্ববঙ্গের অপরাপর জিলাবাসী সাহা জাতি অপেক্ষা অনেক উন্নত

হইলেও মূলতঃ বঙ্গদেশীয় তাবৎ সাহাবণিকই বৈশ্যবর্ণ সন্ভুত। বিহারাদি অঞ্চলের বৈশ্যজাতীয় প্রধান ব্যক্তিবর্গ

ইহা স্বীকার করেন (5০০ 070 3009011 0) 010 ০0758১ 01701081-1901)

সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহত্ট্ের ইতিবৃত্ত ৮১

পাতিত্যের কারণ বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন শ্রীহট্ট জিলায় ইহাদের সংখ্যা ৭৭৫ জন; তেন্ধ্যে পুং ৩৩৮ এবং স্ত্রী ৪৩৭ জন ।) পঞ্চথণ্ডে ইহাদের ব্রাহ্মণের মধ্যে অনেক অবস্থাপন্ন লোক আছেন।

পার্বত্য জাতি

শ্রীহট্ট জিলায় কয়েকটি পার্বত্য জাতির বাস আছে, ইহাদের মধ্যে অনেকটি হিন্দুধর্মাবলহ্বী। যাহারা হিন্দু নহে, তাহারা ভূত, দৈত্য, বৃক্ষ বা পশুউপাসক। কেহ কেহ হিন্দুভাবাপন্ন হইয়াছে এবং কেহ কেহ বা একবারে হিন্দুভাব বর্জিত নিম্নে তাহাদের বিষয় লিখিত হইল

কুকি--কুকিগণ পাহাড়ে বাস করে। অনেকে বলেন যে, ইহারাই অতি প্রাচীনকালে দেশের মালীক ছিল, আর্ধ্জাতি দেশ হইতে ইহাদিগকে বিতাড়িত করেন। ইহাদের অধিকাংশই হিন্দুধর্ম অবলম্বন করতঃ হালাম তিপ্রা বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকে ইহাদের অধিকাংশ সংখ্যা তিপ্রাদের সংখ্যায় অন্তর্তু্ত হইয়াছে বিগত লোক গণনা কালে কেবল মাত্র ৩৬১ জন ব্যক্তি কুকি বলিয়া জাতীয় পরিচয় দিয়াছিল; (তন্যধ্যে পুং ১৫৭ এবং স্ত্রী ২০৪ জন 1)

খাসিয়া সিন্টেং- ইহারা খাসিয়া জয়ন্ত্ীয়া পর্বতের অধিবাসী ইহাদের সংখ্যা ৩০৮৩ জন; তেন্মধ্যে পুং ১৬০৪ এবং স্ত্রী ১৪৭৯ জন।) এই সংখ্যা মধ্যে হিন্দু সংখ্যা ১৬৯৪ এবং সিন্টেং ৪২ জন মাত্র। খাসিয়াদের অনেকেই খৃষ্ট ধর্ম অবলম্বন করিয়াছে।

শ্রৃহ্ট কয়লা প্রভৃতি বিক্রয়কারী পাতরজাতীয় ব্যক্তিগণ হিন্দুমতাবলম্বী খাসিয়া জাতি হইতে পৃথক নহে।

গারো--গারো পাহাড়ের দৈত্যাদি পশু উপাসকদিগের নাম গারো শ্রীহট্টে ইহাদের সংখ্যা ৭৪৬ জন মাত্র; (তন্মধ্যে পুং ৪১৩ এবং স্ত্রী ৩৩৩ জন ।) তন্মধ্যে হিন্দু গারো সংখ্যা ৯৪ জন মাত্র।

তিপ্রা-_ইহারা বোদো জাতীয় ত্রিপুরা বা তিপ্রাগণ হিন্দু। তিপ্রারা বাঙ্গালী সংস্রবে অনেকটা উন্নত হইতেছে এবং মণিপুরীদের আচার ব্যবহার অনুকরণ করতঃ তাহাদের ন্যায় বেশতুষা ধারণ করিতে যত্বু করিয়া থাকে তিপ্রা কুমারীগণকে অনেক সময় মণিপুরী “লাইচারী” হইতে চিনিয়া লওয়া কঠিন হইয়া পড়ে। শ্রীহট্টে বহুতর কুকি তিপ্রা পরিচয়ে আত্মগোপন করিয়াছে। ইহাদের সংখ্যা ৮২৬১ জন; (তন্মধ্যে পুং ৪০৯৩ এবং স্ত্রী ৪১৬৮ জন ।)

মণিপুরী-মণিপুরীরা শ্রীহট্টের ওপনিবেশিক জাতি ইহারা অর্জ্বন পুত্র বন্রবাহনকে আদিপুরুষ বলিয়া ক্ষত্রিয়ত্বের দাবী করে উপবীত ধারণ করে কিন্তু পুবের্ব এইরূপ পরিচয় দিত না। মণিপুররাজ চিংতোমৃখোম্বার শাসনকালে শ্রীহত্টের ব্রান্ণ অধিকারীগণ তাহাদিগকে বৈষ্ণঠবধর্ম্মে দীক্ষিত করতঃ উপবীত প্রদান করেন।৩০ বিষ্জুপুরীয়ারা কালাচাই ভেদে ইহারা দ্বিবিধ। বিষ্ণুপুরীয়ারা কৃষ্ণবর্ণ এবং পার্বত্য জাতীয় বলিয়া সহজেই বোধ হয়। মণিপুরীরা পূরেরে যে পার্বত্য জাতীয় ছিল, তাহার বহুতর প্রমাণ আছে, কিন্তু শ্রীহস্ট অঞ্চলের মণিপুরীরা বহুদিন বাঙ্গালী সংস্রবে থাকায়, অনেক পরিমাণে বাঙ্গালী স্বভাব প্রাপ্ত হইয়াছে। মণিপুরীরা বলবান, সাহসী বীর। ইহাদের একতা অতি প্রশংসনীয় কিন্তু ইহাদের স্বভাব উদ্ধত এবং তাহারা আইনের ধার বড় অধিক ধারে না ।৩১ শ্রীহট্ট সদর, প্রতাপগড়স্থ পাথারকান্দি, জফরগড়ের ৩০. বঙ্গদর্শন পত্রিকা-১২৮৪ সাল। এবং শ্রীযুক্ত কৈলাসচত্র সিংহ প্রণীত ত্রিপুরার ইতিহাস দেখ।

৩১. "1176 1/41100015 06 0/1181016 & 01100161010 01119 0501016, 010110%5110110 10505501101 100 [)91651) 01 0116 10/. ০00.

717৩ 4১5৬0) 101501000820116015 ৬01. (3911701) 0100১. 1]. 0. 78.

শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত(পূর্বাংশ)-৬

৮২ শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

লক্ষ্মীপুর, ডলু, শিলং, লংলা, ধামাই, গৌরনগর, পাথারিয়া, তরফ, আসামপাড়া সুনামগঞ্জ প্রভৃতি স্থানে ইহাদের বাস আছে। বরন্মযুদ্ধের পরই মণিপুরীরা শ্রীহট্ট কাছাড়ে আগমন করতঃ উপনিবেশ স্থাপন করে। মণিপুরীদের পৃথক এক কথা ভাষা আছে। ইহাদের সংখ্যা ১৬০৪৩ জন; তেন্মধ্যে পুং ৮০৮৫ এবং স্ত্রী ৭৯৫৮ জন ।)

লালুং--ইহারা খাসিয়া জয়ন্তীয়া পাহাড় হইতে শ্রীহট্টরের সমতল ক্ষেত্রে আসিয়া বসতি করিতেছে কথিত আছে যে, প্রাচীনকালে ইহারা ডিমাপুরের (কাছাড়ের) নিকট বাস করিত, তথাকার রাজা মানবদুপ্ধ পান করিতেন এবং ইহাদিগকে প্রত্যহ ছয়সের দুগ্ধ যুগাইতে আদেশ করেন। ইহারা রোজ ছয়সের নারীদুগ্ধ যুগান অসাধ্য ভাবিয়া, ভয়ে পলায়ন পূর্বক জয়ন্তীয়ায় আসিয়া বাস করে। ইহারা বিবাহান্তে স্ত্রীর পিতৃবংশতুক্ত হয়, কিন্তু স্বীয় মরণান্তে আবার নিজবং তু পুনঃ প্রাপ্ত হইয়া থাকে) শ্রীহস্ট জিলায় ইহাদের সংখ্যা ৬৩৯ জন: তেনাধ্যে পুং ৩১৫ এবং স্ত্রী ৩২৪ জন।)

মোসলমান জাতি

কুরেষি-ইহা এক বংশ বিশেষ হজরত মোহাম্মদ এবং শ্রীহট্টের শাহজালাল এই ৰং জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন শ্রীহট্টের কুরেষি বংশীয়দের পূর্বপুরুষ মক্কায় সন্নিহিত স্থান হইতে আগমন করেন। ইহাদের সংখ্যা ৩৭৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৮৪ এবং স্ত্রী ১৯১ জন |)

গাইন-_ইহারা নিম্নশ্রেণীর গায়ক সম্প্রদায় কখন কখন পুতির মালা প্রভৃতি বিক্রয় করিয়া থাকে। সংখ্যা ২২০ জন; তেন্মধ্যে পুং ১০৫ এবং স্ত্রী ১১৫ জন।)

জোলা- নিঙ্গশ্রেণীর বন্ত্র ব্যবসায়ী ইহাদের সংখ্যা ৪৯১ জন; (তন্মধ্যে পুং ২১৫ এবং স্ত্রী

১৭৬ জন |)

নাগারছি--ইহারা বাদ্যকর, কাড়া, ডোল সহকারে বাদ্য করিয়া থাকে সংখ্যা ৪৯৪; (তন্মধ্যে পুং ২৫২ জন এবং স্ত্রী ২৪২ জন 1)

পাঠান--শেখ, সৈয়দ, পাঠান, মোগল এই চারি প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে পাঠান একতম। ইহাদের সংখ্যা শ্রীহন্টের ৬৪২০ জন; (তন্মধ্যে পুং ৩৪৩৬ এবং স্ত্রী ২৯৮৪ জন ।)

মাহিমাল--ইহারা মংস্যজীবী সংখ্যা ৩৫১৯৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৭৫৫৬ এবং স্ত্রী ১৭৬৩৯ জন ।)

মীর শিকারি- নি্নশ্রেণীর শিকারি জাতি পক্ষী প্রভৃতি শিকার করিয়া ভ্রমণ করে। সংখ্যা ৩৯৫ জন; (তন্মধ্যে পুং ১৭১ এবং স্ত্রী ২২৪ জন।)

মোগল-_দিল্লীর বাদশাহগণ এই জাতীয় ছিলেন। ইহাদের সংখ্যা ৪৯৩ জন; (তন্মধ্যে পুং ২৪৯ এবং স্ত্রী ২৪৪ জন)

বেজ--পক্ষী শিকার সর্প ত্রীড়া প্রভৃতিই বেজদের ব্যবসায়। ইহাদের সংখ্যা ২৩৩ জন; (তন্মধ্যে পুং ১১১ এবং স্ত্রী ১১২ জন ।) এই এক ব্যবসায়ী বেদিয়া জাতির বাসও শ্রীহট্ট আছে; ইহাদের সংখ্যা ৫৮ জন মাত্র। বেদিয়ারা হিন্দুধর্ম মানিয়া চলে।

শেখ-_-আরবের সাধারণ মোসলমানদের উপাধি শেখ। শ্রীহন্টে শেখ উপাধি বিশিষ্ট মোসলমানের সংখ্যা ১১২৬৩৪৯ জন; (তন্মধ্যে পুং ৫৭৩৬১৫ এবং স্ত্রী ৫৩০৩৪ জন।) লোক গণনা কালে অনেক মাহিমাল জাতীয় লোক শেখ সাজ্ঞায় আত্মগোপন করিয়াছিল।

সৈয়দ-যাহারা হজরত মোহাম্মদের জামাতা আলীর বংশ জাত তাহারাই সৈয়দ।

সপ্তম অধ্যায় : অধিবাসী শ্রীহস্টের ইতিবৃত্ত ৮৩

মোসলমান সমাজে ইহারা অতি সম্মানিত। ইহাদের সংখ্যা ৬৫৯৮ জন; (তন্মধ্যে পুং ৩৩১৫ এবং স্ত্রী ৩২৮৩ জন ।)

খৃষ্ঠীয়ান জাতি ৃষ্টায়ান জাতি মধ্যে বুন্দাশিলের নেটিভ খৃষ্টীয়ানগণ খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারন্তে জনৈক নবাব কর্তৃক গোলন্দাজ সৈন্যরূপে শ্রীহট্টে আনীত হয়; সুতরাং তাহারা বহুদিনের ওপনিবেশিক জাতি ।৩২ শ্রীহস্টে ছড়ার পারে কতক খৃষ্টায়ান অধিবাসী আছে। সংখ্যা ৩৯৪ জন; তেনাধ্যে পুং ১৮৬ এবং স্ত্রী ২০৮ জন।) ? উপরের লিখিত অধিবাসীদের সংখ্যা কোন সবডিভিশনে কত তাহা ছ-পরিশিষ্টে দ্রষ্টব্য

কুলি

চা বাগানের কাজে ছোট নাগপুর, হাজারিবাগ প্রভৃতি অঞ্চল হইতে হিন্দু, মোসলমান মধ্যে বহুতর বিভিন্ন জাতীয় লোক শ্রীহনট্রে আগমন করিয়াছে, ইহাদের মোট সংখ্যা ১৯০১ খৃষ্টাব্দের গণনায় ১৪৮৭৬ জন হইয়াছিল। ইহাদের জন্মভূমি শ্রীহস্ট নহে বলিয়া, অধিবাসীদের পরিচয় বর্ণনে তাহাদের উল্লেখ করা হইয়াছে। কিন্তু কোন কোন অল্প সংখ্যক, এক জাতীয় লোক, অন্য উচ্চতর জাতীয়ের পরিচয়ে সম্পূর্ণ আত্মগোপন না করিয়াছে, এমন বলা যায় না। দৃষ্টান্ত স্বরূপ শ্রীহট্টের ঢালকর জাতি কীসারী জাতির উল্লেখ এস্থালে করা যাইতে পারে। কীসারীরা বৈশ্য বর্ণ, ইহারা কায়স্থ পরিচয়ে আত্মগোপন করিয়াছে। কিন্তু ইহাদের সংখ্যা শ্রীহট্টরে এত অল্প যে, তাহাতে কোন ক্ষতি বৃদ্ধি হয় নাই।

ভিন্ন দেশাগত প্রত্যেক জাতির সংখ্যা পুং স্ত্রী অনুসারে জ-_পরিশিষ্টে প্রদত্ত হইবে।

৩২. "11611 10190111015 912 5810 1017৬610601) 5601100 110616 01 0116 06611001106 00176 1801 ০6100017909 141001001110001) ০৬৪০. &

-/১599॥) [01510101 082606615 ৬০| 1] (১১1161) ০190. 101. 0. 90.

৮৪ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

অষ্টম অধ্যায় ধর্ম শিক্ষাদি

টা

ধন্ম মোসলমান

শ্রীহট্রের প্রায় সমস্ত অধিবাসীই বাঙ্গালী পূর্ববাধ্যায়ে যে সমস্ত অধিবাসীর বিবরণ লিপিবদ্ধ হইল, তনুধ্যে মোসলমান সংখ্যাই অধিক। উত্তর শ্রীহস্ বহুপুবের্বে মোসলমান কর্তৃক বিজিত হয় বলিয়া উক্ত সবডিভিশনেই মোসলমান অধিবাসীর সংখ্যা অধিক। নীচ জাতীয় হিন্দুগণের ধর্ম পরিবর্তন মোসলমানদের মধ্যে বিধবা বিবাহের বহু প্রচলনই এই সংখ্যাধিক্যের অন্যতম কারণ শ্রীহস্তীয় মোসলমানদের মধ্যে সিয়া সুন্নি এই দুই সম্প্রদায়ের লোকই প্রধান। তনুধ্যে সিম়্াদের সংখ্যা অতি সামান্য, সুন্নিদের তুলনায় নাই বলিলেই চলে। ১৯০১ খুষ্টাব্দের গণনানুসারে শ্রীহট্ট জিলায় সব্র্ব সম্প্রদায়ের মোসলমান সংখ্যা ১১৮০৩২৪ জন হইয়াছে।

হিন্দু

শ্রীহট্টে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মধ্যে শাক্ত, শৈব বৈষ্ণব ধর্মই প্রধান শ্রীহট্ট জিলায় ১৯০১ ৃষ্টাব্দের গণনায় শক্তি উপাসক ৩১৩৫২২ ব্যক্তি, শৈবের সংখ্যা ৫৭৫৭১ জন, এবং বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৫৬০৩৭৯ প্রাপ্ত হওয়া যায়। মোট হিন্দু সংখ্যা ১০৪৯২৪৮ জন।

যাহারা বৃক্ষ, পশু বা দৈত্য দানবের উপাসনা করে, তাহাদের সংখ্যা ১১৩৩৭ জন এবং খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৩৯৪ জন মাত্র ।১

শাক্ত, শৈব বৈষুব

শাক্তদের মধ্যে পাশ্বাচার বামাচার উভয় মতই প্রচলিত আছে বামাচারী মতে মদ্যপান দোষণীয় নহে।

১. এই সংখ্যা প্রত্যেক সবডিভিশনানুসারে বিভাগ ক্রমে নিম্েপ্রদর্শিত হইলঃ- ধর্্মাবলক্বী

উত্তর শ্রীহন্টট করিমগঞ্জ মৌলবীবাজার হবিগঞ্জ সুনামগঞ্জ শাক্ত ৩৩৯৩ ৪১৭২৪ ৯২৮৪৫ ২৭১৯৪ ৩৭৩৬৬ শৈব ৩২২৪ ১৮১৮৬ ২১৪১৭ ৯৩১৩ ৫৪৩১ বৈষ্ণব ৭৪৬৬ ১২৩২৮৩ ৬১৮৪২ ১৩২৮৪৫ ১৪৬১৯৩ বৃক্ষাদি উপাসক ২৩৩৭ ২৮১৮ ১৯৪৬ ৪০১৯ ৮১০ ৃষ্টায়ান ১৮১ ২১৩ রী মোট মোসলমান ৩০৮৯৯৮ ২৯২৭০০ ১৪৬০৫৬ ২৬২০০৪ ২৩৮৫৯৫ মোট হিন্দু ১৫১৯০৮ ২১৫২৪২ ২৩০৮৫৯ ২৫৬৯১৯ ১৯৪৩২০

অষ্টম অধ্যায় : ধর্ম শিক্ষা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৮৫

শৈবদের মধ্যে শ্রীহট্টে যুগী জাতীয় লোকের সংখ্যাই অধিক ত্রিনাথ দেবতার অর্চনা বা সেবা ইহাদের মধ্যেই অধিক প্রচলিত ব্রিনাথের সেবায় গাঞ্জা ভোগই প্রধান। উপাসকগণ রাত্রে শিবের লীলাত্মক গান গাইয়া শেষে প্রসাদ ভক্ষণ করে। চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক পুজা উপলক্ষে কাণফোড়া প্রভৃতি ইহাদের ক্রিয়া ছিল।

কিশোরী ভজন

বৈষ্ণবেরা শান্ত মদ মাংসাহার বিরত। অনেক উপধর্মাক্রান্ত ব্যক্তি আপনাদিগকে বৈষ্ণব বলিয়া থাকে; তাহাদের সংখ্যা লইয়াই বৈষ্ণব সংখ্যা পুষ্ট হইয়াছে। *

এই উপধর্মাক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কিশোরীভজন মতাবলম্বীগণের সংখ্যাই অধিক শুদ্ধ বৈষ্ঞব মতের সহিত সহজ বা কিশোরীভজন মতের সম্পূর্ণ এক্য নাই ইহারা পঞ্চরসিকের মতে চলে বলিয়া কথিত আছে। প্রত্যেকেই উপাসনার জন্য এক এক জন সঙ্গিনীর সাহায্য গ্রহণ করে এবং তাহাকেই প্রেমশিক্ষার গুরু রূপে কল্পনা করা হয়। এই ধর্মের প্রধান অবলম্বনই প্রেম। ইহারা উপাসনা কালে জাতি বিচার করে না; নিম্ন শ্রেণীর সহিত উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরাও অবাধে আহারাদি করে ।২ তাহাদের উপাসনা কার্ষ্য ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর অসাক্ষাতে গভীর রাত্রে সম্পাদিত হয়। তৎকালে দলপতি দলে যিনি প্রধানা রমণী, তাহাদের বিশেষ সম্বর্ধনা করা হয়। যে ভোজ্য দ্রব্য উপস্থিত করা হয়, প্রথমে তিনি তাহার আস্বাদ করতঃ ভক্তবর্গকে প্রসাদ বিতরণ করেন। তৎপর রাধাকৃষ্ণ লীলাত্মক সঙ্গীতাদি সহকারে উপাসনার অন্যান্য অঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়।৩ কিশোরী ভজন উচ্চ শ্রেণীর লোকেরা আদর করেন না।

জগন্মোহনী

বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জগন্মোহনী বৈষ্ঞবগণও ভুক্ত হইয়াছে। প্রকৃত পক্ষে ইহা সম্পূর্ণ নূতন একটি ধর্ম্সসম্প্রদায়। এই ধর্ম্মের উৎপত্তি স্থান শ্রীহট্ট জিলা সুতরাং ইহা শ্রীহন্টের বিশেষত জ্ঞাপক ঘটনার অন্যতম প্রায় তিন শত বৎসর হইল, এই সম্প্দায়ের উৎপত্তি হয়। গোপীনাথের শিষ্য বাঘাসুরাবাসী জগন্মোহন গোসাঞ্চি এই সম্প্রদায়ের প্রবর্তক “ভারতব্ীয় উপাসক সম্প্রদায়” গ্রন্থে অক্ষয় কুমার দত্ত, ইহাকে বৈষ্ণব ধর্মের এক উপসম্প্রদায় বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। ইহারা ব্রহ্মবাদী, প্রতিমা পূজায় তাহাদের স্পৃহা নাই। “গুরু সত্য, এই বাক্য উচ্চারণ করিয়া, গুরুকেই ইহারা প্রত্যক্ষ দেবতা বলিয়া স্বীকার বিশ্বাস করে।”৪ ইহারা স্ত্রীত্যাগী,

ব্হ্ষচর্য্য পালন করাই তাহাদের ধর্মসঙ্গত বিধি তাহারা তুলসী গোময়ের ব্যবহার করেন না;৫ এবং সম্প্রদায়ের “নিব্্বাণ সংগীত” গান করাই উপাসনার অঙ্গ মনে করেন জগন্মোহন

২,11290]। ৬/01510100001 0650155 10111561110 9 /01721) ৬/1101] 116 001510615 25 1015 51011110091 001106 0170 ৮111) 4105 11610) 196 ০১196015 10 560016 991৬01101) 01119 50801. 1115 16118101719 & 16118107 01 10৬6, 2170 15 1101

001811700 (0 0119 001705, 11১0 ০৫১1০ [01010101006 ৬/101) 1017) 15 [10101) 5101061)1]) 2110 11) 115 09501৬01510 101)595 ৮/101) ৫1] 0116 10৬/ ০0510 111710015 [০619. -০09011 01) 1100 ০017505 91 /৯55817)-1901, 01190), 1.0. 41.

৩. ৮1110 [00170001501 1)15 5001 210 5810 1010৩ 2550111)100 5601601 01 11161)6 070 10 ৬/0151)1]) 0100 170150155 01 [10011 [011951, ৮/1015 50110019050 (01010705011 [২20118. 7110 (0০015 01101001010, 0190 801 5110 1199 (001) |10016, 076 059৫ 0৩ (15111101064 01770151100 00115108010).

-/55আথা) 10150101 09261015615 ৬০. 1] 0১. 84. ৪. ভারতবরষীয় উপাসক সম্প্রদায় ১ম ভাগ ২১০ পৃষ্ঠা ?. বর্তমানে ইহার ব্যবহার কিয়ৎ পরিমাণে চলিতেছে।

৮৬ শ্রীহন্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

গোসাঞ্ির শিষ্যের প্রশিষ্য রামকৃষ্ণ গোসাঞ্রির হইতে এই ধর্ম বহুল প্রচারিত হয়। বিথঙ্গলের আখড়াই ইহাদের প্রধান তীর্থস্থান তদ্যতীত মাছুলিয়া ঢাকার ফরিদাবাদে আরও দুই আখড়া আছে। ইহাদের শিষ্য সংখ্যা প্রায় পঞ্চসহস্্।

চাপঘাট পরগণাধীন কচূয়ার পার নামক স্থাননিবাসী ব্রহ্মনন্দ বৈষ্ণব তদঞ্চলে এইরূপ মত প্রচার করেন; তাহার শিষ্য সম্প্রদায় তথায় “ব্রন্মানন্দী” নামে কথিত হয়। জগন্মোহনী মতের সহিত এমতের বিশেষ অনৈক্য নাই। ইহারা জাতিভেদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন না। বরহ্মানন্দীরা সংখ্যায় যৎসামান্য

মণিপুরী রাস

মণিপুরীরা বৈষ্ণব ধর্মের অন্ধবিশ্বাসী রাসযাত্রা উপলক্ষে তাহারা আগ্রহ সহকারে “লাইচারী” অর্থাৎ কুমারীদের সহায়ে নৃত্যগীতসহকারে রাস গান করে। মণিপুরী রাস-নৃত্য সুন্দর বটে ইহারা বৈষ্ণব ধর্মের গাঢ় অনুরাগী হইলেও, হিন্দু সমাজের অজ্ঞাত একটি জাতীয় দেবতার পূজা প্রত্যেক বংশে প্রচলিত আছে। ইনি মৎস্যপ্রিয় বলিয়া এই দেবতাকে বোয়াল মৎস্যাদি উপহার দেওয়া হয়; এবং তিনি বংশের প্রধান ব্যক্তির জি্বায়, বাড়ীর পশ্চাৎ ভাগে অনাদূত ভাবে বাস করেন। মণিপুরীদের এই দেবতা, তাহাদের ভূতপুরর্ব পার্বত্য যুগের উপাস্য দেবতার ত্যক্তাবশেষবিশেষ বিবেচনা করা যাইতে পারে। ১৭১৫ খৃষ্টাব্দের পর চিতোম্‌ খোশ্বা রাজার সময়ে, শ্রীহট্টবাসী “অধিকারী” ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক মণিপুরীরা বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয় ।৬ যৌবন বিবাহ ইহারা ধর্মমবিরন্ধ মনে করে না; কাজেই বাল্য বিবাহের প্রচলন এবং অবরোধ প্রথা ইহাদের মধ্যে নাই।

কুকিদের বৃক্ষাদি পূজা

কুকি তিপ্রা প্রভৃতির জাতীয় দেবতা মণিপুরীদের মৎস্যাশী দেবতাপেক্ষা আরও এক পদ অগ্রসর তিনি শুকর মাংস পর্য্যন্ত খাইতে পারেন; পৃের্ব কুক্ুট মাংস যথেষ্টরূপে আহার করিতেন। কুকিদের বাশ পূজা অতি আশ্চর্য্য কথিত আছে, তাহাদের পূজার মন্ত্রবলে উদ্দিষ্ট বংশদণ্ডের অগ্রভাগ ভূমিম্পর্শ করিয়া থাকে ।৭ বংশাগ্র ভূম্পর্শ করিলেই পূজা সিদ্ধ হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হয় ।৮ কুকিরা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করিলেও পরকাল বুঝে না। কুকিরা পাহাড়ের উপর বংশনির্মিত মাচা প্রস্তুত করতঃ তাহাতে বাস করে; বংশপত্রাদি দ্বারাই মাচার ছাউনি দেওয়া হয়। ইহারা অতিশয় মাংসপ্রিয় জাতি কোন জাতীয় উৎসবে মদ্যপান মাংসাহারই প্রধান অঙ্গ বিবেচিত হয়।

খৃষ্টায়ান ব্রহ্ম শ্রীহট্ট জিলায় অল্প সংখ্যক খৃষ্টীয়ান অধিবাসী আছে; ইহারা রোমান কাথলিক সম্প্রদায় তুক্ত। অল্প সংখ্যক প্রটেষ্টানট খৃষ্টানও আছে; ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে শ্রীহত্টে প্রটেষ্টান্ট মিশন স্থাপিত হয়। শ্রীহস্ট ৬. বঙ্গদর্শন পত্রিকা-১২৮৪ সাল; এবং শ্রীযুক্ত কৈলাসচন্দ্র সিংহ প্রণীত “ত্রিপুরার ইতিহাস” দ্রষ্টব্য ৭. সার জর্জ বার্ডউড্‌ সাহেব কৃত অনারেবল্‌ জগন্নাথজি শঙ্করসেটের জীবনীতে এইরূপ বাশ পুজার আশ্চর্য্য আখ্যান লিখিত হইয়াছে। ৮. কুকিদের পূজার একটি মন্ত্র নিশ্নে দেওয়া হইলঃ- “আ খালে কাণুয়ই সাং যোয়ঙ্র কাণুয়ই যেই চেকো যেই মা লয়ঙ্গ।” অর্থাৎ হে শ্বেতবর্ণ দেবী মাই, শৃন্যপথে পিচ্ছিল গতিতে এখানে আসিয়া স্থান পূর্ণ কর।

মষ্টম অধ্যায় : ধর্ম শিক্ষাদি শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত ৮৭

সদর, করিমগঞ্জ মৌলবী বাজারে ওয়েলিশ মিশনের এক এক আড্ডা আছে। পরলোকগত রেভারেণ্ড প্রাইজ সাহেবের যত শ্রীহন্টে খৃষ্টধর্ম প্রথমে প্রচারিত হয়। প্রাইজ সাহেব স্বীয় সরিত্রগুণে হিন্দুজাতিরও অতি প্রিয় ছিলেন। তীহার মৃত্যুর পর হিন্দুদের অর্থ সাহায্যেই তদীয় সমাধিস্তন্ত নির্মিত হয়।

শ্রীহট্টে জনকতক সহরবাসী ইংরেজী শিক্ষিত ব্যক্তিতেই ব্রাহ্মধর্থ্ের প্রভাব সীমাবদ্ধ রহিয়াছে। ইহারা সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের অনুমত উপাসনাদি করেন। শ্রীহস্ট্রে ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে সর্বপ্রথম ব্রাহ্মসমাজগৃহ স্থাপিত হয়।

ধর্মোৎসব

মোসলমানদের মধ্যে শিয়া শ্রেণীর লোকের আসুরা পর্বে “তাবুজ” বাহির করার যথেষ্ট উৎসাহ আছে। শ্রীহস্টের আসুরা অতি বিখ্যাত ছিল। এখনও আসুরা পবের্ব ঈদগার ময়দানে লাঠি খেলা, বানুটি খেলা৯ ইত্যাদি হইয়া থাকে এবং অনেক তাবুজ আসিয়া জমা হয়। সময় ঈদগার ময়দানে এক মেল' বসে মোসলমানগণ ঈদপব্র্বোপলক্ষেও বিশেষ ধূমধাম করিয়া থাকেন।

হিন্দুদের দুর্গোৎসব পব্রবেই বিশেষ আড়ম্বর হয়। শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব সকলেই দূর্গা পুজায় বিশেষ উৎসাহ প্রকাশ করেন। শৈবদের মধ্যে বারুণী পর্ব এবং বৈষ্ণবদের ঝুলনযাত্রা করে। মনসা পূজা মাঘী সংক্রান্তি প্রতিপালন বিষয়ে দরিদ্র ব্যক্তিরাও অবহেলা করে না।

নৌকাপুজা গোবিন্দকীর্তন শ্রীহট্টরের দুইটি বিশেষ ধর্ম্বোঘসব। কোন মাঠে গৃহ প্রস্তুত ক্রমে তাহাতে নৌকাকৃতি কাঠাম প্রস্তুত করা হয়। নৌকার কাঠামে মনসা মূর্তিই প্রধান। তদ্যতীত অপর বহুতর দেবমূর্তি গঠিত করতঃ নৌকাগৃহ পূর্ণ করা হয়। নৌকা পূজায় মনসার পুজাই উদ্দেশ্য স্বরূপ থাকে। বহুতর দেবমূর্তি সমন্বিত নৌকা গঠন সেবা পুজা ইত্যাদিতে নৌকা পূজায় অনেক অর্থব্যয় হয়।

গোবিন্দকীর্ত্বন সন্ধ্যা হইতে প্রভাত পর্য্যন্ত গাইতে হয়। ন্যুনাধিক দুইশত, দেড়শত লোক দলে দলে বিভক্ত হইয়া আসরে উপস্থিত হয়। লতাপুষ্পমপ্তিত একটি কুঞ্জগৃহ নির্মাণ করিয়া তাহাতে রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ রাখা হয় তৎসম্মুখে দলে দলে পর্য্যায়ক্রমে অবিরাম ভাবে গীত গায়। গীত শেষ হইলে প্রভাতে মঙ্গল আরতি গাইয়া উৎসব শেষ করা হয় প্রসাদ বিতরণ হয়। গোবিন্দবীর্তনের সঙ্গীত, গৌর চন্দ্রিকা, জলসংবাদ, রূপ, খেদ, দূতীসংবাদ, অভিসার বা চলন এবং মিলন, এই পর্য্যায়ক্রমে গীত হয়।

শ্রীহট্রে কবির গান ঘাটুর নাচ এক সময় অতি প্রচলিত ছিল। বালকগণ বালিকা বেশে নৃত্যসহকারে ঘাটুগান গাইত মান, মাথুর ইত্যাদি ভেদে এই গান গাইতে হয়। এই সকল সঙ্গীত শ্রীহট্রের কবিগণ রচনা করিতেন।

পৃবের্ব “ভাষা পদ্ম পুরাণ” সঙ্গীত যোগে শ্রাবণ মাসে গঠিত হইত, প্রথাও প্রায় উঠিয়া গিয়াছে। কবি যষ্টীবর এবং নারায়ণ দেবকে অনেকেই ময়মনসিংহবাসী বলিয়া মনে করিতেন, কিন্তু তিনি শ্রীহট্টবাসী বলিয়া প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে।

শ্রীহট্টে অন্যান্য দেবদেবী পূজায়, পশ্চিম বঙ্গের সহিত প্রভেদ দৃষ্ট হয় না। বারব্রতাদিতেও বড় বিশেষত নাই। জন্মাহের ষষ্ঠ দিবসে যষ্টীপূজা, অবিবাহিতা বালিকাদের মাঘ্বৰত এবং ৯. বংশদণ্ডের উভয় প্রান্তে নেকড়া জড়াইয়া তাহাতে আগুন ধরাইয়া লাঠি খেলার ন্যায় বানুটি খেলা করা হয়।

৮৮ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ রমণীদের সূর্যবত বিশেষ উল্লেখযোগ্য

মাঘ্ৰতে সমস্ত মাঘ মাস ভরিয়া অবিবাহিতা বালিকাদিগকে ভোরে উঠিয়া স্নানান্তে বরতের নির্দিষ্ট বেদিকা সম্মুখে বসিয়া কথা বলিতে হয়। বেদীর সম্মুখে জলপূর্ণ দুইটি গর্ত থাকে অভিভাবিকাগণ তথুল, হরিদ্রা, ইষ্টক চূর্ণ এবং আবির দ্বারা প্রত্যহ বেদীও ব্রতস্থান চিত্রিত করিয়া দেন। পনরদিন পরে “উদয় পুজা” তৎকালে সমস্ত প্রাঙ্গন ভরিয়া চিত্র অঙ্কিত হয়। ব্রত সমাপ্ত দিন “দেউল” বিসর্জন করিতে হয়। ব্রতের দিন নির্দেশার্থ এক একটি মূন্ময় গোলক তুলসী বেদীর নিম্নে রক্ষিত হয়, তাহাই দেউল। উত্তম স্বামী, ধন জন, বন্ত্রালঙ্কার ইত্যাদি লাভ করা এই ব্রতের উদ্দেশ্য

শ্রীহত্টে স্ত্রীলোকদের মধ্যে সূর্যযবূতও বিশেষ প্রচলিত, ইহা মাঘ মাসের কোন এক রবিবারে, অতভূক্তাবস্থায় দণ্ডায়মান থাকিয়া করিতে হয় কদলী বৃক্ষ গাদাফুলে মগ্তিত করিয়া প্রাঙ্গনে ধোথিত করা হয়। তাহার সম্মুখে দুইটি গর্তে জল দুগ্ধ রক্ষিত হয়, রঙ্গিণ চূর্ণে চন্্র সূর্য্যের চিত্র ভূমিতে অঙ্কিত করা হয়। ব্রতধারিণীকে শুধু উপবাস পরিচর্য্যা করিতে হয়, ব্রাহ্মণই পৃজা করেন। স্ত্রীলোকেরা কৃষ্ণলীলার গীত গাইয়া থাকেন, সূর্য্যান্ত হইলে ব্রতধারিণী উপবেশন করেন প্রসাদ ভক্ষণ করেন।

শ্রীহপ্রের নগর-সঙ্কীর্ন বংশীবাদন অতি প্রসিদ্ধ শ্রীহট্টবাসীরা নিজ জিলায় যে যে স্থান তীর্থবৎ মান্য করে, পরবর্তী অধ্যায়ে তাহা বর্ণিত হইবে

বিদ্যাশিক্ষা

আদি বিবরণ

প্রাচীন কালে হিন্দু রীত্যানুসারে গুরুগৃহে শিক্ষা সমাপন করিবার প্রথা ছিল। তাহার পরেও দেশে বিদ্যাশিক্ষার সুরীতি ছিল৷ কয়েক গ্রাম মধ্যেই এক বিদ্যালয় থাকিত, পণ্ডিত অথবা মৌলবী তাহাতে শিক্ষা দিতেন। কেতাবি শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে নীতি শিক্ষাও চলিত; কোন ছাত্রের বিরুদ্ধে নীতি বিগর্হিত ব্যবহারের কথা শুনা গেলে কঠোর শাস্তি প্রদত্ত হইত

রেভারেণ প্রাইজ সাহেবই এদেশে ইংরেজী শিক্ষার বীজবপন করেন, তৎকালে একটি স্কুল ছিল বটে, কিন্তু ইহা স্থায়ী হইতে পারে নাই। উচাইলের জমিদার একজন ইংরেজী শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন, তৎকালে পূর্ব্ববঙ্গে অল্পব্যক্তিই ইংরেজীর প্রতি অনুরক্ত ছিল। উচাইলে একটি বিদ্যালয়ও ছিল, ত্রিপুরা, ময়মনসিংহ হইতেও বহু ছাত্র বিদ্যালয়ে শিক্ষিত হইয়াছিল

ঢাকার এতিহাসিক বিবরণের একস্থানে লিখিত আছে যে, ১৮৬৭ খৃষ্টান শ্রীহস্ট জিলায় ২৮টি স্কুলে ১১২৭ জন ছাত্র ছিল। এই অত্যল্প ছাত্র সংখ্যার অর্ছেক শ্রীহট্র সহরে থাকিয়া শিক্ষা পাইত।১০ সুতরাং মফঃস্বলে তখন লোকের শিক্ষানুরাগ কিরূপ ছিল, ইহাতেই বুঝা যাইতেছে

পরবর্তী বিবরণ

বর্তমান গবর্ণমেন্ট স্কুল ১৮৬৯ খৃষ্টাব্দে সংস্থাপিত হয়। এই স্কুল স্থাপিত হওয়ায় শ্রীহষ্টবাসীর ইংরেজী শিক্ষার পথ প্রসারিত হয়। রায় সাহেব দুর্গাকুমার বসু মহাশয়ের কার্য্যকালে শ্রীহট্ট জিলা-স্কুল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি গণনীয় স্কুল হইয়া দীড়ায়

১০. 01101001 11599 0016 11151019 0170 918019110 01 1)9008 [)1৬15101) 1868. 0). 320.

অষ্টম অধ্যায় : ধর্ম শিক্ষাদি শ্রীহন্ট্রের ইতিবৃত্ত ৮৯

সার জর্জ কেম্বেল সাহেবের প্রবর্তিত প্রাথমিক শিক্ষাবিস্তার জন্য শিক্ষক প্রস্তুতের আবশ্যক হওয়ায়, ১৮৭৩ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট্রে একটি নর্মাল স্কুল স্থাপিত হয়। শিক্ষক, গণিত শাস্ত্রবিশারদ স্বগীয় গোবিন্দচরণ দাস স্বরূপচন্দ্র রায়ের যত্তে এই স্কুলের বিশেষ উন্নতি লক্ষিত হইয়াছিল। কয়েক বর্ষে শিক্ষকের অভাব পরিপূর্ণ হইয়া গেলে এই স্কুল উঠাইয়া দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের উকীল স্বীয় জয়গোবিন্দ সোম শ্রীহট্টের সর্বপ্রথম এম. উপাধিধারী। ভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রাণ্ড শ্রীহট্টবাসীর মধ্যে, ছনখাইড়বাসী শ্রীযুক্ত গজনফর আলী খাঁ ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে ইংলগ্ড গমন করতঃ ভারতীয় সিভিল সাব্বর্বিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু স্বর্গীয় রমাকান্ত রায় এক বিষয়ে ভারতবাসীর পথপ্রদর্শক হইয়াছেন। জলসুখাবাসী স্বগাঁয় রায় মহাশয় ১৮৯৮ খৃষ্টাব্দ জাপান দেশে গমন করতঃ খনিজ বিদ্যা (মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং) শিক্ষা করতঃ প্রত্যাবর্তন করেন। তাহার পূ শিক্ষার উদ্দেশ্যে কেহ ভারতবর্ষ হইতে জাপান যান নাই। ইহার পরে করিমগর্জের শ্রীযৃত গুরুসদয় দত্ত সিভিল সাবির্বিস, জলসুখার শ্রীযুত রাধামাধব রায় কুপারহিল কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া আসিয়াছেন।

পূর্বে শ্রীহস্্, কাছাড় এবং ময়মনসিংহ কুমিল্লার স্কুল সমূহ একজন ডিপুটী ইনিস্পেক্টরের অধীনে ছিল। ১৮৬৫ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্র কাছাড়ের জন্য স্বতন্ত্র ডিপুটী ইনিস্পেক্টর নিযুক্ত হন। তদবধি শ্রীহস্ট্রে সাধারণ শিক্ষা বিস্তৃত হইতেছে। এস্থলে ভূতপূবর্ব ডিপুটী ইনিস্পেক্টর রায় সাহেব নবকিশোর সেনের নাম উন্লেখ করা আবশ্যক তাহার এঁকান্তিক যত্রে এদেশের প্রভূত কল্যাণ সাধিত হইয়াছে। বিগত ১৯০৫ খৃষ্টাব্দ হইতে ডিপুটী ইনিস্পেক্টরের স্থলে সুরমা উপত্যকার জন্য একজন ইনিস্পেক্টর নিযুক্ত হইয়াছেন; তদধীনে ডিপুটী ইনিস্পেক্টর সবইনিস্পেক্টরগণ আছেন। বর্তমানে প্রত্যেক সবডিভিশনেই এক একজন ডিপুটী ইনিস্পেক্টর আছেন।

স্কুলাদির বিবরণ

সহরের “রাসবেহারী স্কুল” দেশীয়দের দ্বারা পরিচালিত ইংরেজী স্কুলের আদি। স্বীয় রাসবেহারী দত্তের বাড়ীতেই এই স্কুল ছিল। “শ্রীহট্ট নেসনেল স্কুল” শ্রীহত্টের সুপুত্র দেশপ্রসিদ্ধ শ্রীযুক্ত বিপিনচন্ত্র পাল এবং স্কদেশপ্রেমী স্বর্গীয় রাধানাথ চৌধুরীর কীর্তি ছিল। শ্রীহট্টরের “মুরারিচান্দ কলেজ” তৎসংসৃষ্ট স্কুল রায়নগরের উন্নতচেতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায় কর্তৃক পরিচালিত হয় কলেজটি তদীয় মাতামহের নামে (১৮৯২ খৃষ্টাব্দে) প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল

উক্ত মুরারিচান্দ কলেজ তৎসংসৃষ্ট স্কুল রাজা গিরীশ চন্দ্রের ব্যয়ে পরিচালিত। অধুনা কলেজটির ভার গবর্ণমেন্ট স্বয়ং গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক হইয়াছেন। শ্রীহষ্র গবর্ণমেন্ট স্কুল গবর্ণমেন্টের ব্যয়ে পরিচালিত করিমগঞ্জ, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ, বাণিয়াচঙ্গ সুনামগঞ্জস্থিত হাইস্কুলগুলি সাহায্যকৃত। শ্রীহস্টে বর্তমানে এই সাতটি এন্ট্রেলস্কুল চলিতেছে

বর্তমানে শ্রীহট্ট জিলায় গবর্ণমেন্ট সাহায্যকৃত ৪০টি এবং বিনা সাহায্যে পরিচালিত ৪টি মধ্য ইংরেজী স্কুল আছে; মধ্যবঙ্গ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪টি মাত্র। শ্রীহট্র জিলায় ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৭৫১টি নিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।১১ ১১. ১১. ১৯০৩-৪ খৃষ্টাব্দে ছাত্র সংখ্যাঃ

কলেজের ছাত্র সংখ্যা ৩৯ জন ছিল, তনুধ্যে ১৪ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সাতটি এন্টরে্স স্কুলের উর শ্রেণী গুলিতে

৫৬৪ জন ছাত্র, মধ্য শ্রেণী গুলিতে ৫০৭ জন ছাত্র নিঙ্নশ্রেণী গুলিতে ৯০৭ জন ছাত্র অধ্যয়ন করিয়াছিল।

এই অন্দে 8৪টি মধ্য ইংরেজী স্কুলের ইং শ্রেণীতে ৩২১ জন ছাত্র এবং প্রাথমিক শ্রেণী গুলিতে ২৭৫৭ জন ছাত্র অধ্যয়ন করেন। ১৪টি মধ্য বঙ্গবিদ্যালয়ের উর্ঘ শ্রেণীতে ১০২ জন এবং প্রাথমিক শ্রেণী গুলিতে ৭৩৭ জন ছাত্র ছিল।

৯০ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

তদ্বযতীত জাতীয় শিক্ষা পরিষদের অধীন সদরে একটি জাতীয় স্কুল, এবং হবিগঞ্জ সবডিভিশন অপর একটি স্কুল স্থাপিত হইয়াছে।

১৮৭৬ খৃষ্টাব্দে [শ্রীযুক্ত বিপিনচন্দ্র পাল, শ্রীযুক্ত সুন্দরীমোহন দাস প্রমুখ) শ্রীহট্রের কয়েকজন মনস্বী ছাত্রের যত্বে কলিকাতায়, স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারার্থ “শ্রীহট্ট সম্মিলনী” সভা স্থাপিত গ্রাম্য রমণীদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে বালিকাদের শিক্ষার জন্য ৮৩টি পাঠশালা চলিতেছে ১৯০৩ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্রে একটি আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। সম্প্রতি আথালিয়া নিবাসী শ্রীযুক্ত সদয়া চরণ দাসের কন্যা শ্রীমতী সরোজিনী দাসী বি. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াছেন।

ভাষা

শ্রীহট্টের পার্বত্য অধিবাসীদের বিভিন্ন কথ্য ভাষা আছে বাঙ্গালা ভাষায় ২০৬৮৫৪৯ জন কথা কহে। মণিপুরীদের নিজেদের একটা কথ্য ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য ভাষা বাঙ্গালা ২৮৬৫৭ ব্যক্তি মণিপুরপরী ভাষা কথা কহে। এইরূপ তিপ্রা প্রভৃতি প্রত্যেকরই এক একটি স্বতন্ত্র কথ্যভাষা আছে ঘথাঃ--

কুকিদের ভাষায় কথা কহে _-৪১৯ জন।

খাসিয়াদের _২২৩২ জন।

গারোদের & _-৬৪৬ জন।

তিপরাদের র্‌ _-৯১৬৫ জন। এই পার্বত্য ভাষা গুলির প্রকৃতি জি ভিন্ন।

শ্রীহট্টের উচ্চ শ্রেণীর মোসলমান পরিবারে উর্দু ভাষায় কথা কহিবার রীতি প্রচলিত আছে

শ্রীহট্রের মোসলমানদের মধ্যে একরূপ নাগরাক্ষর প্রচলিত আছে। অনেক মোসলমানী কেতাব এই অক্ষরে মুদ্রিত হয়। এই অক্ষর অতি সহজে শিক্ষা করা যায়। কলিকাতায়১২ শ্রীহট্টবাসী মোসলমানগণ এই অক্ষরে একটা মুদ্রাযন্ত্র স্থাপন করিয়াছেন তাহাতেই পুস্তকাদি ছাপা হইয়া থাকে ।১৩

সংবাদপত্র সাধারণ শিক্ষা প্রচার পক্ষে সংবাদ পত্রের সহায়তা সামান্য নহে। শ্রীহট্র--লংলাবাসী গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য্য এই মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হইয়া সংবাদপত্র প্রচারের সঙ্কল্প করেন। কিন্তু তৎকালে শ্রীহস্টে থাকিয়া তাহার সঙ্কল্প সিদ্ধি হইবার সন্তাবনা ছিল না। কাজেই তিনি কলিকাতায় গমন করেন এবং ১৮৩৯ খৃষ্টাব্দে শোভাবাজার হইতে সম্বাদ ভাঙ্কর নাম পত্রিকা বাহির করেন। এই পত্রিকা সপ্তাহে তিন দিন প্রকাশিত হইত গৌরীশঙ্করের সম্বাধভাঙ্কর ইশ্বরচন্ত্রগুপ্তের সং এই অন্দে ৩৮টি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উচ্চ শ্রেণীতে ১৯২ জন ছাত্র এবং নিঙ্ন শ্রেণীগুলিতে ১২২৩ জন ছাত্র ছিল। ৭৫১টি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উচ্চ শ্রেণীর ছাত্র সংখ্যা ৯২২৮ জন এবং নিন্ন শ্রেণীর ছাত্র সংখ্যা ১৫৯৫৯ জন ছিল ৮৩টি বালিকা বিদ্যালয়ের উর্ঘ শ্রেণীতে ১৮ জন ছাত্রী উচ্চ প্রাথমিক পাঠ্য ১৮১৯ জন নিঙ্ন প্রাথমিক পাঠ্যশিক্ষা করিয়াছে। ১২. ১৬ নং গার্ডেনার লেন, তালতলা,-কলিকাতা ১৩. ঝ-পরিশিষ্টে মোসলমানী নাগরীর বর্ণমালা দেওয়া যাইবে।

অষ্টম অধ্যায় : ধর্ম শিক্ষাি শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ৯১

প্রভাবকরের প্রবল প্রতিদ্বন্বী ছিল।।

শ্রৃহট্ট হইতে ১৮৭৬ খৃষ্টাব্দে সর্বপ্রথম “শ্রীহট্রপ্রকাশ” প্রকাশিত হয়। লাতু নিবাসী কৰি প্যারীচরণ দাস অষ্টপতি ইহার সম্পাদক ছিলেন) শ্রীহস্ট্রে ইহার বহুল প্রচার ছিল। প্যারী বাবু একজন হৃদয়বান কবি ছিলেন, পদ্যপুস্তক প্রথমভাগ, তৃতীয়ভাগ ভারতেশ্বরী কাব্য ইহার পরিচয় দিতেছে শ্রীহট্রগ্রকাশ ছয় বৎসরকালে পূর্ণ উদ্যমে পরিচালিত হইয়াছিল

শ্রহষ্ট হইতে “পরিদর্শক” নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা ১৮৮০ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। শ্রীহট্রের কৃতি সন্তান প্রসিদ্ধ বক্তা শ্রীযুক্ত বিপিনচন্দ্র পাল স্বদেশপ্রেমী স্বগীয় রাধানাথ চৌধুরীর সম্পাদকতায় ইহা বাহির হয়। কিছু দিন মধ্যেই রাধানাথ বাবু স্বয়ং এক মুদ্দয আনয়ন পূব একাকী সম্পাদকীয় ভার গ্রহণ করেন।

পর্বাজক, শ্রীহট্টমিহির এবং শ্রীহট্টবাসী অল্পজীবী, শ্রীহ্টবাসী পরে পরিদর্শকের সহিত মিশিয়া এক হইয়া যায়। পরিদর্শক আজ পর্য্যন্ত কোনও রূপ জীবিত আছে।

শ্ীহস্ট্রের একমাত্র মাসিক পত্র “শ্রীহট্র দর্পণ” (প্রকাশিত ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দ) অল্পকাল মধ্যেই সাহিত্য ক্ষেত্রে পরিচিত হয়৷ ইহার পরমায়ু দুই বৎসর মাত্র ছিল ।১৪

১৮৮২ খৃষ্টাব্দে প্রথম রহস্যাত্বক বার্ষিক পত্রিকা “ফুলততৃ” প্রকাশিত হয়, এখনও মধ্যে মধ্যে ১লা এপ্রিল তারিখে, ভিন্ন ভিন্ন নামে, ইহার আবির্ভাব দৃষ্ট হয়।

শ্রীহট্টের একমাত্র সুপরিচালিত ইংরেজী সাপ্তাহিক পত্রিকা "ণ॥০ ৬/০০]1) 01010171016. ১৯০০ খৃষ্টাব্দ হইতে শ্রীযুক্ত শশীন্দ্রচন্ত্র সিংহ চৌধুরী কর্তৃক যোগ্যতার সহিত প্রচারিত হয় খৃষ্টীয়মানদের পরিচালিত "[71010 01 5১]7০৮ নামক একখানি মাসিক পত্রিকা আছে।

মফঃস্বল (করিমগঞ্জ) হইতে “প্রভাত” নামক পাক্ষিক পত্রিকা (১৯০৬ খৃষ্টাব্দ) বাহির হইয়াছিল, সম্প্রতি হবিগঞ্জ হইতে “প্রজাশক্তি” বাহির হইতেছে।

শ্রীহট্টে বিভিন্ন ব্যক্তির তত্বাধীনে এখন পীচটি মুদাযন্ত্রে কাজ চলিতেছে।

১৪. শ্রীহট্রের হবিগঞ্জ হইতে শ্রীযুত নগেন্দ্র নাথ দণ্ড মহাশয়ের সম্পাদকতায় “মৈত্রী” নামে একখানি সুপরিচালিত মাসিক পত্রিকা ১৩১৬ বাঙ্গালার বৈশাখ মাস হইতে যথানিয়মে প্রকাশিত হইতেছে।

নবম অধ্যায় তীর্থস্থান

শ্রীহট্ট জিলার সীমাদেশে প্রায় চারিদিকেই দেবতাদের অবস্থান দৃষ্টে জিলাকে দেবরক্ষিত দেশ বলিলে, অসঙ্গত বলা হয় না। উত্তরে পণাতীর্থ হইতে আরম্ভ করিয়া, মহাদেব রূপনাথ, সিদ্ধেস্বর, উণকোটি, তুঙগেশ্বর ব্রহ্মকুণ্ড পর্য্স্ত জিলার তিনদিকেই বৃত্তাকারে দেবস্থান রহিয়াছে সকল স্থান কেবল শ্রীহন্টবাসীরই পরিচিত, এমন নহে; পার্ববর্তী জিলার লোকও এঁ সকল তীর্থ সেবন করিয়া থাকেন।

শ্রীহস্টবাসীগণ তীর্থ সেবা পরায়ণ। কাশী, বৃন্দাবন, কামাখ্যা, প্রয়াগ, গয়া, গঙ্গা, জগন্নাথ যেখানেই যাও না কেন, বহু বু শ্রীহন্টের নর নারী দেখিতে পাইবে। শ্রীহন্ট জিলাতেও ধর্মপ্রাণ অধিবাসীদের বাসনা পরিতৃতপ্তির নিমিত্তে বহু দেবস্থান বিদ্যমান। এই সকল তীর্থস্থানের মধ্যে প্রথমেই আমরা বামজজ্ঘা মহাপীঠের উল্লেখ করিতেছি।

বামজজ্ঘা মহাপীঠ

মহাপীঠ |

বামজজ্ঘা মহাপীঠ সাধারণতঃ “ফালজোরের কালীবাড়ী” নামেই কথিত হয়। পুরাণে বর্ণিত আছে যে, মানব জাতির প্রথম সভ্যতার যুগে (সত্য যুগে) দক্ষ প্রজাপতি এক যজ্ঞ করেন। সেই যজ্ঞে সব্বদেব আহুত হন, কিন্তু দক্ষপ্রজাপতি মহাদেবের নিয়ন্ত্রণ না করিয়া, তাহার নিন্দাবাদ করিয়াছিলেন। দক্ষতনয়া সতী পিতার মুখে পতি নিন্দা শ্রবণে অপমানে দুঃখে দেহত্যাগ করেন। সতী দেহ ত্যাগ করিলে মহাদেব সতীদেহ ক্কন্ধে করিয়া উন্মুত্তের ন্যায় ভারতের বিবিধ অংশে ভ্রমণ করেন। ভগবান বিষ তখন চক্রান্তে সতীর দেহ খণ্ড খণ্ড করিয়া ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পতিত করেন। যে স্থানে সতীর ছেদিত অঙ্গ পতিত হয়, তাহা এক একটি তীর্থে পরিণত মহাপীঠ নামে খ্যাত হইয়াছে। যে স্থানে সতীর অঙ্গাংশ বা অলঙ্কার পতিত হয়;--তাহার নাম উপপীঠ। প্রত্যেক পীঠের অধিষ্ঠাত্রী এক এক ভৈরবী তীহার রক্ষক স্বরূপ এক এক ভৈরব (শিব) আছেন। আমাদের সৌভাগ্যক্রমে শ্রীহন্টে দুইটি মহাপীঠ আছেন।

বাউরভাগে বামজজ্ঘা পীঠ

বামজজ্ঘা মহাপীঠ জয়ন্তীয়ার বাউরভাগ (বউ-বাম-উরু-ভাগ) পরগণায় অবস্থিত।১ পীঠাধিষ্ঠাত্র জয়ন্তী দেবীর নামেই সে অঞ্চল জয়ন্তীয়া রাজ্য, তদৃত্তরবর্তী পর্বত অয়ন্তীয়া পর্বত নামে খ্যাত হইয়াছে। বিশ্বকোষ ১২ ভাগ ৫৯৯ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে,_-“ফালজোর একটি প্রধান পীঠস্থান। এখানে দেবীর বামজজ্ঘা পতিত হয়, এজন্য ইহাকে বামজজ্ঘা পীঠও বলে। বামজজ্ঘা পীঠের সাধারণ নাম ফালজোরের কালী বাড়ী তন্ত্রচুড়ামণি মতে--“জয়ন্ত্যাং বামজজ্ঘা

১,110 01806 ৬/10801] 15 70091 590190 11) ১৪1151০0515 10411]01 15 [00161010 81108110180 11 19011110, ৬1016 (11016 15 2 51010 [01110 ৮4110115510 10100 59015 191 108. -/১৩]]া] 101501101 08701160ো% ৬01. |] (9%11061) 01190. 111 9. 40

নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত ৯৩ জয়ন্তী ক্রমদীশ্বর ৷”

“এখানকার দেবীর নাম জয়ন্তী, ইহারই নামানুসারে এই স্থান জয়ন্তী নামে পরিচিত। এখানকার ভৈরবের নাম ক্রমদীশ্বর তন্ত্র বলেন--কৈলাসে দশ লক্ষ্যেণ জয়ন্ত্যাং পঞ্চ লক্ষত।' অর্থাৎ পঞ্চ লক্ষ বার মাত্র মন্ত্র জপেই এখানে সিদ্ধি হয়।”

“এই মহাপীঠ শ্রীহট্ট নগরী হইতে ৩৮ মাইল উত্তরপূবের্ব পর্বত পাদদেশে একখণ্ড সমতল ভূমে, ইষ্টক নির্িত প্রকাণ্ড এক ভিত্তির মধ্যস্থিত চতুষ্কোণ অগভীর এক গর্ত মধ্যে একখানি চতুষ্কোণ প্রস্তরোপরি অবস্থিত ভৈরবও প্রস্তরূপী হইয়া দেবীর সহিত একত্র অবস্থান করিতেছেন ১৮৩৭ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত এই স্থানে বহুতর নরবলি হইয়া গিয়াছে। ইংরেজ রাজ এই নৃশংস প্রথা রহিত করিবার জন্য জয়ন্তীয়া রাজ্য দখল করিয়া লন তদবধি নরবলি বন্ধ হইয়াছে।”

“দেবীর মন্দিরের পূর্বদিকে একটি অতি প্রাচীন পুঙ্করিণী আছে, ইহা প্রায় বুজিয়া গেলেও জল অতি পরিষ্কার থাকে কম বেশী হয় না; দেখিলে চমৎকৃত হইতে হয় ।”

“য়ন্তীয়ার স্বাধীনতার সময় রাজোচিত ভাবেই দেবীর সেবা হইত রাজারা বলিতেন “সমস্ত জয়ন্তী রাজ্যই মায়ের-_তীহার জন্য আবার পৃথক দেবোত্তর কি?' বস্তুত সেই জন্যই কোনও দেবোত্তর নির্দিষ্ট নাই। জয়ন্তীয়ার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই এই গীঠেরও দুরবস্থা ঘটিয়াছে। এখন দেবী একখানি জীর্ণ কুটীরে বাস করিতেছেন ।”

পীঠ প্রকাশ

এই মহাপীঠের প্রকাশ সম্বন্ধে কিঞিৎ বলা আবশ্যক ফালজোরের কালী নরবলির বিষয় উল্লেখ করা যাইবে জয়ন্তীয়ায় কিরূপে কখন হইতে এই ভীষণ প্রথা প্রবর্তিত হয়, তৎসম্বন্ধে নিম্নোক্ত কিংবদন্তী শ্রুত হওয়া যায়। জয়ন্তীয়ার বড় গোসাঞ্জির রাজত্বকাল (১৫৪৮-১৬৬৪ খৃষ্টাব্ পর্য্ত্ত) একদা কতিপয় রাখাল বালক একখণড প্রস্তরের সন্নিকটে নানারূপ খেলা করিতেছিল। ত্রীড়াচ্ছলে তাহাদের মধ্যে একজন রাখাল পূজক সাজিলে, অপর বালক ছাগশিশুরূপে তদ্বৎ শব্দ করিতে লাগিল অন্য বালকেরা পুষ্পাদি আনিয়া দিলে ব্রাহ্মণরূপী বালক পূজায় বসিল। দৈবক্রমে তাহারা সেই প্রস্তরকেই পূজা করিল। পূজা সমাধা হইলে বলির জন্য ছাগরূপী বালক আনীত হইল এবং বিন্না তৃণের দীর্ঘ-পত্ররূপ খড়েগ ছাগরূপী বালকের গলদেশে আঘাত করা হইল। কিন্তু ইহাতে এক অলৌকিক সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার সংঘটিত হইল, বিশ্নাতৃণপত্রের আঘাতে সেই বালক দেহ দ্বিখগ্তিত হইয়া গেল!! ভয়ত্রস্ত বালকদল যার যার গৃহে দৌড়িয়া গেল, মুহূর্তে সেই স্থান জনতা পূর্ণ হইল এই অদ্ভুত হত্যা বিবরণ রাজপুরুষগণ কর্তৃক রাজার শ্রুতি গোচর হইল; রাজা বড় গোসাঞ্জি প্রথম) এই আশ্র্য্য ঘটনা শ্রবণে কৌতুহলাবিষ্ট হইয়া, স্বীয় গুরুদেবকে সঙ্গে করতঃ স্বয়ং ফালজোরে গমন করেন। জয়ন্তীরাজের গুরু একজন প্রসিদ্ধ তান্ত্রিক সিদ্ধপুরুষ ছিলেন। তিনি বালকদের খেলা স্থলে উপস্থিত হইয়া, সে প্রস্তরখণ্ড দর্শনে বিশ্বিত হইলেন আধ্যাত্মিক প্রমাণ প্রাপ্তে তাহাকেই বামজজ্ঘা পীঠের ভৈরবী জয়ন্তীদেবী বলিয়া প্রকাশ করিলেন।

মহারাজ, নিজ রাজ্যের জয়ন্তীয়া নাম হওয়ার মূল কারণ এই দেবীর পরিচয় প্রান্তে অত্যত্ত প্রফুলু হইলেন। ঢাক ঢোল বাজাইয়া আনন্দ প্রকাশ করিলেন এবং দেবীকে নিজপাটে (রাজধানীতে) লইয়া যাইবার জন্য খনক নিয়োজিত করিলেন। কিন্তু খনন কারীরা ক্রমাগত খনন করিয়াও প্রস্তর খণ্ডের নিন্নপ্রাপ্ত বাহির করিতে সমর্থ হইল না; কারণ--কিছুটা খনন করিলেই পার্থোথিত ভূরি পরিমাণ বালুকায় গর্তটি পূরিয়া যাইতে লাগিল পুনঃ পুনঃ চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্ষ্য হইলে, তাহা দৈব্য অভিপ্রায়ে সংঘটিত হইতেছে ভাবিয়া, রাজা সেই উদ্যমে ক্ষান্ত

৯৪ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

হইলেন সেই স্থান সুচারুরূপে বাধাইয়া দিলেন। অনতিবিলম্বে চতুর্দিক প্রাচীরে বেষ্টিত হইল, এবং প্রাচীরের গায় সহত্্র প্রদীপ প্রজ্বালনের নিয়মিত পুজা পরিচালনের সুব্যবস্থা হইল।

সেই যে রাখাল বালক অলৌকিকরূপে নিহত হয়, তাহাতেই দেবীর নিকটে নরবলি দেওয়া প্রথা জয়ন্তীয়ায় প্রবর্তিত হইয়াছিল। বড়ই আশ্চর্য্যের বিষয় যে, প্রায় সেই সময়েই কৌচরাজ বিশ্বসিংহ কর্তৃক কামাখ্যা মহাপীঠ আবিষ্কৃত হয় ।২ যখন জগতে শুভ যুগের আবির্ভাব ঘটে, তখন ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এক সময়ে এইরূপেই শুভ সূচিত হইতে থাকে, ধর্ম জগতের ইতিহাসে তাহার বহু প্রমাণ বিদ্যমান

ক্রমদীশ্বর রূপনাথ

বামজজ্ঘা পীঠে আকড়িয়া ধরা মূর্তিকে কেহ কেহ ক্রমদীশবর ভৈরব বলে না মতান্তরে বূপনাথ শিবই উক্ত ক্রমদীম্বর রূপনাথ মহাপীঠ হইতে অল্প উত্তরে এবং অনুসন্ধানে পরে আবিফৃত হন বলিয়া কথিত আছে।৪ রূপনাথ আবিষ্কৃত হইলে মহারাজ রূপনাথের দক্ষিণ দিকে এক পাকা মন্দির প্রস্তুত করিয়া দেন। কথিত আছে যে, স্বপ্রাদেশ হওয়ায় মহাদেবকে আর সেই মন্দিরতলে নেওয়া হয় নাই; তাহার বংশ পর্ণ নির্মিত কুটীর খাসিয়া নারীরা প্রস্তুত করিয়া দিয়া থাকে

রূপনাথ গুহা

রূপনাথের সন্নিকটেই প্রসিদ্ধ রূপনাথ গুহা ইহা পূর্ব্বাঞ্চলের এক আশ্চর্য্য দর্শনীয় স্থান দর্শনার্থীকে চিহ্নিত রাজকীয় পথে পব্বতমূল হইতে ক্রমোর্ধ বক্র গতিতে প্রায় দুই মাইল উর্দে উঠিতে হয়। অর্থ পথেই রূপনাথের কুটীর, তদুপরি গুহা গুহাভ্যন্তর গাঢ় তিমিরে চির সমাচ্ছত্র। আলোক ব্যতীত গুহাদর্শনার্থীর পাদার্ঘ অথ্থসর হইবার ক্ষমতা নাই। খাসিয়ারা আলোক পথ প্রদর্শন কার্ষ্যে যাত্রীদের সহায়তা করে (এখানে কোনরূপ পাপ্তার উৎপাত নাই, কিছু পারিশ্রমিক দিলে খাসিয়ারাই দ্রষ্টব্য স্থানগুলি দেখাইয়া দেয়।) প্রতি সোমবারে জয়ন্তীপুর হইতে ব্রাহ্মণ গিয়া রূপনাথের পৃজাচ্চা করিয়া থাকেন।

গুহাটিকে অন্ধকারের বিশ্রামাগার বলা যাইতে পারে; ভূগর্ভের অন্ধকার--সে চিরসঞ্চিত অন্ধকার মানব কল্পনার অতীত। প্রদীপ্ত আলোক যোগে সেই গভীর তমোরাশি মথিত করিয়া, সন্তর্পণে ধীরে ধীরে, অল্প একটু অগ্রসর হইলেই, দর্শকের দৃষ্টি উর্দদিকে একটি বিস্তৃত ঝালরের উপর হঠাৎ পতিত হয়৷ অতি সুরম্য প্রজবলৎ কিংখাপের ঝালরের মত শূন্যে ঝুলিতেছে। বুদ্ধিমান পাঠককে বুঝাইতে হইবে না যে, ঝালর প্রস্তর ব্যতীত আর কিছুই নহে; অকৃত্রিম-স্বাভাবিক আর্দ্র প্রস্তর খণ্ড বিস্তৃত রহিয়াছে, তাহার উপর আলোকের প্রভা প্রতিফলিত হইলে নয়নরঞ্জন বস্ত্র ঝালরবৎ প্রতীয়মান হয়।

বন্ত্র ঝালর পার হইয়া গুহাভ্যন্তরে কিঞ্িৎ অগ্রসর হইলে, চতুষ্পার্থে শিবলিঙ্গাকার অগণ্য প্রস্তর রাজি বিরাজিত রহিয়াছে দৃষ্ট হয়; কত যে শিবলিঙ্গ, তার সংখ্যা নাই। যদি এখন ২. এই বিষয়ে যাহারা কৌতুলাৰিষ্ট, তাহারা শ্রীযূত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ এম.এ মহাশয়ের লিখিত *পূর্ণানন্দগিরি

কামাখ্যা মহাপীঠ” প্রবন্ধটি পড়িবেন। উক্ত প্রবন্ধটি সুখপাট্য সুযুক্তিপূর্ণ। ইহা “আরতি” পত্রিকা (বৈশাখ-

১৩১৪ বাংলা) ৭ম খণ্ড ৫ম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হইয়াছে। ৩. স্বগয়ি কামাখ্যাতেও এই বিভ্রাট কামাখ্যার ভৈরব রাবানন্দ, কিন্তু উমানন্দকেই সচরাচর চৈরব বলিয়া গণ্য করা

হয়। (বোধ হয় উভয় স্থলেই ভৈরবগণ সাধকের নাম গ্রহণ পূর্বক বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রাপ্ত হইয়াছেন 8. /১5521) 101511101 020116615 %01- 1] (5911101) 0100. 111 0:87.

নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রীহন্টরের ইতিবৃত্ত ৯৫

চিন্তনীয়-_-তক্তিভাবোদ্দীপক কিছু থাকে, তবে তাহা এই শিবলিঙ্গ সমূহ। এত অগণ্য শিবলিঙ্গ কে জানে কখন কি উদ্দেশ্যে সৃষ্ট হইয়াছিল? এমন অনেক শিবলিঙ্গ দৃষ্ট হয় যাহার শীর্ষ দেশ হইতে অল্পে অল্পে অনবরত জলকণা নিঃসৃত হইতেছে। হাত দিয়া মুছিয়া দাও, দেখিতে দেখিতে আবার জল নির্গত হইবে।

আরও কিঞ্চিৎ অগ্রসর হইলে “নক্ষত্র মণ্ডল” দৃষ্টি গোচর হয়। নক্ষত্র মণ্ডল প্রকৃতই শোভার ভাগ্তার। এমন মনোরঞ্জন--এমন মনোজ্ঞ, এমন তৃপ্তিপ্রদ সুখদ দৃশ্যে কাহার না বিন্ময় উৎপাদিত হয়? মস্তক উত্তোলন করিলেই সহস্র সহস্্ নক্ষত্র উর্ধে জুলিতেছে দেখিতে পাওয়া যায়। উপরে কৃষ্ণ চন্ত্রাতপের ন্যায় প্রস্তরের অঙ্গে সমুজ্বল বিন্দুগুলি, দর্শনে বুদ্ধিমানেরও ভ্রম উৎপাদিত হয়। কিন্তু হেন শোভার আম্পদ তারকাবলী জলবিন্দু মাত্র। বিন্দু বিন্দু জল চোয়াইয়া উপরের প্রস্তরছাদে ঝুলিতে থাকে, যাত্রীগণের দীপালোক তদুপরি নিপতিত হইয়াই বিচিত্র প্রোর্জল নক্ষব্রবৎ অনুভূত হয়

স্থলান্তরে স্থুলাকার এক অপূর্ব শিবলিঙ্গ, তাহাতে অগণ্য স্বর্ণরেনু ঝিকিমিকি করিতেছে একস্থানে স্তন্বাকার পীচটি প্রস্তর, ইহার নাম “পঞ্চ পাণ্তব”। (এই শিবক্ষেত্রে পঞ্চ পাণ্ব প্রস্তর দেহে বিরাজ করিতেছেন বলিয়া ব্যাখ্যাত হয় ।) স্থুলান্তরে বট গাছের বোয়ার (শিকড়ের) মত চারিটি বৃহত্তম প্রস্তর নামিয়াছে; ইহাকে “চারিযুগের খম্বা” বলে। এরূপ আর এক প্রকাণ্ড প্রস্তরের “ভৈরব” আখ্যা অতঃপর একটি গভীর গর্ত দৃষ্ট হয়, ইহা “লক্ষ্মীরভাপ্তার” তৎপর “্বর্সদ্বার”

স্বর্গদ্বার স্থানটি শান্তভাবোদ্দীপক, অতি মনোরম তৃপ্তিপ্রদ। বহুক্ষণ অন্ধতমোময় ভূগর্ভে শ্রান্তদেহে, ক্লান্তমনে ভ্রমণ করতঃ হঠাৎ যখন স্বীয় শুভ্রজ্যোতি রেখা নয়ন পথে পতিত হয়, তখন মনে মনে যেন এক উদাস ভাবে কোন অজানা দেশে চলিয়া যায়। নিবিড়তম অন্ধকারে-_গুহাভ্যন্তরে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র পথে, উর্দঘ হইতে অতি সামান্য, মিটি মিটি আলোক ভিতরে আসিতেছে; সেই আলোকে, গুহার উর্ধদিকে অল্প কিছুটা স্থান ঈষৎ আলোকিত হইতেছে;

তথায় যেন কত শোভা ফুটিয়া উঠিয়াছে, ইহাই স্বর্গদ্বার। (লোকের বিশ্বাস যে, স্বর্গদ্বার দেখিলে, স্বর্গ গমনে আর বাধা থাকে না।)

স্থান হইতে কিছুদূরে, আর একটি অন্তগহবর বা গর্ত দৃষ্ট হয়। অতি সতর্ক না হইলে সে গর্তপথে প্রবেশের সাধ্য নাই। ইহার ভিতরে কয়েকটি প্রস্তরের 'ব্রিশূল" প্রথিত রহিয়াছে; এস্থানের নাম “যোগনিদ্রা”। সাধারণতঃ যোগনিদ্রা” হইতেই দর্শকগণ প্রত্যাবৃত্ত হয়। ইহার পর “পাতল বা নাগপুরী' ভীষণ সর্প গণের আবাস স্থান বলিয়া ব্যাখ্যাত। একথা বড় অসম্ভব নহে। প্রবেশ ছার হইতে যোগনিদ্রা পর্য্যন্ত যাইতে প্রায় অর্ ঘণ্টা সময় লাগে এই গুহাটি এত বৃহৎ যে, এককালে দুই তিন শত লোক প্রবেশ করিলেও পরম্পরে সাক্ষাৎ পাওয়া যায় না। প্রবাদ এই যে, দেবাসুর যুদ্ধে পরাভূত দেবগণ অসুরভয়ে এই নির্জন গুহায় লুকাইয়া আত্মরক্ষা করেন। পৃবের্ব এই স্থানে মধ্যে মধ্যে অনেক মহাপুরুষকে বসিয়া সাধন করিতে দেখা যাইত গুহার দ্বারে বঙ্গাক্ষরে রাজা রামসিংহের নাম খুদিত আছে।

সাতহাত পানি গুপ্ত গঙ্গী

গহ্বর হইতে বাহির হইয়া, ইহার নিকটবর্তী “সাতহাত পানি” নামক এক নির্মল সলিলা কুণ্ডে স্নান তর্পণ করিতে হয়। এই কুপ্ডের গভীরতার পরিমাণ হইতেই তাহার নামকরণ হইয়াছে। সাত হাত পানির অল্প উত্তরে “পাতাল গঙ্গায়” তর্পণাদি করিতে হয়। তাহার উত্তরে একটা অতি বৃহৎ উচ্চ পাথর আছে, পাথরের নীচে একটা গভীর কৃপ। একটা গুপ্ত জলস্রোত সো

৯৬ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

সৌ শব্দে অদৃশ্য ভাবে কৃপে পতিত হইয়া, একদিক দিয়া বাহির হইয়া যাইতেছে, ইহারই নাম “গুপ্ত গঙ্গা” এস্থানে স্নান করা যায় না, ঘটিদ্বারা জল লইয়া লোকে মাথায় দেয়।

শিবের বাড়ীর দক্ষিণে একটা পুকরিণী আছে, জয়ন্তীয়ার জনৈক রাজা একরাত্রে পুকরিণী খনন করাইয়া দিয়াছিলেন বলিয়া কথিত আছে। পুকুরের উত্তরে কৃষ্পপ্রস্তরের একটা প্রকাণ্ড হস্তী রহিয়াছে, ঠিক জীবন্ত বন্য হস্তী জলপান করিতে আসিয়াছে বলিয়াই বোধ হয়। নিম্ন প্রবাহী “ভুবনছড়ার” পশ্চিমাংশে এরূপ আর একটি প্রস্তর নির্শিত হস্তীমূর্তি আছে। প্রস্তর শিল্পে এক সময় জয়ন্তীয়াবাসীরা বিশেষ উন্নতি করিয়াছিল

শিবের বাড়ীর পথে একটা প্রকাণ্ড প্রস্তরে, বৃহৎকায় একদণ্ড গণেশের এক মূর্তি আছে, কিন্তু তাহার কোনরূপ পূজা অর্না নাই। রূপনাথ শিবপূজার্থে যাত্রীগণকে অর্নার দ্রব্য নিজের পুরোহিত সঙ্গে নিতে হয়। গুহাভ্যন্তরে কোন দেবতার পূজার প্রথা নাই। শিবরাত্র বারুণী উপলক্ষে এই স্থানে বহুলোকের সমাগম হয়।

গ্রীবা পীঠ গোটাটিকরের ভৈরবী বাড়ী বিশ্বকোষ ১১শ ভাগ ৪৬৮ পৃষ্ঠায় বিশেষ প্রমাণের সহিত লিখিত হইয়াছে যে, গ্রীবা পীঠ রানার রানা রাবি নিরাকার তন্নিকটে বিরাজিত, তাহা সকলেরই মনের ধারণা ।৫

গোটাটিকরের ভৈরব বাড়ি

কিন্তু কোথায় যে সে পুণ্যস্থান অবস্থিত, তাহার যথার্থ নির্দেশ সাহস সহকারে করা যাইতে পারিত না। কেহ কেহ মনে করিতেন, দরগা মহল্লায় এই মহাপীঠ ছিল, পরে বিলুপ্ত হইয়াছে। কেহ কেহ বা দুর্গাবাড়ীতেই এই পীঠের অবস্থিতি স্থান কল্পনা করিতেন; কিন্ত্ু এই উভয় স্থানই যে প্রকৃত মহাপীঠ নহে, তাহা সহজেই জানা যায়।৬ এই মহাপীঠ কোথায়, যখন তাহা জানিবার জন্য লোকের বিশেষ একাগ্রতা জন্মিল, যখন অনেকের এক বিষয়ই অনুধ্যেয় হইয়া দীড়াইল, তখন দেবী প্রসন্না হইলেন। মহাপীঠ কোথায়, তাহা জানিবার আর বাকি থাকিল না; গোটাটিকরেই তখন মহাপীঠের বিদ্যমানতার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেল। ভক্তগণ উৎফুন্ন হইলেন, ভট্ট-কবিগণ

চতুর্দিকে এই কথা প্রচার করিয়া দিলেন।৭ সকলেই জানিতে পারিল যে, শ্রীহট্ট সহর হইতে দেড় মাইল মাত্র দক্ষিণে গোটাটিকরের জৈনপুরে সস ্রীবা দীঠ অবস্থিত সরকারী ইতিহাস গ্রহে

৫. "58015151156 611 811 10111018210 1001 1601 1 01116010116 (0৬/1 5১11061. -[6001 017 0190 0010585 01 4/55517-1901. ৮01. 1৬ [9011 10, 40.

৬. দরগা মহল্লায় যে মহাপীঠ ছিল না, সুহেল-ই-এমন প্রভৃতি গ্রন্থে এতদ্বিষয়ে কিছু বর্ণিত না থাকাতেই তাহা প্রমাণিত হয়। মোসলমান কর্তৃক হিন্দুতীর্থ বিনষ্ট হইলে সগৌরবে তাহা লিখিত হইত। বস্তুতঃ কোন দেবতার প্রতিই তৎকালে অত্যাচার হয় নাই, সম্ভবতঃ এস্থানেস্থিত হাটকেশ্বর শিবও স্থানান্তবিত হইয়াছিলেন। আর দুর্গাবাড়ীর প্রতিষ্ঠা বড় প্রাচীন ঘটনা নহে; ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে লাল গৌরহরি সিংহ দুর্গাবাড়ীতে প্রতিষ্ঠা করেন। -965 /১5591) [01501101 0926106915 ৬০1. 11 (১১11)61 01780. 111. 0). 105.)

৭. পীঠ প্রকাশ সম্বন্ধে বহু ভাটের কবিতা আছে, স্থানীয় পত্রিকা পরিদর্শকে এতদ্বিষয়কে কয়েকটি উৎকৃষ্ট কবিতা প্রকাশিত হইয়াছিল।

৯৭

ীবস্থা

নবম অধ্যায়

উই ৬১ ১৮৫২

ঘহ্ডকা শা

- শিক বড এ, রর ১০

৩. খিক ২8 সক

রি

) চর র্‌ রি রি ঘ্‌ িন্বা টু র্‌ শ্। ২. ঘর - রখ তর চক্ড কুছ তস্পি 27388 | এ. এট ২. শ্ ঘন,

সক ২১

চন

চে িরেবারানে 5

০? ১১১

তক সপ কতি

ত৭7০৯৫৫৮ 4:১:

তল: ২৮৭ কাত 4৯ . কি ১০

গ্

1

রে টে

তি কি দে

ম্ঁ

&..

চে

4৯ সি

2

সি

5 নি

হে

শা পার রি

.+ী

৯৮ শ্রীহস্টরের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

এই গোটাটিকরের ভৈরবী স্থানকে মহাপীঠ বলিয়া লিখিত আছে ।৮ স্কুলপাঠ্য ইতিহাস গ্রন্থাদিতে গ্রীবাপীঠ বলিয়া এই স্থানেরই মহিমা কীর্তিত হইয়াছে; এবং প্রচলিত পঞ্জিকার তীর্থ পরিচয় স্থলেও এই গ্রীবাপীঠেরই নির্দেশ করা হইয়াছে ।১০

পীঠ সম্বন্ধে মতদ্বৈধ আপত্তি খণ্ডন প্রসিদ্ধ “শিক্ষা পরিচয়” সম্পাদক দেবীযুদ্ধ প্রভৃতি প্রণেতা কবি শ্রীযুক্ত শর 4 বি. মহাশয়ের লিখিত “মহাপীঠ প্রকাশ” প্রবন্ধটি এস্থলে (১৩শ ভাগ ১১শ সংখ্যা পত্র হইতে) উদ্ধৃত করা হইল এঁ প্রবন্ধে লিখিত হইয়াছে;__তন্ত্রে আছে-_ “গ্রীবা পপাত শ্রীহস্টে সর্ব্বসিদ্ধি প্রদায়িনী দেবীতত্র মহালক্ষ্মী সবর্বানন্দশ্চ ভৈরব!” অন্নদামঙ্গলে ভারতচন্ত্র রায়গুণাকরের অনুবাদে আছে-_ “শ্রীহস্টে পড়িল গ্রীবা মহালক্ষ্মী দেবী সব্র্বানন্দ ভৈরব, বৈভব যাহা সেবি।” উপরি উক্ত বাক্যগুরির অর্থ পরিগ্রহ করিলে বুঝা যায় শ্রীহট্টরে একটি মহাপীঠ আছে, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। “তত্্ানুসন্ধিৎসু ব্যক্তিগণের সন্দেহ-সম্তাবনা নিবারণার্থে স্থলে আরও একটু বক্তব্য আছে। অঞ্চলে যে পীঠমালা প্রচলিত আছে, তাহার কোন কোন গ্রন্থে এইরূপ লিপিবদ্ধ আছেঃ_ শ্রীহট্রে মে হস্ততলং দেবতারণ্যবাসিনী।” ইহাতে কেহ কেহ শ্রীহস্ত হইতে শ্রীহট্ট কল্পনা করিয়া, দেবীর হস্ত এই স্থানে পতিত হইয়াছেন বলেন। ইহা প্রামাণ্য হইলেও কল্পনান্তর ব্যবস্থা দ্বারা সামঞ্জস্য বিধানই যুক্তিসঙ্গত। পীঠস্থলে সমাগত অধ্যাপক মণ্ডলী এই সিদ্ধান্তই করিয়া গিয়াছেন। শ্রীযুক্ত শিবচন্দ্র বিদ্যার্ণব প্রচারিত পীঠমালা গ্রীবাদেশ শ্রীশৈলে পতিত হয় উল্লিখিত আছে। এই শ্রীশৈল, হয় শ্রীহন্টের স্থলে লিপিকর প্রমাদবশত লিখিত, নয় শ্রীহস্টরের নামান্তর নতুবা তন্ত্রের সঙ্গে সম্বববয় হওয়াও তো আবশ্যক শ্রীশৈল দ্বারা শ্রীনামক কোনও পর্বত বুঝাইবার প্রয়োজন দেখা যায় না। কেন না ইতি পুকেি শ্রীপবর্বতেরও উল্লেখ দেখা যায়, উহাতে দেবীর তল্প মতান্তরে দক্ষিণ গুল্ফ পতিত হইয়াছে। লিপিকর প্রমাদ কল্পনার সমর্থনে ইহাও বলা যায় যে ভৈরবের নাম সর্ব্বানন্দ স্থলে সম্বরানন্দ লিখিত হইয়াছে ।১১

৮১ 740০08 [1116 00 2 18211 50811] 01 351196110৬7, ৬1615 52119 0601: 15 3810 (01790 [91161 ৬/1101) 1101 %৬/৫5 01970176160 09 ৬1511700. 11115 0101), 85 076 018065 00105501016 0 076 [88116170501 ১8015 55৬০1০৫ ৮০৫ 2৩ 091160, 1১5 01819 10211019 0৩61) 16085০0৬616. 5911'5 10001 15 16196521020 03 [91705 0 781 10010 97 (0 086 00170 01) 75091 01 016 01195 10010 ৩9117611261 0121120 01 20210109160 10 1901601 1861 09 5158, 191065 076 5091 (যা) 014 5109]] 00118171 [01161 06 10010 9118990 11106 & [010011005.117016 195170 (67700 ০৮৩1 0১696 161789175, 81101021019 219011106 101211201 18000 01 51161 10৬/). 7155) 19190101 092605515 ৬০. হ]. 09009 111. 19 8০.

৯. আসাম প্রদেশের বিশেষ বিবরণ-২য় সংস্করণ

১০. শ্রীযুক্ত পি এম্‌ বাগচী প্রকাশিত পঞ্জিকা গুপ্তপ্রেশ পঞ্জিকা

১১. মলয় পবর্বতের উত্তরাংশে বর্তমান পাল্নি হিল্ই শ্রী পবর্বত মহাভারত বনপবের্বর ৮৫ তম অধ্যায়ে ১৮শ শ্রোকে ইহার উল্লেখ আছে। শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে শ্রীশৈলের উল্লেখ আছে। মান্দ্রাজের কাসুল জিলায় ইহা অবস্থিত। শ্রীশলের অবস্থিতি যথার্থ হইলেও, তশ্ায় গ্রীবা পতিত হয় নাই, শিবচরিত গ্রন্থ মতে তথায় গ্রীবাংশ পতিত হ্য এবং তাহা উপপীঠ মধ্যে গণ্য। বিশ্বকোষ ১১শ ভাগ ৪৬৯ পৃষ্ঠায় এই উপপীঠের কথা লিখিত আছে; ইহার ভৈরবীর নাম সব্বেরবশ্বরী ভৈরবের চর্িতানন্দ। অতএব শ্রীহট্েই যে গ্রীবাপীঠ অবস্থিত, তাহার সন্দেহ মাত্র নাই।

নবম অধ্যায় : তীর্থস্থান শ্রহট্টরের ইতিবৃত্ত ৯৯ পরিচয়ের পন্থা

অধিকার বিলক্ষণ রহিয়াছে। পরিচয় সম্বন্ধে কেবল পদার্থ নাম জানাই যথেষ্ট নহে, কিন্তু অমুক নামে যে অমুক পদার্থ বুঝায়, ইহা জানা চাই। এই প্রকার পদার্থের সঙ্গে নামের বিচ্ছেদ ঘটাতে অনেক জিনিস বিলুপ্ত হইয়াছে আয়ুব্রেদ শাস্ত্রে অনেক ওঁষধির নাম উল্লেখ আছে, কিন্তু চিকিৎসকেরা নাম জানিয়াও সকল ওঁষধ চিনিয়া উঠিতে পারেন না আলোচনার অভাবে অনেক জিনিসেরই এরপ দুর্গতি হইয়াছে উপস্থিত ক্ষেত্রেও আমরা এইরূপ সমস্যায়-এইরূপ বিড়ম্বনায় দুর্দশা দেখিতেছেন, লোক মুখে গ্রন্থে তাহার নামও আমরা অবগত হইতেছি, কিন্তু কি দুঃখের বিষয়, আমাদের কি দুর্গতির বিষয়, আমরা সেই নাম প্রকৃত পদার্থের সঙ্গে যোগ করিতে না পারিয়া দেবীর পরিচয় পাইতেছি না। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয়, পদার্থ পরিচয় কিন্বা পার্থিব ঘটনা আত্মপরিচয়ের প্রমাণের জন্য, ইতিহাসের উপরে যতদূর নির্ভর করিতে বাধ্য, দেবতন্ত্ব আপন প্রমাণের জন্য, ইতিহাসের প্রতি সেরূপ নির্ভর না করিলেও চলে। দেবতত্ত্ব আধ্যাত্মিক ব্যাপার, ইহার এঁতিহাসিক প্রমাণের অতিরিক্ত একটা আধ্যাত্মিক প্রমাণও আছে। কিন্তু এই প্রমাণ যত্র তত্র পাইবার সম্ভাবনা নাই। যাহারা সাধন বলে হৃদয়ের নির্মলতা লাভ করিয়াছেন, যাহাদের জ্ঞানচক্ষু জ্ঞানকর্ণ প্রস্ফুটিত হইয়া দেবদর্শন দৈববানী শ্রবণের শক্তিলাভ করিয়াছে, এই আধ্যাত্মিক প্রমাণ তাহাদিগেরই প্রাপ্য এবং তাহাদিগের নিকট হইতেই সাধারণের গ্রাহ্য যে আধ্যাত্মিক প্রমাণের উপর নির্ভর করিয়া সহর হইতে প্রায় দুইমাইল দক্ষিণ পূর্বদিকে অবস্থিত (গোটাটিকরের সমীপস্থ জৈনপুরে) ভৈরবী দেবীকেই মহালক্ষ্ী আর তত্রত্য শিবটিলার শিবকেই সর্ব্বানন্দ বলা হয়, তাহা নিম্নে বিবৃত করিলাম আধ্যাত্মিক ব্যাপারে ধাহাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাহারা প্রমাণ কদাপি উপেক্ষা করিবেন না।”

মহাপীঠ প্রকাশ

“শতাধিক বর্ষ হইল, বৈদ্য বংশীয় দেবীপ্রসাদ দাস জৈনপুরে একটি পথ প্রস্তুত করিবার জন্য লোক নিযুক্ত করেন, পথিমধ্যে প্রস্তরময় একটা স্থান দেখিয়া লোকটি সেই প্রস্তর উঠাইয়া ফেলিবার নিমিত্তে প্রয়াস পায় এবং একটা টুকরা বিচ্ছিন্ন করিয়া ফেলে। সেই সময় একটি কন্যামূর্তি আবির্ভূতা হইয়া ছেদনকারীর গপ্তদেশে ঠোকর মারাতে ব্যক্তি পলাইয়া যায় এবং অচিরেই মারা পড়ে সেই রজনীতে নিয়োগকারী দেবীপ্রসাদ আদিষ্ট হন, --“আমি ভৈরবী, এস্থানে আছি, তোমার লোক আমার অঙ্গে আঘাত করিয়াছে, তুমি তোমার কুশল আকাঙ্খা করিলে নিত্য সেবা পুজার ব্যবস্থা করিবে। দেবীপ্রসাদ যথার্থই দেবীর প্রসাদ ভাজন ছিলেন, নতুবা তাহার প্রতি মায়ের এত করুণা কেন? যাহা হউক, ভক্ত দেবীপ্রসাদ ধনী ছিলেন, তিনি মায়ের নিত্য সেবা পূজার ব্যবস্থা করিয়া দিলেন। ইহাতেও তাহার তৃপ্তি হইল না, (কেনই বা হইবে) তিনি লক্ষ ইষ্টক প্রস্তুত করাইয়া মন্দির প্রস্তুত করিতে কৃতস্কল্প হইলেন। কিন্তু দেবী স্বপ্নে পুনশ্চ আদেশ করিবেন;-“আমি মন্দিরে থাকিব না।" সেই ইষ্টক দ্বারা দেবীপ্রসাদ তখন প্রাচীর দিয়া ভৈরবীর স্থানটি বেষ্টন করিয়া দিলেন এবং নিকটে শিবমন্দির নির্মানপূরবর্বক শিবপ্রতিষ্ঠা করিলেন। মায়ের তখনও লুকোচুরি তাৰ, তাই ভৈরবী" এই প্রচ্ছন্ন অথচ যথার্থ পীঠসৃচক নামেই পূজা পাইতে লাগিলেন ।”

১০০ শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত " প্রথম ভাগ

পীঠস্থান সাধক ভক্ত

“কিছুকাল পৃরের্ব এদেশে পূর্ণানন্দ নামে একজন মহাত্মা ছিলেন, ইহার প্রগাট পাপ্তিত্য এবং সাধনা সাধারণে বিদিত ছিল এবং শেষাবস্থায় ইনি ব্রাহ্মণন্দপুরী নামে অভিহিত হইয়াছিলেন। ১২৮১ সালে উনি দেহত্যাগ করেন। জীবিত কালে ইনি কখন কামাখ্যায়, কখন বাণিয়াচঙ্গে এবং কখন বা গোটাটিকরে থাকিয়া সাধন ভজন করিতেন এবং একদা মণিপুর গিয়া কীর্তিচন্ত্ মহারাজকে স্বীয় যোগবল প্রত্যক্ষ করাইয়া ছিলেন। গোটাটিকর অবস্থান কালে এই ভৈরবীর বাটিতেই তিনি অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করিতেন। অনেক লোক তাহার প্রতি আকৃষ্ট হইয়াছিল এবং তাহাদের কেহ বা কেহ সর্বদাই তাহার সঙ্গে থাকিত।”

ভৈরবের স্থান নির্দেশ পীঠ পরিচয়

“একদিন ব্রহ্মানন্দপুরী রজনীযোগে সঙ্গিদিগকে লইয়া তৈরবীর বাড়ীর ঈশান কোণাভিমুখে যাইয়া শিবটিলা নামক পাহাড়ে আরোহণ করেন এবং সঙ্গিদিগকে বলেন “এই স্থান অতি পবিত্র এবং মহিমাবিত, এই বনাচ্ছত্র স্থানে অনাদি লিঙ্গ শিব বর্তমান আছেন এই “ভৈরবী” মহাপীঠ এবং এই শিব তাহার ভৈরব; এই সম্বন্ধে তোমরা কিছুমাত্র সন্দেহ করিবে না।" যাহাদিগকে তিনি সকল কথা বলিয়াছিলেন, তাহাদের মধ্যে কেহ অদ্যাপি জীবিত রহিয়াছেন, কিন্তু তখন তাহার কথায় কেহ বিশেষ প্রণিধান করেন নাই, সুতরাং বিষয়ে যতদূর আলোচনা আন্দোলন হওয়া উচিত ছিল, তাহা হয় নাই।”

ভৈরব প্রকাশ

“এই ঘটনার কয় বৎসর পরে ১২৮৬ সালের মাঘ মাসে গোটাটিকর নিবাসী শ্রদ্ধেয় পপ্তিত শ্রীযুক্ত বিরজা নাথ ন্যায়বাগীশ একদা রজনীযোগে স্বপ্নে দেখেন, সেই ব্রন্মানন্দপুরী তাহাকে বলিতেছেন, “চল, শিবটিলায় যাইয়া তোমাকে শিব দেখাই” এই বলিয়া সন্যাসী, পপ্তিত মহাশয় তাহার দুই ছাত্রকে লইয়া শিবটিলায় গমন করিলেন তীহার নির্দেশমতে পূর্বোন্লিখিত শিখরস্থিত সেই স্তুপ খনন করিয়া শিব দেখিতে পাইলেন এই অদ্ভুত স্বপ্ন দেখিয়া প্রাতঃকালে পপ্তিত মহাশয়, স্বপ্রের কথা কাহাকেও না বলিয়া তদ্দিষয় চিন্তা করিতেছেন, এমন সময় ছাত্র দুইটি পণ্তিত মহাশয়ের নিকট আসিয়া বলিল যে, তাহারাও সেই রজনীতে স্বপ্রে সেই সন্াসী পণ্তিত মহাশয়ের সঙ্গে শিবটিলায় যাইয়া স্তূুপের ভিতর হইতে শিব বাহির করিয়াছেন! (এই ছাত্রদধয়ের মধ্যে আখালিয়া বাসী কৃষ্ণকুমার ভট্টাচার্য্য এখন মৃত, এবং জানাইয়া নিবাসি শ্রীযুক্ত কৈলাস চন্দ্র ভষ্টাচার্ধ্য জীবিত আছেন ।)১২

স্বপ্ন দেখিয়া পণ্ডিত মহাশয়ের চিত্ত সংশয়ে দোদুল্যমান ছিল, কিন্তু ছাত্রদের বৃত্তান্ত শুনিয়া তাহার বিশ্বাসপ্রবণ হৃদয় হইতে সংশয় দূর হইয়া গেল, তিনি সানন্দ চিত্তে ছাত্রবর্গ প্রতিবাসীদিগকে সঙ্গে লইয়া স্তূপ খনন করিতে শিবটিলায় গমন করিলেন। সন্ন্যাসী স্বপ্নে যেইরূপ দেখাইয়া দিয়াছিলেন, সকলে মিলিয়া ঠিক সেইরূপ ভাবে স্তুপ খনন করিতে লাগিলেন। প্রথমেই একখধড প্রস্তর পাওয়া গেল, প্রস্তর সরাইয়া দেখিলেন, তাহার নিম্নে শিবের উপরিভাগ দেখা যাইতেছে। ক্রমে চারিদিক হইতে বৃক্ষ মৃত্তিকা সরাইলে শিবের গৌরীপাট পর্য্যন্ত বাহির হইয়া ১২. শ্রীযুক্ত শরচ্চন্দ্র চৌধুরী মহাশয়ের প্রবন্ধ লিখিবার বৎসর কাল পরেই কৈলাসমদ্র ভট্টাচার্য্য মহাশয় কেলাসধামে

শিবসাধুজ্য লাভ করিয়াছেন তিনি তর্কশান্ত্রের পরীক্ষায় প্রথম হইয়া তর্কতীর্থ উপাধি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন।

08১ কা কে

. 188১১ $৬ /"

শর্পাউ | | নি কউ 5 রর | 2 নং মং মে

? ১২৯

প-4০:৯৫০

এন

১৮-৫: পর

৫৮২.০৯ খাটি ১০ ৯৪১ শা জহি 3৯ চনে ?

ছা

৯: মে ২8

৮৭ এলর্ট 2

5 শি তি ভাটি সপজা তে প্রিজন - 1 পপ চা রা

নবম অধ্যায়

১০২ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রথম ভাগ

পড়িল। তখন সকলেই খনন হইতে নিবৃত্ত হইলেন। এই শিবই আমাদের নিকট সবর্বানন্দ ভৈরব রূপে প্রতীয়মান হইতেছেন। এই আবিষ্কারের বিষয় পণ্ডিত মহাশয় শ্রীহন্টবাসী কোনও সন্ত্ান্ত আস্থাবান তারাকিশোর চৌধুরী মহাশয় (হাইকোর্টের উকীল) এবং স্বীয় রায় প্রিয়নাথ বন্দোপাধ্যায় বাহাদুর (শ্রীহস্ট্রের এক্জিকিউটিত ইঞ্জিনিয়ার) শিবটিলা গমনপুবর্বক মহাদেবের দর্শন এবং পুূজাদিও করিয়াছিলেন।” এইরূপে সব্্ধানন্দ ভৈরব প্রকাশ হন।১৩ এই ঘটনার পরে শিবসন্বন্ধে একটি ঘটনা সংঘটিত হয়, তাহা এতদিন প্রকাশ পায় নাই, সম্প্রতি (১৯০৩ খৃষ্টাব্দের ২০শে আগষ্ট তারিখের) পরিদর্শকে প্রকাশিত হইয়াছে প্রাগুক্ত কৈলাশচন্দ্র ভট্টাচার্য্য লিখিয়াছিলেন,_-“যে দিন মাটি কাটিয়া শিব বাহির করিয়াছিলাম, সেই দিনের কথা এখনও পুঙ্থানুপুঙ্খ রূপে মনে অঙ্কিত আছে। উপস্থিত জনগণ সকলেই দেখিয়াছেন, প্রায় দেড় হাত মাটির নীচে গৌরীপীটের সমস্থলে একখানা প্রদীপের মুছি এবং তিন চারিখানা মৃন্য়পাত্র পাইয়াছিলাম, ইহা কি পূর্র্বপূজার প্রমাণ স্বরূপ গৃহীত হইতে পারে না? এই শিব সম্বন্ধে একটি অলৌকিক ঘটনা আমার সমক্ষে হইয়াছিল, তাহা এযাবৎ কাহারও নিকটে ব্যক্ত করি নাই, কারণ “অসঙ্তাব্যং ব্যক্তব্যং প্রত্যক্ষমপি দৃশ্যতে ।”

পূজার প্রমাণ মাহাত্ম্য

“শিব আবিষ্কারের কয়েক মাস পরে একদা আমার সহযোগী সতীর্থ কৃষ্ণকুমার বলে যে, “চল ভাই, আমরা শিবের নিম্নভাগ খনন করিয়া দেখি।” আমি তাহার কথায় অনুমোদন করিলাম এবং উভয়ে শিবের নিকট উপস্থিত হইলাম প্রথমতঃ কৃষ্ণকুমার খনন করিতে আবন্ত করে, কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্ষ্য হইতে পারে নাই। কারণ যে দিকে খনন